বিষয়সার
১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ এর পরে বিশ্বব্যাপী মোটামুটি ১২ হাজারের মতো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ হতাহত হয়। এসবের পরিচালক সন্ত্রাসীরা কোন দেও-দানব না বরং নিজেদের বিশ্বাস অনুসারে জীবন চালানো মুসলিমই ছিলো। এমন আরো লাখ লাখ আছে যারা সুযোগ পেলেই এ ধরনের কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
কেউ যদি মনে করে ইসলামি সন্ত্রাস নতুন কোন ঘটনা তাহলে আবার ভালো করে ভাবার দরকার আছে তার। ইসলামের সাফল্যই মূলত সন্ত্রাসের অবদান। মুহাম্মদ যেদিন মদিনায় প্রথম পা দেয়, সেদিন থেকেই তার সন্ত্রাস অভিযানের শুরু। সেই থেকে তার অনুসারীরাও একই কাজ করে আসছে।
মুসলিম জাতি অসহিষ্ণু, নাক-উঁচু, অত্যাচারী এবং হিংস্র। বিরোধিতার মুখে বা অন্যের চাইতে আলাদা সুযোগ এবং সম্মান না দিতে চাইলে তাদের ভিতরের এইসব গুণ বিস্ফোরিত হওয়া শুরু করে। অথচ একই সাথে অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপর অত্যাচার করা বা তাদের অধিকার কেড়ে নেয়াতে তাদের জুড়ি নেই।
মুসলিমদের বুঝতে হলে সবার আগে তাদের নবীকে বোঝা দরকার। স্বীকার করতে না চাইলেও মুসলিমরা মূলতমুহাম্মদকেই পূজা করে এবং অন্য যেকোনোো কিছুর চাইতে বেশি মূল্য দেয়। ইসলাম মূলত মুহাম্মদবাদ (পুঁজিবাদ, সমাজবাদ এর মত)। মুহাম্মদকে বুঝার মাধ্যমেই বুঝা সম্ভব, কি জিনিস মুসলিমদের আচরণকে ট্রিগার করে।
“আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ ”,আল্লাহর নবীর মানসিক জীবনবৃত্তান্ত। এই লোকের রহস্য ভেদ করার চেষ্টাই এই বইয়ের উদ্দেশ্য। ইতিহাস থেকে জানা যায় মুহাম্মদ দিনের পর দিন গুহার মধ্যে একাকী ধ্যানে ডুবে থাকতো। ঘণ্টাধ্বনি শোনা এবং ভৌতিক স্বপ্ন দেখার কথাও শোনা যায়। তার ধারণা ছিলো তার উপর প্রেত ভর করেছে। খাদিজা তাকে আশ্বস্ত করে যে সে আসলে নবুয়ত পেয়েছে। নবুয়তের এই নিশ্চিত বিশ্বাস পেয়ে, সে অবিশ্বাসীদের উপর ভয়ংকর ক্রোধান্বিত হয়, সমালোচকদের হত্যা করে, আর লুটপাট এবং গণহত্যা চালায় অনেক গোত্রের উপর। হাজার হাজার লোকের দাসত্ব, ধর্ষণের জন্য দায়ী এই লোক, তার অনুসারীদের অনুমতি দেয় নারী যুদ্ধবন্দীদের ধর্ষণের। এই সমস্তই সে স্থিরচিত্তে এবং নিজের অধিকার মনে করেই করেছিলো।
যারা তাকে বিশ্বাস করতো তাদের প্রতি সে দয়ালু এবং উদার থাকলেও অবিশ্বাসীদের প্রতি ছিলো কঠোর এবং দ্বেষান্বিত। তার বিশ্বাস ছিলো সে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব এবং মহাবিশ্বের সৃষ্টির পিছনের একমাত্র কারণ। মুহাম্মদ কোন সাধারণ মানুষ ছিলো না। সে ছিলো অসুস্থ রকমের আত্মপ্রেমী।
“আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ” এইসব সাধারণ ঘটনার আরো গভীরে যাওয়ার একটি চেষ্টা। এই বইয়ের লক্ষ্য ‘কি ঘটেছিলো’ বর্ণনা করা নয়, বরং ‘কেন ঘটেছিলো’ তা বর্ণনা করা। এই উদ্দেশ্যে বইটি পৃথিবীর ইতিহাসের বিশাল এবং প্রভাবশালী এই ব্যক্তির রহস্য খুলার প্রচেষ্টা করবে।
মুহাম্মদ নিজের সত্যতার উপর প্রবল বিশ্বাসী ছিলো। তার হ্যালুসিনেশনগুলাতে সে এতটাই প্রবলভাবে বিশ্বাস করতো যে সে চাইতে অন্যরাও কোন প্রকার প্রশ্ন ছাড়াই সেগুলো বিশ্বাস করুক। প্রবলভাবে রুষ্ট আল্লাহর মুখ থেকে সে ওহী নিয়ে আসে, “ কি? তোমরা কি তাহলে মুহাম্মদ কি দেখেছে এই নিয়ে সন্দেহ কর?” এটা মনোরোগের ব্যাপার। সে কি দেখলো না দেখলো তাতে কার কি এসে যায়? তারইতো দায়িত্ব সে কি দেখলো সেটা প্রমাণ করা। অসুস্থ রকমের আত্মপ্রেমীই কেবলমাত্র প্রমাণ ব্যতিরেকে বিশ্বাস দাবী করতে পারে।
