জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

ইসলামি শরীয়তে উম্মে ওয়ালাদ এবং উমরের বিধান পরিবর্তন সম্পর্কে

প্রকাশিত: মে 2, 2024 · লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন · 56 মিনিট পড়া

ভূমিকা

ইসলামি দাসপ্রথার সবচেয়ে নগ্ন বৈপরীত্যগুলোর একটি হলো উম্মে ওয়ালাদ বা أمّ الولد-এর বিধান। একজন মালিক তার অধীন দাসীর সঙ্গে সহবাস করে সন্তান জন্ম দিলে সেই নারীকে উম্মে ওয়ালাদ বলা হয়। উল্লেখ্য, ইসলামে দাসীর সাথে যৌন সঙ্গমের জন্য সেই দাসীর মতামত কিংবা সম্মতি গ্রহণ জরুরি নয়, এমনকি মালিক চাইলে সেই দাসীকে বা দাসীদের বাধ্যও করতে পারে [1]। দাসী সহবাসে জন্ম নেয়া সন্তানটি মালিকের বলে স্বীকৃত হলে সাধারণ দাসীর তুলনায় মায়ের কিছু সীমিত আইনগত অবস্থান তৈরি হয়; কিন্তু তিনি স্বাধীন মানুষে পরিণত হন না। পরবর্তী সুন্নি ফিকহের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে তাকে বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তর করা যাবে না এবং মালিকের মৃত্যুর পর তিনি মুক্ত হবেন। কিন্তু মালিক জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি তারই সম্পত্তি, তার শ্রম ও যৌন ব্যবহারের অধীন এবং তার স্বাধীনতার সময়ও নির্ভর করছে মালিকের মৃত্যুর ওপর। মাতৃত্ব এখানে নারীর মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে না; কেবল তার ওপর মালিকানার হস্তান্তর সাময়িকভাবে আটকে দেয়।

আরও গুরুতর সত্য হলো, এই সীমিত সুরক্ষাটিও মুহাম্মদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোনো সুস্পষ্ট, অবিতর্কিত ও ধারাবাহিক বিধান হিসেবে পাওয়া যায় না। সহিহ হিসেবে গৃহীত বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মদের জীবদ্দশায় এবং আবু বকরের শাসনামলে উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করা হতো; উমর ক্ষমতায় এসে তা নিষিদ্ধ করেন। ইসলামি উৎসগুলো আরও জানায়, উমর নিজেও তার শাসনের প্রথমাংশে এই বিক্রয় চালু রেখেছিলেন, পরে অবস্থান বদলান; আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, জাবির ও আবু সাঈদ খুদরির মতো সাহাবিদের কাছেও বিক্রয়ের পক্ষে মত নথিবদ্ধ হয়েছে। ফলে এটি কোনো পরিষ্কার “ঐশী আইন” নয়, বরং মানুষের মালিকানা নিয়ে সাহাবি ও ফকিহদের দীর্ঘ আইনি দ্বন্দ্ব।

পর্যায়নথিবদ্ধ বিধান বা চর্চাআইনগত তাৎপর্য
মুহাম্মদের জীবদ্দশাউম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা হতো; সাহাবিরা এটিকে দোষ মনে করতেন নানবীর সরাসরি ও সর্বজনবিদিত নিষেধাজ্ঞা দৃশ্যমান নয়
আবু বকরের শাসনবিক্রি অব্যাহত ছিলপ্রথম খলিফার আমলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না
উমরের শাসনপরবর্তী পর্যায়ে বিক্রি, দান ও উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ; মালিকের মৃত্যুর পর মুক্তিমূল পরিবর্তনটি খলিফার প্রশাসনিক-আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে আসে
আলী ও অন্য সাহাবিবিক্রয় বা ভিন্ন মুক্তিপদ্ধতির পক্ষে মত নথিবদ্ধসাহাবি-ঐকমত্যের দাবি ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল
পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিকহবিক্রি নিষিদ্ধ, কিন্তু মালিকানা, সহবাস, শ্রমগ্রহণ ও বিবাহদানের ক্ষমতা বহালব্যবস্থাটি দাসত্ব বিলোপ নয়; মালিকানার সীমিত রূপান্তর

নবীর যুগে উম্মে ওয়ালাদ বা জননী-দাসী বিক্রি

জাবির ইবনে আবদুল্লাহর দুটি বর্ণনা এই ইতিহাসের কেন্দ্রীয় দলিল। প্রথমটিতে মুহাম্মদ ও আবু বকরের যুগে উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির কথা এবং উমরের নিষেধের কথা সরাসরি বলা হয়েছে। দ্বিতীয়টিতে আরও স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, নবী জীবিত থাকা অবস্থায় সাহাবিরা নিজেদের যৌনদাসী ও সন্তান-জন্মদাতা দাসীদের বিক্রি করতেন এবং এতে কোনো দোষ দেখতেন না। [2] [3] [4] [5] [6]

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
২৪/ দাসত্বমুক্তি
পরিচ্ছেদঃ ৮. উম্মু ওয়ালাদ আযাদ হওয়া
৩৯৫৪। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকরের যুগে উম্মু ওয়ালাদ বাঁদীদেরকে বিক্রি করেছি। পরবর্তীতে উমার (রাঃ)-এর যুগে তিনি আমাদের বারণ করায় আমরা বিরত হই।[1]
সহীহ।
[1]. বায়হাক্বী, হাকিম। ইমাম হাকিম বলেনঃ এই হাদীসটি মুসলিমের শর্ত মোতাবেক।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

সুনান ইবনু মাজাহ
১৩/ বিচার ও বিধান
পরিচ্ছেদঃ ১৩/৯৫. উম্মু ওয়ালাদ সম্পর্কে
৩/২৫১৭। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা আমাদের যুদ্ধবন্দিনী ক্রীতদাসী ও উম্মু ওয়ালাদ বিক্রয় করতাম। আমরা এটিকে দূষণীয় মনে করতাম না।
আবূ দাউদ ৩৯৫৪। সহীহাহ ২৪১৭।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

ওয়ালাদ
ওয়ালাদ 1

এখানে “নবী জীবিত ছিলেন”, এটি নিছক সময়ের উল্লেখ নয়। বর্ণনাকারী নিজেই এর সঙ্গে “আমরা কোনো দোষ দেখতাম না” বাক্যটি যুক্ত করেছেন। মুহাম্মদের সমাজে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা সন্তান জন্ম দেওয়া দাসীকেও বাজারে হস্তান্তরযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখেছেন। কোনো নারী একজন পুরুষের সন্তানের মা হওয়ার পরেও সেই পুরুষ তাকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের মালিকানায় পাঠাতে পারতেন, এটি পারিবারিক সম্পর্ক নয়, মানুষের ওপর সম্পত্তিগত কর্তৃত্বের নির্মম প্রকাশ। সংশয় জ্ঞানকোষের ইসলামের দাসবাজার বিষয়ক প্রবন্ধে নারীদেহের এই পণ্যায়নের বিস্তৃত ফিকহি কাঠামো আলোচনা করা হয়েছে।


উমরের নিষেধাজ্ঞা: নবীর নির্দেশনা নয়, খলিফার সিদ্ধান্ত

উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞাকে প্রায়ই মুহাম্মদের প্রবর্তিত কোনো মানবিক সংস্কার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু নিচের বর্ণনার ভাষ্য সেই দাবিকে সমর্থন করে না। ইবনে উমরের সূত্রে সংরক্ষিত বক্তব্যটির বক্তা মুহাম্মদ নন, উমর ইবনুল খাত্তাব। উমরই জননী-দাসীকে বিক্রি, দান ও উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করেছিলেন। বাইহাকি আরও স্পষ্ট করেছেন, কোনো কোনো বর্ণনাকারী ভুল করে এই বক্তব্যকে মুহাম্মদের নামে মারফু হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে এটি নবীর দেওয়া কোনো সুস্পষ্ট ধর্মীয় নির্দেশ নয়; একজন খলিফার পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত সিদ্ধান্ত।

এই সিদ্ধান্তও উম্মে ওয়ালাদকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন করেনি। বর্ণনায় একই সঙ্গে বলা হয়েছে, মালিক যত দিন জীবিত থাকবে, তত দিন সে দাসীটির দ্বারা উপকৃত বা যৌনভাবে তাকে উপভোগ করতে পারবে; স্বাধীনতা আসবে কেবল মালিকের মৃত্যুর পর। অর্থাৎ উমরের বিধান মানুষের ওপর মানুষের মালিকানা বাতিল করেনি—শুধু বিশেষ এক শ্রেণির দাসীর বিক্রি ও হস্তান্তর সীমিত করেছে। নারীটির দেহ, শ্রম, যৌনতা ও বর্তমান জীবন তখনো পুরুষ-মালিকের কর্তৃত্বের অধীনই থেকেছে।

বুলুগুল মারাম
পর্ব – ৭ঃ ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান
পরিচ্ছেদঃ ১. ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তাবলি ও তার নিষিদ্ধ বিষয়—উম্মুল আওলাদ (যে দাসীর গর্ভে মনিবের সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে তার) বিক্রয়ের বিধান
৭৯১. ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার (রা.) জননী-দাসী বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিক্রি করা যাবে না, হেবা (দান) করা যাবে না, উত্তরাধিকার হিসেবেও কেউ তাকে অধিগ্রহণ করতে পারবে না। তার মালিক যতদিন চাইবে ততদিন তার দ্বারা উপকৃত হবে। মালিকের মৃত্যুর পর সে স্বাধীন হয়ে যাবে। —বাইহাকি বলেছেন, এ হাদিসের কিছু বর্ণনাকারী ভুলবশত একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[1]
[1] ইবনু মাজাহ ২৫১৭, আবু দাউদ ৩৯৫৪।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা.)

حُكْمُ بَيْعِ امَّهَاتِ الْأَوْلَادِ
উম্মুল অলাদ (যে দাসীর গর্ভে মনিবের সন্তান জন্মগ্রহন করেছে তার) বিক্রয়ের বিধান
۷۹۱ – وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ – رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: نَهَى عُمَرُ عَنْ بَيْعِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ فَقَالَ: لَا تُبَاعُ، وَلَا تُوْهَبُ، وَلَا تُوْرَثُ لِيَسْتَمْتِعُ بِهَا مَا بَدَا لَهُ، فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةً رَوَاهُ مَالِكٌ، وَالْبَيْهَقِيُّ، وَقَالَ: رَفَعَهُ بَعْضُ الرُّوَاةِ، فَوَهِمَ.
৭৯১। ইবনু ‘উমার) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার () জননী দাসী বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন, তিনি বলেছেন, বিক্রি করা যাবে না, হেবা (দান) করা যাবে না, ওয়ারিস হিসেবেও কেউ তাকে অধিগ্রহণ করতে পারবে না। তার মালিক যতদিন চাইবে ততদিন তার দ্বারা ফায়দা উঠাবে। মালিকের মৃত্যুর পর সে স্বাধীন হয়ে যাবে। বাইহাকী বলেছেন- এ হাদীসের কিছু বর্ণনাকারী, অহম বা অনিশ্চয়তার ভিত্তিতে ‘মারফু’ বর্ণনা করেছেন। ৮৪২
۷۹۲ – وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كُنَّا نَبِيعُ سَرَارِبَنَا، أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ، وَالنَّبِيُّ حَيُّ، لَا نَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا رَوَاهُ
النَّسَائِيُّ، وَابْنُ مَاجَهُ وَالدَّارَ قُطْنِيُّ، وَصَحْحَهُ ابْنُ حِبَّانَ.
৭৯২। জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমরা জননী দাসী বিক্রি করে দিতাম আর নাবী আমাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন, এ বিষয়টিকে আমরা দোষ হিসেবে দেখতাম না। -ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। ৮৪৩
النَّهْيُ عَنْ بَيْعِ فَضْلِ الْمَاءِ وَثَمَنِ عَسْبِ الْفَحْلِ উদ্ধৃত পানি বিক্রয় করা এবং মাদী জন্তুর উপর নর উঠানোর মজুরী গ্রহণ করা নিষেধ
৮৪১. ‘অলা’ অর্থ মুক্তির পর দাস দাসীর সঙ্গে মুক্তিদাতার আত্মীয়তা সুলভ সম্পর্ক ও মিরাস লাভের অধিকার।
৮৪২. ইবনু মাজাহ ২৫১৭, আবু দাউদ ৩৯৫৪।
৮৪৩. নাসায়ী কুবরা ৩য় খণ্ড ১৯৯ পৃষ্ঠা, ইবনু মাজাহ ২৫১৭, দারাকুতনী ৪র্থ খণ্ড ১৩৫, ১৩৬ পৃষ্ঠা, ইবনু হিব্বান ১২১৫। অপর একটি রিওয়ায়াতে রয়েছে, জাবির দেয় বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ এবং আবূ বাকর দেওয়া এর যুগে উম্মুল ওয়ালাদ বিক্রি করতাম। যখন উমার (চন্দ্র) খলিফা হলেন, তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন। অতঃপর আমরা এ থেকে বিরত হলাম।

মুআত্তা মালিক-এ নাফি‘–ইবনে উমর সূত্রে একই বিধান সরাসরি উমর ইবনুল খাত্তাবের বক্তব্য হিসেবে এসেছে: সন্তান জন্ম দেওয়া দাসীকে বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকার করা যাবে না; মালিক জীবিত অবস্থায় তাকে “উপভোগ” করবে এবং মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হবে। অর্থাৎ উদ্ধৃতিটির বক্তা মুহাম্মদ নন, উমর। কোনো কোনো বর্ণনাকারী এটিকে নবীর নামে মারফু হিসেবে চালালেও বাইহাকি সেই আরোপকে ভুল বলেছেন। [7]

মুয়াত্তা মালিক (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৮. আযাদী দান এবং স্বত্বাধিকার প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদঃ ৫. উম্মাহাতুল-আওলাদ এর আযাদী এবং এ সম্পর্কিত বিবিধ হুকুম
রেওয়ায়ত ৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, যেই ক্রীতদাসী তাহার কর্তার ঔরসে সন্তান জন্মাইয়াছে, সে কর্তা উহাকে বিক্রয় করিতে পারিবে না, আর পরিবে না উহাকে দান করিতে, উহার স্বত্বাধিকারও লাভ করিবে না, সে উহার দ্বারা উপকৃত হইবে, যখন কর্তার মৃত্যু হইবে ক্রীতদাসী তখন আযাদ হইবে।
باب عِتْقِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ وَجَامِعِ الْقَضَاءِ فِي الْعَتَاقَةِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ أَيُّمَا وَلِيدَةٍ وَلَدَتْ مِنْ سَيِّدِهَا فَإِنَّهُ لَا يَبِيعُهَا وَلَا يَهَبُهَا وَلَا يُوَرِّثُهَا وَهُوَ يَسْتَمْتِعُ بِهَا فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ
حدثني مالك عن نافع عن عبد الله بن عمر ان عمر بن الخطاب قال ايما وليدة ولدت من سيدها فانه لا يبيعها ولا يهبها ولا يورثها وهو يستمتع بها فاذا مات فهي حرة
যেই সকল ক্রীতদাসী কর্তার তরফে সন্তান জন্মাইয়াছে উহাদিগকে “উম্মাহাতুল-আওলাদ” বলা হয়। উহাদের বিক্রি করা এবং দান করা নিষিদ্ধ।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)


