সুনান ইবনে মাজাহ
সিয়াম বা রোজা
হাদিস 1,638
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্র মর্জি হলে আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকাজের প্রতিদান দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আল্লাহ্ বলেন, তবে সিয়াম...
হাদিস 1,639
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যুদ্ধের মাঠে ঢাল যেমন তোমাদের রক্ষাকারী, সিয়ামও তদ্রূপ জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল। [১৬৩৯]
হাদিস 1,640
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জান্নাতের একটি দরজার নাম ‘রায়্যান’। কিয়ামাতের দিন সেখান থেকে আহ্বান করা হবেঃ রোযাদারগণ কোথায়? যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, সে উক্ত দরজা দিয়ে...
হাদিস 1,641
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় রমজান মাসের সিয়াম রাখলো, তার পূর্বের গুণাহরাশি মাফ করা হলো। [১৬৪১]
হাদিস 1,642
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন রমজান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অভিশপ্ত জিনদের শৃংখলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, তার একটি...
হাদিস 1,643
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা প্রতি ইফতারের অর্থাৎ প্রতি রাতে বেশ সংখ্যক লোককে (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি দেন। [১৬৪৩]
হাদিস 1,644
রমজান মাস শুরু হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের নিকট এ মাস সমুপস্থিত। এতে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ থেকে যে...
হাদিস 1,645
সন্দেহের দিনে আমরা আম্মার (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন একটি (ভুনা) বকরী পেশ করা হলো। কতক লোক পিছনে সরে গেলো। আম্মার (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আজ সিয়াম...
হাদিস 1,646
চাঁদ দেখার একদিন আগে থেকে সিয়াম রাখতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। [১৬৪৬]
হাদিস 1,647
তিনি মুআবিয়া বিন আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছেন, রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ সিয়াম অমুক অমুক দিন। আমরা আগেই...
হাদিস 1,648
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শা‘বান মাসে সিয়াম রাখতে রাখতে রমাদানে পৌঁছতেন। [১৬৪৮]
হাদিস 1,649
তিনি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় গোটা শা‘বান মাস সিয়াম রাখতেন, এমনকি...
হাদিস 1,650
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমজান মাসের এক দিন বা দু’দিন আগে সিয়াম রাখা শুরু না করে। তবে যে ব্যক্তি অনবরত সিয়াম রাখতে অভ্যস্ত,...
হাদিস 1,651
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে রমজান মাস না আসা পর্যন্ত কোন সিয়াম নাই। [১৬৫১]
হাদিস 1,652
এক বেদুইন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললো, আমি আজ রাতে (সন্ধ্যায়) নতুন চাঁদ দেখেছি। তিনি বলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, “আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ...
হাদিস 1,653
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবী এবং আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত আমার এক চাচা (ইসমু মুবহাম বা নাম অজ্ঞাত) আমার নিকট বর্ণনা করেন, মেঘের কারণে আমরা শাওয়ালের নতুন...
হাদিস 1,654
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখে ইফতার (রোযার সমাপ্তি) করবে। তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে।...
হাদিস 1,655
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা নতুন চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা শুরু করবে এবং (শাওয়ালের) নতুন চাঁদ দেখে ইফতার (ঈদ) করবে। তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তোমরা ৩০...
হাদিস 1,656
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করেনঃ মাসের কত দিন গত হয়েছে? রাবী বলেন, আমরা বললাম, বাইশ দিন এবং আট দিন বাকী আছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...
হাদিস 1,657
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনে হয়, মাস এত দিনেও হয় এবং তৃতীয়বারে তিনি একটি আঙ্গুল বন্ধ করে রাখেন। [১৬৫৭]
হাদিস 1,658
আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ঊনত্রিশ দিনের চেয়ে বেশির ভাগ ত্রিশ দিনই (রমাদানের রোযা) রেখেছি। [১৬৫৮]
হাদিস 1,659
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈদের দু’মাস রমজান এবং যুল-হিজ্জা (সাধারণত) একই বছরে কম (ঊনত্রিশ দিনে) হয় না। [১৬৫৯]
হাদিস 1,660
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে দিন তোমরা ইফতার (সিয়াম শেষ) করো সেদিন ঈদুল ফিতর এবং যেদিন তোমরা কুরবানী করো সেদিন ঈদুল আদহা। [১৬৬০]
হাদিস 1,661
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো সফররত অবস্থায় সিয়াম রাখতেন এবং কখনো রাখতেন না। [১৬৬১]
হাদিস 1,662
হামযাহ আল-আসলামী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করে বলেন, আমি সিয়াম রাখি। আমি কি সফররত অবস্থায়ও সিয়াম রাখবো? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি চাইলে...
হাদিস 1,663
আমরা প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে প্রচণ্ড খরতাপের শিকার হলাম। গরমের তীব্রতার কারণে লোকেরা তাদের হাত মাথার উপর রাখছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি...
