সূচনা

৯/১১ আক্রমণের পর এক পাগলপ্রায় আমেরিকার মা আমাকে তার দুঃখের কাহিনী বলছিলেন, যে তার ২৩ বছর বয়সী ছেলে ১৪ বছর বয়সের সময় ইসলামে দীক্ষা নিয়েছে। বিয়ে করেছে এক অদেখা মুসলিম মেয়েকে, তার ঈমামের আয়োজনে। এখন এই এক বাচ্চার বাবা বলছে আফগানিস্তানে গিয়ে তালেবানদের পক্ষে যুদ্ধ করে শহিদ হতে চায়। বছর কয়েক আগে সে বলেছিলো ইসলামি হুকুমত কায়েম হয়ে গেলে যদি সব কাফেরদের হত্যার নির্দেশ আসে তাহলে সে নিজের মা’কে খুন করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না
শিক্ষিত বুদ্ধিদীপ্ত ২৫ বছর বয়েসি, পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত সাইমা নাযির ছুরিকাঘাতে খুন হন নিজ পরিবারের লোকদের দ্বারা। পিত্রালয়ে নিজের ৩০ বছর বয়েসি ভাই আর ১৭ বছর বয়েসি কাজিন তার গলায় ছুরি চালায়। অনেকের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পছন্দমত এক নিচু বংশের আফগানকে ভালোবেসে পরিবারের সম্মানে কালিমা দেয়া ছিলো তার অপরাধ(!)। ২০০৫ এর এপ্রিলে বাড়িতে(পাকিস্তানে) ডেকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা মিলেই এই কাজ ঘটায়। এক প্রতিবেশি তাকে পালানোর চেষ্টা করতে দেখেন, কিন্তু চুলের মুঠি ধরে ঘরে টেনে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় তার নিজ পিতা। “তুমি আর আমার মা নও” এই চিৎকার শুনে সেই প্রতিবেশি ধারণা করেন যে এই কুকর্মে মেয়েটির মা’ও জড়িত ছিলো। তার ২ এবং ৪ বছর বয়েসি ভাতিজিদেরও এই ঘটনা দেখতে বাধ্য করা হয়। বাচ্চাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ দেখে ধারণা করা যায় তাদের মাত্র কয়েকফুট দূরত্বের মধেই ঘটে এই বর্বর হত্যাকাণ্ড। এই পরিবার ছিলো স্বচ্ছল এবং উচ্চশিক্ষিত।
মুহাম্মদ আলি আল আয়াদ নামে ২৩ বছর বয়স্ক এক ছৌদি কোটিপতির আমেরিকা নিবাসী ছেলে ২০০৩ এর অগাস্টের এক সন্ধ্যায় তার মরক্কান ইহুদি বন্ধু সেলুক কে দেখা করার জন্য ডেকে আনে। দুজনে বারে মদ খেয়ে মধ্যরাতে আলি আল আয়াদের এপার্টমেন্টে ফিরে আসে। সেখানে আলি আয়াদ ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে তার ইহুদি বন্ধুকে এবং ধড় থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে তার মাথা। পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে আলি আয়াদের রুমমেট বর্ণনা করে হত্যার আগে দুজনের মধ্যে কোন তর্ক বিতর্ক হয়নি। আয়াদের আইনজীবী এই ঠান্ডা মাথার খুনের কারণ হিসাবে বলেন, “ধর্মীয় মতপার্থক্য”
ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে পাশ করা ২৫ বছর বয়েসি মুহাম্মদ তাহেরি আযার। ২০০৬ এর মার্চে এক দিনে সে একটি এস ইউ ভি ভাড়া করে ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে ঢুকে। তারপর আচমকা গতি বাড়িয়ে গাড়িটিকে নিয়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে। উদ্দেশ্য যত বেশি পারা যায় খুন করা। থামার আগে সে নয়জনকে আঘাত করে যার মধ্যে ছয়জন আহত হয়।
