ইসলামঅবশ্যপাঠ্যইতিহাস

নবী মুহাম্মদের করুণ মৃত্যু

ভূমিকা

ইসলামি সূত্র, সীরাত, হাদিস ও প্রাথমিক ঐতিহাসিক বিবরণ অনুসারেই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নবী মুহাম্মদ মক্কা, মদিনা ও আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যুদ্ধ, হত্যা, দাসত্ব, লুণ্ঠন ও গণিমতের ওপর দাঁড়ানো এক রাজনৈতিক-ধর্মীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। অসংখ্য মানুষকে তিনি দাস-দাসীতে পরিণত করেছেন, দখল করেছেন তাদের জমি, সম্পদ ও বসতি; যুদ্ধবন্দীদের হত্যা এবং তাদের ক্রীতদাস-দাসী বানানো ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নৈতিক অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। এমনকি, অমুসলিম নারীদের স্বামী, ভাই, পিতা ও গোত্রের পুরুষদের হত্যা বা পরাজিত করার পর তাদের গণিমতের মাল নাম দিয়ে সেইসব ক্রীতদাসীদের ওপর যৌন অধিকার দাবি করেছেন, সাহাবীদেরও একই কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তার জিহাদি সামরিক অভিযানের কবলে বহু মানুষ ঘরবাড়ি, জমি, স্বজন ও স্বাধীনতা হারিয়েছে; স্বজনের লাশের পাহাড় আর অমুসলিমদের উপাসনালয়ের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই ইসলামের নবী তার ইসলামি সাম্রাজ্য নির্মাণ করেন। এত হত্যা, দখল, দাসত্ব, যৌন দখলদারি ও যুদ্ধের ওপর দাঁড়ানো জীবনযাপনের পর তার নিজের মৃত্যু-পরিণতিও ছিল অস্বাভাবিকভাবে যন্ত্রণাদায়ক। হাদিস ও সীরাতের বিবরণ অনুযায়ী তার মৃত্যু হয়েছিল বিষক্রিয়ার দীর্ঘ যন্ত্রণা, মৃত্যুভয়, শারীরিক কষ্ট এবং ঘরোয়া দ্বন্দ্বের মধ্যে। এই প্রবন্ধের আলোচ্য, নবী মুহাম্মদের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছিল, খায়বারের বিষের সঙ্গে সেই মৃত্যুর সম্পর্ক কী, এবং এই ঘটনাগুলো ইসলামি দাবিকৃত নবুওয়ত, অলৌকিক সুরক্ষা ও আল্লাহর প্রিয়তম বান্দার ধারণাকে কী ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। পাঠকগণ উদ্ধৃত হাদিস, সীরাত, তাফসির ও ঐতিহাসিক সূত্রগুলো যাচাই করবেন; যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করবেন, এটাই কাম্য।

নবী মুহাম্মদের করুণ মৃত্যুর সারাংশ
নিচের ছোট কার্ডগুলো পুরো প্রবন্ধের মূল ধাপগুলোকে সংক্ষেপে দেখায় — সহিংস জিহাদের পটভূমি থেকে শুরু করে খায়বারের বিষ, দীর্ঘমেয়াদি বিষক্রিয়া, মৃত্যুশয্যার ঘটনাগুলো এবং শেষের যৌক্তিক প্রশ্ন পর্যন্ত।
পটভূমি
জিহাদ, ইহুদি-বিদ্বেষ ও গণহত্যা
যুদ্ধ অভিযান
দাস–দাসী
ইহুদি শত্রুতা
মক্কা–মদিনা জুড়ে হত্যা, গণহত্যা, দাসপ্রথা ও গণিমত দিয়ে সাম্রাজ্য বিস্তার; বিশেষ করে ইহুদি গোত্রদের ওপর নৃশংস অভিযান, বানু কায়নুকা, বনু নাদীর এবং বনু কুরাইজার প্রতি নৃশংসতা। ভূমি থেকে উচ্ছেদ, গণহত্যা, আক্রমণ। যার ফলেই তীব্র প্রতিশোধস্পৃহা জমে থাকে।
খায়বার
বিষযুক্ত ভেড়ার মাংস
ইহুদি নারী
বিষ প্রয়োগ
বিশরের মৃত্যু
খায়বার অভিযানের পর এক ইহুদি নারী, যার পরিবার ও স্বজনরা মুহাম্মদের সামরিক অভিযানে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছিল, তিনি বিষ মেশানো ভেড়ার মাংস নবীর সামনে পরিবেশন করেন। নবী নিজেও তা মুখে দেন, এক সাহাবী (বিশর) সাথে সাথেই মারা যান। সেই নারী স্পষ্ট জানায়—সে নবুয়ত যাচাই ও পরিবার পরিজন হত্যার প্রতিশোধ, দু’টোকেই লক্ষ্য করেছিল।
বিষের প্রভাব
জিহ্বা ও শরীরে স্থায়ী ক্ষত
আলজিভে ক্ষত
চিরস্থায়ী যন্ত্রণা
হাদিসে বর্ণিত, খায়বারের পর থেকে নবীর জিহ্বা ও তালুতে বিষের ক্ষত দেখা যায়; তিনি বারবার বলেন, সেই খাদ্য আজও তাকে কষ্ট দিচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রধান ধমনী/প্রাণধমনি কেটে দিচ্ছে বলে অনুভব করতেন।
শেষ রোগ
যন্ত্রণাময় অসুস্থতা ও ব্যর্থ রুহানি চিকিৎসা
মু’আউইযাত
রুকইয়া
অপার যন্ত্রণা
শেষ রোগে নবী নিজে ও পরে আয়িশা মুআব্বিযাত পড়ে ফুঁক দিতে থাকেন, কিন্তু বিষক্রিয়াজনিত যন্ত্রণা কমে না। আয়িশা স্বীকার করেন, তিনি এর আগে কখনো এমন তীব্র রোগযন্ত্রণা দেখেননি।
মৃত্যুশয্যা
ঔষধ ঢালার ঘটনা, কাগজ না দেয়া, টানা–হিঁচড়ে আনা
আয়িশা–হাফসা
উমর–আবু বকর
আলী–দ্বন্দ্ব
মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় নবীকে টেনে–হিঁচড়ে আয়িশার ঘরে আনা, নবীর স্পষ্ট অনিচ্ছা সত্ত্বেও মুখে জোর করে “ঔষধ” ঢালা, শেষ বেলায় কাগজ কলম চাওয়ার পরও উমরের বাধা ও সঙ্গীদের ঝগড়া— সব মিলিয়ে ঘরোয়া রাজনীতি ও আস্থাহীনতার ছবিটা স্পষ্ট হয়।
করুণ পরিণতি
“মৃত্যুযন্ত্রণা বড় কঠিন” — বিষে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু
গ্রীবা/প্রধান ধমনী
তীব্র ব্যথা
শহীদি দাবির প্রশ্ন
নবী নিজেই শেষ মুহূর্তে বলেন, “মৃত্যু–যন্ত্রণা বড় কঠিন” — এবং খায়বারের সেই বিষই তার প্রাণধমনি কেটে দিচ্ছে। একই সাথে কোরআনের “অকল্যাণ নিজের কর্মফল” ও “মিথ্যা নবুয়ত হলে গ্রীবা কেটে দেওয়ার” আয়াতের আলোকে যৌক্তিক সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠে আসে, যা প্রবন্ধের শেষাংশে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

আলেমদের মুখে মৃত্যু-যন্ত্রণা ও বেইমানের মৃত্যু

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কয়েকজন পরিচিত আলেমের বক্তব্য শুনে নেওয়া জরুরি। ইসলামি বয়ানে সাধারণত “বেইমান” বা অবিশ্বাসীর মৃত্যুকে ভয়াবহ, অপমানজনক ও যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মুমিনদের বোঝানো হয়, কষ্টকর মৃত্যু হচ্ছে আল্লাহর অসন্তোষ, পাপ, কুফর বা বেইমানির লক্ষণ। কিন্তু সমস্যা হলো, ইসলামি সূত্র অনুযায়ী নবী মুহাম্মদের নিজের মৃত্যুও ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাকাতর। তাই আলেমদের এই বক্তব্যগুলো আগে শুনে নেওয়া দরকার; এরপর একই মানদণ্ড নবীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে কী দাঁড়ায়, সেটিই এই প্রবন্ধের মূল প্রশ্ন।


এবার আরেকজন বক্তার বক্তব্য শুনি। লক্ষ্য করুন, মৃত্যুর কষ্ট, ঈমান, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নবীর মৃত্যুকে ঘিরে কীভাবে ধর্মীয় ব্যাখ্যা তৈরি করা হয়। এই ব্যাখ্যাগুলো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে একভাবে ব্যবহার করা হলেও, নবী মুহাম্মদের ক্ষেত্রে এসে সেগুলোকে হঠাৎ ভিন্ন অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এখানেই দ্বিচারিতার শুরু।


