জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

নবীর স্ত্রী ও দাসীদের বিস্তারিত তালিকা

প্রকাশিত: এপ্রিল 26, 2024লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন17 মিনিট পড়া

সারসংক্ষেপ

মুহাম্মদের নারীসম্পর্ককে শুধু “এগারোজন স্ত্রী” বলে বর্ণনা করলে ইসলামী উৎসে সংরক্ষিত বিপুল তথ্য বাদ পড়ে যায়। এগারো হলো তাঁর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পন্ন হওয়া এবং সুপরিচিত স্ত্রীদের বহুল স্বীকৃত সংখ্যা; কিন্তু ধ্রুপদী সীরাত, হাদিস, তাবাকাত ও ইতিহাসে এর বাইরে বিবাহের আকদ, দাম্পত্যের আগেই বিচ্ছেদ, বিবাহের প্রস্তাব, নিজেকে তাঁর কাছে সমর্পণ, যুদ্ধবন্দিত্ব, দাসত্ব এবং মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত বহু নারীর নাম সংরক্ষিত হয়েছে। ইবনে কাসীর কাতাদার সূত্রে পনেরোজন এবং আবু উবাইদার সূত্রে আঠারোজন নারীকে বিবাহের বর্ণনা সংরক্ষণ করেছেন। সালিহি সুবুলুল হুদা-তে “আকদ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি” শ্রেণিতে ছাব্বিশটি নাম ও নামভেদ সংগ্রহ করেছেন। ইবনে কাসীর ও আবু উবাইদার ধারায় মুহাম্মদের চার নারীদাসীর কথাও সংরক্ষিত হয়েছে।

এই উৎসগুলো একই সঙ্গে দেখায় যে মুহাম্মদের জন্য সাধারণ মুসলিম পুরুষের তুলনায় আলাদা বৈবাহিক সুবিধা ধর্মীয় বিধান হিসেবেই স্বীকৃত ছিল। কুরআন ৩৩:৫০-এ তাঁর জন্য স্ত্রী, যুদ্ধলব্ধ মালিকানাধীন নারী এবং নিজেকে তাঁর কাছে সমর্পণকারী মুমিন নারীকে বৈধ ঘোষণা করে শেষের সুবিধাটিকে “خالصة لك من دون المؤمنين”—অন্য মুমিনদের বাদ দিয়ে শুধু তাঁর জন্য বিশেষ—বলে চিহ্নিত করেছে। ধ্রুপদী ফিকহে চার স্ত্রীর সীমা অতিক্রম, হিবার মাধ্যমে বিবাহ এবং একাধিক ক্ষেত্রে সাধারণ নিকাহ-শর্ত থেকে বিশেষ অব্যাহতিকেও তাঁর বৈবাহিক বিশেষাধিকার হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে। ফলে মুহাম্মদের যৌন ও বৈবাহিক জীবনের পূর্ণ ইতিহাস একটিমাত্র সংখ্যা নয়; এটি স্ত্রী, বন্দিনী-থেকে-স্ত্রী, দাসী, অসম্পন্ন আকদ, প্রস্তাব এবং বিশেষ ধর্মীয় অনুমতির সমন্বিত কাঠামো।


ভূমিকা

মুহাম্মদের স্ত্রীসংখ্যা নিয়ে প্রচলিত সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো এগারো: খাদিজা, সাওদা, আয়েশা, হাফসা, জয়নব বিনতে খুযাইমা, উম্মে সালামা, জয়নব বিনতে জাহশ, জুওয়াইরিয়া, উম্মে হাবিবা, সাফিয়্যা ও মায়মুনা। মৃত্যুর সময় জীবিত ছিলেন নয়জন। এই সংখ্যা প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীদের জন্য সঠিক। কিন্তু মুহাম্মদের জীবনে নথিভুক্ত নারীসম্পর্কের মোট ইতিহাস এগারোতে শেষ হয় না। ইসলামী উৎসগুলো নিজেই স্ত্রীদের বাইরে অসম্পন্ন বিবাহ, বিচ্ছিন্ন আকদ, প্রস্তাবপ্রাপ্ত নারী, নিজেকে সমর্পণকারী নারী, যুদ্ধবন্দী, সুররিয়্যা এবং মালিকানাধীন নারীদাসীর স্বতন্ত্র শ্রেণি সংরক্ষণ করেছে।

ধ্রুপদী ইতিহাসের সংখ্যাগুলোও এই বিস্তৃত বাস্তবতা প্রকাশ করে। ইবনে কাসীর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে কাতাদার বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন: মুহাম্মদ পনেরোজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন, তেরোজনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পন্ন হয়েছিল, একই সময়ে এগারোজন তাঁর কাছে ছিলেন এবং মৃত্যুর সময় নয়জন স্ত্রী ছিলেন। একই আলোচনায় আবু উবাইদা মা‘মার ইবনুল মুসান্নার বক্তব্য উদ্ধৃত করে আঠারোজন নারীকে বিবাহের কথাও এসেছে। এই ভিন্নতা কোনো রহস্য নয়: প্রাচীন তালিকাগুলোতে এমন নারীও ঢুকেছেন যাঁদের সঙ্গে আকদ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি, পরিচয় নিয়ে মতভেদ ছিল, অথবা সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল।

تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِخَمْسَ عَشْرَةَ امْرَأَةً، دَخَلَ مِنْهُنَّ بِثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَاجْتَمَعَ عِنْدَهُ إِحْدَى عَشْرَةَ، وَمَاتَ عَنْ تِسْعٍ
মুহাম্মদ পনেরোজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন; তাঁদের মধ্যে তেরোজনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পন্ন হয়েছিল; একই সময়ে তাঁর কাছে এগারোজন ছিলেন; এবং তিনি নয়জন স্ত্রী রেখে মারা যান।
[1]

وَقَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَعْمَرُ بْنُ الْمُثَنَّى: تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ امْرَأَةً
আবু উবাইদা মা‘মার ইবনুল মুসান্না বলেছেন: মুহাম্মদ আঠারোজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন।
[2]


কুরআনে মুহাম্মদের বৈবাহিক ও যৌন বিশেষাধিকার

মুহাম্মদের বহুবিবাহ ও নারীদাসী-সম্পর্ক কেবল জীবনীমূলক ঘটনা নয়; কুরআনের পাঠেই তাঁর জন্য স্বতন্ত্র বৈবাহিক অনুমতির কাঠামো রয়েছে। সূরা আহযাব ৩৩:৫০-এ তাঁর স্ত্রী, যুদ্ধলব্ধ মালিকানাধীন নারী, নির্দিষ্ট আত্মীয়বর্গের নারী এবং নিজেকে তাঁর কাছে সমর্পণকারী মুমিন নারীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিজেকে সমর্পণকারী নারীর বিধানটি সাধারণ মুসলিমদের জন্য নয়—আয়াতের ভাষায় এটি “خالصة لك من دون المؤمنين”, অর্থাৎ মুহাম্মদের জন্য একান্ত বিশেষ।

