ইবনে ওয়ারাক কর্তৃক মুখবন্ধ

আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ

ইবনে ওয়ারাক কর্তৃক মুখবন্ধ

আলি সিনা

ইবনে ওয়ারাক কর্তৃক মুখবন্ধ

ডক্টর আলি সিনার জন্ম ইরানে। তার কিছু আত্মীয় আছেন যারা আয়াতুল্লাহ হিসাবে পরিচিত। গড়পড়তা শিক্ষিত ইরানির মতই আলি বিশ্বাস করতেন ইসলাম একটি মানবতাবাদী ধর্ম। কিন্তু তার সৌভাগ্য যে এই বিশ্বাসের সাথে সাথে তার ছিলো একটি কৌতূহলী প্রশ্নশীল মানস। যৌক্তিক চেতনার অধিকারী এই ব্যক্তি নিরলসভাবে প্রশ্ন করে গেছেন নিরীক্ষা করে গেছেন প্রমাণের জন্য। ধীরে ধীরে ইসলামের আসল রুপ নিয়ে যে উপলব্ধিতে তিনি পৌঁছুলেন তা কেবল তাকে নৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জর্জরিতই করেনি, বরং ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ এর আরো অনেক আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কেউ যদি ইসলামের এই আসল রুপ নিয়ে এখনই সবাইকে সতর্ক করার দায়িত্ব না নেয় তাহলে ভবিতব্যের ভয়াবহতা ঠেকানো অসম্ভব। যে ধর্মের মধ্যে তার জন্ম যে বিশ্বাস এবং চিন্তা কাঠামোর মধ্যে তার বেড়ে উঠা তা কেবল পাশ্চাত্য মূল্যবোধের সাথেই সাংঘর্ষিক নয় বরং গোটা সভ্যতার জন্যই হুমকি। জীবন বদলে দেয়া এই সত্য, তার জন্মধর্মের বর্বরতা উপলব্ধির পর থেকে আলি তার গোটা জীবন উৎসর্গ করেছেন ইসলামের আলোচনা-সমালোচনা এবং এর কদর্য সত্যগুলোকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য। এ সবই চলে তার বিখ্যাত ওয়েবসাইট ফেইথ ফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল এর মাধ্যমে।
পশ্চিমা বিশ্ব ইসলাম ত্যাগী এইসব বিপ্লবীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারে, সমাজতন্ত্র ত্যাগী বিপ্লবীদের কাজে লাগানো হয়েছিলো যেভাবে।

আমার নিজের বই “Leaving Islam” এ যেমন বলেছি, সমাজতন্ত্র এবং ইসলামের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাদৃশ্য দেখা যায়। Maxim Rodinson এবং Bertrand Russell এরকম কিছু সাদৃশ্যের কথা বলেছিলেন বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের সমাজতান্ত্রিক এবং আশির দশক ও একবিংশ শতকের প্রথম দিককার ইসলামপন্থীদের ব্যাপারে। রাসেল বলেন, “ধর্মগুলোর মধ্যে বলশেভিজম কে দেখতে হবে মুহাম্মদবাদের সাথে মিলিয়ে, খ্রিস্টীয় বা বৌদ্ধ ধর্মের সাথে নয়। খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্ম মূলত ব্যক্তিগত দর্শন। এদের বৈশিষ্ট্য রহস্যময় আচার এবং কল্পনাবিলাস। মুহাম্মদবাদ হলো ব্যবহারিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্নিকতাহীন, যার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো দুনিয়া জয়। ” বর্তমান দুনিয়ার অবস্থা এবং ত্রিশের সমাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদের সাথে তার ভয়জাগানিয়া সাদৃশ্য এজন্যই গুরুত্বপূর্ণ। Kolster যেমন বলেছিলেন “ তোমরা আমাদের স্বজাতি বিরোধিতাকে ঘৃণা কর, বন্ধু হিসাবে স্বীকার করতে লজ্জা কর অথচ সবার সব কথা শুনার পরেও, কেবল আমরা প্রাক্তন সমাজতন্ত্রীরাই জানি আসল ঘটনা ” Crossman তার ভূমিকায় যেমন বলেছিলেন “Silone (এক প্রাক্তন-সমাজতন্ত্রী) আসলে কেবল মজা করছিলো যখন সে Togliatti কে বলছিলো যে আসল যুদ্ধ হবে সমাজতন্ত্র আর গণতন্ত্রের মধ্যে নয় বরং সমাজতন্ত্রপন্থী এবং প্রাক্তন সমাজতন্ত্রপন্থীদের মধ্যে। কিন্তু সমাজতন্ত্রের সাথে দার্শনিক এবং রাজনৈতিক বিরোধিতা যারা কখনো করেনি তারা কোনো দিনই পশ্চিম-উদ্ভুত গণতন্ত্রের মর্যাদা বুঝবে না। শয়তান এক সময় স্বর্গেই থাকতো, যারা কোনো দিন শয়তানকে দেখে নাই তারা ফেরেশতা দেখলে আলাদা করতে পারবে না ”

