Knowledge Base Article

আল্লাহর বিবর্তনঃ সালাফদের শারীরিক ঈশ্বর থেকে দার্শনিক নিরাকার সত্তা

প্রকাশিত: জুন 23, 2025 · লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন · 57 মিনিট পড়া

সারসংক্ষেপ

ইসলামী ধর্মতত্ত্বে আল্লাহ একজন সর্বোচ্চ সত্তা, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ এবং সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু এই ঈশ্বরের ব্যাখ্যা ইসলামের ইতিহাসে একরৈখিক নয়। প্রাচীন পৌত্তলিক মক্কা থেকে উদ্ভব হওয়া ইসলামের প্রারম্ভিক বা সালাফদের যুগের আল্লাহকে একটি শারীরিক সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হতো, যার হাত, পা, মুখ ও শারীরিক অবস্থান ছিল—এমনকি তিনি হাত পা পরিচালনা করেন, নড়াচড়া করেন, বসেন, দেখেন, শোনেন এবং কথা বলেন। তিনি রাগ করেন, খুশি হন, ব্যথিতও হন, মানবিক প্রায় সকল হরমোনাল অনুভূতি তার মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু পরবর্তী শতকে গ্রিক দর্শন ও যুক্তিবাদের প্রভাবে মুসলিম চিন্তাবিদদের মধ্যে এই ধারণা সংকটের মুখে পড়ে এবং একটি দার্শনিক, বিমূর্ত ও নিরাকার আল্লাহর ধারণা জন্ম নেয়। বর্তমান সময়ে প্রায় বেশিরভাগ মুসলিমই মনে করেন, আল্লাহ নিরাকার, অথচ ইসলামের কোথাও আল্লাহ নিরাকার এরকম কোন কথাই বলা হয়নি। তাহলে এই নিরাকার আল্লাহর ধারনা কোথা থেকে আসলো? এই প্রবন্ধে আল্লাহর বিবর্তনশীল রূপান্তরের ইতিহাস, আল্লাহর ওপর ইসলামী দার্শনিকদের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


ভূমিকা: ঈশ্বরধারণা ও প্রেক্ষিত

ঈশ্বরের ধারণা আদতে মানবসভ্যতার একটি কল্পনাপ্রসূত প্রতিফলন, যা সময়, সমাজ ও রাজনৈতিক চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে গঠিত ও পরিবর্তিত হয়। ‘আল্লাহ চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয়’—এই দাবির বিপরীতে ঐতিহাসিক পাঠ বলছে, ইসলামের সূচনালগ্নে এই আল্লাহ ছিলেন এক শারীরিক, পুরুষতান্ত্রিক, প্রতিশোধপরায়ণ অধিপতি—যাঁর চোখ, কান, হাত-পা, এমনকি রাগ ও হাঁসির ক্ষমতাও ছিল। পরবর্তী সময়ে, মুসলিম সভ্যতা যখন গ্রিক যুক্তিবাদের মুখোমুখি হলো, তখন সেই দৈহিক আল্লাহ এক গভীর দার্শনিক সংকটে পড়ে। চিন্তাবিদরা বাধ্য হন পূর্বের আল্লাহকে রূপক ভাষায় পুনর্ব্যাখ্যা করতে বা একেবারে বিমূর্ত সত্তায় রূপান্তর করতে। এই পরিবর্তন মুহাম্মদের আল্লাহর বৈশিষ্ট্য নয়, বরং পরবর্তী যুগের মুসলিমদের স্বার্থ, সংকট ও বুদ্ধিবৃত্তিক চাপে আল্লাহর ধারণার ধারাবাহিক অভিযোজন। সুতরাং, আল্লাহর রূপ কখনোই চিরন্তন বা অপরিবর্তনীয় নয়; বরং তা ইতিহাস, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের রক্তমাখা আয়নায় নির্মিত এক বিবর্তনশীল চরিত্রমাত্র।


কোরআন ও হাদিসে শারীরিক আল্লাহর চিত্র

কোরআনে আল্লাহর শরীরের বর্ণনা

শরীরসংবলিত ঈশ্বরের ধারণার ভিত্তি রয়েছে কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে। নিচে কয়েকটি প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দেওয়া হলো [1] [2] [3]

যেদিন (ক্বিয়ামতে) পায়ের গোছা (হাঁটুর নিম্নভাগ) উন্মোচিত হবে আর তাদেরকে ডাকা হবে সেজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সেজদা করতে সক্ষম হবে না।
— Taisirul Quran
স্মরণ কর, গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা, সেদিন তাদেরকে আহবান করা হবে সাজদাহ করার জন্য, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবেনা।
— Sheikh Mujibur Rahman
সে দিন পায়ের গোছা* উন্মোচন করা হবে। আর তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। *এ কথার ব্যাপারে ইমাম বুখারী একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তা হল, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের রব তাঁর পায়ের গোছা উন্মুক্ত করবেন, তখন প্রত্যেক মুমিন নর-নারী তাঁকে সিজদা করবে…।
— Rawai Al-bayan
স্মরণ করুন, সে দিনের কথা যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচিত করা হবে [১], সেদিন তাদেরকে ডাকা হবে সাজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না;
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

তিনি আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর আরশে সমুন্নত হয়েছেন।
— Taisirul Quran
তিনিই ছয় দিনে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন।
— Sheikh Mujibur Rahman
তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশে উঠেছেন।
— Rawai Al-bayan
তিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

‘আরশে দয়াময় সমুন্নত আছেন।
— Taisirul Quran
দয়াময় আরশে সমাসীন।
— Sheikh Mujibur Rahman
পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন* । * এ আয়াতে আল্লাহর একটি ক্রিয়াবাচক গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে استواء বা আরশের উপর উঠা। ইমাম মালেককে এ গুণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, استواء এর অর্থ জানা আছে। তবে তার ধরন (كيفيت) জানা নেই। এর প্রতি ঈমান রাখা ওয়াজিব এবং ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা বিদআত। এ নীতিটি আল্লাহর সকল গুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
— Rawai Al-bayan
দয়াময় (আল্লাহ্) আরশের উপর উঠেছেন [১]।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria


হাদিসে আল্লাহর মানবসদৃশ বৈশিষ্ট্য

আল্লাহর বস্তুগত অস্তিত্ব

ইসলামের আল্লাহ কী একটি বস্তু নাকি অবস্তু? ইসলাম ধর্মের স্রষ্টা আল্লাহকে কী কোন বস্তু হিসেবে অভিহিত করা যায়? এই বিষয়ে নবী বা ইসলাম কী বলে? এই বিষয়ে যা বলবার বুখারী শরীফের একটি হাদিসই তা স্পষ্টভাবে বলে দিবে, [4] [5]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৯৭/ তাওহীদ
পরিচ্ছেদঃ ৯৭/২১. মহান আল্লাহর বাণীঃ বল, সাক্ষ্য প্রদানে সর্বশ্রেষ্ঠ কী? বল, আল্লাহ্- (সূরাহ আন‘আম ৬/১৯)। এখানে আল্লাহ্ তা‘আলা নিজেকে ‘শাইউন’ (বস্তু) বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবার নাবী (সাঃ) কুরআনকে আখ্যায়িত করেছেন বস্ত্ত বলে । অথচ এটি আল্লাহর গুণগুলোর মধ্যে একটি গুণ। আল্লাহ্ বলেছেনঃ আল্লাহর সত্তা ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল- (সূরাহ আল-ক্বাসাস ২৮/৮৮)।
৭৪১৭. সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে বললেন, তোমার কাছে কুরআনের কোন বস্তু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অমুক সূরাহ অমুক সূরাহ। তিনি সূরাহগুলোর নাম বলেছিলেন। [২৩১০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা’দ (রাঃ)

আল্লা

এবারে আসুন নসরুল বারী থেকে বিষয়টি জেনে নিই, [6]

আল্লা 1

আল্লাহর ওজন ও বহনযোগ্যতা

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আল্লাহ পাকের ওজন রয়েছে। যার প্রমাণ মেলে নিচের হাদিসটি থেকে। তাকে আরশ সহকারে বহন করার জন্য বিরাট বিরাট ফেরেশতার দরকার হয় [7]

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৫/ সুন্নাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৯. জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় সম্পর্কে
৪৭২৭। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে সকল ফিরিশতা আল্লাহর আরশ বহন করেন, তাদের একজনের সঙ্গে আলাপ করার জন্য আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তার কানের লতি থেকে কাঁধ পর্যন্ত স্থানের দূরত্ব হলো সাতশ বছরের দূরত্বের সমান।[1]
সহীহ।
[1]. তাবারানী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

আল্লাহর আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের বিশাল আকৃতির বর্ণনার চেয়েও সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায় উসমান ইবনু সাঈদ আদ-দারিমীর আন-নাকদু আলা বিশর আল-মারিসি গ্রন্থে। আদ-দারিমী বলেন, আরশের ওপর আল্লাহ অবস্থান করেন এবং আরশ ও আরশবাহী ফেরেশতারা তাঁকে বহন করে। ফেরেশতারা নিজেদের শক্তিতে এই ভার বহন করতে পারে না; আল্লাহর দেওয়া শক্তিতেই তারা আরশ ও তার ওপর অবস্থানকারী সত্তাকে বহন করে। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ চাইলে একটি মশার পিঠেও অবস্থান করতে পারেন এবং সেই মশা তাঁর ক্ষমতায় তাঁকে বহন করতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ এখানে আরশকে নিছক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে নয়, আল্লাহকে ধারণ ও বহনকারী বাস্তব সিংহাসন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। [8]

আদ-দারিমী বলেন, “আল্লাহ সবকিছুর চেয়ে মহান এবং সকল সৃষ্টির চেয়ে বৃহৎ। আরশ ও আরশবাহী ফেরেশতারা নিজেদের শক্তিতে তাঁকে বহন করে না; তারা আল্লাহর শক্তিতেই তাঁকে বহন করে। তিনি চাইলে একটি মশার পিঠেও অবস্থান করতে পারেন এবং সেটি তাঁর ক্ষমতায় তাঁকে বহন করবে।”

সহিহ বুখারীর আরেকটি বর্ণনায় মুহাম্মদ বলেছেন, সা‘দ ইবনু মু‘আযের মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল। সর্বজ্ঞ আল্লাহ আগে থেকেই সা‘দের মৃত্যুর সময় জানতেন এবং ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে সেই মৃত্যুও তাঁরই নির্ধারিত ছিল। তারপরও একটি মানুষের মৃত্যুতে তাঁর সিংহাসনের কেঁপে ওঠার বর্ণনা আল্লাহ ও আরশ উভয়কেই পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়াশীলতার অধীন বস্তুগত সত্তা হিসেবে হাজির করে। [9]

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছদঃ ২১২২. স্বাদ ইবন মু’আয (রাঃ) এর মর্যাদা
৩৫৩১। মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … জাবির (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ) এর মৃত্যুতে আল্লাহ্ ত’আলার আরশ কেঁপে উঠে ছিল। আমাশ (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যাক্তি জাবির (রাঃ) কে বলল, বারা ইবনু আযিব (রাঃ) তো বলেন, জানাযার খাট নড়েছিল। তদুত্তরে জাবির (রাঃ) বললেন, সা’দ ও বারা (রাঃ) এর গোত্রদ্বয়ের মধ্যে কিছুটা বিরোধ ছিল, (কিন্তু এটা ঠিক নয়) কেননা, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে عَرْشُ الرَّحْمَنِ অর্থাৎ আল্লাহর আরশ সা’দ ইবনু মু’আযের (মৃত্যুতে) কেঁপে উঠল বলতে শুনেছি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


আল্লাহর চোখ রয়েছে

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ পাকের চোখ রয়েছে। নবী মুহাম্মদ এই প্রসঙ্গে তার অনুসারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আল্লাহর চোখ টেরা নয়।

সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১। ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছদঃ ৭৫. মারইয়াম পুত্র ঈসা (আঃ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল-এর বর্ণনা।
৩১৫-(২৭৪/…) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আল মুসাইয়্যাবী (রহঃ) ….. আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবাদের সম্মুখে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা টেরা চোখ বিশিষ্ট নন। জেনে রাখ দাজ্জালের ডান চোখ টেরা যেন ফোলা একটি আঙ্গুর। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একবার আমি স্বপ্নে আমাকে কা’বার কাছে পেলাম। গোধূম বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের তোমরা যত লোক দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। চুল তার কাঁধ পর্যন্ত বুলছিল। তার চুলগুলো ছিল সোজা। তা থেকে তখন পানি ঝরছিল। তিনি দু’ ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হল, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। তারই পেছনে দেখলাম, আরেক ব্যক্তি, অধিক কোঁকড়ানো চুল। তার ডান চোখ ছিল টেরা। সে দেখতে ছিল ইবনু কাতান এর ন্যায়। সেও দু’ ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছে। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হল, মাসীহুদ দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ ৩৩৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


আল্লাহর নিজস্ব আকৃতি রয়েছে

আল্লাহর শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু অঙ্গই নয়, তাঁর নিজস্ব একটি আকৃতি বা সুরাত থাকার কথাও ইসলামী বর্ণনা ও সালাফি আকীদায় স্বীকার করা হয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় মুহাম্মদ বলেছেন, আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। ইবনু বায এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহর নিজস্ব আকৃতি, চেহারা, হাত ও পা রয়েছে; আদমকেও চেহারা, হাত ও পাসহ তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। পার্থক্য শুধু এই যে, আল্লাহর আকৃতি ও মানুষের আকৃতিকে সম্পূর্ণ অভিন্ন বলা হবে না। [10] [11]