করাচি নিবাসী হিন্দু দম্পতি সানাও মেনঘোয়ার এবং তার স্ত্রী একদিন সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে দেখেন তার তিন মেয়ে বাড়িতে নেই। ২০০৫ এর নভেম্বরের ঘটনা। দুইদিন পাগলের মত খোঁজার পরে তারা জানতে পারেন তাদের তিন কন্যাকে অপহরণের পর জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ তিন মুসলিম তরুণকে অপরাধের সাথে যুক্ত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার করে, কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। মেনঘোয়ার দম্পতির মেয়েরা এখনো নিখোঁজ।
করাচির এক হিন্দু বাসিন্দা লালজি বলেন, “ হিন্দু মেয়েদের এ ধরনের অপহরণ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপহরণের পর তারা ইসলামে দীক্ষা নিয়েছে এই মর্মে স্ট্যাম্প কাগজে জোরপূর্বক সই নেয়া হয় তাদের কাছ থেকে। ” তিনি আরো বলেন হিন্দুরা এমনকি তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ভয় পায়, নির্যাতনের ভয়।
পাকিস্তানের অনেক হিন্দু মেয়ের ভাগ্যেই এইসব জোটে। অপহরণের পর জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তর এবং তার পর কোন মুসলিম পুরুষের সাথে বিয়ে দেয়া হয় এদের। বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে দেয়া হয় না আর। “ মুসলিম আওরাত কেন কাফিরদের সাথে থাকবে বা যোগাযোগ রাখবে?” প্রশ্ন মৌলভি আযিযের। এ ধরনের আরেকটি ঘটনায় আদালতে অপহরণকারীর পক্ষে বলতে গিয়ে এই প্রশ্ন রাখেন মৌলভি।
কোন হিন্দু মেয়ের ধর্মান্তরের খবরে শত শত লোক ধর্মীয় শ্লোগান দিতে রাস্তায় নেমে আসে। কর্তৃপক্ষের বধির কানে বাবা মায়ের কান্নার শব্দ যায় না। এইসব অভাগীদের এরপর হুমকির উপর রাখা হয় যে ইসলাম ত্যাগ করলে তাদের মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ভোগ করতে হবে। প্রায়ই আইনজীবীরা মৌলবাদীদের হামলার ভয়ে এ ধরনের মামলা লড়তে চান না।
২০০৫ এর অক্টোবরে তিন খ্রিস্টান মেয়ে কোকোয়া ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ইসলামি মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এরা ছিলো একটি খ্রিস্টান প্রাইভেট স্কুলের ছাত্রী। মুসলিমদের এক দল এদের আক্রমণ এবং শিরোচ্ছেদ করে। পুলিশ তাদের ধড় এবং মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় খুঁজে পায়। একটি মাথা রেখে আসা হয়েছিলো চার্চের আঙিনায়। মুসলিম মৌলবাদীদের লক্ষ্য সুলাওয়াসি প্রদেশ। তাদের ধারণা সেখান থেকে শুরু করেই তারা পুরো ইন্দোনেশিয়াব্যাপী ইসলামি হুকুমত কায়েম করতে পারবে। ২০০১ এবং ২০০২ সালে এ প্রদেশে মুসলিম মৌলবাদীরা একযোগে খ্রিস্টানদের উপর হামলা চালায়। গোটা ইন্দোনেশিয়া থেকে মুসলিমরা জড়ো হয় এই উদ্দেশ্য। দুবছরে তারা হত্যা করে প্রায় ১০০০ খ্রিস্টানকে।
