ভূমিকা
কোনো দাবি বিশ্বাস করলে লাভ হবে—এই হিসাব দাবিটির সত্যতার প্রমাণ নয়। প্যাসকেলের বাজিতে ধর্মবিশ্বাসের পক্ষে একটি ব্যবহারিক নির্দেশ দেওয়া হয়: ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলেও লাভ–ক্ষতির বিচারে বিশ্বাসের দিকে এগোনো উচিত। ঈশ্বর আছেন কি না এবং ঈশ্বরে বিশ্বাসের চেষ্টা করলে ব্যক্তির লাভ হবে কি না—দুটি পৃথক প্রশ্ন। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতেও পুরস্কার, শাস্তি ও মুক্তির শর্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি প্রয়োজন। ধর্মীয় প্রচারে বাজিটিকে এমন এক নিরাপদ প্রস্তাব হিসেবে হাজির করা হয়, যেন বিশ্বাসের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলেও অবিশ্বাসের তুলনায় বিশ্বাসই অনিবার্যভাবে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। এই অনিবার্যতার দাবিটিই পরীক্ষার বিষয়।
ফরাসি গণিতবিদ ও দার্শনিক ব্লেইজ প্যাসকেলের মৃত্যুর পরে প্রকাশিত Pensées গ্রন্থে বাজির বিখ্যাত আলোচনা সংরক্ষিত হয়েছে। ১৬৭০ সালের প্রকাশিত সংস্করণ থেকে গ্রন্থটির প্রচলিত ইতিহাস শুরু; আধুনিক বিন্যাসে আলোচনাটি ব্রুনশভিকের ২৩৩ নম্বর খণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্যাসকেলের বক্তব্যের কেন্দ্র হলো, ক্ষণস্থায়ী জীবনের সসীম ত্যাগের বিনিময়ে অনন্ত সুখ পাওয়ার সুযোগ থাকলে সেই সুযোগের পক্ষে বাজি ধরা উচিত। ধর্মীয় মুক্তির একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাকে সত্য হওয়ার সম্ভাবনাসম্পন্ন ধরে নিয়ে তার প্রত্যাশিত লাভ দিয়ে বিশ্বাসের দিকে যাওয়ার নির্দেশ তৈরি করা হয়েছে। [1]
L’édition originale proprement dite est sortie en janvier 1670.
বাংলা অনুবাদ: মূল প্রকাশিত সংস্করণটি বের হয় ১৬৭০ সালের জানুয়ারিতে।
প্যাসকেলের নিজস্ব ভাষায়, জিতলে সব পাওয়া যাবে, হারলে কিছুই হারাতে হবে না। এই বাক্যের আকর্ষণ তৈরি হয় দুটি অসম জিনিস পাশাপাশি রাখার মাধ্যমে: এক পাশে ব্যক্তির বাস্তব জীবন, অন্য পাশে অসীম সুখের একটি ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ওই প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য কেবল স্রষ্টার অস্তিত্বের চেয়ে অনেক বেশি কিছু সত্য হতে হয়: পরকাল থাকতে হবে, নির্দিষ্ট বিচারনীতি কার্যকর হতে হবে এবং বিশ্বাসের পথে যাওয়াই সেই নীতিতে মুক্তির উপায় হতে হবে। একটি অপরিচিত স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্ভব বললেই এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থার পক্ষে নির্ভরযোগ্য সম্ভাবনা পাওয়া যায় না। সিদ্ধান্তের ছকে অসীম পুরস্কার লিখে দেওয়া সহজ; কেন সেই পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও প্রবেশের শর্তকে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া হবে, সেটিই অমীমাংসিত থাকে। [2]
si vous gagnez, vous gagnez tout, si vous perdez, vous ne perdez rien.
বাংলা অনুবাদ: আপনি জিতলে সবই জিতবেন; হারলে কিছুই হারাবেন না।
একটি সিদ্ধান্ততাত্ত্বিক হিসাবের জন্য অন্তত চারটি জিনিস দরকার: কী কী অবস্থা সত্য হতে পারে, কী কী কাজ করা সম্ভব, প্রতিটি কাজের ফল কী, এবং সংশ্লিষ্ট অবস্থাগুলোর সম্ভাবনা কত। প্যাসকেলের বাজি নিয়ে সমস্যার শুরু এই উপাদানগুলো নির্ধারণে। ঈশ্বরের অস্তিত্ব অজ্ঞাত বলেও তাঁর পুরস্কারের ধরন জানা ধরে নেওয়া হয়েছে; প্রমাণের অনুপস্থিতি স্বীকার করেও অনুকূল সম্ভাবনা বসানো হয়েছে; বিশ্বাসের মূল্য নির্ধারণ করতে গিয়ে মানুষের সময়, স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানের সুযোগকে সামান্য ব্যয় বলে নামিয়ে আনা হয়েছে। নিচের ছকটি সেই প্রচলিত বাজির দাবিকৃত লাভ–ক্ষতির বিন্যাস। ছকের প্রতিশ্রুতিগুলো যাচাইয়ের বিকল্প নয়; এগুলোই যাচাইযোগ্যতার দাবিদার।
নির্দিষ্ট ধর্মের মুক্তিতত্ত্ব সত্য এবং বিশ্বাস মুক্তির শর্ত হলে দাবিকৃত অনন্ত পুরস্কার।
ধর্মীয় বিধান পালনে সময়, অর্থ, স্বাধীনতা এবং অন্য সুযোগের বাস্তব ব্যয়।
নির্দিষ্ট শাস্তিতত্ত্ব সত্য হলে অবিশ্বাসের জন্য দাবিকৃত অনন্ত শাস্তি।
ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বাইরেও অনুসন্ধান, নৈতিক কাজ, সম্পর্ক ও জীবনযাপনের সুযোগ।
বহুধর্মীয়তার সমস্যা (Problem of Many Gods)
বহুধর্মীয়তার আপত্তি শুধু পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে—এই গণনার ওপর দাঁড়ায় না। এর মূল কথা হলো, একই বাজির পদ্ধতি ব্যবহার করে পরস্পরবিরোধী ধর্মীয় সিদ্ধান্ত তৈরি করা যায়। একজন প্রচারক বলতে পারেন, তাঁর ধর্ম গ্রহণ করলে অনন্ত মুক্তি এবং প্রত্যাখ্যান করলে শাস্তি; অন্য ধর্মের প্রচারক নিজের ধর্মের জন্য একই ধরনের দাবি করতে পারেন। প্রথম ব্যক্তির কথিত লাভের অঙ্ক দ্বিতীয় ব্যক্তির দাবিকে বাতিল করে না। দুজনেরই প্রমাণের বদলে অনন্ত পুরস্কার দেখানোর অনুমতি থাকলে হিসাব থেকে একটিমাত্র বাধ্যতামূলক নির্বাচন পাওয়া যায় না। একই সিদ্ধান্তপদ্ধতি যদি অসংগত সিদ্ধান্তগুলোকে সমর্থন করে, তবে নির্দিষ্ট ধর্ম বেছে নেওয়ার জন্য সেই পদ্ধতি যথেষ্ট নয়।
“ঈশ্বর আছেন অথবা নেই”—এটি একটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক দ্বিবিভাজন। ত্রুটি ঘটে যখন “ঈশ্বর আছেন” কথাটির মধ্যে অঘোষিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের সব দাবি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, অথবা “এই ধর্মের ঈশ্বর নেই” কথাটিকে “কোনো অতিপ্রাকৃত বিচারব্যবস্থাই নেই” বলে চালানো হয়। কোনো স্রষ্টা থাকা, মানুষের মৃত্যুর পরে টিকে থাকা, স্বর্গ থাকা, সঠিক মতবাদে বিশ্বাসের কারণে সেখানে প্রবেশাধিকার পাওয়া এবং একটি বিশেষ ধর্ম সেই মতবাদটি নির্ভুলভাবে জানে—এগুলো পৃথক দাবি। একটি দাবি মেনে নিলেই বাকি সব সত্য হয় না। ঈশ্বরের অস্তিত্বের সম্ভাবনা আর নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় মুক্তিতত্ত্বের সম্পূর্ণ সত্য হওয়ার সম্ভাবনা তাই এক জিনিস নয়।
উইলিয়াম জেমস The Will to Believe-এ প্যাসকেলের বাজির ঠিক এই ধর্মনির্দিষ্ট সীমা ধরেছেন। খ্রিস্টীয় উপাসনা ও পবিত্র জল গ্রহণের পরামর্শ এমন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে, যার কাছে আগে থেকেই ওই আচারগুলো মুক্তির সম্ভাব্য পথ বলে মনে হয়। জেমস একই কাঠামোর প্রতিশ্রুতি মাহদির মুখে বসিয়ে দেখান, কথিত অসীম পুরস্কারের ভাষা বদলালেও যুক্তির পদ্ধতি একই থাকে। তাঁর উদাহরণের গুরুত্ব হলো, বাজির গ্রহণযোগ্যতার পেছনে আগে থেকেই নির্বাচিত ধর্মীয় পরিচিতি কাজ করছে। গণিত নিজে সেই পরিচিতিকে সত্যের মর্যাদা দেয় না। [3]
His logic would be that of Pascal; but he would vainly use it on us, for the hypothesis he offers us is dead.
