জ্ঞানকোষ প্রবন্ধ

মুহাম্মদ, সাহাবী, তাবে-তাবেইনদের অনেকেই ছিলেন প্রখ্যাত দাস ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: জানুয়ারি 17, 2025লেখক: আসিফ মহিউদ্দীন101 মিনিট পড়া

সারসংক্ষেপ

মুহাম্মদ ও একাধিক সাহাবির মানুষ কেনা, বিক্রি করা, বিনিময় করা এবং অন্যের কাছে উপহার হিসেবে হস্তান্তরের বিবরণ ইসলামি হাদিস, সীরাত ও জীবনীসাহিত্যে সংরক্ষিত আছে। এসব বর্ণনায় মুহাম্মদ নিজে বিক্রেতা, ক্রেতা এবং মানুষ দিয়ে মানুষ কেনার লেনদেনে অংশগ্রহণকারী। তাঁর কাছ থেকে দাস কেনার লিখিত দলিল, দুই কৃষ্ণাঙ্গ দাসের বিনিময়ে একজন দাস ক্রয়, মুক্তির প্রতিশ্রুতিসহ দাসকে আটশ দিরহামে বিক্রি এবং বন্দি নারীর বিনিময়ে একাধিক দাস গ্রহণের ঘটনা মানুষের ওপর মালিকানার প্রত্যক্ষ ব্যবহার দেখায়। বনু কুরাইযার বন্দিদের বিনিময়ে অস্ত্র ও ঘোড়া সংগ্রহের বিবরণে মানুষের বেচাকেনা সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উপায় হয়েছে। সাহাবিদের লেনদেনেও দাসী ক্রয়, শরীর পরীক্ষা, পুনর্বিক্রয়, যৌন সম্পর্কের পরে বিক্রি এবং একজন নারীকে কিনে অন্য পুরুষকে উপহার দেওয়ার বর্ণনা রয়েছে।

দাসবাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল বিভিন্ন ধরনের। কেউ বিক্রেতা, কেউ ক্রেতা, কেউ অন্যের পক্ষে ক্রয়কারী প্রতিনিধি, কেউ বন্দিদের নিয়ে গিয়ে বিনিময় করেছেন, কেউ কেনা মানুষকে মুক্ত করেছেন এবং কেউ মানুষ কিনে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাবেঈ ও পরবর্তী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও ক্রয়, দরদাম ও ক্রয়ের প্রস্তুতির বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসে সরাসরি উল্লিখিত লেনদেন, জীবনীসাহিত্যের কাহিনি এবং ক্রয়ের ইচ্ছাসংক্রান্ত বিবরণ নিচের সারণিতে নিজ নিজ পরিচয়ে রাখা হয়েছে।

ব্যক্তিবর্ণিত ভূমিকাসংশ্লিষ্ট ঘটনা
মুহাম্মদক্রেতা, বিক্রেতা, বিনিময়কারী এবং বিক্রয় ও হস্তান্তরের নির্দেশদাতাআদ্দা ইবন খালিদের কাছে দাস বা দাসী বিক্রির দলিল; দুই কৃষ্ণাঙ্গ দাসের বিনিময়ে একজন দাস ক্রয়; মুক্তির প্রতিশ্রুতিসহ দাস বিক্রি; সাফিয়াকে সাতজন দাসের বিনিময়ে গ্রহণ; বনু কুরাইযার বন্দিদের বিনিময়ে অস্ত্র ও ঘোড়া সংগ্রহের নির্দেশ।
আদ্দা ইবন খালিদক্রেতামুহাম্মদের কাছ থেকে একজন দাস বা দাসী কেনার লিখিত দলিল দেখানোর বর্ণনা।
নুআইম ইবন আবদুল্লাহক্রেতামালিকের মৃত্যুর পরে মুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া দাসকে মুহাম্মদের মাধ্যমে আটশ দিরহামে ক্রয়।
দিহইয়া আল-কালবিবন্দি নারী হস্তান্তরকারী ও বিনিময়ে দাস গ্রহণকারীসাফিয়াকে মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করে বিনিময়ে সাতজন দাস পাওয়ার বর্ণনা।
আলি ইবন আবি তালিববিক্রেতাদুই দাসভাইয়ের একজনকে বিক্রি করার বর্ণনা; মুহাম্মদ বিক্রয় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জাবির ইবন আবদুল্লাহনিজেদের দাসী বিক্রির সমষ্টিগত বিবরণদাতা“আমরা বিক্রি করতাম” ভাষায় মুহাম্মদ ও আবু বকরের সময়ে দাসী এবং নিজেদের সন্তানের মায়েদের বিক্রির বিবরণ; পরে উমরের নিষেধের উল্লেখ।
আবু সাঈদ আল-খুদরিঅভিযানে অংশগ্রহণকারী ও বন্দি নারীদের বিষয়ে সমষ্টিগত বর্ণনাদাতাবন্দি নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, গর্ভসঞ্চার এড়ানোর আলোচনা এবং তাঁদের মূল্য বা মুক্তিপণ পাওয়ার প্রত্যাশার বিবরণ।
আবদুল্লাহ ইবন উমরক্রেতা, শরীর পরীক্ষাকারী ও বিক্রেতাদাসী ক্রয়ের সময় শরীর পরীক্ষার বর্ণনা; আটশ দিরহামে বিক্রি করা দাস ফেরত নিয়ে পরে দেড় হাজার দিরহামে পুনর্বিক্রয়।
সাদ ইবন যায়িদ আনসারিমুহাম্মদের নির্দেশে বন্দিদের নিয়ে গিয়ে বিনিময়কারী প্রতিনিধিসীরাতের বর্ণনায় বনু কুরাইযার কিছু বন্দিকে নজদে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের বিনিময়ে অস্ত্র ও ঘোড়া সংগ্রহ।
আবদুর রহমান ইবন আউফদাসী বিক্রির বর্ণনায় বিক্রেতাযৌন সম্পর্কের পরে দাসী বিক্রি, তাঁর গর্ভধারণ ও সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিরোধের বিবরণ; বর্ণনাসূত্রে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
ইবরাহিম নাখয়িবন্ধুর পক্ষে ক্রয়কারী প্রতিনিধিবন্ধুর জন্য দাসী কেনা এবং ক্রয়ের সময় তাঁর শরীর পরীক্ষার বর্ণনা।
আবু জাফরসম্ভাব্য ক্রেতা ও দরদামকারীদাসী নিয়ে দরদাম ও তাঁর শরীর স্পর্শ করে পরীক্ষার বর্ণনা; উদ্ধৃত পাঠে ব্যক্তির পরিচয় এই কুনিয়াতেই এসেছে।
আবদুল্লাহ ইবন কারিব আস-সাকাফিক্রেতাচার হাজারে দাসী ক্রয়; উমরের নির্দেশে ফেরত দিয়ে তিন হাজার উদ্ধার এবং এক হাজার ক্ষতির বিবরণ।
সুয়াইবিত ও নুআইমানস্বাধীন মানুষকে দাস পরিচয়ে বিক্রির কাহিনির দুই ব্যক্তিদুর্বল বর্ণনায় দশটি অল্পবয়স্ক উটনীর বিনিময়ে একজনকে বিক্রি করা হয়; দুই পাঠে কে বিক্রেতা এবং কে বিক্রিত ব্যক্তি, সেই পরিচয় উল্টো।
আয়িশামুক্তির উদ্দেশ্যে ক্রেতা এবং পৃথক ঘটনায় বিক্রয়ের নির্দেশদাতাবারিরাকে কিনে মুক্ত করা; অন্য বর্ণনায় জাদুর অভিযোগে এক দাসীকে কঠোর মালিকের কাছে বিক্রির নির্দেশ এবং সেই অর্থে অন্য একজনকে কিনে মুক্ত করার নির্দেশ।
আবদুল্লাহ ইবন জাফরক্রেতা ও উপহারদাতাজীবনীসাহিত্যে চল্লিশ হাজার দিরহামে একজন নারীকে কিনে ইবন আবি আম্মারকে উপহার দেওয়ার কাহিনি।
ইবন আবি আম্মারসম্ভাব্য ক্রেতা ও পরে উপহারগ্রহীতাএকই জীবনীবর্ণনায় দাসব্যবসায়ীর কাছে নারী দেখতে যাওয়া এবং পরে আবদুল্লাহ ইবন জাফরের কাছ থেকে তাঁকে উপহার হিসেবে গ্রহণ।
ইবন সিরিনদাসী ক্রয়ে আগ্রহী ব্যক্তিএকজন দাসী কিনতে চাওয়া এবং তাঁর ঠোঁটের বৈশিষ্ট্যকে চুম্বনের সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার বর্ণনা।
আবু হানিফাদাসী ক্রয়ের পরিকল্পনাকারীজীবনীসাহিত্যে দাসী কিনতে চেয়ে দশ বছর বাছাই ও পরামর্শ এবং কোন বন্দিসমষ্টি থেকে কিনবেন, তা বিবেচনার বর্ণনা।

এই লেনদেনগুলোর পাশাপাশি দাসবাজার পরিচালনার ধর্মীয় বিধানও গড়ে উঠেছে। ক্রেতার কাছে শরীর পরীক্ষার সুযোগ, অসুস্থতা বা যৌন আচরণকে বিক্রয়যোগ্য মানুষের ত্রুটি হিসেবে গণনা, দাম কমা, বিক্রয় ফেরত দেওয়া এবং বেত্রাঘাতের পরে দাসী বিক্রির নির্দেশ—এসব বিধানে ক্রেতা ও মালিকের স্বার্থ বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হয়েছে। নারীদাসীর ক্ষেত্রে শ্রমের ওপর কর্তৃত্বের সঙ্গে যৌন ব্যবহারের ক্ষমতাও যুক্ত ছিল। মানুষের স্বাধীনতা এখানে মালিকের অনুমতি, ক্রেতার অর্থ এবং হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের অধীন। কাউকে কিনে মুক্ত করার ঘটনায় স্বাধীনতা ফিরে এসেছে; অন্য লেনদেনগুলোতে মানুষ নতুন মালিকের অধীনে গেছেন। মানুষকে সম্পত্তি বানানো, তাঁর শরীর পরীক্ষা করে দাম নির্ধারণ করা এবং তাঁকে অন্যের যৌন বা শ্রমগত ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা মানবমর্যাদার সরাসরি লঙ্ঘন। মুহাম্মদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নৈতিক দায় তাঁদের এসব নির্দিষ্ট কাজ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত।


ভূমিকা: মানুষের বাজারে নবী, সাহাবি ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব

একজন মানুষকে কেনা, বিক্রি করা, অন্য মানুষের বিনিময়ে হস্তান্তর করা কিংবা উপহার হিসেবে কাউকে দিয়ে দেওয়া—প্রতিটি কাজের ভিত্তি একই: সেই মানুষটির ওপর অন্য একজনের মালিকানা স্বীকার করা। দাস ব্যবসায় ক্রেতা অর্থ বা সম্পদ দেন, বিক্রেতা মালিকানা ছাড়েন, আর যাকে কেনাবেচা করা হয় তার জীবন ও শ্রম নতুন মালিকের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এই ব্যবস্থায় দাসের ব্যক্তিসত্তা লেনদেনের বিষয় নির্ধারণ করে না; নির্ধারণ করে মালিকের অধিকার এবং ক্রেতার চাহিদা। মানুষের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে তাকে সম্পত্তিতে পরিণত করার এই প্রথা নৈতিকভাবে বর্বর। বিক্রেতার নামের আগে নবী, সাহাবি, তাবেঈ বা ধর্মীয় মনীষীর পরিচয় যুক্ত হলে সেই বর্বরতার প্রকৃতি বদলায় না।

মুহাম্মদের দাস কেনাবেচার বিবরণ ইসলামি হাদিস ও জীবনীসাহিত্যেই সংরক্ষিত আছে। সেখানে তাঁকে ক্রেতা, বিক্রেতা, দাস হস্তান্তরকারী এবং অন্যের দাস বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণকারী হিসেবে পাওয়া যায়। বন্দী নারী ও শিশু বণ্টন, মানুষ দিয়ে মানুষ কেনা, বিক্রয়ের দলিল তৈরি এবং দাসের মূল্য দিয়ে অন্য সম্পদ সংগ্রহ—এসব ঘটনায় মালিকানার ব্যবহার প্রত্যক্ষ। দাসপ্রথার সঙ্গে এই সম্পর্কের নৈতিক গুরুত্ব আরও গভীর হয় মুহাম্মদের নবুয়তের দাবির কারণে। মানুষের নৈতিক পথপ্রদর্শক হওয়ার দাবি এবং মানুষকে বাণিজ্যযোগ্য সম্পদ হিসেবে ব্যবহার একই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে উপস্থিত হয়েছে। ধর্মীয় মর্যাদা দিয়ে এই বিরোধ মুছে ফেলা যায় না।

দাসত্ব শুধু শ্রম আদায়ের অধিকার ছিল না। নারীদাসীর ক্ষেত্রে মালিকানার সঙ্গে যৌন ব্যবহারের ক্ষমতাও যুক্ত ছিল। ফলে নারী কেনাবেচা তাঁর শ্রমের পাশাপাশি তাঁর শরীর ও যৌনজীবনের ওপর কর্তৃত্ব হস্তান্তরের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। যুদ্ধে বন্দী হওয়ার পরে একজন নারীকে ভাগের সম্পদ হিসেবে পাওয়া, তাঁকে বিক্রি করা অথবা অন্য মালিকের কাছে পাঠানো—এই ধারাবাহিকতায় তাঁর স্বাধীন সিদ্ধান্তের জায়গা দখল করে নেয় বিজয়ী ও মালিকদের সিদ্ধান্ত। নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ড বলে প্রতিষ্ঠা করা ব্যক্তিরা যখন এই লেনদেনের অংশ হন, তখন তাঁদের নৈতিক কর্তৃত্বও তাঁদের কাজের ভিত্তিতে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে নির্মম বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষের জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলোকে সম্পত্তির প্রশ্নে রূপান্তরিত করা। সুস্থতা হয়ে যায় ক্রয়যোগ্যতার গুণ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়ে যায় মালিকের আর্থিক ঝুঁকি, শরীর হয়ে যায় পরীক্ষাযোগ্য বস্তু এবং হস্তান্তর হয়ে যায় স্বাভাবিক বাণিজ্য। ক্রেতাকে প্রতারণা থেকে রক্ষার শর্ত থাকলেও বিক্রিত মানুষটির স্বাধীনতা হারানো সেই লেনদেনের স্বীকৃত ভিত্তি হিসেবে থেকে যায়। মালিকদের মধ্যে সৎ বেচাকেনা একটি অসৎ মালিকানাব্যবস্থাকে ন্যায়সংগত করে না। অন্য মানুষের জীবনকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার অধিকারটিই এখানে মৌলিক অন্যায়।

ধর্মীয় সম্মান মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মুছে দেয় না। কে মানুষ কিনেছেন, কে বিক্রি করেছেন, কার নির্দেশে হস্তান্তর হয়েছে এবং সেই মানুষের বিনিময়ে কী পাওয়া গেছে—এই নির্দিষ্ট সম্পর্কগুলোর নৈতিক মূল্যায়ন ব্যক্তির পদমর্যাদার অধীন হতে পারে না। দাসের জায়গায় নিজেকে রেখে যে মালিকানা অগ্রহণযোগ্য, অন্যের ওপর তা প্রয়োগ করাও অগ্রহণযোগ্য। মানুষকে পণ্য বানানোর দায় থেকে কোনো নবী, সাহাবি বা পরবর্তী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নামের জোরে অব্যাহতি পান না।


মুহাম্মদের দাস বিক্রির লিখিত দলিল: ক্রেতা আদ্দা ইবন খালিদ

সুনান ইবন মাজাহর বর্ণনায় আদ্দা ইবন খালিদ ইবন হাওযা একটি লিখিত দলিল দেখান। সেই দলিলের ভাষায় তিনি মুহাম্মদের কাছ থেকে একজন দাস অথবা দাসী কিনেছেন। “মুহাম্মদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন” এবং “তাঁর কাছ থেকে একটি দাস অথবা দাসী ক্রয় করেছেন”—এই দুটি বাক্য ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকা নির্ধারণ করে। দলিলে মুহাম্মদ নিজেই বিক্রেতা। তিরমিজিতেও একই লেনদেনের বর্ণনা রয়েছে। [1] [2] [3]

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ لَيْثٍ، صَاحِبُ الْكَرَابِيسِيِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ قَالَ لِي الْعَدَّاءُ بْنُ خَالِدِ بْنِ هَوْذَةَ أَلاَ نُقْرِئُكَ كِتَابًا كَتَبَهُ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ بَلَى ‏.‏ فَأَخْرَجَ لِي كِتَابًا فَإِذَا فِيهِ ‏”‏ هَذَا مَا اشْتَرَى الْعَدَّاءُ بْنُ خَالِدِ بْنِ هَوْذَةَ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ اشْتَرَى مِنْهُ عَبْدًا أَوْ أَمَةً لاَ دَاءَ وَلاَ غَائِلَةَ وَلاَ خِبْثَةَ بَيْعَ الْمُسْلِمِ لِلْمُسْلِمِ ‏”‏ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ:
সুনান ইবনু মাজাহ
১২/ ব্যবসা-বাণিজ্য
পরিচ্ছেদঃ ১২/৪৭. গোলাম ক্রয়-বিক্রয়
১/২২৫১। আবদুল মাজীদ ইবনে ওয়াহব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে সেই পত্র পড়ে শুনাবো না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে লিখেছিলেন? রাবী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। অতএব তিনি আমার সামনে একখানি পত্র বের করলেন, যাতে লেখা ছিলঃ ’’আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওয়া আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের নিকট থেকে যা ক্রয় করেছেন এটা তার দলীল। সে তাঁর নিকট থেকে একটি গোলাম বা বাঁদী ক্রয় করেছে, যার কোন রোগ-ব্যাধি নাই, যা চুরিকৃতও নয় এবং হারাম মালও নয়। এ হলো দু’ মুসলিমের পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়’’।
তিরমিযী ১২১৬, তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আব্বাদ বিন লায়স সম্পর্কে আবু জা’ফার আল-উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আহমাদ বিন শু’আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০৯২, ১৪/১৫৪ নং পৃষ্ঠা)
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

দাস ব্যবসায়ী

দলিলের মধ্যে ক্রেতার নাম আছে, বিক্রেতার নাম আছে এবং বিক্রিত মানুষটির দাসত্বের পরিচয় আছে। অথচ সেই মানুষটির ব্যক্তিগত নাম, তাঁর সিদ্ধান্ত কিংবা বিক্রয়ে তাঁর সম্মতির কোনো উল্লেখ নেই। লেনদেনের পরিচয় নির্ধারণে দুই মালিকানাপক্ষের পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে; যাঁর জীবন হস্তান্তর করা হচ্ছে, তিনি পরিচিত হয়েছেন “আবদ” অথবা “আমাহ”—দাস অথবা দাসী—হিসেবে। এই ভাষা ব্যক্তিসত্তার ওপর মালিকানার প্রাধান্যকে প্রকাশ করে। মানুষটি এখানে চুক্তির সিদ্ধান্তগ্রহণকারী পক্ষ নন; তাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্বই চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তরিত হচ্ছে।

“আবদান আও আমাতান”—দাস অথবা দাসী—বাক্যাংশে বর্ণনার অনিশ্চয়তাও নির্দিষ্ট। দলিলে একজন মানুষ ক্রয়ের কথা আছে; তাঁর লিঙ্গপরিচয় বর্ণনায় দাস অথবা দাসী হিসেবে এসেছে। কিন্তু উভয় বিকল্পেই লেনদেনের বস্তু একজন মানুষ এবং সম্পর্কটি ক্রয়-বিক্রয়ের। পুরুষ দাস হোন বা নারীদাসী, তাঁর ওপর অন্যের মালিকানা অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তরের নৈতিক সমস্যাটি বহাল থাকে।


ক্রেতার সুরক্ষা, বিক্রিত মানুষের স্বাধীনতার অনুপস্থিতি

এই দলিলে রোগ ও অন্যান্য সমস্যামুক্ত অবস্থার শর্ত রাখা হয়েছে। পরবর্তী ফিকহি সংকলনেও সেই শর্তগুলো দাস কেনাবেচার চুক্তির আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ইবনুল মুনযির তাঁর আল-আওসাত গ্রন্থে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের নাম দিয়েছেন: দাস বিক্রয়ের চুক্তিতে ক্রেতার পক্ষ থেকে রোগ, গায়িলা ও খিবথা না থাকার শর্ত। অধ্যায়ের শিরোনামটি মানুষের বিক্রয়যোগ্যতা মেনে নিয়ে ক্রেতার অধিকার নির্ধারণের আইনগত কাঠামোকে সরাসরি প্রকাশ করে। [4]

بَابُ ذِكْرِ اشْتِرَاطِ الْمُشْتَرِي فِي عَقْدِ بَيْعِ الرَّقِيقِ أَنْ لَا دَاءَ وَلَا غَائِلَةَ وَلَا خِبْثَةَ

বাংলা অনুবাদ: দাস বিক্রয়ের চুক্তিতে ক্রেতার পক্ষ থেকে রোগ, গায়িলা ও খিবথা না থাকার শর্ত আরোপের আলোচনা।

বেচাকেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা ঠেকানো এবং মানুষকে সম্পত্তি হিসেবে বিক্রি করার বৈধতা—এখানে দুটি পৃথক নৈতিক প্রশ্ন। ক্রেতা তাঁর মূল্য দিয়ে কেমন মানুষ পাচ্ছেন, তা নিয়ে শর্ত করা যায়; কিন্তু সেই মানুষকে আদৌ কেনার অধিকার ক্রেতার আছে কি না, সেটি চুক্তির ভেতরে প্রশ্ন হয়ে ওঠে না। আইন ক্রেতার ক্ষতি ঠেকাতে সক্রিয়, অথচ বিক্রিত মানুষের স্বাধীনতাহানিকে লেনদেনের স্বাভাবিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করছে। ফলে লেনদেনের শর্ত যত বিস্তারিত হয়, মানুষের ওপর মালিকানার স্বীকৃতিটিও তত স্পষ্ট হয়।

দলিলের সমাপ্তিতে “মুসলিমের সঙ্গে মুসলিমের বেচাকেনা” পরিচয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দুই পক্ষের ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য লেনদেনের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে একজন মানুষকে অন্যের মালিকানায় পাঠানো অন্তর্ভুক্ত। ধর্মীয় নীতির প্রয়োগ এখানে দাসত্ব বিলোপের দিকে যায়নি; দাসত্বকে বহাল রেখে মালিকদের পারস্পরিক লেনদেন নিয়মিত করার দিকে গেছে। যে নৈতিকতা বিক্রেতাকে সত্য বলতে বলে অথচ বিক্রিত ব্যক্তিকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে স্বীকার করে না, তা সততার একটি সীমিত নিয়ম দিয়ে মানবমালিকানার মৌলিক অন্যায় ঢেকে রাখে।

এই ঘটনায় আদ্দা ইবন খালিদের ভূমিকাও নির্দিষ্ট: তিনি ক্রেতা। মুহাম্মদের কাছ থেকে মানুষ কেনার দলিলটি তাঁর কাছে ছিল এবং তিনি সেটি অন্যকে দেখিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। ফলে একই বর্ণনায় নবীর বিক্রয় এবং একজন সাহাবির ক্রয়—দুই দিকই পাওয়া যায়। ধর্মীয় সম্পর্কের মধ্যেই একজন মানুষকে মালিকানা বদলের বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিক্রয়ের দলিল সংরক্ষিত হওয়া ক্রেতার অধিকারকে লিখিত নিশ্চয়তা দিয়েছে; বিক্রিত মানুষের স্বাধীনতার অধিকার সেই নিশ্চয়তার অংশ হয়নি।


দুই কৃষ্ণাঙ্গ দাসের বিনিময়ে একজন দাস ক্রয়: মুহাম্মদের মানববিনিময়

সহিহ মুসলিমে মুহাম্মদের একটি দাস কেনার ঘটনা আছে, যেখানে মূল্য হিসেবে দেওয়া হয়েছিল আরও দুজন মানুষ। একজন দাস মুহাম্মদের কাছে এসে হিজরতের জন্য আনুগত্যের শপথ করেন। মুহাম্মদ তখন তাঁর দাসত্বের পরিচয় জানতেন না। পরে মালিক এসে তাঁকে দাবি করলে মুহাম্মদ মালিককে বলেন, “তাকে আমার কাছে বিক্রি করো।” এরপর দুই কৃষ্ণাঙ্গ দাসের বিনিময়ে তাঁকে কেনেন। একজন মানুষের ধর্মীয় অঙ্গীকার ও নিজের জীবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ এখানে মালিকের সম্পত্তির দাবির মুখে পড়ে। মুহাম্মদ সেই দাবি মেনে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। [5]

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَابْنُ، رُمْحٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنِيهِ قُتَيْبَةُ، بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْهِجْرَةِ وَلَمْ يَشْعُرْ أَنَّهُ عَبْدٌ فَجَاءَ سَيِّدُهُ يُرِيدُهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ بِعْنِيهِ ‏”‏ ‏.‏ فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ ثُمَّ لَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدُ حَتَّى يَسْأَلَهُ ‏”‏ أَعَبْدٌ هُوَ ‏”‏ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া আত-তামিমি ও ইবন রুমহ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, লাইস আমাদের জানিয়েছেন। অন্য বর্ণনাপথে কুতাইবা ইবন সাঈদ আমাকে বর্ণনা করেছেন; লাইস তাঁকে আবু যুবাইরের সূত্রে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। জাবির বলেন, একজন দাস এসে নবীর কাছে হিজরতের জন্য আনুগত্যের শপথ করেন। নবী বুঝতে পারেননি যে তিনি দাস। এরপর তাঁর মালিক এসে তাঁকে দাবি করেন। নবী মালিককে বলেন, “তাকে আমার কাছে বিক্রি করো।” অতঃপর তিনি দুই কৃষ্ণাঙ্গ দাসের বিনিময়ে তাঁকে কিনে নেন। এরপর থেকে তিনি কাউকে আনুগত্যের শপথ করানোর আগে জিজ্ঞেস করতেন, “সে কি দাস?”

এই বেচাকেনায় তিনজন মানুষ লেনদেনের বিষয়বস্তু। একজন মুহাম্মদের অধীনে আসেন, অন্য দুজন বিনিময়মূল্য হিসেবে অপর মালিকের অধীনে যান। মুহাম্মদ ক্রেতা এবং দুই কৃষ্ণাঙ্গ দাস হস্তান্তরকারী পক্ষ। মালিক তাঁর দাবিকৃত মানুষের বদলে দুজন মানুষ গ্রহণ করেন। দাসত্বের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখানে একেবারে সরাসরি: মানুষের ওপর মালিকানাকে অন্য মানুষের ওপর মালিকানার বিনিময়ে হস্তান্তর করা যায়। অর্থের জায়গায় মানুষের শরীর, শ্রম ও অধীনতাই মূল্য পরিশোধের মাধ্যম হয়েছে।

বর্ণনার শুরুতে একজন মানুষ নিজের ধর্মীয় অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন; লেনদেনের সময় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুহাম্মদ ও দাবিদার মালিক। বিনিময়ে দেওয়া দুই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির ইচ্ছা, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা কোথায় থাকতে চান, সেসবের কোনো বক্তব্য এই বর্ণনায় সংরক্ষিত নেই। তাঁদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে সংখ্যা ও গায়ের রং দিয়ে। মানুষের ব্যক্তিসত্তার এই সংকোচন দাসবাজারের ক্ষমতার সম্পর্ক প্রকাশ করে: মালিক চুক্তি করেন, মালিক মূল্য গ্রহণ করেন, মালিক মানুষ হস্তান্তর করেন। দাসের জীবন সেই চুক্তির অধীন।

হাদিসের শেষ বাক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এরপর মুহাম্মদ আনুগত্যের শপথ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাস কি না জিজ্ঞেস করতেন। অর্থাৎ ধর্মীয় অঙ্গীকার গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও ব্যক্তির ওপর অন্য কারও মালিকানার প্রশ্ন কার্যকর ছিল। দাসত্ব ব্যক্তির চলাচল ও নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করত। মানুষের সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় সম্পর্কের ভেতরেও প্রভুর সম্পত্তির দাবি প্রবেশ করেছে। স্বাধীন মানুষ ও মালিকানাধীন মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাজনকে মুহাম্মদের আচরণ কার্যকর স্বীকৃতি দিয়েছে।


নবীর লেনদেন থেকে মানুষ বিনিময়ের বিধান

তিরমিযি একই ঘটনা বর্ণনা করার পর একজন দাসের বিনিময়ে দুজন দাস তাৎক্ষণিকভাবে বিনিময় করার বৈধতা সম্পর্কে আলেমদের অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর বিবরণে বিতর্কের বিষয় ছিল বাকিতে এই লেনদেন করা। মানুষের বিনিময়ে মানুষ দেওয়ার অনুমোদন সেখানে প্রতিষ্ঠিত ভিত্তি। নবীর ব্যক্তিগত লেনদেন পরবর্তী ধর্মীয় আইনে মানুষের বেচাকেনার নিয়ম তৈরির নজির হয়েছে। [6]

قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ لاَ بَأْسَ بِعَبْدٍ بِعَبْدَيْنِ يَدًا بِيَدٍ ‏.‏ وَاخْتَلَفُوا فِيهِ إِذَا كَانَ نَسِيئًا ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: তিনি বলেন, এই বিষয়ে আনাস থেকেও বর্ণনা রয়েছে। আবু ঈসা বলেন, জাবিরের হাদিসটি হাসান সহিহ। আলেমদের কাছে এর ওপর আমল প্রচলিত: তাৎক্ষণিক বিনিময়ে একজন দাসের বদলে দুজন দাস দেওয়ায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে বাকিতে এই লেনদেন করা হলে তাঁরা মতভেদ করেছেন।

মানুষকে বিনিময়যোগ্য সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণ করেই এই আইনগত আলোচনা এগিয়েছে। কতজনের বদলে কতজন দেওয়া যাবে এবং মূল্য এখনই দিতে হবে কি না—এসব প্রশ্নে বিধান তৈরি হয়েছে। সেই বিধানে একজন মানুষের মূল্য একাধিক মানুষের মালিকানা দিয়ে পরিশোধ করা যায়। একজন দাসের বদলে দুজন দেওয়ার অনুমোদন মানুষকে গণনাযোগ্য ও বিনিময়যোগ্য সম্পদের শ্রেণিতে রেখেছে। ধর্মীয় আইনের এই কাঠামো ক্রেতা ও বিক্রেতাকে লেনদেনের অধিকার দেয়; বিক্রিত ব্যক্তির স্বাধীনতা সেই অধিকারের অধীন থাকে।