ইবনে আব্বাস: উট-ভেড়ার মতো জননী-দাসী

উম্মে ওয়ালাদের সম্পত্তিগত অবস্থান নিয়ে সাহাবি ইবনে আব্বাসের একটি বক্তব্য ইসলামি দাসপ্রথার অমানবিক ভিত্তিকে ভয়াবহ স্পষ্টতায় প্রকাশ করে। এখানে আলোচ্য নারী কোনো সাধারণ দাসী নন; তিনি তার মালিকের সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ইবনে আব্বাস তাকে স্বাধীন মানুষ, সন্তানের মা কিংবা পরিবারের সদস্যের মর্যাদায় স্থাপন করেননি; বরং মালিকের উট ও ভেড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। বর্ণনাটি ইমাম আব্দুর রাযযাক ইবনু হাম্মাম আস-সানআনীর মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক-এর “উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির অধ্যায়”-এ সংরক্ষিত। [8] [9]

ওয়ালাদ 3

মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক
উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির অধ্যায়
হাদিস ১৩,২১৮
মূল আরবি
عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، – أَظُنُّهُ -، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «فِي أَمِ الْوَلَدِ وَاللَّهِ مَا هِيَ إِلَّا بِمَنْزِلَةِ بَعِيرِكَ أَوْ شَاتِكَ»
বাংলা অনুবাদ
ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মে ওয়ালাদ—অর্থাৎ যে দাসী তার মালিকের সন্তানের জন্ম দিয়েছে—সম্পর্কে বলেন: “আল্লাহর শপথ, সে তোমার উট অথবা তোমার ভেড়ার মতোই—একটি সম্পদ ছাড়া আর কিছুই নয়।”

এটি মুহাম্মদের নামে বর্ণিত কোনো মারফু হাদিস নয়; এটি ইবনে আব্বাসের ফতোয়া হিসেবে সংরক্ষিত একটি সাহাবি-আছার। কিন্তু এর ঐতিহাসিক ও আইনগত গুরুত্ব সামান্য নয়। ইমাম বুখারি আত-তারিখুল কাবির-এ একে “ইবনে আব্বাসের পরিচিত ফতোয়া” বলে উল্লেখ করেছেন। একই বক্তব্য সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর-এ আরও নগ্ন ভাষায় এসেছে: “তাকে বিক্রি করো, যেভাবে তোমার ভেড়া অথবা উট বিক্রি করো।” অর্থাৎ এখানে নিছক অলংকার বা অস্পষ্ট উপমার সুযোগ নেই; তুলনাটির বিষয় সরাসরি মালিকানা ও বিক্রয়। [10]

ওয়ালাদ 5

الموسوعة الحديثية
الرئيسة الموسوعة الحديثية
بحث في الموسوعة …
عن ابنِ عباسٍ ما أمهاتُ الأولادِ إلا بمنزلةِ شاتِك أو بعيرِك
خلاصة حكم المحدث : هذا المعروف من فتيا ابن عباس
الراوي : عطاء بن أبي رباح | المحدث : البخاري | المصدر : التاريخ الكبير الصفحة أو الرقم : 2/388
التخريج : أخرجه عبد الرزاق (13218)، وسعيد بن منصور في [11] (2060)، وابن المنذر في [12] (8785) باختلاف يسير.
التصنيف الموضوعي: بيوع – بيع أمهات الأولاد بيوع – بيع العبيد والإماء عتق وولاء – أمهات الأولاد
أصول الحديث:
التاريخ الكبير (2/ 388)
وقال عمرو: عن عطاء، عن ابن عباس؛ ما أمهات الأولاد إلا بمنزلة شاتك، أو بعيرك. قال أبو عبد الله: وهذا المعروف من فتيا ابن عباس.
مصنف عبد الرزاق الصنعاني (7/ 290)
13218 – عن ابن عيينة، عن عمرو بن دينار، – أظنه -، عن عطاء، عن ابن عباس قال: في أم الولد والله ما هي إلا بمنزلة بعيرك أو شاتك
سنن سعيد بن منصور (2/ 90)
2060 – أخبرنا سعيد، نا سفيان، عن عمرو، عن عطاء، عن ابن عباس، في أم الولد قال: بعها كما تبيع شاتك أو بعيرك
الأوسط في السنن والإجماع والاختلاف ط الفلاح (11/ 607)
8785 – حدثنا إسحاق، عن عبد الرزاق، عن ابن عيينة، عن [[عمرو]] بن دينار، عن عطاء، عن ابن عباس قال في أم الولد: والله ما هي إلا بمنزلة بعيرك أو شاتك.

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: “উম্মে ওয়ালাদরা তোমার ভেড়া অথবা উটের মতোই।”
মুহাদ্দিসের সিদ্ধান্তের সারাংশ: এটিই ইবনে আব্বাসের পরিচিত ফতোয়া।
বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবি রাবাহ | মুহাদ্দিস: ইমাম বুখারি | উৎস: আত-তারিখুল কাবির | পৃষ্ঠা বা বর্ণনা নম্বর: ২/৩৮৮
তাখরিজ: আবদুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন (১৩২১৮); সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর সুনান-এ (২০৬০) এবং ইবনুল মুনযির আল-আওসাত-এ (৮৭৮৫) সামান্য শব্দগত পার্থক্যসহ বর্ণনা করেছেন।
বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস: ক্রয়-বিক্রয়—উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি | ক্রয়-বিক্রয়—দাস ও দাসী বিক্রি | দাসমুক্তি ও ওয়ালা—উম্মে ওয়ালাদ
বর্ণনাটির মূল উৎসসমূহ
আত-তারিখুল কাবির (২/৩৮৮)
আমর আতা থেকে এবং আতা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন:
“উম্মে ওয়ালাদরা তোমার ভেড়া অথবা উটের মতোই।”
আবু আবদুল্লাহ—অর্থাৎ ইমাম বুখারি—বলেছেন:
“এটিই ইবনে আব্বাসের পরিচিত ফতোয়া।”

মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনি (৭/২৯০)
১৩২১৮—ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে—আমার ধারণা—তিনি আতা থেকে এবং আতা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে বলেছেন:
“আল্লাহর শপথ, সে তোমার উট অথবা ভেড়ার মতোই।”
সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর (২/৯০)
২০৬০—সাঈদ আমাদের জানিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আমর থেকে, তিনি আতা থেকে এবং আতা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে বলেছেন:
“তাকে বিক্রি করো, যেভাবে তুমি তোমার ভেড়া অথবা উট বিক্রি করো।”
আল-আওসাত ফিস-সুনান ওয়াল-ইজমা ওয়াল-ইখতিলাফ, আল-ফালাহ সংস্করণ (১১/৬০৭)
৮৭৮৫—ইসহাক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি আতা থেকে এবং আতা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে বলেছেন: “আল্লাহর শপথ, সে তোমার উট অথবা ভেড়ার মতোই।”

এই বক্তব্য ইসলামি দাসপ্রথার নৈতিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেয়। একজন নারীকে বন্দী করা হয়েছে, মালিক তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে, তিনি সেই মালিকের সন্তানের জন্ম দিয়েছেন—তারপরও তার ব্যক্তিসত্তা স্বীকৃত হয়নি। তার মাতৃত্বও তাকে মানুষ হিসেবে অবিচ্ছেদ্য স্বাধীনতা দেয়নি; তাকে বিচার করা হয়েছে মালিকের উট-ভেড়ার মতো হস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তি হিসেবে। আধুনিক ইসলামি প্রচারণায় উম্মে ওয়ালাদকে “পরিবারের সম্মানিত সদস্য” বা দাসীমুক্তির মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে সাজানো হয়; অথচ প্রাথমিক ইসলামি উৎসে একজন প্রসিদ্ধ সাহাবি তাকে গবাদিপশুর সঙ্গে একই সম্পত্তিগত স্তরে রেখেছেন এবং অন্য বর্ণনায় ঠিক সেভাবেই বিক্রি করতে বলেছেন। সংশয়ের ইসলাম আর্কাইভে একই পাতায় সংরক্ষিত বর্ণনাগুলো আরও দেখায় যে, ইবনে আব্বাসের মতে মালিক স্পষ্টভাবে মুক্ত না করা পর্যন্ত উম্মে ওয়ালাদ স্বাধীন হতো না এবং মুহাম্মদ জীবিত থাকাকালেও এসব জননী-দাসী বিক্রি করা হতো। তাই এটি কোনো বিচ্ছিন্ন কটু উপমা নয়; এটি মানুষকে যৌনভাবে ব্যবহারযোগ্য ও বাজারে বিক্রয়যোগ্য সম্পদে পরিণত করা একটি সুসংগঠিত দাস-মালিকানা ব্যবস্থার সরাসরি ভাষাগত প্রকাশ। [13]


শরহ বুলুগুল মারাম: দাসীর ওপর মালিকের যৌন অধিকারের সরাসরি স্বীকৃতি

নিচের উদ্ধৃতিটি সমকালীন সৌদি আলেম আতিয়্যা ইবনে মুহাম্মদ সালিমের (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি/১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) শরহ বুলুগুল মারাম থেকে নেওয়া। এটি ইবনে হাজার আসকালানীর প্রসিদ্ধ হাদিসসংকলন বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম-এর ওপর আতিয়্যা সালিমের ধারাবাহিক ব্যাখ্যামূলক বক্তৃতার লিখিত প্রতিলিপি। ইসলামওয়েব বক্তৃতাগুলো প্রতিলিপি করেছে এবং আল-মাকতাবাতুশ শামিলায় সেগুলো গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হয়েছে। অর্থাৎ এটি কোনো ইসলাম-সমালোচকের ব্যাখ্যা নয়; ইসলামি আইনকে সমর্থনকারী একজন স্বীকৃত সুন্নি আলেমের নিজস্ব শরিয়তি ভাষ্য। [14]

এই ব্যাখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আতিয়্যা সালিম কোনো অস্পষ্ট বা রূপক ভাষা ব্যবহার করেননি। তিনি প্রথমেই স্বীকার করেছেন যে, উম্মে ওয়ালাদরা মূলত মালিকানাধীন দাসী এবং মালিক তার “ডান হাতের মালিকানা” বা দাস-মালিকানার অধিকারে তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। তাঁর ভাষায়, এই যৌন উপভোগ কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা বৈধ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, তিনি যুদ্ধবন্দীদের দাসে পরিণত করার পরিণতিকে সরাসরি “তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া” বলে বর্ণনা করেছেন। ফলে দাসীকে “পরিবারের সম্মানিত সদস্য” বা “স্ত্রীর সমতুল্য নারী” হিসেবে সাজানোর আধুনিক প্রচারণা এই ইসলামি ব্যাখ্যার সামনেই ধসে পড়ে। ব্যবস্থাটির আইনগত ভিত্তি বিবাহ, পারস্পরিক সম্মতি বা নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নয়; ভিত্তি হলো যুদ্ধজয়, বন্দিত্ব, স্বাধীনতার বিলোপ এবং বিজয়ী পুরুষের মালিকানা।

উদ্ধৃতিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার বক্তব্যটিকে আতিয়্যা সালিম নবীর নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করেননি। মূল বর্ণনার বক্তা উমর ইবনুল খাত্তাব। এমনকি ব্যাখ্যাতব্য হাদিসেই বাইহাকির মন্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে যে, কোনো কোনো বর্ণনাকারী ভুল করে এটিকে নবীর বক্তব্য বা মারফু হাদিসে পরিণত করেছিলেন। অর্থাৎ উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং মালিকের মৃত্যুর পর তাকে মুক্ত করার বহুল প্রচলিত বিধানটির নির্ভরযোগ্য রূপটি একটি খলিফার সিদ্ধান্ত; মুহাম্মদের সুস্পষ্ট নির্দেশ নয়। অথচ সেই সিদ্ধান্তেও নারীটি তাৎক্ষণিক স্বাধীনতা পাননি—মালিক জীবিত থাকা পর্যন্ত তার ওপর যৌন ও সম্পত্তিগত কর্তৃত্ব বহাল রাখা হয়েছে [15]

ওয়ালাদ 7

[شرح حديث نهي عمر عن بيع أمهات الأولاد]
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه.
أما بعد.
قال المصنف رحمه الله: [وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: (نهى عمر عن بيع أمهات الأولاد فقال: لا تباع، ولا توهب، ولا تورث، يستمتع بها ما بدا له، فإذا مات فهي حرة) رواه مالك والبيهقي، وقال: رفعه بعض الرواة فوهم] .
يذكر المؤلف رحمه الله عن عبد الله بن عمر، أن عمر رضي الله تعالى عنه نهى عن بيع أمهات الأولاد، أمهات الأولاد الأصل أنهن إماء وجواري مملوكات، وللسيد أن يستمتع بمملوكاته بملك اليمين، والاستمتاع بملك اليمين جائز بالكتاب، والسنة، والإجماع: {أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ} [النساء:٣] ، {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ} [المؤمنون:٥-٦] .
وعبر عن الإماء بـ [16] ؛ لأن الغلبة في مواطن القوة تسند إلى اليد اليمنى؛ لأنها الأقوى {لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ} [الحاقة:٤٥] وقال بعضهم: إذا ما راية رفعت لمجد تلقاه عراضة باليمين ولما كان الجهاد بذلاً للقوة، وبذلاً الطاقة؛ عبر عن الأسارى الذين يؤخذون في الجهاد بملك اليمين التي هي شعار القوة، وتقدمت الإشارة إلى أن الإسلام لم يبح استرقاق البشر إلا في ميدان القتال، وفي غير ميدان القتال لا رق، وموجبه أن الكفار عارضوا مسيرة الإسلام، وأرادوا أن يوقفوها، وأن يستبدلوا بالإسلام غيره، فلما قدر عليهم بالأسر استرقوا وسلبوا الحرية.

