উঁচু স্তনের হুর বা স্বর্গবেশ্যা

কোরআনে খুব পরিষ্কারভাবেই জান্নাতিদের জন্য উঁচু, গোলাকার ও স্ফীত স্তন্যের জান্নাতী হুরের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। অনেক মুসলিমই কোরআনের এই আয়াতের ভিন্ন অর্থ তৈরি করে বিষয়টি লুকাবার চেষ্টা করে। আসুন শুরুতেই বাংলাদেশের আলেম ওলামাদের কিছু বক্তব্য শুনে নেয়া যাক,





কোরআন ও হাদিসে হুর বা স্বর্গবেশ্যাদের বেশ কিছু শারীরিক বর্ণনা যা পাওয়া যায়, তা হচ্ছে অনেকটা এরকম, [1] [2] [3]

আর সমবয়স্কা নব্য যুবতী
— Taisirul Quran
এবং সম বয়স্কা যুবতীবৃন্দ;
— Sheikh Mujibur Rahman
আর সমবয়স্কা উদ্‌ভিন্ন যৌবনা তরুণী।
— Rawai Al-bayan
আর সমবয়স্কা [১] উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
– সূরা নাবা, আয়াত ৩৩

তাদের কাছে থাকবে সংযত নয়না, সতী সাধ্বী, ডাগর ডাগর সুন্দর চক্ষু বিশিষ্টা সুন্দরীরা (হুরগণ)।
— Taisirul Quran
আর তাদের সঙ্গে থাকবে আনত নয়না আয়তলোচনা হুরবৃন্দ।
— Sheikh Mujibur Rahman
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।
— Rawai Al-bayan
তাদের সঙ্গে থাকবে আনতনয়না [১] ডাগর চোখ বিশিষ্টা [২] (হুরীগণ)।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
– সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ৪৮

সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৩৫
তাদেরকে (অর্থাৎ ঐ হুরদেরকে) আমি সৃষ্টি করেছি এক অভিনব সৃষ্টিতে,
— Taisirul Quran
তাদের জন্য আমি করেছি বিশেষ সৃষ্টি।
— Sheikh Mujibur Rahman
নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।
— Rawai Al-bayan
নিশ্চয় আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে [১]—
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৩৬
আর তাদেরকে করেছি কুমারী,
— Taisirul Quran
তাদেরকে করেছি কুমারী,
— Sheikh Mujibur Rahman
অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,
— Rawai Al-bayan
অতঃপর তাদেরকে করেছি কুমারী [১],
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৩৭
স্বামী ভক্তা, অনুরক্তা আর সমবয়স্কা,
— Taisirul Quran
সোহাগিনী ও সমবয়স্কা –
— Sheikh Mujibur Rahman
সোহাগিনী ও সমবয়সী।
— Rawai Al-bayan
সোহাগিনী [১] ও সমবয়স্কা [২],
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

এবারে আসুন কোরআনের আয়াতটির অর্থ তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে জেনে নিই, [4]

বেহেশতের হুরীদের 4
বেহেশতের হুরীদের 6

এবারে আসুন আর একটি হাদিস পড়ি, [5]

রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
১৯/ ক্ষমাপ্রার্থনামূলক নির্দেশাবলী
পরিচ্ছেদঃ ৩৭২ : আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের জন্য জান্নাতের মধ্যে যা প্রস্তুত রেখেছেন
তাওহীদ পাবলিকেশন নাম্বারঃ ১৮৯৪, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৮৮৫
৬/১৮৯৪। আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’নিশ্চয় জান্নাতে মুমীনদের জন্য একটি শূন্যগর্ভ মোতির তাঁবু থাকবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। এর মধ্যে মুমীনদের জন্য একাধিক স্ত্রী থাকবে। যাদের সকলের সাথে মুমিন সহবাস করবে। কিন্তু তাদের কেউ কাউকে দেখতে পাবে না।’’ (বুখারী-মুসলিম) [1]
এক মাইলঃ ছয় হাজার হাত সমান দীর্ঘ।
[1] সহীহুল বুখারী ৩২৪৩, ৪৮৭৮, ৪৮৮০, ৭৪৪৪, মুসলিম ১৮০, ২৮৩৮, আহমাদ ১৯০৭৯, ১৯১৮২, ১৯২৩২, ১৯২৬২, দারেমী ২৮২২, ২৮৩৩
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ মূসা আল- আশ’আরী (রাঃ)

