ভূমিকা
সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম, জামে তিরমিযী, সুনান নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমী, ইবন হিব্বান, বাইহাকী এবং মুসনাদ আহমাদের বর্ণনাগুলো মিলিয়ে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে আসে—নবী মুহাম্মদ একই রাত বা দিনের একটি সময়পর্বে পর্যায়ক্রমে একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতেন এবং একাধিক সহবাসের পরে একবার গোসল করতেন। বুখারীর একটি রেওয়ায়েতে সেই নারীর সংখ্যা এগারো, আরেক রেওয়ায়েতে নয়। একই বর্ণনায় আনাস ইবন মালিককে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, মুহাম্মদ এতটা সক্ষম ছিলেন কি না, তখন তিনি বলেন, সাহাবীদের মধ্যে প্রচলিত কথা ছিল যে তাঁকে ত্রিশজন পুরুষের শক্তি দেওয়া হয়েছিল। ইবন হাজর আল-আসকালানী ফাতহুল বারী-তে “ত্রিশ”-এর অনুল্লিখিত একককে “ত্রিশজন পুরুষ” বলে ব্যাখ্যা করেছেন এবং অন্য সূত্রে “সহবাসে” শক্তির কথা এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন। বদরুদ্দীন আল-আইনী উমদাতুল কারী-তে বুখারীর “স্ত্রীদের কাছে তাওয়াফ করতেন” কথাটির অর্থ সরাসরি “তাদের সঙ্গে সহবাস করতেন” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ এই বর্ণনার যৌন অর্থ আধুনিক সমালোচকের আরোপ নয়; হাদিসের অধ্যায়ের নাম, একই ঘটনার বিভিন্ন বর্ণনা, ফিকহি ব্যবহার এবং প্রাচীন মুসলিম ব্যাখ্যাকারদের ভাষা—সবগুলো একই অর্থ বহন করে। [1]
এই বর্ণনাগুলোকে শুধু মুহাম্মদের ব্যক্তিগত যৌনজীবনের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে ইসলামী বৈবাহিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। ইসলামে সাধারণ মুসলিম পুরুষকে একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু একজন মুসলিম নারী একই সময়ে একাধিক স্বামী রাখতে পারেন না; মুহাম্মদের ক্ষেত্রে আবার সাধারণ মুসলিম পুরুষের চার স্ত্রীর সীমাও কার্যকর ছিল না। ফলে একই ধর্মীয় ব্যবস্থায় পুরুষের জন্য বহুগামিতার বৈধ সুযোগ, অগণিত দাসী ভোগ, নারীর জন্য তার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, এবং নবীর জন্য সাধারণ পুরুষের চেয়েও বিস্তৃত বৈবাহিক বিশেষাধিকার—তিনটি স্তর একসঙ্গে উপস্থিত। এর সঙ্গে যখন একই রাত বা সময়পর্বে নয় বা এগারো নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে যাওয়ার এবং “ত্রিশজন পুরুষের শক্তি” থাকার বর্ণনা যুক্ত হয়, তখন বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত যৌনরুচির আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত বৈবাহিক ও যৌন অধিকারের গভীর লিঙ্গভিত্তিক অসমতার প্রশ্নে পরিণত হয়। ইসলামকিউএ-ও পুরুষের বহুবিবাহকে বৈধ এবং নারীর একাধিক স্বামী গ্রহণকে নিষিদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করে; ইসলামওয়েবে নবীর চারজনের বেশি স্ত্রী রাখাকে তাঁর বিশেষ বৈবাহিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে। [2] [3]
সহিহ বুখারী
সহীহ বুখারীতে এই হাদিসটি খুব পরিষ্কারভাবেই বর্ণিত হয়েছে [4]
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫/ গোসল
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫। একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সংগত হওয়ার পর একবার গোসল করা।
