
Table of Contents
- 1 ভূমিকা
- 2 আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আধুনিক যুদ্ধনীতি
- 3 দাসপ্রথা ও যুদ্ধবন্দী নারীর যৌন অধিকার
- 4 ধর্ষণের সংজ্ঞা বদলে অপরাধ মুছে ফেলার কৌশল
- 5 কাফের নারীদের ধর্ষনের ইসলামিক জাস্টিফিকেশন
- 6 হাদিস ও ফিকহশাস্ত্রে দাসীর যৌন কর্তব্য
- 7 হাদিসে জরুরি প্রশ্নটি অনুপস্থিত: বন্দী নারীর সম্মতি
- 8 বিবাহিত বন্দী নারী: স্বামীর অধিকার বাতিল, মালিকের যৌন অধিকার বহাল
- 9 আলেমদের মতামতঃ ইসলামে স্ত্রী বা দাসী সহবাস করতে বাধ্য
- 10 সম্মতির অনুপস্থিতি ও যৌন শোষণ
- 11 আধুনিক মুসলিম সমাজ ও শরিয়তের স্থবিরতা
- 12 মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা ও নৈতিক প্রশ্ন
- 13 ঐতিহাসিক উদাহরণসমূহ
- 14 উপসংহার
ভূমিকা
মানব সভ্যতার ইতিহাসে দাসপ্রথা এক অন্ধকারতম অধ্যায়। প্রাচীন গ্রিস, রোম, ভারত, চীন কিংবা আরব— প্রায় প্রতিটি সভ্যতাই কোনো না কোনোভাবে দাসপ্রথা চর্চা করেছে। ইসলামের উদ্ভবও এমন এক সময়ে, যখন আরব সমাজে দাস ও দাসী ছিল সাধারণ বাস্তবতা। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— ইসলাম কি দাসপ্রথা বিলোপ করেছে, নাকি নতুন আঙ্গিকে বৈধতা দিয়েছে? নবী নিজে কি দাসদাসী রেখেছেন, কেনাবেচা করেছেন, অর্থাৎ নবী নিজেই একজন দাসও ব্যবসায়ী ছিলেন কিনা। বিশেষত যুদ্ধবন্দী নারীকে দাসী বা উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাদের সম্মতি ছাড়াই যৌনসম্পর্ক স্থাপনের অনুমোদন ইসলামি আইন ও ফিকহে সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রবন্ধে আমরা কোরআন, হাদিস, ফিকহশাস্ত্র এবং আধুনিক মানবাধিকারের আলোকে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করব। উল্লেখ্য, ইসলামের শরীয়াহ অনুযায়ী, মুহাম্মদের প্রতিষ্ঠিত বিধান কেয়ামত পর্যন্ত কার্যকর ও অপরিবর্তনীয় বলে গণ্য। এমনকি, ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে এই বিধান বর্তমান আমলেও একইভাবে প্রয়োগযোগ্য। তাই এই আলোচনাটি আধুনিক মানদণ্ডে পুরনো কোন বিধানকে মূল্যায়ন নয়, বরঞ্চ ইসলামী বিশ্বাসের নিজস্ব কাঠামো ও ফিকহি যুক্তি বর্তমানেও যারা প্রয়োগ করতে চায় তাদের বিশ্বাসের ভিত্তির ওপর লিখিত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আধুনিক যুদ্ধনীতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা যুদ্ধাপরাধ রোধ ও মানবাধিকার রক্ষায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সনদ ও আইনের প্রবর্তন করেছে। ১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে “কেউ দাসত্ব বা ক্রীতদাসত্বের শিকার হবে না; সব ধরনের দাস প্রথা ও দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ” (UDHR, অনুচ্ছেদ ৪)। এছাড়াও, যুদ্ধাবস্থায় বেসামরিক ব্যক্তি ও বন্দীদের সুরক্ষা দিতে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনসমূহ গৃহীত হয়, যা যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আবশ্যিকভাবে মানবিক আচরণ পালনের জন্য বাধ্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধবন্দীদের নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, দাসত্বে নিযুক্ত করা প্রভৃতি গুরুতর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও গণধর্ষণের অপরাধে দায়ীদের বিচার করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আধুনিক সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা এসব চুক্তি ও আইনের মাধ্যমে যুদ্ধকালে ন্যূনতম মানবিক মানদণ্ড রক্ষা করার চেষ্টা করে এবং এর ব্যত্যয় ঘটালে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখে। সুতরাং আজকের দুনিয়ায় যুদ্ধবন্দীদের হত্যা, নির্যাতন বা যৌনদাসত্বে পরিণত করা সার্বজনীনভাবে নিন্দিত ও নিষিদ্ধ একটি কাজ।
দাসপ্রথা ও যুদ্ধবন্দী নারীর যৌন অধিকার
কোরআনে বহুবার “ملک اليمين” (মালাকাত আইমানুকুম / তোমাদের ডান হাত যা অধিকার করে) শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুদ্ধবন্দী নারী কিংবা বাজার থেকে কিনে আনা দাসীদের বোঝাতে ব্যবহৃত। এই বিষয়ে অন্য একটি লেখায় খুব বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, আগ্রহী পাঠক সেই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন [1]। এখানে স্ত্রী (যার সাথে চুক্তি ও সম্মতি বিদ্যমান) এবং দাসী (সরাসরি যার ক্ষেত্রে কোন চুক্তি বা তার সম্মতি নেই) একই সঙ্গে বৈধ যৌনসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনে সূরা আন-নাহলের ৭৫ নম্বর আয়াতে [2] দাসকে এমন একজনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যে “কোনো কিছুতেই ক্ষমতাহীন।” এই দৃষ্টিভঙ্গিই ইসলামি ফিকহের ভিত্তি তৈরি করে— দাস বা দাসী নিজস্ব ইচ্ছা ও সম্মতি থেকে বঞ্চিত, তার শরীর-শ্রম-যৌনতা সবকিছুই প্রভুর অধিকার।
আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেনঃ অন্যের মালিকানাভুক্ত এক দাস যে কোন কিছু করারই ক্ষমতা রাখে না। আর এক লোক যাকে আমি আমার পক্ষ হতে উত্তম জীবিকা দান করেছি আর তাত্থেকে সে গোপনে প্রকাশ্যে দান করে, (এ) দু’জন কি সমান? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
— Taisirul Quran
আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখেনা। এবং অপর এক ব্যক্তি যাকে তিনি নিজ হতে উত্তম রিয্ক দান করেছেন এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি উভয়ে একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য; অথচ তাদের অধিকাংশ এটা জানেনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
আল্লাহ উপমা পেশ করেছেন; একজন অধিনস্ত দাস যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না। আর একজন যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দিয়েছি, অতঃপর সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লা্হর। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
— Rawai Al-bayan