বেহেশতের হুরীদের 8

এ ধরনের আয়াত এবং হাদিসগুলো ধর্মীয় উন্মাদনা বাড়িয়ে তোলে এবং সহজেই মুসলিম সমাজের কিছু অংশকে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করে, যেখানে তারা জান্নাতের এই অপূর্ব পুরস্কার পাওয়ার আশা নিয়ে আত্মঘাতী হামলা বা সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ৭২ জন হুরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুবসমাজকে ধর্মীয় সহিংসতায় প্ররোচিত করা কেবল তাদের জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং সমাজে অশান্তি, ঘৃণা এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা, নৈতিকতা এবং মানবিকতা নিয়ে গভীরভাবে প্রশ্ন তোলা উচিত এবং এটি একটি সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য এবং বিপজ্জনক বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। [6] [7]

সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৫/ জিহাদের ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ শহীদের সাওয়াব।
১৬৬৯। আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) … মিকদাম ইবনু মা’দীকারির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর কাছে শহীদদের জন্য রয়েছে ছয়টি বৈশিষ্টঃ রক্ত ক্ষরণের প্রথম মূহূর্তেই তাকে মাফ করা হবে। জান্নাতে তার নির্ধারিত স্থান প্রদর্শন করা হবে। কবর আযাব থেকে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে মহাভীতির দিনে তাকে নিরাপদে রাখা হবে, তাঁর মাথায় সম্মানের তাজ পরানে হবে, এর একটি ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও এর সব কিছু থেকে উত্তম হবে; বাহাত্তর জন আয়াত লোচন হুরের সঙ্গে তার বিবাহ হবে, তার সত্তর জন নিকট আত্মীয় সম্পর্কে তার সুপারিশ কবুল করা হবে। সহীহ, আহকামুল জানায়িয ৩৫-৩৬, তা’লীকুর রাগীব ২/১৯৪, সহীহাহ ৩২১৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৬৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মিকদাম (রাঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
২০/ জিহাদের ফাযীলাত
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ২৫. শহীদের সাওয়াব
১৬৬৩। মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদের জন্য আল্লাহ্ তা’আলার নিকট ছয়টি পুরস্কার বা সুযোগ আছে। তার প্রথম রক্তবিন্দু পড়ার সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করা হয়, তাকে তার জান্নাতের বাসস্থান দেখানো হয়, কবরের আযাব হতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে কঠিন ভীতি হতে নিরাপদ থাকবে, তার মাথায় মর্মর পাথর খচিত মর্যাদার টুপি পরিয়ে দেওয়া হবে। এর এক একটি পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছু হতে উত্তম। তার সাথে টানা টানা আয়তলোচনা বাহাত্তরজন জান্নাতী হুরকে বিয়ে দেওয়া হবে এবং তার সত্তরজন নিকটাত্মীয়ের জন্য তার সুপারিশ কুবুল করা হবে।
সহীহ, আহকা-মুল জানায়িজ (৩৫-৩৬), তা’লীকুর রাগীব (২/১৯৪), সহীহা (৩২১৩)
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


তথ্যসূত্রঃ
  1. সূরা নাবা, আয়াত ৩৩ ↩︎
  2. সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ৪৮ ↩︎
  3. সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৩৫-৩৭ ↩︎
  4. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩৯৪-৩৯৫ ↩︎
  5. তাহক্বীক রিয়াজুস সালিহীন, ইমাম নববী, তাহক্বীক- আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা ৮৪১, হাদিস নম্বর ৬/১৮৯৪ ↩︎
  6. সুনান আত তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৬৬৯ ↩︎
  7. সুনান আত তিরমিজী(তাহকীককৃত), হাদিসঃ ১৬৬৩ ↩︎