এবার মতিউর রহমান মাদানির বক্তব্য শুনি। এখানে নবীর মৃত্যু-যন্ত্রণা নিয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ; কারণ একই ধর্মীয় ভাষায় একদিকে অবিশ্বাসীর যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুকে আল্লাহর শাস্তি হিসেবে দেখানো হয়, অন্যদিকে নবীর যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করা হয়। একই লক্ষণ, কিন্তু দুই রকম ব্যাখ্যা, এটি যুক্তির ভাষায় গ্রহণযোগ্য নয়।


এবার ইসলামি তাফসিরের একটি প্রাসঙ্গিক দলিল দেখা যাক। যদি কষ্টকর মৃত্যু, মৃত্যু-যন্ত্রণা বা ভয়াবহ পরিণতিকে ইসলামি আলোচনায় পাপ, কুফর, বেইমানি বা আল্লাহর অসন্তোষের লক্ষণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে নবী মুহাম্মদের নিজের যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুকেও সেই আলোচনার বাইরে রাখা যায় না। নবী বলে তার ক্ষেত্রে সবকিছু ব্যতিক্রম, আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সেটি আল্লাহর শাস্তি, এভাবে যুক্তি চলে না। [1]

الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ
-ওফাতের সময় রসূলুল্লাহ্ (সা)-র
মধ্যে এই অবস্থা দেখা দিলে তিনি হাত ভিজিয়ে মুখমণ্ডলে মালিশ করতেন এবং বলতেনঃ لا اله الا الله أن للموت سكرات -অর্থাৎ কালিমা তাইয়েবা পাঠ করে বলতেনঃ মৃত্যু-যন্ত্রণা বড় সাংঘাতিক।

মৃত্যু

মৃত্যুভয়ে পাহারাদার চাইতেন নবী

সহিহ হাদিস থেকেই জানা যায়, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থার দাবি থাকা সত্ত্বেও, জিবরাইলের মতো শক্তিমান ফেরেশতা এবং আরও হাজারো ফেরেশতা বাহিনী তার সহায়তায় আছে বলে প্রচারিত হওয়া সত্ত্বেও, নবী মুহাম্মদ শত্রুর আক্রমণের ভয়ে রাত জেগে কাটাতেন। তার পাহারাদার লাগত, কারণ তিনি আশঙ্কা করতেন কেউ এসে তাকে হত্যা করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ; কারণ যে মানুষ নিজেকে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, ফেরেশতাদের দ্বারা সহায়তাপ্রাপ্ত এবং অলৌকিকভাবে সুরক্ষিত দাবি করেন, তারই আবার রাতের অন্ধকারে মানব-পাহারাদারের প্রয়োজন হয়। অলৌকিক সুরক্ষার দাবি আর বাস্তব মৃত্যুভয়ের মধ্যে এই দ্বন্দ্বটি সহজে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। [2]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ৫৬/৭০. মহান আল্লাহর পথে যুদ্ধে প্রহরা দান।
২৮৮৫. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক রাতে) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে কাটান। অতঃপর তিনি যখন মদিনা্য় এলেন এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্যে কোন যোগ্য ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকত। এমন সময় আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? ব্যক্তিটি বলল, আমি সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস, আপনার পাহারার জন্য এসেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে গেলেন। (৭২৩১) (মুসলিম ৪৪/৫ হাঃ ২৪১০, আহমাদ ২৫১৪৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৬৮৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

এই হাদিসে ছবিটি খুব পরিষ্কার: পাহারা আসার আগে নবী ঘুমাতে পারছিলেন না; পাহারাদার আসার পর তিনি ঘুমালেন। অর্থাৎ বাস্তব নিরাপত্তা এসেছে সাহাবীর অস্ত্রধারী পাহারা থেকে, ফেরেশতা বাহিনী বা অলৌকিক সুরক্ষা থেকে নয়। যে নবীর জন্য আল্লাহ নাকি আসমান থেকে সাহায্য পাঠান, সেই নবীর রাতের ঘুমও শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের পাহারার ওপর নির্ভর করেছে, এটি নবুওয়তের অলৌকিক দাবির সঙ্গে বাস্তব মানবিক ভয়ের তীব্র বৈপরীত্য দেখায়।


খায়বারে বিষযুক্ত ভেড়ার মাংস

একের পর এক ইহুদি গোত্রকে ভিটেমাটি ছাড়া করা, তাদের সম্পদ দখল করা, এবং কয়েকটি ইহুদি গোত্রের ওপর নৃশংস সামরিক অভিযান চালানোর কারণে ইহুদি গোত্রগুলোর মধ্যে নবী মুহাম্মদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জমে ছিল। বিশেষ করে প্রচলিত ইসলামি সীরাতের বিবরণ অনুযায়ী, বনু কুরাইযা গোত্রের শত শত পুরুষকে একদিনে হত্যা করার ঘটনা তাদের কাছে ছিল ভয়াবহ গণহত্যা, অপমান ও প্রতিশোধের কারণ। কিন্তু সংখ্যা ও সামরিক শক্তিতে দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা সরাসরি প্রতিরোধ করতে পারছিল না। খায়বার অভিযানের পর যায়নাব বিনতে হারিস নামের এক ইহুদি নারীর পক্ষ থেকে নবী মুহাম্মদের সামনে বিষযুক্ত ভেড়ার মাংস পরিবেশন করা হয়। নবী মুহাম্মদও সেই মাংসের কিছু অংশ মুখে নিয়েছিলেন, এর প্রমাণ পরের দলিলগুলোতে দেওয়া হবে। কিন্তু সাহাবী বিশর ইবনু বারার মৃত্যু এবং বিষের সন্দেহ দেখা দিলে নবী মুখে থাকা অংশ ফেলে দেন এবং সেই ইহুদি নারীকে জিজ্ঞেস করেন, সে খাবারে বিষ মিশিয়েছে কি না। নারীটির উত্তর ছিল নবুওয়তের বিরুদ্ধে এক নির্মম পরীক্ষা: “আপনি যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকেন, তাহলে এই বিষ আপনার ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি আপনি কেবল আক্রমণকারী ক্ষমতাবান ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে আমি আপনার হাত থেকে মানুষকে শান্তি দিলাম।” এই উত্তর ঘটনাটিকে সাধারণ হত্যাচেষ্টা থেকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যায়; এটি ছিল এক পরিবার-স্বজনহারা নারীর প্রতিশোধ, এবং একই সঙ্গে মুহাম্মদের নবুওয়ত দাবির বিরুদ্ধে বাস্তব পরীক্ষাও। সত্য নবী হলে বিষ কেন কাজ করবে? আর যদি বিষ কাজ করে, তাহলে অলৌকিক সুরক্ষার দাবি কোথায় দাঁড়ায়?

আসুন, ইবনে ইসহাকের প্রখ্যাত সীরাত গ্রন্থ থেকে এই বিষয়টি পড়ে নিই- [3]