উমরের উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি নিষেধের হাদিসের ব্যাখ্যা
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক।
অতঃপর—
গ্রন্থকার রহ. বলেছেন:
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “উমর উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, তাদের বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং উত্তরাধিকারসূত্রেও হস্তান্তর করা যাবে না। মালিক যত দিন ইচ্ছা তার দ্বারা উপকৃত হবে। মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হয়ে যাবে।”
এটি মালিক ও বাইহাকি বর্ণনা করেছেন। বাইহাকি বলেছেন, কোনো কোনো বর্ণনাকারী এটিকে নবীর বক্তব্য হিসেবে মারফু করেছেন, কিন্তু তারা ভুল করেছেন।
গ্রন্থকার রহ. আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতে নিষেধ করেছিলেন। উম্মে ওয়ালাদরা মূলত মালিকানাধীন দাসী ও ক্রীতদাসী। মালিক তার অধিকারভুক্ত দাসীদের সঙ্গে সহবাস ও যৌন উপভোগ করতে পারে। অধিকারভুক্ত দাসীর সঙ্গে যৌন উপভোগ কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা বৈধ:
“অথবা তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে।” [ সুরা আন-নিসা, ৪:৩ ]
“আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে—তাদের স্ত্রী অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে, তারা ছাড়া।” [ সুরা আল-মুমিনুন, ২৩:৫–৬ ]
দাসীদের বোঝাতে “তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে” কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিজয় ও কর্তৃত্বকে সাধারণত ডান হাতের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়; কেননা ডান হাতকেই অধিক শক্তিশালী বলে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ বলেছেন:
“আমি অবশ্যই তাকে ডান হাত দিয়ে পাকড়াও করতাম।” [ সুরা আল-হাক্কাহ, ৬৯:৪৫ ]
কোনো একজন কবিও বলেছেন:
“যখনই গৌরব অর্জনের জন্য কোনো পতাকা উত্তোলিত হয়, তুমি তাকে ডান হাত দিয়ে সেই পতাকার সম্মুখীন হতে দেখবে।”
জিহাদে যেহেতু শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করা হয়, তাই জিহাদের মাধ্যমে যেসব বন্দীকে আটক করা হয়, তাদের বোঝাতে “ডান হাতের মালিকানা” কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ডান হাত এখানে শক্তি ও কর্তৃত্বের প্রতীক।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও মানুষকে দাসে পরিণত করার অনুমতি দেয়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে দাসত্বের কোনো বিধান নেই। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কাফেররা ইসলামের অগ্রযাত্রার বিরোধিতা করেছিল, সেই অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে চেয়েছিল এবং ইসলামের পরিবর্তে অন্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। তাই মুসলিমরা যুদ্ধে তাদের পরাজিত করে বন্দী করতে সক্ষম হলে, তাদের দাসে পরিণত করা হতো এবং তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হতো।


একটি ঘোষণার আগে ছিল বিক্রি, পরে ছিল বিরোধ

ইবনে হাযমের আল-মুহাল্লা বিল-আসার-এ সংরক্ষিত বর্ণনাগুলো এই ইতিহাসকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে। সেখানে বলা হয়েছে, আবু বকরের শাসনামলে এবং উমরের শাসনের প্রথম অর্ধেও উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা হতো। একই আলোচনায় আলী, ইবনে যুবাইর, ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদের নামে উমরের পরবর্তী নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান উদ্ধৃত হয়েছে। ইবনে হাযম জাবিরের বর্ণনার সনদকে অত্যন্ত সহিহ স্বীকার করেও বলেন, তাতে নবী বিষয়টি জানতেন—এ কথা সরাসরি নেই; কিন্তু একই সঙ্গে তিনি তথাকথিত সাহাবি-ঐকমত্যের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন এবং আলীর বিরোধিতাকে সামনে আনেন [17]

1684 – مسألة : وكل مملوكة حملت من سيدها فأسقطت شيئا يدرى أنه ولد ، أو ولدته : فقد حرم بيعها وهبتها ورهنها والصدقة بها وقرضها ، ولسيدها وطؤها واستخدامها مدة حياته ، فإذا مات فهي حرة من رأس ماله ، وكل مالها فلها إذا عتقت ، ولسيدها انتزاعه في حياته ، فإن ولدت من غير سيدها بزنا ، أو إكراه ، أو نكاح بجهل : فولدها بمنزلتها إذا أعتقت عتقوا . قال أبو محمد : اختلف الناس في هذا . فروينا من طريق سعد بن منصور نا أبو عوانة عن المغيرة عن الشعبي عن عبيدة السلماني قال : خطب علي الناس ، فقال : شاورني عمر بن الخطاب في أمهات الأولاد ، فرأيت أنا وعمر أن أعتقهن – فقضى به عمر حياته ، وعثمان حياته ، فلما وليت رأيت أن أرقهن ، قال عبيدة : فرأي عمر ، وعلي في الجماعة أحب إلي من رأي علي وحده . قال أبو محمد : إن كان أحب إلى عبيدة ، فلم يكن أحب إلى علي بن أبي طالب ، وإن بين الرجلين لبونا بائنا ، فأين المحتجون بقول الصاحب المشتهر المنتشر وأنه إجماع ، أفيكون اشتهارا أعظم ، وانتشارا أكثر من حكم عمر باقي خلافته ، وعثمان جميع خلافته ، في أمر فاش عام ، ظاهر مطبق ، وعلي موافق لهما على ذلك
[ ص: 213 ] وقد روينا عن وكيع نا سفيان الثوري عن سلمة بن كهيل عن زيد بن وهب قال : باع عمر أمهات الأولاد ثم ردهن حتى ردهن حبالى من تستر – فلا سبيل إلى أن يفشو حكم أكثر من هذا الفشو بمثل هذا الحكم المعلن والأسانيد المثيرة ، ثم لم ير علي بن أبي طالب ذلك إجماعا ، بل خالفه فإن كان ذلك إجماعا فعلى أصول هؤلاء الجهال قد خالف علي الإجماع . وحاشا له من ذلك ، فمخالف الإجماع عالما بأنه إجماع كافر ، ثم لا يستحبون دعوى الإجماع على ما لم يصح قط عن عمر من أنه فرض في الخمر ثمانين حدا والخلاف فيه من عمر وممن بعد عمر أشهر من الشمس . ومن طريق عبد الرزاق عن ابن جريج أخبرني أبو الزبير أنه سمع جابر بن عبد الله يقول : { كنا نبيع أمهات الأولاد – ورسول الله صلى الله عليه وآله وسلم حي فينا – لا نرى بذلك بأسا } . قال ابن جريج : وأخبرني عبد الرحمن بن الوليد أن أبا إسحاق السبيعي أخبره أن أبا بكر الصديق كان يبيع أمهات الأولاد في إمارته وعمر في نصف إمارته ، وذكر الحديث . قال ابن جريج : وأخبرني عطاء أنه بلغه أن علي بن أبي طالب كتب في عهده : إني تركت تسع عشرة سرية فأيتهن ما كانت ذات ولد قومت في حصة ولدها بميراثه مني وأيتهن لم تكن ذات ولد فهي حرة ؟ فسألت محمد بن علي بن الحسين بن علي : أذلك في عهد علي ؟ قال : نعم . ومن طريق الخشني محمد بن عبد السلام نا محمد بن بشار بندار نا محمد بن جعفر غندر نا شعبة عن الحكم بن عتيبة عن زيد بن وهب قال : انطلقت إلى عمر بن الخطاب أسأله عن أم الولد ؟ قال : مالك ، إن شئت بعت وإن شئت وهبت . ثم انطلقت إلى ابن مسعود فإذا معه رجلان فسألاه ؟ فقال لأحدهما من أقرأك ؟ قال : أقرأنيها أبو عمرة ، وأبو حكيم المزني ، وقال الآخر : أقرأنيها عمر بن الخطاب ، فبكى ابن مسعود وقال : أقرأكما ؟ أقرأك عمر ؟ فإنه كان حصنا حصينا يدخل الناس فيه ولا يخرجون منه ؟ فلما أصيب عمر انثلم الحصن ، فخرج الناس من الإسلام قال زيد : وسألته عن أم الولد ؟ فقال : تعتق من نصيب ولدها .
[ ص: 214 ] قال أبو محمد : هذا إسناد في غاية الصحة ، وبعد موت عمر كما ترى ، فأين مدعو الإجماع في أقل من هذا ؟ نعم ، وفيما لا خير فيه مما لا يصح
ومن طريق عبد الرزاق عن ابن جريج نا عطاء بن أبي رباح أن ابن الزبير أقام أم حيي أم ولد محمد بن صهيب يقال لابنها : خالد ، فأقامها ابن الزبير في مال ولدها وجعلها في نصيبه . قال عطاء : وقال ابن عباس : لا تعتق أم الولد حتى يلفظ سيدها بعتقها – وهو قول زيد بن ثابت . وبه يقول أبو سليمان ، وأبو بكر ، وجماعة من أصحابنا . وعن عمر قول آخر . رويناه من طريق ابن سيرين عن أبي العجفاء هرم بن نسيب ، ومالك بن عامر الهمداني ، كلاهما عن عمر بن الخطاب في أم الولد ؟ قال : إذا عفت وأسلمت عتقت ، وإن كفرت وفجرت أرقت . وروي هذا أيضا : عن عمر بن عبد العزيز أنه باع أم ولد ارتدت – وتوقف فيها أبو الحسن بن المغلس ، وبعض أصحابنا . وروي إبطال بيعها عن الشعبي ، والنخعي ، وعطاء ، ومجاهد ، والحسن ، وسالم بن عبد الله ، ويحيى بن سعيد الأنصاري ، والزهري ، وأبي الزناد ، وربيعة . وهو قول أبي حنيفة ، ومالك ، وسفيان ، والأوزاعي ، والحسن بن حي وابن شبرمة ، والشافعي ، وأبي عبيد ، وأحمد ، وإسحاق ، وأبي عبد الله بن سالار ، وطائفة من أصحابنا . قال أبو محمد : أما حديث جابر فلا حجة فيه وإن كان غاية في صحة السند ; لأنه ليس فيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم علم بذلك – ولقد كان يلزم من يرى مسندا قول أبي سعيد الخدري : { كنا نخرج – ورسول الله صلى الله عليه وسلم حي – صدقة الفطر صاعا من طعام ، صاعا من شعير ، صاعا من تمر ، صاعا من أقط ، صاعا من زبيب } ، وقول ابن عمر : كنا ورسول [ ص: 215 ] الله صلى الله عليه وسلم حي نقول : أبو بكر ، ثم عمر ، ثم عثمان ، ثم نترك فلا نفاضل – ويرى هذا حجة . أن يرى قول جابر هذا حجة ، وإلا فهو متلاعب . قال أبو محمد : وأما من دون رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فلا حجة في أحد دونه عليه الصلاة والسلام فنظرنا : هل صح عنه عليه الصلاة والسلام في ذلك منع فنقف عنده ، وإلا فلا ؟ فوجدنا ما روينا من طريق قاسم بن أصبغ نا مصعب بن محمد نا عبيد الله بن عمر – هو الرقي – عن عبد الكريم الجزري عن عكرمة عن ابن عباس قال { : لما ولدت مارية إبراهيم قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أعتقها ولدها } فهذا خبر جيد السند كل رواته ثقة .
وسمعنا الله تعالى يقول : { إنا خلقنا الإنسان من نطفة أمشاج نبتليه } وأخبر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كما روينا في المسألة السادسة في صدر ” كتاب العتق ” من ديواننا هذا : أن الإنسان يخلقه الله تعالى من مني أبيه ومني أمه ، فصح أنه بعضها وبعض أبيه .
وروينا من طريق ابن أيمن نا عبد الله بن أحمد بن حنبل نا أبو سعيد مولى بني هاشم – هو عبد الرحمن بن عبد الله بن عبيد – نا همام بن يحيى عن قتادة عن أبي المليح عن أبيه – هو أبو أسامة بن عمير – قال : أعتق رجل من هذيل شقصا له من مملوك ؟ فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم { هو حر كله ليس لله شريك } . ولما كان الولد بعض أبيه وبعض أمه ، وصح عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم { : من ملك ذا رحم محرمة فهو حر } فوجب أن يعتق على أبيه ، وأن لا يملكه أحد ، فلما وجب ذلك وجب أن بعضها حر ، وإذ بعضها حر فكلها حر . ولما لم يبن عليه الصلاة والسلام أم إبراهيم رضي الله عنها عن نفسه ولم يزل يستبيحها بعد الولادة صح أنها باقية على إباحة الوطء والتصرف ، قال الله تعالى { : لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة } . [ ص: 216 ] وصح أن العتق المذكور في أم الولد لا يمنع إلا من إخراجها عن الملك فقط ، وهذا برهان ضروري قاطع – ولله تعالى الحمد – إلا أنه لا يسوغ للحنفيين الاحتجاج به ; لأن من أصولهم الفاسدة : أن من روى خبرا ثم خالفه فهو دليل على سقوط ذلك الخبر – وابن عباس هو راوي خبر أم إبراهيم عليها السلام – وهو يرى بيع أمهات الأولاد . فقد ترك ما روى ، وما يثبت على أصولهم الفاسدة دليل على المنع من بيعهن ; لأن عليا ، وابن الزبير ، وابن عباس ، وابن مسعود بعد عمر : أباحوا بيعهن ، وكل ما موهوا به هاهنا فكذب ابتدعوه . وأما قولنا : إنها يحرم إخراجها عن ملكه إلى ملك غيره ، مما يدرى أنه ولد ، فإن النص من القرآن والسنة ورد بأنه أول ما يكون نطفة ، ثم علقة ، ثم مضغة ، ثم عظاما مكسوة لحما ، ثم ينفخ فيه الروح . والنطفة : اسم يقع على الماء ، فالنطفة ليست ولدا ، ولا فرق بين وقوع النطفة في الرحم وخروجها إثر ذلك ، وبين خروجها كذلك إلى أربعين يوما – ما دامت نطفة – فإذا خرجت عن أن تكون نطفة إلى أن تكون علقة ، فهي حينئذ ولد مخلق . وقال تعالى { : من مضغة مخلقة وغير مخلقة } فغير ” المخلقة ” هي التي لم تنتقل عن أن تكون نطفة ، ولا خلق منها ولد بعد ، ” والمخلقة ” هي المنتقلة عن اسم ” النطفة ” وحدها وصفتها إلى أن خلقها عز وجل ” علقة ” كما في القرآن ، فهي حينئذ ولد مخلق ، فهي بسقوطه أو ببقائه : أو ولد – وهذا نص بين – وبالله تعالى التوفيق .
وأما انتزاعه مالها – صحيحا كان أو مريضا – فلقول الله تعالى { : والذين هم لفروجهم حافظون إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم فإنهم غير ملومين فمن ابتغى وراء ذلك فأولئك هم العادون } وأم الولد ليست زوجة بلا خلاف ، فهي ضرورة مما ملكت أيماننا ، فلنا أخذ ما ملكت أيماننا . فإن قيل : كيف تكون معتقة حرة مما ملكت أيماننا ؟ قلنا : كما نص الله تعالى ورسوله عليه الصلاة والسلام على ذلك ، لا كما اشتهت العقول الفاسدة ، والشارعة بآرائها الزائفة ، ولا علم لنا إلا ما علمنا ربنا عز وجل ، وقد قلتم : إن المكاتب لا عبد فيبتاع ويستخدم ، ولا توطأ المكاتبة ، وعبد في [ ص: 217 ] جميع أحكامه ، ولا حرة فتطلق ، وحرة في المنع من بيعها ووطئها ، فأي فرق بين ما قلتموه بآرائكم فجوزتموه ، فلما وجدتموه لله تعالى ولرسوله عليه الصلاة والسلام أنكرتموه ، ألا هذا هو الهوس المهلك في العاجلة والآجلة ؟
وأما ولدها من غير سيدها فهو كما قلنا في أول أمره بعضها ، فحكمه كحكمها ، وصح بما ذكرنا أنها لا يحرم بيعها إلا بأن تكون في حين أول حملها في ملك من لا يحل له تملك ولده ، وكذلك لو حملت منه وهي زوجة له ملك لغيره ، ثم ملكها قبل أن يصير الولد حيا ، فإنها أم ولد لما ذكرناه ، فأما لو لم يملكها إلا من نفخ الروح فيه ، فصار غيرها ، فلم يكن بعضها حرا قط ، فلا حرية لها ، وله بيعها ، فلو باعها والذي في رحمها نطفة بعد فإنه إن خرجت عن رحمها – وهي نطفة بعد – فهو بيع صحيح ; لأنها نطفة غير مخلقة ، فإن صارت مضغة فالبيع فاسد مردود ; لأنه باعها وبعضها مضغة مخلقة في علم الله تعالى منه ، فهي من أول وقوعها إلى خروجها ولد فهي أم ولد – وبالله تعالى التوفيق .