পৃষ্ঠা ২২৬
মূল আরবি
بسم الله الرحمن الرحيم.
أسئلة مهمة وأجوبتها (¬1) : كلمة عن تقبيح الوجه … وأن الله خلق آدم على صورته:
س 1: ورد حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم ينهي فيه عن تقبيح الوجه، وأن الله سبحانه خلق آدم على صورته … فما الاعتقاد السليم نحو هذا الحديث؟ . .
ج: الحديث ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إذا ضرب أحدكم فليتق الوجه فإن الله خلق آدم على صورته (¬2) » وفي لفظ آخر: على صورة الرحمن. وهذا لا يلزم منه التشبيه والتمثيل.
والمعنى عند أهل العلم أن الله خلق آدم سميعا بصيرا، متكلما إذا شاء، وهذا هو وصف الله فإنه سميع بصير متكلم إذا شاء، وله وجه جل وعلا.
وليس المعنى التشبيه والتمثيل، بل الصورة التي لله غير الصورة التي للمخلوق، وإنما المعنى أنه سميع بصير متكلم إذا شاء ومتى شاء، وهكذا خلق الله آدم، سميعا بصيرا، ذا وجه وذا يد وذا قدم، ولكن ليس السمع كالسمع، وليس البصر كالبصر، وليس المتكلم كالمتكلم، بل لله صفاته جل وعلا التي تليق بجلاله وعظمته، وللعبد صفاته التي تليق به، صفات يعتريها الفناء والنقص، وصفات الله سبحانه كاملة لا يعتريها نقص ولا زوال ولا فناء، ولهذا قال عز وجل: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (¬3) وقال سبحانه: وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ (¬4) فلا يجوز ضرب الوجه، ولا تقبيح الوجه.
(¬1) هذه الأسئلة وأجوبتها من برنامج نور على الدرب في الشريط رقم 30.
(¬2) مسند أحمد بن حنبل (2/519) .
(¬3) سورة الشورى الآية 11
(¬4) سورة الإخلاص الآية 4
বাংলা অনুবাদ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলী ও তার উত্তরসমূহ (১): চেহারা বিকৃত করা এবং আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—এ বিষয়ে আলোচনা:
প্রশ্ন ১: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদীস এসেছে, যেখানে তিনি চেহারা বিকৃত করা (বা কুৎসিত বলা) থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন… এই হাদীস সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস (আকীদা) কী হওয়া উচিত?
উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি প্রমাণিত (স্থির), যেখানে তিনি বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ আঘাত করে, তখন সে যেন চেহারাকে এড়িয়ে চলে। কেননা আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।” (২) অন্য একটি শব্দে এসেছে: “রহমানের আকৃতিতে।”
আর এর দ্বারা সাদৃশ্য (তাশবীহ) বা তুলনা (তামসীল) আবশ্যক হয় না।
আহলে ইলমদের (জ্ঞানীদের) নিকট এর অর্থ হলো: আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন শ্রবণকারী (সামি’), দর্শনকারী (বাসির) এবং যখন ইচ্ছা কথা বলতে সক্ষম (মুতাকাল্লিম) হিসেবে। আর এটিই হলো আল্লাহর বর্ণনা, কেননা তিনি শ্রবণকারী, দর্শনকারী এবং যখন ইচ্ছা কথা বলতে সক্ষম। আর তাঁর চেহারা (ওয়াজহ) রয়েছে, তিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ (জাল্লা ওয়া আলা)।
এর অর্থ সাদৃশ্য বা তুলনা নয়। বরং আল্লাহর যে আকৃতি (সুরাত) রয়েছে, তা সৃষ্টির আকৃতি থেকে ভিন্ন। বরং এর অর্থ হলো: তিনি (আল্লাহ) শ্রবণকারী, দর্শনকারী এবং যখন ইচ্ছা, যখনই ইচ্ছা কথা বলতে সক্ষম। আর এভাবেই আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন—শ্রবণকারী, দর্শনকারী, চেহারার অধিকারী, হাতের অধিকারী এবং পায়ের অধিকারী হিসেবে। কিন্তু শ্রবণ (সামা’) শ্রবণের মতো নয়, দর্শন (বাসার) দর্শনের মতো নয়, এবং কথা বলা (কালাম) কথা বলার মতো নয়।
বরং আল্লাহ তাআলার এমন সব গুণাবলী রয়েছে যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে মানানসই। আর বান্দার এমন সব গুণাবলী রয়েছে যা তার সাথে মানানসই—যে গুণাবলী বিনাশ ও ত্রুটির শিকার হয়। আর আল্লাহ সুবহানাহুর গুণাবলী হলো পূর্ণাঙ্গ, যা কোনো ত্রুটি, বিলুপ্তি বা বিনাশের শিকার হয় না।
এই কারণেই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: “তাঁর মতো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (৩) এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: “আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।” (৪)
সুতরাং, চেহারাতে আঘাত করা বা চেহারাকে বিকৃত করা (কুৎসিত বলা) জায়েয নয়।
(১) এই প্রশ্নাবলী ও তার উত্তরসমূহ ‘নূর আলাদ দারব’ অনুষ্ঠানের ৩০ নং ক্যাসেট থেকে নেওয়া হয়েছে।
(২) মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল (২/৫১৯)।
(৩) সূরা আশ-শূরা, আয়াত ১১।
(৪) সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ৪।

এখানে “আকৃতি” শব্দটি কেবল ক্ষমতা, জ্ঞান বা কর্তৃত্বের রূপক নয়। ইবনু বায ও ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় আল্লাহর চেহারা, চোখ, হাত ও পাকে বাস্তব গুণ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। ফলে মুহাম্মদের আল্লাহ কোনো অঙ্গহীন ও নিরাকার দার্শনিক সত্তা নন; তিনি নিজস্ব আকৃতি ও মানবদেহের অনুরূপ অঙ্গবাচক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এক সত্তা।


আল্লাহর হাত রয়েছে

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ পাকের হাত রয়েছে। নবী মুহাম্মদ অনেক জায়গাতেই আল্লাহর হাতের বর্ণনা দিয়েছেন।

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৫/ সুন্নাহ
পরিচ্ছেদঃ ২১. জাহমিয়্যাহ মতবাদ প্রত্যাখ্যাত
৪৭৩২। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন আসমানসমূহকে গুটিয়েতাঁর ডান হাতে নিয়ে বলবেন, আমি সর্বময় কর্তা ও মালিক, স্বৈরাচারীরা ও অহংকারকারীরা কোথায়? অতঃপর পৃথিবীসমূহকে গুটিয়েঅপর হাতে নিয়ে বলবেন, আমি মালিক স্বৈরাচারীরা ও অহংকারীরা কোথায়?[1]
সহীহ।
[1]. মুসলিম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
অধ্যায়ঃ ৪৪/ তাফসীরুল কুরআন
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ৬. সূরা আল-মায়িদাহ
৩০৪৫। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দয়াময় আল্লাহ তা’আলার ডান হাত পূর্ণ। সর্বদা তা অনুগ্রহ ঢালছে। রাত দিনের অবিরাম দান তাতে কখনো কমতি ঘটাতে পারে না। তিনি আরো বলেন, তোমরা লক্ষ্য করেছ কি যেদিন থেকে তিনি আসমান-যামীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন হতে কত না দান করে আসছেন, অথচ তার ডান হাতে যা আছে তাতে কিছুই কমতি হয়নি। (সৃষ্টির পূর্বে) তার আরশ ছিল পানির উপর। তার অপর হাতে রয়েছে মীযান (দাঁড়ি-পাল্লা)। তিনি তা নীচু করেন ও উত্তোলন করেন (সৃষ্টির রিযিক নির্ধারণ করেন)।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৯৭)।
আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি হল নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাস্বরূপঃ “ইয়াহুদীরা বলে, আল্লাহ তা’আলার হাত রুদ্ধ। ওরাই আসলে রুদ্ধহস্ত এবং ওরা যা বলে তজ্জন্য ওরা অভিশপ্ত। বরং আল্লাহ তা’আলার উভয় হাতই প্রসারিত, যেভাবে ইচ্ছা তিনি দান করেন”— (সূরা আল-মায়িদাহ ৬৪)।
ইমামগণ বলেন, এ হাদীস যেরূপে (আমাদের নিকট) এসেছে, কোনরূপ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও সন্দেহ-সংশয় ব্যতীতই তার উপর সেভাবেই ঈমান আনতে হবে। একাধিক ইমাম এ কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারাক (রাহঃ) প্রমুখ। তাদের মতে এরূপ বিষয় বর্ণনা করা যাবে, এগুলোর উপর ঈমান রাখতে হবে, কিন্তু তা কেমন এ কথা বলা যাবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

শুধু হাতই নয়, হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত রয়েছে, যার বিবরণ পাওয়া যায়,

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩০/ তাকদীর
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ৭. আল্লাহ তা’আলার দুই আঙ্গুলের মধ্যে সমস্ত অন্তর অবস্থিত
২১৪০। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আ অধিক পাঠ করতেনঃ হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত (দৃঢ়) রাখো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমরা ঈমান এনেছি আপনার উপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার উপর। আপনি আমাদের ব্যাপারে কি কোনরকম আশংকা করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা, আল্লাহ তা’আলার আঙ্গুলসমূহের মধ্যকার দুটি আঙ্গুলের মাঝে সমস্ত অন্তরই অবস্থিত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন।
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৮৩৪)।
আবূ ঈসা বলেন, নাওয়াস ইবনু সাম্আন, উন্মু সালামা, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। আমাশ-আবৃ সুফিয়ান হতে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ আমাশ-আবৃ সুফিয়ান হতে, তিনি জাবির (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ সুফিয়ানের বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


আল্লাহর পা রয়েছে

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ পাকের পা রয়েছে। কেয়ামতের বিচারের পরে আল্লাহ নাকি তার পা দিয়ে জাহান্নামে চেয়ে চেয়ে পাপী বান্দাদের ভর্তি করবেন

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৮৬/ জাহ্‌মিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ
পরিচ্ছদঃ ৩১২৭. আল্লাহ্‌র বাণীঃ আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়নদের নিকটবর্তী (৭ঃ ৫৬)
৬৯৪১। উবায়দুল্লাহ ইবনু সা’দ ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টি স্বীয় প্রতিপালকের কাছে অভিযোগ করল। জান্নাত বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার ব্যাপারটি কি হলো যে তাতে শুধু নিঃস্ব ও নিম্ন শ্রেনীর লোকেরাই প্রবেশ করবে। এদিকে জাহান্নামও অভিযোগ করল অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র অহংকারীদেরকেই আমাতে প্রাধান্য দিলেন। আল্লাহ জান্নাতকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি আমার রহমত। জাহান্নামকে বললেনঃ তুমি আমার আযাব। আমি যাকে চাইব, তোমাকে দিয়ে শাস্তি পৌছাব। তোমাদের উভয়কেই পূর্ণ করা হবে। তবে আল্লাহ তা’আলা তার সৃষ্টির কারো উপর যুলম করবেন না। তিনি জাহান্নামের জন্য নিজ ইচ্ছানুযায়ী নতুন সৃষ্টি পয়দা করবেন। তাদেরকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম বলবে, আরো অভিরিক্ত আছে কি? জাহান্নামে আরো নিক্ষেপ করা হবে, তখনো বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? এভাবে তিনবার বলবে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁর কদম (পা) জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দিলে তা পরিপূর্ন হয়ে যাবে। তখন জাহান্নামের একটি অংশ আরেকটি অংশকে এই উত্তর করবে যথেষ্ট হয়েছে যথেষ্ট হয়েছে ষথেষ্ট হয়েছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এগুলো সরাসরি মানবীয় আচরণ, অভিব্যক্তি ও শারীরিকতা বোঝায়। সালাফ ও আহলুল হাদিসের আলেমরা আল্লাহর এসব বৈশিষ্ট্যকে নিছক রূপক বলে প্রত্যাখ্যান করেননি। ইবনে তাইমিয়া সিজ্জীর আল-ইবানাহ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক, ইবনু উয়াইনাহ, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, হাম্মাদ ইবনু যায়দ, ইবনুল মুবারক, ফুযাইল, আহমদ ইবন হাম্বল ও ইসহাক এই বিশ্বাসে একমত ছিলেন—আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ আরশের উপরে আছেন; তিনি দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন; ক্রুদ্ধ হন, সন্তুষ্ট হন এবং যখন ইচ্ছা কথা বলেন। [12]

পৃষ্ঠা ২২২
মূল আরবি
وَقَالَ أَيْضًا الَّذِي عَلَيْهِ أَهْلُ السُّنَّةِ وَأَئِمَّةُ الْفِقْهِ وَالْأَثَرِ: فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ وَمَا أَشْبَهَهَا: الْإِيمَانُ بِمَا جَاءَ عَنْ النَّبِيِّ وَالتَّصْدِيقُ بِذَلِكَ وَتَرْكُ التَّحْدِيدِ وَالْكَيْفِيَّةُ فِي شَيْءٍ مِنْهُ. وَقَالَ السجزي فِي الْإِبَانَةِ وَأَئِمَّتُنَا كَالثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَابْنِ عُيَيْنَة، وَحَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ وَحَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ والْفُضَيْل وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ: مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ بِذَاتِهِ فَوْقَ الْعَرْشِ وَأَنَّ عِلْمَهُ بِكُلِّ مَكَانٍ وَأَنَّهُ يُرَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالْأَبْصَارِ فَوْقَ الْعَرْشِ وَأَنَّهُ يَنْزِلُ إلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا وَأَنَّهُ يَغْضَبُ وَيَرْضَى وَيَتَكَلَّمُ بِمَا شَاءَ.
فَمَنْ خَالَفَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَهُوَ مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَهُمْ مِنْهُ بُرَآءُ. وَقَالَ الشَّيْخُ عَبْدُ الْقَادِرِ فِي الغنية أَمَّا مَعْرِفَةُ الصَّانِعِ بِالْآيَاتِ وَالدَّلَالَاتِ – عَلَى وَجْهِ الِاخْتِصَارِ – فَهُوَ أَنْ يَعْرِفَ وَيَتَيَقَّنَ أَنَّ اللَّهَ وَاحِدٌ أَحَدٌ صَمَدٌ. إلَى أَنْ قَالَ: وَهُوَ بِجِهَةِ الْعُلُوِّ مُسْتَوٍ عَلَى الْعَرْشِ مُحْتَوٍ عَلَى الْمُلْكِ مُحِيطٌ عِلْمُهُ بِالْأَشْيَاءِ. قَالَ: وَلَا يَجُوزُ وَصْفُهُ بِأَنَّهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ؛ بَلْ يُقَالُ: إنَّهُ فِي السَّمَاءِ عَلَى الْعَرْشِ.
إلَى أَنْ قَالَ: وَيَنْبَغِي إطْلَاقُ صِفَةِ الِاسْتِوَاءِ مِنْ غَيْرِ تَأْوِيلٍ وَأَنَّهُ اسْتِوَاءُ الذَّاتِ عَلَى الْعَرْشِ. قَالَ: وَكَوْنُهُ عَلَى الْعَرْشِ فِي كُلِّ كِتَابٍ أُنْزِلَ عَلَى كُلِّ نَبِيٍّ أُرْسِلَ بِلَا تَكْيِيفٍ. وَذَكَرَ الشَّيْخُ نَصْرٌ المقدسي فِي كِتَابِ الْحُجَّةِ عَنْ ابْنِ أَبِي حَاتِمٍ قَالَ: سَأَلْت أَبِي وَأَبَا زُرْعَةَ عَنْ مَذَاهِبِ أَهْلِ السُّنَّةِ؟ فَقَالَا أَدْرَكْنَا الْعُلَمَاءَ فِي جَمِيعِ
বাংলা অনুবাদ
তিনি (ইবনু তাইমিয়্যাহ) আরও বলেছেন: এই মাসআলা এবং এর অনুরূপ মাসআলাসমূহে আহলুস সুন্নাহ এবং ফিকহ ও আসার (বর্ণনা) এর ইমামগণের মত হলো: নবীর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে তার প্রতি ঈমান আনা, সেগুলোকে সত্যায়ন করা এবং এর কোনো কিছুতে সীমা নির্ধারণ (তাহদীদ) ও কাইফিয়াত (কেমনত্ব) আরোপ করা পরিহার করা।
সিজ্জী (As-Sijzi) তাঁর ‘আল-ইবানা’ গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের ইমামগণ—যেমন সাউরী, মালিক, ইবনু উয়াইনাহ, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ, হাম্মাদ ইবনু যায়দ, ইবনুল মুবারাক, ফুযাইল, আহমাদ এবং ইসহাক—এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর সত্তা (যাত) সহ আরশের উপরে আছেন, আর তাঁর জ্ঞান সর্বস্থানে পরিব্যাপ্ত। আর কিয়ামতের দিন তাঁকে আরশের উপরে দৃষ্টিসমূহ দ্বারা দেখা যাবে। আর তিনি দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, তিনি ক্রোধাম্বিত হন, সন্তুষ্ট হন এবং যা ইচ্ছা কথা বলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো কিছুর বিরোধিতা করবে, সে তাদের থেকে মুক্ত এবং তারা তার থেকে মুক্ত।
শাইখ আব্দুল কাদির (আল-জিলানী) তাঁর ‘আল-গুনিয়াহ’ গ্রন্থে বলেছেন: আর আয়াত ও প্রমাণাদির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার পরিচয় লাভ—সংক্ষেপে—হলো এই যে, সে যেন জানে ও নিশ্চিত হয় যে, আল্লাহ ওয়াহিদুন আহাদুন সামাদ (এক, একক, অমুখাপেক্ষী)। …এরপর তিনি বলেন: আর তিনি উলুও (ঊর্ধ্বতা)-এর দিকে আরশের উপর সমাসীন (মুসতাউইন), রাজত্বের উপর পরিবেষ্টনকারী (মুহতাউইন), তাঁর জ্ঞান সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
তিনি (আব্দুল কাদির) বলেছেন: তাঁকে এই বলে গুণান্বিত করা জায়েয নয় যে, তিনি সর্বস্থানে আছেন; বরং বলা হবে: তিনি আসমানে আরশের উপর আছেন। …এরপর তিনি বলেন: তাওবীল (রূপক ব্যাখ্যা) ছাড়া ইসতিওয়া (সমাসীন হওয়া)-এর সিফাতকে (গুণকে) সাধারণভাবে বর্ণনা করা উচিত এবং তা হলো আরশের উপর সত্তার ইসতিওয়া।
তিনি বলেছেন: আর তাঁর আরশের উপর থাকা—যা প্রত্যেক প্রেরিত নবীর উপর নাযিলকৃত প্রত্যেক কিতাবে এসেছে—তা তাকয়ীফ (কেমনত্ব আরোপ) ছাড়া।
আর শাইখ নসর আল-মাকদিসী তাঁর ‘কিতাবুল হুজ্জাহ’ গ্রন্থে ইবনু আবী হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা (আবু হাতিম) এবং আবু যুরআকে আহলুস সুন্নাহর মাযহাবসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম? তখন তাঁরা দুজন বললেন: আমরা সকল অঞ্চলের উলামাদের পেয়েছি… (বাক্য অসম্পূর্ণ)।