আল্লাহ্ উপমা দিচ্ছেন [১] অন্যের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোনো কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাকে আমরা আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি একে অন্যের সমান [২]? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই প্রাপ্য [৩]; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না [৪]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
ধর্ষণের সংজ্ঞা বদলে অপরাধ মুছে ফেলার কৌশল
ইসলামি বক্তাদের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো ধর্ষণের সংজ্ঞাকেই এমনভাবে বদলে দেওয়া, যাতে দাসীর ওপর মালিকের যৌন অধিকার আগেই অভিযোগের বাইরে চলে যায়। তারা ধর্ষণকে সংজ্ঞায়িত করে “জোরপূর্বক অবৈধ যৌন সঙ্গম” হিসেবে। এরপর বলে, স্ত্রী বা বৈধ দাসীর সঙ্গে সহবাস যেহেতু শরিয়তে অবৈধ নয়, তাই সেটি ধর্ষণ নয়। এটি যুক্তি নয়, এটি সংজ্ঞাগত প্রতারণা। কারণ বিতর্কের মূল প্রশ্নই হলো—কোনো নারীকে যুদ্ধবন্দী করে, বাজারে বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তিতে পরিণত করে, তার ওপর মালিকের যৌন অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেই কি তার সম্মতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়? ইসলাম প্রচারকগণ এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না; বরং “শরিয়তে বৈধ” বলে সমস্যাটিকেই মুছে দিতে চায়।
এই যুক্তি গ্রহণ করলে পৃথিবীর প্রতিটি দাসপ্রথাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে। দাসমালিক বলবে, “আমার আইনে দাসকে কাজ করানো বৈধ, তাই এটি forced labour নয়।” বর্ণবাদী আইন বলবে, “আমার আইনে বৈষম্য বৈধ, তাই এটি discrimination নয়।” ঠিক একইভাবে ইসলামি ফিকহ বলছে, “মালিকানাধীন দাসীর সঙ্গে সহবাস বৈধ, তাই এটি ধর্ষণ নয়।” কিন্তু আধুনিক নৈতিক ও আইনি বিচার এমন বৃত্তাকার সংজ্ঞা মানে না। কোনো কাজ অপরাধ কি না তা বিচার করতে হবে ভুক্তভোগীর স্বাধীনতা, সম্মতি, দেহগত স্বায়ত্তশাসন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের ভিত্তিতে; অপরাধীর নিজস্ব ধর্মীয় আইনের বৈধতার ভিত্তিতে নয়।
কাফের নারীদের ধর্ষনের ইসলামিক জাস্টিফিকেশন
এই আলোচনায় কাফের নারীদের ভোগ করার এই বিধানটির পেছনে সত্যিকারের কারণ কী, তা জানা খুবই জরুরি। আসুন এই ওয়াজের বক্তব্য থেকে জেনে নেয়া যাক, যুদ্ধবন্দী কাফের নারীদের সাথে সহবাসের বিধানের পেছনের কারণ,
হাদিস ও ফিকহশাস্ত্রে দাসীর যৌন কর্তব্য
নিচে এই সম্পর্কিত সমস্ত দলিল প্রমাণ এক এক করে উল্লিখিত হচ্ছে,
রওজাতুত তালেবীন (Rawdat at-Taalibeen)- দাসী সংক্রান্ত বিধান
ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকহ্-এর ইতিহাসে ‘রওজাতুত তালেবীন ওয়া উমদাতুল মুফতীন’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আকর গ্রন্থ। এটি শাফি’ঈ মাযহাবের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য। কিতাবটি রচনা করেছেন জগদ্বিখ্যাত ইসলামিক মুহাদ্দিস ও ফকিহ ইমাম মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (র.) (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি)। তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই গ্রন্থে ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন) এবং পারিবারিক আইনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটিকে শাফি’ঈ ঘরানায় চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মূল আরবি পাঠ (নির্বাচিত অংশ) – এই অংশে দাসী ও সংশ্লিষ্ট মাসআলা সংক্রান্ত মূল ইবারত নিচে দেওয়া হলো, [3]
ويحرم على الزوجة والأمة تحريما غليظا أن تمتنع إذا طلبها للاستمتاع الجائز
It is strongly forbidden for a wife or slave concubine to refuse when her husband or master seeks permissible sexual intimacy from her.
— Rawdat at-Taalibeen
বাংলা অনুবাদঃ “…এবং স্ত্রী বা দাসীর জন্য (মালিক বা স্বামীর) বৈধ উপভোগের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে নিজেকে বিরত রাখা কঠোরভাবে হারাম।
অনুবাদের সারসংক্ষেপঃ উপরিউক্ত অংশে ইমাম নববী দাসী সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক স্পষ্ট করেছেন: ইসলামী শরিয়তে, একজন দাসী যখন নির্দিষ্ট মালিকের অধীনে থাকতেন, তখন মালিকের বৈধ শারীরিক চাহিদায় সাড়া দেওয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক। শরিয়ত অনুযায়ী বিনা কারণে এতে বাধা দেওয়াকে বড় গুনাহ বা ‘হারাম’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই শরীয়া বিধান থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামি আইনে দাসী ও মালিকানা সম্পর্কের ক্ষেত্রে মালিকের ইচ্ছাকেই আইন হিসেবে অনুসরণ করা হতো, দাসীর সম্মতির কোন প্রয়োজনই ছিল না।
আসুন সরাসরি বই থেকে দেখে নেয়া যাক,

আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ (Al-Mawsoo’ah al-Fiqhiyyah)
আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ (Al-Mawsoo’ah al-Fiqhiyyah) বা Encyclopedia of Islamic Jurisprudence ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকহ্-এর ইতিহাসে এক অনন্য ও বিশাল কর্মযজ্ঞ। এটি কোনো একক ব্যক্তির লেখা গ্রন্থ নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় তদারকিতে সংকলিত আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় ফিকহ্ বিশ্বকোষ। এটি কুয়েতের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Awqaf and Islamic Affairs, Kuwait) অধীনে একটি বিশেষজ্ঞ আলেম প্যানেলের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। Mawsoo’ah al-Fiqhiyyah-তে বলা হয়েছে [4]
كَضَرْبِ أُمَيَّتِكَ (١) وَقَوْلِهِ: لاَ يَجْلِدُ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ (٢) . وَلِلسَّيِّدِ أَنْ يُقَيِّدَ عَبْدَهُ إِذَا خَافَ عَلَيْهِ الإِْبَاقَ (٣) .
