
Table of Contents
ভূমিকা
যেকোনো ধর্মীয় মতাদর্শের প্রসারে তার কেন্দ্রীয় চরিত্রের অলৌকিক ক্ষমতা বা অতিপ্রাকৃত প্রভাবের বর্ণনা একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। অনুসারীদের মধ্যে নেতার প্রতি ভক্তি ও আনুগত্যকে চরম শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায়শই এমন সব আখ্যানের অবতারণা করা হয়, যেখানে প্রাকৃতিক নিয়ম বা পদার্থবিদ্যার সূত্রসমূহকে উপেক্ষা করে নির্জীব বস্তুর মধ্যে মানবিক আবেগ সঞ্চার করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্যে মিম্বর বা খেজুর কাণ্ডের কান্নার যে বিবরণ পাওয়া যায়, তা মূলত এই ‘হ্যাগিওগ্রাফি’ বা সাধু-জীবনীকে অতি-মানবিকীকরণের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, কোনো আদর্শিক নেতার বিচ্ছেদ বা গুরুত্বের অভাবকে ফুটিয়ে তুলতে ভক্তরা অবচেতনভাবেই তাদের চারপাশের পরিবেশের ওপর নিজেদের আবেগ আরোপ করে থাকে। একে বলা হয় ‘অ্যানিমিস্টিক প্রজেকশন’ বা প্রাণহীন বস্তুতে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা। যখন একজন বক্তা বা নেতা পুরোনো কোনো স্থান পরিবর্তন করে নতুন কাঠামোতে স্থানান্তরিত হন, তখন অনুসারীদের মধ্যে যে একধরণের নস্টালজিয়া বা আবেগীয় শূন্যতা তৈরি হয়, সেটিই কালক্রমে লোকগাথায় রূপান্তরিত হয়ে নির্জীব কাষ্ঠখণ্ডের আর্তনাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় যেখানে শব্দ তৈরির জন্য স্বরযন্ত্র, ফুসফুস এবং বায়ুপ্রবাহের সুনির্দিষ্ট মেকানিজম প্রয়োজন, সেখানে একটি শুকনো কাঠের খণ্ড থেকে প্রাণীর ন্যায় শব্দ আসা জৈবিক ও ভৌতভাবে অসম্ভব। তবুও এই আখ্যানগুলো টিঁকে থাকে মূলত ভক্তির প্রাবল্যে যুক্তিকে বিসর্জন দেওয়ার এক ধরণের সম্মিলিত সামাজিক মনস্তত্ত্বের কারণে।
আখ্যানের উৎস ও ঐতিহাসিক বয়ানের কাঠামো
ঐতিহ্যগত ইসলামী বিবরণে এই ঘটনাটি মূলত লোকজ বর্ণনা ও পরবর্তীকালে সংকলিত হাদিসের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো একটি ঘটনার বর্ণনা যখন দীর্ঘ সময় ধরে মৌখিকভাবে প্রচলিত থাকে, তখন তাতে অতিপ্রাকৃত উপাদান যুক্ত হওয়া বা বর্ণনাকারীর নিজস্ব আবেগের প্রতিফলন ঘটা সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি সাধারণ প্রবণতা। ইবনে কাসীরের বিবরণ অনুযায়ী, উবাই ইব্ন কা’ব সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, মসজিদে নববী যখন প্রাথমিক অবস্থায় ছিল, তখন একটি নির্দিষ্ট খেজুর কাণ্ডকে খুৎবার সময় ব্যবহার করা হতো।
পরবর্তীতে একটি তিন ধাপ বিশিষ্ট কাঠের মিম্বর তৈরি করা হলে সেই কাষ্ঠখণ্ডটি পরিত্যক্ত হয়। বর্ণনাকারীদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে কাষ্ঠখণ্ডটি এমনভাবে শব্দ করতে শুরু করে যাকে ‘আর্তনাদ’ বা ‘বিলাপের’ সাথে তুলনা করা হয়েছে। যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো একটি শুষ্ক কাষ্ঠখণ্ডে আবহাওয়াগত কারণে বা তাপমাত্রার পরিবর্তনে ফাটল ধরলে যে ধরণের শব্দ উৎপন্ন হয়, তাকে ধর্মীয় আবেগে সিক্ত কোনো শ্রোতা বিলাপ বা রোদন হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে উবাই ইব্ন কা’ব বা আনাস ইবনে মালিকের মতো সাহাবীদের বয়ানে যখন বলা হয় যে, সেই কাণ্ডটি ‘সন্তানহারা নারীর ন্যায়’ বা ‘গর্ভবতী উটনীর ন্যায়’ আওয়াজ করছিল, তখন তা ঐতিহাসিক তথ্যের চেয়ে কাব্যিক রূপক হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হয়। এটি মূলত নেতার প্রতি অনুসারীদের তীব্র বিচ্ছেদ-বেদনার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিফলন, যা তারা নির্জীব বস্তুর ওপর আরোপ করেছেন। [1] –
সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি)
ভূমিকা
পরিচ্ছেদঃ ৬. মিম্বারের কান্নার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মানিত করার বিবরণ
৪২. আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর দিনে মসজিদের একটি কাষ্ঠখণ্ডের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে লোকদের মাঝে খুতবা দিতেন। তারপর এক রোম থেকে একজন লোক এসে বলল, আমি আপনার জন্য একটি কিছু বানিয়ে দিব যার উপরে বসলে মনে হবে যেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন? তারপর সে তাঁর জন্যে একটি মিম্বার তৈরী করল, যার (নিচের দিকে) দু’টি ধাপ ছিল, আর (উপরের দিকে) তৃতীয় ধাপে তিনি বসতেন। অতঃপর যখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মিম্বারে বসলেন, তখন কাষ্ঠখণ্ডটি ষাঁড়ের মত আর্তনাদ করতে লাগলো, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শোকে পুরো মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে উঠল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বার হতে নেমে সেটির দিকে আসলেন এবং আর্তনাদরত কাষ্ঠখণ্ডটিকে আলিঙ্গন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটিকে আলিঙ্গন করা মাত্র তা শান্ত হয়ে গেল। তারপর তিনি বলেন: ’সেই মহান সত্ত্বার কসম, যার হাতে রয়েছে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে অবশ্যই তা কিয়ামত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শোকে এভাবে কাঁদতে থাকত।’ এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটিকে দাফন করার নিদের্শ দিলেন, ফলে এটিকে দাফন করে দেয়া হল।[1]
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমদ, ৩/২২৬; তিরমিযী ৩৬৩১; ইবনু মাজাহ ১৪১৫।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
এই হাদিসটি আসুন আরও বিস্তারিতভাবে জানি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থ থেকে, [2] –
রাসূলুল্লাহর প্রতি অনুরাগ এবং তাঁর বিচ্ছেদ বেদনায় খেজুর কাণ্ডের ব্যাকুলতা
এ বিষয়ে একদল সাহাবী থেকে একাধিক সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট অকাট্য প্রমাণরূপে বিবেচিত।
উবাই ইব্ন কা’ব থেকে প্রথম হাদীস
ইমাম শাফিয়ী, ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ, উবাই ইব্ন কা’ব সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, মসজিদে নববী যখন ছাপরা অবস্থায় ছিল তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর গাছের (কর্তিত) কাণ্ড সামনে রেখে নামায পড়তেন এবং খুৎবা প্রদানকালে তার সাথে ঠেস দিতেন। এরপর (একদিন) তাঁর এক সাহাবী বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আপনাকে একটি মিম্বর বানিয়ে দেব যে, জুমু’আর দিন আপনি তার উপরে দাঁড়িয়ে খুৎবা দেবেন আর সকলে ভালোভাবে আপনার খুৎবা শুনতে পাবে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ!”
