জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

তাকদীর বিষয়ে কোরআন ও তাফসির কী বলে?

প্রকাশিত: এপ্রিল 26, 2024লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন18 মিনিট পড়া

ভূমিকা

ইসলামি ধর্মতত্ত্বে তাকদীরের আলোচনা কেবল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মানুষের ইচ্ছা, বিশ্বাস ও অবিশ্বাস, হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতা, সৃষ্টি, নির্বাচন এবং ঘটনাবলির পূর্বলিখনের সঙ্গে আল্লাহর ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মূল প্রশ্নটি শুধু আল্লাহ ভবিষ্যৎ জানেন কি না—তা নয়; বরং মানুষের ইচ্ছা ও কাজ কতখানি তার নিজের, আর কতখানি আগে থেকেই নির্ধারিত ঐশ্বরিক ব্যবস্থার অধীন। কোরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াত ও প্রচলিত তাফসিরের বক্তব্যে মানুষের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন রাখা হয়েছে; হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতা আল্লাহর সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে; ঘটনাবলি সংঘটিত হওয়ার আগেই লিখিত থাকার কথা বলা হয়েছে; এবং একই সঙ্গে মানুষের ওপর নৈতিক দায় ও শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। এই বক্তব্যগুলোর মধ্যেই স্বাধীন ইচ্ছা ও তাকদীরের মৌলিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।


মানুষের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছানির্ভর

কোরআনের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছা থেকে স্বাধীনভাবে কার্যকর হয় না। মানুষ কোনো কাজ করতে চাইবে কি না, সেই ইচ্ছার বাস্তবায়নও আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। এই বক্তব্য ভালো ও মন্দ—উভয় ধরনের ইচ্ছার ক্ষেত্রেই একই মৌলিক প্রশ্ন তোলে: মানুষ যদি কেবল সেটিই ইচ্ছা করতে পারে, যা আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে নয়, তবে মানুষের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত উৎস কোথায়? সূরা তাকভীরে বলা হয়েছে [1] –

তোমরা ইচ্ছে কর না যদি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছে না করেন।
Taisirul Quran
তোমরা ইচ্ছা করবেনা, যদি জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহ ইচ্ছা না করেন।
Sheikh Mujibur Rahman
আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।
Rawai Al-bayan
আর তোমরা ইচ্ছে করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন (১)।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

সূরা তাকভীরের এই বক্তব্যকে বিচ্ছিন্ন কোনো বাক্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ সূরা আল-ইনসানেও একই নীতি পুনরাবৃত্ত হয়েছে। সেখানে মানুষের অভিপ্রায়কে আল্লাহর অভিপ্রায়ের অধীন হিসেবে উপস্থাপন করে বলা হয়েছে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত মানুষ অন্য কোনো অভিপ্রায় পোষণ করতে পারে না। অর্থাৎ মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা স্বীকার করেও সেই ক্ষমতার কার্যকারিতাকে একটি পূর্ববর্তী ও অধিক শক্তিশালী ঐশ্বরিক ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। যদি মানুষ নিজের ইচ্ছার উৎস, সীমা ও বাস্তবায়ন—কোনোটিই আল্লাহর ইচ্ছা থেকে স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে না পারে, তবে তার ইচ্ছাকে পূর্ণ স্বাধীন ইচ্ছা বলা কতটা অর্থবহ, সেই প্রশ্ন এখানেই তৈরি হয় [2] –

MUHIUDDIN KHAN
আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।

Taisirul Quran
তোমরা ইচ্ছে কর না আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা মহাবিজ্ঞানী।

Sheikh Mujibur Rahman
তোমরা ইচ্ছা করবেনা যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
আর তোমরা ইচ্ছে করতে সক্ষম হবে না যদি না আল্লাহ্ ইচ্ছে করেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

মুহিউদ্দীন খানের অনুবাদে ব্যবহৃত “অভিপ্রায় পোষণ” কথাটি মানুষের সিদ্ধান্ত গঠনের দিকটিকেই নির্দেশ করে। একই আয়াতের সৌদি সরকার দ্বারা সত্যায়িত আল বায়ান ফাউন্ডেশনের অনুবাদেও বক্তব্যটির মৌলিক অর্থ পরিবর্তিত হয়নি; সেখানেও মানুষের ইচ্ছার আগে আল্লাহর ইচ্ছাকে নির্ধারক শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। অনুবাদটির প্রাসঙ্গিক অংশ নিচে দেওয়া হলো:

সূরা আল-ইনসান ৭৬:৩০-এর বাংলা অনুবাদ

উপরের আয়াতের ভাষা শুধু আধুনিক বাংলা অনুবাদের শব্দচয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রচলিত তাফসিরেও মানুষের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে এখানে অনুবাদগত অস্পষ্টতার অজুহাত দিয়ে মূল সমস্যাটি পাশ কাটানো কঠিন। তাফসীরে ইবনে কাসীরের সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যায় মানুষের কোনো ইচ্ছাই আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না—এই ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থানটিই তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশটি নিচে দেওয়া হলো [3] –