١٩ – سَابِعًا: لِلسَّيِّدِ حَقُّ وَطْءِ مَمْلُوكَتِهِ مَا لَمْ يَمْنَعْ مِنْ ذَلِكَ مَانِعٌ شَرْعِيٌّ، كَأَنْ تَكُونَ حَائِضًا أَوْ نُفَسَاءَ أَوْ مُزَوَّجَةً، أَوْ كَافِرَةً غَيْرَ كِتَابِيَّةٍ، أَوْ تَكُونَ مُرْتَدَّةً أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ، أَوْ فِيهَا شِرْكٌ لِغَيْرِهِ، فَإِذَا وُطِئَتْ تَكُونُ سَرِيَّةً، إِلاَّ أَنَّهَا إِنْ كَانَتْ مُزَوَّجَةً ثُمَّ مُلِكَتْ بِالسَّبْيِ جَازَ لِمَالِكِهَا فَسْخُ نِكَاحِهَا ثُمَّ وَطْؤُهَا بَعْدَ الاِسْتِبْرَاءِ. وَلِلاِسْتِمْتَاعِ بِالإِْمَاءِ أَحْكَامٌ وَضَوَابِطُ شَرْعِيَّةٌ تُنْظَرُ فِي مَوْضِعِهَا مِمَّا يَلِي. وَفِي مُصْطَلَحِ: (تَسَرِّي) . وَيَجِبُ عَلَى الْمَمْلُوكَةِ أَنْ تُمَكِّنَ سَيِّدَهَا مِنْ نَفْسِهَا لِلاِسْتِمْتَاعِ، وَيَحْرُمُ عَلَيْهَا الاِمْتِنَاعُ مِنْ ذَلِكَ لأَِنَّهُ مَنْعُ حَقٍّ، مَا لَمْ تَكُنْ مُحَرَّمَةً عَلَيْهِ، أَوْ
১৯। মালিকের অধিকার আছে তার মালিকানাধীন দাসীকে (যাকে বন্দি বা ক্রয় করে আনা হয়েছে) ভোগ করার, যদি এর মাঝে কোনো শরয়ী (ধর্মীয় আইনসম্মত) বাধা না থাকে। যেমনঃ
– যদি সে ঋতুমতী হয়,
– সন্তান জন্মের পর প্রসূতি অবস্থায় থাকে,
– সে যদি বিবাহিতা হয়,
– যদি সে অমুসলিম হয় এবং কিতাবি (ইহুদি/খ্রিস্টান) না হয়,
– যদি সে ইসলাম ছেড়ে মুরতাদ হয়ে যায়,
– অথবা অন্য কারো অধিকারে থাকে।
এইসব ক্ষেত্রে সহবাস বৈধ নয়।
তবে, যদি সে বিবাহিতা থাকে এবং যুদ্ধবন্দি হয়ে মালিকানায় আসে, তাহলে মালিকের অধিকার আছে তার আগের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার (নিকাহ ফাসখ) পর, ইস্তিবরার (অর্থাৎ তার গর্ভে সন্তান আছে কিনা যাচাই করার জন্য এক মাসিককাল অপেক্ষা করা) পর তাকে ভোগ করার।
‘তাসাররি’ (تَسَرِّي) পরিভাষাঃ দাসীদের সাথে ভোগ-সুখ (সহবাস) গ্রহণ করার বিষয়টি ইসলামে একটি নির্দিষ্ট শরয়ী বিধান ও নিয়মাবলীর অধীনে স্থির করা হয়েছে। এটি “তাসাররি” নামে পরিচিত।
দাসীর কর্তব্য
দাসীর জন্য এটি আবশ্যক ও অবশ্য কর্তব্য যে, সে তার মালিককে নিজের দেহ-উপভোগ করতে দেবে। তার জন্য এটি থেকে বিরত থাকা নিষিদ্ধ, কারণ এটি মালিকের অধিকার বলে ধরা হয়েছে। তবে, যদি সে এমন অবস্থায় থাকে যেখানে মালিকের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ)—যেমন ঋতুমতী, প্রসূতি, বা অন্য কোনো শরয়ী কারণ—তাহলে সে বাধা দিতে পারবে।

অর্থাৎ, দাসীর সম্মতির কোনো মূল্য নেই; তার কর্তব্য হলো তার মালিককে খুশি রাখা, সন্তুষ্ট রাখা এবং যখনই তার মালিক চাইবে শরীয়া সম্মত কোন কারণ (যেমন মারাত্মক অসুস্থতা) না থাকলে তাকে যৌনসুখ প্রদান করা।
আল-মুহাল্লা বিল-আসার (Al-Muhalla bi’l-Aathaar)
“আল-মুহাল্লা বিল-আসার“ হলো ইমাম ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি (র.) রচিত ফিকহ্ শাস্ত্রের একটি কিংবদন্তি গ্রন্থ। এটি জাহিরি মাজহাবের প্রধান নির্ভরযোগ্য আকর। এই গ্রন্থে ইমাম ইবনে হাজম কুরআন ও সুন্নাহর সরাসরি পাঠের ওপর ভিত্তি করে ইসলামি আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং যুক্তি বা অনুমানের (কিয়াস) পরিবর্তে দলিলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তুলনামূলক আইনশাস্ত্র বা ‘ইখতিলাফুল ফুকাহা’ (আলেমদের মতভেদ) বোঝার জন্য এই গ্রন্থটিকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গ্রন্থে দাসী ও স্ত্রীর সম্মতি (Consent) এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে,
[مَسْأَلَةٌ فَرْضُ الْأَمَةِ وَالْحُرَّةِ أَنْ لَا يَمْنَعَا السَّيِّدَ وَالزَّوْجَ الْجِمَاعَ مَتَى دَعَاهُمَا]
অনুবাদ: স্বাধীন স্ত্রী এবং দাসী উভয়ের জন্য ফরজ (আবশ্যক) হলো তারা যেন স্বামী বা মালিককে সহবাসে বাধা না দেয় যখনই তিনি তাদের আহ্বান করেন।
“…مَسْأَلَةٌ: وَفَرْضُ الْأَمَةِ وَالْحُرَّةِ أَنْ لَا يَمْنَعَا السَّيِّدَ وَالزَّوْجَ الْجِمَاعَ مَتَى دَعَاهُمَا، مَا لَمْ تَكُنْ الْمَدْعُوَّةُ حَائِضًا، أَوْ مَرِيضَةً تَتَأَذَّى بِالْجِمَاعِ، أَوْ صَائِمَةَ فَرْضٍ، فَإِنْ امْتَنَعَتْ لِغَيْرِ عُذْرٍ، فَهِيَ مَلْعُونَةٌ…”
অনুবাদ: “দাসীর ওপর এবং স্বাধীন স্ত্রীর ওপর এটি আবশ্যকীয় কর্তব্য যে, মালিক বা স্বামী যখনই তাদের মেলামেশার জন্য ডাকবেন, তারা যেন বাধা না দেয়— যতক্ষণ না সেই নারী ঋতুবতী হয়, অথবা এমন অসুস্থ হয় যে সহবাসে অনেক কষ্ট হবে, কিংবা ফরজ রোজা পালনকারী হয়। যদি কোনো ওজর (উপযুক্ত কারণ) ছাড়া সে বিরত থাকে, তবে সে অভিশপ্ত।”
“…عَنْ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ – قَالَ: «إذَا بَاتَتْ الْمَرْأَةُ مُهَاجِرَةً إلَى زَوْجِهَا أَوْ فِرَاشِ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تَرْجِعَ»…”
অনুবাদ: “…নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যদি কোনো নারী তার স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে (বিমুখ হয়ে) রাত কাটায়, তবে ফিরে না আসা পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে অভিশাপ দিতে থাকে।”
“…قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ -: «إذَا دَعَا الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ لِحَاجَتِهِ فَلْتَأْتِهِ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُّورِ»…”
অনুবাদ: “…রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ প্রয়োজনে (শারীরিক চাহিদা মেটাতে) ডাকে, সে যেন অবশ্যই আসে— এমনকি সে যদি চুলার (রান্নার) কাজেও ব্যস্ত থাকে।”
আসুন এই গ্রন্থ থেকে দেখে নেয়া যাক, [5]

সালিহ আল মুনাজ্জিদ (islamqa.info)
ইসলামের আরেকটি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ওয়েবসাইট Islamqa-এর একটি ফতোয়া Fatwa No. 33597- এ বলা হয়েছে [6] –
إجبار الزوج زوجته على الجماع
السؤال: 33597
هل يجوز للرجل أن يُجبر زوجته أو أمته على الجماع إذا رفضت ؟.
الجواب
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:
ليس للمرأة أن تمنع نفسها من زوجها ، بل يجب عليها أن تلبي طلبه كلما دعاها ما لم يضرها أو يشغلها عن واجب .
روى البخاري (3237) ومسلم (1436) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ( إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه فأبت فبات غضبان عليها لعنتها الملائكة حتى تصبح ) .
فإن امتنعت من غير عذر كانت عاصية ناشزا ، تسقط نفقتها وكسوتها .
وعلى الزوج أن يعظها ويخوفها من عقاب الله ، ويهجرها في المضجع ، وله أن يضربها ضرباً غير مُبَرِّح، قال الله تعالى :
( وَاللاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا ) النساء/34 .
وسئل شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله عما يجب على الزوج إذا منعته من نفسها إذا طلبها ؟ فأجاب : ( لا يحل لها النشوز عنه ، ولا تمنع نفسها منه ، بل إذا امتنعت منه وأصرت على ذلك فله أن يضربها ضربا غير مبرح ، ولا تستحق نفقة ولا قسما ) مجموع الفتاوى 32/279 .