অন্তত সাময়িক হলেও, সমাজতন্ত্র এখন পরাজিত, কিন্তু ইসলামিজম না, এবং সম্ভবত অন্তিম যুদ্ধ হবে ইসলামিজম এবং পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের মধ্যে। Kolster এর কথার সাথে মিলিয়ে বলতে হয়, এই প্রাক্তন-মুসলিমরাই কেবল জানে আসল ঘটনা কি, আর আমাদের সবারই উচিত এইসব স্বজাতিত্যাগীদের পুরো কাহিনী মনোযোগ দিয়ে শোনা। ভালো ছাড়া খারাপ কিছু হবে না এতে। আমরা যারা স্বাধীনভাবে পাশ্চাত্যে বাস করি আর বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষা, বাক-স্বাধীনতার সুবিধা ভোগ করি তাদের উচিত ইসলামের যৌক্তিক বিশ্লেষণ এবংকুরআন-সমালোচনাকে উৎসাহিত করা। কুরআনেরই সমালোচনার মাধ্যমেই মুসলিমরা পারবে তাদের পবিত্র কিতাবকে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে। এর দ্বারাই সম্ভব কুরআনের মধ্যকার জঙ্গি আয়াতগুলোর কুপ্রভাবে তরুণ মুসলিমদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়াকে ঠেকানো। পশ্চিমের সকল বাসিন্দার নাগরিক দায়িত্ব ইসলামকে যৌক্তিকভাবে বুঝা। কিন্তু এই কাজে যদি কেবল বড় বড় লাইব্রেরিগুলাতে পাওয়া বই ব্যবহার করা হয় তাহলে পাওয়া যাবে কেবল ক্ষমাপ্রবণ প্রতারকদের(Apologist) কথাবার্তা। ডক্টর সিনা এবং তার বন্ধুদের করা চমৎকার তথ্যপূর্ণ এবং নিরলসভাবে যুক্তি-পাল্টাযুক্তির ঘাত-প্রতিঘাতে সিদ্ধ ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবে ইসলামের ন্যায্য এবং সত্য রুপ। ইসলাম শান্তির ধর্ম এইজাতীয় ভাঙা রেকর্ডের বাজনায় যারা এখনো নিজের যুক্তিবুদ্ধি হারান নি, তাদের সকলকে আমি অনুরোধ করবো এই বইটি গুরুত্বের সাথে পড়ার জন্য। আলির এইসব কাজের ফলে এখন আর ইসলামের ব্যাপারে অন্ধকারে থাকার কোন অজুহাত খাটবে না, যাকিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং জীবনের বিনিময়েও রক্ষা করতে প্রস্তুত আমরা সেইসব মূল্যবোধের ধ্বংসের বীজ লুকায়িত যার মধ্যে।

আরও বই