ইবন যায়দ ও ইন্ন জারীর (র) আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: আমি যখন ইচ্ছা করিব উহাদিগের পরিবর্তে আমি আরেকটি জাতি সৃষ্টি করিতে পারিব। যেমন অন্য
আয়াতে আল্লাহ্ বলেন:
إِنْ يَشَاءُ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ وَيَأْتِ بِأخَرِيْنَ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى ذَالِكَ
قَدِيرُاً অর্থাৎ ওহে মানুষ! আল্লাহ্ ইচ্ছা করিলে তোমাদিগকে নির্মূল করিয়া অন্য জাতি সৃষ্টি করিতে পারিবেন। আর আল্লাহ্ এই কাজ করিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।
আরেক আয়াতে আল্লাহ্ বলেন:
إِنْ يَشَاءُ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ وَمَا ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ بِعَزِيز
আল্লাহ্ ইচ্ছা করিলে তোমাদিগকে নির্মূল করিয়া নতুন এক জাতি আনিয়া দিবেন। আর এই কাজ আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নহে। অতঃপর আল্লাহ্ তা’আলা বলেন:
إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةُ – فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلاً
বিশেষ একটি উপদেশ। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন দ্বারা হিদায়াত লাভ করিতে চাহে, সে তাহার প্রতিপালকের দিকে পথ ধরুক। অতঃপর আল্লাহ্ বলেন:
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يُشَاءَ اللَّهُ
ইচ্ছা পূরণ হইবার নহে। আল্লাহর মঞ্জুরি ব্যতীত কেহ নিজেকে হিদায়াত করিতে, ঈমান আনয়ন করিতে এবং নিজের কোন উপকার করিতে সক্ষম নহে।
إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا
জানেন। ফলে তিনিই উপযুক্ত ব্যক্তির জন্য যাবতীয় উপকরণের ব্যবস্থা করিয়া দেন। আর যে ব্যক্তি বিভ্রান্ত হওয়ার যোগ্য তাহাকে হিদায়াত হইতে বঞ্চিত করেন। আর তিনি
প্রজ্ঞাময়। অতঃপর আল্লাহ্ বলেন:
يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ فِي رَحْمَتِهِ وَالظَّلِمِينَ أَعَدَّلَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
আল্লাহ্ যাহাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন আর যাহাকে ইচ্ছা পথহারা করেন। আল্লাহ্ যাহাকে হিদায়াত দান করেন, কেহ তাহাকে বিভ্রান্ত করিতে পারে না আর আল্লাহ্ যাহাকে বিভ্রান্ত করেন, কেহ তাহাকে হিদায়াত দিতে পারে না। আর অত্যাচারীদের জন্য তিনি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন।

সূরা আল-ইনসান ৭৬:৩০ সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে কাসীরের ব্যাখ্যা

তাফসীরে ইবনে কাসীরের এই ব্যাখ্যা কোনো একক বা ব্যতিক্রমী পাঠ নয়। তাফসীরে মাযহারীতেও মানুষের ইচ্ছাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ কারণ হিসেবে না দেখে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন একটি সীমিত ইচ্ছা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তি ইচ্ছা করছে বলে ঘটনাটি আল্লাহর ইচ্ছা থেকে স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে না; বরং ব্যক্তির ইচ্ছা করার সুযোগ এবং সেই ইচ্ছার কার্যকারিতা—উভয়ই ঐশ্বরিক ইচ্ছার অধীন থেকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যাটি নিচে দেওয়া হলো [4] –

হজরত আবু হোরায়রা থেকে ইবনে আবী হাতেম, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার সূত্রে ইবনে জারীর, ইবনে আবী হাতেম এবং সুলায়মান ইবনে কাসেম, ইবনে মুখাইমিয়া সূত্রে ইবনে মুনজির বর্ণনা করেছেন, আলোচ্য আয়াত যখন অবতীর্ণ হলো, তখন আবু জেহেল বললো, বাহ্! এবার তো পরিষ্কার করে বলেই দেওয়া হলো যে, যে সরল পথে চলতে চায়, তার জন্যই কোরআন উপদেশ। অর্থাৎ যে এরকম চায় না, তার কাছে কোরআন কিছুই নয়। এভাবে তো বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে করে দেওয়া হলো আমাদের ইচ্ছাধীন। অর্থাৎ হে মোহাম্মদ! আমরা ইচ্ছা করলে তোমার পথে চলতে পারি, আবার না-ও পারি। তার এমতো কুটকথার পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলো পরবর্তী আয়াত (২৯)। বলা হলো-
‘তোমরা ইচ্ছা করবে না, যদি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্ ইচ্ছা না করেন’।
একথার অর্থ- হে সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীর দল! তোমরা ভেবেছো কী? ইচ্ছা করলেও তো তোমরা সরল পথের পথিক হতে পারবে না, যতোক্ষণ না তোমরা লাভ করবে আল্লাহ্র ইচ্ছার আনুকুল্য, অনুমোদন অথবা সমর্থন। কেননা তিনিই সর্বাধিপতি। এই সুবিশাল সৃষ্টির প্রতিটি অস্তিত্বকে তিনিই দান করেছেন গতি-প্রকৃতি-প্রবৃদ্ধি ও পরিণতি, সে অস্তিত্ব মৌল হোক, অথবা হোক যৌগ। তিনিই সকলের ও সকল কিছুর একক সৃজয়িতা, পালয়িতা ও নিয়ন্ত্রয়িতা। এমন কি তোমাদের অভিপ্রায় সৃজয়িতাও তিনিই। সুতরাং কাউকে যদি সরল পথাভিমুখী হতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে তার ইচ্ছার প্রতি রয়েছে আল্লাহ্পাকের দয়ার্দ্র অভিপ্রায়ের অনুমোদন।