২৬৫। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) …. মুহাম্মদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে (আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ))-এর উক্তিটি* উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ আবূ ‘আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুশবু লাগাতাম, তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তারপর ভোরবেলায় এমন অবস্থায় ইহ্রাম বাঁধতেন যে, তাঁর দেহ থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো।
(আবদুল্লাহ্ ইবন ‘উমর (রাঃ))-এর উক্তিটি: আমি এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধতে পছন্দ করি না, যাতে সকালে আমার দেহ থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়ে ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫/ গোসল
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫। একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সংগত হওয়ার পর একবার গোসল করা।
২৬৬। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) …. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের কাছে দিনের বা রাতের কোন এক সময় পর্যায়ক্রমে মিলিত হতেন। তাঁরা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন? তিনি বললেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজনের শক্তি দেওয়া হয়েছে। সা’ঈদ (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, আনাস (রাঃ) তাঁদের কাছে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগারজনের স্থলে) নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৫/ গোসল
পরিচ্ছেদঃ ৫/১২. একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হবার পর একবার গোসল করা।
২৬৭. মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ‘আয়িশাহ (রাযি.)-এর নিকট (‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.))-এর উক্তিটি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ আবূ ‘আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সুগন্ধি লাগাতাম, তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হতেন। তারপর ভোরবেলায় এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধতেন যে, তাঁর দেহ হতে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো। (২৭০; মুসলিম ১৫/৭, হাঃ ১১৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৫/ গোসল
পরিচ্ছেদঃ ৫/১২. একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হবার পর একবার গোসল করা।
২৬৮. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণের নিকট দিনের বা রাতের কোন এক সময়ে পর্যায়ক্রমে মিলিত হতেন। তাঁরা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন? তিনি বললেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজনের শক্তি দেয়া হয়েছে। সা‘ঈদ (রহ.) ক্বাতাদাহ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন, আনাস (রাযি.) তাঁদের নিকট হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগারজনের স্থলে) নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন। (২৮৪, ৫০৬৮, ৫২১৫ দ্রষ্টব্য) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)


বুখারীর বর্ণনার ভাষা, নয় ও এগারোর পার্থক্য এবং “ত্রিশজনের শক্তি”
