সহীহ ইবনু হিব্বান

পরিচ্ছেদ ১৭৯: হাদিস ৩,৫৬১-৩,৫৮০

এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো একই পাতায় পড়ুন। নির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তার নম্বর বা anchor ব্যবহার করুন।

এই পাতার হাদিসসমূহনির্দিষ্ট হাদিসে যেতে তালিকাটি খুলুন। শোহাইড
হাদিস ৩,৫৬১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ: «سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ، وَصَامَ صَائِمُنَا، وَأَفْطَرَ مُفْطِرُنَا، فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ، وَلَا الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ
رقم طبعة با وزير = (3553)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - انظر (3551). تنبيه!! رقم (3551) = (3559) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রমযান মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফর করেছি। আমাদের মাঝে কেউ সিয়াম পালনকারী আবার কেউ সিয়াম ভঙ্গকারী ছিলেন। সিয়াম পালনকারী সিয়াম ভঙ্গকারীকে এবং সিয়াম ভঙ্গকারী সিয়াম পালনকারীকে কোন দোষারোপ করেননি। [1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৩৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৪; সহীহ মুসলিম: ১১১৯; নাসাঈ: ৪/১৮২; তাহাবী, শারহু মা‘আনিল আসার: ২/৬৮; সহীহুল বুখারী: ২৮৯০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৮০)

হাদিস ৩,৫৬২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، [ص:329] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: «خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ حِينَ فَتْحَ مَكَّةَ، فَصَامَ صَائِمُونَ، وَأَفْطَرَ مُفْطِرُونَ، فَلَمْ يَعِبْ هَؤُلَاءِ عَلَى هَؤُلَاءِ، وَلَا هَؤُلَاءِ عَلَى هَؤُلَاءِ»
رقم طبعة با وزير = (3554)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা মক্কা বিজয়ের সময়ে ১৭ ই রমযান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বের হই। অতঃপর আমাদের মাঝে কেউ সিয়াম পালন করেন আবার কেউ সিয়াম ভঙ্গ করেন। এরা ওদের এবং ওরা এদের দোষারোপ করতেন না।”[1]
[1] তিরমিযী: ৭১৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/১২; সহীহ মুসলিম: ১১১৬; নাসাঈ: ৪/১৮৮; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৩০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৪৫; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৭; তিরমিযী: ৭১২; আবূ দাঊদ: ২৪০৬। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৮১)

হাদিস ৩,৫৬৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ الْكَدِيدَ، ثُمَّ أَفْطَرَ وَأَفْطَرَ النَّاسُ مَعَهُ، وَكَانُوا يَأْخُذُونَ بِالْأَحْدَثِ، فَالْأَحْدَثِ مِنْ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
رقم طبعة با وزير = (3555)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছরে রমযান মাসে বের হন। অতঃপর যখন তিনি কাদীদ নামক জায়গায় পৌঁছেন, তখন তিনি সিয়াম ভঙ্গ করেন। সাহাবীগণও সিয়াম ভঙ্গ করেন। রাবী বলেন, “সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ কাজ অনুসরণ করতেন।”[1]
[1] সহীহ বুখারী: ৪২৭৫; সহীহ মুসলিম: ১১১৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭৬২; আত তায়ালিসী: ২৭১৬; হুমাইদী: ৫১৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৫; মুসনাদ আহমাদ: ১/২১৯; নাসাঈ: ৪/১৮৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৩৫; তাহাবী: ২/৬৪; সুনান বাইহাকী: ৪/২৪০-২৪১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৪৭)

হাদিস ৩,৫৬৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَامَ الْفَتْحِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ الْكَدِيدَ، ثُمَّ أَفْطَرَ، قَالَ: وَكَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَّبِعُونَ الْأَحْدَثَ، فَالْأَحْدَثَ مِنْ أَمْرِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3556)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: خ، وهو مكرر ما قبله.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছরে রমযান মাসে বের হন। অতঃপর যখন তিনি কাদীদ নামক জায়গায় পৌঁছেন, তখন তিনি সিয়াম ভঙ্গ করেন। সাহাবীগণও সিয়াম ভঙ্গ করেন। রাবী বলেন, “সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ কাজ অনুসরণ করতেন।”[1]
[1] সহীহ বুখারী: ৪২৭৫; সহীহ মুসলিম: ১১১৩; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭৬২; আত তায়ালিসী: ২৭১৬; হুমাইদী: ৫১৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/১৫; মুসনাদ আহমাদ: ১/২১৯; নাসাঈ: ৪/১৮৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৩৫; তাহাবী: ২/৬৪; সুনান বাইহাকী: ৪/২৪০-২৪১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৫৬)

