ইসলাম অনুসারে সূর্য রাতের বেলা কই যায়?

Table of Contents

ভূমিকাঃ মহাজাগতিক বাস্তবতা বনাম শাস্ত্রীয় কসমোলজির সংঘাত

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষের যুগে যখন আমরা টেলিস্কোপ আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মহাবিশ্বের অতি-সূক্ষ্ম গাণিতিক নিয়মগুলো পর্যবেক্ষণ করি, তখন ধর্মীয় কিতাব বা হাদিসে বর্ণিত কিছু দৃশ্যকল্প আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক হোঁচট খেতে বাধ্য করে। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কসমোলজিক্যাল বর্ণনা হলো—সূর্য প্রতিদিন অস্ত যাওয়ার পর আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে। শুধু তাই নয়, কোরআনের সূরা কাহফে জুলকারনাইনের সফরের বর্ণনায় সূর্যকে আক্ষরিক অর্থেই একটি “কর্দমাক্ত জলাশয়ে” বা পঙ্কিল পানিতে অস্ত যেতে দেখার দাবি করা হয়েছে।

একনিষ্ঠ ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে এই বর্ণনাগুলো অলৌকিক সত্য মনে হলেও, পদার্থবিজ্ঞান এবং ভূ-তত্ত্বের মৌলিক নিয়মের সামনে এগুলো স্রেফ প্রাচীনকালের খেয়ালি কল্পনাবিলাস ছাড়া আর কিছুই নয়। হেলিয়োসেন্ট্রিক মডেল এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির বাস্তবতা অনুযায়ী, সূর্য কোনো নির্দিষ্ট গর্তে বা আরশের নিচে গিয়ে বিশ্রাম নেয় না; বরং পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণেই আমাদের চোখে উদয় ও অস্তের বিভ্রম তৈরি হয়। এই প্রবন্ধে আমরা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত সূর্য সংক্রান্ত এই আদিম বর্ণনাগুলোর বৈজ্ঞানিক অসারতা বিশ্লেষণ করব এবং দেখব কীভাবে প্রাচীন আরব্য কসমোলজিকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মেলাতে গিয়ে ধর্মতাত্ত্বিকরা নানা ধরণের যুক্তিনির্ভর ফ্যালাসি বা ভ্রান্তির আশ্রয় নেন।


কেন প্রাচীনকালের মানুষ নানা উপকথা তৈরি করতো?

সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ দেখে আসছে, সূর্য দিনের বেলা উঠছে আর রাতের বেলা কোথায় যেন চলে যাচ্ছে। পৃথিবীর মানুষের এই সাধারণ পর্যবেক্ষণের কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা সেই সময়ের মানুষের কাছে ছিল না। মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি হলো অজানা বিষয়ের একটি কারণ খুঁজে বের করা, আর তা কোনভাবেই বোঝা সম্ভব না হলে কল্পনা দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা। যখন প্রাচীনকালে মানুষের কাছে বিজ্ঞান বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছিল না, তখন তারা প্রাকৃতিক বা জৈবিক ঘটনাগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য মানুষের আবেগ (রাগ, অভিশাপ, বিশ্বাসঘাতকতা) বা অতিপ্রাকৃত শক্তিকে ব্যবহার করত। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘Anthropomorphism’ বা প্রকৃতিকে মানুষের রূপ দান করা।

মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় একটি প্যাটার্ন খোঁজে। যখন তারা দেখত হঠাৎ মেঘ ডাকছে বা সূর্য অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে, তখন তারা এর পেছনে কোনো ‘উদ্দেশ্য’ বা ‘শাস্তি’ খুঁজত। এই ধরণের উপকথাগুলো আসলে মানুষের আদিম কৌতূহল এবং ভয়ের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। নিচে বিভিন্ন সংস্কৃতির কিছু চমৎকার উদাহরণ দেওয়া হলো:

🌞 সূর্যগ্রহণ: রাহু ও কেতু
পুরাণ কথা
হিন্দু উপকথা অনুযায়ী, রাহু নামক এক অসুর যখন কৌশলে অমৃত পান করে, তখন সূর্য ও চন্দ্র তা ভগবান বিষ্ণুকে বলে দেয়। রাগের চোটে রাহু সূর্য ও চন্দ্রকে গিলে ফেলে, যার ফলে গ্রহণ লাগে।
বৈজ্ঞানিক সত্য
এটি একটি মহাজাগতিক ছায়া। পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য যখন এক সরলরেখায় আসে, তখন একে অপরের ওপর ছায়া ফেলে। এখানে কোনো ‘গিলে ফেলা’র ঘটনা নেই।
🐦 কাকের গায়ের রঙ কেন কালো?
বাংলার উপকথা
একটি প্রচলিত মিথ হলো, কাক আগে ধবধবে সাদা ছিল। কিন্তু সে অমৃত চুরি করে পান করায় বা কোনো এক অপকর্মের সাক্ষী হিসেবে অভিশাপ পাওয়ায় তার গায়ের রঙ কালো হয়ে গেছে।
বৈজ্ঞানিক সত্য
কাকের গায়ের রঙ কালো হওয়ার কারণ হলো তার পালকে থাকা ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থ। এটি তাকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
⚡ বজ্রপাত: দেবতা থর-এর হাতুড়ি
নর্স মিথোলজি
প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের বিশ্বাস ছিল, যখন দেবতা থর তাঁর বিশাল হাতুড়ি ‘মিওলনির’ দিয়ে দানবদের মারতেন, তখন আকাশে বিজলি চমকাত এবং হাতুড়ির আঘাতে বজ্রধ্বনির সৃষ্টি হতো।
বৈজ্ঞানিক সত্য
মেঘের কণাগুলোর মধ্যে ঘর্ষণের ফলে স্থির তড়িৎ বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ডিসচার্জ তৈরি হয়। বায়ুমণ্ডলে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে বায়ু হঠাত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হয়, যা শব্দ ও আলো তৈরি করে।
❄️ শীতকাল কেন আসে?
গ্রিক মিথোলজি
পার্সেফোনি যখন পাতালপুরীর রাজার কাছে বন্দি থাকেন, তখন তাঁর মা দেবী ডিমিটার (শস্যের দেবী) দুঃখে আচ্ছন্ন হয়ে পৃথিবীকে বরফে ঢেকে দেন। এই বিচ্ছেদ থেকেই শীতকালের জন্ম।
বৈজ্ঞানিক সত্য
পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকার কারণে বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পৃথিবীর কোনো অংশ সূর্যের দিকে বেশি বা কম হেলে থাকে। ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।

