
Table of Contents
ভূমিকা
ঈশ্বর বা পরম সত্তার প্রচলিত সংজ্ঞায় সাধারণত দুটি প্রধান গুণকে অবিচ্ছেদ্য মনে করা হয়: সর্বজ্ঞতা (Omniscience) এবং সর্বশক্তিমানতা (Omnipotence)। তবে যুক্তিবিদ্যার কঠোর মানদণ্ডে এই দুই গুণের একই সত্তায় সহাবস্থান করা অসম্ভব বলে প্রতীয়মান হয়। যদি কোনো সত্তা অতীত ও বর্তমানের ন্যায় ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও নিখুঁত ও নির্ভুল জ্ঞান রাখেন, তবে মহাবিশ্বের প্রতিটি ঘটনা একটি সুনির্দিষ্ট এবং অপরিবর্তনীয় নকশায় পর্যবসিত হয় [1]।
এই ‘অপরিবর্তনীয়তা’ সরাসরি ঈশ্বরের সর্বশক্তিমান হওয়ার দাবিকে খর্ব করে। কারণ, যদি ঈশ্বর তার নিজের জানা ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে না পারেন, তবে তিনি আর সর্বশক্তিমান থাকেন না; আর যদি তিনি তা পরিবর্তন করেন, তবে তার পূর্বের জ্ঞান ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়, যা তাকে আর সর্বজ্ঞ রাখে না [2]। এই প্রবন্ধটি মূলত সর্বজ্ঞতা এবং সর্বশক্তিমানতার মধ্যকার এই অনিবার্য যৌক্তিক সংঘাত বা ‘ইনকম্প্যাটিবিলিটি প্যারাডক্স’ বিশ্লেষণ করবে।
সর্বজ্ঞতা (Omniscience) – নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞানের তাৎপর্য
নিখুঁতভাবে ভবিষ্যৎ জানা মানে হল, প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি ফলাফল পূর্বনির্ধারিত এবং অপরিবর্তনীয়। যদি কোনো সত্ত্বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিখুঁত জ্ঞান রাখেন, তবে তার জানা ভবিষ্যৎ প্রকৃতপক্ষে পরিবর্তনযোগ্য নয়। কারণ, যদি সেই ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, তবে তা আর “নিখুঁত” ভবিষ্যৎ জ্ঞান থাকবে না। সুতরাং, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিখুঁত জ্ঞান একটি অনড় এবং অপরিবর্তনীয় বাস্তবতার ধারণা দেয়। অর্থাৎ নিখুঁত জ্ঞানের অর্থ হলো, একজন সত্তা সময়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জানেন – প্রতিটি কণা, প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি সম্ভাব্য পথের ফলাফল। এই জ্ঞান কোন সম্ভাব্যতা বা ধারণা নয়, বরং নিশ্চিত এবং অপরিবর্তনীয়। এটি পরিবর্তনীয় হলেই, সেটি আর নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান থাকে না।
নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞানের ধারণা সত্য হলে ঈশ্বরের স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু থাকা অসম্ভব, কারণ তিনি নিজেই তার নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান দ্বারা শৃঙ্খলিত। যদি ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত হয়, তবে মানুষের পছন্দ এবং সিদ্ধান্তের কোন প্রকৃত অর্থ থাকে না। কারণ তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পূর্ব থেকেই জানা। যদি একটি কাজ আগে থেকেই নিশ্চিতভাবে জানা থাকে, তবে অন্য কোনো বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না, যা স্বাধীন ইচ্ছার ধারণাকে নাকচ করে দেয়।
যদি কেউ নিখুঁতভাবে ভবিষ্যৎ জানেন, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় ভবিষ্যৎ পূর্বনির্ধারিত। কোন কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কারণ যদি পরিবর্তন সম্ভব হতো, তবে সেই সত্তার জ্ঞান “নিখুঁত” থাকত না। এটি কার্যকারণ সম্পর্কের একটি শৃঙ্খল তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি ঘটনার একটি সুনির্দিষ্ট কারণ আছে এবং সেই কারণগুলি একটি পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের দিকে পরিচালিত করে। ল্যাপলাসের দানব বা ডিটারমিনিজম তত্ত্ব অনুযায়ী, বর্তমানের সকল তথ্য জানা থাকলে ভবিষ্যৎ কেবল একটি গাণিতিক অনিবার্যতায় পরিণত হয়।
সর্বশক্তিমানতা (Omnipotence) – অসীম ক্ষমতার ধারণা