নৈতিক সমস্যাটি প্রত্যক্ষ। প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবন, শ্রম ও চলাচলের ওপর অধিকার আছে। এখানে একজনের ওপর মালিকানা পেতে অন্য দুজনের ওপর মালিকানা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাউকেই স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে চুক্তির পক্ষ করা হয়নি। মানুষকে মূল্য পরিশোধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা মানবমর্যাদার লঙ্ঘন। মুহাম্মদের এই লেনদেন এবং তা অনুসরণ করে গড়ে ওঠা বিধান সেই লঙ্ঘনকে ধর্মীয় অনুমোদন দিয়েছে।


মুক্তির প্রতিশ্রুতিসহ দাসকে আটশ দিরহামে বিক্রি: ক্রেতা নুআইম ইবন আবদুল্লাহ

আরেকটি ঘটনায় একজন মালিক নিজের মৃত্যুর পর তাঁর দাসের মুক্তি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেন। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় তাদবির এবং সংশ্লিষ্ট দাসকে বলা হয় মুদাব্বার। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, বনু উযরা গোত্রের এক ব্যক্তি এমন ঘোষণা দেওয়ার পর মুহাম্মদ জানতে চান, ওই দাস ছাড়া তাঁর আর কোনো সম্পদ আছে কি না। লোকটি না বললে মুহাম্মদ দাসটিকে বিক্রির জন্য হাজির করেন। নুআইম ইবন আবদুল্লাহ আল-আদাবি তাঁকে আটশ দিরহামে কেনেন। মুহাম্মদ বিক্রয়মূল্য মালিককে দিয়ে নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয়ের নির্দেশ দেন। [7]

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ، فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ أَلَكَ مَالٌ غَيْرُهُ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ لاَ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي ‏”‏ ‏.‏ فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَدَوِيُّ بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ فَجَاءَ بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فَإِنْ فَضَلَ شَىْءٌ فَلأَهْلِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَىْءٌ فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَىْءٌ فَهَكَذَا وَهَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ يَقُولُ فَبَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: কুতাইবা ইবন সাঈদ আমাদের বর্ণনা করেছেন; লাইস তাঁকে বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনাপথে মুহাম্মদ ইবন রুমহ আমাদের বর্ণনা করেছেন; লাইস তাঁকে আবু যুবাইরের সূত্রে জাবির থেকে জানিয়েছেন। জাবির বলেন, বনু উযরা গোত্রের এক ব্যক্তি নিজের এক দাসকে তাঁর মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। খবরটি আল্লাহর রাসুলের কাছে পৌঁছালে তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তোমার কি তাকে ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে?” লোকটি বলেন, “না।” তখন তিনি বলেন, “কে তাকে আমার কাছ থেকে কিনবে?” নুআইম ইবন আবদুল্লাহ আল-আদাবি তাঁকে আটশ দিরহামে কেনেন। আল্লাহর রাসুল সেই অর্থ নিয়ে এসে লোকটির হাতে দেন। এরপর বলেন, “নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের জন্য ব্যয় করো। কিছু অবশিষ্ট থাকলে তোমার পরিবারের জন্য। পরিবারের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তোমার আত্মীয়স্বজনের জন্য। আত্মীয়স্বজনের পরও কিছু অবশিষ্ট থাকলে এদিকে ওদিকে।” তিনি সামনের দিকে, ডান দিকে ও বাম দিকে নির্দেশ করছিলেন।

এই ঘটনায় মুহাম্মদ বিক্রয় পরিচালনা করেছেন এবং নুআইম মানুষ কিনেছেন। দাসটিকে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ তাঁর পূর্ববর্তী মালিকের হাতে দেওয়া হয়েছে। মালিকের আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর উপায় হয়েছে আরেকজন মানুষের বিক্রয়। মানুষের শরীর ও শ্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণকে নগদ অর্থে রূপান্তর করা হয়েছে, আর সেই অর্থ ব্যয়ের নির্দেশও এসেছে ধর্মীয় কর্তৃত্বের কাছ থেকে। আটশ দিরহাম ক্রেতার ব্যয় ও বিক্রেতার আয়; বিক্রিত ব্যক্তির জীবনে সেটি নতুন মালিকের অধীন হওয়ার মূল্য।

মৃত্যুর পর মুক্তির ঘোষণা দাসটির জন্য ভবিষ্যতে স্বাধীন হওয়ার একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। তাঁকে বিক্রি করার ফলে পুরোনো মালিকের অধীনে সেই মুক্তির ব্যবস্থা ভেঙে যায় এবং নতুন মালিকের অধীনে তাঁর দাসত্ব বহাল থাকে। মালিকের জীবিকা ও সম্পদের প্রশ্নে নবীর হস্তক্ষেপ সরাসরি কার্যকর হয়েছে। একই সিদ্ধান্তে অধীনস্থ মানুষটির ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হয়েছে। মালিকের প্রয়োজন পূরণে একজন মানুষকে বিক্রি করার অধিকার এই ব্যবস্থায় স্বীকৃত।


“কে তাকে আমার কাছ থেকে কিনবে”: প্রকাশ্য বিক্রয়ে নবী ও সাহাবি

বুখারি ঘটনাটি রেখেছেন “নিলামে বিক্রয়” অধ্যায়ে। তাঁর বর্ণনায় মালিকের অভাবের কথা, মুহাম্মদের দাসটিকে নেওয়া, ক্রেতা আহ্বান করা এবং নুআইমের কেনার বিষয়গুলো আছে। মানুষের বেচাকেনায় মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা তাঁর নিজের প্রশ্নেই স্পষ্ট: “কে তাকে আমার কাছ থেকে কিনবে?” [8]

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ الْمُكْتِبُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَجُلاً أَعْتَقَ غُلاَمًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ، فَاحْتَاجَ فَأَخَذَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي ‏”‏ فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بِكَذَا وَكَذَا، فَدَفَعَهُ إِلَيْهِ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: বিশর ইবন মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন; হুসাইন আল-মুকাত্তিব তাঁকে আতা ইবন আবি রাবাহর সূত্রে জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে জানিয়েছেন। এক ব্যক্তি নিজের এক দাসকে তাঁর মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর লোকটি অভাবে পড়েন। তখন নবী দাসটিকে নিয়ে বলেন, “কে তাকে আমার কাছ থেকে কিনবে?” নুআইম ইবন আবদুল্লাহ তাঁকে নির্দিষ্ট একটি মূল্যে কিনে নেন। নবী দাসটিকে তাঁর হাতে তুলে দেন।

নুআইমের ভূমিকা এখানে ক্রেতার। তিনি আটশ দিরহামের বিনিময়ে একজন মানুষের ওপর মালিকানা অর্জন করেছেন। মুহাম্মদ ক্রেতা আহ্বান করেছেন, বিক্রয় সম্পন্ন করেছেন এবং দাসটিকে ক্রেতার হাতে দিয়েছেন। এই লেনদেনে নবী ও সাহাবি মানববাণিজ্যের দুই সক্রিয় ভূমিকায় উপস্থিত। বিক্রিত ব্যক্তির সম্মতি চাওয়ার কোনো বিবরণ উদ্ধৃত হাদিসগুলোতে নেই। তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছে মালিকের আর্থিক প্রয়োজন, মুহাম্মদের সিদ্ধান্ত এবং ক্রেতার অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা।

মালিককে অর্থ দেওয়া এবং সেই অর্থ নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় করতে বলা এই ঘটনার বণ্টননীতি প্রকাশ করে। একজন মানুষ বিক্রির অর্থ দিয়ে অন্য একটি পরিবারের প্রয়োজন মেটানো হয়েছে। উপকার পেয়েছেন অর্থগ্রহীতা মালিক; ক্রেতা পেয়েছেন মালিকানাধীন মানুষ। বিক্রিত ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে এই সুবিধা তৈরি হয়েছে। তাঁর স্বাধীনতা মালিক ও ক্রেতার আর্থিক অধিকারের অধীন রাখা হয়েছে।

মানবিক নৈতিকতার দাবি হলো অভাবী মানুষের সহায়তা এবং অধীনস্থ মানুষের স্বাধীনতা—দুটিই মানুষের অধিকার হিসেবে স্বীকার করা। এখানে অভাব মেটানোর উপায় হিসেবে মানুষ বিক্রিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একজনের প্রয়োজন অন্যজনকে সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহারের বৈধতা পেয়েছে। নবী সেই বিক্রয় পরিচালনা করেছেন, সাহাবি মূল্য দিয়ে মানুষ কিনেছেন, আর হাদিসসংকলনে ঘটনাটি বেচাকেনা ও ব্যয়সংক্রান্ত বিধানের উপকরণ হয়েছে। ধর্মীয় কর্তৃত্বের এই প্রয়োগ মানুষ কেনাবেচাকে গ্রহণযোগ্য লেনদেন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।


সাফিয়াকে সাতজন দাসের বিনিময়ে কেনা: মুহাম্মদ ও দিহইয়া আল-কালবির লেনদেন

সাফিয়া বিনত হুয়াইকে কেনার বর্ণনায় একজন নারীর বিনিময়মূল্য হিসেবে সাতজন মানুষের উল্লেখ আছে [9]। সুনান ইবন মাজাহতে আনাসের সূত্রে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ সাফিয়াকে সাতজন দাসের বিনিময়ে কিনেছিলেন। বর্ণনাকারী আবদুর রহমান স্পষ্ট করেছেন, তাঁকে কেনা হয়েছিল দিহইয়া আল-কালবির কাছ থেকে। এখানে মুহাম্মদ ক্রেতা, দিহইয়া বিনিময় গ্রহণকারী এবং সাফিয়া লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তরিত নারী। তাঁর বিনিময়ে আরও সাতজন মানুষ দেওয়া হয়েছে। একজন নারী ও সাতজন দাস—মোট আটজন মানুষ দুই পক্ষের লেনদেনের বিষয়বস্তু হয়েছেন। [10] [11]

حدثنا نصر بن علي الجهضمي قال: حدثنا الحسين بن عروة، ح وحدثنا أبو عمر حفص بن عمرو قال: حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، قالا: حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم اشترى صفية بسبعة أرؤس ، قال عبد الرحمن: من دحية الكلبي

বাংলা অনুবাদ: নাসর ইবন আলি আল-জাহদামি আমাদের বর্ণনা করেছেন; হুসাইন ইবন উরওয়া তাঁকে বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনাপথে আবু উমর হাফস ইবন আমর আমাদের বর্ণনা করেছেন; আবদুর রহমান ইবন মাহদি তাঁকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দুজন বলেন, হাম্মাদ ইবন সালামা আমাদের সাবিতের সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবী সাফিয়াকে সাতজন দাসের বিনিময়ে কিনেছিলেন। আবদুর রহমান বলেন, “দিহইয়া আল-কালবির কাছ থেকে।”

আরবি বর্ণনায় ব্যবহৃত “সাত মাথা” কথাটি সাতজন দাস বোঝাচ্ছে। লেনদেনের হিসাবে মানুষকে সংখ্যা দিয়ে গণনা করা হয়েছে। একজন নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য সাতজন মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আটজন মানুষের শরীর, শ্রম, চলাচল ও ভবিষ্যৎ। তাঁদের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দখলকারী ও বিনিময়কারী পক্ষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। মানববাণিজ্যে মানুষকে সম্পত্তিতে পরিণত করার প্রক্রিয়া এই ঘটনাতেই দৃশ্যমান।

দিহইয়ার ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি নবীর সঙ্গী হিসেবে ধর্মীয় পরিচয় বহন করছেন এবং একই ঘটনায় একজন বন্দি নারীর বিনিময়ে অন্য মানুষ গ্রহণ করছেন। মুহাম্মদ সেই নারীর জন্য মানুষ দিয়ে মূল্য পরিশোধ করছেন। নবী ও সাহাবির সম্পর্কের মধ্যেই বন্দি মানুষের বণ্টন ও বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। এই ক্ষমতার কাঠামোয় যুদ্ধজয়ী পুরুষেরা মানুষ গ্রহণ করেন, নিজেদের মধ্যে হস্তান্তর করেন এবং মানুষের বিনিময়মূল্য নির্ধারণ করেন। বন্দি মানুষ তাঁদের সিদ্ধান্তের অধীন থাকেন।


যুদ্ধের ভাগ থেকে নারীর হস্তান্তর

সুনান আবু দাউদের বর্ণনায় এই লেনদেনের সঙ্গে বন্দি বণ্টনের যোগসূত্র আরও স্পষ্ট। সেখানে বলা হয়েছে, একজন সুন্দরী দাসী দিহইয়ার ভাগে পড়েছিলেন। মুহাম্মদ তাঁকে সাতজন দাসের বিনিময়ে কিনে উম্মে সুলাইমের কাছে প্রস্তুত করার জন্য দেন। বর্ণনার শেষাংশে হাম্মাদ নিজের স্মৃতির অনিশ্চয়তাও জানিয়েছেন: সাফিয়ার অপেক্ষাকাল উম্মে সুলাইমের ঘরে কাটানোর কথা বলা হয়েছিল বলে তাঁর ধারণা। [12]

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ وَقَعَ فِي سَهْمِ دِحْيَةَ جَارِيَةٌ جَمِيلَةٌ فَاشْتَرَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعَةِ أَرْؤُسٍ ثُمَّ دَفَعَهَا إِلَى أُمِّ سُلَيْمٍ تَصْنَعُهَا وَتُهَيِّئُهَا قَالَ حَمَّادٌ وَأَحْسِبُهُ قَالَ وَتَعْتَدُّ فِي بَيْتِهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: মুহাম্মদ ইবন খাল্লাদ আল-বাহিলি আমাদের বর্ণনা করেছেন। বাহয ইবন আসাদ তাঁকে বর্ণনা করেছেন; হাম্মাদ তাঁকে বর্ণনা করেছেন; সাবিত তাঁকে আনাসের সূত্রে জানিয়েছেন। আনাস বলেন, একজন সুন্দরী দাসী দিহইয়ার ভাগে পড়েছিলেন। আল্লাহর রাসুল তাঁকে সাতজন দাসের বিনিময়ে কিনে নেন। এরপর তাঁকে সাজিয়ে ও প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য উম্মে সুলাইমের কাছে দেন। হাম্মাদ বলেন, আমার ধারণা, তিনি আরও বলেছিলেন যে সাফিয়া বিনত হুয়াই তাঁর ঘরে অপেক্ষাকাল কাটাবেন।

বন্দি বণ্টনের এই ব্যবস্থা নারীকে যুদ্ধের সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করেছে। দিহইয়ার ভাগে তাঁর পড়া এবং পরে অন্য সাতজনের বিনিময়ে তাঁকে হস্তান্তর করা একই মালিকানাভিত্তিক ব্যবস্থার দুটি ধাপ। প্রথম ধাপে বন্দি নারী একজন পুরুষের ভাগে যান; দ্বিতীয় ধাপে পুরুষদের মধ্যে বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নির্ধারিত হয়। বর্ণনায় তাঁর সৌন্দর্য উল্লেখিত হয়েছে, আর তাঁকে পাওয়ার বিনিময়ে সাতজন মানুষ দেওয়া হয়েছে। একজন নারীর জীবনের ওপর দখলকে এভাবে পুরুষদের প্রাপ্য ও বিনিময়যোগ্য সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।

বিনিময়ে দেওয়া সাতজন মানুষও এই ঘটনার নির্যাতিত পক্ষ। তাঁদের নাম, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা পরবর্তী জীবন উদ্ধৃত বর্ণনাগুলোতে পাওয়া যায় না। তাঁরা এমন একটি লেনদেনের মূল্য হয়েছেন, যার সিদ্ধান্ত তাঁদের হয়ে অন্যরা নিয়েছেন। একজনকে পাওয়ার জন্য সাতজনকে হস্তান্তর করার এই ক্ষমতা দাসমালিকানার বিস্তার প্রকাশ করে। এখানে সম্পদের অঙ্কের সঙ্গে মানুষের অধীনতা যোগ হয়েছে: একজনের পছন্দ পূরণ করতে অন্যদের জীবন ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ বদলে দেওয়া হয়েছে।


সাফিয়ার মুক্তিকে মোহর নির্ধারণ

সাফিয়ার পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বুখারিতে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ তাঁকে মুক্ত করেন এবং সেই মুক্তিকেই তাঁর মোহর নির্ধারণ করেন। বন্দি হিসেবে হস্তান্তরিত নারীর স্বাধীনতা এখানে বিবাহের অর্থনৈতিক শর্তের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। [13]

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَشُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْتَقَ صَفِيَّةَ، وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا‏.‏

বাংলা অনুবাদ: কুতাইবা ইবন সাঈদ আমাদের বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ তাঁকে সাবিত ও শুআইব ইবন হাবহাবের সূত্রে আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে আল্লাহর রাসুল সাফিয়াকে মুক্ত করেন এবং তাঁর মুক্তিকেই তাঁর মোহর নির্ধারণ করেন।

স্বাধীনতা প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার। দাসমালিকানার ব্যবস্থায় সেই অধিকার মালিকের দেওয়া সুবিধায় পরিণত হয়; মালিক মুক্ত করেন এবং মুক্তির আর্থিক মূল্যও নির্ধারণ করেন। সাফিয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিজের স্বাধীনতাকে তাঁর বিবাহের মোহর হিসেবে গণনা করা হয়েছে। বন্দিত্বের মাধ্যমে হরণ করা স্বাধীনতাই পরে তাঁকে দেওয়ার মতো সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অধিকারকে মালিকের অনুগ্রহে পরিণত করার এই ক্ষমতা দাসপ্রথার মৌলিক অন্যায়।


আলির দাস বিক্রি: দুই ভাইকে উপহার দেওয়া ও একজনকে বেচে দেওয়া

আলির নামে বর্ণিত একটি ঘটনায় মুহাম্মদ তাঁকে দুই দাসভাই উপহার দেন। আলি তাঁদের একজনকে বিক্রি করেন। পরে মুহাম্মদ সেই দাসের বিষয়ে জানতে চাইলে আলি বিক্রির কথা জানান এবং মুহাম্মদ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে বলেন। উপহার হিসেবে মানুষের মালিকানা দেওয়া এবং সেই মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ বিক্রি করা—দুটি কাজই এই বর্ণনায় আছে। তিরমিযি বর্ণনাটিকে “হাসান গরিব” বলেছেন; দারুসসালামের মূল্যায়নে এটি দুর্বল। [14]

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ وَهَبَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُلاَمَيْنِ أَخَوَيْنِ فَبِعْتُ أَحَدَهُمَا فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ يَا عَلِيُّ مَا فَعَلَ غُلاَمُكَ ‏”‏ ‏.‏ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ ‏”‏ رُدَّهُ رُدَّهُ ‏”‏ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: হাসান ইবন কাযাআ আমাদের বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান ইবন মাহদি তাঁকে হাম্মাদ ইবন সালামার সূত্রে, তিনি হাজ্জাজের সূত্রে, তিনি হাকামের সূত্রে, তিনি মাইমুন ইবন আবি শাবিবের সূত্রে আলি থেকে জানিয়েছেন। আলি বলেন, আল্লাহর রাসুল আমাকে দুই দাসভাই উপহার দিয়েছিলেন। আমি তাঁদের একজনকে বিক্রি করি। তখন আল্লাহর রাসুল আমাকে বলেন, “হে আলি, তোমার দাসটির কী হয়েছে?” আমি তাঁকে জানালে তিনি বলেন, “তাকে ফিরিয়ে আনো, ফিরিয়ে আনো।”

আলির বক্তব্যে বিক্রয়ের ক্রিয়াটি স্পষ্ট: “আমি তাঁদের একজনকে বিক্রি করি।” এই বর্ণনায় মুহাম্মদ মানুষ উপহারদাতা এবং আলি মানুষ বিক্রেতা। দুই ভাইয়ের পারিবারিক সম্পর্ক মালিকের বিক্রয়ের সিদ্ধান্তে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একজনকে বিক্রি করার অর্থ তাঁর বসবাস, শ্রম ও দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণ নতুন মালিকের হাতে দেওয়া। নিজের ভাইয়ের সঙ্গে থাকার বিষয়টিও তখন বিক্রেতার সিদ্ধান্তের অধীন। দাসত্ব ব্যক্তির স্বাধীনতার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ককেও মালিকের সম্পত্তির অধিকারের নিচে স্থান দিয়েছে।

মুহাম্মদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ এই বর্ণনার অংশ। নির্দেশটি দুই ভাইকে আলাদা করার ঘটনায় এসেছে। বর্ণিত সংশোধনের লক্ষ্য তাঁদের একসঙ্গে রাখা; দুজনের ওপর আলির মালিকানা বহাল রয়েছে। উপহারপ্রাপ্ত মানুষকে বিক্রি করার ক্ষমতা এবং বিক্রির সময় আত্মীয়দের আলাদা করার সীমা—এই দুটি প্রশ্ন একই ঘটনার মধ্যে উপস্থিত। মানুষকে মালিকানাধীন রেখে তাঁদের সম্পর্ক রক্ষার সীমিত বিধান কার্যকর হয়েছে। স্বাধীন মানুষের মতো নিজের জীবন নির্ধারণের অধিকার তাঁদের দেওয়া হয়নি।


আলির মা ও সন্তানকে আলাদা করে বিক্রির বর্ণনা

সুনান আবু দাউদে আলির মা ও সন্তানকে আলাদা করার আরেকটি বিবরণ আছে। সেখানে মুহাম্মদ এই কাজে নিষেধ করেন এবং বিক্রয় বাতিল করেন। আবু দাউদ বর্ণনাসূত্রের বিচ্ছিন্নতাও উল্লেখ করেছেন: মাইমুন আলির সাক্ষাৎ পাননি। একই পাতায় আলবানির মূল্যায়ন “হাসান” দেওয়া আছে। [15]

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّهُ فَرَّقَ بَيْنَ جَارِيَةٍ وَوَلَدِهَا فَنَهَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ وَرَدَّ الْبَيْعَ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَمَيْمُونٌ لَمْ يُدْرِكْ عَلِيًّا قُتِلَ بِالْجَمَاجِمِ وَالْجَمَاجِمُ سَنَةُ ثَلاَثٍ وَثَمَانِينَ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَالْحَرَّةُ سَنَةُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ وَقُتِلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ سَنَةَ ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: উসমান ইবন আবি শাইবা আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসহাক ইবন মানসুর আমাদের বর্ণনা করেছেন; আবদুস সালাম ইবন হারব তাঁকে ইয়াযিদ ইবন আবদুর রহমানের সূত্রে, তিনি হাকামের সূত্রে, তিনি মাইমুন ইবন আবি শাবিবের সূত্রে আলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি একজন দাসী ও তাঁর সন্তানকে আলাদা করেছিলেন। নবী তাঁকে এই কাজে নিষেধ করেন এবং বিক্রয় বাতিল করেন। আবু দাউদ বলেন, মাইমুন আলির সাক্ষাৎ পাননি। তিনি জামাজিমের যুদ্ধে নিহত হন; জামাজিমের যুদ্ধ হয় তিরাশি হিজরিতে। আবু দাউদ বলেন, হাররার ঘটনা ঘটে তেষট্টি হিজরিতে এবং ইবনুয যুবাইর তিয়াত্তর হিজরিতে নিহত হন।

এই বিবরণে বিক্রয় বাতিলের বিষয়টি মা ও সন্তানের বিচ্ছেদের সঙ্গে যুক্ত। মা ও সন্তানকে একসঙ্গে রাখার বিধান তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কের একটি সুরক্ষা দিয়েছে। সেই সুরক্ষা মালিকানাধীন অবস্থার ভেতরে কার্যকর হয়েছে। মানুষ বিক্রির ব্যবস্থায় পরিবারকে আলাদা করার ক্ষমতা তৈরি হয় বলেই বিচ্ছেদ ঠেকানোর বিশেষ বিধানের প্রয়োজন পড়ে। পরিবারের ভবিষ্যৎ তখন মালিকের সিদ্ধান্ত, বিক্রয়ের শর্ত এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল থাকে।


তাবেঈ ইবরাহিম নাখয়ি: বিক্রয়ে মা ও সন্তানকে আলাদা করা

তিরমিযি আলির বর্ণনার পর বন্দিদের পারিবারিক বিচ্ছেদ নিয়ে আলেমদের মতামত আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনাতেই তাবেঈ ইবরাহিম নাখয়ির নামে বিক্রয়ের সময় মা ও সন্তানকে আলাদা করার একটি ঘটনা আছে। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মায়ের অনুমতি নিয়েছিলেন এবং মা সম্মতি দিয়েছিলেন। তিরমিযির বিবরণে কিছু আলেমের পক্ষ থেকে ইসলামের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া দাসসন্তানদের আলাদা করার অনুমতির কথাও আছে। [16]

قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ التَّفْرِيقَ بَيْنَ السَّبْىِ فِي الْبَيْعِ وَيُكْرَهُ أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا وَبَيْنَ الْوَالِدِ وَالْوَلَدِ وَبَيْنَ الإِخْوَةِ وَالأَخَوَاتِ فِي الْبَيْعِ ‏.‏ وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي التَّفْرِيقِ بَيْنَ الْمُوَلَّدَاتِ الَّذِينَ وُلِدُوا فِي أَرْضِ الإِسْلاَمِ ‏.‏ وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ فَرَّقَ بَيْنَ وَالِدَةٍ وَوَلَدِهَا فِي الْبَيْعِ فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ إِنِّي قَدِ اسْتَأْذَنْتُهَا بِذَلِكَ فَرَضِيَتْ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: আবু ঈসা বলেন, এটি হাসান গরিব হাদিস। নবীর সাহাবি ও অন্যদের মধ্যে কিছু আলেম বিক্রয়ের সময় বন্দিদের আলাদা করাকে অপছন্দ করেছেন। বিক্রয়ের সময় মা ও তাঁর সন্তান, বাবা ও সন্তান এবং ভাইবোনদের আলাদা করাকেও অপছন্দ করা হয়। কিছু আলেম ইসলামের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া দাসসন্তানদের আলাদা করার অনুমতি দিয়েছেন। প্রথম মতটিই অধিক সঠিক। ইবরাহিম নাখয়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বিক্রয়ের সময় একজন মা ও তাঁর সন্তানকে আলাদা করেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে তাঁর অনুমতি নিয়েছিলাম এবং তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন।”

ইবরাহিম নাখয়ির নামে সংরক্ষিত বিবরণটি তাবেঈ পর্যায়ে দাস কেনাবেচায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের উদাহরণ। বর্ণনায় তাঁর ভূমিকা বিক্রয়ের মাধ্যমে মা ও সন্তানকে আলাদা করা। তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা ছিল মায়ের অনুমতি। এই অনুমতির বিষয়টি পারিবারিক বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষকে বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণ করেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মায়ের অনুমতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এমন একটি ব্যবস্থায়, যেখানে মা ও সন্তান দুজনের অবস্থানই অন্যের মালিকানার অধীন।

দাসপ্রথায় সম্মতির ক্ষেত্রটিও মালিকানার কাঠামো নির্ধারণ করে দেয়। মা ও সন্তানকে কোথায় রাখা হবে, একসঙ্গে বিক্রি করা হবে কি না, কিংবা আলাদা করার অনুমতি নেওয়া হবে কি না—এসব প্রশ্ন ওঠে তাঁদের জীবন পরিচালনার ক্ষমতা অন্যের হাতে থাকার কারণে। একজন স্বাধীন মানুষের পারিবারিক সম্পর্ক তাঁর নিজের অধিকারের বিষয়; দাসের ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক কেনাবেচার বিধানের বিষয় হয়েছে। ইবরাহিমের বর্ণনা এবং তিরমিযির আইনগত আলোচনা এই অধীনতার বাস্তব রূপ প্রকাশ করে।

নবীর দেওয়া দাস উপহার, সাহাবির বিক্রয় এবং তাবেঈর লেনদেনে পারিবারিক বিচ্ছেদ—এসব ঘটনায় ধর্মীয় নেতৃত্ব ও মানবমালিকানা একই সামাজিক ব্যবস্থায় যুক্ত। মানুষ বিক্রির অধিকার মালিকের হাতে, আর পরিবার অক্ষত রাখার প্রশ্ন সেই অধিকারের প্রয়োগসংক্রান্ত বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই ব্যবস্থা মানুষের স্বাধীনতাকে মালিকের সম্পত্তির অধিকারের অধীন করেছে এবং ধর্মীয় আইন সেই অধীনতার শর্ত নির্ধারণ করেছে।


জাবিরের স্বীকারোক্তি: উপপত্নী ও নিজেদের সন্তানের মায়েদের বিক্রি

জাবির ইবন আবদুল্লাহর বর্ণনায় সাহাবিদের দাসী বিক্রির এমন একটি দিক উঠে এসেছে, যেখানে যৌন সম্পর্ক ও সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও একজন নারী বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। সুনান ইবন মাজাহতে জাবির বলেন, তাঁরা নিজেদের উপপত্নী ও নিজেদের সন্তানের মায়েদের বিক্রি করতেন। মুহাম্মদ তখন তাঁদের মধ্যে জীবিত ছিলেন এবং তাঁরা এই বিক্রিতে কোনো দোষ দেখতেন না। “আমাদের সন্তানের মায়েদের” কথাটি সেই নারীদের পরিচয় নির্দিষ্ট করে: তাঁরা মালিকের সন্তান জন্ম দেওয়া দাসী। সেই মাতৃত্বের পরও তাঁদের বিক্রি করার চর্চা ছিল। [17]

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَإِسْحَاقُ بْنِ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ كُنَّا نَبِيعُ سَرَارِينَا وَأُمَّهَاتِ أَوْلاَدِنَا وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِينَا حَىٌّ لاَ نَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ও ইসহাক ইবন মানসুর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের ইবন জুরাইজের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবন জুরাইজ বলেন, আবু যুবাইর আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, “আমরা আমাদের উপপত্নী ও আমাদের সন্তানের মায়েদের বিক্রি করতাম। নবী তখন আমাদের মধ্যে জীবিত ছিলেন। আমরা এতে কোনো দোষ দেখতাম না।”

জাবির এখানে “আমরা বিক্রি করতাম” বলে নিজের সমাজের চর্চায় নিজেকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সেই চর্চায় একজন নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, তাঁর গর্ভে নিজের সন্তান জন্মানো এবং পরে তাঁকে বিক্রি করা একই মালিকানার ধারাবাহিক কার্যক্রম। নারীটির যৌনতা, মাতৃত্ব এবং শ্রম—সবকিছু মালিকের নিয়ন্ত্রণের অধীন। নিজের সন্তানের মাকেও বিক্রি করার অধিকার দাবি করা দাসপ্রথার নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে। পিতা তাঁর অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য সন্তানের মায়ের মালিকানা অন্যের হাতে দিতে পারতেন। নারীটির জীবনের ওপর এই ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাঁকে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করার মাধ্যমে।

“আমরা এতে কোনো দোষ দেখতাম না”—এই বক্তব্য সাহাবিদের নিজেদের নৈতিক মূল্যায়নও জানায়। নিজেদের সন্তানের মাকে বাজারে বিক্রির মধ্যে তাঁরা আপত্তির কারণ দেখেননি। ধর্মীয় মর্যাদা ও মানবিক নৈতিকতার ব্যবধান এখানে তীব্র। একজন মানুষ যত সম্মানিত ধর্মীয় পরিচয়ই বহন করুন, নিজের সন্তানের মাকে বিক্রি করা তাঁর হাতে আরেকজন মানুষের জীবনকে অর্থে রূপান্তর করার ক্ষমতার প্রয়োগ। এই কাজে নারীকে ব্যবহারযোগ্য, সন্তান উৎপাদনকারী এবং বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।


মুহাম্মদ ও আবু বকরের সময় বিক্রি, উমরের সময়ে নিষেধ

সুনান আবু দাউদে জাবির এই বিক্রয়ের সময়সীমা আরও নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ ও আবু বকরের সময়ে তাঁরা উম্মুল ওয়ালাদ বিক্রি করতেন। উমর শাসনভার গ্রহণের পর তাঁদের নিষেধ করেন এবং তাঁরা বিরত হন। আলবানি বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন। এই বিবরণে নবীর জীবদ্দশা, প্রথম খলিফার শাসন এবং পরবর্তী খলিফার নিষেধ—তিনটি পর্যায় রয়েছে। [18]

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بِعْنَا أُمَّهَاتِ الأَوْلاَدِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ نَهَانَا فَانْتَهَيْنَا ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: মুসা ইবন ইসমাইল আমাদের বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ তাঁকে কাইসের সূত্রে, তিনি আতার সূত্রে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। জাবির বলেন, “আল্লাহর রাসুল ও আবু বকরের সময়ে আমরা সন্তানের মায়েদের বিক্রি করেছি। এরপর উমর ক্ষমতায় এলে আমাদের নিষেধ করেন এবং আমরা বিরত হই।”

বিক্রির প্রথা মুহাম্মদের জীবদ্দশা পেরিয়ে আবু বকরের শাসনকালেও চলেছে—জাবিরের বর্ণনার কালানুক্রম এটাই। উমরের নিষেধ সেই চর্চায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। মানুষের বিক্রয়যোগ্যতা এবং সন্তানের মায়ের আইনগত অবস্থান শাসকের সিদ্ধান্তে বদলেছে। দাসী নারীর জীবনে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য ছিল প্রত্যক্ষ: তাঁকে বিক্রি করা যাবে কি না, সেটি তাঁর স্বাধীন সিদ্ধান্তের বদলে মালিকের অধিকার ও খলিফার বিধানের বিষয় হয়ে থেকেছে।


বিক্রি বন্ধ হলেও মালিকের যৌন অধিকারের বিধান

উমরের নামে সংরক্ষিত বিধানে মালিকের সন্তান জন্ম দেওয়া দাসীকে বিক্রি, উপহার ও উত্তরাধিকার হিসেবে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই বক্তব্যে মালিকের তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অধিকার বহাল রাখা হয়েছে এবং মালিকের মৃত্যুর পর তাঁর মুক্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইবন আবদিল বার তাঁর আল-ইস্তিযকার গ্রন্থে মালিকের সূত্রে বিধানটি উদ্ধৃত করেছেন। [19]

مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ؛ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: أَيُّمَا وَلِيدَةٍ وَلَدَتْ مِنْ سَيِّدِهَا، فَإِنَّهُ لَا يَبِيعُهَا وَلَا يَهَبُهَا وَلَا يُوَرِّثُهَا، وَهُوَ يَسْتَمْتِعُ بِهَا، فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ.

