জামে আত-তিরমিজী
সালাত (নামায)
হাদিস 149
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জিবরাইল (আঃ) কা’বা শরীফের চত্বরে দু’বার আমার নামাযে ইমামতি করেছেন। তিনি প্রথমবার যুহরের নামায আদায় করালেন যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া জুতার ফিতার...
হাদিস 150
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জিবরাইল (আঃ) আমার ইমামতি করলেন, হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনু আব্বাসের হাদীসের মত। তবে এ হাদীসে আসরের নামায সম্পর্কে “গতকাল” শব্দটির উল্লেখ নেই।...
হাদিস 151
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নামাযের ওয়াক্তের শুরু ও শেষ সীমা রয়েছে। যুহরের নামাযের শুরুর সময় হচ্ছে যখন (সূর্য পশ্চিম দিকে) ঢলতে শুরু করে এবং...
হাদিস 152
তিনি (বুরাইদা) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ নবী ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা চান তো তুমি আমাদের সংগে থাক।...
হাদিস 153
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযরের নামায আদায় করতেন, অতঃপর মহিলারা ফিরে আসতেন। আনসারীর বর্ণনায় আছে-মহিলারা নিজেদের চাদর মুড়িয়ে চলে যেতেন এবং অন্ধকারের মধ্যে তাদের চেনা...
হাদিস 154
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ফযরের নামায (ভোরের অন্ধকার) ফর্সা করে আদায় কর। কেননা তাতে অনেক সাওয়াব রয়েছে। সহীহ্। ইবনু মাজাহ -(৬৭২)।
হাদিস 155
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবূ বাকার ও উমার (রাঃ)-এর তুলনায় অন্য কাউকে আমি যুহরের নামায তাড়াতাড়ি আদায় করতে দেখিনি (ওয়াক্ত শুরু হলেই তাঁরা নামায আদায়...
হাদিস 156
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য ঢলে পড়লে যুহরের নামায আদায় করেছেন। সহীহ্। বুখারী।
হাদিস 157
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন (সূর্যের) উত্তাপ বেড়ে যায়, তখন তোমরা ঠান্ডা করে নামায আদায় কর (বিলম্ব করে নামায আদায় কর)। কেননা প্রচন্ড উত্তাপ...
হাদিস 158
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সফরে ছিলেন। বিলাল (রাঃ)-ও তাঁর সাথে ছিলেন। তিনি ইক্বামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “যুহরকে শীতল কর”। আবূ...
হাদিস 159
তিনি বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের নামায আদায় করালেন, তখনও সূর্যের কিরণ তার (আয়িশাহ্’র) ঘরের মধ্যে ছিল এবং ছায়াও (দীর্ঘ না হওয়ার ফলে) তার ঘরের...
হাদিস 160
তিনি বসরায় আনাস (রাঃ)-এর বাড়িতে আসলেন। তিনি তখন যুহরের নামায আদায় করে বাসায় ফিরে এসেছেন। তাঁর ঘরটি মসজিদের পাশেই ছিল। তিনি (আনাস) বললেন, উঠো এবং আসরের নামায আদায়...
হাদিস 161
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের নামায তোমাদের চেয়ে বেশি তাড়াতাড়ি (প্রথম ওয়াক্তে) আদায় করতেন। আর তোমরা আসরের নামায তাঁর চেয়ে অধিক সকালে আদায় কর। সহীহ্।...
হাদিস 162
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ আমি আমার গ্রন্থে এটি লেখা পেয়েছি যে, আলী ইবনু হুজর, ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম হতে, তিনি ইবনু জুরাইজের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 163
বিশর ইবনু মু’আয, ইসমাঈল ইবনু উলাইয়্যা হতে ইবনু জুরাইজের সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আর এই বর্ণনাটি অধিক সহীহ্।
হাদিস 164
তিনি বলেন, যখন সূর্য ডুবে পর্দার অন্তরালে চলে যেত তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের নামায আদায় করতেন। সহীহ্। ইবনু মাজাহ্-(৬৮৮), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 165
তিনি বলেন, আমি অন্যদের তুলনায় এ (ইশার) নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে বেশী ভাল জানি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃতীয়ার চাঁদ অস্ত গেলে এ নামায আদায় করতেন। সহীহ্। মিশকাত-(৬১৩),...
হাদিস 166
এ হাদীসটি নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে মুহাম্মাদ ইবনু আবান, আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী’র সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
হাদিস 167
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে তাদেরকে ইশার নামায রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধরাত...
