
Table of Contents
ভূমিকাঃ মানবিক আবেগ বনাম ধর্মীয় দণ্ডবিধি
ইতিহাসের পাতায় ধর্মীয় আইনের কঠোরতা এবং মানুষের আদিম আবেগের সংঘাত বারবার ফিরে এসেছে। সপ্তম শতাব্দীতে মদিনার প্রেক্ষাপটে ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ইহুদি যুগলের ঘটনাটি কেবল একটি বিচারিক দৃষ্টান্ত নয়, বরং এটি মানবিক ভালোবাসা এবং ধর্মের চরম দণ্ডবিধির মধ্যকার এক নির্মম লড়াইয়ের আখ্যান। যেখানে একদিকে ছিল প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের বিধান কার্যকর করার অনমনীয় জেদ, অন্যদিকে ছিল আসন্ন মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও প্রিয়জনকে রক্ষা করার এক নিঃস্বার্থ ও অতিমানবিক প্রচেষ্টা। এই ঘটনাটি আমাদের বাধ্য করে নতুন করে ভাবতে—যেখানে এক জনপদের আইন মানুষের জীবন কেড়ে নিতে উদ্যত হয়, সেখানে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও ত্যাগের মহিমা কতটা উচ্চে আসীন হতে পারে। আসুন, এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি এবং এর নেপথ্যের নির্মমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
ব্যভিচারের অভিযোগ ও তাওরাতের বিধানের অনুসন্ধান
একদা মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এক নারী ও এক পুরুষকে নবী মুহাম্মদের নিকট বিচারার্থে নিয়ে আসে। মুহাম্মদ তাদের নিকট জানতে চান যে, এহেন অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের পবিত্র গ্রন্থ তাওরাতে কী শাস্তির বিধান উল্লিখিত রয়েছে। প্রারম্ভে তারা সত্য গোপন করার প্রয়াস পায় এবং দাবি করে যে, তাদের শরীয়তে অপরাধীদের মুখ কালি দিয়ে লেপন করা এবং বেত্রাঘাত করে জনসমক্ষে অপদস্থ করাই যথেষ্ট। মূলত, তৎকালীন সময়ে তারা সেই সুপ্রাচীন ও কঠোর দণ্ডবিধিগুলো এড়িয়ে চলার একটি প্রথা তৈরি করেছিল।
কিন্তু মুহাম্মদের অন্যতম সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম, যিনি পূর্বে একজন প্রথিতযশা ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন, তাদের এই চাতুর্য ধরে ফেলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তারা মিথ্যা বলছে এবং তাওরাতের বিধান অনুযায়ী এই অপরাধের শাস্তি হলো ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড। তাঁর নির্দেশে তাওরাত আনয়ন করা হলে দেখা যায়, জনৈক ইহুদি পাঠক পাঠ করার সময় সুকৌশলে রজমের আয়াতের ওপর নিজের হাত রেখে তার আগের ও পরের অংশগুলো পাঠ করছিল। আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম তখন সেই পাঠকের হাত সরিয়ে ফেলার দাবি জানান এবং হাত সরাতেই সেখানে প্রস্তরাঘাতের অকাট্য বিধানটি উন্মোচিত হয়। পরিস্থিতির মুখে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, তাদের কিতাবে প্রকৃতপক্ষে ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে রজম বা পাথর ছুড়ে হত্যার কথাই বর্ণিত আছে [1] [2] [3]।
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ২৩১৩. বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর (সূরাহ আলে-‘ইমরান ৩ঃ ৯৩)
৪২০০। ইবরাহীম ইবনু মুনযির … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এমন দু’জন পুরুষ ও মহিলা নিয়ে ইহুদীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উপস্থিত হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কিভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এতদ সম্পর্কিত কোন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাত আন এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তা পাঠ কর।
এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের পন্ডিত-পাঠক প্রস্তর নিক্ষেপ বিধির আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তা থেকে কেবল পূর্ব ও পরের অংশ পড়তে লাগল। রজমের আয়াত পড়ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি তুলে ফেলে বললেন, এটা কি? যখন তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযাগাহের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখেছি যে নিজে মহিলার উপর উপুড় হয়ে তাকে প্রস্তরাঘাত হতে বাচানোর চেষ্টা করছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৭৫/ কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪৩. সমতল স্থানে রজম করা