বুখারীর বর্ণনার ভাষা নিজেই ঘটনাটির প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয়। হাদিসটি এসেছে “একাধিকবার বা একাধিক স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হবার পর একবার গোসল করা” অধ্যায়ে; আনাসের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছে, “তিনি কি এত শক্তি রাখতেন?” এবং উত্তরে এসেছে, “আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজনের শক্তি দেওয়া হয়েছে।” ইবন হাজর এই অংশ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এখানে “ত্রিশ”-এর পরে অনুল্লিখিত শব্দটি “পুরুষ”; অর্থাৎ অর্থ দাঁড়ায় ত্রিশজন পুরুষের শক্তি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্য বর্ণনায় এই শক্তির ক্ষেত্র সরাসরি “সহবাসে” বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বুখারীর পাঠে যে কোথাও এগারো এবং কোথাও নয়জন এসেছে, সেটিও গোপন বা অস্পষ্ট কোনো বিষয় নয়। ইবন হাজর নয়জনের বর্ণনাকে শক্তিশালী পাঠ হিসেবে আলোচনা করেন এবং এগারোর হিসাব ব্যাখ্যা করতে মারিয়া ও রাইহানাকে যুক্ত করার একটি ব্যাখ্যা উল্লেখ করেন। ফলে “নয়” এবং “এগারো”—দুটি সংখ্যাই উৎসে আছে; এগারো থেকে সরাসরি “নয় স্ত্রী ও দুই দাসী” বানিয়ে ফেলা হাদিসের নিজস্ব ভাষা নয়, বরং পরবর্তী ব্যাখ্যার একটি পদ্ধতি। একই কারণে আরবি fi al-sāʿati al-wāḥidah কথাটিকেও আধুনিক ঘড়ির ঠিক ষাট মিনিট বলা নির্ভুল নয়; ইবন হাজর এখানে sāʿah-কে রাত বা দিনের একটি সময়াংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এই সংশোধন ঘটনার মৌলিক অর্থে কোনো পরিবর্তন আনে না: বুখারীর বিবরণ অনুযায়ী একই রাত বা দিনের একটি সীমিত সময়পর্বে মুহাম্মদ পর্যায়ক্রমে তাঁর একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতেন, এবং সেই ক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে তাঁর সমসাময়িকদের মুখে “ত্রিশজন পুরুষের শক্তি”র কথা বর্ণিত হয়েছে। [5]
এখানে “স্ত্রীদের কাছে যাওয়া”কে নিছক দেখা করা, কুশল বিনিময় বা গৃহভ্রমণ হিসেবে পড়ার সুযোগ হাদিস-সাহিত্য নিজেই বন্ধ করে দিয়েছে। বদরুদ্দীন আল-আইনী বুখারীর “من طاف على نسائه في غسل واحد” শিরোনাম ব্যাখ্যা করতে লিখেছেন, “طاف على نسائه ـ أي جامعهن” — অর্থাৎ “স্ত্রীদের কাছে তাওয়াফ করেছেন, অর্থাৎ তাদের সঙ্গে সহবাস করেছেন”; তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি সহবাসের জন্য পৃথক গোসল না করে একবার গোসল করার বিষয়টি বোঝানো। একই ভাষা হাদিসের ফিকহি ব্যবহারে পাওয়া যায়: একাধিক সহবাস, এমনকি একাধিক নারীর সঙ্গে সহবাসের পরেও একটি গোসল যথেষ্ট কি না—এই বিধান নির্ধারণে এই বর্ণনাকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং ঘটনাটিকে যৌনসঙ্গম ছাড়া অন্য কোনো নিরীহ অর্থে নেওয়া শুধু শব্দের অর্থের বিরুদ্ধে নয়; বুখারীর অধ্যায়বিন্যাস, আল-আইনীর সরাসরি ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী ফিকহি প্রয়োগ—তিনটির বিরুদ্ধেই যায়। [6]
সহীহ মুসলিম
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৩। হায়য ঋতুস্রাব
পরিচ্ছেদঃ ৬. নাপাক অবস্থায় ঘুমানো জায়িয; তবে খাদ্য গ্রহণ, শয়নকালে অথবা স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে চাইলে তার জন্যে ওযু করা এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে নেয়া মুস্তাহাব।
৫৯৫-(২৮/৩০৯) হাসান ইবনু আহমাদ ইবনু আবূ শু’আয়ব আল হাররানী (রহঃ) ….. আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সকল স্ত্রীর কাছে একই গোসলে যেতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৯৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ৬১৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
জামে তিরমিযী ও সুনান নাসাঈ
জামে তিরমিযী, হাদিস ১৪০
আরবি: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ
বাংলা: আনাস থেকে বর্ণিত, নবী তাঁর স্ত্রীদের কাছে পর্যায়ক্রমে যেতেন এবং একবার গোসল করতেন। ইমাম তিরমিযী বর্ণনাটিকে হাসান সহিহ বলেছেন।
[7]
সুনান আন-নাসাঈ
