প্রশ্নোত্তরসম্পাদকীয়

একজন মানুষ চুরি করলে তার জন্য কি সেই মানুষটির ধর্ম দায়ী?

প্রশ্নঃ একজন মানুষ চুরি করলে তার জন্য কী সেই মানুষটির ধর্ম দায়ী? ধর্ম কী তাকে চুরি করতে বলেছে? একজন মানুষ ধর্ষণ করলে তার জন্য কী সেই মানুষটির ধর্ম দায়ী? ধর্ম কী তাকে ধর্ষণ করতে বলেছে? তাহলে ইসলামি জঙ্গিবাদের দায় ইসলাম কেন নেবে?

উত্তরঃ ছোটখাটো ধরণের চুরি ডাকাতি ছিনতাই ইত্যাদির দোষ নাস্তিকরা কখনই ধর্মের কাঁধে চাপায় না। চুরি বা কোন মেয়েকে ধরে ধর্ষণ করার অপরাধ ধর্মের নয়, অবশ্যই না। এখন পর্যন্ত কোন নাস্তিক পৃথিবীর সকল অপরাধের জন্য ধর্মকে দায়ী করে নি।

একজন বাঙালি চুরি করলে তাতে বাঙালি জাতির অপরাধ নেই, একজন পাকিস্তানী চুরি করলে তাতে পাকিস্তানের কোন দায় নেই, একজন ভারতীয় ধর্ষণ করলে তাতে অন্য ভারতীয় অপরাধী বলে গণ্য হবেন না নিঃসন্দেহে। চুরি ডাকাতি ধর্ষণ ইত্যাদির সাথে সরাসরি ধর্মের কোন যোগাযোগ নেই, বরঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে ধর্ম এই কাজগুলো করতে কিছুটা বিধিনিষেধও আরোপ করে থাকে। ধর্মের কেতাবগুলোতে, নবী পয়গম্বরদের জীবনী পড়লে বোঝা যায়, তারা এই বিষয়গুলোকে নিরুৎসাহিত করেছে। বা ধরুন, কোন মাদ্রাসার শিক্ষক মাদ্রাসার ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করলো। এর দায়ও নাস্তিকরা ধর্মের কাঁধে চাপায় নি। ধর্ম তাদের সরাসরি মাদ্রাসার বালকদের ধর্ষণ করতে শেখায় নি। যদিও তার সাথে ধর্ম দ্বারা যৌন অবদমনের কিছু কারণ রয়েছে।

এগুলো ব্যক্তির অপরাধ। ব্যক্তির সমস্যা। কোন কোন অপরাধ ব্যক্তিগত, কোন কোন অপরাধ মানসিক, কোন কোন অপরাধ রাজনৈতিক, আবার কোন কোন অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয়। নানা ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত থাকে সমাজ, ধর্ম, প্রথা। সর্বোপরি শিক্ষাব্যবস্থা।

নাস্তিকরা সেইসব অপরাধের কথাই বলছে, যেই অপরাধগুলো ধর্মকে উদ্দেশ্য করে হয়। এবং যেই অপরাধগুলো সম্পর্কে ধর্মগ্রন্থে সরাসরি উৎসাহ দেয়া আছে।  

ধর্মগ্রন্থ কিংবা ধর্মপ্রচারকের জীবন থেকে সরাসরি উস্কানি পাওয়া কিছু অন্যায় অপরাধের উদাহরণ দিচ্ছি।

১) মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টিকারী এবং বৈষম্যকে জাস্টিফাই করেছেন স্বয়ং আল্লাহ – 

  •  আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন এক ব্যক্তির যাকে আমি নিজের পক্ষ হতে উত্তম জীবিকা দান করেছি এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
  •  আল্লাহ আরো উপমা দিচ্ছেন দুই ব্যক্তির; ওদের একজন বোবা, সে কোন কিছুরই শক্তি রাখে না এবং সে তার প্রভুর উপর বোঝা স্বরূপ; তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, সে ভাল কিছুই করে আসতে পারে না; সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির যে ন্যায়ের নির্দেশ দেয় এবং যে আছে সরল পথে?
ধর্ম 1

২) বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণাঃ আল্লাহ কোরানে বলেছেন বিধর্মীরা নিকৃষ্টতম প্রাণী। আল্লাহর কথাকে যারা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারা সবসময়ই অন্য ধর্মের মানুষকে নিকৃষ্টতম প্রাণী মনে করে ঘৃণা করবে। পৃথিবীর সকল সৃষ্টি তথা কুকুর বেড়াল শুকর বাঁদর ইত্যাদি থেকে অধম মনে করবে।