পৃষ্ঠা ২২৩
মূল আরবি
الْأَمْصَارِ: حِجَازًا وَعِرَاقًا وَمِصْرَ وَشَامًا ويَمَنًا؛ فَكَانَ مِنْ مَذَاهِبِهِمْ: أَنَّ الْإِيمَانَ قَوْلٌ وَعَمَلٌ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ. وَالْقُرْآنَ كَلَامُ اللَّهِ مُنَزَّلٌ؛ غَيْرُ مَخْلُوقٍ بِجَمِيعِ جِهَاتِهِ إلَى أَنْ قَالَ: وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ وَعَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَا كَيْفٍ. أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا. وَقَالَ الشَّيْخُ نَصْرٌ فِي أَثْنَاءِ الْكِتَابِ إنْ قَالَ قَائِلٌ قَدْ ذَكَرْت مَا يَجِبُ عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ: مِنْ اتِّبَاعِ كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ، وَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْأَئِمَّةُ وَالْعُلَمَاءُ.
فَاذْكُرْ مَذْهَبَهُمْ وَمَا أَجْمَعُوا عَلَيْهِ. فَالْجَوَابُ: أَنَّ الَّذِي أَدْرَكْنَا عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ وَمَنْ بَلَغَنِي قَوْلُهُ مِنْ غَيْرِهِمْ. فَذَكَرَ مُجْمَلَ اعْتِقَادِ أَهْلِ السُّنَّة وَفِيهِ: وَأَنَّ اللَّهَ مُسْتَوٍ عَلَى عَرْشِهِ بَائِنٌ مِنْ خَلْقِهِ. كَمَا قَالَ: فِي كِتَابِهِ. وَقَالَ أَبُو الْحَسَنِ الكرجي الشَّافِعِيُّ فِي قَصِيدَتِهِ الْمَشْهُورَةِ فِي السُّنَّةِ:
عَقِيدَتُهُمْ أَنَّ الْإِلَهَ بِذَاتِهِ … عَلَى عَرْشِهِ مَعَ عِلْمِهِ بالغوائب
وَقَالَ الْقُرْطُبِيُّ – صَاحِبُ التَّفْسِيرِ الْكَبِيرِ – فِي قَوْله تَعَالَى ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ قَالَ هَذِهِ مَسْأَلَةُ الِاسْتِوَاءِ وَلِلْعُلَمَاءِ فِيهَا كَلَامٌ. فَذَكَرَ قَوْلَ الْمُتَكَلِّمِينَ. ثُمَّ قَالَ: كَانَ السَّلَفُ الْأَوَّلُ لَا يَقُولُونَ بِنَفْيِ الْجِهَةِ وَلَا يَنْطِقُونَ بِذَلِكَ. بَلْ نَطَقُوا هُمْ وَالْكَافَّةُ بِإِثْبَاتِهَا لِلَّهِ، كَمَا نَطَقَ بِهِ كِتَابُهُ وَأَخْبَرَتْ
বাংলা অনুবাদ
প্রধান প্রধান অঞ্চলে: হিজাজ, ইরাক, মিশর, শাম এবং ইয়েমেন; তাদের মাযহাবসমূহের (আকীদা) মধ্যে ছিল: নিশ্চয় ঈমান হলো উক্তি (কথা) ও কর্ম, যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়। আর কুরআন হলো আল্লাহর কালাম (বাণী), যা নাযিলকৃত; এটি এর সকল দিক থেকে সৃষ্ট নয়। এরপর তিনি বললেন: আর নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর আরশের উপর আছেন, তাঁর সৃষ্টি থেকে স্বতন্ত্র (বাঈনুন মিন খালকিহি), যেমন তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবানে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন— কোনো কাইফিয়াত (পদ্ধতি/স্বরূপ) জিজ্ঞাসা করা ছাড়া। তিনি জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন।
আর শায়খ নসর কিতাবের মধ্যভাগে বলেছেন, যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: আপনি তো উল্লেখ করেছেন যে, আহলে ইসলামের উপর কী কী আবশ্যক— আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর অনুসরণ, এবং যার উপর ইমামগণ ও উলামাগণ ঐকমত্য (ইজমা) পোষণ করেছেন। অতএব, আপনি তাদের মাযহাব এবং যার উপর তারা ইজমা করেছেন, তা উল্লেখ করুন।
এর উত্তর হলো: আমি আহলে ইলমদেরকে যার উপর পেয়েছি এবং তাদের ছাড়া যাদের উক্তি আমার কাছে পৌঁছেছে। এরপর তিনি ‘আহলে সুন্নাহর আকীদার সারসংক্ষেপ’ (মুজমাল) উল্লেখ করলেন এবং তাতে আছে: আর নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর আরশের উপর ‘মুস্তাভি’ (আরোহণকারী/প্রতিষ্ঠিত), তাঁর সৃষ্টি থেকে স্বতন্ত্র (বাঈনুন মিন খালকিহি)। যেমন তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন।
আর আবুল হাসান আল-কারাজি আশ-শাফিঈ তাঁর ‘সুন্নাহ বিষয়ক বিখ্যাত কাসিদায়’ বলেছেন:
তাদের আকীদা হলো, নিশ্চয় ইলাহ (উপাস্য) তাঁর সত্ত্বা সহকারে…
তাঁর আরশের উপর আছেন, যদিও তিনি গায়েবের (অদৃশ্যের) জ্ঞান রাখেন।
আর আল-কুরতুবি— যিনি তাফসীরে কাবীরের (বিশাল তাফসীর গ্রন্থের) রচয়িতা— আল্লাহ তাআলার বাণী: ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ (এরপর দয়াময় আরশের উপর ইস্তিওয়া করলেন) প্রসঙ্গে বলেছেন: এটি হলো ‘ইস্তিওয়ার মাসআলা’ (বিষয়), আর উলামাদের এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
এরপর তিনি মুতাকাল্লিমীনদের (কালামশাস্ত্রবিদদের) উক্তি উল্লেখ করলেন। অতঃপর বললেন: প্রথম যুগের সালাফগণ ‘জিহা’ (দিক বা ঊর্ধ্বে থাকা) অস্বীকার করার কথা বলতেন না এবং তারা তা উচ্চারণও করতেন না। বরং তারা এবং সাধারণ মানুষ সকলেই আল্লাহর জন্য তা (জিহা) সাব্যস্ত করার কথা উচ্চারণ করতেন, যেমন তাঁর কিতাব তা উচ্চারণ করেছে এবং খবর দিয়েছে।

পৃষ্ঠা ২২৪
মূল আরবি
بِهِ رُسُلُهُ. قَالَ: وَلَمْ يُنْكِرْ أَحَدٌ مِنْ السَّلَفِ الصَّالِحِ أَنَّهُ اسْتَوَى عَلَى عَرْشِهِ حَقِيقَةً، وَإِنَّمَا جَهِلُوا كَيْفِيَّةَ الِاسْتِوَاءِ. فَإِنَّهُ لَا تُعْلَمُ حَقِيقَتُهُ. ثُمَّ قَالَ: بَعْدَ أَنْ حَكَى أَرْبَعَةَ عَشَرَ قَوْلًا – وَأَظْهَرُ الْأَقْوَالِ مَا تَظَاهَرَتْ عَلَيْهِ الْآيُ وَالْأَخْبَارُ وَالْفُضَلَاءُ الْأَخْيَارُ: أَنَّ اللَّهَ عَلَى عَرْشِهِ كَمَا أَخْبَرَ فِي كِتَابِهِ وَعَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ بِلَا كَيْفٍ. بَائِنٌ مِنْ جَمِيعِ خَلْقِهِ. هَذَا مَذْهَبُ السَّلَفِ الصَّالِحِ فِيمَا نَقَلَهُ الثِّقَاتُ عَنْهُمْ.
وَلَمَّا اجْتَمَعْنَا بِدِمَشْقَ وَأَحْضَرَ فِيمَا أَحْضَرَ كُتُبَ أَبِي الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيِّ: مِثْلَ الْمَقَالَاتِ وَ الْإِبَانَةِ وَأَئِمَّةِ أَصْحَابِهِ كَالْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ وَابْنِ فورك وَالْبَيْهَقِي وَغَيْرِهِمْ. وَأَحْضَرَ كِتَابَ الْإِبَانَةِ وَمَا ذَكَرَ ابْنُ عَسَاكِرَ فِي كِتَابِ تَبْيِينِ كَذِبِ الْمُفْتَرِي فِيمَا نُسِبَ إلَى الْأَشْعَرِيِّ وَقَدْ نَقَلَهُ بِخَطِّهِ أَبُو زَكَرِيَّا النَّوَوِيُّ. وَقَالَ فِيهِ: فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: قَدْ أَنْكَرْتُمْ قَوْلَ الْمُعْتَزِلَةِ وَالْقَدَرِيَّةِ وَالْجَهْمِيَّة والحرورية وَالرَّافِضَةِ وَالْمُرْجِئَةِ: فَعِّ رفونا قَوْلَكُمْ الَّذِي بِهِ تَقُولُونَ.
قِيلَ لَهُ: قَوْلُنَا: التَّمَسُّكُ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ وَمَا رُوِيَ عَنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَأَئِمَّةِ الْحَدِيثِ. وَنَحْنُ بِذَلِكَ مُعْتَصِمُونَ وَبِمَا كَانَ يَقُولُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ نَضَّرَ اللَّهُ وَجْهَهُ وَرَفَعَ دَرَجَتَهُ وَأَجْزَلَ مَثُوبَتَهُ قَائِلُونَ وَلِمَا خَالَفَ قَوْلَهُ مُجَانِبُونَ، لِأَنَّهُ الْإِمَامُ الْفَاضِلُ الَّذِي أَبَانَ اللَّهُ بِهِ الْحَقَّ عِنْدَ ظُهُورِ الضَّلَالِ وَأَوْضَحَ بِهِ الْمِنْهَاجَ وَقَمَعَ بِهِ بِدَعَ الْمُبْتَدِعِينَ وَزَيْغَ الزَّائِغِينَ وَشَكَّ الشَّاكِّينَ.
বাংলা অনুবাদ
তাঁর রাসূলগণ তা নিয়ে এসেছেন। তিনি (ইবনু তাইমিয়্যাহ) বলেন: সালাফে সালেহীনের কেউই এই বিষয়টি অস্বীকার করেননি যে, আল্লাহ তাঁর আরশের উপর সত্যিকার অর্থে ইসতিওয়া (প্রতিষ্ঠিত) হয়েছেন। বরং তারা কেবল ইসতিওয়ার স্বরূপ (কাইফিয়্যাত) সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। কারণ এর বাস্তবতা জানা যায় না। অতঃপর তিনি চৌদ্দটি মত উদ্ধৃত করার পর বলেন— মতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুস্পষ্ট হলো যা আয়াতসমূহ, হাদীসসমূহ এবং নেককার বিদ্বানগণ সমর্থন করেছেন: আল্লাহ তাঁর আরশের উপর সেভাবেই আছেন যেভাবে তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর যবানে খবর দিয়েছেন— কোনো স্বরূপ বা পদ্ধতি ব্যতিরেকে (বিলা কাইফ)। তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে পৃথক (বা’ইন)। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা সালাফে সালেহীন থেকে যা বর্ণনা করেছেন, এটিই হলো তাঁদের মাযহাব (মতাদর্শ)।
আর যখন আমরা দামেস্কে একত্রিত হলাম এবং তিনি (আলোচনাকারী) যা কিছু পেশ করলেন তার মধ্যে ছিল আবুল হাসান আল-আশআরীর কিতাবসমূহ: যেমন ‘আল-মাকালাত’ এবং ‘আল-ইবানা’, এবং তাঁর অনুসারী ইমামগণের কিতাবসমূহ, যেমন আল-কাদী আবু বকর, ইবনু ফাওরাক, আল-বায়হাকী এবং অন্যান্যদের কিতাব। তিনি ‘আল-ইবানা’ কিতাবটিও পেশ করলেন এবং ইবনু আসাকির তাঁর কিতাব ‘তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরী’তে যা উল্লেখ করেছেন (তাও পেশ করলেন)। আর আবু যাকারিয়া আন-নাওয়াওয়ী নিজ হাতে তা নকল করেছেন।
এবং তাতে (আল-ইবানাতে) তিনি (আল-আশআরী) বলেছেন: যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: তোমরা তো মু’তাযিলা, কাদারিয়্যা, জাহমিয়্যা, হারূরীয়্যা, রাফিদা এবং মুরজিয়াদের মতকে অস্বীকার করেছ; তাহলে তোমরা যে মত পোষণ করো, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করো।
তাকে বলা হবে: আমাদের মত হলো: আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ এবং সাহাবা, তাবেঈন ও হাদীসের ইমামগণ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। আর আমরা এর মাধ্যমেই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং আমরা সেই মতের অনুসারী যা আহমাদ ইবনু হাম্বল (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে উজ্জ্বল করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর প্রতিদানকে মহৎ করুন) বলতেন। আর তাঁর মতের বিপরীত যা কিছু, তা থেকে আমরা দূরে থাকি। কারণ তিনিই সেই শ্রেষ্ঠ ইমাম, যার মাধ্যমে আল্লাহ পথভ্রষ্টতা প্রকাশ পাওয়ার সময় সত্যকে স্পষ্ট করেছেন, তাঁর মাধ্যমে সঠিক পথকে উজ্জ্বল করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে বিদআতীদের বিদআত, বিপথগামীদের বক্রতা এবং সন্দেহ পোষণকারীদের সন্দেহকে দমন করেছেন।