কোরআনের সূর্য পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যায়

আসুন জেনে নেয়া যাক, কোরআনে সূর্যদয় এবং সুর্যাস্ত সম্পর্কে আসলে কী বলা আছে। অর্থাৎ সূর্য কোথায় অস্ত যায় আর কোথা থেকে ওঠে [1]

আমি তাকে পৃথিবীতে আধিপত্য দান করেছিলাম আরতাকে সব রকমের উপায় উপাদান দিয়েছিলাম।
— Taisirul Quran
আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবংপ্রত্যেক বিষয়ের উপায় ও পন্থা নির্দেশ করেছিলাম।
— Sheikh Mujibur Rahman
আমি তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং সববিষয়ের উপায়- উপকরণ দান করেছিলাম।
— Rawai Al-bayan
আমরা তো তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করেছিলাম [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

একবার সে এক রাস্তা ধরল (অর্থাৎ একদিকে একটা অভিযান চালাল)।
— Taisirul Quran
সে এক পথ অবলম্বন করল।
— Sheikh Mujibur Rahman
অতঃপর সে একটি পথ অবলম্বন করল।
— Rawai Al-bayan
অতঃপর সে এক পথ অবলম্বন করল।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

চলতে চলতে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে অস্বচ্ছ জলাশয়ে ডুবতে দেখল আর সেখানে একটি জাতির লোকেদের সাক্ষাৎ পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার কিংবা তাদের সঙ্গে (সদয়) ব্যবহারও করতে পার।’
— Taisirul Quran
চলতে চলতে যখন সে সূর্যের অস্তগমন স্থানে পৌঁছল তখন সে সূর্যকে এক পংকিল পানিতে অস্ত যেতে দেখলএবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল; আমি বললামঃ হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
— Sheikh Mujibur Rahman
অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেল এবং সে এর কাছে একটি জাতির দেখা পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন, তুমি তাদেরকে আযাবও দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদাচরণও করতে পার’।
— Rawai Al-bayan
চলতে চলতে সে যখন সূর্যের অস্ত গমন স্থানে পৌছল [১] তখন সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তগমন করতে দেখল [২] এবং সে সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেল। আমরা বললাম, ‘হে যুল-কারনাইন! তুমি এদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা এদের ব্যাপার সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তারপর সে আরেক পথ ধরল।
— Taisirul Quran
আবার সে এক পথ ধরল।
— Sheikh Mujibur Rahman
তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।
— Rawai Al-bayan
তারপর সে এক উপায় অবলম্বন করল,
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

চলতে চলতে সে সূর্যোদয়ের স্থানে পৌঁছল। সে সূর্যকে এমন এক জাতির উপর উদয় হতে দেখতে পেল, আমি যাদের জন্য সূর্য থেকে বাঁচার কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।
— Taisirul Quran
চলতে চলতে যখন সে সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছল তখন সে দেখলো – ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য সূর্য তাপ হতে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করিনি।
— Sheikh Mujibur Rahman
অবশেষে সে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল তখন সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।
— Rawai Al-bayan
চলতে চলতে যখন সে সূর্যদয়ের স্থলে পৌছল তখন সে দেখল সেটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হচ্ছে যাদের জন্য সূর্যতাপ হতে কোনো অন্তরাল আমরা সৃষ্টি করিনি;
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

সমতল পৃথিবী – সর্বপূর্ব থেকে সর্বপশ্চিম পর্যন্ত সর্বপূর্ব প্রান্ত সূর্যোদয়ের স্থান সর্বপশ্চিম প্রান্ত সূর্যাস্তের স্থান সূর্যোদয় সূর্যাস্ত পঙ্কিল জলাশয় যুলকারনাইন পশ্চিমমুখী সফর পূর্বমুখী সফর পশ্চিমের জাতি সূর্যতাপ থেকে আড়ালহীন জাতি কোরআন ১৮:৮৪–৯০ এর লিটারাল ভিজুয়াল মডেল সমতল পৃথিবী, সূর্যাস্তে পঙ্কিল জলাশয়, সূর্যোদয়ে আড়ালহীন জাতি
এই চিত্রটি কোরআন ১৮:৮৪–৯০ এর বাংলা অনুবাদগুলোকে আক্ষরিকভাবে ধরে একটা সমতল পৃথিবীর মডেলে দেখাচ্ছে — পশ্চিম প্রান্তে সূর্য “এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যাচ্ছে” এবং পূর্ব প্রান্তে সূর্য একটি জাতির উপর সরাসরি উদিত হচ্ছে, যাদের জন্য সূর্য থেকে বাঁচার কোনো আড়াল নেই।
ডায়াগ্রামের ধাপগুলো (টেক্সটের সারাংশ ধরে):
  1. যুলকারনাইনকে কর্তৃত্ব ও উপায়-উপকরণ: মাঝখানের ফিগারটি সেই শাসককে বোঝাচ্ছে, যাকে “যমীনে কর্তৃত্ব” এবং “প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ” দেওয়া হয়েছে (তাইসিরুল কুরআন, শেখ মুজিবুর রহমান, রাওয়ায়ি আল-বায়ান, জাকারিয়া অনুবাদ – সবারই ভাষ্য একরকম)।
  2. পশ্চিমমুখী সফর ও সূর্যাস্তের স্থান: বাম থেকে ডানে চলা সূর্যের পথে যুলকারনাইন পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে “সূর্যকে এক পঙ্কিল/কর্দমাক্ত জলাশয়ে ডুবতে” দেখে এবং সেখানে একটি জাতির মুখোমুখি হয় (সূর্যাস্তের স্থান, “মuddy spring”).
  3. পূর্বমুখী সফর ও সূর্যোদয়ের স্থান: এরপর সে বিপরীত দিকে আরেক পথ ধরে পূর্ব প্রান্তে পৌঁছে এমন এক জাতিকে দেখে, যাদের জন্য “সূর্যতাপ থেকে আত্মরক্ষার কোনো অন্তরাল/আড়াল” নেই — তাই এখানে কোনো ঘর, ছাউনিই আঁকা হয়নি, তারা খোলা সমতলে সরাসরি সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে আছে।

