
Table of Contents
- 1 ভূমিকাঃ শুদ্ধিকরণের নামে অমানবিক উচ্ছেদ
- 2 জাতিগত নিধনঃ সংজ্ঞা, প্রকৃতি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
- 3 মদিনায় মুহাম্মাদের আধিপত্য ও অমুসলিমদের উচ্ছেদের নীলকশা
- 4 ইহুদি-খ্রিস্টান মুক্ত আরব উপদ্বীপঃ মুহাম্মাদের শেষ অসিয়ত ও উচ্ছেদের চূড়ান্ত ফরমান
- 5 নবীর উন্মুক্ত তরবারিঃ বিশ্বব্যাপী সর্বাত্মক কিতালের আহ্বান
- 6 উপসংহারঃ আধিপত্যবাদ ও মানবিকতার চিরন্তন সংকট
ভূমিকাঃ শুদ্ধিকরণের নামে অমানবিক উচ্ছেদ
মানব সভ্যতার ইতিহাসে ‘জাতিগত নিধন’ বা ‘এথনিক ক্লিনজিং’ শব্দটি এক গভীর ট্র্যাজেডির নাম। এটি কেবল কোনো ভূখণ্ড দখল বা রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে তাদের দীর্ঘদিনের ভিটেমাটি থেকে সমূলে উপড়ে ফেলার এক পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত নিষ্ঠুরতা। যখন কোনো শক্তিশালী পক্ষ মনে করে যে, একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসের অধিকার কেবলমাত্র তাদেরই রয়েছে এবং সেখানে অন্য কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর অবস্থান তাদের জন্য ‘অশুদ্ধ’ বা ‘অবাঞ্ছিত’, তখনই জন্ম নেয় এই ভয়াবহ অপরাধ। প্রায়শই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ন্যায্যতা দিতে ‘ঐশী অধিকার’ বা ইশ্বরপ্রদত্ত অধিকারের দোহাই দেওয়া হয়, যা অপরাধীদের মনে এক ধরণের ছদ্ম-পবিত্রতা ও নির্ভীকতা তৈরি করে।
ধর্মের ভিত্তিতে সংঘটিত জাতিগত নিধন মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে ধর্মীয়ভাবে সমজাতীয় করার এই উন্মাদনা সভ্যতাকে কয়েক শতাব্দী পেছনে ঠেলে দেয়। যারা এই অপরাধ সংগঠিত করে, তারা প্রায়শই এটিকে ‘আত্মরক্ষা’ বা ‘ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার লড়াই’ হিসেবে চিত্রিত করে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই দাবিগুলো ছিল স্রেফ একটি অজুহাত, যার আড়ালে লুকিয়ে ছিল আধিপত্য বিস্তারের চরম আকাঙ্ক্ষা। এটি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর ওপর যে মানসিক ও শারীরিক ক্ষত তৈরি করে, তা বংশপরম্পরায় বয়ে বেড়াতে হয়। মানুষ বাধ্য হয় তাদের স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি, দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি এবং জীবনধারা বিসর্জন দিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে।
সমাজের ওপর এই ধরণের কর্মকাণ্ডের প্রভাব অত্যন্ত বিধ্বংসী এবং দীর্ঘস্থায়ী। এটি মানুষের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে এবং সামাজিক বৈচিত্র্যকে ধ্বংস করে দেয়। একটি অঞ্চল যখন তার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য হারায়, তখন তা কেবল একটি রুক্ষ জনপদে পরিণত হয়। আধুনিক বিশ্বে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা জাতিগত নিধনকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করলেও, এর কার্যকর প্রতিরোধ আজও এক বড় চ্যালেঞ্জ। ধর্মের দোহাই দিয়ে উস্কানিদাতা ধর্মগুরু বা রাজনৈতিক নেতাদের আস্ফালনে আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লাখ লাখ মানুষকে ঘরহীন হতে হচ্ছে। তাই মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা এবং বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আবশ্যকতা। যে দর্শন ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘উপদ্রব’ মনে করে তাদের উচ্ছেদ করার স্বপ্ন দেখায়, সেই দর্শনের স্বরূপ উন্মোচন করা আজকের সচেতন সমাজের প্রধান দায়িত্ব।
জাতিগত নিধনঃ সংজ্ঞা, প্রকৃতি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