খাইবারের বাকি কথা
বনু আল-নাদিরের সঞ্চিত ধনরত্নের হেফাজত ছিল কিনানা ইবনে আল-রাবির ওপর। তাকে রাসুলের (সা.) কাছে আনা হলে সে তা অস্বীকার করল, ওগুলো কোথায় আছে সে জানে না। একজন ইহুদি রাসুলের (সা.) কাছে এসে জানাল [তাবারির ভাষ্য: তাকে আনা হয়েছিল], সে কিনানাকে ধ্বংসাবশেষের একটি নির্দিষ্ট স্থানে রোজ সকালে যেতে দেখেছে। রাসুল (সা.) কিনানাকে বললেন, ‘আমরা যদি প্রমাণ পাই তোমার কাছে সব ধনসম্পদ আছে, তাহলে তোমাকে হত্যা করা হবে, সেটা তুমি জানো?’
সে বলল, সে তা জানে।
রাসুল (সা.) হুকুম দিলেন, ধ্বংসাবশেষ খোদাই করে ধনরত্ন পেতে হবে। কিছু সম্পদ পাওয়া গেল। বাকি ধনরত্ন কোথায় রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলে সে তা বলতে অস্বীকার করল। রাসুল (সা.) আল-জুবায়ের ইবনে আল-আওয়ামকে হুকুম দিলেন, ‘ওর কাছে যা আছে বের করে না দেওয়া পর্যন্ত তাকে শাস্তি দাও।’
জুবায়ের তার বুকের ওপর চকমকি পাথর আর ইস্পাত রেখে তার ওপর অগ্নিসংযোগ করলেন। এই অবস্থায় তার শেষ দশা উপস্থিত হলো। তারপর রাসুল (সা.) তাকে মুহাম্মদ ইবনে মাসলামার হাতে তুলে দিলেন। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা তার শিরশ্ছেদ করে ভ্রাতৃহত্যার প্রতিশোধ নিল।
*খাইবারের লোকদের রাসুল (সা.) আল-ওয়াতিহ ও আল-সুলালিম নামে দুটি দুর্গে অবরোধ করে রাখেন। তারপর ওরা আর সামলাতে পারল না, রাসুলকে (সা.) অনুরোধ করল ওদের প্রাণে বাঁচিয়ে দিলে ওরা চলে যাবে। রাসুল (সা.) ওদের যেতে দিলেন। এদিকে রাসুল (সা.) এ দুটি দুর্গ ছাড়া ওদের অন্যান্য সব সম্পদ অধিকার করেন—আল-শাকক, নাতা, আল-কাতিরা এবং তাদের বাকি সমস্ত দুর্গ।’ ফাদাকের লোকজন সব বৃত্তান্ত অবগত হলে তারাও বলে পাঠাল, প্রাণে না মারলে তারাও চলে যাবে, তাদের সব সম্পত্তি রাসুলকে (সা.) দিয়ে যাবে। রাসুল (সা.) সম্মত হলেন। এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করেছিল বনু হারিসার ভাই মুহাইসা ইবনে মাসুদ। এই সব শর্তে খাইবারের লোকজন আত্মসমর্পণ করে রাসুলের (সা.) কাছে অনুরোধ জানাল, তাদের জমিতে কাজ করতে দিলে অর্ধেক ফসল তারা গ্রহণ করবে, বাকি অর্ধেক রাসুলকে (সা.) দেবে। তারা বলল, ‘জমির ব্যাপারে আমরা আপনাদের চেয়ে বেশি জানি, আর কৃষক হিসেবে আমরা ভালো।’ রাসুল (সা.) এই শর্তে রাজি হলেন, ‘যখন তোমাদের বহিষ্কার করতে চাইব, তখনই তোমাদের বহিষ্কার করে দেব।’ ফাদাকের লোকজনের সঙ্গেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো। সুতরাং খাইবার মুসলমানদের যুদ্ধার্জিত সম্পত্তিতে পরিণত হলো। আর ফাদাক হয়ে গেল রাসুলের (সা.) ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কারণ, তার
বিরুদ্ধে কোনো ঘোড়া বা উটের সেখানে যেতে হয়নি। রাসুল (সা.) যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন আল-হারিসের মেয়ে, সাল্লাম ইবনে মিশকামের স্ত্রী
জয়নব তাঁর জন্য একটা ভেড়া রোস্ট করে। এর আগে জিজ্ঞেস করে সে জেনে নেয় যে রাসুল (সা.) ভেড়ার কাঁধের অংশটি খেতে পছন্দ করেন। সমস্ত মাংসে সে বিষ মেশাল, কাঁধের অংশে ভালো করে। তারপর তা বেড়ে দিল রাসুলের (সা.) পাতে। রাসুল (সা.) কাঁধের এক টুকরা মাংস নিয়ে চিবোলেন, কিন্তু গিললেন না। সঙ্গে ছিল বিশর ইবনে আল-বারা। সে একটা টুকরা গিলে ফেলল। রাসুল (সা.) মুখের গোশত ফেলে দিলেন, বললেন, ‘এই হাড্ডিতে মনে হয় বিষ মেশানো হয়েছে।’ তিনি সেই মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞেস করতেই সে সব স্বীকার করল। কেন এমন কাজ সে করতে গেল জিজ্ঞেস করলে সে বলল, ‘আপনি আমার লোকজনের কী ক্ষতি করেছেন, আপনি ভালো করে জানেন। ভাবলাম সে যদি রাজা হয়, তাহলে আপদ চুকে যাবে। আর যদি নবী হয় তো টেরই পাবে।’
শুনে রাসুল (সা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। বিষক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করল বিশর।
খাইবারের পর রাসুল (সা.) ওয়াদিল-কুরা কয়েক রাত অবরোধ করে রাখেন। তারপর মদিনার পথে রওনা হন।
আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে মুতির মুক্তি পাওয়া দাস সালিম ও তাঁর সূত্রে ছাউর ইবনে জায়েদ আমাকে বলেছেন, খাইবার থেকে যখন ওয়াদিল-কুরা গিয়ে পৌঁছালাম, তখন সূর্য অস্ত যাচ্ছে। রাসুলের (সা.) সঙ্গে ছিল দুবায়বি গোত্রের দেওয়া ক্রীতদাস রিফা ইবনে জায়েদ। সে রাসুলের (সা.) উটের গদি নামাচ্ছিল যখন, তখন কোথা থেকে একটা তির এসে তার দেহে বিদ্ধ হলো এবং এতে সে মারা গেল। আমরা বেহেশত নসিবের জন্য ওকে অভিনন্দন জানালে রাসুল (সা.) বললেন, ‘ও বেহেশতে যাবে না। ওর কোর্তা এতক্ষণে দোজখে তাকে পোড়াচ্ছে। খাইবারের দিনে ওটা সে মুসলিমদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে চুরি করেছিল।’ তাঁর একজন সঙ্গী এসে বললেন, ‘কিন্তু আমি যে দুটো চটি জুতার ফিতা নিয়েছিলাম।’ তিনি বললেন, ‘ও রকম আগুনের দুটো ফিতে কাটা হবে তোমার জন্য।’
আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুজানি সূত্রে সন্দেহ করি না এমন একজন আমাকে বলেছেন, ‘খাইবারের যুদ্ধ-সম্পদ থেকে এক বস্তা চর্বি কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছিলাম। পথে লোকজন ধরল আমাকে, বলল, এটা ভাগ করে দেব মুসলিমদের মধ্যে।’ আমি বললাম, সে আমি হতে দেব না। রাসুল (সা.) এই টানাটানি দেখলেন, বললেন, ‘আরে, ছাড়ো তো ওকে।’ ওরা ছেড়ে দিল। আমি সঙ্গীদের কাছে গিয়ে ওটা সবাইকে ভাগ করে দিলাম।

নবী
মৃত্যু 2

তাবারি ৮ম খণ্ডের ১২৪ পৃষ্ঠাতেও [4] এই ঘটনা পাওয়া যায়।

History of al Tabari vol-8 p124

নবীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ

ইহুদি নারীর দেওয়া বিষযুক্ত মাংস খেয়ে নবী মুহাম্মদের শরীরে কোনো ক্ষতি হয়েছিল কি না, সেটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ, ইহুদি নারীটি খুব স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, মুহাম্মদ সত্যিই নবী হয়ে থাকলে সেই বিষ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। অর্থাৎ ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাচেষ্টা ছিল না; এটি এক অর্থে মুহাম্মদের নবুওয়তের দাবির বিরুদ্ধে বাস্তব পরীক্ষা ছিল। এখন প্রশ্ন হলো, সেই বিষ কি সত্যিই মুহাম্মদের শরীরে কাজ করেছিল? হাদিস থেকেই জানা যায়, সেই বিষে মুহাম্মদের শারীরিক ক্ষতি হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই বিষের যন্ত্রণা তাকে ভোগ করতে হয়েছিল। [5],

সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি)
ভূমিকা
পরিচ্ছেদঃ ১১. মৃত ব্যক্তির কথা বলার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মানিত করা হয়েছে প্রসঙ্গে
৬৮. আবু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিয়া (উপহার) খেতেন (গ্রহণ করতেন) কিন্তু সাদাকা গ্রহণ করতেন না। একবার খায়বারের এক ইহুদী মহিলা তাঁকে একটি ভূনা ছাগল হাদিয়া দিল। তারপর তিনি তা থেকে খেলেন এবং তা থেকে বিশর ইবনু বারা’ও খেলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত উঠিয়ে নিয়ে বললেন: ’এটি (এই বকরী) আমাকে সংবাদ দিচ্ছে যে, এটি বিষ মিশ্রিত।’ ফলে (তা খেয়ে) বিশর ইবনু বারা’ মৃত্যুবরণ করলেন। তখন তিনি ঐ মহিলার নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: ’কিসে তোমাকে এ কাজ করতে প্ররোচিত করল? তখন সে বলল, যদি আপনি নবী হন, তবে এটি আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি আপনি কোন বাদশাহ্ হন, তবে (আপনার মৃত্যু হবে ফলে) আপনার কবল থেকে লোকদেরকে আমি রেহাই দিলাম।
তাই তিনি তাঁর অসুস্থতার সময় বলতেন: ’খায়বারে যে খাদ্য আমি খেয়েছিলাম তা আজও আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। এখন এটি আমার প্রাণ ধমনি (কলিজা) ছিঁড়ে ফেলছে।’[1]
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান, তবে এটি মুরসাল।
তাখরীজ: আবু দাউদ ৪৫১১, ৪৫১২; বাইহাকী, দালাইল ৪/২৬২; ইবনু সা’দ, তাবাকাত ১/১১৩-১১৪।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