হাদিস 1,664
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সফরে সিয়াম রাখা সাওয়াবের কাজ নয়। [১৬৬৪]
হাদিস 1,665
রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সফরে সিয়াম রাখা সাওয়াবের কাজ নয়। [১৬৬৫]
হাদিস 1,666
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফরে সিয়াম রাখে সে আবাসে উপস্থিত সিয়াম ভঙ্গকারী ব্যক্তির অনুরূপ। আবূ ইসহাক (রহঃ) বলেন, হাদীসটি নির্ভরযোগ্য নয়। [১৬৬৬]
হাদিস 1,667
আবদুল আশহাল গোত্রের এবং আলী বিন মুহাম্মাদের মতে আবদুল্লাহ বিন কা’ব গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন, রসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অশ্বারোহী বাহিনী আমাদের উপর হামলা করলো। আমি...
হাদিস 1,668
যে গর্ভবতী নারী নিজ জীবনের ক্ষতির আশঙ্কা করে এবং যে স্তন্যদায়িনী মা তার সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে সিয়াম না রাখার অনুমতি দিয়েছেন।...
হাদিস 1,669
তিনি বলেন, আমার উপর রমজান মাসের রোযার কাদা’ থাকলে আমি শা’বান মাস না আসা পর্যন্ত তা রাখতাম না। [১৬৬৯]
হাদিস 1,670
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় আমরা ঋতুবতী হতাম। তিনি আমাদের (ছুটে যাওয়া) রোযার কাদা’ করার নির্দেশ দিতেন। [১৬৭০]
হাদিস 1,671
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললো, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বলেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো। সে বললো, আমি রমযানের রোযারত অবস্থায় স্ত্রী...
হাদিস 1,672
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা ওজরে রমজান মাসের একদিন সিয়াম ভাঙ্গে সে সারা জীবন সিয়াম রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না। [১৬৭২]
হাদিস 1,673
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন রোযাদার ভুলক্রমে আহার করলে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ্ তাকে পানাহার করিয়েছেন। [১৬৭৩]
হাদিস 1,674
আমরা একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় মেঘাচ্ছন্ন দিনে ইফতার করলাম, তারপর সূর্য প্রকাশ পেলো। অধঃস্তন রাবী বলেন, আমি হিশাম (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাদেরকে কাযা’ করার নির্দেশ...
হাদিস 1,675
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন রোযারত অবস্থায় তাদের নিকট বেরিয়ে আসেন। তিনি পানির পাত্র চেয়ে নিয়ে পানি পান করেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি তো এই...
হাদিস 1,676
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যার মুখ ভরে বমি হয় তাকে সিয়াম কাদা’ করতে হবে না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তাকে রোযার কাদা’ করতে হবে। [১৬৭৬]
হাদিস 1,677
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোযাদারের উত্তম গুণাবলির একটি হলো দাঁতন করা। [১৬৭৭]
হাদিস 1,678
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় সুরমা লাগিয়েছেন। [১৬৭৮]
হাদিস 1,679
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়, তারা উভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৭৯]
হাদিস 1,680
আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ রক্তমোক্ষণকারী ও যার রক্তমোক্ষণ করা হয়েছে তারা উভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৮০]
হাদিস 1,681
(আবূ কিলাবাহ) অবহিত করেন যে, একদা শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বাকী‘ নামক স্থানে হাঁটছিলেন। তিনি এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গমন করেন, যে...
হাদিস 1,682
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিয়াম ও ইহরামরত অবস্থায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। সহীহ, এ শব্দে তিনি মুহরিম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। [১৬৮২] তাহকীক আলবানীঃ (“আরবী’) শব্দ দ্বারা সহীহ।
হাদিস 1,683
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসে চুমা দিতেন। [১৬৮৩]
হাদিস 1,684
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় চুমা দিতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেমন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন, তোমাদের মধ্যে কে নিজের উপর তদ্রূপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রাখে!...
হাদিস 1,685
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় চুমা দিতেন। [১৬৮৫]
হাদিস 1,686
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রোযাদার দম্পতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, স্বামী তাকে চুমা দিয়েছে। তিনি বলেন, তারা সিয়াম ভঙ্গ করেছে। [১৬৮৬] তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত দঈফ, তা’লীক...
হাদিস 1,687
(ইবরাহীম) বলেন, আসওয়াদ ও মাসরূক আয়িশা (রাঃ)–এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযারত অবস্থায় কি স্ত্রীর দেহের সাথে নিজ দেহ মিলাতেন? তিনি বলেন,...
হাদিস 1,688
বৃদ্ধ রোযাদারকে স্ত্রীর দেহ স্পর্শ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং যুবকদের জন্য তা অপছন্দ করা হয়েছে। [১৬৮৮]
হাদিস 1,689
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যাচার, মূর্খতা ও মূর্খতাসুলভ কাজ ত্যাগ করলো না, তার পানাহার বর্জন করায় আল্লাহ্র কোন প্রয়োজন নেই। [১৬৮৯]
হাদিস 1,690
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কত রোযাদার আছে যাদের রোযার বিনিময়ে ক্ষুধা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত সলাত আদায়কারী আছে যাদের রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই...