তখন তাঁর জন্য তিন ধাপ বিশিষ্ট একটি মিম্বর বানানো হলো, যেগুলি সাধারণত মিম্বরে দেখা যায়। তারপর যখন মিম্বর বানানো হলো এবং আল্লাহর রাসূল তাকে যথাস্থানে স্থাপন করলেন, তখন তার উপর দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতে উদ্যত হলেন। এ উদ্দেশ্যে সেদিকে অগ্রসর হওয়ার পথে সেই খেজুর গাছের কাণ্ডকে অতিক্রম করার সময় তা আর্তনাদ করে ফেটে চৌচির হয়ে গেল। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তার আর্তনাদ শুনলেন, তখন তিনি তার গায়ে হাত বুলালেন; এরপর মিম্বরে ফিরে আসলেন।
পরবর্তীতে যখন নতুনভাবে নির্মাণের উদ্দেশ্যে মসজিদে নববী ভেঙে ফেলা হলো, তখন হযরত উবাই ইব্ন কা’ব সেই কাণ্ডটি নিয়ে গেলেন। পরবর্তীকালেও এটা তাঁর কাছে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা জীর্ণ হয়ে যায় এবং তাকে ঘুণে খেয়ে শেষ করে ফেলে। ইমাম আহমদ ইব্ন হাম্বল এভাবেই যাকারিয়্যা ইব্ন আদী, উবাই ইব্ন কা’ব সূত্রে হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন। তাঁর বর্ণনায় রয়েছে: “তখন তিনি তার গায়ে হাত বুলালেন এবং তা শান্ত হলো। তারপর তিনি মিম্বরে ফিরে গেলেন। আর তিনি যখন নামায পড়তেন তখন সেটি তাঁর সামনে থাকত।” এছাড়া হাদীসের অবশিষ্টাংশ পূর্বের মতোই। এছাড়া ইব্ন মাজাহ হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন ইসমাঈল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ও উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন আমর সূত্রে।
হযরত আনাস থেকে দ্বিতীয় হাদীস
হাফিয আবূ ইয়া’লা, আবূ খায়ছামা… আনাস ইব্ন মালিক সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর দিন খুৎবা দেওয়ার সময় মসজিদে রক্ষিত একটি খেজুর কাণ্ডের সাথে হেলান দিতেন। এরপর একদিন জনৈক রোমক এসে তাঁকে বলল, “আমি কি আপনার জন্য এমন একটি উঁচু আসন বানিয়ে দেবো যাতে বসলেও মনে হবে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন?”
তারপর সে তাঁর জন্য দুই ধাপ বিশিষ্ট একটি মিম্বর বানালো যার তৃতীয় ধাপে তিনি বসতেন। এরপর আল্লাহর নবী যখন মিম্বরে বসলেন, তখন সেই খেজুর গাছের কাণ্ড আল্লাহর রাসূলের বিচ্ছেদ বেদনায় গরুর হাম্বা হাম্বা রবের ন্যায় আর্তনাদ করে কেঁপে উঠল। তখন আল্লাহর রাসূল মিম্বর থেকে নেমে তার আর্তনাদরত অবস্থায় তাকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সে থামল। তখন তিনি বললেন, “কসম ঐ সত্তার, যাঁর কুদরতি হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, আমি যদি তাকে জড়িয়ে না ধরতাম তাহলে সে আল্লাহ্র রাসূলের বিচ্ছেদ বেদনায় কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আর্তনাদ করতেই থাকত।” এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে তাকে মাটিতে দাফন করা হলো। আর হাদীসটি ইমাম তিরমিযী মাহমূদ ইব্ন গায়লান ও আমর ইব্ন ইউনুস সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। এরপর তিনি বলেন, এই সূত্রে এটি ‘সহীহ গরীব’।
হযরত আনাস থেকে ভিন্ন একটি সূত্র
হাফিয আবূ বকর আল-বায্যার তাঁর মুসনাদে হুদবা… আনাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুৎবা দিতেন। এরপর যখন মিম্বর বানানো হলো তখন তিনি তাতে স্থানান্তরিত হলেন। তখন এই কাণ্ড থেকে করুণ বিলাপধ্বনি শোনা যেতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে তাকে কোলে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সে থামল। তিনি বললেন, “আমি যদি তাকে কোলে জড়িয়ে না ধরতাম তাহলে সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বিলাপ ও আর্তনাদ করতে থাকত।” এভাবেই ইব্ন মাজাহ হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন আবূ বকর ইব্ন খাল্লাদ সূত্রে… আনাস থেকে এবং হাম্মাদ ইব্ন আম্মার সূত্রে… ইব্ন আব্বাস থেকে।