হাদিস 168
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার নামাযের আগে ঘুমানো এবং নামাযের পর আলাপচারিতা করা অপছন্দ করতেন। সহীহ্। ইবনু মাজাহ্-(৭০১), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 169
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বেলা আবূ বাকার (রাঃ)-এর সাথে মুসলমানদের স্বার্থ সম্পর্কিত ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করতেন। আমিও তাঁদের সাথে থাকতাম। সহীহ্। সহীহাহ্ (২৭৮১)।
হাদিস 170
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে বাই’আত গ্রহণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করা হল, কোন কাজটি সবচেয়ে ভাল? তিনি বললেন, আওয়াল...
হাদিস 171
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ হে ‘আলী! তিনটি ব্যাপারে দেরি করো নাঃ ‘নামায’-যখন তার ওয়াক্ত আসে, ‘জানাযা’-যখন উপস্থিত হয় এবং ‘বিবাহযোগ্য নারী’ যখন তুমি তার উপযুক্ত...
হাদিস 172
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নামাযের প্রথম সময়ে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ, আর শেষ সময়ে রয়েছে মার্জনা লাভের সুযোগ। মাওযূ’, ইরওয়া ২৫৯, মিশকাত ৬০৬
হাদিস 173
এক ব্যক্তি ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করল, কোন কাজটি সবচেয়ে ভাল? তিনি বললেন, আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেছেনঃ নির্দিষ্ট ওয়াক্তসমূহে নামায...
হাদিস 174
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’বার কোন নামায শেষ ওয়াক্তে আদায় করেননি। এমনকি এ অবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাঁকে তুলে নেন। হাসান। মিশকাত-(৬০৮)।
হাদিস 175
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেল, (তার অবস্থা এরূপ) যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধন সম্পদ সবকিছু লুন্ঠিত হল। সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৬৮৫), বুখারী...
হাদিস 176
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আবূ যার! আমার পর এমন সব আমীর (রাষ্ট্রপ্রধান) ক্ষমতায় আসবে যারা নামাযকে হত্যা করে ফেলবে। অতএব তুমি সময়মত (আওয়াল...
হাদিস 177
তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ‘নামাযের কথা ভুলে গিয়ে’ ঘুমিয়ে থাকা সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি বললেনঃ ঘুমন্ত ব্যক্তির কোন অপরাধ নেই, জেগে থাকা অবস্থায় দোষ...
হাদিস 178
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায়ের কথা ভুলে গেছে সে যেন (নামাযের কথা) মনে হওয়ার সাথে সাথেই তা আদায় করে নেয়। সহীহ্।...
হাদিস 179
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (লড়াইয়ে বিব্রত করে) চার ওয়াক্ত নামায হতে নিবৃত্ত রাখে। পরিশেষে আল্লাহর ইচ্ছাই যখন কিছু...
হাদিস 180
খন্দকের যুদ্ধের দিন ‘উমার (রাঃ) কুরাইশ কাফিরদের গালি দিতে দিতে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সূর্য ডুবে গেল অথচ আসরের নামায আদায় করার সুযোগ পেলামনা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া...
হাদিস 181
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মধ্যবর্তী নামায হচ্ছে আসরের নামায। সহীহ্। মিশকাত-(৬৩৪), মুসলিম।
হাদিস 182
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মধ্যবর্তী নামায হল আসরের নামায। সহীহ্। মিশকাত-(৬৩৪), মুসলিম।
হাদিস 183
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবীর নিকট হতে এ হাদীস শুনেছি যাদের মধ্যে ‘উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। সাহাবাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন আমার নিকট বেশি প্রিয়।...
হাদিস 184
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের নামাযের পর দুই রাক‘আত নামায আদায় করলেন। কেননা তাঁর নিকট কিছু সম্পদ এসেছিল, তিনি তা বিলি করতে ব্যস্ত ছিলেন...
হাদিস 185
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে, যে চায় তা আদায় করতে পারে। সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(১১৬২), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 186
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি সূর্য উঠার পূর্বে ফজরের এক রাক’আত (ফরয নামায) পেল সে ফযরের নামায পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক...
হাদিস 187
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভয় অথবা বৃষ্টিজনিত কারণ ছাড়াই মাদীনাতে যুহর ও আসরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও ‘ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। সা’ঈদ ইবনু...
হাদিস 188
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন অজুহাত ছাড়াই যে ব্যক্তি দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে সে কাবীরা গুনাহের স্তরসমূহের মধ্যে একটি স্তরে পৌঁছে যায়। খুবই দুর্বল।...