বাংলা অনুবাদঃ ১৬৮৪—মাসআলা: কোনো মালিকানাধীন দাসী যদি তার মালিকের সন্তান গর্ভে ধারণ করে এবং এমন কিছু গর্ভপাত করে, যা দেখে বোঝা যায় যে সেটি সন্তান ছিল, অথবা সে সন্তান প্রসব করে, তাহলে তাকে বিক্রি করা, দান করা, বন্ধক রাখা, সদকা করা কিংবা ঋণ হিসেবে দেওয়া হারাম হয়ে যায়। মালিক তার জীবদ্দশায় তার সঙ্গে সহবাস করতে এবং তাকে কাজে নিয়োজিত করতে পারবে। মালিক মারা গেলে তার মূল সম্পত্তি থেকে দাসীটি স্বাধীন হয়ে যাবে। স্বাধীন হওয়ার সময় তার কাছে যে সম্পদ থাকবে, তা তারই হবে; তবে মালিক জীবিত অবস্থায় সেই সম্পদ কেড়ে নিতে পারবে। আর সে যদি নিজের মালিক ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের দ্বারা ব্যভিচার, জবরদস্তি অথবা অজ্ঞতাবশত সংঘটিত বিবাহের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়, তাহলে তার সন্তানদের অবস্থাও তার মতো হবে; সে স্বাধীন হলে তারাও স্বাধীন হবে।
আবু মুহাম্মদ [ইবনে হাযম] বলেছেন: এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
আমরা সাঈদ ইবনে মানসুরের সূত্রে বর্ণনা করেছি—তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি মুগিরা থেকে, তিনি শা‘বি থেকে এবং তিনি উবাইদা সালমানি থেকে বর্ণনা করেছেন। উবাইদা বলেন:
আলী জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেছিলেন, “উমর ইবনুল খাত্তাব উম্মে ওয়ালাদদের বিষয়ে আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন। আমি ও উমর তাদের মুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। উমর তাঁর জীবদ্দশায় সেই অনুযায়ী বিচার করেছেন এবং উসমানও তাঁর জীবদ্দশায় একই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। কিন্তু আমি যখন শাসনক্ষমতা গ্রহণ করলাম, তখন তাদের দাসী হিসেবেই রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম।”
উবাইদা বলেন, “আলী ও উমর ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় যে মত দিয়েছিলেন, আলীর একক পরবর্তী মতের চেয়ে সেটিই আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়।”
আবু মুহাম্মদ বলেছেন: উমর ও আলীর সম্মিলিত মত উবাইদার কাছে বেশি পছন্দনীয় হয়ে থাকলেও আলী ইবনে আবি তালিবের কাছে তা বেশি পছন্দনীয় ছিল না। আর এই দুই ব্যক্তির মর্যাদার মধ্যে যে সুস্পষ্ট বিরাট ব্যবধান রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
যারা কোনো সাহাবির বহুল প্রচারিত ও প্রসিদ্ধ বক্তব্যকে ইজমা বলে দাবি করে, তারা এখন কোথায়? উমরের অবশিষ্ট খিলাফতজুড়ে এবং উসমানের সমগ্র খিলাফতজুড়ে একটি প্রকাশ্য, সাধারণ ও সর্বত্র কার্যকর বিষয়ে এই বিধান বলবৎ থাকার চেয়ে বড় প্রসিদ্ধি ও ব্যাপক প্রচার আর কী হতে পারে? আলীও তখন তাদের সঙ্গে একমত ছিলেন।
[পৃষ্ঠা ২১৩]
আমরা ওয়াকির সূত্রে বর্ণনা করেছি—তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি সালামা ইবনে কুহাইল থেকে এবং তিনি যায়দ ইবনে ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন। যায়দ বলেন:
“উমর উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করেছিলেন; পরে তিনি তাদের ফিরিয়ে নেন। এমনকি তুস্তার থেকে আসা গর্ভবতী নারীদেরও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।”
প্রকাশ্যে ঘোষিত এমন একটি বিধান এবং এত শক্তিশালী ও বহুল বর্ণিত সনদের চেয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিক প্রচার হওয়া সম্ভব নয়। তারপরও আলী ইবনে আবি তালিব এটিকে ইজমা মনে করেননি; বরং এর বিরোধিতা করেছেন। এটি যদি সত্যিই ইজমা হয়ে থাকে, তাহলে এসব মূর্খের মূলনীতি অনুসারে আলী ইজমার বিরোধিতা করেছেন। আলী সম্পর্কে এমন কথা সম্পূর্ণ অসম্ভব। কারণ জেনেশুনে প্রতিষ্ঠিত ইজমার বিরোধিতাকারী কাফের। অথচ মদের শাস্তি আশি বেত্রাঘাত নির্ধারণের যে বক্তব্য উমরের নামে কখনোই সহিহভাবে প্রমাণিত হয়নি, তারা সেটিকে ইজমা বলতে দ্বিধা করে না—যদিও এ বিষয়ে উমর এবং তাঁর পরবর্তী ব্যক্তিদের মতভেদ সূর্যের চেয়েও স্পষ্ট।
আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে, ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে জুরাইজ বলেন, আবু যুবাইর আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন:
“আমরা উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতাম। আল্লাহর রাসুল তখন আমাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন এবং আমরা এতে কোনো দোষ দেখতাম না।”
ইবনে জুরাইজ বলেন: আবদুর রহমান ইবনে ওয়ালিদ আমাকে জানিয়েছেন যে, আবু ইসহাক সাবিয়ি তাকে বলেছেন—আবু বকর সিদ্দিক তাঁর শাসনামলে উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতেন এবং উমরও তাঁর শাসনামলের অর্ধেক সময় পর্যন্ত তা করতেন। এরপর তিনি বর্ণনার অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেছেন।
ইবনে জুরাইজ আরও বলেন: আতা আমাকে জানিয়েছেন যে তাঁর কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে—আলী ইবনে আবি তালিব তাঁর অঙ্গীকারপত্রে লিখেছিলেন:
“আমি উনিশজন উপপত্নী রেখে যাচ্ছি। তাদের মধ্যে যাদের সন্তান রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের মূল্য তার সন্তানের উত্তরাধিকারী অংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। আর যাদের সন্তান নেই, তারা স্বাধীন।”
আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলীকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কি আলীর অঙ্গীকারপত্রে ছিল?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।”
খুশানি মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সালামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে—তিনি মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বান্দার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর গুন্দর থেকে, তিনি শুবা থেকে, তিনি হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে এবং তিনি যায়দ ইবনে ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন। যায়দ বলেন:
আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে গেলাম। তিনি বললেন, “সে তোমার সম্পত্তি; ইচ্ছা করলে তাকে বিক্রি করো, ইচ্ছা করলে দান করো।”
এরপর আমি ইবনে মাসউদের কাছে গেলাম। তাঁর সঙ্গে দুজন ব্যক্তি ছিলেন। তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি একজনকে বললেন, “তোমাকে কে কোরআন পড়িয়েছেন?”
সে বলল, “আমাকে আবু আমরাহ ও আবু হাকিম মুযানি পড়িয়েছেন।”
অন্যজন বলল, “আমাকে উমর ইবনুল খাত্তাব পড়িয়েছেন।”
ইবনে মাসউদ কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “তোমাদের দুজনকে পড়িয়েছেন? তোমাকে উমর পড়িয়েছেন? তিনি ছিলেন একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ—মানুষ তাতে প্রবেশ করত, বেরিয়ে যেত না। উমর নিহত হওয়ার পর সেই দুর্গে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে।”
যায়দ বলেন: আমি তাঁকে উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, “সে তার সন্তানের উত্তরাধিকারী অংশ থেকে মুক্ত হবে।”
[পৃষ্ঠা ২১৪]
আবু মুহাম্মদ বলেছেন: এই সনদ সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহিহ। আপনারা যেমন দেখতে পাচ্ছেন, ঘটনাটি উমরের মৃত্যুর পরের। তাহলে এর চেয়ে দুর্বল প্রমাণের ওপর যারা ইজমার দাবি করে, তারা কোথায়? তারা এমন সব বিষয়েও ইজমা দাবি করে, যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই এবং যা কখনো সহিহভাবে প্রমাণিতও হয়নি।
আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে, ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—ইবনে যুবাইর মুহাম্মদ ইবনে সুহাইবের উম্মে ওয়ালাদ উম্মে হুয়াইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন। তার ছেলের নাম ছিল খালিদ। ইবনে যুবাইর তাকে তার সন্তানের সম্পদের মধ্যে মূল্যায়ন করেন এবং সন্তানের উত্তরাধিকারী অংশের অন্তর্ভুক্ত করেন।
আতা বলেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন, “মালিক মুখে তাকে স্বাধীন ঘোষণা না করা পর্যন্ত উম্মে ওয়ালাদ স্বাধীন হবে না।” যায়দ ইবনে সাবিতের মতও এটিই। আবু সুলাইমান, আবু বকর এবং আমাদের একদল অনুসারীও এই মত পোষণ করেন।
উমরের কাছ থেকে আরেকটি মত বর্ণিত হয়েছে। আমরা ইবনে সিরিনের সূত্রে, আবু আজফা হারাম ইবনে নাসিব ও মালিক ইবনে আমির হামদানির কাছ থেকে বর্ণনা করেছি—তারা উভয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। উমর বলেছেন:
“সে যদি পবিত্র জীবন যাপন করে এবং ইসলাম মেনে চলে, তাহলে স্বাধীন হবে; আর যদি কুফরি ও ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাহলে পুনরায় দাসীতে পরিণত হবে।”
উমর ইবনে আবদুল আজিজ সম্পর্কেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ধর্মত্যাগী এক উম্মে ওয়ালাদকে বিক্রি করেছিলেন। আবুল হাসান ইবনুল মুগাল্লিস এবং আমাদের কয়েকজন অনুসারী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
শা‘বি, নাখাঈ, আতা, মুজাহিদ, হাসান, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারি, যুহরি, আবু যিনাদ এবং রাবিয়া থেকে উম্মে ওয়ালাদের বিক্রি বাতিল বলে বর্ণিত হয়েছে। আবু হানিফা, মালিক, সুফিয়ান, আওযাঈ, হাসান ইবনে হাই, ইবনে শুবরুমা, শাফিঈ, আবু উবাইদ, আহমদ, ইসহাক, আবু আবদুল্লাহ ইবনে সালার এবং আমাদের একদল অনুসারীর মতও এটিই।
আবু মুহাম্মদ বলেছেন: জাবিরের হাদিসটির সনদ সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহিহ হলেও এতে তাদের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ এতে বলা হয়নি যে আল্লাহর রাসুল বিষয়টি জানতেন।
যারা আবু সাঈদ খুদরির এই বক্তব্যকে মারফু দলিল হিসেবে গণ্য করে—“আল্লাহর রাসুল জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা সদকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা‘ খাদ্য, এক সা‘ যব, এক সা‘ খেজুর, এক সা‘ পনির অথবা এক সা‘ কিশমিশ প্রদান করতাম”—এবং ইবনে উমরের এই বক্তব্যকেও দলিল মনে করে—“আল্লাহর রাসুল জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা বলতাম: প্রথমে আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান; এরপর অন্যদের মধ্যে মর্যাদার পার্থক্য করতাম না”—তাদের জন্য জাবিরের এই বক্তব্যকেও দলিল হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক। তা না করলে সে যুক্তি নিয়ে খেলছে।
আবু মুহাম্মদ বলেছেন: আল্লাহর রাসুলের নিচে অন্য কোনো ব্যক্তির বক্তব্যই তাঁর বিরুদ্ধে দলিল হতে পারে না। তাই আমরা অনুসন্ধান করেছি—এ বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা সহিহভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, যাতে আমরা সেটির কাছে থামতে পারি। যদি না হয়ে থাকে, তাহলে তা নিষিদ্ধ করার ভিত্তি কোথায়?
আমরা কাসিম ইবনে আসবাগের সূত্রে বর্ণনা পেয়েছি—তিনি মুসআব ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আর-রাক্কি থেকে, তিনি আবদুল করিম জাযারি থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন:
“মারিয়া যখন ইবরাহিমকে জন্ম দিলেন, তখন আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘তার সন্তান তাকে মুক্ত করেছে।’”
এটি উত্তম সনদের বর্ণনা এবং এর সব রাবিই নির্ভরযোগ্য।
আমরা আল্লাহকে বলতে শুনেছি:
“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য।”
আমাদের এই গ্রন্থের “কিতাবুল ইতক”-এর শুরুতে ষষ্ঠ মাসআলায় আমরা আল্লাহর রাসুল থেকে বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহ মানুষকে তার পিতার বীর্য এবং মাতার বীর্য থেকে সৃষ্টি করেন। অতএব এটি প্রমাণিত যে, সন্তান তার মায়ের একটি অংশ এবং তার পিতারও একটি অংশ।
ইবনে আইমানের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে—তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি বনু হাশিমের মুক্তদাস আবু সাঈদ—অর্থাৎ আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ—থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা আবু উসামা ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন:
হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি তার মালিকানাধীন দাসের একটি অংশ মুক্ত করেছিল। নবী বললেন, “সে সম্পূর্ণ স্বাধীন; আল্লাহর কোনো অংশীদার নেই।”
সন্তান যেহেতু তার পিতা ও মাতার অংশ এবং নবী থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে—“যে ব্যক্তি এমন কোনো নিকটাত্মীয়ের মালিক হয়, যার সঙ্গে তার বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ, সেই আত্মীয় স্বাধীন হয়ে যায়”—তাই সন্তান তার পিতার মালিকানা থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে এবং কেউ তার মালিক হতে পারবে না। যখন এটি আবশ্যক হলো, তখন মায়ের একটি অংশও স্বাধীন হওয়া আবশ্যক। আর তার একটি অংশ স্বাধীন হলে তার সম্পূর্ণ সত্তাই স্বাধীন হবে।
আল্লাহর রাসুল ইবরাহিমের মা মারিয়াকে নিজের কাছ থেকে পৃথক করেননি এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও তাঁর সঙ্গে সহবাস বৈধ মনে করতে থাকেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি তখনো যৌন সম্পর্ক ও অন্যান্য মালিকানাভিত্তিক ব্যবহারের অধীন ছিলেন। আল্লাহ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।”
[পৃষ্ঠা ২১৬]
এতে প্রমাণিত হলো, উম্মে ওয়ালাদের ক্ষেত্রে উল্লিখিত মুক্তি তাকে কেবল বর্তমান মালিকের মালিকানা থেকে অন্যের মালিকানায় স্থানান্তর নিষিদ্ধ করে; এর বেশি কিছু নয়। এটি একটি অবধারিত ও অকাট্য প্রমাণ—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
তবে হানাফিদের জন্য এই প্রমাণ ব্যবহার করা বৈধ নয়। কারণ তাদের ভ্রান্ত মূলনীতিগুলোর একটি হলো—কোনো ব্যক্তি একটি হাদিস বর্ণনা করে পরে তার বিরোধিতা করলে, সেটি সেই হাদিস বাতিল হয়ে যাওয়ার প্রমাণ। ইবনে আব্বাসই ইবরাহিমের মা সম্পর্কে বর্ণনাটির রাবি, অথচ তিনি উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি বৈধ মনে করতেন। অর্থাৎ তিনি নিজের বর্ণিত হাদিসের বিপরীত মত গ্রহণ করেছেন।
হানাফিদের ভ্রান্ত মূলনীতি অনুসারেও উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার কোনো দলিল অবশিষ্ট থাকে না। কারণ উমরের মৃত্যুর পর আলী, ইবনে যুবাইর, ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ তাদের বিক্রি বৈধ মনে করেছিলেন। এ বিষয়ে হানাফিরা যেসব কথার চাকচিক্য দেখিয়েছে, সেগুলো তাদের উদ্ভাবিত মিথ্যা।
কোনো বস্তু সন্তান হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে উম্মে ওয়ালাদকে তার মালিকের মালিকানা থেকে অন্য কারও মালিকানায় স্থানান্তর করা হারাম—আমাদের এই বক্তব্যের ভিত্তি হলো, কোরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী মানুষ প্রথমে শুক্রবিন্দু, তারপর জমাট রক্ত, তারপর মাংসপিণ্ড, তারপর মাংসে আবৃত অস্থিতে পরিণত হয়; এরপর তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করা হয়।
“নুতফা” বা শুক্রবিন্দু বলতে তরল পদার্থ বোঝায়। তাই নুতফা নিজে সন্তান নয়। শুক্রবিন্দু জরায়ুতে প্রবেশ করার পরপরই বেরিয়ে যাওয়া এবং চল্লিশ দিন পর্যন্ত শুক্রবিন্দু অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই—যতক্ষণ তা নুতফা অবস্থাতেই থাকে।
কিন্তু যখন সেটি নুতফা অবস্থা অতিক্রম করে আলাকায় পরিণত হয়, তখন তা একটি গঠিত সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ বলেছেন:
“গঠিত ও অগঠিত মাংসপিণ্ড থেকে।”
এখানে “অগঠিত” বলতে বোঝানো হয়েছে, যা এখনো নুতফা অবস্থা অতিক্রম করেনি এবং যেখান থেকে সন্তানের গঠন শুরু হয়নি। আর “গঠিত” হলো, যা কেবল নুতফা নাম ও বৈশিষ্ট্য অতিক্রম করে কোরআনের ভাষায় আলাকায় পরিণত হয়েছে। তখন সেটি গঠিত সন্তান। অতএব সেই অবস্থায় তা গর্ভপাত হোক কিংবা জরায়ুতে থেকে যাক—তা সন্তান হিসেবে গণ্য হবে। এটি সুস্পষ্ট বক্তব্য। সাফল্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
উম্মে ওয়ালাদ সুস্থ অবস্থায় থাকুক অথবা অসুস্থ অবস্থায়—মালিক তার সম্পদ কেড়ে নিতে পারবে। এর ভিত্তি আল্লাহর এই বক্তব্য:
“আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে—তাদের স্ত্রী অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে, তারা ছাড়া; এতে তারা নিন্দিত নয়। কিন্তু যারা এর বাইরে কিছু কামনা করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।”
উম্মে ওয়ালাদ যে স্ত্রী নয়, এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। অতএব সে অবশ্যই আমাদের ডান হাতের মালিকানাধীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে, তাদের সম্পদ গ্রহণ করার অধিকারও আমাদের রয়েছে।
যদি প্রশ্ন করা হয়, “সে একই সঙ্গে মুক্ত ও স্বাধীন হয়েও কীভাবে আমাদের ডান হাতের মালিকানাধীন হতে পারে?”
আমরা বলব: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যেভাবে নির্ধারণ করেছেন, সেভাবেই তা সম্ভব—ভ্রান্ত বুদ্ধির কামনা এবং মিথ্যা মতামত দিয়ে শরিয়ত রচনাকারীদের ধারণা অনুযায়ী নয়। আমাদের প্রতিপালক যতটুকু শিক্ষা দিয়েছেন, তার বাইরে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।
তোমরা নিজেরাই বলেছ: মুকাতাব দাস এমনভাবে দাস নয় যে তাকে কেনাবেচা করা যাবে, কাজে লাগানো যাবে কিংবা মুকাতাব নারী হলে তার সঙ্গে সহবাস করা যাবে; আবার অন্যান্য সব বিধানে সে দাস। সে এমন স্বাধীনও নয় যে তাকে তালাক দেওয়া যাবে, কিন্তু বিক্রি ও সহবাস নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সে স্বাধীন নারীর মতো। নিজেদের মনগড়া মত দিয়ে তোমরা এমন দ্বৈত অবস্থা বৈধ করেছ। অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধানে একই ধরনের অবস্থা দেখতে পেয়ে তা অস্বীকার করছ। এটিই দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংসকারী উন্মত্ততা।
[পৃষ্ঠা ২১৭]
নিজের মালিক ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের ঔরসে জন্ম নেওয়া উম্মে ওয়ালাদের সন্তানের বিধানও আমরা আগেই যেমন বলেছি, তেমনই। সন্তান তার সৃষ্টির শুরুতে মায়ের একটি অংশ; তাই তার বিধানও মায়ের বিধানের মতো।
আমাদের আগের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, দাসী তার গর্ভধারণের সূচনাকালে এমন ব্যক্তির মালিকানায় থাকলেই কেবল তার বিক্রি হারাম হবে, যে নিজের সন্তানকে মালিকানাধীন রাখতে পারে না। একইভাবে, কোনো দাসী অন্যের মালিকানায় থাকা অবস্থায় তার স্বামীর সন্তান গর্ভে ধারণ করলে এবং সন্তান জীবিত সত্তায় পরিণত হওয়ার আগে স্বামী তাকে কিনে নিলে, আমাদের উল্লেখিত যুক্তি অনুসারে সে উম্মে ওয়ালাদ হয়ে যাবে।
কিন্তু ভ্রূণের মধ্যে প্রাণ সঞ্চারিত হয়ে সেটি মায়ের থেকে পৃথক একটি জীবিত সত্তায় পরিণত হওয়ার পর যদি স্বামী দাসীটিকে কিনে নেয়, তাহলে মায়ের কোনো অংশ কখনো স্বাধীন হয়নি। ফলে তার জন্য স্বাধীনতার বিধান থাকবে না এবং মালিক তাকে বিক্রি করতে পারবে।
আর কোনো ব্যক্তি যদি দাসীর গর্ভে সন্তান নুতফা অবস্থায় থাকতেই তাকে বিক্রি করে, তারপর সেটি নুতফা অবস্থাতেই জরায়ু থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে সেই বিক্রি বৈধ। কারণ তখনো তা অগঠিত নুতফা।
কিন্তু সেটি মুদগা বা মাংসপিণ্ডে পরিণত হলে বিক্রিটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত হবে। কারণ সে এমন একজন দাসীকে বিক্রি করেছে, যার একটি অংশ আল্লাহর জ্ঞানে গঠিত মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছিল। গর্ভধারণের সূচনা থেকে গর্ভের বস্তু বেরিয়ে আসা পর্যন্ত সেটি সন্তান হিসেবে গণ্য হলে নারীটিও উম্মে ওয়ালাদ হিসেবে গণ্য হবে।
সাফল্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।