হাদিস 1,691
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সিয়াম অবস্থায় অশ্লীল ও মূর্খতাসুলভ আচরণ না করে। কেউ তার সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার।...
হাদিস 1,692
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাবে। কেননা সাহরীতে বরকত আছে। [১৬৯২]
হাদিস 1,693
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা সাহরী খাওয়ার মাধ্যমে দিনে সিয়াম রাখার জন্য এবং দিনে বিশ্রামের মাধ্যমে রাতে নামায পড়ার জন্য সাহায্য গ্রহণ করো। [১৬৯৩]
হাদিস 1,694
আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাহরী খেলাম, এরপর সালাতে দাঁড়ালাম। রাবী কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, সাহরী ও সলাতের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি...
হাদিস 1,695
একদা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বলতে গেলে দিনেই সাহরী খেয়েছি, পার্থক্য এতটুকু যে, তখনও সূর্য উদিত হয়নি। [১৬৯৫]
হাদিস 1,696
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে তার সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাবার বা সতর্ক করার জন্য...
হাদিস 1,697
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মানুষ কল্যাণের সাথে থাকবে, যাবত তারা জলদি (যথাসময়ে) ইফতার করতে থাকবে। [১৬৯৭]
হাদিস 1,698
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাবত লোকেরা যথাসময়ে ইফতার করবে তাবত তারা কল্যাণের সাথে থাকবে। তাই তোমরা যথাসময়ে ইফতার করো। কারণ ইহুদীরা বিলম্বে ইফতার করে। [১৬৯৮]
হাদিস 1,699
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ইফতার করলে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। সে খেজুর না পেলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ তা পবিত্র।...
হাদিস 1,700
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত থাকতে ফরদ রোযার নিয়াত করলো না তার সিয়াম হয়নি। [১৭০০]
হাদিস 1,701
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বলেন, তোমাদের কাছে (আহার করার মত) কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বলেন, তাহলে আমি সিয়াম রাখলাম। অতঃপর তিনি...
হাদিস 1,702
আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, না, কা‘বার প্রভুর শপথ! এ কথা আমি বলছি নাঃ “যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো সে সিয়াম ভঙ্গ করুক”। বরং...
হাদিস 1,703
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাপাক অবস্থায় রাতে ঘুমাতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) তাঁর নিকট এসে তাঁকে সলাতের জন্য ডাকতেন। তখন তিনি উঠে গোসল করতেন। আমি তাঁর মাথা থেকে...
হাদিস 1,704
আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ) এর নিকট জানতে চাইলাম যে, এক ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো, সে সিয়াম রাখতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বপ্নদোষজনিত...
হাদিস 1,705
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা সিয়াম রাখে সে রোযাও রাখেনি, আবার সিয়াম ভঙ্গও করেনি। [১৭০৫]
হাদিস 1,706
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সর্বদা সিয়াম রাখে, সে রোযাই রাখেনি। [১৭০৬]
হাদিস 1,707
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমুল বীদ অর্থাৎ প্রতি মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে সিয়াম রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন, তা সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য। [১৭০৭]...
হাদিস 1,708
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখলো, সে যেন সারা বছর সিয়াম রাখলো। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর কিতাবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াত...
হাদিস 1,709
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখতেন, রাবী বলেন, আমি বললাম, মাসের কোন্ কোন্ দিন? তিনি বলেন, তিনি যে কোন দিন সিয়াম রাখতে ইতস্তত...
হাদিস 1,710
আমি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, তিনি একাধারে সিয়াম রেখেই যেতেন। এমনকি আমরা বলতাম, তিনি সিয়াম রেখেই যাবেন।...
হাদিস 1,711
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধারে সিয়াম রেখে যেতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার কখনো তিনি একাধারে রোযাহীন থাকতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি...
হাদিস 1,712
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোযাসমূহের মধ্যে দাঊদ (আলাইহিস সালাম) এর সিয়াম আল্লহ্র নিকট অধিক প্রিয়। তিনি এক দিন সিয়াম রাখতেন এবং পরবর্তী দিন সিয়াম রাখতেন না।...
হাদিস 1,713
হে আল্লাহ্র রসূল! যে ব্যক্তি দু’ দিন সিয়াম রাখে এবং এক দিন রাখে না, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেন, কেউ কি তার সামর্থ্য রাখে? উমার (রাঃ)...
হাদিস 1,714
আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ নূহ (আলাইহিস সালাম) ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আযহার দিন ব্যতীত সারা বছর সিয়াম রাখতেন। [১৭১৪]
হাদিস 1,715
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন সিয়াম রাখলো, তা পূর্ণ বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য। “কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ...
হাদিস 1,716
, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমজান মাসের সিয়াম রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি সিয়াম রাখবে, তা যেন সারা বছর সিয়াম রাখার সমতুল্য। [১৭১৬]
হাদিস 1,717
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় একদিন সিয়াম রাখে, আল্লাহ্ ঐ দিনের বিনিময়ে জাহান্নামকে তার মুখমন্ডল থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন। [১৭১৭]