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ الَّاتِي آتَيْتَ أُجُورَهُنَّ وَمَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكَ … وَامْرَأَةً مُؤْمِنَةً إِنْ وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِيِّ إِنْ أَرَادَ النَّبِيُّ أَنْ يَسْتَنْكِحَهَا خَالِصَةً لَكَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ
হে নবী, তোমার যেসব স্ত্রীকে মোহর দিয়েছ তাদের, আল্লাহ তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে যেসব নারী তোমার মালিকানায় দিয়েছেন তাদের … এবং কোনো মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পণ করে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চান—তাকে তোমার জন্য বৈধ করা হয়েছে; এটি অন্য মুমিনদের বাদ দিয়ে শুধু তোমার জন্য বিশেষ।
[3]

ধ্রুপদী তাফসির ও ফিকহ এই বিশেষত্বকে সরাসরি বৈবাহিক ছাড় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। ইসলামওয়েবের তাফসির-সংকলনে ৩৩:৫০-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নিজেকে সমর্পণের মাধ্যমে বিনা মোহরে বিবাহ তাঁর জন্য বিশেষ; চারজনের বেশি স্ত্রী গ্রহণও তাঁর বিশেষাধিকার; এবং বহু ফকিহ তাঁর নিকাহে সাধারণ ওলি ও সাক্ষীর শর্ত থেকেও বিশেষ অব্যাহতি আলোচনা করেছেন। সাধারণ মুসলিম পুরুষের জন্য চার স্ত্রী সীমা যেখানে বিধিবদ্ধ, মুহাম্মদের ক্ষেত্রে সেই সীমা প্রযোজ্য ছিল না। [4] [5]

পরের আয়াত ৩৩:৫১-এ স্ত্রীদের পালা স্থগিত রাখা, কাউকে কাছে নেওয়া এবং পূর্বে সরিয়ে রাখা কাউকে আবার গ্রহণ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। সহিহ বুখারিতে আয়েশা এই বিধানের প্রসঙ্গে বলেন: “ما أرى ربك إلا يسارع في هواك”—তিনি দেখছেন মুহাম্মদের প্রভু তাঁর ইচ্ছা পূরণে দ্রুততা দেখান।

مَا أُرَى رَبَّكَ إِلَّا يُسَارِعُ فِي هَوَاكَ
আমি দেখি, আপনার প্রভু আপনার ইচ্ছা পূরণে দ্রুততা দেখান।
[6]


এগারো স্ত্রী, পনেরো ও আঠারো বিবাহের বর্ণনা, ছাব্বিশ অসম্পন্ন আকদ

ধ্রুপদী গ্রন্থের শ্রেণিবিন্যাস সংখ্যার প্রকৃতি পরিষ্কার করে। প্রতিষ্ঠিত ও দাম্পত্য-সম্পন্ন স্ত্রীদের বহুল স্বীকৃত সংখ্যা এগারো। কাতাদার বিস্তৃত গণনায় বিবাহিত নারী পনেরো; আবু উবাইদার গণনায় আঠারো। সালিহি সুবুলুল হুদা-তে আলাদা অধ্যায় করেছেন “من عقد عليها ولم يدخل بها”—যাঁদের সঙ্গে আকদ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি—এবং Islamweb-এর সারসংক্ষেপে এই তালিকাকে ছাব্বিশ নারী বলা হয়েছে। সালিহি একই স্থানে দামিয়াতির ত্রিশ নারীর সংখ্যাও উদ্ধৃত করেছেন। এসব entry-র মধ্যে নামভেদ ও একই ব্যক্তির বিকল্প পরিচয় আছে; ফলে নামের মোট সংখ্যা পৃথক নারীর নিশ্চিত গণনা নয়। কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্যটি পরিষ্কার: মুহাম্মদের বিবাহ-সম্পর্কিত নারীর নথি প্রতিষ্ঠিত এগারোজন স্ত্রীতে সীমাবদ্ধ নয়। [7] [8]


প্রতিষ্ঠিত এগারোজন স্ত্রী

ক্রমনামসম্পর্কের পূর্বাবস্থামূল তথ্যউৎসগত অবস্থা
১খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদপ্রথম স্ত্রী; পূর্বে বিবাহিতমুহাম্মদের বয়স প্রায় ২৫; খাদিজার বয়সে ২৮, ৪০সহ একাধিক বর্ণনাপ্রতিষ্ঠিত
২সাওদা বিনতে যাম‘আহসাকরান ইবন আমরের বিধবাখাদিজার মৃত্যুর পর বিবাহপ্রতিষ্ঠিত
৩আয়েশা বিনতে আবুবকরআবুবকরের কন্যাআকদ ৬/৭; দাম্পত্য ৯—সহিহ বুখারি ও মুসলিমে সরাসরিপ্রতিষ্ঠিত; বয়সের প্রমাণ অত্যন্ত শক্ত
৪হাফসা বিনতে উমরখুনাইস ইবন হুযাফার বিধবাউমরের কন্যাপ্রতিষ্ঠিত
৫জয়নব বিনতে খুযাইমাপূর্বে বিবাহিতবিবাহের অল্প সময় পর মৃত্যুপ্রতিষ্ঠিত
৬উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়াআবু সালামার বিধবা; সন্তানের মামদিনা পর্যায়ে বিবাহপ্রতিষ্ঠিত
৭জয়নব বিনতে জাহশমুহাম্মদের ফুফাতো বোন; পালকপুত্র যায়েদের সাবেক স্ত্রীকুরআন ৩৩:৩৭-এর ঘটনার সঙ্গে যুক্তপ্রতিষ্ঠিত
৮জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিসবনু মুস্তালিক অভিযানে যুদ্ধবন্দী; পরে মুক্ত ও বিবাহিতবন্দিত্ব থেকে বৈবাহিক সম্পর্কে প্রবেশপ্রতিষ্ঠিত
৯উম্মে হাবিবা রামলা বিনতে আবু সুফিয়ানউবাইদুল্লাহ ইবন জাহশের স্ত্রী ছিলেনআবিসিনিয়া অবস্থায় বিবাহের ব্যবস্থাপ্রতিষ্ঠিত
১০সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইখায়বারের যুদ্ধবন্দী; পূর্বস্বামী নিহত; পরে মুক্ত ও বিবাহিতমুক্তিকেই মোহর ধরা হয়প্রতিষ্ঠিত
১১মায়মুনা বিনতে আল-হারিসপূর্বে বিবাহিতপ্রচলিত প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীদের শেষজনপ্রতিষ্ঠিত

এগারোজনের তালিকাটি মুহাম্মদের বৈবাহিক জীবনের কেবল প্রতিষ্ঠিত স্ত্রী-শ্রেণি। এর বাইরে অসম্পন্ন আকদ, বিচ্ছেদ, প্রস্তাব, আত্মসমর্পণ এবং দাসত্বভিত্তিক যৌনসম্পর্কের আলাদা নথি রয়েছে। [9] [10]


