সম্পাদকীয়মানবাধিকার

গেলমান বা প্রমোদ বালক প্রসঙ্গে

সারসংক্ষেপ

এই প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো, ইসলামি বর্ণনায় জান্নাতকে একটি নো রুল জোন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পৃথিবীতে যেসব ভোগ বা বস্তু মুসলিম পুরুষের জন্য হারাম—যেমন মদ, স্বর্ণ, রেশম এবং সীমিত সংখ্যার বৈবাহিক সম্পর্ক—জান্নাতে সেগুলোই পুরস্কার হিসেবে ফিরে আসে। জান্নাতে পৃথিবীর মতো “এটি হারাম, এটি হালাল”—এই ভোগ-নিষেধের কাঠামো কার্যকর থাকে না। পৃথিবীর নিষেধাজ্ঞা সেখানে পুরস্কারের বাধা নয়।

জান্নাত সম্পর্কে কোরআনের বর্ণনায় বলা হয়েছে, সেখানে মানুষ যা চাইবে তা পাবে এবং তার চোখ ও মন যা কামনা করবে, তা-ও উপস্থিত থাকবে। খাদ্য, পানীয়, পোশাক, বাসস্থান ও অন্যান্য আনন্দের জন্য কোনো অপেক্ষা, উৎপাদন, রান্না, কেনাকাটা বা শ্রমের প্রয়োজন নেই। চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় বস্তু হাজির হয়ে গেলে রান্নাঘর, বাজার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শ্রমিক বা সেবাকর্মীর বাস্তব প্রয়োজন শূন্য হয়ে যায়।

এই অবস্থার মধ্যেই কোরআন জান্নাতবাসীদের চারপাশে চিরকিশোর বালক বা গেলমানের উপস্থিতি বর্ণনা করে। তারা পানপাত্র, মদ, ফল ও পাখির মাংস নিয়ে ঘোরাফেরা করবে; তাদের সংখ্যা, সৌন্দর্য, চিরযৌবন এবং মুক্তার মতো চেহারার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইসলামQA তাদের কাজকে খাদ্য ও পানীয় পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে, আর ইসলামওয়েবের একটি তাফসিরে لهم শব্দের মাধ্যমে তাদের ওপর মালিকানা, আদেশ ও ব্যবহারের অধিকার বোঝানো হয়েছে। [1] [2]

তাই প্রশ্নটি দাঁড়ায়: যেখানে কোনো শ্রমের প্রয়োজন নেই, সেখানে অসংখ্য সুন্দর, চিরকিশোর পুরুষ সেবক রাখার উদ্দেশ্য কী? যদি তাদের খাদ্য ও পানীয় বহনের কাজকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়া হয়, তাহলেও তাদের বয়স, সৌন্দর্য, অলংকার, চিরযৌবন এবং পুরুষ জান্নাতিদের চারপাশে নিরন্তর উপস্থিতির অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এই প্রবন্ধের যুক্তি হলো, শ্রমিক হিসেবে তাদের প্রয়োজন না থাকায় তাদের সম্ভাব্য কাজ মূলত যৌন সুখ ও যৌন-উত্তেজনামূলক উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

কোরআনে গেলমানদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের কথা সরাসরি বলা হয়নি। কিন্তু প্রাক-আধুনিক রাজদরবার, দাসপ্রথা ও সাহিত্যিক সংস্কৃতিতে যৌন সেবার বিষয়গুলো প্রায়ই সরাসরি ভাষায় নয়, সৌন্দর্য, চিরযৌবন, অলংকার, নৈকট্য, সেবা এবং ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো। নারীদের ক্ষেত্রে যেমন শরীরের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে যৌন ব্যবহার পাঠকের কাছে অনুমেয় করে তোলা হয়েছে, গেলমানদের ক্ষেত্রেও তাদের সৌন্দর্য ও সেবার পুনরাবৃত্ত বর্ণনা একই ধরনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত তৈরি করে।

এই পাঠকে সমর্থন করে Hadas Hirsch-এর গবেষণা, যেখানে বলা হয়েছে যে গেলমানদের বর্ণনায় তাদের ব্যক্তিত্বের চেয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও চিরযৌবনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং এই বর্ণনা পুরুষ জান্নাতিদের জন্য তাদের একটি গোপন যৌন ভূমিকার ধারণাকে সমর্থন করে। অন্যদিকে ইসলামি ফতোয়াগুলো সুন্দর দাড়িহীন কিশোরের প্রতি যৌন আকর্ষণকে বাস্তব ঝুঁকি হিসেবে স্বীকার করেছে। ফলে এই প্রবন্ধে সরাসরি উদ্ধৃতি এবং যৌক্তিক inference—দুই স্তর আলাদা রেখে গেলমানের সম্ভাব্য যৌন ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হবে। [3] [4]


ভূমিকা

ভোগবিলাস এবং সেবাযত্নের জন্য হেরেমে অসংখ্য সুন্দরী নারীর পাশাপাশি গেলমান বা প্রমোদ বালক রাখা একটি প্রাচীন রাজা মহারাজা এবং নবাব বাদশাহদের প্রথা। অত্যন্ত অসভ্য এবং বর্বর এই পুরনো প্রথাকে আমরা এখনো যে সমাজ থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে পেরেছি তা নয়। প্রাচীনকালে রাজাবাদশাহরা বা জমিদারগণ শিশুকিশোরদের দিয়ে তাদের আরাম আয়েশ ভোগ বিলাসের জন্য, বিনোদন ও উপভোগের জন্য ব্যবহার করতো, যৌনকর্মের কাজেও ব্যবহার করতো (যাদেরকে সমাজ নাম দিয়েছিল ঘেটুপুত্র)। প্রাচীনকালের বিভিন্ন কবিতায়, সাহিত্যে, চিত্রকলায় রাজা বাদশাহদের জন্য হেরেমে সুন্দরী নারী ছাড়াও তাই দাড়িগোঁফহীন অল্পবয়সী সুন্দর চেহারার কিছু প্রমোদ বালকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা যে শুধু রাজা বাদশাহদের হাত পা টিপে দিতো তাই নয়, আরো অনেক কাজই তাদের করতে হতো। এই কিছুদিন আগে হুমায়ুন আহমেদের একটি সিনেমা বের হয়েছিল, ঘেটুপুত্র কমলা। আপনারা অনেকেই সিনেমাটি দেখেছেন। পুরনো দিনে জমিদার বা রাজা বাদশাহদের জন্য এগুলো খুবই স্বাভাবিক বিষয় বলেই গণ্য হতো। একজন বালকের জন্য যেই সময়টা খেলাধুলার, শৈশবের আনন্দ উপভোগ করার, সেই সময়টা তাদের কাটাতে হতো রাজা বাদশাহদের মনোরঞ্চন করে, তাদের বিকৃত যৌন চাহিদা পুরণ করে। বর্তমান সময়ে এগুলো আইনত নিষিদ্ধ হলেও, প্রাচীনকালে বা মধ্যযুগেও এগুলো বেশ খোলামেলাভাবেই বিলাসী ধনবান ব্যক্তিগণ চর্চা করতেন।

আরব-ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসেও অল্পবয়সী সুন্দর পুরুষদের যৌন আকর্ষণের বস্তু হিসেবে দেখার প্রমাণ রয়েছে। আব্বাসীয় যুগের সাহিত্যিক আল-জাহিযের Kitāb Mufākharat al-Jawārī wa-l-Ghilmān গ্রন্থে নারীপ্রেমী এবং বালকপ্রেমী—এই দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাহিত্যিক বিতর্ক নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রন্থটির বিষয়বস্তু দেখায় যে ghilmān শব্দটি শুধু নিরীহ গৃহপরিচারক বোঝাত না; সুন্দর কিশোর ও তরুণ পুরুষকে যৌন আকর্ষণের বস্তু হিসেবে দেখার সামাজিক ধারণার সঙ্গেও শব্দটি যুক্ত ছিল। আব্বাসীয় অভিজাত সমাজে দাসবালকদের কেনাবেচা, উপহার হিসেবে প্রদান এবং যৌন সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। [5] [6]

এই শব্দের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে ইসলামি উৎসগুলোর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামওয়েবের একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ghilmān হলো ghulām-এর বহুবচন; এটি এমন যুবককে বোঝাতে পারে যার গোঁফ উঠতে শুরু করেছে, আবার বয়ঃসন্ধির আগের বালককেও বোঝাতে পারে। একই ফতোয়ায় কোরআনের ৫২:২৪ আয়াতকে জান্নাতের সেবকদের প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামQA-র ব্যাখ্যায় ghilmānwildān-কে একই শ্রেণির সেবক বলা হয়েছে এবং তাদের নির্দিষ্ট বয়সে স্থির, পরিবর্তনহীন ও জান্নাতবাসীদের সেবায় নিয়োজিত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। [7] [8]

এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট: জান্নাতের এই বালকদের প্রধান পরিচয় তাদের স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং অন্যদের সেবায় নিয়োজিত সত্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ইসলামQA তাদের কাজকে খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। কিন্তু কোরআনে তাদের অসংখ্যতা, চিরকিশোর অবস্থা, মুক্তার মতো সৌন্দর্য এবং পুরুষ জান্নাতিদের চারপাশে ঘোরাফেরার বিষয়টি একসঙ্গে এসেছে। ফলে তাদের সৌন্দর্যবর্ণনা কেন এত প্রবল এবং তাদের পরিচয় কেন ব্যক্তিত্ব, জ্ঞান বা স্বাধীন ইচ্ছার বদলে সেবা ও দৃষ্টিনন্দনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত—এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

এখানে একটি প্রমাণগত পার্থক্য মনে রাখা দরকার। প্রাক-ইসলামিক আরব সমাজে সুন্দর কিশোরদের যৌন ব্যবহারের দাবি নির্দিষ্ট কবিতা, সাহিত্য বা ঐতিহাসিক দলিল দিয়ে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে যে প্রমাণ সবচেয়ে স্পষ্ট, তার বড় অংশ আব্বাসীয় যুগের—অর্থাৎ ইসলামের আবির্ভাবের পরের আরব-ইসলামি সমাজের। তাই এই প্রবন্ধে প্রাক-ইসলামিক আরবের সাধারণ দাবির পাশাপাশি আব্বাসীয় সাহিত্য, ইসলামি তাফসির, ফতোয়া এবং পরবর্তী ফিকহের প্রত্যক্ষ বক্তব্যও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে।

আধুনিক গবেষক Hadas Hirsch দেখিয়েছেন, কোরআনিক ghilmān-এর বর্ণনায় তাদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা স্বাধীন সত্তার চেয়ে বাহ্যিক সৌন্দর্য, চিরযৌবন, পোশাক, অলংকার এবং দৃষ্টিনন্দন উপস্থিতির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁর গবেষণার সিদ্ধান্ত হলো, এই বর্ণনাগুলো পুরুষ জান্নাতিদের জন্য গেলমানদের একটি গোপন বা অপ্রকাশ্য যৌন ভূমিকার ধারণাকে সমর্থন করে। এই দাবি কোরআনের সরাসরি বাক্য হিসেবে নয়, বরং কোরআনের ভাষা, তাফসিরের বর্ণনা, ফিকহের আলোচনাসমূহ এবং ইসলামি সমাজের যৌন সংস্কৃতির সমন্বিত পাঠ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। [9]


শিশুশ্রম কাকে বলে?