হাদিস সম্পর্কে ইসলামিক আকীদা

ইসলামি ধর্মতত্ত্ব বা আকীদার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মুহাম্মদ-এর প্রতিটি কথা ও কাজকে পরম সত্য হিসেবে গ্রহণ করা। বিশুদ্ধ ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নবীর মুখ নিঃসৃত প্রতিটি শব্দই ঐশী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এবং তা ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে। এই বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো—নবী মুহাম্মদ ব্যক্তিগত আবেগ, রাগ বা খুশির বশবর্তী হয়ে এমন কিছু বলেন না যা অসত্য। ফলে, কোনো সহিহ হাদিসে যদি কোনো বাস্তব জীবনের বা বৈজ্ঞানিক বা মহাজাগতিক দাবি করা হয়, তবে একজন একনিষ্ঠ মুসলিমের কাছে সেটি পর্যবেক্ষণযোগ্য বিজ্ঞানের চেয়েও অধিকতর সত্য হিসেবে বিবেচিত হয় [2]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৯/ শিক্ষা-বিদ্যা, (জ্ঞান-বিজ্ঞান)
পরিচ্ছেদঃ ৪১৭. ইলম লিপিবদ্ধ করা সম্পর্কে।
৩৬০৭. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ….. আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যা কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে শ্রবণ করতাম, তা লিখে রাখতাম। আমি ইচ্ছা করতাম যে, আমি এর সবই সংরক্ষণ করি। কিন্তু কুরাইশরা আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করে এবং বলেঃ তুমি যা কিছু শোন তার সবই লিখে রাখ, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, তিনি তো কোন সময় রাগান্বিত অবস্থায় কথাবার্তা বলেন এবং খুশীর অবস্থায়ও বলেন। একথা শুনে আমি লেখা বন্ধ করি এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করি। তখন তিনি তার আংগুল দিয়ে নিজের মুখের প্রতি ইাশারা করে বলেনঃ তুমি লিখতে থাক, ঐ যাতের কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন, যা কিছু এ মুখ হতে বের হয়, তা সবই সত্য।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)


হাদিসে বর্ণিত সূর্য সম্পর্কিত কাহিনী

ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, সূর্য রাতের বেলা আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে ইবাদত বন্দেগী করে, এবং সকাল বেলা আল্লাহ অনুমতি দিলে সে আবারো উদিত হয়। আমরা যারা পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি, পৃথিবী গোলাকৃতি, এবং কোন না কোন অঞ্চলে কখনো না কখনো সূর্য আলো দিচ্ছে, একপাশে দিন হলে আরেকপাশে রাত হচ্ছে, এই কথাগুলোর সম্পুর্ণ বিপরীতে চলে যাচ্ছে হাদিসের এই কথাগুলো [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15]