وسئل عن رجل له زوجة وهي ناشز تمنعه نفسها فهل تسقط نفقتها وكسوتها وما يجب عليها ؟
فأجاب : ( تسقط نفقتها وكسوتها إذا لم تمكنه من نفسها ، وله أن يضربها إذا أصرت على النشوز . ولا يحل لها أن تمتنع من ذلك إذا طالبها به ، بل هي عاصية لله ورسوله ، وفي الصحيح : ” إذا طلب الرجل المرأة إلى فراشه فأبت عليه كان الذي في السماء ساخطا عليها حتى تصبح ” )
انتهى من مجوع الفتاوى 32/278 ، والحديث رواه مسلم (1736) .
فينبغي وعظ الزوجة أولا ، وتحذيرها من النشوز وغضب الله عليها ولعنة الملائكة لها ، فإن لم تستجب هجرها الزوج في الفراش ، فإن لم تستجب ضربها ضربا غير مبرح ، فإن لم ينفع معها ذلك ، منع عنها النفقة والكسوة ، وله أن يطلقها أو يخالعها لتفتدي منه بمالها .
وكذلك الأمة ليس لها أن تمتنع من تلبية رغبة سيدها إلا من عذر ، فإن فعلت كانت عاصية ، وله أن يؤدبها بما يراه مناسباً وأذن الشرع به .
والله أعلم .
প্রশ্ন নং: 33597
প্রশ্ন:
কোনো পুরুষ কি তার স্ত্রী বা দাসীকে জোর করে সহবাসে বাধ্য করতে পারবে, যদি সে অস্বীকার করে?
উত্তর
আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল ﷺ-এর প্রতি দরূদ ও সালাম:
নারীর জন্য বৈধ নয় যে, সে নিজেকে স্বামী থেকে বিরত রাখবে। বরং তার উচিত স্বামীর আহ্বানে সাড়া দেওয়া, যখনই স্বামী তাকে আহ্বান করে, যদি না এমন কোনো ক্ষতি বা অজুহাত থাকে যা তাকে বৈধভাবে বিরত রাখে।
সহীহ বুখারী (হাদিস 3237) ও সহীহ মুসলিমে (হাদিস 1436) আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে শয্যায় আহ্বান করে, আর সে অস্বীকার করে, তখন স্বামী রাগ করে রাত কাটালে ফেরেশতারা তাকে (স্ত্রীকে) সকাল পর্যন্ত লানত করতে থাকে।”
সুতরাং, যদি কোনো নারী অকারণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাকে অবাধ্য গণ্য করা হবে, এবং এর ফলে তার ভরণপোষণ ও পোশাকের অধিকার নষ্ট হয়ে যাবে।
স্বামীর কর্তব্য হলো, তাকে (স্ত্রীকে) আল্লাহর ভয় দেখানো ও উপদেশ দেওয়া; যদি না শোনে, তবে তাকে শয্যা থেকে পৃথক করা; আর তাতেও কাজ না হলে হালকা প্রহার করা—কিন্তু এমন প্রহার নয় যা আঘাত বা ক্ষত সৃষ্টি করে। আল্লাহ বলেন:
“আর যেসব নারীর অবাধ্যতার আশঙ্কা কর, তাদের উপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর, এবং প্রহার কর; তারপর যদি তারা অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পথ অবলম্বন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান।” (সূরা নিসা ৪:৩৪)
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) বলেছেন:
স্ত্রীর জন্য বৈধ নয় যে, সে নিজেকে স্বামী থেকে বিরত রাখবে। বরং যখন স্বামী আহ্বান করবে, তখনই তার সাড়া দেওয়া ওয়াজিব, যদি না শরীয়তসম্মত কোনো কারণ থাকে যা তাকে বিরত রাখে। (মাজমূআ ফাতাওয়া ৩২/২৭৯)
প্রশ্ন:
যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর ভরণপোষণ ও পোশাক দেয়, অথচ স্ত্রী তাকে (সহবাসে) নিজেকে দিতে অস্বীকৃতি জানায়—এক্ষেত্রে কী হবে?
উত্তর:
সে (স্ত্রী) যদি বৈধ অজুহাত ছাড়াই স্বামীকে নিজেকে না দেয়, তবে তার ভরণপোষণ ও পোশাকের অধিকার বাতিল হয়ে যাবে। আর তাকে প্রহার করা বৈধ হবে, তবে এমনভাবে নয় যে এতে গুরুতর ক্ষতি হয়।
তবে শরীয়তসম্মত কোনো অজুহাত থাকলে স্ত্রীকে গোনাহগার বা অবাধ্য গণ্য করা হবে না।
উপসংহার
স্ত্রীর জন্য স্বামীর আহ্বান অকারণে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়।
অকারণে অস্বীকার করলে ফেরেশতাদের লানতের শিকার হবে, এবং তার ভরণপোষণ ও পোশাকের অধিকার নষ্ট হবে।
স্বামীকে প্রথমে উপদেশ দিতে হবে, তারপর শয্যা আলাদা করতে হবে, এবং প্রয়োজনে হালকা প্রহার করতে পারবে।
শরীয়তসম্মত কারণ থাকলে স্ত্রী অস্বীকৃতি জানাতে পারবে, এবং সেক্ষেত্রে দায় স্বামীর ওপর বর্তাবে।
ইবনে তাইমিয়ার মাজমু’আ ফাতাওয়া থেকে উদ্ধৃতি শেষ হলো (৩২/২৭৮)। আর হাদিসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে (১৭৩৬)।
অতএব, প্রথমে স্বামীর উচিত স্ত্রীকে উপদেশ দেওয়া, তাকে অবাধ্যতার (নুশূজ) ভয় দেখানো, আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখানো, ফেরেশতাদের লানতের কথা স্মরণ করানো। যদি স্ত্রী তারপরও সাড়া না দেয়, তবে স্বামী শয্যা ত্যাগ করে তার থেকে দূরে থাকবে। যদি তবুও সে সাড়া না দেয়, তবে তাকে এমনভাবে প্রহার করতে পারবে, যা গুরুতর বা ক্ষতসৃষ্টিকারী নয়। যদি তবুও কোনো উপকার না হয়, তবে স্বামী তার ভরণপোষণ ও পোশাক বন্ধ করে দিতে পারে, এমনকি চাইলে তাকে তালাক দিতে পারে অথবা অর্থের বিনিময়ে খুলার মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।
একইভাবে, দাসীর ক্ষেত্রেও—তার জন্য বৈধ নয় যে, সে কোনো অজুহাত ছাড়া মালিকের যৌন চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকবে। যদি বিরত থাকে, তবে সে গুনাহগার হবে। আর মালিকের অধিকার আছে তাকে শাস্তি দেওয়ার এবং যেভাবে উপযুক্ত মনে করে, শরীয়তের অনুমোদিত সীমার মধ্যে তার ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার।
আল্লাহই সর্বাধিক জানেন।
Islamweb-এ সংরক্ষিত আল-মুহাল্লার পাঠ: স্ত্রী ও দাসীর যৌন অস্বীকৃতি
আরেকটি অত্যন্ত বিখ্যাত ফতোয়া ওয়েবসাইট Islamweb-এ প্রকাশিত ইবনে হাজমের গুরুত্বপূর্ণ ফিকহগ্রন্থ আল-মুহাল্লার বক্তব্যতেও একই কথা পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে: [7]
معلومات الكتاب
المحلى بالآثار
ابن حزم الأندلسي – علي بن أحمد بن سعيد بن حزم
إظهار / إخفاء التشكيل بحث في الكتاب
1883 – مسألة : وفرض الأمة والحرة أن لا يمنعا السيد والزوج الجماع متى دعاهما ، ما لم تكن المدعوة حائضا ، أو مريضة تتأذى بالجماع ، أو صائمة فرض ، فإن امتنعت لغير عذر ، فهي ملعونة . روينا من طريق مسلم نا ابن أبي عمر نا مروان – هو ابن معاوية الفزاري – عن يزيد بن كيسان عن أبي حازم عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم { والذي نفسي بيده ما من رجل يدعو امرأته إلى فراشها فتأبى عليه إلا كان الذي في السماء ساخطا عليها حتى يرضى عنها } .
