জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

ইসলামে দাসী অদল বদল করে ভোগঃ চক্রাকারে ধর্ষিত হওয়ার নির্লজ্জ ইসলামী বিধান

প্রকাশিত: এপ্রিল 27, 2024লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন24 মিনিট পড়া

ভূমিকা

ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে দাসীদের নিছক ‘পণ্য’ বা ‘সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করার যে আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তার অন্যতম কুৎসিত দিক হলো দাসী বিনিময় বা উপহার হিসেবে হস্তান্তরের বৈধতা। যখন একজন বন্দিনী নারীকে ‘গনিমতের মাল’ বা যুদ্ধের লুণ্ঠিত সম্পদ হিসেবে বণ্টন করা হয়, তখন থেকেই তার মানবিক সত্তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং সে মালিকের নিরঙ্কুশ যৌন ভোগের বস্তুতে পরিণত হয়। এই প্রাতিষ্ঠানিক ভোগবাদী ব্যবস্থার চরম রূপ পরিলক্ষিত হয় যখন মালিক তার এই ‘সম্পত্তি’ অন্য কোনো পুরুষের কাছে বিক্রি, বাজারে তুলে বিক্রি বা উপহার হিসেবে হস্তান্তর করে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথেই সেই নারীর শরীরের ওপর যৌন অধিকারও নতুন মালিকের কাছে আইনত স্থানান্তরিত হয়। এটি মূলত একটি সুশৃঙ্খল এবং ধর্মীয় আইনের মোড়কে আবৃত ধারাবাহিক যৌন দাসত্ব, যেখানে একজন নারীকে পর্যায়ক্রমে একাধিক পুরুষের লালসার শিকার হতে হয়। ‘হিবা’ বা উপহারের এই বিধানটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে সাধারণ সৌজন্য বা লেনদেন মনে হলেও, এর অন্তর্নিহিত বাস্তবতা হলো যুদ্ধের ময়দান থেকে ধরে আনা নারীদের মুসলিম বাহিনীর যোদ্ধাদের মধ্যে চক্রাকারে ভোগের সুযোগ করে দেওয়া। ফলে, একজন নারী কোনো একজন মালিকের দ্বারা যথেষ্ট পরিমাণ ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরেও তার মুক্তি মিলত না। সেই মালিক তাকে অন্য কোন বন্ধু বা ভাতৃসম প্রতিবেশীকে উপহার দিয়ে দিলে, পরবর্তী মালিকের কাছে গিয়েও তাকে পুনরায় একই শারীরিক লাঞ্ছনার মুখোমুখি হতে বাধ্য হতো। এভাবে ঘুরে ঘুরে এক একজন নারীকে প্রায় সকল সাহাবীর হ্যাটেই ধর্ষোনের শিকার হতে হতো, যেহেতু মুহাম্মদের সাহাবীরা প্রায়শই আজল করতো। এই আইনি বৈধতা মূলত নারীর চরম অবমাননা এবং পদ্ধতিগত গণ-ধর্ষণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশেষ করে যখন হাদিস ও ফিকহ গ্রন্থগুলোতে দেখা যায় যে, দাসী হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘ইস্তিবরা’ বা জরায়ু মুক্ত হওয়ার (এক মাস মাসিক চক্র পর্যবেক্ষণ) শর্ত দেওয়া হয়েছে, তখন এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে এই হস্তান্তরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল যৌন সংসর্গ। অর্থাৎ, আগের মালিকের শুক্রাণু থেকে গর্ভধারণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই নতুন মালিক তাকে ভোগের লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। যুক্তির নিরিখে দেখলে, এটি কোনো সভ্য বিধান হতে পারে না; বরং এটি বন্দিনী নারীদের একটি পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে পুরুষতান্ত্রিক লালসা চরিতার্থ করার একটি ধর্মীয় হাতিয়ার। ইবনে জায়েদের বর্ণনা থেকে যেমনটি জানা যায় যে, জাহেলি যুগে পত্নী বিনিময়ের প্রথা থাকলেও ইসলামে দাসী বিনিময়কে বৈধ রাখা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে দাসীদের ক্ষেত্রে কোনো মানবিক মর্যাদা বা অধিকারের বালাই ছিল না।


দাসী উপহার, বিনিময় বা বদলের ইসলামিক বৈধতা

ইসলামের দাসী বিক্রি বা উপহার হিসেবে দান করার বিধানটি খালি চোখে খুব সাধারণ মনে হলেও, আসলে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে ভয়াবহ কুৎসিত এক আইনি মারপ্যাঁচ। এই বিধানটি কাজে লাগিয়ে গনিমতের মাল হিসেবে প্রাপ্ত একটি মেয়েকে সাহাবীগণ সবাই মিলে মিশে ভোগ করতে পারবে, অদল বদল করে। এর অর্থ হচ্ছে, একটি মেয়ে মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হলে তাকে সবাই মিলে ভোগ না করা পর্যন্ত তার কোন নিস্তার নেই। একজন ভোগের পরে অন্যজনকে দিয়ে দিবে, তার কাছ থেকে আবার আরেকজন দাসীকে নিয়ে আসবে। এভাবে নিত্য নতুন দাসী তাদের বিছানায় সবসময়ই থাকবে। আসুন এই সম্পর্কিত একটি হাদিস পড়ে নিই [1] –

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৫১/ হিবা ও এর ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ৫১/৩৬. প্রচলিত অর্থে যদি কেউ বলে এই দাসীটি তোমার খিদমাতের জন্য দিলাম, এটি বৈধ।
وَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ هَذِهِ عَارِيَّةٌ وَإِنْ قَالَ كَسَوْتُكَ هَذَا الثَّوْبَ فَهُوَ هِبَةٌ
কোন কোন ফিকাহ্ বিশারদ বলেন, এটি আরিয়ত হবে। তবে কেউ যদি বলে, এ কাপড়টি তোমাকে পরিধান করতে দিলাম, তবে তা হিবা হবে।
২৬৩৫. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণিত গ্রন্থ হতে বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ) সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করলেন। লোকেরা সারার উদ্দেশে হাজিরাকে হাদিয়া দিলেন। তিনি ফিরে এসে (ইবরাহীমকে) বললেন, আপনি কি জেনেছেন, কাফিরকে আল্লাহ পরাস্ত করেছেন এবং সেবার জন্য একটি বালিকা দান করেছেন।
ইবনু সীরীন (রহ.) বলেন, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর (সেই কাফির) সারার উদ্দেশে হাজিরাকে দান করল। (২২১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৪৫৯)
بَابُ إِذَا قَالَ أَخْدَمْتُكَ هَذِهِ الْجَارِيَةَ عَلَى مَا يَتَعَارَفُ النَّاسُ فَهُوَ جَائِزٌ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ هَاجَرَ إِبْرَاهِيْمُ بِسَارَةَ فَأَعْطَوْهَا آجَرَ فَرَجَعَتْ فَقَالَتْ أَشَعَرْتَ أَنَّ اللهَ كَبَتَ الْكَافِرَ وَأَخْدَمَ وَلِيْدَةً وَقَالَ ابْنُ سِيْرِيْنَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْدَمَهَا هَاجَرَ.
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)