হাদিস ৩,৫৬৫

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَافَرَ فِي رَمَضَانَ، فَاشْتَدَّ الصَّوْمُ عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَجَعَلَتْ نَاقَتُهُ تَهِيمُ بِهِ تَحْتَ ظِلَالِ الشَّجَرِ، فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَرَهُ فَأَفْطَرَ، ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ فِيهِ مَاءٌ، فَوَضَعَهُ عَلَى يَدِهِ، فَلَمَّا رَآهُ النَّاسُ شَرِبَ شَرِبُوا»
رقم طبعة با وزير = (3557)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: حديث صحيح

বাংলা অনুবাদ

জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার রমযান মাসে সফর করেন। অতঃপর এক সাহাবীর উপর সিয়াম খুব কষ্টকর হয়ে যায়। তার উষ্ট্রী তাকে ঘুরে ঘুরে গাছের ছায়ার নিচে নিয়ে যেতে থাকে। অতঃপর বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানানো হলে তিনি তাকে সিয়াম ভঙ্গ করার নির্দেশ দেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি পানির পাত্র আনতে বলেন। অতঃপর তিনি সেটি তাঁর হাতে রাখেন। তারপর লোকজন যখন তাঁকে পানি পান করতে দেখেন, তখন তারাও পানি পান করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আবূ ইয়ালা: ১৭৮০; তাহাবী: ২/৬৫; হাকিম: ১/৪৩৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৫৭)

হাদিস ৩,৫৬৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ عَمْرٍو الْقُرَشِيُّ أَبُو زَيْدٍ، بِالْبَصْرَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُوسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَرَفَعَهُ إِلَى يَدِهِ لِيَرَاهُ النَّاسُ، فَأَفْطَرَ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ، وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ»، وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «قَدْ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَفْطَرَ، فَمَنْ شَاءَ صَامَ، وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ»
رقم طبعة با وزير = (3558)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2080): ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হন। অতঃপর তিনি উসফান নামক জায়গা যাওয়া অবধি সিয়াম রাখেন। তারপর তিনি পানি আনতে বলেন। অতঃপর তিনি তা তাঁর হাতে ‍উঠান, যাতে লোকজন তা দেখতে পান। তারপর তিনি মক্কায় আগমন করা পর্যন্ত সিয়াম ভঙ্গ করেন। এটা হয়েছিল রমযান মাসে।” ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে সিয়াম রেখেছেন এবং সিয়াম ভঙ্গ করেছেন। কাজেই যে ব্যক্তি চায় সিয়াম রাখতে পারেন এবং যে ব্যক্তি চায় সিয়াম ভঙ্গও করতে পারেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ১/২৯১; সহীহুল বুখারী: ১৯৪৮; আবূ দাঊদ: ২৪০৪; সহীহ মুসলিম: ১১১৩; নাসাঈ: ৪/১৮৪; তাবারানী: ১০৯৪৫; তাহাবী: ২/৬৭; সুনান বাইহাকী: ৪/২৪৩; ইবনু মাজাহ: ১৬৬১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৮০)

হাদিস ৩,৫৬৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبَى الْأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الْأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَجِدُ لِيَ قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ، فَهَلْ عَلَيَّ جُنَاحٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هِيَ رُخْصَةٌ مِنَ اللَّهِ، فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ»
رقم طبعة با وزير = (3559) [ص:333] قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ: سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأَبَى مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو، وَلَفْظَاهُمَا مُخْتَلِفَانِ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الإرواء» (4/ 61 / 926).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

হামযা বিন আমর আল আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আমি সফরে সিয়াম রাখার ক্ষমতা রাখি, তাহলে আমার কি গোনাহ হবে?” জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা অবকাশ। কাজেই যে ব্যক্তি এটি গ্রহণ করে, সেটা ভালো। আর যে ব্যক্তি সিয়াম রাখতে চায়, তার উপর কোন দোষ নেই।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসটি উরওয়া বিন যুবাইর আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে এবং আবূ মিরওয়াহর সূত্রে হামযা বিন আমর থেকে শ্রবণ করেছেন। উভয় হাদীসের শব্দের মাঝে তারতম্য রয়েছে।”
[1] সহীহ মুসলিম: ১১২১; নাসাঈ: ৪/১৮৬-১৮৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০২৬; তাবারানী: ২৯৮০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৪৩; আত তায়ালিসী: ১১৭৫; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৪৯৪; তাহাবী: ২/৬৯; আবূ দাঊদ: ২৪০৩; হাকিম: ১/৪৩৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৮০)