আয়েশা: ছয় বছরে আকদ, নয় বছরে দাম্পত্য

মুহাম্মদের স্ত্রীদের বয়স নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরবর্তী জীবনী-গণনা ও মতভেদ আছে; আয়েশার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। সহিহ বুখারির সরাসরি ভাষ্য অনুযায়ী মুহাম্মদ তাঁকে ছয় বছর বয়সে বিবাহ করেন এবং নয় বছর বয়সে তাঁর সঙ্গে দাম্পত্য শুরু করেন। মুসলিমের একটি পাঠে আকদের সময় সাত বলা হলেও দাম্পত্যের সময় নয় বছরই থাকে। এই বয়স কোনো আধুনিক পুনর্গঠন নয়; হাদিসের সরাসরি বক্তব্য।

تَزَوَّجَ النَّبِيُّ ﷺ عَائِشَةَ وَهِيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، وَبَنَى بِهَا وَهِيَ بِنْتُ تِسْعٍ
মুহাম্মদ আয়েশাকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছয় বছর এবং তাঁর সঙ্গে দাম্পত্যে প্রবেশ করেন যখন তাঁর বয়স নয় বছর।
[11]

প্রচলিত সীরাত-কালপঞ্জিতে দাম্পত্য শুরুর সময় মুহাম্মদের বয়স প্রায় বায়ান্ন-তিপ্পান্ন বছর। ফলে বয়সের ব্যবধান চল্লিশ বছরেরও বেশি। মুহাম্মদের নারীসম্পর্কের বিস্তৃত তালিকায় এটিই বয়সের সবচেয়ে নির্ভুল ও সবচেয়ে অস্বীকার-অযোগ্য উদাহরণ।


যুদ্ধবন্দী থেকে স্ত্রী: জুওয়াইরিয়া ও সাফিয়্যা

জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিস বনু মুস্তালিক অভিযানে মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হন এবং সাবিত ইবন কায়সের ভাগে পড়েন। মুক্তির চুক্তির অর্থ সংগ্রহের প্রসঙ্গে তিনি মুহাম্মদের কাছে গেলে মুহাম্মদ তাঁর মুক্তির মূল্য পরিশোধ করে তাঁকে বিবাহ করেন। এই সম্পর্কের সূচনা স্বাধীন বৈবাহিক পরিচয় থেকে নয়, সামরিক পরাজয় ও বন্দিত্ব থেকে। [12]

সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই খায়বার বিজয়ের পর যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ছিলেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, দিহইয়া আল-কালবি প্রথমে তাঁকে বন্দীদের মধ্য থেকে নেন; পরে মুহাম্মদ তাঁকে নিজের জন্য নির্বাচন করেন, দিহইয়াকে অন্য বন্দী দেন, সাফিয়্যাকে মুক্ত করে বিবাহ করেন এবং সেই মুক্তিকেই মোহর হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর বন্দিত্ব, নির্বাচন, মুক্তি এবং বিবাহ একই ধারাবাহিক ঘটনার অংশ। [13] [14]


দাস-মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্ক: মারিয়া ও রায়হানা

মারিয়া আল-কিবতিয়্যা মুহাম্মদের স্ত্রী ছিলেন না। ইবনে কাসীর তাঁকে সুররিয়্যাদের অধ্যায়ে রেখেছেন এবং ওয়াকিদির বর্ণনা উদ্ধৃত করে সরাসরি লিখেছেন “فوطئ مارية بالملك”—মুহাম্মদ মালিকানার অধিকারে মারিয়ার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করেন। তাঁর গর্ভে ইব্রাহিম জন্ম নেয়। ইসলামী দাসব্যবস্থার ভাষায় এটি বিবাহ নয়; নারীদাসীর ওপর মালিকানাভিত্তিক যৌন অধিকার।

فَوَطِئَ مَارِيَةَ بِالْمِلْكِ
মুহাম্মদ মারিয়ার সঙ্গে মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্ক করেন।
[15]

রায়হানা বিনতে যায়েদ বনু কুরাইযা বা বনু নাদিরের বন্দিনী হিসেবে মুহাম্মদের অধীনে আসেন। তাঁর অবস্থান নিয়ে দুটি ধারার বর্ণনা আছে: এক ধারায় তিনি দাসী বা সুররিয়্যা হিসেবেই থাকেন; অন্য ধারায় মুহাম্মদ তাঁকে মুক্ত করে বিবাহ করেন। ইবনে কাসীর, যুহরি-ওয়াকিদি এবং পরবর্তী লেখকেরা এই দুই মত সংরক্ষণ করেছেন। তাই তাঁর নিশ্চিত ঐতিহাসিক সূচনা হলো যুদ্ধবন্দিত্ব; পরবর্তী আইনি অবস্থান নিয়ে উৎসভেদ আছে। [16]

আবু উবাইদার বর্ণনায় মুহাম্মদের নারীদাসী ছিল চারজন: মারিয়া, রায়হানা, যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে আরেক সুন্দরী দাসী এবং জয়নব বিনতে জাহশের দেওয়া আরেক মূল্যবান দাসী। ইবনে কাসীর এই তালিকা হুবহু সংরক্ষণ করেছেন।

كَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَرْبَعُ وَلَائِدَ؛ مَارِيَةُ الْقِبْطِيَّةُ، وَرَيْحَانَةُ الْقُرَظِيَّةُ، وَكَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ أُخْرَى جَمِيلَةٌ … وَكَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ نَفِيسَةٌ وَهَبَتْهَا لَهُ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ
মুহাম্মদের চার নারীদাসী ছিল: মারিয়া আল-কিবতিয়্যা, রায়হানা আল-কুরাযিয়্যা, আরেক সুন্দরী দাসী এবং আরেক মূল্যবান দাসী যাকে জয়নব বিনতে জাহশ তাঁকে দিয়েছিলেন।
[17]


আকদ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি, অথবা সম্পর্কের পরিচয় নিয়ে মতভেদ: বিস্তৃত তালিকা

সালিহির সুবুলুল হুদা-র চতুর্দশ অধ্যায়টি এই শ্রেণির জন্য আলাদা: “যাঁদের সঙ্গে আকদ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি”। গ্রন্থটি নামভেদ, পরিচয়-সংঘাত এবং বিরোধী বর্ণনাগুলোও সংরক্ষণ করেছে। নিচে উৎসে পাওয়া entry ও নামভেদ একত্র রাখা হলো; একই নারী একাধিক নামে পুনরাবৃত্ত হতে পারেন।

