ভূমিকা
মানব প্রজনন ও বংশগতির রহস্য উন্মোচন আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম বড় সাফল্য। অণুবীক্ষণযন্ত্র ও আণবিক জীববিজ্ঞানের বিকাশের আগে মানুষ দৃশ্যমান দেহরস, যৌন অনুভূতি এবং অনুমানের সাহায্যে সন্তানসৃষ্টির ব্যাখ্যা দাঁড় করাত। হাদিসে বর্ণিত নারীর ‘মনী’ এবং নারী-পুরুষের তরলের জয়-পরাজয়ে সন্তানের লিঙ্গ ও চেহারার মিল নির্ধারণের ধারণাও সেই পুরোনো চিকিৎসাচিন্তার সঙ্গে মেলে। নারীর শরীর থেকে যৌন উত্তেজনায় তরল বের হওয়া বাস্তব ঘটনা। ভুলটি হলো, সেই নিঃসরণকে পুরুষের বীর্যের সমতুল্য প্রজননবীজ ধরে তার আগে আসা, পরিমাণ বা প্রাধান্য দিয়ে সন্তানের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা।
হাদিসগুলোতে শুধু নারী ও পুরুষ উভয়ের সন্তানসৃষ্টিতে অবদানের কথা বলা হয়নি। সেখানে পুরুষের সাদা তরল ও নারীর হলুদ তরলের নির্দিষ্ট বর্ণনা আছে; কোনটির প্রাধান্যে ছেলে বা মেয়ে হবে এবং কোনটি আগে বের হলে সন্তান কার মতো হবে, সেই দাবিও আছে। এই কারণ-ফলের সম্পর্ক আধুনিক বংশগতিবিদ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যৌন উত্তেজনায় বাইরে বের হওয়া তরল, ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত হওয়া ডিম্বাণু এবং প্রজননকোষের ভেতরে থাকা বংশগত উপাদান এক বস্তু নয়। এদের এক নামে চালিয়ে দিলে পুরোনো ভুল ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে পরিণত হয় না।
ধর্মীয় দাবি ও তার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইসলামী শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী, পুরুষদের মতো নারীদেরও ‘বীর্য’ থাকে এবং তা সন্তানের শারীরিক সাদৃশ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে [1] । সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনায় দেখা যায়, উম্মু সুলায়ম নামক এক নারী নবী মুহাম্মদকে নারীদের স্বপ্নদোষ ও গোসল সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান যে, নারীরা যদি বীর্য দেখতে পায় তবে তাদের ওপর গোসল ফরয হবে। একই হাদিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সন্তানের শারীরিক আকৃতি পিতার মতো হবে নাকি মাতার মতো, তা নির্ভর করে কার বীর্য বা প্রজনন রস আগে নির্গত হয় বা জয়ী হয় তার ওপর। মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এই তরলকে ‘হলুদ ও পাতলা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বিবরণগুলো পড়লে বোঝা যায় নবী এই বর্ণনাগুলোতে নারীর দৃশ্যমান যৌনক্ষরণকে সন্তানের বংশগত সাদৃশ্যের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আধুনিক শারীরবৃত্তীয় জ্ঞানে নারীর যৌনক্ষরণের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু তা ডিম্বাণু নয় এবং ওই ক্ষরণ নিজে সন্তানের বংশগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে না। কিন্তু বুখারী মুসলিম সহ প্রখ্যাত হাদিসগ্রন্থগুলোতে ইসলামী বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভিন্ন [2] [3] [4] [5] –
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান)
পরিচ্ছেদঃ ৩/৫০. ইল্ম শিক্ষা করতে লজ্জাবোধ করা।
وَقَالَ مُجَاهِدٌ لاَ يَتَعَلَّمُ الْعِلْمَ مُسْتَحْيٍ وَلاَ مُسْتَكْبِرٌ وَقَالَتْ عَائِشَةُ نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءُ الأَنْصَارِ لَمْ يَمْنَعْهُنَّ الْحَيَاءُ أَنْ يَتَفَقَّهْنَ فِي الدِّينِ.
মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ’লাজুক এবং অহঙ্কারী ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। ’আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, ’আনসারী মহিলারাই উত্তম। লজ্জা তাদেরকে ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারেনি।
১৩০. উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উম্মু সুলায়ম (রাযি.) এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে?নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।’ তখন উম্মু সালামাহ (লজ্জায়) তার মুখ ঢেকে নিয়ে বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদেরও স্বপ্নদোষ হয় কি?’ তিনি বললেন, ’হ্যাঁ, তোমার ডান হাতে মাটি পড়ুক! (তা না হলে) তাদের সন্তান তাদের আকৃতি পায় কীভাবে? (২৮২, ৩৩২৮, ৬০৯১, ৬১২১; মুসলিম ৩/৭, হাঃ ৩১৩, আহমাদ ২৬৬৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৩২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩/ ইলম বা জ্ঞান
পরিচ্ছেদঃ ৯২। ‘ইলম শিক্ষা করতে লজ্জাবোধ করা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ১৩২, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১৩০
وَقَالَ مُجَاهِدٌ لاَ يَتَعَلَّمُ الْعِلْمَ مُسْتَحْيٍ وَلاَ مُسْتَكْبِرٌ. وَقَالَتْ عَائِشَةُ نِعْمَ النِّسَاءُ نِسَاءُ الأَنْصَارِ لَمْ يَمْنَعْهُنَّ الْحَيَاءُ أَنْ يَتَفَقَّهْنَ فِي الدِّينِ
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, ’লাজুক এবং অহঙ্কারী ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। ’আয়িশা (রাঃ) বলেন, ’আনসারী মহিলারাই উত্তম। লজ্জা তাদেরকে ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে নি।
১৩২। মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) … উম্মে সালমা (রাঃ) থেকে বর্ণত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উম্মে সুলায়ম (রাঃ) এসে বললেনঃ ইয়া রাসুল্লাহ! আল্লাহ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে?নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ’হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।’ তখন উম্মে সালমা (লজ্জায়) তাঁর মুখ ঢেকে নিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হয় কি?’ তিনি বললেন, ’হ্যাঁ, তোমার ডান হাতে মাটি পড়ুক!* (তা না হলে) তাঁর সন্তান তাঁর আকৃতি পায় কিরূপে?
* এটি কোন বদ দুয়া বরং বিস্ময় প্রকেশের জন্য আরবীতে ব্যবহৃত হয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫/ গোসল
পরিচ্ছেদঃ ৫/২২. মহিলাদের ইহ্তিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে।
২৮২। উম্মুল মু‘মিনীন উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আবূ তালহা (রাঃ) এর স্ত্রী উম্মু সুলায়ম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খিদমাতে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ্ তা‘আলা হকের ব্যাপারে লজ্জা করেন না।স্ত্রীলোকের ইহ্তিলাম (স্বপ্নদোষ) হলে কি ফরয গোসল করবে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাঁ, যদি তারা বীর্য দেখে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩/ হায়েয
পরিচ্ছেদঃ ৭. মহিলার মনী (বীর্য) বের হলে তার উপর গোসল করা ওয়াজিব
৬০৩। আব্বাস ইবনুল ওয়ালদী (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সেই মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ঘূমে পুরুষ যা দেখে তাই দেখতে পায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মেয়ে লোক যখন ঐরুপ দেখবে তখন সে গোসল করবে। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এ কথায় আমি লজ্জাবোধ করলাম। তিনি বললেন, এ রকমও কি হয়?রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, তা না হলে ছেলে মেয়ে তার সদৃশ কোত্থেকে হয়? পুরুষের বীর্য গাড় সাদা আর মেয়েলোকের বীর্য পাতলা, হলুদ। উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাদিসে সন্তানের লিঙ্গ ও শারীরিক সাদৃশ্য নির্ধারণের পৃথক দাবিগুলো
উম্মু সুলায়মের প্রশ্নসংক্রান্ত বর্ণনার পাশাপাশি সহিহ মুসলিম ও সহিহ বুখারিতে আরও কয়েকটি বিবরণ আছে। সেগুলোতে নারীর দৃশ্যমান নিঃসরণের সঙ্গে সন্তানের লিঙ্গ এবং পিতা-মাতার সঙ্গে চেহারার মিল—দুটি আলাদা বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। কোন বর্ণনায় কোন কারণের কথা বলা হচ্ছে, তার ওপরই দাবিগুলোর অর্থ নির্ভর করে।
সহিহ মুসলিম ৩১৫ক: নারী-পুরুষের তরলের প্রাধান্যে পুত্র বা কন্যাসন্তান
সাওবানের বর্ণনায় এক ইহুদি পণ্ডিত মুহাম্মদের কাছে এসে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে কথা বলেন, এরপর আখিরাতসংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন করেন। প্রশ্নোত্তরের শেষাংশে তিনি সন্তানের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে মুহাম্মদ পুরুষের তরলকে সাদা এবং নারীর তরলকে হলুদ বলেন; তারপর দুটির প্রাধান্যের ওপর ছেলে বা মেয়ে হওয়ার বিষয়টি নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন। [6]
كُنْتُ قَائِمًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ حَبْرٌ مِنْ أَحْبَارِ الْيَهُودِ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا مُحَمَّدُ . فَدَفَعْتُهُ دَفْعَةً كَادَ يُصْرَعُ مِنْهَا فَقَالَ لِمَ تَدْفَعُنِي فَقُلْتُ أَلاَ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ الْيَهُودِيُّ إِنَّمَا نَدْعُوهُ بِاسْمِهِ الَّذِي سَمَّاهُ بِهِ أَهْلُهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” إِنَّ اسْمِي مُحَمَّدٌ الَّذِي سَمَّانِي بِهِ أَهْلِي ” . فَقَالَ الْيَهُودِيُّ جِئْتُ أَسْأَلُكَ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” أَيَنْفَعُكَ شَىْءٌ إِنْ حَدَّثْتُكَ ” . قَالَ أَسْمَعُ بِأُذُنَىَّ فَنَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُودٍ مَعَهُ . فَقَالَ ” سَلْ ” . فَقَالَ الْيَهُودِيُّ أَيْنَ يَكُونُ النَّاسُ يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” هُمْ فِي الظُّلْمَةِ دُونَ الْجِسْرِ ” . قَالَ فَمَنْ أَوَّلُ النَّاسِ إِجَازَةً قَالَ ” فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ ” . قَالَ الْيَهُودِيُّ فَمَا تُحْفَتُهُمْ حِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَالَ ” زِيَادَةُ كَبِدِ النُّونِ ” قَالَ فَمَا غِذَاؤُهُمْ عَلَى إِثْرِهَا قَالَ ” يُنْحَرُ لَهُمْ ثَوْرُ الْجَنَّةِ الَّذِي كَانَ يَأْكُلُ مِنْ أَطْرَافِهَا ” . قَالَ فَمَا شَرَابُهُمْ عَلَيْهِ قَالَ ” مِنْ عَيْنٍ فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلاً ” . قَالَ صَدَقْتَ . قَالَ وَجِئْتُ أَسْأَلُكَ عَنْ شَىْءٍ لاَ يَعْلَمُهُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ رَجُلٌ أَوْ رَجُلاَنِ . قَالَ ” يَنْفَعُكَ إِنْ حَدَّثْتُكَ ” . قَالَ أَسْمَعُ بِأُذُنَىَّ . قَالَ جِئْتُ أَسْأَلُكَ عَنِ الْوَلَدِ قَالَ ” مَاءُ الرَّجُلِ أَبْيَضُ وَمَاءُ الْمَرْأَةِ أَصْفَرُ فَإِذَا اجْتَمَعَا فَعَلاَ مَنِيُّ الرَّجُلِ مَنِيَّ الْمَرْأَةِ أَذْكَرَا بِإِذْنِ اللَّهِ وَإِذَا عَلاَ مَنِيُّ الْمَرْأَةِ مَنِيَّ الرَّجُلِ آنَثَا بِإِذْنِ اللَّهِ ” . قَالَ الْيَهُودِيُّ لَقَدْ صَدَقْتَ وَإِنَّكَ لَنَبِيٌّ ثُمَّ انْصَرَفَ فَذَهَبَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” لَقَدْ سَأَلَنِي هَذَا عَنِ الَّذِي سَأَلَنِي عَنْهُ وَمَا لِي عِلْمٌ بِشَىْءٍ مِنْهُ حَتَّى أَتَانِيَ اللَّهُ بِهِ ” .
বাংলা অনুবাদ:
সাওবান বর্ণনা করেন: আমি আল্লাহর রাসুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন ইহুদিদের একজন পণ্ডিত এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ আমি তাঁকে এমন ধাক্কা দিলাম যে তিনি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাকে ধাক্কা দিচ্ছ কেন?’ আমি বললাম, ‘আপনি “হে আল্লাহর রাসুল” বলছেন না কেন?’ ইহুদি বললেন, ‘তাঁর পরিবার যে নাম রেখেছে, আমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকি।’ আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘আমার নাম মুহাম্মদ; আমার পরিবার এই নামই রেখেছে।’ ইহুদি বললেন, ‘আমি আপনাকে প্রশ্ন করতে এসেছি।’ আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘আমি কিছু বললে তা কি তোমার উপকারে আসবে?’ তিনি বললেন, ‘আমি নিজের দুই কান দিয়ে শুনব।’ আল্লাহর রাসুল তাঁর হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে মাটিতে খোঁচালেন এবং বললেন, ‘প্রশ্ন করো।’ ইহুদি বললেন, ‘যেদিন পৃথিবী অন্য পৃথিবীতে এবং আকাশসমূহও পরিবর্তিত হবে, সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে?’ আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘তারা সেতুর এপারে অন্ধকারে থাকবে।’ তিনি বললেন, ‘কারা প্রথমে সেতু পার হবে?’ তিনি বললেন, ‘দরিদ্র মুহাজিরেরা।’ ইহুদি বললেন, ‘জান্নাতে ঢুকলে তাদের প্রথম আপ্যায়ন কী হবে?’ তিনি বললেন, ‘মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ।’ তিনি বললেন, ‘এর পর তাদের খাবার কী হবে?’ তিনি বললেন, ‘তাদের জন্য জান্নাতের একটি ষাঁড় জবাই করা হবে, যেটি জান্নাতের বিভিন্ন প্রান্তে খেত।’ তিনি বললেন, ‘তারপর তাদের পানীয় কী হবে?’ তিনি বললেন, ‘সেখানকার সালসাবিল নামের একটি ঝরনার পানি।’ তিনি বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন। আমি এমন একটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতে এসেছি, যা পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে নবী অথবা একজন-দুজন মানুষ ছাড়া কেউ জানে না।’ তিনি বললেন, ‘আমি বললে কি তোমার উপকার হবে?’ ইহুদি বললেন, ‘আমি নিজের দুই কান দিয়ে শুনব। আমি সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন করতে এসেছি।’ তিনি বললেন, ‘পুরুষের পানি সাদা এবং নারীর পানি হলুদ। যখন দুটো একত্রিত হয়, তখন পুরুষের মনী নারীর মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে আল্লাহর অনুমতিতে পুত্রসন্তান হয়। নারীর মনী পুরুষের মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে আল্লাহর অনুমতিতে কন্যাসন্তান হয়।’ ইহুদি বললেন, ‘আপনি সত্য বলেছেন এবং আপনি অবশ্যই নবী।’ তারপর তিনি ফিরে চলে গেলেন। আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘সে আমাকে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করল, আল্লাহ আমাকে সেগুলো জানানোর আগে আমার সেসবের কোনো জ্ঞান ছিল না।’
এই বক্তব্যে নারীদেহ থেকে তরল বের হওয়ার সাধারণ তথ্যের সঙ্গে ছেলে বা মেয়ে জন্মানোর একটি নির্দিষ্ট নিয়ম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পুরুষের তরলের প্রাধান্যে ছেলে এবং নারীর তরলের প্রাধান্যে মেয়ে হবে—এটিই দাবিটির পরীক্ষাযোগ্য অংশ। মানুষের সাধারণ XX/XY ব্যবস্থায় ডিম্বাণু X ক্রোমোজোম বহন করে, আর নিষেককারী শুক্রাণু X অথবা Y বহন করে। দুজনের বাইরে বের হওয়া তরলের পরিমাণ, আগে-পরে আসা বা ওপর-নিচের অবস্থান থেকে সেই ক্রোমোজোমগত সমন্বয় নির্ধারিত হয় না। [7] [8]
সহিহ বুখারি ৩৩২৯ ও ৩৯৩৮: কোন তরল আগে নির্গত হলে সন্তান কার মতো হবে
আনাসের সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন সালামের প্রশ্নের একটি বর্ণনা সহিহ বুখারির দুটি স্থানে রয়েছে। এখানে বর্ণনার মূল প্রশ্নটি হলো, সন্তান কেন কখনও পিতৃকুল এবং কখনও মাতৃকুলের মতো হয়। মুহাম্মদের উত্তরে যৌনমিলনের সময় নারী বা পুরুষের তরল আগে নির্গত হওয়া-কে সাদৃশ্যের কারণ বলা হয়েছে। [9] [10]
بَلَغَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلاَمٍ مَقْدَمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ، فَأَتَاهُ، فَقَالَ إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ ثَلاَثٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ نَبِيٌّ، {قَالَ مَا} أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ وَمَا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَمِنْ أَىِّ شَىْءٍ يَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أَبِيهِ وَمِنْ أَىِّ شَىْءٍ يَنْزِعُ إِلَى أَخْوَالِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” خَبَّرَنِي بِهِنَّ آنِفًا جِبْرِيلُ ”. قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ ذَاكَ عَدُوُّ الْيَهُودِ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ فَنَارٌ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ. وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ حُوتٍ. وَأَمَّا الشَّبَهُ فِي الْوَلَدِ فَإِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَشِيَ الْمَرْأَةَ فَسَبَقَهَا مَاؤُهُ كَانَ الشَّبَهُ لَهُ، وَإِذَا سَبَقَ مَاؤُهَا كَانَ الشَّبَهُ لَهَا ”. قَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ. ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ بُهُتٌ، إِنْ عَلِمُوا بِإِسْلاَمِي قَبْلَ أَنْ تَسْأَلَهُمْ بَهَتُونِي عِنْدَكَ، فَجَاءَتِ الْيَهُودُ وَدَخَلَ عَبْدُ اللَّهِ الْبَيْتَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” أَىُّ رَجُلٍ فِيكُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ ”. قَالُوا أَعْلَمُنَا وَابْنُ أَعْلَمِنَا وَأَخْبَرُنَا وَابْنُ أَخْيَرِنَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” أَفَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ اللَّهِ ”. قَالُوا أَعَاذَهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ. فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَيْهِمْ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالُوا شَرُّنَا وَابْنُ شَرِّنَا. وَوَقَعُوا فِيهِ.