হযরত আনাস থেকে ভিন্ন আরেকটি সূত্র
ইমাম আহমদ, হাশিম… আনাস ইব্ন মালিক সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জুমু’আর দিন খুৎবা দিতেন তখন তিনি একটি কাষ্ঠখণ্ডে পিঠ ঠেকাতেন। এরপর যখন মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল তখন তিনি বললেন, “আমার জন্য একটি মিম্বর তৈরি করো”—তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সকলকে কথা শোনানো। তখন তাঁর জন্য দুই ধাপ বিশিষ্ট একটি মিম্বর বানানো হলো। এরপর তিনি সেই কাষ্ঠখণ্ডের পরিবর্তে মিম্বরে স্থানান্তরিত হলেন।
হাসান বলেন, আনাস জানিয়েছেন যে, তিনি কাষ্ঠখণ্ডটিকে সন্তানহারা নারীর ন্যায় আর্তনাদ করতে শুনেছেন। আনাস বলেন, তা এভাবে আর্তনাদ করতে থাকল—অবশেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মিম্বর থেকে নামলেন এবং তার কাছে হেঁটে গিয়ে তাকে কোলে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর সে শান্ত হলো। এই সনদে এটা ইমাম আহমদের একক বর্ণনা।
এছাড়া আবুল কাসিম বাগাভী তা রিওয়ায়াত করেছেন শায়বান ইব্ন ফারূখ… আনাস সূত্রে। তিনি অতিরিক্ত এই অংশ উল্লেখ করেছেন: “হযরত হাসান বসরী যখন এই হাদীসখানি রিওয়ায়াত করতেন তখন কেঁদে ফেলতেন। তারপর বলতেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা! নির্জীব কাষ্ঠখণ্ডও আল্লাহর রাসূলের প্রতি অনুরাগে ও ব্যাকুলতায় আর্তনাদ করে আল্লাহ্র কাছে তাঁর মর্যাদার কারণে। তাহলে তোমরাই তাঁর সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত’।” হাফিয আবূ নু’আয়ম তা রিওয়ায়াত করেছেন ওলীদ ইব্ন মুসলিম, আনাস ইব্ন মালিক সূত্রে।
হযরত আনাস থেকে ভিন্ন একটি সূত্র
আবূ নু’আয়ম, আবূ বকর ইব্ন খাল্লাদ… আনাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুৎবা দিতেন। (একদিন) কাণ্ডটি করুণ স্বরে আর্তনাদ করতে লাগল। তখন তিনি তাকে কোলে জড়িয়ে ধরে বললেন, “আমি যদি তাকে কোলে জড়িয়ে না ধরতাম তাহলে সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বিলাপ করতে থাকত।”
তৃতীয় হাদীস: জাবির ইব্ন আবদুল্লাহর সূত্রে
ইমাম আহমদ, ওয়াকী’, জাবির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুৎবা দিতেন। জাবির (রা) বলেন, একদিন এক আনসারী স্ত্রীলোক বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার একটি ছুতোর গোলাম আছে, আমি কি তাকে আপনার জন্য একটি মিম্বর বানিয়ে দিতে বলব, যাতে করে আপনি তাতে আরোহণ করে খুৎবা দিতে পারেন?” তিনি বললেন, “অবশ্যই।” তখন তাঁর জন্য মিম্বর বানানো হলো।
জাবির (রা) বলেন, এরপর জুমু’আর দিন তিনি মিম্বরে আরোহণ করে খুৎবা দিলেন। জাবির বলেন, তখন যে কাণ্ডটির উপর দাঁড়িয়ে ইতিপূর্বে তিনি খুৎবা দিতেন, সেটি ছোট শিশুর ন্যায় কাতরাতে লাগল। তখন নবী করীম (সা) বললেন, “এই কাণ্ডটি তার নিকট শ্রুত ‘যিক্রের’ সংস্পর্শ হারিয়ে কাঁদছে।” ইমাম আহমদ এভাবেই তা রিওয়ায়াত করেছেন।