নবী মুহাম্মদ যে বিষযুক্ত মাংসের কিছু অংশ মুখে নিয়েছিলেন, সেটি যে তার শরীরে প্রবেশ করেছিল এবং তার শারীরিক ক্ষতি করেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় আরেকটি সহিহ হাদিসে। তার শরীরে বিষক্রিয়ার দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। একজন প্রখ্যাত সাহাবীর সহিহ হাদিস অনুসারে, তিনি নবীর আলজিভ ও তালুতে এরপর থেকে বিষের ক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতেন। অর্থাৎ বিষটি শুধু মুখে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়নি; তার প্রভাব নবীর শরীরে থেকে গিয়েছিল এবং তা দৃশ্যমান ছিল। [6]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৪০/ সালাম
পরিচ্ছেদঃ ১৮. বিষ
৫৫১৭। ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব হারিসী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ইয়াহুদী মহিলারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বিষ মেশানো বকরীর গোশত নিয়ে এল। তিনি তা থেকে (কিছু) খেলেন। পরে তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে আসা হল। তিনি তাকে এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে সে বলল, আমি আপনাকে মেরে ফেলার ইচ্ছা করেছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ এ ব্যাপারে তোমাকে কিংবা তিনি বললেনঃ আমার উপরে ক্ষমতা দিবেন এমন নয়। তারা (সাহাবীগণ) বললেন, আমরা কি তাকে কতল করে ফেলব? তিনি বললেন, না। রাবী বলেন, এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলজিভ ও তালুতে (তার ক্রিয়া) আমি প্রত্যক্ষ করতাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

হাদিসটি পাবেন সহিহ মুসলিম গ্রন্থে [7]

নবীর জিহবায় বিষের প্রভাব

এই একই হাদিস আপনি পাবেন সুনান আবু দাউদ শরীফেও [8]

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ৬. কাউকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলে কি তাকেও হত্যা করা হবে?
৪৫০৮। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা জনৈকা ইয়াহুদী নারী বিষ মিশ্রিত একটি ভূনা ছাগী নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি তা থেকে খেলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে এ জন্য প্রশ্ন করলেন। সে বললো, আমি আপনাকে হত্যা করার জন্যই এটা করেছি। তিনি বললেন, ‘‘এ ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে সফল হতে দেননি অথবা তিনি বলেছেন, আমার উপর তোমাকে সফল হতে দেননি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, একে আমরা হত্যা করবই। তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বললেন, আমি সর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আলাজিভে তা (বিষের ক্ষত চিহ্ন) দেখতে পেতাম।(1)
সহীহ।
(1). বুখারী, মুসলিম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

উল্লেখ্য, সেই ইহুদি নারী নবীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তিনি সত্যিই নবী হয়ে থাকলে বিষ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ঘটনাটি তাই শুধু হত্যাচেষ্টা ছিল না; এটি ছিল নবুওয়তের দাবির বিরুদ্ধে এক নির্মম বাস্তব পরীক্ষা। প্রথমে তাকে হত্যা করা হয়নি; পরে বিশর ইবনু বারার মৃত্যুর দায়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, যদি এই ঘটনাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীকে “শহীদি মর্যাদা” দেওয়ার পরিকল্পনা হয়, তাহলে নারীটির অপরাধ কোথায়?

হাদিসটি পাবেন [9]

মৃত্যু 6

এবারে আসুন মিশকাত শরীফের একটি হাদিস এবং তার ব্যাখ্যা পড়ি, [10]

মৃত্যু 8

বিষের বিরুদ্ধে ব্যর্থ রুহানি চিকিৎসা

নবী মুহাম্মদ এই বিশাল মহাবিশ্বের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের প্রেরিত রাসুল এবং ফেরেশতা-জ্বীন-ইনসান সকলের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বলে নিজেকে দাবী করার পরেও, তার আল্লাহ, ফেরেশতা বাহিনী, জ্বীন বাহিনী, কেউই তাকে খায়বারের সেই বিষযুক্ত ভেড়ার মাংস বিষয়ে এতটুকু সাবধান করে নি। বিষয়টি খুবই সন্দেহজনক। এতবড় মহাবিশ্বের স্রষ্টার সবচাইতে কাছের বন্ধু নবী মুহাম্মদ, যার আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ ভেঙ্গে দুইভাগ হয়ে যায়, যার মোজেজার কোন সীমা নেই, যার ক্ষমতা ও মর্যাদা সব মানুষ, ফেরেশতা ও জ্বীনের চাইতেও বেশি, আল্লাহ বা ফেরেশতারা একটু আগে সাবধান করলেই তার আর বিষক্রিয়ায় যন্ত্রনা নিয়ে মরতে হতো না। পরবর্তীতে নবী মুহাম্মদ বেঁচে উঠার, সুস্থ হওয়ার অনেক চেষ্টাই করেছেন, কিন্তু সফল হন নি। বিষ তো আর আল্লাহ নবী রাসুল চেনে না, বিষ তার স্বাভাবিক কাজই করে। নিচের হাদিস তার প্রমাণ [11]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৭৬/ চিকিৎসা
পরিচ্ছেদঃ ৭৬/৩২. কুরআন পড়ে এবং সূরা নাস ও ফালাক অর্থাৎ (মু‘আব্বিযাত) পড়ে ফুঁক দেয়া।
৫৭৩৫. ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রোগে ওফাত পান সেই রোগের সময়ে তিনি নিজ দেহে ‘মু‘আব্বিযাত’ পড়ে ফুঁক দিতেন। অতঃপর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন আমি সেগুলো পড়ে ফুঁক দিতাম। আর আমি তাঁর নিজের হাত তাঁর দেহের উপর বুলিয়ে দিতাম। কেননা, তাঁর হাতে বারাকাত ছিল। রাবী বলেনঃ আমি যুহরীকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কীভাবে ফুঁক দিতেন? তিনি বললেনঃ তিনি তাঁর দু’ হাতের উপর ফুঁক দিতেন, অতঃপর সেই দু’ হাত দিয়ে আপন মুখমন্ডল বুলিয়ে নিতেন। (৪৪৩৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৩১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫২১১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

এবারে আসুন আনওয়ারুল মিশকাত শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ গ্রন্থ থেকে একটি হাদিস ও তার ব্যাখ্যা পড়ে নিই, [12]

মৃত্যু 10

নবী মুহাম্মদের করুণ মৃত্যু

এবারে আসুন দেখি, মহাবিশ্বের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের সর্বাপেক্ষা প্রিয় মানুষ, সর্বাপেক্ষা প্রিয় রাসুল নবী মুহাম্মদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল [13]

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
হাদিস নম্বরঃ (4094)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২২৪৭. নাবী (সাঃ) এর রোগ ও তাঁর ওফাত। মহান আল্লাহর বাণীঃ আপনিতো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল। এরপর কিয়ামত দিবসে তোমরা পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাক-বিতন্ডা করবে (৩৯ঃ ৩০,৩১) ইউনুস (রহঃ) যুহরী ও উরওয়া (রহঃ) সুত্রে বলেন, আয়শা (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাঃ) যে রোগে ইন্তিকাল করেন সে সময় তিনি বলতেন, হে আয়শা! আমি খায়বারে (বিষযুক্ত) যে খাদ্য ভক্ষণ করেছিলাম, আমি সর্বদা তার যন্ত্রণা অনুভব করছি। আর এখন সেই সময় আগত, যখন সে বিষক্রিয়ার আমার প্রাণবায়ু বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে

হাদিসটি পাবেন সহিহ বুখারীতে [14]

নবী মুহাম্মদের বিষে মৃত্যু
বিষক্রিয়ায় মুহাম্মদের মৃত্যু

নবীর কমবয়সী স্ত্রী আয়িশার কাছ থেকেও জানা যায়, ভয়ঙ্কর কষ্টকর মৃত্যু হয়েছে নবী মুহাম্মদের। [15]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬২/ রোগীদের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ ২২৫১. রোগের তীব্রতা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫২৪৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৫৬৪৬
৫২৪৩। কাবীসা (রহঃ) ও বিশর ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাইতে অধিক রোগ যাতনা ভোগকারী অন্য কাউকে দেখিনি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

নবী মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও নবীর মৃত্যু যন্ত্রণায় কষ্ট দেখে কষ্ট পেতেন। কী প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে নবীর মৃত্যু হয়েছে, এই হাদিস থেকেই তা বোঝা যায় [16]-

সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৬/ জানাযা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬/৬৫. নাবী ﷺ -এর ইনতিকাল ও তাঁর কাফন-দাফন।
৩/১৬২৯। আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু যন্ত্রণা তীব্রভাবে অনুভব করেন, তখন ফাতেমাহ (রাঃ) বলেন, হায় আমার আব্বার কত কষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজকের দিনের পরে তোমার আব্বার আর কোন কষ্ট থাকবে না। তোমার আব্বার নিকট এমন জিনিস উপস্থিত হয়েছে, যা কিয়ামাত পর্যন্ত কাউকে ছাড়বে না।
সহীহুল বুখারী ৪৪৬২, আহমাদ ১৬০২৬, সহীহাহ ১৬৩৮, মুখতাসার শামাযিল ৩৩৪, বুখারী শেষ বাক্য বাদ দিয়ে। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

