মুমিনের যুক্তিঃ উমর দাসী সহবতকারীকে শাস্তি দিয়েছেন?

ইসলামের পক্ষের অনেক বক্তাই লাজলজ্জার মাথা খেয়ে আরো একটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে থাকেন। তারা আপনাকে একটি হাদিস দেখিয়ে দাবী করবে, ইসলামে দাসী সহবত সম্পূর্ণ হারাম! হাদিসটিতে নাকি বলা হয়েছে, একবার হযরত উমর একজনকে কঠিন শাস্তি দিয়েছিল কারণ সে দাসীর সাথে যৌনকর্ম করেছিল। এই তথ্যটির মধ্যে একটি মস্তবড় গলদ আছে। আসুন আগে হাদিসটি পড়ি [1]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭৮/ বল-প্রয়োগে বাধ্য করা
পরিচ্ছেদঃ ২৯১২. যখন কোন মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয় তখন তার উপর কোন ‘হদ’ আসে না। কেননা, আল্লাহ বলেন, তবে কেউ যদি তাদেরকে বাধ্য করে সে ক্ষেত্রে জবরদস্তির উপর আল্লাহতো তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (২৪ঃ ৩৩)
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৬৪৮০, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬৯৪৯ – ৬৯৫০
লায়স (র.) নাফি’ (র.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সাফিয়্যা বিন্‌ত আবূ উবাইদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, সরকারী মালিকানাধীন এক গোলাম গনীমতের পঞ্চমাংশে প্রাপ্ত একটি দাসীর সাথে জবরদস্তিমূলকভাবে যিনা করে। এমন কি তার কুমারীত্ব টুটে দেয়। উমর (রা.) উক্ত গোলামকে কশাঘাত করলেন ও নির্বাসন দিলেন। কিন্তু দাসীটিকে সে বাধ্য করেছিল বলে কশাঘাত করলেন না। যুহরী (র.) কুমারী দাসীর ব্যাপারে বলেন, যার কুমারীত্ব কোন আযাদ ব্যক্তি ছিন্ন করে ফেলল, বিচারক ঐ কুমারী দাসীর মূল্য অনুপাতে তার জন্য ঐ আযাদ ব্যক্তির নিকট হতে কুমারীত্ব টুটে ফেলার দিয়াত গ্রহণ করবেন এবং ওকে কশাঘাত করবেন। আর বিবাহিতা দাসীর ক্ষেত্রে ইমামদের সিদ্ধান্ত অনুসারে কোন জরিমানা নেই। তবে তার উপর ‘হদ’ কার্যকর হবে নেই।
৬৪৮০। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) ’সারা’ (আলাইহিস সালাম) কে নিয়ে হিজরত করে এমন এক জনপদে উপনীত হলেন, যেখানে একজন স্বৈরাচার বাদশা ছিল। সে তাঁকে বলে পাঠাল যে, যেন তিনি ’সারা’ কে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি তাকে পাঠিয়ে দিলেন। সে “সারার” দিকে অগ্রসর হতে লাগল। অপর দিকে “সারা” উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগলেন। আর বললেন, হে আল্লাহ্! আমি যদি তোমার ও তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান এনে থাকি তাহলে আমার উপর ঐ কাফেরকে কর্তৃত্ব প্রদান করো না। ফলে সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে (মাটিতে পড়ে) গোড়ালী দিয়ে ঘষর্ণ করতে লাগল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, এই হাদিসটিতেই লেখা রয়েছে যে, ঐ গোলামটি সরকারী মালিকানাধীন একজন ক্রীতদাস ছিল। সে গনিমতের মালের খুমুসের অংশ, অর্থাৎ যেই অংশটি নবীর জন্য নির্ধারিত ছিল, সেই অংশের এক দাসীকে ধর্ষণ করে বলেই উমর তাকে শাস্তি দিয়েছিল। নিজ মালিকানাধীন দাসীর সাথে সহবাস করার কারণে এই শাস্তি নয়, বরঞ্চ গনিমতের এক পঞ্চমাংশের অন্তর্ভূক্ত দাসীকে ধর্ষণ করার কারণেই এই শাস্তি দেয়া হয়েছিল। ইসলামিস্টদের এরকম মিথ্যাচারের নমুনা হাজার হাজার।

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


তথ্যসূত্রঃ
  1. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৬৪৮০ ↩︎