বাংলা অনুবাদ: মালিক নাফির সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে উমর ইবন খাত্তাব বলেন, “যে দাসী তার মালিকের সন্তান জন্ম দিয়েছে, মালিক তাকে বিক্রি করবে না, উপহার দেবে না এবং উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাবে না। সে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক উপভোগ করবে। মালিক মারা গেলে সে স্বাধীন হবে।”

এই বিধানে নারীর অবস্থানের দুটি দিক একসঙ্গে নির্ধারিত হয়েছে। তাঁর বিক্রয় ও হস্তান্তর বন্ধ হয়েছে; জীবিত মালিকের অধীনে তাঁর যৌন দাসত্ব বহাল রয়েছে। স্বাধীনতার সময় নির্ধারিত হয়েছে মালিকের মৃত্যু দিয়ে। নিজের জীবনের ওপর অধিকার পাওয়ার জন্য তাঁকে মালিকের জীবনের সমাপ্তির অপেক্ষায় থাকতে হবে। যাঁর সন্তান তিনি জন্ম দিয়েছেন, সেই পুরুষ তাঁর দেহের ওপর মালিকানাজনিত অধিকার ভোগ করবেন। নারীটির মাতৃত্ব তাঁকে তাৎক্ষণিক স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেনি; তাঁকে দাসীর একটি বিশেষ আইনগত শ্রেণিতে স্থান দিয়েছে।

এই শ্রেণিবিভাগের নৈতিক ভিত্তি হলো মানুষের স্বাধীনতার ওপর মালিকের অধিকারের প্রাধান্য। সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে বিক্রয়যোগ্য নারী, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বিশেষ বিধানের অধীন নারী এবং মালিকের মৃত্যুর পর স্বাধীন নারী—একই মানুষের অধিকার তাঁর প্রজনন ও মালিকের জীবনের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মানবিক নৈতিকতায় স্বাধীনতা তাঁর নিজস্ব অধিকার। দাসমালিকানার আইনে সেই স্বাধীনতা বিশেষ শর্ত পূরণের পর কার্যকর হওয়ার সুবিধা। জাবিরের বিক্রয়ের বিবরণ এবং উমরের বিধান নারীর ওপর এই অর্থনৈতিক ও যৌন কর্তৃত্বের ধারাবাহিকতা প্রকাশ করে।


বন্দি নারীর যৌন ব্যবহার ও বিক্রয়মূল্য: আবু সাঈদের বর্ণনায় সাহাবিদের হিসাব

আবু সাঈদ আল-খুদরির বর্ণনায় নারী বন্দিদের যৌন ব্যবহার ও তাঁদের কাছ থেকে অর্থলাভের ইচ্ছা একই প্রশ্নের মধ্যে এসেছে। সহিহ বুখারির “দাস বিক্রয়” পরিচ্ছেদে তিনি মুহাম্মদকে বলেন, তাঁরা বন্দি পান এবং তাঁদের মূল্য পেতে চান; এই অবস্থায় আযল সম্পর্কে মুহাম্মদের মত কী? আযল হলো বীর্যপাতের আগে পুরুষাঙ্গ বের করে নেওয়া, যার উদ্দেশ্য গর্ভধারণ এড়ানো। প্রশ্নটির অর্থনৈতিক ও যৌন দিক সরাসরি: বন্দি নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি তাঁদের বিনিময়মূল্য পাওয়ার ইচ্ছা ছিল। [20]

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ ـ رضى الله عنه ـ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُصِيبُ سَبْيًا، فَنُحِبُّ الأَثْمَانَ، فَكَيْفَ تَرَى فِي الْعَزْلِ فَقَالَ ‏”‏ أَوَإِنَّكُمْ تَفْعَلُونَ ذَلِكَ لاَ عَلَيْكُمْ أَنْ لاَ تَفْعَلُوا ذَلِكُمْ، فَإِنَّهَا لَيْسَتْ نَسَمَةٌ كَتَبَ اللَّهُ أَنْ تَخْرُجَ إِلاَّ هِيَ خَارِجَةٌ ‏”‏‏.‏

বাংলা অনুবাদ: আবু ইয়ামান আমাদের বর্ণনা করেছেন। শুআইব তাঁকে যুহরির সূত্রে জানিয়েছেন। যুহরি বলেন, ইবন মুহাইরিয আমাকে জানিয়েছেন যে আবু সাঈদ আল-খুদরি তাঁকে বলেছেন, তিনি নবীর কাছে বসে থাকা অবস্থায় বলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা বন্দি পাই এবং তাঁদের মূল্য পেতে চাই। আযল সম্পর্কে আপনার মত কী?” তিনি বলেন, “তোমরা কি এমন করো? তোমরা তা না করলে কোনো ক্ষতি নেই। আল্লাহ যে প্রাণের জন্ম নির্ধারণ করেছেন, তা অবশ্যই জন্ম নেবে।”

নারী বন্দিদের বিষয়ে এখানে দুটি সুবিধা আদায়ের হিসাব রয়েছে: তাঁদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং তাঁদের বিনিময়ে অর্থ। বন্দিত্ব একজন নারীর শরীরকে বিজয়ী পুরুষের যৌন ব্যবহারের অধীন করেছে, আর দাসবাজার সেই শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণকে অর্থে রূপান্তরের সুযোগ দিয়েছে। প্রশ্নে নারীটির ইচ্ছা ও নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অনুপস্থিত। আলোচনার কেন্দ্র হলো মালিকের যৌন ইচ্ছা, গর্ভধারণের সম্ভাবনা এবং প্রাপ্য অর্থ। একজন মানুষের জীবনকে এই তিনটি স্বার্থের অধীন করা যৌন দাসত্বের অর্থনৈতিক কাঠামো।


বনু মুস্তালিকের নারী বন্দি: যৌন আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তিপণের ইচ্ছা

সহিহ মুসলিমের বিস্তারিত বর্ণনায় বনু মুস্তালিক অভিযানের উল্লেখ রয়েছে। আবু সাঈদ বলেন, তাঁরা অভিযানে আরবের সম্ভ্রান্ত নারীদের বন্দি করেন। তাঁদের যৌনসঙ্গীহীন অবস্থা দীর্ঘায়িত হয়েছিল এবং তাঁরা বন্দিদের মুক্তিপণও পেতে চেয়েছিলেন। ফলে বন্দি নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সময় আযল করার ইচ্ছা হয়। এরপর তাঁরা মুহাম্মদের কাছে প্রশ্ন করেন। তাঁর উত্তর সন্তান জন্মের পূর্বনির্ধারণ নিয়ে। [21]

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنِي رَبِيعَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو صِرْمَةَ عَلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ فَسَأَلَهُ أَبُو صِرْمَةَ فَقَالَ يَا أَبَا سَعِيدٍ هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ الْعَزْلَ فَقَالَ نَعَمْ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ بَلْمُصْطَلِقِ فَسَبَيْنَا كَرَائِمَ الْعَرَبِ فَطَالَتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَرَغِبْنَا فِي الْفِدَاءِ فَأَرَدْنَا أَنْ نَسْتَمْتِعَ وَنَعْزِلَ فَقُلْنَا نَفْعَلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا لاَ نَسْأَلُهُ ‏.‏ فَسَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ لاَ عَلَيْكُمْ أَنْ لاَ تَفْعَلُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ خَلْقَ نَسَمَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ سَتَكُونُ ‏”‏ ‏.‏

বাংলা অনুবাদ: ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব, কুতাইবা ইবন সাঈদ ও আলি ইবন হুজর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, ইসমাইল ইবন জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাবিআ আমাকে মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাব্বানের সূত্রে, তিনি ইবন মুহাইরিয থেকে জানিয়েছেন। ইবন মুহাইরিয বলেন, আমি ও আবু সিরমা আবু সাঈদ আল-খুদরির কাছে গেলাম। আবু সিরমা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আবু সাঈদ, আপনি কি আল্লাহর রাসুলকে আযল সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ। আমরা আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে বনু মুস্তালিক অভিযানে গিয়ে আরবের সম্ভ্রান্ত নারীদের বন্দি করি। আমাদের যৌনসঙ্গীহীন অবস্থা দীর্ঘায়িত হয়েছিল এবং আমরা মুক্তিপণ পেতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা তাঁদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও আযল করতে চাইলাম। তখন বললাম, আল্লাহর রাসুল আমাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় আমরা এই কাজ করব অথচ তাঁকে জিজ্ঞেস করব না? এরপর আমরা আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ‘তোমরা তা না করলে কোনো ক্ষতি নেই। কিয়ামত পর্যন্ত যে প্রাণের সৃষ্টি আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, তা অবশ্যই সৃষ্টি হবে।’”

বুখারির বর্ণনায় এসেছে বন্দিদের মূল্য পাওয়ার ইচ্ছা, মুসলিমের বর্ণনায় মুক্তিপণ। বন্দি নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থেকে অর্থলাভের দুটি বর্ণিত রূপ এখানে পাওয়া যায়। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মানুষ অন্য মালিকের হাতে যান; মুক্তিপণের ক্ষেত্রে তাঁকে ছাড়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হয়। উভয় ব্যবস্থায় বন্দিকারী মানুষের মুক্তি ও হস্তান্তরের ওপর অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। আবু সাঈদের বিবরণে সেই অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে বন্দি নারীদের যৌন ব্যবহারের ইচ্ছা যুক্ত হয়েছে। তাঁদের বন্দিত্ব পুরুষদের জন্য একই সঙ্গে যৌন সুযোগ ও অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

মুহাম্মদের কাছে করা প্রশ্ন ও তাঁর উত্তরের বিষয়বস্তুও স্পষ্ট। সাহাবিরা জানতে চেয়েছেন আযল সম্পর্কে; মুহাম্মদ বলেছেন নির্ধারিত প্রাণের জন্ম হবে। বন্দি নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছার জবাবে তিনি তাঁদের স্বাধীন সম্মতি নিশ্চিত করার কোনো শর্ত এই বর্ণনায় দেননি। বর্ণিত প্রশ্নোত্তরের কেন্দ্র পুরুষদের গর্ভধারণ এড়ানোর চেষ্টা ও সন্তানের জন্ম। নারীকে বন্দি করে তাঁর ওপর যৌন অধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থাই এই কথোপকথনের ভিত্তি। আধুনিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে এই মালিকানাভিত্তিক যৌন অধীনতা যৌন দাসত্ব।


গর্ভধারণ কেন অর্থনৈতিক উদ্বেগ: কুরতুবির ব্যাখ্যা

আবুল আব্বাস আল-কুরতুবি তাঁর আল-মুফহিম গ্রন্থে বন্দিদের বিনিময়ে অর্থলাভের প্রসঙ্গে বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে বর্ণনাটি আলোচনা করেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, দাসী গর্ভবতী হলে বিক্রয়ে বাধা আসবে এবং সন্তান জন্মের পর তিনি উম্মুল ওয়ালাদ হবেন—এই আশঙ্কা থেকে মূল্য হারানোর ভয় তৈরি হয়েছিল। এটি হাদিসের ওপর কুরতুবির ফিকহি ব্যাখ্যা; এখানে যৌন ব্যবহার, গর্ভধারণ এবং দাসীর বাজারমূল্যের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। [22]

وَقَدْ دَلَّ عَلَى صِحَّةِ هَذَا التَّأْوِيلِ نَصُّ مَا جَاءَ فِي رِوَايَةِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: (جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّا نُصِيبُ سَبْيًا، وَنُحِبُّ الْأَثْمَانَ، فَكَيْفَ بِالْعَزْلِ؟) وَوَجْهُ تَخَوُّفِهِمْ مِنْ فَوَاتِ الثَّمَنِ بِالْوَطْءِ: أَنَّهُنَّ إِذَا حَمَلْنَ؛ لَمْ يَصِحَّ لَهُمْ بَيْعُهُنَّ لِكَوْنِهِنَّ حَوَامِلَ مِنْ سَادَاتِهِنَّ. وَأَمَّا بَعْدَ انْفِصَالِ حَمْلِهِنَّ؛ فَلِكَوْنِهِنَّ أُمَّهَاتِ أَوْلَادٍ، عَلَى مَا صَارَ إِلَيْهِ الْجُمْهُورُ، عَلَى مَا يَأْتِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

বাংলা অনুবাদ: এই ব্যাখ্যার যথার্থতার পক্ষে যুহরির সূত্রে ইবন মুহাইরিযের মাধ্যমে আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত বক্তব্যটি প্রমাণ দেয়। তিনি বলেন, “একজন আনসারি ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা বন্দি পাই এবং তাঁদের মূল্য পেতে চাই। তাহলে আযলের বিষয়ে কী হবে?” যৌন সম্পর্কের কারণে মূল্য হারানোর বিষয়ে তাঁদের আশঙ্কার কারণ হলো, নারীরা গর্ভবতী হলে তাঁদের বিক্রি বৈধ হবে না; কারণ তাঁরা নিজেদের মালিকদের দ্বারা গর্ভবতী হয়েছেন। আর সন্তান প্রসবের পর তাঁরা সন্তানের মা বা উম্মুল ওয়ালাদ হয়ে যাবেন—অধিকাংশ আলেম যে মত গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে পরে আলোচনা আসবে, আল্লাহ চাইলে।

কুরতুবির ব্যাখ্যায় গর্ভধারণ মালিকের বিক্রয়ক্ষমতার সমস্যা হিসেবে এসেছে। যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে নারীকে ব্যবহার করা হবে, সেই সম্পর্কের ফলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে, আর সেই সম্ভাবনা তাঁর বিক্রয়যোগ্যতায় প্রভাব ফেলবে। নারীটির শরীর তখন যৌন ভোগ ও বাণিজ্যিক স্বার্থের মিলনস্থল। নিজের গর্ভধারণ ও মাতৃত্ব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর হাতে থাকার বদলে মালিকের আর্থিক হিসাবের মধ্যে পড়েছে। মানবদেহকে সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণ করার ফলেই একজন নারীর সন্তান ধারণ মালিকের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

আবু সাঈদের বর্ণনায় বন্দি নারীরা বিজয়ী পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা ও অর্থলাভের অধীন। জাবিরের বর্ণনায় উপপত্নী ও সন্তানের মায়েরাও বিক্রয়ের বিষয়বস্তু। এই দলিলগুলোতে দাসপ্রথা যৌনতা, সন্তান জন্ম দেওয়া এবং বেচাকেনাকে একই মালিকানার অধীনে যুক্ত করেছে। নারীটির শরীর থেকে যৌন সুবিধা এবং তাঁকে হস্তান্তর করে অর্থ—দুই ধরনের সুবিধাই মালিকের প্রাপ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একজন মানুষকে এভাবে ব্যবহার করা শোষণ; ধর্মীয় অনুমোদন ও বিধিবদ্ধ নিয়ম সেই শোষণের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করেছে।


আবদুল্লাহ ইবন উমর: দাসী ক্রয়, শরীর পরীক্ষা ও দাস পুনর্বিক্রয়

আবদুল্লাহ ইবন উমরের দাসী কেনার বর্ণনায় নারীর শরীর পরীক্ষা করার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে [23]। বায়হাকির আস-সুনানুল কাবিরে নাফির সূত্রে বলা হয়েছে, ইবন উমর দাসী কেনার সময় তাঁর পায়ের নিম্নাংশ উন্মুক্ত করতেন এবং দুই স্তনের মাঝখানে ও নিতম্বে হাত রাখতেন। বর্ণনার শেষে কাপড়ের ওপর দিয়ে হাত রাখার কথা অনুমানসূচক ভাষায় এসেছে। আলবানি ইরওয়াউল গালিল গ্রন্থে এই বর্ণনার সনদকে সহিহ বলেছেন। [24] [25]

أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ الْعَدْلُ، بِبَغْدَادَ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ، ثنا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا اشْتَرَى جَارِيَةً كَشَفَ عَنْ سَاقِهَا وَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ ثَدْيَيْهَا، وَعَلَى عَجُزِهَا وَكَأَنَّهُ كَانَ يَضَعُهَا عَلَيْهَا مِنْ وَرَاءِ الثَّوْبِ.

বাংলা অনুবাদ: বাগদাদে আবু হুসাইন ইবন বিশরান আল-আদল আমাদের জানিয়েছেন। ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ আস-সাফফার তাঁকে জানিয়েছেন; হাসান ইবন আলি ইবন আফফান তাঁকে বর্ণনা করেছেন; ইবন নুমাইর তাঁকে উবাইদুল্লাহ ইবন উমরের সূত্রে, তিনি নাফির সূত্রে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি দাসী কেনার সময় তাঁর পায়ের নিম্নাংশ উন্মুক্ত করতেন এবং দুই স্তনের মাঝখানে ও নিতম্বে হাত রাখতেন। মনে হয়, তিনি কাপড়ের ওপর দিয়ে তাঁর শরীরে হাত রাখতেন।

ক্রয় করতে আসা পুরুষের জন্য নারীর শরীর এভাবে পরীক্ষার বিষয় হয়েছে। পা উন্মুক্ত করা, বুকের মাঝখানে হাত রাখা এবং নিতম্ব স্পর্শ করা—এসব কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে নারীটিকে বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করার কারণে। ক্রেতা নিজের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুসারে শরীর পরীক্ষা করছেন; বিক্রয়ের বিষয়বস্তু নারীটির শারীরিক গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সেই পরীক্ষার অধীন। কাপড়ের ওপর দিয়ে স্পর্শ করার কথাটিও একই ক্রয়পরীক্ষার অংশ। মানবদেহের ওপর এই কর্তৃত্ব ক্রেতার অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে নারীর ব্যক্তিগত সীমানার ওপর স্থান দিয়েছে।


বাজারে শরীর পরীক্ষা করে অন্যদের কিনতে বলা

মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে মুজাহিদের সূত্রে বাজারের আরেকটি বিবরণ আছে। ইবন উমর বিক্রয়রত একজন দাসীর পায়ের নিম্নাংশ উন্মুক্ত করেন, বুকে আঘাত করেন এবং উপস্থিত লোকদের বলেন, “কিনে নাও।” বর্ণনাকারীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তিনি তাঁদের দেখাচ্ছিলেন যে এতে কোনো অসুবিধা নেই। এখানে ইবন উমরের ভূমিকা অন্যদের ক্রয়ের জন্য শরীর পরীক্ষা করে দেখানো। [26]

عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي السُّوقِ، فَأَبْصَرَ بِجَارِيَةٍ تُبَاعُ، فَكَشَفَ عَنْ سَاقِهَا، وَصَكَّ فِي صَدْرِهَا، وَقَالَ: اشْتَرُوا. يُرِيهِمْ أَنَّهُ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ.

বাংলা অনুবাদ: আবদুর রাজ্জাক ইবন উয়াইনার সূত্রে, তিনি আমর ইবন দীনারের সূত্রে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। মুজাহিদ বলেন, “আমি বাজারে ইবন উমরের সঙ্গে ছিলাম। তিনি বিক্রি করা হচ্ছে এমন একজন দাসীকে দেখতে পেলেন। তখন তাঁর পায়ের নিম্নাংশ উন্মুক্ত করলেন, বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন, ‘কিনে নাও।’ তিনি তাঁদের দেখাচ্ছিলেন যে এতে কোনো অসুবিধা নেই।”

এই ঘটনায় ব্যক্তিগত কেনাকাটার বাইরে প্রকাশ্য আচরণের একটি দিক আছে। বাজারে একজন সাহাবি নারীর শরীর পরীক্ষা করছেন এবং অন্যদের সেই আচরণের গ্রহণযোগ্যতা দেখাচ্ছেন। তাঁর ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদা ক্রেতাদের জন্য ব্যবহারিক অনুমোদন হিসেবে কাজ করছে। মানুষ বিক্রির বাজারে নারীর শরীর পরীক্ষাকে স্বাভাবিক করার কাজে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ ঘটেছে। দাসবাজারে ক্ষমতাবান পুরুষের আচরণই নারীর শরীরের ওপর অন্য পুরুষদের প্রবেশাধিকারের নজির হয়েছে।

নাফির সূত্রে সংরক্ষিত আরেক বর্ণনায় ইবন উমরের শরীর পরীক্ষার মধ্যে পিঠ, পেট ও পায়ের নিম্নাংশ উন্মুক্ত করা এবং নিতম্বে হাত রাখার কথা এসেছে। দাসী ক্রয়ের আলোচনায় শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখার ও স্পর্শ করার এই ধারাবাহিক বিবরণ নারীকে পরীক্ষাযোগ্য পণ্যে পরিণত করার বাস্তব পদ্ধতি প্রকাশ করে। [27]

عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ: كَانَ يَكْشِفُ عَنْ ظَهْرِهَا، وَبَطْنِهَا، وَسَاقِهَا، وَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى عَجُزِهَا.

বাংলা অনুবাদ: আবদুর রাজ্জাক ইবন জুরাইজের সূত্রে, তিনি নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে ইবন উমর তাঁর পিঠ, পেট ও পায়ের নিম্নাংশ উন্মুক্ত করতেন এবং তাঁর নিতম্বে হাত রাখতেন।

দাসী নারী এখানে নিজের শরীরের সীমানা নির্ধারণকারী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত নন। ক্রেতার পরীক্ষা এবং মালিকের বিক্রয়ক্ষমতা তাঁর শরীরের ব্যবহার নির্ধারণ করছে। কোন অংশ দেখা যাবে, কোথায় হাত রাখা যাবে এবং পরীক্ষা শেষে তাঁকে কেনা হবে কি না—এই ক্ষমতাগুলো অন্যের হাতে। একজন নারীকে এমন পরীক্ষার মধ্যে ঠেলে দেওয়া শারীরিক অধিকারহরণ। দাসমালিকানার কাঠামো তাঁকে মানুষের বাজারে দাঁড় করিয়েছে এবং ক্রয়পরীক্ষা সেই অধীনতাকে তাঁর শরীরে প্রয়োগ করেছে।


আটশ দিরহামে বিক্রি, ফেরত নেওয়া এবং দেড় হাজারে পুনর্বিক্রয়

মুআত্তা মালিকে ইবন উমরের একজন দাসকে দুবার বিক্রি করার বিবরণ আছে। প্রথমবার তিনি আটশ দিরহামে বিক্রি করেন এবং ত্রুটির দায় থেকে অব্যাহতির শর্ত রাখেন। ক্রেতা রোগ থাকার অভিযোগ করলে বিরোধ উসমানের কাছে যায়। উসমান ইবন উমরকে নিজের জানা রোগ গোপন না করার বিষয়ে শপথ করতে বলেন। তিনি শপথ করতে অস্বীকার করে দাসটিকে ফেরত নেন। পরে দাসটি তাঁর কাছে সুস্থ হলে তাঁকে দেড় হাজার দিরহামে বিক্রি করেন। [28]

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، بَاعَ غُلاَمًا لَهُ بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ وَبَاعَهُ بِالْبَرَاءَةِ فَقَالَ الَّذِي ابْتَاعَهُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِالْغُلاَمِ دَاءٌ لَمْ تُسَمِّهِ لِي. فَاخْتَصَمَا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ. فَقَالَ الرَّجُلُ بَاعَنِي عَبْدًا وَبِهِ دَاءٌ لَمْ يُسَمِّهِ. وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بِعْتُهُ بِالْبَرَاءَةِ. فَقَضَى عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنْ يَحْلِفَ لَهُ لَقَدْ بَاعَهُ الْعَبْدَ وَمَا بِهِ دَاءٌ يَعْلَمُهُ فَأَبَى عَبْدُ اللَّهِ أَنْ يَحْلِفَ وَارْتَجَعَ الْعَبْدَ فَصَحَّ عِنْدَهُ فَبَاعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بَعْدَ ذَلِكَ بِأَلْفٍ وَخَمْسِمِائَةِ دِرْهَمٍ.

বাংলা অনুবাদ: ইয়াহইয়া আমাকে মালিকের সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদের সূত্রে, তিনি সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে আবদুল্লাহ ইবন উমর নিজের একজন দাসকে আটশ দিরহামে বিক্রি করেন। তিনি ত্রুটির দায় থেকে অব্যাহতির শর্তে বিক্রি করেছিলেন। ক্রেতা আবদুল্লাহ ইবন উমরকে বলেন, “দাসটির একটি রোগ আছে, যা আপনি আমাকে বলেননি।” তাঁরা উসমান ইবন আফফানের কাছে বিরোধ নিয়ে যান। লোকটি বলেন, “তিনি আমার কাছে একজন দাস বিক্রি করেছেন; তাঁর রোগ ছিল, যা তিনি বলেননি।” আবদুল্লাহ বলেন, “আমি দায় থেকে অব্যাহতির শর্তে বিক্রি করেছি।” উসমান ইবন আফফান আবদুল্লাহ ইবন উমরকে শপথ করার নির্দেশ দেন যে তিনি দাসটিকে বিক্রির সময় তাঁর জানা কোনো রোগ ছিল না। আবদুল্লাহ শপথ করতে অস্বীকার করেন এবং দাসটিকে ফেরত নেন। দাসটি তাঁর কাছে সুস্থ হয়ে উঠলে আবদুল্লাহ পরে তাঁকে এক হাজার পাঁচশ দিরহামে বিক্রি করেন।

এই ঘটনায় ইবন উমরের বিক্রেতার ভূমিকা এবং মানুষের পুনর্বিক্রয়—দুটিই নির্দিষ্ট। প্রথম বিক্রয়, ক্রেতার অভিযোগ, সালিশ, ফেরত নেওয়া এবং নতুন মূল্যে আবার বিক্রি—একজন মানুষকে ঘিরে পণ্যবাণিজ্যের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাঁর রোগ নিয়ে বিরোধ হয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতার আর্থিক দায়ের প্রশ্নে। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর মূল্য বেড়েছে। একই ব্যক্তির শরীরের অবস্থার সঙ্গে বাজারদরের পরিবর্তন সরাসরি যুক্ত হয়েছে।

উসমানের ভূমিকা এই ঘটনায় সালিশকারীর। তাঁর সিদ্ধান্তে বিক্রেতার দায় এবং ক্রেতার অভিযোগের নিষ্পত্তির পথ নির্ধারিত হয়েছে। দাসটির নিজের স্বাধীনতার দাবি এই বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয় হয়নি। তাঁকে প্রথমে একজনের হাতে, পরে আগের মালিকের কাছে এবং শেষে আরেক ক্রেতার অধীনে পাঠানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতার অধিকার নির্ধারণে বিচার সক্রিয় ছিল; বিক্রিত মানুষকে স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সেই নিষ্পত্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ইবন উমরের কেনাবেচা এবং উসমানের সালিশ ধর্মীয় নেতৃত্বের ভেতর দাসবাজারের ব্যবহারিক ও বিচারিক স্বীকৃতি প্রকাশ করে।


বনু কুরাইযার বন্দিদের বিনিময়ে অস্ত্র ও ঘোড়া: মুহাম্মদের নির্দেশে সাদ ইবন যায়িদের অভিযান

বনু কুরাইযার নারী ও শিশুদের দাসে পরিণত করার পর তাঁদের একাংশকে নজদে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের বিনিময়ে মুসলমানদের জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র সংগ্রহ করা। ইবন হিশামের সীরাতে ইবন ইসহাকের সূত্রে এই বিবরণ সংরক্ষিত আছে। মুহাম্মদ বন্দিদের পাঠানোর নির্দেশদাতা এবং সাদ ইবন যায়িদ আল-আনসারি সেই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। বন্দি মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণকে সামরিক সরঞ্জামে রূপান্তরের এই ঘটনায় দাসবাণিজ্য যুদ্ধের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছে। [29]

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইযার ধন-সম্পদ, স্ত্রী ও সন্তানদেরকে মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করেন। তারপর সা’দ ইবনে যায়িদ আনসারীকে বনু কুরাইযার কিছুসংখ্যক দাসদাসীকে দিয়ে নাজদ পাঠিয়ে দেন। তাদের বিনিময়ে তিনি সেখান থেকে মুসলমানদের জন্য অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়া খরিদ করে আনেন।

দাস ব্যবসায়ী 1

ইসলামওয়েবে সংরক্ষিত আরবি মূল পাঠে বণ্টনের নিয়মসহ একই ঘটনা পাওয়া যায়। সেখানে সম্পদ, নারী ও সন্তানদের বণ্টন, এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করা, অশ্বারোহী ও পদাতিকের অংশ এবং বন্দিদের নজদে পাঠানোর বিবরণ ধারাবাহিকভাবে এসেছে। মানুষকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। [30]

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: ثُمَّ إنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَ أَمْوَالَ بَنِي قُرَيْظَةَ وَنِسَاءَهُمْ وَأَبْنَاءَهُمْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، وَأَعْلَمَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ سُهْمَانَ الْخَيْلِ وَسُهْمَانَ الرِّجَالِ، وَأَخْرَجَ مِنْهَا الْخُمُسَ، فَكَانَ لِلْفَارِسِ ثَلَاثَةُ أَسْهُمٍ، لِلْفَرَسِ سَهْمَانِ وَلِفَارِسِهِ سَهْمٌ، وَلِلرَّاجِلِ، مَنْ لَيْسَ لَهُ فَرَسٌ، سَهْمٌ. وَكَانَتْ الْخَيْلُ يَوْمَ بَنِي قُرَيْظَةَ سِتَّةً وَثَلَاثِينَ فَرَسًا، وَكَانَ أَوَّلَ فَيْءٍ وَقَعَتْ فِيهِ السُّهْمَانُ، وَأُخْرِجَ مِنْهَا الْخُمْسُ، فَعَلَى سُنَّتِهَا وَمَا مَضَى مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا وَقَعَتْ الْمَقَاسِمُ، وَمَضَتْ السُّنَّةُ فِي الْمَغَازِي. ثُمَّ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَعْدَ بْنَ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيَّ أَخَا بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ بِسَبَايَا مِنْ سَبَايَا بَنِي قُرَيْظَةَ إلَى نَجْدٍ، فَابْتَاعَ لَهُمْ بِهَا خَيْلًا وَسِلَاحًا.