মানুষের ইচ্ছা সম্পর্কে তাফসীরে মাযহারীর ব্যাখ্যা

তাফসীরে ইবনে কাসীরের আরেকটি অংশে বিষয়টি হেদায়াতের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। মানুষ সত্য জানতে বা সৎপথ গ্রহণ করতে চাইলেই যে তা করতে পারবে—এমন স্বাধীন সক্ষমতার কথা সেখানে বলা হয়নি; বরং আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও তৌফিককে কার্যকর পূর্বশর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। এর ফলে মানুষের ইচ্ছা শুধু কাজের ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বাসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট অংশটি নিচে দেওয়া হলো [5] –

وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَيْطَنٍ رَّحِيمٍ নহে। অর্থাৎ শয়তান এই কুরআন বহন করিয়া আনে নাই এবং সে ইহার যোগ্যও নহে।
যেমন অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন:
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيْطَيِّنُ وَمَا يَنْبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ إِنَّهُمْ عَنِ السَّمْعِ لَمَعْزُولُونَ অর্থাৎ এই কুরআন শয়তানরা বহন করিয়া আনে নাই আর তাহাদিগের জন্য ইহা শোভাও পায় না এবং তাহারা সক্ষমও নহে। বস্তুত উহাদিগকে কুরআন শ্রবণ হইতেও বঞ্চিত রাখা হইয়াছে।
فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ
তোমরা উহাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করিতেছ? তোমাদিগের বিবেক বুদ্ধি কোথায় যাইতেছে? কাতাদা (র) বলেন: فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ অর্থ আল্লাহর কিতাব ও তাঁহার আনুগত্য ছাড়িয়া তোমরা কোথায় যাইতেছ?
মানুষের জন্য উপদেশ। إنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرُ الْعُلَمِينَ لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ তাহাকে এই কুরআনই অনুসরণ করিয়া চলিতে হইবে। হিদায়াতের বিকল্প কোন পথ নাই। কুরআন ছাড়া মুক্তি ও
وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يُشَاءُ اللَّهُ رَبُّ الْعُلَمِينَ তাহাই বাস্তবায়িত হয় না। বরং মানুষের ইচ্ছার বাস্তবায়ন আল্লাহর মঞ্জুরির উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কেহ চাহিলেই হিদায়াত লাভ করিতে পারে না আবার ইচ্ছা করিলেই পথভ্রষ্ট হইতে পারে না- বরং আল্লাহ্ যাহাকে হিদায়াত দান করেন সেই হিদায়াত পায় আর যাহাকে বিভ্রান্ত করেন সেই বিভ্রান্ত হয়।
সুফিয়ান ছাওরী (র)……… সুলায়মান ইব্‌ন মূসা (র) হইতে বর্ণনা করেন। তিনি
বলেন, لِمَنْ شَاء الخ এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর আবু জাহল বলিল, ক্ষমতা তো সবই আমাগিদের হাতে। আমরা ইচ্ছা করিলে সঠিক পথে চলিতে পারি আর ইচ্ছা করিলে বিপথেও চলিতে পারি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা وَمَا تَشَاءُونَ الخ আয়াতটি নাযিল করেন।

হেদায়াত ও মানুষের ইচ্ছা সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে কাসীরের ব্যাখ্যা

অতএব, সংশ্লিষ্ট আয়াত ও তাফসিরগুলো একত্রে পড়লে বক্তব্যটি কেবল আল্লাহর পূর্বজ্ঞান বোঝায় না। পূর্বজ্ঞান হলে আল্লাহ একটি স্বাধীন সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানতেন; কিন্তু এখানে মানুষের ইচ্ছা গঠিত ও কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রেও আল্লাহর ইচ্ছাকে পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই দুই অবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। প্রথম অবস্থায় মানুষ সিদ্ধান্তের প্রকৃত উৎস হতে পারে, আর আল্লাহ সেই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অভ্রান্তভাবে অবগত; দ্বিতীয় অবস্থায় মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছাটিই এমন একটি ঐশ্বরিক ইচ্ছার অধীন, যার বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে “আল্লাহ শুধু আগে থেকে জানেন, কিন্তু মানুষের ইচ্ছা সম্পূর্ণ স্বাধীন”—এই জনপ্রিয় ব্যাখ্যাটি এসব আয়াত ও তাফসিরের সরল অর্থের সঙ্গে সহজে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।