এবারে আসুন তাফসীরে মাযহারী থেকে এই সম্পর্কে একটি দলিল দেখে নিই, [2] –

ইবনে জায়েদ বলেছেন, মূর্খতার যুগে পত্নী বিনিময়ের কুপ্রথার প্রচলন ছিলো। আলোচ্য আয়াতের মাধ্যমে সেই প্রথাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্রীতদাসী বিনিময় দোষের নয়।

ভোগ

এবারে আসুন বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে প্রভাবশালী ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইট islamweb.net এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পড়ি, [3]

المصنف
ابن أبي شيبة – عبد الله بن محمد بن أبي شيبة
جزء
5
صفحة
33
إظهار / إخفاء التشكيل بحث في الكتاب
2662 ( 29 ) الرجل يريد أن يشتري الجارية فيمسها
( 1 ) حدثنا جرير عن منصور عن مجاهد قال : كنت مع ابن عمر أمشي في السوق فإذا نحن بناس من النخاسين قد اجتمعوا على جارية يقلبونها ، فلما رأوا ابن عمر تنحوا وقالوا : ابن عمر قد جاء ، فدنا منها ابن عمر فلمس شيئا من جسدها وقال : أين أصحاب هذه الجارية ، إنما هي سلعة .
( 2 ) نا علي بن مسهر عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر أنه كان إذا أراد أن يشتري الجارية وضع يده على أليتيها أو بين فخذها وربما كشف عن ساقيها [ ص: 33 ]
( 3 ) حدثنا وكيع عن سفيان عن عبيد المكتب عن إبراهيم عن رجل من أصحاب عبد الله أنه قال : ما أبالي مسستها أو مسست هذا الحائط .
( 4 ) حدثنا وكيع عن عبد الله بن حبيب عن أبي جعفر أنه ساوم بجارية فوضع يده على ثدييها وصدرها .
( 5 ) حدثنا ابن مبارك عن الأوزاعي قال : سمعت عطاء وسئل عن الجواري اللاتي يبعن بمكة فكره النظر إليهن إلا لمن يريد أن يشتري .
( 6 ) حدثنا أزهر السمان عن ابن عون قال : كان محمد إذا بعث إليه بالجارية ينظر إليها كشف بين ساقيها وذراعيها .
( 7 ) حدثنا هشيم عن مغيرة عن إبراهيم أن صديقا له أسود كتب إليه أن يشتري له جارية ، ففعل فعاب شيئا من ساق الجارية ، قال : فبلغ ذلك الأسود من قوله فقال : ما أحب أني نظرت إلى ساقيها ولا إلى كذا وكذا .
( 8 ) حدثنا وكيع عن حماد بن سلمة عن حكيم الأثرم عن أبي تميمة عن أبي موسى أنه خطبهم فقال : لا أعلم رجلا اشترى جارية فنظر إلى ما دون الجارية وإلى ما فوق الركبة إلا عاقبته .

ভোগ 1

বাংলা অনুবাদঃ মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌
অনুচ্ছেদ নং: ২৬৬২ (২৯) — কোনো ব্যক্তি যখন দাসী কেনার ইচ্ছা করে তখন তাকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে
১. মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি ইবনে ওমরের সাথে বাজারের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ আমরা দেখলাম যে একদল দাস ব্যবসায়ী (নখাসিন) একটি দাসীকে ঘিরে ধরেছে এবং তাকে উল্টেপাল্টে পরীক্ষা করছে (যাচাই করছে)। যখন তারা ইবনে ওমরকে দেখল, তারা সরে দাঁড়াল এবং বলল, “ইবনে ওমর এসেছেন।” তখন ইবনে ওমর সেই দাসীটির নিকটবর্তী হলেন এবং তার শরীরের কোনো একটি অংশ স্পর্শ করলেন। এরপর তিনি বললেন, “এই দাসীটির মালিকরা কোথায়? এটি তো কেবলই একটি পণ্য (Commodity)।” ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২০ )
২. আলী ইবনে মুসহির থেকে বর্ণিত (নাফে’র সূত্রে): ইবনে ওমর যখন কোনো দাসী কেনার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তার নিতম্বের ওপর অথবা তার দুই উরুর মাঝখানে হাত রাখতেন এবং মাঝেমধ্যে তার দুই পায়ের নলা (Shins) উন্মোচিত করতেন। ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২১ )
৩. ওকি’ থেকে বর্ণিত (ইব্রাহিমের সূত্রে): আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর একজন সঙ্গী বলতেন, “আমি তাকে (দাসীকে) স্পর্শ করলাম নাকি এই দেয়ালটি স্পর্শ করলাম—তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।” ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২২ )
৪. ওকি’ থেকে বর্ণিত (আবু জাফরের সূত্রে): আবু জাফর এক দাসীর দামাদামি করার সময় তার স্তনদ্বয় এবং বুকের ওপর হাত রাখলেন। ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২৩ )
৫. ইবনে মুবারক থেকে বর্ণিত (আতা’র সূত্রে): মক্কায় বিক্রয়যোগ্য দাসীদের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যারা কেনার ইচ্ছা রাখে না তাদের জন্য এদের দিকে তাকানো অপছন্দনীয় (অর্থাৎ ক্রেতার জন্য তাকানো বৈধ)। ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২৪ )
৬. আজহার আস-সাম্মান থেকে বর্ণিত (ইবনে আউনের সূত্রে): মুহাম্মদ (ইবনে সীরীন)-এর কাছে যখন কোনো দাসী পাঠানো হতো, তখন তিনি তাকে দেখার সময় তার দুই পায়ের নলা এবং দুই বাহু উন্মুক্ত করে দেখতেন। ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২৫ )
৭. হুশাইম থেকে বর্ণিত (ইব্রাহিমের সূত্রে): জনৈক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি ইব্রাহিমকে একটি দাসী কিনে দেওয়ার জন্য লিখেছিলেন। তিনি তা করলেন (দাসী কিনলেন) এবং সেই দাসীর পায়ের নলার কোনো একটি ত্রুটির সমালোচনা করলেন। যখন সেই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিটির কাছে এই কথা পৌঁছাল, তিনি বললেন, “আমি চাই না যে আমি তার পায়ের নলার দিকে কিংবা অমুক অমুক (অঙ্গের) দিকে তাকাই।” ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২৬ )
৮. ওকি’ থেকে বর্ণিত (আবু মুসা আল-আশআরীর সূত্রে): আবু মুসা (রা.) লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, “আমি যদি জানতে পারি যে কোনো ব্যক্তি দাসী কেনার সময় তার নাভির নিচের অংশ বা হাঁটুর ওপরের অংশের দিকে তাকিয়েছে, তবে আমি তাকে শাস্তি দেব।” ( মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ্‌, হাদিস নং: ২৬৬২৭ )
সারসংক্ষেপ: এই বর্ণনাগুলো স্পষ্ট করে যে, তৎকালে দাসী কেনা-বেচার সময় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গ (বুক, নিতম্ব, উরু) ক্রেতা বা পরীক্ষক হিসেবে সরাসরি স্পর্শ করা বা উন্মুক্ত করে দেখার প্রচলন ছিল। ইবনে ওমরের মতো ব্যক্তিদের উক্তি থেকে পরিষ্কার হয় যে, দাসীদের মানুষের পরিবর্তে নিছক ক্রয়যোগ্য ‘পণ্য’ বা ‘সামগ্রী’ হিসেবে গণ্য করা হতো।