বাংলা অনুবাদ: ইবন ইসহাক বলেন, এরপর আল্লাহর রাসুল বনু কুরাইযার সম্পদ, নারী ও সন্তানদের মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করেন। সেদিন তিনি ঘোড়া ও যোদ্ধাদের অংশ নির্ধারণ করেন এবং সেখান থেকে এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করেন। অশ্বারোহীর জন্য ছিল তিন অংশ: ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং তার আরোহীর জন্য এক অংশ। পদাতিক, অর্থাৎ যার ঘোড়া ছিল না, তার জন্য ছিল এক অংশ। বনু কুরাইযার অভিযানের সময় ঘোড়া ছিল ছত্রিশটি। এটি ছিল প্রথম যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যাতে এভাবে অংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করা হয়েছিল। এই নিয়ম এবং আল্লাহর রাসুলের অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী পরবর্তী বণ্টন হয়েছে এবং যুদ্ধাভিযানে সেই রীতি চালু থেকেছে। এরপর আল্লাহর রাসুল বনু আবদুল আশহালের সদস্য সাদ ইবন যায়িদ আল-আনসারিকে বনু কুরাইযার কিছু বন্দিসহ নজদে পাঠান। তিনি তাঁদের বিনিময়ে মুসলমানদের জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র কেনেন।

বণ্টনের এই বিবরণে নারী ও সন্তানদের সম্পদের সঙ্গে একই ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। অশ্বারোহীর অংশ, পদাতিকের অংশ এবং এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করার নিয়ম মানুষকে অধিকারভোগী ব্যক্তির বদলে বণ্টনযোগ্য সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করেছে। বন্দি নারী ও শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছে যোদ্ধাদের প্রাপ্য অংশের হিসাবে। যুদ্ধের পর তাঁদের স্বাধীনতা, পরিবার ও নিরাপত্তা বিজয়ীদের সম্পত্তির দাবির অধীন হয়েছে। মানুষকে এভাবে ভাগ করে নেওয়া সংগঠিত দাসত্ব প্রতিষ্ঠার কাজ।


বন্দি যোদ্ধাদের হত্যা ও পরিবারকে দাস করার অনুমোদন

বনু কুরাইযার বন্দিদের ওপর এই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের যোদ্ধাদের হত্যার সিদ্ধান্ত যুক্ত ছিল। বুখারিতে সাদ ইবন মুআযের রায় হিসেবে যোদ্ধাদের হত্যা ও সন্তানদের বন্দি করার কথা এসেছে। মুহাম্মদ সেই রায়কে আল্লাহর রায়ের সঙ্গে মিলিয়ে অনুমোদন করেন। এখানে রায়দাতা সাদ ইবন মুআয; নজদে বন্দিদের নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন সাদ ইবন যায়িদ। [31]

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ـ هُوَ ابْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ ـ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ بَنُو قُرَيْظَةَ عَلَى حُكْمِ سَعْدٍ ـ هُوَ ابْنُ مُعَاذٍ ـ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ قَرِيبًا مِنْهُ، فَجَاءَ عَلَى حِمَارٍ، فَلَمَّا دَنَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ قُومُوا إِلَى سَيِّدِكُمْ ‏”‏‏.‏ فَجَاءَ فَجَلَسَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ ‏”‏ إِنَّ هَؤُلاَءِ نَزَلُوا عَلَى حُكْمِكَ ‏”‏‏.‏ قَالَ فَإِنِّي أَحْكُمُ أَنْ تُقْتَلَ الْمُقَاتِلَةُ، وَأَنْ تُسْبَى الذُّرِّيَّةُ‏.‏ قَالَ ‏”‏ لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ الْمَلِكِ ‏”‏‏.‏

বাংলা অনুবাদ: সুলাইমান ইবন হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন। শুবা তাঁকে সাদ ইবন ইবরাহিমের সূত্রে, তিনি আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হুনাইফের সূত্রে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু সাঈদ বলেন, বনু কুরাইযা সাদ ইবন মুআযের রায় মেনে নিতে সম্মত হলে আল্লাহর রাসুল তাঁকে ডেকে পাঠান। তিনি কাছেই ছিলেন। সাদ একটি গাধায় চড়ে আসেন। কাছে পৌঁছালে আল্লাহর রাসুল বলেন, “তোমাদের নেতার দিকে উঠে যাও।” তিনি এসে আল্লাহর রাসুলের পাশে বসলে তিনি তাঁকে বলেন, “এরা তোমার রায় মেনে নিতে সম্মত হয়েছে।” সাদ বলেন, “আমি রায় দিচ্ছি যে তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করা হবে এবং তাদের সন্তানদের বন্দি করা হবে।” তিনি বলেন, “তুমি তাদের বিষয়ে সর্বাধিপতির রায় অনুযায়ী রায় দিয়েছ।”

বন্দি যোদ্ধাদের গণহত্যার সিদ্ধান্ত এবং তাঁদের পরিবারকে অধীনস্থ করার সিদ্ধান্ত একই রায়ে যুক্ত হয়েছে। সীরাতের পরবর্তী বিবরণে নারী ও সন্তানদের বণ্টন এবং বন্দিদের বিনিময়ে সামরিক সরঞ্জাম কেনার কথা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় একটি পরাজিত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জীবন, পরিবার ও স্বাধীনতা বিজয়ীদের কর্তৃত্বের অধীন করা হয়েছে। হত্যার রায় ধর্মীয় অনুমোদন পেয়েছে এবং জীবিত বন্দিদের অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সহিংসতা ও মানববাণিজ্য একই ক্ষমতার ব্যবস্থায় কার্যকর হয়েছে।


মানুষের বন্দিত্ব থেকে সামরিক শক্তি সংগ্রহ

নজদে পাঠানোর ঘটনায় একটি সুস্পষ্ট কার্যক্রম আছে: বন্দি সংগ্রহ, একজন প্রতিনিধির হাতে তাঁদের দেওয়া, অন্য অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের বিনিময়ে সামরিক সামগ্রী কেনা। মুহাম্মদ এই কার্যক্রমের নির্দেশ দিয়েছেন; সাদ ইবন যায়িদ বন্দিদের নিয়ে গিয়ে বিনিময় সম্পন্ন করেছেন। মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণকে অস্ত্র ও ঘোড়ার মূল্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এই লেনদেনে বন্দিদের অধীনতা মুসলমানদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপকরণ হয়েছে। যুদ্ধের ফল হিসেবে পাওয়া মানুষ পরবর্তী সামরিক প্রস্তুতির সম্পদে পরিণত হয়েছেন।

এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বন্দিদের পাঠানো তাঁদের পরিচিত পরিবেশ ও সামাজিক সম্পর্ক থেকেও দূরে নিয়ে যায়। তাঁরা কোথায় থাকবেন এবং কার অধীনে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক প্রয়োজন মেনে নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি ও নির্দেশদাতার কাছে কাজটির ফল ঘোড়া ও অস্ত্র সংগ্রহ; বন্দিদের জীবনে এর ফল অন্যের হাতে হস্তান্তর ও দাসত্ব। একই লেনদেনের দুই পক্ষের এই অবস্থানগত ব্যবধান মানববাণিজ্যের শোষণকে স্পষ্ট করে। সুবিধা অর্জন করেছেন তাঁদের বিক্রি ও বিনিময়ের ক্ষমতাধারীরা।

ইবন ইসহাকের বিবরণে মানুষের বণ্টন ও তাঁদের বিনিময়ে অস্ত্র সংগ্রহ একই সামরিক কর্তৃত্বের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে। নবী নির্দেশদাতা, সাহাবি কার্যসম্পাদনকারী এবং বন্দিরা ব্যয়ের উপকরণ। এই ব্যবস্থায় যুদ্ধজয় মানবমালিকানা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে, আর সেই মালিকানা সামরিক সম্পদ সংগ্রহে ব্যবহার করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের জীবনকে বিজয়ীদের অস্ত্রভান্ডার ও অশ্ববাহিনী সমৃদ্ধ করার উপায়ে পরিণত করা সংগঠিত শোষণ। ধর্মীয় নেতৃত্ব নিজেই সেই শোষণের নির্দেশ ও ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিল।


আবদুর রহমান ইবন আউফ: যৌন সম্পর্কের পর দাসী বিক্রি ও গর্ভধারণ নিয়ে বিরোধ

আবদুর রহমান ইবন আউফের নামে সংরক্ষিত একটি বর্ণনায় নিজের যৌন ব্যবহারের অধীনে থাকা দাসীকে বিক্রির ঘটনা রয়েছে। বিক্রির আগে তিনি নারীটির গর্ভধারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অপেক্ষাকাল পালন করেননি। পরে ক্রেতার কাছে নারীটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেলে বিরোধ উমরের কাছে যায়। উমর জানতে চান, আবদুর রহমান ওই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন কি না এবং গর্ভমুক্তি যাচাইয়ের আগে তাঁকে বিক্রি করেছেন কি না। উভয় প্রশ্নের উত্তর ছিল হ্যাঁ। এরপর শিশুর পিতৃত্ব নির্ধারণের জন্য শারীরিক সাদৃশ্য দেখে বংশপরিচয় অনুমানকারীদের ডাকা হয়। [32]

حدثنا أبو بكر بن عياش عن أسلم المنقري عن عبد الله بن عبيد بن عمير قال: باع عبد الرحمن بن عوف جارية كان وقع عليها قبل أن يستبرئها فظهر بها حمل عند الذي اشتراها فخاصمه إلى عمر فقال عمر: هل كنت تقع عليها؟ قال: نعم! قال: فبعتها قبل أن تستبرئها؟ قال: نعم، قال: ما كنت لذلك بخليق. قال: فدعا القافة فنظروا إليه فألحقوه به. قال: قال: فولد له منها كثير فما عيروه به.

বাংলা অনুবাদ: আবু বকর ইবন আইয়াশ আমাদের আসলাম আল-মিনকারির সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উবাইদ ইবন উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন আউফ এমন একজন দাসীকে বিক্রি করেন, যাঁর সঙ্গে তিনি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। বিক্রির আগে তিনি তাঁর গর্ভমুক্তি যাচাই করেননি। পরে ক্রেতার কাছে তাঁর গর্ভধারণ প্রকাশ পেলে তিনি বিষয়টি নিয়ে উমরের কাছে বিরোধ উত্থাপন করেন। উমর বলেন, “তুমি কি তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে?” তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” উমর বলেন, “তাহলে গর্ভমুক্তি যাচাইয়ের আগেই তাঁকে বিক্রি করেছ?” তিনি বলেন, “হ্যাঁ।” উমর বলেন, “এমন কাজ তোমার করা সংগত হয়নি।” এরপর তিনি শারীরিক সাদৃশ্য দেখে বংশপরিচয় অনুমানকারীদের ডাকেন। তাঁরা শিশুটিকে দেখে তাকে আবদুর রহমানের সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, পরে এই নারীর গর্ভে তাঁর আরও অনেক সন্তান জন্মায় এবং এ জন্য তাঁকে বিদ্রূপ করা হয়নি।

বর্ণনাটির সূত্র আবদুল্লাহ ইবন উবাইদ ইবন উমাইর। সালিহ আলে শাইখ তাঁর আত-তাকমিল গ্রন্থে সনদটির বর্ণনাকারীদের শক্তিশালী বললেও আবদুল্লাহ ও ইবন আউফের মধ্যে সাক্ষাৎ না হওয়ায় বর্ণনাটি মুরসাল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। [33]

قلت: هذا إسناد قوي إلا أن ظاهره الإرسال، فإن عبد الله بن عبيد بن عمير لم يدرك ابن عوف.

বাংলা অনুবাদ: আমি বলি, এটি শক্তিশালী সনদ; তবে বাহ্যত এতে ইরসাল রয়েছে। কারণ আবদুল্লাহ ইবন উবাইদ ইবন উমাইর ইবন আউফের সময় পাননি।

ঘটনার বিবরণে আবদুর রহমানের ভূমিকা দাসী বিক্রেতার। তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর নারীটিকে অন্য পুরুষের মালিকানায় পাঠানো হয়েছে। গর্ভধারণ প্রকাশ পাওয়ায় বিক্রয়টি বিরোধের বিষয় হয়েছে এবং শিশুর পিতৃত্ব নির্ধারণের প্রয়োজন পড়েছে। দাসী নারীর যৌন জীবন, সম্ভাব্য মাতৃত্ব ও ক্রেতার সম্পত্তির দাবি একই লেনদেনে জড়িয়ে গেছে। নারীটির নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় ক্রেতা-বিক্রেতার অধিকার এবং সন্তানের পিতৃপরিচয় নির্ধারণ আলোচনার কেন্দ্র হয়েছে।


যৌন ব্যবহারের পর বিক্রি: ক্রেতা ও বিক্রেতার অধিকার নিয়ে ফিকহ

ইবন কুদামা আল-মুগনি গ্রন্থে আবদুর রহমানের এই বর্ণনাটি বিক্রির আগে গর্ভমুক্তি যাচাইয়ের আলোচনায় ব্যবহার করেছেন। তাঁর যুক্তিতে সম্ভাব্য গর্ভধারণ বিক্রয়ের বৈধতাকে প্রভাবিত করে, কারণ নারীটি মালিকের সন্তানের মা হয়ে থাকতে পারেন। গর্ভধারণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বিক্রয়কে বাহ্যত বৈধ গণ্য করার কথাও তিনি বলেছেন। যৌন ব্যবহারের পর একজন নারীকে বিক্রি করার প্রক্রিয়া এখানে আইনগত শর্ত ও প্রমাণের নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। [34]

وَلِأَنَّهُ يَجِبُ عَلَى الْمُشْتَرِي الِاسْتِبْرَاءُ لِحِفْظِ مَائِهِ، فَكَذَلِكَ الْبَائِعُ؛ وَلِأَنَّهُ قَبْلَ الِاسْتِبْرَاءِ مَشْكُوكٌ فِي صِحَّةِ الْبَيْعِ وَجَوَازِهِ، لِاحْتِمَالِ أَنْ تَكُونَ أُمَّ وَلَدٍ، فَيَجِبُ الِاسْتِبْرَاءُ لِإِزَالَةِ الِاحْتِمَالِ، فَإِنْ خَالَفَ وَبَاعَ، فَالْبَيْعُ صَحِيحٌ فِي الظَّاهِرِ؛ لِأَنَّ الْأَصْلَ عَدَمُ الْحَمْلِ؛ وَلِأَنَّ عُمَرَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ، لَمْ يَحْكُمَا بِفَسَادِ الْبَيْعِ فِي الْأَمَةِ الَّتِي بَاعَهَا قَبْلَ اسْتِبْرَائِهَا إِلَّا بِلَحَاقِ الْوَلَدِ بِهِ، وَلَوْ كَانَ الْبَيْعُ بَاطِلًا قَبْلَ ذَلِكَ، لَمْ يَحْتَجْ إِلَى ذَلِكَ.

বাংলা অনুবাদ: ক্রেতার নিজের বীর্যের পরিচয় সংরক্ষণের জন্য ইস্তিবরা পালন আবশ্যক; বিক্রেতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ইস্তিবরার আগে বিক্রয় শুদ্ধ ও বৈধ কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকে; কারণ নারীটি মালিকের সন্তানের মা হয়ে থাকতে পারেন। এই সম্ভাবনা দূর করতে ইস্তিবরা আবশ্যক। সে এর ব্যতিক্রম করে বিক্রি করলে বিক্রয় বাহ্যত শুদ্ধ; কারণ মূল অবস্থা হিসেবে গর্ভধারণের অনুপস্থিতি ধরে নেওয়া হয়। উমর ও আবদুর রহমানও ইস্তিবরার আগে বিক্রি করা দাসীর বিক্রয়কে শিশুর পিতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরই অশুদ্ধ গণ্য করেছেন। তার আগেই বিক্রয় বাতিল হলে এই যাচাইয়ের প্রয়োজন হতো না।

এই আলোচনায় নারীটির শরীরের প্রজননক্ষমতা মালিকানার হিসাবের নির্ধারক। তিনি কার দ্বারা গর্ভবতী হয়েছেন, সেই সন্তান কার বংশে যুক্ত হবে এবং গর্ভধারণ তাঁর বিক্রয়যোগ্যতায় কী প্রভাব ফেলবে—এসব প্রশ্নে বিধান তৈরি হয়েছে। যৌন সম্পর্কের পর তাঁকে অন্যের কাছে পাঠানোর ক্ষমতা মালিকের হাতে রাখা হয়েছে। একজন নারী যৌনসঙ্গী ও সম্ভাব্য সন্তানের মা হওয়ার পরও কেনাবেচার বিষয়বস্তু। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রজননকে সম্পত্তির হস্তান্তরসংক্রান্ত প্রশ্নে পরিণত করা এই ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ শোষণ।

ইস্তিবরার বিধানও সেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। অপেক্ষাকাল, গর্ভধারণ ও পিতৃত্ব যাচাইয়ের মাধ্যমে কোন পুরুষের কী অধিকার থাকবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। নারীটির নিজের শরীর ও ভবিষ্যতের ওপর স্বাধীন কর্তৃত্ব এই লেনদেনের ভিত্তি হয়নি। আবদুর রহমানের নামে সংরক্ষিত বিক্রয়ের ঘটনাটি ফিকহে গ্রহণ করে তার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে; ধর্মীয় আইনের কাজ এখানে যৌন ব্যবহারের অধীন মানুষকে বিক্রির ব্যবস্থা পরিচালনা করা।


তাবেঈদের দাসবাজার: ইবরাহিম নাখয়ির ক্রয় ও আবু জাফরের দরদাম

মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবায় ইবরাহিম নাখয়ির অন্যের পক্ষে দাসী কেনার বিবরণ আছে। তাঁর একজন কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু তাঁকে চিঠি লিখে নিজের জন্য একজন দাসী কিনে দিতে বলেন। ইবরাহিম সেই অনুরোধ অনুযায়ী কেনেন এবং নারীটির পায়ের একটি বিষয় নিয়ে খুঁত ধরেন। বন্ধুটি পরে শরীর দেখার বিষয়ে নিজের আপত্তি জানান। বর্ণনায় ইবরাহিমের ভূমিকা ক্রয়সম্পাদনকারী প্রতিনিধির; বন্ধুটি ছিলেন যাঁর জন্য নারীটিকে কেনা হয়েছিল। [35] [36]

حدثنا هشيم عن مغيرة عن إبراهيم أن صديقا له أسود كتب إليه أن يشتري له جارية، ففعل فعاب شيئا من ساق الجارية، قال: فبلغ ذلك الأسود من قوله فقال: ما أحب أني نظرت إلى ساقيها ولا إلى كذا وكذا.

বাংলা অনুবাদ: হুশাইম আমাদের মুগিরার সূত্রে, তিনি ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তাঁর একজন কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধু তাঁকে লিখে নিজের জন্য একজন দাসী কিনতে বলেন। তিনি তা করেন এবং দাসীর পায়ের একটি বিষয় নিয়ে খুঁত ধরেন। তাঁর এই মন্তব্য বন্ধুটির কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন, “তাঁর পায়ের দিকে কিংবা অমুক অমুক দিকে তাকিয়েছি—এমনটা আমার পছন্দ নয়।”

এই ঘটনায় একজন তাবেঈ মানুষের ক্রয়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। ক্রেতার অনুরোধ লিখিতভাবে এসেছে, প্রতিনিধি তা বাস্তবায়ন করেছেন এবং কেনা নারীর শরীর সম্পর্কে মূল্যায়ন জানিয়েছেন। ফলে দাসবাজারে প্রত্যক্ষ উপস্থিতির পাশাপাশি অন্যের মাধ্যমে মানুষ কেনার ব্যবস্থাও দেখা যায়। ক্রেতা নিজের জন্য নারী সংগ্রহের দায়িত্ব অন্যকে দিয়েছেন; প্রতিনিধি মানুষ কিনে সেই প্রয়োজন পূরণ করেছেন। একজন নারীকে ক্রয়াদেশের বিষয়বস্তু করা হয়েছে এবং তাঁর শরীরের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রেতা ও প্রতিনিধির মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

বন্ধুটির বক্তব্যে শরীর দেখার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। তাঁর দাসী কিনে দেওয়ার অনুরোধও একই বর্ণনায় স্পষ্ট। নারীটির ওপর মালিকানা অর্জন এবং ক্রয়ের সময় তাঁর শরীর কীভাবে দেখা হবে—এই দুটি বিষয়ে আলাদা অবস্থান কার্যকর ছিল। শরীর পরীক্ষার কোনো পদ্ধতি অপছন্দ করার সঙ্গে মানুষ কেনার অনুরোধ এক ব্যক্তির আচরণে সহাবস্থান করেছে। এই ব্যবস্থায় লেনদেনের আচরণ নিয়ে নৈতিক সংকোচ ছিল, অথচ নারীকে সম্পত্তি হিসেবে নিজের অধীনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য ছিল।


আবু জাফরের দরদাম ও নারীর শরীরে স্পর্শ

একই পরিচ্ছেদে আবু জাফরের নামে একজন দাসী নিয়ে দরদাম করার বিবরণ আছে। দরদামের সময় তিনি নারীটির স্তন ও বুকে হাত রাখেন বলে বর্ণিত হয়েছে। এই ঘটনায় ক্রয়ের জন্য দরদাম এবং শরীর পরীক্ষা একই কার্যক্রমের অংশ। [37] [38]

حدثنا وكيع عن عبد الله بن حبيب عن أبي جعفر أنه ساوم بجارية فوضع يده على ثدييها وصدرها.

বাংলা অনুবাদ: ওয়াকিঈ আমাদের আবদুল্লাহ ইবন হাবিবের সূত্রে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি একজন দাসী নিয়ে দরদাম করেন এবং তাঁর স্তন ও বুকে হাত রাখেন।

দরদাম চলাকালে একজন নারীকে স্পর্শ করার এই সুযোগের ভিত্তি তাঁর বিক্রয়যোগ্য অবস্থান। সম্ভাব্য ক্রেতা মূল্য নিয়ে আলোচনা করছেন এবং তাঁর শরীর পরীক্ষা করছেন। ক্রয় সম্পন্ন হওয়ার আগেই অর্থনৈতিক লেনদেনের সম্ভাবনা পুরুষটিকে নারীটির শরীর স্পর্শ করার সুযোগ দিচ্ছে। এই দরদামে স্তন ও বুক স্পর্শ করে নারীর শরীর পরীক্ষা করা হয়েছে। নারীকে কেনার প্রস্তুতি তাঁর শরীরের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগের উপলক্ষ হয়েছে।


মক্কার দাসীবাজারে ক্রেতার জন্য দেখার অনুমতি: আতার মত

তাবেঈ আতা ইবন আবি রাবাহর একটি মতও এই পরিচ্ছেদে সংরক্ষিত আছে। মক্কায় বিক্রি করা দাসীদের দিকে তাকানোর বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ক্রয় করতে চান এমন ব্যক্তিকে ব্যতিক্রম হিসেবে রেখেছেন। এখানে আতার ভূমিকা বিক্রয়রত নারীদের দেখার বিষয়ে বিধানদাতার। দাসীবাজারে ক্রেতার বিশেষ সুবিধা ধর্মীয় মতের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়েছে। [39]

حدثنا ابن مبارك عن الأوزاعي قال: سمعت عطاء وسئل عن الجواري التي يبعن بمكة فكره النظر إليهن إلا لمن يريد أن يشتري.

বাংলা অনুবাদ: ইবন মুবারক আমাদের আওযায়ির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আওযায়ি বলেন, “আমি আতাকে শুনেছি। মক্কায় যে দাসীদের বিক্রি করা হয়, তাঁদের সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাঁদের দিকে তাকানো অপছন্দ করেন; তবে যে ব্যক্তি কিনতে চায়, তাকে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখেন।”

ক্রয় করতে চাওয়ার ইচ্ছা এই বিধানে বিশেষ অধিকার তৈরি করেছে। বিক্রয়রত নারীর দিকে সাধারণভাবে তাকানো অপছন্দ করা হচ্ছে, আর তাঁকে কেনার উদ্দেশ্য থাকলে সেই নিষেধের ব্যতিক্রম কার্যকর হচ্ছে। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য নারীর শরীর দেখার অনুমতির ভিত্তি হয়েছে। এই নিয়ম দাসবাজারের চাহিদা মেনে শারীরিক গোপনীয়তার সীমানা নির্ধারণ করেছে। নারীর নিজের ইচ্ছার বদলে পুরুষটি ক্রেতা কি না, সেটিই অনুমতি পাওয়ার নির্ধারক।

ইবরাহিমের ক্রয়সম্পাদন, আবু জাফরের দরদাম এবং আতার বিধান—এসব দাসবাজারে ধর্মীয় সমাজের অংশগ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা। কেউ অন্যের জন্য নারী কিনছেন, কেউ কেনার জন্য দরদাম ও শরীর পরীক্ষা করছেন, কেউ সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য দেখার সুযোগ নির্ধারণ করছেন। মানুষ কেনার কাজ এবং সেই কাজের নিয়ম তৈরি একই সামাজিক ব্যবস্থায় যুক্ত। নারীকে সম্পত্তি হিসেবে গ্রহণ করেই ব্যক্তিগত আচরণ ও ধর্মীয় বিধান এগিয়েছে। এই সমন্বয় দাসবাজারকে পরিচালনা ও পুনরুৎপাদনের সামাজিক ভিত্তি দিয়েছে।


আবদুল্লাহ ইবন কারিব: চার হাজারে দাসী কেনা ও উমরের হস্তক্ষেপ

আবদুল্লাহ ইবন কারিব আস-সাকাফির নামও দাসী ক্রয়ের বর্ণনায় পাওয়া যায়। ইবন হিববান তাঁকে সাহাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর পরিচয় সম্পর্কে ‘আস-সিকাত’-এর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যটি হলো: [40]

عَبْد اللَّه بْن قَارب الثَّقَفِيّ لَهُ صُحْبَة

বাংলা অনুবাদ: আবদুল্লাহ ইবন কারিব আস-সাকাফি; তাঁর সাহাবিত্ব রয়েছে।

ইবনুল মুনযিরের ‘আল-আওসাত’-এ তাঁর পুত্র মুহাম্মদের সূত্রে একটি লেনদেনের বিবরণ আছে। উমরের শাসনামলে আবদুল্লাহ এক নারীকে চার হাজারে কিনেছিলেন। সেই নারীর আগে এক পুরুষের ঔরসজাত ভ্রূণ গর্ভপাতের মাধ্যমে বের হয়েছিল। উমর ঘটনাটি জানার পরে ক্রেতাকে তিরস্কার করেন, বিক্রেতাকে ছড়ি দিয়ে মারেন এবং নারীটিকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। ক্রয় ফেরত দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ তিন হাজার উদ্ধার করেন; এক হাজার হারান। [41]

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِبٍ أَنَّ أَبَاهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَارِبٍ اشْتَرَى فِي عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ جَارِيَةً بِأَرْبَعَةِ آلَافٍ قَدْ أَسْقَطَتْ لِرَجُلٍ سِقْطًا، فَسَمِعَ بِذَلِكَ عُمَرُ فَأَرْسَلَ إِلَيَّ وَإِلَى الرَّجُلِ الَّذِي بَاعَ، وَكَانَ أَبِي صَدِيقًا لِعُمَرَ وَكَانَتْ لَهُ مِنْهُ خَاصَّةٌ، فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ عُمَرُ فَلَامَهُ لَوْمًا شَدِيدًا – أَوْ قَالَ: إِنْ كُنْتُ لَأُنَزِّهُكَ عَنْ هَذَا – وَعَلَا الرَّجُلَ الْبَائِعَ بِالدَّرَّةِ ضَرْبًا، فَقَالَ: بَعْدَمَا اخْتَلَطَتْ لُحُومُكُمْ وَلُحُومُهُنَّ وَدِمَاؤُكُمْ وَدِمَاؤُهُنَّ بِعْتُمُوهُنَّ فَأَكَلْتُمْ أَثْمَانَهُنَّ، قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ شُحُومُهَا ثُمَّ بَاعُوهَا وَأَكَلُوا (ثَمَنَهَا) ارْدُدْهَا ارْدُدْهَا ارْدُدْهَا. قَالَ: فَرَدَّهَا أَبِي، فَأَدْرَكَ مِنَ الثَّمَنِ ثَلَاثَةَ آلَافٍ وَتَوَى أَلْفٌ.