পৃষ্ঠা ২২৫
মূল আরবি
وَذَكَرَ الِاعْتِقَادَ الَّذِي ذَكَرَهُ فِي الْمَقَالَاتِ عَنْ أَهْلِ السُّنَّة ثُمَّ احْتَجَّ عَلَى أَبْوَابِ الْأُصُولِ مِثْلَ مَسْأَلَةِ الْقُرْآنِ وَالرُّؤْيَةِ وَالصِّفَاتِ
ثُمَّ قَالَ: بَابُ ذِكْرِ الِاسْتِوَاءِ.
فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ: مَا تَقُولُونَ فِي الِاسْتِوَاءِ: قِيلَ بِأَنَّ اللَّهَ مُسْتَوٍ عَلَى عَرْشِهِ. كَمَا قَالَ سُبْحَانَهُ: الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى وَقَالَ: إلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ وَقَالَ سُبْحَانَهُ: بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إلَيْهِ وَقَالَ فِرْعَوْنُ: يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إلَى إلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا كَذَّبَ مُوسَى فِي قَوْلِهِ إنَّ اللَّهَ فَوْقَ السَّمَوَاتِ.
وَقَالَ: أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ وَالسَّمَوَاتُ فَوْقَهَا الْعَرْشُ وَإِنَّمَا أَرَادَ الْعَرْشَ الَّذِي هُوَ عَلَى السَّمَوَاتِ أَلَا تَرَى أَنَّ اللَّهَ ذَكَرَ السَّمَوَاتِ فَقَالَ: وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا لَمْ يُرِدْ أَنَّ الْقَمَرَ يَمْلَؤُهُنَّ جَمِيعًا وَأَنَّهُ فِيهِنَّ جَمِيعًا. وَرَأَيْنَا الْمُسْلِمِينَ جَمِيعًا يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إذَا دَعَوْا نَحْوَ الْعَرْشِ. قَالَ وَقَدْ قَالَ قَائِلُونَ: مِنْ الْمُعْتَزِلَةِ وَالْجَهْمِيَّة والحرورية إنَّ مَعْنَى قَوْلِهِ الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى أَيْ اسْتَوْلَى وَمَلَكَ وَقَهَرَ.
وَاَللَّهُ فِي كُلِّ مَكَانٍ، وَجَحَدُوا أَنْ يَكُونَ اللَّهُ عَلَى عَرْشِهِ كَمَا قَالَهُ أَهْلُ الْحَقِّ. قَالَ: وَلَوْ كَانَ كَمَا قَالُوا: كَانَ لَا فَرْقَ بَيْنَ الْعَرْشِ وَبَيْنَ الْأَرْضِ السَّابِعَةِ السُّفْلَى؛ لِأَنَّ اللَّهَ قَادِرٌ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَقَدَّرَ ذَلِكَ.
বাংলা অনুবাদ
এবং তিনি সেই আকীদার কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি ‘আল-মাকালাত’-এ আহলুস সুন্নাহ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি উসূলের অধ্যায়সমূহ, যেমন ‘কুরআনের মাসআলা’, ‘রুইয়াহ’ এবং ‘সিফাতসমূহ’ নিয়ে প্রমাণ পেশ করেছেন।
অতঃপর তিনি বললেন: ইসতিওয়ার আলোচনার অধ্যায়।
যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আপনারা ইসতিওয়া সম্পর্কে কী বলেন? উত্তরে বলা হবে: আল্লাহ তাঁর আরশের উপর ‘মুস্তাভী’ (প্রতিষ্ঠিত/সমুন্নত), যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন: দয়াময় (আল্লাহ) আরশের উপর ইসতাওয়া (প্রতিষ্ঠিত) হয়েছেন। [সূরা ত্বাহা, ২০:৫]
এবং তিনি বলেছেন: তাঁরই দিকে আরোহণ করে উত্তম বাক্য এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে। [সূরা ফাতির, ৩৫:১০]
এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন। [সূরা নিসা, ৪:১৫৮]
এবং ফিরআউন বলেছিল: হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি উপায়সমূহে পৌঁছতে পারি— আকাশসমূহের উপায়সমূহে, অতঃপর আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই। আর আমি অবশ্যই তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি। [সূরা গাফির, ৪০:৩৬-৩৭] (ফিরআউন) মূসাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাঁর এই কথায় যে, আল্লাহ আকাশসমূহের উপরে।
এবং তিনি বলেছেন: তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আসমানে আছেন, যে তিনি তোমাদেরকে জমিনের মধ্যে ধসিয়ে দেবেন না? [সূরা মূলক, ৬৭:১৬]
আর আকাশসমূহের উপরে রয়েছে আরশ। আর (আল্লাহ) আসমানের উপরস্থ আরশকেই উদ্দেশ্য করেছেন। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ যখন আকাশসমূহের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: এবং সেগুলোর মধ্যে চাঁদকে আলো হিসেবে স্থাপন করেছেন। [সূরা নূহ, ৭১:১৬] তখন তিনি এটা উদ্দেশ্য করেননি যে, চাঁদ সেগুলোর সবগুলোকে পূর্ণ করে রেখেছে এবং তা সেগুলোর সবগুলোর মধ্যেই বিদ্যমান।
আর আমরা দেখেছি যে, সকল মুসলিম যখন দু’আ করে, তখন তারা তাদের হাত আরশের দিকে উত্তোলন করে।
তিনি (ইমাম) বলেন: মু’তাযিলা, জাহমিয়্যাহ এবং হারূরীয়্যাহ (খারেজী)-দের মধ্য থেকে কিছু লোক বলেছে যে, আল্লাহর বাণী: দয়াময় (আল্লাহ) আরশের উপর ইসতাওয়া (প্রতিষ্ঠিত) হয়েছেন এর অর্থ হলো: তিনি ‘ইসতাওলা’ (কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা) করেছেন, মালিক হয়েছেন এবং পরাভূত করেছেন। এবং (তারা বলে) আল্লাহ সকল স্থানে বিদ্যমান। আর তারা এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে যে, আল্লাহ তাঁর আরশের উপর রয়েছেন, যেমনটি আহলুল হক্ক (সত্যপন্থীগণ) বলেছেন।
তিনি (ইমাম) বলেন: যদি তাদের কথা অনুযায়ী হতো, তবে আরশ এবং সপ্তম নিম্নতম পৃথিবীর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না; কারণ আল্লাহ সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং তিনি এর (আরশের) মর্যাদা নির্ধারণ করেছেন।

সমসাময়িক সালাফি আকীদাতেও একই অবস্থান বহাল রয়েছে। ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় আল্লাহর হাত, মুখ, আঙুল, চোখ, হাসি এবং প্রতি রাতে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণকে প্রকৃত গুণ ও ক্রিয়া হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এসবের বাহ্যিক ও প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করতে হবে; রূপক অর্থে পরিবর্তন করা যাবে না। [13]