বাংলা অনুবাদ: তাঁর যুক্তি প্যাসকেলের যুক্তিরই অনুরূপ হতো; কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা নিষ্ফল হতো, কারণ তিনি যে অনুমানটি দিচ্ছেন, সেটি আমাদের কাছে জীবন্ত সম্ভাবনা নয়।
এখানে ধর্মীয় মতবাদগুলোর প্রত্যেকটিকে সমান সম্ভাবনা দিতে হয় না। সমান সম্ভাবনার ধারণা বাদ দিলেও সমস্যাটি থাকে: কেন একটি নির্দিষ্ট মতবাদের পুরস্কার সত্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মতবাদের পুরস্কার ভুল, তার স্বাধীন কারণ প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি জন্মসূত্রে একটি ধর্মের শাস্তিকে ভয় পান বলে অন্যের শাস্তির দাবি গাণিতিকভাবে শূন্য হয়ে যায় না। আবার ধর্মের বয়স, অনুসারীর সংখ্যা কিংবা পরিচিত আচার নিজেরা সেই ধর্মের পরকালীন প্রতিশ্রুতি সত্য করে না। সম্ভাবনার ওজন নির্ধারণের জন্য প্রমাণ চাইলে অনুসন্ধানে ফিরতে হয়; প্রমাণ অপ্রয়োজনীয় বললে পছন্দের ধর্মকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ভিত্তি থাকে না।
সব ধর্মকে একসঙ্গে পালন করাও এই সমস্যা মেটায় না। পরস্পরবিরোধী উপাসনা ও মুক্তির শর্তকে একই সঙ্গে সত্য ধরে নেওয়া সম্ভব নয়। যে বিধানে একমাত্র ঈশ্বরের উপাসনা বাধ্যতামূলক এবং অন্য উপাসনা নিষিদ্ধ, সেখানে সব দাবিদারের সঙ্গে আপস করে নিরাপত্তা কেনা যায় না। ফলে বাজিটি ধর্মনিরপেক্ষ কোনো সাধারণ সুরক্ষা-পদ্ধতি হয়ে ওঠে না; এটি নির্দিষ্ট ধর্মতত্ত্ব আগে গ্রহণ করার ওপর নির্ভরশীল থাকে।
একটি মুক্তিতত্ত্ব সত্য না হলেই অন্য সব অতিপ্রাকৃত বিচারব্যবস্থা মিথ্যা হয় না।
ভিন্ন ধর্মীয় দাবি, একই ধর্মের ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং কোনো দাবিই সত্য না হওয়ার অবস্থাও বিচার্য।
অসম্পূর্ণ ফলবিন্যাস: নির্দিষ্ট একটি ধর্মের পুরস্কারের নিয়ম গ্রহণ করে অন্য সব দাবিকে বাদ দিলে সিদ্ধান্ত আগেই নির্ধারিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দাবির মধ্যে বেছে নেওয়ার স্বাধীন প্রমাণ বাজিটি দেয় না।
উদাহরণ: ৪২০০ ভুয়া কোম্পানি এবং বাড়ির প্রতিশ্রুতি
একটি কাল্পনিক উদাহরণ ধরা যাক। “উল্টাপাল্টা২৪” নামের একটি কোম্পানি দাবি করছে, অল্প মাসিক চাঁদা দিলে দশ বছর পরে তারা একটি বিশাল বাড়ি দেবে। তাদের মালিকানা, সম্পদ এবং আগের কোনো গ্রাহককে প্রতিশ্রুতি পূরণের তথ্য যাচাই করা যাচ্ছে না। কোম্পানির প্রতিনিধি শুধু ভবিষ্যৎ লাভের বিরাট অঙ্ক সামনে রাখছেন।
“আমাদেরকে প্রতি মাসে মাত্র ১০০০ টাকা করে দিলেই ১০ বছর পরে আমরা আপনাকে একটি বিলাসবহুল ১০০ তলা বাড়ি উপহার দেব।”
এবার একই ধরনের দাবি নিয়ে আরও কোম্পানি এল। বোঝানোর সুবিধার জন্য সংখ্যাটি ৪২০০ ধরা হলো; এটি পৃথিবীর ধর্মের কোনো পরিসংখ্যান নয়। প্রত্যেক কোম্পানি নিজের দাবিকে সত্য এবং অন্যদের দাবিকে ভুয়া বলছে। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানির সংখ্যা গুনে কোনো একটির সততার সম্ভাবনা বের হয় না। প্রয়োজন তাদের সম্পদের প্রমাণ, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নক্ষমতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ। শুধু একটি কোম্পানি থাকলেও তার অপ্রমাণিত প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য হতো না; অনেক কোম্পানি থাকা দেখায়, একই ধরনের প্রলোভন কেন একটিমাত্র দাবিদারকে নির্বাচন করতে পারে না।
| বিষয় | কাল্পনিক উদাহরণের অবস্থা |
|---|---|
| কোম্পানির নাম | উদাহরণে ৪২০০টি আলাদা দাবিদার |
| মালিক কে? | মালিকের পরিচয় ও অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য যাচাই করা যাচ্ছে না |
| সরকারি রেজিস্ট্রেশন | দাবিকৃত ব্যবসার নিবন্ধনের প্রমাণ দেওয়া হয়নি |
| পূর্বে কাউকে বাড়ি দিয়েছে কি? | প্রতিশ্রুতি পূরণের স্বাধীন প্রমাণ নেই |
| টাকা দিতে হয় কাদের? | প্রতিনিধিদের; তাঁরা প্রমাণের বদলে বিশ্বাস চাইছেন |
| বাড়িটির অবস্থান কোথায়? | ঠিকানা ও বাস্তব সম্পত্তির প্রমাণ নেই |
| গ্রাহককে দেওয়া যুক্তি | বর্তমান অর্থের বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বিরাট লাভের প্রতিশ্রুতি |
কোনো কোম্পানি সত্য বলতেই পারে—এই বাক্য থেকে তাকে টাকা দেওয়া উচিত, এমন সিদ্ধান্ত আসে না। সম্ভাব্যতার ভাষায় একটি ঘটনা কল্পনা করা আর সেই ঘটনার পক্ষে অর্থবহ সম্ভাবনা প্রতিষ্ঠা করা আলাদা কাজ। কোনো পক্ষ যত বড় পুরস্কার বলবে, তার কথায় তত বেশি টাকা দেওয়া উচিত—এমন নিয়ম চালু করলে সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতিদাতাই প্রমাণ ছাড়াই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে যাবে। এতে সততা বা বাস্তব সামর্থ্যের তুলনায় দাবির আকার পুরস্কৃত হয়। ধর্মীয় বাজিতেও “অনন্ত” শব্দটি একই সুবিধা পায়: প্রতিশ্রুতি যত অযাচাইযোগ্য হোক, তার অঙ্ক বাড়িয়েই অনুসন্ধান বন্ধ করার চেষ্টা করা যায়।
এই উদাহরণে সিদ্ধান্তের ভিত্তি তিনটি প্রশ্ন:
- প্রতিশ্রুতিদাতার পক্ষে কী স্বাধীন প্রমাণ আছে?
- অন্য দাবিদারের বদলে এই দাবিদারকে বেছে নেওয়ার কারণ কী?
- দাবিটি ভুল হলে কী বাস্তব ব্যয় হবে, এবং অপেক্ষা করে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ আছে কি?
