ধর্মহিন্দুধর্ম

কৃষ্ণ, একদিন গোপনে রাবণের বোন শূর্পণখার সনে

লীলাবতার শ্রীকৃষ্ণ গোলোকধাম এবং মর্ত্যলোকে বিবিধ লীলা করে গিয়েছেন। তার এইসব লীলাখেলা মনুষ্যসমাজে বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত। গোলোকধামে কৃষ্ণ অসংখ্য গোপিনীদের সাথে রাসলীলা করেছেন। পৃথিবীতেও তার অনেক স্ত্রী ছিল। অনেক গ্রন্থ মতে তার স্ত্রীদের সংখ্যা ষোলো হাজার একশ আট। [1] আবার অনেক গ্রন্থ মতে তার স্ত্রীর সংখ্যা ষোলো হাজার। [2] যাইহোক হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুসারে, তার যে অসংখ্য স্ত্রী ছিল এতে সন্দেহ নেই। এছাড়া গোপিনীদের সাথে লীলাখেলা করতে গিয়ে তাদের কাপড় চুরি করতেও শ্রীকৃষ্ণ দ্বিধাবোধ করেননি।

এসব ছাড়াও কৃষ্ণ এক বৃদ্ধা কুব্জার সাথে সহবাস করেছিলেন। কৃষ্ণের এই লীলার কাছে অন্য সকল লীলা কিছুই নয়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, এই বৃদ্ধা কুব্জা পূর্বে রাবণের বোন শূর্পণখা ছিলেন। শূর্পণখা রামকে আকাঙ্ক্ষা করে তপস্যা করেছিলেন। শূর্পণখার সেই আকাঙ্ক্ষা রামের পরবর্তী অবতার কৃষ্ণ পূরণ করেছিলেন।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ থেকে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হচ্ছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের শ্রীকৃষ্ণজন্মখণ্ডের ৭২ অধ্যায়ে আছে,