সেই প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায় শিশুশ্রম দেখতে পাওয়া যায়। আজকের দিনে কোন সভ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি সিংহাসনে বসে থাকে, আর কোন শিশু যদি তাকে পানির গ্লাস বা মদের পেয়ালা এনে দেয়, হাত পা টিপে দেয়, তাহলে কেলেঙ্কারী হয়ে যাবে। সেই প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট যেই হোক না কেন, তাকে পদত্যাগ করতে হবে। আজকের দিনে সেইসব আর চলে না। তারপরেও, আমরা যখন ছোট ছিলাম, আমাদের দেশের খুব স্বাভাবিক সংস্কৃতি ছিল, আমাদের বাবা চাচা দাদা মামা বা বড় ভাই, তাদের নানা ধরণের কাজকর্ম করে দেয়া। যেমন আমি মাঝে মাঝে আমার বাবার পা টিপে দিতাম। আমি নিশ্চিত অনেকেই স্কুল বা মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাথা টিপে দেয়া, হাত পা টিপে দেয়া, পিঠ টিপে দেয়া, এই ধরণের কাজ করেছেন। দোকানে যাওয়া, বাজারে যাওয়া, এগুলো অনেক কাজই আমাদেরই করতে হতো। আবার অনেক পরিবারে বাচ্চাদের দিয়ে আরো বেশী পরিশ্রমের কাজ করায়। মনে রাখা জরুরি যে, পরিবারের কিছু কাজ করে দেয়া আর কোন কাজে শ্রম দেয়া কিন্তু ভিন্ন বিষয়। বাচ্চাদের অবশ্যই ছোটখাটো কাজ শেখানো জরুরি। নিজের কাজটি একটি বাচ্চা যেন নিজেরাই করতে পারে, নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা বা নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার শিক্ষাটি পারিবারিকভাবে ছোটবেলা থেকেই দেয়া উচিত। কিন্তু আমরা সেই বিষয়ে আলাপ করছি না। আপনি কোন বাচ্চার পিতা নন, মাতা নন, এরকম বাচ্চাকে দিয়ে সভ্য সমাজে আপনি কোন কাজই করাতে পারবেন না। তা আপনি ঐ বাচ্চাকে যতই আদর করেন না কেন। তাদের দিয়ে সামান্য কোন কাজ করানো মাত্রই আপনাকে মামলার সম্মুখীন হতে হবে। তাদের দিয়ে বাসার কাজকর্ম করানো তো অনেক দূরের বিষয়।

শুরুতেই জেনে নেয়া প্রয়োজন, শিশুশ্রম কাকে বলে। জন্মের সাথে সাথে একটি শিশু যেই সকল অধিকার প্রাপ্ত হয়, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, তার খেলাধুলা, পড়ালেখা, স্বাস্থ্য, সুন্দর শৈশব কাটবার জন্য যা প্রয়োজন সেগুলো। শিশুদের শৈশবের আনন্দময় জীবন থেকে বঞ্চিত করে তাদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা কিংবা তাদের দাস হিসেবে ব্যবহার, গৃহকর্মে নিয়োজিত করা কিংবা যৌনকাজে নিয়োজিত করা বর্তমান সকল সভ্য দেশেই দণ্ডনীয় অপরাধ। এমনকি, কোন স্কুলে বা মাদ্রাসায় যদি শিক্ষক কোন শিশুকে দিয়ে কাজ করায়, গা হাত পা টেপায়, রাতের বেলা নিজ কক্ষে ডাকে, তার জন্য পান-সিগারেট এনে দিতে বলে, এটা সেটা এনে দেয়ার হুকুম দেয়, তাকে ঘর মুছতে বা এই ধরণের কাজে বাধ্য করে, সেটিও সভ্য দেশগুলোতে দণ্ডনীয় অপরাধের পর্যায়ে পরে। যদিও আমাদের দেশে প্রধানত মাদ্রাসাগুলোতে এই আইনগুলোর তোয়াক্কা করা হয় না। বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক দুরবস্থা হচ্ছে শিশু শ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, লেখাপড়ার খরচ দিতে না পেরে এবং সংসারের অসচ্ছলতার গ্লানি একজন মা-বাবাকে বাধ্য করে তার সন্তানকে শ্রমে নিযুক্ত করতে। এরকম পরিস্থিতিতে শিশুশ্রম বিষয়ক আইন ও নীতিমালাগুলো অনেক সময়ই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায় না। কিন্তু সেই সমস্যাটি বাদ দিলে, শিশুদের শ্রমমূলক কাজে নিয়োজিত করা বাংলাদেশ জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শিশু শ্রমের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবে শিশুর করা প্রতিটি কাজকে শিশুশ্রম বলা হয় না। বয়সোপযোগী, অল্প সময়ের, নিরাপদ এবং পড়াশোনা বা স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে না—এমন পারিবারিক কাজ শিশুকে দায়িত্বশীল হতে শেখানোর অংশ হতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা ILO শিশুশ্রম বলতে এমন কাজকে বোঝায়, যা শিশুকে শৈশব, শিক্ষা, সম্ভাবনা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করে অথবা তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষতি করে। তাই নিজের ঘর গোছানো, পরিবারের কাজে সীমিতভাবে সাহায্য করা এবং স্কুলের ছুটিতে নিরাপদ ও বয়সোপযোগী কাজ করা—এসবকে দাসত্ব, শোষণমূলক শ্রম বা যৌন কাজে ব্যবহারের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। [10]

“Not all work done by children should be classified as child labour.”

কিন্তু কোনো শিশুকে পরিবারের বাইরে অন্যের বাড়িতে বা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সেবা, গৃহকর্ম বা ব্যক্তিগত পরিচর্যার জন্য রাখা হলে বিষয়টি আলাদা। বিশেষ করে শিশুকে দীর্ঘ সময় কাজ করানো, তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা, নির্যাতন করা বা মালিকের ব্যক্তিগত ভোগের উপকরণে পরিণত করা শিশুর স্বাভাবিক পারিবারিক দায়িত্ব নয়। ILO গৃহকর্মে শিশুশ্রমের ক্ষেত্রে শিশুর বয়স, কাজের সময়, কাজের পরিবেশ এবং কাজটি দাসত্বসদৃশ কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে। [11]

“Child labour in domestic work refers to situations where domestic work is performed by children below the relevant minimum age.”

শিশুকে দাস হিসেবে ব্যবহার করা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা কিংবা যৌন কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সংজ্ঞাগত কোনো অস্পষ্টতা নেই। ILO Convention No. 182 দাসত্ব, দাসত্বসদৃশ অবস্থা, জোরপূর্বক শ্রম, পাচার এবং শিশুকে prostitution বা pornography-তে ব্যবহারের মতো কাজকে শিশুশ্রমের সবচেয়ে গুরুতর রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে কোনো অল্পবয়সী ছেলেকে ধনী বা ক্ষমতাবান ব্যক্তির ব্যক্তিগত সেবক বানিয়ে রাখা এবং তাকে যৌন বিনোদনের বস্তুতে পরিণত করা শুধু সাধারণ শ্রম নয়; এটি দাসত্বসদৃশ শোষণ ও শিশু যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। [12]

“the use, procuring or offering of a child for prostitution, for the production of pornography or for pornographic performances”

বাংলাদেশের শ্রম আইনেও শিশুকে সরাসরি কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনে চৌদ্দ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে শিশু এবং চৌদ্দ থেকে আঠারো বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে কিশোর হিসেবে আলাদা করা হয়েছে। কিশোরদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে কাজের সুযোগ থাকলেও শিশুকে কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা বা কাজ করতে দেওয়া যাবে না। [13]

“কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন শিশুকে নিয়োগ করা যাইবে না বা কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না।”

এই সংজ্ঞাগত পার্থক্যটি এই প্রবন্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য হিসেবে সীমিত কিছু কাজ করা এবং কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির অধীনে স্থায়ী সেবক বা দাস হিসেবে রাখা এক বিষয় নয়। প্রথমটি বয়সোপযোগী পারিবারিক দায়িত্ব হতে পারে; দ্বিতীয়টি শিশুর স্বাধীনতা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়া। আর শিশুকে যৌন ভোগের সম্ভাব্য উপকরণ হিসেবে রাখা হলে সেটি শ্রমের চেয়েও গুরুতর শোষণ।


দুনিয়ায় হারাম, জান্নাতে হালাল

পৃথিবীতে মদ পান করা ইসলামে কঠিনভাবে হারাম করা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করবে, সে আখিরাতে জান্নাতের মদ থেকে বঞ্চিত হবে। অর্থাৎ জান্নাতের মদকে এমন একটি পুরস্কার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেটি দুনিয়ার মদপানকারীর কাছ থেকেও কেড়ে নেওয়া হবে [14] [15] [16]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পরিচ্ছেদঃ ৮. মদ পানকারী ব্যক্তি যদি তওবা না করে তবে শাস্তিস্বরূপ পরকালে তাকে (জান্নাতী) শরাব থেকে বঞ্চিত রাখা হবে
৫০৫২ ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যাক্তি দুনিয়াতে শরাব (মদ) পান করবে, আখিরাতে সে তা থেকে বঞ্ছিত থাকবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পরিচ্ছেদঃ ৮. মদ পানকারী ব্যক্তি যদি তওবা না করে তবে শাস্তিস্বরূপ পরকালে তাকে (জান্নাতী) শরাব থেকে বঞ্চিত রাখা হবে
৫০৫৩। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে শরাব (মদ) পান করবে এবং তাওবা করবে না, আখিরাতে সে তা থেকে বঞ্চিত হবে। তাকে তা পান করানো হবে না। মালিক (রহঃ) কে বলা হলো হাদীসটি কি তিনি (ঊর্ধ্বতন রাবী) মারফু’ (সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে) বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ পানীয় দ্রব্য
পরিচ্ছেদঃ ৮. মদ পানকারী ব্যক্তি যদি তওবা না করে তবে শাস্তিস্বরূপ পরকালে তাকে (জান্নাতী) শরাব থেকে বঞ্চিত রাখা হবে
৫০৫৪। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … (আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) থেকে), অন্য সনদে ইবনু নুমায়র (রহঃ) (তার পিতা থেকে) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ায় মদ পান করবে, আখিরাতে সে তা পান করতে পারবে না। কিন্তু যদি তাওবা করে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোরআন জান্নাতের পানীয়কে সরাসরি **খামর** বা মদ বলে অভিহিত করেছে। সেটিকে কেবল পানি, ফলের রস বা সাধারণ শরবত বলা হয়নি; বরং মদ বলেই পানকারীদের জন্য আনন্দদায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। [17]

এবং মদের নদী, যা পানকারীদের জন্য আনন্দদায়ক।

আরও একটি আয়াতে জান্নাতের পানীয়কে পানকারীদের জন্য “লজ্জতদায়ক” বা আনন্দদায়ক বলা হয়েছে [18]

তাদের মাঝে প্রবাহিত করা হবে স্বচ্ছ পানীয়ের পেয়ালা—পানকারীদের জন্য আনন্দদায়ক; তাতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই এবং তারা তা পান করে নেশাগ্রস্ত হবে না।

ইসলামিক apologetics-এ এই আয়াতগুলোর ভিত্তিতে বলা হয়, জান্নাতের মদ নাকি “ক্ষতিহীন মদ” বা “নেশাহীন মদ”। কিন্তু “ক্ষতিহীন মদ” আরবি আয়াতের হুবহু শব্দবন্ধ নয়। এটি অনুবাদ ও ব্যাখ্যার ফল। আর “নেশাহীন মদ” ধারণাটি কোরআনের আয়াতের মধ্যকার একটি বৈপরীত্যও প্রকাশ করে।

