জিবরাইলের সাথে কোথায় সাক্ষাৎ হয়েছিল?

কোরআনের এই আয়াত দুইটি লক্ষ্য করুন। এখানে বলা হয়েছে, জিবরাইলের সাথে মুহাম্মদের দ্বিতীয়বার দেখা হয়েছিল সিদরাতুল মুনতাহার কাছে, এবং প্রথমবার দেখা হয়েছিল অন্য আরেকটি সময়ে [1] [2]. কিন্তু মেরাজের হাদিস থেকে জানা যায়, সেই রাতে জিবরাইল মক্কায় এসে মুহাম্মদকে নিয়ে গিয়েছিল। তাহলে কোরআনে সিদরাতুল মুনতাহার কাছে দেখা হয়েছিল, এমন কথা কেন উল্লেখ করা হল? একটি উদাহরণ দিই—ধরুন, কলিমুদ্দীনের সাথে আমার দেখা হলো কমলাপুর রেলস্টেশনে। সেখান থেকে আমরা এয়ারপোর্টে গেলাম, তারপর প্লেনে চেপে জার্মানির বার্লিনে পৌঁছালাম। কাজ শেষে আবার ঢাকা এয়ারপোর্টে ফিরে এলাম, এবং এরপর আবার কমলাপুর চলে গেলাম। তাহলে, আমি কলিমুদ্দীনের সাথে কোথায় দেখা হয়েছিল বলে বর্ণনা করব? বার্লিনে দেখা হয়েছিল, এমনটা বলব, নাকি বলব কমলাপুরেই প্রথম দেখা হয়েছিল? নিশ্চয়ই সঠিক হবে যদি আমি বলি, কমলাপুরেই প্রথম দেখা হয়েছিল! সিদরাতুল মুনতাহাতেও দেখা হয়েছিল, তবে সেটি পুরো ঘটনার মাঝের একটি অংশ। এধরনের ঘটনা বর্ণনার সময়, সাধারণত প্রথম সাক্ষাতের মূহুর্তটিকেই দেখা বা সাক্ষাতের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী ঘটনাস্থল নয়। তাহলে সেই রাতে তো জিবরাইলের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল মক্কায়, এটি বর্ণনার কথা ছিল [3]

53:13
অবশ্যই সে [অর্থাৎ নবী (সা.)] তাকে [অর্থাৎ জিবরাঈল (আঃ)-কে] আরেকবার দেখেছিল
— Taisirul Quran
নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল।
— Sheikh Mujibur Rahman
আর সে তো তাকে* আরেকবার** দেখেছিল। * জিবরীলকে।
— Rawai Al-bayan
আর অবশ্যই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

53:14
শেষসীমার বরই গাছের কাছে,
— Taisirul Quran
সিদরাতুল মুনতাহার নিকট,
— Sheikh Mujibur Rahman
সিদরাতুল মুনতাহার* নিকট। * সিদরাতুল মুনতাহা হল সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন।
— Rawai Al-bayan
‘সিদরাতুল মুন্তাহা’ তথা প্রান্তবর্তী কুল গাছ এর কাছে [১],
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.

The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.

This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.


তথ্যসূত্রঃ
  1. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩২৮ ↩︎
  2. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৩৬ ↩︎
  3. সূরা আন-নজম, আয়াত ১৩, ১৪ ↩︎