Muriel Degauque ৩৮ বছর বয়েসি বেলজিয়ান নারী। ছোটকাল থেকে তাকে চিনতেন এমন এক প্রতিবেশির বর্ণনায় খুব সাধারণ মেয়ে। শীতে তুষার পড়া শুরু হলে স্লেজ চড়তে যেতো। এই নারী এক মুসলিমকে বিয়ে করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেয়। পরবর্তীতে সে তার স্বামীর সাথে সিরিয়া হয়ে ইরাকে চলে যায়। সেখানে গায়ে বোমা বেঁধে ইরাকি পুলিশের প্যাট্রোল বহরের উপর আত্মঘাতী হামলা চালায় সে। হামলায় ৫ জন পুলিশ তৎক্ষণাৎ নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরো একজন পুলিশ অফিসার এবং চারজন সাধারণ পথচারী।
এই হামলাগুলো সবই অস্বাভাবিক পাগলামি। কিন্তু যারা ঘটিয়েছে এইসব তাদের কেউই পাগল ছিলো না। এরা সবাই “পুরোপুরি স্বাভাবিক” মানুষই ছিলো। এইসব ঘৃনিত কাজে কিসে তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিলো? উত্তর হলো ইসলাম। ইসলামি বিশ্বে এইসব নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। মুসলিমরা সর্বত্রই কে কি বিশ্বাস করলো এই নিয়ে খুন খারাবিতে ব্যস্ত।
কেন? কেন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এমন পৈশাচিক কাজ করে? কেন জাতি হিসাবে মুসলিমরা অন্যদের উপর এতই চ্যাতা আর গোটা দুনিয়ার সাথে এতই শত্রুমনস্কতা পোষণ করে যে খুব সহজেই এরা সহিংসতার পথ বেছে নেয়? মুহাম্মদকে নিয়ে সামান্য কোন কথা বললেই দুনিয়ার মুসলিমরা সর্বত্র দাঙ্গা হাঙামা আর সাধারণ মানুষের উপর হত্যাযজ্ঞে নেমে যায়। এইসব কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের কাজ হতে পারে না। কিন্তু এই কাজগুলো যারা করছে তারা সবাই সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। এই রহস্যের সমাধান কি?
এ রহস্য বুঝতে হলে আমাদের আগে বুঝতে হবে যে মুসলিমরা মুহাম্মদের মত হতে এবং তার মত চিন্তা করতে চায়। যার ফলে তাদের অভিব্যক্তি, বিশ্বাস, চিন্তা এবং কার্যকলাপে মূলত মুহাম্মদের ব্যক্তিত্ব এবং মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে। ইসলামে যেহেতু মুহাম্মদ ই হচ্ছে ন্যায়নীতির মাপকাঠি, এটাই স্বাভাবিক যে তার অনুসারীরা ন্যায়নীতিবান হবার জন্য তাকে সরাসরি অনুকরণ করবে। ফলাফল, মুসলিম জাতি মুহাম্মদের খোলসে নিজেকে সাজাতে গিয়ে নিজেদের ভুলে যায়। মানবজাতির অন্যদের থেকে দূরে সরে যায় এবং নিজেদের স্বকীয়তার বিশাল অংশই হারিয়ে ফেলে। মুহাম্মদের আত্মপ্রেমী ফানুসের জগতে বাস করতে করতে, তার অনুকরণ করতে করতে একেকজন হয়ে উঠে মুহাম্মদেরই একেকটি বর্ধিতাংশ। ইসলাম নামের গাছের কুঁড়ি হলো মুসলিমরা যার মূল হলো মুহাম্মদ। তাদের চরিত্র, অভিব্যক্তি, চিন্তাধারা সবই মুহাম্মদের মত। বলতে গেলে সব মুসলিম আসলে মুহাম্মদের একটি ক্ষুদ্র রুপের মত। তাদের কাছে সে হচ্ছে সৃষ্টির সেরা, নিখুঁত মানব আর সর্বোচ্চ অনুকরণীয় আদর্শ। তাদের বিশ্বাস মুহাম্মদ যদি কিছু করে থাকে, সেটা যতই শোচনীয় হোক না কেন, তা-ই সঠিক। কোন প্রশ্ন নাই এবং কোনো প্রকার বাছবিচার চলবে না এইক্ষেত্রে।
