হযরত হাসানের রঙ্গিন জীবন

নবী মুহাম্মদের নাতী হযরত হাসান ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্লেবয়, যাকে বাংলায় বলে খেলারাম। এই খেলারামের বিবাহ এবং যৌনজীবন এতটাই রঙ্গিন ছিল যে, খোদ তার পিতা পর্যন্ত তার এসব কর্মে বিরক্ত ছিল। এখানে উল্লেখ্য, ইসলামের বিশ্বাস হচ্ছে, নবীর সাহাবীদের সম্পর্কে কোন সমালোচনা করা যাবে না। অর্থাৎ নবীর সাথে সাথে নবীর সাহাবীদের সমালোচনাও নিষিদ্ধ। কিন্তু সমালোচনা নিষিদ্ধ হলে, সত্য জানার পথ তো বন্ধ হয়ে যায়। আর ইসলামের বিশ্বাস যদি এমনই হয়, তাহলে তো সাহাবীদের হাজারো দোষ প্রমাণ হলেও একজন মুসলিম ঈমান হারাবার ভয়ে সেগুলো মানতে চাইবে না। নানা ধরণের অযৌক্তিক কথা বলে অন্ধভাবেই বিশ্বাস করবে যে, এগুলো সত্য নয়। কী অদ্ভুত কথা। আসুন শুরুতেই একটি বক্তব্য শুনে নিই,

ইতিহাসকে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা যেকোন সত্যান্বেষী মানুষের কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু নিরপেক্ষ হওয়ার পথে যদি ইমান এসে বাধা দেয়, তাহলে তো বিপদ। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস গ্রন্থ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে ইমাম হাসান সম্পর্কে বলা আছে, [1]

ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, হযরত হাসান (বা) বহু বিবাহকারী লোক ছিলেন ৷ সবসময় চারজন স্বাধীন মহিলা তার স্ত্রী হিসেবে থাকতেনই ৷ তিনি বহু স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেছেন ৷ কথিত আছে যে, তিনি সর্বমোট ৭০ জন মহিলাকে বিবাহ করেছিলেন ৷ তারা আরো বলেছেন যে, একদিন তিনি তার দু ’জন স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেছিলেন ৷ একজন ছিল বানূ আসাদ গোত্রের অন্যজন বানূ ফাযারা গোত্রের ৷ তারপর তিনি ওদের প্রত্যেককে ১০ হাজার দিরহাম ও কয়েক বোতল মধু প্রদান করেছিলেন ৷ তিনি তার সেবককে বলেছিলেন, ওরা কি মন্তব্য করে তা তুমি মনোযোগ দিয়ে শুনবে ৷ বস্তুত বানূ ফাযাৱা গোত্রের মহিলাটি উপহার পেয়ে বলেছিল, আল্লাহ্ তা জানা হযরত হাসান (রা) কে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন ৷’ সে হযরত হাসান (বা) এর জন্যে আরো দু অ৷ ও কল্যাণ কামনা করেছিল ৷ অন্যদিকে বানূ আসাদ গোত্রের মহিলাটি বলেছিল, “একজন ভালবাসার মানুষের সাথে বিচ্ছেদের মোকাবেলায় নিতাস্তই তুচ্ছ।” তার সেবক ফিরে এসে উভয়ের বত্তল্য জানাল ৷ পরবর্তীতে হযরত হাসান (রা) বানু আসাদ গোত্রের মহিলাটিকে দাম্পত্য জীবনে ফিরিয়ে নিলেন এবং বানূ ফাযারা গোত্রের মহিলাটিকে ত্যাগ করলেন ৷ হযরত আলী (রা) কুফার অধিবাসী লোকদেরকে বলতেন, তোমাদের মহিলাদেরকে হযরত হাসান (রা) এর নিকট বিয়ে দিও না ৷ কারণ সে একজন অতিশয় তালাক দানকারী পুরুষ ৷’ উত্তরে তারা বলত, আমীরুল মুমিনীন ! আল্লাহর কসম ! হযরত হাসান (রা) যদি প্রতিদিন আমাদের মহিলাদেরকে বিয়ে করতে চাইতেন তবে তাদের সকলকে আমরা তার নিকট বিয়ে দিয়ে দিব আর তা শুধু এই উদ্দেশ্যে যে, রাসুলুল্লাহ (সা) এর পরিবারের সাথে যেন আমরা বিবাহ সূত্রে আত্মীয় হতে পারি ৷

হাসান

সেই সাথে, কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, স্বয়ং হযরত আলীও হাসানের এই বিয়ে করার বাতিক নিয়ে বিরক্ত ছিলেন [2]

আবু জাফর (র) বলেছেন যে, হযরত আলী (রা) বলেছেন, হে কুফার অধিৰাসীবৃন্দ! তোমরা তোমাদের কোন মহিলাকে হাসান (রা) এর নিকট বিয়ে দিও না ৷ কারণ সে অধিকহারে স্ত্রীদেকে তালাক দেয় ৷’ তখন হামাযান গোত্রের এক লোক বলল, আল্লাহর কসম ! আমরা অবশ্যই তার নিকট আমাদের মেয়েদেরকে বিয়ে দিব ৷ তারপর যাকে তার রাখতে মন চায়,- রাখবেন আর যাকে ইচ্ছা তালাক দিবেন’ ৷

হাসান 1

উপরের বিবরণে দেখা যায়, ইমাম হাসান সেই ১৪০০ বছর আগেই এক একজন নারী ভোগ করে দশ হাজার দিরহাম দিয়ে বিদায় করে দিতেন। আবার অনেককে দিতেন আরো বেশি। আমরা প্রায়শই শুনতে পাই, নবী মুহাম্মদ এবং তার পরিবার নাকি খুব আর্থিক কষ্টে থাকতেন। তাদের নাকি খাবার মত টাকাপয়সাও ছিল না। অথচ, ইসলামিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, নবীর দৌহিত্র খুবই বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। মেয়েদের পেছনে প্রচুর টাকা ব্যয় করতেন। বিষয়গুলো অদ্ভুত না?

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.

The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.

This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.


তথ্যসূত্রঃ
  1. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২ ↩︎
  2. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৩ ↩︎