মালিকানা হস্তান্তর ও যৌন অধিকারঃ পিতা থেকে পুত্রের হাতে দাসী

ইসলামি আইনি কাঠামোতে দাসীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অধিকার সরাসরি তার মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিল। যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে বণ্টন, ক্রয় কিংবা উপহারের মাধ্যমে একজন নারী নতুন মালিকের হাতে গেলে তার ওপর যৌন অধিকারও নতুন মালিকের কাছে চলে যেত। এই কারণে দাসী হস্তান্তরের পর ‘ইস্তিবরা’ বা ঋতুচক্রের মাধ্যমে গর্ভমুক্ত হওয়া নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছিল; আগের মালিকের সন্তান গর্ভে আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন মালিক তার সঙ্গে সহবাস করতে পারত [4]। দাসী উপহার দেওয়ার সঙ্গে যৌন অধিকার হস্তান্তরের সম্পর্কটি সাহাবী ও তাবেঈদের পিতা-পুত্রের মধ্যে দাসী দেওয়া-নেওয়ার বর্ণনাগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইবন আবদুল বারের আল-ইস্তিযকার-এ একই অধ্যায়ে উমর ইবনুল খাত্তাব, সালিম ইবন আবদুল্লাহ, আবু নাহশাল ইবনুল আসওয়াদ এবং মারওয়ান ইবনুল হাকামের পরিবারে পিতা থেকে পুত্রের কাছে দাসী হস্তান্তরের একাধিক ঘটনা সংরক্ষিত হয়েছে। উমর নিজের ছেলেকে একটি দাসী উপহার দিয়ে বলেন, তার কাছে না যেতে, কারণ তিনি আগে তাকে উন্মুক্ত অবস্থায় দেখেছিলেন। সালিম ইবন আবদুল্লাহও নিজের ছেলেকে দাসী দিয়ে একইভাবে তার কাছে যেতে নিষেধ করেন, কারণ তিনি নিজে সেই দাসীকে কামনা করেছিলেন। মারওয়ানও ছেলেকে দাসী দিয়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আবু নাহশালের প্রশ্নটি পুরো ব্যবস্থার যৌন চরিত্র একেবারে সরাসরি প্রকাশ করে দেয়। নিজের দাসীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর্যায়ে গিয়ে ঋতুস্রাবের কারণে থেমে যাওয়ার পর তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করেন—দাসীটিকে তিনি কি নিজের ছেলেকে দিয়ে দেবেন, যাতে ছেলে তার সঙ্গে সহবাস করতে পারে? [5]