আলোচনার বিষয় হিসাবে মুহাম্মদকে এড়িয়ে চলতে চায় বেশিরভাগ মানুষ। নবীর সামান্য অসম্মানে মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। যেকোনোো মন্তব্য সেটা যতই তুচ্ছ হোক না কেন ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিক্ষোভ। যদিও মুহাম্মদের অনুসারীদের সমালোচনায় মুসলিমরা তেমন কিছু মনে করে না, কিন্তু মুহাম্মদের নিজের কোন সমালোচনা তারা সহ্য করে না। এমনকি আল্লাহর সমালোচনা করেও পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব কিন্তু মুহাম্মদের সমালোচনা করে সম্ভব নয়।
মৃত্যুর শত শত বছর পরে কারো মানসিক অবস্থার পুরোপুরি বিস্তারিত বর্ণনা তৈরি করা অসম্ভব। তবে আমার উদ্দেশ্য এখানে প্রেসক্রিপশন দেয়া নয়, বরং দ্বীনের নবিকে গভীরভাবে বুঝা। মুহাম্মদের জীবন ও বাণী নিয়ে বিস্তারিতভাবে সংকলিত প্রচুর পরিমাণ তথ্য আছে। এইসব বর্ণনার বেশিরভাগই ফুলানো ফাঁপানো এবং অতিরঞ্জিত। বিশ্বাসীরা তাদের নবীকে নিয়ে অতিরঞ্জিত গালগল্প ছড়াবে, মোজেজার কাহিনী বানাবে, তাকে সাধু সন্তের পর্যায়ে নিয়ে যাবে এই-ই স্বাভাবিক। তবে, মুহাম্মদের জীবনে আমরা এমন কিছু বর্ণনা পাই যেগুলো থেকে তার পবিত্র ছবির বদলে বরং হিংস্র, বেপরোয়া, ধূর্ত এমনকি যৌনবিকৃত একজনের ছবিই ভেসে আসে। নিজেদের নবীর নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার কোন কারণ নেই বিশ্বাসীদের। যারা তার সাথী ছিলো যারা তাকে পছন্দ করতো তাদের কাছ থেকেই যেহেতু এ ধরনের তথ্য আছে বিপুল পরিমাণে, অতএব এ ধরনের বর্ণনাগুলো সত্য হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।
যেসব হাদিস বিভিন্ন জনের জবানীতে বার বার এসেছে সেগুলোকে বলা হয় “মুতাওয়াত্তির”। এই হাদিসগুলো নানান জবানীতে অনেকগুলো সূত্র থেকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন অঞ্চল এবং মানসিকতার এতগুলো লোক একত্র হয়ে কিছু মিথ্যা বানিয়ে নবীর নামে ছড়াবে একথা অনেকটাই অসম্ভব।
এই গল্পগুলো যেগুলোকে হাদিস বলা হয় এবং মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর পরম বাণী কুরআনের সাহায্যে আমরা চেষ্টা করবো মুহাম্মদের মনের ভিতরে উঁকি দেয়ার জন্য আর বুঝার চেষ্টা করবে সে যা করেছিলো তা কেনো করেছিলো। বেশ কিছু মনোবিজ্ঞানী এবং মনোচিকিৎসকের মতামত ও তত্ত্ব উপস্থাপন করে আমি সেগুলোর সাথে মুহাম্মদ যা যা করেছিলো তার যোগসূত্র মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। যেসব বিশেষজ্ঞের কথা আমি ব্যবহার করতে যাচ্ছি এরা সবাই দক্ষ এবং পেশাদার মনোসমীক্ষক। তাদের বর্ণনার বেশিরভাগ অংশই এখন সাধারণ জ্ঞান বলে বিবেচিত এবং এই পেশার বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞই এসব তত্ত্ব ও মতামতের সাথে সম্মত।