বাংলা অনুবাদ:
আনাস বর্ণনা করেন: আবদুল্লাহ ইবন সালাম আল্লাহর রাসুলের মদিনায় আসার খবর পেয়ে তাঁর কাছে এলেন। তিনি বললেন, ‘আমি আপনাকে তিনটি প্রশ্ন করব, যার উত্তর নবী ছাড়া কেউ জানে না। কেয়ামতের প্রথম নিদর্শন কী? জান্নাতবাসীরা প্রথম কোন খাবার খাবে? আর কী কারণে সন্তান পিতার মতো হয়, কী কারণে তার মামাদের মতো হয়?’ আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘জিবরাইল এইমাত্র আমাকে এগুলোর সংবাদ দিয়েছেন।’ আবদুল্লাহ বললেন, ‘ফেরেশতাদের মধ্যে সে তো ইহুদিদের শত্রু।’ আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘কেয়ামতের প্রথম নিদর্শন হলো এমন আগুন, যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে একত্র করবে। জান্নাতবাসীদের প্রথম খাবার হলো মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তানের সাদৃশ্যের ব্যাপারে—পুরুষ যখন নারীর সঙ্গে সহবাস করে এবং তার পানি নারীর পানির আগে আসে, তখন সন্তান তার মতো হয়। নারীর পানি আগে এলে সন্তান নারীর মতো হয়।’ আবদুল্লাহ বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহর রাসুল।’ তারপর বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, ইহুদিরা অপবাদদাতা জাতি। আপনি তাদের প্রশ্ন করার আগে তারা আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানলে আপনার কাছে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেবে।’ তারপর ইহুদিরা এলো এবং আবদুল্লাহ ঘরের ভেতরে ঢুকলেন। আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন সালাম কেমন ব্যক্তি?’ তারা বলল, ‘তিনি আমাদের সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির পুত্র এবং নিজেও সবচেয়ে জ্ঞানী; তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পুত্র এবং নিজেও শ্রেষ্ঠ।’ আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করলে তোমাদের মত কী হবে?’ তারা বলল, ‘আল্লাহ তাঁকে তা থেকে রক্ষা করুন।’ তখন আবদুল্লাহ বের হয়ে তাদের সামনে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।’ তারা বলল, ‘তিনি আমাদের সবচেয়ে মন্দ ব্যক্তির পুত্র এবং নিজেও সবচেয়ে মন্দ।’ তারা তাঁর নিন্দা করতে লাগল।
সন্তানের গাত্রবর্ণ ও উচ্চতার মতো বহু বৈশিষ্ট্যে একাধিক জিনের ভূমিকা থাকে। শরীরের একেক বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকারও একেকভাবে প্রকাশ পায়; একটি সন্তানকে সম্পূর্ণ পিতৃকুল অথবা সম্পূর্ণ মাতৃকুলের অনুলিপি বানানোর জন্য এক পক্ষের যৌনরসের জয়ী হওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যৌনমিলনে কার দৃশ্যমান তরল আগে বের হলো, সেই তথ্য সন্তানের চেহারার সামগ্রিক সাদৃশ্য নির্ধারণ করে না। [11] [12]
জিনের ‘প্রকটতা’ও তরলের প্রাধান্যের সমার্থক নয়। প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের আলোচনায় একটি নির্দিষ্ট জিনের দুই সংস্করণের সম্পর্ক বিচার করা হয়। পুরুষের সব জিন নারীর সব জিনকে, কিংবা নারীর সব জিন পুরুষের সব জিনকে হারিয়ে দিচ্ছে—এমন কোনো বিষয় সেখানে নেই। একটি জিনের সংস্করণ মা অথবা বাবা—যেকোনো পক্ষ থেকেই আসতে পারে। তাই হাদিসের ‘পানি প্রাধান্য পেল’ বাক্যকে ‘প্রকট জিন কাজ করল’ বলে অনুবাদ করা অর্থ বদলে দেওয়া। [13]
সহিহ মুসলিম ৩১৪খ: “ওপরের দিকে ওঠা” এবং মাতৃকুল-পিতৃকুলের সাদৃশ্য
আয়িশার সূত্রে আরেকটি বর্ণনায় আগে নির্গমনের বদলে নারীর ও পুরুষের তরলের “প্রাধান্য” বা “ওপরের দিকে ওঠা”র বক্তব্য এসেছে। [14]
أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ تَغْتَسِلُ الْمَرْأَةُ إِذَا احْتَلَمَتْ وَأَبْصَرَتِ الْمَاءَ فَقَالَ ” نَعَمْ ” . فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ تَرِبَتْ يَدَاكِ وَأُلَّتْ . قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” دَعِيهَا وَهَلْ يَكُونُ الشَّبَهُ إِلاَّ مِنْ قِبَلِ ذَلِكِ إِذَا عَلاَ مَاؤُهَا مَاءَ الرَّجُلِ أَشْبَهَ الْوَلَدُ أَخْوَالَهُ وَإِذَا عَلاَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَهَا أَشْبَهَ أَعْمَامَهُ ” .
বাংলা অনুবাদ:
আয়িশা বর্ণনা করেন: একজন নারী আল্লাহর রাসুলকে বললেন, ‘নারী স্বপ্নদোষ হলে এবং পানি দেখতে পেলে কি গোসল করবে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ আয়িশা তাঁকে বললেন, ‘তোমার দুই হাত ধুলোমাখা হোক এবং তুমি বর্শাবিদ্ধ হও।’ আয়িশা বলেন, তখন আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘তাকে ছেড়ে দাও। এ ছাড়া সন্তানের সাদৃশ্য আর কোথা থেকে হয়? তার পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার মামাদের মতো হয়; আর পুরুষের পানি তার পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার চাচাদের মতো হয়।’
এই তিনটি বর্ণনায় একই ফলের জন্য একই কারণ বলা হয়নি। সাওবানের বর্ণনায় তরলের প্রাধান্য সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে; আয়িশার বর্ণনায় তরলের প্রাধান্য নির্ধারণ করে সাদৃশ্য; বুখারির বর্ণনায় সাদৃশ্যের কারণ হলো আগে আসা। প্রথম দুটি বক্তব্য একসঙ্গে আক্ষরিকভাবে ধরলে পুত্রসন্তান পিতৃকুলের এবং কন্যাসন্তান মাতৃকুলের মতো হওয়ার কথা। বাস্তবে পুত্র মাতৃকুলের এবং কন্যা পিতৃকুলের মতোও হয়। এই সমস্যার কারণেই প্রাচীন ব্যাখ্যাকারীরা একই শব্দের ভিন্ন অর্থ এবং আগে আসা ও বেশি হওয়ার আলাদা সমন্বয় দাঁড় করিয়েছেন।
অনুবাদে ঢোকানো ডিম্বাণু, ক্রোমোজোম ও জিন
সুন্নাহ ডটকমে প্রকাশিত সহিহ মুসলিম ৩১৫ক-এর ইংরেজি অনুবাদে নারীর পানিকে ডিম্বাণুর কেন্দ্রীয় অংশ এবং নারী-পুরুষের মনীকে ক্রোমোজোম ও জিন দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মূল আরবি বক্তব্যে এই আধুনিক পরিভাষাগুলোর একটিও নেই। সেখানে আছে পুরুষের সাদা পানি, নারীর হলুদ পানি, দুই পানির মিলন এবং এক পক্ষের মনী অন্য পক্ষের মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে পুত্র অথবা কন্যাসন্তান হওয়ার দাবি। সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন থেকে এই উত্তরের শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক আরবি পাঠে বক্তব্যটি এমন: [15]
قَالَ جِئْتُ أَسْأَلُكَ عَنِ الْوَلَدِ قَالَ ” مَاءُ الرَّجُلِ أَبْيَضُ وَمَاءُ الْمَرْأَةِ أَصْفَرُ فَإِذَا اجْتَمَعَا فَعَلاَ مَنِيُّ الرَّجُلِ مَنِيَّ الْمَرْأَةِ أَذْكَرَا بِإِذْنِ اللَّهِ وَإِذَا عَلاَ مَنِيُّ الْمَرْأَةِ مَنِيَّ الرَّجُلِ آنَثَا بِإِذْنِ اللَّهِ ” . قَالَ الْيَهُودِيُّ لَقَدْ صَدَقْتَ وَإِنَّكَ لَنَبِيٌّ ثُمَّ انْصَرَفَ فَذَهَبَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” لَقَدْ سَأَلَنِي هَذَا عَنِ الَّذِي سَأَلَنِي عَنْهُ وَمَا لِي عِلْمٌ بِشَىْءٍ مِنْهُ حَتَّى أَتَانِيَ اللَّهُ بِهِ ” .
বাংলা অনুবাদ:
তিনি বললেন, “আমি সন্তানের বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে এসেছি।” তিনি বললেন, “পুরুষের পানি সাদা এবং নারীর পানি হলুদ। যখন দুটো একত্রিত হয়, তখন পুরুষের মনী নারীর মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে আল্লাহর অনুমতিতে পুত্রসন্তান হয়। নারীর মনী পুরুষের মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে আল্লাহর অনুমতিতে কন্যাসন্তান হয়।” ইহুদি বললেন, “আপনি সত্য বলেছেন এবং আপনি অবশ্যই নবী।” তারপর তিনি ফিরে চলে গেলেন। আল্লাহর রাসুল বললেন, “সে আমাকে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন করল, আল্লাহ আমাকে সেগুলো জানানোর আগে আমার সেসবের কোনো জ্ঞান ছিল না।”
এই আরবিতে ‘পানি’ ও ‘মনী’ ব্যবহার করে নারী-পুরুষের দেহরসের কথা বলা হয়েছে। সেই দেহরসকে অনুবাদে ডিম্বাণুর কেন্দ্রীয় অংশ, ক্রোমোজোম ও জিনের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বন্ধনীর মধ্যে রাখলেও এই শব্দগুলো আরবি মূলের অনুবাদ হয়ে যায় না; এগুলো অনুবাদে যোগ করা ব্যাখ্যা। সেই যোগ করা পরিচয়ের সাহায্যে মূলের তরল-প্রাধান্যের বক্তব্য একটি আধুনিক বংশগতিবিষয়ক বক্তব্যের চেহারা পায়। ফলে বাংলা বা ইংরেজির পাঠক শুধু অনুবাদ পড়লে হাদিসের মূল দাবির বদলে অনুবাদে বসানো আধুনিক ব্যাখ্যাটি পান।
সহিহ মুসলিম ৩১৪খ-তে শব্দবদল আরও সরাসরি। আরবিতে প্রশ্নটি হলো স্বপ্নদোষের পরে নারী পানি দেখতে পেলে গোসল করবে কি না। উত্তরে সেই নারীর পানি এবং পুরুষের পানির প্রাধান্য দিয়ে সন্তানের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইংরেজিতে এই পানি হয়ে গেছে জিন। এখানে ডিম্বস্ফোটন বা প্রজননকোষ পরীক্ষা করার কোনো ঘটনা নেই; গোসলের সঙ্গে যুক্ত দৃশ্যমান নিঃসরণের কথাই আছে। [16]
أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ تَغْتَسِلُ الْمَرْأَةُ إِذَا احْتَلَمَتْ وَأَبْصَرَتِ الْمَاءَ فَقَالَ ” نَعَمْ ” . فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ تَرِبَتْ يَدَاكِ وَأُلَّتْ . قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” دَعِيهَا وَهَلْ يَكُونُ الشَّبَهُ إِلاَّ مِنْ قِبَلِ ذَلِكِ إِذَا عَلاَ مَاؤُهَا مَاءَ الرَّجُلِ أَشْبَهَ الْوَلَدُ أَخْوَالَهُ وَإِذَا عَلاَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَهَا أَشْبَهَ أَعْمَامَهُ ” .