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৫/ কুরআনের হরুফ এবং কিরাত
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই।
৩৯৬১. উবায়দুল্লাহ্ ইবন উমার (রহঃ) …… আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে একটি গাধার পেছনে সওয়ার ছিলাম। এ সময় সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি জান, সূর্য কোথায় অস্তমিত হয়? আমি বলি, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে অধিক অবহিত। তিনি বলেন عَيْنِ حَامِيَةٍ এটি অর্থাৎ গরম প্রস্রবণের মধ্যে যায়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
২৯৭২। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবূ যার (রাঃ)-কে বললেন, তুমি কি জানো, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদায় পড়ে যায়। এরপর সে পুনঃ উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। আর অচিরেই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে যে পথে এসেছ, সে পথে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে–এটাই মর্ম হল আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর সূর্য গমন করে তার নির্দিষ্ট গন্ত্যব্যের দিকে, এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
(কোরআন ৩৬:৩৮)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم “এবং সূর্য ভ্রমন করে তার নির্দৃিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রন।”
৪৪৩৯ আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যাস্তের সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জানো সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন।তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত আয়াত‏وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ‏ এ এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশলী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم “এবং সূর্য ভ্রমন করে তার নির্দৃিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এ পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রন।”
৪৪৪০। হুমায়দী (রহঃ) … আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর বাণীঃمُسْتَقَرُّ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না
২৯৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন।তিনি বললেনঃ এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থানস্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়লে হয়েই উদিত হয়।
সে আবার চলতে থাকে এবং আরশের নিচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সিজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, ওঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথার্রীতি আরশের নিচে তার নিদৃষ্টস্থলে যাবে। তাকে বলা হবে, ওঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিম গগনে উদিত হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জানো? সে দিন ঐ ব্যাক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যাক্তি পুর্বে ঈমান আনে নাই কিংবা যে ব্যাক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করে নাই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না
২৯৮। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় উপবিষ্ট ছিলেন। সূর্য অন্তমিত হলে তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! জানো, এ সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তার গন্তব্য স্থলে যায় এবং আল্লাহর কাছে সিজদার অনুমতি চায়। তখন তাকে অনুমতি দেয়া হয়। পরে একদিন যখন তাকে বলা হবে যেদিক থেকে এসেছো সেদিকে ফিরে যাও। অনন্তর তা অস্থাচল থেকে উদিত হবে। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদের কিরাআত অনুসারে তিলাওয়াত করেনঃذَلِكَ مُسْتَقَرٌّ لَهَا এ তার গন্তব্যস্থল
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না
২৯৯। আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আামরা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেوَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا “এবং সূর্য ভ্রমণ করে উহার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিবে” (৩৬ঃ ৩৮) এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ আরশের নিচে তার গন্তব্য স্থল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ হাদিসে কুদসি
১/ বিবিধ হাদিসসমূহ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রশংসামূলক কতক বাক্যের ফযিলত
১৬১. আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন তার উপর একটি পাড়যুক্ত চাদর ছিল। তিনি বলেন: এটা ছিল সূর্যাস্তের সময়, তিনি আমাকে বলেন: “হে আবূ যর তুমি জান এটা কোথায় অস্ত যায়?” তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বলেন: সূর্যাস্ত যায় একটি কর্দমাক্ত ঝর্ণায়, সে চলতে থাকে অবশেষে আরশের নিচে তার রবের জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, যখন বের হওয়ার সময় আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন, ফলে সে বের হয় ও উদিত হয়। তিনি যখন তাকে যেখানে অস্ত গিয়েছে সেখান থেকে উদিত করার ইচ্ছা করবেন আটকে দিবেন, সে বলবে: হে আমার রব আমার পথ তো দীর্ঘ, আল্লাহ বলবেন: যেখান থেকে ডুবেছে সেখান থেকেই উদিত হও, এটাই সে সময় যখন ব্যক্তিকে তার ঈমান উপকার করবে না”। [আহমদ] হাদিসটি সহিহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ৬৫/৩৬/১. আল্লাহর বাণীঃ আর সূর্য নিজ গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (সূরাহ ইয়াসীন ৩৬/৩৮)
৪৮০২. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে মসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জান সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সবচেয়ে ভাল জানেন।তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। নিম্নবর্ণিত وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ এ আয়াতের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের পানে, এ হল পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৩৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ ৬৫/৩৬/১. আল্লাহর বাণীঃ আর সূর্য নিজ গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (সূরাহ ইয়াসীন ৩৬/৩৮)
৪৮০৩. আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আল্লাহর বাণীঃ وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৪০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৯৭/ তাওহীদ
পরিচ্ছেদঃ ৯৭/২৩. আল্লাহর বাণীঃ ফেরেশতা এবং রূহ্ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়- (সূরা আল মা‘আরিজ ৭০/৪)। এবং আল্লাহর বাণীঃ তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে- (সূরাহ ফাত্বির ৩৫/১০)।
৭৪৩৩. আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছি, ‘‘আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে’’ আল্লাহর এ কথা সম্পর্কে। তিনি বলেছেনঃ সূর্যের নির্দিষ্ট গন্তব্য হল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১। ঈমান [বিশ্বাস]
পরিচ্ছেদঃ ৭২. যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না।
২৮৯-(২৫০/১৫৯) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ) ….. আবূ যার (রাযিঃ) বলেন, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান, এ সূর্য কোথায় যায়? সাহাবাগণ বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, এ সূর্য চলতে থাকে এবং (আল্লাহ তা’আলার) আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয়, উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও! অনন্তর সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল দিয়েই উদিত হয়। তা আবার চলতে থাকে এবং আরশের নীচে অবস্থিত তার অবস্থান স্থলে যায়। সেখানে সে সাজদাবনত অবস্থায় পড়ে থাকে। শেষে যখন তাকে বলা হয় উঠ এবং যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। তখন সে ফিরে আসে এবং নির্ধারিত উদয়স্থল হয়েই সে উদিত হয়। এমনিভাবে চলতে থাকবে; মানুষ তার থেকে অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখবে না। শেষে একদিন সূর্য যথারীতি আরশের নীচে তার অবস্থানে যাবে। তাকে বলা হবে, উঠ এবং অস্তাচল থেকে উদিত হও। অনন্তর সেদিন সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (কুরআনের বাণী) “কোন দিন সে অবস্থা হবে তোমরা জান? সেদিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি”- (সূরাহ আল আনআম ৬ঃ ১৫৮)*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩০৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ যার আল-গিফারী (রাঃ)


শায়েখ উসাইমিনের ফতোয়াঃ পৃথিবী নয়, সূর্যই ঘুরে!