এই তুলনার যৌক্তিক ভিত্তি হলো প্রমাণহীন ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান আনুগত্য আদায়। বাড়ির মূল্য দিয়ে কোম্পানির সামর্থ্য প্রমাণ হয় না, যেমন স্বর্গের কথিত মূল্য দিয়ে সেই স্বর্গের অস্তিত্ব বা প্রবেশের শর্ত প্রমাণ হয় না। দাবিকৃত ফলের বিশালতা সেই ফল বাস্তবে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নয়।
টেবিল: প্যাসকেলের ওয়েজার বনাম ৪২০০ কোম্পানি উদাহরণ
| বিষয় | ধর্মীয় বাজির দাবি | কাল্পনিক কোম্পানির দাবি |
|---|---|---|
| দাবিকৃত লাভ | নির্দিষ্ট শর্তে পরকালীন মুক্তি | চাঁদার বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বাড়ি |
| দাবি না মানলে কথিত ফল | মুক্তিবঞ্চনা বা শাস্তি | প্রতিশ্রুত বাড়ি না পাওয়া |
| প্রমাণের প্রশ্ন | পরকাল ও মুক্তির শর্ত সত্য হওয়ার ভিত্তি কী? | সম্পদ ও প্রতিশ্রুতি পূরণের সামর্থ্যের ভিত্তি কী? |
| প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদার | পরস্পরবিরোধী ধর্মীয় মুক্তিতত্ত্ব | একই ধরনের প্রতিশ্রুতিদাতা একাধিক কোম্পানি |
| নিজেকে একমাত্র সঠিক বলা | নির্দিষ্ট ধর্মের দাবিদার নিজের পথকে অপরিহার্য বলছেন | প্রতিটি কোম্পানি অন্যদের ভুল বলছে |
| নিশ্চয়তার প্রমাণ | পুরস্কারের ঘোষণা নিজে নিশ্চয়তার প্রমাণ নয় | বাড়ির ঘোষণা নিজে নিশ্চয়তার প্রমাণ নয় |
| কর্তৃত্বের পরিচয় | ঈশ্বরের নামে কথা বলার ক্ষমতা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত? | মালিকের পরিচয় ও প্রতিনিধির ক্ষমতা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত? |
| বর্তমান বাস্তব ব্যয় | সময়, অর্থ, স্বাধীনতা ও সুযোগব্যয় | জমা দেওয়া অর্থ ও অন্য বিনিয়োগের সুযোগব্যয় |
কেউ প্রতিশ্রুতিটিকে সত্য বললেই তার ব্যয় কাল্পনিক হয়ে যায় না। ধর্মীয় আনুগত্য সময়, অর্থ, সম্পর্ক, পেশা, দেহসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মতপ্রকাশের ওপর বাস্তব দাবি করতে পারে। কোন ধর্মীয় ব্যবস্থার ব্যয় কত, তা তার নির্দিষ্ট বিধান ও সামাজিক প্রয়োগ দিয়ে বিচার করতে হয়। সম্ভাব্য পুরস্কারকে অসীম বলে ঘোষণা করে এই জীবনের সব ক্ষতিকে “সামান্য ত্যাগ” নাম দেওয়া নিজেই একটি মূল্যবিচার; কোনো গাণিতিক উপপাদ্য নয়। যে জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিত, তার সময় ও স্বাধীনতার মূল্য নির্ধারণের অধিকারও সংশ্লিষ্ট মানুষের।
অবিশ্বাসের ফলকেও কেবল ভোগবিলাস হিসেবে দেখানো বিভ্রান্তিকর। ধর্মীয় দাবি গ্রহণ না করেও মানুষ সত্য অনুসন্ধান, বন্ধুত্ব, শিল্প, জ্ঞানচর্চা ও অন্যের কল্যাণকে জীবনের লক্ষ্য করতে পারেন। বিশ্বাস বনাম অবিশ্বাসের ছকে এক দিকে নৈতিকতা এবং অন্য দিকে শুধু সাময়িক আনন্দ বসালে মানুষের বাস্তব বিকল্পগুলো বিকৃত হয়। নাস্তিকেরও নৈতিক জীবন আছে; আস্তিকেরও ধর্ম পালনের সুযোগব্যয় আছে। বাজির ছক এই জীবনগুলোকে নিজের সুবিধামতো সংকুচিত করে।
গাণিতিক বিশ্লেষণ: সম্ভাবনার চোখে দেখলে
ধর্ম বা উপদলের সংখ্যা থেকে কোনটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা নির্ণয় করা যায় না। ৪২০০টি নাম লেখা থাকলে সেগুলো ৪২০০টি সমান ও পরস্পর-বিচ্ছিন্ন সম্ভাবনা হয়ে যায় না। কয়েকটি মতবাদ একই দাবির অংশীদার হতে পারে, একই ধর্মের ভেতর পরস্পরবিরোধী মত থাকতে পারে, আবার তালিকার সব দাবিই ভুল হতে পারে। সংখ্যার বিপরীতকে সম্ভাবনা বলার আগে কী গোনা হচ্ছে, সম্ভাবনাগুলো সম্পূর্ণ কি না এবং তাদের সমান ওজন দেওয়ার কারণ কী—এসব স্থির করতে হয়। লাপ্লাসও অনুকূল ঘটনার সংখ্যা দিয়ে সম্ভাবনা নির্ধারণের নিয়মে সমান সম্ভাব্যতার শর্তটি স্পষ্ট করেছেন। [4]
But that supposes the various cases equally possible.
বাংলা অনুবাদ: কিন্তু এতে ধরে নেওয়া হয়েছে যে বিভিন্ন ক্ষেত্র সমান সম্ভাব্য।
দুটি আলাদা পরীক্ষা গুলিয়ে ফেললে ভুল অঙ্ক তৈরি হয়। প্রথম পরীক্ষায় প্রশ্ন, কোনো ধর্মীয় দাবির পক্ষে প্রমাণ কতটা। দ্বিতীয় পরীক্ষায় ধরে নেওয়া হয়, একটি বন্ধ তালিকায় ঠিক একটি সঠিক উত্তর আছে এবং লটারির মতো সমান সুযোগে একটি ঘর বেছে নেওয়া হবে। শুধু দ্বিতীয় পরীক্ষার নিয়ম মেনে নিচের ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। বাস্তব ধর্মীয় সত্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে এটি কোনো আবিষ্কার নয়।
কাল্পনিক মডেল: Nটি পরস্পর-বিচ্ছিন্ন বিকল্প, ঠিক ১টি সঠিক, সমান সুযোগে নির্বাচন। P(সঠিক ঘর নির্বাচন) = 1/N N = 4200 হলে: 1/4200 ≈ 0.000238095 = 0.0238095% এই সংখ্যা ধর্মীয় সত্যের পরিমাপ নয়; নির্দিষ্ট নির্বাচন-পদ্ধতির ফল।

একটি ধর্মকে নির্বাচন করার পরে তার ভেতর মুক্তির শর্ত নিয়ে মতভেদ থাকলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। ইসলামের ফেরকাসংক্রান্ত বর্ণনা এই ধর্মীয় অনিশ্চয়তার একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ। এখানে মতভেদের অস্তিত্ব এবং সেই মতভেদে কথিত পরকালীন পরিণতি গুরুত্বপূর্ণ; ফেরকা গুনে বাস্তব জাহান্নাম-ঝুঁকির শতকরা হার বের করা বৈধ নয়।
ইসলামের ৭৩ ফেরকা: ধর্ম নির্বাচন করলেই মুক্তি নিশ্চিত হয় না
আবু দাউদের ৪৫৯৭ নম্বর বর্ণনায় মুহাম্মদের নামে উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হওয়া, ৭২ দলের জাহান্নামে যাওয়া এবং একটি দলের জান্নাতে যাওয়ার কথা আছে। হাদীস সম্ভারের ১৫২৮ নম্বরেও এই বর্ণনা রয়েছে। এই বক্তব্যকে মুক্তির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করলে শুধু নিজেকে মুসলিম বলা চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেয় না; কোন ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও গোষ্ঠী সঠিক, সেই প্রশ্নও যুক্ত হয়। [5] [6]
وَإِنَّ هَذِهِ الْمِلَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَهِيَ الْجَمَاعَةُ
বাংলা অনুবাদ: আর এই সম্প্রদায় ৭৩ দলে বিভক্ত হবে; ৭২টি আগুনে যাবে এবং একটি জান্নাতে যাবে; সেটি হলো জামাআত।
বর্ণনার ৭৩ একটি ধর্মীয় সংখ্যাবাচক দাবি; এটি সমান সম্ভাবনার ৭৩টি পরীক্ষিত নমুনা নয়। প্রতিটি দলের সদস্যসংখ্যা, মতবাদ এবং সত্য হওয়ার সম্ভাবনা সমান—এমন কোনো তথ্য এই বাক্য দেয় না। আবার কোন গোষ্ঠীকে গণনার একক ধরা হবে, সেটিও আলাদা বিষয়। সংশ্লিষ্ট দুটি অনুমানের যৌথ সম্ভাবনা লিখতে হলে শর্তযুক্ত সম্ভাবনা লাগে:
E = উপলব্ধ প্রমাণ; Hᵢ = নির্দিষ্ট ধর্মীয় মুক্তিতত্ত্ব সত্য; Sⱼ = তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সঠিক। P(Hᵢ এবং Sⱼ | E) = P(Hᵢ | E) × P(Sⱼ | Hᵢ, E) দুই ধাপে সমান নির্বাচন ধরে নিলে তবেই: 1/4200 × 1/73 = 1/306600 ≈ 0.00000326158 = 0.000326158% সমান নির্বাচনের এই অনুমান বাস্তব ধর্মীয় সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না।