কারণ মদের প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণই হলো তার নেশাজনক প্রভাব। মদকে যদি নেশাহীন করা হয়, মাথাব্যথা, বমি, পেটের সমস্যা এবং অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাব যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সেটির অবশিষ্ট আকর্ষণ কী? তখন সেটি মদের নাম বহন করলেও মদের প্রধান অভিজ্ঞতা আর থাকে না। সেটি হয়ে যায় এমন এক পানীয়, যার নাম মদ, কিন্তু মদের মূল বৈশিষ্ট্য নেই।

কোরআনে এই নেশা ও ক্ষতিকর প্রভাব বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি এসেছে [19]

তাদের কাছে থাকবে পানপাত্র, কুঁজা ও প্রবাহিত পানীয়; তারা তা পান করে মাথাব্যথায় আক্রান্ত হবে না এবং নেশাগ্রস্তও হবে না।

আরবি বাক্যাংশ **لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ**-এর অর্থ দাঁড়ায়—এই পানীয় পান করে তাদের মাথাব্যথা হবে না এবং তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। অতএব “নেশাহীন মদ” কথাটি একেবারে ভিত্তিহীন নয়; কিন্তু এটিকে একটি আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে উপস্থাপন করার যুক্তিই দুর্বল। [20]

وقوله: ولا هم عنها ينزفون قال مجاهد: لا تذهب عقولهم

অর্থাৎ মুজাহিদের ব্যাখ্যায়, তারা এই পানীয় পান করে নিজেদের বুদ্ধি বা জ্ঞান হারাবে না। একই আয়াতের **غَوْل** শব্দকে ক্ষতি, পেটের ব্যথা বা শারীরিক কষ্ট হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এখানে কোরআনের বক্তব্যের কাঠামোটি স্পষ্ট: মদের নাম রাখা হয়েছে, পান করার আনন্দ রাখা হয়েছে, নদীর মতো প্রাচুর্য রাখা হয়েছে; কিন্তু মদের নেশা, মাথাব্যথা ও শারীরিক ক্ষতি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আকর্ষণ তৈরির জন্য মদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু তার বাস্তব ও প্রধান প্রভাব সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এটিকে “উন্নতমানের মদ” বলা হলেও প্রশ্ন থেকে যায়—নেশা ছাড়া মদ কতটা মদ? দুনিয়ার মদকে মদ বানায় তার গন্ধ, স্বাদ বা তরল পদার্থমাত্র নয়; বরং তার নেশাজনক প্রভাবও তার পরিচয়ের অংশ। সেই প্রভাব বাদ দেওয়ার পর “মদ” নামটি মূলত একটি নামমাত্র পরিচয়ে পরিণত হয়। নামটি মদের, কিন্তু মদের যে অভিজ্ঞতার জন্য মানুষ মদ পান করে, সেটি নেই।

এ কারণে “জান্নাতের মদ আরও ভালো” বলা হলেও, সেটি যুক্তিগতভাবে প্রমাণিত হয় না। বরং কোরআনের বর্ণনা থেকে দেখা যায়, মদের ক্ষতিকর দিক বাদ দিয়ে তার আনন্দের দাবি করা হয়েছে। কিন্তু নেশাই যদি মদের প্রধান আকর্ষণ হয়, তাহলে নেশাবিহীন মদকে পুরস্কার হিসেবে দেখানোর ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

ইসলামে পৃথিবীতে একইসঙ্গে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখা পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু জান্নাতে অসংখ্য হুরের কথা বলা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পুরুষের জন্য দুনিয়াতে স্বর্ণ ও রেশম নিষিদ্ধ হলেও জান্নাতে এগুলো পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। [21] [22] [23] [24]

আল-লুলু ওয়াল মারজান
৩৭/ পোষাক ও অলঙ্কার
পরিচ্ছেদঃ ৩৭/২. পুরুষ ও মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম এবং স্বর্ণের আংটি ও রেশমী বস্ত্ৰ পুরুষের জন্য হারাম ও তা মহিলাদের জন্য বৈধ এবং রেশমী দ্বারা নকশা করা যার পরিমাণ চার আঙ্গুলের বেশী নয় তা পুরুষের জন্য বৈধ
১৩৪৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। শু’বাহ (রহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এ কথা কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরিধান করবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরিধান করতে পারবে না।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৭৭ : পোশাক, অধ্যায় ২৫, হাঃ ৫৮৩২; মুসলিম, পর্ব ৩৭ : পোষাক ও অলঙ্কার, অধ্যায় হাঃ ৬০৭৩
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন আর মুক্তা দিয়ে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের
Taisirul Quran
যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ কংকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের
Sheikh Mujibur Rahman
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন এমন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের
Rawai Al-bayan
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা (১) এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের (২)।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

স্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার কঙ্কণে অলঙ্কৃত করা হবে। যেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
— Taisirul Quran
তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
— Sheikh Mujibur Rahman
চিরস্থায়ী জান্নাত, এতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।
— Rawai Al-bayan
স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে [১], সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তাদের জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণ কংকণে। সূক্ষ্ম ও গাঢ় রেশমের সবুজ পোশাক তারা পরিধান করবে। তারা গদি লাগানো উচ্চাসনে হেলান দিয়ে বসবে। কতই না উত্তম পুরস্কার! কতই না উত্তম আশ্রয়স্থল!
— Taisirul Quran
তাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে সূক্ষ্ম ও স্থূল রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল!
— Sheikh Mujibur Rahman
এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল !
— Rawai Al-bayan
তারাই এরা, যাদের জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হবে [১], তারা পড়বে সুক্ষ ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র, আর তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে [২]; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম বিশ্রামস্থল [৩]!
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

অতএব নির্দিষ্ট কয়েকটি দৃষ্টান্তে দেখা যায়, দুনিয়াতে নিষিদ্ধ বা সীমিত করা ভোগগুলো জান্নাতের পুরস্কার হিসেবে পুনরায় হাজির করা হয়েছে। মদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও স্পষ্ট: জান্নাতের পানীয়কে মদ বলা হয়েছে, তাকে পানকারীদের জন্য আনন্দদায়ক বলা হয়েছে, কিন্তু তার নেশা ও ক্ষতিকর প্রভাব অস্বীকার করা হয়েছে।

ফলে প্রশ্নটি “জান্নাতের মদে নেশা আছে কি নেই”—এখানে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো: নেশা ও মদের প্রধান ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য বাদ দেওয়ার পরও সেটিকে কেন মদ বলা হচ্ছে, এবং কেন সেটিকে এমন আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে দেখানো হচ্ছে? যদি তার আকর্ষণ কেবল স্বাদ বা মিষ্টতায় হয়, তাহলে সাধারণ ফলের রসও একই পুরস্কারের বিকল্প হতে পারে। আর যদি মদের নাম ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণই ধরে রাখতে হয়, তাহলে নেশাহীন মদের ধারণাটি একটি নামগত ও কল্পিত পুনর্গঠন ছাড়া আর কিছু নয়।

একই যুক্তি স্বর্ণ ও রেশমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পৃথিবীতে মুসলিম পুরুষের জন্য যে বস্তু নিষিদ্ধ, জান্নাতে সেটিই অলংকার ও পোশাক হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং পৃথিবীর কোনো ভোগকে হারাম বলা হয়েছে বলে জান্নাতেও সেটি নিষিদ্ধ থাকবে—এমন সাধারণ নীতি ইসলামি বর্ণনায় নেই। এই নীতিগত পার্থক্যই গেলমানের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ: পৃথিবীতে কোনো যৌন আচরণ নিষিদ্ধ হওয়া থেকে জান্নাতের বর্ণনায় তার সম্ভাব্য উপস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্বীকার করা যায় না।

অর্থাৎ, দুনিয়াতে যে বিষয়গুলো হারাম, সেগুলো জান্নাতে হালাল হয়ে যাবে। আল্লাহ পাক সেই ঘোষণাই দিয়েছে। আসুন এই বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যও শুনে নিই,


সুন্দর বালকদের দেখে উত্তেজনা

ইমাম নববীর সংকলিত বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ রিয়াদুস সালেহীনে বলা হয়েছে, সুন্দর কিশোর বালকদের দিকে তাকানো মুসলিমদের জন্য নিষেধ। একটি বিষয় কখন আসলে নিষেধ করার প্রয়োজন হয়? যখন এই বিষয়টি বিব্রতকর একটি সত্য হিসেবে প্রকাশিত হয়ে যায়। এর অর্থ হচ্ছে, মাদ্রাসাতে বালকদের সাথে ধর্ষণের ঘটনাবলী শুধু আজকের ঘটনা নয়, সেই ইসলামের আদি যুগ থেকেই এই সমস্যা প্রকট এবং আলেমগণ এই বিষয়ে অন্যদের সতর্কও করেছেন যে, সুন্দর বালকদের দিকে তাকালে তাদের যৌন উত্তেজনা আসতে পারে [25]

অনুচ্ছেদ: দুইশত নব্বই
অপরিচিত নারী ও সুন্দর কিশোর বালকের প্রতি শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো নিষেধ

গেলমান 1

ইসলামি ফিকহের গ্রন্থগুলোতে সুন্দর, দাড়িবিহীন কিশোর বা যুবকদের প্রতি যৌন আকর্ষণের সম্ভাবনাকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে। তাদের সৌন্দর্য দেখা, তাদের সঙ্গে একান্তে থাকা, এমনকি আনন্দের সঙ্গে তাদের স্পর্শ করাও অনেক আলেম নিষিদ্ধ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি আইনবিদদের কাছে সুন্দর কিশোরদের প্রতি যৌন আকর্ষণ একটি বাস্তব ও গুরুতর আশঙ্কা ছিল।

এখানে “বালক” শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। আরবি আমরাদ বলতে সাধারণত দাড়ি না-গজানো কিশোর বা যুবককে বোঝানো হয়; শব্দটি সবসময় ছোট শিশু বোঝায় না। কিন্তু যাদের বয়স কম এবং যারা যৌন আকর্ষণের বস্তু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুতর [26]

“A handsome, beardless boy is like a non-mahram woman in many cases, and it is not permissible to kiss him by way of pleasure.”

অর্থাৎ ইসলামQA-র বক্তব্য অনুযায়ী, সুদর্শন দাড়িবিহীন কিশোর অনেক ক্ষেত্রে এমন নারীর মতো, যার দিকে তাকানো বৈধ নয়; আনন্দ বা যৌন সুখের উদ্দেশ্যে তাকে চুম্বন করাও নিষিদ্ধ। একই বক্তব্য ইসলামওয়েবেও আরও সরাসরি পাওয়া যায় [27]

فإن الأمرد الحسن يحرم النظر إليه بشهوة، أو مع خوف ثوران الشهوة

অর্থাৎ, সুন্দর দাড়িবিহীন কিশোরের দিকে কামনাসহ তাকানো নিষিদ্ধ; এমনকি তার দিকে তাকালে কামনা জেগে ওঠার আশঙ্কা থাকলেও তা নিষিদ্ধ।

এখানে বিষয়টি কেবল দৃষ্টির সাধারণ শালীনতা নয়। ইসলামি ব্যাখ্যায় “শাহওয়া” বলতে শুধু যৌনসম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা নয়, তাকিয়ে আনন্দ পাওয়া বা সৌন্দর্য উপভোগ করাকেও বোঝানো হয়েছে। ইসলামQA-তে ইবন তাইমিয়্যার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দাড়িবিহীন কিশোরের মুখের দিকে কামনাসহ তাকানো নিষিদ্ধ নারীর মুখের দিকে কামনাসহ তাকানোর মতোই। [28]

“Looking at the face of a beardless youth with desire is like looking at the face of a non-mahram woman with desire.”