এই বই যতটা না ১৪০০ বছর আগের একজন মানুষের মনোসমীক্ষণের চেষ্টা, তার চাইতে বেশি হলো তার রহস্য উম্মোচনের চেষ্টা। যারা মুহাম্মদের গালগল্পে বিশ্বাস করে সেগুলোকে যৌক্তিকভাবে যাচাই করতে চায় না তাদের কাছে মুহাম্মদ এক বিশাল হেঁয়ালির নাম। তার কাজকারবার খুবেকটা সুবিধার ছিলো না কিন্তু যতটুকু বুঝা যায় তা থেকে মনে হয় সে নিজে তার যৌক্তিকতায় সৎভাবেই বিশ্বাস করতো। এত বিদ্বেষপূর্ণ, বেপরোয়া আর এবং বিবেকবর্জিত একজন মানুষ কিভাবে শুধু তার সঙীসাথীরা নয় বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোটি কোটি মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পারে।
মিখায়েল হার্ট তার “পৃথিবীর ইতিহাসে সবচে প্রভাবশালী ১০০ জন” বইয়ে মুহাম্মদকে রেখেছেন সবার প্রথমে। তার পরে ছিলেন আইজাক নিউটন, জেসাস, গৌতম বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, সেইন্ট পল প্রমুখ। হার্টের বইয়ে অবশ্য এই প্রভাবশালীদের প্রভাব কি সুপ্রভাব না কুপ্রভাব এই বিষয়ে কোন বাছবিচার নেই। কারণ তার তালিকায় অনেক অত্যাচারীর নাম ও আছে, যেমন, এডলফ হিটলার, জোসেফ স্তালিন, মাও সে তুং। এই তালিকায় এমনকি নিকোলো ম্যাকিয়াভ্যালির নামও আছে। কিভাবে মুহাম্মদের মত এমন মানবতা-বিবর্জিত একজন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়? এই বইয়ে আমরা দেখবো কিভাবে এই প্রশ্নের উত্তর মূলত মুহাম্মদ কি ছিলো তার চাইতে মানব মনের কার্যপ্রণালী কেমন তার উপর বেশি নির্ভর করে।
ইসলামের মত আর কোন মতবাদ নিয়ে এত বেশি রক্তপাত হয় নি। কিছু কিছু ঐতিহাসিকের মতে ইসলামের তরবারী দিয়ে কেবল ভারতবর্ষেই গণহত্যার স্বীকার হন ৮ কোটি মানুষ। এছাড়াও পারস্য, মিশর এবং আরো যেসব দেশে লুটতরাজ মুসলিমরা হামলা চালিয়েছিলো সেখানেও হত্যার স্বীকার হন কোটি কোটি মানুষ। ইসলাম যখন ঐসব দেশে প্রথম প্রবেশ করে তখনও এবং তার শত শত বছর পরেও। এই রক্তপাত এখনো থামেনি।
মুসলিমরা মাঝে মাঝে গাল বড় করে বলে, “তোমরা জীবনকে যতটা ভালোবাসো, আমরা মৃত্যুকে ভালোবাসি তার চাইতেও বেশি।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলা করে তারা এই কথা প্রমাণ করে চলেছে। একজন লোক কিভাবে এতগুলোর লোকের উপর এমন প্রভাব ফেলতে পারে যে তারা তার জন্য হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করে এমনকি নিজেদের সন্তান সন্ততিকেও তার জন্য উৎসর্গ করতে দ্বিধা করে না। কেন বর্তমান দুনিয়ার নব্বই সংঘাতের সাথে কোন না কোনভাবে মুসলিমরা জড়িত, অথচ গোটা দুনিয়া জনসংখ্যার মাত্র শতকরা ২০ ভাগ মুসলিম। পরিসংখ্যানের হিসাব নিকাশ অনুযায়ী এর অর্থ দাঁড়ায় জাতি হিসেবে অন্য যেকোনোো ধর্মের লোকদের চাইতে দ্বন্দ নিরসনে সহিংসতায় জড়ানোর সম্ভাবনা ৩৬ গুণ বেশি মুসলিমদের। এ এক বিশাল পার্থক্য যেখানে মুসলিমদের ধারে কাছেও কেউ নেই। কিভাবে সম্ভব এটা?
