Sahih Muslim

সহীহ মুসলিম: হাদিস 3,992

মুসাকাহ (পানি সেচের বিনিময়ে ফসলের একটি অংশ প্রদান)

হাদিস 3,992

বর্ণনাকারী

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)

আরবি

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِعُثْمَانَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلاَحَقَ بِي وَتَحْتِي نَاضِحٌ لِي قَدْ أَعْيَا وَلاَ يَكَادُ يَسِيرُ قَالَ فَقَالَ لِي ‏"‏ مَا لِبَعِيرِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ عَلِيلٌ - قَالَ - فَتَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَزَجَرَهُ وَدَعَا لَهُ فَمَازَالَ بَيْنَ يَدَىِ الإِبِلِ قُدَّامَهَا يَسِيرُ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ لِي ‏"‏ كَيْفَ تَرَى بَعِيرَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ بِخَيْرٍ قَدْ أَصَابَتْهُ بَرَكَتُكَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَفَتَبِيعُنِيهِ ‏"‏ ‏.‏ فَاسْتَحْيَيْتُ وَلَمْ يَكُنْ لَنَا نَاضِحٌ غَيْرُهُ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ فَبِعْتُهُ إِيَّاهُ عَلَى أَنَّ لِي فَقَارَ ظَهْرِهِ حَتَّى أَبْلُغَ الْمَدِينَةَ - قَالَ - فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي عَرُوسٌ فَاسْتَأْذَنْتُهُ فَأَذِنَ لِي فَتَقَدَّمْتُ النَّاسَ إِلَى الْمَدِينَةِ حَتَّى انْتَهَيْتُ فَلَقِيَنِي خَالِي فَسَأَلَنِي عَنِ الْبَعِيرِ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا صَنَعْتُ فِيهِ فَلاَمَنِي فِيهِ - قَالَ - وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِي حِينَ اسْتَأْذَنْتُهُ ‏"‏ مَا تَزَوَّجْتَ أَبِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ تَزَوَّجْتُ ثَيِّبًا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَفَلاَ تَزَوَّجْتَ بِكْرًا تُلاَعِبُكَ وَتُلاَعِبُهَا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُوُفِّيَ وَالِدِي - أَوِ اسْتُشْهِدَ - وَلِي أَخَوَاتٌ صِغَارٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَزَوَّجَ إِلَيْهِنَّ مِثْلَهُنَّ فَلاَ تُؤَدِّبُهُنَّ وَلاَ تَقُومُ عَلَيْهِنَّ فَتَزَوَّجْتُ ثَيِّبًا لِتَقُومَ عَلَيْهِنَّ وَتُؤَدِّبَهُنَّ - قَالَ - فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ غَدَوْتُ إِلَيْهِ بِالْبَعِيرِ فَأَعْطَانِي ثَمَنَهُ وَرَدَّهُ عَلَىَّ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ

তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে জিহাদে যাই। আমি একটি ধীরগতির উটের পিঠে চলছিলাম, তিনি আমাকে বললেনঃ তোমার উটের কী হয়েছে? আমি বললাম, অসুখ হয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পশ্চাতে গেলেন এবং উটকে ধমক দিলেন ও দু’আ করলেন। এরপর তা সকল উটের আগে আগে চলতে থাকে। তিনি বললেন, এখন তোমার উটের অবস্থা কী? আমি বললাম, ভালই; আপনার বারাকাতের পরশ লেগেছে। তিনি বলএন, এটি আমার নিকট বেচে দিবে কি? আমি লজ্জিত হলাম। কারণ এটা ছাড়া আমাদের অন্য কোন বহনকারী উট ছিল না। অবশেষে বললাম, হ্যাঁ। সুতরাং নবী (সাঃ ) -এর নিকট এটা এ শর্তে বিক্রি করলাম যে, মাদীনাহ্‌ পর্যন্ত তার উপর আরোহণ করা আমার অধিকারে থাকবে। তিনি বললেন, এরপর আমি আরয করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি সদ্য বিবাহিত। তাই আমি তাঁর নিকট অনুমতি চাইলাম (তাড়াতাড়ি চলে আসার), তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। সুতরাং অন্যান্য লোকের আগেই আমি মাদীনার দিকে রওয়ানা হলাম। যখন শেষ সীমায় পৌঁছালাম তখন আমার মামার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমার কাছে উটের অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাকে সে সব কথা জানালাম যা এ ব্যাপারে আমি করেছি। তিনি এজন্যে আমাকে তিরস্কার করলেন। জাবির (রাঃ) বললেন, আমি যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করি তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কুমারী মেয়ে বিবাহ করেছো, না পূর্ব বিবাহিতাকে? বললাম, আমি পূর্ব বিবাহিতাকে নারীকে বিবাহ করেছি। তিনি বললেন, কেন কুমারী বিবাহ করোনি? যার সাথে তুমি আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত। আমি বললেম, হে আল্লাহর রসূল! আমার কয়েকজন ছোট ছোট বোন রেখে আমার পিতা মারা যান অথবা (বলেন) শাহাদাত বরণ করেন। তাই আমি পছন্দ করিনি তাদের নিকট তাদেরই মত আর একজনকে বিবাহ করে আনতে যে তাদের সুশিক্ষা দিতে ও দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে না। এ কারণে আমি পূর্ব বিবাহিতা নারীকে বিবাহ করেছি, যাতে সে তাদের দেখাশুনা করতে পারে ও সুশিক্ষা দিতে পারে। জাবির (রাঃ) বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় পৌঁছালেন, আমি ভোরে উটসহ তাঁর নিকট হাযির হলাম। তিনি তার মূল্য আমাকে প্রদান করেন এবং উটও ফেরত দেন। (ই. ফা. ৩৯৫৫, ই. সে. ৩৯৫৪)