জাতিগত নিধন বা ‘এথনিক ক্লিনজিং’ কোনো আকস্মিক দাঙ্গা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং সুশৃঙ্খল অপরাধমূলক প্রক্রিয়া। আধুনিক সমাজবিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন একটি শক্তিশালী জনগোষ্ঠী কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অন্য কোনো জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে সেই অঞ্চলটিকে নিজেদের জন্য ‘একক ও শুদ্ধ’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তখনই তাকে জাতিগত নিধন বলা হয়। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য থাকে একটি নির্দিষ্ট জনপদকে নৃগোষ্ঠীগত বা ধর্মীয়ভাবে ‘সমজাতীয়’ (Homogeneous) করা। এটি কেবল শারীরিক আক্রমণ নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের শিকড় উপড়ে ফেলার নামান্তর।
Ethnic cleansing is the systematic forced removal of ethnic, racial and/or religious groups from a given territory by a more powerful ethnic group, often with the intent of making it ethnically homogeneous. [1] The forces which may be applied may be various forms of forced migration (deportation, population transfer), intimidation, as well as genocide and genocidal rape.
জাতিগত নিধন পরিচালনার পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং বহুমুখী। এর মধ্যে রয়েছে গণহারে নির্বাসন, জোরপূর্বক জনসংখ্যা স্থানান্তর, এবং পদ্ধতিগত ভয়ভীতি প্রদর্শন। অনেক ক্ষেত্রে এই অপরাধ গণহত্যা (Genocide) এবং যুদ্ধকালীন ধর্ষণের মতো ভয়াবহ পাশবিকতার রূপ নেয়। অপরাধী গোষ্ঠীগুলো এই ধরণের নৃশংসতাকে তাদের ধর্মীয় বা জাতীয় পরিচয়ের ‘সুরক্ষা কবচ’ হিসেবে চিত্রিত করতে চায়। তারা দাবি করে যে, এই নিধনযজ্ঞ না চালালে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এই ধরণের কাল্পনিক ভীতি ছড়িয়ে মূলত সাধারণ মানুষকে উন্মত্ত করা হয় এবং অন্য একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি চরম ঘৃণা উস্কে দেওয়া হয়। ফলে যারা যুগ যুগ ধরে প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করে আসছিল, তারা রাতারাতি একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়।
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তাকালে আমরা এই জাতিগত নিধনের বহু হৃদয়বিদারক উদাহরণ দেখতে পাই। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ, ফিলিস্তিনী ও কাশ্মীরীদের উচ্ছেদ—এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ধর্মীয় বা জাতীয় আধিপত্যবাদেরই এক একটি বহিঃপ্রকাশ। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসেও এর ক্ষত অত্যন্ত গভীর। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে লাখ লাখ মানুষকে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। বিশেষ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাটি এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির এক চরম অন্ধকার দিক। এই ধরণের উচ্ছেদ কেবল ব্যক্তির সম্পদ কেড়ে নেয় না, বরং একটি জাতির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
জাতিসংঘের মতে, জাতিগত নিধন মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্য অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য। তবে বাস্তবে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে এই নৃশংসতা প্রতিরোধ করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। জাতিগত নির্মূল প্রতিরোধ করতে হলে কেবল আইন যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি সভ্য সরকারকে উগ্র মতাদর্শ ও ধর্মীয় উস্কানির বিরুদ্ধে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মীয় মতাদর্শের দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ ও নিপীড়নের বৈধতা দেয়, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা না গেলে মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা অসম্ভব। একটি সহনশীল বিশ্ব গড়তে হলে আগে সেইসব ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক শেকড়গুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন, যা মানুষকে অমানবিক হতে প্ররোচিত করে।