ক্রমনাম/নামভেদবর্ণিত সম্পর্কউৎসগত অবস্থা
১খাওলা বিনতে আল-হুযাইল/হুযাইলবিবাহের বর্ণনা; মুহাম্মদের কাছে পৌঁছানোর আগেই পথে মৃত্যুসালিহি; ইবন আবদুল বার-উদ্ধৃত বংশতাত্ত্বিক বর্ণনা
২আমরাহ বিনতে ইয়াযীদ ইবনুল জাওন আল-কিলাবিয়্যাহবিবাহ; আশ্রয় চাওয়া/বিচ্ছেদের বর্ণনাসালিহি; জাউনিয়্যাহ ঘটনার পরিচয়-সংঘাতের অংশ
৩আসমা বিনতে আল-সালতবিবাহ হয়েছিল, দাম্পত্য হয়নি বলে বর্ণনাকাতাদা/হাকিম-উদ্ধৃত ঐতিহাসিক ধারা
৪আসমা বিনতে কা‘ব আল-জাউনিয়্যাহবিবাহ; দাম্পত্য হয়নিইবন ইসহাক-ধারা; আসমা বিনতে নু‘মানের সঙ্গে অভিন্ন হতে পারেন
৫আসমা বিনতে নু‘মান ইবনুল জাওনবিবাহ; পরে বিচ্ছেদইবন আবদুল বার বলেন তাঁর বিবাহ নিয়ে ঐকমত্য, বিচ্ছেদের কাহিনিতে মতভেদ
৬আমিনা/ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাকবিবাহ; দাম্পত্যের আগে বিচ্ছেদের বর্ণনাগিফারি/কিলাবি পরিচয় ও সাদা দাগের ঘটনাতে নামভেদ
৭উমাইমা বিনতে শারাহিলবিবাহ; দাম্পত্য হয়নি; স্পর্শ অপছন্দ/আল্লাহর আশ্রয় চাওয়াসহিহ বুখারি; অতিরিক্ত স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তভাবে প্রমাণিত
৮উম্মে হারামবিবাহ/আকদের একটি বর্ণনায় নামসালিহির তালিকায়; বিস্তারিত অল্প
৯সালমা বিনতে নাজদাবিবাহ হয়েছিল বলে বর্ণনাসালিহি পূর্বসূত্র উদ্ধৃত করেছেন
১০সাবা বিনতে সুফিয়াননারী/স্ত্রীদের তালিকায় উল্লেখ; দাম্পত্য হয়নি বলে ধারাইবন সা‘দ-উদ্ধৃত; সানা নামভেদের সম্ভাবনা
১১সানা বিনতে আসমা/আল-সালতবিবাহ; দাম্পত্যের আগে মৃত্যু বা বিচ্ছেদের বর্ণনানামপাঠে একাধিক রূপ
১২আশ-শাত/আল-শাহ বিনতে রিফা‘আকাতাদার বিস্তৃত স্ত্রীতালিকায় নামবিরল ঐতিহাসিক বর্ণনা
১৩শারাক/শিরাক বিনতে খলিফা আল-কালবিয়্যাহবিবাহ; মুহাম্মদের কাছে পৌঁছানোর আগে মৃত্যুদিহইয়া আল-কালবির বোন বলে বর্ণনা
১৪আল-শানবা/আল-শাইবা বিনতে আমর আল-গিফারিয়্যাহবিবাহ; পরে বিচ্ছেদের কাহিনিইব্রাহিমের মৃত্যুর পর মন্তব্যের বর্ণনা
১৫আল-আলিয়াহ বিনতে যিবইয়ানবিবাহ ও তালাক; দাম্পত্য হয়েছিল কি না তাতে মতভেদসালিহি ও অন্যান্য সীরাত-সূত্র
১৬আমরাহ বিনতে মু‘আবিয়া আল-কিনদিয়্যাহবিবাহ হয়েছিল বলে বর্ণনাআবু নু‘আইম-সহ ঐতিহাসিক সংকলন
১৭আমরাহ বিনতে ইয়াযীদ—বনু বকর/কিলাববিবাহ; দাম্পত্যের আগে বিচ্ছেদএকাধিক বিচ্ছেদ-কাহিনি এই নামে যুক্ত
১৮আমরাহ বিনতে ইয়াযীদ আল-গিফারিয়্যাহমুহাম্মদের কাছে আনা; পরে ফেরতআগের আমরাহদের নামভেদ হওয়ার সম্ভাবনা
১৯উম্মে শুরাইককোনো বর্ণনায় বিবাহ কিন্তু দাম্পত্য হয়নি; কোনো বর্ণনায় নিজেকে সমর্পণকাতাদা, উরওয়া, তাফসির-ঐতিহ্যে একাধিক রূপ
২০ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাক আল-কিলাবিয়্যাহবিবাহ ও বিচ্ছেদআমিনা/জাউনিয়্যাহ পরিচয়ের সঙ্গে overlap থাকতে পারে
২১কুতাইলা বিনতে কায়স আল-কিন্দিয়্যাহআকদ; মুহাম্মদের কাছে পৌঁছাননি; দেখা বা দাম্পত্য হয়নিইবন আবদুল বার ও ইবনে কাসীর; ১০ হিজরির বর্ণনা
২২লায়লা বিনতে আল-খাতিমনিজে বিবাহ চান; মুহাম্মদ গ্রহণ করেন; পরে অব্যাহতি চান এবং পানইবন সা‘দ/ইবন ইসহাক-ধারা
২৩লায়লা বিনতে হাকিম আল-আনসারিয়্যাহস্ত্রীতালিকায় পৃথক নামইবনুল আসিরের মতে লায়লা বিনতে আল-খাতিমের নামভেদ হতে পারেন
২৪মুলাইকা বিনতে দাউদবিবাহ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি বলে বর্ণনাইবন হাবিব ও পরবর্তী সংকলন
২৫মুলাইকা বিনতে কা‘ব আল-কিনানিয়্যাহবিবাহ; বিচ্ছেদ অথবা দাম্পত্য—বর্ণনাভেদসীরাত-সংকলনে একাধিক কাহিনি
২৬হিন্দ বিনতে যায়দ, ইবনাতুল বারসাস্ত্রীতালিকায় নামআবু উবাইদার উল্লেখ; অন্য বর্ণনায় আমরাহ বিনতে ইয়াযীদের সঙ্গে অভিন্ন

এই অধ্যায়ের সবচেয়ে শক্ত প্রমাণিত অতিরিক্ত বিবাহ হলো উমাইমা বিনতে শারাহিল-এর ঘটনা। সহিহ বুখারি সরাসরি বলেছে, মুহাম্মদ তাঁকে বিবাহ করেছিলেন; তাঁকে আনার পর মুহাম্মদ হাত বাড়ালে তিনি অপছন্দ প্রকাশ করেন, এবং পরে তাঁকে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়।

تَزَوَّجَ النَّبِيُّ ﷺ أُمَيْمَةَ بِنْتَ شَرَاحِيلَ، فَلَمَّا أُدْخِلَتْ عَلَيْهِ بَسَطَ يَدَهُ إِلَيْهَا، فَكَأَنَّهَا كَرِهَتْ ذَلِكَ
মুহাম্মদ উমাইমা বিনতে শারাহিলকে বিবাহ করেন। তাঁকে মুহাম্মদের কাছে আনা হলে তিনি তাঁর দিকে হাত বাড়ান; নারীটি তা অপছন্দ করেছেন বলে মনে হয়।
[18]