এবারে আসুন শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন রচিত ফতোয়ায়ে আরকানুল ইসলাম থেকে একটি বিখ্যাত ফতোয়া দেখে নিই [16] [17]

প্রশ্ন: (১৬) সূর্য কি পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে?
উত্তর: মান্যবর শাইখ উত্তরে বলেন যে, শরী‘আতের প্রকাশ্য দলীলগুলো প্রমাণ করে যে, সূর্যই পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরে। এ ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রির আগমণ ঘটে। আমাদের হাতে এ দলীলগুলোর চেয়ে বেশি শক্তিশালী এমন কোনো দলীল নেই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘূরার দলীলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি। সূর্য ঘুরার দলীলগুলো হলো আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأۡتِي بِٱلشَّمۡسِ مِنَ ٱلۡمَشۡرِقِ فَأۡتِ بِهَا مِنَ ٱلۡمَغۡرِبِ﴾ [البقرة: ٢٥٨]
“আল্লাহ তা‘আলা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৮] সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলীল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর উপর পরিভ্রমণ করে।
২) আল্লাহ বলেন,
﴿فَلَمَّا رَءَا ٱلشَّمۡسَ بَازِغَةٗ قَالَ هَٰذَا رَبِّي هَٰذَآ أَكۡبَرُۖ فَلَمَّآ أَفَلَتۡ قَالَ يَٰقَوۡمِ إِنِّي بَرِيٓءٞ مِّمَّا تُشۡرِكُونَ ٧٨﴾ [الانعام: ٧٨]
“অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অবস্থায় উঠতে দেখলেন তখন বললেন, এটি আমার রব, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৭৮]
এখানে নির্ধারণ হয়ে গেল যে, সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়। একথা বলা হয় নি যে, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেল। পৃথিবী যদি ঘূরত তাহলে অবশ্যই তা বলা হত।
৩) আল্লাহ বলেন,
﴿وَتَرَى ٱلشَّمۡسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَٰوَرُ عَن كَهۡفِهِمۡ ذَاتَ ٱلۡيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقۡرِضُهُمۡ ذَاتَ ٱلشِّمَالِ﴾ [الكهف: ١٧]
“তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” [সূরা কাহাফ, আয়াত: ১৭] পাশ কেটে ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদিনড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলতেন সূর্য থেকে গুহা পাশ কেটে যায়। উদয় হওয়া এবং অস্ত যাওয়াকে সূর্যের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা থেকে বুঝা যায় যে, সূর্যই ঘুরে। পৃথিবী নয়।
৪) আল্লাহ বলেন,
﴿وَهُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ فِي فَلَكٖ يَسۡبَحُونَ ٣٣﴾ [الانبياء: ٣٣]
“এবং তিনিই দিবা-নিশি এবং চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সবাই আপন আপন কক্ষ পথে বিচরণ করে।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৩]
ইবন আব্বাস বলেন, লাটিম যেমন তার কেন্দ্র বিন্দুর চার দিকে ঘুরতে থাকে, সূর্যও তেমনিভাবে ঘুরে।
৫) আল্লাহ বলেন,
﴿يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثٗا﴾ [الاعراف: ٥٤]
“তিনি রাতকে আচ্ছাদিত করেন দিনের মাধ্যমে, দিন দৌড়ে দৌড়ে রাতের পিছনে আসে।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৫৪]
আয়াতে রাতকে দিনের অনুসন্ধানকারী বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী পিছনে পিছনে দ্রুত অনুসন্ধান করে থাকে। এটা জানা কথা যে, দিবা-রাত্রি সূর্যের অনুসারী।
৬) আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ بِٱلۡحَقِّۖ يُكَوِّرُ ٱلَّيۡلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيۡلِۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ يَجۡرِي لِأَجَلٖ مُّسَمًّىۗ أَلَا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡغَفَّٰرُ ٥﴾ [الزمر: ٥]
“তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫]
আয়াতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, পৃথিবীর উপরে দিবা-রাত্রি চলমান রয়েছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো তাহলে তিনি বলতেন, দিবা-রাত্রির উপর পৃথিবীকে ঘূরান। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “সূর্য এবং চন্দ্রের প্রত্যেকেই চলমান”। এ সমস্ত দলীলের মাধ্যমে জানা গেল যে, সুস্পষ্টভাবেই সূর্য ও চন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করছে। এ কথা সুস্পষ্ট যে, চলমান বস্তুকে বশীভুত করা এবং কাজে লাগানো একস্থানে অবস্থানকারী বস্তুকে কাজে লাগানোর চেয়ে অধিক যুক্তিসঙ্গত।
৭) আল্লাহ বলেন,
﴿وَٱلشَّمۡسِ وَضُحَىٰهَا ١ وَٱلۡقَمَرِ إِذَا تَلَىٰهَا ٢﴾ [الشمس: ١، ٢]
“শপথ সূর্যের ও তার কিরণের, শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে।” [সূরা আশ-শামস, আয়াত: ১-২]
এখানে বলা হয়েছে যে, চন্দ্র সূর্যের পরে আসে। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সূর্য এবং চন্দ্র চলাচল করে এবং পৃথিবীর উপর ঘুরে। পৃথিবী যদি চন্দ্র বা সূর্যের চার দিকে ঘুরত, তাহলে চন্দ্র সূর্যকে অনুসরণ করতনা। বরং চন্দ্র একবার সূর্যকে, আর একবার সূর্য চন্দ্রকে অনুসরণ করত। কেননা সূর্য চন্দ্রের অনেক উপরে। এ আয়াত দিয়ে পৃথিবী স্থীর থাকার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করার ভিতরে চিন্তা-ভাবনার বিষয় রয়েছে।
৮) মহান আল্লাহ বলেন,
﴿وَٱلشَّمۡسُ تَجۡرِي لِمُسۡتَقَرّٖ لَّهَاۚ ذَٰلِكَ تَقۡدِيرُ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡعَلِيمِ ٣٨ وَٱلۡقَمَرَ قَدَّرۡنَٰهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَٱلۡعُرۡجُونِ ٱلۡقَدِيمِ ٣٩ لَا ٱلشَّمۡسُ يَنۢبَغِي لَهَآ أَن تُدۡرِكَ ٱلۡقَمَرَ وَلَا ٱلَّيۡلُ سَابِقُ ٱلنَّهَارِۚ وَكُلّٞ فِي فَلَكٖ يَسۡبَحُونَ ٤٠﴾ [يس: ٣٨، ٤٠]
“সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নির্ধারণ। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে চন্দ্রকে নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। রাতের পক্ষেও দিনের অগ্রবতী হওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৩৮-৪০]
সূর্যের চলা এবং এ চলাকে মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্ধারণ বলে ব্যাখ্যা করা এটাই প্রমাণ করে যে, সূর্য প্রকৃতভাবেই চলমান। আর এ চলাচলের কারণেই দিবা-রাত্রি এবং ঋতুর পরিবর্তন হয়। চন্দ্রের জন্য মঞ্জিল নির্ধারণ করার অর্থ এ যে, সে তার মঞ্জিলসমূহে স্থানান্তরিত হয়। যদি পৃথিবী ঘুরত, তাহলে পৃথিবীর জন্য মঞ্জিল নির্ধারণ করা হত। চন্দ্রের জন্য নয়। সূর্য কর্তৃক চন্দ্রকে ধরতে না পারা এবং দিনের অগ্রে রাত থাকা সূর্য, চন্দ্র, দিন এবং রাতের চলাচলের প্রমাণ বহন করে।
৯) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবু যরকে বলেছেন,
«أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا»
“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস্ত যায় তখন কোথায় যায়? আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় ‘আরশের নিচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। সে দিন বেশি দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।”[1]
এটি হবে কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে। আল্লাহ সূর্যকে বলবেন, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফেরত যাও, অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সূর্য পৃথিবীর উপরে ঘুরছে এবং তার এ ঘুরার মাধ্যমেই উদয়-অস্ত সংঘটিত হচ্ছে।
১০) অসংখ্য হাদীসের মাধ্যমে জানা যায় যে, উদয় হওয়া, অস্ত যাওয়া এবং ঢলে যাওয়া এ কাজগুলো সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো সূর্য থেকে প্রকাশিত হওয়া খুবই সুস্পষ্ট। পৃথিবী হতে নয়। হয়তো এ ব্যাপারে আরো দলীল-প্রমাণ রয়েছে। সেগুলো আমার এ মুহূর্তে মনে আসছেনা। তবে আমি যা উল্লেখ করলাম, এ বিষয়টির দ্বার উম্মুক্ত করবে এবং আমি যা উদ্দেশ্য করেছি, তা পূরণে যথেষ্ট হবে। আল্লাহর তাওফীক চাচ্ছি!
[1] সহীহ বুখারী, অধ্যায়: বাদউল খালক; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ঈমান