মদিনায় মুহাম্মাদের আধিপত্য ও অমুসলিমদের উচ্ছেদের নীলকশা
নবী মুহাম্মাদের ধর্ম প্রচারের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে মক্কা ও মদিনার জীবনের মধ্যে এক বিশাল আকাশ-পাতাল পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। মক্কায় থাকাকালীন দীর্ঘ তেরো বছরে তাঁর রাজনৈতিক বা সামরিক কোনো ক্ষমতা ছিল না, ফলে সেখানে তাঁর প্রচার ছিল অনেকটাই নমনীয়। কিন্তু মদিনায় হিজরত করার পর মুহাম্মাদের ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘুরতে শুরু করে। মদিনার আনসারদের রাজনৈতিক সমর্থন এবং বিত্তশালী ইহুদি গোত্রগুলোর প্রাথমিক সহযোগিতার ওপর ভর করে তিনি সেখানে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন। তবে শীঘ্রই তাঁর রণকৌশলে এক বিশাল পরিবর্তন আসে। মদিনায় স্থিতিশীল হওয়ার পর তিনি নিয়মিত কুরাইশদের বাণিজ্যিক কাফেলাগুলোতে আক্রমণ বা লুণ্ঠন শুরু করেন, যা তাঁর বাহিনীকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও সামরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।
এই ক্রমবর্ধমান শক্তির সমান্তরালে মুহাম্মাদের মাঝে একটি বিশেষ পরিকল্পনা দানা বাঁধতে থাকে—আর তা হলো মদিনাকে একটি ‘বিশুদ্ধ ইসলামী জনপদ’ হিসেবে গড়ে তোলা। মুহাম্মাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে মদিনা কেবল একটি আশ্রয়স্থল ছিল না, বরং এটি ছিল এমন একটি ঘাঁটি যেখান থেকে তিনি সারা আরব উপদ্বীপে আধিপত্য বিস্তার করবেন। এই পরিকল্পনারই অংশ ছিল মদিনা থেকে তাঁর ‘অপছন্দের’ বা ‘অবাঞ্ছিত’ মানুষগুলোকে ধীরে ধীরে বিতাড়িত করা। সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহাম্মাদ মদিনাকে এমন একটি জনপদ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন যা অন্য সব জনপদের ওপর জয়ী হবে এবং যা তার ভেতর থেকে ‘অবাঞ্ছিত’ বা ‘নিকৃষ্ট’ জিনিসগুলোকে ঝেঁটিয়ে বের করে দেবে।
মদিনার এই ‘শুদ্ধিকরণ’ বা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বয়ং মুহাম্মাদের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: [2]
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
২৯/ মদীনার ফাযীলাত
পরিচ্ছেদঃ ২৯/২. মদীনার ফযীলত। মদীনাহ (অবাঞ্ছিত) লোকজনকে বহিষ্কার করে দেয়।
১৮৭১. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি এমন এক জনপদে হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যে জনপদ অন্য সকল জনপদের উপর জয়ী হবে। লোকেরা তাকে ইয়াসরিব বলে থাকে। এ হল মদিনা। তা অবাঞ্ছিত লোকদেরকে এমনভাবে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে কামারের অগ্নিচুলা লোহার মরিচা দূর করে দেয়। (মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮২, আহমাদ ৮৯৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৪৭ )
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সহিহ মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় এই আধিপত্যবাদী আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: [3]
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ (হজ্জ/হজ)
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. মদীনা নিজের মধ্য থেকে নিকৃষ্ট জিনিস বের করে দিবে এবং মদীনার অপর নাম ‘তাবা’ ও ‘তায়বা’