বিবাহের প্রস্তাব, নিজেকে সমর্পণ এবং গ্রহণ না করা নারী

ক্রমনামঘটনাউৎস
১উম্মে হানি ফাখিতা বিনতে আবি তালিবমুহাম্মদ বিবাহের প্রস্তাব দেন; তিনি সন্তানদের দায়িত্বের কথা বলেন; বিবাহ হয়নিইবনে কাসীর; তিরমিজি-ধারা
২দুবা‘আ বিনতে আমিরপুত্রের মাধ্যমে প্রস্তাব; শেষ পর্যন্ত বিবাহ হয়নিসালিহি; সীরাত-সংকলন
৩সাফিয়্যা বিনতে বাশামাবন্দিত্বের পর মুহাম্মদের সঙ্গে থাকা বা স্বামীর কাছে ফেরার বিকল্প; স্বামীকে বেছে নেনইবন সা‘দ-উদ্ধৃত
৪জামরা/কুরসাফা/উমামা বিনতে আল-হারিসপ্রস্তাব; পিতার রোগ-সংক্রান্ত অজুহাতের বর্ণনাকাতাদা ও আবু উবাইদা-ধারা
৫না‘আমাযুদ্ধবন্দী; বিবাহের প্রস্তাব; পরে স্বামী উপস্থিতসালিহির proposal chapter
৬উম্মে শুরাইকনিজেকে মুহাম্মদের কাছে সমর্পণ করার একাধিক বর্ণনাকুরআন ৩৩:৫০-এর তাফসিরে নাম আসে
৭খাওলা বিনতে হাকিমনিজেকে মুহাম্মদের কাছে সমর্পণকারী নারীদের একজন হিসেবে বর্ণনাবুখারি-সংলগ্ন ও ইবন হাজর-উদ্ধৃত ধারা
৮নাম অজ্ঞাত নারীনিজে এসে মুহাম্মদের কাছে নিজেকে বিবাহের জন্য সমর্পণ করেন; মুহাম্মদ তাঁকে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ দেনসহিহ বুখারি
৯নাম অজ্ঞাত নারীমুহাম্মদের প্রস্তাবের পর পিতার অনুমতি নিতে যান; ফিরে এসে দেখেন সম্পর্ক আর এগোয়নিসালিহির proposal chapter
১০উমামা বিনতে হামজামুহাম্মদের কাছে বিবাহের জন্য উপস্থাপিত; দুধ-সম্পর্কের কারণে গ্রহণ করেননিসহিহ-সমর্থিত ফিকহি কারণ
১১আযযা বিনতে আবু সুফিয়ানবিবাহের জন্য প্রস্তাবিত; একই সময়ে দুই বোন নিষিদ্ধ হওয়ায় গ্রহণ হয়নিউম্মে হাবিবার বোন
১২উম্মে হাবিবা বিনতে আল-আব্বাসবিবাহের প্রসঙ্গ; দুধ-সম্পর্কের কারণে আকদ হয়নিসীরাত/ফিকহি বর্ণনা

ইবনে কাসীর এই শ্রেণির জন্য আলাদা অধ্যায় করেছেন—“فصل فيمن خطبها ولم يعقد عليها”, অর্থাৎ যাঁদের তিনি বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু আকদ করেননি। উম্মে হানির প্রস্তাবের ঘটনাও সেখানে একাধিক সূত্রে সংরক্ষিত। [19]


নিজেকে সমর্পণকারী নারী ও মুহাম্মদের জন্য একান্ত বিশেষ বিধান

নিজেকে মুহাম্মদের কাছে সমর্পণ করা কোনো পরবর্তী সীরাত-অলংকার নয়; কুরআন ৩৩:৫০ এই সম্পর্কের জন্য স্বতন্ত্র বিধান দিয়েছে। তাফসিরে উম্মে শুরাইক, মায়মুনা ও খাওলা বিনতে হাকিমসহ একাধিক নাম এই আয়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সহিহ বুখারিতেও নামহীন নারীর সরাসরি নিজেকে মুহাম্মদের কাছে উপস্থাপনের ঘটনা আছে। আয়েশা নিজেই এমন নারীদের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন এবং ৩৩:৫১ নাজিলের পর মুহাম্মদের ইচ্ছার সঙ্গে দ্রুত বিধান আসার কথা বলেছেন। অর্থাৎ “নিজেকে সমর্পণ” শ্রেণিটি কুরআন, হাদিস ও তাফসির—তিন স্তরেই সংরক্ষিত। [20] [21]


নারীদাসী, নামভেদ ও পরবর্তী ঐতিহাসিক সংকলনের অতিরিক্ত পরিচয়

ক্রমনাম/পরিচয়বর্ণিত অবস্থানউৎসগত মন্তব্য
১মারিয়া আল-কিবতিয়্যানিশ্চিত সুররিয়্যা; মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্ক; ইব্রাহিমের মাইবনে কাসীর; ইসলামি ইতিহাসে সুপরিচিত
২রায়হানা বিনতে যায়েদযুদ্ধবন্দী; দাসী/সুররিয়্যা অথবা মুক্তকৃত স্ত্রী—উভয় ধারাইবনে কাসীর, যুহরি-ওয়াকিদি, ইবনুল কাইয়্যিম
৩জামীলা / নামহীন সুন্দরী বন্দিনীআবু উবাইদার চার দাসীর তালিকার তৃতীয় নারীইবনে কাসীর-উদ্ধৃত
৪নাফিসা / জয়নব বিনতে জাহশের দেওয়া মূল্যবান দাসীআবু উবাইদার চার দাসীর তালিকার চতুর্থ নারী; কিছু পরবর্তী গ্রন্থে নাম নাফিসামূল তালিকায় নামহীন; পরবর্তী নাম-সংরক্ষণ
৫তুকানা বিনতে আমরবনু কুরাইযার বন্দিনী ও দাসী হিসেবে কিছু পরবর্তী ঐতিহাসিক সংকলনে উল্লেখমূল চার দাসীর তালিকার অংশ নয়; পরবর্তী বর্ণনা
৬রুবাইহাকাতাদার একটি পাঠে রায়হানার বিকল্প নামস্বতন্ত্র নারী হিসেবে গণনা করার প্রমাণ নেই
৭আমরাহ বিনতে খুনাফাকিছু পরবর্তী তালিকায় বন্দিনী হিসেবে নামরায়হানার বংশপরিচয়ের সঙ্গে নাম-সংঘাতের সম্ভাবনা
৮“আল-জারিয়া”কিছু আধুনিক তালিকায় নাম হিসেবে ব্যবহৃতجارية সাধারণত নারীদাসী অর্থে common noun; নিশ্চিত proper name নয়

