আরিফ আজাদের মিথ্যাচারঃ হাজরে আসওয়াদ বিশেষত্বহীন পাথর মাত্র?

আরিফ আজাদ নামক বাংলাদেশের একজন ইসলামি কিতাব লেখক তার কিতাবে লিখেছেন, হজ্বের সময় যেই কালো পাথরকে মুসলিমগণ চুমু খান, সেই হাজরে আসওয়াদ পাথরটি নাকি একটি সাধারণ পাথর মাত্র, যার কোন বিশেষত্ব নেই! মুসলিমরা নাকি জাস্ট সুন্নাহ হিসেবে চুমু দেন, আর কোন কারণে নয়! এমনকি উমরের একটি হাদিস নিয়ে এসে এই কালো পাথরটি কতটা গুরুত্বহীন, সেটিও সে বোঝাতে চাইছে। আরিফ আজাদের এই বক্তব্য, একইসাথে উমরের বলা কথাটিও সরাসরি মুহাম্মদের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। আরিফ আজাদ হয় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা লিখেন, অথবা উনি ইসলাম সম্পর্কে কোন জ্ঞানই রাখেন না। [1]

হাজরে

এবারে আসুন দেখা যাক, এই কালো পাথর নিয়ে মুহাম্মদ কী বলেছে। মুহাম্মদের বক্তব্য হচ্ছে, কিয়ামতের দিনে এই কালো পাথর মানুষের পক্ষে বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে। অর্থাৎ এই কালো পাথরের কিছু না কিছু ক্ষমতা তো অবশ্যই আছে, এবং একে খুশি রাখাও জান্নাতে যাওয়ার জন্য জরুরি [2] [3] [4]

সুনান ইবনু মাজাহ
১৯/ হজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১৯/২৭. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা
২/২৯৪৪। সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে উপস্থিত করা হবে। তার দু‘টি চোখ থাকবে, তা দিয়ে সে দেখবে, যবান থাকবে তা দিয়ে সে কথা বলবে এবং সে এমন লোকের অনুকূলে সাক্ষ্য দিবে যে তাকে সত্যতার সাথে চুমা দিয়েছে।
তিরমিযী ৯৬১, আহমাদ ২২১৬, ২৩৯৪, ২৬৩৮, ২৭৯৩, ৩৫০১, দারেমী ১৮৩৯, মিশকাত ২৫৭৮, আত-তালীক আলা ইবনু খুযাইমাহ ২৭৩৫, ২৭৩৬।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৭/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে
৯৬১। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে বলেছেনঃ আল্লাহর শপথ! এই পাথরকে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। যে লোক সত্য হৃদয়ে একে পর্শ করবে তার সম্বন্ধে এই পাথর আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে সাক্ষ্য দিবে।
— সহীহ, মিশকাত (২৫৭৮), তা’লীকুর রাগীব (২/১২২), তা’লীক আলা ইবনু খুযাইমা (২৭৩৫)
এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

সুনান আদ-দারেমী
৫. হজ্জ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফযীলত
১৮৭৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে আল্লাহ এমন অবস্থায় পুন:উত্থিত করবেন যে, এর দু‘টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সেটি দেখবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সেটি কথা বলবে এবং যে ব্যক্তি তাকে যথাযথভাবে চুম্বন করেছে, সেটি সেই লোকের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।(1)
সালমান (তার বর্ণনায়) বলেন: যে ব্যক্তি তাকে চুম্বন করেছে, তার জন্য (অর্থাৎ ‘যথাযথভাবে’ শব্দটি ব্যতীত)।
(1) তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: [41]
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১১, ৩৭১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০০৫ তে।
এছাড়া, তাবারানী, আল কাবীর ১২/৬৩ নং ১২৪৭৯।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)


এবারে আসুন মিজানুর রহমান আজহারী এবং শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের দুইটি ওয়াজ শুনি,

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


তথ্যসূত্রঃ
  1. আরজ আলী সমীপে, আরিফ আজাদ, পৃষ্ঠা ৯৩ ↩︎
  2. সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ২৯৪৪ ↩︎
  3. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিসঃ ৯৬১ ↩︎
  4. সুনান আদ-দারেমী, হাদিসঃ ১৮৭৬ ↩︎