৩২২৩। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এমন একটি জনপদে (হিজরতের) জন্য আদিষ্ট যা সমস্ত জনপদ খেয়ে ফেলবে (আধিপত্য বিস্তার করবে)। লোকেরা তাকে ইয়াসরীব নামে অভিহিত করেছে। আর এটা হল মদিনা। তা লোকদের এমনভাবে বের করবে যেমনিভাবে হাপর লোহার ময়লা বের করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
এখানে ‘লোহার মরিচা’ বা ‘ময়লা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপগুলো থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। মুহাম্মাদ যখনই মদিনায় তাঁর অবস্থান সংহত করেছেন, তখনই তিনি সেখানকার প্রাচীন বাসিন্দা ইহুদি গোত্রগুলোর ওপর কোনো না কোনো অভিযোগ আরোপ করে তাদের অবরুদ্ধ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদ বা হত্যা করেছেন। এই যে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ‘মরিচা’ বা ‘অবাঞ্ছিত’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিতাড়িত করার আধ্যাত্মিক বয়ান, তা মূলত একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত নিধনেরই ধর্মতাত্ত্বিক ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে, মদিনায় হিজরতের প্রথম দিক থেকেই মুহাম্মাদের বৃহৎ লক্ষ্য ছিল অমুসলিমদের অস্তিত্ব মুছে দিয়ে সেখানে ইসলামের একক ও একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা।
ইহুদি-খ্রিস্টান মুক্ত আরব উপদ্বীপঃ মুহাম্মাদের শেষ অসিয়ত ও উচ্ছেদের চূড়ান্ত ফরমান
ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তারের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুহাম্মাদের রণকৌশল কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা একটি ভৌগোলিক অঞ্চলকে নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য সংরক্ষিত করার চূড়ান্ত ঘোষণায় রূপ নেয়। মুহাম্মাদ তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আরবের ভূমি থেকে অমুসলিমদের অস্তিত্ব মুছে দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছিলেন। এটি কোনো সাময়িক সামরিক কৌশল ছিল না, বরং একটি সুসংগঠিত জাতিগত নিধনের ধর্মীয় ফরমান ছিল। এমনকি মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন চরম শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি তাঁর অনুসারীদের যে অসিয়ত বা উইল করে গিয়েছিলেন, তার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আরব উপদ্বীপ থেকে অমুসলিমদের বিতাড়ন।
ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় সেই করুণ মুহূর্তের চিত্র ফুটে ওঠে, যেখানে মুহাম্মাদ তাঁর শেষ অসিয়ত হিসেবে নির্দেশ দেন। অর্থাৎ মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর মুহাম্মদ সেই শেষ সময়েও ওয়াসিয়ত করে গিয়েছেন, অমুসলিমদের বিতাড়িত করতে [4]
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৪৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৯১৭. প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন প্রদান
১৯১৬. পরিচ্ছেদঃ জিম্মিদের জন্য সুপারিশ করা যাবে কি এবং তাদের সাথে আচার-আচরণ
২৮৩৮। কাবীসা (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (কোন এক সময়) বললেন, বৃহস্পতিবার! হায় বৃহস্পতিবার! এরপর তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, এমনকি তাঁর আশ্রুতে (যমিনের) কঙ্করগুলো সিক্ত হয়ে গেল। আর তিনি বলতে লাগলেন, বৃহস্পতিবারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যাতনা বেড়ে যায়। তখন তিনি বললেন, তোমার আমার জন্য লিখার কোন জিনিস নিয়ে আস, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখিয়ে দিব। যাতে এরপর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট না হয। এতে সাহাবীগণ পরস্পর মতপার্থক্য করেন। অথচ নাবীর সম্মুখে মতপার্থক্য সমীচীন নয়। তাদের কেউ কেউ বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া ত্যাগ করেছেন?’