সমস্ত নাম ও সম্পর্কের সমন্বিত সূচি

ক্রমনাম/নামভেদশ্রেণিসংক্ষিপ্ত পরিচয়
1খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীপ্রথম স্ত্রী; পূর্বে বিবাহিত
2সাওদা বিনতে যাম‘আহপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীসাকরান ইবন আমরের বিধবা
3আয়েশা বিনতে আবুবকরপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীআবুবকরের কন্যা
4হাফসা বিনতে উমরপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীখুনাইস ইবন হুযাফার বিধবা
5জয়নব বিনতে খুযাইমাপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীপূর্বে বিবাহিত
6উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়াপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীআবু সালামার বিধবা; সন্তানের মা
7জয়নব বিনতে জাহশপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীমুহাম্মদের ফুফাতো বোন; পালকপুত্র যায়েদের সাবেক স্ত্রী
8জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিসপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীবনু মুস্তালিক অভিযানে যুদ্ধবন্দী; পরে মুক্ত ও বিবাহিত
9উম্মে হাবিবা রামলা বিনতে আবু সুফিয়ানপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীউবাইদুল্লাহ ইবন জাহশের স্ত্রী ছিলেন
10সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীখায়বারের যুদ্ধবন্দী; পূর্বস্বামী নিহত; পরে মুক্ত ও বিবাহিত
11মায়মুনা বিনতে আল-হারিসপ্রতিষ্ঠিত স্ত্রীপূর্বে বিবাহিত
12খাওলা বিনতে আল-হুযাইল/হুযাইলআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহের বর্ণনা; মুহাম্মদের কাছে পৌঁছানোর আগেই পথে মৃত্যু
13আমরাহ বিনতে ইয়াযীদ ইবনুল জাওন আল-কিলাবিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; আশ্রয় চাওয়া/বিচ্ছেদের বর্ণনা
14আসমা বিনতে আল-সালতআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ হয়েছিল, দাম্পত্য হয়নি বলে বর্ণনা
15আসমা বিনতে কা‘ব আল-জাউনিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; দাম্পত্য হয়নি
16আসমা বিনতে নু‘মান ইবনুল জাওনআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; পরে বিচ্ছেদ
17আমিনা/ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাকআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; দাম্পত্যের আগে বিচ্ছেদের বর্ণনা
18উমাইমা বিনতে শারাহিলআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; দাম্পত্য হয়নি; স্পর্শ অপছন্দ/আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া
19উম্মে হারামআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ/আকদের একটি বর্ণনায় নাম
20সালমা বিনতে নাজদাআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ হয়েছিল বলে বর্ণনা
21সাবা বিনতে সুফিয়ানআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহনারী/স্ত্রীদের তালিকায় উল্লেখ; দাম্পত্য হয়নি বলে ধারা
22সানা বিনতে আসমা/আল-সালতআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; দাম্পত্যের আগে মৃত্যু বা বিচ্ছেদের বর্ণনা
23আশ-শাত/আল-শাহ বিনতে রিফা‘আআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহকাতাদার বিস্তৃত স্ত্রীতালিকায় নাম
24শারাক/শিরাক বিনতে খলিফা আল-কালবিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; মুহাম্মদের কাছে পৌঁছানোর আগে মৃত্যু
25আল-শানবা/আল-শাইবা বিনতে আমর আল-গিফারিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; পরে বিচ্ছেদের কাহিনি
26আল-আলিয়াহ বিনতে যিবইয়ানআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ ও তালাক; দাম্পত্য হয়েছিল কি না তাতে মতভেদ
27আমরাহ বিনতে মু‘আবিয়া আল-কিনদিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ হয়েছিল বলে বর্ণনা
28আমরাহ বিনতে ইয়াযীদ—বনু বকর/কিলাবআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; দাম্পত্যের আগে বিচ্ছেদ
29আমরাহ বিনতে ইয়াযীদ আল-গিফারিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহমুহাম্মদের কাছে আনা; পরে ফেরত
30উম্মে শুরাইকআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহকোনো বর্ণনায় বিবাহ কিন্তু দাম্পত্য হয়নি; কোনো বর্ণনায় নিজেকে সমর্পণ
31ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাক আল-কিলাবিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ ও বিচ্ছেদ
32কুতাইলা বিনতে কায়স আল-কিন্দিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহআকদ; মুহাম্মদের কাছে পৌঁছাননি; দেখা বা দাম্পত্য হয়নি
33লায়লা বিনতে আল-খাতিমআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহনিজে বিবাহ চান; মুহাম্মদ গ্রহণ করেন; পরে অব্যাহতি চান এবং পান
34লায়লা বিনতে হাকিম আল-আনসারিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহস্ত্রীতালিকায় পৃথক নাম
35মুলাইকা বিনতে দাউদআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি বলে বর্ণনা
36মুলাইকা বিনতে কা‘ব আল-কিনানিয়্যাহআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহবিবাহ; বিচ্ছেদ অথবা দাম্পত্য—বর্ণনাভেদ
37হিন্দ বিনতে যায়দ, ইবনাতুল বারসাআকদ/অসম্পন্ন বিবাহ/বিতর্কিত বিবাহস্ত্রীতালিকায় নাম
38উম্মে হানি ফাখিতা বিনতে আবি তালিবপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনামুহাম্মদ বিবাহের প্রস্তাব দেন; তিনি সন্তানদের দায়িত্বের কথা বলেন; বিবাহ হয়নি
39দুবা‘আ বিনতে আমিরপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনাপুত্রের মাধ্যমে প্রস্তাব; শেষ পর্যন্ত বিবাহ হয়নি
40সাফিয়্যা বিনতে বাশামাপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনাবন্দিত্বের পর মুহাম্মদের সঙ্গে থাকা বা স্বামীর কাছে ফেরার বিকল্প; স্বামীকে বেছে নেন
41জামরা/কুরসাফা/উমামা বিনতে আল-হারিসপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনাপ্রস্তাব; পিতার রোগ-সংক্রান্ত অজুহাতের বর্ণনা
42না‘আমাপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনাযুদ্ধবন্দী; বিবাহের প্রস্তাব; পরে স্বামী উপস্থিত
43উম্মে শুরাইকপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনানিজেকে মুহাম্মদের কাছে সমর্পণ করার একাধিক বর্ণনা
44খাওলা বিনতে হাকিমপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনানিজেকে মুহাম্মদের কাছে সমর্পণকারী নারীদের একজন হিসেবে বর্ণনা
45নাম অজ্ঞাত নারীপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনানিজে এসে মুহাম্মদের কাছে নিজেকে বিবাহের জন্য সমর্পণ করেন; মুহাম্মদ তাঁকে অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ দেন
46নাম অজ্ঞাত নারীপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনামুহাম্মদের প্রস্তাবের পর পিতার অনুমতি নিতে যান; ফিরে এসে দেখেন সম্পর্ক আর এগোয়নি
47উমামা বিনতে হামজাপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনামুহাম্মদের কাছে বিবাহের জন্য উপস্থাপিত; দুধ-সম্পর্কের কারণে গ্রহণ করেননি
48আযযা বিনতে আবু সুফিয়ানপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনাবিবাহের জন্য প্রস্তাবিত; একই সময়ে দুই বোন নিষিদ্ধ হওয়ায় গ্রহণ হয়নি
49উম্মে হাবিবা বিনতে আল-আব্বাসপ্রস্তাব/নিজেকে সমর্পণ/বিবাহের সম্ভাবনাবিবাহের প্রসঙ্গ; দুধ-সম্পর্কের কারণে আকদ হয়নি
50মারিয়া আল-কিবতিয়্যাদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামনিশ্চিত সুররিয়্যা; মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্ক; ইব্রাহিমের মা
51রায়হানা বিনতে যায়েদদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামযুদ্ধবন্দী; দাসী/সুররিয়্যা অথবা মুক্তকৃত স্ত্রী—উভয় ধারা
52জামীলা / নামহীন সুন্দরী বন্দিনীদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামআবু উবাইদার চার দাসীর তালিকার তৃতীয় নারী
53নাফিসা / জয়নব বিনতে জাহশের দেওয়া মূল্যবান দাসীদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামআবু উবাইদার চার দাসীর তালিকার চতুর্থ নারী; কিছু পরবর্তী গ্রন্থে নাম নাফিসা
54তুকানা বিনতে আমরদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামবনু কুরাইযার বন্দিনী ও দাসী হিসেবে কিছু পরবর্তী ঐতিহাসিক সংকলনে উল্লেখ
55রুবাইহাদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামকাতাদার একটি পাঠে রায়হানার বিকল্প নাম
56আমরাহ বিনতে খুনাফাদাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামকিছু পরবর্তী তালিকায় বন্দিনী হিসেবে নাম
57“আল-জারিয়া”দাসী/সুররিয়্যা/বন্দিনী-সংক্রান্ত নামকিছু আধুনিক তালিকায় নাম হিসেবে ব্যবহৃত