“কমললোচন শ্রীকৃষ্ণ মথুরার এইরূপ শোভা দর্শন করতে করতে গমনকালে পথের মধ্যে অতি জরাতুরা বৃদ্ধা কুব্জাকে দর্শন করলেন। দেখলেন, সেই রুক্ষাঙ্গী বিকৃতাকার কুব্জা লাঠির সাহায্যে অতি নম্র হয়ে গমন করছে। সেই সময়ে তার গায়ের সকল লোলমাংস চলিত হচ্ছে। …সেই বৃদ্ধার হাতের সোনার পাত্রে কস্তূরীকুমকুমাক্ত চন্দনদ্রব এবং মকরন্দ গন্ধযুক্ত মনোহর সুগন্ধী দ্রব্য ছিল। তখন সেই বৃদ্ধা কুব্জা সহসা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দেখে হাসিমুখে হাতজোড় করে ভক্তিবিনত মস্তকে প্রণাম করে তার শ্যামবর্ণ দেহে স্বর্ণপাত্রে থাকা চন্দন বিলেপন করল। পরে তার সঙ্গীগণের গায়েও ঐ রকম চন্দন দিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে প্রদক্ষিণ করে বারবার প্রণাম করতে লাগল। পরে কুব্জা শ্রীকৃষ্ণের দৃষ্টিমাত্রে রূপ ও যৌবনে লক্ষ্মীর সমান সৌন্দর্যশালীনি হল। তখন সে বহ্নিশুদ্ধবসন ও রত্নভূষণে ভূষিত মনোহর ধন্যা বারো বছর বয়সের কন্যায় রূপান্তরিত হল। তার ওষ্ঠ বিম্বফলতুল্য, বর্ণ গলন্ত সোনার মত , শ্রোণি ও দন্তপঙক্তি অতি মনোহর এবং পয়োধরযুগল বিল্বফল সদৃশ হল। তখন তার বদনমণ্ডলে নিরন্তর ঈষৎ হাস্য বিকাস পেতে লাগল। সেইসময় কুব্জার গলায় অমূল্য রত্ননির্মিত মনোহর হার বিরাজ করতে লাগল এবং পা দুটি রত্নমঞ্জিরে রঞ্জিত ও গমন গজেন্দ্ররাজের গমনের ন্যায় মন্থর হল। তখন সে মালতীমালা বেষ্টিত বামবঙ্কিম বর্তুলাকার মনোহর কবরীভার ধারণ করল। সেই সীমান্তিনীর সীমান্তের উপরিভাগে কস্তূরীবিন্দু ও চতুর্দিকে চন্দনবিন্দুর সাথে দাড়িম্ব কুসুমাকার সিন্দুরবিন্দু শোভা পেতে লাগল। তখন সেই রতিকর্মনিপুণা রত্নদর্পণহস্তা কুব্জা চঞ্চলকটাক্ষ বিক্ষেপ করে শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি সম্পাদন করতে লাগল। সেই সময় শ্রীকৃষ্ণ তাকে আশ্বাস দিয়ে অন্য স্থানে গমন করলে, সেই সতী কুব্জা কৃতার্থ হয়ে কমলার ন্যায় নিজের ভবনে গমন করল। পরে কুব্জা দেখল, তার ভবন কমলার আলয়ের মত রত্নসার নির্মিত ও রত্ন শয্যায় শোভিত হয়েছে। সেই ভবনে প্রদীপ্ত রত্ন-প্রদীপ-শ্রেণী এবং চতুর্দিকে রত্নময় দর্পণ সমূহ বিরাজ করছে। অসংখ্য দাস দাসীতে সেই ভবন পরিপূর্ণ হয়েছে এবং দাসীদের মধ্যে কেউ সিন্দুর , কেউ বস্ত্র, কেউ তাম্বুল, কেউ শ্বেত চামর ও কেউ বা মাল্য ধারণ করে আছে। কুব্জা সেখানে গিয়ে সুমনোহর মিষ্টান্ন ভোজন করে রত্ন নির্মিত খাটে শুয়ে দাসীগণ কর্তৃক সেবিত হতে লাগল। সেই সময় সেই কুব্জা কৃষ্ণের জন্য নিজের কাছে শয্যার উপর সকর্পূর তাম্বূল, কস্তূরী, কুঙ্কুমান্বিত চন্দন, মালতীমাল্যযুগল, কর্পূর প্রভৃতি সুবাসিত শীতল সলিল ও স্বাদু মিষ্টান্ন সকল সংস্থাপিত করে রাখল। তখন কুব্জা কায়মনোবাক্যে কৃষ্ণের চরণ এবং কৃষ্ণের আগমন ও মনোহর মুখচন্দ্র চিন্তা করতে লাগল। … সেইসময় কুব্জা কামাসক্ত হয়ে নিরন্তর কোটি কামদেবের সমতুল্য মনোহর কামুক কৃষ্ণের রূপ চিন্তাতেই নিমগ্ন হল। এমন কি তার চোখে সমস্ত জগত কৃষ্ণময় বলে মনে হতে লাগল।”

এরপরে আমাদের মূল ঘটনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনার বিবরণ আছে। সেই সব বিবরণ বাদ দিয়ে প্রাসঙ্গিক বিবরণ তুলে ধরা হলঃ-