[ ص: 257 ] ( 15 ) باب النهي عن أن يصيب الرجل أمة كانت لأبيه
1097 – مالك ; أنه بلغه أن عمر بن الخطاب وهب لابنه جارية ، فقال : لا تمسها . فإني قد كشفتها .
مالك ، عن عبد الرحمن بن المجبر ; أنه قال : وهب سالم بن عبد الله لابنه جارية . فقال : لا تقربها فإني قد أردتها ، فلم أنشط إليها .
1098 – وعن يحيى بن سعيد ; أن أبا نهشل بن الأسود ، قال للقاسم بن محمد : إني رأيت جارية لي منكشفا عنها ، وهي في القمر . فجلست منها مجلس الرجل من امرأته . فقالت : إني حائض . فقمت . فلم أقربها بعد . أفأهبها لابني يطؤها ؟ فنهاه القاسم عن ذلك .
1099 – مالك ، عن إبراهيم بن أبي عبلة ، عن عبد الملك بن مروان ; أنه وهب لصاحب له جارية . ثم سأله عنها . فقال : قد هممت أن أهبها لابني ، فيفعل بها كذا وكذا . فقال عبد الملك : لمروان كان أورع منك . وهب لابنه جارية . ثم قال : لا تقربها فإني قد رأيت ساقها منكشفة .
24340 – قال أبو عمر : أعلى ما في هذا المعنى ما أخبرنا به أبو محمد عبد الله بن محمد بن عبد المؤمن ، قال : حدثني عبد المؤمن بن محمد بن عثمان بن ثابت ، قال : حدثني إسماعيل بن إسحاق ، قال : حدثني علي بن المديني ، قال : حدثني ابن عيينة ، قال : حدثني يزيد بن يزيد بن جابر ، عن مكحول أن عمر جرد جارية ، فنظر إليها ، ثم نهى بعض ولده أن يقربها .
24341 – وذكر عبد الرزاق ، عن ابن عيينة ، عن يحيى بن سعيد ، عن القاسم بن محمد ، عن عبد الله وعبد الرحمن ابني عامر بن ربيعة أن عامر بن ربيعة – وكان بدريا – نهاهما عن جارية له أن يقرباها .
قالا : وما علمناه كان منه إليها شيء إلا أن يكون اطلع منها مطلعا كره أن يطلعه أحدهما .
24342 – وعن الثوري ، عن ابن أبي ليلى ، عن الحكم أن مسروقا قال في جارية له : إني لم أصب منها إلا ما حرم على ولدي من اللمس ، والنظر .
24343 – وعن الثوري ، عن معمر عن عاصم بن سليمان ، عن الشعبي ، عن مسروق أنه قال لبنيه في أمة له : قد نظرت منها منظرا ، وقعدت منها مقعدا ، لا أحب أن تقعدوا منها مقعدي ، ولا تنظروا منظري .
24344 – وعن مجاهد ، وإبراهيم ، والقاسم : التحريم باللمس ، والقبل ، ووضع اليد على الفرج ، والنظر إليه .
24345 – وعن معمر ، عن قتادة ، والحسن قالا : لا يحرمها إلا الوطء .
24346 – قال أبو عمر : قد اختلف عن قتادة في ذلك .
24347 – ولم يختلف عن الحسن فيما علمت ، والله أعلم .
24348 – ذكر ابن أبي شيبة ، قال : حدثني محمد بن يزيد ، عن أبي العلاء ، وقتادة ، وأبي هاشم ، قالا في الرجل يقبل أم امرأته أو ابنتها ، حرمت عليه امرأته .
24349 – قال : حدثني عبد الأعلى ، عن هشام ، عن الحسن في الرجل يقبل المرأة ، أو يلمسها ، أو يأتيها في غير فرجها إن شاء تزوجها ، وتزوج أمها إن شاء ، وإن شاء ابنتها .
24350 – واتفق مالك ، والثوري ، وأبو حنيفة ، والأوزاعي ، والليث : أن اللمس لشهوة يحرم الأم والابنة ، فيحرمها على الأب ، والابن .
24351 – وهو أحد قولي الشافعي ، وهو الأكثر عنه .
24352 – وله قول آخر أنه لا يحرمها إلا الوطء .
24353 – وبه قال داود .
24354 – واختاره المزني من قولي الشافعي .
24355 – واختلفوا في النظر :
24356 – فقال مالك : إذا نظر إلى شعر جاريته ، أو صدرها ، أو ساقها ، أو شيء من محاسنها تلذذا حرمت عليه أمها .
24357 – وقال ابن أبي ليلى ، والشافعي : لا تحرم بالنظر حتى يلمس .
24358 – وقال أبو حنيفة ، وأصحابه : إذا نظر في الفرج بشهوة كان بمنزلة اللمس بشهوة .
24359 – وقال الثوري : إذا نظر إلى فرجها متعمدا ، ولم يذكر الشهوة .
24360 – قال أبو عمر : حرم الله – عز وجل – على الآباء حلائل أبنائهم ، وحرم على الأبناء ما نكح آباؤهم من النساء ، وحرم أمهات النساء والربائب المدخول بأمهاتهن .
24361 – وأجمعوا أن ذلك كله أريد به الوطء مع العقد في الزوجات .
24362 – واختلفوا في العقد دون الوطء وفي الوطء دون العقد على ما قد ذكرناه ، والحمد لله .
24363 – وملك اليمين في ذلك كله تبع للنكاح .
24364 – وجاء عن جمهور السلف أنهم كرهوا من اللمس ، والقبل ، والكشف ، ونحو ذلك ما كرهوا من الوطء ورعا ، ودينا ، ومن اتقى الشبهات فقد استبرأ لدينه ، ومن رعى حول الحمى لم يؤمن عليه أن يرتع فيه .
বাংলা অনুবাদ:
[পৃষ্ঠা ২৫৭] (১৫) পিতার মালিকানাধীন ছিল এমন দাসীর সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ হওয়ার অধ্যায়
১০৯৭ — মালিকের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তার ছেলেকে একটি দাসী উপহার দিয়েছিলেন। এরপর তিনি বললেন, “তাকে স্পর্শ করো না। কারণ আমি তাকে উন্মুক্ত করেছি।”
মালিক, আবদুর রহমান ইবনুল মুজাব্বারের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: সালিম ইবন আবদুল্লাহ তার ছেলেকে একটি দাসী উপহার দিয়েছিলেন। এরপর বললেন, “তার কাছে যেও না। কারণ আমি তাকে কামনা করেছিলাম, কিন্তু পরে তার প্রতি আর আগ্রহ অনুভব করিনি।”
১০৯৮ — ইয়াহইয়া ইবন সাঈদের সূত্রে বর্ণিত, আবু নাহশাল ইবনুল আসওয়াদ কাসিম ইবন মুহাম্মদকে বলেছিলেন: “আমি আমার এক দাসীকে চাঁদের আলোতে উন্মুক্ত অবস্থায় দেখেছিলাম। এরপর আমি তার সঙ্গে এমন অবস্থানে বসেছিলাম, যেভাবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে বসে। তখন সে বলল, ‘আমার ঋতুস্রাব চলছে।’ তাই আমি উঠে গেলাম। এরপর আর তার কাছে যাইনি। এখন আমি কি তাকে আমার ছেলেকে উপহার দিয়ে দেব, যাতে সে তার সঙ্গে সহবাস করে?” কাসিম তাকে তা করতে নিষেধ করলেন।
১০৯৯ — মালিক, ইবরাহিম ইবন আবি আবলার সূত্রে, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার এক সঙ্গীকে একটি দাসী উপহার দিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই ব্যক্তিকে দাসীটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। লোকটি বলল, “আমি ভেবেছিলাম তাকে আমার ছেলেকে উপহার দিয়ে দেব, যাতে সে তার সঙ্গে অমুক অমুক কাজ করে।” তখন আবদুল মালিক বললেন, “মারওয়ান তোমার চেয়ে বেশি ধর্মীয় সতর্কতা অবলম্বনকারী ছিলেন। তিনি তার ছেলেকে একটি দাসী উপহার দিয়েছিলেন। এরপর বলেছিলেন, ‘তার কাছে যেও না। কারণ আমি তার পায়ের নলা উন্মুক্ত অবস্থায় দেখেছি।’”
২৪৩৪০ — আবু উমর বলেন: এই বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী যে বর্ণনাটি রয়েছে, তা আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল মুমিন। তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আবদুল মুমিন ইবন মুহাম্মদ ইবন উসমান ইবন সাবিত; তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন ইসহাক; তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল মাদিনি; তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইবন উয়াইনা; তিনি বলেন, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন ইয়াজিদ ইবন জাবির, মাকহুলের সূত্রে: উমর একটি দাসীর পোশাক খুলে তাকে দেখেছিলেন। এরপর তিনি তার সন্তানদের একজনকে সেই দাসীর কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
২৪৩৪১ — আবদুর রাজ্জাক, ইবন উয়াইনার সূত্রে, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, কাসিম ইবন মুহাম্মদের সূত্রে, আমির ইবন রাবিয়ার দুই ছেলে আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, আমির ইবন রাবিয়া—যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন—তার একটি দাসীর কাছে যেতে তাদের দুজনকে নিষেধ করেছিলেন।
তারা দুজন বলেন: “আমরা জানতাম না যে তিনি তার সঙ্গে কিছু করেছিলেন। তবে সম্ভবত তিনি তার দেহের এমন কিছু দেখেছিলেন, যা তিনি চাননি আমাদের দুজনের কেউ দেখুক।”
২৪৩৪২ — সাওরি, ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি হাকামের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মাসরুক তার একটি দাসীর বিষয়ে বলেছিলেন: “আমি তার সঙ্গে এমন কিছু করিনি; কেবল এমন স্পর্শ ও দৃষ্টি করেছি, যার কারণে সে আমার সন্তানদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।”
২৪৩৪৩ — সাওরি, মামারের সূত্রে, আসিম ইবন সুলাইমান থেকে, তিনি শাবির সূত্রে, মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার একটি দাসীর ব্যাপারে নিজের ছেলেদের বলেছিলেন: “আমি তার দেহের এমন কিছু দেখেছি এবং তার সঙ্গে এমন অবস্থানে বসেছি যে, তোমরা তার সঙ্গে আমার মতো অবস্থানে বসো—এটি আমি পছন্দ করি না; এবং আমি যেভাবে তাকে দেখেছি, তোমরাও সেভাবে তাকে দেখো—এটিও আমি পছন্দ করি না।”
২৪৩৪৪ — মুজাহিদ, ইবরাহিম এবং কাসিমের মতে: স্পর্শ করা, চুম্বন করা, যৌনাঙ্গের ওপর হাত রাখা এবং যৌনাঙ্গের দিকে তাকানোর মাধ্যমে সেই নারী নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
২৪৩৪৫ — মামার, কাতাদা এবং হাসানের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেছেন: “সহবাস ছাড়া অন্য কিছু তাকে নিষিদ্ধ করে না।”
২৪৩৪৬ — আবু উমর বলেন: এই বিষয়ে কাতাদা থেকে ভিন্ন ভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে।
২৪৩৪৭ — আর যতদূর আমি জানি, হাসানের মতের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ বর্ণিত হয়নি। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
২৪৩৪৮ — ইবন আবি শাইবা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবন ইয়াজিদ আমাকে আবুল আলা, কাতাদা এবং আবু হাশিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর মা অথবা তার স্ত্রীর মেয়েকে চুম্বন করে, তাহলে তার স্ত্রী তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
২৪৩৪৯ — তিনি বলেন, আবদুল আলা আমাকে হিশামের সূত্রে, হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে চুম্বন করে, স্পর্শ করে অথবা তার যৌনাঙ্গে সহবাস না করে অন্যভাবে তার সঙ্গে যৌন ঘনিষ্ঠতায় লিপ্ত হয়, তাহলে ইচ্ছা করলে সে সেই নারীকে বিয়ে করতে পারে; চাইলে তার মাকে বিয়ে করতে পারে; আবার চাইলে তার মেয়েকেও বিয়ে করতে পারে।
২৪৩৫০ — মালিক, সাওরি, আবু হানিফা, আওযাঈ এবং লাইস এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কামনাসহ স্পর্শ করলে সেই নারীর মা ও মেয়ে নিষিদ্ধ হয়ে যায়; একইভাবে সেই নারী পিতা ও পুত্রের জন্যও নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
২৪৩৫১ — এটি শাফেয়ির দুটি মতের একটি, এবং তার কাছ থেকে অধিকাংশ বর্ণনাই এই মতের পক্ষে এসেছে।
২৪৩৫২ — শাফেয়ির আরেকটি মত হলো, সহবাস ছাড়া অন্য কিছু তাকে নিষিদ্ধ করে না।
২৪৩৫৩ — দাউদও এই মত গ্রহণ করেছেন।
২৪৩৫৪ — শাফেয়ির দুটি মতের মধ্যে মুযানিও এই মতটি গ্রহণ করেছেন।
২৪৩৫৫ — তারা তাকানোর বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
২৪৩৫৬ — মালিক বলেন: কেউ যদি নিজের দাসীর চুল, বুক, পায়ের নলা অথবা তার সৌন্দর্যের কোনো অংশ যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে দেখে, তাহলে সেই দাসীর মা তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
২৪৩৫৭ — ইবন আবি লায়লা ও শাফেয়ি বলেন, শুধু দেখার কারণে নিষিদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না সে তাকে স্পর্শ করে।
২৪৩৫৮ — আবু হানিফা ও তার অনুসারীরা বলেন, কেউ যদি কামনাসহ তার যৌনাঙ্গের দিকে তাকায়, তাহলে সেটি কামনাসহ স্পর্শ করার সমতুল্য।
২৪৩৫৯ — সাওরি বলেন, যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে তার যৌনাঙ্গের দিকে তাকায়। এখানে তিনি কামনার শর্ত উল্লেখ করেননি।
২৪৩৬০ — আবু উমর বলেন: মহান আল্লাহ পিতাদের জন্য তাদের পুত্রদের স্ত্রীদের নিষিদ্ধ করেছেন; পুত্রদের জন্য তাদের পিতারা যেসব নারীকে বিয়ে করেছেন তাদের নিষিদ্ধ করেছেন; নারীদের মায়েদের এবং সেই নারীদের মেয়েদেরও নিষিদ্ধ করেছেন, যাদের মায়েদের সঙ্গে সহবাস সম্পন্ন হয়েছে।
২৪৩৬১ — তারা একমত হয়েছেন যে, বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞায় বিবাহচুক্তির সঙ্গে সহবাসকেও বোঝানো হয়েছে।
২৪৩৬২ — তবে সহবাস ছাড়া শুধু বিবাহচুক্তি এবং বিবাহচুক্তি ছাড়া শুধু সহবাসের ক্ষেত্রে তারা মতভেদ করেছেন, যেমনটি আগে আলোচনা করা হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
২৪৩৬৩ — এসব ক্ষেত্রেই ‘ডান হাতের মালিকানা’ অর্থাৎ দাসী-মালিকানার বিধান বিবাহের বিধানের অনুসারী।
২৪৩৬৪ — পূর্ববর্তী আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ধর্মীয় সতর্কতা ও সংযমের কারণে তারা স্পর্শ, চুম্বন, দেহ উন্মুক্ত করা এবং এজাতীয় বিষয়কে একইভাবে পরিহার করতেন, যেভাবে সহবাসকে পরিহার করতেন। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে, সে নিজের ধর্মকে নিরাপদ রাখে; আর যে ব্যক্তি সংরক্ষিত এলাকার সীমানার আশপাশে পশু চরায়, সে যে সেই সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে ঢুকে পড়বে না—এ নিশ্চয়তা থাকে না।

