ইসলামে দাসীদের সাথে সম্মতিহীন আযল(আজল) ও তার কারণ বিশ্লেষণ

ভূমিকা

ইসলামী যুদ্ধবন্দী নারীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিয়ে আধুনিক যুগে এক ধরণের ‘ক্ষমাপ্রার্থনামূলক’ (Apologetic) ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় দাবি করা হয় যে, অভিভাবকহীন অসহায় নারীদের আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁদের বন্দী করা হতো। তবে ধ্রুপদী ইসলামী শাস্ত্র, বিশেষ করে সহিহ হাদিস ও ফিকহ্ শাস্ত্রের পাতায় চোখ রাখলে এক ভিন্ন ও নৃশংস চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে দেখা যায়, যুদ্ধবন্দী নারীদের বন্দী করার প্রধানতম উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের ওপর যৌন আধিপত্য বিস্তার এবং তাঁদের ‘পণ্য’ হিসেবে ব্যবহার করা। এই প্রক্রিয়ার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ‘আযল’ — সঙ্গমের সময় বীর্যপাতের ঠিক আগে লিঙ্গ বের করে বাইরে বীর্যপাত — যাতে বন্দিনী গর্ভবতী না হয়, অথচ যৌন ভোগ ও বিক্রয়মূল্য অটুট থাকে।

সাহাবীদের বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, তারা যুদ্ধবন্দী নারীদের দেহ ভোগ করতে চাইতেন, কিন্তু তাদের গর্ভবতী করতে চাইতেন না—যাতে তাদের বিক্রয়মূল্য বজায় থাকে কিংবা তাদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ধর্ষণের ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকে। আযল সম্পর্কিত হাদিসগুলো বিশ্লেষণ করলে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যুদ্ধবন্দী নারীরা নবীর দলবলের কাছে কেবল যৌন তৃপ্তি এবং অর্থ উপার্জনের মাধ্যম ছাড়া আর কিছুই ছিলেন না। আধুনিক অ্যাপোলজেটিকরা বলেন, ‘বন্দিনীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা’। কিন্তু সহিহ হাদিস ও ফিকহ গ্রন্থ খুললেই দেখা যায় — এই ‘আশ্রয়’ ছিল শুধুমাত্র যৌন দাসত্ব ও বাণিজ্যিক পণ্যের আশ্রয়। সাহাবীরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে, তারা বন্দিনীদের দেহ ভোগ করতে চাইতেন, কিন্তু গর্ভবতী হলে বিক্রি করা যাবে না বলে আযল করতেন। সেই আলোচনা শুরুর পূর্বে আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, ইসলাম কাফের ভূখণ্ডে আক্রমণাত্মক জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের হত্যা করে তাদের নারী ও শিশুদের গনিমতের মাল আখ্যায়িত করাকে বৈধতা দিয়েছে, এবং সেইসব দাসীদের ইচ্ছা বা সম্মতির বালাই না করেই তাদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহারের পরিপূর্ণ অনুমতি দিয়েছে [1] [2]


আযল(আজল) কাকে বলে?

আযল বলতে সহবাসের সময় বীর্যপাতের ঠিক পূর্বমুহূর্তে পুরুষাঙ্গ যোনি থেকে বের করে বাইরে বীর্যপাত ঘটানোকে বোঝায়। এটি মূলত গর্ভধারণ রোধ করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। ইসলামী শরিয়তে এই পদ্ধতির প্রয়োগ ও বৈধতা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা মূলত যুদ্ধবন্দী নারী ও ক্রীতদাসীদের কেন্দ্র করেই আবর্তিত। আসুন প্রখ্যাত আলেম ড আবু বকর যাকারিয়ার একটি বক্তব্য শুনি,


গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় হলো, স্বাধীন স্ত্রীর ক্ষেত্রে আযল করতে হলে তার অনুমতির প্রয়োজন হয়, কারণ সহবাসে তারও অধিকার রয়েছে। কিন্তু ক্রীতদাসী বা যুদ্ধবন্দী নারীর ক্ষেত্রে তার কোনো সম্মতিরই তোয়াক্কা করা হয় না। মালিক চাইলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। সহিহ বুখারীর বর্ণনায় দেখা যায়, সাহাবীরা বানু মুস্তালিকের যুদ্ধে নারী বন্দীদের হস্তগত করার পর নবীর কাছে এই আযল পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন [3]। নবী তাদের এই কাজে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি, বরং বলেছেন যে ইশ্বর যা সৃষ্টি করার তা করবেনই।