نا حمام نا عباس بن أصبغ نا محمد بن عبد الملك بن أيمن نا بكر بن حماد نا مسدد نا يحيى – هو ابن سعيد القطان – نا شعبة عن قتادة عن زرارة بن أوفى عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال : { إذا باتت المرأة مهاجرة إلى زوجها أو فراش زوجها لعنتها الملائكة حتى ترجع } .
ومن طريق أحمد بن شعيب نا هناد بن السري عن ملازم بن عمرو نا عبد الله بن بدر عن قيس بن طلق عن أبيه طلق بن علي قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول : { إذا دعا الرجل زوجته لحاجته فلتأته وإن كانت على التنور } .
এবারে আসুন আল-মুহাল্লার মাসআলাটির বাংলা অনুবাদ দেখি,
আল-মুহাল্লার মাসআলা নম্বর ১৮৮৩
দাসী এবং স্ত্রী — উভয়ের জন্যই স্বামী বা মালিক যখন যৌন সম্পর্কের জন্য আহ্বান জানায়, তখন তা মেনে নেওয়া আবশ্যক।
দাসী বা স্বাধীন স্ত্রী ঋতুমতী, সহবাসে কষ্ট হয় এমন অসুস্থ কিংবা ফরজ রোজাদার না হলে মালিক বা স্বামীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না; বৈধ অজুহাত ছাড়া অস্বীকার করলে তাকে অভিশপ্ত বলা হয়েছে।
এটি মুসলিমের সূত্রে ইবনে আবী উমর, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আল-ফাজারি, ইয়াজিদ ইবনে কাইসান ও আবূ হাজিমের মাধ্যমে আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ—কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে শয্যায় ডাকলে এবং সে অস্বীকার করলে, আকাশের অধিপতি তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন, যতক্ষণ না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়।”
(সহীহ হাদিস: বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত)
অন্য সনদেও আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে একই বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।
আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:
“যদি কোনো নারী রাত কাটায় এভাবে যে তার স্বামী তার শয্যা থেকে তাকে ডাকছে অথচ সে সাড়া দেয়নি, তাহলে ফেরেশতারা তাকে সকাল পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকে।”
অন্য সূত্রে কায়েস ইবনে তালক তাঁর পিতা তালক ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন; তালক ইবনে আলী বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি:
“যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের প্রয়োজনে ডাকে, তখন সে যেন তার কাছে আসে—এমনকি সে চুলার কাজেও ব্যস্ত থাকলেও।”
সারসংক্ষেপঃ
স্ত্রী বা দাসী উভয়ের জন্য স্বামী/মালিকের যৌন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়, যদি না কোনো বৈধ শরয়ী অজুহাত থাকে।
অকারণে অস্বীকার করলে ফেরেশতাদের লানত ও আল্লাহর ক্রোধের শিকার হতে হবে।
এই হাদিসগুলোকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে ফিকহবিদরা স্ত্রীর ওপর স্বামীর যৌন অধিকারের বাধ্যতামূলকতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।


এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে ইসলামি শরিয়াহ যুদ্ধবন্দী নারীর সম্মতি অস্বীকার করে এবং যৌন সম্পর্ককে প্রভুর আইনগত অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে।
হাদিসে জরুরি প্রশ্নটি অনুপস্থিত: বন্দী নারীর সম্মতি
সহিহ হাদিসগুলোর সবচেয়ে নির্মম দিক হলো, সেখানে বন্দী নারীদের সম্মতি প্রশ্ন হিসেবেও ওঠে না। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, মুসলিমরা আওতাস এবং বানু মুস্তালিক অভিযানে আরব নারীদের বন্দী করেছিল; দীর্ঘদিন স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকার কারণে তারা বন্দী নারীদের কামনা করছিল, কিন্তু একই সঙ্গে তাদের মুক্তিপণ বা বিক্রয়মূল্যও চাইছিল। তাই প্রশ্ন উঠেছিল—সেইসব নারীর স্বামীরা জীবিত এবং বন্দী থাকা সত্ত্বেও তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস বৈধ হবে কি না; কিন্তু কোথাও প্রশ্ন ওঠেনি, বন্দী নারীরা এতে সম্মত কি না। আলোচনার কেন্দ্র ছিল মালিকানা, ইদ্দত/ইস্তিবরা এবং সহবাসের বৈধতা—নারীর সম্মতি নয়। আরও বিবেচ্য ছিল সহবাসের সময় আযল করা যাবে কি না, যাতে তারা গর্ভবতী না হয় এবং বিক্রয়/মুক্তিপণের মূল্য নষ্ট না হয়! এখানে নৈতিক প্রশ্ন ছিল না, “বন্দী নারী রাজি কি না?” প্রশ্ন ছিল, “গর্ভ এড়ানো যাবে কি না?” অর্থাৎ নারীর শরীরকে একসঙ্গে যৌন-ব্যবহারের বস্তু এবং বাজারমূল্যসম্পন্ন সম্পদ হিসেবে দেখা হয়েছে। [8] [9] [10] –
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৮/ দুধপান
পরিচ্ছেদঃ ১. ইসতিবরার পর যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করা জায়েয এবং তার স্বামী বর্তমান থাকলে সে বিবাহ বাতিল
৩৪৭৭। উবায়দুল্লাহ ইবনু উমর ইবনু মায়সারা কাওয়ারীরী (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের যুদ্ধের সময় আওতাসের দিকেএকটি বাহিনী পাঠান। তারা শত্রুদলের মুখোমুখী হয় এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্য থেকে দাসীদের সাথে সহবাস করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী যেন নাজায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ” অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে।
[গর্ভবতী হলে প্রসব, অন্যথায় এক ঋতু অতিবাহিত হওয়াকেই ইসতিবরার বলে।]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।
২১৫২. উবায়দুল্লাহ্ ইবন উমার ইবন মায়সার …… আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের যুদ্ধের সময় আওতাস্ নামক স্থানে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন। তারা তাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করে তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়। আর এই সময় তারা কয়েদী হিসাবে (হাওয়াযেন গোত্রের) কিছু মহিলাকে বন্দী করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবী তাদের সাথে অনধিকারভাবে সহবাস করা গুনাহ মনে করে, কেননা তাদের মুশরিক স্বামীরা তখন বন্দী ছিল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এই আত নাযিল করেনঃ (অর্থ) যে সমস্ত স্ত্রীলোকদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী অর্থাৎ যেসব মহিলা যুদ্ধবন্দী হিসাবে তোমাদের আয়ত্বে আসবে তারা ইদ্দত (হায়েযের) পূর্ণ করার পর তোমাদের জন্য হালাল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)

বন্দিনী নারীগণ যেন দ্রুত গর্ভবতী না হয়ে যায়, সেই দিকে মুহাম্মদের জিহাদী সৈন্যদের ছিল খুব সজাগ দৃষ্টি। নিচের হাদিসটি পড়ুন [11] –
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। (২২২৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
হাদিসটি সরাসরি বই থেকেও দেখে নিই [12] –


এবারে আসুন, সহজ নসরুল বারী গ্রন্থে থেকে এই সম্পর্কিত হাদিসের ব্যাখ্যা পড়ে নিই [13] –
অর্থাৎ আমরা যদি বাঁদীর সাথে আযল না করি, তাহলে বাঁদী উম্মে ওয়ালাদ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ আমাদের মালের প্রতি মহব্বত আছে। আমরা তাকে বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা উপকৃত হতে চাই। কিন্তু উম্মে ওয়ালাদ হয়ে গেলে তাকে বিক্রয় করতে পারব না। এজন্য আমরা বাঁদীর সাথে আযল করতে চাই। যাতে বাঁদীর গর্ভ সঞ্চার না হয়। সুতরাং এ বিষয়ে আপনি কী বলেন?