“ … এরপর সকলে উত্তম মিষ্টান্ন ভোজন করে খাটে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। এদিকে কুব্জাও নিদ্রিত হলে নিদ্রেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ তার কাছে গিয়ে দেখলেন কমলার মত সুন্দরী কুব্জা দাসীগণে পরিবৃতা হয়ে রত্নশয্যায় নিদ্রিত আছেন। তখন জগন্নাথ কৃষ্ণ দাসীগণের ঘুম না ভাঙ্গিয়ে কেবল কুব্জারই নিদ্রা ভঙ্গ করে বলতে লাগলেন, মহাভাগে নিদ্রা ত্যাগ করে আমায় শৃঙ্গার দান কর। সুন্দরী, তুমি পূর্বে রাবণ ভগিনী শূর্পণখা ছিলে। কান্তে, তুমি রামাবতার কালে আমাকে লাভ করবার জন্য তপস্যা করেছিলে। এখন আমি কৃষ্ণরূপে জন্ম গ্রহণ করেছি। তুমি সেই তপঃপ্রভাবে আমাকে কান্তরূপে ভজনা কর। সুন্দরি! এখন তুমি আমার সাথে সুখ সম্ভোগ করে জন্ম-মৃত্যু-জরাশূণ্য সুদুর্লভ আমার গোলোকে গমন কর। শ্রীনিবাস শ্রীকৃষ্ণ এই বলে সেই কামুকী কুব্জাকে বুকে জড়িয়ে নগ্ন করে শৃঙ্গার ও চুম্বন করতে লাগলেন। তখন নবসঙ্গম সঙ্গতা সেই কুব্জা কমলার মত শ্রীকৃষ্ণকে কোলে নিয়ে তার গণ্ডস্থল চুম্বন করতে লাগলেন।… সেই দম্পতি রতিবিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞ, এজন্য ক্ষণকালও তাদেরর সুরতক্রীড়ার বিরাম রইল না, নিরন্তর নানাপ্রকার শৃঙ্গার হতে লাগল। সেইসময়ে ভগবান কৃষ্ণ তীক্ষ্ণ নখাঘাতে কুব্জার স্তনযুগল ও শ্রোণিমন্ডল এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে তার ঠোঁট ক্ষত বিক্ষত করলেন।এরপর শ্রীকৃষ্ণ রাত্রি অবসানকালে বীর্যাধান করলে সুন্দরী কুব্জা সম্ভোগসময়ে মূর্ছাপন্ন হলেন। তখন কৃষ্ণের বক্ষে থাকা সেই কুব্জা দিন কি রাত, স্বর্গ কি মর্ত্য, কি স্থল কি জল কিছুই বোধ করতে পারলেন না। পরে সকাল হলে রজনীপতি যেন শ্রীকৃষ্ণের ব্যতিক্রম দর্শনেই লজ্জায় মলিন হলেন। এরপর গোলোক হতে রত্ন নির্মিত রথ উপস্থিত হলে কুব্জা বহ্নিশুদ্ধ বসনধারণ করে রত্নভূষণে ভূষিত হয়ে গলন্ত স্বর্ণের মত নিত্য জন্মাদিবিবর্জিত দিব্য দেহ ধারণ করে সেই রথে চড়ে গোলোকে গমন করলেন। সেই কব্জা গোলোকধামে চন্দ্রমুখী নামে গোপিকা হয়ে অবস্থান করতে লাগিলেন এবং কতিপয় গোপিকা তার পরিচর্যা কার্যে নিযুক্ত হল। …”

কৃষ্ণ
শূর্পণখা 2

শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ডের ১২৬ তম অধ্যায়ে কুব্জা এবং কৃষ্ণের এই কাহিনীর উল্লেখ মেলে। এখানে রাধা কৃষ্ণকে বলেন, “আপনি বৃদ্ধা অধিকাঙ্গী, অপুত্রী, যুবাদের অস্পৃশ্যা ক্ষত্রিয়কামিনী কুব্জাকে তার প্রাক্তন পুণ্যবলে ভোগ করেছেন।” একথা বলতে বলতেই রাধা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।

শূর্পণখা 4

কৃষ্ণের কুব্জার সাথে সহবাসের কথা ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ডের ১১৫ তম অধ্যায়েও আছে। এখানে অনিরুদ্ধের সাথে যুদ্ধকালে বাণ অনিরুদ্ধকে বলেন, “ তোর পিতা বাসুদেব মথুরাতে ক্ষত্রিয় আর গোকুলে বৈশ্য। সেখানে তার নাম নন্দনন্দন। নন্দের পশুরক্ষক পরম লম্পট দুষ্ট গোপাল তোর পিতামহ বৃন্দাবনে গোপিদের উপপতি। সেই অধার্মিক পুতনাকে সদ্য বধ করে স্ত্রীহত্যাপাপে লিপ্ত হয়েছে; আবার মথুরায় এসে মৈথুনের মাধ্যমে কুব্জাকে বিনাশ করেছে। অতি নিষ্ঠুর যোনিলোলুপ কৃষ্ণ দুর্বল নরকাসুরকে পুত্রসমেত বধ করে তার মনোহর স্ত্রী সমূহ হরণ করেছে।”