অন্তরে মোহর, হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতা

কোরআনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, আল্লাহ কিছু মানুষের অন্তর ও শ্রবণশক্তির ওপর মোহর করে দেন এবং তাদের দৃষ্টির ওপর আবরণ রাখেন। এর ফলে তারা সত্য উপলব্ধি করতে পারে না, অথচ পরিণামে তাদের জন্য শাস্তির কথাও বলা হয়। এখানে প্রশ্ন ওঠে: কোনো ব্যক্তির বিশ্বাসে পৌঁছানোর মানসিক পথ যদি আল্লাহ নিজেই বন্ধ করে দেন, তবে তার অবিশ্বাসের দায় সম্পূর্ণভাবে সেই ব্যক্তির ওপর আরোপ করা কতটা সঙ্গত? [6] –

আল্লাহ তাদের অন্তর ও কানের উপর মোহর করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখে আছে আবরণ আর তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি।
Taisirul Quran
আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর ও তাদের কর্ণসমূহের উপর মোহরাংকিত করে দিয়েছেন এবং তাদের চক্ষুসমূহের উপর আবরণ পড়ে আছে এবং তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।
Sheikh Mujibur Rahman
আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের চোখসমূহে রয়েছে পর্দা। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।
Rawai Al-bayan
আল্লাহ্‌ তাদের হৃদয়সমূহ ও তাদের শ্রবণশক্তির উপর মোহর করে দিয়েছেন (১), এবং তাদের দৃষ্টির উপর রয়েছে আবরণ। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতার ক্ষেত্রেও কোরআন আল্লাহকেই চূড়ান্ত নির্ধারক হিসেবে উপস্থাপন করে। সূরা আল-কাহফ ও সূরা আল-আরাফের বক্তব্য অনুযায়ী, আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে-ই পথপ্রাপ্ত হয়; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কার্যকর পথপ্রদর্শক পাওয়া যায় না। এর অর্থ শুধু এই নয় যে আল্লাহ কে সঠিক পথে যাবে তা আগে থেকেই জানেন; আয়াতের সক্রিয় ভাষায় হেদায়াত দেওয়া এবং পথভ্রষ্ট করার কাজও তার দিকেই আরোপিত হয়েছে। ফলে কোনো মানুষের সামনে প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সে যদি আল্লাহর সিদ্ধান্তের কারণে হেদায়াত না পায়, তবে তার অবিশ্বাসকে পুরোপুরি স্বাধীন নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে [7] [8] –

আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।

যাকে আল্লাহ পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।


আল্লাহ চাইলে সবাই ঈমান আনত

সূরা ইউনুসে বিষয়টি আরও সরাসরি বলা হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে, আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর সবাই ঈমান আনত; পরের আয়াতেই বলা হয়েছে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। অর্থাৎ অবিশ্বাসকে শুধু মানুষের স্বাধীন সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করার পাশাপাশি একই কোরআন বিশ্বাস অর্জনের কার্যকারিতাকেও আল্লাহর অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করেছে। [9]

وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا … وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ

বাংলা অনুবাদ:“তোমার প্রতিপালক চাইলে পৃথিবীর সকল মানুষই ঈমান আনত … আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো প্রাণের পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়।”

কুরতুবি ১০:১০০ আয়াতের “আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো প্রাণ ঈমান আনতে পারে না” বাক্যটির অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন আল্লাহর ফয়সালা, তাকদীর, ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের মাধ্যমে। তাঁর ভাষায় ঈমান শুধু মানুষের নিজস্ব মানসিক সিদ্ধান্তে সম্পন্ন হয় না; ঐশ্বরিক কদর ও মাশিয়াত এখানে সরাসরি শর্ত। [10]

مَا يَنْبَغِي أَنْ تُؤْمِنَ نَفْسٌ إِلَّا بِقَضَائِهِ وَقَدَرِهِ وَمَشِيئَتِهِ وَإِرَادَتِهِ.

বাংলা অনুবাদ:“কোনো প্রাণ তাঁর ফয়সালা, তাকদীর, ইচ্ছা ও অভিপ্রায় ছাড়া ঈমান আনতে পারে না।”


যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন—তবু তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ

সূরা নাহল ১৬:৯৩-এ হেদায়াত, পথভ্রষ্টতা ও নৈতিক জবাবদিহি একই আয়াতে পাশাপাশি এসেছে। আল্লাহ চাইলে সবাইকে এক সম্প্রদায় করতে পারতেন; কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন—এর পরপরই বলা হয়েছে, মানুষ যা করেছে সে বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ফলে সমস্যাটি একই আয়াতের মধ্যেই উপস্থিত: পথভ্রষ্টতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে যুক্ত, অথচ সেই পথভ্রষ্ট মানুষের কাজের বিচারও করা হবে। [11]

وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَلَتُسْأَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ.

বাংলা অনুবাদ:“আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে এক সম্প্রদায় করতেন; কিন্তু তিনি যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হেদায়াত দেন। আর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।”

কুরতুবির তাফসিরেও আয়াতটির সক্রিয় অর্থ বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা খিযলান বা সাহায্য-বঞ্চনার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা তৌফিক দিয়ে হেদায়াত করেন; এরপর তিনি মানুষের জবাবদিহির কথাও উল্লেখ করেন। [12]

وَلَكِنْ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ بِخِذْلَانِهِ إِيَّاهُمْ … وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ بِتَوْفِيقِهِ إِيَّاهُمْ … بَلْ تُسْأَلُونَ أَنْتُمْ.