এই বক্তব্যের তাৎপর্য স্পষ্ট। যে কিশোরকে বাহ্যিক সৌন্দর্যের কারণে কামনার বস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে, তাকে কেবল “শিশু” বা “সেবক” বলে নিরপেক্ষ করে দেওয়া যায় না। ইসলামি আইনবিদদের নিজেদের ভাষ্যেই তার সৌন্দর্য যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারে এবং সেই কারণে তার দিকে তাকানো, তার সঙ্গে একান্তে থাকা বা তাকে স্পর্শ করা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।

ইসলামওয়েবের আরেকটি ফতোয়ায় সুন্দর দাড়িবিহীন যুবকের সঙ্গে একান্তে থাকা, কামনাসহ তার দিকে তাকানো এবং আনন্দের জন্য তাকে স্পর্শ করাকে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে [29]

ويحرم كذلك النظر إليه بشهوة، والتلذذ بمصافحته ومسه

অর্থাৎ, কামনাসহ তার দিকে তাকানো এবং তার সঙ্গে করমর্দন বা স্পর্শে আনন্দ নেওয়াও নিষিদ্ধ।

এই নিষেধাজ্ঞাগুলো থেকেই বোঝা যায়, ইসলামি সমাজের ধর্মীয় আইনবিদেরা সুন্দর কিশোরদের প্রতি যৌন আকর্ষণের সম্ভাবনাকে কল্পিত বা অসম্ভব মনে করেননি। বরং তারা ধরে নিয়েছেন, কোনো কোনো পুরুষ দাড়িবিহীন কিশোরের সৌন্দর্যে যৌনভাবে আকৃষ্ট হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই দৃষ্টি, স্পর্শ, একান্তে থাকা এবং ঘনিষ্ঠতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে এই ফতোয়াগুলো একা প্রমাণ করে না যে ইসলামের আদি যুগে মাদ্রাসায় ব্যাপক শিশুধর্ষণ ঘটত। এমন ঐতিহাসিক দাবি প্রমাণের জন্য আলাদা সমসাময়িক নথি, বিচারিক দলিল বা ইতিহাসগ্রন্থ প্রয়োজন। কিন্তু এগুলো নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে, ইসলামি ফিকহে সুন্দর কিশোরদের যৌন আকর্ষণের সম্ভাবনা স্বীকৃত ছিল এবং সেই সম্ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিশেষ বিধান তৈরি হয়েছিল।

এখানেই ধর্মীয় নীতির একটি গভীর অসঙ্গতি দেখা যায়। একদিকে সুন্দর কিশোরের প্রতি আকর্ষণকে এতটাই বাস্তব বিপদ বলা হচ্ছে যে, তার দিকে তাকানো বা একান্তে থাকা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে; অন্যদিকে জান্নাতের বর্ণনায় মুক্তা ও মণির মতো সুন্দর চিরকিশোরদের সেবক হিসেবে উপস্থিত করা হচ্ছে। এই দুই বর্ণনাকে পাশাপাশি রাখলে প্রশ্ন ওঠে—যে সৌন্দর্য দুনিয়াতে যৌন উত্তেজনার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে বলে নিষিদ্ধ, জান্নাতে সেই সৌন্দর্যকে পুরস্কারের পরিবেশে রাখার প্রয়োজন কী?

কেউ বলতে পারেন, জান্নাতের গেলমানরা কেবল সেবক, তাদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের কথা সরাসরি বলা হয়নি। কিন্তু সমস্যা এখানেই শেষ হয় না। জান্নাতের সবকিছু যদি ইচ্ছামাত্র পাওয়া যায়, খাবার পরিবেশন, পানীয় বহন, ঘর পরিষ্কার বা ব্যক্তিগত সেবা দেওয়ার মতো শ্রমের প্রয়োজন যদি না থাকে, তাহলে সুন্দর কিশোরদের সেখানে রাখার প্রতীকী উদ্দেশ্য কী?

যৌনসম্পর্কের কথা সরাসরি লেখা না থাকলেও, কোনো চরিত্রকে চিরযৌবন, সৌন্দর্য, মণি-মুক্তার মতো আকর্ষণীয় অবয়ব এবং পুরুষ জান্নাতিদের ব্যক্তিগত সেবার পরিবেশে স্থাপন করা হলে তার যৌন ইঙ্গিত অস্বীকার করা কঠিন। বিশেষ করে যখন একই ধর্মীয় আইনে দাড়িবিহীন সুন্দর কিশোরদের প্রতি কামনামিশ্রিত দৃষ্টিকে যৌন বিপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সুতরাং প্রমাণিত বিষয়টি হলো: ইসলামি ফিকহ সুন্দর দাড়িবিহীন কিশোরদের প্রতি যৌন আকর্ষণের সম্ভাবনাকে স্বীকার করেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর বিধান দিয়েছে। আর কোরআনের জান্নাত-বর্ণনায় একই ধরনের কিশোরদের সৌন্দর্য ও সেবার পরিবেশে রাখা হয়েছে। সরাসরি যৌনকর্মের বাক্য না থাকলেও, এই বর্ণনা যৌন ইঙ্গিতমুক্ত নয়।


কোরআনে গেলমান বা প্রমোদ বালক

প্রাচীনকালের বিভিন্ন সাহিত্যে যেভাবে বিলাসী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে হেরেমভর্তি সুন্দরী যুবতী নারীর কথা বলা আছে, একইভাবে গেলমান বা শিশুকিশোর প্রমোদ বালকদের কথাও বলা আছে। ১৪০০ বছর আগে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেও আরবের সাহিত্যে বা কবিতায় এই ধরণের অনেককিছুরই প্রমাণ পাওয়া যায়। একইভাবে, কোরআনেও জান্নাত বা বিশ্বাসীদের অনন্ত যৌনাচার আর ভোগবিলাসের স্থানে এই নেয়ামতগুলোর বর্ণনায় তিন জায়গাতে গেলমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে [30] [31] [32]

তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা।
পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে,
– সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ১৭১৮

সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে।
– সূরা তুর, আয়াত : ২৪

তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা।
– সূরা দাহর, আয়াত : ১৯

আসুন আব্দুল হামীদ মাদানীর জান্নাত জাহান্নাম বই থেকে গেলমানের বিষয়টি দেখে নিই, [33]

গেলমান 3

ইসলামQA-র ব্যাখ্যায় এই গেলমানদের জান্নাতবাসীদের সেবার জন্য বিশেষভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [34]

“There will go around to the people of Paradise to serve them boys from among the children of Paradise.”

অর্থাৎ, ইসলামQA-র ব্যাখ্যায় তারা জান্নাতবাসীদের সেবা করার জন্য নিয়োজিত বালক। তাদের কাজ হিসেবে খাবার ও পানীয় পরিবেশন এবং জান্নাতবাসীদের প্রয়োজন পূরণের কথা বলা হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সূরা তুরের আয়াতে তাদেরকে বলা হয়েছে غِلْمَانٌ لَهُمْ—অর্থাৎ “তাদের জন্য নির্দিষ্ট গেলমান”। ক্লাসিক্যাল তাফসিরে এই অংশকে ব্যক্তিগত মালিকানা ও নির্দিষ্ট সেবার অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ, তারা তাদের মালিকানাধীন এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট সেবক।

এখন অনেক ইসলামিস্টই বলার চেষ্টা করবেন যে, ঐসকল গেলমান বা প্রমোদ বালকদের সাথে যৌনকর্মের কথা কোরআন-হাদিসে বলা নেই। সরাসরি যৌনকর্মের বাক্য না থাকা সত্য; কিন্তু কোরআনের বর্ণনায় সুন্দরী হুর এবং মুক্তার মতো সুন্দর চিরকিশোর বালকদের একই জান্নাতি ভোগপরিবেশে উপস্থিত করা হয়েছে। জান্নাত যেখানে অনন্ত আরাম, সৌন্দর্য ও ভোগবিলাসের স্থান হিসেবে বর্ণিত, সেখানে এই চরিত্রগুলোর উপস্থিতি সম্পূর্ণ যৌন-ইঙ্গিতমুক্ত—এ কথা দাবি করার পক্ষে আলাদা প্রমাণ নেই।

সুন্দরী গোলাকার স্তনের হুরের কথা বলা হলে তার ব্যবহার সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, জান্নাতি পুরুষদের যৌন ভোগের ইঙ্গিত সহজেই বোঝা যায়। একইভাবে, মুক্তার মতো সুন্দর, চিরকিশোর এবং ব্যক্তিগত সেবায় নিয়োজিত বালকদের ক্ষেত্রে যৌন ইঙ্গিতের সম্ভাবনাকে কেবল “তারা তো সেবক” বলে অস্বীকার করা যায় না।

এখানে প্রশ্নটি হলো: জান্নাতে যখন কোনো কিছু চাওয়ামাত্র পাওয়া যায়, খাবার-পানীয় নিজে থেকেই হাজির হয় এবং কোনো শ্রমের প্রয়োজন নেই, তখন সুন্দর কিশোরদের চিরস্থায়ী সেবক হিসেবে রাখার প্রয়োজন কী? যদি তাদের সৌন্দর্য কেবল অলংকার হয়, তাহলে কোরআনে তাদেরকে সেবার কাজে নিয়োজিত করার প্রয়োজন ছিল না। আর যদি সেবা করাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তাদের বয়স, চিরকিশোর অবস্থা এবং মণি-মুক্তার মতো সৌন্দর্যকে এত গুরুত্ব দিয়ে বর্ণনা করার কারণ কী?

সুতরাং কোরআনের সরাসরি বক্তব্য হলো—জান্নাতে সুন্দর, চিরকিশোর গেলমান থাকবে এবং তারা জান্নাতবাসীদের সেবা করবে। যৌনকর্মের সরাসরি ঘোষণা নেই, কিন্তু তাদের বয়স, সৌন্দর্য, ব্যক্তিগত সেবা এবং জান্নাতের ভোগপরিবেশ মিলিয়ে যৌন ইঙ্গিত সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না।


গেলমান লোভ এবং চার্চ ও মাদ্রাসাগুলো

প্রায়ই এমন খবর শোনা যায়, মাদ্রাসায় শিশুকামিতার অভিযোগ উঠছে। অমুক মাদ্রাসার অমুক ইমাম, তমুক মাদ্রাসার তমুক হুজুর মাদ্রাসার শিশুদের যৌন নির্যাতন করেছে। খ্রিস্টানদের চার্চেও একই ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০–২০০২ সময়কালে ক্যাথলিক পুরোহিতদের বিরুদ্ধে ১০,৬৬৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং ৪,৩৯২ জন পুরোহিত অভিযোগের আওতায় ছিলেন [35]

“4,392 priests … had been the subject of allegations of abuse between 1950 and 2002, and 10,667 individuals had made allegations of child sexual abuse against priests.”

শিশু যৌন নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন বা তুচ্ছ ঘটনা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন নারীর একজন এবং প্রতি সাতজন পুরুষের একজন জানিয়েছেন যে তারা শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ছেলেশিশুরাও এই নির্যাতনের বাইরে নয় [36]

“One in 5 women and 1 in 7 men report having been sexually abused as a child.”