শূর্পণখা 6

অনিরুদ্ধ বাণের কথার প্রত্যুত্তরে বলেন ,“কুব্জা পূর্বজন্মে দুরাত্মা রাবণের ভগিনী ছিল; তার নাম শূর্পণখা। সে কামবশে শ্রীরামের প্রতি অভিলাষবতী হয়। ধার্মিক প্রধান লক্ষ্মণ তার নাসিকা ছেদন করেছিলেন। পরে শূর্পণখা সেই পরমেশ্বর তার স্বামী হবেন , তপস্যাপ্রভাবে ব্রহ্মার কাছে এই বর লাভ করে। কুব্জারূপে উৎপন্না সেই শূর্পণখা সেই পুণ্যবলে শ্রীকৃষ্ণকে প্রাপ্ত হয়ে গোলোকে গমন করেছে; কৃষ্ণের আলিঙ্গন বলে গোলোকে গিয়ে একজন গোপী হয়েছে। “ [3]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ডের ১০৬ অধ্যায়ে শিশুপাল কৃষ্ণের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছেন। সেই সব অভিযোগের মধ্যে কৃষ্ণের কুব্জা সম্ভোগের কথাও মেলে। শিশুপাল বলেছেন- কৃষ্ণ সম্ভোগের মাধ্যমে কুব্জার প্রাণ সংহার করেছেন এবং বস্ত্রের জন্য রজককে হত্যা করেছেন।

শিশুপালের বিবরণ এবং বাণের অভিযোগ অর্থাৎ কৃষ্ণ সম্ভোগের মাধ্যমে কুব্জাকে হত্যা করেছেন এই অভিযোগ, সত্য নাকি অন্য বিবরণ সত্য তা নিশ্চিতভাবে বলা আমাদের সম্ভব নয়। তবে সম্ভোগশেষে দিব্য দেহ ধারণ করে গোলোকে গমন করা কোনো বাস্তবসম্মত কথা বলে মনে হয়না।

যাইহোক, কুব্জা এবং কৃষ্ণের কাহিনী পড়ার পর একটি প্রশ্ন মনে উদিত হয়। প্রশ্নটি হলঃ রামের পরবর্তী জন্মে কৃষ্ণ হয়ে যদি শূর্পণখার সাথে সহবাস করতে কৃষ্ণের আপত্তি না থাকে, তবে পূর্ববর্তী জন্মে কৃষ্ণ যখন রাম ছিলেন, তখন শূর্পণখার প্রস্তাব মানতে তার আপত্তি কেন হল? প্রথম ক্ষেত্রে যদি আপত্তি হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কেন আপত্তি হল না? কেন শূর্পণখার নাক কান কেটে দেওয়া হল?

এই ধরণের সকল জটিল প্রশ্নেরই একটি সরল উত্তর অনেকে দিয়ে থাকেন- এ সবই লীলা। সত্যই ‘নিজের বেলা লীলাখেলা, পাপপূণ্য পরের বেলা’। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহে লীলাবতার কৃষ্ণ লীলার নামে যে সকল কাজ করে গিয়েছেন, তা যদি কোনো সাধারণ মানুষ করতো , তাহলে কি এসবকে শুধুই লীলা বলে উড়িয়ে দেওয়া হত? এখনো যদি কেউ কৃষ্ণের মত লীলাখেলা করে বেড়ায়, তাহলে সমাজ তাকে কেমন দৃষ্টিতে দেখবে? যদি তাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে তথাকথিত লীলাবতারদের কেন ভালো দৃষ্টিতে দেখা হয়? এটা এক প্রকারের হিপোক্রেসি নয়?