হাদিস ৩,৫৬৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ حَرْبِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى رُخَصُهُ، كَمَا يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى عَزَائِمُهُ»
رقم طبعة با وزير = (3560)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر (2731) مع الاختلاف في لفظ آخر، والصواب ما هناك. تنبيه!! رقم (2731) = (2742) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর অবকাশমূলক বিধানগুলো আমল করা ভালোবাসেন, যেমনভাবে তিনি তাঁর প্রদত্ত অবশ্য পালনীয় বিধানসমূহকে আমল করা পছন্দ করেন।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১০৮; বাযযার: ৯৮৮; মুসনাদ ইবনুশ শিহাব: ১০৭৮; তাবারানী আল আওসাত: ২/১০৪; তাবারানী আল কাবীর: ১০০৩০। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৫৬৪)

হাদিস ৩,৫৬৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ»
رقم طبعة با وزير = (3561)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2077)، «أحكام الجنائز» (213 - 214): ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط مسلم

বাংলা অনুবাদ

আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মারা যায় এমন অবস্থায় যে, তার উপর অবশ্য পালনীয় সিয়াম ছিল, তবে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক সিয়াম পালন করবে।”[1]
[1] সহীহ মুসলিম: ১১৪৭; আবূ দাঊদ: ২৪০০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৫৫; দারাকুতনী: ২/১৯৫; সহীহুল বুখারী: ১৯৫২; বাগাবী: ১৭৭৩; মুসনাদ আহমাদ: ৬/৬৯। শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৭৭)

হাদিস ৩,৫৭০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ الْأَصْبَهَانِيُّ، بِالْكَرْخِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنِ الْحَكَمِ، وَمُسْلِمٍ الْبَطِينِ، وَسَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعَطَاءٍ، وَمُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أُخْتِي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرَأَيْتِ لَوَ كَانَ عَلَى أُخْتِكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ؟ »، قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: «فَحَقُّ اللَّهِ أَحَقُّ»
رقم طبعة با وزير = (3562)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - وهو مكرر (3522). تنبيه!! رقم (3522) = (3530) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “এক মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, “আমার বোন মারা গিয়েছে, তার উপর বিরতিহীনভাবে দুই মাস সিয়াম পালন ওয়াজিব ছিল।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমার কি অভিমত, যদি তোমার বোনের ঋণ থাকতো, তবে তুমি কি তা পরিশোধ করতে?” সেই নারী বলেন, “জ্বী, হ্যা।” তখন তিনি বলেন, “তবে আল্লাহর হক আদায় করা বেশি উপযুক্ত।”[1]
[1] তিরমিযী: ৭১৭; সহীহ মুসলিম: ১১৪৮; ইবনু মাজাহ: ১৭৫৮; সুনান বাইহাকী: ৪/২৫৫; দারাকুতনী: ২/১৯৫; বাগাবী: ১৭৭৪; মুসনাদ আহমাদ: ১/২৫৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৫৩; তাবারানী: ১২৩৩০; আবূ দাঊদ: ৩৩১০; নাসাঈ: ৭/২০। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৩/২৬১-২৬২)

হাদিস ৩,৫৭১

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ»، قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَلَا تَفْعَلْ، نَمْ وَقُمْ وَصُمْ وَأَفْطِرْ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِزَوْجَتِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنِّي مُخَيِّرُكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَإِنَّ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشَرَةُ أَمْثَالِهَا، فَإِذَا ذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «صُمْ مِنْ كُلِّ جُمُعَةٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ»، قَالَ: فَشَدَدْتُ فَشُدِّدَ عَلَيَّ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «صُمْ صِيَامَ نَبِيِّ اللَّهِ [ص:338] دَاوُدَ وَلَا تَزِدْ عَلَيْهِ»، قُلْتُ: فَمَا صِيَامُ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ؟، قَالَ: «نِصْفُ الدَّهْرِ»
رقم طبعة با وزير = (3563) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا»، لَيْسَ فِي خَبَرٍ إِلَّا فِي هَذَا الْخَبَرِ، وَفِيهِ دَلِيلٌ عَلَى إِبَاحَةِ إِفْطَارِ الْمَرْءِ لِضَيْفٍ يَنْزِلُ بِهِ، وَزَائِرٍ يَزُورُهُ