এখন ইসলামের জান্নাতের বর্ণনায় ফিরে আসা যাক। সেখানে ঈমানদার পুরুষদের চারপাশে থাকবে “গেলমান”—চিরকিশোর, মণি-মুক্তার মতো সুন্দর অল্পবয়সী বালক—যারা তাদের সেবা করবে। তাদের হাতে থাকবে পানপাত্র, কুঁজা ও পানীয়ের পেয়ালা [37] [38] [39]

“তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা; পানপাত্র, কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে।”

“সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে।”

“তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মনি-মুক্তা।”

এখানে সমস্যা শুধু “বালক” শব্দে নয়; সমস্যা হলো অল্পবয়সী ছেলেদের সৌন্দর্যকে পুরুষ জান্নাতিদের পুরস্কার ও ভোগের পরিবেশে স্থাপন করা। তাদের বয়স, চেহারা, চিরকিশোর অবস্থা এবং ব্যক্তিগত সেবার ভূমিকা—সবকিছুই ইচ্ছাকৃতভাবে আকর্ষণীয় করে বর্ণনা করা হয়েছে।

জান্নাতে যখন মানুষ যা চায় তা পেয়ে যায়, পানীয় ও খাবার চাওয়ামাত্র হাজির হয়, কোনো কাজ করতে হয় না এবং কোনো শ্রমের প্রয়োজন নেই, তখন এই অল্পবয়সী সুন্দর সেবকদের প্রয়োজন কী? তাদের প্রয়োজন যদি কেবল খাবার পরিবেশনের জন্য হয়, তবে জান্নাতের স্বয়ংক্রিয় ভোগব্যবস্থার সঙ্গে সেটি সাংঘর্ষিক। আর যদি তাদের সৌন্দর্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে তারা নিছক শ্রমিক নয়; তারা নান্দনিক ও আকর্ষণীয় ভোগ-পরিবেশের অংশ।

ইসলামি ব্যাখ্যাগুলোও এই সেবার বিষয়টিকে মালিকানা ও ব্যক্তিগত অধীনতার ভাষায় ব্যাখ্যা করেছে [40]

غِلْمَانٌ لَهُمْ أَيْ مَمْلُوكُونَ لَهُمْ مُخْتَصُّونَ بِهِمْ

অর্থাৎ, তারা জান্নাতবাসীদের মালিকানাধীন এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট সেবক।

এটি কোনো সমতাভিত্তিক সম্পর্ক নয়। একপাশে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ জান্নাতবাসী, অন্যপাশে তাদের অধীনস্থ অল্পবয়সী সুন্দর বালক। এই সম্পর্কের ভাষা হলো মালিকানা, সেবা এবং সম্পূর্ণ আনুগত্য। আধুনিক শিশুর অধিকার ও সম্মতির ধারণার সঙ্গে এই কাঠামোর সরাসরি সংঘাত রয়েছে।

আধুনিক শিশু-সুরক্ষা গবেষণা দেখিয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় তখন, যখন কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শিশুর ওপর কর্তৃত্ব, আস্থা, একান্ত প্রবেশাধিকার এবং সামাজিক সুরক্ষা থাকে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ ধরনের ক্ষমতার সম্পর্ক তৈরি করতে পারে [41]

“The power and authority exercised by people in religious ministry gave them access to children and created opportunities for abuse.”

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় নেতাকে পবিত্র ও প্রশ্নাতীত ব্যক্তি হিসেবে দেখার সংস্কৃতি অপরাধীদের অতিরিক্ত ক্ষমতা ও আস্থা দিয়েছে [42]

“The notion that the priest is a sacred person contributed to exaggerated levels of unregulated power and trust which perpetrators of child sexual abuse were able to exploit.”

মাদ্রাসা ও চার্চে এই ঝুঁকিগুলো আরও তীব্র হতে পারে যখন শিশুরা আবাসিক পরিবেশে থাকে, শিক্ষক বা ধর্মীয় নেতার অধীনে থাকে, পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং অভিযোগ করলে ধর্মীয় ভয়, সামাজিক লজ্জা বা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার চাপের মুখে পড়ে। গবেষণায় এই প্রক্রিয়াকে grooming বলা হয়—অপরাধী প্রথমে শিশুর আস্থা অর্জন করে, নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে, তারপর ধীরে ধীরে সীমা ভাঙে [43]

“Organisational and institutional contexts … religious institutions … generally there is a hierarchical relationship between children and adults.”

এই কারণে গেলমানের বর্ণনাকে মাদ্রাসা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাস্তব যৌন নির্যাতনের একমাত্র কারণ বলা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট ইমাম, হুজুর বা ফাদার অপরাধী—এমন দাবি করতে হলে আলাদা মামলা ও প্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু একটি ধর্মীয় কাহিনিতে সুন্দর অল্পবয়সী ছেলেদের পুরুষদের জন্য পুরস্কার, সেবা ও ব্যক্তিগত অধীনতার অংশ হিসেবে দেখানো হলে সেটি অবশ্যই যৌন-রাজনীতি ও শিশু-সুরক্ষার দৃষ্টিতে পরীক্ষা করতে হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যদি একদিকে সুন্দর কিশোরের প্রতি আকর্ষণকে “ফিতনা” বলে স্বীকার করে, আর অন্যদিকে জান্নাতে সুন্দর চিরকিশোরদের পুরুষদের সেবায় নিয়োজিত করে, তাহলে এই দ্বৈততা অস্বীকার করা যায় না। দুনিয়াতে যে আকর্ষণকে বিপজ্জনক বলা হচ্ছে, জান্নাতে সেই আকর্ষণীয় অবয়বকেই পুরস্কারের দৃশ্যপটে রাখা হয়েছে।

অতএব প্রশ্নটি কেবল কোনো মাদ্রাসা বা চার্চে কয়েকজন অপরাধী আছে কি না—এতটুকু নয়। প্রশ্ন হলো, ধর্মীয় ক্ষমতা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত সেবা, নীরবতা এবং সুন্দর কিশোরদের পুরস্কার হিসেবে উপস্থাপন—এই উপাদানগুলো একত্রে এমন কোনো সংস্কৃতি তৈরি করছে কি না, যেখানে শিশুদের মানুষ হিসেবে নয়, পুরুষের ভোগ ও অধীনতার বস্তু হিসেবে দেখা সহজ হয়ে যায়।

এই বর্ণনার সবচেয়ে কঠিন সমালোচনা এখানেই: জান্নাতের জন্য এমন একটি কল্পনা তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের আরাম ও ভোগ নিশ্চিত করতে সুন্দর অল্পবয়সী ছেলেদের চিরস্থায়ী সেবায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে। এটিকে “শুধু সেবা” বলে পাশ কাটানো শিশুদের সৌন্দর্য, বয়স, অধীনতা ও ক্ষমতার সম্পর্ক—সবকিছুকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা।


জান্নাতে গেলমান বা সেবকের কী কাজ?

ইসলামে জান্নাতের বিবরণ থেকে আমরা সকলেই কমবেশি জানি, বেহেশতে জান্নাতিগণ যা খেতে চাইবেন সেইসবই চলে আসবে। সেখানে জান্নাতিদের পেশাব পায়খানার কোন বালাই থাকবে না। সবকিছুই থাকবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। নগরায়ন, পয়নিষ্কাশন, সরকারী অফিস, থানাপুলিশ ইত্যাদি সেখানে অপ্রয়োজনীয়। খাবার রান্না করা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা, বাজারসদাই করা, চাকরি বাকরি করে অর্থ উপার্জন, এই সবকিছুই সেখানে অর্থহীন। সবকিছুরই যথেষ্ট মজুদ থাকবে এবং চাওয়ামাত্রই সব হাজির হবে। এরকম অবস্থায়, মনিমুক্তোর মত সুন্দর শিশু সেবক বা গেলমান বা প্রমোদ বালকদের কাজ কী হবে, সেটি খুবই চিন্তার বিষয়।

যেমন ধরুন, কোরআনে জান্নাতের হুরীদের বর্ণনায় বলা আছে, হুরীগণ হবেন উন্নত স্তনের অধিকারী। সেই স্তন হবে গোলাকার এবং উন্নত। কিন্তু সেই স্তন দিয়ে কী করা হবে, তা কিন্তু কোরআনের কোথায় কিছু বলা নেই। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই বোঝেন, ঐ স্তন দিয়ে মুমিন জান্নাতিগণ কী করবেন। ঠিক একইভাবে, বলা না থাকলেও প্রমোদ বালক, যারা মুক্তোর মত সুন্দর, উজ্জ্বল, তাদের দিয়ে কী করা হবে, তা সহজেই অনুমেয়। জান্নাতি পুরুষগণ নিশ্চয়ই উন্নত এবং গোলাকার স্তন দিয়ে ফুটবল খেলবে না, তাই না? আসুন কোরআনের আয়াত এবং তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে তার ব্যাখ্যা জেনে নিই [44]

إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَارًا অর্থাৎ মুত্তাকীদের জন্য রহিয়াছে সাফল্য। ইহারা জাহান্নাম হইতে মুক্তি লাভ করিয়া জান্নাতে প্রবেশ করিবে। حدائق অর্থাৎ খর্জুর এবং বৃক্ষের উদ্যান। عناب। অর্থ- আঙ্গুর বা দ্রাক্ষা। كَوَاعِبَ أَتْرَابًا অর্থ উন্নত বক্ষ বিশিষ্টা নবযৌবনা সমবয়স্কা হুর। অর্থাৎ জান্নাতে মুত্তাকীদিগকে এইসব দেওয়া হইবে।
ইন্ন আব্বাস (রা) ও মুজাহিদ (র) সহ অনেকে বলেন, كواعب অর্থ نواعب অর্থাৎ উন্নত সুডৌল স্তন বিশিষ্টা। সূরা ওয়াকিয়ায় হুরদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হইয়াছে।
ইব্‌ন আবূ হাতিম (র)………… আবূ উমামা (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, আবূ উমামা (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলিয়াছেন, “আল্লাহ্র সন্তুষ্টিই প্রকাশ পাইবে জান্নাতীদের পোশাকে এবং মেঘমালা তাহাদেরকে আসিয়া বলিবে, হে জান্নাতবাসীরা! তোমরা কি বর্ষণের আকাঙ্ক্ষাকারী, তখন وَكَأْسًا دهان সমবয়স্কা সুডৌল স্তন বিশিষ্টা হুর বর্ষণ করিবে। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, وَكَاسًا دهاق অর্থ পরিপূর্ণ পানপাত্র।
ইকরিমা (র) বলেন دهان অর্থ صافيته অর্থাৎ পরিচ্ছন্ন। মুজাহিদ, হাসান, কাতাদা ও ইব্‌ন যায়দ (র) বলেন دهاقًا অর্থ الملاى المترعه অর্থাৎ কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

সমবয়ষ্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী
তাফসীরে ইবনে কাসীর, উন্নত বক্ষা হুর

প্রাচীনকালে রাজা বাদশাহদের বিলাসী জীবনযাপন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেই সব রাজা বাদশাহদের গা টেপানো, পানপাত্র ভর্তি করে দেয়া, খাবার দাবার এনে দেয়া, এইধরণের কাজের জন্য তারা শিশু কিশোরদের ব্যবহার করতো। শিশু সেবকদের সেইখানে থাকার বিষয়টি যার মাথা থেকে বের হয়েছে, সে যে প্রাচীনকালের রাজাবাদশাহদের বিলাসী জীবনযাপনকে মাথায় রেখেই এই চিন্তা করেছেন, তা বলাই বাহুল্য। নবী মুহাম্মদ বর্তমান সময়ে বাঙলাদেশে জন্ম নিলে হয়তো মুসা বিন শমসেরের বিলাসী জীবন যাপন দেখে জান্নাতের কল্পনা সেভাবেই করতেন।