বাংলা অনুবাদ: আলি ইবন আবদিল আজিজ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু নুআইম আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উমর ইবন যার আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কারিব আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবন কারিব উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনামলে চার হাজারে এক দাসী কিনেছিলেন। সেই নারীর গর্ভ থেকে এক ব্যক্তির ঔরসজাত ভ্রূণ গর্ভপাতের মাধ্যমে বের হয়েছিল। উমর বিষয়টি শুনে আমাকে এবং যে লোকটি বিক্রি করেছিল তাকে ডেকে পাঠান। আমার পিতা উমরের বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে উমরের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। উমর তাঁর দিকে ফিরে তাঁকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেন—অথবা বলেন, “আমি তো তোমাকে এমন কাজ থেকে ঊর্ধ্বে মনে করতাম।” আর বিক্রেতাকে ছড়ি দিয়ে মারতে থাকেন। তিনি বলেন, “তোমাদের মাংস তাঁদের মাংসের সঙ্গে এবং তোমাদের রক্ত তাঁদের রক্তের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরে তোমরা তাঁদের বিক্রি করে তাঁদের মূল্য ভক্ষণ করেছ! আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; তাদের জন্য চর্বি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তারপর তারা তা বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। তাঁকে ফেরত দাও, ফেরত দাও, ফেরত দাও।” বর্ণনাকারী বলেন, “আমার পিতা তাঁকে ফেরত দেন। তিনি মূল্য থেকে তিন হাজার উদ্ধার করেন; এক হাজার হারিয়ে যায়।”

এখানে নারীটির গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের ইতিহাস তাঁর বিক্রয়যোগ্যতা নিয়ে বিরোধের কারণ হয়েছে। উমরের তিরস্কারেও পুরুষ ও নারীর মাংস-রক্ত মিশে যাওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে। পুরুষটির সঙ্গে প্রজননগত সম্পর্ক নারীটির ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর বিশেষ বাধা তৈরি করছে। একজন মানুষের স্বাধীনতা এভাবে তাঁর গর্ভে সংশ্লিষ্ট পুরুষের সন্তান এসেছিল কি না, সেই প্রশ্নের অধীন হয়ে পড়ে। নিজের জীবনের ওপর নারীর অধিকারকে সর্বজনীন ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলে তাঁর শরীরের এই ইতিহাস যাচাই করে বিক্রির বৈধতা নির্ধারণের প্রয়োজনই হতো না। নারীর স্বাধীনতা তাঁর জন্মগত অধিকার; নিজের জীবন ও শরীরের ওপর কর্তৃত্ব তাঁর নিজের।

ক্রয় ফেরত দেওয়ার হিসাবটিও তাৎপর্যপূর্ণ। মূল্য ছিল চার হাজার, ফেরত পাওয়া গেল তিন হাজার, ক্ষতি হলো এক হাজার। নারীটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ফল অর্থের হিসাবে নথিবদ্ধ হয়েছে। তাঁর নিজের কাছে এই কেনাবেচার অর্থ কী ছিল, তিনি কার সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন, কিংবা ক্রেতার কাছে যেতে সম্মত ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে বর্ণনাটি কোনো বক্তব্য সংরক্ষণ করেনি। লেনদেনের অর্থমূল্য, ক্রেতার ক্ষতি এবং শাসকের নির্দেশের বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে বিক্রিত নারীর বক্তব্যের অনুপস্থিতি দাসব্যবস্থার ক্ষমতাবিন্যাসকে প্রকাশ করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন পুরুষ ক্রেতা, বিক্রেতা ও শাসক; সিদ্ধান্তের বিষয়বস্তু একজন নারী।

আবদুল্লাহর সঙ্গে উমরের বিশেষ ঘনিষ্ঠতার তথ্যটিও বর্ণনায় স্পষ্ট। খলিফার ঘনিষ্ঠ একজন সাহাবি নারী কিনছেন, অপর ব্যক্তি তাঁকে বিক্রি করছেন, আর সেই লেনদেন নিয়ে খলিফার হস্তক্ষেপ ঘটছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিচিত পরিসরের মধ্যেই নারীকে সম্পত্তি হিসেবে হস্তান্তরের এই কার্যক্রম চলছিল। এই ঘটনায় উমর নির্দিষ্ট বিক্রয়টি ফিরিয়ে দিয়েছেন; ক্রেতা নারীটিকে ফেরত দিয়েছেন এবং অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। একজন নারীকে প্রথমে চার হাজার মূল্যের ক্রয়যোগ্য সম্পত্তি এবং পরে ফেরতযোগ্য সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করাই এখানে দাসবাজারের প্রত্যক্ষ কার্যপদ্ধতি।


দশ উটনীর বিনিময়ে স্বাধীন মানুষ বিক্রি: সুয়াইবিত–নুআইমানের বর্ণনা

হাদিসসাহিত্যে স্বাধীন একজন মানুষকে দাস পরিচয়ে বিক্রি করার একটি কাহিনিও সংরক্ষিত আছে। ‘সুনান ইবন মাজাহ’-এর পাঠে বিক্রেতা সুয়াইবিত ইবন হারমালা, আর বিক্রিত ব্যক্তি নুআইমান। দুজনকেই বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বলা হয়েছে। খাদ্য দিতে অস্বীকৃতির প্রতিশোধ হিসেবে একজন আরেকজনকে নিজের দাস বলে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন। দাম নির্ধারিত হয় দশটি তরুণী উটনী। দারুসসালামের মূল্যায়নে বর্ণনাটি দুর্বল। এই পাঠে স্বাধীনতা অস্বীকার, মিথ্যা মালিকানা দাবি, গলায় বাঁধন দেওয়া এবং ঘটনাটি শুনে মুহাম্মদ ও সাহাবিদের হাসির বিবরণ একসঙ্গে রয়েছে। [42]

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَمْعَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ عَبْدِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ خَرَجَ أَبُو بَكْرٍ فِي تِجَارَةٍ إِلَى بُصْرَى قَبْلَ مَوْتِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِعَامٍ وَمَعَهُ نُعَيْمَانُ وَسُوَيْبِطُ بْنُ حَرْمَلَةَ وَكَانَا شَهِدَا بَدْرًا وَكَانَ نُعَيْمَانُ عَلَى الزَّادِ وَكَانَ سُوَيْبِطٌ رَجُلاً مَزَّاحًا فَقَالَ لِنُعَيْمَانَ أَطْعِمْنِي. قَالَ حَتَّى يَجِيءَ أَبُو بَكْرٍ. قَالَ فَلأُغِيظَنَّكَ. قَالَ فَمَرُّوا بِقَوْمٍ فَقَالَ لَهُمْ سُوَيْبِطٌ تَشْتَرُونَ مِنِّي عَبْدًا لِي قَالُوا نَعَمْ. قَالَ إِنَّهُ عَبْدٌ لَهُ كَلاَمٌ وَهُوَ قَائِلٌ لَكُمْ إِنِّي حُرٌّ. فَإِنْ كُنْتُمْ إِذَا قَالَ لَكُمْ هَذِهِ الْمَقَالَةَ تَرَكْتُمُوهُ فَلاَ تُفْسِدُوا عَلَىَّ عَبْدِي. قَالُوا لاَ بَلْ نَشْتَرِيهِ مِنْكَ. فَاشْتَرَوْهُ مِنْهُ بِعَشْرِ قَلاَئِصَ ثُمَّ أَتَوْهُ فَوَضَعُوا فِي عُنُقِهِ عِمَامَةً أَوْ حَبْلاً. فَقَالَ نُعَيْمَانُ إِنَّ هَذَا يَسْتَهْزِئُ بِكُمْ وَإِنِّي حُرٌّ لَسْتُ بِعَبْدٍ. فَقَالُوا قَدْ أَخْبَرَنَا خَبَرَكَ. فَانْطَلَقُوا بِهِ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَأَخْبَرُوهُ بِذَلِكَ. قَالَ فَاتَّبَعَ الْقَوْمَ وَرَدَّ عَلَيْهِمُ الْقَلاَئِصَ وَأَخَذَ نُعَيْمَانَ. قَالَ فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَخْبَرُوهُ. قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَصْحَابُهُ مِنْهُ حَوْلاً.

বাংলা অনুবাদ: আবু বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াকি আমাদের যামআ ইবন সালিহের সূত্রে, তিনি যুহরির সূত্রে, তিনি ওয়াহব ইবন আবদ ইবন যামআর সূত্রে, তিনি উম্মে সালামার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অপর বর্ণনাপথে আলি ইবন মুহাম্মদ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াকি আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যামআ ইবন সালিহ আমাদের যুহরির সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহব ইবন যামআর সূত্রে, তিনি উম্মে সালামার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। উম্মে সালামা বলেন, “নবীর মৃত্যুর এক বছর আগে আবু বকর ব্যবসার উদ্দেশ্যে বুসরায় যান। তাঁর সঙ্গে নুআইমান ও সুয়াইবিত ইবন হারমালা ছিলেন। তাঁরা দুজনই বদরযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্বে ছিলেন নুআইমান। সুয়াইবিত খুব রসিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নুআইমানকে বললেন, ‘আমাকে খেতে দাও।’ তিনি বললেন, ‘আবু বকর আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।’ সুয়াইবিত বললেন, ‘তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে রাগিয়ে ছাড়ব।’ তাঁরা একদল লোকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সুয়াইবিত তাদের বললেন, ‘তোমরা কি আমার কাছ থেকে আমার একটি দাস কিনবে?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘সে এমন এক দাস, যে অনেক কথা বলে। সে তোমাদের বলবে, আমি স্বাধীন মানুষ। সে এই কথা বললে তোমরা যদি তাকে ছেড়ে দাও, তাহলে আমার দাসকে আমার জন্য বিগড়ে দিয়ো না।’ তারা বলল, ‘না, আমরা তোমার কাছ থেকে তাকে কিনব।’ তারা দশটি তরুণী উটনীর বিনিময়ে তাঁকে কিনল। তারপর তাঁর কাছে এসে তাঁর গলায় পাগড়ি অথবা দড়ি পেঁচিয়ে দিল। নুআইমান বললেন, ‘এই ব্যক্তি তোমাদের সঙ্গে ঠাট্টা করছে। আমি স্বাধীন মানুষ; আমি দাস নই।’ তারা বলল, ‘সে আগেই তোমার কথা আমাদের জানিয়েছে।’ তারপর তারা তাঁকে নিয়ে চলে গেল। আবু বকর এলে তাঁকে ঘটনাটি জানানো হলো। তিনি তাদের অনুসরণ করলেন, তাদের উটনীগুলো ফিরিয়ে দিলেন এবং নুআইমানকে ফিরিয়ে আনলেন। তাঁরা নবীর কাছে ফিরে তাঁকে ঘটনাটি জানালে নবী ও তাঁর সাহাবিরা ঘটনাটি নিয়ে এক বছর ধরে হাসতেন।”

ক্রেতাদের রাজি করানোর কৌশলটি ছিল ভুক্তভোগীর প্রতিবাদ আগেই অকার্যকর করে দেওয়া। সুয়াইবিত তাঁদের বলে রেখেছেন, লোকটি নিজেকে স্বাধীন বলবে। ফলে নুআইমান সত্য কথাটি বলার পরেও সেই বক্তব্যকে তাঁর মুক্তির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। বিক্রেতার আগাম নির্দেশ ক্রেতাদের কাছে তাঁর নিজের পরিচয়ের ঘোষণার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দাসবাজারের এই চিত্রে একজন মানুষের “আমি স্বাধীন” বক্তব্যকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে। বিক্রেতার সুবিধার্থে তৈরি গল্পের কাছে বিক্রিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর পরাজিত হয়েছে।

গলায় পাগড়ি বা দড়ি পেঁচিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটি সরাসরি শারীরিক নিয়ন্ত্রণ। বিক্রিত ব্যক্তি প্রতিবাদ করছেন, আর ক্রেতারা বাঁধন দিয়ে তাঁকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এখানে রসিকতার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আরেকজনের চলাফেরার স্বাধীনতা এবং তাঁকে দাস করে নিয়ে যাওয়ার বাস্তব ভয়। বিক্রেতা তাঁর সঙ্গীকে ক্ষুব্ধ করার জন্য এই ব্যবস্থা করেছেন; ক্রেতারা মানুষ হস্তান্তরের বিনিময়ে দশটি উটনী দিয়েছেন। ঠাট্টার উদ্দেশ্য ও লেনদেনের বাস্তব কার্যক্রম একই ঘটনায় একত্র হয়েছে। আধুনিক মানবাধিকারভিত্তিক বিচারে মিথ্যা পরিচয়ে কাউকে বিক্রি করে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার হাতে তুলে দেওয়া গুরুতর সহিংসতা।


মুসনাদ আহমাদের পাঠে বিক্রেতা নুআইমান, বিক্রিত ব্যক্তি সুয়াইবিত

‘মুসনাদ আহমাদ’-এ একই কাহিনির পাত্রদুটির ভূমিকা উল্টে গেছে। এই পাঠে খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্বে সুয়াইবিত, খাবার চাইছেন নুআইমান, আর সুয়াইবিতকে দাস পরিচয়ে বিক্রি করছেন নুআইমান। ক্রেতাদের পরিচয়েও অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে: তাঁরা বিক্রির জন্য বাহন নিয়ে এসেছিলেন। নুআইমান তাঁদের কাছে একজন সুস্থসবল আরব দাস কেনার প্রস্তাব দেন। ইবন মাজাহ ও আহমাদের উদ্ধৃত বর্ণনাপথ যামআ ইবন সালিহ ও যুহরির কাছে মিলেছে; একই কাহিনির এই দুই পাঠ পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন সাক্ষ্য নয়। [43]

حدثنا روح، حدثنا زمعة بن صالح، قال: سمعت ابن شهاب، يحدث عن عبد الله بن وهب بن زمعة عن أم سلمة أن أبا بكر خرج تاجرا إلى بصرى، ومعه نعيمان وسويبط بن حرملة، وكلاهما بدري، وكان سويبط على الزاد، فجاءه نعيمان، فقال: أطعمني، فقال: لا، حتى يأتي أبو بكر، وكان نعيمان رجلا مضحاكا مزاحا، فقال: لأغيظنك، فذهب إلى ناس جلبوا ظهرا، فقال: ابتاعوا مني غلاما عربيا فارها، وهو ذو لسان، ولعله يقول: أنا حر، فإن كنتم تاركيه لذلك، فدعوني، لا تفسدوا علي غلامي، فقالوا: بل نبتاعه منك بعشر قلائص. فأقبل بها يسوقها، وأقبل بالقوم حتى عقلها، ثم قال للقوم: دونكم هو هذا، فجاء القوم، فقالوا: قد اشتريناك. قال سويبط: هو كاذب، أنا رجل حر، فقالوا: قد أخبرنا خبرك، وطرحوا الحبل في رقبته، فذهبوا به، فجاء أبو بكر فأخبر، فذهب هو وأصحاب له، فردوا القلائص وأخذوه، فضحك منها النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه حولا.

বাংলা অনুবাদ: রাওহ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যামআ ইবন সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ইবন শিহাবকে আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহব ইবন যামআর সূত্রে, তিনি উম্মে সালামার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আবু বকর ব্যবসার উদ্দেশ্যে বুসরায় যান। তাঁর সঙ্গে নুআইমান ও সুয়াইবিত ইবন হারমালা ছিলেন। তাঁরা দুজনই বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। খাদ্যসামগ্রীর দায়িত্বে ছিলেন সুয়াইবিত। নুআইমান তাঁর কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে খেতে দাও।’ তিনি বললেন, ‘না, আবু বকর আসা পর্যন্ত নয়।’ নুআইমান খুব হাসিখুশি ও রসিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে রাগিয়ে ছাড়ব।’ তারপর তিনি এমন কিছু লোকের কাছে গেলেন, যারা বিক্রির জন্য বাহন নিয়ে এসেছিল। তিনি বললেন, ‘আমার কাছ থেকে একজন সুস্থসবল আরব দাস কেনো। সে কথাবার্তায় পটু; সম্ভবত সে বলবে, আমি স্বাধীন। এই কারণে যদি তোমরা তাকে ছেড়ে দাও, তাহলে আমাকে থাকতে দাও; আমার দাসকে আমার জন্য বিগড়ে দিয়ো না।’ তারা বলল, ‘আমরা দশটি তরুণী উটনীর বিনিময়ে তাকে তোমার কাছ থেকে কিনব।’ তিনি উটনীগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে এলেন এবং লোকগুলোকে সঙ্গে আনলেন। উটনীগুলো বেঁধে তিনি লোকগুলোকে বললেন, ‘এই যে, সে এই লোক।’ তারা তাঁর কাছে এসে বলল, ‘আমরা তোমাকে কিনেছি।’ সুয়াইবিত বললেন, ‘সে মিথ্যা বলছে। আমি স্বাধীন মানুষ।’ তারা বলল, ‘সে তোমার কথা আমাদের আগেই জানিয়েছে।’ তারা তাঁর গলায় দড়ি দিয়ে তাঁকে নিয়ে চলে গেল। আবু বকর এলে তাঁকে জানানো হলো। তিনি তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে গেলেন। তাঁরা উটনীগুলো ফিরিয়ে দিলেন এবং তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন। নবী ও তাঁর সাহাবিরা এই ঘটনা নিয়ে এক বছর ধরে হাসতেন।”

বর্ণনার উৎসদাস পরিচয়ে বিক্রয়কারীবিক্রিত স্বাধীন ব্যক্তিমূল্য ও উদ্ধার
সুনান ইবন মাজাহ ৩৭১৯সুয়াইবিত ইবন হারমালানুআইমানদশটি তরুণী উটনী; আবু বকর উটনী ফিরিয়ে দিয়ে নুআইমানকে উদ্ধার করেন।
মুসনাদ আহমাদ ২৬৬৮৭নুআইমানসুয়াইবিত ইবন হারমালাদশটি তরুণী উটনী; আবু বকর ও তাঁর সঙ্গীরা উটনী ফিরিয়ে দিয়ে সুয়াইবিতকে উদ্ধার করেন।

দুই পাঠে ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি বিরোধ আছে। ইবন মাজাহর পাঠে যিনি বিক্রেতা, আহমাদের পাঠে তিনিই বিক্রিত ব্যক্তি। ঘটনার ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণে এই বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ। উভয় পাঠে আবু বকরের ভূমিকা বিক্রয় বাতিল করে সঙ্গীকে উদ্ধার করা। উভয় পাঠেই ক্রেতারা স্বাধীন মানুষটির প্রতিবাদ উপেক্ষা করে গলায় বাঁধন দিয়ে তাঁকে নিয়ে যায় এবং পরে উটনী ফেরত পেয়ে তাঁকে ছাড়ে। কাহিনির এই কাঠামোয় মানুষের ওপর মালিকানা দাবি কার্যকর করতে ক্রেতার অর্থ ও শারীরিক বল একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। বিক্রিত ব্যক্তির প্রতিবাদের ওপর ক্রেতারা নিজেদের ক্রয়দাবিকে প্রাধান্য দিয়েছে।


মানুষ বিক্রির কাহিনিকে ‘সুন্দর চরিত্রের’ উদাহরণ করা

কাহিনিটির পরবর্তী ধর্মীয় উপস্থাপনাও সমালোচনার দাবি রাখে। ইসলামওয়েবে প্রকাশিত ইউসুফ আল-কারাদাবির ‘ফান্নুল ফুকাহাতি ওয়াল মারাহ’ প্রবন্ধে ঘটনাটি হাস্যরসের উদাহরণ হিসেবে স্থান পেয়েছে। সেখানে সুয়াইবিতের জীবনী থেকে ইবন আবদিল বারের এই মূল্যায়ন উদ্ধৃত হয়েছে: [44]

وكان مزاحاً يفرط في الدعابة، وله قصة ظريفة مع نعيمان وأبي بكر الصديق رضي الله عنهم، نذكرها لما فيها من الظرف، وحسن الخُلق.

বাংলা অনুবাদ: তিনি রসিক ছিলেন এবং ঠাট্টায় অতিরিক্ত এগিয়ে যেতেন। নুআইমান ও আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর একটি মজার ঘটনা রয়েছে—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এতে যে রসিকতা ও সুন্দর চরিত্র রয়েছে, তার জন্য আমরা ঘটনাটি উল্লেখ করছি।

‘সুন্দর চরিত্র’ মূল্যায়নটি এই ঘটনায় গুরুতর নৈতিক ব্যর্থতা। একজনের স্বাধীন পরিচয় অস্বীকার করে তাঁকে বিক্রি করা, তাঁর প্রতিবাদ উপেক্ষার ব্যবস্থা করা এবং গলায় বাঁধন দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে প্রশংসনীয় রসিকতা বলা হয়েছে। মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করলে এই আচরণ প্রতারণা ও নিপীড়ন হিসেবে চিহ্নিত হয়। সাহাবির রসিকতাকে কেন্দ্র করায় ভুক্তভোগীর ওপর প্রয়োগ করা বলপ্রয়োগ আনন্দের উপাদানে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের আচরণকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণের এই পদ্ধতি নিষ্ঠুরতাকেও চারিত্রিক গুণ হিসেবে সাজিয়ে উপস্থাপন করেছে।

দাসবাজারের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষমতাটি এই কাহিনিতে স্পষ্ট: একজন মানুষের নিজের পরিচয় ও নিজের শরীরের ওপর কর্তৃত্ব ক্রেতার দাবির কাছে পরাজিত হতে পারে। অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; গলার বাঁধন সেই দাবিকে কার্যকর করছে। এর সঙ্গে হাসি ও রসিকতার প্রশংসা যুক্ত হলে মানুষের পণ্য হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটিও বিনোদনে পরিণত হয়। মানুষ কেনাবেচার ব্যবস্থার প্রতি এমন অভ্যস্ততা স্বাধীনতা হরণের ঘটনাকেও হাসির উপাদান করে তুলেছে।


আয়িশার বারিরা ক্রয়: মুক্তির মূল্য ও ওয়ালার অধিকার নিয়ে দরকষাকষি

মুহাম্মদের স্ত্রী আয়িশাও মানুষ কেনার লেনদেনে অংশ নিয়েছেন। বারিরাকে কেনার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে মুক্ত করা। বারিরা নিজের মুক্তির জন্য মালিকদের সঙ্গে অর্থ পরিশোধের চুক্তি করেছিলেন এবং সেই অর্থ জোগাড় করতে আয়িশার সাহায্য চেয়েছিলেন। আয়িশা মালিকদের অর্থ দিয়ে তাঁকে কিনে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনায় মুক্তিপ্রার্থী নারী, বিক্রেতা মালিক, ক্রেতা ও ধর্মীয় বিধানদাতা—চারটি ভূমিকা স্পষ্টভাবে উপস্থিত। নারীটি নিজের স্বাধীনতার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন; তাঁকে বিক্রি করে মূল্য গ্রহণ করছেন তাঁর মালিকেরা; তাঁকে কিনে মুক্ত করছেন আয়িশা; আর মুক্তির পরে ওয়ালার অধিকার কার হবে, তার নিষ্পত্তি করছেন মুহাম্মদ। [45]

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْنِي بَرِيرَةُ فَقَالَتْ كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ، فَأَعِينِينِي. فَقَالَتْ إِنْ أَحَبُّوا أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ، وَيَكُونَ وَلاَؤُكِ لِي فَعَلْتُ. فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا، فَقَالَتْ لَهُمْ، فَأَبَوْا عَلَيْهَا، فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِهِمْ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ، فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَبَوْا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ الْوَلاَءُ لَهُمْ. فَسَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْ عَائِشَةُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ “خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمُ الْوَلاَءَ، فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ”. فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ “مَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهْوَ بَاطِلٌ، وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ، قَضَاءُ اللَّهِ أَحَقُّ، وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ، وَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ”.

বাংলা অনুবাদ: ইসমাইল আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মালিক আমাদের হিশাম ইবন উরওয়ার সূত্রে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আয়িশার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আয়িশা বলেন, “বারিরা আমার কাছে এসে বললেন, ‘আমি আমার মালিকদের সঙ্গে নয় উকিয়ার বিনিময়ে মুক্তির চুক্তি করেছি। প্রতি বছর এক উকিয়া দেব। আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’ আয়িশা বললেন, ‘তারা যদি রাজি হয় যে, আমি তাদের এই অর্থ গুনে দেব এবং তোমার ওয়ালা আমার হবে, তাহলে আমি তা করব।’ বারিরা তাঁর মালিকদের কাছে গিয়ে তাঁদের প্রস্তাবটি জানালেন। তাঁরা রাজি হলেন না। তিনি তাঁদের কাছ থেকে ফিরে এলেন; তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে ছিলেন। বারিরা বললেন, ‘আমি তাঁদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। তাঁরা রাজি হননি; তাঁরা চান ওয়ালা তাঁদেরই থাকবে।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি শুনলেন এবং আয়িশাও নবীকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, ‘তাঁকে গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য ওয়ালার শর্ত মেনে নাও; ওয়ালা তো তারই, যে মুক্ত করে।’ আয়িশা তা করলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেন, ‘লোকদের কী হয়েছে যে, তারা এমন শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই? আল্লাহর কিতাবে নেই এমন যেকোনো শর্ত বাতিল, একশটি শর্ত হলেও। আল্লাহর ফয়সালা অধিক ন্যায্য এবং আল্লাহর শর্ত অধিক দৃঢ়। ওয়ালা তো তারই, যে মুক্ত করে।’”

বারিরার মুক্তিচুক্তিতে অর্থের পরিমাণ ও পরিশোধের সময় নির্ধারিত ছিল। নয় উকিয়া, প্রতি বছর এক উকিয়া। নিজের স্বাধীনতা অর্জন করতে তাঁকে এই অর্থের ব্যবস্থা করতে হচ্ছিল। একজন মানুষকে আটকে রাখার পর তাঁর কাছ থেকেই মুক্তির মূল্য আদায় করার ব্যবস্থায় স্বাধীনতা একটি পাওনা অর্থের বিনিময়যোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়। মালিকেরা সেই মূল্য গ্রহণের পাশাপাশি মুক্তির পরের ওয়ালাও নিজেদের জন্য রাখতে চেয়েছিলেন। ফলে দরকষাকষির বিষয় ছিল বর্তমান মূল্য এবং মুক্ত মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আইনগত সম্পর্ক—দুটিই।

মুহাম্মদের সিদ্ধান্তে ওয়ালার শর্তটি অকার্যকর হয়েছে এবং অধিকারটি মুক্তিদাতার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। বিক্রেতাদের অর্থ দিয়ে বারিরাকে কেনার প্রক্রিয়া কার্যকর থেকেছে। বিক্রেতার বিক্রয়ক্ষমতা স্বীকার করেই তাঁর আরোপিত একটি বিশেষ শর্ত বাতিল করা হয়েছে। আয়িশার দেওয়া অর্থ বারিরার মুক্তি ঘটিয়েছে এবং একই লেনদেনে মালিকেরা মানুষ বিক্রির মূল্য পেয়েছেন। একজন নারীর স্বাধীনতার পথে অপরিহার্য বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত অন্য মানুষের মালিকানা; সেই বাধা অতিক্রম করতে আরেক ব্যক্তিকে মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে।


ওয়ালা: মুক্তির পরেও সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের দাবি

ওয়ালা একটি আইনগত সম্পর্ক, যার সঙ্গে উত্তরাধিকারের অধিকার যুক্ত। আল-কাসানি ‘বাদায়িউস সানায়ি’-তে এই অধিকারের আর্থিক কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বর্ণিত বিধানে মুক্তিদাতা উত্তরাধিকারের নির্দিষ্ট ক্রমে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পত্তি পেতে পারেন। নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারীরা থাকলে তাঁদের অংশ দেওয়ার পরে অবশিষ্ট সম্পত্তির ওপরও তাঁর দাবি তৈরি হতে পারে। [46]

وأما صفته فله صفات منها أن الإرث به عند وجود سبب ثبوته وشرطه من طريق التعصيب ومعنى هذا الكلام أن المعتق إنما يرث بالولاء مال المعتق بطريق العصوبة ويكون المعتق آخر عصبات المعتق مقدما على ذوي الأرحام وعلى أصحاب الفرائض في استحقاق ما فضل من سهامهم حتى إنه لو لم يكن للمعتق وارث أصلا، أو كان له ذو الرحم كان الولاء للمعتق، وإن كان له أصحاب الفرائض فإنه يعطى فرائضهم أولا، فإن فضل شيء يعطى المعتق وإلا فلا شيء له ولا يرد الفاضل على أصحاب الفرائض، وإن كانوا ممن يحتمل الرد عليه، وهذا قول عامة العلماء، وهو قول علي وابن عباس وزيد رضي الله عنهم.

বাংলা অনুবাদ: এর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো, এর প্রতিষ্ঠার কারণ ও শর্ত পাওয়া গেলে আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ হয়। এর অর্থ, মুক্তিদাতা ওয়ালার মাধ্যমে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন আসাবা হিসেবে। মুক্তিদাতা মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির আসাবাদের মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে থাকেন; তবে দূরসম্পর্কীয় রক্তাত্মীয়দের আগে এবং নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারীদের অংশ দেওয়ার পরে অবশিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর অগ্রাধিকার পান। এমনকি মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোনো উত্তরাধিকারী না থাকলে, অথবা দূরসম্পর্কীয় রক্তাত্মীয় থাকলে, ওয়ালার অধিকার মুক্তিদাতার জন্য থাকবে। আর নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারী থাকলে প্রথমে তাঁদের অংশ দেওয়া হবে। কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা মুক্তিদাতাকে দেওয়া হবে; অবশিষ্ট না থাকলে তিনি কিছু পাবেন না। অবশিষ্ট অংশ নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারীদের ফেরত দেওয়া হবে না, যদিও তাঁরা এমন ব্যক্তি হন, যাঁদের অবশিষ্ট ফেরত দেওয়া সম্ভব। এটি সাধারণভাবে আলেমদের মত এবং আলি, ইবন আব্বাস ও যায়িদেরও মত—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

বারিরার মালিকদের ওয়ালা ধরে রাখার শর্তটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব এই বিধানে স্পষ্ট হয়। তাঁরা তাঁকে বিক্রি করে মূল্য নিতে চাইছিলেন এবং মুক্তির পরে তাঁর সঙ্গে যুক্ত উত্তরাধিকারমূলক অধিকারও রাখতে চাইছিলেন। মুহাম্মদের ফয়সালায় সেই অধিকার মুক্তিদাতার হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষের অর্জিত সম্পত্তির ওপর পূর্ববর্তী দাসসম্পর্ক থেকে উদ্ভূত একটি দাবি এভাবে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। মানুষের জন্মগত সমান স্বাধীনতার নীতিতে কারও মুক্তির জন্য মূল্য দেওয়ার কারণে তাঁর ভবিষ্যৎ সম্পত্তির ওপর বিশেষ উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। দাসমুক্তির সঙ্গে এই অধিকার জুড়ে দেওয়ায় অতীতের মালিকানা-সম্পর্ক মুক্ত মানুষের পরবর্তী জীবনেও আর্থিক প্রভাব বিস্তার করেছে।

আয়িশার ক্রয় বারিরাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছে। একই ঘটনায় বারিরার সাহায্যপ্রার্থনা, মালিকদের মূল্য গ্রহণ এবং ওয়ালা নিয়ে বিরোধ দাসব্যবস্থার গভীর অন্যায়টিও প্রকাশ করে। বারিরাকে তাঁর নিজের স্বাধীনতার জন্য অন্যের অর্থ ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। একজন মানুষের স্বাধীনতা পাওয়ার এই ব্যবস্থা এমন এক পূর্বশর্ত মেনে চলে, যেখানে অন্য ব্যক্তি বৈধভাবে তাঁকে বিক্রি করতে পারেন। মানুষের ওপর প্রতিষ্ঠিত সেই মালিকানাই স্বাধীনতাকে মালিকের বিক্রয়সম্মতি, ক্রেতার সামর্থ্য এবং মুক্তিদানের সিদ্ধান্তের অধীন করেছে।


আয়িশার দাসী বিক্রি: মুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে কঠোর মালিকের হাতে হস্তান্তর

আয়িশার মালিকানাধীন অন্য এক নারীর ঘটনায় দাসী বিক্রিকে শাস্তি দেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্ণনা অনুসারে, আয়িশা ওই নারীকে নিজের মৃত্যুর পরে মুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে জাদুর অভিযোগ ওঠে। ‘মুসনাদ আহমাদ’-এর পাঠে নারীটি বলেছেন, তিনি আয়িশার মৃত্যু চেয়েছিলেন, যাতে নিজে মুক্ত হতে পারেন। এরপর আয়িশা তাঁকে আরবদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর মালিকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন। [47]

عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَخِي عَمْرَةَ، وَلَا أَدْرِي هَذَا أَوْ غَيْرَهُ، عَنْ عَمْرَةَ قَالَتِ: اشْتَكَتْ عَائِشَةُ فَطَالَ شَكْوَاهَا، فَقَدِمَ إِنْسَانٌ الْمَدِينَةَ يَتَطَبَّبُ، فَذَهَبَ بَنُو أَخِيهَا يَسْأَلُونَهُ، عَنْ وَجَعِهَا، فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنَّكُمْ تَنْعَتُونَ نَعْتَ امْرَأَةٍ مَطْبُوبَةٍ، قَالَ: هَذِهِ امْرَأَةٌ مَسْحُورَةٌ سَحَرَتْهَا جَارِيَةٌ لَهَا، قَالَتْ: نَعَمْ أَرَدْتُ أَنْ تَمُوتِي فَأُعْتَقَ، قَالَ: وَكَانَتْ مُدَبَّرَةً، قَالَتْ: “بِيعُوهَا فِي أَشَدِّ الْعَرَبِ مَلَكَةً، وَاجْعَلُوا ثَمَنَهَا فِي مِثْلِهَا”.