The divine attributes are to be affirmed in a literal sense, not metaphorical
13/Jumada al-thani/1435 , 13/April/2014
168,936
Question 151794
I am a teacher of Arabic language, and based on my literary perceptivity and my study of metaphor, I think that some of the verses which speak of the divine attributes are more metaphorical than literal. For example, when Allah, may He be exalted, says (interpretation of the meaning), “The Hand of Allah is over their hands” [al-Fath 48:10], what is meant is might and power; I do not think that it is a hand in the real sense of the word. Similarly, when He, may He be exalted, says (interpretation of the meaning), “for verily, you are under Our Eyes” [at-Toor 52:48], what is meant is under Our care and protection. My sense of the language refuses to accept that it is referring to an eye in a real sense. Can you explain this matter to me?
Answer
Praise be to Allah, and blessings and peace be upon the Messenger of Allah:
Correct belief should be based on what is proven in the Quran and Sunnah, as understood by the early generations (salaf) of this ummah, namely the Sahaabah, Taabi‘een and leading scholars. They were unanimously agreed that the divine attributes mentioned in the Quran and Sunnah are to be affirmed without discussing how or likening Him to His creation, and without denying any of His attributes or interpreting them in a way different from the apparent meaning. We do not differentiate between any of the divine attributes, no matter what category they come under. Every divine attribute that is mentioned in a saheeh text must be affirmed.
The Quran and Sunnah came to teach people about the attributes of their God, and this can only be done by understanding the words in a real sense; this is the basic principle with regard to statements. The Prophet (blessings and peace of Allah be upon him) conveyed the Holy Quran in both wording and meaning; not a single letter was narrated from him to suggest that any of the divine attributes should be interpreted in a way different from its apparent meaning, or that its apparent meaning is not intended, or that it means likening Him to His creation, or other phrases used by those who deny the divine attributes or interpret them in a way other than their apparent meaning. This is casting aspersions upon the Quran or upon the Messenger who was enjoined to convey and explain it. If anything of what they had mentioned was essential, then the Quran and the Prophet would have explained it and not concealed it. How could it be otherwise when it is proven in a number of saheeh hadeeths, the authenticity of which is agreed upon, that these attributes are to be affirmed, and there are other attributes mentioned in other hadeeths, such as His descending, His foot, His smiling, and His rejoicing, without any word to suggest that they should be understood in a way different from the apparent meaning, and without any Sahaabi having found it problematic to take them as they appear to be and according to what may be understood from them. If there was anything in the apparent meaning that could be regarded as not befitting to the divine or as likening the divine to any created being – and it is not possible for there to be any such thing in the Quran or Sunnah – then the infallible Prophet would have pointed it out and highlighted it to people, and the people of reason at that time would have questioned it, for they were more eager to attain good and adhere to it.
When innovations appeared, and people emerged who said that these attributes were to be understood in a metaphorical, rather than a real, sense – as was the view of the Jahamis and Mu‘tazilah and those who agreed with them – the early generations and leading scholars responded by stating that these attributes are to be understood in a real sense, not in a metaphorical sense. Their comments on this matter are abundant and well-known. We will quote some of their comments here:
-1-
‘Uthmaan ibn Sa‘eed ad-Daarimi (d. 280 – may Allah have mercy on him) said:
, may He be exalted, we know about the concept of metaphors from the language of the Arabs, which you have taken and used to confuse and mislead the ignorant. By means of this concept you denied the reality of the divine attributes, on the basis of the metaphor argument. But we say: It is wrong to judge the most common style in the Arabic language on the basis of its rarest style; rather we should understand the statements of the Arabs on the basis of the most common style, unless you can produce proof that what is meant here is the rarer style (namely metaphor). This is the approach that is most fair, and it is not right to approach the divine attributes that are well known and understood as they appear to be by people of common sense, and twist the meaning on the grounds that these are metaphors.
End quote from Naqd ad-Raadirmi ‘ala Bishr al-Mireesi, 2/755
-2-
Imam Abu Ja‘far Muhammad ibn Jareer at-Tabari (d. 310 – may Allah have mercy on him) said:
If someone were to say: What is the proper approach with regard to the meaning of these attributes that you have mentioned, some of which are mentioned in the Book and revelation of Allah, may He be glorified and exalted, and some were mentioned by the Messenger of Allah (blessings and peace of Allah be upon him)? Our response is: The correct approach in our view is to affirm the meaning in a real sense, without likening Him to His creation, as Allah said of Himself in the Quran (interpretation of the meaning): “There is nothing like unto Him, and He is the All-Hearer, the All-Seer” [ash-Shoora 42:11]. … So we affirm all of the meanings that we said are mentioned in the reports and the Quran and the revelation according to their apparent meaning, and we reject any likening of Him to His creation. Hence we say: He, may He be glorified and exalted, hears all sounds, but not through a hole in an ear or through any physical faculty like those of the sons of Adam. Similarly, He sees all people with vision that is not like the vision of the sons of Adam, which is a physical faculty of theirs. He has two hands, a right hand, and fingers, but not in a physical sense; rather His two hands are outstretched, bestowing blessings upon creation, not withholding good. And He has a countenance or face, but it is not like the physical faces of the sons of Adam that are made of flesh and blood. We say that He smiles upon whomever He will of His creation, but we do not say that this is showing teeth (like a human smile); and He descends every night to the lowest heaven.
End quote from Tabseer fi Ma‘aalim ad-Deen, p. 141-145
-3-
Imam Abu Ahmad Muhammad ibn ‘Ali ibn Muhammad al-Karji who is known as al-Qassaab (d. 360 AH) said concerning the Qaadari belief in a letter that he wrote for the caliph al-Qaadir bi Amr-Allah in 433 AH, which was signed by the scholars of that time to confirm its content, which was sent to the various regions:
Allah is not to be described except as He has described Himself or as His Prophet has described Him. Any attribute that He has ascribed to Himself or that His Prophet has ascribed to Him, is an attribute in a real sense, and is not metaphorical. If it was metaphorical, then it would have been necessary to explain it in a manner different from the apparent meaning, so it would have been said: What is meant by vision is such and such, what is meant by hearing is such and such, and so on; it would have been explained in a way different from what one would understand from the apparent meaning. As the approach of the salaf is to affirm the attributes without interpreting them in a way different from the apparent meaning, this proves that they are not to be understood in a metaphorical sense; rather they are plain facts.
End quote from al-Muntazam by Ibn al-Jawzi, speaking of the events of 433 AH; Siyar A‘laam an-Nubala’, 16/213
-4-
Imam al-Haafiz Abu ‘Abdullah Muhammad ibn Ishaaq ibn Mandah (d. 395) said, affirming the divine attribute of the two hands:
Chapter on the verse in which Allah, may He be glorified and exalted, says (interpretation of the meaning): “(Allah) said: ‘O Iblees (Satan)! What prevents you from prostrating yourself to one whom I have created with Both My Hands’” [Saad 38:75]. And he quoted words of the Prophet (blessings and peace of Allah be upon him) that could prove that Allah, may He be glorified and exalted, created Adam (peace be upon him) with His two hands in a real sense.
And he said, affirming the divine attribute of the countenance or face:
Chapter on the verse in which Allah, may He be glorified and exalted, says (interpretation of the meaning): “Everything will perish save His Face” [al-Qasas 28:88]. And Allah, may He be glorified and exalted, says (interpretation of the meaning): “And the Face of your Lord full of Majesty and Honour will abide forever” [ar-Rahmaan 55:27]. And he quoted proven reports from the Prophet which indicate that this is to be understood in a real sense.
End quote from ar-Radd ‘ala al-Jahamiyyah, p. 68, 94
-5-
Imam Haafiz al-Maghrib Abu ‘Umar Yoosuf ibn ‘Abdullah ibn ‘Abd al-Barr al-Andalusi al-Qurtubi al-Maaliki (d. 463) said:
In principle, words are to be understood in a real sense, unless the ummah is unanimously agreed that something is not to be understood in a real sense, and is rather a metaphor, because there is no way to follow what has been revealed to us from our Lord except on that basis. Rather we should understand the words of Allah, may He be glorified and exalted, on the basis of the most apparent and clearest meaning, unless there is a strong reason to do otherwise. If it were justifiable for anyone to claim that something is a metaphor, then no statement would mean anything. Allah, may He be glorified and exalted, is far above saying anything in the Quran except that which is said in a manner that may be understood by the Arabs on the basis of their style of speech. Istiwa’ (rising above (the Throne)) is well known and understood in Arabic; it means rising above something and becoming settled and established.
He said, narrating that there was consensus among Ahl as-Sunnah concerning this matter: Ahl as-Sunnah are unanimously agreed that all the divine attributes mentioned in the Quran and Sunnah are to be affirmed, and we are to believe in them and understand them in a real sense, not as metaphorical. But they do not discuss the nature of any of them. As for the followers of innovation, the Jahamis, all the Mu‘tazilah and the Khaarijis, all of them deny the divine attributes and do not understand them in a true sense; they claimed that the one who affirms them is likening Him to His creation. According to those who do affirm the divine attributes, these people are denying God. The truth is on the side of those who base their understanding on the wording of the Book of Allah and the Sunnah of His Messengers, and they are the leaders of al-jamaa‘ah, praise be to Allah.
End quote from at-Tamheed, 7/131, 145
-6-
Imam al-Haafiz adh-Dhahabi said, after quoting the words of al-Qassaab referred to above:
As Allah exists in a real sense, not metaphorically, His attributes cannot be taken as metaphorical, because in that case they could not be divine attributes, because the attributes are connected to the one who possesses those attributes. As He exists in a real sense, not in a metaphorical sense, His attributes cannot be metaphorical. As there is nothing equal or similar to Him, there can be nothing like His attributes.
He said, commenting on the words of Ibn ‘Abd al-Barr mentioned above:
He spoke the truth, by Allah. Whoever interprets all the divine attributes in a manner other than their apparent meaning, and regards the words as metaphorical, that will inevitably lead him to denying the Lord and likening Him to something non-existent. It was narrated from Hammaad ibn Zayd that he said: The likeness of the Jahamis is that of people who said: On our land there is a palm tree. It was said: Does it have leaves? They said: No. It was said: Does it have branches? They said: No. It was said: Does it have bunches of dates? They said: No. It was said: Does it have a trunk? They said: No. It was said: Then you do not have a palm tree on your land!
End quote from al-‘Uluw, p. 239, 250
There are many similar reports. See: al-Ashaa‘irah fi Mizaan Ahl as-Sunnah by Shaykh Faisal ibn Qazzaaz al-Jaasim, in which there are many more such quotations from the early generations and the leading scholars.
This is the basic principle with regard to the texts that speak of the divine attributes, including the two verses mentioned (in the question). The leading imams of the earlier and later generations quoted them to affirm the divine attributes of the hand and eye, among other evidence, yet they interpreted the verses in a manner that is appropriate to the context, as we shall see below.
Ibn ‘Uthaymeen (may Allah have mercy on him) said, explaining this concept:
The words of Allah (interpretation of the meaning), “The Hand of Allah is over their hands” [al-Fath 48:10], are to be understood according to their apparent meaning. The hand of Allah, may He be exalted, is over the hands of those who are swearing allegiance, because His hand is one of His attributes, yet He is above them, above His Throne. So His hand is above their hands. This is the apparent meaning of the words and is the real meaning, which is to affirm that allegiance to the Prophet (blessings and peace of Allah be upon him) is as if it were allegiance to Allah, may He be glorified and exalted. It does not mean that the hand of Allah, may He be glorified and exalted, is directly on top of their hands. Do you not see that we say that the sky is above us, even though it is distant from us? So the hand of Allah, may He be glorified and exalted, is above the hands of those who swore allegiance to His Messenger (blessings and peace of Allah be upon him), even though He is far above His creation.
End quote from al-Qawaa‘id al-Muthla, in Majmoo‘ Fataawa ash-Shaykh, 3/331
The words of Allah (interpretation of the meaning), “for verily, you are under Our Eyes” [at-Toor 52:48], were interpreted by some of the early generations as meaning “within Our vision or sight”; this is an explanation as dictated by the context, hence this verse confirms two things, the vision and eye of Allah.
Shaykh Ibn ‘Uthaymeen (may Allah have mercy on him) said in Sharh al-Waasitiyyah: If it is asked: how do you explain the preposition bi in the phrase bi a‘yunina (translated above as “under Our eyes”, lit. “in our eyes”)? Our response is: we explain it as meaning that the eye is with or accompanying them. If you say “you are under my eye” it means my eye is accompanying you or, in other words, I am watching you and my gaze never shifts away from you. Hence what is meant is that Allah, may He be glorified and exalted, is saying to His Prophet: Be patient with the decree of Allah, for you are surrounded with Our care and We are watching you so that no one can harm you.
It does not refer to location (being “in” or “inside”), because that would imply that the Messenger of Allah (blessings and peace of Allah be upon him) was inside the eye of Allah! – which is impossible.
Moreover, this was addressed to the Messenger of Allah (blessings and peace of Allah be upon him) when he was on earth, so if you were to say that he was in the eye of Allah, this interpretation of this verse of the Quran is not correct.
Prior to that he said: If it were to be said that among the salaf there were those who interpreted the words of Allah “under Our eyes” as meaning in Our vision; it was interpreted thus by well-known, leading scholars among the early generations, but you say that interpreting it in a manner other than the apparent meaning is haraam, so what is the answer? Our response is that they interpreted it according to the context, whilst still affirming the basic meaning, which is the attribute of the divine eye. Those who distort the meanings say that it means “in Our vision” without affirming the divine eye, whereas Ahl as-Sunnah wa’l-Jamaa‘ah say that “under Our eyes” means in Our vision, whilst affirming the divine eye.
End quote from Majmoo‘ Fataawa ash-Shaykh, 8/264
Shaykh Saalih Aal ash-Shaykh (may Allah preserve him) said: “for verily, you are under Our Eyes” [at-Toor 52:48] means you are in Our vision and sight, and under Our care and protection.
This interpretation is the interpretation of the salaf for this phrase, because the Prophet (blessings and peace of Allah be upon him) was not in the eye of Allah (in the singular) which is His attribute; rather he (blessings and peace of Allah be upon him) was “under the eyes” of Allah (in the plural); that is because Allah has the attribute of two eyes. Hence Ahl as-Sunnah wa’l-Jamaa‘ah interpreted this as coming under the heading of what is implied by the verse, and implication is one of the ways in which the phrase may be interpreted. A phrase may be interpreted according to its exact meaning, or according to what it implies, or according to what is indicated by the context.
Hence they said: What it means is that the Prophet (blessings and peace of Allah be upon him) was in (or under) the vision and sight of Allah, may He be glorified and exalted, and under His care and protection. This is what is implied by the words “under Our Eyes” [at-Toor 52:48].
Therefore this does not come under the heading of interpretation in a manner other than the apparent meaning, as was claimed by those who did not understand. Rather it comes under the heading of what is implied, and implication – i.e., understanding the implications of a word – is a clear part of the Arabic language.
Even though the early generations affirmed the divine attribute of the two eyes, they could interpret something- as in the case of this verse – on the basis of what it implies, or they could interpret it on the basis of what the context indicates, and some may think that this comes under the heading of interpretation in a manner other than the apparent meaning, but that is wrong.
Implication is one thing and context is something else; these are two ways of understanding the wording of a phrase.
As for interpreting something in a manner other than the apparent meaning, this is ignoring what the wording indicates.
End quote from Sharh al-Waasitiyyah
From the above it is clear that these two verses are to be understood in a real sense, and that in them is an affirmation of the divine attributes of the hand and eye, and there is nothing wrong with interpreting the verse as dictated by its context or what it implies, without denying the divine attributes mentioned in it. Perhaps this is what you sensed by your linguistic perceptivity, i.e., the general meaning that is implied or dictated by the context, but it is wrong to think that this comes under the heading of metaphor, which would lead to denying one of the divine attributes or to denying the apparent meaning of the text.
And Allah knows best.


বর্তমান সময়ের আহলে হাদিস ও সালাফীদের বক্তব্য

আসুন বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন আলেম ড. মনজুর ইলাহির বক্তব্য শুনে নিই,

এবারে আসুন মুফতি ইব্রাহিমের একটি বক্তব্য শুনে নিই,

আসুন আরও কিছু বক্তব্য শুনি,



দার্শনিক চ্যালেঞ্জ: গ্রিক যুক্তিবাদ ও ইসলামী চিন্তায় মিথস্ক্রিয়া

গ্রিক দর্শনের অনুবাদ ও প্রভাব

৮ম ও ৯ম শতকে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন কর্তৃক “Bayt al-Hikmah” (জ্ঞানালয়) প্রতিষ্ঠার পর অ্যারিস্টটল, প্লেটো, ইউক্লিড, গ্যালেন প্রমুখ গ্রিক চিন্তাবিদের কাজ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। এর ফলে ইসলামি দুনিয়ায় একটি যুক্তিবাদী আন্দোলন শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দর্শনের আলোকে ধর্মীয় পাঠ পুনর্বিচার। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে শুরু হয়ে যায় নানা ধরণের রাজনৈতিক সংঘাত এবং দমন পীড়ন। অনেক খলিফা সেই সময়ে দর্শনের অনুরাগী হয়ে বিরুদ্ধ মতের আলেমদের নির্যাতন শুরু করেন, আবার অনেক খলিফা সালাফদের অনুসরণ করতে গিয়ে দর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত আলেমদের নির্যাতন শুরু করেন।

দার্শনিক সমস্যাবলী

শারীরিক ঈশ্বরের ধারণা দার্শনিকভাবে একাধিক মৌলিক আপত্তির মুখোমুখি হয়, যা শুধু ধর্মীয় ব্যাখ্যা নয়, যুক্তিবাদ ও পরিভাষাগত সংগতির দিক থেকেও তা গভীর সংকট তৈরি করে। এই আপত্তিগুলো মূলত তিনটি অন্তর্নিহিত তত্ত্বগত সমস্যায় কেন্দ্রীভূত:


স্থানিকতা ও সীমাবদ্ধতা (Spatiality and Limitation)

শরীর বলতে সাধারণত এমন এক সত্তাকে বোঝায় যার কোনো অবস্থান (location) এবং সীমানা (boundary) আছে। একটি সত্তা যখন কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে, তখন সে স্থানবিশেষে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অন্যান্য স্থানে অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু ঈশ্বর, বিশেষ করে ইসলামি ধর্মতত্ত্বে যাঁকে বলা হয় “সর্বব্যাপী (al-Wāsi‘)” এবং “সর্বজ্ঞ (al-‘Alīm)”, তিনি যদি একটি নির্দিষ্ট স্থানেই অবস্থান করেন (যেমন—আরশে বসা), তাহলে সেই সর্বব্যাপীতার ধারণার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ তার স্থান নির্ধারণ করাই তার গুণাবলীর বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়ে যায়।

তদুপরি, স্থানিক সত্তা “বহির্জগতের নিয়ম” দ্বারা আবদ্ধ হয়, যেমন দূরত্ব, গমনাগমন, দিকনির্দেশনা ও সীমানা। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় একাধিক প্রভাবশালী আলেম আল্লাহর জন্য এই স্থানিক বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি স্বীকার করেছেন। ইবনুল মুবারক বলেছেন, আল্লাহ আরশের উপরে একটি সীমাসহ অবস্থান করেন। আহমদ ইবন হাম্বলকে এই বক্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছেও বিষয়টি এমনই।” আবু ইয়ালা বলেন, আরশ যেহেতু একটি নির্দিষ্ট দিকে অবস্থিত এবং আল্লাহ আরশের উপরে, সেহেতু আল্লাহর জন্যও একটি দিক স্বীকার করতে হবে। ইবন মান্দাহ আরও বলেন, আসমান ও আরশ যেহেতু স্থান, সেখানে অবস্থানকারী আল্লাহও একটি স্থানে রয়েছেন। [14]

ইবনুল মুবারক বলেন, “আল্লাহ আরশের উপরে সীমাসহ আছেন।” আহমদ ইবন হাম্বলকে একই কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন, “আমাদের কাছেও বিষয়টি এমনই।”

এখানে আল্লাহর স্থান, দিক ও সীমা কোনো সমালোচকের আরোপিত ধারণা নয়; এগুলো ইসলামের প্রভাবশালী আকীদাবিদদের নিজস্ব বক্তব্য। একটি নির্দিষ্ট আরশের উপরে, একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং একটি সীমাসহ অবস্থানকারী সত্তা অবধারিতভাবে স্থানিক। আর স্থানিক সত্তা স্থান পরিবর্তন করলে তার অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক সম্পর্কও পরিবর্তিত হয়। সর্বশক্তিমান ও চিরন্তন ঈশ্বরকে স্থান-কালের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত বলে দাবি করার সঙ্গে এই আকীদার সরাসরি সংঘর্ষ ঘটে।

এই স্থানিক সংকট আরও প্রকট হয় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণের হাদিসে। আল্লাহ যদি আরশের উপর থেকে নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন, তাহলে তিনি একটি স্থান ছেড়ে আরেকটি স্থানের দিকে গমন করেন। আর পৃথিবী গোলাকার ও ঘূর্ণনশীল হওয়ায় প্রতিটি মুহূর্তেই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও রাতের শেষ তৃতীয়াংশ চলতে থাকে। ফলে হাদিসের আক্ষরিক অর্থ অনুসারে আল্লাহকে স্থায়ীভাবেই নিকটবর্তী আসমানে অবস্থান করতে হয়। [15] [16] [17] [18] [19]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৯/ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত
পরিচ্ছেদঃ ৭২৮. রাতের শেষভাগে দু’আ করা ও সালাত আদায় করা। আল্লাহ্পাক ইরশাদ করেছেনঃ রাতের সামান্য পরিমাণ (সময়) তাঁরা নিদ্রারত থাকেন, শেষ রাতে তাঁরা েইসতিগ্ফর করেন। (সূরা আয্-যারিয়াতঃ ১৮)।
১০৭৯। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমনে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