এই রহস্য সমাধানে এই বইয়ে দুইটি তত্ত্ব পাওয়া যাবে। প্রথমটি হচ্ছে মুহাম্মদ অসুস্থ আত্মপ্রেম রোগে ভুগতো, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে টেমপোরাল লোবের ঝামেলার কারণে সৃষ্ট মৃগীরোগে ভুগতো সে। আরো অনেক ধরণের মানসিক অসুস্থতার কথা অনুমান করা যায় বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা থেকে। তবে এই দুটি রোগের মাধ্যমেই মুহাম্মদের পুরো জীবনীর ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। প্রচুর পরিমাণের তথ্যপ্রমাণ দিয়ে এই বইয়ে প্রমাণ করা হবে যে মুহাম্মদ ছিলো মানসিক রোগী। যদিও সে তার নিজের সত্যতায় বিশ্বাস করতো এবং নিজের দাবীর প্রতি নিজে সৎ ছিলো, কিন্তু সে মূলত সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতো না। তার সমসাময়িক অনেকে যারা তাকে ভালোভাবে চিনতো তারা তাকে বলতো ‘মজনুন’, অর্থাৎ পাগল, অপ্রকৃতিস্থ বা জ্বীনে ধরা। দুর্ভাগ্যক্রমে মুহাম্মদের বিপুল দাপটের মুখে তারা হার মানতে বাধ্য হন এবং তাদের স্থিতধী কথাবার্তাকে থামিয়ে দেয়া হয়। মানব মস্তিষ্ক নিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কার সেইসব লোকেদের কথাকে নবজীবন দিয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে অসুস্থ আত্মপ্রেমী রোগী খুব ভালোভাবেই জানে সে মিথ্যা বলছে, কিন্তু তবু সে নিজেই প্রথম তার নিজের মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে।
বাজারে মুহাম্মদের সমালোচনা করা অনেক বই আছে যেগুলোতে তার হিংস্রতা এবং বিকৃত চরিত্রের বর্ণনা পাওয়া যাবে, কিন্তু খুব কম বই-ই আছে যেগুলোতে তার মনের ভিতর কি হচ্ছিলো সে কথা জানা যাবে। এই বই ঠিক সে জিনিসই বর্ণনা করতে চায়।
যদিও এই বইতে মুসলিমদের কোন আহ্বান করা হয়নি, তবুও আমি মূলত তাদের উদ্দেশ্যে বইটি লিখেছি। পারসিয়ান সেই প্রবাদের মত, দুয়ারকে বলে গেলাম যাতে দেয়াল শুনতে পায়। মুহাম্মদের লুটতরাজ, গণহত্যা, ডাকাতি, শিশুকাম, গুপ্তহত্যা, নারীখাদক লালসা এইসব নিয়ে যথেষ্ট বলা হয়ে গেছে। মুসলিমরা এর সবই শুনে কিন্তু কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়া মুহাম্মদের উপর বিশ্বাস অটল রাখে। উদ্ভটভাবে কেউ কেউ আবার দাবী করে ইন্টারনেটে আমার প্রবন্ধ পড়ে তাদের ইসলামে বিশ্বাস নাকি আরো মজবুত হয়েছে। তারা মুহাম্মদকে অতিমানব হিসাবে মেনে নিয়েছে এবং বিশ্বাস করে মুহাম্মদ হচ্চে রাহমাতুল্লিল আলামিন, দুনিয়ার উপর আল্লাহর রহমত। মানুষের নৈতিকতার মানদন্ড ও বিবেক দিয়ে তারা মুহাম্মদকে বিচার করে না, বরং বিশ্বাস করে সে নিজেই নৈতিকতা মানদন্ড। সত্য-মিথ্যা, ভালো-খারাপের বিচারে তারা গোল্ডেন রুল ব্যবহার করে না। আসলে গোল্ডেন রুলের ধারণাই তাদের চেতনার সাথে যায় না। তারা বরং হালাল-হারামের সংজ্ঞা দিয়ে ভালো-খারাপের পার্থক্য করতে চায়, যা মূলত কিছু উদ্ভট খামখেয়ালিপূর্ণ নিয়ম; নীতি নৈতিকতা, যুক্তির জগতের সাথে যার কোন সম্পর্ক নাই। মুসলিমরা সত্যিকারভাবেই ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন করতে অক্ষম। যেকোনোো সন্দেহ তার কোনো প্রকার চিন্তা ছাড়াই উড়িয়ে দেয় আর যেসব জিনিস তাদের মানতে কষ্ট হয় সেগুলোকে ধরে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈমানের পরীক্ষা হিসাবে। এই পরীক্ষায় পাশ করতে হলে যত আজগুবি আর অর্থহীন জিনিস আছে সবকিছুকে প্রশ্নহীনভাবে মেনে নিতে হবে।