এখানে গুণের নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় একটি বিস্তৃত বিশ্বাস গ্রহণ আর সেই বিশ্বাসের বিশেষ মুক্তির শর্ত সত্য হওয়া পৃথক প্রশ্ন। প্রথম সম্ভাবনাকে দ্বিতীয়টির জায়গায় বসানো যায় না। কিন্তু ৪২০০ ও ৭৩-এর বিপরীতকে সরাসরি ওই সম্ভাবনা হিসেবে বসাতে হলে অতিরিক্ত সমান-নির্বাচনের অনুমান লাগে। সেই অনুমান থেকে পাওয়া ভগ্নাংশের বাকি অংশকে “জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা” বলা আরও একটি ভুল: তাতে আগে থেকেই পরকাল, শাস্তি এবং নির্দিষ্ট মুক্তিতত্ত্বের সত্যতা গ্রহণ করা হয়।
ফেরকার উদাহরণে বাজির দুর্বলতা তাই ভয়ানক দেখানোর জন্য সাজানো কোনো শতকরা হার নয়। দুর্বলতা হলো, যে ধর্মীয় আনুগত্যকে নিরাপত্তা বলা হচ্ছে, তার ভেতরেই নিরাপত্তার পরস্পরবিরোধী সংজ্ঞা আছে। দাবিদারের নিজের পরিচয় জানলেই তাঁর পরকালীন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। যে যুক্তি সত্য ধর্ম চেনাতে পারে না, সেই যুক্তি দিয়ে সত্য ফেরকা চেনানোর নিশ্চয়তাও পাওয়া যায় না।
স্রষ্টার অস্তিত্ব মেনে নিলেও নির্দিষ্ট মুক্তিতত্ত্ব সত্য হওয়ার সিদ্ধান্ত আসে না।
নির্বাচিত ধর্মের ভেতর মুক্তির সঠিক শর্ত কোনটি, তারও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
সম্ভাবনার গুণনিয়মে দুই ধাপের যৌথ মান পাওয়া যায়; p ও q-এর জন্য আলাদা ভিত্তি চাই।
গাণিতিক উপসংহার: স্রষ্টা, ধর্মীয় মুক্তিতত্ত্ব এবং নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পৃথক দাবি। একটি মেনে নিলেই বাকিগুলো নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি ধাপের সম্ভাবনা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ প্রয়োজন।
প্যাসকেলের ওয়েজারে কুযুক্তির ব্যবহার (Logical Fallacies)
বাজির সমালোচনায় কয়েকটি পৃথক ত্রুটি আলাদা করা জরুরি। বিকল্প বাদ দেওয়ার ত্রুটি ঘটে যখন একটি বিশেষ ধর্মের বাইরে সব অবস্থাকে একই ঘরে রাখা হয়। প্রমাণের বদলে ভয় আসে যখন শাস্তির ভীতিকরতা দিয়ে দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রশ্নের উত্তর আগেই ধরে নেওয়া হয় যখন স্বর্গের অস্তিত্ব ও মুক্তির শর্ত অপ্রমাণিত রেখেই সেগুলোকে নিশ্চিত পুরস্কারের নিয়ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর বিষয়ান্তর ঘটে যখন সত্যতার প্রশ্নের জবাবে বিশ্বাসের মানসিক সুবিধা দেখানো হয়। একই বাক্য একাধিক কাজ করতে পারে; কিন্তু প্রতিটি ত্রুটির নির্দিষ্ট কারণ আছে।
ভয় নিজেই সব পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক নয়। আগুনে হাত দিলে পোড়ার আশঙ্কা বাস্তব কারণ ও পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠিত। ধর্মীয় হুমকির ক্ষেত্রে সেই কারণসংযোগটিই প্রমাণের অপেক্ষায় থাকে। “আগুন ভয়ানক” থেকে “এই প্রচারকের বলা নরক সত্য” পাওয়া যায় না। হুমকি যত কঠোরই হোক, তার উৎসের নির্ভরযোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। দাবির প্রমাণ না দিয়ে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো অনুসন্ধানের মান উন্নত করে না; শুধু প্রত্যাখ্যানের মনস্তাত্ত্বিক মূল্য বাড়ায়।
গাণিতিক সম্ভাব্যতা ও সিদ্ধান্ত তত্ত্বের ব্যবহার
প্রত্যাশিত উপযোগিতা বলতে সম্ভাব্য প্রতিটি ফলের মূল্যকে তার সম্ভাবনা দিয়ে গুণ করে যোগ করা বোঝায়। A যদি কোনো কাজ এবং Hᵢ যদি প্রাসঙ্গিক অবস্থা হয়, তবে সাধারণ সসীম মডেলে EU(A) = Σ P(Hᵢ | E) × U(A, Hᵢ)। এখানে E হলো হাতে থাকা প্রমাণ এবং U হলো ফলটির ব্যক্তিগত মূল্য। যোগের নিয়ম যত নির্ভুলই হোক, তা নিজে থেকে সম্ভাবনা কিংবা ফলের মান তৈরি করে না। ভুল বা অপ্রতিষ্ঠিত মান বসালে হিসাব নির্ভুলভাবে সেই অনুমানেরই পরিণতি দেখাবে; অনুমানটিকে সত্য করে তুলবে না।
একটি সরল সসীম উদাহরণে ধরা যাক, বিশ্বাসের জন্য বর্তমান ব্যয় C, প্রতিশ্রুত পুরস্কার R, আর পুরো প্রতিশ্রুতি সত্য হওয়ার সম্ভাবনা p। অন্য সব ফল শূন্য এবং বিশ্বাস করলে ব্যয়টি অবশ্যই হবে ধরে নিলে প্রত্যাশিত নিট ফল pR − C। এটি অনুকূল হতে pR > C দরকার। একই পুরস্কারকে গ্রহণযোগ্য মনে হবে কি না, তা p, R এবং C—তিনটির ওপর নির্ভর করে। ফলে “কিছু পাওয়ার সুযোগ আছে” কথাটি নিজে সিদ্ধান্ত নয়। নির্ভরযোগ্য ফলবিন্যাস, সম্ভাবনা এবং ব্যয়ের মূল্যায়ন সিদ্ধান্তের অপরিহার্য অংশ।
বীমার সঙ্গে ধর্মীয় বাজির তুলনাতেও এই পার্থক্য থাকে। একটি বাস্তব বীমার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার তথ্য, চুক্তির নির্দিষ্টতা, অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য ও দাবি আদায়ের উপায় বিচার করা যায়। পরকালের বিমূর্ত প্রতিশ্রুতিতে সেই যাচাইযোগ্যতাই অনুপস্থিত থাকে। বীমা অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করে বলে যেকোনো অজানা দাবিকে বীমা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত এবং প্রমাণহীন প্রতিশ্রুতিতে আত্মসমর্পণ একই সিদ্ধান্তপদ্ধতি নয়।
অসীম লাভ বনাম সীমিত সম্ভাবনা
গাণিতিক সমস্যা: অসীম গণিতে ব্যবহারযোগ্য। এই বাজির সমস্যা হলো ভিন্ন কৌশল একই ∞ মান পায়। আবার একই কৌশলে ধনাত্মক সম্ভাবনায় অসীম লাভ ও অসীম ক্ষতি থাকলে প্রত্যাশিত মান হয় অনির্ধারিত। শুধু ∞ চিহ্ন সিদ্ধান্তের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে না।
বাজির প্রধান গাণিতিক চাল হলো R-এর জায়গায় অসীম বসানো। সাধারণ বর্ধিত বাস্তব সংখ্যার নিয়মে p একটি ধনাত্মক সসীম সংখ্যা হলে p × ∞ = ∞। এই হিসাবের বিরুদ্ধে “অসীম গণিতে ব্যবহার করা যায় না” বলা ভুল। সমস্যা হলো, এই নির্দিষ্ট ব্যবহার সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় পার্থক্য মুছে দেয়। সম্ভাবনা ১/২, ১/১০০০ বা আরও ক্ষুদ্র ধনাত্মক সংখ্যা হলেও প্রতিবার ফল অসীম হয়। ফলে দাবিটি সত্য হওয়ার সম্ভাবনার পক্ষে প্রমাণ যত দুর্বলই হোক, ছকের অন্য শর্তগুলো গ্রহণ করে নিলে একই অনন্ত ফল পাওয়া যায়। বাস্তব সিদ্ধান্তের জন্য যে পার্থক্য দরকার, হিসাবটি তা সংরক্ষণ করে না।
অসীমকাল ধরে চলা কোনো সুখের মূল্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসীম উপযোগিতা নয়। সময়ের দৈর্ঘ্য এবং ব্যক্তির মূল্যায়ন আলাদা ধারণা। কোনো গাণিতিক মডেলে প্রতি পর্যায়ের মূল্য কমতে থাকলে অসীম সংখ্যক পর্যায়ের যোগফল সসীম হতে পারে: ১ + ১/২ + ১/৪ + … = ২। “অনন্তকাল” থেকে “অসীম মোট উপযোগিতা” সিদ্ধান্তে যাওয়ার জন্য সময়ের দৈর্ঘ্য ও মূল্যের মধ্যে অতিরিক্ত সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হয়। সেই নিয়মেরও যুক্তি চাই।
অ্যালান হায়েকের বিশ্লেষণে আরও সরাসরি একটি সমস্যা পাওয়া যায়। যদি অর্ধেক সুযোগে বিশ্বাসের পথ এবং অর্ধেক সুযোগে অবিশ্বাসের পথ নেওয়ার মিশ্র কৌশল ধরা হয়, এবং অবিশ্বাসের ফলগুলো সসীম রাখা হয়, তবে ওই কৌশলের প্রত্যাশিত উপযোগিতাও অসীম: (১/২ × ∞) + (১/২ × সসীম মান) = ∞। একই নিয়মে বিশ্বাসের পথ নেওয়ার যেকোনো ধনাত্মক সুযোগ রাখা কৌশলও অসীম মান পায়। একমাত্র অবিলম্বে বিশ্বাসই বাধ্যতামূলক—এমন সিদ্ধান্ত তাই শুধু অসীম প্রত্যাশিত মান থেকে পাওয়া যায় না। [7]
That is, the ‘coin toss’ strategy has the same expectation as outright wagering for God.