৬৩৬২। মুহাম্মদ ইবনু উসমান (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ইহুদী পুরুষ ও এক ইহুদী নারীকে হাযির করা হল। তারা উভয়েই যিনা করেছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাপারে তোমরা তোমাদের কিতাবে কি পাচ্ছ? তারা বলল, আমাদের পদ্রীরা চেহারা কালো করার ও উভয়কে গাধার পিঠে বিপরীতমুখী বসিয়ে প্রদক্ষিণ করানোর প্রথা চালু করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদেরকে তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন। এরপর তা নিয়ে আসা হল।
তাদের একজন রজমের আয়াতের উপর নিজের হাত রেখে দিল এবং এর অগ্র-পাশ্চাৎ পড়তে লাগল। তখন ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার হাত উঠও। (হাত উঠাতে দেখা গেল) তার হাতের নিচে রয়েছে রজমের আয়াত। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, উভয়কে রজম করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তাদের উভয়কে সমতল স্থানে রজম করা হয়েছে। তখন ইহুদী পুরুষটাকে দেখেছি ইহুদী নারীটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ)
গ্রন্থের নামঃ মুয়াত্তা মালিক
অধ্যায়ঃ ৪১. হুদুদের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রস্তরাঘাত করা
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, ইহুদীদের একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, তাহাদের একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন : রজম বা প্রস্তরাঘাতের ব্যাপারে তাওরাতে কি আদেশ রহিয়াছে? তাহারা বলিলঃ আমরা ব্যভিচারকারীকে লজ্জিত করি এবং বেত্ৰাঘাত করিয়া থাকি। আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ। তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের শাস্তি রহিয়াছে। তাওরাত আনয়ন কর, উহা পড়িয়া দেখ। অতঃপর তাহারা তাওরাত খুলিল এক ব্যক্তি বেত্রাঘাতের উপর হাত রাখিয়া পূর্বাপর অবশিষ্ট আয়াত পড়িয়া শুনাইল। আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাহাকে বলিলঃ তোমার হাত উঠাও তো। সে তাহার হাত উঠাইলে দেখা গেল উহাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত রহিয়াছে। অতঃপর সকল ইহুদীই স্বীকার করিল যে, আবদুল্লাহ ইবন সালাম ঠিকই বলিয়াছে তাওরাতে প্রস্তাঘাতের আয়াত বিদ্যমান রহিয়াছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে উভয়কে প্রস্তরাঘাত করা হইল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখিলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হইতে রক্ষা করিতে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল অর্থ পুরুষ নিজে প্রস্তরাঘাত সহ্য করিয়াও ঐ নারীকে প্রস্তরাঘাত হইতে রক্ষা করিতে যাইয়া তাহার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়ছিল।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রাঃ)

এবারে আসুন দেখে নিই, ইসলামের এই রজমের বিধানটি আসলে কীভাবে কার্যকর করা হয়,
দণ্ড কার্যকর ও ভালোবাসার এক করুণ আখ্যান
তাওরাতের সেই কঠোর বিধান জনসমক্ষে আসার পর মুহাম্মদ অপরাধী যুগলকে পাথর ছুড়ে হত্যার (রজম) নির্দেশ প্রদান করেন। এটি কেবল তাওরাতের বিধানই ছিল না, বরং ইসলামের দণ্ডবিধিরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর তাদের উভয়কে শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে শাস্তি কার্যকর করা শুরু হয়। কিন্তু এই নির্মম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় এক অদ্ভুত ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায়। যখন চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষিপ্ত হতে শুরু করে, তখন সেই পুরুষটি তাঁর আসন্ন মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