আরবি: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ طَافَ عَلَى نِسَائِهِ فِي لَيْلَةٍ بِغُسْلٍ وَاحِدٍ
বাংলা: আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ একই রাতে তাঁর স্ত্রীদের কাছে পর্যায়ক্রমে যান এবং একবার গোসল করেন।
[8]
তিরমিযী ও নাসাঈর এই বর্ণনাগুলো বুখারী-মুসলিমের বক্তব্যকে আরও বিস্তৃত হাদিস-করপাসের মধ্যে স্থাপন করে। একই মূল ঘটনা বিভিন্ন সংকলক ভিন্ন অধ্যায়ে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু ঘটনাটির কেন্দ্র অপরিবর্তিত: একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যৌনসঙ্গম এবং শেষে একটি গোসল। তিরমিযীর অধ্যায়ের বিষয়ই এক গোসলে একাধিক স্ত্রীর কাছে যাওয়া, নাসাঈও বর্ণনাটিকে গোসলের বিধানের অধীনে এনেছেন। ফলে বুখারীর একটি মাত্র বাক্যের ওপর পুরো আলোচনা দাঁড়িয়ে নেই; একই মর্মের বর্ণনা প্রধান হাদিস-সংকলনগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে আছে এবং এগুলোকে মুসলিম মুহাদ্দিস ও ফকিহরা যৌনসঙ্গম-পরবর্তী পবিত্রতার বিধানের দলিল হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। এই বহুসূত্রীয় উপস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে বোঝা যায়—মুহাম্মদের একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে একই রাত বা সময়পর্বে সহবাসের ধারণাটি পরবর্তী যুগের কোনো কল্পকাহিনি নয়, বরং ইসলামী হাদিস-ঐতিহ্যের ভেতরেই বহুল সংরক্ষিত একটি বর্ণনা।
সূনান আবু দাউদ
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ পবিত্রতা
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. স্ত্রী সঙ্গমের পর গোসলের পূর্বে পুনরায় সঙ্গম করা সম্পর্কে।
২১৮. মুসাদ্দাদ ….. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাসের পর একবার গোসল করেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুনানে ইবনে মাজাহ
সুনানে ইবনে মাজাহ
১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
পরিচ্ছেদঃ ১/১০১. যে ব্যক্তি সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর একবার গোসল করে।
১/৫৮৮। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস শেষে একবার গোসল করতেন।
তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ২৬৮, ২৮৪, ৫০৬৮, ৫২১৫; মুসলিম ৩০৯, তিরমিযী ১৪০, নাসায়ী ২৬৩-৬৪, ৩১৯৮; আবূ দাঊদ ২১৮, আহমাদ ১১৫৩৫, ১২২২১, ১২২৯০, ১২৫১৪, ১২৫৫৫, ১২৯৪২, ১৩০৯৩, ১৩২৩৬; দারিমী ৭৫৩-৫৪, ইবনু মাজাহ ৫৮৯।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ২১১-২১৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুনানে ইবনে মাজাহ
১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
পরিচ্ছেদঃ ১/১০১. যে ব্যক্তি সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর একবার গোসল করে।
২/৫৮৯। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গোসলের পানি প্রস্তুত করে রাখলাম। তিনি একই রাতে তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাসের পর একবার গোসল করেন।
তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ২৬৮, ২৮৪, ৫০৬৮, ৫২১৫; মুসলিম ৩০৯, তিরমিযী ১৪০, নাসায়ী ২৬৩-৬৪, ৩১৯৮; আবূ দাঊদ ২১৮, আহমাদ ১১৫৩৫, ১২২২১, ১২২৯০, ১২৫১৪, ১২৫৫৫, ১২৯৪২, ১৩০৯৩, ১৩২৩৬; দারিমী ৭৫৩-৫৪, ইবনু মাজাহ ৫৮৮।
তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ লিগাইরিহী। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ২১৪। উক্ত হাদিস্বে রাবী সালিহ ইবনুল আদখার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম বুখারী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আল আজালী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুনান আদ-দারেমী