সহিহ বুখারির বর্ণনাতেও একই কাঠামো দেখা যায়। সেখানে বলা হয়েছে, “আমরা যুদ্ধলব্ধ বন্দী নারী পাই এবং আমরা তাদের মূল্য চাই”—এরপর প্রশ্ন আসে আযল নিয়ে [14]। এই ভাষা কোনো “সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের” ভাষা নয়; এটি যুদ্ধলব্ধ নারী-দেহের ওপর যৌন অধিকার, গর্ভনিয়ন্ত্রণ এবং বাজারমূল্য রক্ষার ভাষা। এপোলোজিস্টরা যদি এখানে সম্মতি খুঁজে পায়, সেটি হাদিসের পাঠ থেকে নয়; সেটি আধুনিক লজ্জা ঢাকতে পরে বসানো কল্পিত নৈতিকতা থেকে।
বিবাহিত বন্দী নারী: স্বামীর অধিকার বাতিল, মালিকের যৌন অধিকার বহাল
কোরআন ৪:২৪ এবং আওতাসের হাদিস ইসলামি যৌনদাসত্বের সবচেয়ে উন্মুক্ত দলিলগুলোর একটি। সাধারণভাবে বিবাহিত নারী নিষিদ্ধ বলা হলেও একই আয়াতে ব্যতিক্রম করা হয়েছে—“তোমাদের ডান হাত যা অধিকার করেছে”। এই ব্যতিক্রমের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় আওতাসের বন্দী নারীদের ঘটনায়। তারা বিবাহিত ছিল; তাদের স্বামী ছিল; সাহাবাদের আপত্তিও ছিল মূলত এই কারণে যে তাদের স্বামী জীবিত এবং একইসাথে বন্দী। কিন্তু সমাধান হিসেবে নারীদের সম্মতি নেওয়ার কথা বলা হয়নি, তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি, তাদের বিবাহের মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়নি। বরং বন্দিত্ব ও মালিকানা তাদের পূর্ববর্তী বিবাহকে অকার্যকর করে দেয়, এবং ইদ্দত শেষে তারা বিজয়ী পুরুষদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। এমনকি, ইসলামি বিধানে মালিকানাধীন দাসী বিবাহিত হলে মালিক যেকোন সময়ে সেই বিবাহ বাতিল করে দিয়ে সেই দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক করার অধিকারও রাখে [15]।
এখানে নৈতিক কাঠামোটি অত্যন্ত পরিষ্কার: নারীর নিজের ইচ্ছা নয়, স্বামীর সঙ্গে তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সম্পর্ক নয়, বরং সামরিক বিজয় ও মালিকানা যৌন বৈধতার ভিত্তি। এটাই যৌনদাসত্বের মূল যুক্তি। একজন নারী আগে কার স্ত্রী ছিলেন, তিনি নিজে কী চান, তিনি যুদ্ধের পক্ষভুক্ত ছিলেন কি না—এসব গৌণ; প্রধান বিষয় হলো তিনি এখন কার “ডান হাতের অধিকারভুক্ত”। এর চেয়ে নগ্ন মালিকানাভিত্তিক যৌননীতি আর কী হতে পারে?
আলেমদের মতামতঃ ইসলামে স্ত্রী বা দাসী সহবাস করতে বাধ্য
আধুনিক সভ্য সমাজে নারীরা পুরুষের মতোই সমান অধিকার ভোগ করেন। তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রে পুরুষের সমানভাবে অংশগ্রহণ করছেন। আধুনিক সমাজে এরকম ঘটনা অসংখ্য, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীর ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়াই তার সাথে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে করে বা স্ত্রীকে তা করতে বাধ্য করে। আধুনিক সভ্য সমাজে এটি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য, যদিও ইসলামিক দেশগুলোতে স্বামীকে এই ধর্ষণের বৈধতা দেয়া হয়। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, স্বামীর চাহিবা মাত্রই তার সাথে স্ত্রী যৌন কাজ করতে বাধ্য, এরকম আইন আরোপ করে। যা বৈবাহিক ধর্ষণের মত মারাত্মক এবং ভয়াবহ ঘটনার জন্য দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আসুন হেফাজতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হারুন ইজহারের বক্তব্য শুনে নিই,
এবারে আসুন স্ত্রী এবং দাসীর সাথে তার স্বামী বা মালিক জোর জবরদস্তি করতে পারবে কিনা, সেটি জেনে নেয়া যাক,
এবারে আসুন এই বিষয়ে মুমিনদের সাথে হওয়া একটি বিতর্ক দেখে নেয়া যাক ০৭:০৮ মিনিট থেকে দেখুন,
সম্মতির অনুপস্থিতি ও যৌন শোষণ
আধুনিক সভ্য পৃথিবীতে ধর্ষণ হলো— কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার সাথে যৌন সম্পর্ক। ইসলামি আইনে যুদ্ধবন্দী নারী বা দাসীর ক্ষেত্রে এটাই অনুমোদিত হয়েছে। তাদের জন্য সম্মতি অপ্রাসঙ্গিক, কারণ তারা প্রভুর মালিকানাধীন বস্তু।
স্বাধীন নারীর ক্ষেত্রে বিবাহ একটি চুক্তি (contract), যেখানে সম্মতির সামান্য কিছু ভূমিকা থাকে, যদি না স্ত্রী অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে বিবাহের পুর্বে তার কাছ থেকে সম্মতি গ্রহণের কথা ইসলামে বলা আছে, তবে নিয়মিত যৌন সম্পর্কের বেলায় সেই সম্মতির কোন প্রয়োজন ইসলামে নেই। কিন্তু দাসীর ক্ষেত্রে কোনো চুক্তি বা ইচ্ছার প্রয়োজন নেই— এটি নিছক মালিকানার অধিকার। এই ভয়ঙ্কর বিধান যুদ্ধবন্দী নারীদের ক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকারকে চরম ভাবে লঙ্ঘিত করে, পুরো মানবতাকেই অসম্মান করে
দাসীদের প্রতি যৌন অধিকার ইসলাম কেবল অনুমোদনই করেনি, বরং এটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করেছে। ইসলামী আইন দাসপ্রথা বিলোপ না করে বরং দাসপ্রথার ওপর নতুন ধর্মীয় বৈধতা আরোপ করেছে। যুদ্ধবন্দী নারীকে পুরুষের ভোগ্যবস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
আধুনিক মুসলিম সমাজ ও শরিয়তের স্থবিরতা
আজকের অধিকাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে দাসপ্রথা আইনত নিষিদ্ধ এবং সাধারণ মুসলমানরা দাস বা দাসী রাখেন না। এটা মূলত বৈশ্বিক চাপ ও মানবাধিকার মূল্যবোধের প্রভাবেই সম্ভব হয়েছে – ইসলামী নৈতিকতা থেকে নয়। সত্য কথা হলো, কোরআন-হাদিসে দাসপ্রথাকে বিলুপ্ত করার আদেশ নেই; শুধু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে দাসদের সাথে সদ্ব্যবহার, মুসলিম দাস মুক্তির সওয়াবের ইত্যাদি উল্লেখ আছে। ঔপনিবেশিক যুগে পাশ্চাত্যের দেশগুলো দাসপ্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করার পর মুসলিমবিশ্বও ধীরে ধীরে তা অনুসরণ করেছে, কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে ইসলামী বিধান গ্রন্থে দাসপ্রথার বৈধতা রয়ে গেছে। ইসলামী স্কলারগণ সাধারণত এ নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থানে থাকেন। অনেকে বলেন “ইসলাম দাসপ্রথা ধীরে ধীরে উঠিয়ে দিয়েছে” – কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে এই তথ্য আসলে সত্য নয়। নবী মৃত্যুর বহু শতাব্দী পর পর্যন্ত মুসলিম সমাজে দাসত্ব বিদ্যমান ছিল এবং ক্রীতদাস ও হারেম প্রথা চালু ছিল। আসলে, আজকের মুসলিমরা দাস না রাখার নীতি