বাংলা অনুবাদ:“তিনি যাকে চান তাদের সাহায্য-বঞ্চিত করে পথভ্রষ্ট করেন … এবং যাকে চান তৌফিক দিয়ে হেদায়াত করেন … বরং তোমরাই জিজ্ঞাসিত হবে।”

সূরা সাজদাহ ৩২:১৩-এ একই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র ভাষায় এসেছে। সেখানে আল্লাহ সরাসরি বলেন, তিনি চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে হেদায়াত দিতে পারতেন; কিন্তু তার পরিবর্তে জিন ও মানুষ দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করার ঘোষণাকে সত্য সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। [13]

وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ.

বাংলা অনুবাদ:“আমি চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হেদায়াত দিতাম; কিন্তু আমার এই কথা সত্য হয়েছে যে, আমি জিন ও মানুষ দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।”

ইবন কাসির আয়াতটির প্রথম অংশ ব্যাখ্যা করতে সূরা ইউনুস ১০:৯৯-এর “তোমার রব চাইলে পৃথিবীর সবাই ঈমান আনত” আয়াতটিই পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর তাফসিরেও সকল মানুষের হেদায়াত আল্লাহর সক্ষমতা ও ইচ্ছার আওতার বাইরে নয়। [14]

وَقَالَ هَاهُنَا: وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا.

বাংলা অনুবাদ:“এখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি চাইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে হেদায়াত দিতাম’; যেমন অন্যত্র বলেছেন, ‘তোমার রব চাইলে পৃথিবীর সবাই ঈমান আনত।’”

এই আয়াতগুলো একত্রে পড়লে হেদায়াতকে কেবল মানুষের স্বতন্ত্র অনুসন্ধান, বুদ্ধিবৃত্তিক সততা বা নৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখা কঠিন হয়। কারণ বিশ্বাসে পৌঁছানোর সক্ষমতা, অন্তরের উন্মুক্ততা, সত্য উপলব্ধির মানসিক অবস্থা এবং পথপ্রাপ্তির চূড়ান্ত ফল—সবকিছুর ওপরই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে কার্যকর কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ একই মানুষকে তার অবিশ্বাসের জন্য শাস্তিযোগ্যও ঘোষণা করা হয়। সমস্যা হলো, চেষ্টা করার মানসিক ক্ষেত্রটিই যদি মোহর, অনুমতি, তৌফিক, হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতার ঐশ্বরিক সিদ্ধান্ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ব্যক্তির নৈতিক দায়ের চূড়ান্ত ভিত্তি কোথায় থাকে তা স্পষ্ট নয়।


সৃষ্টি, নির্বাচন ও পূর্বলিখন

আল্লাহর সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে মানুষের কাজের সম্পর্ক নিয়ে সূরা সাফফাত ৩৭:৯৬ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইবরাহিম তার সম্প্রদায়ের নির্মিত মূর্তির সমালোচনায় বলেন—আল্লাহ তোমাদের এবং “তোমরা যা কর” সৃষ্টি করেছেন। আয়াতটির তাৎক্ষণিক প্রসঙ্গে নির্মিত মূর্তি বোঝার সুযোগ থাকলেও ইবন কাসির ما-কে মাসদারিয়া ধরে সরাসরি “আল্লাহ তোমাদের এবং তোমাদের কর্ম সৃষ্টি করেছেন” অর্থটি উল্লেখ করেছেন এবং এই অর্থকেই অধিক প্রকাশ্য বলেছেন। [15]

وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ.

বাংলা অনুবাদ:“আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা কর তাও।”

ইবন কাসির লিখেছেন, ما মাসদারিয়া হলে বাক্যটির অর্থ হয় “আল্লাহ তোমাদের এবং তোমাদের কর্ম সৃষ্টি করেছেন”; আর ما যদি “যা” অর্থে হয়, তাহলে অর্থ হবে “আল্লাহ তোমাদের এবং তোমরা যা তৈরি কর তা সৃষ্টি করেছেন।” তিনি এরপর বলেন, দুটি অর্থ পরস্পর সম্পর্কিত হলেও প্রথম অর্থটি অধিক প্রকাশ্য। [16]

يَحْتَمِلُ أَنْ تَكُونَ “مَا” مَصْدَرِيَّةً، فَيَكُونُ تَقْدِيرُ الْكَلَامِ: وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَعَمَلَكُمْ … وَكِلَا الْقَوْلَيْنِ مُتَلَازِمٌ، وَالْأَوَّلُ أَظْهَرُ.