কোরআনের আয়াতগুলোয় জান্নাতবাসীদের সেবায় লিপ্ত চিরকিশোরদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আয়াতগুলোতে দুটি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, ‘গেলমান’ বা ‘গিলমান’ ও ‘বিলদান’। আরবিতে ‘গেলমান’ বা ‘গিলমান’ শব্দটি ‘গোলাম’-এর বহুবচন এবং ‘বিলদান’ শব্দটি ‘ওয়ালাদ’-এর বহুবচন, দুটির অর্থই হলো বালক। এবারে তাফসীর গ্রন্থ থেকে আয়াতগুলোর অর্থ পড়ে দেখি।


তাফসীরে ইবনে আব্বাস

তাফসীরে ইবনে আব্বাসেও বলা হয়েছে, পরম সুন্দর কিশোরদের কথা। যারা থাকলে মুমিন বান্দাদের মনোরঞ্জনের জন্য [45]

২৪. তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে কিশোরেরা, সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ।
২৫. তারা একে অপরের দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করবে,
২৬. এবং বলবে, ‘পূর্বে আমরা পরিবার-পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত অবস্থায় ছিলাম’।
২৭. ‘অতঃপর আমাদের প্রতি আল্লাহ্ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে অগ্নিশান্তি হতে রক্ষা করেছেন।’
২৮. ‘আমরা পূর্বেও আল্লাযুকে আহবান করতাম, তিনি তো কৃপাময়, পরম দয়ালু।’
يَتَنَا زَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لا لَقَوٌّ فِيهَا وَلَا تَأْثِيمُ) 20 করবে জান্নাতে পরস্পর আদান-প্রদান করবে পানপাত্র সুরা, তাতে থাকবে না অনর্থ পান করলে পেটের পীড়া হবে না এবং পাপও নয়, এ সুরা পান করলে তাদের পাপ হবে না। অপর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “তাতে অনর্থ নেই” মানে জান্নাতে অসার কিছু নেই। ব্যাখ্যান্তরে জান্নাতে শপথ করার রীতি নেই। “কোন পাপ নেই” মানে একে অপরকে মন্দ বলবে না, গালিগালাজ করবে না, একে অন্যকে মিথ্যাবাদী বলবে না।
Be Art PTOTAL FACE GIR وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غَلْمَانٌ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤُ مَكْنُونَ) 280 সেবায় নিয়োজিত থাকবে কিশোরেরা, পরম সুন্দর কিশোরেরা, সৌন্দর্যে তারা সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ, তাপ, শৈত্য ও ঠাণ্ডা থেকে নিরাপদ মুক্তার ন্যায়।

তাফসীরে ইবনে আব্বাস, গেলমান
গেলমান

সূরা দাহরের তাফসীর [46]

১৬. রূপালী স্ফটিক পাত্রে-পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে।
১৭. তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে ‘যানজাবীল’ মিশ্রিত পানপাত্র।
১৮. এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবীল’ নামে একটি ঝরণা।
১৯. তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। তুমি তাদেরকে দেখে মনে করবে যেন বিক্ষিপ্ত মণি-মুক্তা।
২০. তুমি যখন সেখানে দেখবে, তখন নিয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবে।
قواريرا منْ فَضْةٍ قَدْرُوهَا تَقْدِيرًا( রজত শুভ্র স্ফটিক পাত্রে, পরিবেশনকারীরা, সেবক শিশুরা যথাযথভাবে তা পূর্ণ করে দিবে, অতিরিক্তও নয়, কমও নয়।
(ويسقُونَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً) ۵۹ জান্নাতে তাদেরকে পরিবেশন করা হবে যানজাবীল মিশ্রিত সুরা, আদ্রক মিশ্রিত পানীয়।
১৮. )عينا فيهَا تُسْمَى سَلْسَبِيلًا( সেখানকার এমন এক প্রস্রবণের, জান্নাতের এমন এক কূপের, যার নাম সালসাবীল। অপর ব্যাখ্যায়, যা আল্লাহ্ তা’আলা জান্নাতের দিকে প্রবাহিত করেছেন।
)ويطوف عليْهِمْ وَلَدَانٌ مُخَلَدُونَ তাদেরকে পরিবেশন করবে সেবা প্রদান উদ্দেশ্যে সুদর্শন কিশোরগণ, যারা চিরস্থায়ী, জান্নাতে তাদের মৃত্যুও হবেনা, তারা বঞ্চিতও হবেনা। অপর ব্যাখ্যায় সুসজ্জিত কিশোরগণ )إِذَا رَأَيْتُهُمْ حَسِبْتُهُمْ تُؤْلُوْا مَنْثَوْرًا( তাদেরকে দেখে মনে হবে, তুমি তাদেরকে দেখে মনে করবে বিক্ষিপ্ত মুক্তা পরিচ্ছন্নতায়, অপর ব্যাখ্যায় প্রচুর মুক্তা।

গেলমান যেন বিক্ষিপ্ত মণি-মুক্তা

তাফসীরে ইবনে কাসীর

তাফসীরে ইবনে কাসীরেও বলা হয়েছে, সেইসব বালক থাকবে মুক্তার মত, যারা মুমিনদের সেবা দেয়ার জন্য সর্বদা থাকবে [47] [48]-

আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন আহমদ (র) আলী (রা) হইতে বর্ণনা করেন। আলী (রা) বলেন: হযরত খাদীজা (রা) একদিন জাহেলিয়াতের যুগে মৃত্যুপ্রাপ্ত তাহার দুই ছেলের পরিণাম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জিজ্ঞাসা করিলে উত্তরে আল্লাহর রাসূল (সা) বলিলেনঃ “তাহারা জাহান্নামী।” এই উত্তর শুনার পর হযরত খাদীজা (রা)-এর মুখ মলিন হইয়া যায়। হুযুর (সা) উহা অনুভব করিয়া বলিলেন, “খাদীজা! তুমি যদি তাহাদের অবস্থান দেখিতে পাইতে তাহা হইলে অবশ্যই তুমি তাহাদিগকে ঘৃণা করিতে।” অতঃপর হযরত খাদীজা (রা) জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা আপনার ঔরসে আমার যে সন্তানদি হইয়াছেন তাহাদের পরিণাম কি হইবে? উত্তরে আল্লাহর রাসূল (সা) বলিলেন, ‘তাহারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (সা) বলিলেন: ঈমানদার মাতা-পিতা এবং তাঁহাদের সন্তান-সন্ততি জান্নাতে প্রবেশ করিবে আর মুশরিক মাতা-পিতা ও তাহাদের সন্তান-সন্ততি জাহান্নামে প্রবেশ করিবে।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সা(……… وَالَّذِيْنَ أَمَنُوا এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।

يَتْنَازَعُونَ فِيْهَا كَأْسًا অর্থাৎ জান্নাতে জান্নাতীরা একে অপরের হইতে পান পাত্র তথা মদের পাত্র গ্রহণ করিবে। ইমাম যাহ্হাক (র) এই ব্যাখ্যা করিয়াছেন।
لَا لَغْوُ فِيْهَا وَلَا تَأْثِيمُ অর্থাৎ জান্নাতীরা মদপান করিয়া দুনিয়ার মদপায়ীদের ন্যায় অসার, অসংলগ্ন ও অশালীন কথা বলিবে না এবং কোন প্রকার অশ্লীল এবং পাপ কর্মেও লিপ্ত হইবে না।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেনঃ للغو। অর্থ বাতিল তথা অসার ও অনর্থক কথাবার্তা আর شِيْمُ অর্থ মিথ্যা কথন।
মুজাহিদ (র) বলেন, তাহারা কাউকে গালি দিবে না এবং কোন পাপ কর্মে লিপ্ত হইবে না।
কাতাদা (র) বলেন, আখিরাতের মদকে আল্লাহ্ তা’আলা দুনিয়ার মদের অপবিত্রতা ও অনিষ্টতা হইতে পবিত্র করিয়া দিয়াছেন। ফলে উহাতে পান করিলে মাথা ধরিবে না, পেট ব্যথা হইবে না ও জ্ঞান লোপ পাইবে না। সাথে সাথে আল্লাহ্ তা’আলা এই সংবাদ দিয়াছেন যে, আখিরাতের মদ পানকারীকে অসার, অনর্থক ও অশ্লীল কথনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করিবে না। উহা অত্যন্ত সুদর্শন ও সুস্বাদু। এ প্রসংগে আল্লাহ্ بَيْضَاء الذة للشارِبِينَ لأَغَوْلُ فِيهَا وَلَاهُمْ عَنْهَا يُنْزَفُونَ : 099 0911 “উহা শুভ্র পানকারীদের জন্য সুস্বাদু। উহা পান করিয়া কেহ মাতালও হইবে না এবং জ্ঞান হারাও হইবে না।” অন্যত্র বলা হইয়াছে:
لا يُصَدِّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ অর্থাৎ “জান্নাতের মদ পান করিয়া কাহারো শিরঃপীড়া হইবে না এবং তাহারা জ্ঞান হারাও হইবে না।” আর এইখানে বলিয়াছেন:
a يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لَآلَفُو فِيهَا وَلَاتَاثِيمُ নিকট হইতে সুরা পাত্র গ্রহণ করিবে।” যাহা হইতে পান করিলে কেহই অসার কথা বলিবে না এবং পাপ কর্মেও লিপ্ত হইবে না।” অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা বলেন:
” ويَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانُ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤُ مَكْنُونُ নিয়োজিত থাকিবে সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ কিশোরেরা।”
এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতীদের খাদেম ও সেবকদের সম্পর্কে এবং জান্নাতে তাহাদিগের মর্যাদা সম্পর্কে সংবাদ দিয়াছেন যে, জান্নাতীদের কিশোর সেবকরা রূপ-লাবণ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পোষাক-পরিচ্ছদের সৌন্দর্যের দিক দিয়া তাহারা সজীব সতেজ সুরক্ষিত মুক্তার ন্যায়। যেমন আল্লাহ্ তা’আলা অন্য এক আয়াতে وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وَلدَانٌ مُخَلَّدُونَ بِأَكْوَابٍ وأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَّعِينٍ : face “জান্নাতীদের সেবায় ঘোরাফিরা করিবে চির কিশোরেরা। পান-পাত্র কুঁজা ও প্রস্রবণ নিঃসৃত সুরা পূর্ণ পেয়ালা লইয়া।”