সূর্য
সূর্য 1
সূর্য 3

আলেমদের বক্তব্যঃ আল্লাহই ভাল জানেন

আসুন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় আলেমগণ কীভাবে এই বিষয়ক প্রশ্নের সম্মুখে হলে কত ধরণের মানসিক কসরত এবং গোঁজামিল দিতে চেষ্টা করেন, মূল প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রশ্নটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করে সেটার উত্তর দিতে থাকেন, সেটি দেখে নিই,

এবারে আসুন শায়খ মতিউর রহমান মাদানী এই বিষয়ে কী বলে জেনে নেয়া যাক,


বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসের অসংগতি

এই হাদিসে যে ধরনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। বর্তমান বিজ্ঞান অনুসারে, সূর্য কখনোই কোনো সত্তার কাছে সিজদা করতে যেতে পারে না। সূর্য হলো একটি বিশাল প্লাজমার গোলক, যার ভর ১.৯৮ × ১০^৩০ কিলোগ্রাম এবং এটি মহাকর্ষীয় বলের মাধ্যমে আমাদের সৌরজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি নিজের অক্ষের ওপর ঘূর্ণিত হয় এবং প্রতি ২৫ দিনে একবার পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। সূর্য প্রতি সেকেন্ডে ৬২০ মিলিয়ন টন হাইড্রোজেন হেলিয়ামে রূপান্তরিত করে শক্তি উৎপন্ন করে, যা আমাদের পৃথিবীতে আলো ও তাপ সরবরাহ করে। তাহলে, এই বিশাল ও শক্তিশালী নক্ষত্র কীভাবে আল্লাহর আরশের নিচে সিজদা করতে যেতে পারে? পৃথিবী গোলাকৃতি হওয়ার কারণে, যখন বাংলাদেশে দিন, সেই সময়ে আমেরিকাতে রাত। অর্থাৎ পৃথিবীর কোন না কোন স্থান থেকে সূর্যকে সর্বদাই দেখা যাচ্ছে। তাই সূর্যের রাতের বেলা কোথাও যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।

তাছাড়া, কোরআনে সূর্যকে একটি গরম প্রস্রবণে (عين حمئة) ডুবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি সরাসরি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। পৃথিবীর এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে সূর্য অস্ত যায় বা গরম প্রস্রবণের মধ্যে ডুবে যায়। সূর্য একটি স্থানে ধীরে ধীরে অস্ত না হয়ে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অদৃশ্য হয়। তাই, এই ধরনের বর্ণনা বাস্তবিক জ্ঞান এবং প্রমাণের পরিপন্থী।


ধর্মীয় বিশ্বাসের অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব

ধর্মীয় বিশ্বাসের এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জ্ঞানচর্চা এবং যুক্তিবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদি কোনো ধর্মগ্রন্থ বা হাদিস মানুষকে এমন কোনো ধারণা শেখায়, যা বিজ্ঞানের প্রমাণিত সত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তবে তা মানুষের জ্ঞানচর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তাদের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে তোলে। মানুষ তখন সত্য জানার পরিবর্তে কল্পনা এবং অন্ধবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা তাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।