বাংলা অনুবাদ: অর্থাৎ মুদ্রা নিক্ষেপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশলটির প্রত্যাশিত মান সরাসরি ঈশ্বরের পক্ষে বাজি ধরার প্রত্যাশিত মানের সমান।
এই আপত্তি বাজিটিতে ব্যবহৃত নিয়মের ভেতর থেকেই আসে। সিদ্ধান্তের তুলনায় শুধু ∞ চিহ্ন ব্যবহার করলে ভিন্ন সম্ভাবনাসম্পন্ন কৌশল একই ঘরে চলে যায়। তাদের মধ্যে বেছে নিতে নতুন তুলনানীতি দরকার। সেই নতুন নীতির বৈধতা শুধু আগের অসীম পুরস্কারের ঘোষণায় প্রতিষ্ঠিত হয় না। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাকে গাণিতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখানোর জন্য অতিরিক্ত সিদ্ধান্তনিয়মও প্রমাণ করতে হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী মুক্তিতত্ত্ব: একাধিক অসীম ফলের সমস্যা
মূল সমস্যা: প্রতিদ্বন্দ্বী মুক্তিতত্ত্বে একই কাজের পুরস্কার ও শাস্তি বদলে যায়। একটি দাবির অনন্ত পুরস্কার অন্য দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে না।
একাধিক বিকল্প অসীম লাভ পেলে তুলনা আটকে যায়; একই বিকল্পে অসীম লাভ ও অসীম ক্ষতি এলে সাধারণ প্রত্যাশিত মান অনির্ধারিত হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি একান্ত মুক্তিতত্ত্বের সাধারণ রূপ ধরা যাক। H₁ সত্য হলে প্রথম পথের অনুসারী পুরস্কৃত এবং H₂ সত্য হলে দ্বিতীয় পথের অনুসারী পুরস্কৃত। উভয় পথের পুরস্কার অসীম এবং উভয় অনুমানের সম্ভাবনা ধনাত্মক রাখলে দুই পথই অসীম প্রত্যাশিত লাভ পেতে পারে। তখন শুধু “যার প্রত্যাশিত লাভ বেশি” নিয়ম দিয়ে একটি পথকে বিজয়ী ঘোষণা করা যায় না। সম্ভাবনা সমান না হলেও এই সমস্যা ঘটে, কারণ ধনাত্মক সসীম সম্ভাবনায় অসীম গুণ করলে উভয় হিসাবেই অসীম থাকে।
এর সঙ্গে ভুল পথে যাওয়ার অসীম শাস্তি যোগ করলে সমস্যা অন্য রূপ নেয়। একটি কাজের পক্ষে ধনাত্মক সম্ভাবনায় +∞ এবং বিপক্ষে ধনাত্মক সম্ভাবনায় −∞ থাকলে সাধারণ প্রত্যাশিত মান নির্ধারিত থাকে না। ∞ − ∞-কে শূন্য বলা যায় না, পছন্দমতো ধনাত্মকও বলা যায় না। অতএব পরস্পরবিরোধী অনন্ত হুমকিকে একসঙ্গে অনুমোদন করে তারপর বাজিটিকে “ঝুঁকিমুক্ত” বলা গাণিতিকভাবে অসঙ্গত। বাজির ধর্মীয় উপসংহার পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিগুলোকে আগেই বাদ দিতে হয়; কিন্তু কেন বাদ দেওয়া হবে, সেই প্রমাণ বাজিটি সরবরাহ করে না।
এখানে সমাধান হিসেবে শুধু সবচেয়ে বড় পুরস্কার বেছে নেওয়াও চলে না। পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ানো প্রায় বিনা খরচের একটি ভাষাগত কাজ; পুরস্কার দেওয়ার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা সম্পূর্ণ আলাদা কাজ। যে সিদ্ধান্তপদ্ধতি দাবির আকার দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি ঢাকে, সেটিকে যে কেউ আরও বিরাট প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের দিকে ঘোরাতে পারে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে কোনো ছাঁকনি না থাকা একটি সিদ্ধান্তপদ্ধতির মৌলিক ব্যর্থতা।
সত্য কি শুধুই লাভজনক হতে হবে?
সত্যের মানদণ্ড ও বিশ্বাসের সুবিধা একই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। “এই ওষুধ আমাকে সুস্থ করবে” এবং “এ কথা বিশ্বাস করলে আমার ভয় কমবে”—দুটি পৃথক দাবি। দ্বিতীয়টি সত্য হলেও প্রথমটি মিথ্যা হতে পারে। বিশ্বাসের স্বস্তি বিশ্বাসটির বিষয়বস্তুর সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে না। একইভাবে কোনো ধারণা মেনে নিলে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, মানসিক স্থিরতা বা ব্যক্তিগত আশা পাওয়া গেলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। উপকার একটি মানসিক বা সামাজিক ফল; সত্য হলো দাবি ও বাস্তবতার সম্পর্ক।
এই পার্থক্য ধর্মীয় দাবিতে সরিয়ে দিলে নীতিটি সর্বত্র প্রয়োগের পথ খুলে যায়। কোনো গুজব রাজনৈতিক সুবিধা দেয়, কোনো কুসংস্কার ভয় কমায়, কোনো প্রচার মানুষকে সংঘবদ্ধ করে—এসব ফলের কারণে গুজব বা কুসংস্কার সত্য হয় না। পছন্দের ধর্মীয় দাবির ক্ষেত্রে সুবিধাকে প্রমাণের জায়গায় বসানো এবং অন্য দাবিতে প্রমাণ চাওয়া একই মানদণ্ডের প্রয়োগ নয়। যে নিয়ম সত্য অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হবে, তাকে নিজের অপছন্দের দাবিদারের হাতেও ব্যবহারযোগ্য ধরে পরীক্ষা করতে হয়।
উইলিয়াম কিংডন ক্লিফোর্ড The Ethics of Belief-এ এক জাহাজমালিকের উদাহরণ দেন, যিনি সন্দেহজনক জাহাজ পরীক্ষা না করিয়ে নিজের সন্দেহ দমন করে নিরাপত্তায় বিশ্বাস তৈরি করেন। তাঁর নিশ্চিন্ততা যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রমাণ হয় না। জাহাজটি ঘটনাচক্রে নিরাপদে ফিরলেও অনুসন্ধান এড়িয়ে বিশ্বাস গড়ে তোলার পদ্ধতিটি সঠিক হয়ে যায় না। এই উদাহরণে দায়িত্ব শুধু বিশ্বাসের আন্তরিকতা নিয়ে নয়; বিশ্বাসটি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং অন্যের জীবনে তার প্রভাব কী, তা নিয়েও। [8]
it is wrong always, everywhere, and for anyone, to believe anything upon insufficient evidence.