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন, “আমাকে কি এটা জানানো হয়নি (অর্থাৎ আমাকে যা জানানো হয়েছে, তা কি সঠিক নয়) যে, তুমি সারাদিন সিয়াম রাখো আর সারা রাত কিয়াম করো?” আমি জবাবে বললাম, “জ্বী, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” তিনি বলেন, “তুমি এরকম করবে না। তুমি ঘুমাবে আবার কিয়ামও করবে, সিয়াম রাখবে আবার ছেড়েও দিবে। নিশ্চয়ই তোমার উপর তোমার শরীরের হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার মেহমানের হক রয়েছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক রয়েছে। আর নিশ্চয়ই তোমাকে ইখতিয়ার দিচ্ছি যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখবে। কেননা প্রত্যেক ভালো কাজের প্রতিদান ১০ গুণ হয়ে থাকে। এটাই তোমার সারা বছর সিয়াম রাখা হবে।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নিশ্চয়ই আমার (আরো বেশি সিয়াম রাখার) শক্তি-সামর্থ রয়েছে। তখন তিনি বলেন, “তবে তুমি প্রত্যেক সপ্তাহে তিন দিন সিয়াম পালন করো।” রাবী বলেন, “আমি কঠিন করি, ফলে আমার উপর কঠিন বিধান দেওয়া হয়। আমি বলি, নিশ্চয়ই আমার (আরো বেশি সিয়াম রাখার) শক্তি-সামর্থ রয়েছে।” তখন তিনি বলেন, “তবে তুমি আল্লাহর নাবী দাঊদ আলাইহিস সালামের মত সিয়াম পালন করো; এরচেয়ে বেশি করো না।” আমি বললাম, আল্লাহর নাবী দাঊদ আলাইহিস সালামের সিয়াম কেমন ছিল?” জবাবে তিনি বলেন, “অর্ধ যামানা (অর্থাৎ একদিন পর পর সিয়াম রাখা)।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য “তোমার উপর তোমার মেহমানের হক রয়েছে” এই অংশটুকু এই হাদীস ছাড়া অন্য কোন হাদীসে নেই। এখানে এই মর্মে প্রমাণ রয়েছে যে, কোন ব্যক্তির কাছে মেহমান বা কোন মুসাফির আসলে তার জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা জায়েয।”
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/১৯৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৭৫; সহীহ মুসলিম: ১১৫৯; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২১১০; তাহাবী: ২/৮৫; আত তায়ালিসী: ২২৫৫; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৬৩। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৩)

হাদিস ৩,৫৭২

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3564)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2121): ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন নারীর জন্য বৈধ নয়, তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সিয়াম রাখা।”[1]
[1] মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৮৮৬; মুসনাদ আহমাদ: ২/৩১৬; সহীহ মুসলিম: ১০২৬; আবূ দাঊদ: ২৪৫৮; সুনান বাইহাকী: ৪/১৯২; বাগাবী: ১৬৯৪; সহীহুল বুখারী: ৫১৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২১২১)

হাদিস ৩,৫৭৩

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ، بِطَرْطُوسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَصُومَنَّ امْرَأَةٌ [ص:340] يَوْمًا سِوَى شَهْرِ رَمَضَانَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ»
رقم طبعة با وزير = (3565)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: حسن صحيح - «الإرواء» (7/ 63 - 64).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي

বাংলা অনুবাদ

আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন নারী –রমযান মাস ছাড়া- একদিনও তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সিয়াম রাখবে না।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/২৪৫; হুমাইদী: ১০১৬; দারেমী: ২/১২; হাকিম: ৪/১৭৩; তিরমিযী: ৭৮২; ইবনু মাজাহ: ১৭৬১; সহীহুল বুখারী: ৫১৯৫; বাগাবী: ১৬৯৫। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে হাসান-সহীহ বলেছেন। (ইরওয়াউল গালীল: ৭/৬৩-৬৪)

হাদিস ৩,৫৭৪

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ الضَّرِيرُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُوَاصِلُوا»، قَالُوا: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ، إِنَّ رَبِّي يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي»
رقم طبعة با وزير = (3566)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرطهما

বাংলা অনুবাদ

আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) পালন করবে না।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৩৫; তিরমিযী: ৭৭৮; আবূ ইয়ালা: ২৮৭৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮২; সহীহুল ‍বুখারী: ৭২৪১; সহীহ মুসলিম: ১১০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৮২; বাগাবী: ১৭৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৬)