মেনে চলছেন মূলত আধুনিক রাষ্ট্রের আইন ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে, ধর্মীয় কারণে নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ইসলামের বিধানকে মুসলিমগণ বিশ্বাস করেন কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তনীয়। মূলধারার আলেমদের মত অনুযায়ী কোরআন ও সহীহ হাদিসের দ্বারা প্রমাণিত যে কোনো শরিয়তি আইন চিরকাল বহাল থাকবে – “ইসলামের যেসব বিধান কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত, সেগুলো কিয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন হবে না”। অর্থাৎ মানুষের তৈরি আইনে পরিবর্তন আসতে পারে, কিন্তু আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত আইন অপরিবর্তনীয় ও সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে, যুদ্ধবন্দীদের দাস বানানোর যে অনুমতি ইসলাম প্রাথমিক যুগে দিয়েছে, তা এখন আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা নৈতিকভাবে ভুল বা খারাপ হয়ে যায়নি। শুধুমাত্র বর্তমান বাস্তবতায় ইসলামী দেশগুলো জাতিসংঘ চার্টার ও অন্যান্য আইনের অধীন বলে তারা দাসপ্রথাকে বিলুপ্ত করেছে; কিন্তু কাল আবারো যদি ইসলামী খিলাফত কায়েম হয়, আবার এ প্রথা চালু করা “শরিয়তসম্মত” বলেই বিবেচিত হবে। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, আইএস যখন সিরিয়া-ইরাকে খিলাফতের দাবিতে এলাকা দখল করে, তখন তারা আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি হলেও কোরআনের বর্ণনার আলোকে ইয়াজিদি ও শিয়া নারী বন্দীদের দাসী বানিয়ে যৌনদাসত্বে বাধ্য করেছে, শিশুদের বাজারে বিক্রি করেছে। তাদের তত্ত্ব ছিল: “রাসুলের সুন্নাত পুনর্জীবিত” করা।
মূলধারার মুসলিমরা আইএসের এই কাজ দেখে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ হলেও তাত্ত্বিকভাবে কোরআন-হাদিসের কোথায় এটা ভুল তা দেখাতে পারেননি, বরং মানবিক ও আধুনিক মূল্যবোধ থেকেই একে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। ঠিক একইভাবে, ইসলামের অন্য অনেক অনুশাসন (যেমন বহুবিবাহ, শিশু বিবাহ, বিধর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক জিজিয়া কর ইত্যাদি) আজ বহু মুসলিম দেশেও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও ধর্মীয়ভাবে সেগুলোর বৈধতা অটুট রয়েছে। এই দ্বৈত বাস্তবতা মুসলিম চিন্তাবিদদের এক বড় নৈতিক সংকটে ফেলেছে: চিরন্তন ধর্মীয় আইন বনাম পরিবর্তনশীল মানবিক মূল্যবোধ। অনেকেই প্রকাশ্যে এ বিতর্ক করতে চান না, কিন্তু বাস্তবতা হলো – যুগ পাল্টানোর সাথে সাথে মানুষ নৈতিকতার মানদণ্ড পরিবর্তন করেছে, অথচ ধর্মীয় গ্রন্থের বিধান অপরিবর্তনীয় রয়ে গেছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা ও নৈতিক প্রশ্ন
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একটি মৌলিক মানবিক প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে: ন্যায়-অন্যায় বা নৈতিকতার মানদণ্ড কি দল বা ধর্মভেদে আলাদা হতে পারে? যুদ্ধক্ষেত্রে “আমাদের পক্ষ” কোনো কাজ করলে সেটি ন্যায়সঙ্গত, অথচ শত্রুপক্ষ একই কাজ করলে তা অন্যায়—এমন দ্বিমুখী অবস্থান যুক্তিসঙ্গত নয়।
ইসলামী ফিকহে অমুসলিম নারীদের বন্দী করা, দাসী বানানো ও যৌনসঙ্গী হিসেবে ব্যবহার বৈধ বলা হয়েছে। কিন্তু যদি উল্টোটা ঘটে?—অর্থাৎ কোনো অমুসলিম বাহিনী মুসলিম নারীদের বন্দী করে একই আচরণ করে, তখন কি কোনো মুসলমান এটিকে ন্যায় ও নৈতিক বলবে? ইতিহাসের নিরপেক্ষ দলিল বলছে: বাস্তবে যখন মুসলিম নারীরা এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তখন মুসলিম সমাজ একে ভয়াবহ অন্যায় ও লজ্জাজনক অপরাধ হিসেবেই দেখেছে।
ইতিহাসে অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে যেখানে উভয় পক্ষই অপর পক্ষের নারীকে বন্দী করেছে এবং যৌন দাসত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। যেমন—
ঐতিহাসিক উদাহরণসমূহ
| সময়কাল / ঘটনা | বিজেতা পক্ষ | পরাজিত পক্ষ | নারী বন্দী/দাসত্বের বিবরণ |
|---|---|---|---|
| ৭১১ খ্রিস্টাব্দ, সিন্ধু বিজয় | আরব সেনারা (উমাইয়া খিলাফত) | হিন্দু রাজ্যসমূহ | হাজার হাজার হিন্দু নারী বন্দী হয়ে দাসী রূপে আরব ভূমিতে প্রেরিত। |
| মোঘল আমল (১৬-১৭ শতক) | মুসলিম সুলতান ও সম্রাটগণ | হিন্দু রাজপরিবার | পরাজিত হিন্দু রাজকুমারীরা বিজেতা সুলতানদের হারেমে অন্তর্ভুক্ত। |
| ক্রুসেড যুদ্ধ (১১-১৩ শতক) | ইউরোপীয় খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা | মুসলিম জনগোষ্ঠী | মুসলিম নারী ও শিশুদের বন্দী করে ইউরোপে বিক্রি করা হয়েছিল। |
| আন্দালুস পতন (১৪৯২) | খ্রিস্টান ক্যাথলিক রাজা-রানী | আন্দালুসের মুসলিমরা | মুসলিম নারী-পুরুষ দাস বাজারে বিক্রি; অসংখ্য নারী যৌন দাসত্বে বাধ্য। |
দেখা যাচ্ছে, ইতিহাসের প্রতিটি উদাহরণে বিজেতা পক্ষ তাদের কর্মকাণ্ডকে বৈধ বা “ধর্মযুদ্ধের গনিমত” বলেছে, অথচ ভুক্তভোগী পক্ষ একে যৌন সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলেই দেখেছে। পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তাই ন্যায়কে দ্বিমুখী রূপে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু ন্যায়নীতির প্রকৃত স্বরূপ সর্বজনীন। নৈতিকতার গোল্ডেন রুলে বলা হয়,
“নিজের সাথে যে ব্যবহার পছন্দ নয়, অন্যের সাথে তা কোরো না।”
ধর্ম যাই হোক না কেন, যদি আপনার মা-বোন বা কন্যা যুদ্ধবন্দী হয়ে শত্রুপক্ষের হারেমে দিন কাটাতেন—আপনি কখনোই সেটিকে ন্যায় বা নৈতিক বলতেন না। তাহলে অন্যের মা-বোনের ক্ষেত্রেও সেটি ন্যায় হতে পারে না। এই সত্যটাই মানবিকতার আসল পরীক্ষা। সভ্যতার অগ্রগতি আমাদের শিখিয়েছে যে মানবাধিকারের মূল্যবোধ সর্বজনীন, “আমাদের দল” বা “তাদের দল” ভেদে নয়। সেই কারণে আজ কোনো রাষ্ট্র প্রকাশ্যে যুদ্ধবন্দীদের ধর্ষণ বা দাসত্ব সমর্থন করে না; যারা করে তারা বিশ্বসভ্যতার চোখে অচ্ছুত হয়ে যায়।
অতএব, ধর্মীয় অনুমতি কোনো অনৈতিক কাজকে ন্যায়সঙ্গত করে তোলে না। যা নিজের পরিবারের নারীর ক্ষেত্রে অন্যায়, অন্যের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেটাই অন্যায়।
উপসংহার