ফিকহ শাস্ত্রের আকর গ্রন্থ ‘আশরাফুল হিদায়া’-তে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, মালিক তার ক্রীতদাসীর সাথে সহবাসের সময় অনুমতি ছাড়াই আযল করতে পারবেন। কারণ, স্বাধীন স্ত্রীর মতো সহবাস বা সন্তান লাভে দাসীর কোনো অধিকার নেই। মনিব এখানে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী [4]। ইমাম শাফিঈর মতে তো স্বাধীন স্ত্রীর ক্ষেত্রেও অনুমতির প্রয়োজন নেই, যা প্রমাণ করে যে ইসলামী মতাদর্শে সহবাসের ক্ষেত্রে দাসীদের সম্মতির বিষয়টি কোন গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয় না ।

নবী মুহাম্মদের বুদ্ধিমান সাহাবীগণ বুঝতে পেরেছিল যে, যুদ্ধের পরে যুদ্ধবন্দী নারী কিংবা অন্যান্য সময়ে পাওয়া ক্রীতদাসীদের সাথে যৌনসঙ্গমের মহা উৎসব চালাবার পরে মেয়েগুলো খুব দ্রুত গর্ভবতী হয়ে যেতো। গর্ভবতী হয়ে গেলে সেই মেয়েগুলোকে বাপ ভাই স্বামীর কাছে ফেরত দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা বা বাজারে বিক্রি করা কিংবা তাদের ওপর জিহাদী মুমিনদের চড়ে বসা অপেক্ষাকৃত কষ্টকর। তাই তারা এক প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বন করতো, যাকে বলা হয় আযল। অর্থাৎ, দাসীর সম্মতি ছাড়াই তাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যেতো — গর্ভবতী না করে। এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হলে দীর্ঘদিন ধরে একজন নারীকে ভোগ করা যেতো, ভোগ করার পরে আর ভাল না লাগলে বাজারে নিয়ে উচ্চদামে বিক্রিও করা যেতো, অথবা অন্য একজন সাহাবীর দাসীর সাথে অদল বদল করা যেতো। নবীর কাছে তারা এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাও করেছিল, নবী এই কাজে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ক্রীতদাসীদের সাথে আযল করতে সম্মতির দরকার হয় না। স্বাধীন স্ত্রীর সাথে করতে স্ত্রীর সম্মতির দরকার হয়। আসুন সরাসরি বুখারী শরীফ থেকে দেখে নিই [5]

৩৮৩২ কুতায়বা ইবন সাঈদ (র)
ইন মুহায়রীয (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবূ সাঈদ খুদরী (রা)-কে দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে বসলাম এবং তাকে আযল১ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে বানু মুস্তালিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে খাহেশ হল এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন অবস্থা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াল। তাই আমরা আফ্ল করা পছন্দ করলাম এবং তা করার মনস্থ করলাম। তখন আমরা বলাবলি করতে লাগলাম, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের মাঝে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরূপ না করলে তোমাদের কি ক্ষতি? জেনে রাখ, কিয়ামত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই।
……
১. আযল হল স্ত্রী সঙ্গমকালে বীর্যপাতের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে স্ত্রী যোনি থেকে পুরুষাঙ্গ বের করে এনে বাইরে বীর্যপাত ঘটান। ইমাম আবূ হানীফা (র)-এর মতে বাঁদীর সাথে তার অনুমতি ব্যতিরেকেই এ কাজ জায়েয। তবে আযাদ স্ত্রীর সাথে এ কাজ করতে হলে তার অনুমতি লাগবে। অনুমতি ব্যতীত বৈধ নয়।

আযল

আসুন এই বিষয়টি ফিকাহ শাস্ত্র আশরাফুল হিদায়া থেকে আরো ভালভাবে জেনে নিই [6]