বাংলা অনুবাদ: সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদের আমরার ভাতিজার সূত্রে বর্ণনা করেছেন—আমি জানি না, এই ব্যক্তি না অন্য কেউ—তিনি আমরার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা বলেন, “আয়িশা অসুস্থ হলেন এবং তাঁর অসুস্থতা দীর্ঘ হলো। চিকিৎসা করেন এমন এক ব্যক্তি মদিনায় এলেন। আয়িশার ভাতিজারা তাঁর অসুস্থতা সম্পর্কে জানতে তাঁর কাছে গেলেন। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম, তোমরা এমন এক নারীর লক্ষণ বর্ণনা করছ, যাঁকে জাদু করা হয়েছে।’ তিনি বললেন, ‘এই নারীকে জাদু করা হয়েছে; তাঁর এক দাসী তাঁকে জাদু করেছে।’ দাসী বলল, ‘হ্যাঁ, আমি চেয়েছিলাম আপনি মারা যান, যাতে আমি মুক্ত হতে পারি।’ বর্ণনাকারী বলেন, নারীটি আয়িশার মৃত্যুর পরে মুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত ছিলেন। আয়িশা বললেন, ‘তাঁকে আরবদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর মালিকদের কাছে বিক্রি করো এবং তাঁর মূল্য দিয়ে তাঁর মতো আরেকজনকে কেনো।’”

ইসলামওয়েবের ফতোয়ায় এই ঘটনার আহমাদীয় বর্ণনা সম্পর্কে মুসনাদের সম্পাদনাকারীদের এবং আলবানির ইতিবাচক মূল্যায়নও উল্লেখ করা হয়েছে। সনদের মূল্যায়ন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য: [48]

وصححه محققو المسند، وقال الألباني: إسناده صحيح، ورواه مالك، وعبد الرزاق، وغيرهما.

বাংলা অনুবাদ: মুসনাদের সম্পাদনাকারীরা একে সহিহ বলেছেন। আলবানি বলেছেন, এর সনদ সহিহ। মালিক, আবদুর রাজ্জাক এবং অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন।

নারীটির মুক্তি আয়িশার মৃত্যুর সঙ্গে বাঁধা ছিল। ফলে নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য তাঁকে মালিকের মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এই ব্যবস্থাই বর্ণনায় উল্লিখিত স্বার্থসংঘাত তৈরি করেছে: মালিক বেঁচে থাকলে নারীটি দাসী থাকবেন, মালিক মারা গেলে মুক্ত হবেন। তাঁর মুক্তির আকাঙ্ক্ষার জবাবে আরও কঠোর মালিকের কাছে বিক্রি করার নির্দেশ এসেছে। এখানে ক্রেতা নির্বাচনের মানদণ্ড করা হয়েছে তাঁর কঠোরতাকে। একজন মানুষকে কার হাতে তুলে দিলে বেশি কষ্ট পেতে পারেন, সেই বিবেচনা বিক্রির সিদ্ধান্তে সরাসরি কাজ করেছে।

অসুস্থতার কারণ হিসেবে জাদুর অভিযোগ এবং নারীটির স্বীকারোক্তি বর্ণনার বক্তব্য। এই কাহিনিতে মানুষ বিক্রির ক্ষমতাটি সম্পূর্ণ প্রত্যক্ষ: আয়িশা নিজের মালিকানাধীন নারীকে বিক্রির নির্দেশ দিচ্ছেন এবং সেই মূল্য দিয়ে অন্য একজনকে কেনার নির্দেশও দিচ্ছেন। একজনের শরীরের ওপর মালিকানা বিক্রি করে আরেকজনের ওপর মালিকানা অর্জনের ব্যবস্থা রয়েছে। নারীটির ভবিষ্যৎ বাসস্থান, শ্রম এবং কার অধীনে জীবন কাটাবেন, তা নির্ধারিত হচ্ছে মালিকের প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্তে। দাসবাজার ব্যক্তিগত ক্ষোভ কার্যকর করার একটি উপায় হয়েছে।


মুওয়াত্তার বিস্তারিত পাঠ: ‘তুমি কখনো মুক্ত হবে না’

আবু মুসআব আয-যুহরির বর্ণিত ‘মুওয়াত্তা’-য় ঘটনাটির আরও বিস্তৃত বিবরণ আছে। সেখানে আয়িশা নারীটিকে বলেছেন, তিনি কখনো মুক্ত হবেন না; তারপর তাঁকে খারাপ ব্যবহার করেন এমন বেদুইনদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন। এই পাঠে বিক্রয়মূল্য দিয়ে অন্য একজনকে কিনে মুক্ত করার নির্দেশও আছে। একজনের স্বাধীনতার পথ বন্ধ করা এবং তাঁর বিক্রয়মূল্য দিয়ে অন্যজনকে মুক্ত করা একই সিদ্ধান্তের দুটি অংশ। [49]

حدثنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الرِّجَالِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أنها أعتقت جارية لها عن دبر منها ثم إن عائشة مرضت بعد ذلك ما شاء الله فدخل عليها سندي فقال: أنك مطبوبة. فقالت: من طبني؟ قال: امرأة من نعتها كذا وكذا فوصفها وقال: في حجرها صبي قد بال فقالت عائشة: ادعوا لي فلانة لجارية لها تخدمها فوجدوها في بيت جيران لها في حجرها صبي قد بال فقالت: حتى أغسل بول هذا الصبي فغسلته ثم جاءت فقالت لها عائشة: أسحرتيني؟ فقالت: نعم. فقالت: لم؟ قالت: احببت العتق. فقالت عائشة: احببت العتق فوالله لا تعتقي أبدا فأمرت عائشة ابن أخيها أن يبيعها من الأعراب ممن يسىء ملكتها. قالت: ثم ابتع لي بثمنها رقبة حتى أعتقها. ففعل قالت عمرة: فلبثت عائشة ما شاء الله من الزمان ثم أنها رأت في النوم اغتسلي من ثلاثة آبار يمد بعضها بعضا فإنك تشفين قالت عمرة: فدخل على عائشة إسماعيل بن عبد الله بن أبي بكر وعبد الرحمان بن سعد بن زرارة فذكرت لهما عائشة التي رأت فانطلقا إلى قناة فوجدا آباراً ثلاثاً يمد بعضها بعضا فاستقوا من كل بئر منها ثلاث شجب حتى ملؤا الشجب من جميعهن ثم أتوا به عائشة فاغتسلت به، فشفيت.

বাংলা অনুবাদ: আবু মুসআব আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মালিক আমাদের আবুর রিজাল মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমানের সূত্রে, তিনি তাঁর মা আমরার সূত্রে, তিনি আয়িশার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা নিজের এক দাসীকে তাঁর মৃত্যুর পরে মুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এরপর আয়িশা অসুস্থ হলেন এবং কিছুদিন অসুস্থ থাকলেন। এক সিন্ধি ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন, “আপনাকে জাদু করা হয়েছে।” আয়িশা বললেন, “কে আমাকে জাদু করেছে?” তিনি বললেন, “এমন এমন বৈশিষ্ট্যের এক নারী।” তিনি তাঁর বর্ণনা দিয়ে আরও বললেন, “তাঁর কোলে এমন একটি শিশু আছে, যে প্রস্রাব করেছে।” আয়িশা তাঁর সেবায় নিয়োজিত এক দাসী সম্পর্কে বললেন, “অমুককে আমার কাছে ডাকো।” তাঁকে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে পাওয়া গেল; তাঁর কোলে এমন একটি শিশু ছিল, যে প্রস্রাব করেছিল। নারীটি বললেন, “আগে এই শিশুর প্রস্রাব ধুয়ে নিই।” তিনি তা ধুয়ে এলেন। আয়িশা তাঁকে বললেন, “তুমি আমাকে জাদু করেছ?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” আয়িশা বললেন, “কেন?” তিনি বললেন, “আমি মুক্তি চেয়েছিলাম।” আয়িশা বললেন, “তুমি মুক্তি চেয়েছিলে! আল্লাহর কসম, তুমি কখনো মুক্ত হবে না।” তারপর আয়িশা তাঁর ভাতিজাকে নির্দেশ দিলেন, তাঁকে এমন বেদুইনদের কাছে বিক্রি করতে, যারা তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে। তিনি বললেন, “তারপর তাঁর মূল্য দিয়ে আমার জন্য একজন দাস কেনো, যাতে আমি তাঁকে মুক্ত করতে পারি।” তিনি তা করলেন। আমরা বলেন, এরপর আয়িশা কিছুদিন এই অবস্থায় থাকলেন। তারপর তিনি স্বপ্নে দেখলেন, “তিনটি কূপের পানি দিয়ে গোসল করো, যেগুলো একটি অন্যটিকে পানি জোগায়; তাহলে তুমি সুস্থ হবে।” আমরা বলেন, ইসমাইল ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি বকর এবং আবদুর রহমান ইবন সাদ ইবন যুরারা আয়িশার কাছে এলেন। আয়িশা তাঁদের নিজের দেখা স্বপ্নের কথা বললেন। তাঁরা কানাতের দিকে গিয়ে তিনটি কূপ পেলেন, যেগুলো একটি অন্যটিকে পানি জোগায়। তাঁরা প্রতিটি কূপ থেকে তিনটি পুরোনো মশকে পানি তুললেন; এভাবে সব কূপের পানি দিয়ে মশকগুলো পূর্ণ করলেন। তারপর আয়িশার কাছে সেই পানি নিয়ে এলেন। আয়িশা তা দিয়ে গোসল করলেন এবং সুস্থ হলেন।

‘তুমি কখনো মুক্ত হবে না’ ঘোষণাটি ব্যক্তির জীবনের ওপর মালিকের ক্ষমতার ভয়াবহ প্রকাশ। নারীটি স্বাধীনতা চেয়েছেন; জবাবে তাঁর মুক্তি বন্ধ করার ঘোষণা এসেছে। তারপর সেই ঘোষণাকে কার্যকর করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে আরও খারাপ ব্যবহারকারী ক্রেতা। বিক্রির এই ব্যবহার মানুষকে সম্পত্তি করার পাশাপাশি শাস্তিযোগ্য সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করেছে। মালিক যাঁর ওপর ক্ষুব্ধ, তাঁকে নতুন মালিকের কাছে পাঠিয়ে তাঁর কষ্ট বাড়ানোর ব্যবস্থা করছেন। ফলে মালিক বদলানোও দমন ও প্রতিশোধের হাতিয়ার হয়েছে।

অন্য একজনকে কিনে মুক্ত করার নির্দেশ এই ঘটনায় একটি পৃথক নারীর ওপর পরিচালিত প্রতিশোধের সঙ্গে পাশাপাশি রয়েছে। বিক্রিত নারী নিজের মুক্তি হারাচ্ছেন, আর তাঁর বিক্রয়মূল্য অন্য একজনের মুক্তির খরচ জোগাচ্ছে। এই বিনিময়ে প্রথম নারীর শরীর অর্থ সংগ্রহের উপকরণ হয়েছে। একজন মানুষের স্বাধীনতা কে পাবেন আর কে পাবেন না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মালিকের হাতে কেন্দ্রীভূত। মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা এবং মুক্তি থেকে বঞ্চিত করে বিক্রি করার ক্ষমতা একই মালিকানাব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর হয়েছে।


‘খারাপ মালিক’ বলতে বেশি কাজ ও কম বিশ্রাম

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানির বর্ণিত মুওয়াত্তার একই ঘটনার ব্যাখ্যায় আবদুল হাই আল-লখনবি ‘খারাপ ব্যবহারকারী মালিক’ কথাটির ব্যবহারিক অর্থ জানিয়েছেন। তাঁর ব্যাখ্যায় বেশি কাজ করানো এবং কম বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে রয়েছে। [50]

قوله: من الأعراب أي البداوي. ممن يسيء ملكتها أي يشق عليها بكثرة خدمتها وقلة راحتها يقال: فلان حسن الملكة بفتحات أي حسن الصنع إلى مماليكه وسيئ الملكة أي يسيء صحبة المماليك كذا في النهاية.

বাংলা অনুবাদ: তাঁর কথা ‘বেদুইনদের মধ্যে’—অর্থাৎ মরুবাসীদের মধ্যে। ‘যারা তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে’—অর্থাৎ বেশি সেবা করিয়ে এবং কম বিশ্রাম দিয়ে তাঁকে কষ্ট দেবে। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি ‘হাসানুল মালাকা’—অর্থাৎ নিজের দাসদাসীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে। আর ‘সাইয়িউল মালাকা’ অর্থ দাসদাসীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। আন-নিহায়ায় এভাবেই বলা হয়েছে।

বিক্রির নির্দেশে উদ্দেশ্য হিসেবে যে কঠোরতার কথা এসেছে, এই ব্যাখ্যা তার দৈনন্দিন রূপ তুলে ধরে: অতিরিক্ত শ্রম এবং বিশ্রামের অভাব। খারাপ ব্যবহারকারী মালিকের কাছে হস্তান্তর নারীটির শ্রমজীবনকে আরও দুর্বিষহ করার উপায়। দাসীর ওপর ক্ষমতা প্রয়োগে বাজার ও শ্রমশোষণ একত্র হয়েছে। আয়িশার নির্দেশে ক্রেতার কঠোরতা নির্বাচন করা হচ্ছে; ব্যাখ্যাকারী সেই কঠোরতাকে বেশি কাজ ও কম বিশ্রামের ভাষায় প্রকাশ করছেন। মানুষের ওপর মালিকানা ব্যক্তিগত প্রতিশোধকে দীর্ঘস্থায়ী শ্রমনিপীড়নে রূপ দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।


বেত্রাঘাতের পরে দাসী বিক্রি: মুহাম্মদের নির্দেশে শাস্তি ও মালিকানা বদল

দাসী বিক্রি করার নির্দেশ মুহাম্মদের বাণী হিসেবেও সহিহ বুখারিতে সংরক্ষিত আছে। কোনো দাসীর জিনা প্রমাণিত হলে তাঁকে বেত্রাঘাত করতে বলা হয়েছে। আবার একই কাজ করলে আবার বেত্রাঘাত; তৃতীয়বার করলে বিক্রি করতে হবে, এমনকি পশমের দড়ির বিনিময়ে হলেও। এই বিধানে নারীটির যৌন আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য শারীরিক শাস্তি ও বিক্রয়ক্ষমতা পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে। মালিকের হাতে একজন মানুষকে প্রহার করার এবং পরে অন্য মালিকের কাছে হস্তান্তর করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। [51]

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم “إِذَا زَنَتِ الأَمَةُ فَتَبَيَّنَ زِنَاهَا فَلْيَجْلِدْهَا، وَلاَ يُثَرِّبْ، ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَلْيَجْلِدْهَا، وَلاَ يُثَرِّبْ، ثُمَّ إِنْ زَنَتِ الثَّالِثَةَ فَلْيَبِعْهَا، وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ”.

বাংলা অনুবাদ: আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, লাইস আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাঈদ আল-মাকবুরি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আবু হুরাইরার সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দাসী জিনা করলে এবং তাঁর জিনা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলে তাঁকে বেত্রাঘাত করবে এবং তাঁকে ভর্ৎসনা করবে না। তারপর আবার জিনা করলে তাঁকে বেত্রাঘাত করবে এবং ভর্ৎসনা করবে না। তারপর তৃতীয়বার জিনা করলে তাঁকে বিক্রি করে দেবে, এমনকি পশমের একটি দড়ির বিনিময়ে হলেও।”

এখানে নারীকে বিক্রি করা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাপনার অংশ। তাঁর যৌন আচরণের কারণে প্রথমে শরীরে আঘাত করা হচ্ছে, পরে তাঁর মালিক বদলে দেওয়ার নির্দেশ আসছে। ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মানুষের বাসস্থান, দৈনন্দিন কাজ এবং কার অধীনে থাকতে হবে, তা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা কার্যকর হচ্ছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিপূর্ণ যৌন সম্পর্কের জন্য তাঁকে বেত্রাঘাত করা এবং বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন। ধর্মীয়ভাবে কোনো সম্পর্ককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সঙ্গে অন্য মানুষের শরীরের ওপর এই শাস্তিমূলক কর্তৃত্বের অনুমোদন যুক্ত হয়েছে।

‘পশমের দড়ির বিনিময়ে হলেও’ বাক্যটি বিক্রির প্রতি তীব্র তাগিদ প্রকাশ করে। মানুষটির ওপর মালিকানা এমন একটি হস্তান্তরযোগ্য অধিকারে পরিণত হয়েছে, যার বিনিময়মূল্য খুব কম হলেও বিক্রয় সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া যায়। তাঁর শ্রম, শরীর ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর কর্তৃত্ব নতুন ক্রেতার হাতে যাবে। নারীটি কোথায় যেতে চান, কোন ব্যক্তির অধীনে থাকতে চান কিংবা এই হস্তান্তরে সম্মত কি না, সেই প্রশ্ন বিক্রয়ের নির্দেশে স্থান পায়নি। মালিকের সিদ্ধান্তই তাঁর স্থানান্তরের ভিত্তি।


তৃতীয় না চতুর্থবার: বর্ণনায় শাস্তির ধাপের পার্থক্য

বুখারির পরের বর্ণনায় আবু হুরাইরা ও যায়িদ ইবন খালিদের সূত্রে একই নির্দেশ এসেছে। সেখানে অবিবাহিত দাসীর বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। বর্ণনাকারী ইবন শিহাব তৃতীয় না চতুর্থবারের পরে বিক্রি করতে বলা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিজের অনিশ্চয়তা উল্লেখ করেছেন। [52]

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الأَمَةِ إِذَا زَنَتْ وَلَمْ تُحْصِنْ قَالَ “إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا، ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا، ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَبِيعُوهَا وَلَوْ بِضَفِيرٍ”. قَالَ ابْنُ شِهَابٍ لاَ أَدْرِي بَعْدَ الثَّالِثَةِ، أَوِ الرَّابِعَةِ.

বাংলা অনুবাদ: ইসমাইল আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মালিক আমাকে ইবন শিহাবের সূত্রে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি আবু হুরাইরা ও যায়িদ ইবন খালিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যিনি বিবাহিত না হয়েও জিনা করেছেন। তিনি বললেন, “জিনা করলে তাঁকে বেত্রাঘাত করো। তারপর আবার জিনা করলে তাঁকে বেত্রাঘাত করো। তারপর আবার জিনা করলে তাঁকে বিক্রি করে দাও, এমনকি একটি পাকানো দড়ির বিনিময়ে হলেও।” ইবন শিহাব বলেন, “আমি জানি না, তৃতীয়বারের পরে, না চতুর্থবারের পরে।”

এই দুই পাঠে বিক্রির আগে অপরাধ সংঘটনের সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। প্রথম পাঠে তৃতীয়বার বলা হয়েছে; দ্বিতীয় পাঠে বর্ণনাকারীর সংশয় সংরক্ষিত। উভয় পাঠেই দাসীকে বেত্রাঘাত ও বিক্রির নির্দেশ আছে। যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণের ধর্মীয় বিধান দাসবাজারকে নিজের প্রয়োগপদ্ধতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দাসীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরে আঘাত এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ হলে মালিকানা হস্তান্তর—এই কার্যক্রমে মানুষ কেনাবেচা স্বীকৃত শাসনপ্রক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।


মালিকের হাতে শাস্তি কার্যকরের ক্ষমতা

আল-বাগাভি ‘শারহুস সুন্নাহ’-তে এই হাদিসের ভিত্তিতে শাসকের কাছে না গিয়েও মালিকের নিজের দাসদাসীর ওপর হদ কার্যকর করার মত উল্লেখ করেছেন। তিনি ইবন মাসউদ ও ইবন উমর থেকে এই মত বর্ণিত হওয়ার কথা বলেছেন; ফাতিমার নিজের দাসীকে শাস্তি দেওয়ার বর্ণনাও উল্লেখ করেছেন। পরে এই মত গ্রহণকারী ফকিহদের নাম দিয়েছেন। এখানে উল্লিখিত ভূমিকা দাসের ওপর শাস্তি প্রয়োগ বা সেই ক্ষমতার অনুমোদন। [53]

والعمل على هذا عند أكثر أهل العلم من الصحابة، فمن بعدهم، قالوا: يجوز للسيد إقامة الحد على مملوكه دون السلطان، روي ذلك عن ابن مسعود، وابن عمر، وروي أن فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم حدت جارية لها زنت، وهو قول الحسن البصري، والزهري، وإليه ذهب سفيان الثوري، ومالك، والأوزاعي، والشافعي، وأحمد، وإسحاق.

বাংলা অনুবাদ: সাহাবি এবং তাঁদের পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের কাছে এই অনুযায়ী আমল চলে। তাঁরা বলেছেন, শাসকের কাছে না গিয়েও মালিকের নিজের দাসের ওপর হদ কার্যকর করা বৈধ। ইবন মাসউদ ও ইবন উমর থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা নিজের এক দাসী জিনা করায় তাঁর ওপর হদ কার্যকর করেছিলেন। এটি হাসান বসরি ও যুহরির মত। সুফিয়ান সাওরি, মালিক, আওযায়ি, শাফিয়ি, আহমাদ ও ইসহাকও এই মত গ্রহণ করেছেন।

এখানে মালিকানা শ্রম আদায়ের ক্ষমতার সঙ্গে শাস্তি কার্যকরের ক্ষমতাও দিয়েছে। যে ব্যক্তি অন্য মানুষকে সম্পত্তি হিসেবে ধরে রেখেছেন, সেই ব্যক্তিই তাঁর ওপর শারীরিক দণ্ড কার্যকর করতে পারেন। ব্যক্তিগত মালিক ও দণ্ডপ্রয়োগকারী একই ব্যক্তিতে একত্র হয়েছেন। শারীরিক শক্তির এই অনুমোদন দাসব্যবস্থার ক্ষমতার বৈষম্যকে আরও গভীর করেছে। নারীটির শরীর একদিকে মালিকের সম্পত্তি, অন্যদিকে মালিকের হাতে শাস্তি কার্যকর করার স্থান। তাঁকে প্রহার করা এবং পরে বিক্রি করার সুযোগ একই কর্তৃত্বের অধীনে যুক্ত হয়েছে।


দাসবাজারের আইন: নারীর যৌন আচরণ, মূল্যহ্রাস ও ক্রেতার অধিকার

দাসীকে বিক্রির নির্দেশ ধ্রুপদি ব্যাখ্যায় পণ্যের ত্রুটি ও বিক্রয় ফেরতের আলোচনায় পরিণত হয়েছে। আল-বাগাভি বলেছেন, জিনা দাসের এমন একটি ত্রুটি, যার কারণে বিক্রয় ফেরত দেওয়া যায়; এ জন্যই তাঁর মূল্য কমেছে। নারীটির যৌন ইতিহাস এখানে বাজারদর ও ক্রেতার প্রতিকার নির্ধারণের বিষয়। [54]

وفي قوله: “فليبعها ولو بحبل من شعر”، دليل على أن الزنا عيب في الرقيق يرد به البيع، ولذلك حط من قيمته.

বাংলা অনুবাদ: তাঁর বক্তব্য, “তাঁকে বিক্রি করে দেবে, এমনকি পশমের দড়ির বিনিময়ে হলেও”—এতে প্রমাণ রয়েছে যে, জিনা দাসের একটি ত্রুটি, যার কারণে বিক্রয় ফেরত দেওয়া যায়। এ কারণেই তাঁর মূল্য কমানো হয়েছে।

একজন নারীর যৌন আচরণকে ‘ত্রুটি’ হিসেবে গণনা করে তাঁর মূল্য কমানো মানুষকে পণ্য করার প্রত্যক্ষ ভাষা। ক্রেতা মূল্য দিয়েছেন বলে তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য গুণসম্পন্ন একজন মানুষ সরবরাহের প্রশ্ন উঠছে। দাসীর নিজস্ব মর্যাদা, অনুভূতি ও সম্পর্ককে এই ব্যবস্থায় ক্রেতার অর্থনৈতিক প্রত্যাশার অধীনে রাখা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য বিক্রয়যোগ্যতার তথ্য হয়ে ওঠে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে দাম ও বিক্রয় ফেরতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।


বিক্রেতার তথ্য জানানো এবং ক্রেতার আর্থিক স্বার্থ

ইবন হাজর ‘ফাতহুল বারি’-তে এই বিক্রয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে দ্রুত বিক্রি, কম মূল্যের তাৎপর্য, ক্রেতাকে কথিত ত্রুটি জানানো এবং নতুন মালিকের কাছে গিয়ে আচরণ বদলানোর সম্ভাবনা একসঙ্গে এসেছে। পরিচিত পরিবেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার কষ্টকেও নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। [55]

وقال ابن العربي: المراد من الحديث الإسراع بالبيع وإمضاؤه ولا يتربص به طلب الراغب في الزيادة، وليس المراد بيعه بقيمة الحبل حقيقة، وفيه أنه يجب على البائع أن يعلم المشتري بعيب السلعة؛ لأن قيمتها إنما تنقص مع العلم بالعيب حكاه ابن دقيق العيد، وتعقبه بأن العيب لو لم يعلم له تنقص القيمة فلا يتوقف على الإعلام، واستشكل الأمر ببيع الرقيق إذا زنى مع أن كل مؤمن مأمور أن يرى لأخيه ما يرى لنفسه، ومن لازم البيع أن يوافق أخاه المؤمن على أن يقتني ما لا يرضى اقتناءه لنفسه، وأجيب بأن السبب الذي باعه لأجله ليس محقق الوقوع عند المشتري لجواز أن يرتدع الرقيق إذا علم أنه متى عاد أخرج فإن الإخراج من الوطن المألوف شاق، ولجواز أن يقع الإعفاف عند المشتري بنفسه أو بغيره.

বাংলা অনুবাদ: ইবনুল আরাবি বলেছেন, হাদিসের উদ্দেশ্য হলো দ্রুত বিক্রয় করা ও তা সম্পন্ন করা; বেশি দাম দিতে আগ্রহী ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে একটি দড়ির মূল্যেই বিক্রি করা উদ্দেশ্য নয়। এতে আরও রয়েছে, বিক্রেতার জন্য ক্রেতাকে পণ্যের ত্রুটি জানানো আবশ্যক; কারণ ত্রুটি সম্পর্কে জানা থাকলেই তার মূল্য কমে। ইবন দাকিকিল ঈদ এটি উল্লেখ করেছেন। এর সমালোচনায় বলা হয়েছে, ত্রুটি জানা না থাকলেও মূল্য কমতে পারে; ফলে বিষয়টি জানানোর ওপর নির্ভর করে না। জিনা করলে দাসকে বিক্রির নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে: প্রত্যেক মুমিনকে তো নিজের জন্য যা চান, ভাইয়ের জন্যও তা চাইতে বলা হয়েছে। অথচ এই বিক্রয়ের অর্থ হচ্ছে, নিজের জন্য যা রাখতে রাজি নন, মুমিন ভাইকে তা রাখতে সম্মতি দেওয়া। এর উত্তরে বলা হয়েছে, যে কারণে বিক্রি করা হয়েছে, ক্রেতার কাছেও সেই ঘটনা ঘটবে বলে নিশ্চিত নয়। দাস যদি জানে, আবার একই কাজ করলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে, তাহলে সে নিবৃত্ত হতে পারে; কারণ পরিচিত আবাস থেকে বের করে দেওয়া কষ্টকর। আরও সম্ভব, ক্রেতা নিজে অথবা অন্য কারও মাধ্যমে তাঁর যৌনসংযমের ব্যবস্থা করবেন।

এই আলোচনায় ক্রেতাকে তথ্য জানানোর বিধান নারীর যৌন ইতিহাসকে পণ্যের গুণগত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। ক্রেতা কী কিনছেন, সেই কথিত ত্রুটি জানতেন কি না এবং তার ফলে কত মূল্য কমতে পারে—এসব প্রশ্ন লেনদেনের বৈধতা ও আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বিক্রেতার প্রকাশযোগ্য পণ্যবিবরণে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচিত আবাস থেকে সরিয়ে দেওয়ার কষ্টকে আচরণ নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে গণনা করা হয়েছে। একজন মানুষকে তাঁর পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা বাজারের লেনদেনের সঙ্গে শাস্তিমূলক উদ্দেশ্যেও ব্যবহারযোগ্য হয়েছে।

এখানে ‘দড়ির মূল্য’ আক্ষরিক নাকি দ্রুত বিক্রির তাগিদ—সে ব্যাখ্যার সঙ্গে নারীর মালিকানা হস্তান্তরের অনুমোদন যুক্ত রয়েছে। ইবনুল আরাবির উদ্ধৃত ব্যাখ্যায় দ্রুত বিক্রয় সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে; বেশি মূল্য পাওয়ার অপেক্ষা পরিত্যাগের কথা এসেছে। ফলে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নারীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ও তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এগোয়। বাজারদর কম হলেও মালিকানা নতুন ব্যক্তির হাতে পৌঁছাবে। মানুষটিকে নিজের জীবন পরিচালনার স্বাধীনতা দেওয়ার জায়গায় অন্য মালিকের নিয়ন্ত্রণে পাঠানোই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা।


নতুন মালিকের যৌন ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণের উপায় করা

বদরুদ্দিন আল-আইনি ‘উমদাতুল কারি’-তে নতুন ক্রেতার সম্ভাব্য ভূমিকা আরও স্পষ্ট করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে নারীকে বিক্রেতা নিজের কাছে রাখতে চাইছেন না, তাঁকে আরেক মুসলিম কেন গ্রহণ করবেন। তাঁর দেওয়া উত্তরে নতুন মালিকের কর্তৃত্ব, আচরণ, বিয়ে দেওয়া এবং নিজে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে নারীটিকে সংযত রাখার সম্ভাবনা এসেছে। [56]

(فإن قلت): فما معنى أمره – صلى الله تعالى عليه وسلم – ببيع الأمة الزانية والذي يشتريها يلزمه من اجتنابها ومباعدتها ما يلزم البائع، وكيف يكره شيئا ويرتضيه لأخيه المسلم؟ (قلت): لعل الثاني يصونها بهيبته أو بالإحسان إليها أو لعلها تستعف عند الثاني بأن يزوجها أو يعفها بنفسه، ونحو ذلك.