সুনান আদ-দারেমী
১. পবিত্রতা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যিনি একাধিক স্ত্রীর নিকট গমণ করে একবার গোসল করেন
৭৭৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের নিকট গমণ করতেন।(1)
(1) তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের হাদীস।
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/১২৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪২, ৩১৭৫, ৩১৭৬, ৩২০৩, ৩৭১৮, ৩৭১৯, ৩৮৮৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২০৬-১২০৯; এবং পরের টীকাটি দেখুন। (সহীহ বুখারী ২৬৮; সহীহ মুসলিম ৩০৯; আহমাদ ৩/১৮৫; তিরমিযী ১৪০; আবু দাউদ ২১৮; নাসাঈ ১/১৪৩, ১৪৪ ও ৬/৫৩, ৫৪; ইবনু মাজাহ ৫৮৮; বাইহাকী ১/২০৪; সহীহ ইবনু খুযাইমা ২৩১; সহীহ ইবনু হিব্বান , ১১৯৫. ১১৯৬; আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ১০৬১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৬৯, ২৭০; আবুশ শাইখ, আখলাকুন নাবী সা:, পৃ: ২৩১; আবু আওয়ানাহ ১/২৮০; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/২৩২; তাবারানী, আস সগীর ১/২৪৬; অনেকগুলো সূত্রে। – মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪১, ২৯৪২ এর টীকা অনুসরণে।- অনুবাদক))
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুনান আদ-দারেমী
১. পবিত্রতা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যিনি একাধিক স্ত্রীর নিকট গমণ করে একবার গোসল করেন
৭৭৭. (অপর সূত্রে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই রাতে পর্যায়ক্রমে স্ত্রীগণের সাথে মিলিত হতেন।(1)
(1) তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/২৫২; আর পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা নয়: ইবন হিব্বান, বাইহাকী, আহমাদ ও অন্যান্য সূত্র
এই ঘটনার সূত্র শুধু বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও দারেমীতেই থেমে নেই। সহীহ ইবন হিব্বানে “এক গোসলে নবী কতজন নারীর কাছে যেতেন” প্রসঙ্গে আনাসের সূত্রে এগারোজন এবং “ত্রিশজনের শক্তি”র বর্ণনা সংরক্ষিত হয়েছে; বাইহাকীর আস-সুনানুল কুবরা-তেও এক গোসলে স্ত্রীদের বা দাসীদের কাছে যাওয়ার অধ্যায়ে একই ধরনের বর্ণনা আছে; মুসনাদ আহমাদেও আনাসের সূত্রে একাধিক সনদে এই ঘটনার বিভিন্ন পাঠ পাওয়া যায়। দারেমীর উদ্ধৃত তাখরীজেও আহমাদ, ইবন হিব্বান, ইবন খুযাইমা, আবদুর রাজ্জাক, বাগাবী, আবু আওয়ানা, তাবারানীসহ আরও বহু গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ একটি মাত্র সনদ বা একটি মাত্র বইয়ের ওপর এই বিবরণ নির্ভর করে না; একই মূল বর্ণনা হাদিস-সংগ্রহের বহু শাখায় পুনরাবৃত্ত হয়েছে। সংখ্যার পাঠে নয় ও এগারোর পার্থক্য আছে, কোনো কোনো শাখায় অতিরিক্ত শব্দও আছে, কিন্তু যে মূল কাঠামোটি বারবার ফিরে আসে তা হলো—মুহাম্মদ একই রাত বা সময়পর্বে একাধিক নারীর সঙ্গে সহবাস করেছেন এবং এক গোসল করেছেন। এই বহুসূত্রীয় সংরক্ষণ ঘটনাটিকে ইসলামী ঐতিহ্যের প্রান্তিক বা দুর্লভ কোনো গল্প নয়, বরং ফিকহি আলোচনায় ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠিত হাদিস-উপাদানে পরিণত করেছে। [9] [10]
ইসলামী ফিকহে এই হাদিসের ব্যবহার