বাংলা অনুবাদ:
একজন নারী আল্লাহর রাসুলকে বললেন, “নারী স্বপ্নদোষ হলে এবং পানি দেখতে পেলে কি গোসল করবে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” আয়িশা তাঁকে বললেন, “তোমার দুই হাত ধুলোমাখা হোক এবং তুমি বর্শাবিদ্ধ হও।” আয়িশা বলেন, তখন আল্লাহর রাসুল বললেন, “তাকে ছেড়ে দাও। এ ছাড়া সন্তানের সাদৃশ্য আর কোথা থেকে হয়? তার পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার মামাদের মতো হয়; আর পুরুষের পানি তার পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার চাচাদের মতো হয়।”
| হাদিস ও আরবি মূল | আরবির সরাসরি বাংলা অর্থ | সুন্নাহ ডটকমের ইংরেজি অনুবাদের হুবহু অংশ | অর্থ কোথায় বদলেছে |
|---|---|---|---|
| সহিহ মুসলিম ৩১৫ক مَاءُ الْمَرْأَةِ أَصْفَرُ | নারীর পানি হলুদ। | that of woman (i. e. ovum central portion) yellow, | নারীর পানির ব্যাখ্যায় ডিম্বাণুর কেন্দ্রীয় অংশ ঢোকানো হয়েছে। আরবিতে ডিম্বাণু, কেন্দ্র অথবা অংশ—কোনোটিই নেই। |
| সহিহ মুসলিম ৩১৫ক فَعَلاَ مَنِيُّ الرَّجُلِ مَنِيَّ الْمَرْأَةِ | পুরুষের মনী নারীর মনীর ওপর প্রাধান্য পেল। | the male’s substance (chromosomes and genes) prevails upon the female’s substance (chromosomes and genes) | দুই পক্ষের মনীর প্রাধান্যকে ক্রোমোজোম ও জিনের প্রাধান্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আরবিতে ক্রোমোজোম অথবা জিনের উল্লেখ নেই। |
| সহিহ মুসলিম ৩১৪খ إِذَا عَلاَ مَاؤُهَا مَاءَ الرَّجُلِ | নারীর পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে। | when the genes contributed by woman prevail upon those of man | নারীর পানি হয়ে গেছে নারীর দেওয়া জিন; পুরুষের পানিও হয়ে গেছে পুরুষের জিন। এখানে সংযোজনটি বন্ধনী ছাড়াই অনুবাদের মূল বাক্যে বসানো হয়েছে। |
| সহিহ মুসলিম ৩১৪খ وَإِذَا عَلاَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَهَا | আর পুরুষের পানি নারীর পানির ওপর প্রাধান্য পেলে। | when the genes of man prevail upon those of woman | পুরুষের পানি ও নারীর পানির সম্পর্ককে পুরুষ ও নারীর জিনের সম্পর্ক বানানো হয়েছে। একই শব্দবদল বিপরীত দিকের বক্তব্যেও প্রয়োগ করা হয়েছে। |
৩১৫ক-এর প্রথম শব্দবদলে নারীর পানি → ডিম্বাণুর কেন্দ্রীয় অংশ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টিতে নারী-পুরুষের মনী → ক্রোমোজোম ও জিন করা হয়েছে। ৩১৪খ-তে নারী-পুরুষের পানি → নারী-পুরুষের জিন করা হয়েছে, তাও অনুবাদের মূল বাক্যের মধ্যেই। ‘পানি’, ‘মনী’, ‘ডিম্বাণু’, ‘ক্রোমোজোম’ এবং ‘জিন’ এক বস্তুর পাঁচটি নাম নয়। ‘পানি’ ও ‘মনী’র জায়গায় শেষের তিনটি বসালে বক্তব্যের বিষয়ই বদলে যায়। মূলের দৃশ্যমান দেহরস তখন অনুবাদের মধ্যে প্রজননকোষ অথবা বংশগত উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিবর্তনকে অনুবাদের স্বাভাবিক শব্দচয়ন বলে চালানোর সুযোগ নেই; এটি মূলের ওপর নতুন জৈবিক পরিচয় চাপানো।
৩১৪খ-এর প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে পড়লে বিকৃতিটি আরও স্পষ্ট হয়। শুরুতে বলা হচ্ছে, নারী ঘুম থেকে উঠে পানি দেখেছে কি না; শেষে সেই পানির প্রাধান্য দিয়ে সন্তানের মামা অথবা চাচাদের মতো হওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজিতে উত্তরের পানিকে জিন বানানো হলে প্রশ্নের দৃশ্যমান নিঃসরণ এবং উত্তরের কথিত বংশগত উপাদান দুটি ভিন্ন বস্তু হয়ে যায়। নারীর শরীর বা কাপড়ে দেখা তরল জিনের সমার্থক নয়। অনুবাদ এই ব্যবধানের ব্যাখ্যা দেয় না; ‘পানি’র জায়গায় ‘জিন’ বসিয়ে ব্যবধানটিকে আড়াল করে।
‘প্রাধান্য’ শব্দটি দিয়েও এই অর্থবদল বৈধ হয় না। এক দেহরসের ওপর আরেক দেহরসের প্রাধান্য এবং একটি জিনের সংস্করণের প্রকট প্রকাশ আলাদা বিষয়। জিনের প্রকটতা একটি নির্দিষ্ট জিনের সংস্করণগুলোর সম্পর্ক; পুরুষের সমস্ত জিন নারীর সমস্ত জিনকে, অথবা নারীর সমস্ত জিন পুরুষের সমস্ত জিনকে হারিয়ে দিচ্ছে—এমন কোনো নিয়ম নয়। অনুবাদে জিন বসিয়ে দিলেও তরলের প্রাধান্যে ছেলে-মেয়ে হওয়া কিংবা কার তরল প্রাধান্য পেল তার কুলের মতো চেহারা হওয়ার নিয়ম বৈজ্ঞানিক সত্য হয় না। [17]
এই অনুবাদকে দেখিয়ে হাদিসে ডিম্বাণু, ক্রোমোজোম ও জিনের আগাম জ্ঞান ছিল বলে দাবি করলে প্রমাণের জায়গায় অনুবাদের নিজের সংযোজনই বসে যায়। প্রথমে মূল আরবিতে অনুপস্থিত বিজ্ঞান অনুবাদে ঢোকানো হচ্ছে; তারপর সেই অনুবাদ পড়েই মনে হচ্ছে, হাদিসটি আধুনিক জীববিজ্ঞানের কথা বলেছে। এই পদ্ধতিতে যে পুরোনো ধর্মীয় বক্তব্যকে ইচ্ছামতো আধুনিক বানানো যায়। এতে মূল বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত হয় না; তার ভাষা ও বিষয়বস্তু বদলে যায়। দেহরসের প্রাধান্যকে বংশগতিবিজ্ঞানের আবিষ্কার সাজানোর এই অনুবাদ সরাসরি অর্থবিকৃতি।
হাদিসের ইসলামী ব্যাখ্যা
আসুন এই বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য কি তা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক,
কোরআন ৭৬:২-এর ধ্রুপদী তাফসিরে নারী ও পুরুষের তরলের মিশ্রণ
সূরা ইনসানের দ্বিতীয় আয়াতে মানুষের সৃষ্টির উপাদান হিসেবে ‘মিশ্রিত নুতফা’র উল্লেখ আছে। [18]
إِنَّا خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ مِن نُّطۡفَةٍ أَمۡشَاجٖ نَّبۡتَلِيهِ فَجَعَلۡنَٰهُ سَمِيعَۢا بَصِيرًا ٢
বাংলা অনুবাদ:
নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে মিশ্রিত নুতফা থেকে সৃষ্টি করেছি, তাকে পরীক্ষা করার জন্য; তাই তাকে শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন করেছি।
ইবন কাসির এই আয়াতের তাফসিরে ইবন আব্বাস, ইকরিমা, মুজাহিদ, হাসান এবং রবি ইবন আনাসের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে ‘আমশাজ’ হলো নারী ও পুরুষের পানি একত্রিত হয়ে মিশে যাওয়া। তাবারির তাফসিরেও নারী-পুরুষের পানির মিশ্রণের এই ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। [19] [20]
ثم بين ذلك فقال : ( إنا خلقنا الإنسان من نطفة أمشاج ) أي : أخلاط . والمشج والمشيج : الشيء الخليط ، بعضه في بعض . قال ابن عباس في قوله : ( من نطفة أمشاج ) يعني : ماء الرجل وماء المرأة إذا اجتمعا واختلطا ، ثم ينتقل بعد من طور إلى طور ، وحال إلى حال ، ولون إلى لون . وهكذا قال عكرمة ، ومجاهد ، والحسن ، والربيع بن أنس : الأمشاج : هو اختلاط ماء الرجل بماء المرأة . وقوله : ( نبتليه ) أي : نختبره ، كقوله : ( ليبلوكم أيكم أحسن عملا ) [ الملك : 2 ] . ( فجعلناه سميعا بصيرا ) أي : جعلنا له سمعا وبصرا يتمكن بهما من الطاعة والمعصية .
বাংলা অনুবাদ:
তারপর তিনি তা ব্যাখ্যা করে বলেন: “নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে মিশ্রিত নুতফা থেকে সৃষ্টি করেছি”—অর্থাৎ মিশ্র উপাদান থেকে। ‘মাশজ’ ও ‘মাশিজ’ হলো এমন মিশ্র বস্তু, যার এক অংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিশে থাকে। “মিশ্রিত নুতফা থেকে” কথাটির ব্যাখ্যায় ইবন আব্বাস বলেছেন: এর অর্থ পুরুষের পানি এবং নারীর পানি, যখন তারা একত্রিত হয়ে মিশে যায়। তারপর তা এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় এবং এক রং থেকে অন্য রঙে পরিবর্তিত হয়। ইকরিমা, মুজাহিদ, হাসান ও রবি ইবন আনাসও একইভাবে বলেছেন: ‘আমশাজ’ হলো পুরুষের পানির সঙ্গে নারীর পানির মিশ্রণ। “আমরা তাকে পরীক্ষা করি”—এর অর্থ আমরা তাকে পরীক্ষা করি; যেমন তিনি বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কে কাজে উত্তম, তা পরীক্ষা করার জন্য” [সূরা মুলক: ২]। “তাই আমরা তাকে শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন করেছি”—অর্থাৎ তাকে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি দিয়েছি, যার মাধ্যমে সে আনুগত্য ও অবাধ্যতা করতে পারে।
এই তাফসিরে মিশ্রণের ব্যাখ্যা হলো পুরুষের পানি ও নারীর পানি একত্র হওয়া। হাদিসে সেই নারীর পানিকেই রং, ঘনত্ব, বাইরে বের হওয়া, গোসল এবং সন্তানসাদৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে হাদিস ও তাফসিরের এই ভাষা একটি ধারাবাহিক ধারণা প্রকাশ করে: নারী-পুরুষের দুটি দেহরস সন্তানসৃষ্টির উপাদান। আধুনিক নিষেকবিজ্ঞানে দুই পক্ষের অবদান আসে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মাধ্যমে। যৌন উত্তেজনায় দুজনের বাইরে বের হওয়া তরল মেশার সঙ্গে সেই প্রক্রিয়ার মৌলিক পার্থক্য আছে। শুধু ‘দুই পক্ষের অবদান’ অংশটুকু মিলিয়ে নিঃসরণ, রং এবং প্রাধান্যের বাকি দাবিগুলো মুছে দিলে শাস্ত্রের বক্তব্যই বদলে যায়।
‘মনী’ (Maniy) শব্দের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
আরবি ‘মনী’ শব্দের ব্যাখ্যায় নববী লিখেছেন, একে এই নামে ডাকা হয় কারণ তা ঢালা বা নিঃসরণ করা হয়। এই ব্যবহার দেহ থেকে বের হওয়া পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সংজ্ঞা, হাদিসের গোসলের প্রসঙ্গ এবং ফিকহে কাপড় থেকে তরল সরানোর বিধানের মধ্যে ‘ডিম্বাণু’ অথবা ‘জিনগত সংকেত’ অর্থের ভিত্তি নেই। আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মেলানোর জন্য সেই অর্থ বসানো শব্দের ব্যাখ্যা নয়, শব্দের অর্থ জবরদস্তি বদলে দেওয়া। [21]
( فرع ) في لغات المني والودي والمذي ، وتحقيق صفاتها ، أما المني فمشدد ، ويسمى منيا لأنه يمنى أي يصب ، وسميت منيا لما يراق فيها من الدماء ويقال : أمنى ومنى بالتخفيف ومنى بالتشديد ثلاث لغات ، الأولى أفصح وبها جاء القرآن قال الله تعالى { أفرأيتم ما تمنون }
বাংলা অনুবাদ:
শাখা আলোচনা: মনী, ওয়াদি ও মাযির উচ্চারণ এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ সম্পর্কে। ‘মনী’ শব্দে দ্বিত্ব আছে। একে মনী বলা হয়, কারণ তা ‘ইউমনা’, অর্থাৎ ঢালা হয়। মিনাকে এই নামে ডাকা হয় সেখানে রক্ত ঢালা হয় বলে। ‘আমনা’, দ্বিত্ব ছাড়া ‘মানা’ এবং দ্বিত্বসহ ‘মান্না’—এই তিনটি রূপ আছে। প্রথমটি সবচেয়ে শুদ্ধ; কোরআনেও সেটিই এসেছে। আল্লাহ বলেছেন: “তোমরা যা নিঃসরণ করো, তা কি ভেবে দেখেছ?”
সহিহ মুসলিম ৩১১-তে পুরুষের পানিকে সাদা ও ঘন এবং নারীর পানিকে হলুদ ও পাতলা বলা হয়েছে। বুখারির বর্ণনায় স্বপ্নদোষের পরে নারী পানি দেখতে পেলে গোসলের কথা আছে। এখানে যে বস্তু চেনার কথা বলা হচ্ছে, তার রং আছে, গন্ধ আছে, তা বাইরে বের হয় এবং তার পরে কামনা স্তিমিত হওয়ার কথা বলা হয়। ডিম্বস্ফোটন এই অভিজ্ঞতা নয়। নারীর ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত হয়; ঘুম থেকে উঠে শরীর বা কাপড়ে দেখা যৌনক্ষরণকে ডিম্বাণু বললে শরীরের দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়াকে এক করে ফেলা হয়। [22] [23]
নববীর বিস্তারিত আলোচনায় নারীর মনী চেনার চিহ্ন নিয়েও আলেমদের মতভেদ রয়েছে। কারও কাছে আনন্দ ও পরবর্তী কামনা স্তিমিত হওয়াই চিহ্ন; কেউ গন্ধ যোগ করেছেন; কেউ পুরুষের মনী চেনার সব চিহ্ন নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করেছেন। এই মতভেদ একটি দৃশ্যমান নিঃসরণ শনাক্ত করা নিয়ে। একে তাঁরা সন্তানসৃষ্টির উপাদানও মনে করেছেন; কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তাঁরা আধুনিক ডিম্বাণু বা প্রজননকোষের ভেতরের জিন সম্পর্কে কথা বলেছেন। [24]
وأما مني المرأة فأصفر رقيق . قال المتولي : وقد يبيض لفضل قوتها ، قال إمام الحرمين والغزالي : ولا خاصية له إلا التلذذ وفتور شهوتها عقيب خروجه ولا يعرف إلا بذلك ، وقال الروياني : رائحته كرائحة مني الرجل ، فعلى هذا له خاصيتان يعرف بإحداهما ، وقال البغوي : خروج منيها بشهوة أو بغيرها يوجب الغسل كمني الرجل وذكر الرافعي أن الأكثرين قالوا تصريحا وتعريضا يطرد في منيها الخواص الثلاث ، وأنكر عليه الشيخ أبو عمرو بن الصلاح وقال : هذا الذي ادعاه ليس كما قاله ، والله أعلم .