অতীতে যেটা স্বাভাবিক ছিল, আধুনিক নৈতিক মানদণ্ডে সেটাই বেআইনি ও অনৈতিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে – মানব সভ্যতার এই অগ্রগতি আমাদের গর্বের বিষয়। তবে এ অগ্রগতির পথে ধর্মীয় আইনের স্থবিরতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যদি তা পরিবর্তন অস্বীকার করে চিরকাল পুরনো নীতিকেই আঁকড়ে ধরে। ইসলামসহ অন্যান্য বহু ধর্মের মৌলিক আইন প্রাচীন সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত, যেখানে দাসপ্রথা, যুদ্ধ লুণ্ঠন ছিল সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু আজ মানুষের বিবেক সেই ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মানুষের বহু রক্ত-অশ্রুর ফসল এবং তা মানবিক ন্যায়বোধের প্রতিনিধিত্ব করে। ধর্মের নামে বর্বরতা আজ আর মানবসমাজ মানবে না – কালের চাকা সে যুগ পেরিয়ে এসেছে। তাই মুসলিম সমাজের উচিত সততা সঙ্গে স্বীকার করা যে ইসলামের কিছু ঐতিহাসিক বিধান (যেমন যুদ্ধবন্দীদের দাসত্ব) আধুনিক মানদণ্ডে অনুপযুক্ত, এবং সে বিষয়গুলোতে ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে ধর্মীয় যুক্তির চাইতে মানবিক যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া। নচেৎ, দ্বিচারিতা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে যাওয়ার ফলে ধর্মের মূল্যবোধও প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যাবে।
About This Article
Genre: Human-Rights-Based, Legal, Hadith-Based, Fiqh-Based, and Ethical Critical Analysis of Islamic Slavery, Concubinage, War Captives, and Sexual Consent
Epistemic Position: Secular Humanism, Consent-Based Sexual Ethics, Human Rights Law, Anti-Slavery Ethics, War-Crimes Analysis, Fiqh Critique, Hadith Criticism, and Source-Internal Critique of Islamic Sexual Slavery
This article examines Islamic slavery and the legal treatment of female captives, especially the doctrine of milk al-yamin and the claim that a male owner has sexual access to his female slave or war captive.
Its scope includes the Quranic language of “what the right hand possesses,” hadith reports on captive women from Awtas and Banu Mustaliq, coitus interruptus to preserve slave-market value, married captive women, the cancellation of prior marriages through captivity, classical fiqh texts such as Rawdat al-Talibin, Al-Mawsoo'ah al-Fiqhiyyah, Al-Muhalla, IslamQA, Islamweb, marital sexual coercion, and the modern legal meaning of consent, slavery, rape, and war crimes.
The article follows Shongshoy's tradition of sharp, evidence-based, non-apologetic criticism. It does not accept the apologetic trick of defining rape as only “illegal forced sex” and then declaring slave-concubine sex non-rape because Sharia made it legal. That is not moral reasoning; it is circular legal laundering.
The central argument is that consent cannot exist where a woman is captured in war, stripped of freedom, separated from her family or husband, turned into property, and placed under the sexual authority of the victorious owner. Ownership destroys consent. Calling that ownership “lawful” does not remove the coercion; it exposes the law itself as the problem.
The article also exposes the brutal commercial logic inside the hadith material: captive women are discussed in terms of sexual access, pregnancy avoidance, sale value, ransom, and ownership—not as autonomous human beings whose consent matters. This is not a minor historical embarrassment; it is the core structure of sexual slavery.
The discussion rejects the modern apologetic claim that Islam abolished slavery or protected captive women in any morally meaningful sense. A system that permits owning human beings, dissolving their marriages by conquest, compelling sexual availability, and treating refusal as disobedience does not abolish slavery; it regulates and legitimizes it.
This article should be evaluated through source accuracy, hadith and fiqh evidence, consent theory, bodily autonomy, anti-slavery ethics, international human-rights standards, war-crimes principles, and victim-centered reasoning—not through religious sensitivity, inherited reverence, euphemistic translation, Sharia-based circular definitions, apologetic damage control, or the demand that sexual slavery be renamed as lawful intimacy.
তথ্যসূত্রঃ
- ইসলামে অমানবিক দাসপ্রথা ↩︎
- কোরআন 16:75 ↩︎
- ويحرم على الزوجة والأمة تحريما غليظا أن تمتنع إذا طلبها للاستمتاع الجائز ↩︎
- Mawsoo’ah al-Fiqhiyyah, Vol. 23, p. 23 ↩︎
- مسألة فرض الأمة والحرة أن لا يمنعا السيد والزوج الجماع متى دعاهما ↩︎
- Islamqa, Fatwa No. 33597 ↩︎
- مسألة فرض الأمة والحرة أن لا يمنعا السيد والزوج الجماع متى دعاهما ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৪৭৭ ↩︎
- সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২১৫২ ↩︎
- সূনান আবু দাউদ, তাহকিকঃ আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী, আল্লামা আলবানী একাডেমী, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৫-২১৬, হাদিসঃ ২১৫৫ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৭৪০৯ ↩︎
- বুখারী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৪৯, হাদিসঃ ৬৯০৫ ↩︎
- সহজ নসরুল বারী, শরহে সহীহ বুখারী, ১১ তম খণ্ড, আরবি-বাংলা, সহজ তরজমা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ উসমান গনী, আল কাউসার প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫০৭, ৫০৮ ↩︎
- ইসলামে দাসীদের সাথে সম্মতিহীন আযল(আজল) ও তার কারণ বিশ্লেষণ ↩︎
- বিবাহিত দাসীর বিবাহ বাতিল করে ভোগ করার ভয়াবহ ইসলামিক বিধান ↩︎