আর ইমাম বুখারী আবদুল ওয়াহিদ ইব্ন আয়মান সূত্রে জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমু’আর দিন একটি গাছের অথবা খেজুর গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে দাঁড়াতেন। (একদিন) এক আনসারী স্ত্রীলোক বলল (কিংবা পুরুষ লোক), “ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আপনাকে একটি মিম্বর বানিয়ে দেব?” তিনি বললেন, “তোমাদের ইচ্ছা হলে দিতে পার।” তখন তাঁরা তাঁকে একটি মিম্বর বানিয়ে দিল। এরপর জুমু’আর দিন তিনি যখন মিম্বরের দিকে ধাবিত হলেন তখন সেই খেজুর গাছের কাণ্ডটি ছোট শিশুর ন্যায় আর্তনাদ করে উঠল। তারপর তার শিশুর ন্যায় ক্রন্দনরত অবস্থায় নবীজী মিম্বর থেকে নেমে তাকে থামানোর জন্য জড়িয়ে ধরলেন। এ সময় তিনি বললেন, “তার কান্নার কারণ হলো খুৎবার সময় সে আল্লাহ্র যে যিক্র শুনতে পেত তা থেকে বঞ্চিত হওয়া।” এছাড়া ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের একাধিক স্থানে আবদুল ওয়াহিদ ইব্ন আয়মানের হাদীস সংগ্রহ থেকে হযরত জাবিরের বরাতে হাদীসখানি রিওয়ায়াত করেছেন।
হযরত জাবির থেকে ভিন্ন একটি সূত্র
ইমাম বুখারী, ইসমাঈল… আনাস ইব্ন মালিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইব্ন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, মসজিদে নববীর ছাদ প্রথমে কর্তিত খেজুর গাছের কাণ্ডসমূহের খুঁটিতে নির্মিত ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন খুৎবা দিতেন তখন তিনি সেগুলির একটিতে হেলান দিতেন। এরপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর বানানো হলো এবং তিনি তাতে আরোহণ করলেন তখন আমরা পূর্ণগর্ভবতী উটনীর আওয়াজের ন্যায় আওয়াজ শুনলাম। তখন নবী করীম (সা) কাছে এসে তার উপর নিজের হাত রাখলেন, তাতে সে স্থির হলো। এটা বুখারীর একক বর্ণনা।
তাঁর থেকে আরেকটি বর্ণনা সূত্র
আবূ বকর আল-বায্যার বলেন, মুহাম্মদ ইবনুল মুছান্না… জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ সূত্রে বলেন, মসজিদে নববীতে একখণ্ড কাঠ ছিল, যাতে হেলান দিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুৎবা দিতেন। একদিন সকলে বলল, “আপনার দাঁড়ানোর জন্য আমরা যদি কুরসির ন্যায় কিছু বানিয়ে নিতাম তাহলে মনে হয় বেশ হতো।” এরপর তা করা হলো; তখন সেই কাষ্ঠখণ্ডটি দুগ্ধবতী উটনীর ন্যায় আর্তনাদ করতে লাগল। এ সময় নবী করীম (সা) তার কাছে এসে তাকে কোলে জড়িয়ে তার উপর হাত রাখলেন, ফলে তা স্থির হলো। আবূ বকর আল-বায্যার এরপর এই হাদীসের সনদ ও তাতে বিদ্যমান রাবী আবূ কুরায়ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
হযরত জাবির থেকে অন্য একটি সূত্র
ইমাম আহমদ, ইয়াহইয়া ইব্ন আদম… জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি কাষ্ঠখণ্ডে হেলান দিয়ে খুৎবা দিতেন। এরপর যখন তাঁর জন্য মিম্বর বানানো হলো তখন কাষ্ঠখণ্ডটি (দুগ্ধবতী) উটনীর ন্যায় আর্তনাদ করতে লাগল। তখন তিনি এসে তার উপর হাত বুলালেন, ফলে তা থামল। এটা আহমদের একক বর্ণনা।
হযরত জাবির থেকে অন্য একটি সূত্র
হাফিয আবূ বকর আল-বায্যার, মুহাম্মদ ইব্ন মুআম্মার… জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, মিম্বর তৈরি হওয়ার পূর্বে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর গাছের কাণ্ডে হেলান দিয়ে খুৎবা দিতেন। এরপর যখন মিম্বর তৈরি হলো, তখন কাণ্ডটি বেদনায় আর্তনাদ করল। এমনকি আমরা তার আর্তনাদ শুনতে পেলাম। তখন আল্লাহ্র রাসূল তার গায়ে হাত বুলালে সে শান্ত হলো। বায্যার বলেন, সুলায়মান ইব্ন কাছীর ব্যতীত অন্য রাবীদের আমরা জানি না, যারা যুহরীর বরাতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি বলি, এই সনদটি বেশ উৎকৃষ্ট মানের। এর রাবীরা সকলেই বুখারীর শর্তোত্তীর্ণ। আর সিহাহ সিত্তার সংকলকগণের কেউই তা রিওয়ায়াত করেননি। তবে হাফিয আবূ নু’আয়ম…