তিনি বললেন, ‘আচ্ছা’ আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও। তোমরা আমাকে যে অবস্থার দিকে আহবান করছো তার চেয়ে আমি যে অবস্থায় আছি তা উত্তম। ’ অবশেষে তিনি ইন্তেকালের সময় তিনটি বিষয়ে ওসীয়ত করেন। (১) মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বিতাড়িত কর, (২) প্রতিনিধি দলকে আমি যেরূপ উপঢৌকন দিয়েছি তোমরাও আনুরূপ দিও (রাবী বলেন) তৃতীয় ওসীয়তটি আমি ভুলে গিয়েছি। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ও ইয়াকুব (রহঃ) বলেন, আমি মুগীরা ইবনু আবদুর রাহমানকে জাযীরাতুল আরব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তাহল মক্কা, মদিনা ইয়ামামা ও ইয়ামান। ইয়াকূব (রহঃ) বলেন, ‘তিহামা আরম্ভ হল ‘আরজ থেকে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
মুহাম্মাদের এই উচ্ছেদ পরিকল্পনা কেবল পৌত্তলিক বা মুশরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এতে আরবের প্রাচীন জনপদ ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর লক্ষ্য ছিল আরব ভূখণ্ডে এমন এক ধর্মীয় একচ্ছত্রবাদ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো আদর্শের অস্তিত্ব থাকবে না। সহিহ হাদিসে মুহাম্মাদের এই কঠোর অবস্থানের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়: [5] [6] [7]
সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছদঃ ২১. ইয়াহুদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার
৪৪৪২। যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার করবো। পরিশেষে মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩৩। জিহাদ ও সফর
পরিচ্ছদঃ ২১. ইয়াহুদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেয়া
৪৪৮৬-(৬৩/১৭৬৭) যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ….. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্ৰীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেবো। তারপর মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৪)
যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ….. উভয়েই আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
অধ্যায়ঃ ১৯/ যুদ্ধাভিযান
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ৪৩. আরব উপদ্বীপ হতে ইয়াহুদী-নাসারাদের বের করে দেওয়া প্রসঙ্গে
১৬০৭। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আমি ইহুদী ও নাসারাদের আরব উপদ্বীপ হতে অবশ্যই বহিষ্কার করব। মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে সেখানে বসবাস করতে দিব না।
সহীহ, সহীহা (১১৩৪), সহীহ আবূ দাউদ, মুসলিম
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য মুহাম্মাদ ধর্মের নামে ভীতি প্রদর্শন ও জবরদস্তির আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, এই পৃথিবীতে তাঁর আবির্ভাবই হয়েছে মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করার জন্য, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, মানুষের জান ও মাল তখনই নিরাপদ হবে যখন তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি দেবে [8] [9]। এই দর্শনের অর্থ দাঁড়ায়—যাদের বিশ্বাস ইসলামের সাথে মেলে না, তাদের এই ভূখণ্ডে বেঁচে থাকার বা সম্পদ ভোগ করার কোনো অধিকার নেই।
সুনানে ইবনে মাজাহ
ভূমিকা পর্ব
পরিচ্ছেদঃ ৯. ঈমানের বিবরণ
১৪/৭১। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নাই, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ্র রাসূল এবং তারা সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয়।
তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ১৪০০, ২৯৪৬, ৬৯২৪, ৭২৮৫; মুসলিম ২০, ২১/১-৩; তিরমিযী ২৬০৬-৭, নাসায়ী ২৪৪৩, ৩০৯০-৯৩, ৩০৯৫, ৩৯৭০-৭৮; আবূ দাঊদ ২৬৪০, আহমাদ ৬৮, ১১৮, ৩৩৭, ২৭৩৮০, ৮৩৩৯, ৮৬৮৭, ৯১৯০, ২৭২১৪, ৯৮০২, ২৭২৮৪, ১০১৪০, ১০৪৪১, ১০৪৫৯।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ মুতাওয়াত্বির। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৪০৭। উক্ত হাদিসের রাবী আবু জা’ফার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, মুগীরাহ থেকে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন। বু হাতিম আর-রাযী ও আলী ইবনুল মাদীনী এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১। ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছেদঃ ৮. লোকেদের বিরুদ্ধে জিহাদের নির্দেশ যতক্ষণ না তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, নাবী যে শারীআতের বিধান এনেছেন তার প্রতি ঈমান আনে, যে ব্যক্তি এসব করবে সে তার জান মালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শারীআত সম্মত কারণ ব্যতীত, তার অন্তরের খবর আল্লাহর কাছে; যে ব্যক্তি যাকাত দিতে ও ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করতে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এবং ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইমামের গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ।