আল-ইস্তিযকার: সাহাবিদের গভীর মতভেদের ধ্রুপদী দলিল

পরবর্তী দীর্ঘ উদ্ধৃতিটি আন্দালুসের প্রখ্যাত মালিকি ফকিহ ও মুহাদ্দিস আবু উমর ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবির (৩৬৮–৪৬৩ হিজরি) বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইস্তিযকার আল-জামি‘ লি-মাযাহিব ফুকাহা আল-আমসার ওয়া উলামা আল-আকতার থেকে নেওয়া। সংক্ষেপে গ্রন্থটি আল-ইস্তিযকার নামে পরিচিত। এটি ইমাম মালিকের আল-মুআত্তা-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধ্রুপদী ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ইবনে আবদুল বার এতে শুধু মালিকি মাযহাবের সিদ্ধান্ত লেখেননি; হাদিসের সনদ, সাহাবি ও তাবিয়িদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের পরস্পরবিরোধী মতও তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণ করেছেন। তাই কোনো বিতর্কিত ফিকহি বিধানের প্রাথমিক ইতিহাস ও মতভেদ বোঝার ক্ষেত্রে গ্রন্থটির প্রমাণমূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। [18] [19]

উম্মে ওয়ালাদ প্রসঙ্গে আল-ইস্তিযকার-এর আলোচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইবনে আবদুল বার পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ মত উল্লেখ করেই থেমে যাননি; এই বিধানকে ঘিরে সাহাবি ও ফকিহদের প্রকৃত বিরোধও স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি একদিকে উমর, উসমান, মালিক, আবু হানিফা, আহমদ এবং অধিকাংশ পরবর্তী ফকিহের বিক্রিবিরোধী মত উল্লেখ করেছেন; অন্যদিকে পরিষ্কারভাবে লিখেছেন যে, আবু বকর, আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, জাবির এবং আবু সাঈদ খুদরি উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা বৈধ মনে করতেন। এমনকি শাফিঈ তাঁর কোনো কোনো গ্রন্থে বিক্রির অনুমতি দিয়েছিলেন বলেও এখানে উল্লেখ রয়েছে। আল-আওসাত-ও স্বীকার করে যে প্রাথমিক যুগের একটি দল বিক্রয় বৈধ বলেছিল। অতএব “সব সাহাবি একমত হয়ে উমরের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন”—এই দাবি তথ্যের সঙ্গে মেলে না। [20]

গ্রন্থটিতে জাবির ও আবু সাঈদের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে যে, তারা মুহাম্মদের জীবদ্দশায় উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করতেন। আবদুর রাজ্জাকের বর্ণনায় আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নবী তখন তাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন এবং তারা এই কাজে কোনো দোষ দেখতেন না। সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো, আবু বকরের শাসনামলে উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা হতো এবং উমর নিজেও তাঁর শাসনামলের অর্ধেক সময় পর্যন্ত এই বিক্রির পক্ষে ছিলেন। অর্থাৎ উমরের নিষেধাজ্ঞা নবীর মৃত্যুর পরপরই কার্যকর থাকা কোনো পরিচিত নববী বিধানের বাস্তবায়ন ছিল না; এটি তাঁর নিজের শাসনামলের মাঝামাঝি সময়ে গৃহীত একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক-আইনি সিদ্ধান্ত।

ইবনে আবদুল বার কথিত নববী নিষেধাজ্ঞাগুলোর হাদিসগত দুর্বলতাও গোপন করেননি। মারিয়া কিবতিয়া ইবরাহিমকে জন্ম দেওয়ার পর মুহাম্মদ নাকি বলেছিলেন, “তার সন্তান তাকে মুক্ত করে দিয়েছে”—এই বর্ণনার সূত্রকে তিনি দুর্বল বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে হাদিসবিশারদরা এটিকে প্রমাণিত মনে করেন না। একইভাবে, “যে নারী তার মালিকের সন্তান প্রসব করেছে, মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হয়ে যাবে”—এই কথাটিকে নবীর নামে প্রচারিত বর্ণনাও তিনি সনদের দিক থেকে অসহিহ বলেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্ণনাটির একক রাবি হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ দুর্বল ও পরিত্যক্ত। অতএব উম্মে ওয়ালাদের বিক্রি নিষিদ্ধ এবং মালিকের মৃত্যুর পর স্বয়ংক্রিয় মুক্তির বিধানকে সরাসরি মুহাম্মদের নির্ভরযোগ্য নির্দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল।

আলীর অবস্থান এই বিশৃঙ্খলাকে আরও প্রকট করে। আল-ইস্তিযকার-এ সংরক্ষিত বর্ণনা অনুযায়ী, আলী প্রথমে উমরের সঙ্গে উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিলেন। উমর ও তাঁর পরে উসমান সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। কিন্তু আলী শাসনক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের মত পরিবর্তন করে তাদের পুনরায় দাসী হিসেবে রাখার অথবা বিক্রির পক্ষে অবস্থান নেন। এই বর্ণনা প্রমাণ করে যে, এখানে কোনো অপরিবর্তনীয় ও সবার জানা ঐশী আইন কার্যকর ছিল না; ছিল ক্ষমতাসীন খলিফা, সাহাবি ও পরবর্তী ফকিহদের পরস্পরবিরোধী মানবীয় সিদ্ধান্ত।

সবশেষে, আল-ইস্তিযকার স্পষ্ট করে যে বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও উম্মে ওয়ালাদ স্বাধীন নারী হয়ে যান না। মালিকের মৃত্যুর আগে তার সাক্ষ্য, রক্তপণ, অপরাধের ক্ষতিপূরণ এবং ব্যভিচারের শাস্তি সাধারণ দাসীর বিধানেই নির্ধারিত হয়। ব্যভিচার করলে তার ওপর স্বাধীন নারীর নয়, দাসীর জন্য নির্ধারিত হদ্দ শাস্তি কার্যকর হবে। অর্থাৎ “বিক্রি করা যাবে না” কথাটিকে স্বাধীনতা হিসেবে উপস্থাপন করা প্রতারণা। নারীটি তখনো দাসী, মালিকানাধীন এবং বৈষম্যমূলক দাস-আইনের অধীন; কেবল বর্তমান মালিক তাকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে পারে না।