অনুবাদ: ইমাম কুদূরী (র.) বলেন, মালিক তার ক্রীতদাসীর সাথে সহবাসের সময় তার অনুমতি ছাড়া আযল করতে পারবে। অবশ্য তার স্ত্রীর সাথে বিনা অনুমতিতে আযল করা জায়েজ নেই। কেননা রাসূল স্বাধীনা স্ত্রীর সাথে তার অনুমতি ছাড়া আযল করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি একজন দাসীর মালিককে বলেছেন, তুমি ইচ্ছা করলে তার সাথে আযল করতে পার। তাছাড়া সহবাস হলো স্বাধীন স্ত্রীর হক তার কামোত্তেজনা চরিতার্থ করা ও সন্তান লাভকরার উদ্দেশ্যে। আর এ কারণেই স্বামীর লিঙ্গ কর্তিত হলে এবং স্বামী নপুংসক হলে স্ত্রীকে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে সহবাসে দাসীর কোনো হক নেই। অতএব স্বাধীনা স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত তার হক নষ্ট করা যাবে না। অন্যদিকে মনিব দাসীর সাথে আযল করার ব্যাপারে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যদি কারো বিবাহের অধীন অন্যের দাসী থাকে তাহলে তার [সাথে আযলের] কি হুকুম? এ সম্পর্কিত মাসআলা আমরা বিবাহ অধ্যায়ে আলোচনা করেছি।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
قُولُهُ قَالَ : وَيَعْزِلُ عَنْ أُمَتِهِ بِغَيْرِ إِذْنِهَا الحَ : চলমান ইবারতে আযল সম্পর্কিত মাসআলা বর্ণনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আযল )عزل( এক ধরনের সন্তান জন্মরোধ পদ্ধতি। এতে সহবাসকালে যখন বীর্যপাতের সময় ঘনিয়ে আসে তখন পুরুষ তার লিঙ্গ বের করে যোনির বাইরে বীর্যপাত ঘটায়। এটি জায়েজ নাকি জায়েজ নয়? এ সম্পর্কে অন্যস্থানে বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এখানে মূলত আযল করার ব্যাপারে স্ত্রী কিংবা দাসীর অনুমতি লাগবে কি লাগবে না? এ সম্পর্কে মাসআলা বর্ণনা করা হয়েছে।
হিদায়ার মুসান্নিফ (র.) ইমাম কুদূরী (র.)-এর ইবারত উদ্ধৃত করেন যে, তিনি বলেছেন, দাসী-বাঁদির সাথে তার অনুমতি ছাড়াই আযল তথা তার যোনির বাইরে বীর্যপাত করা যাবে। পক্ষান্তরে স্বাধীন স্ত্রীর সাথে তার অনুমতি ছাড়া আযল করা যাবে না।
উভয় মাসআলার দলিল হলো-
ا. لِأَنَّهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ نَهَى عَنِ الْعَزِلِ عَنِ الْحُرَّةِ إِلَّا بِإِذْنِهَا .
অর্থাৎ ‘রাসূল আজাদ স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত তার সাথে আযল করতে নিষেধ করেছেন।’

আযল 1

ইমাম শাফিঈ এর মতে, স্বাধীন স্ত্রীর সাথে আযলেও অনুমতির প্রয়োজন নেই [7]

(১) ইমাম শাফিঈ রহ.-এর মতে স্ত্রী যদি স্বাধীন হয়, তবুও তার সাথে আযল করার জন্য তার অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। কেননা তার মতে মূলত সহবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোনো অধিকার নেই।
(২) ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মতে স্বাধীন স্ত্রী থেকে আযল করতে হলে তার থেকে অনুমতি নেওয়া জরুরি। তা ছাড়া জায়েয নেই। কেননা সহবাস তার মতে স্বাধীন স্ত্রীর অধিকারের অন্যতম এবং সে স্বামীর কাছে প্রাপ্তি তলব করতে পারে। তা ছাড়া হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত আছে,
إِنَّهُ نَهَى أَنْ تُعْزَلَ عَنِ الْحُرَّةِ إِلَّا بِإِذْنِهَا
সাল্লাল্লাছ আলাইহি অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ স্বাধীন স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার থেকে আযল করতে নিষেধ করেছেন। এজন্যই আল্লামা ইবনে আব্দুল বার রহ. এ ব্যাপারে সমস্ত ফকীহদের ঐকমত্য নকল করেছেন।

