লেখক পরিচিতি
আলি সিনা একজন ইরানি বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান। আলি তার শান্তিময় ইসলামের শিক্ষা পান ইরানে, ইসলামি বিপ্লবের আগে যখন ইরান ছিলো ধর্মনিরপেক্ষ। যদিও ইসলামের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা ভিতরে ভিতরে পোক্ত হচ্ছিলো কিন্তু তখনো উঠে আসে নি। সেই সময় খুব অল্প লোকই ইসলামের আসল চেহারা চিনতো। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের আগে নিজের মধ্য কৈশোরে আলি উচ্চশিক্ষার্থে ইউরোপে পাড়ি জমান। সেখানে শিক্ষা পান বাক-স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক দর্শন সম্পর্কে। মুসলিম মানসে গণতন্ত্র একটি অজ্ঞাত ধারণা, এতটাই অজ্ঞাত যে আরবি এবং মুসলিমদের ব্যবহৃত আরো অনেক ভাষাতেই Democracy শব্দটির কোন যুৎসই প্রতিশব্দ নেই। শব্দই যেহেতু নেই ধারণা করা যায় এটা সম্পর্কে তারা বুঝেও না ভালোভাবে। মুসলিম মানসে সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। জনগণকে ক্ষমতার উৎস বলা শিরকের শামিল।
পশ্চিমা দর্শন পাঠে এবং এই দর্শন কিভাবে ইউরোপের Enlightenment যুগের সূচনা করেছিলো তা বুঝার পরে আলি উপলব্ধি করেন মুসলিম সমাজের দুর্দশার মূলে রয়েছে তাদের চিন্তার পরাধীনতা। তবে শেষ পর্যন্ত কুরআনের আদ্যোপান্ত পাঠে তিনি বুঝতে পারেন মুসলিম দুর্দশার গভীরতর কারণ হচ্ছে ইসলাম নিজেই।
আলি বলেন, কুরআন পড়ে আমি পুরাই হতভম্ব হয়ে যাই। দেখি যে, কুরআন ভরা নৃশংসতা, ঘৃণা, ভুল, বৈজ্ঞানিক অসামঞ্জস্য, গাণিতিক ভুল, কুযুক্তি, ব্যাকরণগত অনিয়ম আর সন্দেহজনক নৈতিকতায়। অস্বীকার, পাপবোধ, সিদ্ধান্তহীনতা, ঘোর কেটে যাওয়া, রাগ এবং হতাশা এইসব পর্যায় পেরিয়ে আমি শেষপর্যন্ত নিজের পাওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নিই যে কুরআন কোন ঐশ্বরিক বাণী নয়। এর অলৌকিকত্ব কেবল গুজবের বেশি কিছু নয় এবং কোন অসুস্থ মস্তিষ্কের কল্পনা এই বইটি। এ ছিলো গভীর ব্যঞ্জনার কোন অনুভূতি থেকে জেগে উঠে দেখা যে সবই ছিলো স্বপ্ন, এইরকম। আরো পড়াশোনার পরে তিনি স্থিরসিদ্ধান্তে পৌঁছান যে মুসলিম বিশ্বের খারাপির মূলে আছে ইসলাম এবং এই ধর্ম মানবতার জন্য একটি বড় হুমকি। তখনি তিনি জিহাদের বিপরীতে তার পাল্টা-জিহাদ চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার বিশ্বাস ইসলামে সংস্কার সম্ভব নয়, কাঁচের মত একে নোয়ানো সম্ভব নয় তবে ভেঙে ফেলা সম্ভব। তিনি বলেন, “ইসলাম হচ্ছে তাসের ঘরের মত, এই ঘর ভাঙার জন্য শুধু যেইসব মিথ্যার উপর ভিত্তি করে ঘরটা দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোকে মোকাবেলা করলেই চলবে। চোরাবালির উপর দাঁড়ানো বিশাল বিল্ডিং এর মতই, ভিত প্রকাশ করে দিলে নিজের ভারেই এটা ধ্বংস হয়ে যাবে।” ইসলামের ভবিষ্যৎ কি? এই প্রশ্নের জবাবে সিনা বলেন, এটা তার জায়গায় ফিরে যাবে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়।