বাংলা অনুবাদ: অপর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো কিছু বিশ্বাস করা সর্বদা, সর্বত্র এবং যে কারও জন্য ভুল।
পুরস্কারদাতার চরিত্র: ক্ষমতা ন্যায়পরায়ণতার প্রমাণ নয়
বাজির পুরস্কারের ঘরে আসলে ঈশ্বরের চরিত্র সম্পর্কে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আগে থেকেই বসানো থাকে। ধরে নেওয়া হয়, তিনি নির্দিষ্ট মতবাদে বিশ্বাস চান, সেই বিশ্বাসের জন্য পুরস্কার দেবেন, ভুল বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের জন্য বঞ্চিত করবেন এবং ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর দিকে যাওয়াও মুক্তির উপযুক্ত পথ। “ঈশ্বর থাকতে পারেন” কথাটি এই সিদ্ধান্তগুলোর একটিও নিজে প্রমাণ করে না। বিচারকের অস্তিত্বের প্রশ্ন এবং তাঁর বিচারনীতি কী, তা জানার প্রশ্ন পৃথক। প্রথমটির অজ্ঞাত সম্ভাবনা দিয়ে দ্বিতীয়টির নির্দিষ্ট উত্তর তৈরি করা যায় না।
কোনো সত্তার ক্ষমতা আর তাঁর নৈতিক গুণও পৃথক। অত্যাচারীর হুমকি সত্য হলে আত্মরক্ষার জন্য তার সঙ্গে কৌশলগত আচরণ করা লাগতে পারে; কিন্তু হুমকি থেকে তার ন্যায়পরায়ণতা পাওয়া যায় না। একইভাবে অনন্ত শাস্তির ক্ষমতা মেনে নিলেও সেই শাস্তি ন্যায়সংগত বা শাস্তিদাতা উপাসনাযোগ্য হয়ে যান না। ভয় থেকে আনুগত্যের সম্ভাব্য কারণ পাওয়া যায়; শ্রদ্ধার নৈতিক যোগ্যতা পাওয়া যায় না। ধর্মীয় বাজি যখন ভয়কে ঈশ্বরের মহত্ত্বের পক্ষে ব্যবহার করে, তখন এই দুই সম্পর্ক গুলিয়ে ফেলে।
জন স্টুয়ার্ট মিল An Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy-এর সপ্তম অধ্যায়ে ঈশ্বরের মঙ্গলময়তা বিচার করতে গিয়ে এই ধারণাগত সীমা টেনেছেন: মানুষের ক্ষেত্রে যে অর্থে কাউকে ভালো বলা হয়, ঈশ্বরের ক্ষেত্রে শব্দটির অর্থ সম্পূর্ণ উল্টে দিলে “ঈশ্বর ভালো” বক্তব্যটির পরিচিত নৈতিক অর্থ থাকে না। অসীম ক্ষমতার দাবি কোনো কাজকে নিষ্ঠুরতা থেকে মঙ্গলকর্মে রূপান্তর করে না। যে নৈতিক গুণের জন্য কোনো সত্তাকে শ্রদ্ধা দাবি করা হচ্ছে, তাঁর কথিত আচরণে সেই গুণের পরিচয়ও থাকতে হবে। [9]
I will call no being good, who is not what I mean when I apply that epithet to my fellow-creatures
বাংলা অনুবাদ: অন্য মানুষের ক্ষেত্রে ভালো বিশেষণটি যে অর্থে ব্যবহার করি, কোনো সত্তা সেই অর্থে ভালো না হলে আমি তাঁকে ভালো বলব না।
সৎ অনুসন্ধানের পরে কোনো দাবিকে অপর্যাপ্ত মনে করা অপরাধ হিসেবে ধরে নিলে অনুসন্ধানের সততাকেই শাস্তিযোগ্য করা হয়। সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় আনুগত্য নৈতিক বিবেচনার স্থলাভিষিক্ত হয়। আবার ব্যক্তির যুক্তিবোধকে মূল্যবান বলা হলে সেই যুক্তিবোধ দিয়ে ধর্মীয় দাবির দুর্বলতা পরীক্ষা করার স্বাধীনতাও অর্থবহ হতে হয়। আগে থেকে নির্ধারিত সিদ্ধান্তে পৌঁছালেই কেবল চিন্তার স্বাধীনতা অনুমোদন করা স্বাধীনতা নয়; সেটি অনুমোদিত উত্তরের প্রশিক্ষণ। প্যাসকেলের বাজি এই নৈতিক সমস্যার উত্তর না দিয়ে ভুল উত্তরের কথিত মূল্য বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্বাস কি ইচ্ছামতো বেছে নেওয়া যায়?
কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করা, তার পক্ষে আচরণ করা এবং বক্তব্যটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এক জিনিস নয়। একজন ব্যক্তি পুরস্কারের জন্য বলতে পারেন যে তাঁর সামনে থাকা সাদা কাগজ কালো; সেই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর চোখে কাগজটি কালো বলে সত্যিকার প্রত্যয় জন্মায় না। বার্নার্ড উইলিয়ামস Deciding to Believe-এ বিশ্বাসের সত্যমুখী বৈশিষ্ট্য দিয়ে এই সমস্যা বিশ্লেষণ করেছেন। একটি বক্তব্য বিশ্বাস করার মধ্যে সেটিকে সত্য বলে গ্রহণের দাবি থাকে। “এটি সত্য বলে মনে হয়” এবং “এটি বিশ্বাস করলে লাভ হবে”—এই দুই কারণের মানসিক ভূমিকা তাই আলাদা। [10]
If I could acquire a belief at will, I could acquire it whether it was true or not
বাংলা অনুবাদ: আমি যদি ইচ্ছামতো কোনো বিশ্বাস অর্জন করতে পারতাম, তাহলে সেটি সত্য হোক বা না হোক, উভয় ক্ষেত্রেই অর্জন করতে পারতাম।
প্যাসকেল নিজেও বিশ্বাস করতে না পারার আপত্তিটি উত্থাপন করেছেন এবং অভ্যাসের পথ দিয়েছেন: বিশ্বাসীদের মতো আচরণ, পবিত্র জল গ্রহণ এবং উপাসনায় অংশ নেওয়া। এই প্রস্তাব থেকে সমালোচনার বিষয় আরও স্পষ্ট হয়। এখানে অনুসন্ধানের ফল অনুযায়ী বিশ্বাস সংশোধনের বদলে আগে বিশ্বাসের লক্ষ্য স্থির করে সেই মানসিক অবস্থা তৈরির আয়োজন করা হচ্ছে। পুনরাবৃত্তি ও সামাজিক পরিবেশ কোনো বিশ্বাস দৃঢ় করতে পারে; কিন্তু বিশ্বাস দৃঢ় হওয়ার ঘটনা তার বিষয়বস্তুর সত্যতা পরীক্ষা নয়। পরস্পরবিরোধী মতবাদের অনুসারীরাও নিজস্ব আচার ও পরিবেশে দৃঢ় প্রত্যয় গড়ে তুলতে পারেন। সুতরাং একই মানসিক উৎপাদনপদ্ধতি দিয়ে বিরোধী বক্তব্য সত্য হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
প্রমাণের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং কোনো সিদ্ধান্তে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা বিপরীত দিকে কাজ করতে পারে। প্রথম পদ্ধতিতে অস্বস্তিকর প্রমাণ এলেও সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ থাকে; দ্বিতীয়টিতে নির্বাচিত বিশ্বাস ধরে রাখাই লক্ষ্য। অভ্যাসের পরে বিশ্বাস আন্তরিক হয়ে উঠলেও তার উৎপত্তির এই সমস্যা দূর হয় না। আন্তরিকতা মানসিক অবস্থার বৈশিষ্ট্য, সত্যতা বক্তব্যের বৈশিষ্ট্য। একজন মানুষ নিজের ভুল সম্পর্কে সম্পূর্ণ আন্তরিক হতে পারেন। বাজি এই দুইয়ের মধ্যে যে সেতু দাবি করে, অভ্যাস তা নির্মাণ করে না।
আবার কোনো ব্যক্তি ভেতরে সন্দিহান থেকে বাইরে ধর্মীয় পরিচয় গ্রহণ করলে তাঁর কৌশল এবং বিশ্বাসের দাবির মধ্যে ফারাক থাকে। সর্বজ্ঞ ঈশ্বরের ধারণা গ্রহণ করলে সেই ফারাক গোপন করার সুযোগ নেই। কৌশলগত আনুগত্য, আন্তরিক বিশ্বাস এবং নৈতিক চরিত্রের মধ্যে কোনটিকে পুরস্কার দেওয়া হবে, তা তখন আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। বাজির হিসাব এই পুরস্কারনীতি জানতে না পারলেও এমনভাবে কাজ করে, যেন লাভের আশায় ধর্মের পথে যাওয়া পুরস্কারের জন্য যথেষ্ট। এটিই তার অপ্রমাণিত শর্ত।
পুরস্কার পাওয়া বা শাস্তি এড়ানোর জন্য ধর্মীয় পরিচয় গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সন্দেহ থাকা অবস্থায় আচার শুরু করে অভ্যাসের মাধ্যমে বিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা করা হলো।
