নবীর প্রস্রাব এবং রক্ত-পুঁজ খাওয়া

হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী তার খাটের তলায় একটি পাত্র রাখতেন, সেই পাত্রে রাতের বেলা তিনি প্রস্রাব করতেন। পাত্রটি সারারাত সেখানেই থাকতো। অর্থাৎ সেই প্রস্রাব খাটের তলাতে নিয়েই সারারাত ঘুমাতেন নবী মুহাম্মদ।খাতের নিচে প্রস্রাব নিয়ে সারারাত ঘুমানো কতটা রুচিসম্পন্ন কাজ, তা পাঠক বিবেচনা করবেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, এই কাজটি করা কিন্তু নবীর সুন্নতে পরিণত হয়ে গেছে। সেইসাথে, আরও একটি মারাত্মক বিষয় এর সাথে যুক্ত আছে। নবীর পাত্রে রাখা সেই প্রস্রাব নাকি এক উম্মে আইমান নামে দাসী ও সাহাবী পান করে ফেলেছিলেন, এবং নবী তার এই কাজের খুব প্রশংসাও করেছিলেন। আল্লামা কাসতালানী এর ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ কিতাবের ১ম খণ্ড ২৮৪/২৮৫ পৃষ্ঠায় এই হাদিস উল্লেখ করেন-

ﻋﻦ ﺍﻡ ﺍﻳﻤﻦ ﻗﺎﻟﺖ ﻗﺎﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺍﻟﻰ ﻓﺨﺎﺭﺓ ﻓﻰ ﺟﺎﻧﺐ ﺍﻟﺒﻴﺖ
ﻓﺒﺎﻝ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﻘﻤﺖ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻧﺎ ﻋﻄﺸﺎ ﻧﺔ ﻓﺸﺮﺑﺖ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻭﺍﻧﺎﻻ ﺍﺷﻌﺮ ﻓﻠﻤﺎ ﺍﺻﺒﺢ ﺍﻟﻨﺒﻰ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺍﻡ ﺍﻳﻤﻦ ﻗﻮﻣﻰ ﻓﺎﻫﺮﻳﻘﻰ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻔﺨﺎﺭﺓ ﻓﻘﻠﺖ ﻗﺪ ﻭﺍﻟﻠﻪ
ﺷﺮﺑﺖ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﻓﻀﺤﻚ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺘﻰ ﺑﺪﺕ ﻧﻮﺍﺟﺬﻩ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﺃﻣﺎ
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻﻳﻴﺠﻌﻦ ﺑﻄﻨﻚ ﺍﺑﺪﺍ .
অর্থাৎ ‘হযরত উম্মে আয়মন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাত্রিতে ঘুম মোবারক থেকে উঠে ঘরের পাশ্বে একটি মাটির পাত্রে পেশাব মোবারক করলেন। আমি রাত্রে ঘুম থেকে উঠে খুব তৃষ্ণার্তবোধ করলাম। অতঃপর মাটির পাত্রে যা ছিল তা পান করে নিলাম। পাত্রে কী ছিল আমি মোটেই অবগত নই। তার পর প্রত্যুষে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সম্বোধন করে বললেন হে উম্মে আয়মন! ঘুম থেকে উঠো এবং মাটির পাত্রে যা আছে তা ফেলে দাও।অতঃপর আমি বললাম নিশ্চয় আল্লাহর কসম মাটির পাত্রে যা কিছু ছিল তা আমি পান করে ফেলেছি। তিনি (উম্মে আয়মন) বলেন তৎক্ষণাৎ আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে দিলেন।এমনকি তাঁর প্রান্তসীমার দাঁত মোবারক প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহর হাবীব বললেন,আল্লাহর কসম তোমার পেটে কখনো পীড়া হবে না।’

আল্লামা কাজী আয়াজ তার ‘আশ শিফা’ কিতাবের ১ম খণ্ডের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

ﻗﺪ ﺭﻭﻯ ﻧﺤﻮ ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﻋﻨﻪ ﻓﻰ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺷﺮﺑﺖ ﺑﻮﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻬﺎ ﻟﻦ ﺗﺸﺘﻜﻰ ﻭﺟﻊ ﺑﻄﻨﻚ ﺍﺑﺪﺍ ﻭﻟﻢ
ﻳﺎﻣﺮ ﻭﺍﺣﺪﺍ ﻣﻨﻬﻢ ﺑﻐﺴﻞ ﻓﻢ ﻭﻻﻧﻬﺎﻩ ﻋﻦ ﻋﻮﺩﺓ ﻭﺣﺪﻳﺚ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺍﻟﺘﻰ ﺷﺮﺑﺖ ﺑﻮﻟﻪ ﺻﺤﻴﺢ
ﺍﻟﺰﻡ ﺍﻟﺪﺍﺭ ﻗﻄﻨﻰ ﻣﺴﻠﻤﺎ ﻭﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ﺍﺧﺮﺍﺟﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ . ﻭﺍﺳﻢ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺑﺮﻛﺔ ﻭﺍﺧﺘﻠﻒ ﻓﻰ
ﻧﺴﺒﻬﺎ ﻭﻗﻴﻞ ﻫﻰ ﺍﻡ ﺍﻳﻤﻦ .
অর্থাৎ ‘নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার পেশাব মোবারক জনৈক মহিলা কর্তৃক পান করা সংক্রান্ত অনুরূপ আরো হাদিস বর্ণিত আছে। জনৈক মহিলা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পেশাব মোবারক পান করলে আল্লাহর হাবীব এ মহিলাকে বললেন, তোমার কষ্মিনকালেও কোন ব্যাধি হবে না।’ আল্লাহর হাবীব তাদের কাউকে (যারা রক্ত মোবারক ও পেশাব মোবারক পান করলো) মুখ ধৌত করারও নির্দেশ প্রদান করেননি এবং পূনরায় পান করতেও নিষেধ করেননি। (আল্লামা কাজী আয়াজ বলেন) মহিলা কর্তৃক নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেশাব মোবারক পান সংক্রান্ত হাদিস সহীহ বা বিশুদ্ধ। দারুল কুতনী ইমাম মুসলিমকে মৃদু অভিযুক্ত করেছেন আর ইমাম বোখারী (রা.) এর বর্ণনাকে সহীহর মধ্যে গণ্য করেছেন।সে মহিলার নাম ছিল বারাকা (যিনি উম্মুল মো’মিনিন হযরত উম্মে হাবিবার সাথে আবিসিনিয়া থেকে এসেছিলেন) আর কেউ কেউ বলেছেন,তার নাম ছিল উম্মে আয়মন।’

আসুন আশ-শিফা গ্রন্থ থেকে দেখে নেয়া যাক, [1]

প্রস্রাব

বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থেও [2]

প্রস্রাব 1

এবারে আসুন এই হাদিসগুলো কতটুকু সহিহ, তা সম্পর্কে কয়েকজন আলেমের বক্তব্য শুনি,

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


তথ্যসূত্রঃ
  1. আশ-শিফা, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২, ২৩৩ ↩︎
  2. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৪ ↩︎