1509 [ ص: 152 ] ( 5 ) باب عتق أمهات الأولاد وجامع القضاء في العتاقة
1481 – مالك عن نافع ، عن عبد الله بن عمر ; أن عمر بن الخطاب قال : أيما وليدة ولدت من سيدها ، فإنه لا يبيعها ولا يهبها ولا يورثها ، وهو يستمتع بها ، فإذا مات فهي حرة .
التالي السابق
الشرح
33891 – قال أبو عمر : اختلف السلف والخلف من العلماء في عتق أم الولد ، وفي جواز بيعها :
33892 – فالثابت عن عمر – رضي الله عنه – أنها لا تباع عنده أبدا ، وأنها حرة من رأس مال سيدها .
33893 – وروي مثل ذلك عن عثمان بن عفان ، وعمر بن عبد العزيز .
33894 – وهو قول الحسن ، وعطاء ، ومجاهد ، وسالم بن عبد الله بن عمر ، وإبراهيم ، وابن شهاب .
[ ص: 153 ] 33895 – وإلى هذا ذهب مالك ، والثوري ، والأوزاعي ، والليث بن سعد ، وأبو حنيفة ، والشافعي في أكثر كتبه ، وقد أجاز بيعها في بعض كتبه .
33896 – قال المزني : قد قطع في أربعة عشر موضعا في كتبه بأن لا تباع ، وهو الصحيح من مذهبه ، وعليه جمهور أصحابه ، وأبو يوسف ، ومحمد ، وزفر ، والحسن بن حي ، وأحمد ، وإسحاق وأبو عبيد ، وأبو ثور ، كلهم لا يجوز عندهم بيع أم الولد .
33897 – وكان أبو بكر الصديق ، وعلي ، وابن عباس ، وابن الزبير ، وجابر بن عبد الله ، وأبو سعيد الخدري – رضي الله عنهم يجيزون بيع أم الولد .
33898 – وبه قال داود بن علي .
33899 – وقال جابر ، وأبو سعيد : كنا نبيع أمهات الأولاد على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم .
33900 – ذكر عبد الرزاق ، قال : أخبرنا ابن جريج ، قال : أخبرنا أبو الزبير أنه سمع جابر بن عبد الله يقول : كنا نبيع أمهات الأولاد ، ورسول الله صلى الله عليه وسلم فينا ، لا يرى بذلك بأسا .
[ ص: 154 ] 33901 – قال : وأخبرنا ابن جريج ، قال : وأخبرنا عبد الرحمن بن الوليد أن أبا إسحاق الهمداني أخبره أن أبا بكر الصديق – رضي الله عنه – كان يقول ببيع أمهات الأولاد في إمارته ، وعمر في نصف إمارته .
33902 – وقال ابن مسعود : تعتق في نصف ولدها ، وذي بطنها .
33903 – وقد روي ذلك عن ابن عباس ، وابن الزبير .
33904 – قال أبو عمر : روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال في مارية سريته ، لما ولدت ابنه إبراهيم : ( ( أعتقها ولدها ) ) مع وجه ليس بالقوي ، ولا يثبته أهل الحديث .
33905 – وكذلك حديث ابن عباس ، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال : ( ( أيما امرأة ولدت من سيدها ، فهي حرة إذا مات ) ) .
33906 – ولا يصح أيضا من جهة الإسناد ; لأنه انفرد به حسين بن عبد الله [ ص: 155 ] بن عبيد الله بن عباس ، عن عكرمة ، عن ابن عباس ، عن النبي صلى الله عليه وسلم ، وحسين هذا ضعيف متروك الحديث .
33907 – والصحيح عن عكرمة أنه سئل عن أم الولد ؟ فقال : هي حرة إذا مات سيدها ، فقيل له : عمن هذا ؟ قال : عن القرآن ، قال : كيف ؟ فقال : قال الله عز وجل : يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم [ ص: 156 ] [ النساء : 59 ] ، وكان عمر من أولي الأمر ، قال : يعتقها ولدها ، ولو كان سقطا .
33908 – ذكر أبو بكر بن أبي شيبة ، قال : حدثنا أبو خالد الأحمر ، عن يحيى بن سعيد ، قال : أخبرني نافع ، أن رجلين من أهل العراق سألا ابن عمر بالأبواء ، وقالا : إنا كنا تركنا ابن الزبير يبيع أمهات الأولاد بمكة ، فقال : عبد الله : لكن أبا حفصة عمر – أتعرفانه ؟ – قال : أيما رجل ولدت منه جاريته ، فهي حرة بعد موته ) ) .
33909 – قال : وحدثني أبو خالد الأحمر ، عن إسماعيل بن أبي خالد عن الشعبي ، عن عبيدة السلماني ، عن علي رضي الله عنه ، قال : استشارني عمر في بيع أمهات الأولاد ، فرأيت أنا وهو أنها إذا ولدت عتقت ، فقضى به عمر حياته ، وعثمان بعده ، فلما وليته رأيت أن أرقهن .
قال الشعبي : وحدثني ابن سيرين ، عن عبيدة أنه قال له : فما ترى أنت ؟ فقال : رأي علي وعمر في الجماعة أحب إلي من قول علي حين أدركه الاختلاف .
33910 – وروى معمر ، وغيره عن أيوب ، عن ابن سيرين ، عن عبيدة [ ص: 157 ] السلماني ، قال : سمعت عليا يقول : اجتمع رأيي ورأي عمر في أمهات الأولاد أن لا يبعن .
قال : ثم رأيت بعد أن يبعن .
قال عبيدة : فقلت له : رأيك ورأي عمر في الجماعة أحب إلي من رأيك وحدك في الفرقة ، أو قال في الفتنة ، فضحك علي – رضي الله عنه .
33911 – أخبرنا عبد الوارث بن سفيان ، قال : أخبرنا قاسم بن أصبغ ، قال : حدثنا أحمد بن زهير ، قال : أخبرنا عبد الله بن جعفر ، قال : حدثنا عبيد الله بن محمد بن عمرو ، عن خصيف ، عن عكرمة ، عن ابن عباس ، عن عمر ، قال : إذا أسقطت فإنها بمعنى الحرة .
33912 – قال أبو عمر : يعني في البيع ; لأن الإجماع قد انعقد أنها لا تعتق قبل موت سيدها ، وأنها في شهادتها وديتها ، وأرش جنايتها كالأمة ، وقد بان مذهب عمر بما ذكرنا في رواية مالك بن نافع ، عن ابن عمر عنه في أول هذا الباب .
33913 – وذكر عبد الرزاق ، عن ابن جريج ، قال : سئل ابن شهاب عن أم الولد تزني : أيبيعها سيدها ؟ قال : لا يصلح له أن يبيعها سيدها ، ولكن يقام عليها حد [ ص: 158 ] الأمة .
33914 – وروى الثوري ، عن أبي حصين ، عن مجاهد ، قال : لا يرقها حدث .
33915 – ومعمر ، عن أيوب ، عن إياس بن معاوية أنه كتب إلى عمر بن عبد العزيز في أم الولد تزني ، قال : فأراني إياس جواب عمر : أن أقم عليها الحد ، لا تزدها عليه ، ولا تسترق .
33916 – قال أبو عمر : ذكرت هذا ; لأنه قد روى معمر ، عن أيوب ، عن ابن سيرين ، عن أبي العجماء ، عن عمر أنها إذا زنت رقت ، وجمهور العلماء القائلين بأن لا تباع أم الولد على خلاف هذا الحديث ، يرون عليها إقامة الحد حد الأمة ، ولا تسترق .
33917 – قال أبو عمر : احتج الذين أجازوا بيع أم الولد من أهل الظاهر بأن قالوا : قد أجمعوا على أنها تباع قبل أن يحمل ، ثم اختلفوا إذا وضعت :
33918 – فالواجب بحق النظر ألا يزول حكم ما أجمعوا عليه مع جواز بيعها ، وهي حامل ، إلا بإجماع مثله إذا وضعت ، ولا إجماع هاهنا ، فعورضوا
[ ص: 159 ] بأن الأمة مجمعة على أنه لا يجوز بيعها ، وهي حامل من سيدها ، فمن ذلك لا يجوز بيعها ، وهي معارضة صحيحة على أصول أهل الظاهر دون سائر القائلين بزوال ما اعتل بزوال علته ، والقائسين على المعاني ، لا على الأسماء ، وبالله التوفيق .

১৫০৯ [পৃষ্ঠা ১৫২]
৫. উম্মে ওয়ালাদদের মুক্তি এবং দাসমুক্তিসংক্রান্ত বিচার-বিধানের সমন্বিত অধ্যায়
১৪৮১ — মালিক, নাফি‘ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন:
যে দাসী তার মালিকের সন্তান প্রসব করেছে, মালিক তাকে বিক্রি করতে পারবে না, দান করতে পারবে না এবং উত্তরাধিকারসূত্রেও হস্তান্তর করতে পারবে না। মালিক তার দ্বারা উপকৃত হবে। মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা
৩৩৮৯১ — আবু উমর বলেছেন: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের আলেমরা উম্মে ওয়ালাদের মুক্তি এবং তাকে বিক্রি করা বৈধ কি না—এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
৩৩৮৯২ — উমর (রা.) থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত মত হলো, তাঁর মতে উম্মে ওয়ালাদকে কখনো বিক্রি করা যাবে না এবং মালিক মারা গেলে মালিকের মূল সম্পত্তি থেকে সে স্বাধীন হয়ে যাবে।
৩৩৮৯৩ — উসমান ইবনে আফফান এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে।
৩৩৮৯৪ — হাসান, আতা, মুজাহিদ, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, ইবরাহিম এবং ইবনে শিহাবও একই মত পোষণ করেছেন।
[পৃষ্ঠা ১৫৩]
৩৩৮৯৫ — মালিক, সাওরি, আওযায়ি, লাইস ইবনে সা‘দ, আবু হানিফা এবং শাফিঈ তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থে এই মত গ্রহণ করেছেন। তবে শাফিঈ তাঁর কোনো কোনো গ্রন্থে উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির অনুমতিও দিয়েছেন।
৩৩৮৯৬ — মুযানি বলেছেন: শাফিঈ তাঁর গ্রন্থের চৌদ্দটি স্থানে নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, উম্মে ওয়ালাদকে বিক্রি করা যাবে না। এটিই তাঁর মাযহাবের সঠিক মত। তাঁর অধিকাংশ অনুসারীও এই মত গ্রহণ করেছেন। আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, যুফার, হাসান ইবনে হাই, আহমদ, ইসহাক, আবু উবাইদ এবং আবু সাওর—তাদের কারও মতেই উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা বৈধ নয়।
৩৩৮৯৭ — অন্যদিকে আবু বকর সিদ্দিক, আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ এবং আবু সাঈদ খুদরি (রা.) উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা বৈধ মনে করতেন।
৩৩৮৯৮ — দাউদ ইবনে আলীও একই মত পোষণ করেছেন।
৩৩৮৯৯ — জাবির ও আবু সাঈদ বলেছেন:
আমরা আল্লাহর রাসুলের যুগে উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতাম।
৩৩৯০০ — আবদুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, আবু যুবাইর তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন:
আমরা উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতাম। আল্লাহর রাসুল তখন আমাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন এবং আমরা এতে কোনো দোষ দেখতাম না।
[পৃষ্ঠা ১৫৪]
৩৩৯০১ — তিনি বলেছেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে ওয়ালিদ তাকে জানিয়েছেন যে, আবু ইসহাক হামদানি তাকে বলেছেন—আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাঁর শাসনামলে উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির পক্ষে মত দিতেন। উমরও তাঁর শাসনামলের অর্ধেক সময় পর্যন্ত একই মত পোষণ করতেন।
৩৩৯০২ — ইবনে মাসউদ বলেছেন: উম্মে ওয়ালাদ তার সন্তানের অর্ধাংশ এবং তার গর্ভস্থ সন্তানের অংশ থেকে মুক্ত হবে।
৩৩৯০৩ — ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবাইর থেকেও এই মত বর্ণিত হয়েছে।
৩৩৯০৪ — আবু উমর বলেছেন: নবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর দাসী মারিয়া যখন তাঁর পুত্র ইবরাহিমকে জন্ম দেন, তখন তিনি বলেছিলেন:
তার সন্তান তাকে মুক্ত করে দিয়েছে।
কিন্তু বর্ণনাটি এমন একটি সূত্রে এসেছে, যা শক্তিশালী নয় এবং হাদিসবিশারদরা এটিকে প্রমাণিত বলে গ্রহণ করেন না।
৩৩৯০৫ — একইভাবে ইবনে আব্বাসের সূত্রে নবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
যে নারী তার মালিকের সন্তান প্রসব করেছে, মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হয়ে যাবে।
৩৩৯০৬ — এই বর্ণনাটিও সনদের দিক থেকে সহিহ নয়। কারণ হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এককভাবে ইকরিমা, ইবনে আব্বাস ও নবীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এই হুসাইন দুর্বল এবং তার হাদিস পরিত্যক্ত।
[পৃষ্ঠা ১৫৫]
৩৩৯০৭ — ইকরিমা থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত বর্ণনা হলো, তাকে উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:
মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হয়ে যাবে।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো:
আপনি কার কাছ থেকে এই বিধান পেয়েছেন?
তিনি বললেন:
কোরআন থেকে।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো:
কীভাবে?
তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের আনুগত্য করো।”[ সুরা আন-নিসা, ৪:৫৯ ]
উমর কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি বলেছেন, উম্মে ওয়ালাদের সন্তান তাকে মুক্ত করে দেবে—এমনকি সন্তানটি গর্ভপাত হয়ে গেলেও।
৩৩৯০৮ — আবু বকর ইবনে আবি শাইবা উল্লেখ করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে আমাদের জানিয়েছেন। ইয়াহইয়া বলেছেন, নাফি‘ আমাকে জানিয়েছেন যে, ইরাকের দুজন ব্যক্তি আবওয়া নামক স্থানে ইবনে উমরকে জিজ্ঞেস করেছিল। তারা বলেছিল:
আমরা ইবনে যুবাইরকে মক্কায় উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করতে দেখে এসেছি।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর বললেন:
কিন্তু আবু হাফস উমর—তোমরা কি তাকে চেনো?—বলেছেন: যে ব্যক্তির দাসী তার সন্তান প্রসব করেছে, সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর দাসীটি স্বাধীন হয়ে যাবে।
৩৩৯০৯ — তিনি আরও বলেছেন: আবু খালিদ আল-আহমার, ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, শা‘বি, উবাইদা সালমানি এবং আলী (রা.)-এর সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন। আলী বলেছেন:
উমর উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির বিষয়ে আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন। আমি এবং তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে, দাসী সন্তান প্রসব করলেই তার জন্য মুক্তির বিধান কার্যকর হবে। উমর তাঁর জীবদ্দশায় এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিচার করেছেন এবং তাঁর পরে উসমানও একই বিধান কার্যকর করেছেন। কিন্তু আমি যখন শাসনক্ষমতা গ্রহণ করলাম, তখন তাদের দাসী হিসেবেই রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম।
শা‘বি বলেছেন: ইবনে সিরিন, উবাইদার সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি উবাইদাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:
এ বিষয়ে আপনার মত কী?
উবাইদা বলেছিলেন:
আলী ও উমর ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় যে মত দিয়েছিলেন, মতভেদ সৃষ্টি হওয়ার পর আলী এককভাবে যে মত দিয়েছেন—তার চেয়ে তাদের দুজনের সম্মিলিত মতই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।
৩৩৯১০ — মা‘মার ও অন্যরা আইয়ুব, ইবনে সিরিন এবং উবাইদা সালমানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। উবাইদা বলেছেন, আমি আলীকে বলতে শুনেছি:
উম্মে ওয়ালাদদের বিক্রি করা যাবে না—এ বিষয়ে আমার ও উমরের মত এক হয়েছিল। কিন্তু পরে আমার মত হলো, তাদের বিক্রি করা যাবে।
উবাইদা বলেন:
আমি তাকে বললাম, ঐক্যের সময়ে আপনার ও উমরের সম্মিলিত মত, বিভক্তি—অথবা তিনি বলেছেন, ফিতনার—সময়ে আপনার একক মতের চেয়ে আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।
এ কথা শুনে আলী (রা.) হেসেছিলেন।
[পৃষ্ঠা ১৫৭]
৩৩৯১১ — আবদুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন, কাসিম ইবনে আসবাগ তাকে জানিয়েছেন, আহমদ ইবনে যুহাইর তাকে জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তাকে জানিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর খুসাইফ, ইকরিমা, ইবনে আব্বাস এবং উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। উমর বলেছেন:
দাসী গর্ভপাত করলেও বিক্রির ক্ষেত্রে সে স্বাধীন নারীর সমতুল্য হয়ে যাবে।
৩৩৯১২ — আবু উমর বলেছেন: এখানে বিক্রির বিধানের ক্ষেত্রে স্বাধীন নারীর সমতুল্য হওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। কারণ এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, মালিকের মৃত্যুর আগে উম্মে ওয়ালাদ স্বাধীন হয় না। সাক্ষ্য, রক্তপণ এবং তার অপরাধের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও তার বিধান সাধারণ দাসীর মতোই। এই অধ্যায়ের শুরুতে মালিক, নাফি‘, ইবনে উমর ও উমরের সূত্রে আমরা যে বর্ণনা উল্লেখ করেছি, তা থেকে উমরের মত স্পষ্ট হয়ে গেছে।
৩৩৯১৩ — আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জুরাইজের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে শিহাবকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
কোনো উম্মে ওয়ালাদ ব্যভিচার করলে তার মালিক কি তাকে বিক্রি করতে পারবে?
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন:
মালিকের জন্য তাকে বিক্রি করা বৈধ নয়। তবে তার ওপর দাসীর জন্য নির্ধারিত হদ্দ শাস্তি কার্যকর করা হবে।
[পৃষ্ঠা ১৫৮]
৩৩৯১৪ — সাওরি, আবু হাসিন ও মুজাহিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুজাহিদ বলেছেন:
কোনো পরবর্তী ঘটনাই তাকে পুনরায় সম্পূর্ণ দাসীতে পরিণত করবে না।
৩৩৯১৫ — মা‘মার, আইয়ুব ও ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াস উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে ব্যভিচারকারী উম্মে ওয়ালাদ সম্পর্কে লিখেছিলেন। ইয়াস বলেছেন:
তিনি আমাকে উমরের উত্তর দেখিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল: তার ওপর নির্ধারিত হদ্দ শাস্তি কার্যকর করো; এর অতিরিক্ত কিছু করো না এবং তাকে পুনরায় সাধারণ দাসীতে পরিণত কোরো না।
৩৩৯১৬ — আবু উমর বলেছেন: আমি এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছি, কারণ মা‘মার, আইয়ুব, ইবনে সিরিন এবং আবু আল-আজমার সূত্রে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো উম্মে ওয়ালাদ ব্যভিচার করলে সে পুনরায় সাধারণ দাসীতে পরিণত হবে। কিন্তু যেসব আলেম উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা নিষিদ্ধ মনে করেন, তাদের অধিকাংশই এই বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, তার ওপর দাসীর হদ্দ শাস্তি কার্যকর হবে, কিন্তু তাকে পুনরায় সাধারণ দাসীর মর্যাদায় নামিয়ে আনা হবে না।
৩৩৯১৭ — আবু উমর বলেছেন: আহলে জাহিরের যেসব আলেম উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি করা বৈধ মনে করেছেন, তারা যুক্তি দিয়েছেন:
আলেমরা একমত যে, দাসী গর্ভধারণের আগে তাকে বিক্রি করা বৈধ। কিন্তু সন্তান প্রসবের পর তার বিক্রয়যোগ্যতা নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন।
৩৩৯১৮ — অতএব তাদের যুক্তি অনুযায়ী, বিচার-বিশ্লেষণের দাবি হলো—যে বিধানের ওপর সবাই একমত ছিল, তা আগের অবস্থাতেই বহাল থাকবে। গর্ভবতী অবস্থাতেও যেহেতু তাকে বিক্রি করা বৈধ ছিল, তাই সন্তান প্রসবের পর সেই বিধান বাতিল করতে হলে অনুরূপ আরেকটি ঐকমত্য প্রয়োজন। কিন্তু এখানে এমন কোনো ঐকমত্য নেই।
এর জবাবে তাদের বলা হয়েছে:
মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত যে, কোনো দাসী তার মালিকের সন্তান গর্ভে ধারণ করলে তাকে বিক্রি করা বৈধ নয়। অতএব সন্তান প্রসবের পরও তাকে বিক্রি করা বৈধ হবে না।
আহলে জাহিরের নিজস্ব মূলনীতি অনুসারে এটি তাদের যুক্তির যথার্থ জবাব। তবে যেসব আলেম মনে করেন, কোনো বিধানের কারণ বিলুপ্ত হলে সেই বিধানও বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং যারা কেবল নামের ভিত্তিতে নয়, বরং অন্তর্নিহিত কারণ ও অর্থের ভিত্তিতে কিয়াস করেন—তাদের ক্ষেত্রে এই জবাব প্রযোজ্য নয়।
সাফল্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