১৮. জান্নাতের এমন এক প্রস্রবণের, যাহার নাম সালসাবীল।
১৯. তাহাদিগকে পরিবেশন করিবে চির কিশোরেরা, উহাদিগকে দেখিয়া মনে হইবে উহারা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তা।
ইন্ন আব্বাস (রা) বলেন: জান্নাতে আল্লাহ্ তা’আলা যতকিছু দান করিবেন, দুনিয়াতে উহার সবগুলিরই নমুনা রাখিয়া দিয়াছেন। কিন্তু এই قواريراً من فضة অর্থাৎ স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ রৌপ্য পান পাত্রের কোন নমুনা দুনিয়াতে নাই।
قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا অর্থাৎ খাদিমগণ যথাযথভাবে উহা পূর্ণ করিয়া রাখিবে। তৃপ্তি লাভের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তদপেক্ষা কমও হইবে না বেশীও না। ইব্‌ন আব্বাস (রা), মুজাহিদ, সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র, আবূ সালিহ, কাতাদা, ইব্‌ন আবযা, আব্দুল্লাহ ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন উমায়র, কাতাদা, শা’বী ও ইব্‌ন যায়দ (র) এই ব্যাখ্যা করিয়াছেন। ইন জারীর (র)-ও এই ব্যাখ্যাটিই পছন্দ করিয়াছেন।
وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلاً কর্মশীলদেরকে সেই গ্লাসে করিয়া যানজাবীল মিশ্রিত সুরা পান করানো হইবে। মোটকথা সৎকর্মশীল জান্নাতীদিগকে কখনো কাফুর মিশ্রিত ঠাণ্ডা পানীয় পান করিতে দেওয়া হইবে আবার কখনো যানজাবীল মিশ্রিত গরম পানীয় পান করিতে দেওয়া হইবে। এইভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হইবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর মুকারব বান্দাগণ সরাসরি কাফুর এবং যানজাবীলের প্রস্রবণ হইতেই পান করিবে।
عَيْنًا فِيْهَا تُسَمًّى سَلْسَبِيلاً অর্থাৎ যানজাবীল জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম, যাহাকে সালসাবীল বলা হয়। ইকরিমা (র) বলেন: সালসাবীল জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম।
মুজাহিদ (র) বলেন: অবিরাম ও দ্রুত প্রবাহিত হওয়ার কারণে উহার নাম সালসাবীল রাখা হইয়াছে। ইব্‌ন জারীর (র) বর্ণনা করেন যে, অনেকের ধারণা, এই প্রস্রবণটির সালসাবীল নামকরণের কারণ হইল উহার পানীয় এতই সুস্বাদু ও সুপেয় যে, মুখে দেওয়ার সংগে সংগে উহা ভিতরে চলিয়া যাইবে।
وَيُطُووْفٌ عَلَيْهِمْ وَلدَانَ مُّخَلَّدُونَ অর্থাৎ জান্নাতীদের সেবার জন্য জান্নাতের
কিশোরদের হইতে এমন বহু কিশোর তাহাদিগের আশে-পাশে ঘুরাফেরা করিবে, যাহারা চিরকাল একই রকম থাকিবে। উহাদিগের কৈশোরে কখনো কোন পরিবর্তন আসিবে না এবং বয়সও বৃদ্ধি পাইবে না।
إذا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مِّنْشُورًا
যেন উহারা বিক্ষিপ্ত মুক্তার ন্যায়। এদিক-ওদিক ছড়াইয়া-ছিটাইয়া রহিয়াছে। উহাদিগের চেহারা, গায়ের রং, পোশাক ও অলংকারাদি ঠিক মুক্তারই ন্যায় সুন্দর ও উজ্জ্বল।
আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর (রা) হইতে আবু আইয়ুব (রা) সূত্রে কাতাদা (র) বর্ণনা করেন যে, ইব্‌ন আমর (রা) বলেন: এক একজন জান্নাতীর সেবায় এক হাজার খাদিম নিয়োজিত থাকিবে। ইহাদিগের প্রত্যেকে পৃথক পৃথক কাজ আঞ্জাম দিবে। অর্থাৎ এক হাজার জন খাদিম এক হাজার রকম সেবায় তৎপর থাকিবে।

গেলমান 10
গেলমান 12
গেলমান 14
গেলমান 16
গেলমান 18
জান্নাতের সেবক
জান্নাতের কিশোর

তাফসীরে মাযহারী

এবারে আসুন তাফসীরে মাযহারী থেকে এই বিষয়ে পড়ি [49]

এরপরের আয়াতে (১৯) বলা হয়েছে- ‘তাদেরকে পরিবেশন করবে চিরকিশোরগণ, যখন তুমি তাদেরকে দেখবে, তখন মনে করবে, তারা যেনো বিক্ষিপ্ত মুক্তা’। ‘উইলদান’ অর্থ গিলমান, জান্নাতের সেবক, পরিচারক, অথবা সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের অকালপ্রয়াত শিশুগণ। তাদেরকেই সেখানে নিযুক্ত করা হবে বেহেশতবাসীদের পরিচারকরূপে। বার্ধক্য এবং মৃত্যু তাদেরকে কখনোই স্পর্শ করবে না। তাই এখানে বলা হয়েছে ‘মুখাল্লাদুন’। ওই গিলমানেরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে জান্নাতের যত্রতত্র। তাদের ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য দেখে তাই তখন মনে হবে, তারা যেনো ইতস্তত বিক্ষিপ্ত মণি-মুক্তা। হান্নাদ, ইবনে মোবারক ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর একবার বললেন, সর্বনিম্ন মর্যাদাধারী বেহেশতবাসী হবে এক হাজার গিলমানের মালিক। আর ওই গিলমানদের প্রত্যেকের কর্ম ও দায়িত্ব হবে পৃথক পৃথক। এরপর তিনি আবৃত্তি করলেন আলোচ্য আয়াত।
হজরত আনাস থেকে ইবনে আবিদদুনয়া বর্ণনা করেছেন, রসুল স. বলেছেন, সর্বনিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন বেহেশতবাসীদের প্রত্যেকের নির্দেশ পালনের জন্য সদাপ্রস্তুত থাকবে দশ হাজার পরিচারক। হজরত আবু হোরায়রা থেকে ইবনে আবিদুনয়া বর্ণনা করেছেন, রসুল স. বলেছেন, সর্বনিম্ন স্তরের বেহেশতবাসী যে হবে, তার সেবার উদ্দেশ্যে সকাল-সন্ধ্যায় আগমন করবে পাঁচ হাজার সেবক। তাদের প্রত্যেকের হাতে এমন পান-ভোজনের আয়োজন থাকবে, যা থাকবে না অন্যের হাতে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

কিশোরগণ
চিরকিশোরগণ

উপসংহার

আগের দিনের মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের সাথে বর্তমান সময়ের মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের বস্তর ফারাক। আমি বাঙলাদেশে থাকা অবস্থাতেই শিশুদের কাজ করতে দেখেছি, বর্তমানে জার্মানিতে সেরকম কাজ কোন শিশুকে দিয়ে করালে আমার জেল হয়ে যাবে। অতীতে মানুষের যেরকম মনমানসিকতা ছিল, অনেকটা তার ওপর ভিত্তি করেই কোরআন এবং হাদিস, সেই সাথে তাফসীরগুলো লিখিত হয়েছে। ধর্মগ্রন্থগুলো পড়লে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, এগুলো ঐশ্বরিক বাণী হওয়া তো দূরের বিষয়, এখনকার সময়ের সবচাইতে বাজে চরিত্রের লোকের চাইতেও তাদের মন মানসিকতা খারাপ। আমরা আমাদের অনেকের বাড়িতেই বয়ষ্ক মানুষ দেখি, যারা মেয়েদের পড়ালেখা করতে দিতে চান না, বা এমন এমন প্রাচীনপন্থী কথা বলেন যা শুনলে তাদের রীতিমত অসভ্য মানুষই মনে হয়। এই সভ্য সমাজেও যদি কেউ ঐ একই পুরনো দিনের মন মানসিকতা লালন করে, সেটি খুবই দুঃখজনক বিষয় হয়ে ওঠে।

হাজার হাজার মুক্তোর মত সুন্দর, উজ্জ্বল, অল্পবয়সী বালক দাস বা গেলমান থাকা সেই প্রাচীন রাজা বাদশাহদের জীবনকেই বারবার মনে করিয়ে দেয়। একজন আধুনিক এবং সভ্য মানুষ কিছুতেই এরকম চিন্তার সাথে নিজেকে মেলাতে পারবেন না। এমনকি, জান্নাতে গিয়ে সেইসব বালকদের দেখলেও একজন সভ্য মানুষের আঁতকে ওঠার কথা। আমাদের মুসলিম ভাই বোনগণ কীভাবে এইসব প্রাচীনপন্থী এবং অসভ্য ধ্যান ধারনাকে মহাবিশ্বের সবচাইতে নৈতিক এবং মানবিক বিষয় বলে মনে করেন, সেটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার।


তথ্যসূত্রঃ
  1. ইসলামQA: জান্নাতের চিরকিশোর সেবক ↩︎
  2. ইসলামওয়েবের তাফসির ↩︎
  3. Hadas Hirsch, “The Qur’ānic Ghilmān” ↩︎
  4. ইসলামওয়েব: সুন্দর দাড়িহীন কিশোরের প্রতি দৃষ্টি ↩︎
  5. আল-জাহিয, Kitāb Mufākharat al-Jawārī wa-l-Ghilmān ↩︎
  6. Everett K. Rowson, “The Traffic in Boys” ↩︎
  7. ইসলামওয়েব, “معنى كلمة غلمان” ↩︎
  8. ইসলামQA, “ما الحكمة من كون خدم أهل الجنة ولدانا مخلدين؟” ↩︎
  9. Hadas Hirsch, “The Qur’ānic Ghilmān: Shifting Gendered Boundaries of Sexuality” ↩︎
  10. International Labour Organization, “What is child labour?” ↩︎
  11. ILO, “Child labour in domestic work” ↩︎
  12. ILO Convention No. 182, Article 3 ↩︎
  13. বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬, ধারা ৩৪ ↩︎
  14. সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ৫০৫২ ↩︎
  15. সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৩ ↩︎
  16. সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বরঃ ৫০৫৪ ↩︎
  17. সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ১৫ ↩︎
  18. সূরা সাফফাত, আয়াত ৪৫–৪৭ ↩︎
  19. সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ১৮–১৯ ↩︎
  20. তাফসির ইবন কাসির, সূরা সাফফাত ৩৭:৪৭ ↩︎
  21. আল-লুলু ওয়াল মারজান, হাদিস নম্বরঃ ১৩৪৩ ↩︎
  22. সূরা হাজ্জ, আয়াত ২৩ ↩︎
  23. সূরা ফাত্বির, আয়াত ৩৩ ↩︎
  24. সূরা কাহফ, আয়াত ৩১ ↩︎
  25. রিয়াদুস সালেহীন, ইমাম নববী, ইসলামিয়া কুরআন মহল প্রকাশনী, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৩৫ ↩︎
  26. ইসলামQA, প্রশ্ন ১১০৭২৯ ↩︎
  27. ইসলামওয়েব, ফতোয়া ৪২৭১৮০ ↩︎
  28. ইসলামQA, প্রশ্ন ৯৪৮৩৬ ↩︎
  29. ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৬৩৮৯৯ ↩︎
  30. সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ১৭-১৮ ↩︎
  31. সূরা তুর, আয়াত : ২৪ ↩︎
  32. সূরা দাহর, আয়াত : ১৯ ↩︎
  33. জান্নাত-জাহান্নাম, আব্দুল হামীদ মাদানী, পৃষ্ঠা ৮১, ৮২ ↩︎
  34. ইসলামQA, প্রশ্ন ১৭৪৬৯১ ↩︎
  35. John Jay College, The Nature and Scope of Sexual Abuse of Minors ↩︎
  36. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, Child maltreatment ↩︎
  37. সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ১৭–১৮ ↩︎
  38. সূরা তুর, আয়াত ২৪ ↩︎
  39. সূরা দাহর, আয়াত ১৯ ↩︎
  40. ইসলামওয়েবে উদ্ধৃত তাফসির আল-কশ্শাফ ↩︎
  41. অস্ট্রেলিয়ার Royal Commission, Religious institutions ↩︎
  42. Royal Commission, Religious institutions ↩︎
  43. Australian Institute of Family Studies, Conceptualising the prevention of child sexual abuse ↩︎
  44. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, একাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৪-৩৯৫ ↩︎
  45. তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৪-৩৮৫ ↩︎
  46. তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৯ ↩︎
  47. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮৮-৪৯২ ↩︎
  48. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, একাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৫, ৩৬৭ ↩︎
  49. তাফসীরে মাযহারী, ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৬, ২৮০ ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