আল-লুলু ওয়াল মারজান
৬/ মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা ক্বসর করার বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ ৬/২৪. শেষ রাতে দুআ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং সে সময় কবূল হওয়া।
৪৩৪. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ১৯ ; তাহাজ্জুদ, অধ্যায় ১৪, হাঃ ১১৪৫; মুসলিম, পর্ব ৬; মুসাফির ব্যক্তির সালাত ও তা কসর করার বর্ণনা, অধ্যায় ২৩, হাঃ ৭৫৮
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২/ সালাত (নামায)
পরিচ্ছেদঃ প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ্ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন।
৪৪৬. কুতায়বা (রহঃ) …. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হলে প্রত্যেক রাতেই আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেনঃ আমিই রাজধিরাক, যে আমাকে ডাকে আমি তার ডাককে কবূল করি, যে আমার কাছে যাঞ্ছা করে আমি তাকে দেই, যে আমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। ফজরের আলো উদ্ভাসিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে। – ইবনু মাজাহ ১৩৬৬, বুখারি ও মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৪৬ (আল মাদানী প্রকাশনী)
এই বিষয়ে আলী ইবনু আবূ তালিব, আবূ সাঈদ, রিফাআ আল-জুহানী, জুবায়র ইবনু মুতঈম, ইবনু মাসঊদ, আবূদ্ দারদা এবং উসমান ইবনু আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ রাতের শেষ তৃতীয়াংশ যখন অবশিষ্ট থাকে, তখন আল্লাহ তা’আলা নেমে আসেন এই রিওয়ায়াতটই সবচেয়ে সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪ঃ সালাত
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. প্রথম অনুচ্ছেদ – ক্বিয়ামুল লায়ল-এর প্রতি উৎসাহ দান
১২২৩-(৫) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি রাত্রে শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের মর্যাদাবান বারাকাতপূর্ণ রব দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব। যে আমার নিকট কিছু প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার নিকট মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দেব।’ (বুখারী, মুসলিম)(1)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, তারপর তিনি হাত বাড়িয়ে দেন এবং বলেন, কে আছে যে এমন লোককে করয দেবে যিনি ফকীর নন, না অত্যাচারী এবং সকাল পর্যন্ত এ কথা বলতে থাকেন।
(1) সহীহ : বুখারী ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আল-আদাবুল মুফরাদ
মেহমানদারি
পরিচ্ছেদঃ ৩২০- রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দোয়া করা।
৭৫৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাদের বরকতময় মহামহিম প্রভু রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে প্রতি রাতে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো? (কে আছে এমন, যে আমার কাছে দোয়া করবে এবং আমি তার দোয়া কবুল করবো)? কে আছে এমন, যে আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করবে এবং আমি তা দান করবো? কে আছে এমন, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করবো। -(বুখারী, মুসলিম, দারিমী)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এইসব হাদিস সম্পর্কে দার্শনিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন ওঠে—আল্লাহর কি বান্দাদের প্রার্থনা শোনার জন্য এত নিকটবর্তী হতে হবে? ইসলাম ধর্মে আল্লাহ সর্বশ্রোতা (আস-সামি) এবং সর্বজ্ঞানী (আল-আলিম) হিসেবে বর্ণিত। তাহলে কেন তাকে বান্দাদের প্রার্থনা আরেকটু ভালভাবে শুনতে নিকটবর্তী হতে হবে? ইসলামি বিশ্বাসমতে, আল্লাহর কাছে সময় ও স্থান কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। এমনকি তিনি বান্দার হৃদয়ের সবচেয়ে গোপন কথাও জানতে সক্ষম। তাহলে কেন তাকে প্রতি রাতে নির্দিষ্ট সময়ে নিকটবর্তী আসমানে নামতে হবে? এমন ধারণা আল্লাহর ঐশ্বরিক ক্ষমতার প্রতি একধরনের ঠাট্টা, যা তাকে মানবীয় সত্তার বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিচার করার শামিল। এটি কেবল ঈশ্বরের মহত্ত্ব এবং সর্বশক্তিমান সত্তাকে সীমাবদ্ধ করে তোলে। একইসাথে, আল্লাহ যখন নেমে আসেন তখন আরশ কি ফাঁকা থাকে? একইসাথে, পৃথিবী তো গোলাকার এবং ঘুর্ণনশীল, তাই প্রতিটি মুহূর্তেই কোথাও না কোথাও রাত হচ্ছে। তাহলে আল্লাহর তো আর ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না। আসুন মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমিন এর বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থে ফতোয়া আরকানুল ইসলাম গ্রন্থ থেকে পড়ি, [20]

আল্লা 3
আল্লা 5

এবারে আসুন এই হাদিসটি সম্পর্কে শুরুতেই বিশিষ্ট আলেম মতিউর রহমান মাদানি, আহমদুল্লাহ এবং মঞ্জুরে ইলাহীর বক্তব্য শুনে নিই,


বদলশীলতা ও পরিবর্তনশীলতা (Mutability and Change)

হাঁটা, বসা, দাঁড়ানো, হাসা, ক্রুদ্ধ হওয়া—এইসব কাজের মধ্য দিয়ে একটি সত্তা সময়ের সাথে নিজের অবস্থা (state) বা বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি পরিবর্তন করে। কিন্তু দর্শনের পরিভাষায় ঈশ্বরকে চিরন্তন (eternal), অপরিবর্তনীয় (immutable) ও স্বসিদ্ধ (self-sufficient) হিসেবে কল্পনা করা হয়। প্লেটো ও অ্যারিস্টটল উভয়েই যুক্তি দিয়েছিলেন, যদি ঈশ্বর বদলায়, তবে সে তার পূর্বাবস্থায় অসম্পূর্ণ ছিল বা পরবর্তীকালে পূর্ণতা পেল—যা ঈশ্বরের চিরন্তন ও পরিপূর্ণ সত্তার ধারণার পরিপন্থী [21] [22]

কারণ কোনো কিছু যখন পরিবর্তিত হয়, তখন সেটি একটি অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যায়—যেমন দাঁড়ানো থেকে বসা, নিরবতা থেকে কথা বলা, বা রাগহীন অবস্থা থেকে রাগান্বিত হওয়া। কিন্তু যদি ঈশ্বর নিজেই পরিবর্তিত হন, তবে ধরে নিতে হয়, পরিবর্তনের আগে তিনি কোন না কোনভাবে অসম্পূর্ণ ছিলেন, এবং পরিবর্তনের পরে যেন নতুন বা ভালো কিছু অর্জন করলেন। এই ধারণা সরাসরি পরিপূর্ণ ও চিরন্তন ঈশ্বরের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন, আল্লাহ পাক রাতের শেষ ভাগে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে নেমে এসে বান্দার প্রার্থনা শোনেন। অথচ তার নেমে আসার প্রয়োজন নেই, তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বেই ভবিষ্যতের সবকিছু জানেন। কবে কোন বনাদা রাতের কোন সময়ে কী প্রার্থনা করবে, সবি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ্যভাবে অবগত থাকার কথা। নেমে আসার অর্থই হচ্ছে, তিনি নেমে আসার মাধ্যমে কিছু নতুন তথ্য জানতে পারছেন, যা তিনি আগে জানতেন না। আগেই তার জানা থাকলে, নেমে আসাটি সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কাজে পরিণত হয়।

আবার উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক—কেউ যদি বলে, “ঈশ্বর রেগে যান,” তাহলে মানতে হয়, রাগান্বিত হওয়ার আগ মুহূর্তে ঈশ্বর রাগান্বিত ছিলেন না। নতুন একটি তথ্য তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে, যা তিনি আগে জানতেন না। সুতরাং, তাঁর মানসিক অবস্থা বা গুণাবলি বদলেছে। এই পরিবর্তন বুঝিয়ে দেয় যে ঈশ্বর সময়ের অধীন, কারণ পরিবর্তন ঘটার জন্য সময়ের ধারা প্রয়োজন। অ্যারিস্টটলের দৃষ্টিভঙ্গিতে, চূড়ান্ত সত্তা বা ঈশ্বর কখনোই এমন হতে পারেন না যে তিনি নতুন করে কিছু অর্জন করেন বা কোনো আবেগে আবদ্ধ হন। প্রকৃত ঈশ্বর হতে হলে তাঁকে হতে হবে এমন এক সত্তা, যিনি চিরকাল একইরকম, কোন ধরণের পরিবর্তনহীন, স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং যাঁর মধ্যে কোনো “হয়ে ওঠার” (becoming) প্রক্রিয়া নেই—শুধুই “যা আছেন” (being)। ইসলামি দার্শনিক ইবনে সিনা তার Al-Shifa গ্রন্থে লিখেছেন:

“পরিবর্তন এমন কিছুর লক্ষণ যা সম্ভাব্য (mumkin al-wujūd); কিন্তু ঈশ্বর হলো আবশ্যিক অস্তিত্ব (wājib al-wujūd), তাই তাঁর মধ্যে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনাও থাকতে পারে না।”

সুতরাং, আল্লাহ যদি হাঁটেন, কথা বলেন, বসেন, স্থান পরিবর্তন করেন—তবে তিনি স্থান ও সময়ের অধীন ও পরিবর্তনশীল, যা ঈশ্বরতত্ত্বে এক গুরুতর আপত্তি।


অঙ্গ ও বিভাজন (Parts and Divisibility)

একটি শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা গঠিত—হাত, পা, চোখ ইত্যাদি। এই অংশগুলোকে একত্রে মিলিয়ে একটি পূর্ণ সত্তা গঠন হয়। কিন্তু ঈশ্বর যদি শারীরিক অঙ্গবিশিষ্ট হন, তবে তিনি একটি বিভাজ্য সত্তা। আর বিভাজ্যতা মানেই ঈশ্বরের মধ্যে অবিভাজ্য ঐক্য (Divine Simplicity) নেই—যা প্রায় সব ধর্মতত্ত্বেই ঈশ্বরের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বলে বিবেচিত হয়। আবার, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আমাদের এই দিকেই নিয়ে যায়, তার শরীর কোন উপাদান দিয়ে গঠিত। সেই উপাদানগুলো যাই হোক না কেন, সেগুলো কথা থেকে আসলো, তার প্রশ্ন তৈরি করে দেয়। এবং আল্লাহকে সেই উপাদানের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। এখানে অ্যাকুইনাসের যুক্তিও প্রাসঙ্গিক:

“যা বিভাজ্য, তা অবিনশ্বর হতে পারে না; কারণ অংশ বিনষ্ট হলে সত্তাও বিনষ্ট হয়। ঈশ্বর যদি অংশবিশিষ্ট হন, তবে তিনি বিনশ্বর হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন, যা ঈশ্বরসত্তার ধারণার বিপরীত।”

আল্লাহ যদি দুটি হাত, একটি মুখ বা একাধিক দিকসম্পন্ন হন, তবে ঈশ্বরের তাওহীদ (tawḥīd) এর ধারণা, তার যৌক্তিক ভিত্তিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।


পরবর্তী সময়ে ব্যাখ্যার বিবর্তন

এইসব দার্শনিক সংকটের ফলেই পরবর্তীকালে মুসলিম চিন্তাবিদদের মধ্যে আল্লাহর শারীরিক রূপ নিয়ে সংকোচ দেখা দেয় এবং তাঁরা সেই চিত্রকে রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। কেউ কেউ বলেন, “আল্লাহর হাত মানে তাঁর ক্ষমতা,” কিংবা “আল্লাহর পা মানে তাঁর কর্তৃত্ব।” আবার অনেকেই বলেন, “কীভাবে তা ঘটে আমরা জানি না, তবে আমরা বিশ্বাস করি।” কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে এই সংকটের গভীরতা থেকেই বোঝা যায় যে শারীরিক আল্লাহর ধারণা ইসলামি দার্শনিক ঐতিহ্যে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আল্লাহ হয়ে ওঠেন নিরাকার, বিমূর্ত, যুক্তিনির্ভর এক সত্তা, যাঁকে আরশে বসিয়ে কল্পনা করা যায় না, বরং যিনি সকল কালের, সকল স্থানের অতীত এক পরম বুদ্ধি।


আল্লাহর বিমূর্তিকরণ ও কালামবিদদের পুনঃব্যাখ্যা

মু’তাজিলা ও র‍্যাশনালিজম

মু‘তাজিলা ছিল ইসলামি ইতিহাসের প্রথম দার্শনিক ও যুক্তিনির্ভর ধর্মতাত্ত্বিক আন্দোলন, যারা ঈশ্বরতত্ত্বে যুক্তি ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। ৮ম শতকে গঠিত এই আন্দোলনের মূল বিশ্বাস ছিল, ঈশ্বর কখনো অবিচার করতে পারেন না, এবং তিনি এমন কিছু বলেন না যা মানবীয় যুক্তির পরিপন্থী। এই দর্শন থেকেই তারা কোরআনের Anthropomorphic (মানবসদৃশ) আয়াতসমূহ—যেমন আল্লাহর হাত, পা, মুখ, চোখ, বসা, হাঁটা, রাগ ইত্যাদি—আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে রূপক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, “আল্লাহর হাত মানে তাঁর শক্তি বা কর্তৃত্ব (qudra),” এবং “চোখ মানে তাঁর সর্বজ্ঞতা বা সর্বদর্শিতা (basar)।” এই ধারা ইসলামী ধর্মতত্ত্বে ‘তাওয়িল’ নামে পরিচিত, যার উদ্দেশ্য ছিল ঈশ্বরকে মানবীয় সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত রাখা [23] [24]

আবুল হাসান আল-আশআরী আল্লাহর দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে মুসলিমদের চারটি পৃথক অবস্থান নথিবদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে তিনটি অবস্থানের বর্ণনায় মুজাসসিমারা আল্লাহর দুই হাত, দুই পা, মুখ, দুই চোখ ও পার্শ্বকে প্রকৃত অঙ্গ হিসেবে মানত। আহলুল হাদিস বলত, আল্লাহর মুখ, দুই হাত ও দুই চোখ রয়েছে, তবে এগুলোর প্রকৃতি কেমন তা বলা যাবে না। অন্যদিকে মু‘তাজিলারা হাতকে নিয়ামত, চোখকে জ্ঞান এবং পার্শ্বকে আল্লাহর আদেশ বা বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করত। [25]

আল-আশআরী লিখেছেন, আহলুল হাদিসের বক্তব্য হলো: “আমরা বলি—আল্লাহর মুখ রয়েছে, দুই হাত রয়েছে এবং দুই চোখ রয়েছে; তবে কীভাবে, তা বলি না।”

এই শ্রেণিবিন্যাস ইসলামী ঈশ্বরতত্ত্বের রূপান্তরটি পরিষ্কার করে। একদিকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বীকারকারী মুজাসসিমা; দ্বিতীয়দিকে একই অঙ্গগুলো স্বীকার করে তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে অস্বীকারকারী আহলুল হাদিস; তৃতীয়দিকে দৈহিক শব্দগুলোকে ক্ষমতা, জ্ঞান ও কর্তৃত্বের রূপকে পরিণতকারী মু‘তাজিলা। আল্লাহর বর্ণনা অপরিবর্তিত থাকেনি; দার্শনিক সংকট সামাল দিতে একই ধর্মীয় শব্দের অর্থই বদলে দেওয়া হয়েছে।