বাংলা অনুবাদ: যদি প্রশ্ন করো: জিনাকারী দাসীকে বিক্রি করার নির্দেশের অর্থ কী, যখন তাঁকে যিনি কিনবেন, তাঁরও বিক্রেতার মতোই তাঁকে এড়িয়ে চলা ও দূরে রাখার প্রয়োজন রয়েছে? আর নিজের জন্য কোনো বিষয় অপছন্দ করে মুসলিম ভাইয়ের জন্য তা কীভাবে পছন্দ করা হয়? আমি বলব: সম্ভবত দ্বিতীয় মালিক নিজের কর্তৃত্বের ভয়ে অথবা ভালো আচরণের মাধ্যমে তাঁকে সংযত রাখবেন। অথবা দ্বিতীয় মালিকের কাছে তিনি সংযত থাকবেন এভাবে যে, মালিক তাঁর বিয়ে দেবেন কিংবা নিজেই তাঁর যৌনচাহিদা পূরণ করবেন, অথবা অনুরূপ অন্য কোনো উপায়ে।

এখানে নারীটির যৌনজীবন নিয়ন্ত্রণের সমাধান হিসেবে নতুন মালিকের নিজের যৌন ব্যবহারও প্রস্তাবিত হয়েছে। দাসীকে কিনে নেওয়া পুরুষ তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করবেন, অথবা তাঁকে অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে দেবেন—উভয় ব্যবস্থার নির্ধারক হিসেবে মালিককে রাখা হয়েছে। নারীটি নিজে কোন সম্পর্ক চান, কার সঙ্গে থাকতে চান এবং তাঁর সম্মতি কী, এই প্রশ্নগুলো উদ্ধৃত সমাধানে অনুপস্থিত। তাঁর যৌনতা মালিকের ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এই বিধান ও ব্যাখ্যাগুলোর সমন্বয়ে দাসবাজারের একটি সুস্পষ্ট কার্যক্রম পাওয়া যায়। নারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেত্রাঘাত করা হয়; তাঁর আচরণকে পণ্যের ত্রুটি হিসেবে গণনা করা হয়; সেই ত্রুটি মূল্য ও বিক্রয় ফেরতের অধিকার নির্ধারণ করে; তাঁকে নতুন মালিকের কাছে পাঠানো হয়; এবং নতুন মালিকের কর্তৃত্ব ও যৌন ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মানুষ কেনাবেচার সঙ্গে শারীরিক শাস্তি, ব্যক্তিগত জীবনের বাণিজ্যিক মূল্যায়ন এবং যৌন মালিকানা এভাবেই এক ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে।


আবদুল্লাহ ইবন জাফর: চল্লিশ হাজার দিরহামে নারী কিনে অন্য পুরুষকে উপহার

জাফর ইবন আবি তালিবের পুত্র ও সাহাবি আবদুল্লাহ ইবন জাফরের জীবনীতে দাসী ক্রয় এবং অন্য পুরুষের কাছে তাঁকে হস্তান্তরের বর্ণনা রয়েছে। ইবন মনযুরের ‘মুখতাসার তারিখি দিমাশক’-এ সংরক্ষিত কাহিনিতে ইবন আবি আম্মারকে তৎকালীন হিজাজের ফকিহ বলা হয়েছে। তিনি এক দাসব্যবসায়ীর কাছে একজন নারী দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। ব্যবসায়ী তাঁর সামর্থ্যের চেয়ে বেশি দাম চান। পরে আবদুল্লাহ ইবন জাফর চল্লিশ হাজার দিরহাম দিয়ে নারীটিকে কিনে ইবন আবি আম্মারকে দেন এবং সঙ্গে আরও এক লাখ দিরহাম পাঠান। [57]

دخل ابن أبي عمار وهو فقيه الحجاز يومئذ على نخاس يعترض منه جارية، فعرض عليه جارية بأكثر مما كان معه من الثمن، وكانت حسنة الوجه جداً، فعلق بها. وأخذه أمر عظيم، ورآه النخاس فتباعد عليه في الثمن، واستهتر بذكرها، فمشى إليه عطاء وطاوس ومجاهد يعذلونه فكان جوابه أن قال:
يلومني فيك أقوام أجالسهم … فما أبالي أطار اللوم أم وقعا
فبلغ خبره عبد الله بن جعفر فلم يكن له همة غيرها. فبعث إلى مولى الجارية فاشتراها بأربعين ألف درهم، وأمر قيمة جواريه أن تزينها، وتحليها ففعلت، وقدم المدينة، فجاءه الناس يسلمون عليه، وجاءه جلة أهل الحجاز فقال: ما لي لا أرى ابن أبي عمار زائراً؟ فأخبر الشيخ فأتاه. فلما أراد أن ينهض استجلسه، فقال له ابن جعفر: ما فعل حبك فلانة؟ قال: في اللحم والدم والمخ والعصب والعظام. قال: أتعرفها إن رأيتها؟ قال: جعلت فداك، هي مصورة نصب عيني عند كل خطرة وفكرة، ولو أدخلت الجنة ما كنت أنكرها. قال: والله ما نظرت إليها مذ ملكتها، يا جارية، أخرجيها فأخرجت ترفل في الحلي والحلل فقال: هي هذه وأنشأ يقول:
هي التي هام قلبي من تذكرها … والنفس مشغولة أيضاً بذكراها
قال: فشأنك بها فخذها، بارك الله فيها. قال: جعلت فداك، لقد تفضلت بشيء ما كان يتفضل به إلا الله. فلما ولى بها قال: يا غلام، احمل معها مئة ألف درهم كي لا يهتم بها ولا تهتم به. فبكى ابن أبي عمار سروراً ثم قال: الله يعلم حيث يجعل رسالاته، والله – جعلت فداك – لئن كان الله وعدنا بنعيم الآخرة لقد عجلت نعيم الدنيا.

বাংলা অনুবাদ: ইবন আবি আম্মার, যিনি তখন হিজাজের ফকিহ ছিলেন, এক দাসব্যবসায়ীর কাছে দাসী দেখতে গেলেন। ব্যবসায়ী তাঁর কাছে থাকা অর্থের চেয়ে বেশি দামের একজন নারী তাঁকে দেখালেন। নারীটি অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেন এবং প্রবলভাবে আসক্ত হয়ে পড়লেন। ব্যবসায়ী তাঁর অবস্থা দেখে আরও বেশি দাম চাইলেন। তিনি নারীটির কথা বলতে বলতে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। আতা, তাউস ও মুজাহিদ তাঁকে তিরস্কার করতে গেলেন। উত্তরে তিনি বললেন:
“যাঁদের সঙ্গে বসি, তাঁরা তোমার কারণে আমাকে দোষ দেন;
সেই দোষারোপ উড়ে যাক বা এসে পড়ুক, আমার কিছু যায় আসে না।”
আবদুল্লাহ ইবন জাফরের কাছে তাঁর খবর পৌঁছালে তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হলেন। নারীটির মালিকের কাছে লোক পাঠিয়ে তাঁকে চল্লিশ হাজার দিরহামে কিনলেন। নিজের দাসীদের তত্ত্বাবধায়ক নারীকে তাঁকে সাজিয়ে অলংকার পরাতে বললেন; তিনি তা করলেন। আবদুল্লাহ মদিনায় এলে লোকজন তাঁকে অভিবাদন জানাতে এলেন। হিজাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এলেন। তিনি বললেন, “ইবন আবি আম্মারকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?” তাঁকে খবর দেওয়া হলে তিনি এলেন। তিনি উঠে যেতে চাইলে আবদুল্লাহ তাঁকে বসিয়ে বললেন, “অমুকের প্রতি তোমার ভালোবাসার কী অবস্থা?” তিনি বললেন, “তা আমার মাংস, রক্ত, মগজ, স্নায়ু ও অস্থির মধ্যে রয়েছে।” আবদুল্লাহ বললেন, “দেখলে কি তাঁকে চিনতে পারবে?” তিনি বললেন, “আপনার জন্য উৎসর্গিত হই; প্রতিটি ভাবনা ও চিন্তায় তিনি আমার চোখের সামনে আঁকা রয়েছেন। জান্নাতে প্রবেশ করানো হলেও তাঁকে চিনতে ভুল করতাম না।” আবদুল্লাহ বললেন, “আল্লাহর কসম, তাঁর মালিক হওয়ার পর থেকে আমি তাঁর দিকে তাকাইনি। হে দাসী, তাঁকে বের করে আনো।” তাঁকে অলংকার ও সুন্দর পোশাকে সজ্জিত অবস্থায় আনা হলো। ইবন আবি আম্মার বললেন, “এই তো তিনি।” তারপর তিনি আবৃত্তি করলেন:
“তাঁর স্মরণেই আমার হৃদয় উন্মত্ত হয়েছে;
তাঁর স্মরণেই আমার মনও ব্যস্ত রয়েছে।”
আবদুল্লাহ বললেন, “তাঁকে নাও; আল্লাহ তাঁর মধ্যে বরকত দিন।” তিনি বললেন, “আপনার জন্য উৎসর্গিত হই; আপনি এমন অনুগ্রহ করেছেন, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতেন না।” তিনি নারীটিকে নিয়ে চলে গেলে আবদুল্লাহ বললেন, “হে বালক, তাঁর সঙ্গে এক লাখ দিরহাম নিয়ে যাও, যাতে সে তাঁকে নিয়ে এবং তিনি তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করেন।” ইবন আবি আম্মার আনন্দে কেঁদে বললেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, কোথায় তাঁর রিসালাত রাখবেন। আল্লাহর কসম, আপনার জন্য উৎসর্গিত হই; আল্লাহ যদি আমাদের পরকালের সুখের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, আপনি তো দুনিয়ার সুখ আগেই এনে দিয়েছেন।”

এই জীবনীবর্ণনায় নারী কেনাবেচার কয়েকটি ধাপ একসঙ্গে পাওয়া যায়। প্রথমে ব্যবসায়ী নারীটিকে সম্ভাব্য ক্রেতার সামনে দেখাচ্ছেন। ক্রেতার আকর্ষণ দেখে দাম বাড়াচ্ছেন। পরে সামর্থ্যবান আরেক ব্যক্তি মূল্য দিয়ে তাঁকে কিনছেন, নিজের অধীনস্থ তত্ত্বাবধায়ককে দিয়ে সাজাচ্ছেন এবং অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। নারীটির সৌন্দর্য ক্রেতার আকাঙ্ক্ষা ও ব্যবসায়ীর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাঁর শরীরের ওপর কর্তৃত্ব অর্থের বিনিময়ে এক মালিক থেকে অন্য মালিকের হাতে যাচ্ছে; তারপর উপহারের মাধ্যমে আবার হস্তান্তরিত হচ্ছে।

পুরুষটির ভালোবাসার অবস্থার দীর্ঘ বিবরণ রয়েছে: মাংস, রক্ত, মগজ, স্নায়ু ও অস্থি পর্যন্ত সেই ভালোবাসা বিস্তৃত বলে তিনি জানিয়েছেন। নারীটির নিজের অনুভূতি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য সংরক্ষিত হয়নি। তিনি ইবন আবি আম্মারের সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন কি না, তাঁর প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন কি না এবং নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী চাইতেন—এসব প্রশ্ন কাহিনির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা পায়নি। একজন পুরুষের প্রবল আকর্ষণকে কেন্দ্র করে আরেক পুরুষের অর্থব্যয়ে নারীটির গন্তব্য নির্ধারিত হয়েছে। ভালোবাসার ভাষায় বলা এই কাহিনির কার্যকর ব্যবস্থা মানুষ কেনা এবং উপহার দেওয়া।


একজন নারী ও এক লাখ দিরহাম: দানের উপকরণ হিসেবে মানুষ

কাহিনিতে উপহারপ্রাপ্ত ব্যক্তির আনন্দ ও দাতার উদারতা প্রকাশ পেয়েছে নারীটির হস্তান্তরের মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে এক লাখ দিরহাম পাঠানো হয়েছে; মানুষ ও অর্থ একই দানের অংশ। উপহারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই ঘটনাকে দুনিয়ার সুখ আগাম পাওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দাতার অনুগ্রহের সঙ্গে আল্লাহর অনুগ্রহের তুলনা করেছেন। একজন মানুষের মালিকানা পাওয়াকে এমন প্রশংসায় অভিষিক্ত করা দাসপ্রথার নৈতিক বিপর্যয়কে প্রকাশ করে। নারীটির স্বাধীনতা ও সম্মতির প্রশ্নের জায়গা দখল করেছে তাঁকে পেয়ে পুরুষটির সুখ এবং তাঁকে দিতে পারা ধনী ব্যক্তির মহিমা।

নারীকে সাজিয়ে উপহার দেওয়া তাঁর বিক্রয়যোগ্য শরীরকে প্রদর্শনযোগ্য সম্পদেও পরিণত করেছে। পোশাক ও অলংকারের আয়োজন গ্রহণকারীর আনন্দের সঙ্গে যুক্ত। এই উপহারব্যবস্থায় একজন মানুষের শরীর ও জীবন অন্য মানুষের সামাজিক সম্পর্ক গড়ার উপকরণ হয়েছে। ধনী ব্যক্তি নিজের ব্যয়ক্ষমতা দিয়ে আরেক ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করছেন এবং সেই অনুগ্রহের বাহক হচ্ছেন একজন নারী। মানুষের সমান মর্যাদার ভিত্তিতে নারীটির নিজের সিদ্ধান্তই তাঁর সম্পর্কের ভিত্তি; এখানে কার্যকর ভিত্তি হয়েছে তাঁকে কিনে হস্তান্তর করার ক্ষমতা।


ইবন সিরিন ও আবু হানিফা: দাসী কেনার প্রস্তুতিতে শরীর, যৌন প্রত্যাশা ও বন্দিত্বের উৎস

ইবন সিরিন সম্পর্কে সংরক্ষিত একটি বর্ণনায় দাসী কেনার আগ্রহের সঙ্গে যৌন প্রত্যাশার সংযোগ স্পষ্ট। সাআলাবির নামে প্রচলিত ‘আশ-শাকওয়া ওয়াল ইতাব’ গ্রন্থে জুওয়াইরিয়া ইবন আসমার সূত্রে বলা হয়েছে, ইবন সিরিন একজন দাসী কিনতে চেয়েছিলেন। সম্ভাব্য নারীটির ঠোঁট বড় বলে জানানো হলে তিনি সেটিকে চুম্বনের সুবিধা হিসেবে গ্রহণ করেন। বর্ণনাটির বক্তব্য ক্রয়ের প্রস্তুতি ও নারী নির্বাচন সম্পর্কে। [58]

عن جويرية بن أسماء: أراد ابن سيرين شراء جارية، فقلت: قد علمت مكانها، ولكن في شفتها عظم. فقال: ذاك أفخم لقبلتها.

বাংলা অনুবাদ: জুওয়াইরিয়া ইবন আসমার সূত্রে বর্ণিত: ইবন সিরিন একজন দাসী কিনতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম, “আমি তাঁর সন্ধান জানি; তবে তাঁর ঠোঁট বড়।” তিনি বললেন, “তা তাঁর চুম্বনকে আরও পরিপূর্ণ করবে।”

এই বর্ণনায় নারী নির্বাচনের সময় তাঁর শরীরের একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঠোঁট বড় হওয়ার তথ্যটি ক্রয়ের সম্ভাব্য আপত্তি হিসেবে তোলা হয়েছিল; উত্তরে সেই বৈশিষ্ট্যকে যৌন আনন্দের উপযোগিতা দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। একজন নারীকে কেনার প্রস্তুতিতে তাঁর সঙ্গে চুম্বনের প্রত্যাশা অন্তর্ভুক্ত। ক্রেতার কাছে পছন্দসই শরীর বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে দাসবাজারের মাধ্যমে। নারীটির নিজের পছন্দের কোনো বক্তব্য এই কথোপকথনে নেই; তাঁর শরীর সম্পর্কে দুই পুরুষের আলোচনা রয়েছে।

এখানে ক্রেতার আকাঙ্ক্ষা নারীটির শরীরকে মূল্যায়নের মানদণ্ড হয়েছে। তাঁর ঠোঁটের গঠন কী ধরনের আনন্দ দিতে পারে, সেটি কেনার আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। দাসী কেনার অর্থ একজন মানুষের শ্রম পাওয়ার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে যৌন ঘনিষ্ঠতার প্রত্যাশাও বহন করছে। শরীর পছন্দ করা, তাঁকে কেনার ব্যবস্থা করা এবং যৌন ঘনিষ্ঠতা আশা করা একই মালিকানাভিত্তিক সম্পর্কে মিলেছে। নারীর ব্যক্তিসত্তাকে এই ক্রয়প্রস্তুতি পুরুষের ব্যবহারিক ও যৌন চাহিদার অধীনে রেখেছে।


আবু হানিফার ক্ষেত্রে কোন বন্দিসমষ্টি থেকে কেনা হবে

আবু হানিফার জীবনীতেও দাসী কেনার জন্য বাছাই ও পরামর্শ করার বর্ণনা আছে। আস-সাইমারির ‘আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি’-তে ইবনুল মুবারকের সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি একজন দাসী কিনতে চেয়ে দশ বছর ধরে বাছাই ও পরামর্শ করেছেন—কোন বন্দিসমষ্টি থেকে কিনবেন। এই বর্ণনাতেও ক্রয়ের ইচ্ছা এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া উল্লেখিত হয়েছে। [59]

أخبرنا عمر بن إبراهيم قال ثنا مكرم قال ثنا أحمد بن عطية قال ثنا الجماني قال ثنا ابن المبارك قال أراد أبو حنيفة أن يشتري جارية فمكث عشر سنين يختار ويشاور من أي سبي يشتري.

বাংলা অনুবাদ: উমর ইবন ইবরাহিম আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুকাররাম আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমাদ ইবন আতিয়্যা আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল-জুম্মানি আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইবনুল মুবারক আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আবু হানিফা একজন দাসী কিনতে চেয়েছিলেন। তিনি দশ বছর ধরে বাছাই ও পরামর্শ করতে থাকেন, কোন বন্দিসমষ্টি থেকে কিনবেন।”

‘কোন বন্দিসমষ্টি’ প্রশ্নটি মানুষকে বন্দি করা থেকে বাজারে বিক্রির ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। সম্ভাব্য ক্রেতার সামনে বেছে নেওয়ার মতো বিভিন্ন উৎসের বন্দি নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কাকে কেনা হবে, তা নিয়ে নির্বাচন ও পরামর্শ চলছে। একজন মানুষের বন্দিত্ব অন্য ব্যক্তির কাছে ক্রয়যোগ্য সুযোগ তৈরি করেছে। বন্দি নারীটির স্বাধীনতা হারানোর ঘটনাকে ভিত্তি করেই ক্রেতা তাঁর ওপর মালিকানা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুদ্ধ ও বন্দিত্বের ফলে মানুষের জীবন বাজারে হস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তিতে পরিণত হওয়ার এই ব্যবস্থায় ক্রেতার বাছাই একটি স্বীকৃত কার্যক্রম।

দশ বছর ধরে বাছাই করার বিবরণ মানুষ কেনার পরিকল্পনাকে দীর্ঘ বিবেচনার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে। বন্দিত্বের উৎস যাচাইয়ের প্রশ্নও সেই পরিকল্পনার অন্তর্গত। এখানে নির্বাচন করার ক্ষমতা ক্রেতার; বিক্রয়যোগ্য অবস্থায় থাকা মানুষটি নির্বাচনের বিষয়। ফকিহের সতর্ক সিদ্ধান্তের পরিসরে একজন নারীর ওপর মালিকানা অর্জনের সম্ভাবনা গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা তাঁর নিজের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে অন্য ব্যক্তির পছন্দ ও বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁর জীবনের কর্তৃত্ব হস্তান্তরের এই সুযোগ থাকে না।


ক্রয়প্রস্তুতিতে পুরুষের পছন্দ ও নারীর অবস্থান

ইবন সিরিনের বর্ণনায় শরীরের বৈশিষ্ট্য ও চুম্বনের প্রত্যাশা, আবু হানিফার বর্ণনায় বন্দিত্বের উৎস ও দীর্ঘ নির্বাচন—ক্রয়প্রস্তুতির দুটি আলাদা বিবেচনা উপস্থিত। উভয় ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য ক্রেতা একজন নারীকে নিজের মালিকানায় নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দাসবাজার তাঁকে এই নির্বাচনের ক্ষমতা দিয়েছে। নারীটির শরীর, উৎস ও ব্যবহারযোগ্যতা আলোচনা করা যাচ্ছে, কারণ তাঁকে অর্থ দিয়ে অধিকার করার একটি ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তি ক্রেতার সামর্থ্য ও পছন্দ; নারীটির স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে সমান ক্ষমতা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


বিবাহিত দাসী ক্রয়: উমর, সাদ, আলি, উসমান ও আসিম ইবন আদির লেনদেন

বিবাহিত নারীকে কেনাবেচা করার ব্যবস্থায় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও ক্রেতার স্বার্থের মুখোমুখি হয়েছে। নারীটির একজন স্বামী আছেন, তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে, অথচ অন্য একজন পুরুষ অর্থ দিয়ে নারীটির মালিকানা অর্জন করছেন। ক্রেতা তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে বিদ্যমান বিবাহকে ঘিরে আরও একটি দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে। হারব আল-কারমানির ‘মাসায়িল’ এবং ইবন আবি শাইবার ‘মুসান্নাফ’-এ সংরক্ষিত বর্ণনাগুলোতে কখনো স্বামীর কাছ থেকে দাম্পত্য যৌনঅধিকার কেনা, কখনো অর্থের বিনিময়ে তালাক আদায় এবং কখনো বিবাহের কথা জানার পরে নারীটিকে ফেরত দেওয়ার বিবরণ রয়েছে। এই লেনদেনে একই নারীকে ঘিরে বিক্রেতা, ক্রেতা ও স্বামীর পৃথক দাবি দেখা যায়। তাঁর শরীর ও দাম্পত্যজীবনের ওপর পুরুষদের অধিকার অর্থের বিনিময়ে নিষ্পত্তির বিষয় হয়েছে। [60] [61]

উমরের জন্য দাসী ক্রয়: ইয়াসার ইবন নুমাইরের কাছে নির্দেশ

হারব আল-কারমানির সংকলনে উমর ইবন খাত্তাবের জন্য একজন নারী কেনার বর্ণনা আছে। উমর ইয়াসার ইবন নুমাইরকে চিঠি লিখে তাঁর জন্য দাসী কিনতে বলেন। কেনার পরে নারীটি উমরের কাছে এসে জানান, তাঁর স্বামী রয়েছেন। এরপর উমর আবার ইয়াসারকে লিখে স্বামীর কাছ থেকে নারীটির ‘বুদ্‌আ’ কিনতে বলেন। এই প্রসঙ্গে ‘বুদ্‌আ’ বলতে নারীর সঙ্গে বিবাহজনিত যৌন সম্পর্কের অধিকার বোঝানো হচ্ছে। বর্ণনায় উমর ক্রয়ের নির্দেশদাতা ও যার জন্য কেনা হচ্ছে সেই ব্যক্তি; ইয়াসার তাঁর পক্ষে ক্রয়কারী প্রতিনিধি। [62]

حدثنا سعيد بن منصور، قال: حدثنا هشيم، قال: أخبرنا عبد الرحمن بن إسحاق، عن أبيه أن عمر بن الخطاب كتب إلى يسار بن نمير إن يشتري له جارية، فاشتراها، فلما قدمت عليه أخبرته أن لها زوجًا في أهلها، فكتب عمر إلى يسار أن يشتري بضعها من زوجها.

বাংলা অনুবাদ: সাঈদ ইবন মানসুর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুশাইম আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবন ইসহাক তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের জানিয়েছেন যে উমর ইবন খাত্তাব ইয়াসার ইবন নুমাইরকে তাঁর জন্য একজন দাসী কেনার নির্দেশ দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। তিনি তাঁকে কিনলেন। নারীটি উমরের কাছে এলে জানালেন, নিজের লোকজনের মধ্যে তাঁর একজন স্বামী রয়েছেন। তখন উমর ইয়াসারকে চিঠি লিখলেন, তিনি যেন স্বামীর কাছ থেকে তাঁর ওপর বিবাহজনিত যৌনঅধিকার কিনে নেন।

এই বর্ণনায় নারীটির দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পর্কে তথ্য এসেছে তাঁর নিজের মুখে। সেই তথ্যের পরে গৃহীত সিদ্ধান্ত হলো স্বামীর অধিকারের জন্য আরেকটি লেনদেনের নির্দেশ। নারীটিকে আগে একজন বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা হয়েছে; তারপর তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পথে থাকা বৈবাহিক অধিকার কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অর্থ দিয়ে তাঁর মালিকানা অর্জনের পরে আরও অর্থ দিয়ে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কের বাধা সরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করার ক্ষমতা ক্রেতার প্রতিনিধি পাচ্ছেন; নারীটির নিজের সম্পর্ক বজায় রাখা বা অন্য সম্পর্কে যেতে চাওয়ার সিদ্ধান্তের কোনো বিবরণ এখানে নেই। তাঁর জীবনের ঘনিষ্ঠতম সম্পর্কটি দুই পুরুষের মধ্যে ক্রয়যোগ্য অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।


সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসের জন্য ক্রয় এবং স্বামীর অধিকার কেনা

সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসের পুত্র মুসআবের সূত্রেও একই ধরনের বিবরণ পাওয়া যায়। হারবের সংকলনে তাঁর পরিচয় এসেছে মুসআব ইবন সাদ ইবন মালিক হিসেবে। তিনি বলেন, পিতার জন্য একজন দাসী কিনেছিলেন। নারীটির স্বামী থাকার কথা জানার পরে তিনি স্বামীর কাছে গিয়ে তাঁর দাম্পত্য যৌনঅধিকার কিনে নেন এবং নারীটিকে আবার পিতার কাছে নিয়ে আসেন। ক্রয়ের প্রথম ধাপে মুসআব পিতার প্রতিনিধি; পরের ধাপেও স্বামীর সঙ্গে লেনদেন করেন তিনিই। [63]

حدثنا عبيد الله بن معاذ، عن أبيه، عن عمران – أبي العوام القطان-، عن عاصم بن بهدلة، عن مصعب بن سعد بن مالك قال: اشتريت لأبي جارية فسألها فأخبرت أن لها زوجًا فأتيت زوجها فاشتريت منه بضعها، ثم أتيته بها فقبلها.

বাংলা অনুবাদ: উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি ইমরান—আবুল আওয়াম আল-কাত্তান—এর সূত্রে, তিনি আসিম ইবন বাহদালার সূত্রে, তিনি মুসআব ইবন সাদ ইবন মালিকের সূত্রে আমাদের বর্ণনা করেছেন। মুসআব বলেন, “আমি আমার পিতার জন্য একজন দাসী কিনলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে নারীটি জানালেন, তাঁর একজন স্বামী রয়েছেন। আমি তাঁর স্বামীর কাছে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে নারীটির ওপর বিবাহজনিত যৌনঅধিকার কিনলাম। তারপর তাঁকে আমার পিতার কাছে নিয়ে এলাম এবং তিনি তাঁকে গ্রহণ করলেন।”

ইবন আবি শাইবার সংকলনে মুসআবের সূত্রে সাদের ক্রয়ের আরেকটি পাঠে পাঁচশ মূল্য দেওয়ার কথাও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্বামীর কাছ থেকে অধিকার কেনার আগে সাদ নারীটির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেননি। [64]

حدثنا أبو بكر قال نا أبو خالد الأحمر عن حجاج عن أبي إسحاق عن مصعب بن سعد أن سعدا اشترى جارية لها زوج فلم يقربها حتى اشترى بضعها من زوجها بخمسمائة.

বাংলা অনুবাদ: আবু বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু খালিদ আল-আহমার হাজ্জাজের সূত্রে, তিনি আবু ইসহাকের সূত্রে, তিনি মুসআব ইবন সাদের সূত্রে আমাদের বর্ণনা করেছেন যে সাদ এমন একজন দাসী কিনেছিলেন, যাঁর স্বামী ছিলেন। স্বামীর কাছ থেকে পাঁচশ দিয়ে তাঁর ওপর বিবাহজনিত যৌনঅধিকার কেনার আগে তিনি নারীটির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেননি।

সাদের বিষয়ে এই দুই পাঠে নারী ক্রয় এবং স্বামীর অধিকার কেনা পৃথক ধাপ হিসেবে উপস্থিত। নারীর ওপর সম্পত্তিগত মালিকানা পেয়েও ক্রেতাকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে আর্থিক বোঝাপড়ায় যেতে হয়েছে। এই ব্যবস্থায় একজন নারীর শরীরকে ঘিরে একাধিক পুরুষের দাবি স্বীকৃত হয়েছে এবং অর্থ দিয়ে সেই দাবিগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নারীর সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তাঁর স্বাধীন সম্মতির জায়গায় কার্যকর হয়েছে ক্রয় এবং স্বামীর কাছ থেকে অধিকার অর্জন। নারীটির সম্মতি নেওয়ার কোনো সংলাপ উদ্ধৃত বর্ণনাগুলোতে নেই; কেনা ও অধিকারের দরকষাকষিই ঘটনাগুলোর কেন্দ্র।


আলির কেনা নারীর তালাকের মূল্য আটশ দিরহাম

আলি ইবন আবি তালিবের জন্য দাসী কেনার একটি বর্ণনায় ক্রয়কারী প্রতিনিধির নাম ইলবা ইবন আহমার। নারীটি বিবাহিত জানার পরে আলি তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন এবং স্বামীর কাছ থেকে আটশ দিরহাম দিয়ে তাঁর তালাক কিনে নেন বলে বর্ণিত হয়েছে। এখানে আটশ দিরহাম নারীটি কেনার মূল্য হিসেবে উল্লেখিত হয়নি; এটি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে তালাক কেনার মূল্য। নারীটির মালিকানা অর্জনের পরে বিবাহের অবসান ঘটানোর জন্য আলাদা অর্থব্যয়ের বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। [65]

حدثنا عبيد الله قال: حدثنا أبي قال: حدثنا المنذر بن ثعلبة قال: حدثنا علباء بن أحمر قال: إشتريت لعلي بن أبي طالب جارية فسألها: ألك زوج قالت: نعم فأمسك عنها واشترى طلاقها من زوجها ثمان مائة درهم.