এই বর্ণনায় দাসীকে ছেলেকে ‘উপহার দেওয়া’ এবং ছেলের সেই দাসীর সঙ্গে ‘সহবাস করা’ একই প্রশ্নের দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অর্থাৎ দাসী হস্তান্তরের যৌন উদ্দেশ্য এখানে কোনো অনুমান নয়; বর্ণনাতেই সরাসরি বলা হয়েছে। উমর, সালিম ও মারওয়ানের ক্ষেত্রে “তার কাছে যেও না” বা “তাকে স্পর্শ করো না” ধরনের বিশেষ নিষেধও একই বাস্তবতা প্রকাশ করে। দাসী ছেলেকে দেওয়ার পর যৌন সম্পর্ক যদি স্বাভাবিকভাবে বৈধ ও প্রত্যাশিত না হতো, তাহলে পিতাকে আলাদাভাবে ছেলেকে তার সঙ্গে সহবাস না করার নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজনই হতো না। নিষেধটি দাসী হস্তান্তরের বিরুদ্ধে নয়; নিষেধটি নির্দিষ্ট দাসীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিরুদ্ধে, কারণ পিতা আগে তার শরীর যৌন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেখেছেন বা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ইমাম যারকানীর শরহুয যারকানী আলা মুওয়াত্তা মালিক-এ আবু নাহশালের এই ঘটনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিষয়টি আরও সরাসরি ভাষায় বলা হয়েছে। কাসিম যে কাজটি নিষেধ করেছিলেন, যারকানী সেটিকে স্পষ্টভাবেই “সহবাসের উদ্দেশ্যে দাসী উপহার দেওয়া” বলে চিহ্নিত করেন; একই সঙ্গে বলেন, সহবাস ছাড়া কেবল দাসী উপহার দেওয়া বৈধ, যেমন উমর ও সালিম করেছিলেন [6]।