হাদিসটি পাবেন সুনানু ইবনে মাজাহ শরীফে [17]

ফাতিমা ও মৃত্যুশয্যায় মুহাম্মদ
ফাতিমা ও মৃত্যুশয্যায় মুহাম্মদ

নবীর প্রিয় স্ত্রী আয়েশাও বলেছেন, নবীর মৃত্যু যন্ত্রণা ছিল ভয়াবহ। এত কষ্টই নবী পেয়েছেন, যে আয়েশা এরপরে আর কারো মৃত্যু সহজ হতে দেখলে ইর্ষাকাতর হতেন না [18]

সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১০/ কাফন-দাফন
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ মৃত্যুর সময় কষ্ট হওয়া।
৯৮১. হাসান ইবনুুস সাববাহ আল-বাগদাদী (রহঃ) …… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে কষ্ট হতে দেখেছি এরপর কারো মৃত্যুর সময় আসান হতে দেখতে আমার আর কোন ঈর্ষা হয় না। – মুখতাসার শামাইল মুহাম্মাদিয়া ৩২৫, বুখারি, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯৭৯ (আল মাদানী প্রকাশনী)
রাবী বলেন, আমি এই হাদিস সম্পর্কে আবূ যুরআ (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বলেছিলাম, রাবী আব্দুর রাহমান ইবনুল আলা কে? তিনি বললেন, ইনি হলেন আলা ইবনুল লাজলাজ। তাঁকে এইরূপেই আমরা জানি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

হাদিসটি পাবেন তিরমিযী শরীফে [19]

মুহাম্মদের মৃত্যু যন্ত্রণা

বলা বাহুল্য, হযরত মুহাম্মদের মৃত্যু যেকোন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর চাইতে বহুগুণ যন্ত্রণাদায়ক হয়েছিল, তা এই হাদিসগুলো থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। সূনান সানাঈ শরীফ থেকে আরেকটি হাদিস পড়ে নিই [20]-

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ২১/ জানাজা
পরিচ্ছেদঃ ৬/ মৃত্যু যন্ত্রণা
১৮৩৩। আমর ইবনু মানসূর (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুকালীন সময়ে তার মাথা আমার থুতনি এবং গলদেশের মাঝখানে ছিল। তার মৃত্যু যন্ত্রণা দর্শনের পর আমি অন্য কারো মৃত্যু যন্ত্রণা খারাপ মনে করি না।
(সহীহ, মুখতাসার শামাইল ৩২৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)


মৃত্যুযন্ত্রণা সম্পর্কে নবী

নবী মুহাম্মদ মৃত্যু যন্ত্রণাতে কাতরাতে কাতরাতে যেই কথাটি বলেছিলেন, তা হচ্ছে, সত্যিই মৃত্যুযন্ত্রণা বড় কঠিন। আসুন একটি ওয়াজ শুনি এবং এরপরে প্রাসঙ্গিক হাদিসটি পড়ে নিই, [21]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ]
পরিচ্ছেদঃ ৬৪/৮৪. নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ ও তাঁর ওফাত।
৪৪৪৯. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমার প্রতি আল্লাহর এটা নি‘য়ামাত যে, আমার ঘরে, আমার পালার দিনে এবং আমার গন্ড ও সিনার মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকাল হয় এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইন্তিকালের সময় আমার থুথু তাঁর থুথুর সঙ্গে মিশ্রিত করে দেন। এ সময় ‘আবদুর রহমান [1] (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি ‘আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নিব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে, হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দিব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালভাবে মিসওয়াক করলেন। তাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী ‘উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন …….. -আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যু-যন্ত্রণা কঠিন। তারপর দু’ হাত উপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন। বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল। [৮৯০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪০৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪০৯৯)
[1] ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ভাই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

এবারে আসুন ইমাম গাযযালির বিখ্যাত গ্রন্থ এহইয়াউ উলুমিদ্দীন থেকে একটি বিবরণ পড়ি [22]

মৃত্যু 12

বিষক্রিয়ার চার বছর পরে মৃত্যু?

একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই জাগতে পারে যে, বিষ খাওয়ার চারবছর পরে মুহাম্মদের মৃত্যুকে কী বিষক্রিয়ায় মৃত্যু বলে গণ্য করা যায়? ইতিপূর্বে আমরা দেখিয়েছি যে, বিষক্রিয়ায় মুহাম্মদের আলজিভে বিষাক্ত ক্ষত হয়ে গিয়েছিল। এবারে আসুন বিবিসির একটি নিউজ দেখে নেওয়া যাক, [23]

মৃত্যু 14

আসুন এরকম আরও কিছু খবর পড়ি, [24] [25] [26]


সম্পূর্ণ ঘটনাটি একসাথে

এবারে আসুন সম্পূর্ণ ঘটনাটি একসাথে পড়ে নিই। এই বর্ণনাটি পাওয়া যাবে তাফসীরে মাযহারীতে, যেখানে আসলে খুব বিস্তারিতভাবে বর্ণনাটি দেয়া হয়েছে [27]

মৃত্যু 16

একটি যৌক্তিক সন্দেহ

নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর সময়ের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করলে, বেশ কয়েকটি যৌক্তিক প্রশ্ন জাগে। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন হচ্ছে, হযরত আলীকে সেই সময়ে ইয়েমেন পাঠানো হয়েছিল কেন? আলীর প্রতি হযরত উমরের কী কোন হিংসা ছিল? আয়িশার ঘরেই বা মুহাম্মদকে কেন নেয়া হয়েছিল? যেখানে সেইদিন মুহাম্মদের আয়িশার ঘরে থাকবার কথা ছিল না। এই বিষয়গুলোর রেফারেন্স পরে দেয়া হচ্ছে। নবীর মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে আয়িশার ঘরে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নিচের হাদিসটি পড়ুন, যেখানে দেখা যাচ্ছে, আয়িশা মৃত্যুশয্যায় শায়িত মুহাম্মদের মুখে মুহাম্মদের প্রবল আপত্তি থাকার পরেও কোন একটি ঔষধ ঢেলে দিয়েছিল। কিন্তু ইসলামের আকীদা অনুসারে, অসুস্থ হোক কিংবা সুস্থ, সর্বাবস্থায় নবীর নির্দেশ পালন করা যেকোন মুসলিমের জন্য ফরজ। তারপরেও আয়িশা কেন মুহাম্মদের মুখে ঔষধ ঢেলে দিয়েছিল? সেটি কী ঔষধ ছিল? [28] [29] [30] [31]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪০/ সালাম
পরিচ্ছেদঃ ২৭. মুখে (জোর করে) ঔষধ ঢেলে দেয়া অপছন্দনীয়
৫৫৭৩। মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থতাকালে তাঁর মুখে ঔষুধ ঢেলে দিলাম; তিনি তখন ইশারা করলেন যে, আমার মুখে ওষুধ ঢেলো না। আমরা বললাম, এটা ওষুধের প্রতি রোগীর বিতৃষ্ণার প্রকাশ। পরে যখন তিনি চেতনা ফিরে ফেলেন, তখন বললেন, তোমাদের প্রত্যেকের মুখে ওষুধ ঢেলে দেওয়া হবে- তবে আব্বাস ব্যতীত; কারণ তিনি তোমাদের শরীক ছিলেন না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৪/ মাগাযী [যুদ্ধ]
পরিচ্ছেদঃ ৬৪/৮৪. নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগ ও তাঁর ওফাত।
৪৪৫৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি ইশারায় আমাদেরকে তাঁর মুখে ঔষধ ঢালতে নিষেধ করলেন। আমরা বললাম, এটা ঔষধের প্রতি রোগীদের স্বাভাবিক বিরক্তিবোধ। যখন তিনি সুস্থবোধ করলেন তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের ওষুধ সেবন করাতে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম, আমরা মনে করেছিলাম এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তিভাব। তখন তিনি বললেন, ‘আব্বাস ব্যতীত বাড়ির প্রত্যেকের মুখে ঔষধ ঢাল তা আমি দেখি।[1] কেননা সে তোমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। এ হাদীস ইবনু আবূ যিনাদ ……. ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। [৫৭১২, ৬৮৮৬, ৬৮৯৭; মুসলিম ৩৯/২৭, হাঃ ২২১৩, আহমাদ ২৪৩১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১০৪)
[1] প্রথমতঃ এখানে অতি সামান্য ব্যাপারেও কিয়াসের বৈধতা প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয়তঃ নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্থ ও অসুস্থ সর্বাবস্থাতেই তার নির্দেশ পালনের অপরিহার্যতা সমভাবে প্রযোজ্য।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