নিজের শরীরকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নারীর ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকেন, যাতে নিক্ষিপ্ত পাথরগুলোর প্রতিটি আঘাত তাঁর নিজের পিঠ ও শরীরে লাগে, কিন্তু তাঁর সঙ্গিনীর গায়ে কোনো আঁচড় না পড়ে। নিজের হাড় ভাঙার শব্দ, মাংসপেশি ছিঁড়ে যাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর রক্তের বন্যায় ভেসে গিয়েও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর প্রিয়জনকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে গেছেন। পাথরের আঘাতে যখন তাঁর সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছিল, তখনও তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল প্রেয়সীকে রক্ষা করা। কিন্তু এই দণ্ডবিধির কাছে শেষ পর্যন্ত সেই বিরল ত্যাগের হার মানতে হয় এবং প্রস্তরাঘাতের প্রচণ্ডতায় তাদের দুজনেরই করুণ মৃত্যু ঘটে।
মানবিকতা বনাম ধর্মীয় দণ্ডবিধির নির্মমতা
ঘটনাটি কেবল একটি দণ্ড কার্যকর করার বিবরণ নয়, বরং এটি মানুষের অদম্য ভালোবাসার এক চরম পরীক্ষার মুহূর্ত। কল্পনা করুন সেই ভয়াবহ দৃশ্য—দুইজন মানুষ, যাঁদের অপরাধ ছিল কেবল একে অপরকে ভালোবাসা। চারদিক থেকে পাথরের বৃষ্টির মতো আঘাত নেমে আসছে। পাথরের তীক্ষ্ণ আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, হাড় ভাঙার মড়মড় শব্দ উঠছে, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে স্নায়ু। শরীরের প্রতিটি তন্তু যখন অসহ্য ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছে, তখনও সেই পুরুষটি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তাঁর প্রেমিকাকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। নিজের পিঠ ও শরীর দিয়ে তিনি এক মানব-বর্ম তৈরি করেছিলেন, যাতে তাঁর প্রিয়তমার গায়ে একটি আঘাতও না লাগে।
এই দৃশ্যের একদিকে যেমন প্রেমের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ প্রতিফলিত হয়, অন্যদিকে ফুটে ওঠে ধর্মীয় বিধানের চরম নির্মমতা। নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সাহাবীগণ যখন এই দণ্ডটি তদারকি ও কার্যকর করছিলেন, তখন সেখানে মানবিক দয়া বা করুণার কোনো স্থান ছিল না। বরং এক প্রাচীন ও কঠোর প্রথাকে ধর্মীয় পবিত্রতার আবরণে বৈধতা দিয়ে দুজন মানুষের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। যে ভালোবাসার টানে মানুষ নিজের জীবন দিয়ে অন্যকে রক্ষা করতে চায়, সেই ভালোবাসাকেই এখানে ‘পাপ’ বা ‘ব্যভিচার’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রস্তরাঘাতে পিষে মারা হয়েছে। এই নির্মম বৈপরীত্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, যখন আইন বা ধর্ম মানুষের আবেগের ঊর্ধ্বে স্থান পায়, তখন সেখানে কেবল রক্ত আর যন্ত্রণাই অবশিষ্ট থাকে।
উপসংহারঃ শরিয়াহ আইনে রজমের বিভীষিকা
ইসলামি শরিয়তে ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে রজম বা প্রস্তরাঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি অত্যন্ত বীভৎস। এটি কেবল মৃত্যুর একটি মাধ্যম নয়, বরং অপরাধীকে তিল তিল করে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। পাথর ছুড়ে মারার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে, যা মৃত্যুর প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত ও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে। আধুনিক মানবাধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রেক্ষাপটে এই প্রথাটি কেবল সেকেলে নয়, বরং চরম অমানবিক হিসেবে বিবেচিত। যে প্রেমে ত্যাগের মহিমা ফুটে ওঠে, তাকে পাথরের আঘাতে ধ্বংস করার এই প্রক্রিয়াটি ধর্ম ও মানবিকতার মধ্যকার এক বিশাল ফাটলকে স্পষ্ট করে দেয়।
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.