এই হাদিসের মতো বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় বিশ্বাস অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাকে বেশি প্রাধান্য দেয় এবং মানুষকে প্রকৃত জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মানুষ যদি এই ধরনের ভুল তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তারা নিজেদের জ্ঞান ও বিজ্ঞানচর্চা থেকে পিছিয়ে পড়বে এবং প্রগতির পথে বাধাগ্রস্ত হবে।


এড হক ফ্যালাসির প্রয়োগ ও অপোলজিস্টদের আধুনিক কারচুপি

যখনই কোনো ধর্মীয় টেক্সট বা হাদিসের দাবি আধুনিক বিজ্ঞানের অকাট্য প্রমাণের সামনে অসার প্রমাণিত হয়, তখনই ধর্মতাত্ত্বিকরা ‘এড হক’ (Ad Hoc Hypothesis) নামক এক ধরণের যৌক্তিক ফ্যালাসির আশ্রয় নেন। এড হক ফ্যালাসি হলো—কোনো একটি দাবিকে ভুল প্রমাণিত হওয়া থেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো শর্ত বা মনগড়া ব্যাখ্যা জুড়ে দেওয়া, যা মূল টেক্সটে আগে থেকে বিদ্যমান ছিল না। সূর্য আরশের নিচে সিজদা করা কিংবা পঙ্কিল জলাশয়ে ডুবে যাওয়ার বর্ণনার ক্ষেত্রেও এই ফ্যালাসির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।


রূপক ও প্রতীকের আড়ালে পলায়ন

সহিহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় যখন বলা হয়, সূর্য আল্লাহর কাছে “অনুমতি” চায় এবং আল্লাহ তাকে “ফিরে যেতে” বলেন, তখন এটি স্পষ্টতই একটি সচেতন সত্তার ভৌত ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞান যখন প্রমাণ করল যে সূর্য কোথাও যায় না, বরং পৃথিবী ঘোরে—তখন অপোলজিস্টরা দাবি করতে শুরু করলেন যে, ‘সিজদা’ মানে এখানে সূর্যের “প্রাকৃতিক নিয়মের আনুগত্য করা”

এটি একটি ক্লাসিক এড হক ফ্যালাসি। কারণ, যদি সিজদা মানে কেবল প্রাকৃতিক নিয়ম মানাই হতো, তবে “অনুমতি চাওয়া” বা “ফিরে যাওয়ার নির্দেশ”—এই সুনির্দিষ্ট ডায়ালগগুলোর কোনো প্রয়োজন থাকত না। এই রূপকায়ন আসলে টেক্সটকে বিজ্ঞানের থাবা থেকে বাঁচানোর একটি মরিয়া প্রচেষ্টা মাত্র।


জুলকারনাইনের “ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা” সংক্রান্ত মিথ

বর্তমানে একদল আধুনিক অপোলজিস্ট দাবি করেন যে, সূরা কাহফের ৮৬ নম্বর আয়াতে সূর্যকে পঙ্কিল জলাশয়ে ডুবতে দেখার বিষয়টি আল্লাহর বক্তব্য নয়; বরং এটি জুলকারনাইনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা দৃষ্টিভঙ্গি (Optical Illusion)। তাদের দাবি—জুলকারনাইন সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে তার কাছে “মনে হয়েছিল” সূর্য পানিতে ডুবছে।

এই দাবিটি কেবল একটি কুযুক্তিই নয়, বরং কোরআনের টেক্সটকে সরাসরি বিকৃত করার সামিল। এর খণ্ডন নিচে দেওয়া হলো:

📖
আল্লাহর বর্ণনামূলক ভঙ্গি
সূরা কাহফের ৮৪ থেকে ৮৬ নম্বর আয়াতগুলো পড়লে দেখা যায়, বর্ণনার শুরু থেকেই আল্লাহ নিজে কথা বলছেন। আল্লাহ বলছেন, “আমি তাকে জমিনে আধিপত্য দিয়েছিলাম” এবং “আমি তাকে সব ধরণের উপায়-উপকরণ দিয়েছিলাম” [18]। অর্থাৎ, সফরটি আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে এবং বর্ণনায় ছিল। এটি কোনো সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির বিবরণ নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা
🌍
বস্তুনিষ্ঠ ভৌগোলিক অবস্থান
আয়াতে বলা হয়েছে, জুলকারনাইন “সূর্যাস্তের স্থানে” (মাগরিব আল-শামস) পৌঁছেছিলেন [19]। বিজ্ঞান অনুসারে সূর্যের কোনো নির্দিষ্ট অস্ত যাওয়ার ‘স্থান’ নেই; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু কোরআনিক কসমোলজিতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নির্দিষ্ট ভৌত সীমানা বা ‘সীমান্ত’ (Edges of the Flat Earth) কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে সূর্য আক্ষরিকভাবেই জলাশয়ে প্রবেশ করে।
☀️
সূর্যোদয় ও আড়ালহীন জাতি
জুলকারনাইনের পরবর্তী সফরের বর্ণনায় [20] বলা হয়েছে, তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছলেন যেখানে সূর্য একটি জাতির ওপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য কোনো “আড়ালের ব্যবস্থা” নেই [21]। যদি এটি কেবল দেখার ভুল বা অপটিক্যাল ইলিউশন হতো, তবে সেই বিশেষ জাতির জন্য আড়াল না থাকার ভৌগোলিক বর্ণনা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়ে। এটি প্রমাণ করে যে, কোরআনের রচয়িতা সূর্যকে এমন এক অবস্থানে কল্পনা করেছিলেন যা পৃথিবীর কোনো একটি প্রান্তের অত্যন্ত নিকটবর্তী