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লেখাটিতে নবভারত পাবলিশার্স হতে প্রকাশিত পণ্ডিতবর শ্রীযুক্ত পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের বাংলা অনুবাদ ব্যবহার করা হয়েছে।

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


তথ্যসূত্রঃ
  1. কৃষ্ণের ১৬ হাজার স্ত্রীর দিব্য ভবন এবং ১০৮ পটরমণীর জন্য পরিখা। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, শ্রীকৃষ্ণজন্মখণ্ড, ১০৩ অধ্যায় ↩︎
  2. ষোলো হাজার কন্যার পাণিগ্রহণ। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, শ্রীকৃষ্ণ জন্মখণ্ড, ১১২ অধ্যায় ↩︎
  3. কৃষ্ণজন্মখণ্ড, ১১৫ অধ্যায় ↩︎

অজিত কেশকম্বলী II

"মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।"

19 thoughts on

    1. সকল হিন্দু গ্রন্থেরই সরবরাহ করা হচ্ছে, যেকেউ চাইলেই রেফারেন্স অনুযায়ী পিডিএফ থেকে যাচাই করতে পারবেন।

      এখানেও স্ক্রিনশট যুক্ত করা হবে। কিন্তু অনেকসময় এত রেফারেন্স দেওয়া হয় যে স্ক্রীনশট দেওয়া আর সম্ভব হয় না।

  1. অবিবেকি মানুষ অর্থাৎ না বুঝে অর্থের অনর্থ করে ফেলে। শাস্ত্রকে বুঝতে হলে শাস্ত্রদৃষ্টি রাখতে হবে। যেমন, বিজ্ঞানের ব্যখ্যা গণিতের দ্বারা নিষ্পাদিত হয়। তেমনি শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা বোঝার জন্য শাস্ত্রীয় দৃষ্টি দরকার। লৌকিক দৃষ্টিতে সম্ভোগ, ভোগ, কাম, মিলনের মতো শব্দ গুলো বিচার করতে গেলে দোষ দর্শন হবে। শাস্ত্রের ব্যখ্যা করছো অথচ নিজের লৌকিক দৃষ্টি পরিহার করছো না। এ কেমন বিচার?

    আপনি প্রসঙ্গকে অপ্রাসঙ্গিক বলে নিজের প্রসঙ্গ টেনে এনে ধর্মশাস্ত্রকে কাম কালিমা দ্বারা আবৃত করতে চেয়েছেন: আমাদের মূল ঘটনার সাথে অপ্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনার বিবরণ আছে। সেই সব বিবরণ বাদ দিয়ে প্রাসঙ্গিক বিবরণ তুলে ধরা হলঃ-” এতে কি প্রমাণিত হয়? আপনি স্বেচ্ছায় প্রসঙ্গ পরিহার করছেন।

    1. লেখাটিতে সম্পূর্ণ অংশের স্ক্রিনশট দেওয়া হয়েছে, ওখানে কি আছে তা সবাই দেখতে পাবে, মশাই। মাঝের কয়েকটি লাইন যা বাদ দেওয়া আছে সেখানে কুব্জা ও কৃষ্ণের ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক কোন কথা আছে তা দয়া করে আবিষ্কার করে জানাবেন। ওই অংশে কুব্জা এবং কৃষ্ণের কোনো কথা নেই,অন্য ঘটনার বিবরণ আছে।

      লম্পট ভগবান কৃষ্ণের লুচ্চামি ফাঁস হয়ে যাওয়াতে জ্বলন ধরলে তো হবে না!