হাদিসটির অর্থ বোঝার সবচেয়ে শক্ত প্রমাণগুলোর একটি হলো মুসলিম ফকিহদের নিজস্ব ব্যবহার। ইসলামকিউএ-তে “একাধিকবার জানাবাত হলে এক গোসল যথেষ্ট কি না” প্রশ্নের উত্তরে সহিহ মুসলিম ৩০৯-এর এই বর্ণনাই উদ্ধৃত করা হয়েছে: নবী তাঁর স্ত্রীদের কাছে পর্যায়ক্রমে যেতেন এবং পরে একবার গোসল করতেন। এরপর নববীর আল-মাজমু থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি একই নারীর সঙ্গে বহুবার অথবা একাধিক নারীর সঙ্গে সহবাস করলেও শেষে একটি গোসল যথেষ্ট—এ বিষয়ে ইজমা বর্ণিত হয়েছে। ফলে “তাওয়াফ”, “স্ত্রীদের কাছে যাওয়া”, “এক গোসল”—এই শব্দগুচ্ছগুলোর অর্থ ইসলামী আইনশাস্ত্রের ভেতরেই নির্ধারিত: এগুলো পুনঃপুন যৌনসঙ্গমের পর পবিত্রতার বিধানের অংশ। এই ফিকহি প্রয়োগের পরে বর্ণনাটিকে কুশল বিনিময়, স্রেফ রাতযাপন বা স্ত্রীর ঘরে সাধারণ সফর হিসেবে ব্যাখ্যা করা ভাষাগতভাবেও অগ্রহণযোগ্য এবং ফিকহি ঐতিহ্যের সঙ্গেও অসঙ্গত। ইসলামি উৎসগুলো নিজেরাই ঘটনাটিকে সহবাস হিসেবে ব্যবহার করেছে; তাই এই প্রবন্ধে সেই অর্থ গ্রহণ করা কোনো বহিরাগত ব্যাখ্যা নয়, বরং উৎসগুলোর নিজস্ব অর্থ অনুসরণ করা। [11]
মুহাম্মদের বৈবাহিক বিশেষাধিকার এবং লিঙ্গভিত্তিক যৌন অসমতা
এই বর্ণনাগুলোর নৈতিক তাৎপর্য শুধু একজন ব্যক্তির উচ্চ যৌনক্ষমতার গল্পে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো এমন একটি বৈবাহিক ব্যবস্থার অংশ যেখানে যৌন ও দাম্পত্য অধিকারের বণ্টন নারী-পুরুষের জন্য মৌলিকভাবে অসম। সাধারণ মুসলিম পুরুষ একই সময়ে চারজন স্ত্রী রাখতে পারে, কিন্তু একজন মুসলিম নারী একই সময়ে দুইজন স্বামীও রাখতে পারে না। ইসলামকিউএ এই পার্থক্যকে সরাসরি শরিয়তের বিধান হিসেবে স্বীকার করে। মুহাম্মদের ক্ষেত্রে ব্যবধান আরও বড়: ইবন হাজর লিখেছেন, আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী চারজনের বেশি স্ত্রী একসঙ্গে রাখা তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ যে ধর্মীয় কাঠামো অনুসারী পুরুষকে চারজন পর্যন্ত সমসাময়িক স্ত্রী গ্রহণের অধিকার দেয়, নারীকে সমপর্যায়ের বহুবিবাহ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে, সেই একই কাঠামো প্রতিষ্ঠাতা নবীকে সাধারণ পুরুষের সংখ্যাগত সীমারও ঊর্ধ্বে রাখে। এর সঙ্গে একই রাত বা সময়পর্বে নয় বা এগারো নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে যাওয়ার বর্ণনা এবং “ত্রিশজন পুরুষের শক্তি”র প্রশংসামূলক ঐতিহ্য যুক্ত হলে একটি স্পষ্ট ক্ষমতাগত চিত্র তৈরি হয়: পুরুষের বহুগামিতা এখানে শুধু অনুমোদিত নয়, ধর্মীয়ভাবে বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক; নারীর সমতুল্য স্বাধীনতা নিষিদ্ধ; আর নবীর যৌন-বৈবাহিক অধিকার সাধারণ পুরুষের চেয়েও বিস্তৃত। এই বৈষম্য কোনো আধুনিক শব্দচয়নের ওপর নির্ভরশীল নয়—ইসলামী আইন, হাদিস এবং শারহের নিজস্ব উপাদান থেকেই এটি সরাসরি বেরিয়ে আসে। [12] [13] [14]
বুখারীর ব্যাখ্যা নাসরুল বারী
এই হাদিসটির ব্যাখ্যা এবারে প্রখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ নাসরুল বারী থেকে দেখে নিই [15]।





উপসংহার
সমস্ত বর্ণনা একত্রে রাখলে যে চিত্রটি পাওয়া যায় তা অস্পষ্ট নয়। সহিহ বুখারী মুহাম্মদের একই সময়পর্বে এগারো নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে যাওয়ার বর্ণনা দেয় এবং একই সনদের আরেক পাঠে নয়জনের কথা জানায়; আনাসের সূত্রে “ত্রিশজন পুরুষের শক্তি”র কথাও সংরক্ষিত হয়। সহিহ মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও দারেমী একই মূল ঘটনাকে একাধিক সহবাসের পর এক গোসলের প্রসঙ্গে বর্ণনা করে; ইবন হিব্বান, বাইহাকী, আহমাদ এবং আরও বহু সংকলনে তার সমান্তরাল সূত্র পাওয়া যায়। আল-আইনী “স্ত্রীদের কাছে তাওয়াফ” শব্দটির অর্থ সরাসরি “তাদের সঙ্গে সহবাস” বলেছেন; ইবন হাজর “ত্রিশ”-এর অর্থ ত্রিশজন