মুহাম্মদ ছিলো এতিম। শিশুকালেই মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক বেদুইন দম্পতির ঘরে বড় হয় সে, স্নেহবঞ্চিত শৈশব পার করে। পরে দাদা এবং তার পরে চাচার কাছে বড় হয়। দাদা চাচার দয়ার্দ্র আদরে নষ্ট হয়। যখন নির্বাধ ভালোবাসার দরকার ছিলো তখন সেটা না পেয়ে, যখন নিয়ম এবং দায়িত্ব শেখার কথা ছিলো তখন কোন শাসন না পেয়ে, সে আত্মপ্রেম নামের মনোরোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগ তাকে পরিণত করে বিবেকহীন মেগালোম্যানিয়াকে (মেগালোম্যানিয়া = যুক্তিবুদ্ধিহীনভাবে নিজেকে অত্যন্ত বড় বা ক্ষমতাশালী ভাবার মানসিক প্রবণতা)। সীমাহীন ক্ষমতার দিবাস্বপ্নে, সে অন্যের কাছ থেকে ভালোবাসা এবং প্রশ্নহীন আনুগত্য চাইতো। বিশ্বাস করতো সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেউ এবং চাইতো অন্যরা তার কথামত চলুক। অন্যদের ব্যবহার করেও ঈর্ষা এবং সন্দেহে ভুগতো ক্রমাগত, ভাবতো অন্যরা বুঝি তার মাথায় কাঠাল ভেঙে খাচ্ছে, প্রত্যাখ্যাত হলে কষ্ট পেতো মারাত্মক এমনকি যারা ত্যাগ করে যেতো তাকে তাদের খুন পর্যন্ত করতেও দ্বিধা ছিলো না তার। নিজের অধিকার মনে করে প্রতারণা এবং মিথ্যা বলার উদাহরণও পাওয়া যাবে তার জীবনে। এই সবই আত্মপ্রেম নামক মনোরোগের লক্ষণ।
এর সাথে মুফতে যোগ হওয়া মৃগীরোগের কারণে দ্বীনের নবী দীর্ঘ, বিস্তারিত হ্যালুসিনেশনে ভুগতো। অবশ্য তার কাছে এগুলো ছিলো রহস্যময় স্বর্গীয় দর্শন। তার স্বর্গীয় বাণী শোনা বা ফেরেশতা দেখার দাবী এক অর্থে মিথ্যা ছিলো না। সে মূলত বাস্তব এবং দিবাস্বপ্নের পার্থক্য করতে পারতো না।
মুহাম্মদেরসম্ভবত আরেকটি মানসিক রোগ ছিলো বলে ধারণা করা যায়। মনোবিজ্ঞান এবং অপরাধবিজ্ঞানে একে বলা হয় Obsessive Compulsive Disorder. এর লক্ষণ হিসাবেই বিভিন্ন ম্যাজিক সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি (৩ কুলি, ৭ পাক, ২৭ রমজান), উদ্ভট সব প্রথা (বিভিন্ন কাজের শুরুর দোয়া), এবং কঠোর নিয়মনীতি এইসব দেখা যাবে তার জীবনে। তার কঠোর জীবনযাপন এবং ইসলামের শত শত হাবিজাবি নিয়মকানুনের ব্যাখ্যাও এভাবে দেয়া যায়।
জীবনের শেষ দিকে মুহাম্মদের সম্ভবত আরেকটি রোগ হয় যার নাম Acromegaly. দেহবর্ধক হরমোনের অস্বাভাবিক উৎপাদনে এই রোগ হয় যার ফলস্বরূপ হাড় বড় হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা এবং মাংসল হাত পা, বড় নাক ঠোঁট এইসব লক্ষণ দেখা যায়। সাধারণত Acromegaly রোগ শুরু হয় চল্লিশোর্ধ বয়সে এবং প্রথম ষাটের দিকে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয় এই রোগ। এই রোগ একদিকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন (সময় মত লিঙ্গ উত্থিত না হওয়া) তৈরি করে অন্যদিকে Temporal lobe (মস্তিষ্কের একটি অংশ) এর অতিরিক্ত কার্যকারিতার ফলে যৌনতাড়না বাড়ে। বৃদ্ধ বয়সে মুহাম্মদের খেয়ালি যৌনজীবনের ব্যাখ্যা দেয়া যায় এভাবে এবং ধারণা করা যায় কেন জীবনের শেষ দিনগুলোতে তার ব্যাপক যৌন ইচ্ছা ছিলো। ইতিহাসে পাওয়া যায় মুহাম্মদ একরাতেই তার নয় বিবির ঘরে যেত। ধারণা করা যায় তৃপ্তি ছাড়াই। শেষ জীবনের যৌন-অক্ষমতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, কেন মুহাম্মদ তার যুবতী বিবিদের নিয়ে ঈর্ষা, ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতো। অন্যরা যাতে তার বিবিদের উপর কাম-নজর দিতে না পারে সেজন্য সে তাদের পর্দার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করে। আজকের দুনিয়ার কোটি কোটি নারীর বোরকা পড়ার পিছনের রহস্য লুকানো আছে মুহাম্মদের শেষ বয়সের যৌন-অক্ষমতার মধ্যে। ইসলামের অনেক উদ্ভট আচরণের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে মুহাম্মদের অসুস্থতা বিশ্লেষণ করে।