شرح الزرقاني على موطأ الإمام مالك
الزرقاني – محمد بن عبد الباقي بن يوسف الزرقاني المصري الأزهري
جزء 3، صفحة 227
عن مالك عن يحيى بن سعيد أن أبا نهشل بن الأسود قال للقاسم بن محمد: إني رأيت جارية لي منكشفا عنها وهي في القمر، فجلست منها مجلس الرجل من امرأته، فقالت: إني حائض، فقمت فلم أقربها بعد، أفأهبها لابني يطؤها؟ فنهاه القاسم عن ذلك.
وقال الزرقاني في الشرح: قوله: «فجلست منها مجلس الرجل من امرأته» بين وركيها لأنكحها.
وقوله: «أفأهبها لابني يطؤها؟ فنهاه القاسم عن ذلك» أي هبتها للوطء، أما الهبة بلا وطء فيجوز كما فعل عمر وسالم.
বাংলা অনুবাদ:
ইমাম মালিকের মুওয়াত্তার ওপর যারকানীর ব্যাখ্যা
যারকানী — মুহাম্মদ ইবন আবদুল বাকী ইবন ইউসুফ আল-যারকানী আল-মিসরী আল-আযহারী
খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২৭
মালিক, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবু নাহশাল ইবনুল আসওয়াদ কাসিম ইবন মুহাম্মদকে বলেছিলেন: “আমি আমার এক দাসীকে চাঁদের আলোতে উন্মুক্ত অবস্থায় দেখেছিলাম। এরপর আমি তার সঙ্গে এমন অবস্থানে বসেছিলাম, যেভাবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে বসে। তখন সে বলল, ‘আমার ঋতুস্রাব চলছে।’ ফলে আমি উঠে গেলাম এবং এরপর আর তার কাছে যাইনি। এখন আমি কি তাকে আমার ছেলেকে উপহার দিয়ে দেব, যাতে সে তার সঙ্গে সহবাস করে?” কাসিম তাকে তা করতে নিষেধ করলেন।
যারকানী ব্যাখ্যায় বলেন: “আমি তার সঙ্গে এমন অবস্থানে বসেছিলাম, যেভাবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে বসে”—অর্থাৎ আমি তার দুই নিতম্বের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছিলাম, তার সঙ্গে সহবাস করার জন্য।
আর “আমি কি তাকে আমার ছেলেকে উপহার দিয়ে দেব, যাতে সে তার সঙ্গে সহবাস করে? কাসিম তাকে তা করতে নিষেধ করলেন”—এর ব্যাখ্যায় যারকানী বলেন: অর্থাৎ, তাকে সহবাসের উদ্দেশ্যে উপহার দেওয়া। তবে সহবাস ছাড়া শুধু উপহার দেওয়া বৈধ, যেমনটি উমর ও সালিম করেছিলেন।

এই ব্যাখ্যাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে পরবর্তী কোনো আধুনিক সমালোচকের ব্যাখ্যা নয়, ইসলামি ফিকহের নিজস্ব ভাষাতেই “দাসীকে সহবাসের জন্য উপহার দেওয়া”—এই ধারণাটি স্পষ্টভাবে উপস্থিত। কাজেই উমর বা সালিমের “সহবাস করো না” নির্দেশকে দাসী হস্তান্তরের যৌন চরিত্রের বিপরীত প্রমাণ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। বরং এই বিশেষ নিষেধগুলোই দেখায়, নিষেধ না থাকলে নতুন মালিক হিসেবে ছেলের জন্য সেই দাসীর সঙ্গে সহবাস করাই ছিল আইনি কাঠামোর স্বাভাবিক পরিণতি। আবু নাহশালের প্রশ্নে সেই প্রচলিত ধারণা একেবারে সরাসরি ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে।