সুতরাং, একে জুলকারনাইনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাটি হলো একটি পোস্ট-হক জাস্টিফিকেশন। যদি এটি কেবল তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিই হতো, তবে আল্লাহ কেন তাঁর ‘ঐশী বাণীতে’ একটি অবৈজ্ঞানিক ভ্রান্তিকে পরম সত্য হিসেবে কোট করবেন? আসলে, এই এড হক ব্যাখ্যাগুলো কেবল তখনই তৈরি করা হয়েছে, যখন মানুষ জানতে পেরেছে যে পৃথিবী গোল এবং সূর্য কোনো জলাশয়ে ডুবে যায় না।

AD HOC FALLACY DEBUNKED
🚩 অপোলজিস্টদের দাবি

“জুলকারনাইন কেবল নিজের চোখে সূর্যকে ডুবতে দেখেছিলেন (দৃষ্টিভ্রম), আল্লাহ এখানে বৈজ্ঞানিক সত্য বলছেন না।”

✅ টেক্সচুয়াল বাস্তবতা

আগের আয়াতে (১৮:৮৪-৮৫) আল্লাহ বলছেন—”আমিই তাকে সামর্থ্য দিয়েছি”। পুরো বর্ণনাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ (Objective) বর্ণনা হিসেবে উপস্থাপিত, কোনো ব্যক্তির দৃষ্টিভ্রম হিসেবে নয়।

যৌক্তিক সিদ্ধান্ত: একটি অবৈজ্ঞানিক বর্ণনাকে ‘ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা’ বলে চালিয়ে দেওয়া হলো তথ্য লুকানোর একটি অপকৌশল। যদি টেক্সটটি অভ্রান্ত হতো, তবে আল্লাহ নিজেই সেখানে স্পষ্ট করতেন যে এটি কেবল জুলকারনাইনের “মনে হয়েছিল”।

উপসংহারঃ প্রাচীন কসমোলজি বনাম মহাজাগতিক বাস্তবতা

মহাকাশবিজ্ঞান ও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অকাট্য প্রমাণের সামনে দাঁড়িয়ে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত সূর্যের ‘সেজদা করা’ কিংবা ‘পঙ্কিল জলাশয়ে ডুবে যাওয়া’র আখ্যানগুলো স্রেফ এক সুদূর অতীতের ভ্রান্ত বিশ্ব-চেতনার স্বাক্ষর হিসেবেই প্রতীয়মান হয়। পৃথিবী গোলাকার এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে এর আবর্তনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর, প্রাচীন এই কসমোলজিকে আক্ষরিকভাবে গ্রহণ করা আজ যে কোনো যুক্তিমনস্ক মানুষের জন্য অসম্ভব। যখনই এই অস্পষ্ট এবং অবৈজ্ঞানিক বর্ণনাগুলোকে বাঁচাতে ধর্মতাত্ত্বিকরা ‘রূপক’ বা ‘ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা’র দোহাই দিয়ে ‘এড হক’ ব্যাখ্যার আশ্রয় নেন, তখন তারা মূলত বিজ্ঞানের কাছে ধর্মের পরাজয়কেই পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেন।

পরিশেষে বলা যায়, ইসলামিক টেক্সটে সূর্যের যে গতিপথ ও আচরণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা কোনো সর্বজনীন ঐশী সত্য নয়; বরং সপ্তম শতাব্দীর আরব্য জনপদে প্রচলিত ‘সমতল পৃথিবী’ এবং ‘স্তরভিত্তিক আসমান’ সংক্রান্ত ভুল ধারণারই একটি সংকলন। সূর্যকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে উদয় হতে দেখা কিংবা কর্দমাক্ত জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখা—এই বর্ণনাগুলো সেই যুগের সীমিত ভৌগোলিক জ্ঞানের অনিবার্য ফসল। আজকের দিনে এই বর্ণনার অসারতা ঢাকতে ‘মুভিং দ্য গোলপোস্ট’ বা শব্দের অর্থ নিয়ে কারচুপি করা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক অসততাই নয়, বরং মানুষের প্রগতিশীল চিন্তাকে কুসংস্কারের শেকলে বেঁধে ফেলার একটি অপপ্রয়াস মাত্র। বিজ্ঞান আমাদের শিখিয়েছে যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কোনো অতিপ্রাকৃত আরশের নিচে সিজদা করে চলে না, বরং তা চলে পদার্থবিজ্ঞানের নিখুঁত ও অমোঘ গাণিতিক নিয়মে। সত্য অনুসন্ধানের যাত্রায় তাই প্রাচীন উপকথার চেয়ে যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক দাবি।



তথ্যসূত্রঃ
  1. সূরা কাহফ, আয়াত ৮৪-৯০ ↩︎
  2. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৬০৭ ↩︎
  3. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৯৬১ ↩︎
  4. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৯৭২ ↩︎
  5. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪৩৯ ↩︎
  6. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪৪০ ↩︎
  7. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৯৬ ↩︎
  8. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৯৮ ↩︎
  9. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ২৯৯ ↩︎
  10. সহীহ হাদিসে কুদসি, হাদিসঃ ১৬১ ↩︎
  11. সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), হাদিসঃ ৪৮০২ ↩︎
  12. সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), হাদিসঃ ৪৮০৩ ↩︎
  13. সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন), হাদিসঃ ৭৪৩৩ ↩︎
  14. সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিসঃ ২৮৯ ↩︎
  15. নিকটবর্তী আসমানে আল্লাহ পাক ↩︎
  16. ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ঈমান, শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) ↩︎
  17. ফতোয়ায়ে আরকানুল ইসলাম, শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল উসাইমীন, পৃষ্ঠা ৩৭, ৩৮, ৩৯ ↩︎
  18. সূরা কাহফ ১৮:৮৪–৮৫ ↩︎
  19. সূরা কাহফ ১৮:৮৬ ↩︎
  20. আয়াত ৯০ ↩︎
  21. সূরা কাহফ ১৮:৯০ ↩︎