উপরের এইসব মনোরোগ এবং অস্বাভাবিক বাহ্যিক চেহারা এই দুই মিলিয়ে মুহাম্মদ আর দশটা সাধারণ মানুষের চাইতে একেবারেই আলাদা। অবশ্য তার অশিক্ষিত মুরিদদের কাছে এই ভিন্নতা আসলে তার নবীত্বের প্রকাশ। আরসব পীরভক্ত মুরিদদের মতই তারা মুহাম্মদের অনুকরণে নিজেদের সর্বোচ্চ সাধনা করে। মৃত্যুকে পরোয়া না করে এবং প্রতিপক্ষকে কচুকাটা করে এখন তারা ইসলামকে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মে পরিণত করেছে। আর এটাই এখন পৃথিবীর সার্বিক শান্তি এবং মানব জাতির অস্তিত্বের উপর সবচে বড় হুমকিতে পরিণত।
মুহাম্মদকে জানা কেনো জরুরি? কারণ এক বিলিয়নেরও বেশি লোক তার মত হতে চায় এবং সে যা করতো তা-ই করতে চায়। এক জনের পাগলামি এভাবে কোটি কোটি লোকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো। সুতরাং মুহাম্মদকে বুঝার মাধ্যমেই সম্ভব এই কোটি কোটি লোকের আচরণ সম্পর্কে অনুমান করা; ভবিষ্যৎে কি নিয়ে তারা আবার উত্তাল হয়ে উঠবে সেই সম্পর্কে ধারণা কার।
সময় আসলে খুবই খারাপ এখন। খারাপ এবং বিপজ্জনক। মানবজাতির ২০% লোক যদি একটা মনোরোগীর পূজা করে, আত্মঘাতী বোমা হামলাকে মনে করে প্রশংসনীয় আর খুনাখুনিকে মনে করে ধার্মিকতার চূড়ান্ত অবস্থা তাহলে দুনিয়া খারাপ এবং বিপদসংকুল হতে বাধ্য। এরা যদি কোনো দিন আণবিক বোমা হাতে পায় এই গ্রহ পরিণত হবে একটি ধূলোর কুণ্ডলীতে।
ইসলাম মূলত পীর ব্যবসা (cult)। এখনই সবার বুঝা উচিত যে এই ব্যবসা মানবজাতির জন্য বিরাট হুমকি এবং এই মুরিদদের সাধে মানবতার সহাবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মুসলিমরা যতদিন মুহাম্মদকে প্রশ্নহীনভাবে বিশ্বাস করে যাবে ততদিন তারা অন্যদের জন্য এমনকি তাদের নিজেদের জন্যও হুমকি হয়েই থাকবে। মুসলিমদের হয় তাদের ঘৃণার সংস্কৃতি ত্যাগ করে অবশিষ্ট মানবের সাথে মিশে যেতে হবে অথবা অন্যদের উচিত হবে মুসলিমদের আলাদা করে দেয়া, যাতে তারা অন্তত অন্যের ক্ষতি করতে না পারে। অমুসলিম দেশগুলোর উচিত ইসলামকে নিষিদ্ধ করা, মুসলিম অভিবাসীদের জায়গা না দেয়া এবং যারা তাদের সংস্কৃতিতে একাত্ম হতে অস্বীকার করে বা গণতন্ত্র ও সার্বজনীন বাক-স্বাধীনতার মত বিষয়গুলোকে অস্বীকার করে তাদের ধরে ধরে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া।
গণতন্ত্র আর ইসলামের বনিবনা সম্ভব নয়। এটা একটা যুদ্ধবাজ আদর্শ, গণতান্ত্রিক সুবিধা ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার সিস্টেম, যার পরম উদ্দেশ্য হলো গোটা পৃথিবীতে ইসলামের একাধিপত্য কায়েম করা। এই বর্বর সিস্টেম এবং সভ্যতার সংঘর্ষ এড়িয়ে ধ্বংসের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় ইসলামের রহস্য মোচন করে এর কুরুপকথাগুলোকে প্রকাশ করে দেয়া। মানবজাতির শান্তিতে বসবাসের জন্য ইসলাম থেকে মুসলিমদের আলাদা হওয়াটা ভয়াবহভাবে জরুরি।
সে অর্থে মুহাম্মদকে বুঝা মুসলিম এবং অমুসলিম দুই পক্ষের জন্যই দরকারি। এই বইয়ের উদ্দেশ্য সেই বুঝাকে সহজ করে দেয়া।