      আর এছাড়া, আপনার বাকি সব প্রলাপ সম্বন্ধে কিছু বলার ইচ্ছা নেই, স্বাধীনভাবে প্রলাপ বকুন। ধন্যবাদ

      1. ভাই, এই পুরাণের সাথে মহাভারতের কোন সম্পর্কো নেই,,এটা ভণ্ডেদের কাজ,, পুরাণ হিন্দুধর্মের কোন বই হতে পারে না।

  2. অজিতদা, আপনার জ্ঞানের কাছে আমি ধারে কাছেও নাই। তাও বলি, পুরান ছোটবেলা যতগুলো শুনছিলাম বর্তমানে পুরানের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই আছে। এগুলো পুরান লেখা হয়েছে অনেক পরে। যে যার মতো যা ইচ্ছা সেভাবেই লিখছে। এক রাইটারের সাথে আরেক রাইটারের মিল নাই।তাছাড়া শ্রীকৃষ্ণের সময় যে লিখছিল তা এত বছর পরে এসে বিকৃত হয়ে গেছে।ধর্ম টা যেহেতু হিন্দুধর্ম, তাই এগুলো নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। হিন্দুদের ৮০% সেকুলার। তবে মহাভারত এবং গীতা থেকে যদি কিছু দেখাতে পারেন তবে বিশ্বাস করব।

    1. মহাপুরাণ ১৮ টা, উপপুরাণ অনেকগুলো। তবে আপনি ছোটো থেকে বড় হতে হতে নতুন পুরাণ আর তৈরি হয়নি।

      যাইহোক, মহাভারতেও অনেক সমস্যা আছে। মহাভারত নিয়ে আমি কয়েকটি লেখা লিখেছি ইতিমধ্যে । ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু লেখার আছে। নিচে লেখাগুলোর লিংক রইলোঃ

      মহাভারতে জাতিভেদঃব্রাহ্মণ
      https://www.shongshoy.com/archives/13536?swcfpc=1

      ধার্মিক পাণ্ডবরা যখন ঠান্ডা মাথার খুনি
      https://www.shongshoy.com/archives/18169?swcfpc=1

      মহাভারতের একলব্য, যার প্রতিভাকে খুন করেছিল বর্ণবাদীরা

      https://www.shongshoy.com/archives/21077?swcfpc=1

      1. পোস্টটা আর একটু আপডেট করা যায়।
        গীতার শ্লোক অনুযায়ী, যারা জন্ম হয়েছে, তার মৃত্যু হবেই।
        মহাভারত অনুযায়ী, কৃষ্ণের মৃত্যুর পর তাঁর মৃতদেহ অর্জুন দাহ করে।
        অর্থাৎ কুব্জা সরাসরি তার জীব শরীর নিয়ে গোলকে যায় নি।
        মৃত্যুর পর নতুন দিব্য শরীর ধারণ করে গোলকে গিয়েছে।
        এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুব্জার মৃত্যুর কারণ কি??
        কোন জীব কারণ ছাড়া মরতে পারেনা।
        যেমন- কৃষ্ণ তীর বিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলো। আর রাম জলে ডুবে আত্মঘাতী হয়।
        সুতরাং বলা যায়, কুব্জার মৃত্যুর কারণ অবশ্যই আছে। কৃষ্ণের দ্বারা অতি আগ্রাসী sex সহ্য করতে না পেরে কুব্জা মারা যায়।
        অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, কৃষ্ণ কুব্জাকে চুদে চুদে মেরে ফেলেছে।

  3. “সম্ভোগশেষে দিব্য দেহ ধারণ করে গোলোকে গমন করা কোনো বাস্তবসম্মত কথা বলে মনে হয়না” কিন্তু “কুব্জা শ্রীকৃষ্ণের দৃষ্টিমাত্রে রূপ ও যৌবনে লক্ষ্মীর সমান সৌন্দর্যশালীনি হল। তখন সে বহ্নিশুদ্ধবসন ও রত্নভূষণে ভূষিত মনোহর ধন্যা বারো বছর বয়সের কন্যায় রূপান্তরিত হল” -এই কথা কিভাবে বাস্তবসম্মত হয়???
    তাহলে হয় আমাদের বাস্তবতা বাদ দিতে হবে নাহয় কাহিনীর কোথাও একটা ভূল আছে বা বিস্মৃতি হয়েছে ধরে নিতে হবে।