৩৭-(৩৭/২৩) সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ আবূ উমর (রহঃ) ….. আবূ মালিক তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ কথা স্বীকার করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যকে অস্বীকার করে, তার জান-মাল নিরাপদ? আর তার হিসাব নিকাশ আল্লাহর নিকট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ মালিক আল আশ্‘আরী (রাঃ)
এর একটি চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়া যায় ইহুদিদের শিক্ষাগারে গিয়ে মুহাম্মাদের সরাসরি হুমকিতে। তিনি ইহুদিদের ইসলাম কবুল করার আহ্বান জানান এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, এই ভূমি এখন থেকে কেবল তাঁর ও তাঁর ইশ্বরের মালিকানাধীন: [10] [11] –
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয় (১৮ঃ ৫৪)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না………. (২৯ঃ ৪৬)
৬৮৪৭। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববীতে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইহুদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। অবশেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষাগারে) পৌছলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, এতে তোমরা নিরাপদে থাকবে। ইহুদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম কবুল কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি এরূপই ইচ্ছা রাখি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রেখো যমীন আল্লাহ ও তার রাসুলের।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
আল্লামা আলবানী একাডেমী
অধ্যায়ঃ ১৪/ কর, ফাই ও প্রশাসক
৩০০৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা মাসজিদে উপস্থিত ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ ইয়াহুদীদের এলাকায় চলো। ‘আমরা তাঁর সাথে বের য়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদেরকে ডেকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল করো শান্তিতে থাকবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আবার বললেনঃ তোমরা ইসলাম কবূল করো, নিরাপত্তা পাবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়াই আমার উদ্দেশ্য ছিলো। তৃতীয় বারও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেনঃ জেনে রাখো! এ ভুখন্ডের মালিকানা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ ভূখন্ড থেকে বিতাড়িত করতে চাই। সুতরাং তোমরা কোনো জিনিস বিক্রি করতে সক্ষম হলে বিক্রি করো। অন্যথায় জেনে রাখো! এ ভূখন্ডের মালিক আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

মুহাম্মাদের এই সুপ্ত ইচ্ছা এবং চূড়ান্ত পরিকল্পনা তাঁর জীবদ্দশায় পুরোপুরি সম্পন্ন না হলেও, তাঁর উত্তরসূরি খলিফা ওমরের আমলে তা পূর্ণতা পায়। তাফসীরে মাযহারীর বর্ণনা অনুযায়ী, খলিফা ওমর মুহাম্মাদের সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেন এবং আরব উপদ্বীপের প্রতিটি কোণ থেকে অমুসলিমদের বহিষ্কার করেন। বাণিজ্যিক কারণে অমুসলিমদের যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও, তিন দিনের বেশি তাদের অবস্থান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আধুনিক মানবাধিকারের আলোকে একে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার এক পৈশাচিক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যা আজও ধর্মীয় আধিপত্যবাদের এক কালো অধ্যায় হয়ে টিকে আছে। আসুন তাফসীরে মাযহারী থেকে একটি অংশ পড়ে নিই, [12] –
বাকভঙ্গিটি অন্য একটি আয়াতের মতো, যেখানে বলা হয়েছে- ‘সুবহানাল্লাজী আস্ত্রা বি আ’বদিহী লাইলাম মিনাল মাসজিদিল হারাম ইলাল মাসজিদিল আকসা’ (পবিত্র সেই আল্লাহ্, যিনি রাতে তাঁর আপনতম বান্দাকে ভ্রমণ করান মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায়)। আয়াতটি রসুল স. এর মেরাজ সম্পর্কিত। মেরাজের রাতে রসুল স.কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো হজরত উম্মে হানির ঘর থেকে। মসজিদুল হারাম (কাবা শরীফ) থেকে নয়। অথচ আয়াতে বলা হয়েছে- মসজিদুল হারাম থেকে। সুতরাং আলোচ্য নির্দেশনাটির অর্থ হবে-মুশরিকেরা যেনো হেরেম শরীফের সীমানায় প্রবেশ না করে।