বাংলা অনুবাদ:
নারীর মনী হলো হলুদ ও পাতলা। মুতাওয়াল্লি বলেছেন: তার শক্তি বেশি হলে কখনো তা সাদা হতে পারে। ইমামুল হারামাইন ও গাজ্জালি বলেছেন: বের হওয়ার সময় আনন্দ পাওয়া এবং বের হওয়ার পরে কামনা স্তিমিত হয়ে যাওয়া ছাড়া এর আলাদা কোনো চিহ্ন নেই; শুধু এভাবেই তা চেনা যায়। রুয়ানি বলেছেন: এর গন্ধ পুরুষের মনীর গন্ধের মতো। সে হিসাবে এর দুটি বিশেষ চিহ্ন আছে, যার যেকোনো একটি দিয়ে তা চেনা যায়। বাগাবি বলেছেন: নারীর মনী কামনাসহ বের হোক বা কামনা ছাড়া, পুরুষের মনীর মতোই তা গোসল আবশ্যক করে। রাফিয়ি উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেম স্পষ্ট বক্তব্যে অথবা ইঙ্গিতে বলেছেন যে মনী চেনার তিনটি চিহ্নই নারীর মনীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর এই বক্তব্য অস্বীকার করে বলেছেন: তিনি যা দাবি করেছেন, বিষয়টি তেমন নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
নববীর শরহ সহিহ মুসলিম-এ একই নিঃসরণের দুটি চিহ্ন হিসেবে গন্ধ এবং নির্গমনের সময় আনন্দ ও পরবর্তী কামনা স্তিমিত হওয়ার কথা এসেছে। তাঁর বর্ণনায় নারীর শক্তি বেশি হলে সেই তরল সাদা হওয়ার কথাও আছে। একই প্রসঙ্গে তিনি ‘প্রাধান্য’ শব্দের সম্ভাব্য অর্থ হিসেবে আগে আসা এবং পরিমাণ ও শক্তির আধিক্য উল্লেখ করেছেন। [25] [26]
وَأَمَّا مَنِيُّ الْمَرْأَةِ فَهُوَ أَصْفَرُ رَقِيقٌ وَقَدْ يَبْيَضُّ لِفَضْلِ قُوَّتِهَا وَلَهُ خَاصِّيَّتَانِ يُعْرَفُ بِوَاحِدَةٍ مِنْهُمَا إِحْدَاهُمَا أَنَّ رَائِحَتَهُ كَرَائِحَةِ مَنِيِّ الرَّجُلِ وَالثَّانِيَةُ التَّلَذُّذُ بِخُرُوجِهِ وَفُتُورُ شَهْوَتِهَا عَقِبَ خُرُوجِهِ قَالُوا وَيَجِبُ الْغُسْلُ بِخُرُوجِ الْمَنِيِّ بِأَيِّ صِفَةٍ وَحَالٍ كَانَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (فَمِنْ أَيِّهِمَا عَلَا أَوْ سَبَقَ يَكُونُ مِنْهُ الشَّبَهُ) وَفِي الرِّوَايَةِ الْأُخْرَى (إِذَا عَلَا مَاؤُهَا مَاءَ الرَّجُلِ وَإِذَا عَلَا مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَهَا) قَالَ الْعُلَمَاءُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِالْعُلُوِّ هُنَا السَّبْقُ وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ الْكَثْرَةُ وَالْقُوَّةُ بِحَسَبِ كَثْرَةِ الشَّهْوَةِ وَقَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمِنْ أَيِّهِمَا عَلَا هَكَذَا هُوَ فِي الْأُصُولِ فَمِنْ أَيِّهِمَا بِكَسْرِ الْمِيمِ وَبَعْدَهَا نُونٌ سَاكِنَةٌ وَهِيَ الْحَرْفُ الْمَعْرُوفُ وَإِنَّمَا ضَبَطْتُهُ لِئَلَّا يُصَحَّفَ بِمَنِيٍّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ
বাংলা অনুবাদ:
নারীর মনী হলো হলুদ ও পাতলা; তার শক্তি বেশি হলে কখনো তা সাদা হতে পারে। এর দুটি বিশেষ চিহ্ন রয়েছে, যার যেকোনো একটি দিয়ে তা চেনা যায়। প্রথমটি হলো, এর গন্ধ পুরুষের মনীর গন্ধের মতো। দ্বিতীয়টি হলো, তা বের হওয়ার সময় আনন্দ অনুভব করা এবং বের হওয়ার পরে কামনা স্তিমিত হয়ে যাওয়া। আলেমরা বলেছেন: মনী যেকোনো বৈশিষ্ট্য ও অবস্থায় বের হোক, তার কারণে গোসল আবশ্যক হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। তাঁর বক্তব্য, “দুজনের যারটি প্রাধান্য পায় অথবা আগে আসে, সাদৃশ্য তার থেকেই হয়”; আরেক বর্ণনায় আছে, “তার পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে” এবং “পুরুষের পানি তার পানির ওপর প্রাধান্য পেলে”। আলেমরা বলেছেন: এখানে প্রাধান্যের অর্থ আগে আসা হতে পারে; আবার কামনার আধিক্য অনুসারে পরিমাণ ও শক্তির আধিক্যও হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে “ফামিন আইয়িহিমা আলা” কথাটি মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই আছে—‘মিন’-এর মিমে যের এবং তার পরে নুন সাকিন; এটি পরিচিত অব্যয়। ‘মনী’ পড়ে ভুল করার আশঙ্কা দূর করতে আমি উচ্চারণটি নির্দিষ্ট করে দিলাম। আল্লাহই ভালো জানেন।
কাপড়ে শুকিয়ে যাওয়া নারীর মনী: ডিম্বাণুর ব্যাখ্যা যেখানে অচল
ইবন কুদামার আল-মুগনি-তে আহমদ ইবন হাম্বলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে নারীর মনী শুকিয়ে গেলে তা কাপড় থেকে ঘষে তোলা যায় কি না, সেই আলোচনা আছে। তিনি কারণ হিসেবে বলেছেন, পুরুষেরটি ঘন এবং নারীরটি পাতলা; নারীরটি শুকিয়ে গেলে ঘষে সরানোর মতো জমাট অংশ থাকে না। একই সঙ্গে তিনি দুটিকে মানুষের সৃষ্টির সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ কাপড়ে লাগা বাহ্যিক তরল এবং সন্তানসৃষ্টির উপাদান—এই দুই পরিচয় একই বস্তুতে আরোপ করা হয়েছে। [27]
فصل : قال أحمد رحمه الله : إنما يفرك مني الرجل ، أما مني المرأة فلا يفرك ; لأن الذي للرجل ثخين ، والذي للمرأة رقيق . والمعنى في هذا أن الفرك يراد للتخفيف والرقيق لا يبقى له جسم بعد جفافه يزول بالفرك ، فلا يفيد فيه شيئا ، فعلى هذا إن قلنا بنجاسته ، فلا بد من غسله رطبا كان أو يابسا ، كالبول . وإن قلنا بطهارته ، استحب غسله ، كما يستحب فرك مني الرجل . وأما الطهارة والنجاسة فلا يفترقان فيه ; لأن كل واحد منهما مني ، وهو بدء لخلق آدمي ، خارج من السبيل .
বাংলা অনুবাদ:
পরিচ্ছেদ: আহমদ বলেছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—শুধু পুরুষের মনী ঘষে তোলা হয়; নারীর মনী ঘষে তোলা হয় না। কারণ পুরুষেরটি ঘন এবং নারীরটি পাতলা। এর ব্যাখ্যা হলো, ঘষে তোলার উদ্দেশ্য ময়লা কমানো। পাতলা তরল শুকিয়ে গেলে ঘষে সরানোর মতো কোনো জমাট অংশ থাকে না; তাই ঘষে কোনো লাভ হয় না। সে হিসাবে একে অপবিত্র বললে ভেজা অথবা শুকনা—যে অবস্থাতেই থাকুক, প্রস্রাবের মতোই ধুতে হবে। আর একে পবিত্র বললে তা ধোয়া পছন্দনীয়, যেমন পুরুষের মনী ঘষে তোলা পছন্দনীয়। পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিচারে দুটির মধ্যে পার্থক্য নেই; কারণ দুটিই মনী, মানুষের সৃষ্টির সূচনা এবং যৌনপথ দিয়ে বের হয়।
এই বর্ণনা ডিম্বাণুর সঙ্গে মেলে না। ডিম্বাণু কাপড়ে লেগে শুকানো যৌনরস নয়, আর কাপড় থেকে ঘষে তোলা অথবা ধুয়ে ফেলার নিয়ম দিয়ে ডিম্বাণু শনাক্ত করা হয় না। হাদিসের গোসলসংক্রান্ত প্রসঙ্গ এবং ফিকহের এই ব্যবহার একসঙ্গে ধরলে ‘নারীর মনী’ বলতে কী ধরনের বস্তু বোঝানো হচ্ছিল, তা স্পষ্ট হয়। দৃশ্যমান নিঃসরণকে সন্তানসৃষ্টির বীজ মনে করার পুরোনো ধারণাটিকে এখন ডিম্বাণুর আবিষ্কার হিসেবে বিক্রি করা ইতিহাস ও শারীরবিদ্যা—দুটোরই বিকৃতি।
সুতরাং, ‘মনী’ শব্দটিকে বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের সাথে মেলাতে গিয়ে একে ‘ডিম্বাণু’ বা ‘জেনেটিক ইনফরমেশন’ বলা একটি স্পষ্ট ‘অ্যানাক্রোনিজম’ বা কালানুক্রমিক ভুল। ভাষাতাত্ত্বিক ও কারিগরি উভয় দিক থেকেই এটি একটি দৃশ্যমান তরল ক্ষরণকেই নির্দেশ করে। প্রাক-আধুনিক যুগের এই ভুল পর্যবেক্ষণকে আধুনিক বিজ্ঞানের মোড়কে উপস্থাপন করা মূলত একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা, যা হাদিসের মূল বক্তব্য এবং ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। ইসলামওয়েবের ফতোয়া বিভাগে প্রকাশিত ৫১১৯১ নম্বর উত্তরেও নারীর মনী চেনার জন্য রং, গন্ধ, আনন্দ ও কামনা স্তিমিত হওয়ার লক্ষণগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। [28]
فضيلة الشيخ: أود أن أستفسر كيف يمكن أن أميز بين المني وغيره من الإفرازات تمييزا واضحاً ليس فقط من حيث لونه فأنا سمعت أن لونه أصفر وإنما أحياناً يخرج مني إفرازات لونها أصفر، ولكن من غير دفق، وأحياناً يخرج مني عندما أسمع شيئاً مثيراً يخرج مني شيء لزج شفاف لكن دفق من غير شهوة، وفي بعض الأحيان عندما استيقظ وأمسح المحل بمنديل فإني أجد بللاً ولا أذكر أحتلاماً فأفيدوني أرجوكم ولا تحيلوني على أسئلة مماثلة فإني تعبت من كثرة الاغتسال تعبا نفسيا وجسدياً، ما معنى أن المني يخرج بشهوة ومتدفق؟
الإجابــة
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، أما بعد:
فقد ذكر أهل العلم أن مني المرأة يعرف بأمرين:
أحدهما: أن رائحته تشبه رائحة طلع النخل، كما هو الحال بالنسبة لمني الرجل.
الأمر الثاني: وجود اللذة عند خروجه وحصول فتور واسترخاء عقب خروجه.
قال النووي في شرح صحيح مسلم: وأما مني المرأة فهو أصفر رقيق، وقد يبيض لفضل قوتها، وله خاصيتان يعرف بهما إحداهما أن رائحته كرائحة مني الرجل والثانية التلذذ بخروجه وفتور شهوتها عقب خروجه. انتهى.
والخارج عند إثارة الشهوة متصفاً باللزوجة تنطبق عليه صفات المذي، قال الإمام النووي في المجموع: والمذي ماء أبيض رقيق لزج يخرج عند شهوة لا بشهوة ولا دفق ولا يعقبه فتور، وربما لا يحس بخروجه ويكون ذلك للرجل والمرأة وهو في النساء أكثر منه في الرجال. انتهى.
وبالتالي فالخارج الذي على هذه الحالة يعتبر مذياً وترتب عليه أحكامه، وما تجدينه بعد الاستيقاظ من النوم إذا كان يحتمل أن يكون منياً يعطى حكمه، ففي الإنصاف للمرداوي: لو انتبه بالغ أو من يحتمل بلوغه فوجد بللاً جهل أنه مني وجب الغسل مطلقاً على الصحيح من المذهب. انتهى.
وقال خليل في مختصره: وإن شك أمذي أو مني اغتسل وأعاد من آخر نومة كتحققه. انتهى.
وخروج المني بشهوة يعني خروجه مصحوباً بنشوة، وهذه صفة شاملة لمني الرجل والمرأة.
أما خروجه متدفقاً فمعناه خروجه بشدة وبقوة على شكل دفعات يعقب بعضها بعضاً، وهذه صفة خاصة بمني الرجل. قال الإمام النووي في شرح صحيح مسلم: ثم إن خواص المني التي عليها الاعتماد في كونه منياً ثلاث: أحدها: الخروج بشهوة مع الفتور عقبه. الثانية: الرائحة التي تشبه الطلع كما سبق. الثالث: الخروج بزريق ودفق ودفعات وكل واحدة من الثلاث كافية في إثبات كونه منياً، ولا يشترط اجتماعها… إلى أن قال: هذا كله في مني الرجل. وأما مني المرأة فهو أصفر… إلى آخر كلامه الذي سبق أول الفتوى.
والله أعلم.
ফতোয়া অনুবাদ: নারীর বীর্য ও অন্যান্য স্রাবের মধ্যে পার্থক্য চেনার উপায়
প্রশ্নকারী মহিলার জিজ্ঞাসা:
শ্রদ্ধেয় শায়খ, আমি জানতে চাই কীভাবে আমি বীর্য (Maniy) এবং অন্যান্য স্রাবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে পারব? আমি শুনেছি এর রঙ হলুদ, কিন্তু মাঝেমধ্যে আমার শরীর থেকে হলুদ স্রাব বের হয় কোনো প্রকার উত্তেজনা বা ধাক্কা (Gushing) ছাড়াই। আবার কখনো উত্তেজনাকর কিছু শুনলে পিচ্ছিল স্বচ্ছ তরল বের হয়, যা বেগে বের হলেও তাতে কামতৃপ্তি থাকে না। আবার কখনো ঘুম থেকে উঠে কাপড়ে ভেজা ভাব দেখি কিন্তু স্বপ্নদোষের কথা মনে পড়ে না। অতিরিক্ত গোসল করতে করতে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত। বীর্য ‘কামভাবসহ’ এবং ‘সজোরে’ (Gushing) বের হওয়ার প্রকৃত অর্থ কী?