মু‘তাজিলাদের প্রধান চিন্তাবিদরা—যেমন ওয়াসিল ইবন আতা (মৃত্যু ৭৪৮), আমর ইবন উবাইদ এবং পরবর্তীকালে আবু আল-হুযায়েল আল-আল্লাফ, আল-জাহিয ও আল-নজ্জাম—কোরআনের মানবসদৃশ বর্ণনাগুলোকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ না করে রূপক ব্যাখ্যা করেন। সূরা ফাতহের “আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে” বক্তব্যকে তাঁরা আল্লাহর সমর্থন, নিয়ামত বা ক্ষমতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কারণ বাস্তব হাত-পা, মুখ, চোখ, অবস্থান ও গমনাগমন স্বীকার করলে আল্লাহ স্থান-কালগত, বিভাজ্য ও পরিবর্তনশীল সত্তায় পরিণত হন।

মু‘তাজিলা তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন (খিলাফতকাল: ৮১৩–৮৩৩) “মিহনা” নামক একটি ধর্মীয় ইনকুইজিশন শুরু করেন, যেখানে কোরআনকে ‘সৃষ্ট’ (created) হিসেবে মানতে মুসলিম আলেমদের বাধ্য করা হয় [26] [27]। কারণ, যদি কোরআন অনাদি ও চিরন্তন হয়, তবে তা আল্লাহর সঙ্গেই শাশ্বত ও চিরন্তন হয়ে পড়ে এবং এটি একধরনের বহুঈশ্বরবাদে রূপ নেয়। মু‘তাজিলারা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে যুক্তিবাদী ঈশ্বরতত্ত্বের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করেন, কারণ তাদের মতে, ঈশ্বরের বাণীও ঈশ্বরের মতো চিরন্তন হলে, তাতে যুক্তিগত বিপর্যয় ঘটে।

আরও একটি বড় ধরণের দার্শনিক বিপর্যয় দেখা দেয়। কোরআন আল্লাহর সৃষ্টি হয়ে থাকলে, সেটি অনাদি অনন্ত হতে পারে না। আর কোরআন আল্লাহর গুণ বা সিফাত হয়ে থাকলে, মানুষকে সৃষ্টি করাই আল্লাহর অস্তিত্বের উদ্দেশ্যে পরিণত হয়। মানুষকে সৃষ্টি করা ছাড়া আল্লাহর আর কোন উপায় ছিল না, সেটিই প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে এই যুক্তিবাদী ও রূপক ব্যাখ্যাধর্মী চিন্তাধারা সময়ের প্রবাহে প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে। হানাবিলা ও পরবর্তীকালে ইবনে তাইমিয়া-প্রভাবিত আহলুল হাদিস গোষ্ঠী মু‘তাজিলাদের ‘তাওয়িল’ প্রক্রিয়াকে ধর্মদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করে। তারা কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর হাত-পা, বসা বা হাঁটার মতো বিবরণকে “যেভাবে আছে সেভাবে” (bilā kayf, অর্থাৎ ‘কীভাবে তা ঘটে আমরা জানি না’) বলে গ্রহণ করে—আক্ষরিকতা বজায় রেখে, কিন্তু anthropomorphism-এর দায় স্বীকার না করে।

মু‘তাজিলা আন্দোলনের এই যুক্তিবাদী চেতনা পরবর্তীকালে ইসলামি কালামতত্ত্বের একটি ধারা গড়ে তোলে এবং দর্শনের আলোকে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে। যদিও রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়ার কারণে এই আন্দোলন ইসলামী মূলধারায় স্থায়ী স্থান পায়নি, তবুও তাদের চিন্তাধারা ইসলামি ধর্মতত্ত্বে ঈশ্বরের বিমূর্তীকরণের পথে এক মৌলিক ভিত্তি স্থাপন করে গেছে। তাদের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো মুসলিম জগতে ঈশ্বর ও ধর্মীয় পাঠের র‍্যাশনাল ক্রিটিক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী দার্শনিকদের জন্য পথ খুলে দেয়। মু‘তাজিলা আন্দোলন ব্যর্থ হলেও সেটি যে একেবারেই ব্যর্থ তা বলা যায় না। বর্তমান সময়েও মু‘তাজিলাদের এই দার্শনিক মতবাদ মুসলিমদের মনে এত বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে যে, পৃথিবীর যেকোন সাধারণ মুসলিমকে জিজ্ঞেস করলে তারা মু‘তাজিলা দার্শনিকদের আল্লাহর ধারনাকেই বলবে, সালাফদের আল্লাহর কথা বেশিরভাগ মুসলিমদের জানাই নেই।


আশআরী ও মাতুরিদি মতবাদ

আশআরি মতবাদ, যেটি আবু আল-হাসান আল-আশআরি (মৃত্যু: ৯৩৬ খ্রিঃ) প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, ইসলামি ধর্মতত্ত্বে একটি মধ্যপন্থী অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। মু‘তাজিলাদের যুক্তিনির্ভর, দার্শনিক ও রূপক ব্যাখ্যাকে যেমন তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন, তেমনি হানাবিলা ও আহলুল হাদিসদের আক্ষরিকতা নির্ভর anthropomorphism-কেও তাঁরা অগ্রহণযোগ্য মনে করেন। আল-আশআরির বিখ্যাত উক্তি, “نُؤْمِنُ بِهِ بِلَا كَيْف” — অর্থাৎ, “আমরা ঈশ্বরের এসব গুণাবলীতে বিশ্বাস করি, কিন্তু কীভাবে তা ঘটে তা জানি না”—এই বক্তব্যটি আশআরিদের ঈশ্বরতত্ত্বের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে [28] [29]

এই পদ্ধতিতে, তারা ঈশ্বর সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে উল্লেখিত সমস্ত শারীরিক শব্দকে দার্শনিক জটিলতা এড়াতে (যেমন—হাত, মুখ, আরশে বসা, ইত্যাদি) ব্যাখ্যাহীন হিসেবে উপস্থাপন করেন। তারা এসবের ব্যাখ্যাতে বলেন, এসব সম্পর্কে মানুষের কোন জ্ঞান নেই, তাই এগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান বা চিন্তা করা নিষিদ্ধ। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, এসব শব্দ আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করলে ঈশ্বর মানবসদৃশ হয়ে পড়েন, যা তাওহিদের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আবার সম্পূর্ণ রূপক ব্যাখ্যা দিলে কোরআনের ভাষা নিজের অর্থ হারিয়ে ফেলে। এই দ্বৈত সংকট মোকাবিলায় তাঁরা একটি সমঝোতামূলক ব্যাখ্যার পথ খুঁজে নেন—আল্লাহর হাতের মতো কিছু আছে, তবে তা কেমন বা কোন প্রকৃতির, তা মানুষ জানে না, এবং জানার প্রয়োজনও নেই।

আশআরিরা ঈশ্বরতত্ত্বে একধরনের তানজিহ (transcendence)-এর ধারণা বজায় রাখেন, যেখানে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার না করেই তাঁকে মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে তারা একদিকে ঐতিহ্যগত গ্রন্থবিশ্বাসকে সম্মান দেখান, অন্যদিকে দার্শনিক ও যুক্তিবাদী সমালোচনার মুখেও ঈশ্বরকে anthropomorphic রূপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন। ফলে, আশআরিবাদ একটি ধারণাগত ভারসাম্য তৈরি করে—যেখানে ঈশ্বর শরীরবর্জিত, কিন্তু শরীরগত শব্দ ব্যবহার করেও তাঁকে প্রস্তাব করা যায়, যদিও তা কীভাবে সম্ভব, যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে তা বিচার বিবেচনা করাকে গর্হিত কাজ বলে গণ্য করা হয়। এই ধারার অনুসারীরা তাই পরবর্তী সময়ে দর্শনকেই মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, এবং যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে ধর্মকে বিশ্লেষণকে বিদআত হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাদের শাস্তি প্রদান করতে বলেন।

আসুন বাঙলাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম আলেম ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের একটি আলোচনা শুনি, যেখানে উনি মুসলমানদের যুক্তিবিদ্যা বা দর্শন পড়া উচিত নাকি অনুচিত সেই বিষয়ে আলোচনা করছেন,

এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব পরবর্তীতে ইসলামি মূলধারার কালামতত্ত্ব, বিশেষত সুন্নি ঐতিহ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এটি মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ঈশ্বরতাত্ত্বিক অবস্থান হিসেবে গৃহীত হয়। তবে আধুনিক দর্শনের বিচারে এটি অনেকাংশেই একধরনের “থিওলজিক্যাল সাসপেনশন”—যেখানে যুক্তির মুখে ব্যাখ্যাকে স্থগিত রেখে বিশ্বাসকে যুক্তি ছাড়াই ধরে রাখাকে ধর্মতত্ত্বের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

শারহুল আক্বীদা আত-ত্বহাবীয়া অত্যন্ত বিখ্যাত একটি আকীদা গ্রন্থ, যার লেখক  ইমাম ইবনে আবীল ইয আল-হানাফী। তিনি তার বইতে এই বিষয়ে ইসলামের আকীদা কী, সালাফগণ এই বিষয়ে কী বলেছেন, সেটিও দেখে নিই [30]

ইমাম গাজ্জালী রহিমাহুল্লাহ তার অন্যতম মূল্যবান কিতাব … -এ বলেন, প্রশ্ন হলো মানতেক ও তর্কশাস্ত্র কি জ্যোতিষ শাস্ত্রের মত নিন্দনীয়? না কি এটি মুবাহ?
এর জবাবে আমি বলবো, মানুষেরা এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে চরম বাড়াবাড়ি ও সীমা লংঘন করেছে। কেউ কেউ বলেছেন, ইলমুল কালাম ও তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা বিদআত ও হারাম। শির্ক ছাড়া অন্যান্য সকল প্রকার পাপাচার নিয়ে আল্লাহর কাছে হাযির হওয়া ইলমে কালাম নিয়ে তার নিকট হাযির হওয়ার চেয়ে উত্তম। আবার কেউ কেউ বলেছেন, মানতেক, ইলমে কালাম ও তর্ক শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরয। কেউ বলেছেন, ফরযে কেফায়া আবার কেউ বলেছেন, ফরযে আইন। শুধু তাই নয়; তারা আরো বলেছেন, এটি সর্বোত্তম আমল এবং সর্বোচ্চ আনুগত্য। এর মাধ্যত্রে তাওহীদের জ্ঞান পুর্ণরূপে অর্জিত হয় এবং এটিই আল্লাহর দীনের পথে সংগ্রামের অন্তর্ভূক্ত। ইমাম গাজ্জালী রহিমাহুল্লাহ আরো বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, ইলমে মানতেক ও তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এটিই ইমাম শাফেঈ, আহমাদ বিন হাম্বাল, সুফিয়ান সাওরী এবং সালাফদের মুহাদ্দিছদের মত। তাদের মতামতকে ইমাম গাজ্জালী স্বীয় কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সালাফদের সকল মুহাদ্দিছের ঐকমত্যে এটি হারাম। তাদের থেকে এ বিষয়ে যত উক্তি এসেছে তা উপরোক্ত কথার মধ্যেই সীমিত নয়।
আলেমগণ বলেছেন, ছাহাবীগণ ইলমে কালাম, মানতেক ও তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে চুপ থাকার কারণ হলো, তারা তাওহীদের হাকীকত সম্পর্কে ভালো করেই জানতেন এবং অন্যদের তুলনায় ইলমে কালামের পরিভাষা ও শব্দ চয়ন সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী ছিলেন। এ জন্যই তাদের থেকে দীনের ক্ষেত্রে কোনো বিদআত ও ক্ষতিকর জিনিস বের হয়নি। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, هَلَكَ الْمُتَنَطِعُونَ قَالَهَا ثَلَاثًا
যারা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে, তারা ধ্বংস হোক। কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন।১৯২ অর্থাৎ দীনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার সময় বেশী বেশী ঘাটাঘাটি করা ও গভীরে প্রবেশ করা ঠিক নয়। ইলমে কালাম ও তর্কশাস্ত্র যদি দীনের অন্তর্ভুক্ত হতো, তাহলে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে সর্বাগ্রে আদেশ দিতেন এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের প্রশংসা করতেন। অতঃপর ইমাম গাজ্জালী রহিমাহুল্লাহ আরো অনেক দলীল-
—————-
হাজারের নেছাবসমূহ হতে একটি নেছাব তাহার মার জন্য বখশাইয়া দিলাম। আমি আমার অন্তরে তা গোপন রাখছিলাম। কিন্তু ঐ যুবক তৎক্ষনাৎ বলতে লাগল চাচা! আমার মা দোযখের আগুন হতে রক্ষা পেয়েছে। কুরতুবী (রহি) বলেন: এ ঘটনা হতে আমার দু’টি ফায়দা হল। এক. সত্তর হাজার বার কালেমা তাইয়্যেবা পড়ার বরকত সম্পর্কে যাহা আমি শুনেছি তার অভিজ্ঞতা। দুই যুবকটির সত্যতার (তার কাশফ হওয়ার) একীন হইয়া গেল । দেখুন: ফাযায়েলে আমাল, ১ম খণ্ড, ১৩৫ পৃষ্ঠা, প্রথম প্রকাশ, অক্টোবর-২০০১ ইং। দারুল কিতাব, ৫০ বাংলা বাজার ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত)
১৯২. ছহীহ মুসলিম ২৬৭০, মুসনাদে ইবনে আবী শাইবা।

আল্লা 7

আল ফিকহুল আকবর একটি আদি ইসলামি আকিদা বিষয়ক গ্রন্থ। ইমাম আবু হানিফার লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অক্ষত রয়ে যাওয়া এটি অন্যতম একটি গ্রন্থ। আসুন, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবের অনুদিত এই বইটি থেকে দর্শন বিষয়ক অধ্যায়টি পড়ি [31]

আল্লা 9
আল্লা 11
আল্লা 13
আল্লা 15
আল্লা 17

দার্শনিক আল্লাহর রূপায়ণ: ইবনে সিনা থেকে ইবনে রুশদ

ইসলামী চিন্তাধারায় আল্লাহর বিমূর্ত ও দার্শনিক রূপায়ণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ইবনে সিনা (Avicenna) ও ইবনে রুশদ (Averroes)। তারা ধর্মীয় বিশ্বাসকে গ্রিক যুক্তিবাদের কাঠামোতে স্থাপন করে ঈশ্বরকে এমন এক সত্তায় রূপ দেন যিনি আর কোনোভাবে শারীরিক বা মানবীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত নন। এই রূপে ঈশ্বর একটি দার্শনিক ন্যায়বোধ, একটি অনিবার্য সত্য, এক ধরনের অস্তিত্বগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