ইমাম বাগবী লিখেছেন, ১. জিম্মী (কর প্রদাতা), বিদ্রোহী, সন্ধিবদ্ধ- সকল প্রকার মুশরিকদের জন্য হেরেম শরীফের সীমানায় অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ। আমিরুল মু’মিনীন (ইমানদারদের নেতা) হেরেম শরীফে অবস্থানের সময় যদি কাফের সাম্রাজ্যের কোনো দূত আগমন করে, তবে তাকে হেরেমে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না। আমিরুল মু’মিনীন তাঁর প্রতিনিধিকে হেরেমের বাইরে পাঠিয়ে দূতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলবেন।
২. হেরেম শরীফের বাইরে হেজাজের অন্যান্য অঞ্চলে কার্যোপলক্ষে কাফেরেরা আগমন করতে পারবে তবে তিন দিনের বেশী অবস্থান করতে পারবে না। হজরত ওমর কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রসুল স. বলেছেন, পৃথিবীর জীবনে সময়
পেলে আমি ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দিবো। মুসলমান ছাড়া অন্য কেউ এখানে বসবাস করতে পারবে না। কিন্তু রসুল স. তাঁর এই ইচ্ছাটির বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে খলিফা হজরত আবু বকরও একাজ সমাপ্ত করতে পারেননি। হজরত ওমরের খেলাফতকালে তাঁর ইচ্ছা বাস্তবরূপ নিয়েছিলো। হজরত ওমর সকল অমুসলিমকে বের করে দিয়েছিলেন জাজিরাতুল আরব থেকে। অবশ্য বাণিজ্য ব্যাপদেশে অমুসলিম ব্যবসায়ীরা হেজাজে আসা যাওয়া করতে পারতো। কিন্তু তিন দিনের বেশী তাদেরকে থাকতে দেয়া হতো না। জাজিরাতুল আরবের সীমানা হচ্ছে দৈর্ঘ্যে এডেন বন্দর থেকে ইরাকের শস্যভূমি পর্যন্ত। আর প্রন্থে জেদ্দার সাগরোপকূল থেকে সিরিয়া পর্যন্ত।
৩. অন্যান্য মুসলিম রাজ্যের জিম্মিরাও মুসলমানদের অনুমতি ব্যতীত
মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে না। হাফেজ ইবনে হাজার লিখেছেন, ইমাম শাফেয়ী এ ব্যাপারে কাবা শরীফ ও অন্যান্য মসজিদের মধ্যে বিধানগত পার্থক্য নিরুপণ করেছেন। বলেছেন, বিধর্মীদের জন্য মসজিদুল হারামে প্রবেশ নিষিদ্ধ, কিন্তু অন্যান্য মসজিদে প্রবেশ জায়েয। মালেকী মতাবলম্বীগণ ও মাজানীর অভিমত হচ্ছে, হেরেম শরীফে বিধর্মীদের প্রবেশ যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি অন্যান্য মসজিদেও তাদের প্রবেশ নাজায়েয। ইমাম বোখারী মসজিদে বিধর্মীদের প্রবেশ সম্পর্কে স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। ওই অধ্যায়ে হজরত আবু হোরায়রা

নবীর উন্মুক্ত তরবারিঃ বিশ্বব্যাপী সর্বাত্মক কিতালের আহ্বান
নবী মুহাম্মদের এই সুপ্ত ইচ্ছাটিই ছিল যে, তিনি মুসলিম ছাড়া অন্য সবাইকেই আরব অঞ্চল থেকে তাড়িয়ে দেবেন। এবং তার আরও ঘোষণা ছিল যে, সারা পৃথিবীব্যাপী কাফেরদের আক্রমণের জন্য সর্বাত্মক জিহাদের ঘোষণাও নবী দিয়ে গিয়েছিলেন। নবী বলেছেন যে, মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি(নবী) তাদের বিরুদ্ধে কিতাল বা সশস্ত্র যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি [13] [14] –
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ১. যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি
২৬০৭। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবূ বাকর (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্ৰধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই” সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা’আলার দায়িত্বে।
আবূ বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ নামায ও যাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। কেননা যাকাত সম্পদের হাক্ক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবোই। তারপর উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবূ বাকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ।
সহীহঃ সহীহাহ (৪০৭), সহীহ আবূ দাউদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। শু’আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহরী হতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস মামার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে, তিনি আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ভুল। ‘ইমরানের ব্যাপারে মা’মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৮/ ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ২. আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে এবং নামায আদায় করবে
২৬০৮। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ তা’আলার বান্দা ও তার রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামায আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে।
সহীহঃ সহীহাহ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাউদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ।