সর্বজ্ঞ ঈশ্বর ধরে নিলে ঘোষণা, অন্তরের প্রত্যয় ও লাভের উদ্দেশ্যের পার্থক্য তাঁর কাছে অজানা থাকে না।
যৌক্তিক সমস্যা: ঘোষণা বা অভ্যাস সত্যের প্রমাণ নয়। কোন উদ্দেশ্য ও কোন ধরনের প্রত্যয় পুরস্কার পাবে, তা প্রতিষ্ঠা না করে কৌশলগত আনুগত্যকে মুক্তির নিশ্চয়তা বলা যায় না।
অনন্ত শাস্তি, আনুপাতিকতা এবং নৈতিক বিচার
সসীম কর্মের জন্য অনন্ত শাস্তির প্রধান নৈতিক সমস্যা হলো দায় ও শাস্তির আনুপাতিকতা। বিচার বলতে যদি অপরাধ, দায়, উদ্দেশ্য এবং ক্ষতির সঙ্গে শাস্তির যুক্তিসংগত সম্পর্ক বোঝায়, তবে শাস্তির মাত্রা সেই বিবেচনার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে হবে। সৎ সন্দেহ, ভুল সিদ্ধান্ত বা অপর্যাপ্ত প্রমাণে বিশ্বাস না করার জন্য কখনো শেষ হবে না এমন যন্ত্রণা নির্ধারণ করলে অপরাধের নির্দিষ্ট মাত্রা শাস্তির সীমা নির্ধারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। সীমিত জীবনের প্রত্যেক দায়কে একই অনন্ত পরিণতির অধীন করা ন্যায়বিচারের বদলে আনুগত্যের চূড়ান্ত শর্ত প্রতিষ্ঠা করে।
অনন্ত যন্ত্রণার শাস্তিতে সংশোধনের সুযোগও অর্থহীন হয়ে পড়ে। শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি কখনো পরিবর্তিত হয়ে মুক্ত হতে না পারলে সেই শাস্তি পুনর্বাসনের উপায় নয়। মৃত্যুর পরে শেষ বিচার হয়ে গেছে এবং শাস্তি আর শেষ হবে না—এই বিন্যাসে শাস্তিভোগীর সংশোধন তার অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটায় না। তখন শাস্তির কাজ ভয় প্রদর্শন ও অনন্ত প্রতিশোধে এসে ঠেকে। এমন ব্যবস্থা মঙ্গলময় বা করুণাময় বলে দাবি করতে হলে এই নিরন্তর নিষ্ঠুরতার নৈতিক ব্যাখ্যা দিতে হয়; “ঈশ্বরের অধিকার” বলে একই দাবির পুনরাবৃত্তি ব্যাখ্যা নয়।
অসীম পুরস্কার ও অসীম শাস্তির নৈতিক প্রশ্নও এক নয়। কাউকে তার প্রাপ্যের চেয়ে বেশি সুখ দেওয়া আর কাউকে শেষহীন যন্ত্রণা দেওয়া একই ধরনের কাজ নয়। শাস্তির ক্ষেত্রে ক্ষতি, জবরদস্তি ও অপরাধের সঙ্গে আনুপাতিকতার প্রশ্ন সরাসরি উপস্থিত। তাই এই দুইকে কেবল একই ∞ চিহ্নের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক সংস্করণ ধরে নৈতিক পার্থক্য মুছে ফেলা যায় না। বাজির ছকে ব্যক্তির নিরাপত্তা হিসাব করা হয়; ছকের শাস্তিব্যবস্থা ন্যায়সংগত কি না, তার উত্তর সেখান থেকে আসে না।
জীবন, কাজ, উদ্দেশ্য ও দায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে; শাস্তির মূল্যায়নে সেসব পার্থক্য প্রাসঙ্গিক।
অনন্ত নরকের বিন্যাসে শাস্তির সমাপ্তি নেই; সংশোধিত হলেও শাস্তিভোগীর মুক্তি নেই।
নৈতিক অসামঞ্জস্য: শাস্তি অপরাধ, দায় ও ক্ষতির সঙ্গে ন্যায্য সম্পর্কে থাকতে হয়। সৎ সন্দেহ বা সসীম ভুলের জন্য অনন্ত যন্ত্রণা নির্ধারণ করলে আনুপাতিকতা ও করুণার দাবি লঙ্ঘিত হয়।
সম্ভাব্যতা তত্ত্বের ভুল প্রয়োগ
দুইটি সম্ভাব্য উত্তর থাকলেই তাদের সম্ভাবনা অর্ধেক–অর্ধেক হয় না। “এই টিকিট লটারি জিতবে অথবা জিতবে না”—এটি সম্পূর্ণ দ্বিবিভাজন, কিন্তু টিকিটটির জেতার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ নয়। একইভাবে “একজন ব্যক্তির ব্যাংকে এক কোটি টাকা আছে অথবা নেই” বললেই উভয় উত্তর সমান ওজন পায় না। প্যাসকেলের আলোচনায় সমান সম্ভাবনার একটি জুয়ার উদাহরণ আছে; পরে তাঁর যুক্তি অসীম লাভের কারণে আরও ছোট ধনাত্মক সম্ভাবনাকেও ব্যবহার করে। অসীম লাভের হিসাব ৫০ শতাংশের ওপর নির্ভরশীল নয়; যেকোনো ধনাত্মক সসীম সম্ভাবনায় একই ফল পাওয়া যায়। এর ভিত্তিগত ত্রুটি হলো, কোনো নির্দিষ্ট মুক্তিতত্ত্বের জন্য অর্থবহ সম্ভাবনা এবং তার পুরস্কারের নিয়ম কোথা থেকে আসছে, তা প্রতিষ্ঠিত না থাকা।
অজ্ঞতা থেকে সমান সম্ভাবনা তৈরি করার আরেকটি সমস্যা হলো, নামের বিভাজন বদলালেই অঙ্ক বদলে যায়। প্রথমে “ঈশ্বর আছেন” ও “নেই”—দুই ঘরে সমান ওজন দিলে প্রথমটির মান ১/২। পরে প্রথম ঘরটিকে অনেক ধর্মীয় উপবিভাগে ভেঙে প্রতিটি নতুন ঘর এবং “নেই” ঘরকে আবার সমান ওজন দিলে ঈশ্বর থাকার মোট সম্ভাবনা একেবারে অন্য হয়ে যায়। বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন প্রমাণ ছাড়াই শুধু তালিকা সাজিয়ে সম্ভাবনা বদলে যাচ্ছে। এমন পদ্ধতি যুক্তিসংগত সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে পারে না।
সম্ভাবনা ব্যবহারের জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য অবস্থার বাস্তব অস্তিত্ব আগে প্রমাণ করতে হয়—এ দাবিও সঠিক নয়। সম্ভাবনা অনিশ্চিত দাবিকে বিচার করারই একটি পদ্ধতি। কিন্তু নির্দিষ্ট সংখ্যার যৌক্তিক ভিত্তি থাকতে হয়। বেইজীয় ভাষায় প্রমাণ E-এর পরে অনুমান H-এর সম্ভাবনা P(H | E), যা পূর্ববর্তী সম্ভাবনা এবং ওই অনুমানের অধীনে প্রমাণটি পাওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত। “খণ্ডন হয়নি”, “কল্পনা করা যায়” এবং “ধনাত্মক একটি সংখ্যা বসালাম”—এগুলো একই যুক্তি নয়। অপ্রমাণিত বক্তব্যকে খণ্ডন করতে না পারার দায় থেকে বক্তার পছন্দমতো সম্ভাবনা মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আসে না।
ধর্মীয় দাবির বিশ্লেষণে আরও নির্দিষ্টভাবে পুরো অনুমানটি দেখতে হয়: স্রষ্টা আছেন, তিনি ব্যক্তিসত্তা, মানুষের বিশ্বাস মূল্যায়ন করেন, পরকাল আছে, অমুক ধর্ম নির্ভুলভাবে তাঁর কথা জানিয়েছে এবং বাজি ধরে সেই ধর্মে প্রবেশ করলে মুক্তি হবে। এই দীর্ঘ শৃঙ্খলকে একটি G অক্ষর দিয়ে লিখলেই তার পৃথক শর্তগুলো অদৃশ্য হয় না। স্বাধীনতার অনুমান ছাড়াই সম্ভাবনার গুণনিয়মে পরের প্রতিটি শর্ত আগেরগুলো সত্য হওয়ার অধীনে মূল্যায়িত হয়। শুধু একটি প্রাথমিক স্রষ্টার ধারণার গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে সম্পূর্ণ ধর্মীয় ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না।
বর্তমান প্রমাণ অপর্যাপ্ত হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা অনুসন্ধানের একটি বাস্তব অবস্থান। তা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সব বিপরীত দাবি নিশ্চিতভাবে সত্য ঘোষণা করা নয়। অনুসন্ধান চালানো, নতুন তথ্য পাওয়া এবং ভুল ধরা পড়লে মত বদলানোও সম্ভব কাজ। বাজির ছক এই গতিশীল বিকল্পকে বাদ দিয়ে অবিলম্বে মতবাদ গ্রহণ কিংবা চূড়ান্ত অবিশ্বাসের দুই স্থির পরিচয়ে মানুষকে আটকে রাখে। সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অকাল নিশ্চয়তার তুলনায় সংশোধনযোগ্য সিদ্ধান্তের মূল্য আছে, কারণ সেখানে ভুল আবিষ্কার করা ও সংশোধন করার পথ খোলা থাকে।