ইবনে সিনা ঈশ্বরকে ব্যাখ্যা করেন “আবশ্যিক অস্তিত্ব” (wājib al-wujūd) হিসেবে—অর্থাৎ এমন একটি সত্তা যাঁর অস্তিত্ব অন্য কিছু দ্বারা নির্ধারিত নয়, বরং যাঁর অস্তিত্ব নিজেই তাঁর প্রকৃতি। তাঁর দৃষ্টিতে ঈশ্বর স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে, যাঁর চিন্তা ও অস্তিত্ব একইসঙ্গে ঘটে। এই ঈশ্বর নিজে চিন্তা করেন, আর সেই চিন্তার মাধ্যমেই সমস্ত সৃষ্টির সূত্রপাত ঘটে—তবে এটি কোনো ইচ্ছাপ্রসূত সৃষ্টিকর্ম নয়, বরং যৌক্তিক অনিবার্যতায় সৃষ্ট। ইবনে সিনার ঈশ্বর মানবীয় নয়, ইচ্ছাশীল নয়, বরং পরম যুক্তির এক বিমূর্ত রূপ।

অন্যদিকে, ইবনে রুশদ ছিলেন যুক্তির আরো একচেটিয়া পৃষ্ঠপোষক। তিনি বলেন, ঈশ্বর হচ্ছেন এমন এক চূড়ান্ত rational necessity, যাঁর অস্তিত্ব আমরা যুক্তির সাহায্যে আবিষ্কার করি, কোনো ধর্মগ্রন্থের দাবির উপর ভিত্তি করে নয়। তিনি গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের “প্রাইম মুভার” বা “আদি চালক” ধারণাকে ইসলামী ঈশ্বরতত্ত্বের সঙ্গে একীভূত করেন। এই প্রাইম মুভার নিজে কখনো পরিবর্তিত হন না, কিন্তু তাঁর অস্তিত্বের অনিবার্যতায় সৃষ্টিজগত গতিশীল হয়। ইবনে রুশদের কাছে ঈশ্বর মানে কোনো anthropomorphic সর্বশক্তিমান শাসক নন, বরং যুক্তির প্রাকৃতিক ও অনিবার্য পরিণতি।

এই দার্শনিক রূপান্তর আসলে প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের ঈশ্বরচিন্তার প্রত্যক্ষ প্রভাব। প্লেটোর নিওপ্লাটনিক ‘এক’ (The One) এবং অ্যারিস্টটলের unmoved mover-এর ধারা ইসলামী চিন্তায় যে ঈশ্বর তৈরি করেছে, তা পূর্বের শারীরিক, ব্যক্তিক ও আবেগপ্রবণ ঈশ্বরের ধারণা থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদের কাজের মাধ্যমে ইসলামে আল্লাহ হয়ে ওঠেন এমন এক বিমূর্ত, সেই সময়ের চিন্তাশীলদের উপযোগী যুক্তিনির্ভর, স্থান-কাল-রহিত সত্তা, যাঁকে অনুভব করা যায় কেবল বুদ্ধি ও যুক্তির আলোয় [32] [33] [34]


বিবর্তনের পেছনে সমাজ-সংস্কৃতির ভূমিকা

আল্লাহর বিবর্তনকে কেবল ধর্মীয় বা দার্শনিক প্রয়োজনে দেখা যথেষ্ট নয়; এর পেছনে ছিল সুস্পষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। ইসলাম যেসব ভূখণ্ডে জন্ম নেয়, সেই হেজাজ অঞ্চলের সমাজ ছিল মূলত একটি যুদ্ধপ্রবণ, বংশগত গোষ্ঠীবাদে বিভক্ত, এবং দৃঢ়ভাবে পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। এমন এক বাস্তবতায় প্রয়োজন ছিল এমন এক ঈশ্বরের, যিনি ছিলেন চরম কর্তৃত্বশালী, ভয় জাগানিয়া, শত্রুনাশী এবং সরাসরি যুদ্ধ ও প্রতিশোধের সাথে সম্পৃক্ত। এই আল্লাহ একজন যোদ্ধা ঈশ্বর, যিনি “কাফেরদের হৃদয়ে ভয় ঢেলে দেন” [35], “নিজেই ধ্বংস করেন” [36], “কাফেরদের রক্ত যথেষ্ট পরিমাণে জমিনে প্রবাহিত না হওয়া অবধি সন্তুষ্ট হন না” [37] এবং “তাঁর রাসূল ও বিশ্বাসীদের বিজয় দান করেন” [38]। প্রাথমিক মুসলিমরা তাঁকে কল্পনা করেছেন এমন এক সত্তা হিসেবে, যিনি দিকনির্দেশনা দেন, অস্ত্র ধারণ না করলেও ফেরেশতাদের দিয়ে একদলকে সাহায্য করেন, এবং আরশ থেকে নজরদারি করে মানব সমাজ শাসন করেন।

কিন্তু ইসলাম যখন বেদুইন মরুভূমি থেকে নগরসভ্যতার দিকে অগ্রসর হয়—বিশেষত আব্বাসীয় শাসনামলে যখন মুসলিম চিন্তাশীলরা বাগদাদ, বসরা, কুফা, ও কায়রোর মতো শহরে গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় দর্শনের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় প্রবেশ করে—তখন পুরোনো ঈশ্বরধারণা বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় পড়ে যায়। নগরজীবনের জটিলতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, বৈচিত্র্যপূর্ণ মতবাদ, মানবিক বোধবুদ্ধির উন্মেষ ঘটা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির বাস্তবতায় সেই “সেনাপতি ঈশ্বর” ক্রমে হয়ে ওঠেন এক বিমূর্ত, যুক্তিনির্ভর, মানবিক, নৈতিক আদর্শের প্রতীক। এই আল্লাহ আর শত্রু মারেন না, বরং “হিকমাহ” (প্রজ্ঞা), “আদল” (ন্যায়) এবং “সবর” (ধৈর্য)-এর উৎস হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ যোদ্ধা আল্লাহ হয়ে ওঠেন জ্ঞানী আল্লাহ, অর্থাৎ আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট হয়ে ওঠেন এরিস্টটল।

এই রূপান্তর কেবল চিন্তার জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ঈশ্বরের ভাষা, রূপ, ও ভাবধারার মধ্যেও ধরা পড়ে। প্রাথমিক যুগে আল্লাহ ছিলেন ‘যিনি ভয় দেখান’, কিন্তু দার্শনিক যুগে তিনি হয়ে ওঠেন ‘যিনি মানুষের অন্তরকে বোঝান’। এই পরিবর্তনই বলে দেয়, ঈশ্বর কোনো চিরস্থায়ী সত্তা নন—বরং সময়, সমাজ ও জ্ঞানের ধারাবাহিক চাপে গঠিত এক সাংস্কৃতিক নির্মাণ, যিনি মানুষের চিন্তার বিবর্তনের সাথে নিজেও বিবর্তিত হয়ে যান।


উপসংহার

ইসলামের ঈশ্বরধারণা কোনো স্থির, অপরিবর্তনীয় ও চিরন্তন তত্ত্ব নয়—বরং এটি এক স্পষ্ট মানবিক নির্মাণ, যা সময়, জ্ঞান, সমাজ ও ইতিহাসের আলো-ছায়ায় ক্রমাগত বিবর্তিত হয়ে এসেছে। প্রাথমিক কোরআনিক ও হাদিসের পাঠে যে ঈশ্বর স্পষ্টভাবে হাত-পা, মুখমণ্ডল, ক্রোধ, হাঁটা বা বসার মতো মানবীয় বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত ছিলেন, তিনি পরবর্তীকালে দার্শনিক ও যুক্তিবাদী চর্চার মুখে পড়ে হয়ে ওঠেন স্থান-কালহীন, রূপহীন, বিমূর্ত এবং যুক্তির আলোয় চিন্তনযোগ্য এক সর্বজ্ঞ পরমসত্তা। এই রূপান্তর কেবল ধর্মতাত্ত্বিক নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযোজন—যেখানে ঈশ্বরকে মানবীয় গণ্ডি থেকে মুক্ত করে ভাবা হয় বৃহত্তর যৌক্তিক কাঠামোর অন্তর্গত এক অস্তিত্ব হিসেবে।

এই বিবর্তনের ভেতরেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য: ধর্মীয় ধারণাগুলোও মানুষ তৈরি করে, এবং সেগুলোর গঠনে সমাজ, রাজনীতি, জ্ঞানতত্ত্ব ও দর্শনের ভূমিকা অপরিহার্য। সময়ের সাথে, চাহিদার সাথে, ও যুক্তির চাপে সেসব ধারণা রূপান্তরিত হয়, পুরনো ভাষ্য হারায়, নতুন ব্যাখ্যা গড়ে ওঠে। ইসলামেও এই রূপান্তর স্বতঃসিদ্ধ, এবং তা আমাদের দেখায়—ঈশ্বর কেবল বিশ্বাসের বস্তু নন, বরং মানব ইতিহাসের অভ্যন্তরে নির্মিত এক ধারণা, যিনি প্রতিটি যুগে তার অনুসারীদের মানস অনুযায়ী নিজেকে রূপান্তরিত করেন।

সুতরাং, ধর্ম ও ঈশ্বরকে যদি সত্যিই উপলব্ধি করতে হয়, তবে কেবল বিশ্বাসের নয়, বরং ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পাঠের মধ্য দিয়েই আমাদের এগোতে হবে—যেখানে ঈশ্বরকে প্রশ্ন করা যাবে, বিশ্লেষণ করা যাবে, এমনকি বুঝতে চেষ্টা করাও একধরনের নৈতিক দায়।



তথ্যসূত্রঃ
  1. কোরআন ৬৮:৪২ ↩︎
  2. কোরআন ৫৭:৪ ↩︎
  3. কোরআন ২০:৫ ↩︎
  4. বুখারী শরীফ, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিসঃ ৭৪১৭ ↩︎
  5. বুখারী শরীফ, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫০২ ↩︎
  6. সহজ নসরুল বারী শরহে বুখারী, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৩১ ↩︎
  7. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিসঃ ৪৭২৭ ↩︎
  8. ইবনে তাইমিয়া, বয়ান তালবিস আল-জাহমিয়্যাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪১–২৫৪; উসমান আদ-দারিমীর বক্তব্য ↩︎
  9. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৫৩১ ↩︎
  10. ইবনু বাযের ফতোয়া, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৬–২৩০ ↩︎
  11. IslamQA, Fatwa 20652: How Did Allah Create Adam in His Image? ↩︎
  12. ইবনে তাইমিয়্যার ফতোয়া, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২১–২২৫ ↩︎
  13. IslamQA, Fatwa 151794: The Divine Attributes Are to Be Affirmed in a Literal Sense ↩︎
  14. ইবনে তাইমিয়া, বয়ান তালবিস আল-জাহমিয়্যাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৪–২৫ ↩︎
  15. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১০৭৯ ↩︎
  16. আল-লুলু ওয়াল মারজান, হাদিসঃ ৪৩৪ ↩︎
  17. সূনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৪৬ ↩︎
  18. মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদিসঃ ১২২৩ ↩︎
  19. আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিসঃ ৭৫৮ ↩︎
  20. ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম, মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমীন, পৃষ্ঠা ৮০, ৮১ ↩︎
  21. Richard Walzer. Greek into Arabic. Harvard University Press, pp. 89–105 ↩︎
  22. Oliver Leaman. Introduction to Classical Islamic Philosophy. Cambridge University Press, pp. 34–39 ↩︎
  23. Majid Fakhry. A History of Islamic Philosophy. Columbia University Press, pp. 45–50 ↩︎
  24. W. Montgomery Watt. Islamic Philosophy and Theology. Edinburgh University Press, pp. 27–34 ↩︎
  25. আবুল হাসান আল-আশআরী, মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন; উদ্ধৃত: ইবনে তাইমিয়া, বয়ান তালবিস আল-জাহমিয়্যাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৩৮–৫৩৯ ↩︎
  26. Frank Griffel. Al-Ghazali’s Philosophical Theology. Oxford University Press, 2009, pp. 28–30 ↩︎
  27. Majid Fakhry. A History of Islamic Philosophy. Columbia University Press, pp. 62–64 ↩︎
  28. W. Montgomery Watt, pp. 40–47 ↩︎
  29. Oliver Leaman. Introduction to Classical Islamic Philosophy. Cambridge University Press, pp. 52–55 ↩︎
  30. শারহুল আক্বীদা আত-ত্বহাবীয়া, লেখক : ইমাম ইবনে আবীল ইয আল-হানাফী, প্রকাশনী : মাকতাবাতুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৩২৮ ↩︎
  31. আল-ফিকহুল আকবর (বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা), ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর, ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ, আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, পৃষ্ঠা ১৪৮-১৫২ ↩︎
  32. Majid Fakhry. A History of Islamic Philosophy. Columbia University Press, pp. 90–104 ↩︎
  33. Frank Griffel, pp. 71–85 ↩︎
  34. Oliver Leaman. Introduction to Classical Islamic Philosophy. Cambridge University Press, pp. 78–90 ↩︎
  35. সূরা আল-আনফাল ৮:১২ ↩︎
  36. সূরা আহযাব ৩৩:২৫ ↩︎
  37. সূরা আনফাল, আয়াত ৬৭ ↩︎
  38. সূরা আল-ফাতহ ৪৮:১ ↩︎

Preferred Sources

About This Article

Genre: Islamic God-Concept Analysis, Anthropomorphic Allah Critique, Quran-Hadith Theology Review, Kalam History, Islamic Philosophy, and Divine-Attribute Evolution Study

Epistemic Position: Secular Humanism, Historical Criticism, Source Criticism, Philosophical Skepticism, Anti-Anthropomorphism Analysis, Naturalistic Religious-History Reading, and Anti-Apologetic Reasoning

This article examines the transformation of Allah's image in Islamic thought, from a bodily and anthropomorphic deity described in Quranic and hadith language to the abstract, immaterial, formless, and philosophically refined God of later Muslim theology.

The central argument is that the modern Muslim idea of a fully formless Allah is not the straightforward picture found in the early Islamic textual imagination; rather, it developed through later philosophical pressure, Greek rationalism, kalam debates, and the need to reinterpret anthropomorphic descriptions that had become intellectually problematic.

The article also discusses Allah's hand, foot, shin, eye, face, throne, descent to the lowest heaven, weight-bearing throne, shaking throne, divine anger, laughter, speech, movement, sitting, spatiality, mutability, parts and divisibility, Quranic anthropomorphic verses, Sahih al-Bukhari, Sahih Muslim, Sunan Abi Dawud, Sunan al-Tirmidhi, Mishkat al-Masabih, Ahl al-Hadith and Salafi literalism, Mu‘tazilite rationalism, ta’wil, Ash‘ari and Maturidi reinterpretation, Bayt al-Hikmah, Greek philosophy, Aristotle, Plato, Ibn Sina, Ibn Rushd, divine simplicity, immutability, omnipresence, and the cultural and intellectual forces behind the abstraction of Allah.

This article should be evaluated through Quranic language, hadith evidence, tafsir and kalam history, Islamic intellectual history, philosophy of religion, metaphysics, Greek philosophical influence, anthropology of religion, and standards of logical consistency—not through devotional immunity, selective metaphorization, “without asking how” evasions, Salafi literalist special pleading, later theological sanitization, or the demand that a historically evolving God-concept be treated as an eternally fixed and self-evident truth.

Leave a comment

Your email will not be published.