    1. কুব্জার যুবতীতে পরিণত হওয়াও বাস্তব সম্মত কথা নয়। তবে কৃষ্ণ উপাসকদের কাছে কৃষ্ণ হচ্ছে ভগবান, তার ক্ষমতা অসীম। তারা এসবকে সত্য বলেই বিশ্বাস করে। বৈষ্ণবরা নিজেরাই এসব কাহিনীর রচনা করেছে। এসব কাহিনী হতে বৈষ্ণবদের ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র সম্বন্ধে জানা যায় আরকি!

      মহাভারতের কৃষ্ণও অলৌকিকতা হতে মুক্ত নয়। অলৌকিকতা ছাড়া বেশিরভাগ ধর্মই চলে না।

  4. সনাতন ধর্ম নিয়ে সঠিক বিশ্লেষণ তখনি করতে পারবেন যখন সম্পুর্ণ বিষয় গুলো জানতে পারবেন। আংশিক পড়ে সনাতন ধর্মের বিশ্লেষণ করা এক প্রকার বোকামি ছাড়া কিছুই না। আপনি বিশ্লেষণ করেন কিন্তু পরিপূর্ণ ভাবে জেনে তার পর করেন। কারণ এটা ইসলাম ধর্মের মত বানোয়াট ধর্ম না।

  5. হিন্দু ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস হচ্ছে জন্মান্তরবাদ এবং কর্মফল। পূর্বজন্মে রাম যদি শূর্পনখার সাথে সহবাস করতো তাহলে রাবণ সীতা হরণ করতো না। ফলে সুগ্রীবের সাথে রামের বন্ধুত্ব হতো না, হনুমানের সঙ্গে রামের যোগাযোগ হতো না, রামের জন্য ফুল আর কুল সংগ্রহ করে রাখতেন যিনি, তাঁর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হতো না, রাম রাবণের যুদ্ধ হতো না, পৃথিবীহতে রাবণের অত্যাচার বন্ধ হতো না, স্বর্গের দেবতাদের উপর রাবণের অত্যাচার বন্ধ হতো না, রাম রুপী বিষ্ণুর জন্ম উদ্দেশ্য ব্যাহত হতো এবং সর্বপরী রামায়ণ হতো না।। আর রাম ছিলেন আদর্শ স্বামী, আদর্শ রাজা।।
    শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের পূর্ণ অবতার, আর যে ভগবানকে যে রূপে ডাকে, সে সেই রূপে পায়। কেউ সন্তান, কেউ পিতা-মাতা, কেউবা স্বামী রূপে কল্পনা করে। আর সিন্ধুতে বিন্দুর মিলন। সকল স্বামী যে জগৎ-স্বামীতে মিলিত হবে, গোপীনীগণ তথা রাধা- কুব্জা সেই স্বামীর সাধনা করতো।
    শ্রীকৃষ্ণ যদি নিছকই একজন মানুষ তথা আপনাদের মতানুযায়ী লম্পট হতো, তাহলে অন্তত এতো অলৌকিক শক্তির প্রদর্শন করা তার পক্ষে সম্ভব হতো না,, এখন এই অলৌকিক ঘটনা নিয়ে তো আপনারা আবার সন্দীহান। এই বিষয়ে বলি- এটা ৫০০০+ বছর আগের ঘটনা, যখন পৃথিবীতে পাপের পরিমাণ আজকের তুলনায় কম ছিল, এবং মানুষ আর দেবতা তথা ভগবানের প্রতিনিধি সহাবস্থান করতো।। আর ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান অনুযায়ী আপনারা কৃষ্ণ আর কুব্জার সহবাসের ঘটনা বিশ্বাস করছেন, কিন্তু সেই পটভূমি আর অলৌকিকতা বিশ্বাস করছেন না- এটা কেমন দর্শন??
    যাই হোক- জন্মান্তরবাদ ও কর্মফল অনুযায়ী শূর্পনখা তথা কুব্জার মুক্তি হেতু এবং তার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করার হেতু পরবর্তী জন্মে কৃষ্ণ রূপী রাম কুব্জা রূপী শূর্পনখার বাসনা পূর্ণ করেছে এবং কুব্জা জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন হতে মুক্তি দিয়েছে, যাকে মোক্ষ লাভ বলে, এবং এই মোক্ষ লাভই সনাতন তথা হিন্দুধর্মের মূল লক্ষ্য।। ফলো কুব্জা বৈকুন্ঠে স্থান পায় 🙏 পূর্ব জন্মে কুব্জার পূর্ণ ছিল বলেই কৃষ্ণের সময়ে তার বিচরণভূমিতে জন্ম হয়েছিল কুব্জার।। আর রাম কেন শূর্পনখার সাথে সহবাস করিনি, সেটা ১ম প্যারায় বলেছি।।
    হিন্দু ধর্ম যদি নিছকই বানোয়াট আর অলৌকিক হতো, তাহলে এতো হাজার-লক্ষ বছর ধরে এই পরম্পরা চলে আসতো না এবং একটা ঘটনার সাথে অপর ঘটনার হাজার বছর ব্যবধান থাকা সত্বেও এমন সাদৃশ্য আর যোগসূত্র থাকতো না।। তার প্রমাণ ঐতিহ্যে-প্রত্নতত্বে আর ইতিহাসে।যদিও বর্তমানে হিন্দুরা সংকীর্ণতা আর অন্য ধর্মের চাপে নিজেদের সত্যের উদঘাটন করে না, তার বলে সব বানোয়াট তথা মিথ্যা না। সনাতন তথা হিন্দু আত্মার ধর্ম,যা চিরশাশ্বত।।