বিষয়টি কতটা অনির্ধারিত ছিল তার আরেকটি প্রমাণ ইবনে কাসিরের স্বতন্ত্র গ্রন্থ জুয্‌ ফি বাই‘ উম্মাহাতিল আওলাদ। গ্রন্থটির সূচিতে শুধু “বিক্রি বৈধ” ও “অবৈধ”—এই দুই মত নয়; মালিক জীবিত থাকলে বিক্রি, ঋণের কারণে বিক্রি, সন্তানের অংশ থেকে মূল্য নির্ধারণ, মুক্তির শর্তে বিক্রি, ব্যভিচার করলে বিক্রি এবং সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখাসহ আটটি পৃথক অবস্থান সাজানো হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা নিয়ে ঐশী বিধান যদি সত্যিই সুস্পষ্ট হতো, তবে একটি নারীর বিক্রয়যোগ্যতা নির্ধারণে আট ধরনের পরস্পরবিরোধী আইন জন্মাত না। [21]


বিক্রি নিষিদ্ধ, কিন্তু মালিকানা ও যৌন অধিকার অক্ষত

উমরের বিধানকে দাসীমুক্তির কোনো মানবিক বিপ্লব হিসেবে দেখানো মিথ্যা। এই বিধান নারীটিকে তাৎক্ষণিক স্বাধীনতা দেয় না; শুধু তাকে অন্য মালিকের কাছে বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তর বন্ধ করে। বর্তমান মালিক জীবিত থাকা পর্যন্ত তার ওপর মালিকানা বহাল থাকে। সে তার সঙ্গে সহবাস করতে পারে, তাকে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ দিতে পারে, শ্রমে নিযুক্ত করতে পারে এবং তার উপার্জন গ্রহণ করতে পারে। আল-মুগনি-তে ইবনে কুদামা সরাসরি লিখেছেন, উম্মে ওয়ালাদ “মালিকানাধীন এবং তার দ্বারা উপকৃত হওয়া হয়”; তাই মালিক তাকে বিবাহ দিতে ও ভাড়া খাটাতে পারে। [22]

হানাফি ফিকহের ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী এই সম্পত্তিগত ক্ষমতার তালিকা আরও খোলামেলাভাবে দিয়েছে। বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও শ্রম নেওয়া, উপার্জনে লাগানো, বিনিয়োগ করা, উপভোগ করা এবং সহবাস করা বৈধ; আয়, পারিশ্রমিক ও মোহরও মালিকের। অর্থাৎ নিষিদ্ধ হয়েছে নারীটির মালিক বদল, নারীটির ওপর মালিকানা নয়। [23]

বাঁদী উম্মে ওয়ালাদ হওয়ার বিবরণ
১. মাসআলা: বাঁদী যদি নিজ মনিবের ঔরসে সন্তান প্রসব করে তাহলে সে মনিবের উন্মে
ওয়ালাদ (সন্তানের মাতা) হয়ে যাবে। চাই সন্তানটি জীবিত হোক অথবা মৃত কিংবা গর্ভচ্যুত এমন অসম্পূর্ণ সন্তান যার শারীরিক গঠন পরিপূর্ণ হয়েছে অথবা আংশিক ভাবে প্রকাশ পেয়েছে, মনিব যদি এটাকে নিজ সন্তান হওয়ার স্বীকারোক্তি করে তাহলে উক্ত গর্ভচ্যুত অসম্পূর্ণ সন্তানটিও বাঁদীর উম্মে ওয়ালাদ হওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ গঠন সম্পন্ন একটি জীবিত সন্তানের পর্যায়ভুক্ত হবে। আর যদি গর্ভচ্যুত সন্তানটি শারীরিক গঠন বিহীন হয়, যেমন কোন গোশতপিণ্ড অথবা জমাটবদ্ধ রক্তপিণ্ড কিংবা অন্য কিছুর টুকরার গর্ভপাত ঘটায় এবং মনিব দাবী করে যে, এটা আমার বীর্যফল তাহলে এ ক্ষেত্রে উক্ত বাঁদী তার উম্মে ওয়ালাদ হবে না (সিরাজুল ওয়াহ্হাজ)।
২. মাসআলা: উম্মে ওয়ালাদকে বিক্রি করা জাইয নেই। অনুরূপ তার মধ্যে প্রত্যেক ঐ সমস্ত তাসাররূফ করা জাইয নেই যা উম্মে ওয়ালাদ হওয়া সূত্রে অর্জিত আযাদীর হক বাতিল করে দেয় যেমন তাকে হিবা করা, সাদাকা করা, কারোর জন্য ওসীয়্যত করা ও বন্ধক রাখা ইত্যাদি। যে সকল তাসাররূফের কারণে এ অধিকারটি বাতিল হয় না তা জাইয আছে। যেমন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমে নিযুক্ত করা, তার থেকে খিদমত নেওয়া, তাকে উপার্জনে লাগানো, বিনিয়োগ করা, উপভোগ করা এবং তার সাথে সহবাস করা ইত্যাদি। পারিশ্রমিক, আয়-উপার্জন, মোহর ইত্যাদির হকদার মনিব হবে।
৩. মাসআলা: বিচারক যদি উম্মে ওয়ালাদকে বিক্রি করার হুকুম দেয় তাহলে তা কার্যকর হবে না। বরং তা কার্যকর হওয়া বা বাতিল হওয়া অন্য আরেক বিচারকের ফায়সালার উপর স্থগিত থাকবে। (সে আগের বিচারকের হুকুম বহাল রাখলে কার্যকর হবে আর বাতিল করে দিলে বাতিল হবে) (যখীরা)।
৪. মাসআলা: মনিব ইচ্ছা করলে উম্মে ওয়ালাদকে বিবাহ দিতে পারবে তবে এক হাইযের মাধ্যমে তার গর্ভাশয় পরিষ্কার করা ব্যতীত তাকে বিবাহ দেওয়া তার জন্য বৈধ হবে না (বাদাঈ)। মনিব যদি গর্ভাশয় পরিষ্কারের আগে তাকে বিবাহ দেয়, তারপর ছয় মাসের কম সময়ের মাঝে একটি সন্তান প্রসব করে তাহলে তার নসব মনিবের সাথে সাব্যস্ত হবে। উক্ত বিবাহ ফাসিদ হবে। যদি ছয়মাসের বেশী সময়ের ব্যবধানে সন্তান প্রসব করে তাহলে তার নসব স্বামী থেকে সাব্যস্ত হবে। যদি মনিব উক্ত সন্তানের নসবের দাবী করে তবে তাহলে মনিবের স্বীকারোক্তির কারণে সে আযাদ হয়ে যাবে। কিন্তু তার নসব স্বামী থেকেই সাব্যস্ত হবে (মাবসূত)।

ওয়ালাদ 9

এই বিধানে নারীটি নিজের শ্রম, যৌনতা, বিবাহ বা উপার্জনের স্বাধীন নিয়ন্ত্রক নন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও তার দেহের ওপর সিদ্ধান্ত নেন মালিক; এমনকি তাকে অন্যত্র বিবাহ দিলে সেই বিবাহের মোহরও নারীটির নয়, মালিকের সম্পদ। এটি “মায়ের মর্যাদা বৃদ্ধি” নয়; এটি এমন এক দাসত্ব, যেখানে মালিকের মৃত্যুকে ভবিষ্যৎ মুক্তির তারিখ বানিয়ে বর্তমান শোষণকে বৈধ রাখা হয়েছে। দাসীর সঙ্গে সহবাসে স্বাধীন ও প্রত্যাহারযোগ্য সম্মতি কেন অনুপস্থিত, তা সংশয় জ্ঞানকোষের দাসী সহবাসে সম্মতি বিষয়ক প্রবন্ধে বিস্তারিত দেখানো হয়েছে।


আলীর ভিন্নমত এবং ঐকমত্যের ভাঙন

উমরের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব। কিছু বর্ণনা অনুযায়ী তিনি প্রথমে উমরের সঙ্গে নিষেধের পক্ষে একমত ছিলেন, পরে মত বদলে উম্মে ওয়ালাদকে পুনরায় দাসত্বের সম্পূর্ণ বিধানের অধীন রাখার পক্ষে যান। আল-মাবসুত এই পরিবর্তন স্বীকার করেও আলীর বক্তব্যকে পুনর্ব্যাখ্যা করে কথিত ঐকমত্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল-ইস্তিযকার, আল-মুহাল্লা এবং তাহাবির আলোচনায় আলীর বিরোধিতা স্পষ্ট। [24] [25]

তাকে উত্তরে বলা হবে, মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী (র) আলী (রা)-এর পক্ষ থেকে আবূ বকর (রা) ও উমার (রা)-এর বিরোধিতা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে এই ব্যাখ্যা করেছেন। নতুবা বাস্তবরূপে তাঁর অভিমত তাঁদের দু’জনের অভিমতের পরিপন্থী ছিলো। আমাদের মতে আলী (রা)-এর ব্যাপারে এই ধারণা বৈধ নয় এবং এরূপ ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে এমন ধারণা করা যায় না। সুতরাং আলী (রা)-এর ব্যাপারে এই ধারণা কিভাবে করা যাবে? পক্ষান্তরে আলী (রা) অনেক বিষয়ে আবূ বকর (রা) ও উমার (রা)-এর বিরোধিতা করেছেন। এবং
অন্য কিছু বিষয়ে শুধু উমার (রা)-এর বিরোধিতা করেছেন। সেগুলো থেকে উম্মু ওয়ালাদ (সন্তান বিশিষ্ট দাসী) বিক্রি করাকে তিনি জায়িয মনে করতেন। পক্ষান্তরে উমার (রা) তাদের বিক্রিকে নিষেধ করে দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে আলী (রা) সাহাবাদের মাঝে ভাতার ব্যাপারে সমতা বিধানের পক্ষে ছিলেন।
অপর পক্ষে উমার (রা) তাদের অগ্রবর্তিতার ভিত্তিতে এক-কে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করতেন। আর নিশ্চিতরূপে আলী (রা) আল্লাহ্র ব্যাপারে সম্যকভাবে জ্ঞাত ছিলেন যে, তিনি জ্ঞাতসারে কোন বিষয়কে হক মনে করে এর পরিপন্থী কাজ করবেন। কিন্তু তিনি স্বজনদের হিস্যা সংক্রান্ত ব্যাপারে সেই হুকুমই জারী করেছেন, যা তার মতে হক ও ইনসাফপূর্ণ ছিলো। সুতরাং তিনি এ বিষয়ে আবু বকর (রা) ও উমার (রা)-এর বিরোধিতা করেন নাই। আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) আবু বকর (রা) ও উমার (রা)-এর জীবদ্দশায় তাদের সাথে কয়েকটি বিষয়ে বিরোধিতা করতেন। কিন্তু তাঁর এই বিরোধিতা দোষণীয় মনে করা হয়নি এবং না তারা দু’জনে তাঁকে এ থেকে নিষেধ করতেন। আর না তাঁরা তার উপর জবাবদিহিতা গ্রহণ করেছেন। অতঃপর এটা কিভাবে হতে পারে যে, অন্যের ইমাম হওয়া অবস্থায় তিনি বিরোধিতা করবেন, আর যখন তিনি স্বয়ং ইমাম হবেন তখন সেটাকে পরিত্যাগ করবেন? এটা আমাদের মতে অসম্ভব।

ওয়ালাদ 11

“ইজমা” দিয়ে ইতিহাস ঢাকার চেষ্টা

পরবর্তী ব্যাখ্যাকারদের একটি পরিচিত কৌশল হলো, উমর নিষেধ করার পর সাহাবিরা নীরব থাকায় সেটিকে ইজমা বা ঐকমত্য ঘোষণা করা। জারকানির শরহুল মুআত্তা-তে বলা হয়েছে, উমর নিষেধ করলে সবাই বিরত হওয়ায় তা ইজমায় পরিণত হয় এবং পরবর্তী বিরল ভিন্নমত ধর্তব্য নয়। কিন্তু এই যুক্তি বৃত্তাকার: প্রথমে বিরোধীদের “বিরল” বলে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তারপর অবশিষ্টদের ঐকমত্যকে প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। যখন আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইর, জাবির, আবু সাঈদ এবং অন্যদের ভিন্ন অবস্থান ইসলামি গ্রন্থেই নথিবদ্ধ, তখন ঐকমত্যের দাবি ইতিহাস নয়—পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে অতীতে চাপিয়ে দেওয়া। [26]

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেও নারীটির স্বাধীনতা কোনো জন্মগত অধিকার নয়। তার মুক্তি নির্ভর করে তিনটি পুরুষতান্ত্রিক শর্তের ওপর: তাকে একজন পুরুষের সম্পত্তি হতে হবে, সেই মালিকের সন্তান জন্ম দিতে হবে এবং মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সন্তান না হলে সে সাধারণ বিক্রয়যোগ্য দাসী; সন্তান হলেও জীবিত মালিকের যৌন ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত নয়। এমন বিধানকে “নারীর সম্মান” বলা শব্দের অর্থকেই ধ্বংস করা।