বিশ্বাসের উদ্দেশ্য ও নৈতিকতা
পুরস্কারের জন্য কাজ করা এবং কাজটির নৈতিক যথার্থতার জন্য কাজ করা একই প্রেরণা নয়। কান্ট Groundwork of the Metaphysics of Morals-এ প্রত্যাশিত ফলের আকাঙ্ক্ষা এবং নীতির কারণে কাজ করার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। প্যাসকেলীয় বাজিতে ধর্ম গ্রহণের প্রকাশ্য কারণ ব্যক্তির নিজের লাভ; সত্য, ন্যায় কিংবা অন্যের কল্যাণ সেই হিসাবের চূড়ান্ত মানদণ্ড হয় না। লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো আচরণ উৎপাদন করা সম্ভব হলেও সেই উৎপাদন আচরণটির নৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে না। [11]
Thus the moral worth of an action does not lie in the effect expected from it
বাংলা অনুবাদ: সুতরাং কোনো কাজের নৈতিক মূল্য তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত ফলের মধ্যে নিহিত নয়।
নির্দিষ্ট আলোচ্য কৌশলটি হলো, ব্যক্তির কাছে সত্যের প্রমাণ না দিয়ে তাঁর নিরাপত্তা ও লাভের আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বাসের কারণ করা। একজন মানুষ অনন্ত পুরস্কার পাওয়ার আশায় দান করলে দানের বাস্তব উপকার থাকতে পারে; কিন্তু পুরস্কারের হিসাব দানটির সত্যমুখিতা বা নিঃস্বার্থতা প্রমাণ করে না। একইভাবে ধর্মীয় আনুগত্যের সামাজিক ফল এবং তার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত দাবির প্রমাণগত মান আলাদা থাকে।
প্রমাণ যাচাইয়ের দায়িত্বেরও সামাজিক মূল্য আছে। যে মানসিক নিয়মে নিজের পছন্দের দাবিকে প্রমাণ ছাড়াই ছাড় দেওয়া হয়, সেই নিয়ম জনস্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক সম্পর্কেও দাবি যাচাইয়ের ক্ষমতা ক্ষয় করতে পারে। ক্লিফোর্ডের আলোচনার সামাজিক দিক এখানেই প্রাসঙ্গিক: মানুষ নিজের বিশ্বাস শুধু নিজের ভেতরে রাখেন না; তা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, অন্যকে শিক্ষা দেন এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম তৈরি করেন। বিশ্বাসের স্বস্তির খরচ অন্যের ওপর চাপলে সেটিকে নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ বলা যায় না।
নৈতিক স্বাধীনতার দাবি হলো, মানুষ কারণ বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং প্রয়োজন হলে প্রিয় বিশ্বাসকেও সংশোধন করবেন। অনন্ত শাস্তির ভয় দেখিয়ে একটি অনুমোদিত সিদ্ধান্ত আদায় করা এই স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। হুমকির কার্যকারিতা হুমকিদাতার বক্তব্যের সত্যতা নয়, আনুগত্য আদায়ের ক্ষমতা দেখায়। প্যাসকেলের বাজি যখন সত্য অনুসন্ধানের জায়গায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হিসাব বসায়, তখন বিশ্বাসের প্রমাণগত মান এবং আনুগত্যের মনস্তাত্ত্বিক কারণকে এক করে ফেলে।
উপসংহার
প্যাসকেলের বাজির আকর্ষণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিতে: বিশ্বাস করলে সব পাওয়া যেতে পারে, অবিশ্বাস করলে সব হারাতে হতে পারে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিজেই প্রতিষ্ঠিত নয়। কোন মুক্তিতত্ত্ব সত্য, তার সম্ভাবনা কত, বিশ্বাসের কোন ধরন পুরস্কার পাবে এবং ভুল ধর্মের পরিণতি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর বাজিতে আগেই বসিয়ে দেওয়া হয়। তারপর সেই উত্তরগুলো দিয়ে বিশ্বাসের বাধ্যবাধকতা ঘোষণা করা হয়। যে দাবি যাচাই করার কথা, তাকেই হিসাবের নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করা প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।
বহুধর্মীয়তার আপত্তি দেখায়, অনন্ত পুরস্কারের ভাষা কোনো একটি ধর্মকে এককভাবে নির্বাচন করতে পারে না। অসীম প্রত্যাশিত লাভের সমস্যা দেখায়, বাজির ব্যবহৃত মান ভিন্ন সিদ্ধান্তকে একই ফল দিতে পারে; পরস্পরবিরোধী অসীম ক্ষতি যোগ হলে প্রত্যাশিত মান অনির্ধারিতও হতে পারে। বিশ্বাসের সত্যমুখী প্রকৃতি দেখায়, লাভের জন্য কথা বলা বা আচার করা থেকে কোনো বক্তব্যের সত্যতা আসে না। আর নৈতিক বিচারে ক্ষমতার সামনে আত্মরক্ষার কৌশল এবং ন্যায়পরায়ণ সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা ভিন্ন সম্পর্ক। এই ত্রুটিগুলো অঙ্ক বড় করে বা ভয় বাড়িয়ে মেরামত করা যায় না।
সত্য অনুসন্ধানে সিদ্ধান্তের মান নির্ভর করে প্রমাণের শক্তি, যুক্তির বৈধতা এবং ভুল সংশোধনের সুযোগের ওপর। কোনো ধর্মীয় দাবিকে সত্য বলে গ্রহণ করার জন্য তার পক্ষে প্রাসঙ্গিক কারণ থাকতে হবে; শুধু অস্বীকারের শাস্তি ভয়ংকর বলে তাকে সত্য মানা যায় না। আর কোনো দাবির পক্ষে সেই কারণ না থাকলে “সতর্কতার জন্য বিশ্বাস করো” কথাটি প্রমাণের ঘাটতি পূরণ করে না। এটি অনুসন্ধানের বদলে আনুগত্য কেনার প্রস্তাব। অসীম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও অসীম শাস্তির হুমকির নিচে মানুষের যুক্তিবোধকে সমর্পণ করার কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক বাধ্যবাধকতা নেই।
ভিডিওঃ প্যাসকেলের বাজিকে বাজিমাত
আসুন শেষে একটি ভিডিও দেখে নিই,
আরও একটি ভিডিও,
তথ্যসূত্রঃ
- Pensées-এর সমালোচনামূলক সংস্করণ: Port-Royal সংস্করণের প্রকাশ-ইতিহাস ↩︎
- Blaise Pascal, Pensées: বাজির মূল ফরাসি পাঠ; ব্রুনশভিক ২৩৩ ↩︎
- William James, The Will to Believe, প্রথম প্রবন্ধ, দ্বিতীয় অংশ, পৃষ্ঠা ৫–৭ ↩︎
- Pierre-Simon Laplace, A Philosophical Essay on Probabilities, তৃতীয় অধ্যায়, দ্বিতীয় নীতি ↩︎
- Sunan Abi Dawud 4597: ৭৩ দলের বর্ণনা ↩︎
- হাদীস সম্ভার, হাদিস ১৫২৮ ↩︎
- Alan Hájek, Pascal’s Wager, Stanford Encyclopedia of Philosophy, ৫.৪: মিশ্র কৌশলের আপত্তি ↩︎
- W. K. Clifford, The Ethics of Belief, ১৮৭৭, প্রথম অংশ ↩︎
- John Stuart Mill, An Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy, সপ্তম অধ্যায়, মূল পাঠের পৃষ্ঠা ১০৩ ↩︎
- Bernard Williams, Deciding to Believe, Problems of the Self, ১৯৭৩, পৃষ্ঠা ১৩৬–১৫১; বিশেষত ১৪৮ ↩︎
- Immanuel Kant, Fundamental Principles of the Metaphysic of Morals, ১৭৮৫, প্রথম অংশ ↩︎


যৌক্তিক প্রবন্ধ।