  6. ভাই আপনার কি মনে হয় যে এইগুলো লাখ লাখ বছর আগে কথা তারা সঠিকভাবে মুখস্ত রেখে তারা এগুলো উপস্থাপন করছে । আর যতগুলো পূরণের কথা বলছেন এখানে বলা আছে প্রায় একশ দুইশ পুরান হইবে এইগুলো সব মুখস্ত রেখে তারা কাগজ আবিষ্কারের পর লিখছি তাও আবার সঠিকভাবে কিন্তু এই যে পূরাণগুলো যে উপস্থাপন করেন কিন্তু আমাদের ধর্মগ্রন্থ বেদ সেই বেদে এর বিপরীতে লেখা আছে আর যতগুলো পূরণের কথা বলেন এইগুলো তো হিন্দুরা মনে হয় কোনদিন নামও শুনে নাই । তাছাড়া হতেও পারে যখন ভারতবর্ষে মুসলিমরা আসে তখন তারা জোর করে কিছু খারাপ গল্প উপস্থাপন করে এই সব গ্রন্থে কিন্তু মেইন যে ধর্মগ্রন্থগুলো সেগুলো সবাই জানতো তার জন্য তো সেগুলো পারে নাই যেমন বেদ ও গিতায় আই আর এই পুরান গুলো যে সত্য তার কোন প্রমাণ
    তাছাড়া এখানে যে অলৌকিক শক্তিগুলো বলা হয় সেগুলোতে ঈশ্বর রূপে কোন শক্তি না থাকলে তো সেগুলো হতো না তাহলে বোঝা যায় এগুলো ভুল

    1. শ্রীকৃষ্ণের এহেন কামুক মনোভাব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জ্ঞাত করলে তা মহম্মদীয়দের উপর চাপিয়ে দেয়।
      শ্রীকৃষ্ণের ষোলো হাজার স্ত্রীর ইতিহাস কিছুটা বিকৃত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে বন্দিনীদের কেউ বিবাহ করত না। শ্রীকৃষ্ণ সমাজসংস্কারকরূপে নিয়ম পরিবর্তন ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করতে ষোলো হাজার বন্দিনীকে বিবাহ করেন।

Leave a comment

Your email will not be published.