বাংলা অনুবাদ:“‘মা’ মাসদারিয়া হতে পারে; তখন বাক্যের অর্থ হবে: ‘আল্লাহ তোমাদের এবং তোমাদের কর্ম সৃষ্টি করেছেন’ … উভয় অর্থ পরস্পর সম্পর্কিত, তবে প্রথম অর্থটিই অধিক প্রকাশ্য।”

কোরআনে সমস্ত কিছুকে নির্ধারিত পরিমাপ বা তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে। এই বক্তব্যের আওতা শুধু নক্ষত্র, গ্রহ বা প্রাকৃতিক ঘটনাপ্রবাহ নয়; মানুষ, তার মস্তিষ্ক, সক্ষমতা, প্রবণতা, পারিবারিক পরিবেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপকরণও সৃষ্টিজগতের অংশ। অতএব “প্রত্যেক বস্তু” যদি নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি হয়ে থাকে, মানুষের সিদ্ধান্তের কার্যকারণ কাঠামোকেও সেই সর্বজনীন সৃষ্টিব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা কঠিন। [17]

Taisirul Quran
আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।

Sheikh Mujibur Rahman
আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।

Tafsir Ahsanul Bayaan
নিশ্চয় আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।

এই নির্ধারণের সঙ্গে ঘটনাবলির পূর্বলিখনের ধারণাও যুক্ত হয়েছে। পৃথিবীতে বা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে কোনো বিপদ আসার আগেই তা একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে; অর্থাৎ ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই সেটি ঐশ্বরিক রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত এবং সেই রেকর্ড ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। একটি অভ্রান্ত পূর্বলিখিত ঘটনার বিপরীত কিছু বাস্তবে ঘটলে ঐশ্বরিক কিতাব ভুল প্রমাণিত হবে, আর তা ইসলামি বিশ্বাসে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে লিখিত ঘটনাটি ঘটার আগেই কার্যত অনিবার্য হয়ে যায় [18] –

Taisirul Quran
পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের উপর এমন কোন মুসীবত আসে না যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।

Sheikh Mujibur Rahman
পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে, আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ।

Rawai Al-bayan
যমীনে এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোন মুসীবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।

আল্লাহর সৃষ্টি ও নির্বাচনকেও কোরআন তার নিজস্ব ইচ্ছার অধীন বলে বর্ণনা করে। এখানে মানুষের দাবি, যোগ্যতা বা সম্মতির ওপর ঐশ্বরিক নির্বাচন নির্ভরশীল—এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি; বরং আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। ফলে কে কী বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মাবে, কে বিশেষ মর্যাদা বা সুযোগ পাবে এবং কে কোন সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার মধ্যে জীবন শুরু করবে—এসব মৌলিক পার্থক্য মানুষের নিজের অর্জনের আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় [19] –

আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যা ইচ্ছা) মনোনীত করেন।

সূরা ইব্রাহিমে এই সার্বভৌম ইচ্ছাকে আরও সরাসরি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে—আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন। সর্বশক্তিমান সত্তার ক্ষেত্রে এই ইচ্ছা কোনো নিষ্ক্রিয় আকাঙ্ক্ষা নয়; তার ইচ্ছা বাস্তবতার ওপর কার্যকর ক্ষমতা বহন করে। তাই মানুষের কোনো কাজ আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটেছে বলা হলে প্রশ্ন ওঠে, আল্লাহ কি সেটি ঠেকাতে চাননি, নাকি চেয়েও ঠেকাতে পারেননি। দ্বিতীয়টি সর্বশক্তিমানতার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, আর প্রথমটি ঘটনাটিকে তার অনুমোদিত ব্যবস্থার অংশ করে তোলে [20] –

এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা সেটাই করেন

মানুষের শারীরিক গঠনকেও এই ইচ্ছাধীন সৃষ্টির অংশ বলা হয়েছে। মাতৃগর্ভে কে কী আকৃতি পাবে, আয়াতটির ভাষ্য অনুযায়ী সেটিও আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ফলে মানুষের জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাও তার নিজের নির্বাচনের পূর্ববর্তী একটি ঐশ্বরিক সিদ্ধান্তের অংশ হয়ে দাঁড়ায় [21] –

তিনিই মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে আকৃতি দান করেন যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে।

কোরআনে আল্লাহকে সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা এবং প্রতিটি বিষয়ের পরিমাপ নির্ধারণকারী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। এই বক্তব্যের সঙ্গে মানুষের জন্মগত গঠন, মানসিক সক্ষমতা এবং পরিবেশগত বৈষম্যকে মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, সবাই একই উপকরণ বা একই সূচনা নিয়ে তথাকথিত পরীক্ষায় অংশ নেয় না। কেউ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যবহার করবে, সেই ক্ষমতার পরিধিও তার জন্মের আগে নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল; আর আয়াত অনুযায়ী সেগুলোর স্রষ্টা ও পরিমাপ নির্ধারণকারী আল্লাহ [22] –

তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে যথোচিত আকৃতি দান করেছেন।


আল্লাহ চাইলে তারা তা করত না

কোরআনের বক্তব্য শুধু এই নয় যে আল্লাহ কোনো ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকেই জানেন। কিছু আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহ চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেই কাজটি করতে পারত না। পূর্বজ্ঞান ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের পার্থক্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ: কোনো দর্শক একটি ঘটনা আগে থেকে জানলেও তিনি সেটি ঘটান না, কিন্তু সর্বশক্তিমান স্রষ্টা যখন বলেন যে তিনি চাইলে কাজটি ঘটত না, তখন কাজটির সংঘটিত হওয়া তার কার্যকর ইচ্ছার বাইরে থাকে না। অর্থাৎ কাজটি ঘটতে দেওয়ার ক্ষমতা, সেটি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অস্তিত্ব ও সামর্থ্য সৃষ্টি করার ক্ষমতা—সবই একই সত্তার হাতে কেন্দ্রীভূত [23] –