উত্তর (ইসলামওয়েব):
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, নারীর বীর্য (Maniy) চেনার উপায় দুটি:
১. গন্ধ: এর গন্ধ খেজুর গাছের পরাগ রেণুর (Palm Pollen) মতো, যা পুরুষের বীর্যের গন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
২. তৃপ্তি ও শিথিলতা: এটি বের হওয়ার সময় ‘চরম তৃপ্তি’ (Lust/Orgasm) অনুভূত হবে এবং বের হওয়ার ঠিক পরেই শরীরে এক ধরনের ঝিমুনি বা অবসাদ (Relaxation) চলে আসবে।
ইমাম নববী ‘শরহে সহীহ মুসলিম’-এ বলেছেন:
“নারীর বীর্য হলো হলুদ ও পাতলা। তবে মহিলার শারীরিক শক্তির আধিক্যের কারণে এটি কখনো সাদা হতে পারে। এটি চেনার দুটি বিশেষ গুণ রয়েছে: প্রথমটি হলো এর গন্ধ পুরুষের বীর্যের মতো, এবং দ্বিতীয়টি হলো এটি বের হওয়ার সময় চরম আনন্দ পাওয়া এবং বের হওয়ার পর কামভাব স্তিমিত হয়ে যাওয়া।”
মজি (Madhiy – যৌন উত্তেজনার শুরুতে বের হওয়া পিচ্ছিল রস):
যৌন উত্তেজনার সময় যে পিচ্ছিল তরল বের হয়, তাকে ‘মজি’ বলা হয়। ইমাম নববী বলেন, “মজি হলো সাদা, পাতলা ও আঠালো পানি, যা কামভাবের সময় বের হয়; কিন্তু এটি বীর্যের মতো সজোরে ছিটকে বের হয় না এবং এটি বের হওয়ার পর শরীরে কোনো ক্লান্তি আসে না। অনেক সময় এটি বের হওয়ার কথা জানাও যায় না। এটি নারী-পুরুষ উভয়েরই হয়, তবে নারীদের ক্ষেত্রে এর আধিক্য বেশি।”
ঘুম থেকে উঠে ভেজা ভাব দেখলে:
যদি ঘুম থেকে উঠে এমন ভেজা ভাব পাওয়া যায় যা বীর্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী গোসল করা ওয়াজিব।
‘কামভাবসহ’ এবং ‘সজোরে’ বের হওয়ার ব্যাখ্যা:
১. কামভাবসহ (With Lust): এর অর্থ হলো এটি চরম যৌন তৃপ্তি বা ‘অর্গাজম’-এর সাথে বের হওয়া। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের বীর্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
২. সজোরে বা ধাক্কা দিয়ে বের হওয়া (Gushing): এর অর্থ হলো তরলটি প্রবল বেগে এবং কয়েক দফায় ছিটকে বের হওয়া। এটি মূলত পুরুষের বীর্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
ইমাম নববী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, বীর্যের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে: (১) তৃপ্তিসহ বের হওয়া ও পরে অবসাদ আসা, (২) বিশেষ গন্ধ থাকা, (৩) সজোরে ছিটকে বের হওয়া। এই তিনটির যেকোনো একটি পাওয়া গেলেই তাকে বীর্য হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে ‘ছিটকে বের হওয়া’র বিষয়টি কেবল পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য, আর নারীদের বীর্য হলো ‘হলুদ ও পাতলা’।
আল্লাহই ভালো জানেন।
হাদিসের বর্ণনাগত পার্থক্য সম্পর্কে ধ্রুপদী মুহাদ্দিস ও ফকিহদের আলোচনা
সহিহ মুসলিমের বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যাগত প্রশ্ন আছে: এক জায়গায় তরলের প্রাধান্য ছেলে বা মেয়ে হওয়ার কারণ, অন্য জায়গায় সেই প্রাধান্য পিতৃকুল বা মাতৃকুলের সঙ্গে সাদৃশ্যের কারণ; আবার বুখারির বিবরণে আগে নিঃসরণের ভাষা এসেছে। এই সমস্যা কেবল আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে তুলনা করে উত্থাপিত হয়নি; কয়েকজন ধ্রুপদী মুসলিম ব্যাখ্যাকারীও পাঠগুলোর সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আবু আব্বাস আল-কুরতুবি: একই শর্তে লিঙ্গ ও সাদৃশ্যের দাবি একসঙ্গে মেলে না
আবুল আব্বাস আহমদ ইবন উমর আল-কুরতুবি তাঁর আল-মুফহিম-এ সরাসরি লিখেছেন, হাদিস দুটির আপাত বক্তব্য একত্র করলে যে ফল দাঁড়ায়, বাস্তবে তা ঘটে না। পুত্রসন্তান মামাদের মতো এবং কন্যাসন্তান চাচাদের মতোও হয়। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই তিনি একটি হাদিসের ‘প্রাধান্য’ শব্দকে ‘আগে আসা’ অর্থে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এরপর কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবির ব্যাখ্যা দিয়ে আগে আসা ও বেশি হওয়ার বিভিন্ন সমন্বয় দেখিয়েছেন। [29]
وَ (قَوْلُهُ فِي الرِّوَايَةِ الْأُخْرَى : ” إِذَا عَلَا مَاؤُهَا مَاءَ الرَّجُلِ أَشْبَهَ الْوَلَدُ أَخْوَالَهُ ، وَإِذَا عَلَا مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَهَا أَشْبَهَ الْوَلَدُ أَعْمَامَهُ “) مُقْتَضَى هَذَا : أَنَّ الْعُلُوَّ يَقْتَضِي الشُّبَهَ ، وَقَدْ جَعَلَ الْعُلُوَّ فِي حَدِيثِ ثَوْبَانَ الْآتِي يَقْتَضِي الذُّكُورَةَ وَالْأُنُوثَةَ ، فَعَلَى مُقْتَضَى الْحَدِيثَيْنِ يَلْزَمُ اقْتِرَانُ الشَّبَهِ لِلْأَعْمَامِ وَالذُّكُورَةِ إِنْ عَلَا مَنِيُّ الرَّجُلِ ، وَكَذَلِكَ يَلْزَمُ إِذَا عَلَا مَنِيُّ الْمَرْأَةِ اقْتِرَانُ الشَّبَهِ لِلْأَخْوَالِ وَالْأُنُوثَةِ ; لِأَنَّهُمَا مَعْلُولَا عِلَّةٍ وَاحِدَةٍ ، وَلَيْسَ الْأَمْرُ كَذَلِكَ ، بَلِ الْوُجُودُ بِخِلَافِ ذَلِكَ ; لِأَنَّا نَجِدُ الشَّبَهَ لِلْأَخْوَالِ وَالذُّكُورَةِ ، وَالشَّبَهَ لِلْأَعْمَامِ وَالْأُنُوثَةِ ، فَتَعَيَّنَ تَأْوِيلُ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ ، وَالَّذِي يَتَعَيَّنُ تَأْوِيلُهُ : الْعُلُوُّ الَّذِي فِي حَدِيثِ ثَوْبَانَ ، فَيُقَالُ : إِنَّ ذَلِكَ الْعُلُوَّ مَعْنَاهُ : سَبْقُ الْمَاءِ إِلَى الرَّحِمِ وَالذُّكُورَةُ . وَوَجْهُهُ : أَنَّ الْعُلُوَّ لَمَّا كَانَ مَعْنَاهُ الْغَلَبَةَ ، كَمَا فَسَّرْنَاهُ ، وَكَانَ السَّابِقُ عَالِيًا فِي ابْتِدَائِهِ بِالْخُرُوجِ قِيلَ عَلَيْهِ : عَلَا ، وَيُؤَيِّدُ هَذَا التَّأْوِيلَ أَنَّهُ قَدْ رُوِيَ فِي غَيْرِ كِتَابِ مُسْلِمٍ : ” إِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ أَذْكَرَا ، وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الْمَرْأَةِ مَاءَ الرَّجُلِ آنَثَا ” . وَقَدْ بَنَى الْقَاضِي أَبُو بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِيِّ عَلَى اخْتِلَافِ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ بِنَاءً ، فَقَالَ : إِنَّ لِلْمَاءَيْنِ أَرْبَعَةَ أَحْوَالٍ : الْأَوَّلُ : أَنْ يَخْرُجَ مَاءُ الرَّجُلِ أَوَّلًا . وَالثَّانِي : أَنْ يَخْرُجَ مَاءُ الْمَرْأَةِ أَوَّلًا . وَالثَّالِثُ : أَنْ يَخْرُجَ مَاءُ الرَّجُلِ أَوَّلًا وَيَكُونُ أَكْثَرَ . الرَّابِعُ : أَنْ يَخْرُجَ مَاءُ الْمَرْأَةِ أَوَّلًا وَيَكُونُ أَكْثَرَ . وَيَتِمُّ التَّقْسِيمُ : بِأَنْ يَخْرُجَ مَاءُ الرَّجُلِ أَوَّلًا ، ثُمَّ يَخْرُجُ مَاءُ الْمَرْأَةِ بَعْدَهُ ، فَيَكُونُ أَكْثَرَ ، أَوْ بِالْعَكْسِ ، وَبِالْعَكْسِ فَإِذَا خَرَجَ مَاءُ الرَّجُلِ أَوَّلًا وَكَانَ أَكْثَرَ ، جَاءَ الْوَلَدُ ذَكَرًا بِحُكْمِ السَّبْقِ ، وَأَشْبَهَ الْوَلَدُ أَعْمَامَهُ بِحُكْمِ الْكَثْرَةِ ، وَإِنْ خَرَجَ مَاءُ الْمَرْأَةِ أَوَّلًا وَكَانَ أَكْثَرَ جَاءَ الْوَلَدُ أُنْثَى بِحُكْمِ السَّبْقِ ، وَأَشْبَهَ أَخْوَالَهُ بِحُكْمِ الْغَلَبَةِ ، وَإِنْ خَرَجَ مَاءُ الرَّجُلِ أَوَّلًا لَكِنْ لَمَّا خَرَجَ مَاءُ الْمَرْأَةِ بَعْدَهُ كَانَ أَكْثَرَ ، كَانَ الْوَلَدُ ذَكَرًا بِحُكْمِ السَّبْقِ ، وَأَشْبَهَ أَخْوَالَهُ بِحُكْمِ غَلَبَةِ مَاءِ الْمَرْأَةِ . وَإِنْ سَبَقَ مَاءُ الْمَرْأَةِ لَكِنْ لَمَّا خَرَجَ مَاءُ الرَّجُلِ وَكَانَ أَعْلَى مِنْ مَاءِ الْمَرْأَةِ كَانَ الْوَلَدُ أُنْثَى بِحُكْمِ سَبْقِ مَاءِ الْمَرْأَةِ ، وَأَشْبَهَ أَعْمَامَهُ بِحُكْمِ غَلَبَةِ مَاءِ الرَّجُلِ . وَقَالَ : وَبِانْتِظَامِ هَذِهِ الْأَقْسَامِ يَسْتَتِبُّ الْكَلَامُ ، وَيَرْتَفِعُ التَّعَارُضُ عَنْ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ .
বাংলা অনুবাদ:
অন্য বর্ণনায় তাঁর বক্তব্য, “তার পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার মামাদের মতো হয়; আর পুরুষের পানি তার পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার চাচাদের মতো হয়”—এর দাবি হলো, প্রাধান্য সাদৃশ্য ঘটায়। অথচ পরবর্তী সাওবানের হাদিসে প্রাধান্যকে ছেলে বা মেয়ে হওয়ার কারণ করা হয়েছে। দুই হাদিসের বক্তব্য একসঙ্গে ধরলে পুরুষের মনী প্রাধান্য পেলে চাচাদের সঙ্গে সাদৃশ্য এবং পুরুষ হওয়া একসঙ্গে ঘটার কথা। একইভাবে নারীর মনী প্রাধান্য পেলে মামাদের সঙ্গে সাদৃশ্য এবং নারী হওয়া একসঙ্গে ঘটার কথা; কারণ দুটিই একই কারণের ফল। কিন্তু ব্যাপারটি এমন নয়; বাস্তব অস্তিত্ব এর বিপরীত। আমরা পুরুষসন্তানের মধ্যে মামাদের সাদৃশ্য এবং নারীসন্তানের মধ্যে চাচাদের সাদৃশ্য দেখি। সুতরাং দুই হাদিসের একটিকে ভিন্ন অর্থে ব্যাখ্যা করতেই হয়। যে অংশটির ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রয়োজন, সেটি হলো সাওবানের হাদিসের ‘প্রাধান্য’। বলা হবে: এই প্রাধান্যের অর্থ পানি আগে জরায়ুতে পৌঁছানো এবং পুরুষসন্তান হওয়া। এর যুক্তি হলো, প্রাধান্যের অর্থ যখন জয়ী হওয়া, যেমন আমরা ব্যাখ্যা করেছি, এবং যে আগে বের হয় সে বের হওয়ার শুরুতে এগিয়ে থাকে, তাই তার সম্পর্কে ‘প্রাধান্য পেল’ বলা হয়েছে। এই ব্যাখ্যার সমর্থন হলো, মুসলিমের গ্রন্থ ছাড়া অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে: “পুরুষের পানি নারীর পানির আগে এলে পুত্র হয়; নারীর পানি পুরুষের পানির আগে এলে কন্যা হয়।” কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি এই হাদিসগুলোর পার্থক্যের ওপর একটি বিন্যাস দাঁড় করিয়ে বলেছেন: দুই পানির চারটি অবস্থা আছে। প্রথম: পুরুষের পানি আগে বের হওয়া। দ্বিতীয়: নারীর পানি আগে বের হওয়া। তৃতীয়: পুরুষের পানি আগে বের হওয়া এবং বেশি হওয়া। চতুর্থ: নারীর পানি আগে বের হওয়া এবং বেশি হওয়া। বিভাজনটি সম্পূর্ণ হয় আরও এই অবস্থা দিয়ে: পুরুষের পানি আগে বের হয়, তারপর নারীর পানি বের হয়ে বেশি হয়; অথবা এর বিপরীত। পুরুষের পানি আগে বের হলে এবং বেশি হলে আগে আসার কারণে সন্তান পুরুষ হয় এবং বেশি হওয়ার কারণে চাচাদের মতো হয়। নারীর পানি আগে বের হলে এবং বেশি হলে আগে আসার কারণে সন্তান নারী হয় এবং প্রাধান্যের কারণে মামাদের মতো হয়। পুরুষের পানি আগে বের হলেও পরে বের হওয়া নারীর পানি বেশি হলে, আগে আসার কারণে সন্তান পুরুষ হয় এবং নারীর পানির প্রাধান্যের কারণে মামাদের মতো হয়। নারীর পানি আগে এলে, কিন্তু পরে পুরুষের পানি বের হয়ে নারীর পানির চেয়ে প্রাধান্য পেলে, নারীর পানি আগে আসার কারণে সন্তান নারী হয় এবং পুরুষের পানির প্রাধান্যের কারণে চাচাদের মতো হয়। তিনি বলেছেন: এই বিভাগগুলোর বিন্যাসে বক্তব্য সুসংগত হয় এবং হাদিসগুলোর পরস্পরবিরোধিতা দূর হয়।