আযল 3

আসুন এই বিষয়ে মুমিনদের সাথে হওয়া একটি বিতর্ক দেখে নেয়া যাক,


আযল করার মূল কারণঃ দেহ ভোগ ও বাণিজ্যিক স্বার্থ

নবী মুহাম্মদের সাহাবীগণের এই কাজের পেছনে কারণ বিশ্লেষণ করতে হলে আমাদের কিছু হাদিস ও তার ব্যাখ্যা পড়তে হবে। এর আসল উদ্দেশ্য যে ছিল নারী দেহ ভোগ, তা খুব খোলাখুলি ভাবেই হাদিসগুলোতে বলা আছে। আসুন এই হাদিসটি পড়ে নিই, যেখানে এক সাহাবী মুহাম্মদকে এক দাসী সম্পর্কে বলছে, সে এখনো সেই দাসীর বস্ত্র উন্মোচন করি নি! কথাটি নবীর সামনে কত স্বাভাবিকভাবেই না বলছেন এই সাহাবী। আসুন হাদিসটি মন দিয়ে পড়ি [8]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছেদঃ ১৪. নফল (বিশেষ পুরস্কার ও অনুদান) হিসাবে কিছু দেওয়া এবং বন্দীদের বিনিময়ে (আটকে পড়া) মুসলমানদের মুক্ত করা
৪৪২১। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … ইয়াস ইবন সালামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমরা ফাযারা গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের আমীর ছিলেন আবূ বাকর (রাঃ)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন যখন আমাদের এবং (গোত্রের) পানির স্থানের মাঝে এক ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন আবূ বাকর (রাঃ) আমাদেরকে শেষ রাতের অবতরণের (বিশ্রামের) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করলাম। এরপর বিভিন্ন দিক দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালালেন এবং পানি পর্যন্ত পৌছলেন। আর যাদের পেলেন হত্যা করলেন এবং বন্দী করলেন।
আমি লোকদের একটি দলের দিকে দেখছিলাম যাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে। আমি আশংকা করছিলাম যে, তারা হয়তো আমার আগেই পাহাড়ে পৌছে যাবে। অতএব, আমি তাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করলাম। তারা যখন তীর দেখতে পেল থেমে গেল। তখন আমি তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে এলাম। তাদের মাঝে চামড়ার পোশাক পরিহিত বনী ফযরার একজন মহিলাও ছিল এবং তার সঙ্গে ছিল তার এক কন্যা। সে ছিল আরবের সব চাইতে সুন্দরী কন্যা। আমি সকলকেই হাকিয়ে আবূ বকর (রাঃ) এর কাছে নিকট এলাম। আবূ বকর (রাঃ) কন্যাটিকে আমাকে নফল হিসাবে প্রদান করলেন।
এরপর আমি মদিনায় ফিরে এলাম। আমি তখনও তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। পরে বাজারে আমার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেনঃ হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাকে আমার খুবই পছন্দ হয়েছে এবং এখনও আমি তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেনঃ হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। “আল্লাহ তোমার পিতাকে কতই সুপুত্র দান করেছেন।” তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে আপনার জন্যই আল্লাহর কসম! আমি তার বস্ত্র উমোচন করিনি। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কন্যাটিকে মক্কায় পাঠিয়ে দিয়ে তার কয়েকজন মুসলমানের মুক্তির ব্যবস্থা করলেন, যারা মক্কায় বন্দী ছিল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়াহ (রহঃ)

জিহাদিদের উন্মত্ত ধর্ষণ প্রক্রিয়ার ফলে যদি বন্দিনীটির গর্ভসঞ্চার হয় তাহলে কী হবে? অনেক জিহাদিই চাইতো না যে তাদের সেক্স-মেশিনটি তাড়াতাড়ি গর্ভসঞ্চার করে বসুক, সুতরাং তারা আযল করতো। এই প্রথা সম্পর্কে মুহম্মদের মনোভাব ছিল ঘোলাটে, কখনও তাকে এই প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা যায়, কখনও বা তাকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। কিন্তু কোথাও সেই যুদ্ধবন্দিনীকে সাথে সাথে মুক্তি দিতে বলতে দেখা যায় না। সেই যুদ্ধবন্দিনীর সাথে আযল পদ্ধতিতে সেক্স করলো কি করলো না সেটি মহামানব মুহাম্মদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ সেই যুদ্ধবন্দিনীটি মোটেও গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়? নবী এই সাহাবীর যৌন লালসার কথা শুনে কোনো নিন্দা করেননি, বরং নিজে সেই সুন্দরী বন্দিনীকে চেয়ে নেন — যদিও পরে তাকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ব্যবহার করেন।

আসুন নিচের হাদিসটি পড়ি। এখানে দেখা যাচ্ছে, সাফিয়্যা আরেকজন সাহাবীর ভাগে পড়েছিল, যাকে নবী পছন্দ করে নিজে নিয়ে নেন। হাদিসটির বাকি অংশে বর্ণনা করা হচ্ছে, আযল করার কারণ [9] !