তোমার রব যদি ইচ্ছা করত, তবে তারা তা করত না

এখানে “অনুমতি দেওয়া” এবং “থামাতে অক্ষম হওয়া” এক বিষয় নয়। সীমিত ক্ষমতার কোনো ব্যক্তি অপরাধ ঠেকাতে চেয়েও ব্যর্থ হতে পারেন; কিন্তু সর্বশক্তিমান সত্তার ক্ষেত্রে সেই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যায় না। তিনি কোনো কাজ চাইলে বন্ধ করতে পারেন—এই বিশ্বাসের সঙ্গে আয়াতটি মিলিয়ে পড়লে, সংঘটিত কাজটি অন্তত তার অনুমোদিত বাস্তবতার মধ্যেই ঘটে। আবার তিনি যদি আগে থেকেই জানেন কোন পরিস্থিতিতে কে কী করবে এবং সেই ব্যক্তি, তার প্রবণতা ও পরিস্থিতি সবই নিজে সৃষ্টি করেন, তবে তাকে শুধু নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক বলা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মানুষের কাজ আল্লাহর ইচ্ছার সম্পূর্ণ বাইরে সংঘটিত হয়—এমন ব্যাখ্যা কোরআনের এই ভাষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


শয়তানের প্রভাবও আল্লাহর অনুমতিসাপেক্ষ

মানুষকে প্ররোচিত করার ক্ষেত্রে শয়তানের ক্ষমতাকেও কোরআন স্বাধীন ও সীমাহীন হিসেবে উপস্থাপন করে না। সূরা আল-মুজাদিলার বক্তব্য অনুযায়ী, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তান মুমিনদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। অর্থাৎ শয়তানের প্রভাব এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করে, যার চূড়ান্ত অনুমতি আল্লাহর হাতে; সে আল্লাহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে দাঁড়িয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি নয়। ফলে শয়তান কাউকে প্ররোচিত করলে সেই প্ররোচনার অস্তিত্ব, সীমা ও কার্যকারিতা—সবই আল্লাহর অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যে থেকে যায় [24] –

গোপন পরামর্শ হল মু’মিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য শয়ত্বান প্ররোচিত কাজ। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। মু’মিনদের কর্তব্য হল একমাত্র আল্লাহরই উপর ভরসা করা।
( Taisirul Quran )
শাইতানের প্ররোচনায় হয় এই গোপন পরামর্শ, মু’মিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য; কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত শাইতান তাদের সামান্যতম ক্ষতি সাধনেও সক্ষম নয়। মু’মিনদের কর্তব্য হল আল্লাহর উপর নির্ভর করা।
( Sheikh Mujibur Rahman )
গোপন পরামর্শ তো হল মুমিনরা যাতে দুঃখ পায় সে উদ্দেশ্যে কৃত শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সে তাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। অতএব আল্লাহরই ওপর মুমিনরা যেন তাওয়াক্কুল করে।
( Rawai Al-bayan )
গোপন পরামর্শ তো কেবল শয়তানের প্ররোচনায় হয় মুমিনদেরকে দুঃখ দেয়ার জন্য। তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তান তাদের সামান্যতম ক্ষতি সাধনেও সক্ষম নয়। অতএব, আল্লাহ্‌র উপরই মুমিনরা যেন নির্ভর করে।
( Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria )

এই বক্তব্যের যৌক্তিক ফল হলো, শয়তান নিজে কোনো সর্বময় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি নয়। সে যতটুকু প্রভাব বিস্তার করে, তা আল্লাহর অনুমোদিত সীমার মধ্যেই করে এবং আল্লাহ চাইলে সেই প্রভাব কার্যকর হতে পারে না। ফলে মানুষের পথভ্রষ্টতার ব্যাখ্যায় শুধু শয়তানকে দায়ী করে আল্লাহর নিয়ন্ত্রণকে আলোচনার বাইরে রাখা যায় না। একই সঙ্গে মানুষকে শয়তানের প্ররোচনার জন্য দায়ী করার আগে প্রশ্ন করতে হয়, সর্বজ্ঞ স্রষ্টা কেন এমন ব্যক্তি, প্রবণতা ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেন যার ফল তিনি আগে থেকেই জানতেন, এবং কেন সেই প্ররোচনাকে কার্যকর হওয়ার অনুমতি দিলেন। এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু “শয়তান প্ররোচনা দিয়েছে” বলা কার্যকারণ শৃঙ্খলের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রককে আড়াল করে।