মৃত্যু 18

আল-লুলু ওয়াল মারজান
৩৯/ সালাম
পরিচ্ছেদঃ ৩৯/২৭. লাদুদ (রুগীর অনিচ্ছায় তার মুখে একধারে ঔষধ দিয়ে তাকে জোর করে খাওয়ান) দ্বারা চিকিৎসা করা মাকরূহ।
১৪২৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি ইশারায় আমাদেরকে তার মুখে ঔষধ ঢালতে নিষেধ করলেন। আমরা বললাম, এটা ঔষধের প্রতি রোগীদের স্বাভাবিক বিরক্তিবোধ যখন তিনি সুস্থবোধ করলেন তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের ওষুধ সেবন করাতে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম, আমরা মনে করেছিলাম এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তিভাব। তখন তিনি বললেন, ’আব্বাস ব্যতীত বাড়ির প্রত্যেকের মুখে ঔষধ ঢাল তা আমি দেখি। কেননা সে আমাদের মাঝে উপস্থিত নেই।
সহীহুল বুখারী, পৰ্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৮৪, হাঃ ৪৪৫৮; মুসলিম, পর্ব ৩৯ : সালাম, অধ্যায় ২৭, হাঃ ২২১৩
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মৃত্যুর ঠিক আগে নবী মুহাম্মদ একটি কাগজ চেয়েছিলেন, কিছু জরুরি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য। কিন্তু হযরত উমরের নির্দেশে সেই সময়ে নবী মুহাম্মদের কাছে কাগজ কলম দেয়া হয় নি। ইসলামের প্রতিষ্ঠিত আকীদা অনুসারে নবী মুহাম্মদের নির্দেশ সর্বাবস্থায় অবশ্য পালনীয় হয়ে থাকলে, উমরের এমন ধৃষ্টতার মানে কী? এই নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষও ছিল। রীতিমত ঝগড়া এবং মারামারির উপক্রমও হয়ে যাচ্ছিল। মৃত্যুশয্যায় শুয়ে শেষবেলায় কী বলতে চেয়েছিল মুহাম্মদ? তা আর জানা যায় নি [32] [33]

সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩/ ইলম বা জ্ঞান
পরিচ্ছেদঃ ৮১। ইলম লিপিবদ্ধ করা
১১৫। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে কাগজ কলম নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরবর্তীতে তোমরা ভ্রান্ত না হও। ‘উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের কাছে তো আল্লাহর কিতাব রয়েছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট। এতে সাহাবীগণের মধ্য মতবিরোধ দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার কাছে ঝগড়া-বিবাদ করা উচিত নয়। এ পর্যন্ত বর্ণনা করে ইবনু আব্বাস (রাঃ) (যেখানে বসে হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

নবীকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী করা হয়েছে
মৃত্যু 21

নবীকে আয়িশার ঘরে নেয়া

সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় একদম নড়াচড়া করতে অসমর্থ থাকা নবী মুহাম্মদকে টেনে হিঁচড়ে আয়িশার ঘরে নেয়া হয়েছিল। এরকম অসুস্থ অবস্থায় সাধারণত রোগীদের নড়াচড়া করানো হয় না, কিন্তু আয়িশার পালা থাকায় উনাকে দুইজন সাহাবী প্রায় পা হিঁচড়ে আয়িশার ঘরে নিয়ে যান। হাদিসটি পড়লে সেই ঘটনাস্থালে আমরা দেখতে পাই, উমরের কন্যা হাফসাও সম্ভবত উপস্থিত ছিলেন [34]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছেদঃ ২২৪৭. নাবী (সাঃ) এর রোগ ও তাঁর ওফাত। মহান আল্লাহর বাণীঃ আপনিতো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল। এরপর কিয়ামত দিবসে তোমরা পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাক-বিতন্ডা করবে (৩৯ঃ ৩০,৩১) ইউনুস (রহঃ) যুহরী ও উরওয়া (রহঃ) সুত্রে বলেন, আয়শা (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাঃ) যে রোগে ইন্তিকাল করেন সে সময় তিনি বলতেন, হে আয়শা! আমি খায়বারে (বিষযুক্ত) যে খাদ্য ভক্ষন করেছিলাম, আমি সর্বদা তার যন্ত্রনা অনুভব করছি। আর এখন সেই সময় আগত, যখন সে বিষক্রিয়ার আমার প্রাণবায়ু বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৪০৯৮, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪৪৪২ – ৪৪৪৫
৪০৯৮। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … নবী সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রোগ প্রবল হল ও ব্যাথা তীব্র আকার ধারন করল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রুষা করার ব্যাপারে তাঁর বিবিগনের নিকট অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁরা তাঁকে অনুমতি দিলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হয়ে ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও অপর একজন সাহাবীর সাহায্যে জমীনের উপর পা হিঁচড়ে চলতে লাগলেন। উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে আয়িশা সিদ্দীকা (রাঃ) কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি সেই দ্বিতীয় ব্যক্তি যার নাম আয়িশা সিদ্দীকা (রাঃ) উল্লেখ করেননি, তার নাম জানো? আমি বললাম, না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন আলী (রাঃ)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) বর্ননা করেন যে, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ব্যাথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক যার মুখ এখনোও খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিনী হাফসা (রাঃ) এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা উক্ত মশক হতে তাঁর উপর ততক্ষন পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম, যতক্ষন না তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সাথে জামাতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন।
উবায়দুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা (রহঃ) আমাকে জানালেন যে, আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) উভয়ে বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগ-যাতনায় অস্থির হতেন তখন তিনি তাঁর কালো চাঁদর দিয়ে নিজ মুখমন্ডল ঢেকে রাখতেন। আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা হ্রাস পেত তখন মুখমন্ডল থেকে চাঁদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলতেন, ইহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লানত, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিনত করেছে। তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
উবায়দুল্লাহ্ (রহঃ) বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি আবূ বকর (রাঃ) এর ইমামতির ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বারবার আপত্তি করেছি। আর আমার তাঁর কাছে বারবার আপত্তি করার কারন ছিল এই, আমার অন্তরে একথা আসেনি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে তাঁর স্থলে কেউ দাঁড়ালে লোকেরা তাকে পছন্দ করবে। বরং আমি মনে করতাম যে, কেউ তাঁর স্থলে দাঁড়ালে লোকেরা তাঁর প্রতি খারাপ ধারনা পোষন করবে, তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দায়িত্ব আবূ বকর (রাঃ) এর পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রদান করুন। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ইবনু উমর, আবূ মূসা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ননা করেছেন।
হাদিস নংঃ ৪৪৪২, ৪৪৪৩, ৪৪৪৪ ও ৪৪৪৫
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)


আলী ও আয়িশার দ্বন্দ্ব

মুহাম্মদের মৃত্যুর পরে আয়িশা এবং আলীর একটি বিরাট যুদ্ধ হয়, যেটি উটের যুদ্ধ বা জঙ্গে জামাল নামে পরিচিত। সেই যুদ্ধ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আপাতত এইটুকু জানা থাকলেই চলবে যে, আয়িশা এবং আলীর সম্পর্ক আদৌ খুব ভাল ছিল না। সেই বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করার জন্য আসুন আমরা কয়েকটি ঘটনা জেনে নিই। বিস্তারিত জানার জন্য এই লেখাটি পড়তে পারেন [35]। এখানে দীর্ঘ হাদিস সমূহ দেয়া হচ্ছে না, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশটুকু তুলে দেয়া হচ্ছে। আয়িশার সম্পর্কে একটি পরিকীয়া প্রেমের অভিযোগ ওঠায় হযরত আলী নবীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, আয়িশাকে তালাক দিয়ে নতুন বিবি নিয়ে আসার [36]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৪/ শাহাদাত
পরিচ্ছেদঃ ১৬৫৬. এক মহিলা অপর মহিলার সততা সম্পর্কে সাক্ষ্য দান
২৪৮৫।
আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ্। লোকেরা সত্যি তবে এসব কথা রটিয়েছে? তিনি (আয়িশা) বলেন, ভোর পর্যন্ত সে রাত আমার এমনভাবে কেটে গেলো যে, চোখের পানি আমার বন্ধ হল না এবং ঘুমের একটু পরশও পেলাম না। এভাবে ভোর হল। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর বিলম্ব দেখে আপন স্ত্রীকে বর্জনের ব্যাপারে ইবনু আবূ তালিব ও উসামা ইবন যায়দকে ডেকে পাঠালেন। যাই হোক; উসামা পরিবারের জন্য তার (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসার প্রতি লক্ষ্য করে পরামর্শ দিতে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম (তার সম্পর্কে) ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমরা জানিনা, আর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিছুতেই আল্লাহ্ আপনার পথ সংকীর্ণ করেননি। তাকে ছাড়া আরো অনেক মহিলা আছে। আপনি না হয় বাঁদীকে জিজ্ঞাসা করুন সে আপনাকে সত্য কথা বলবে।