বাংলা অনুবাদ: উবাইদুল্লাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুনযির ইবন সালাবা আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইলবা ইবন আহমার আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আলি ইবন আবি তালিবের জন্য একজন দাসী কিনলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কি স্বামী আছে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তখন তিনি তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকলেন এবং তাঁর স্বামীর কাছ থেকে আটশ দিরহাম দিয়ে তাঁর তালাক কিনে নিলেন।”

এই ঘটনায় দাম্পত্য বিচ্ছেদকে অর্থের বিনিময়ে অর্জনযোগ্য সুবিধায় পরিণত করা হয়েছে। প্রথমে নারীটি কেনা হয়েছে, তারপর তাঁর বিবাহ শেষ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মালিকানা অর্জনকারী পুরুষের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ তৈরির জন্য আরেক পুরুষকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। বিবাহিত নারীটির জীবন এভাবে ক্রেতার অধিগ্রহণ এবং স্বামীর আর্থিক সম্মতির মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। সম্পর্কের অবসান তাঁর নিজের চাওয়া ছিল কি না, সে সম্পর্কে বর্ণনায় কিছু নেই। বর্ণিত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা রয়েছে অর্থদাতা ক্রেতা এবং তালাকদাতা স্বামীর হাতে।


আসিম ইবন আদির কাছ থেকে আবদুর রহমান ইবন আউফের ক্রয়

আসিম ইবন আদির নামও দাসী হস্তান্তরের বর্ণনায় পাওয়া যায়। আবু সালামার সূত্রে সংরক্ষিত ক্রয়সংক্রান্ত পাঠে আবদুর রহমান ইবন আউফ তাঁর কাছ থেকে একজন দাসী কেনেন। পরে নারীটির স্বামী রয়েছে জানতে পেরে তাঁকে ফেরত দেন। এই পাঠে আসিম বিক্রেতা এবং আবদুর রহমান ক্রেতা। [66]

حدثنا أبو بكر الحميدي، قال: ثنا سفيان، قال: ثنا الزهري، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن إن عبد الرحمن بن عوف اشترى من عاصم بن عدي جارية، فأخبر أن لها زوجًا فردها.

বাংলা অনুবাদ: আবু বকর আল-হুমাইদি আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যুহরি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমানের সূত্রে আমাদের বর্ণনা করেছেন যে আবদুর রহমান ইবন আউফ আসিম ইবন আদির কাছ থেকে একজন দাসী কিনেছিলেন। পরে তাঁকে জানানো হলো, নারীটির স্বামী রয়েছেন। তখন তিনি তাঁকে ফেরত দিলেন।

ইবন আবি শাইবার সংকলনে এই ক্রয়ের পাঠটির পাশাপাশি সুলাইমান ইবন ইয়াসারের সূত্রে একটি উপহারের পাঠও রয়েছে। সেখানে আসিম নারীটিকে আবদুর রহমানকে উপহার দেন; আবদুর রহমান তাঁর কাছে গেলে নারীটি নিজের স্বামী থাকার কথা জানান এবং তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়। একটি পাঠে বিক্রয়, অপরটিতে উপহার। উভয় পাঠে আসিমের অধীন থেকে আবদুর রহমানের কাছে একজন বিবাহিত নারীর হস্তান্তরের কথা রয়েছে। [67]

حدثنا أبو بكر قال نا عبدة بن سليمان عن يحيى بن سعيد عن سليمان بن يسار أن عاصم بن عدي وهب لعبد الرحمن بن عوف جارية فلما دنا منها أخبرته أن لها زوجا فردها عليه.

বাংলা অনুবাদ: আবু বকর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবদা ইবন সুলাইমান ইয়াহইয়া ইবন সাঈদের সূত্রে, তিনি সুলাইমান ইবন ইয়াসারের সূত্রে আমাদের বর্ণনা করেছেন যে আসিম ইবন আদি আবদুর রহমান ইবন আউফকে একজন দাসী উপহার দিয়েছিলেন। তিনি নারীটির কাছে গেলে নারীটি তাঁকে জানান, তাঁর একজন স্বামী রয়েছেন। তখন তিনি তাঁকে আসিমের কাছে ফেরত দিলেন।

হারবের সংকলনে আবদুর রহমানের কেনা বিবাহিত নারীসংক্রান্ত আরেকটি বর্ণনায় স্বামীকে তালাক দেওয়ার অনুরোধ এবং তাঁর প্রত্যাখ্যানের বিবরণ রয়েছে। স্বামী তালাক দিতে অস্বীকার করলে আবদুর রহমান নারীটিকে ফেরত দেন। [68]

حدثنا سعيد بن منصور، قال: حدثنا أبو عوانة، عن عمر بن أبي سلمة، عن أبيه إن عبد الرحمن بن عوف اشترى جارية، فأخبر أن لها زوجًا فقال لزوجها: طلقها يا بني، فأبى، فردها.

বাংলা অনুবাদ: সাঈদ ইবন মানসুর আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু আওয়ানা উমর ইবন আবি সালামার সূত্রে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের বর্ণনা করেছেন যে আবদুর রহমান ইবন আউফ একজন দাসী কিনেছিলেন। পরে তাঁকে জানানো হলো, নারীটির স্বামী রয়েছেন। তিনি তাঁর স্বামীকে বললেন, “বাছা, তাঁকে তালাক দাও।” তিনি অস্বীকার করলেন। তখন আবদুর রহমান নারীটিকে ফেরত দিলেন।

এখানে স্বামীর প্রত্যাখ্যান কার্যকর হয়েছে এবং প্রস্তাবিত বিচ্ছেদ ঘটেনি। নারীটি ক্রেতার কাছ থেকে আগের মালিকের কাছে ফেরত গেছেন। বিবাহ বজায় থাকলেও তাঁর স্বাধীনতা অর্জনের কোনো ঘটনা এই বিবরণে নেই। তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সুযোগ না পাওয়ায় ক্রয় বা হস্তান্তর ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নারীর পারিবারিক সম্পর্ক এই বাজারে এমন একটি তথ্য, যা ক্রেতার গ্রহণ বা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করছে। স্বামীর অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে পুরুষদের সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে; নারীটি সেই সিদ্ধান্তে হস্তান্তরিত বা প্রত্যর্পিত মানুষ।


উসমানের জন্য আমর ইবন সালিমের দাসী ক্রয়

উসমান ইবন আফফানের জন্য দাসী কেনার বর্ণনায় আমর ইবন সালিম আনসারি ক্রয়কারী প্রতিনিধি। উসমান নারীটিকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর স্বামী আছেন কি না। নারীটি স্বামী থাকার কথা জানান। বর্ণনার শেষ বাক্যে উসমান তাঁর বিবাহের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ক্রয়ের ঘটনাটির পরে বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ককে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। [69]

حدثنا عبيد الله بن معاذ قال: حدثنا أبي قال: حدثنا المنذر بن ثعلبة قال: حدثني عمرو بن سالم الأنصاري قال: اشتريت لعثمان ابن عفان جارية فقال لها: ألك زوج؟ قالت: نعم· فاحترمها عثمان.

বাংলা অনুবাদ: উবাইদুল্লাহ ইবন মুআয আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুনযির ইবন সালাবা আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমর ইবন সালিম আনসারি আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি উসমান ইবন আফফানের জন্য একজন দাসী কিনলাম। তিনি তাঁকে বললেন, ‘তোমার কি স্বামী আছে?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তখন উসমান তাঁর বিবাহের মর্যাদা রক্ষা করলেন।”

এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাতেও একজন বিবাহিত নারী অন্য পুরুষের জন্য কেনা হচ্ছেন। তাঁর বিবাহ সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে ক্রয়ের পরে। অর্থাৎ তাঁর ওপর মালিকানা অর্জন এবং তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পর্কে অনুসন্ধান দুটি পৃথক কার্যক্রম। উসমানের প্রশ্ন ও পরবর্তী আচরণ বিদ্যমান বিবাহকে স্বীকার করেছে; নারীটিকে কেনার ঘটনাটি তাঁর ওপর সম্পত্তিগত কর্তৃত্বের ব্যবহার দেখাচ্ছে। বিবাহিত হওয়া তাঁকে ক্রয়যোগ্য অবস্থান থেকে মুক্ত করেনি। তাঁর স্বামী থাকার তথ্য ক্রেতার আচরণ নির্ধারণের একটি শর্ত হিসেবে এসেছে।


স্বামী থাকা ‘বড় ত্রুটি’: ক্রেতার স্বার্থে দাম্পত্য সম্পর্কের মূল্যায়ন

একই অধ্যায়ে হারব আল-কারমানি ইসহাকের সঙ্গে নিজের প্রশ্নোত্তরও সংরক্ষণ করেছেন। সেখানে দাসী বিক্রি হলেই তালাক ঘটে যায় কি না, স্বামীর কাছ থেকে তাঁর দাম্পত্য যৌনঅধিকার কেনা যায় কি না এবং স্বামী থাকার কথা না জেনে কিনলে নারীটিকে ফেরত দেওয়া যায় কি না—এসব প্রশ্ন এসেছে। ইসহাক স্বামী থাকার বিষয়টিকে ‘বড় ত্রুটি’ বলেছেন। এই ত্রুটির অর্থ ক্রেতার স্বার্থে নির্ধারিত: নারীটির বিদ্যমান বিবাহ তাঁর সঙ্গে ক্রেতার যৌন সম্পর্কের পথে বাধা। [70]

وسمعت إسحاق وسألته قلت: رجل اشترى أمة ولها زوج؟ قال: لا يكون البيع طلاقًا. قلت: يشتري بضعها من زوجها؟ قال: نعم. قلت: من غير طلاق؟ قال: نعم يشتري بضعها. وسألتُ إسحاق مرة أخرى قلت: رجل اشترى أمة ولها زوج ولم يعلم إن لها زوج هل يردها؟ قال: يردها، لأنه عيب كبيرقال: ويشتري بضعها من زوجها.

বাংলা অনুবাদ: আমি ইসহাকের কথা শুনেছি এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি। আমি বললাম, “একজন ব্যক্তি এমন একজন দাসী কিনেছেন, যাঁর স্বামী রয়েছেন?” তিনি বললেন, “বিক্রয় তালাক হবে না।” আমি বললাম, “তিনি কি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে তাঁর ওপর বিবাহজনিত যৌনঅধিকার কিনবেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” আমি বললাম, “তালাক ছাড়াই?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তিনি তাঁর ওপর সেই অধিকার কিনবেন।” আমি ইসহাককে আরেকবার জিজ্ঞেস করলাম, “একজন ব্যক্তি এমন একজন দাসী কিনেছেন, যাঁর স্বামী রয়েছেন; কিন্তু তিনি স্বামী থাকার কথা জানতেন না। তিনি কি তাঁকে ফেরত দেবেন?” তিনি বললেন, “তিনি তাঁকে ফেরত দেবেন, কারণ এটি বড় ত্রুটি।” তিনি আরও বললেন, “তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে তাঁর ওপর বিবাহজনিত যৌনঅধিকার কিনবেন।”

‘বড় ত্রুটি’ কথাটি এই ব্যবস্থার মূল্যবোধ স্পষ্ট করে। একজন নারীর স্বামী থাকা তাঁর মানবিক সম্পর্কের পরিচয়; ক্রেতার হিসাবে সেটি তাঁর ব্যবহারযোগ্যতার ঘাটতি। ক্রেতা বিবাহের কথা না জানলে ফেরত দেওয়ার অধিকার পান। বিকল্প হিসেবে স্বামীর অধিকার কেনার সুযোগ থাকে। একই নারীর শরীরের ওপর সম্পত্তিগত মালিকানা এবং দাম্পত্য যৌনঅধিকারকে আলাদাভাবে হিসাব করা হচ্ছে। ক্রেতার অর্থ দিয়ে প্রথমটি অর্জিত হয়, পরে আরেক লেনদেনে দ্বিতীয়টি অর্জনের আলোচনা চলে। মানুষটির ব্যক্তিগত জীবনকে সম্পত্তির বিভিন্ন অধিকারে ভাগ করে পুরুষদের মধ্যে সমঝোতার বিষয় বানানো হয়েছে।

এই বর্ণনা ও বিধানগুলোর নৈতিক সমস্যা মানুষের জীবনকে মালিকদের স্বার্থে ভেঙে ভাগ করার মধ্যে। একজন বিক্রি করছেন নারীটির মালিকানা, আরেকজন কিনছেন; স্বামী তাঁর দাম্পত্য অধিকার ছাড়তে রাজি হলে অর্থের বিনিময়ে সেটিও নিষ্পত্তি হচ্ছে। নারীটির স্বাধীনতা, সম্পর্ক নির্বাচন এবং নিজের শরীরের ওপর সিদ্ধান্তের অধিকার এই দরকষাকষির নিয়ামক হয়ে ওঠেনি। দাসবাজার অর্থবান পুরুষকে একজন নারী কেনার পাশাপাশি তাঁর বিদ্যমান সম্পর্ক বদলানোর উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতাও দিয়েছে। ধর্মীয় আইন সেই ব্যবস্থায় ক্রেতার ক্ষতি, স্বামীর অধিকার ও লেনদেনের শর্ত নির্ধারণ করেছে। নারীর শরীর ও দাম্পত্যজীবন এভাবেই সম্পত্তির হিসাবের অধীনে এসেছে।


উপসংহার: মানুষের ওপর মালিকানা এবং ধর্মীয় আদর্শের নৈতিক ব্যর্থতা

মুহাম্মদের দাস কেনাবেচা এবং একাধিক সাহাবির মানুষ ক্রয়, বিক্রয়, বিনিময় ও হস্তান্তরের বিবরণ ইসলামি সাহিত্যেই সংরক্ষিত আছে। মুহাম্মদ মানুষের বিক্রয়দলিলে বিক্রেতা, অন্য লেনদেনে ক্রেতা, একজন মানুষ কেনার মূল্য হিসেবে আরও দুজন মানুষ হস্তান্তরকারী এবং বন্দিদের বিনিময়ে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের নির্দেশদাতা হিসেবে উপস্থিত। সংশ্লিষ্ট সাহাবিদের বর্ণনায়ও মানুষকে কেনা, পরীক্ষা করা, বিক্রি করা, ফেরত নেওয়া ও উপহার দেওয়ার ঘটনা রয়েছে। দাসপ্রথা তাঁদের অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে কার্যকর একটি মালিকানাব্যবস্থা ছিল। তাঁরা সেই ব্যবস্থার অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং মানুষের জীবনকে লেনদেনের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

নারী কেনাবেচার ঘটনায় এই কর্তৃত্ব আরও গভীরভাবে প্রকাশ পায়। তাঁর শরীর ক্রয়ের আগে পরীক্ষা করা যায়, তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের প্রত্যাশা নিয়ে দরদাম চলে, তাঁর সন্তান কার বলে গণ্য হবে তা নিয়ে বিরোধ হয় এবং তাঁর স্বামী থাকলে তালাক বা দাম্পত্য অধিকার কেনার আলোচনা হয়। বিক্রিত নারী নিজের শ্রমের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীর, যৌনজীবন ও সম্পর্কের ওপর স্বাধীন কর্তৃত্ব হারান। তাঁর জীবনের পরিবর্তন নির্ধারণ করেন ক্রেতা, বিক্রেতা ও অন্যান্য অধিকার দাবিকারী পুরুষ। মালিকানার মাধ্যমে পাওয়া যৌন ক্ষমতা নারীটির ওপর কাঠামোগত জবরদস্তি প্রতিষ্ঠা করে: মালিকের দাবির বিপরীতে স্বাধীনভাবে সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান ও নিজের জীবন বেছে নেওয়ার সমান অবস্থান তাঁর থাকে না। এই বৈষম্য দাসত্বের অন্তর্গত।

দাসবাজারের ধর্মীয় বিধানগুলো মানুষের ওপর এই কর্তৃত্বকে নিয়মিত করেছে। ক্রেতাকে ত্রুটি জানানো, অসুস্থতা থাকলে বিক্রয় ফেরত দেওয়া, যৌন আচরণের কারণে মূল্য কমা, বেত্রাঘাতের পরে বিক্রি এবং স্বামীর অধিকার কিনে নেওয়া—এসব বিষয়ে সূক্ষ্ম নিয়ম তৈরি হয়েছে। অর্থদাতার প্রত্যাশা ও মালিকের দাবি আইনগত গুরুত্ব পেয়েছে। যার জীবন কেনাবেচা হচ্ছে, তাঁর স্বাধীনতা লেনদেনের পূর্বশর্ত হয়নি। একটি মানুষকে কেনার অধিকার গ্রহণ করে ক্রেতার আর্থিক ক্ষতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়া হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা ও সমান মর্যাদা সেই সম্পত্তিগত অধিকারের অধীন হয়ে পড়েছে।

দাসকে কিনে মুক্ত করার ঘটনায় একজন মানুষের অধীনতা শেষ হয়েছে; সেটি স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার নির্দিষ্ট ফল। দাস কেনা, নিজের অধীনে ব্যবহার করা, বিক্রি করা এবং মুক্ত করা ভিন্ন কাজ, তাদের ফলও ভিন্ন। মুক্তিদানের সিদ্ধান্তে একজন ব্যক্তি স্বাধীনতা পান। বিক্রয়ে তিনি নতুন মালিকের অধীনে যান। মানুষকে উপহার দিলে তাঁর জীবনের নিয়ন্ত্রণ আরেকজনের হাতে চলে যায়। এই পার্থক্য অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির কাজের মূল্যায়ন হয়। দাসমুক্তির সদিচ্ছাকে সম্মান করার সঙ্গে মানুষ বিক্রি ও যৌন মালিকানার নৈতিক নিন্দা একই মানবিক মানদণ্ড থেকে আসে: প্রত্যেক মানুষ নিজের জীবনের অধিকারী।

একজন নবী মানুষের নৈতিক পথপ্রদর্শক হওয়ার দাবি করেন। সেই দাবি তাঁর নিজের কাজের ওপরও প্রযোজ্য। মানুষ কেনা, তাঁদের বিনিময়মূল্য হিসেবে ব্যবহার করা এবং বন্দি নারী-শিশুর মালিকানা হস্তান্তরের ঘটনায় মুহাম্মদের আচরণ মানবমুক্তির আদর্শের বিরোধী। তাঁর অনুসারীদের জন্য এসব কাজ ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত দৃষ্টান্তের অংশ হয়েছে। সাহাবি ও পরবর্তী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ সেই ব্যবস্থাকে সামাজিক ও আইনগত ধারাবাহিকতা দিয়েছে। নবী বা ধর্মীয় আদর্শের মর্যাদা দাবি করা অবস্থায় মানুষকে সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার গুরুতর নৈতিক ব্যর্থতা। এই বিচার বিক্রিত মানুষটির স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিসত্তার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

মানুষের দেহ কোনো ক্রেতার অধিগ্রহণযোগ্য সম্পদ নয়। তাঁর শ্রম, যৌনজীবন, দাম্পত্য সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্তের অধিকার তাঁর নিজের। অর্থ প্রদান, যুদ্ধজয়, উপহার কিংবা ধর্মীয় অনুমোদন দিয়ে অন্যের ওপর সেই কর্তৃত্ব অর্জনের দাবি অন্যায়। দাসপ্রথা মানুষের সমান মর্যাদাকে অস্বীকার করে; দাস কেনাবেচা সেই অস্বীকারকে কার্যকর লেনদেনে পরিণত করে। মুহাম্মদ, সাহাবি এবং পরবর্তী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বর্ণিত কর্মকাণ্ডে এই মালিকানা প্রয়োগের যে ঘটনাগুলো রয়েছে, সেগুলো দাসপ্রথায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্বের দলিল। মানুষের স্বাধীনতাই নৈতিক বিচারের ভিত্তি; মানুষকে সম্পত্তি বানানো সেই স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন।



তথ্যসূত্রঃ
  1. সুনান ইবন মাজাহ ২২৫১, দাস ক্রয় অধ্যায় ↩︎
  2. জামে তিরমিজি ১২১৬, ক্রয়-বিক্রয়ের শর্ত লিপিবদ্ধ করা প্রসঙ্গে ↩︎
  3. সুনান ইবনু মাজাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১৫ ↩︎
  4. ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত ফিস সুনান ওয়াল ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩২১, বর্ণনা ৮১৩০-এর অধ্যায় ↩︎
  5. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬০২ ↩︎
  6. জামে তিরমিযি, হাদিস ১২৩৯-এর পর তিরমিযির মন্তব্য ↩︎
  7. সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৯৭ক ↩︎
  8. সহিহ বুখারি, বেচাকেনা অধ্যায়, নিলামে বিক্রয় পরিচ্ছেদ, হাদিস ২১৪১ ↩︎
  9. ইহুদীকন্যা সাফিয়ার না-বলা গল্প ↩︎
  10. সুনান ইবন মাজাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়, হাদিস ২২৭২ ↩︎
  11. আদ-দুরার আস-সানিয়ায় সংরক্ষিত ইবন মাজাহর আরবি পাঠ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৬৩ ↩︎
  12. সুনান আবু দাউদ, খারাজ, প্রশাসন ও ফাই অধ্যায়, হাদিস ২৯৯৭ ↩︎
  13. সহিহ বুখারি, বিবাহ অধ্যায়, হাদিস ৫০৮৬ ↩︎
  14. জামে তিরমিযি, ব্যবসা-বাণিজ্য অধ্যায়, হাদিস ১২৮৪ ↩︎
  15. সুনান আবু দাউদ, জিহাদ অধ্যায়, বন্দিদের আলাদা করা পরিচ্ছেদ, হাদিস ২৬৯৬ ↩︎
  16. জামে তিরমিযি, হাদিস ১২৮৪-এর পর তিরমিযির পূর্ণ মন্তব্য ↩︎
  17. সুনান ইবন মাজাহ, দাসমুক্তি অধ্যায়, উম্মুল ওয়ালাদ পরিচ্ছেদ, হাদিস ২৫১৭ ↩︎
  18. সুনান আবু দাউদ, দাসমুক্তি অধ্যায়, হাদিস ৩৯৫৪ ↩︎
  19. ইবন আবদিল বার, আল-ইস্তিযকার, খণ্ড ২৩, পৃষ্ঠা ১৫২, মালিক থেকে উদ্ধৃত বর্ণনা ১৪৮১ ↩︎
  20. সহিহ বুখারি, বেচাকেনা অধ্যায়, দাস বিক্রয় পরিচ্ছেদ, হাদিস ২২২৯ ↩︎
  21. সহিহ মুসলিম, বিবাহ অধ্যায়, আযলের বিধান পরিচ্ছেদ, হাদিস ১৪৩৮ক ↩︎
  22. আবুল আব্বাস আল-কুরতুবি, আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬৫, আযল পরিচ্ছেদ ↩︎
  23. ইসলামে দাসীবাজার ও নারীদাসী কেনাবেচা: নারীর শরীরের উন্মুক্ত নিলাম ↩︎
  24. বায়হাকি, আস-সুনানুল কাবির, দাস কেনাবেচাসংক্রান্ত বর্ণনা; আরশিফুল ইসলামের ক্রমিক ১০১২১ ↩︎
  25. আলবানি, ইরওয়াউল গালিল, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০১, বর্ণনা ১৭৯২ ↩︎
  26. মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, দাসী কেনার সময় শরীর উন্মুক্ত করার পরিচ্ছেদ; আরশিফুল ইসলামের ক্রমিক ১২৭৭৮ ↩︎
  27. মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, একই পরিচ্ছেদ; আরশিফুল ইসলামের ক্রমিক ১২৭৮০ ↩︎
  28. মুআত্তা মালিক, বেচাকেনা অধ্যায়, দাসের ত্রুটিসংক্রান্ত বর্ণনা: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ, সালিম ইবন আবদুল্লাহর সূত্রে ↩︎
  29. সীরাতে ইবনে হিশাম, মূল: ইবনে হিশাম, অনুবাদ: আকরাম ফারুক, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, পৃষ্ঠা ২২৭ ↩︎
  30. ইবন হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যা, খণ্ড ২, বনু কুরাইযার যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন পরিচ্ছেদ; নজদে পাঠানোর বিবরণ পৃষ্ঠা ২৪৫ ↩︎
  31. সহিহ বুখারি, জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান অধ্যায়, হাদিস ৩০৪৩ ↩︎
  32. মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, বিবাহ অধ্যায়, বর্ণনা ১৮৪০৯; মুহাম্মদ আওয়ামার ক্রমিক ১৭৭৮৪ ↩︎
  33. সালিহ ইবন আবদুল আজিজ আলে শাইখ, আত-তাকমিল লিমা ফাতা তাখরিজুহু মিন ইরওয়াইল গালিল, বর্ণনা ২১৪০-এর আলোচনা ↩︎
  34. ইবন কুদামা, আল-মুগনি, খণ্ড ৮, মাসআলা ৬৩৮৬, দাসী বিক্রির আগে ইস্তিবরা প্রসঙ্গ ↩︎
  35. ইবন আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, সাঈদ আল-লাহহাম সম্পাদিত সংস্করণ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৩, সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদের বর্ণনা ৭ ↩︎
  36. মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, সাদ আশ-শাসরির ক্রমিক ২১৪৫৪; মুহাম্মদ আওয়ামার ক্রমিক ২০৬১৬ ও পাঠান্তর ↩︎
  37. ইবন আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৩, সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদের বর্ণনা ৪ ↩︎
  38. মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, সাদ আশ-শাসরির ক্রমিক ২১৪৫১; মুহাম্মদ আওয়ামার ক্রমিক ২০৬১৩ ↩︎
  39. মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, সাদ আশ-শাসরির ক্রমিক ২১৪৫২; মুহাম্মদ আওয়ামার ক্রমিক ২০৬১৪ ↩︎
  40. ইবন হিববান, আস-সিকাত, আবদুল্লাহ ইবন কারিব আস-সাকাফির জীবনী ↩︎
  41. ইবনুল মুনযির, আল-আওসাত, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৬০২–৬০৩, বর্ণনা ৮৭৭৮ ↩︎
  42. সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস ৩৭১৯; দারুসসালামের মূল্যায়ন: দুর্বল ↩︎
  43. মুসনাদ আহমাদ, মুআসসাসাতুর রিসালা সংস্করণ, খণ্ড ৪৪, পৃষ্ঠা ২৮৪, হাদিস ২৬৬৮৭; আদ-দুরার আস-সানিয়ায় সংরক্ষিত মূল পাঠ ↩︎
  44. ইউসুফ আল-কারাদাবি, ‘ফান্নুল ফুকাহাতি ওয়াল মারাহ’; ইবন আবদিল বারের আল-ইস্তিআব থেকে উদ্ধৃত মন্তব্য ↩︎
  45. সহিহ বুখারি, হাদিস ২৭২৯ ↩︎
  46. আল-কাসানি, বাদায়িউস সানায়ি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬২–১৬৩, ‘ওয়ালাউল ইতাকা’ ↩︎
  47. মুসনাদ আহমাদ, হাদিস ২৪১২৬, পুরোনো খণ্ড-পৃষ্ঠা ৬/৪০; আস-সিন্দির হাশিয়ায় সংরক্ষিত পাঠ ↩︎
  48. ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৩১৮৯২, ‘হাল সুহিরাত উম্মুল মুমিনিন আয়িশা’ ↩︎
  49. মুওয়াত্তা মালিক, আবু মুসআব আয-যুহরির বর্ণনা, ‘বাবু মা জাআ ফি বাইইল মুদাব্বার’, বর্ণনা ২৭৮২ ↩︎
  50. আবদুল হাই আল-লখনবি, আত-তালিকুল মুমাজ্জাদ আলা মুওয়াত্তা মুহাম্মদ, বর্ণনা ৮৪১-এর ব্যাখ্যা, টীকা ১৮ ↩︎
  51. সহিহ বুখারি, হাদিস ২১৫২ ↩︎
  52. সহিহ বুখারি, হাদিস ২১৫৩–২১৫৪ ↩︎
  53. আল-বাগাভি, শারহুস সুন্নাহ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৯৮, ‘মালিক নিজের দাসের ওপর হদ কার্যকর করে’ ↩︎
  54. আল-বাগাভি, শারহুস সুন্নাহ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২৯৮–২৯৯ ↩︎
  55. ইবন হাজর আল-আসকালানি, ফাতহুল বারি, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ১৭০–১৭১ ↩︎
  56. বদরুদ্দিন আল-আইনি, উমদাতুল কারি, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৭৮ ↩︎
  57. ইবন মনযুর, মুখতাসার তারিখি দিমাশক, আবদুল্লাহ ইবন জাফরের জীবনী ↩︎
  58. আশ-শাকওয়া ওয়াল ইতাব ওয়া মা ওয়াকাআ লিল খিল্লান ওয়াল আসহাব, পৃষ্ঠা ৬৬, বর্ণনা ১৪১; আবু মনসুর আস-সাআলাবির নামে প্রচলিত গ্রন্থ ↩︎
  59. আস-সাইমারি, আখবারু আবি হানিফা ওয়া আসহাবিহি, পৃষ্ঠা ৪৫; সংযুক্ত পিডিএফের পৃষ্ঠা ১৮ ↩︎
  60. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘দাসী বিক্রি হয় অথচ তার স্বামী রয়েছে’ অধ্যায় ↩︎
  61. ইবন আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, কিতাবুত তালাক, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৫–৬৭ ↩︎
  62. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’ ↩︎
  63. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’, মুসআব ইবন সাদের বর্ণনা ↩︎
  64. ইবন আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৬, ‘বিক্রয়কে তালাক মনে করেন না’ শীর্ষক অংশের চতুর্থ বর্ণনা ↩︎
  65. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’, ইলবা ইবন আহমারের বর্ণনা ↩︎
  66. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’, আবু সালামার সূত্রে আসিম ইবন আদির কাছ থেকে ক্রয়ের বর্ণনা ↩︎
  67. ইবন আবি শাইবা, আল-মুসান্নাফ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৫–৬৬, ‘বিক্রয়কে তালাক মনে করেন না’ শীর্ষক অংশের দ্বিতীয় বর্ণনা ↩︎
  68. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’, উমর ইবন আবি সালামার সূত্রে বর্ণনা ↩︎
  69. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’, আমর ইবন সালিম আনসারির বর্ণনা ↩︎
  70. হারব আল-কারমানি, মাসায়িল, ‘باب: الأمة تباع ولها زوج’, ইসহাকের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

Leave a comment

Your email will not be published.