কুরতুবির আপত্তি স্পষ্ট: একই তরলের প্রাধান্য একই সঙ্গে লিঙ্গ ও সাদৃশ্যের কারণ হলে নির্দিষ্ট দুটি ফল একসঙ্গে ঘটার কথা; বাস্তবে তা ঘটে না। তাঁর সমাধান ছিল শব্দের অর্থ পাল্টে এবং আগে আসা ও বেশি হওয়াকে আলাদা কাজে লাগিয়ে বক্তব্যগুলো মেলানো। এই ছক তৈরি হয়েছে হাদিসের মধ্যে মিল আনার জন্য। কোন তরল কত আগে পৌঁছালে কোন ক্রোমোজোমের শুক্রাণু নিষেক করবে, কিংবা কোন পরিমাণে কোন বংশগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাবে—তার পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ এখানে নেই। বর্ণনাগুলোকে ঠিক ধরে নিয়ে তাদের জন্য একটি ছক বানানো হয়েছে, তারপর সেই ছক দিয়ে আপাত বিরোধ সরানো হয়েছে। এতে ধর্মীয় বক্তব্য রক্ষা পায়; তার জৈবিক সত্যতা যাচাই হয় না। কোন বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব ফল মেলে, সেই পরীক্ষার বদলে কোন শব্দকে কতভাবে ঘোরালে সব বক্তব্য রাখা যায়, সেটিই সমাধানের পদ্ধতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইবন হাজার ও ইবনুল কাইয়্যিম: “আগে আসা” ও “প্রাধান্য”র ভিন্ন ব্যাখ্যা
ইবনুল কাইয়িম তুহফাতুল মাওদুদ-এ আগে আসাকে সাদৃশ্যের এবং প্রাধান্যকে ছেলে বা মেয়ে হওয়ার কারণ বলেছেন। তাঁর বক্তব্য ইসলামকিউএতে প্রকাশিত ১২৯৮৮৮ নম্বর উত্তরেও উদ্ধৃত আছে। [30]
إن سبق أحد الماءين سبب لشبه السابق ماؤه ، وعلو أحدهما : سبب لمجانسة الولد للعالي ماؤه ، فها هنا أمران : سبق ، وعلو ، وقد يتفقان ، وقد يفترقان ، فإن سبق ماءُ الرجل ماءَ المرأة ، وعلاه : كان الولد ذكراً ، والشبه للرجل ، وإن سبق ماءُ المرأة ، وعلا ماءَ الرجل : كانت أنثى ، والشبه للأم ، وإن سبق أحدُهما ، وعلا الآخر : كان الشبه للسابق ماؤه ، والإذكار ، والإيناث لمن علا ماؤه
বাংলা অনুবাদ:
দুই পানির একটি আগে আসা হলো যার পানি আগে এসেছে তার সঙ্গে সাদৃশ্য হওয়ার কারণ। আর একটির প্রাধান্য হলো যার পানি প্রাধান্য পেয়েছে সন্তানের সেই লিঙ্গের হওয়ার কারণ। এখানে দুটি বিষয় আছে: আগে আসা এবং প্রাধান্য। এগুলো একসঙ্গে ঘটতে পারে, আবার আলাদাও হতে পারে। পুরুষের পানি নারীর পানির আগে এলে এবং তার ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান পুরুষ হয় এবং সাদৃশ্য পুরুষের হয়। নারীর পানি আগে এলে এবং পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান নারী হয় এবং সাদৃশ্য মায়ের হয়। একজনের পানি আগে এলে এবং অন্যজনেরটি প্রাধান্য পেলে সাদৃশ্য হয় যার পানি আগে এসেছে তার; আর ছেলে বা মেয়ে হওয়া নির্ভর করে যার পানি প্রাধান্য পেয়েছে তার ওপর।
ইবন হাজারের ফাতহুল বারি-তে শেষ পর্যন্ত উল্টো সমন্বয় এসেছে: আগে আসা ছেলে বা মেয়ে হওয়ার চিহ্ন, আর পরিমাণের প্রাধান্য সাদৃশ্যের চিহ্ন। তিনি ছয়টি সম্ভাব্য অবস্থাও সাজিয়েছেন। একই বর্ণনাগুলো থেকে দুই ব্যাখ্যাকারী কারণ ও ফলের দায়িত্ব উল্টোভাবে ভাগ করেছেন। [31] [32]
قَوْلُهُ: (نَزَعَ الْوَلَدَ) بِالنَّصْبِ عَلَى الْمَفْعُولِيَّةِ أَيْ جَذَبَهُ إِلَيْهِ، وَفِي رِوَايَةِ الْفَزَارِيِّ كَانَ الشَّبَهُ لَهُ وَوَقَعَ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ إِذَا عَلَا مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ أَشْبَهَ أَعْمَامَهُ، وَإِذَا عَلَا مَاءُ الْمَرْأَةِ مَاءَ الرَّجُلِ أَشْبَهَ أَخْوَالَهُ. وَنَحْوَهُ لِلْبَزَّارِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَفِيهِ مَاءُ الرَّجُلِ أَبْيَضُ غَلِيظٌ، وَمَاءُ الْمَرْأَةِ أَصْفَرُ رَقِيقٌ، فَأَيُّهُمَا أَعْلَى كَانَ الشَّبَهُ لَهُ وَالْمُرَادُ بِالْعُلْوِ هُنَا السَّبْقُ؛ لِأَنَّ كُلَّ مَنْ سَبَقَ فَقَدْ عَلَا شَأْنُهُ فَهُوَ عُلْوٌ مَعْنَوِيٌّ. وَأَمَّا مَا وَقَعَ عِنْدَ مُسْلِمٍ مِنْ حَدِيثِ ثَوْبَانَ رَفَعَهُ مَاءُ الرَّجُلِ أَبْيَضُ وَمَاءُ الْمَرْأَةِ أَصْفَرُ، فَإِذَا اجْتَمَعَا فَعَلَا مَنِيُّ الرَّجُلِ مَنِيَّ الْمَرْأَةِ أَذْكَرَا بِإِذْنِ اللَّهِ، وَإِذَا عَلَا مَنِيُّ الْمَرْأَةِ مَنِيَّ الرَّجُلِ أَنَّثَا بِإِذْنِ اللَّهِ – فَهُوَ مُشْكِلٌ مِنْ جِهَةِ أَنَّهُ يَلْزَمُ مِنْهُ اقْتِرَانُ الشَّبَهِ لِلْأَعْمَامِ إِذَا عَلَا مَاءُ الرَّجُلِ وَيَكُونُ ذَكَرًا لَا أُنْثَى وَعَكْسُهُ، وَالْمُشَاهَدُ خِلَافُ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ قَدْ يَكُونُ ذَكَرًا وَيُشْبِهُ أَخْوَالَهُ لَا أَعْمَامَهُ وَعَكْسُهُ، قَالَ الْقُرْطُبِيُّ: يَتَعَيَّنُ تَأْوِيلُ حَدِيثِ ثَوْبَانَ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِالْعُلْوِ السَّبْقُ. قُلْتُ: وَالَّذِي يَظْهَرُ مَا قَدَّمْتُهُ وَهُوَ تَأْوِيلُ الْعُلْوِ فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ، وَأَمَّا حَدِيثُ ثَوْبَانَ فَيَبْقَى الْعُلْوُ فِيهِ عَلَى ظَاهِرِهِ فَيَكُونُ السَّبْقُ عَلَامَةَ التَّذْكِيرِ وَالتَّأْنِيثُ، وَالْعُلْوُ عَلَامَةَ الشَّبَهِ، فَيَرْتَفِعُ الْإِشْكَالُ، وَكَأَنَّ الْمُرَادَ بِالْعُلْوِ الَّذِي يَكُونُ سَبَبَ الشَّبَهِ بِحَسَبِ الْكَثْرَةِ بِحَيْثُ يَصِيرُ الْآخَرُ مَغْمُورًا فِيهِ، فَبِذَلِكَ يَحْصُلُ الشَّبَهُ. وَيَنْقَسِمُ ذَلِكَ سِتَّةَ أَقْسَامٍ: الْأَوَّلُ: أَنْ يَسْبِقَ مَاءُ الرَّجُلِ وَيَكُونَ أَكْثَرَ فَيَحْصُلُ لَهُ الذُّكُورَةُ وَالشَّبَهُ، وَالثَّانِي: عَكْسُهُ، وَالثَّالِثُ: أَنْ يَسْبِقَ مَاءُ الرَّجُلِ وَيَكُونَ مَاءُ الْمَرْأَةِ أَكْثَرَ فَتَحْصُلُ الذُّكُورَةُ وَالشَّبَهُ لِلْمَرْأَةِ، وَالرَّابِعُ: عَكْسُهُ، وَالْخَامِسُ: أَنْ يَسْبِقَ مَاءُ الرَّجُلِ وَيَسْتَوِيَانِ فَيُذْكِرَ وَلَا يَخْتَصُّ بِشَبَهٍ، وَالسَّادِسُ: عَكْسُهُ.
বাংলা অনুবাদ:
তাঁর বক্তব্য “সন্তানকে টেনে নেয়”—এখানে সন্তান কর্মপদ; অর্থাৎ নিজের দিকে আকর্ষণ করে। ফাজারির বর্ণনায় আছে, “সাদৃশ্য তার হয়।” মুসলিমে আয়িশার হাদিসে এসেছে: “পুরুষের পানি নারীর পানির ওপর প্রাধান্য পেলে সন্তান তার চাচাদের মতো হয়; নারীর পানি পুরুষের পানির ওপর প্রাধান্য পেলে তার মামাদের মতো হয়।” বাজ্জারের কাছে ইবন মাসউদের সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা আছে; তাতে বলা হয়েছে, “পুরুষের পানি সাদা ও ঘন, নারীর পানি হলুদ ও পাতলা; যারটি প্রাধান্য পায়, সাদৃশ্য তার হয়।” এখানে প্রাধান্যের অর্থ আগে আসা; কারণ যে আগে আসে, তার অবস্থান এগিয়ে যায়। সুতরাং এটি অর্থগত প্রাধান্য। আর মুসলিমে সাওবানের সূত্রে নবীর বক্তব্য হিসেবে যা এসেছে—“পুরুষের পানি সাদা এবং নারীর পানি হলুদ; দুটো একত্রিত হলে পুরুষের মনী নারীর মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে আল্লাহর অনুমতিতে পুত্র হয়, নারীর মনী পুরুষের মনীর ওপর প্রাধান্য পেলে আল্লাহর অনুমতিতে কন্যা হয়”—তাতে সমস্যা রয়েছে। কারণ পুরুষের পানি প্রাধান্য পেলে চাচাদের সঙ্গে সাদৃশ্য এবং পুরুষ হওয়া একসঙ্গে ঘটার কথা, নারী হওয়া নয়; বিপরীত ক্ষেত্রেও তাই। অথচ পর্যবেক্ষণে এর বিপরীত দেখা যায়: সন্তান পুরুষ হয়েও চাচাদের বদলে মামাদের মতো হতে পারে; বিপরীতটিও ঘটে। কুরতুবি বলেছেন: সাওবানের হাদিসে প্রাধান্যের অর্থ আগে আসা ধরে ভিন্ন ব্যাখ্যা করতেই হবে। আমি বলছি: আমার কাছে আগে বলা ব্যাখ্যাটিই যথাযথ মনে হয়—আয়িশার হাদিসে প্রাধান্যকে ভিন্ন অর্থে নেওয়া। সাওবানের হাদিসে প্রাধান্য তার বাহ্যিক অর্থেই থাকবে। ফলে আগে আসা হবে ছেলে বা মেয়ে হওয়ার চিহ্ন এবং প্রাধান্য হবে সাদৃশ্যের চিহ্ন; এভাবে সমস্যা দূর হবে। সাদৃশ্যের কারণ হিসেবে প্রাধান্যের অর্থ সম্ভবত পরিমাণের আধিক্য, যাতে অন্য পানিটি তার মধ্যে ডুবে যায়; এভাবে সাদৃশ্য ঘটে। এর ছয়টি ভাগ: প্রথম, পুরুষের পানি আগে আসে এবং বেশি হয়; ফলে পুরুষসন্তান হয় এবং সাদৃশ্যও পুরুষের হয়। দ্বিতীয়, এর বিপরীত। তৃতীয়, পুরুষের পানি আগে আসে এবং নারীর পানি বেশি হয়; ফলে পুরুষসন্তান হয় এবং সাদৃশ্য নারীর হয়। চতুর্থ, এর বিপরীত। পঞ্চম, পুরুষের পানি আগে আসে এবং দুটির পরিমাণ সমান হয়; ফলে পুরুষসন্তান হয় এবং কোনো এক পক্ষের সাদৃশ্য নির্দিষ্ট হয় না। ষষ্ঠ, এর বিপরীত।
এই দুটি ব্যাখ্যার ফল সরাসরি বিপরীত। ধরা যাক, পুরুষের তরল আগে বের হলো, কিন্তু নারীর তরল বেশি হলো। ইবনুল কাইয়িমের নিয়মে সন্তান হবে মেয়ে এবং সাদৃশ্য পাবে পিতার; ইবন হাজারের ছকে সন্তান হবে ছেলে এবং সাদৃশ্য পাবে নারীর। একই পরিস্থিতির জন্য দুটি ব্যাখ্যা ছেলে-মেয়ে এবং সাদৃশ্য—দুটিতেই উল্টো ফল দিচ্ছে। ফলে এটিকে একটি স্পষ্ট, নির্ভুল ও আগে থেকেই জানা বৈজ্ঞানিক নিয়ম বলে চালানো মিথ্যা। হাদিসকে যে করেই হোক ঠিক রাখার তাগিদে কারণ ও ফলের দায়িত্ব এদিক-ওদিক সরানো হয়েছে। কিন্তু যে তরলকে নিয়ন্ত্রক ধরে এই ছকগুলো বানানো হয়েছে, সেই তরল ডিম্বাণু নয়; তার আগে আসা বা পরিমাণের আধিক্য সন্তানের ক্রোমোজোমগত লিঙ্গ ও বংশগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে না। ব্যাখ্যার ছক বাড়ালে এই মৌলিক ভুলটি সত্য হয়ে যায় না।
সাওবানের হাদিসের লিঙ্গনির্ধারণের কথাটি নিয়েও প্রাচীন সংশয়
ইবনুল কাইয়িম আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা-তে জানিয়েছেন, তাঁর শিক্ষক ইবন তাইমিয়া সাওবানের হাদিসের এই শব্দবিন্যাসের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ইবনুল কাইয়িম নিজে সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, প্রশ্নটি সাদৃশ্য সম্পর্কে ছিল এবং ছেলে-মেয়ে হওয়ার প্রসঙ্গ বর্ণনার স্তরে বদলে গিয়ে থাকতে পারে। ফলে সমস্যাটি শুধু আধুনিক জীববিজ্ঞানের আপত্তি নয়; বর্ণনার ঠিক কোন বক্তব্য সংরক্ষিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রাচীন ইসলামী আলোচনার ভেতরে সংশয় ছিল। [33]
سمعت شيخنا – رحمه الله – يقول: في صحة هذا اللفظ نظر, قلت: لأن المعروف المحفوظ في ذلك إنما هو تأثير سبق الماء في الشبه، وهو الذي ذكره البخاري من حديث أنس: أن عبد الله بن سلام بلغه مقدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة فأتاه، فسأله عن أشياء، قال النبي صلى الله عليه وسلم: “وأما الولد فإذا سبق ماء الرجل ماء المرأة نزع الولد، وإذا سبق ماء المرأة ماء الرجل نزعت الولد”, فهذا السؤال الذي سأل عنه عبد الله بن سلام، والجواب الذي أجابه به النبي صلى الله عليه وسلم هو نظير السؤال الذي سأل عنه الحبر، والجواب واحد، ولا سيما إن كانت القصة واحدة، والحبر هو عبد الله بن سلام، فإنه سأله وهو على دين اليهود، فأنسي اسمه، وثوبان قال: “جاء حبر من اليهود”, وإن كانتا قصتين والسؤال واحد فلا بد أن يكون الجواب كذلك, وهذا يدل على أنهم إنما سألوا عن الشبه؛ ولهذا وقع الجواب به وقامت به الحجة، وزالت به الشبهة, وأما الإذكار والإيناث فليس بسبب طبيعي، وإنما سببه الفاعل المختار الذي يأمر الملك به.