আলি মনে করেন আর মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই ইসলাম একটা সামান্য দুঃস্বপ্নের মতই ফিকে হয়ে আসবে আমাদের স্মৃতিতে এবং আমাদের জীবদ্দশাতেই ঘটবে এই ঘটনা। আলি বলেন, “স্বীকার করতে আপত্তি নেই, এই ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে আমি অনেক দ্বিধায় ভুগেছি, কারণ ভালো করেই জানি অনেকেই এটাকে অবাস্তব এমনকি অতিকল্পনা বলে হেসে উড়িয়ে দেবে। কিন্তু যতই ভাবি ততই আমার মনে হচ্ছে এটাই ঠিক। আজকাল আরো অনেকেই ইসলামের অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু দেখতে পায় সামনে। ইসলামের যেসব সমালোচনা আগে লুকিয়ে চুরিয়ে করতে হতো তা এখন দুনিয়ার সবাই শুনতে পাচ্ছে। আর এইসব সমালোচনা কেবল অমুসলিমদের মধ্যে থেকেই নয় বরং জন্মসূত্রে মুসলিমদের ভিতর থেকেও আসছে। দিন দিন এটাও পরিষ্কার যে মুসলিমরা বা কে কিভাবে ইসলামের ব্যাখ্যা দিলো সেসব কোন সমস্যা নয়, বরং ইসলাম জিনিসটাই সমস্যার গোড়া। ”
আলির বিশ্বাস ইসলামের প্রথম ভুক্তভোগী মুসলিমরা নিজেরাই। “ আমার উদ্দেশ্য শুধু ইসলামের বিপদ সম্পর্কে সবাইকে জানানো নয় বরং মুসলিমদের এথেকে উদ্ধার করাও। আমি তাদের রক্ষা করতে নিজেকে ও দুনিয়াকে ধ্বংস করার পথ থেকে। উদ্ধার করতে চাই ইসলাম নামের মিথ্যার জাল থেকে। তাদের বুঝাতে চাই গোটা মানবজাতি একটা পরিবারের মত, চাই তারা বোধ-বুদ্ধির পথে, মানবতার পথে আসুক, শান্তি এবং উন্নতির জীবনে আসুক। আমি মানবজাতির একাত্ব চাই, নতুন কোন মতবাদ দিয়ে নয়, বরং মানুষের মাঝে ঘৃণার বিষ ছড়ানো প্রধান মতবাদটিকে নগ্ন করে দিয়ে, ধ্বংস করে দিয়ে।”
কোটি কোটি মানুষ ফেইথ ফ্রিডম ডট অর্গের লেখাগুলোর পাঠক। ইসলাম নিয়ে বিপদটা কি এবং কেন কিছু মুসলিম এত বেশি ঘৃণা এবং বর্বরতা পোষণ করে নিজেদের ভিতর এইসব নিয়ে যারা ভাবে তাদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে এই ওয়েবসাইট। ফেইথ ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল পরিণত হয়েছে প্রাক্তন-মুসলিমদের তৃণমূল আন্দোলনে। এর উদ্দেশ্য ইসলামের মুখোশ খুলে দিয়ে দেখানো যে নাৎসিবাদের মতই ইসলাম মূলত ধর্মের খোলসে লুকানো একটি সাম্রাজ্যবাদী মতবাদ এবং মুসলিমদের ইসলাম ত্যাগে সাহায্য করা যাতে তারা তাদের “আমরা” ও “অন্যরা” এই দুইয়ের মধ্যে বিভাজন আর ঘৃণার মূল্যবোধ ত্যাগ করে পুরো মানবজাতির সাথে সৌহার্দের সাথে যোগ দিতে পারে। এ এক নীরব বিশ্বব্যাপী বিপ্লব। প্রতিদিন অনেক নতুন ইসলাম-ত্যাগী বের হয়ে আসছে যারা আবার একই সাথে এই আন্দোলনের সহযোদ্ধাতে পরিণত হচ্ছে। এদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সামান্য জলধারা এখন বিশাল স্রোতে পরিণত। আলির ভাষায়, “এ এক চমৎকার যুদ্ধ, যেখানে পরাজয়ের পর শত্রু হয়ে উঠে বন্ধু এবং প্রধান মিত্র।”
আলি সিনা একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী এবং একক ফেডারেল বিশ্ব ব্যবস্থার সমর্থক।