সন্তান স্বাধীন, মা মালিকানাধীন

উম্মে ওয়ালাদ ব্যবস্থার ভেতরে একটি মৌলিক শ্রেণিগত বৈষম্য কাজ করে। স্বাধীন পুরুষ মালিকের স্বীকৃত সন্তান স্বাধীন ও তার বংশের অংশ, কিন্তু যে নারী নিজের গর্ভে তাকে ধারণ ও জন্ম দিলেন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন নন। পিতৃত্ব সন্তানের মর্যাদা বদলায়; মাতৃত্ব মায়ের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না। নারীটি কেবল ভবিষ্যৎ মুক্তির একটি স্থগিত দাবি পান। এতে শিশুকে রক্ষা করা হলেও মাকে মানুষ হিসেবে নয়, সন্তানের পিতার সম্পত্তির বিশেষ শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে দাসীর গর্ভে যদি তার মালিকের নয়, অন্য পুরুষের সন্তান জন্মায়, ধ্রুপদী ফিকহে সেই সন্তানও সাধারণত মায়ের মালিকের দাসে পরিণত হয়। অর্থাৎ একই গর্ভ কখনো মালিকের সন্তান উৎপাদন করলে মায়ের বিক্রয় ঠেকায়, আবার অন্যের সন্তান উৎপাদন করলে মালিকের সম্পত্তি বৃদ্ধি করে। এই বংশগত দাসত্বের পূর্ণ আইনগত কাঠামো সংশয় জ্ঞানকোষের ইসলামে জন্মসূত্রে দাসদাসী হওয়া প্রবন্ধে দলিলসহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


দাসপ্রথা বিলোপ নয়, দাসীর বাজারমূল্যে আইনি পরিবর্তন

উম্মে ওয়ালাদের বিক্রি বন্ধ হওয়াকে ইসলামের দাসপ্রথা বিলোপের ধাপ বলা যায় না। বিলোপ মানে একজন মানুষের ওপর অন্য মানুষের মালিকানা অস্বীকার করা। এখানে মালিকানা স্বীকৃত, যৌন অধিকার স্বীকৃত, বিনা স্বাধীনতায় শ্রম নেওয়া স্বীকৃত, বিবাহ দেওয়ার ক্ষমতা স্বীকৃত এবং আয় আত্মসাৎ করাও স্বীকৃত। কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির দাসীকে পুনর্বিক্রয়ের বাজার থেকে সরানো হয়েছে। তাও নবীর জীবদ্দশায় নয়, উমরের পরবর্তী নীতির ফলে।

আধুনিক যুগেও দাসত্বের মৌলিক বৈধতা ইসলামি ফিকহ থেকে বাতিল হয়েছে—এমন কোনো কোরআনি আয়াত বা নববী নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং সমকালীন আলেমরা পরিস্থিতিগত স্থগিতাবস্থা, আন্তর্জাতিক চুক্তি বা বৈধ মুসলিম শাসকের অনুপস্থিতির কথা বলেন; মূল শরিয়তি বৈধতাকে মিথ্যা ঘোষণা করেন না। এই ধারাবাহিকতা সংশয় জ্ঞানকোষের আধুনিককালে দাসপ্রথার ইসলামিক বৈধতা প্রবন্ধে বিস্তারিত দেখানো হয়েছে।


নৈতিক মূল্যায়ন

এই বিধানের নৈতিক ব্যর্থতা কোনো আধুনিক শব্দের ভুল প্রয়োগ নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন। একজন নারী কি নিজ দেহ, শ্রম, যৌনতা ও সম্পর্কের মালিক, নাকি অন্য একজন পুরুষের সম্পত্তি? উম্মে ওয়ালাদ বিধান দ্বিতীয় উত্তরটিই দেয়। তার কিছু সুরক্ষা আছে, কিন্তু অধিকারভিত্তিক স্বাধীনতা নেই; তার ভবিষ্যৎ মুক্তি আছে, বর্তমান আত্মমালিকানা নেই। দাসত্বকে সামান্য সীমিত করলেই দাসত্ব ন্যায়সংগত হয় না—যেমন মানুষ বিক্রির একটি ধরন নিষিদ্ধ করলেই মানুষকে সম্পত্তি বানানো নৈতিক হয়ে যায় না।

“ইসলাম দাসীকে সন্তানের মা হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে”—এই প্রচারণা তাই অর্ধসত্যের আড়ালে নির্মিত প্রতারণা। পূর্ণ সত্য হলো: প্রথমে ইসলাম একজন স্বাধীনতাবঞ্চিত নারীকে মালিকের যৌন ব্যবহারের বস্তু করেছে; তার গর্ভে মালিকের সন্তান জন্মানোর পরও তাকে মালিকানাধীন রেখেছে; মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত তার শ্রম ও যৌনতা নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দিয়েছে; তারপর বিক্রয় নিষেধের সীমিত ব্যবস্থাকে “মর্যাদা” নামে সাজিয়েছে। নিপীড়নের একাংশ কমানো নিপীড়িতের মানবমর্যাদা স্বীকার করা নয়।


উপসংহার

উম্মে ওয়ালাদ বিধানের ইতিহাস ইসলামের কথিত সুস্পষ্ট, পূর্ণাঙ্গ ও অপরিবর্তনীয় নৈতিক আইনের দাবিকে ভেতর থেকেই ভেঙে দেয়। জাবির ও আবু সাঈদের বর্ণনায় মুহাম্মদের যুগে উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি হয়েছে; আবু বকরের শাসনামলেও সেই বিক্রি চলেছে; এমনকি উমরের শাসনের প্রথম অর্ধেও তা বৈধ ছিল। পরে উমর নিজের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। আলী প্রথমে তাঁর সঙ্গে একমত হলেও পরবর্তীকালে অবস্থান বদলে আবার বিক্রির অনুমতির দিকে যান। ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবাইরসহ একাধিক সাহাবি এবং পরবর্তী ফকিহরাও পরস্পরবিরোধী মত দিয়েছেন। কোনো সর্বজ্ঞ সত্তার কাছ থেকে নেমে আসা দ্ব্যর্থহীন মানবমুক্তির আইন এমন ঐতিহাসিক বিশৃঙ্খলা, বিলম্বিত নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতাসীনদের মতবদলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার কথা নয়।

হাদিসের অবস্থাও একইভাবে বিব্রতকর। নির্ভরযোগ্য সূত্রে যে বক্তব্যটি পাওয়া যায়, সেটি মুহাম্মদের নয়—উমরের সিদ্ধান্ত। বাইহাকি স্পষ্ট করেছেন, কোনো কোনো রাবি সেটিকে নবীর বক্তব্য হিসেবে মারফু করে ভুল করেছেন। ইবনে আবদুল বারও মারিয়া সম্পর্কে “তার সন্তান তাকে মুক্ত করেছে” এবং মালিকের মৃত্যুর পর উম্মে ওয়ালাদের মুক্তি-সংক্রান্ত কথিত নববী বর্ণনার সনদকে দুর্বল বা অসহিহ বলেছেন। অর্থাৎ পরবর্তী ফিকহে যে বিধানকে প্রায়ই ইসলামের মানবিক অনুগ্রহ হিসেবে প্রচার করা হয়, তার শক্ত ভিত্তি কোনো সুস্পষ্ট কোরআনিক দাসমুক্তির নির্দেশ কিংবা নির্ভরযোগ্য নববী নিষেধাজ্ঞা নয়; ভিত্তি হলো উমরের পরবর্তী প্রশাসনিক নীতি এবং সেই নীতিকে ঘিরে ফকিহদের দীর্ঘ দরকষাকষি।

আর বিক্রি বন্ধ হওয়াকেও স্বাধীনতা বলা যায় না। উম্মে ওয়ালাদ মালিকের জীবদ্দশায় দাসীই থাকত; মালিক তার সঙ্গে দাস-মালিকানার অধিকারে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত, তার শ্রম ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত এবং নিজের মৃত্যু পর্যন্ত তাকে মুক্ত না করেও রাখতে পারত। সাক্ষ্য, রক্তপণ, অপরাধের ক্ষতিপূরণ ও ব্যভিচারের শাস্তিতে তার ওপর স্বাধীন নারীর নয়, দাসীর বিধান কার্যকর হতো। যে ব্যবস্থায় একজন নারীকে অন্য বাজারে বিক্রি করা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও তার দেহ, শ্রম, যৌনতা ও আইনি মর্যাদা পুরুষ-মালিকের নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেটিকে “মর্যাদা প্রদান” বলা ইতিহাসকে ধুয়ে-মুছে দাসত্বের প্রচারণা বানানো ছাড়া আর কিছু নয়।

এই তথাকথিত সুবিধাটিও সব দাসী নারীর জন্য ছিল না; তা নির্ভর করত মালিকের ঔরসে সন্তান জন্মানো এবং সেই পিতৃত্ব স্বীকৃত হওয়ার ওপর। অর্থাৎ নারীর মানুষ হিসেবে জন্মগত স্বাধীনতা নয়, মালিকের যৌন ব্যবহার থেকে সন্তান উৎপাদনই তার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মুক্তির শর্ত। তাও মুক্তি সঙ্গে সঙ্গে নয়—মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এখানে নারী নিজের স্বাধীনতার দাবিদার কোনো পূর্ণ মানুষ নয়; সে প্রথমে যৌনভাবে ব্যবহারযোগ্য সম্পত্তি, পরে সন্তান জন্ম দিলে সীমিত হস্তান্তর-নিষেধে আবদ্ধ সম্পত্তি, এবং মালিক মরলে সম্ভাব্য মুক্ত নারী। এই স্তরভিত্তিক অমানবিকতাকে “ইসলাম ধীরে ধীরে দাসপ্রথা বিলোপ করেছে” বলে চালানো নিছক ঐতিহাসিক জালিয়াতি।

অতএব উম্মে ওয়ালাদ বিধান দাসপ্রথা বিলোপের দলিল নয়; এটি দাসপ্রথাকে টিকিয়ে রেখে একটি বিশেষ শ্রেণির নারী-সম্পত্তি কীভাবে কেনাবেচা, যৌন ব্যবহার, উত্তরাধিকার ও বিলম্বিত মুক্তির আওতায় থাকবে—তার ফিকহি ব্যবস্থাপত্র। এই ইতিহাসে ঐশী মানবমর্যাদার জয় নেই। আছে যুদ্ধবন্দী নারীর স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া, তাকে পুরুষের যৌন সম্পত্তিতে নামিয়ে আনা এবং পরে সেই সম্পত্তির হস্তান্তরযোগ্যতা নিয়ে মধ্যযুগীয় পুরুষদের অন্তহীন আইনগত তর্ক। নৈতিক বিচারে প্রশ্নটি কখনোই শুধু “তাকে বিক্রি করা যাবে কি না” নয়; প্রশ্নটি হলো, একজন মানুষকে আদৌ আরেকজন মানুষের মালিকানাধীন যৌন ও অর্থনৈতিক সম্পত্তি বানানো যাবে কীভাবে। ইসলামি ফিকহ এই মৌলিক অন্যায়টি বাতিল করেনি—বরং তার শর্ত, ব্যতিক্রম ও ব্যবস্থাপনা নির্মাণ করেছে।


তথ্যসূত্রঃ
  1. ইসলামে যুদ্ধবন্দি নারী বা দাসী ধর্ষণের বৈধতা প্রসঙ্গে: দাসীর সম্মতি কি জরুরি? ↩︎
  2. সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৩৯৫৪ ↩︎
  3. সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৫১৭ ↩︎
  4. বুলুগুল মারাম, হাদিস: ৭৯১-৭৯২ ↩︎
  5. তাহক্বীকু বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম, আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী, পৃষ্ঠা ৩৭২ ↩︎
  6. সুনানু ইবনে মাজাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩৫ ↩︎
  7. মুআত্তা মালিক, কিতাবুল ইতক ওয়াল-ওয়ালা, হাদিস ১৫০৯ ↩︎
  8. মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৯০, বর্ণনা ১৩২১৮—ইসলামওয়েব ↩︎
  9. সংশয় ইসলাম আর্কাইভ, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদিস ১৩,২১৮ ↩︎
  10. আত-তারিখুল কাবির ২/৩৮৮; সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর ২/৯০, বর্ণনা ২০৬০; আল-আওসাত ১১/৬০৭, বর্ণনা ৮৭৮৫ ↩︎
  11. سننه ↩︎
  12. الأوسط ↩︎
  13. সংশয় জ্ঞানকোষ—ইসলামের দাসবাজার ও নারীর শরীরের উন্মুক্ত নিলাম ↩︎
  14. আতিয়্যা ইবনে মুহাম্মদ সালিম, শরহ বুলুগুল মারাম ↩︎
  15. শরহ বুলুগুল মারাম: উমরের উম্মে ওয়ালাদ বিক্রি নিষেধের বর্ণনা ↩︎
  16. ما ملكت أيمانهم ↩︎
  17. ইবনে হাযম, আল-মুহাল্লা বিল-আসার, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২১৩–২১৬ ↩︎
  18. ইবনে আবদুল বার, আল-ইস্তিযকার ↩︎
  19. আল-ইস্তিযকার: উম্মে ওয়ালাদের মুক্তি ও বিক্রির বিধান ↩︎
  20. ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত, আহকামু উম্মাহাতিল আওলাদ ↩︎
  21. ইবনে কাসির, জুয্‌ ফি বাই‘ উম্মাহাতিল আওলাদ ↩︎
  22. ইবনে কুদামা, আল-মুগনি, উম্মে ওয়ালাদের বিধান ↩︎
  23. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩৭ ↩︎
  24. আস-সারাখসি, আল-মাবসুত, উম্মে ওয়ালাদ বিক্রির অধ্যায় ↩︎
  25. তাহাবী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০৮ ↩︎
  26. জারকানি, শরহুল মুআত্তা, উম্মে ওয়ালাদ অধ্যায় ↩︎

About This Article

Genre: Islamic Slavery Studies, Umm al-Walad Jurisprudence, Hadith Criticism, Comparative Fiqh, Gender and Sexual Ethics, and Historical Analysis of Islamic Law

Epistemic Position: Secular Humanism, Historical Criticism, Source Criticism, Feminist Ethics, Philosophical Skepticism, Anti-Slavery Analysis, and Anti-Apologetic Reasoning

This article critically examines the Islamic legal category of umm al-walad—an enslaved woman who gives birth to a child acknowledged by her male owner. It investigates whether the prohibition against selling such women represented genuine emancipation or merely a limited alteration in the ownership and transfer of enslaved female bodies.

Drawing on hadith collections and classical Islamic legal works—including Sunan Abi Dawud, Sunan Ibn Majah, al-Muwatta, Bulugh al-Maram, Sharh Bulugh al-Maram, al-Istidhkar, al-Muhalla, al-Mabsut, al-Mughni, and Fatawa al-Alamgiriyya—the article reconstructs the historical development of the ruling. These sources record the sale of mothers of children during Muhammad’s lifetime, under Abu Bakr, and during part of Umar’s caliphate, followed by Umar’s later prohibition and continuing disagreement among the Companions and jurists.

The article demonstrates that the reliably transmitted prohibition is attributed to Umar ibn al-Khattab rather than to Muhammad. It also examines al-Bayhaqi’s rejection of attempts to elevate Umar’s statement into a prophetic report, Ibn Abd al-Barr’s criticism of the weak narrations attributed to Muhammad, Ali’s changing legal position, and the failure of later claims of unanimous Companion consensus.

Its central argument is that the umm al-walad ruling did not abolish slavery or recognize women’s inherent freedom. Even when sale, donation, and inheritance were prohibited, the woman remained legally enslaved during her owner’s lifetime. The owner retained authority over her sexual access, labour, earnings, marriage, movement, and legal status, while her eventual freedom remained dependent on childbirth, acknowledged paternity, and the owner’s death.

The article concludes that the institution of umm al-walad was not a program of human liberation. It was a juristic mechanism for regulating a particular category of enslaved female property while preserving the foundations of slavery, concubinage, coerced sexual access, hereditary status, and male ownership. Presenting this arrangement as evidence that Islam gradually abolished slavery is therefore historically false and morally indefensible.

Leave a comment

Your email will not be published.