সর্বশক্তিমান হওয়া মানে হল, কোনো সত্ত্বা তার ইচ্ছামত যে কোনো কিছু ঘটাতে বা পরিবর্তন করতে সক্ষম। এই ক্ষমতা কেবল তার নিজের কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ, অতীত এবং বর্তমানের যে কোনো বাস্তবতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সর্বশক্তিমান সত্তার জন্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। কোন সীমাবদ্ধতা, বাধা বা ব্যতিক্রম ছাড়াই। এই ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে:
যদিও এটি একটি বিতর্কিত বিষয়, কিছু দার্শনিক মনে করেন একজন সর্বশক্তিমান সত্তার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কাজ করার ক্ষমতা থাকা উচিত। যদি তিনি নিজের ইচ্ছার কাছেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে তাঁর সর্বময় ক্ষমতার ধারণাটি খণ্ডিত হয়। রেনে দেকার্তের মতো কিছু দার্শনিক মনে করতেন, স্রষ্টার ক্ষমতা যুক্তির ঊর্ধ্বে এবং তিনি চাইলে গাণিতিক বা যৌক্তিক অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন।
বস্তুগত, অবস্তুগত, স্থান, কাল – সবকিছুই এই ক্ষমতার আওতায় পরে। শূন্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি বা বিদ্যমান কোনো কিছুকে অস্তিত্বহীন করে দেওয়ার ক্ষমতা সর্বশক্তিমান সত্তার একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়। দার্শনিক ভাষায় একে ‘Creatio ex nihilo’ বা শূন্য থেকে সৃষ্টি বলা হয়, যা স্রষ্টার একচ্ছত্র আধিপত্য নির্দেশ করে।
পদার্থবিদ্যা, জীববিজ্ঞান বা অন্য কোনো পরিচিত নিয়ম পরিবর্তন বা লঙ্ঘন করার ক্ষমতাও এর অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ হলো, তিনি মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা বা নিয়মের অধীন নন, বরং সেই নিয়মগুলোই তাঁর ইচ্ছার অধীন। অলৌকিকতা বা Miracles-এর ধারণা মূলত এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত, যেখানে প্রাকৃতিক নিয়মকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
সাংঘর্ষিকতা – ভবিষ্যৎ জ্ঞান বনাম সর্বশক্তিমত্তা
এই দুই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সাংঘর্ষিকতা স্পষ্ট। যদি একজন সত্ত্বা নিখুঁতভাবে ভবিষ্যৎ জানেন, তবে তিনি সেই ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারবেন না। কারণ, পরিবর্তন করার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ভবিষ্যৎ তার জ্ঞানের বাইরে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে তিনি আর সর্বজ্ঞ থাকবেন না। একইভাবে, যদি তিনি ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে চান, তবে তিনি সেই ভবিষ্যতের আগে যা জানতেন, তা মিথ্যা হয়ে যাবে। এই অবস্থায় তিনি আর নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান রাখবেন না।
সুতরাং, নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান থাকা মানেই ভবিষ্যৎ এমন একটি বাস্তবতা যা স্থির এবং অপরিবর্তনীয়। কিন্তু সর্বশক্তিমান সত্তা এমন কোনো বাধা বা সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হতে পারেন না। তাই এই দুই বৈশিষ্ট্য একইসঙ্গে কোনো সত্তার মধ্যে থাকা যুক্তিসঙ্গত নয়।
সময়ের ধারণা ও যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা
ধর্মতাত্ত্বিকগণ প্রায়শই সর্বজ্ঞতা (omniscience) এবং সর্বশক্তিমানতা (omnipotence) — এই দুই গুণের মধ্যে যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দেয়, তা মেটানোর জন্য ঈশ্বরকে ‘কালজয়ী’ (Timeless) বা সময়ের সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী এক সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই যুক্তি অনুসারে, ঈশ্বর আমাদের মতো রৈখিক সময়ের (linear time) ধারায় বাস করেন না। তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একই সঙ্গে, একটি স্থির ও অপরিবর্তনীয় ছবির মতো দেখতে পান। কোনো ঘটনা তাঁর কাছে ‘আগে’ বা ‘পরে’ নয় — সবকিছুই তাঁর জন্য এক অবিভাজ্য বর্তমান। কিন্তু এই ধারণাটি সর্বশক্তিমানতার সংজ্ঞাকে আরও জটিল ও সমস্যাসঙ্কুল করে তোলে, কারণ এতে ঈশ্বরের কোনো প্রকৃত ‘কাজ’ বা ‘পরিবর্তন’ করার সুযোগই থাকে না।