হাদিস ৩,৫৭৫

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدٌ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ [ص:342] إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تُوَاصِلُوا»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ تُوَاصِلُ، فَقَالَ: «إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي»، فَلَمْ يَنْتَهُوا عَنِ الْوِصَالِ، فَوَاصَلَ بِهِمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَيْنِ وَلَيْلَتَيْنِ، ثُمَّ رَأَوَا الْهِلَالَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ تَأَخَّرَ الْهِلَالُ لَزِدْتُكُمْ»، كَالْمُنَكِّلِ لَهُمْ
رقم طبعة با وزير = (3567)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين

বাংলা অনুবাদ

আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) পালন করবে না।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমি ঘুমাই আর আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান এবং পান করান।” তারপরেও তারা সাওমে বিসাল থেকে বিরত না থাকলে, তিনি তাদেরকে নিয়ে দুই দিন দুই রাত বিসাল সাওম পালন করেন। তারপর তারা নতুন চাঁদ দেখেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি নতুন চাঁদ আরো দেরিতে উদিত হতো, তবে আমি তোমাদের নিয়ে এভাবে বিসাল সাওম পালন করতেই থাকতাম।” যেন তিনি তাদেরকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন।” [1]
[1] মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭৫৩; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৮১; সহীহুল বুখারী: ৭২৯৯; মুসনাদ আহমাদ: ২/৫১৬; দারেমী: ২/৮; সহীহ মুসলিম: ১১০৩; সুনান বাইহাকী: ৪/২৮২; বাগাবী: ১৭৩৬; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭১। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৭)

হাদিস ৩,৫৭৬

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا الْبُجَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، [ص:343] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ، إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ»، قَالُوا: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: «إِنِّي لَسْتُ فِي ذَلِكَ مِثْلَكُمْ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي، فَاكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا لَكُمْ بِهِ طَاقَةٌ»
رقم طبعة با وزير = (3568)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল পালন করা থেকে বিরত থাকবে।” সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমি ঘুমাই আর আমার প্রভু আমাকে খাওয়ান এবং পান করান। কাজেই তোমরা তোমাদের সাধ্যমত কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করো।”[1]
[1] মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ১/৩০১; মুসনাদ আহমাদ: ২/২৩৭; দারেমী: ২/৭-৮; বাগাবী: ১৭৩৭; হুমাইদী: ১০০৯; সহীহ মুসলিম: ১১০৩; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৬৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৮)

হাদিস ৩,৫৭৭

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، وَعُمَرُ بْنُ مَالِكٍ، وَذَكَرَ، عُمَرُ آخَرَ مَعَهُمَا، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنِ الْوِصَالِ، فَقِيلَ لَهُ: فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ، قَالَ: «لَسْتُمْ كَهَيْئَتِي، إِنِّي أَبِيتُ لِيَ مُطْعِمٌ يُطْعِمُنِي وَسَاقٍ يَسْقِيَنِي، فَأَيُّكُمْ وَاصَلَ فَمِنْ سَحَرٍ إِلَى سَحَرٍ»
رقم طبعة با وزير = (3569)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «صحيح أبي داود» (2044): خ.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري

বাংলা অনুবাদ

আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। তখন তাঁকে বলা হয়, “আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই তোমরা আমার মতো নই। নিশ্চয়ই আমি ঘুমাই আর তখন আমার জন্য একজন পানাহার দানকারী থাকেন, তিনি আমাকে পানাহার করান। কাজেই তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি সাওমে বিসাল পালন করতে চায়, সে যেন এক সাহারী থেকে আরেক সাহারী পর্যন্ত বিসাল করে।”[1]
[1] সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭৩; মুসনাদ আহমাদ: ৩/৮; দারেমী: ২/৮; সহীহুল বুখারী: ১৯৬৩; আবূ দাঊদ: ২৩৬১; সুনান বাইহাকী: ২/২৮২; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক: ৭৭৫৫; আবূ ইয়ালা: ১১৩৮। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারীর শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ২০৪৪)

হাদিস ৩,৫৭৮

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ قَزَعَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا وِصَالَ فِي الصِّيَامِ»
رقم طبعة با وزير = (3570)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح - «الصحيحة» (2894).