এই সূচির সারিসংখ্যা পৃথক নারীর নিশ্চিত মোট সংখ্যা নয়। একই ব্যক্তি উমাইমা/জাউনিয়্যাহ/আসমা/ফাতিমা/আমরাহ ধরনের ভিন্ন পরিচয়ে একাধিক ঐতিহাসিক ধারায় উপস্থিত হতে পারেন; উম্মে শুরাইকও একাধিক nisba ও সম্পর্কবর্ণনায় এসেছে; রুবাইহা প্রায় নিশ্চিতভাবেই রায়হানার নামভেদ; “জারিয়া” proper name নয়। সঠিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত তাই একটি কৃত্রিম মোট সংখ্যা দাঁড় করানো নয়, বরং শ্রেণিভিত্তিক নথি দেখা: এগারোজন প্রতিষ্ঠিত স্ত্রী; পনেরো ও আঠারোজন পর্যন্ত বিবাহের প্রাচীন গণনা; সালিহির ছাব্বিশ-entry অসম্পন্ন-আকদ তালিকা; প্রস্তাব ও self-offering-এর আলাদা অধ্যায়; এবং অন্তত দুই থেকে চার সুররিয়্যার প্রাচীন গণনা।


বয়স ও বয়সের ব্যবধান: শক্ত প্রমাণ কোথায়

মুহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত সব নারীর বয়স সমান শক্তিতে সংরক্ষিত হয়নি। অধিকাংশের ক্ষেত্রে জন্মসাল, মৃত্যুসাল বা পরবর্তী জীবনী থেকে আনুমানিক হিসাব করা হয়। এই কারণে মাস বা বছরের দশমিক-নির্ভুল সংখ্যা দিয়ে বিশাল বয়স-টেবিল তৈরি করলে ঐতিহাসিক নির্ভুলতার ভান তৈরি হয়। শক্ত প্রমাণের জায়গা আলাদা: আয়েশার ছয়/সাত বছরে আকদ এবং নয় বছরে দাম্পত্য সরাসরি সহিহ হাদিসে; খাদিজার ৪০ বছর বহুল প্রচলিত হলেও ২৮সহ বিকল্প বর্ণনা আছে; অন্য বহু স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট বিবাহকালীন বয়স reconstructed। [22] [23]

নারীবয়সপ্রমাণের ধরনমুহাম্মদের বয়স/ব্যবধান
আয়েশাআকদ ৬/৭; দাম্পত্য ৯সহিহ বুখারি ও মুসলিমে সরাসরিমুহাম্মদ প্রায় ৫২–৫৩; ব্যবধান প্রায় ৪৩ বছর
খাদিজা২৮, ৪০সহ একাধিক বর্ণনাসুনির্দিষ্ট বয়স নিশ্চিত নয়মুহাম্মদ ২৫ বলে প্রচলিত
সাফিয়্যানির্দিষ্ট বিবাহকালীন বয়স নেই, আনুমানিক ১৬-১৭জীবনী থেকে আনুমানিক হিসাবমুহাম্মদের বয়স তখন প্রায় ৫৭
জুওয়াইরিয়ানির্দিষ্ট বয়স সরাসরি হাদিসে নেইজীবনীভিত্তিক আনুমানিক হিসাবমুহাম্মদের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব
মারিয়ানির্দিষ্ট প্রাচীন বয়স পাওয়া যায় নাপরবর্তী অনুমানকে নিশ্চিত বয়স করা যায় নামুহাম্মদের জীবনের শেষ পর্যায়
রায়হানানির্দিষ্ট প্রাচীন বয়স পাওয়া যায় নাপরবর্তী অনুমান বিভিন্নবনু কুরাইযা-পরবর্তী সময়

তিনটি পৃথক যৌন-বৈবাহিক কাঠামো

ইসলামী উৎসে মুহাম্মদের নারীসম্পর্ক অন্তত তিনটি পৃথক আইনি কাঠামোয় দেখা যায়। প্রথমটি নিকাহ—প্রতিষ্ঠিত স্ত্রী ও অসম্পন্ন আকদসহ। দ্বিতীয়টি যুদ্ধবন্দিত্ব থেকে বিবাহ—জুওয়াইরিয়া ও সাফিয়্যার মতো ঘটনায় বন্দিত্বের পর মুক্তি ও বিবাহ। তৃতীয়টি মিলকুল ইয়ামিন/সুররিয়্যা—মারিয়ার ক্ষেত্রে যার ভাষা সরাসরি “মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্ক”; রায়হানার একটি প্রধান ধারাও একই শ্রেণিতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মুহাম্মদের জন্য কুরআনিক বিশেষাধিকার: চার স্ত্রীর সীমার বাইরে থাকা, যুদ্ধলব্ধ মালিকানাধীন নারী এবং নিজেকে তাঁর কাছে সমর্পণকারী নারী। এই কাঠামোকে শুধু “তিনি এগারোবার বিয়ে করেছিলেন” বাক্যে নামিয়ে আনা ঐতিহাসিকভাবে অসম্পূর্ণ।

এখানে সবচেয়ে কঠোর বাস্তবতা দাসত্বের অংশটি। বিবাহে অন্তত একটি পৃথক চুক্তির ধারণা থাকে; মিলকুল ইয়ামিন-এ যৌন অধিকারটির ভিত্তি ছিল মালিকানা। মারিয়ার ক্ষেত্রে ইবনে কাসীরের ভাষা কোনো রূপক নয়—“فوطئ مارية بالملك”। যুদ্ধবন্দিনী নারীকে সম্পত্তির শ্রেণিতে এনে তাঁর ওপর যৌন অধিকার বৈধ করা আধুনিক স্বাধীন সম্মতির নীতির সরাসরি বিপরীত। একজন মানুষের যৌন প্রাপ্যতা অন্য মানুষের সম্পত্তিগত অধিকারের ফল হতে পারে না।


সংখ্যার বাইরে যে চিত্রটি দাঁড়ায়

মুহাম্মদের নারীসম্পর্কের নথি সংখ্যার চেয়ে কাঠামোগতভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এগারোজন প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীর পাশাপাশি প্রাচীন মুসলিম ইতিহাসে পনেরো ও আঠারো বিবাহের গণনা আছে; সালিহির দীর্ঘ অসম্পন্ন-আকদ তালিকা আছে; প্রস্তাবপ্রাপ্ত ও self-offering নারীর আলাদা নথি আছে; এবং পৃথক সুররিয়্যা-তালিকাও আছে। এগুলো একই ব্যক্তির জীবনে বিবাহ, বিশেষ বিবাহ-অনুমতি, বন্দিত্ব, মুক্তি, দাস-মালিকানা এবং যৌন অধিকার—সবকিছুকে পাশাপাশি দাঁড় করায়।