ব্লক ইউনিভার্স ও স্থির মহাবিশ্বের উদাহরণ
যদি মহাবিশ্বকে একটি স্থির ‘ব্লক ইউনিভার্স’ (Block Universe) হিসেবে কল্পনা করা হয়, যেখানে বিগ ব্যাং থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের সম্ভাব্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা ইতোমধ্যেই নির্ধারিত ও বিদ্যমান, তাহলে ঈশ্বরের পক্ষে কোনো ‘নতুন’ কিছু করা বা কোনো ঘটনাকে পরিবর্তন করার কোনো অবকাশই থাকে না। এই তত্ত্ব অনুসারে সময় আসলে কোনো প্রবাহিত নদী নয়, বরং একটি চার-মাত্রিক স্থির সত্তা যেখানে সবকিছু একসঙ্গে অস্তিত্বশীল [3] ।
এই ধারণাটিকে সবচেয়ে সহজভাবে বোঝানো যায় একটি সিনেমার সিডি (CD) বা ডিভিডি (DVD) দিয়ে:
কিন্তু এখানেই দেখা দেয় মৌলিক সমস্যা। যদি ঈশ্বর ডিভিডির কোনো একটি দৃশ্য পরিবর্তন করতে চান (যেমন কোনো ঘটনাকে অন্যরকম করে দিতে চান), তাহলে তিনি আর সর্বজ্ঞ থাকেন না। কারণ তাঁর আগে দেখা স্থির ছবিটি তখন ভুল প্রমাণিত হয়। আর যদি তিনি সেই দৃশ্য পরিবর্তন করতে অক্ষম হন কারণ পুরো ডিভিডিটি আগে থেকেই ‘স্থির ও অপরিবর্তনীয়’, তাহলে তিনি আর সর্বশক্তিমানও থাকেন না। এভাবে একটি গুণ বজায় রাখতে গিয়ে অন্যটি হারিয়ে যায়।
হস্তক্ষেপের যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা
সময়ের প্রবাহের বাইরে থেকে সময়ের অভ্যন্তরে কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে হস্তক্ষেপ (intervention) করা যুক্তিগতভাবে অসম্ভব। কারণ যেকোনো কাজ বা পরিবর্তন সম্পাদন করা মূলত একটি সময়-সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। নিচের ছকটি এই সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করে:
| বৈশিষ্ট্য | সময়ের ভেতরে থাকা সত্তা (Temporal) | সময়ের ঊর্ধ্বে থাকা সত্তা (Atemporal) |
|---|---|---|
| পরিবর্তন (Change) | সম্ভব; কারণ ‘আগে’ এবং ‘পরে’র স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। | অসম্ভব; কারণ কোনো ‘আগে’ বা ‘পরে’ নেই — সবকিছু একই মুহূর্তে স্থির। |
| সিদ্ধান্ত গ্রহণ | একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ করা সম্ভব। | অসম্ভব; কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যাওয়া, যা সময় ছাড়া অর্থহীন। |
| ক্রিয়া (Action) | কারণ ও ফলাফলের ক্রমানুসারে কাজ করা যায়। | অসম্ভব; কারণ কোনো ক্রমানুসার (sequence) ছাড়া কাজের কোনো অর্থ থাকে না। |
হস্তক্ষেপের জন্য অবশ্যই একটি ‘আদি অবস্থা’ এবং একটি ‘পরিবর্তিত অবস্থা’র প্রয়োজন হয়। সময়ের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিতে ‘পরিবর্তন’ শব্দটির নিজেই কোনো যৌক্তিক অর্থ থাকে না [4]।
যৌক্তিক সিদ্ধান্ত: ঈশ্বরকে সময়ের ঊর্ধ্বে স্থাপন করলে তিনি হয়তো সর্বজ্ঞ হিসেবে টিকে থাকেন — কারণ তিনি সবকিছু একসঙ্গে দেখতে পান। কিন্তু তিনি সর্বশক্তিমান হিসেবে মহাবিশ্বে কোনো প্রভাব ফেলার বা হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেন। কারণ কোনো কিছু ‘করা’ বা ‘পরিবর্তন করা’ মানেই সময়ের রৈখিক ধারায় প্রবেশ করা। ফলে সময়ের ধারণা যতই পরিবর্তন করা হোক না কেন, সর্বজ্ঞতা ও সর্বশক্তিমানতার মধ্যকার মৌলিক দ্বান্দ্বিকতা নিরসন করা সম্ভব হয় না। এই যুক্তিটি দেখায় যে, ঈশ্বরের দুটি প্রধান গুণকে একসঙ্গে যুক্তিসঙ্গতভাবে ধারণ করা কতটা দুরূহ।
দার্শনিক এবং ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