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

একইসাথে, ইবনে হিশামের সিরাতুন নবী থেকে জানা যায়, আলী আয়িশার একজন দাসীকে ধরে বেদম প্রহার করে আয়িশার পরিকীয়া প্রেমের সত্যতা বের করারও চেষ্টা করেন [37]

আলী প্রহার করলেন

এমনকি, আয়িশা হযরত আলীর ওপর একটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে, পরবর্তী জীবনে তিনি আলীর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করতেন না। যেটি নিচের এই হাদিসটি থেকে বোঝা যায়। লক্ষ্য করে পড়ুন, আয়িশা বর্ণনা করছে, অসুস্থ মুহাম্মদকে দুইজন টেনে নিয়ে এসেছিল। তাদের একজন ইবনু আব্বাস, আরেকজন হচ্ছে আয়িশার ভাষ্যমতে অন্য এক সাহাবী। মানে তিনি ঐ সাহাবীর নাম উচ্চারণ করেন নি। পরবর্তীতে ইবনু আব্বাসের থেকে জানা গেল, ঐ সাহাবীর নাম হযরত আলী [38]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১০/ আযান
পরিচ্ছেদঃ ৪৩১। কি পরিমাণ রোগ থাকা সত্ত্বেও জামা’আতে শামিল হওয়া উচিত।
৬৩২। ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন একেবারে কাতর হয়ে গেলেন এবং তাঁর রোগ বেড়ে গেল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীগণের কাছে সম্মতি চাইলেন। তাঁরা সম্মতি দিলেন। সে সময় দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে (সালাতের জন্য) তিনি বের হলেন, তাঁর দু’পা মাটিতে হেঁচড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি ছিলেন আব্বাস (রাঃ) ও অপর এক সাহাবীর মাঝখানে। (বর্ণনাকারী) উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) এর বর্ণিত এ ঘটনা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট ব্যক্ত করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো, তিনি কে ছিলেন, যার নাম আয়িশা (রাঃ) বলেন নি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)


আলীর প্রতি উমরের হিংসা

এবারে আসুন, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থ থেকে এই বিষয়ে আরো পড়ি [39]। লক্ষ্য করুন, আলীর সম্পর্কে নবীর প্রশংসায় উমরের শুভেচ্ছা জানানোর ভঙ্গিটি। মনে রাখা জরুরি যে, পরবর্তীতে মুহাম্মদের মৃত্যুর সময় এই উমরই কিন্তু কাগজ নিয়ে আসতে বাধা দিয়েছিল। আরো লক্ষণীয় যে, আলীর বিষয়ে বক্তব্যের পরেই ইসলামকে পরিপূর্ণ করে দেয়ার কোরআনের আয়াতটি নাজিল হয়।

আবদুর রায্যাক বলেন: মা’মার বারা ইব্‌ন আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্-এর সাথে বের হই। চলতে চলতে গাদীরে খাম-এ অবতরণ করি। সেখানে সকলকে একত্র করার জন্যে তিনি ঘোষক পাঠান। একত্রিত হওয়ার পর তিনি বলেন: আমি কি তোমাদের কাছে তোমাদের নিজেদের চেয়ে আপন নই? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের কাছে তোমাদের মায়েদের চেয়ে আপন নই? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের কাছে তোমাদের পিতাদের চেয়ে আপন নই? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, আমি কি নই, আমি কি নই, আমি কি নই? আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, আমি যার অভিভাবক, আলীও তার অভিভাবক। হে আল্লাহ্! আপনি অভিভাবক হন তার যে তাকে অভিভাবক মানে এবং আপনি বিরোধিতা করেন তার যে তার বিরোধিতা করে। তখন উমর ইবন খাত্তাব আলী (রা)-কে বললেন, সৌভাগ্য তোমার হে আবূ তালিবের নন্দন! আজ হতে তুমি সমস্ত মু’মিনের অভিভাবক হয়ে গেলে। ইব্‌ন মাজাহ্ এ হাদীস হাম্মাদ ইবন সালমার সূত্রে বারা ইব্‌ন আযিব থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মূসা ইবন উসমান হাযরামী আবূ ইসহাকের সূত্রে বারা থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীস আরও বর্ণিত হয়েছে সা’দ, তালহা ইব্‌ন উবাইদুল্লাহ্, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (তার থেকে বিভিন্ন সূত্রে), আবু সাঈদ খুদরী, হাবাশী ইব্‌ন জুনাদাহ্, জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্, উমর ইব্‌ন খাত্তাব ও আবূ হুরায়রা থেকে। আবু হুরায়রা থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ সবের মধ্যে হাফিজ আবূ বকর খাতীব বাগদাদী আবদুল্লাহ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন মুহাম্মদ ইব্‌ন বুশরান সূত্রে….. আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীস সবচেয়ে গরীব। এ হাদীসে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের আঠারো তারিখে সাওম পালন করবে সে ব্যক্তি ঘাট মাস সাওম পালন করার সওয়াব পাবে। এ আঠারো যিলহজ্জ তারিখ ছিল গাদীরে খাম দিবস। সে দিন রাসূলুল্লাহ্ আলী ইব্‌ন আবূ তালিবের হাত ধারণ করে লোকদের বলেছিলেন, আমি কি মু’মিনগণের অভিভাবক নই! সাহাবাগণ বললেন হ্যাঁ-ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ! তিনি তখন বললেন, আমি যার অভিভাবক আলীও তার অভিভাবক। তখন উমর ইব্‌ন্ন খাত্তাব আলীকে বললেন, বাহঃ বাহঃ হে আবু তালিবের নন্দন! তুমি তো আমার অভিভাবক ও সকল মুসলমানের অভিভাবক হয়ে গেলে। তখন আল্লাহ্ পাক এ আয়াত নাযিল করেন الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دینكُمْ অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের দীন পরিপূর্ণ করে দিলাম। আর যে ব্যক্তি রজব মাসের সাতাইশ তারিখে সাওম পালন করবে সে ব্যক্তিকে ষাট মাস সাওম পালন করার সওয়াব দেওয়া হবে। এই দিনে জিবরাঈল ফেরেশতা সর্ব প্রথম রিসালাতের কাজ নিয়ে অবতরণ করেন।
খাতীবে বাগদাদী বলেন, এ হাদীস হাবশূনের বর্ণনা বলে প্রসিদ্ধ। তিনি একাই তা বর্ণনা করেছেন। তার অনুসরণ করেছেন আহমদ ইবন উবাইদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস ইব্‌ন সালিম ইন্ন মাহরান- যিনি ইব্‌ন্ন নাবারী নামে খ্যাত। তিনি আলী ইব্‌ন্ন সাঈদ শামী থেকে বর্ণনা করেছেন। গ্রন্থকার বলেন, এ হাদীস কয়েকটি কারণে মুনকার হওয়ার যোগ্য। একটি হলো গাদীরে খাম দিবসে الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينُكُمْ আয়াত নাযিল হওয়ার কথা। ইবন হারূন আবাদী সূত্রে আবু সাঈদ খুদরী থেকেও অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ বর্ণনাও সহীহ নয়। বস্তুত এ আয়াত নাযিল হয়েছিল আরাফাত দিবসে। বুখারী ও মুসলিমে উমর ইবন খাত্তাব থেকে এ প্রসঙ্গে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। বহু সংখ্যক সাহাবী থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ঐ সব সাহাসী ব্যতীত যাদের নাম “আমি যার অভিভাবক” বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা, তাদের থেকে যে সনদে বর্ণিত হয়েছে সে সব সনদ দুর্বল।
পাখির হাদীস
বিভিন্ন গ্রন্থকার এ হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। নানা সনদে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি সনদই সমালোচনাযোগ্য। আমরা এ গ্রন্থে তার কতিপয় দিক উল্লেখ করেছি। তিরমিযী বলেন: সুফিয়ান ইব্‌ন ওয়াকী…. আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম-এর নিকট খাদ্য হিসেবে পাখি ছিল। তখন তিনি দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় যে, তাকে আমার কাছে এনে দিন। সে আমার সাথে এই পাখি আহার করবে। এরপর আলী এলেন এবং তাঁর সাথে আহার করলেন। তিরমিযী বলেন, এ হাদীসের সনদ গরীব। সুদ্দী থেকে উক্ত সনদ ব্যতীত অন্য কোন সনদ আমাদের, জানা নেই। তিরমিযী বলেন, আনাস থেকে এ হাদীস বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ইয়া’লা এ হাদীস হুসাইন ইব্‌ন হাম্মাদ সূত্রে….. ঈসা ইবন উমর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আবূ ইয়া’লা বলেন, কুতুন ইব্‌ন বশীর আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আনাস সূত্রে আনাস থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্-কে হাদিয়া হিসেবে হাজাল পাৰি ভুনা, রুটি ও অন্যান্য খাদ্য সরবরাহ করা হয়। তখন তিনি দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আপনার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিকে আমার নিকট এনে দিন। যাতে সে আমার সাথে এ খানায় অংশগ্রহণ করতে পারে। তখন আয়েশা (রা) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ্! আমার পিতাকে এ সুযোগ দিন। হাফ্ফাহ্ বললেন, হে আল্লাহ্! আমার পিতাকে এ মর্যাদা দান করুন। আনাস বলেন, আমি দু’আ করলাম, হে আল্লাহ্! সা’দ ইব্‌ন উবাদাকে এ সম্মান দান করুন। আনাস বলেন, এ সময় আমি দরজায় শব্দ করতে শুনতে পাই। আগন্তুককে আমি বলে দিলাম, রাসূলুল্লাহ্ প্রয়োজনীয় কাজে আছেন আপনি চলে যান। কিছুক্ষণ পরে আবার দরজায় আওয়াজ শুনতে পেলাম। বেরিয়ে দেখি দরজার কাছে আলী (রা) দণ্ডায়মান। আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ্ কাজে আছেন, এখন ফিরে যান। এরপর আবার দরজায় আওয়াজ শুনতে পাই। এবার আলী (রা) বাহির থেকে সালাম দেন। রাসূলুল্লাহ্ তার আওয়াজ শুনে বললেন, দেখো তো কে এসেছে? আমি বেরিয়ে দেখি আলী (রা) দণ্ডায়মান। আমি ভিতরে এসে রাসূলুল্লাহ্-কে সংবাদ জানালাম। তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে আসতে দাও। আমি অনুমতি দিলে আলী (রা)