কুরআন ৩৩:৫০ এই ব্যবস্থাকে ধর্মীয় ভাষায় বৈধ করেছে: স্ত্রী, যুদ্ধলব্ধ মালিকানাধীন নারী এবং নিজেকে সমর্পণকারী নারী—সবগুলোকে একই আয়াতে মুহাম্মদের জন্য বৈধতার তালিকায় রাখা হয়েছে; শেষের সুবিধাটিকে অন্য মুমিনদের বাইরে তাঁর একান্ত বিশেষ অধিকার বলা হয়েছে। ৩৩:৫১ তাঁর স্ত্রীর পালা পরিচালনায় অতিরিক্ত স্বাধীনতা দিয়েছে। ধ্রুপদী ফিকহ সেই ব্যতিক্রমগুলোকে নবীর বিশেষাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে এখানে ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় আইন আলাদা নয়; মুহাম্মদের ব্যক্তিগত বৈবাহিক সুবিধাই ইসলামী আইন-সাহিত্যে বিশেষ বিধানে রূপ পেয়েছে।


উপসংহার

মুহাম্মদের নারীসম্পর্কের ইতিহাসকে “এগারোজন স্ত্রী”তে সীমাবদ্ধ করা তথ্যগতভাবে অসম্পূর্ণ। এগারোজন প্রতিষ্ঠিত ও দাম্পত্য-সম্পন্ন স্ত্রীর বাইরে ধ্রুপদী মুসলিম উৎস নিজেরাই পনেরো ও আঠারো পর্যন্ত বিবাহের গণনা, ছাব্বিশ-entry অসম্পন্ন-আকদ তালিকা, বিবাহের প্রস্তাব ও নিজেকে সমর্পণকারী নারীর আলাদা অধ্যায়, এবং দুই থেকে চার সুররিয়্যার বর্ণনা সংরক্ষণ করেছে। একই নামের বহু variant থাকার কারণে এসব entry যোগ করে একটি কৃত্রিম মোট “স্ত্রীসংখ্যা” বানানো ভুল; কিন্তু সেই অজুহাতে এগারোজনের বাইরে পুরো নথিই মুছে দেওয়াও সমানভাবে ভুল।

এই ইতিহাসে তিন ধরনের সম্পর্ক সবচেয়ে স্পষ্ট: বিবাহিত স্ত্রী, যুদ্ধবন্দিত্ব থেকে বিবাহিত নারী, এবং মালিকানাভিত্তিক যৌনদাসী। মারিয়ার ক্ষেত্রে মালিকানার অধিকারে যৌনসম্পর্কের ভাষা সরাসরি; রায়হানার ক্ষেত্রে দাসী বনাম মুক্তকৃত স্ত্রী—দুই ধারা; সাফিয়্যা ও জুওয়াইরিয়ার ক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দিত্ব বিবাহের অব্যবহিত পূর্বাবস্থা। এর বাইরে উমাইমা বিনতে শারাহিলের মতো সহিহভাবে প্রমাণিত অসম্পন্ন বিবাহ এবং উম্মে হানি, দুবা‘আ, সাফিয়্যা বিনতে বাশামা প্রমুখের প্রস্তাবের বর্ণনা রয়েছে।

সবচেয়ে গভীর সমস্যা সংখ্যায় নয়, ক্ষমতার কাঠামোয়। সাধারণ মুসলিমদের জন্য যে বৈবাহিক সীমা ও শর্ত ছিল, মুহাম্মদের জন্য কুরআন ও পরবর্তী ফিকহ বিশেষ ছাড় স্বীকার করেছে; যুদ্ধলব্ধ নারীকে মালিকানার অধীনে যৌনভাবে ব্যবহার করার ব্যবস্থাও একই ধর্মীয় আইনের অংশ ছিল। নারী স্বাধীন ব্যক্তি না হয়ে কখনো স্ত্রী, কখনো বন্দিনী-থেকে-স্ত্রী, কখনো মালিকানাধীন সুররিয়্যা হিসেবে পুরুষের যৌন ও পারিবারিক কর্তৃত্বের অধীন হয়েছে। আধুনিক স্বাধীন সম্মতি, ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসন ও মানবমর্যাদার মানদণ্ডে এই মালিকানাভিত্তিক যৌন কাঠামো নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। কোনো ব্যক্তির নবুয়ত, ধর্মীয় মর্যাদা বা ঐশী বিশেষাধিকার-দাবি মানুষের ওপর মালিকানাভিত্তিক যৌন অধিকারকে নৈতিক করে না।


তথ্যসূত্রঃ
  1. ইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, زوجاته ↩︎
  2. ইবনে কাসীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ↩︎
  3. কুরআন ৩৩:৫০ ↩︎
  4. Islamweb: চারজনের বেশি স্ত্রী মুহাম্মদের বিশেষাধিকার ↩︎
  5. Islamweb Library: নিকাহে মুহাম্মদের বিশেষ বিধানসমূহ ↩︎
  6. সহিহ বুখারি ৪৭৮৮ ↩︎
  7. Islamweb: সালিহির ছাব্বিশ নারীর তালিকা ↩︎
  8. সালিহি, সুবুলুল হুদা, আকদ হয়েছিল কিন্তু দাম্পত্য হয়নি ↩︎
  9. IslamQA: প্রতিষ্ঠিত স্ত্রীদের সংখ্যা ও অন্যান্য সম্পর্ক ↩︎
  10. ইবনে কাসীর: زوجاته ↩︎
  11. সহিহ বুখারি ৫১৫৮ ↩︎
  12. ইবনে কাসীর, জুওয়াইরিয়ার বন্দিত্ব ও বিবাহ ↩︎
  13. সহিহ বুখারি: খায়বারে সাফিয়্যা ↩︎
  14. সহিহ মুসলিম: সাফিয়্যা ↩︎
  15. ইবনে কাসীর, فصل في ذكر سراريه ↩︎
  16. Islamweb: রায়হানা স্ত্রী না সুররিয়্যা—উৎসভেদ ↩︎
  17. ইবনে কাসীর, মুহাম্মদের সুররিয়্যাদের অধ্যায় ↩︎
  18. সহিহ বুখারির বর্ণনাসহ IslamQA-র সংকলন ↩︎
  19. ইবনে কাসীর, প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু আকদ হয়নি ↩︎
  20. সালিহি: self-offering/proposal chapter ↩︎
  21. ইবন হাজর: খাওলা বিনতে হাকিম নিজেকে সমর্পণকারী ↩︎
  22. Islamweb: স্ত্রীদের বয়স নির্ণয়ের উৎসগত সীমা ↩︎
  23. Islamweb: খাদিজার বয়সের ভিন্ন বর্ণনা ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

One thought on

Leave a comment

Your email will not be published.