ধর্ম 3

২) বহুবিবাহঃ

ধর্ম 5
হযরত মুহাম্মদের স্ত্রী ও দাসীদের তালিকা

৩) শিশুবিবাহঃ আয়শাকে মুহাম্মদের বিয়ে।

৪) দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক

৫) কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ

৬) ধর্মত্যাগের শাস্তি।

৭) বিধর্মীদের কীভাবে হত্যা করতে হবে তার বিবরণ

৮) নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ধারণা

৯) গণিমতের মাল ভোগ করা

ধর্ম 7

এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। যেই অপরাধগুলো সরাসরি ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং জাস্টিফায়েড।  ইসলামের সমালোচনা ঠেকাবার জন্য বা আল্লাহো আকবর বলে, নবীর নাম বলে স্লোগান দিয়ে ইসলাম রক্ষার জন্য অথবা ইসলাম কায়েমের জন্য কোথাও বোমা মারা হলে, কোরআন হাদিসের কাফের হত্যার নির্দেশ মোতাবেক কোথাও হামলা হলে, আল্লাহর আইন বা শরীয়া আইন কায়েমের উদ্দেশ্যে কোথাও আক্রমণ করা হলে তার সাথে অবশ্যই ইসলামের যোগাযোগ আছে। বরঞ্চ এই ধরণের অপরাধে মানুষের চাইতে ধর্মই বেশি দায়ী। সেই ধর্মের শিক্ষাই তাদেরকে এরকম করতে অনেকটা বাধ্য করেছে। যেই মুসলমান ছেলেটা ছোটবেলা থেকে শিখে এসেছে, হিন্দুরা অভিশপ্ত বা মালাউন, আল্লাহ তাদের ওপর লানত বর্ষণ করেন, তারা হিন্দুদের অবশ্যই ঘৃণা করে বেরে উঠবে। যেই ছেলেটা হাদিসে পড়েছে, ইহুদীরা খারাপ, সে বড় হয়ে অবশ্যই ইহুদীদের ঘৃণা করবে। যেই ছেলেটা ছোটবেলা থেকে মুখস্ত করেছে, কোরানে আল্লাহ পাক বলেছেন অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব পর্যন্ত করা যাবে না, সে ছোটবেলা থেকেই সেই মন মানসিকতা নিয়েই বড় হবে।

তাদের ধর্ম নির্দেশ দিচ্ছে আল্লাহ/নবী/ইসলামের অবমাননা কেউ করলে তাদের হত্যা করো। তাদের ধর্ম তাদের নির্দেশ দিচ্ছে কোন দেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা না থাকলে সেই অমুসলিম দেশে ইসলাম কায়েমের জন্য জিহাদ করো। তাদের ধর্ম তাদের শিক্ষা দিচ্ছে, বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, এই সবই কুফরি মতবাদ। এগুলো ধ্বংস করেই ইসলাম কায়েম করতে হবে। তাদের কী দোষ? তারা ছোটবেলা থেকেই এইগুলোকেই পৃথিবীর সব চাইতে মানবিক এবং আদর্শ ব্যাপার বলে জেনে এসেছে। তারা তো এই মতাদর্শ কায়েমের জন্য বোমা মারবেই। সেটাই তো স্বাভাবিক!

যারা পারলৌকিক জীবনের চাইতে ইহজাগতিক জীবনকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তারা অবশ্যই অন্যকে বোমা মারবে না। কারণ ইহলৌকিক জীবনে আমাদের পরস্পরকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকতে হয়। পরস্পরকে ভালবাসা, স্নেহ, মমতা দিয়ে এই পৃথিবীকেই স্বর্গে পরিণত করতে হয়। কিন্তু যারা ধর্মের এই সকল বিধর্মী কতলের আয়াতকে ধ্রুব বলে মনে করেন, স্বর্গে ৭২ অসূর্যস্পশ্যই বেশ্যার স্বপ্ন দেখেন, ইসলাম কায়েমের জন্য জিহাদ করতে তাদের আটকাবে কেন? তারা তো জিহাদই করবে! তারা তো মানুষই মারবে! তাতে অবাক হবার কী আছে?

ধর্ম 9
ধর্ম 11
ধর্ম 13

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.

Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.

This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

Leave a comment

Your email will not be published.