বেশিরভাগ মুসলিমই সম্ভবত জানেন না যে, ইসলামে খাদ্যের বিনিময়ে চাষযোগ্য কৃষিজমি ইজারা দেয়া, কিংবা উৎপাদিত ফসলের অংশের বিনিময়ে জমি ইজারা দেয়া ইসলামে হারাম। আসুন শুরুতেই হাদিসটি পড়ি,
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ২২। ক্রয়-বিক্রয়
১৮. খাদ্যের বিনিময়ে জমি ইজারা
৩৮৩৭–(১১৩/১৫৪৮) ‘আলী ইবনু হুজর সা’দী ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ….. রাফি’ খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে জমির মুহাকালাহ করতাম এবং এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে ইজারা দিতাম। এরপর এক সময় আমার এক চাচা আমাদের নিকট এসে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এমন একটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন যা আমাদের জন্যে লাভজনক ছিল। আর আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কথা মেনে চলা আমাদের জন্যে অধিক কল্যাণকর। তিনি আমাদেরকে জমি মুহাকালাহ্ করতে এবং এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। আর জমির মালিককে নিজে চাষ করতে বা অপরের দ্বারা চাষ করাতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইজারা বা অন্য কিছু করার বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮০১, ইসলামিক সেন্টার ৩৮০১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই হাদিসটি একটি অযৌক্তিক, অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক এবং অন্ধ অনুসরণমূলক নিয়মের উদাহরণ, যা কোনো প্রমাণভিত্তিক কারণ ছাড়াই মানুষের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকারকে লঙ্ঘন করে। প্রথমত, হাদিসটি নিজেই স্বীকার করে যে মুহাকালাহ বা শেয়ারক্রপিং লাভজনক ছিল—যা একটি স্বীকৃতি যে এই প্র্যাকটিস অর্থনৈতিকভাবে উপকারী, কারণ এটি জমির মালিককে ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং ভূমিহীন কৃষকদের জমি অ্যাক্সেস করতে সাহায্য করে। কিন্তু কোনো যুক্তি বা প্রমাণ ছাড়াই এটাকে নিষিদ্ধ করে, শুধুমাত্র একটি অথরিটির (মুহাম্মদের) কথার উপর ভিত্তি করে। এটি ক্রিটিকাল থিঙ্কিংয়ের সরাসরি লঙ্ঘন: যদি কোনো প্র্যাকটিস লাভজনক হয় এবং কোনো ক্ষতি না করে, তাহলে কেন তা নিষিদ্ধ হবে? এমন নিয়ম অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধা দেয়, কারণ শেয়ারক্রপিং আধুনিক অর্থনীতিতে (যেমন ভারত বা আমেরিকায়) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় যাতে ছোট কৃষকরা জমি পায় এবং মালিকরা প্যাসিভ ইনকাম পায়—এতে কোনো যৌক্তিক ক্ষতি নেই, বরং এটি ফ্রি মার্কেটের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দার্শনিকভাবে, এই হাদিসটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ধ্বংস করে, যা জন লকের ‘প্রপার্টি রাইটস’ থিওরির সাথে সাংঘর্ষিক—যেখানে সম্পত্তির মালিক তার সম্পত্তি যেকোনো উপায়ে ব্যবহার করার অধিকার রাখে, যতক্ষণ না অন্যের ক্ষতি হয়। এখানে মালিককে ‘নিজে চাষ করতে’ বাধ্য করা একটি অত্যাচারী নিয়ম, যা মানুষকে তাদের দক্ষতা বা পছন্দ অনুসারে জীবন যাপন করতে বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ জমি কিনে ভাড়া দিয়ে আয় করতে চায়, তাহলে কেন তা নিষিদ্ধ? এটি শুধুমাত্র একটি প্রাচীনকালীন প্রিজুডিসের উপর দাঁড়িয়ে, যা কৃষিকাজকে জিহাদ বা অন্যান্য কাজের চেয়ে নিম্নমানের বলে চিহ্নিত করে, যা মুহাম্মদের কৃষিকাজ অপছন্দের সাথে যুক্ত। এই নিষেধ কোনো প্রমাণভিত্তিক নয়—বরং এটি অন্ধবিশ্বাসের একটা উদাহরণ, যেখানে ‘আল্লাহ ও রসূলের কথা মেনে চলা’কে লাভের উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, যা যুক্তির পরিবর্তে অথরিটারিয়ানিজমকে উৎসাহিত করে। এমন চিন্তা মানুষকে যুক্তিহীন দাসত্বে আবদ্ধ করে, কারণ এটি স্বীকার করে যে প্র্যাকটিসটি কল্যাণকর, কিন্তু তবু তা ত্যাগ করতে বলে শুধুমাত্র একটি দাবীকৃত ঐশ্বরিক নির্দেশের জন্য—যা কোনো প্রমাণ ছাড়াই অন্ধভাবে মেনে নেওয়া।
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.
The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.
This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.