এই সমস্যাটি দর্শনের একটি দীর্ঘ আলোচিত প্রশ্নের প্রতিফলন। ঈশ্বর কি সবকিছু করতে পারেন? যদি পারেন, তবে কি তিনি এমন একটি পাথর তৈরি করতে পারেন যা তিনি নিজেও তুলতে পারবেন না? এই ধরনের প্রশ্ন ঈশ্বরের ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমাদের ভাবতে বাধ্য করে।
একইভাবে, যদি কোনো সত্ত্বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সর্বজ্ঞ হন, তবে তার ইচ্ছা অনুযায়ী সেই ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করার ক্ষমতা থাকা অসম্ভব। এটি তার ইচ্ছার স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে। কারণ, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার জ্ঞান তাকে সেই ভবিষ্যৎ দ্বারা “শৃঙ্খলিত” করে রাখে।
যুক্তি ও সিদ্ধান্ত
নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান এবং সর্বশক্তিমত্তার মধ্যে যে বিরোধ রয়েছে, তা আমাদের এই ধারণাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করে যে কোনো সত্ত্বা উভয় বৈশিষ্ট্য একইসঙ্গে রাখতে পারে। দর্শনের পরিসরে, এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান মানেই স্বাধীন ইচ্ছার সীমাবদ্ধতা। আর স্বাধীন ইচ্ছা ছাড়া সর্বশক্তিমান হওয়ার ধারণা ত্রুটিপূর্ণ।
সুতরাং, যদি কোনো সত্ত্বা নিখুঁত ভবিষ্যৎ জ্ঞান রাখেন, তবে তিনি সর্বশক্তিমান হতে পারবেন না। আর যদি তিনি সর্বশক্তিমান হন, তবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিখুঁত জ্ঞান থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এই সাংঘর্ষিকতা ঈশ্বরের প্রচলিত ধারণাকে নতুন আলোয় বিবেচনা করার আহ্বান জানায়।
উপসংহার
সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বজ্ঞতা (Omniscience) এবং সর্বশক্তিমানতা (Omnipotence)—এই দুটি বৈশিষ্ট্য একটি একক সত্তার মধ্যে সহাবস্থান করা যৌক্তিকভাবে অসম্ভব। যদি কোনো সত্তা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিখুঁত ও নির্ভুল জ্ঞান রাখেন, তবে সেই ভবিষ্যৎ একটি অলঙ্ঘনীয় এবং সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় পরিণত হয়, যা পরিবর্তন করার ক্ষমতা স্বয়ং সেই সত্তারও থাকে না [5]। অন্যদিকে, যদি সেই সত্তা তার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো ঘটনা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে সক্ষম হন, তবে তার ভবিষ্যৎ জ্ঞান আর ‘নিখুঁত’ থাকে না।
এই দ্বন্দ্বটি কেবল একটি তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়, বরং এটি ঈশ্বরের প্রচলিত সংজ্ঞার এক মৌলিক সীমাবদ্ধতা। যুক্তিবিদ্যার ভাষায় একে একটি ‘লজিক্যাল ইনকনসিস্টেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি বলা হয়, যেখানে একটি গুণের উপস্থিতি অন্যটিকে সরাসরি নাকচ করে দেয় [2]। সুতরাং, প্রমাণের নিরিখে এটি স্পষ্ট যে—হয় কোনো সত্তা সর্বজ্ঞ হতে পারেন, অথবা সর্বশক্তিমান; কিন্তু একই সাথে উভয় গুণ ধারণ করা একটি ‘বৃত্তাকার চতুর্ভুজ’ (Square Circle) কল্পনা করার মতোই একটি অসম্ভব ধারণা। এই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ আমাদের বাধ্য করে চিরাচরিত ঈশ্বরতত্ত্বকে প্রশ্নাতীত বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে যুক্তির কষ্টিপাথরে নতুন করে যাচাই করতে।
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.

God is beyond the 11th dimensional universe. He is the creator of natural laws, natural laws cannot be used for determining His own existence or structure of His power.
Omnipotence and Omniscience can exist at the same time.
God knows what He is going to do in future, but He has the will to do it. Is He going to do it or not is also upon Him, but He knows it previously whether He is going to apply it or not. Simple.