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ) হাদিস নম্বরঃ [2088] অধ্যায়ঃ ২৬/ ক্রয় - বিক্রয় (كتاب البيوع) পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন


গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ) হাদিস নম্বরঃ [2088] অধ্যায়ঃ ২৬/ ক্রয় - বিক্রয় (كتاب البيوع) পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বন্দিনী নারীগণ যেন দ্রুত গর্ভবতী না হয়ে যায়, সেই দিকে মুহাম্মদের জিহাদী সৈন্যদের ছিল খুব সজাগ দৃষ্টি। নিচের হাদিসটি পড়ুন [10]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। (২২২৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এখানে স্পষ্ট হয়ে যায় — সাহাবীদের প্রধান চিন্তা ছিল ‘ভোগ + বিক্রি’। গর্ভবতী হলে দাসী ‘উম্মে ওয়ালাদ’ হয়ে যেত, বিক্রি করা যেত না। তাই আযল। নবী এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি, শুধু বলেছেন ‘আল্লাহ যা সৃষ্টি করবেন তা হবেই’। হাদিসটি সরাসরি বই থেকেও দেখে নিই [11]

আযল 7
আযল 9

এই হাদিসের আগের অংশ আগেও বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যুদ্ধে জেতার পরে আল্লাহ রাসুল সকল প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষকে হত্যা করলেন এবং তিনি তাদের সকল নারী এবং শিশুকে বন্দী হিসেবে নিলেন। এবারে আসুন, সহজ নসরুল বারী গ্রন্থে থেকে এই সম্পর্কিত হাদিসের ব্যাখ্যা পড়ে নিই [12]

অর্থাৎ আমরা যদি বাঁদীর সাথে আযল না করি, তাহলে বাঁদী উম্মে ওয়ালাদ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ আমাদের মালের প্রতি মহব্বত আছে। আমরা তাকে বিক্রি করে তার মূল্য দ্বারা উপকৃত হতে চাই। কিন্তু উম্মে ওয়ালাদ হয়ে গেলে তাকে বিক্রয় করতে পারব না। এজন্য আমরা বাঁদীর সাথে আযল করতে চাই। যাতে বাঁদীর গর্ভ সঞ্চার না হয়। সুতরাং এ বিষয়ে আপনি কী বলেন?

আযল 11
আযল 13

সাহাবীরা কেন যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে আযল করতে চাইতেন, তার কারণ হাদিস ও শরহে হাদিসগুলোতে অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এর পেছনে ছিল দুটি প্রধান কারণ:

১. যৌন লালসা চরিতার্থ করা: সাহাবীরা খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেছেন যে, ঘর থেকে দুরে যুদ্ধ করতে এসে স্ত্রীহীন অবস্থায় তাদের মনে নারী লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতো এবং তারা সেই কাফের যুদ্ধ বন্দি নারীদের ভোগ করতে চাইতেন [3]

২. বাণিজ্যিক মূল্য বজায় রাখা: যদি কোনো দাসী গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং সন্তান জন্ম দেন, তবে তিনি ‘উম্মে ওয়ালাদ’ হয়ে যান। ইসলামী আইন অনুযায়ী, উম্মে ওয়ালাদকে বাজারে বিক্রি করা যায় না এবং মালিকের মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীন হয়ে যান। মুজাহিদদের কাছে মালের মহব্বত ছিল প্রবল; তারা চাইতেন সেই নারীদের ভোগ করার পর বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে। যদি নারীটি গর্ভবতী হয়ে যেতেন, তবে তাঁর বিক্রয়মূল্য কমে যেত অথবা তিনি বিক্রয়ের অযোগ্য হয়ে পড়তেন। এই বাণিজ্যিক ক্ষতি এড়াতেই তারা আযল পদ্ধতি অবলম্বন করতেন [13]। একইসাথে, গর্ভ সঞ্চার না হলে তারা সেই দাসীদের অন্য সাহাবীদের দাসীদের সাথে অদল বদলও করতে পারতেন। অর্থাৎ একজন কাফের যুদ্ধবন্দী নারী দলের প্রায় সকলের কাছেই ঘুরে ঘুরে ধর্ষণের শিকার হতো।