বাংলা অনুবাদ:
আমি আমাদের শায়খকে—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—বলতে শুনেছি: “এই শব্দবিন্যাসের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।” আমি বলছি: কারণ এ বিষয়ে পরিচিত ও সংরক্ষিত বক্তব্য হলো, পানি আগে আসার প্রভাব সন্তানের সাদৃশ্যে পড়ে। বুখারি আনাসের সূত্রে যা উল্লেখ করেছেন, সেটিই: আবদুল্লাহ ইবন সালাম নবীর মদিনায় আসার সংবাদ পেয়ে তাঁর কাছে এলেন এবং কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। নবী বললেন, “আর সন্তানের ব্যাপারে—পুরুষের পানি নারীর পানির আগে এলে সে সন্তানকে নিজের দিকে টেনে নেয়; নারীর পানি পুরুষের পানির আগে এলে সে সন্তানকে নিজের দিকে টেনে নেয়।” আবদুল্লাহ ইবন সালাম যে প্রশ্ন করেছিলেন এবং নবী তাঁকে যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা ইহুদি পণ্ডিতের প্রশ্ন ও উত্তরের অনুরূপ; উত্তরও এক। বিশেষত ঘটনা এক হয়ে থাকলে এবং সেই পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবন সালাম হয়ে থাকলে। কারণ তিনি ইহুদি থাকা অবস্থায় প্রশ্ন করেছিলেন; ফলে তাঁর নাম ভুলে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। সাওবান বলেছেন, “ইহুদিদের একজন পণ্ডিত এলো।” আর ঘটনা দুটি হলেও প্রশ্ন এক হলে উত্তরও একই হওয়ার কথা। এতে বোঝা যায়, তাঁরা সাদৃশ্য সম্পর্কেই প্রশ্ন করেছিলেন; সেজন্য উত্তরও সেটি নিয়ে এসেছে, তার মাধ্যমে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সংশয় দূর হয়েছে। কিন্তু ছেলে বা মেয়ে হওয়া কোনো প্রাকৃতিক কারণে নয়; বরং তার কারণ হলেন স্বাধীন ইচ্ছায় কাজ করা স্রষ্টা, যিনি ফেরেশতাকে সেই নির্দেশ দেন।
একদিকে এই জ্ঞানকে নবী ছাড়া মানুষের অজানা তথ্য এবং জিবরাইল বা আল্লাহর দেওয়া উত্তর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; অন্যদিকে সেই উত্তরের বিষয় সাদৃশ্য ছিল, না ছেলে-মেয়ে হওয়া ছিল—তা নিয়েই ব্যাখ্যাকারীদের সংশয়। যে বক্তব্যকে অলৌকিক জ্ঞানের নিদর্শন বলা হচ্ছে, তার পাঠ ও অর্থ দুটিই এখানে অনিশ্চিত। সাদৃশ্যের বর্ণনাটি রাখলেও তরল আগে বের হওয়ার সঙ্গে বংশগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না; আর লিঙ্গনির্ধারণের বর্ণনাটি রাখলে তরলের প্রাধান্য দিয়ে ছেলে-মেয়ে হওয়ার ভুল নিয়মটি থেকেই যায়।
ইবনুল কাইয়িমের দুই আলোচনার ব্যবধানও স্পষ্ট। তুহফাতুল মাওদুদ-এর উদ্ধৃতিতে তরলের প্রাধান্যকে ছেলে বা মেয়ে হওয়ার কারণ বলা হয়েছে; আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা-এর উদ্ধৃতিতে ছেলে বা মেয়ে হওয়ার প্রাকৃতিক কারণই অস্বীকার করে স্রষ্টার স্বাধীন ইচ্ছাকে কারণ বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বক্তব্যটি জীববিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক: নিষেকে কোন যৌন ক্রোমোজোমের সমন্বয় ঘটছে এবং পরবর্তী জিন কীভাবে কাজ করছে, তার বাস্তব ভূমিকা আছে। প্রাকৃতিক কার্যকারণ অস্বীকার করে স্রষ্টার ইচ্ছার কাছে সরে যাওয়া কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নয়। হাদিসের বক্তব্যকে বিজ্ঞানের আবিষ্কার বলে প্রচার করতে হলে এই একই ভাষ্যকারের প্রাকৃতিক কারণ অস্বীকারের বক্তব্যটিও সামনে আসে। সুবিধামতো একটি ব্যাখ্যা তুলে ধরে অন্যটি চাপা দেওয়া নির্বাচিত তথ্য দিয়ে ধর্মীয় কর্তৃত্ব রক্ষার পদ্ধতি। [7] [8]
দ্বৈত-বীজ তত্ত্ব এবং মুহাম্মদের ধারণার উৎস
মুহাম্মদের প্রজনন সংক্রান্ত ধারণাগুলো কোনো অলৌকিক উৎস থেকে নয়, বরং তাঁর সমকালীন ও পূর্ববর্তী গ্রিক চিকিৎসাবিদ্যা থেকে উদ্ভূত হওয়ার পক্ষে কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে হিপোক্রেটিস এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় শতাব্দীতে গ্যালেন ‘দ্বৈত-বীজ তত্ত্ব’ (Two-seed theory) প্রবর্তন করেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, নারী ও পুরুষ উভয়েই সন্তানসৃষ্টিতে বীজজাত উপাদান প্রদান করে বলে ধারণা করা হতো এবং সন্তানের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যায় সেই উপাদানগুলোর ভূমিকা আলোচনা করা হতো [34]। গ্যালেন নারীর প্রজননবীজ ও প্রজনন-উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; তাঁর রচনা এবং হাদিসের নারী-পুরুষের পৃথক রসের ধারণার মধ্যে ঐতিহাসিক সাদৃশ্য আছে, যদিও “হলুদ ও পাতলা” বর্ণনার হুবহু উৎস-অনুকরণ প্রমাণিত নয় [35]। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, গ্যালেনের এই ধারনাগুলো সম্পর্কে তৎকালীন আরববিশ্ব কি অবগত ছিল?
হিপোক্রেটীয় গ্রন্থ এবং গ্যালেনের মূল লেখায় দ্বৈত-বীজের ধারণা
হিপোক্রেটীয় চিকিৎসাগ্রন্থসমূহে নারী ও পুরুষ উভয়ের বীজ থেকে সন্তানের উৎপত্তি এবং প্রজনন ও উত্তরাধিকারে দুই পক্ষের অবদানের ধারণা পাওয়া যায়। গ্যালেনের De semine (On Semen)-এর প্রথম বইয়ের শুরুতে তিনি বীজের ভূমিকা নিয়ে হিপোক্রেটিস ও অ্যারিস্টটলের মতপার্থক্য আলোচনা করেন। তিনি অভিজ্ঞতালব্ধ পর্যবেক্ষণ, প্রাণীর প্রজনন পরীক্ষা ও নারীদের অভিজ্ঞতার বর্ণনাকে এ বিতর্কের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। সরাসরি প্রাক-ইসলামি মতবাদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই মূল গ্রিক পাঠ উপযোগী। [36]
গ্যালেন, On Semen, প্রথম বইয়ের সূচনা—মূল গ্রিকের স্বল্প উদ্ধৃতি:
Τίς ἡ χρεία καὶ τίς ἡ δύναμίς ἐστι τοῦ σπέρματος;
মূল আলোচনার পূর্ণ প্রাসঙ্গিক বাংলা ভাষ্য:
গ্যালেন প্রশ্ন করেন: বীজের কাজ ও ক্ষমতা কী? বীজ কি বস্তুগত উপাদান ও সক্রিয় উৎপাদক শক্তি—এই দুই নীতির অংশ, যেমন হিপোক্রেটিসের ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়? নাকি অ্যারিস্টটলের ধারণামতো তা প্রধানত গতি বা গঠনের সূচনা করে, কিন্তু নতুন প্রাণীর দেহের বস্তুগত অংশে পরিণত হয় না? তিনি ঘোষণা করেন, বিতর্ক মীমাংসায় কেবল বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়া যুক্তির বদলে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করবেন। এরপর প্রাণীর মিলনের পর বীজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, গর্ভধারণ করা নারীদের বিবরণ এবং অন্যান্য চিকিৎসকের লেখা পরীক্ষা করার কথা বলেন। এই আলোচনা দেখায়, আধুনিক জিনতত্ত্বের বহু আগে ভ্রূণসৃষ্টিতে নারী-পুরুষের প্রজনন উপাদানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত কিন্তু অসম্পূর্ণ তত্ত্ব প্রচলিত ছিল।
সূত্র: Galen, De semine, I.1–2; Kühn, vol. IV.
আধুনিক একটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার ইতিহাস-অধ্যায়ে হিপোক্রেটিসের দুই পক্ষের বীজ মিশে ভ্রূণ গঠনের ধারণা এবং অ্যারিস্টটলের ভিন্ন মত, তারপর ডিম্বাণু ও শুক্রাণু আবিষ্কারের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। [37] হিপোক্রেটীয় ও গ্যালেনীয় দুই-বীজ তত্ত্বের সঙ্গে হাদিসের নারী-পুরুষের দুই প্রজননরসের ধারণার ঐতিহাসিক সাদৃশ্য রয়েছে। ধারণাটি ইসলামের বহু শতাব্দী আগেই চিকিৎসাচিন্তায় প্রচলিত ছিল; তাই দুই পক্ষের প্রজননবীজের কথা বলাকে সপ্তম শতাব্দীর এক অভূতপূর্ব আবিষ্কার বলে প্রচার করা ভুল। নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা গ্রন্থের মাধ্যমে এই ধারণা মুহাম্মদের কাছে পৌঁছেছিল, সেই পথের পরিচয় এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ইসলামের প্রাথমিক যুগের আরব সমাজের সঙ্গে পারস্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের চিকিৎসা-ধারণার যোগাযোগ ছিল। হারিস ইবন কালাদাহ সম্পর্কে পরবর্তী জীবনী ও চিকিৎসা-ইতিহাসে তাঁর পারস্যে শিক্ষার কথা বলা হয়েছে, তবে তাঁর জুন্দিশাপুরে অধ্যয়ন, গ্রিক গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ এবং মুহাম্মদের কাছে নির্দিষ্ট প্রজননতত্ত্ব পৌঁছে দেওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয় [38]। অসংখ্য ইসলামিক গ্রন্থে তার সম্পর্কে কিছু কিছু বিবরণ পাওয়া যায়, তবে খুব বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না। ইসলামী সূত্রগুলো থেকেই জানা যায়, তিনি সেই সময়ে রীতিমত মানুষের চিকিৎসা করতেন এবং শরীর, স্বাস্থ্য, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ইত্যাদি বিষয়ক পরামর্শ দিতেন এবং আলোচনা করতেন। আল-কাউসারের নিচের উত্তরে হারিসকে সেই সময়ের একজন পরিচিত চিকিৎসক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
২১৯৯. প্রশ্ন
আমি একজন আলেমকে স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে নিম্নোক্ত হাদীসটি বলতে শুনেছি।
المعدة بيت الداء، والحمية رأس الدواء، وأعط كل بدن ما عودته
(অর্থাৎ) উদর হল সর্বরোগের কেন্দ্র। আর খাদ্য-সংযম সর্বরোগের মহৌষধ। দেহকে তা-ই দাও, যাতে তাকে অভ্যস্ত করেছ। জানার বিষয় হল, এটি কি হাদীস। হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত কথাটি কোথাও হাদীস হিসেবে উল্লেখেতি হলেও হাদীস বিশারদগণ বলেছেন, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসেবে প্রমাণিত নয়; বরং তা আরবের প্রসিদ্ধ চিকিৎসক হারিস ইবনে কালদাহ-এর উক্তি।
অতএব তা হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না।
-আলমাকাসিদুল হাসানাহ পৃ. ৬১১; কাশফুল খাফা ২/৯৩; আদ্দুরারুল মুনতাছিরাহ ১৬৮; আল লাআলিল মানসুরাহ ১৪৫; আলফাওয়াইদুল মাজমূআহ ১৬৬; যাদুল মাসীর ৩/১৮৮; রুহুল মাআনী ৫/১১০; তাফসীরে কুরতুবী ৭/১৯২
হারিস সম্পর্কে নিচের দুর্বল সনদের বর্ণনায় মুহাম্মদের অসুস্থ ব্যক্তিকে তাঁর কাছে চিকিৎসা নেওয়ার নির্দেশের কথা আছে। বর্ণনাটি হারিসের চিকিৎসক পরিচয়ের আলোচনার অংশ; এর মধ্যে গ্রিক প্রজননতত্ত্ব শেখানো বা কোনো গ্রিক গ্রন্থ অনুবাদ করার ঘটনা নেই। তাঁর চিকিৎসক পরিচয় এবং মুহাম্মদের কাছে এই নির্দিষ্ট তত্ত্ব পৌঁছে দেওয়ার দাবি দুটি আলাদা ঐতিহাসিক প্রশ্ন।
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব ২১: খাদ্য
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৪২২৪-[৬৬] সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় আমি মারাত্মকভাবে পীড়িত হয়ে পড়লাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার খোঁজ-খবর নিতে তাশরিফ আনলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের হাতখানা আমার দু’ স্তনের মাঝখানে (বুকের উপর) রাখলেন। তাতে আমি আমার কলিজায় শীতলতা অনুভব করলাম।অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি একজন হৃদ-বেদনার রোগী। সুতরাং তুমি সাক্বীফ গোত্রীয় হারিস ইবনু কালদাহ্-এর নিকট যাও। সে একজন চিকিৎসক। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে যেন অবশ্যই মদীনার সাতটি ‘আজওয়াহ্ খেজুর বীচিসহ পিষে তোমার মুখের মধ্যে ঢেলে দেয়। (আবূ দাঊদ)[1]
[1] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮৭৫, য‘ঈফুল জামি‘উস্ সগীর ২০৩৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিতু ত্ববারানী ৫৩৪৬, য‘ঈফুল জামি‘ ২০৩৩।
হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো মুজাহিদ সা‘দ হতে বর্ণনা করাটা মুরসাল। আবূ যুর্‘আহ্ আর্ রাযী এমনটিই বলেছেন। বিস্তারিত দেখুন- ‘আওনুল মা‘বূদ ১০/২৫৫ পৃঃ, হাঃ ৩৮৭৫।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)
বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২২/ চিকিৎসা
পরিচ্ছেদঃ ১২. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে।
৩৮৩৫. ইসহাক ইবন ইসমাইল (রহঃ) …. সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি পীড়িত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখার জন্য আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের উপর রাখলে আমি তাঁর শৈত্যতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেনঃ তুমি হার্টের রুগী। কাজেই তুমি ছাকীফ গোত্রের অধিবাসী হারিছা ইবন কালদার নিকট যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদীনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে, তা বীচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরী করে দেয়।
হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai’f)
বর্ণনাকারীঃ সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)
এই বর্ণনাগুলো আরবে চিকিৎসকের উপস্থিতি ও চিকিৎসা-পরামর্শের ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরে; অন্যদিকে হিপোক্রেটীয় গ্রন্থে নারী-পুরুষের বীজ ও সন্তানের বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রাক-ইসলামি ধারণার সাক্ষ্য আছে। হাদিসের “আগে আসা” বা “প্রাধান্য” দিয়ে সাদৃশ্য নির্ধারণের কথার সঙ্গে সেই প্রাচীন তত্ত্বগুলোর ধারণাগত মিল লক্ষণীয় [39]। এই মিল থেকে বোঝা যায়, নারী ও পুরুষের দৃশ্যমান রসের প্রতিযোগিতায় সন্তানের বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়—এমন ধারণা প্রাক-আধুনিক জ্ঞানজগতেই উপস্থিত ছিল। সেই ধারণাকে ঐশ্বরিকভাবে অনন্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বলে দাবি করার ভিত্তি নেই; একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কারও কাছ থেকে সরাসরি ধারণা ধার নেওয়ার দাবির জন্য পৃথক ঐতিহাসিক দলিল প্রয়োজন।
শারীরবৃত্তীয় বিভ্রান্তি: কামরস বনাম বীর্য
পুরুষের বীর্য একটি মিশ্র তরল; শুক্রাণু তার একটি উপাদান। শুক্রাণু তৈরি হয় অণ্ডকোষে, আর বীর্যের তরল অংশের বড় অংশ আসে সেমিনাল ভেসিকল ও প্রোস্টেটসহ সহায়ক গ্রন্থি থেকে। তাই বীর্যের পুরো তরল এবং শুক্রাণু একই বস্তু নয়। নিষেকে অংশ নেয় শুক্রাণু নামের প্রজননকোষ। নারীর ডিম্বাণু থাকে ও পরিপক্ব হয় ডিম্বাশয়ে; ডিম্বস্ফোটনের সময় সেখান থেকে মুক্ত হয়। স্বাভাবিক নিষেক সাধারণত ডিম্বনালিতে ঘটে, পরে বিকাশমান ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছে তার দেয়ালে স্থাপিত হয়। জরায়ু ডিম্বাণু তৈরির স্থান নয়। [40] [41] [42]
নারীর যৌন উত্তেজনায় যোনিপথ ভেজা ও পিচ্ছিল হয়। এতে যোনিপ্রাচীর দিয়ে রক্তরসজাত তরল আসা এবং যোনিমুখের বার্থোলিন গ্রন্থির নিঃসরণের ভূমিকা রয়েছে। আবার কিছু নারীর মূত্রনালির পাশের স্কিনস গ্রন্থি থেকেও যৌনসুখের সময় তরল বের হয়। এগুলোর উৎস ও কাজ এক নয়। দেহ থেকে তরল বের হওয়া এবং নিষেকে অংশ নেওয়ার মতো প্রজননকোষ থাকা—দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্য। ডিম্বাণু যৌনসুখের সময় যোনিপথে বের হওয়া কামরসের মধ্যে এসে পুরুষের বীর্যের সঙ্গে মেশে না। নারীর নিঃসরণকে ‘বীর্য’ নাম দিলেই সেটি শুক্রাণুর সমতুল্য প্রজননবীজ হয়ে যায় না। [43] [44]
আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষনাপ্রাপ্ত জ্ঞান
পুরুষের বীর্যের তরল অংশ শুক্রাণু পরিবহন ও তার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে। সন্তানের পিতৃসূত্রের বংশগত উপাদান আসে নিষেককারী শুক্রাণুর ভেতর থেকে; বীর্যের মোট পরিমাণ থেকে নয়। একইভাবে নারীদেহের যৌনক্ষরণ এবং মাতৃসূত্রের বংশগত উপাদান বহনকারী ডিম্বাণু আলাদা। এই পার্থক্য বাদ দিয়ে শুধু দুটি তরল একত্র হওয়ার কথা বললে নিষেকের প্রধান ঘটনাটিই বাদ পড়ে। [45] [12]
ডিম্বস্ফোটন ঋতুচক্রের হরমোননির্ভর ঘটনা। যৌনসুখের চূড়ান্ত মুহূর্ত অথবা স্বপ্নদোষের পরে নারীর বাইরে তরল দেখা ডিম্বস্ফোটনের সমার্থক নয়। ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত হওয়া ডিম্বাণু ডিম্বনালির দিকে যায়; নিষেককারী শুক্রাণুকে সেখানে পৌঁছাতে হয়। হাদিস ও ফিকহে যে রং, গন্ধ, বাইরে বের হওয়া এবং পরে কামনা স্তিমিত হওয়ার লক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিয়ে এই ডিম্বাণু শনাক্ত করা যায় না। [46]
স্কিনস গ্রন্থি থেকে যৌনসুখের সময় যে তরল নির্গত হতে পারে, আধুনিক গবেষণায় তাকে নারী-বীর্যস্খলনের আলোচনায় রাখা হয়। এর মধ্যে প্রোস্টেট-নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন পাওয়া যেতে পারে; সেটি গ্রন্থিগত উৎস বোঝার একটি চিহ্ন। এই তথ্য দিয়ে ডিম্বাণু থাকা, সন্তানের চেহারা নির্ধারণ করা কিংবা তরলের প্রাধান্যে ছেলে-মেয়ে হওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না। একটি নিঃসরণের অস্তিত্ব প্রমাণ করা এবং সেই নিঃসরণ সম্পর্কে হাদিসের দেওয়া প্রজননতত্ত্ব প্রমাণ করা এক কাজ নয়। [47] [48]
চিকিৎসাবিজ্ঞানে যোনিপথের সিক্ততা, নারী-বীর্যস্খলন এবং গ্যামেটের পার্থক্য
চিকিৎসাবিজ্ঞানে “নারীর শরীর থেকে যৌন উত্তেজনার সময় দৃশ্যমান তরল বের হয়”—এই পর্যবেক্ষণ অস্বীকার করা হয় না। কিন্তু সব তরলের উৎস ও কাজ এক নয়। Pastor ও Chmel (২০১৮) নারীর যৌনক্রিয়ার সময় নির্গত তরলগুলো নিয়ে গবেষণার পর্যালোচনায় তিনটি পৃথক ঘটনা আলোচনা করেছেন: (১) যোনিপথের সিক্ততা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস যোনিপ্রাচীর দিয়ে তরল নিঃসরণ বা vaginal transudation; (২) স্কিনস/প্যারাইউরেথ্রাল গ্রন্থি থেকে অল্প পরিমাণে নির্গত female ejaculate; (৩) তুলনামূলক বেশি পরিমাণের squirting যা প্রস্রাবথলি-সম্পর্কিত তরলও বহন করতে পারে। [49]
আধুনিক বৈজ্ঞানিক রিভিউয়ের প্রাসঙ্গিক ফলাফলের বিস্তারিত বাংলা ভাষ্য:
Pastor ও Chmel বিভিন্ন চিকিৎসা গবেষণার তথ্য একত্রিত করে বলেন, নারীর যৌনক্রিয়ার সময় একাধিক ধরনের তরল নিঃসৃত হতে পারে। যৌন উদ্দীপনার সময় যোনিপথে সিক্ততা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলো যোনিপ্রাচীর দিয়ে রক্তরসজাত তরল প্রবাহ। স্কিনস গ্রন্থি থেকে অর্গাজমের সঙ্গে অল্প পরিমাণে ঘন, দুধের মতো তরল নির্গত হতে পারে, যাতে প্রোস্টেট-নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন পাওয়া যায়। তুলনামূলক বেশি পরিমাণে নির্গত তরলকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হয়, কারণ তার উৎস ভিন্ন হতে পারে। এভাবে যৌন উত্তেজনা, অর্গাজম ও তরল নির্গমনকে একটিমাত্র “বীর্য” বলে সমার্থক করা শারীরবৃত্তীয়ভাবে সঠিক নয়।
পূর্ণ গ্রন্থপঞ্জি: Pastor, Z. & Chmel, R. (2018), International Urogynecology Journal, 29(5), 621–629; PMID 29285596.