14 thoughts on

    1. আপনাদের লিখাটা পড়ে নতুন কিছু পেলাম না। সেই পুরনো কুযুক্তি।
      আপনিই বলছেন, ” দুনিয়াতে অনেক কিছুই অবৈধ যেটা জান্নাতবাসীদের জন্য বৈধ হবে (রেশমের কাপড় পরা,শরাব পান করা”
      তো দুনিয়ার নিয়ম তো জান্নাতে প্রযোয্য নয়। কেন একথা বারংবার ভুলে যাচ্ছেন।

      ”সি-ভিটা কোম্পানী থেকে বলা হলো, যারা তাদের পণ্য সবচেয়ে বেশী কিনবে তাদের মধ্য থেকে শীর্ষ দশ বিজয়ীকে তারা সারাদিন ফ্রী শরবত খাওয়াবে। আরো বলা হলো ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা তাদের শরবত পান করাবে। এখন এই ঘোষণা থেকে কার ও মনে কি এই ধারণা জন্মাবে যে, বিজয়ীগণ সেই ছোট্ট ছেলে-মেয়েগুলোর সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করবে?”
      পুনরায়, আপনি দুনিয়ার নিয়মে জান্নাতের মান নির্ণয় করছেন। আমার দৃষ্টিতে এটা দৃষ্টিকটু।

      আবু নোয়াছের পুরো জীবনী নিয়ে পড়ে থাকলে আপনি এমন রেফারেন্স দিতেন না।

      **************
      এখন আপনার কাছে জানার ইচ্ছে,
      জান্নাতে গেলমারগণ এর কাজ কি কি?একটু জানাবেন।

  1. আসিফ, আমি আধুনিক ইতিহাসের ছাত্র। আপনাদের ওয়েবসাইটে একটি লেখা পাঠাতে চাই। আউটলুক এক্সপ্রেস কিছুতেই কাজ করে না আমার কম্পিউটারে। আপনাদের জিমেল বা ইয়াহু দিয়ে মেল পাঠানো যাবে? আমি বাংলার তথা দক্ষিণ এশিয়ার ইসলাম ও তার ইতিহাস-রাজনিতির কিছু দিক তুলে ধরতে চাই, আপনারা বিবেচনা করে বাতিল বা গ্রহণ করবেন।

    1. নাস্তিকরা কত বড় জ্ঞানপাপী এই লেখাটা পড়ে বুঝলাম।
      লেখক এর কাছে আমার প্রশ্ন? কোন একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন অন্য দেশে যায়।
      তখন তাদেরকে আমন্ত্রণ স্বাগতম জানাতে সর্বপ্রথম বিমান থেকে নামার পরে
      কাদেরকে সামনে রাখা হয়? শিশু-কিশোরদের। সুদর্শন শিশু-কিশোরদের হাতে ফুল দেওয়া হয় এবং তারা আগত মেহমানকে স্বাগতম জানায়।
      এখন আমার প্রশ্ন হল ওই শিশু-কিশোর গুলোকে কি সহবাস করার জন্য রাখে?!
      আসলে মূল কথা হলো যার মন-মানসিকতা রুচি যেরকম সে কোন বিষয়কে সেইভাবেই চিন্তা করবে এটাই স্বাভাবিক।
      লেখক এখানে বিষয়টাকে পূর্বের রাজা বাদশাদের সাথে মিলালো।
      অথচ আমি দেখতেছি বর্তমান আধুনিক বিশ্বে এই কাজটাকে কত সম্মানের সাথে করা হয়
      অর্থাৎ কোন বিশেষ অতিথি আগমন কালে তাকে শিশু-কিশোর দিয়ে সম্বর্ধনা জানানো।
      যে সমস্ত হুরদের কে আল্লাহ সহবাস করার জন্য দিবেন তাদের সাথে স্বয়ং আল্লাহ জান্নাতবাসীর বিভাহ পড়াবেন।
      তাহলে সেখানে এদের সাথে এই সমস্ত কাজ করার প্রশ্নইত ওঠে না।

      1. ভালো উদাহরণ | ব্যাপারটা একটু গভীরভাবে বুঝতে হবে | এখানে মূলত দুটি আপত্তি জানানো হয়েছে | শিশুদের শ্রমে বাধ্য করা ও শারীরিক বা যৌন নির্যাতন করা | মানবাধিকারের দৃষ্টিতে দুটোই অপরাধ | হ্যাঁ নিশ্চয় অপরাধের গুরুত্ব সমান নয় দুটি ক্ষেত্রে |

        এবার আপনার উদাহরণটাকে একটু অন্য ভাবে দেখা যাক

        মনে করুন সরকার দেখলো যে প্রচুর বিদেশি অথিতি আসছে এবং প্রতিবার একটা করে সুন্দর শিশু জোগাড় করা, তার বাবা মার সঙ্গে কথা বলা, তাকে নিয়ে আসা / দিয়ে আসা ইত্যাদি অনেক ঝামেলা | বরং 5 / 7 টা শিশুর একটা দল এই কাজের জন্য দুই বা তিন বছরের জন্য নির্দিষ্ট করা যাক | সেই শিশুরা সরকার থেকে পর্যাপ্ত ভাতা পাবে | বিমান বন্দরের কাছে কোনো একটি সরকারি আবাসে বিনামূল্যে তাদের থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করা হবে | প্রয়োজন মতো সরকার তাদের বিদেশি অথিতি অভ্যর্থনার কাজে ব্যবহার করবে | হ্যাঁ শর্ত একটা তারা এই সময়টাতে তারা স্কুল বা অন্য কোথাও যেতে পারবে না কারণ তাতে তাদের সময় মতো পাওয়া যাবে না | সেই মতো কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো, ইচ্ছুক অভিবাবকদের যোগাযোগ করতে বলা হলো | আপনি দেবেন আপনার নিজের সন্তান কে ওই কাজে?

        আশাকরি আপনি আপনার উত্তর পেয়ে গেছেন | যে আল্লা চুড়ান্ত ক্ষমাশীল, চুড়ান্ত দয়াময়, চুড়ান্ত করুণাময় তিনি যে ব্যবস্থা করেছেন সেটা শিশু নিগ্রহ ও অমানিমিক |

  2. অনেকদিন যাবত গেলমান নিয়ে আমার খুব কৌতূহল। ছি! যাইহোক অবশেষে আপনার লেখাটি পড়ে সম্পুর্ন অবগত হলাম। আমি এমন একটা রাষ্ট্রে থাকি যেখানে এসব কথা আলোচনা করা মৃত্যুর সামি। যদি অভয় দেন তবে কিছু তথ্য জানাতে চাই।

  3. যারা কোরআন হাদিসে উল্লেখিত গোলমানে বিশ্বাসী মানসম্পন্নধারী লোক তারা একবার হলেও যেন চিন্তা করে যে তাদের নিজেদেরও বাসায়ও বাচ্চা ছেলে- মেয়ে আছে, তাই গোলমানের আকাঙ্ক্ষা করার আগে তারা অবশ্যই নিজের ছেলে-মেয়েদের পরের বাড়ীতে দিয়ে যেন গোলমানের প্রাক্ট্রিস করিয়ে নেয়।

  4. আপনার গীতা পাঠ করতে ভালো লাগে জেনে ভালো লাগলো।

    তবে বেজন্মা মহম্মদের লেখা কোরআন আর মহান হিন্দু সাধুদের লেখা গীতার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ..

  5. কোরআনে শুধু মাত্র কয়েকটা আয়াত আছে এই সম্পর্কে। কোথাও সেক্স বা সেক্স এর কাছাকাছি কিছু নেই। অন্তরে নোংরামি থাকলে যা হয় আরকি।

    কোরআনে কারিমে জান্নাতের নেয়ামতগুলোর বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তাদের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে চিরকিশোররা। পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝরনার শরবতপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে।’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ১৭-১৮)

    অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরবে বালকদল; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ২৪)

    অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আর তাদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবে চিরকিশোররা; তুমি তাদের দেখলে বিক্ষিপ্ত মুক্তা মনে করবে।’ (সুরা : দাহর, আয়াত : ১৯)

    এরকম স্পষ্ট আয়াত থাকা সত্ত্বেও যাদের মনে নোংরামি আসে তারা পরিবার থেকে কেমন শিক্ষা পেয়েছেন তা বোঝাই যায়।
    এখানে হুরদের স্তন সম্পর্কে বলা হয়েছে আর বুঝানো হয়েছে স্তন তো সেক্স এর জন্যই কাজে লাগে। আচ্ছা ঠিকাছে। হুরদের সাথে সেক্স করা হবে এটা কেউ অস্বীকার করেনা।
    এখন আসেন একই লজিক গেলমানদের দিকে খাটাই তাদেরকে বলা হয়েছে সুরক্ষিত বা বিক্ষিপ্ত মুক্তা। আচ্ছা মুক্তাও তো সেক্সে কাজে লাগে তাইনা???? বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার একটা মাত্রা থাকা উচিত।

    1. @Al Amin
      মানলাম যে কুরআনে স্পষ্ট করে শিশুদের সাথে যৌনাচার করার কথা বলা হয় নাই, ইঙ্গিত থাকতে পারে | কিন্তু শিশু নিগ্রহ ? সেটাও যে একটা অত্যাচার এবং আল্লাহ অনুমোদন করলেও আধুনিক সমাজ সেটাকে অনুমোদন করে না সেটা বোঝেন কি? বুঝলেন না? তবে গল্পটা পড়ুন

      ধরেন আপনি আমার বাসায় আসলেন | একটা ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা আপনাকে দরজা খুলে স্বাগত জানালো – আপনি খুশি হলেন সুন্দর শিশুটিকে দেখে এবং বসলেন | এরপর আর একটি সুন্দর নিষ্পাপ শিশু এসে আপনাকে পানি দিলো – আপনি হয়তো ঠিক খুশি হতে পারবেন না বরং অবাক হবেন | ভাববেন শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হয় কেন? এর পর মনে করুন বাড়িতে বিজলি নেই, একটা শিশু এসে আপনাকে বাতাস করতে শুরু করলো | আপনি যদি বিকৃত মানসিকতার লোক না হন তবে প্রচন্ড বিরক্ত হবেন | আর যদি বিকৃত মানসিকতার লোক হন তবে এই ব্যবস্থা আপনাকে খুশি করবে , চাইবেন এরকম দুচারটে সুন্দর শিশু আমোদ / প্রমোদ এর জন্য আপনার নিজের বাড়িতে রাখতে |

      এইবার বুঝলেন আল্লাহর যে “প্রমোদ বালক” ব্যবস্থা তা বিকৃত মানসিকতার লোক না হলে অনুমোদন করা সম্ভব না ?

      Afghanistan , Pakistan এই সব কট্টর ইসলামের দেশে যৌনাচার করার জন্য যেহেতু তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই তাই ছোট শিশু ও কিশোরদের ব্যবহার করা হয় | এই গরিব / অনাথ শিশুরা অর্থের বিনিময় নাচে, গায়ে ও “অন্যান্য” কাজ করে | এটাকে “বাচ্চা প্রথা” বলে | নাস্তিকদের “বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী” বলছিলেন না? দেখুন কি সুন্দর ইসলাম স্বীকৃত ব্যবস্থা বুদ্ধিমানরা বানিয়েছে | ভালো কথা এই সব দেশগুলোতে কিন্তু কঠোর শারিয়া আইন চলে | না মানে মৃত্যু দণ্ড | এই বিষয় নীচের documentary গুলো দেখতে পারেন

      https://www.youtube.com/watch?v=i6eL1js7zTo
      https://www.youtube.com/watch?v=B7eMUwkKiFY
      https://www.youtube.com/watch?v=NMp2wm0VMUs

Leave a comment

Your email will not be published.