পুত্রের দাসীর সঙ্গে পিতার সহবাস ও সন্তান জন্ম

পিতা-পুত্রের মধ্যে দাসীর শরীরকে যৌন সম্পত্তি হিসেবে দেখার কাঠামো শুধু পিতা থেকে পুত্রকে দাসী উপহার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। হানাফি ফিকহে উল্টো ঘটনাও বিস্তারিতভাবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে—পুত্রের মালিকানাধীন দাসীর সঙ্গে পিতা সহবাস করে সন্তান জন্ম দিলে কী হবে। নসবুর রায়াহ-তে বিধানটি অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় এসেছে: পিতা যদি পুত্রের দাসীর সঙ্গে সহবাস করে এবং সেই দাসী তার সন্তান জন্ম দেয়, তাহলে সেই নারী পিতার ‘উম্মে ওয়ালাদ’ হয়ে যাবে; পিতাকে পুত্রের কাছে দাসীর মূল্য পরিশোধ করতে হবে, কিন্তু কোনো মহর দিতে হবে না [7]।

وَمَنْ وَطِئَ أَمَةَ ابْنِهِ فَوَلَدَتْ مِنْهُ فَهِيَ أُمُّ وَلَدٍ لَهُ وَعَلَيْهِ قِيمَتُهَا وَلَا مَهْرَ عَلَيْهِ.
বাংলা অনুবাদ: যে ব্যক্তি তার পুত্রের দাসীর সঙ্গে সহবাস করল এবং সেই দাসী তার সন্তান জন্ম দিল, সে তার উম্মে ওয়ালাদ হয়ে যাবে; তাকে দাসীটির মূল্য দিতে হবে, কিন্তু কোনো মহর দিতে হবে না।

এই বিধানের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পিতার নিজের বংশধারা রক্ষার প্রয়োজনের কারণে পুত্রের দাসীর ওপর তার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে এবং সন্তান উৎপাদনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে সেই মালিকানা কার্যকর হয়েছে ধরে নিয়ে সহবাসকে মালিকানার অধীনস্থ করা হবে। বাদায়েউস সানায়ে-তে এই নীতিকে আরও বিস্তৃত করে বলা হয়েছে, পুত্রের দাসী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পিতা সন্তানটিকে নিজের বলে দাবি করলে পুত্র সেই দাবি স্বীকার করুক বা অস্বীকার করুক—পিতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে [8]।

فَادَّعَاهُ أَبُوهُ ثَبَتَ نَسَبُهُ مِنْهُ … صَدَّقَهُ الِابْنُ فِي ذَلِكَ أَوْ كَذَّبَهُ.
বাংলা অনুবাদ: পিতা সন্তানটিকে নিজের বলে দাবি করলে তার বংশ পিতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে—পুত্র তাকে স্বীকার করুক অথবা অস্বীকার করুক।

এই বিধানগুলো দাসীকে একজন স্বাধীন যৌন সত্তা হিসেবে নয়, বরং পিতা-পুত্রের সম্পত্তিগত সম্পর্কের ভেতরে স্থানান্তরযোগ্য নারীদেহ হিসেবে বিবেচনার নগ্ন উদাহরণ। একদিকে পিতা নিজের দাসী ছেলেকে উপহার দিতে পারছে এবং প্রয়োজন হলে আলাদাভাবে বলে দিচ্ছে যে ছেলে তার সঙ্গে সহবাস করবে কি করবে না; অন্যদিকে পুত্রের মালিকানাধীন দাসীর সঙ্গে পিতা সহবাস করে সন্তান জন্ম দিলেও ফিকহ সেই ঘটনার নিষ্পত্তি করছে নারীটির সম্মতি দিয়ে নয়, বরং কার মালিকানা কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাকে তার মূল্য দিতে হবে এবং সন্তান কার বংশে যুক্ত হবে—এসব সম্পত্তিগত প্রশ্নের মাধ্যমে। নারীটির নিজের শরীরের ওপর সিদ্ধান্তের অধিকার এই সমগ্র আইনি কাঠামোয় অনুপস্থিত। পিতা-পুত্রের মধ্যে দাসী হস্তান্তর এবং একই দাসীর যৌন ব্যবহারের ওপর আলাদা নির্দেশনা দেওয়ার এই বর্ণনাগুলো তাই দাসী উপহারকে নিছক গৃহকর্মী দেওয়া বা সাধারণ সম্পত্তি হস্তান্তর হিসেবে দেখার সুযোগ ধ্বংস করে দেয়; যৌন অধিকার ছিল এই মালিকানার প্রত্যক্ষ ও স্বীকৃত অংশ।


পণ্য হিসেবে নারীর দেহঃ আজল ও বাজারজাতকরণের অমানবিক সমীকরণ

আজল বা বীর্যপাতের আগে লিঙ্গ অপসারনের প্রথাটি এই দাসী অদল-বদল বা বিক্রয় প্রক্রিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাহাবীদের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, তারা যখন গনিমতের মাল হিসেবে দাসী পেতেন [9], তখন তাদের প্রথম চিন্তাই থাকত কীভাবে গর্ভবতী না করে তাদের ভোগ করা যায়। এর মূল কারণ ছিল সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক; যদি কোনো দাসী মালিকের ঔরসে গর্ভবতী হয়ে পড়ত, তবে ইসলামি আইনে তাকে আর বিক্রি করা যেত না (সে ‘উম্মে ওয়ালাদ’ হয়ে যেত) এবং মালিকের মৃত্যুর পর সে মুক্ত হয়ে যেত। অর্থাৎ, দাসীর গর্ভধারণ ছিল মালিকের জন্য এক প্রকার আর্থিক লোকসান। তাই তারা দাসীকে ক্রমাগত ধর্ষণ করত ঠিকই, কিন্তু বীর্যপাত করত বাইরে (আজল), যাতে তার ‘পণ্যমূল্য’ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কিছুদিন ভোগের পর তাকে অন্য মালিকের কাছে চড়া দামে বিক্রি বা উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা যায় [4]। এই বীভৎস বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় বন্দিনী নারীর শরীর ছিল নিছক একটি হস্তান্তরযোগ্য বস্তুর মতো, যা একজন ব্যবহার করে অবলীলায় অন্যজনের হাতে তুলে দিচ্ছে।