জৈবিক অসম্ভবতা ও অতিপ্রাকৃত কুসংস্কারের ব্যবচ্ছেদ
একটি মৃত এবং শুষ্ক খেজুর কাষ্ঠখণ্ডের আর্তনাদ করার দাবিটি কেবল অবৈজ্ঞানিকই নয়, বরং এটি মৌলিক জীববিদ্যা ও পদার্থবিজ্ঞানের পরিপন্থী। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, কোনো প্রাণী বা বস্তুর পক্ষ থেকে যান্ত্রিক বা জৈবিক শব্দ উৎপন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় কাঠামোর প্রয়োজন। বিলাপ বা আর্তনাদ জাতীয় শব্দ উৎপন্ন করতে হলে প্রয়োজন একটি কার্যকর ফুসফুস, বায়ু চলাচলের জন্য শ্বাসনালী এবং কম্পন সৃষ্টির জন্য ভোকাল কর্ড বা স্বরযন্ত্র। একটি কোষীয়ভাবে মৃত কাষ্ঠখণ্ডের মধ্যে এসবের কোনোটিই থাকা সম্ভব নয়। এছাড়া, শোক বা বিচ্ছেদ বেদনা অনুভব করার জন্য একটি জটিল স্নায়ুতন্ত্র এবং মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের প্রয়োজন, যা উদ্ভিদের ক্ষেত্রে তো বটেই, একটি কর্তিত মৃত কাষ্ঠখণ্ডের জন্য কল্পনা করাও চরম মূর্খতা।
যৌক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধরণের গল্পগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো মতাদর্শে যুক্তির অভাব দেখা দেয়, তখন সেখানে অলৌকিকত্বের মোড়ক পরিয়ে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা হয়। খেজুর কাণ্ডের এই কথিত ‘হাম্বা হাম্বা’ রব বা আর্তনাদের গল্পটি আসলে প্রাচীন ‘অ্যানিমিজম’ (Animism) বা সর্বপ্রাণবাদের একটি ইসলামিক সংস্করণ, যেখানে পাথর বা কাঠকে মানুষের মতো অনুভূতিশীল মনে করা হতো। আধুনিক যুগে এসেও যারা একটি মৃত কাঠের টুকরোকে মানুষের শোকে কাঁদতে দেখেন, তারা মূলত একটি ‘কনফার্মেশন বায়াস’ বা অন্ধবিশ্বাসের শিকার। তারা যা বিশ্বাস করতে চান, ইন্দ্রিয় দিয়ে তা-ই অনুভব করার ভ্রম তৈরি করেন। এই ধরণের উদ্ভট গালগল্প কেবল মানুষের চিন্তাশক্তিকে পঙ্গু করে দেয় না, বরং তা ধর্মকে একটি যুক্তিহীন এবং হাস্যকর কুসংস্কারে পরিণত করে। যখন দাবি করা হয় যে, হাত বুলানোর মাধ্যমে সেই কাঠের কান্না থেমে গিয়েছিল, তখন তা মধ্যযুগীয় হাতুড়ে চিকিৎসার গল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যা আধুনিক মননশীলতার কাছে চরম হাস্যস্পদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সর্বপ্রাণবাদ ও অতিপ্রাকৃতের বৈশ্বিক পুনরাবৃত্তি: লোকজ সংস্কারের বিবর্তন
নির্জীব বস্তুর মধ্যে মানবিক গুণাবলী আরোপ করার এই প্রবণতা কেবল আরবের মরুভূমিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানব ইতিহাসের প্রাচীনতম কুসংস্কারগুলোর একটি। নৃবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘পারসোনিফিকেশন’ বলা হয়, তার বহিঃপ্রকাশ আমরা প্রাচীন গ্রিক ও নর্ডিক মিথলজিতেও দেখতে পাই, যেখানে গাছপালা কথা বলত কিংবা পাথর মানুষের শোকে অশ্রু বিসর্জন দিত। উদাহরণস্বরূপ, নর্ডিক পুরাণে বালডারের মৃত্যুর পর মহাবিশ্বের প্রতিটি নির্জীব বস্তুকে কাঁদতে বলা হয়েছিল। একইভাবে বৌদ্ধ ও হিন্দু লোকগাথাতেও বুদ্ধের পরিনির্বাণ বা শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধানে প্রকৃতির শোকাতুর হওয়ার বিবরণ পাওয়া যায়। ইসলামের এই কাঠের কান্নার গল্পটি মূলত সেই প্রাচীন কুসংস্কারেরই একটি অবশেষ, যা বিবর্তিত হয়ে নতুন ধর্মীয় মোড়কে উপস্থাপিত হয়েছে।