হাদিস 189
তিনি (যাইদ) বলেন, যখন সকাল হল, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলাম। তাঁকে (আমার) স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেনঃ “এটা নিশ্চয়ই বাস্তব (সত্য) স্বপ্ন। তুমি বিলালের...
হাদিস 190
তিনি বলেন, মুসলমানরা যখন হিজরাত করে মাদীনায় আসলেন, তখন তারা আন্দাজ করে নামাজের জন্য একটা সময় ঠিক করে নিতেন এবং সে অনুসারে সমবেত হতেন। নামাযের জন্য কেউ আহ্বান...
হাদিস 191
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে নিজের নিকট বসিয়ে আযানের প্রতিটি হরফ এক এক করে শিখিয়েছেন। (অধস্তন রাবী) ইবরাহীম বলেন, আমাদের আযানের মত। বিশর বলেন, আমি তাঁকে বললাম,...
হাদিস 192
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে তাঁকে ঊনিশ বাক্যে আযান এবং সতের বাক্যে ইক্বামাত শিক্ষা দিয়েছেন। হাসান সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৭০৯)।
হাদিস 193
তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ)-কে আযানের শব্দগুলো দুইবার এবং ইক্বামাতের শব্দগুলো এক একবার বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৭২৯-৭৩০)।
হাদিস 194
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলো জোড়ায় জোড়ায় ছিল (দুই দুইবার বলা হত)। সনদ দুর্বল
হাদিস 195
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ)–কে বললেনঃ হে বিলাল! যখন তুমি আযান দিবে, ধীরস্থিরভাবে ও দীর্ঘ স্বরে আযান দিবে এবং যখন ইকামাত দিবে তাড়াতাড়ি ও অনুচ্চস্বরে ইকামাত...
হাদিস 196
আবদ ইবনু হুমাইদ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইউনুস ইবনু মুহাম্মাদ হতে তিনি আব্দুল মুনয়িম হতে ...... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। -দেখুন পূর্বের হাদীস
হাদিস 197
তিনি (আবূ জুহাইফা) বলেন, আমি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দিতে দেখলাম এবং তাঁকে এদিক সেদিক ঘুরতে ও মুখ ঘুরাতে দেখলাম। তাঁর (দুই হাতের) দুই আঙ্গুল উভয় কানের মধ্যে ছিল।...
হাদিস 198
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেনঃ ফযরের নামায ছাড়া অন্য কোন নামাযে ‘তাসবীব’ করো না। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৭১৫)।
হাদিস 199
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ফজরের নামাযের আযান দিতে বললেন। আমি আযান দিলাম। বিলাল (রাঃ) ইকামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “সুদাঈ...
হাদিস 200
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বিনা ওযূতে কেউ যেন আযান না দেয়। যঈফ, ইরওয়া (২২২)
হাদিস 201
তিনি বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেছেন, বিনা ওযূতে কেউ যেন নামাযের আযান না দেয়। যঈফ, প্রাগুক্ত।
হাদিস 202
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুয়াযযিন (তাঁর জন্য) প্রতীক্ষা করতে থাকতেন এবং ইক্বামাত দিতেন না। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (তাঁর ঘর হতে) বেরিয়ে আসতে দেখতেন...
হাদিস 203
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। অতএব তোমরা ইবনু উম্মু মাকতূমের আযান না শুনা পর্যন্ত পানাহার কর। সহীহ্। ইরওয়া-(২১৯), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 204
তিনি বলেন, আসরের নামাযের আযান হয়ে যাওয়ার পর এক ব্যক্তি মসজিদ হতে বেরিয়ে চলে গেল। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এই ব্যক্তি আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ...
হাদিস 205
তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক চাচাত ভাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে আসলাম। তিনি আমাদের বললেনঃ “যখন তোমরা উভয়ে সফর করবে তখন আযান দেবে, ইক্বামাত বলবে,...
হাদিস 206
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি নেকীর আকাঙ্খায় একাধারে সাত বছর আযান দেবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে নাজাত নির্ধারিত আছে। যঈফ, ইবনু মাজাহ(৭২৭)।
হাদিস 207
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমাম হলো (নামাযের) যামিন এবং মুয়াযযিন হল আমানাতদার। হে আল্লাহ! ইমামকে সৎপথ দেখাও এবং মুয়াযযিনকে মাফ কর। সহীহ্। মিশকাত-(৬৬৩), ইরওয়া-(২১৭),...