উপরের আয়াত ও তাফসিরগুলো থেকে একটি ধারাবাহিক ধর্মতাত্ত্বিক কাঠামো পাওয়া যায়: মানুষের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন; আল্লাহ অন্তরে মোহর দিতে পারেন; হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার হাতে; সমস্ত কিছু নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি; বিপদ সংঘটিত হওয়ার আগেই লিপিবদ্ধ; সৃষ্টি ও নির্বাচন তার ইচ্ছাধীন; এবং শয়তানের প্রভাবও তার অনুমতি ছাড়া কার্যকর নয়। এখানে পূর্বজ্ঞান, ইচ্ছা, সৃষ্টি, অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণ—পাঁচটি ধারণা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। শুধু “আল্লাহ জানেন” বললে এই পূর্ণ কাঠামো ধরা পড়ে না, কারণ আলোচিত আয়াতগুলো আল্লাহকে নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষক নয়, বরং ইচ্ছা, সৃষ্টি, নির্বাচন, হেদায়াত ও অনুমতির সক্রিয় নির্ধারক হিসেবে উপস্থাপন করে। মানুষের সিদ্ধান্ত যদি এই সমগ্র কার্যকারণ ব্যবস্থার ভেতরে জন্ম নেয় এবং সেই ব্যবস্থার কোনো স্তরই মানুষের নিজের সৃষ্টি না হয়, তবে সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কর্তা মানুষ হলেও তার চূড়ান্ত উৎস অন্যত্র থেকে যায়। এই কারণেই তাকদীর ও স্বাধীন ইচ্ছার বিরোধটি নিছক ভাষাগত বিভ্রান্তি নয়; এটি ইসলামি ধর্মতত্ত্বের একটি মৌলিক দার্শনিক সমস্যা।


উপসংহার

কোরআন ও প্রচলিত তাফসিরের সম্মিলিত পাঠে মানুষের ইচ্ছাকে এমন কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা যায় না, যা আল্লাহর ইচ্ছা, সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে। মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়—কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য, মানসিক অবস্থা, হেদায়াতের সুযোগ, শারীরিক গঠন এবং কাজ সংঘটিত হওয়ার বাস্তব ক্ষেত্র সবই এমন এক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত, যার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক আল্লাহ। ফলে নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদি কোনো মানুষ আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে ইচ্ছা করতে না পারে, আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য পথপ্রদর্শক না থাকে, এবং সমস্ত ঘটনা পূর্বেই নির্ধারিত ব্যবস্থার মধ্যে সংঘটিত হয়, তবে মানুষের শাস্তি ও পুরস্কারের ন্যায্যতা নতুন করে ব্যাখ্যা করতে হয়। তাৎক্ষণিকভাবে “মানুষ নিজেই কাজটি করেছে” বলা যথেষ্ট নয়, কারণ বিতর্কটি হাত-পা নড়ানোর তাৎক্ষণিক কর্তা নিয়ে নয়; বিতর্কটি ইচ্ছা, প্রবণতা ও সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত উৎস নিয়ে। কোরআন ও তাফসিরের এই বক্তব্যগুলো স্বাধীন ইচ্ছা ও তাকদীরের মধ্যে সমাধান দেয় না; বরং সেই গভীর দ্বন্দ্বের মূল উৎসই স্পষ্ট করে।


তথ্যসূত্রঃ
  1. সূরা তাকভীর, আয়াত ২৯ ↩︎
  2. কোরআন ৭৬:৩০ ↩︎
  3. তাফসীরে ইবনে কাসীর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। একাদশ খণ্ড। পৃষ্ঠা ৩৭২ ↩︎
  4. তাফসীরে মাযহারী, আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী, হাকিমবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়া, ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৫ ↩︎
  5. তাফসীর ইবনে কাসীর, আল্লামা ইবনে কাসীর, ১১তম খণ্ড , ইসলামিক ফাউন্ডেশন ,পৃষ্ঠা ৪৩২ ↩︎
  6. সূরা বাকারা আয়াত ৭ ↩︎
  7. কোরআন ১৮:১৭ ↩︎
  8. কোরআন ৭:১৭৮ ↩︎
  9. সূরা ইউনুস ১০:৯৯–১০০ ↩︎
  10. تفسير القرطبي – قوله تعالى وما كان لنفس أن تؤمن إلا بإذن الله ↩︎
  11. সূরা নাহল ১৬:৯৩ ↩︎
  12. تفسير القرطبي – قوله تعالى ولو شاء الله لجعلكم أمة واحدة ↩︎
  13. সূরা সাজদাহ ৩২:১৩ ↩︎
  14. تفسير ابن كثير – تفسير قوله تعالى ولو شئنا لآتينا كل نفس هداها ↩︎
  15. সূরা সাফফাত ৩৭:৯৬ ↩︎
  16. تفسير ابن كثير – تفسير قوله تعالى والله خلقكم وما تعملون ↩︎
  17. সূরা ক্বামার ৫৪:৪৯ ↩︎
  18. সূরা হাদীদ, আয়াত: ২২ ↩︎
  19. সূরা কাসাস, আয়াত: ৬৮ ↩︎
  20. সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২৭ ↩︎
  21. সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৬ ↩︎
  22. সূরা ফুরকান, আয়াত:২ ↩︎
  23. সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১২ ↩︎
  24. সূরা আল মুজাদিলা আয়াত ১০ ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Leave a comment

Your email will not be published.