আধুনিক যুগেও আমরা দেখি, যুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রসারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভণ্ড পীর, ফকির কিংবা ধর্মীয় ‘বাবারা’ নিজেদের আধ্যাত্মিক শক্তি প্রমাণের জন্য একই ধরণের চাতুরীর আশ্রয় নেয়। ভারতের অনেক স্বঘোষিত বাবার অনুসারীরা দাবি করেন যে, তাদের গুরুর স্পর্শে পাথর থেকে মধু বের হয় কিংবা মূর্তির চোখ দিয়ে রক্ত পড়ে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন মাজার ও পীরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এমন অসংখ্য উদ্ভট গল্প প্রচলিত আছে—যেখানে দাবি করা হয় যে, অমুক পীরের বিচ্ছেদে গাছের পাতা ঝরে গেছে কিংবা কোনো মৃত ওলি-আউলিয়ার কবরের পাশে গাছ সেজদা দিচ্ছে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে এই গল্পগুলো তৈরির উদ্দেশ্য একই: অনুসারীদের মধ্যে এক ধরণের ‘কালেক্টিভ হ্যালুসিনেশন’ বা সম্মিলিত বিভ্রম তৈরি করা। যখন একটি গোষ্ঠী অন্ধভাবে কোনো ব্যক্তিকে ঈশ্বরতুল্য মনে করে, তখন তারা তাদের চারপাশের সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনাকেও (যেমন গাছের ডাল নুয়ে পড়া বা কাঠের সংকোচন-প্রসারণজনিত শব্দ) অলৌকিক কেরামতি হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এই ধরণের গালগল্প মূলত ভক্তদের আবেগীয়ভাবে শোষণ করার এবং তাদের যৌক্তিক বিচারবুদ্ধিকে অবশ করে রাখার একটি অত্যন্ত কার্যকর সামাজিক কৌশল।
উপসংহারঃ ভক্তির বিভ্রম ও যুক্তির দায়বদ্ধতা
পরিশেষে বলা যায়, খেজুর কাণ্ডের এই কথিত ক্রন্দন বা বিলাপের আখ্যানটি কোনো বাস্তব ঘটনার বিবরণ নয়, বরং এটি ভক্ত হৃদয়ের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রক্ষেপণ। যখন একজন নেতা বা পথপ্রদর্শক অনুসারীদের হৃদয়ে দেবতার আসনে অধিষ্ঠিত হন, তখন তাঁর সাথে জড়িত প্রতিটি তুচ্ছ বস্তুও ভক্তদের চোখে অতিপ্রাকৃত মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। এই ধরণের ‘হ্যাগিওগ্রাফিক’ বা সাধু-জীবনীমূলক অতিরঞ্জন কেবল ইসলামেই নয়, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রাচীন ধর্ম ও কাল্টের মধ্যেই বিদ্যমান। এগুলো মূলত মানুষের সেই আদিম নস্টালজিয়া এবং প্রিয়জনের বিচ্ছেদে প্রকৃতিকেও অংশীদার করার এক ধরণের আকুলতা থেকে জন্ম নেয়।
তবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক সভ্যতায় দাঁড়িয়ে যখন আমরা এই বিষয়গুলোকে বিচার করি, তখন এগুলোকে নিছক কুসংস্কার বা অলৌকিকত্বের মোড়কে ঢাকা একধরণের গালগল্প ছাড়া অন্য কিছু মনে করার সুযোগ থাকে না। নির্জীব বস্তুকে প্রাণ দান করা বা তার মধ্যে মানবিক আবেগ কল্পনা করা হয়তো সাহিত্যের অলংকার হিসেবে চমৎকার, কিন্তু সত্য এবং তথ্যের মানদণ্ডে তা চরমভাবে ব্যর্থ। যুক্তি ও বিজ্ঞানের এই যুগে আমাদের দায়িত্ব হলো, যেকোনো অতিপ্রাকৃত দাবিকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে তার পেছনের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো অনুসন্ধান করা। আদিম কুসংস্কারকে ঐশ্বরিক সত্য বলে গ্রহণ করা মানে হলো মানুষের তিলে তিলে অর্জিত বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তনকে অস্বীকার করা। সত্য সবসময়ই কঠোর এবং তা কোনো অলৌকিক চমকের ধার ধারে না; বরং তা দাঁড়িয়ে থাকে বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ আর অকাট্য যুক্তির দৃঢ় ভিত্তির ওপর।

About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.
The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.
This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.