হাদিস 208
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাবে, তখন মুয়াযযিন যা বলে তোমরাও তাই বল। সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৭২০), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 209
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট হতে সর্বশেষ যে ওয়াদা নিয়েছিলেন তা ছিলঃ আমি একজন মুয়াযযিন রাখব যে আযানের বিনিময়ে মাহিনা নেবে না। সহীহ্। ইবনু...
হাদিস 210
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনে বলবে, “ওয়া আনা আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু...
হাদিস 211
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে বলে, “হে আল্লাহ্! এই পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত নামাযের তুমিই প্রভু! তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া...
হাদিস 212
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ ফেরত দেয়া হয় না। সহীহ, মিশকাত-(৬৭১), ইরওয়া-(২৪৪), সহীহ আবূ দাঊদ-(৫৩৪)।
হাদিস 213
তিনি বলেন, মিরাজের রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর কমাতে কমাতে পাঁচ ওয়াক্তে সীমাবদ্ধ করা হয়। অতঃপর ঘোষণা করা হল,...
হাদিস 214
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পাঁচ ওয়াক্তের নামায এবং জুমু’আর নামায হতে পরবর্তী জুমু’আর নামাযে তার মাঝখানে সংঘটিত (ছোটখাট) গুনাহসমূহের কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হয়ে যায়; তবে শর্ত হল...
হাদিস 215
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির একাকি আদায়কৃত নামাযের উপর জামা’আতে আদায়কৃত নামাযের সাতাশ গুন বেশি মর্যাদা রয়েছে। সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৭৮৯), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 216
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কোন ব্যক্তির জামা’আতের নামায তার একাকি নামাযের তুলনায় পঁচিশ গুন (সাওয়াব) বৃদ্ধি পায়। সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৭৮৬, ৭৮৭), বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 217
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমার ইচ্ছা হয়, আমি আমার যুবকদের কাঠের স্তুপ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেই, অতঃপর নামায আদায়ের নির্দেশ দেই এবং ইক্বামাত বলা হবে (নামায...
হাদিস 218
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, সে দিনভর রোযা রাখে এবং রাতভর নামায আদায় করে, কিন্তু জুমু‘আ ও জামা‘আতে উপস্থিন হয় না। তিনি বললেন, সে...
হাদিস 219
তিনি (ইয়াযীদ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর বিদায় হাজ্জে উপস্থিত ছিলাম। আমি তাঁর সাথে (মিনায় অবস্থিত) মসজিদে খাইফে ফযরের নামায আদায় করলাম। নামায শেষ...
হাদিস 220
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এমন সময় (মসজিদে) আসল যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামায আদায় করে নিয়েছেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে এই ব্যক্তির সাথে ব্যবসা করতে...
হাদিস 221
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এশার নামায জামা’আতের সাথে আদায় করে তার জন্য অর্ধরাত (নফল) নামায আদায়ের সাওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি ‘ইশা ও...
হাদিস 222
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি ফযরের নামায আদায় করল সে আল্লাহর হিফাজাতে চলে গেল। অতএব তোমরা আল্লাহ তা’আলার হিফাজাতকে চূর্ণ কর না, তুচ্ছ মনে কর...
হাদিস 223
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যারা অন্ধকার পার হয়ে মসজিদে যায় তাদেরকে কিয়ামাতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুখবর দাও। সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(৭৭৯-৭৮১)।
হাদিস 224
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পুরুষ লোকদের জন্য প্রথম কাতার হচ্ছে সবচেয়ে ভাল এবং খুবই খারাপ হচ্ছে সবার পেছনের কাতার। স্ত্রী লোকদের জন্য সবার পেছনের...
হাদিস 225
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লোকেরা যদি জানতে পারত আযান দেওয়া ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কত সাওয়াব রয়েছে, তাহলে তাদের এতো ভীড় হত যে, শেষ পর্যন্ত...
হাদিস 226
এ হাদীসটি কুতাইবা মালিকের সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস 227
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাতারসমূহ সমান করে দিতেন। একদিন তিনি (ঘর হতে) বের হয়ে এসে দেখলেন, এক ব্যক্তির বুক কাতারের বাইরে এগিয়ে রয়েছে। তিনি...
হাদিস 228
নাবী সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটে দাঁড়ায়; অতঃপর যারা (উভয় গুণে) এদের নিকটবর্তী; অতঃপর যারা এদের নিকটবর্তী। আঁকাবাঁকা...