যুদ্ধবন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও নবীর ভূমিকা

জিহাদিদের এই উন্মত্ত লালসার উদাহরণ সীরাত ও হাদিসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। একটি বর্ণনায় দেখা যায়, সালামা নামক এক সাহাবী ফাজারা গোত্রের এক সুন্দরী কন্যাকে বন্দী করে আনেন। তিনি নবীর সামনেই গর্ব করে বলছিলেন যে, তিনি এখনো সেই কন্যার ‘বস্ত্র উন্মোচন’ করেননি! নবী তখন সেই নারীকে তাঁর নিজের জন্য চেয়ে নেন এবং পরবর্তীতে বন্দীদের বিনিময়ের জন্য ব্যবহার করেন [14]। আসুন এই প্রসঙ্গে আহমদুল্লাহর একটি বক্তব্য শুনি,

এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে করুণ বিষয় হলো, যে নারীরা যুদ্ধে তাঁদের স্বামী, পিতা ও সন্তানদের হারিয়ে চরম শোকার্ত ও অসহায় অবস্থায় ছিলেন, তাঁদের সাথে সহমর্মিতা দেখানো তো দূরের কথা, বরং তাঁদের কীভাবে গর্ভধারণ ছাড়াই দীর্ঘসময় ভোগ করা যায় এবং পরে বিক্রি করা যায়—সেটিই ছিল নবীর দলবলের প্রধান আলোচনার বিষয়।


উপসংহারঃ নৈতিক দেউলিয়াপনার নির্লজ্জ আস্ফালন

সার্বিক দালিলিক পর্যালোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, আযল সংক্রান্ত এই বিধানগুলো কোনো মানবিক সমস্যার সমাধান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুসংগঠিত যৌন দাসত্বের কাঠামো। যেখানে আধুনিক সভ্যতা যুদ্ধবন্দীদের অধিকার ও সম্মান রক্ষার কথা বলে, সেখানে ধ্রুপদী ইসলামী উৎসগুলো শেখায় কীভাবে বন্দিনীকে স্রেফ একটি পণ্য বা ‘সেক্স-মেশিন’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

যুক্তি ও বিবেকের আলোকে এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, যে নারীকে বন্দী করা হয়েছে, যাঁর পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে, তাঁর সম্মতির কোনো তোয়াক্কা না করে তাঁর ওপর যৌনক্রিয়া চালানো এবং সেই সঙ্গমকে আরও সুবিধাজনক করতে ‘আযল’ করাকে ঐশী বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক নিষ্ঠুরতা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত ধর্মতাত্ত্বিক নৈতিক দেউলিয়াপনা। যে দর্শন নারীকে ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে গণ্য করে তাঁর জঠর ও যৌনতাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানায়, তা আধুনিক মানবিক মূল্যবোধের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং সভ্য সমাজের জন্য এক বিরাট আদর্শিক চ্যালেঞ্জ।


তথ্যসূত্রঃ
  1. ইসলামি জিহাদের লক্ষ্যঃ শিরক নিশ্চিহ্ন না হওয়া অবধি কিয়ামত পর্যন্ত আক্রমণাত্মক জিহাদ-কিতাল চালাতে হবে ↩︎
  2. যুদ্ধে বেসামরিক নারী ও শিশুর ভাগ্যঃ ইসলামে গনিমতের মাল বা লুটপাটের মাল ↩︎
  3. সহিহ বুখারী, হাদিসঃ ৩৮৩২ 1 2
  4. আশরাফুল হিদায়া, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬২৫ ↩︎
  5. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৯, হাদিসঃ ৩৮৩২ ↩︎
  6. আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬২৫ ↩︎
  7. সহজ দরসে ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ২৫৩ ↩︎
  8. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪২১ ↩︎
  9. বুখারী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৯, হাদিসঃ ২০৮৮ ↩︎
  10. সহীহ বুখারী (তাওহীদ), হাদিস নম্বরঃ ৭৪০৯ ↩︎
  11. বুখারী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৪৯, হাদিসঃ ৬৯০৫ ↩︎
  12. সহজ নসরুল বারী, শরহে সহীহ বুখারী, ১১ তম খণ্ড, আরবি-বাংলা, সহজ তরজমা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ উসমান গনী, আল কাউসার প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫০৭, ৫০৮ ↩︎
  13. সহজ নসরুল বারী, ১১ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০৭, ৫০৮ ↩︎
  14. সহীহ মুসলিম, হাদিসঃ ৪৪২১ ↩︎