পুরুষ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং সহবাসের শক্তির অন্য পাঠও উল্লেখ করেছেন; ইসলামি ফকিহরা আবার এই হাদিসকে একাধিক সহবাস বা একাধিক নারীর সঙ্গে সহবাসের পর একটি গোসল যথেষ্ট হওয়ার বিধানের দলিল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে মুহাম্মদের একই রাত বা সময়পর্বে একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে যৌনসঙ্গমের বিষয়টি কোনো আধুনিক ব্যাখ্যা, বিদ্বেষমূলক অনুবাদ বা একটি বিচ্ছিন্ন দুর্বল কাহিনির ওপর দাঁড়িয়ে নেই; এটি ইসলামী হাদিস ও ফিকহি ঐতিহ্যের বহুসূত্রীয়, সুপরিচিত এবং প্রত্যক্ষভাবে যৌন অর্থে ব্যবহৃত একটি বর্ণনা।
এই বর্ণনার সঙ্গে ইসলামের বৈবাহিক বিধান পাশাপাশি রাখলে সমালোচনার মূল জায়গাটি আরও স্পষ্ট হয়। পুরুষের জন্য একাধিক সমসাময়িক স্ত্রী বৈধ, নারীর জন্য একাধিক সমসাময়িক স্বামী নিষিদ্ধ, এবং মুহাম্মদের জন্য সাধারণ পুরুষের চার স্ত্রীর সীমাও অতিক্রমযোগ্য—এটি একটি সরাসরি লিঙ্গভিত্তিক অধিকার-বৈষম্য। মুহাম্মদের যৌনক্ষমতাকে “ত্রিশজন পুরুষের শক্তি” দিয়ে মহিমান্বিত করা এবং একই সঙ্গে তাঁর বিস্তৃত বহুবিবাহকে ধর্মীয় বিশেষাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সেই অসম কাঠামোরই অংশ। অতএব সমালোচনার জন্য অনুমানভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক রোগনির্ণয়, অতিরঞ্জিত তুলনা বা আধুনিক পর্নোগ্রাফিক উপমা প্রয়োজন হয় না। ইসলামী উৎসগুলো যে তথ্য সরবরাহ করে সেটিই যথেষ্ট কঠোর: একজন পুরুষ ধর্মীয় অনুমোদনে বহু স্ত্রী রাখছেন, একই সময়পর্বে তাঁদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সহবাস করছেন, তাঁর এই ক্ষমতাকে অস্বাভাবিক শক্তি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, এবং একই ধর্মীয় আইনে নারীর সমতুল্য যৌন ও বৈবাহিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সমস্যাটি ব্যক্তিগত যৌনতার অস্তিত্ব নয়; সমস্যাটি সেই যৌন ও বৈবাহিক ব্যবস্থার ক্ষমতা, বিশেষাধিকার এবং একতরফা অধিকারবণ্টন।
তথ্যসূত্রঃ
- ইবন হাজর, ফাতহুল বারী, কিতাবুল গুস্ল; বদরুদ্দীন আল-আইনী, উমদাতুল কারী, কিতাবুন নিকাহ ↩︎
- IslamQA: পুরুষের বহুবিবাহ; IslamQA: নারীর একাধিক স্বামী নিষিদ্ধ ↩︎
- ফাতহুল বারী: নবীর চারজনের বেশি স্ত্রী রাখার বিশেষাধিকার ↩︎
- সহিহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪০-১৪১ ↩︎
- ফাতহুল বারী, বুখারী ২৬৮-এর ব্যাখ্যা ↩︎
- উমদাতুল কারী, “من طاف على نسائه في غسل واحد” ↩︎
- জামে তিরমিযী, হাদিস ১৪০, ইসলামওয়েব ↩︎
- সুনান আন-নাসাঈ, ইসলামওয়েব ↩︎
- সহীহ ইবন হিব্বান ↩︎
- আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকী ↩︎
- IslamQA, প্রশ্ন 81772: একাধিক সহবাসের পরে এক গোসল ↩︎
- IslamQA: পুরুষের বহুবিবাহ ↩︎
- IslamQA: নারীর একাধিক স্বামী নিষিদ্ধ ↩︎
- ফাতহুল বারী, باب كثرة النساء ↩︎
- নাসরুল বারী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৬-১৬০ ↩︎


আমি একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাই ।
নবী আয়েশার সাথে সহবাস করার পর বীর্য শুকিয়ে গেল,তখন আয়েশা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সেটি নবীর কাপড় থেকে বের করলেন ।
এই ঘটনা টা কখন ,কিভাবে ঘটলো ?
ইটা কি হাদিসে আছে ? নাকি সীরাতে ?
জানালে উপকৃত হবো
ধন্যবাদ।
সহিহ বুখারি: ২২৯ ও ২৩০ (ধুয়ে ফেলার বর্ণনা) [১.২.৬, ১.৩.২]।
সহিহ মুসলিম: ২৮৮ক (খুঁটিয়ে পরিষ্কার করার বর্ণনা) [১.৪.১, ১.৪.২]।
সুনানে ইবনে মাজাহ: ৫৩৯ [১.৪.৫]।
মুসনাদে আবু হানীফা: ৭৮ [১.১.৫, ১.৩.৮]।
এখানে পাবেন ভাই ভালো করে খুজেন একটু