মুআয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব। ইয়াহইয়া (রাহঃ) হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
উপসংহারঃ আধিপত্যবাদ ও মানবিকতার চিরন্তন সংকট
সার্বিক দালিলিক বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির পর্যালোচনা শেষে এটি আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, নবী মুহাম্মাদের প্রচারিত ধর্মতত্ত্ব কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক আধিপত্যবাদের রূপরেখা। জাতিগত নিধন বা ‘এথনিক ক্লিনজিং’ আধুনিক বিশ্বে যে নামেই পরিচিত হোক না কেন, আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি, খ্রিস্টান এবং পৌত্তলিকদের সমূলে উচ্ছেদ করার যে ধর্মীয় ফরমান মুহাম্মাদ জারি করেছিলেন, তা আধুনিক মানবাধিকারের সকল মানদণ্ডেই এক ভয়াবহ অপরাধ। যখন কোনো ভূখণ্ডকে ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের’ ব্যক্তিগত সম্পত্তি ঘোষণা করে সেখানে হাজার বছর ধরে বসবাসরত আদিবাসীদের বিতাড়িত করা হয়, তখন তাকে আর যাই হোক ‘শান্তির বার্তা’ হিসেবে গ্রহণ করা যুক্তির পরিপন্থী।
আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হচ্ছে বহুত্ববাদ, সহনশীলতা এবং প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ বিশ্বাস নিয়ে নিজ ভূমিতে বেঁচে থাকার অধিকার। জাতিসংঘসহ বর্তমান বিশ্বের সকল মানবিক প্রতিষ্ঠান যেখানে ধর্মীয় বা জাতিগত কারণে উচ্ছেদকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে, সেখানে মুহাম্মাদের এই উচ্ছেদ নীতি এক বিশাল বৈপরীত্য তৈরি করে। যারা এই ধরণের কর্মকাণ্ডকে ‘শুদ্ধিকরণ’ বা ‘মরিচা দূরীকরণ’ হিসেবে ন্যায্যতা দিতে চান, তারা মূলত একটি অসহিষ্ণু ও একপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন। এই ধরণের আধিপত্যবাদী মানসিকতা কেবল অতীতের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি আজকের আধুনিক বিশ্বেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ভূমি দখল এবং শরণার্থী সংকটের এক প্রচ্ছন্ন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
ধর্মের দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ ও নিপীড়নের এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, অন্ধ বিশ্বাস যখন যুক্তিবাদী চেতনার ওপর চেপে বসে, তখন তা মানুষের মৌলিক অধিকারকে পদদলিত করতে দ্বিধা করে না। যে দর্শন ভিন্নমতাবলম্বীদের অস্তিত্বকে ‘নাপাক’ বা ‘অবাঞ্ছিত’ মনে করে তাদের উচ্ছেদ করার স্বপ্ন দেখায়, সেই দর্শন আধুনিক গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী সমাজের জন্য এক বিরাট আদর্শিক চ্যালেঞ্জ। সত্য ও ন্যায়ের আধুনিক মানদণ্ড কেবল কোনো প্রাচীন লিপির অন্ধ আনুগত্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; বরং একে হতে হবে সর্বজনীন ও পক্ষপাতহীন। যুক্তি এবং প্রমাণের নিরিখে এটি আজ অনস্বীকার্য যে, প্রকৃত শান্তি ও মানবিক মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব, যখন আমরা এই ধরণের উগ্র আধিপত্যবাদকে ছুড়ে ফেলে প্রতিটি মানুষের জীবন ও বিশ্বাসের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল হতে পারব। একটি বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়তে হলে এই ধরণের মধ্যযুগীয় উচ্ছেদ নীতির নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ ও সমালোচনা করাই হতে পারে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ।
তথ্যসূত্রঃ
- Rubenstein, James M. (2008). The Cultural Landscape: An Introduction to Human Geography. Pearson. ISBN 9780131346819 ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ১৮৭১ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২২৩ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৮৩৮ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪৪২ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, (হাদিস একাডেমী, হাদিসঃ ৪৪৮৬ ↩︎
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হুসাইন আল-মাদানী পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ১৬০৭ ↩︎
- সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিসঃ ১৪/৭১ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৭ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬৮৪৭ ↩︎
- সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিসঃ ৩০০৩ ↩︎
- তাফসীরে মাযহারী, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৯ ↩︎
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৭ ↩︎
- সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ২৬০৮ ↩︎