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده قوي

বাংলা অনুবাদ

আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সাওমে কোন বিসাল নেই।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ২/৬২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ শক্তিশালী বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহাহ: ২৮৯৪)

হাদিস ৩,৫৭৯

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، [ص:345] عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لَا تُوَاصِلُوا»، قَالُوا: إِنَّكَ تُوَاصِلُ، قَالَ: «إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ، إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى»
رقم طبعة با وزير = (3571) قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا الْخَبَرُ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْأَخْبَارَ الَّتِي فِيهَا ذِكْرُ وَضْعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِهِ هِيَ كُلُّهَا أَبَاطِيلُ، وَإِنَّمَا مَعْنَاهَا الْحُجَزُ لَا الْحَجَرُ، وَالْحُجَزُ طَرَفُ الْإِزَارِ، إِذِ اللَّهُ جَلَّ وَعَلَا كَانَ يُطْعِمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَسْقِيهِ إِذَا وَاصَلَ فَكَيْفَ يَتْرُكُهُ جَائِعًا مَعَ عَدَمِ الْوِصَالِ حَتَّى يَحْتَاجَ إِلَى شَدِّ حَجَرٍ عَلَى بَطْنِهِ، وَمَا يُغْنِي الْحَجَرُ عَنِ الْجُوعِ؟ *

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: ق - مكرر (3566). * [قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا الْخَبَرُ ... عَنِ الْجُوعِ؟ ] قال النَّاشِر: أشار الشيخ - رحمه الله - في هامش الأصل إلى لزوم التعليق على كلام أبي حاتم - رحمه الله - هذا؛ لكنَّهُ - رحمه الله - لم يُسْعِفْهُ الوقت لذلك. وانظر كلام الحافظ ابن حجر في «الفتح» حول هذا. تنبيه!! رقم (3566) = (3574) من «طبعة المؤسسة». - مدخل بيانات الشاملة -.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح على شرط البخاري

বাংলা অনুবাদ

আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাওমে বিসাল (একবার সাহারী খেয়ে তারপর ইফতার ও সাহারী না খেয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কয়েকদিন সিয়াম রাখা) পালন করবে না।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি যে সাওমে বিসাল পালন করেন?” তিনি জবাবে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো নই। নিশ্চয়ই আমাকে খাওয়ানো হয় এবং পান করানো হয়।”[1] আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীস প্রমাণ করে যে, যেসব হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেটে পাথর বেঁধেছিলেন- এসবগুলোই বাতিল। বস্তুত সেসব হাদীসের অর্থ হবে الحُجَزُ ; الحَجَر নয়। الحُجَزُ অর্থ লুঙ্গির পার্শ্ব। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাওমে বিসাল করতেন, তখন আল্লাহ তাঁকে পানাহার করাতেন। কাজেই সাওমে বিসাল না করার সময় কিভাবে তাঁকে এমন ক্ষুধার্ত রাখবেন যে, তিনি পেটে পাথর বাঁধবেন? আর ক্ষুধায় পাথর কী-ই-বা উপকার করবে?”[2]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৩/২৩৫; তিরমিযী: ৭৭৮; আবূ ইয়ালা: ২৮৭৪; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ: ৩/৮২; সহীহুল ‍বুখারী: ৭২৪১; সহীহ মুসলিম: ১১০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭০; সুনান বাইহাকী: ৪/২৮২; বাগাবী: ১৭৩৯। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৬৬)
[2] বিদ্বানগণ ‍ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহর এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী: ৪/২০৮। -অনুবাদক

হাদিস ৩,৫৮০

মূল আরবি

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْخَلِيلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «مَا صَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا قَطُّ كَامِلًا إِلَّا رَمَضَانَ، وَلَا أَفْطَرَ شَهْرًا كَامِلًا قَطُّ، وَمَا كَانَ يَصُومُ شَهْرًا أَكْثَرَ مِمَّا كَانَ يَصُومُ فِي شَعْبَانَ»
رقم طبعة با وزير = (3572)

تحقيق الشيخ ناصر الدين الألباني: صحيح: م.

تحقيق الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح

বাংলা অনুবাদ

আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম –রমযান মাস ছাড়া- কোন মাস পুরো সিয়াম রাখেননি এবং কোন মাস পুরোপুরি সিয়াম ভঙ্গ করেননি। তিনি সবচেয়ে বেশি সিয়াম রেখেছেন শা‘বান মাসে।”[1]
[1] মুসনাদ আহমাদ: ৬/২১৮; সহীহ মুসলিম: ১১৫৬; নাসাঈ: ৪/১৫২; তিরমিযী: ৭৬৮; আত তায়ালিসী: ১৪৯৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ: ২০৭৭; সুনান বাইহাকী: ৪/২৯২। হাদীসটিকে শায়খ শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (আত তা‘লীকাতুল হিসান: ৩৫৭২)