Rodriguez ও সহলেখকদের ২০২১ সালের Clinical Anatomy রিভিউ ৪৪টি প্রকাশনা পর্যালোচনা করে female ejaculation-সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল ও অঙ্গসংস্থানগত তথ্য আলোচনা করেছে। গবেষণায় এই ধরনের নিঃসরণের উপস্থিতির পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়, কিন্তু এগুলো ডিম্বাণু বা শুক্রাণুর বিকল্প নয়। [50]
নিষেক, ক্রোমোজোম ও সন্তানসাদৃশ্য: হাদিসের পরীক্ষাযোগ্য দাবি
মানুষের জৈবিক প্রজননে নিষেক হয় একটি শুক্রাণু ও একটি ডিম্বাণুর মিলনে। সাধারণভাবে মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের অর্ধেক মায়ের এবং অর্ধেক বাবার কাছ থেকে আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিম্বাণু X ক্রোমোজোম বহন করে; শুক্রাণু X বা Y বহন করতে পারে। এই সমন্বয় এবং পরবর্তী জিনের কাজ সাধারণ XX/XY ক্রোমোজোমগত লিঙ্গ ও যৌনবিকাশের মূল ভিত্তি, যদিও ক্রোমোজোম ও যৌনবিকাশে স্বাভাবিক বৈচিত্র্যও আছে। [51] [52] [12]
আধুনিক প্রজনন ও বংশগতির প্রতিষ্ঠিত ব্যাখ্যার পূর্ণ প্রাসঙ্গিক বাংলা ভাষ্য:
পুরুষের শুক্রাণু এবং নারীর ডিম্বাণু পৃথক গ্যামেট। উভয়ের জিনগত উপাদান নিষেকের সময় মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। ডিম্বাণু সাধারণত X ক্রোমোজোম বহন করে এবং শুক্রাণু X অথবা Y ক্রোমোজোম বহন করতে পারে। কোন শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করছে, তা সাধারণ XX/XY ক্রোমোজোমগত ফলের নির্ণায়ক; দৃশ্যমান যোনিস্রাবের পরিমাণ বা স্ত্রী ও পুরুষের যৌন-নিঃসরণের আগে-পরে হওয়া তার বিকল্প নয়। সন্তানের বিভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্য বহু জিনের পারস্পরিক ক্রিয়া, বংশগত পুনর্বিন্যাস ও বিকাশের প্রভাবে তৈরি হয়। তাই সন্তান পিতা বা মাতৃকুলের সঙ্গে কেমন সাদৃশ্য পাবে, তার জন্য যৌনমিলনের সময়ে কার তরল আগে বা বেশি নির্গত হলো—এমন সাধারণ বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই।
সূত্র: MedlinePlus Genetics ও Nature Reviews Molecular Cell Biology-এ প্রকাশিত নিষেকসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক রিভিউ।
সুতরাং “নারীর দেহে যৌনক্ষরণ আছে কি না” বিতর্কের কেন্দ্র নয়। নির্দিষ্ট পরীক্ষাযোগ্য দাবি হলো—কোন দৃশ্যমান রস আগে বের হলো বা অন্য রসকে অতিক্রম করল, তার ভিত্তিতে সন্তানের লিঙ্গ কিংবা পিতৃ-মাতৃকুলীয় সাদৃশ্য নির্ধারিত হয় কি না। আধুনিক প্রজননবিজ্ঞান এই ধরনের সাধারণ কার্যকারণ নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে না।
উপসংহার
নারীর শরীর থেকে যৌনক্ষরণ হয়—এটি বাস্তব তথ্য। হাদিসের ভুল হলো সেই দৃশ্যমান নিঃসরণকে পুরুষের বীর্যের সমান্তরাল প্রজননবীজ ধরে তার আগে আসা বা প্রাধান্য দিয়ে সন্তানের লিঙ্গ ও চেহারার মিল ব্যাখ্যা করা। নববীর রং-গন্ধ-আনন্দের আলোচনা এবং ইবন কুদামার কাপড়ে শুকানো মনী ধোয়ার বিধান দেখায়, এখানে বাইরের তরলের কথাই বলা হচ্ছে। সেই তরলকে ডিম্বাণু অথবা জিনগত সংকেত হিসেবে চালিয়ে দেওয়া মূল বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তন। তরল যৌনক্রিয়ার সুবিধায় ভূমিকা রাখতে পারে; তা থেকে তরলটিই মাতৃসূত্রের বংশগত উপাদান বহন করে বা তার আধিক্যে মেয়ে হয়—এই সিদ্ধান্ত আসে না।
কুরতুবি ও ইবন হাজার বাস্তব সাদৃশ্যের সঙ্গে বর্ণনাগুলোর সমস্যা স্বীকার করেছেন। ইবনুল কাইয়িম ও ইবন হাজার একই বর্ণনাকে মেলাতে গিয়ে আগে আসা ও প্রাধান্যের ভূমিকা উল্টোভাবে ভাগ করেছেন। ইবন তাইমিয়ার নামে সংরক্ষিত মন্তব্যে লিঙ্গনির্ধারণের শব্দবিন্যাসের শুদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন আছে। এই পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা ও অনিশ্চিত পাঠকে নির্ভুল অলৌকিক বিজ্ঞান বলে প্রচার করা মিথ্যা বিজ্ঞাপন। দুই প্রজননবীজ দিয়ে সন্তানসৃষ্টির ধারণা হিপোক্রেটীয় ও গ্যালেনীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে ইসলামের বহু আগেই ছিল। হাদিসের তরল-প্রাধান্যের তত্ত্ব সেই প্রাচীন চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ; আধুনিক নিষেক ও বংশগতিবিদ্যার আবিষ্কার তার মধ্যে নেই। অনুবাদে ডিম্বাণু, ক্রোমোজোম ও জিন ঢুকিয়ে সেই অনুপস্থিত বিজ্ঞান তৈরি করা যায় না।
তথ্যসূত্রঃ
- ইসলামী বিশ্বাসে সন্তানের চেহারা কার মত হবে? ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ১৩০ ↩︎
- সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৩২ ↩︎
- সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৮২ ↩︎
- সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৬০৩ ↩︎
- সহিহ মুসলিম, কিতাবুল হায়েয, হাদিস ৩১৫ক; বই ৩, হাদিস ৩৮; মূল আরবি ও আন্তর্জাতিক ইংরেজি পাঠ ↩︎
- MedlinePlus, Chromosome 1 2
- MedlinePlus Genetics, Y chromosome 1 2
- সহিহ বুখারি ৩৩২৯, কিতাব আহাদিসুল আম্বিয়া, বই ৬০, হাদিস ৪ ↩︎
- সহিহ বুখারি ৩৯৩৮, কিতাব মানাকিবুল আনসার ↩︎
- যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মানব জিনোম গবেষণা প্রতিষ্ঠান, Polygenic Trait ↩︎
- Re-starting Life: Fertilization and the Transition from Meiosis to Mitosis 1 2 3
- যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মানব জিনোম গবেষণা প্রতিষ্ঠান, Dominant ↩︎
- সহিহ মুসলিম ৩১৪খ, কিতাবুল হায়েয, বই ৩, হাদিস ৩৭ ↩︎
- সহিহ মুসলিম ৩১৫ক, বই ৩, হাদিস ৩৮: সুন্নাহ ডটকমে প্রকাশিত আরবি মূল ও ইংরেজি অনুবাদ ↩︎
- সহিহ মুসলিম ৩১৪খ, বই ৩, হাদিস ৩৭: সুন্নাহ ডটকমে প্রকাশিত আরবি মূল ও ইংরেজি অনুবাদ ↩︎
- যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মানব জিনোম গবেষণা প্রতিষ্ঠান, Dominant: একটি জিনের সংস্করণগুলোর সম্পর্ক ↩︎
- সূরা আল-ইনসান, ৭৬:২ ↩︎
- ইবন কাসির, তাফসিরুল কোরআনিল আজিম, সূরা আল-ইনসান ৭৬:২ ↩︎
- তাবারি, জামিউল বায়ান, সূরা আল-ইনসান ৭৬:২ ↩︎
- নববী, আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬০: মনী, মাযি ও ওয়াদির ভাষা ও বৈশিষ্ট্য ↩︎
- সহিহ মুসলিম, ৩১১ ↩︎
- সহিহ বুখারি, ১৩০ ↩︎
- নববী, আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬১ ↩︎
- নববী, আল-মিনহাজ শরহ সহিহ মুসলিম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৩; শামেলা ↩︎
- একই আলোচনা: ইসলামওয়েবের গ্রন্থাগার সংস্করণ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৫০ ↩︎
- ইবন কুদামা, আল-মুগনি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭; মনীর পবিত্রতা প্রসঙ্গ ↩︎
- العلامات التي يعرف بها مني المرأة ↩︎
- আবুল আব্বাস আল-কুরতুবি, আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৭১–৫৭২ ↩︎
- ইবনুল কাইয়িম, তুহফাতুল মাওদুদ বিআহকামিল মাওলুদ, পৃষ্ঠা ২৭৮; ইসলামকিউএ ১২৯৮৮৮-তে উদ্ধৃত ↩︎
- ইবন হাজার, ফাতহুল বারি, সালাফিয়্যা সংস্করণ, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৩; শামেলা ↩︎
- ইবনুল কাইয়িম ও ইবন হাজারের ব্যাখ্যা পাশাপাশি: ইসলামকিউএ, উত্তর ১২৯৮৮৮ ↩︎
- ইবনুল কাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা; ইসলামওয়েবের ফতোয়া বিভাগে প্রকাশিত ২০২৩৭৫ নম্বর উত্তরে উদ্ধৃত ↩︎
- Hippocrates, On Regimen ↩︎
- Galen, On Semen ↩︎
- Galen, De semine, Book I; Kühn edition, Opera Omnia IV, pp. 512–651; মূল গ্রিক পাঠ ↩︎
- Re-starting Life: Fertilization and the Transition from Meiosis to Mitosis, Box 1; PubMed Central ↩︎
- Pormann & Savage-Smith, Medieval Islamic Medicine ↩︎
- Hippocrates, On the Nature of the Child ↩︎
- Cleveland Clinic, Male Reproductive System: অণ্ডকোষ, সেমিনাল ভেসিকল ও প্রোস্টেট ↩︎
- Cleveland Clinic, Ovaries: ডিম্বাশয় ও ডিম্বস্ফোটন ↩︎
- Cleveland Clinic, Conception: নিষেক ও জরায়ুতে স্থাপিত হওয়ার প্রক্রিয়া ↩︎
- Pastor ও Chmel, ২০১৮: নারীর যৌনক্ষরণের বিভিন্ন উৎস ↩︎
- Rodriguez ও সহলেখকেরা, ২০২১: নারী-বীর্যস্খলনের শারীরবিদ্যা ও ইতিহাস ↩︎
- Cleveland Clinic, Male Reproductive System ↩︎
- Cleveland Clinic, Ovaries: ঋতুচক্র, হরমোন ও ডিম্বস্ফোটন ↩︎
- Pastor ও Chmel, ২০১৮: Differential diagnostics of female “sexual” fluids ↩︎
- Rodriguez ও সহলেখকেরা, Female ejaculation: An update on anatomy, history, and controversies, Clinical Anatomy ৩৪(১), ২০২১, পৃষ্ঠা ১০৩–১০৭ ↩︎
- Z. Pastor & R. Chmel, Differential Diagnostics of Female “Sexual” Fluids, International Urogynecology Journal 29 (2018), 621–629, DOI: 10.1007/s00192-017-3527-9 ↩︎
- Rodriguez et al., Female Ejaculation: An Update on Anatomy, History, and Controversies, Clinical Anatomy 34(1) (2021), 103–107; DOI 10.1002/ca.23654 ↩︎
- MedlinePlus Medical Encyclopedia, Chromosome ↩︎
- MedlinePlus Genetics, Y Chromosome ↩︎