ইবনে আব্বাস বা ইবনে ওমরের মতো প্রথম সারির সাহাবীদের ফতোয়া ও আচরণে দেখা যায়, তারা দাসীকে হাতবদল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ ও আবেগহীন ছিলেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাসী কেনার আগে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করার বর্ণনাও সিরাত, হাদিস ও ফিকহের গ্রন্থগুলোর পাতায় পাওয়া যায় [10], যা আধুনিক সভ্যতার মাপকাঠিতে চরম শ্লীলতাহানি হিসেবে গণ্য। উদাহরণস্বরূপ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর দাসী ক্রয় করার সময় তাদের উরু বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে পরীক্ষা করতেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, ‘হিবা’ বা উপহারের সংস্কৃতি কোনো মানবিক বদান্যতা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক যৌন পাচার ব্যবস্থা, যাকে ধর্মের লেবাস পরিয়ে বৈধ করা হয়েছিল। যখন একজন মালিক তার ব্যবহৃত দাসীকে বন্ধুকে উপহার দেয়, তখন সেই নারী কেবল একজন মালিক হারায় না, বরং তার পুরো অস্তিত্ব নতুন করে ধর্ষিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বাধ্য হয়। ইসলামি ফিকহ এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘জায়েজ’ বা বৈধ ঘোষণা করার মাধ্যমে মূলত নারীর ওপর পুরুষের আদিম ও পাশবিক আধিপত্যকেই চিরস্থায়ী রূপ দান করেছে।


উপসংহারঃ একটি প্রাতিষ্ঠানিক যৌন শোষণের দলিল

ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করলে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইসলামে দাসপ্রথা কেবল একটি শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা ছিল না, বরং এটি ছিল নারীদেহের ওপর পুরুষের নিরঙ্কুশ আধিপত্য ও লালসা চরিতার্থ করার একটি আইনি ঢাল। দাসী বিনিময়, বিক্রি কিংবা উপহার (হিবা) হিসেবে হস্তান্তরের যে বিধানগুলো হাদিস ও ফিকহ গ্রন্থগুলোতে ছড়িয়ে আছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক যৌন শোষণের কাঠামো। এই ব্যবস্থায় একজন যুদ্ধবন্দী নারীর সম্মতি বা মানবিক মর্যাদার কোনো স্থান ছিল না। তাকে দেখা হতো কেবল একটি ‘উপভোগ্য সম্পদ’ হিসেবে, যা এক মালিকের তৃপ্তি মেটানোর পর অন্য মালিকের কাছে হস্তান্তর করা যায়। ইবনে জায়েদের সেই ঐতিহাসিক স্বীকারোক্তি—যেখানে তিনি জাহেলি যুগের পত্নী বিনিময়কে নিষিদ্ধ বললেও দাসী বিনিময়কে ‘দোষের নয়’ বলে সাব্যস্ত করেছেন—তা মূলত তৎকালীন মুসলিম সমাজের দ্বিচারিতা ও নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘ইস্তিবরা’ বা ‘আজল’ এর মতো বিধানগুলো প্রণয়ন করা হয়েছিল মূলত পুরুষের আর্থিক ও বংশগত স্বার্থ রক্ষার জন্য, নারীর সুরক্ষার জন্য নয়। একজন দাসীকে যখন ধারাবাহিকভাবে একাধিক সাহাবী বা মালিকের শয্যাসঙ্গিনী হতে হতো, তখন ধর্মীয় আইনের দোহাই দিয়ে তার ওপর চালানো হতো পদ্ধতিগত গণ-ধর্ষণ। মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে যৌন অধিকারের এই যে স্বয়ংক্রিয় হস্তান্তর, তা আধুনিক সভ্যতার যেকোনো মাপকাঠিতেই চরম বর্বরতা ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। মুহাম্মদের সাহাবীদের এই কর্মকাণ্ড কোনো ব্যক্তিগত বিচ্যুতি ছিল না, বরং তা ছিল খোদ ধর্মীয় বিধানের প্রয়োগ।

পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের এই দাসী হস্তান্তরের বিধানটি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সময়ে ধর্মকে ব্যবহার করে একটি নারী পাচার ও যৌন দাসত্বের চক্রকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। একটি বন্দিনী মেয়েকে মুসলিম বাহিনীর হাতে পড়ার পর যে অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হতো, যেখানে তাকে এক হাত থেকে অন্য হাতে পণ্য হিসেবে ঘুরে বেড়াতে হতো, তা কোনো সভ্য ধর্মের ‘ঐশ্বরিক’ বিধান হতে পারে না। এই বিধানগুলো কেবল ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়ই নয়, বরং এটি নারীত্বের চরম অবমাননার এক অকাট্য দলিল, যা আজও যুক্তিবাদী ও সংবেদনশীল মানুষের বিবেককে দংশন করে।


তথ্যসূত্রঃ
  1. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ২৬৩৫ ↩︎
  2. তাফসীরে মাযহারী, কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী, নবম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৪১ ↩︎
  3. ابن أبي شيبة – عبد الله بن محمد بن أبي شيبة ↩︎
  4. ইসলামে দাসীদের সাথে সম্মতিহীন আযল(আজল) ও তার কারণ বিশ্লেষণ 1 2
  5. আল-ইস্তিযকার — ইবন আবদুল বার, পিতা ও পুত্রের মধ্যে দাসী হস্তান্তর ↩︎
  6. শরহুয যারকানী আলা মুওয়াত্তা মালিক — দাসীকে সহবাসের জন্য উপহার দেওয়া ↩︎
  7. নসবুর রায়াহ — পুত্রের দাসীর সঙ্গে পিতার সহবাস ↩︎
  8. বাদায়েউস সানায়ে — পুত্রের দাসী থেকে পিতার সন্তান ↩︎
  9. যুদ্ধে বেসামরিক নারী ও শিশুর ভাগ্যঃ ইসলামে গনিমতের মাল বা লুটপাটের মাল ↩︎
  10. মানবিকতার কফিনে শেষ পেরেকঃ ইসলামের দাসীবাজার ও নারীর শরীরের উন্মুক্ত নিলাম ↩︎

Preferred Sources

About This Article

Genre: Historical-Critical Analysis, Source Criticism and Ethical Evaluation

Epistemic Position: Evidence-Based Historical Analysis and Secular Humanist Ethics

This article examines the legal treatment of enslaved women as transferable property within classical Islamic law, with particular attention to sale, exchange, gifting, sexual access and the transfer of ownership between fathers and sons. It draws directly on classical hadith, fiqh and commentary literature to document how ownership of an enslaved woman could determine who was legally permitted to have sexual intercourse with her.

Reports concerning Umar ibn al-Khattab, Salim ibn Abdullah, Abu Nahshal, Marwan and other early Muslim figures explicitly discuss slave women being given to sons together with instructions about whether intercourse was permitted. Classical jurists further regulated intercourse with a son’s slave woman, pregnancy, paternity, umm walad status and compensation for ownership. These sources show a legal framework in which the enslaved woman’s body and reproductive capacity were governed primarily through ownership, lineage and property rights rather than her consent or sexual autonomy.

Leave a comment

Your email will not be published.