ইবনে আবূ তালিব
মৃত্যু 25

নবীর প্রতি আয়িশার ক্ষোভ

সবচাইতে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এইরকম কষ্টকর মৃত্যুশয্যাতেও নবী মুহাম্মদের ফুলের মত সুন্দর চরিত্র নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েন নি নবীর প্রিয় স্ত্রী আয়িশা। নবীর সিরাত গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মৃত্যুশয্যাতেও আয়িশা নবীকে বলছেন, নবীর আগে যদি আয়িশার মৃত্যু হতো, তাহলে নবী আয়িশাকে দাফন করেই আরেক বিবি নিয়ে আয়িশার ঘরেই আরেক বিবি তুলতেন। অর্থাৎ, নবীর চরিত্র আয়িশা খুব ভালভাবেই জানতেন এবং বুঝতেন [40]

মৃত্যু 27

বিবরণটি সহিহ বুখারীতেও এসেছে আরও স্পষ্টভাবে [41]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৬২/ রোগীদের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ ২২৬৫. রোগীর উক্তি “আমি যাতনা গ্রস্থ” কিংবা আমার মাথা গেল, কিংবা আমার যন্ত্রণা প্রচন্ড আকার ধারণ করেছে এর বর্ণনা। আর আইয়ুব (আঃ) এর উক্তিঃ হে আমার রব। আমাকে কষ্ট-যাতনা স্পর্শ করেছে অথচ তুমি তো পরম দয়ালু
৫২৬৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আবূ যাকারিয়্যা (রহঃ) … কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছিলেন হায় যন্ত্রনায় আমার মাথা গেল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এমনটি হয় আর আমি জীবিত থাকি তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবো, তোমার জন্য দু’আ করবো। আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ হায় আফসুস, আল্লাহর কসম। আমার মনে হয় আপনি আমার মৃত্যুকে পছন্দ করেন। আর এমনটি হচ্ছে আপনি পরের দিনই আপনার অন্যান্য সহধর্মিনাদের সঙ্গে রাত যাপন করতে পারবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং আমি আমার মাথা গেল বলার বেশি যোগ্য। আমি তো ইচ্ছা করেছিলাম কিংবা বলেছেন, আমি ঠিক করেছিলাম আবূ বকর (রাঃ) ও তার ছেলের নিকট সংবাদ পাঠাবো এবং অসীয়ত করে যাবো, যেন লোকদের কিছু বলার অবকাশ না থাকে কিংবা আকাঙ্ক্ষাকারীদের কোন আকাঙ্ক্ষা করার অবকাশ না থাকে। তারপর শুনলাম আল্লাহ (আবূ বকর ব্যতীত অন্য কেউ খিলাফতের আকাঙ্ক্ষা করুক) তা অপছন্দ করবেন, মুমিনগণ তা পরিহার করবেন। কিংবা তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা পরিহার করবেন এবং মুমিনগণ তা অপছন্দ করবেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাসিম বিন মুহাম্মাদ (রহঃ)


হাফসা ও আয়িশার বিদ্রোহ

অনেকগুলো তথ্যসূত্র থেকেই জানা যায়, মারিয়া কিবতিয়া নামক যৌনদাসীর সাথে যৌনসম্পর্কের জের ধরে হাফসা, আয়িশা এবং নবী মুহাম্মদের পারিবারিক ঝামেলা এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল যে, নবী সকল স্ত্রীকে একসাথে তালাক দিয়ে নতুন বিবি আনার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই পুরো ঘটনাটি অনেক দীর্ঘ হওয়ার এই বিষয়টি আলাদা পোস্টে লেখা হচ্ছে [42]। আপাতত এইটুকুই আমরা জেনে রাখি যে, নবী, আয়িশা ও হাফসার সম্পর্ক খুব ভাল ছিল না। আয়িশা এবং হাফসা রীতিমত জিম্মি হয়েই ছিলেন, নবীর স্ত্রী হিসেবে। এই নিয়ে আয়িশা ও হাফসার কষ্ট ছিল। উপরে দেয়া লিঙ্কের লেখাটি মন দিয়ে পড়লেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।


বিষক্রিয়ার মৃত্যু, না “শহীদি” সান্ত্বনা?

অনেক মুমিনই ইদানীং নির্যাতিত, পরিবার-স্বজনহারা ইহুদি নারীর দেওয়া বিষাক্ত খাবার খেয়ে নবী মুহাম্মদের এই নির্মম মৃত্যুর বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে দাবি করেন, আল্লাহই নাকি নবীকে শহীদি মৃত্যু দেওয়ার জন্য এই ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যা নিজেই নিজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আল্লাহই যদি নবীকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার জন্য বিষক্রিয়ার এই পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই ইহুদি নারীর অপরাধ কোথায়? নবীর সাহাবী বিশর ইবনু বারাকে হত্যার দায়ে তাকে কেন হত্যা করা হলো? ঘটনা ঘটালেন আল্লাহ, মর্যাদা পেলেন নবী, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড পেল নারীটি, এই যুক্তির নৈতিক কাঠামো কোথায়? যদি বিষপ্রয়োগ আল্লাহর পরিকল্পিত “শহীদি ব্যবস্থা” হয়, তাহলে বিশরের মৃত্যু কি আল্লাহর পরিকল্পিত পার্শ্বক্ষতি? আর যদি নারীটি অপরাধী হয়, তাহলে ঘটনাটিকে আল্লাহর দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বলা যায় কীভাবে? একইসঙ্গে বলতে হয়, মুমিনদের এই দাবিটি কোনো দিক দিয়েই ধোপে টেকে না। কারণ কোরআনেই বলা হয়েছে, নবীর কোনো অকল্যাণ হলে তার জন্য নবীর নিজের কর্মই দায়ী, আল্লাহ নন। [43]

তোমার কোন কল্যাণ হলে তা হয় আল্লাহর তরফ হতে এবং তোমার যে কোন অকল্যাণ হলে তা হয় তোমার নিজের কারণে এবং আমি তোমাকে মানুষের জন্য রসূলরূপে প্রেরণ করেছি, (এ কথার) সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
— Taisirul Quran
তোমার নিকট যে কল্যাণ উপস্থিত হয় তা আল্লাহর সন্নিধান হতে এবং তোমার উপর যে অকল্যাণ নিপতিত হয় তা তোমার নিজ হতে হয়ে থাকে, এবং আমি তোমাকে মানবমন্ডলীর জন্য রাসূল রূপে প্রেরণ করেছি; এবং আল্লাহর সাক্ষীই যথেষ্ট।
— Sheikh Mujibur Rahman
তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।
— Rawai Al-bayan
যা কিছু কল্যাণ আপনার হয় তা আল্লাহর কাছ থেকে [১] এবং যা কিছু অকল্যাণ আপনার হয় তা আপনার নিজের কারণে [২] এবং আপনাকে আমরা মানুষের জন্য রাসূলরূপে পাঠিয়েছি [৩]; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

এবারে আসুন কোরআনের আরও একটি আয়াত পড়ে নেয়া দরকার। মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন [44],

এটা (কোরআন) বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।
সে (মুহাম্মদ) যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,
তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,
অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা/প্রধান ধমনি।
তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।

এবারে আসুন, সেই হাদিসসমূহ দেখে নিই [45]-

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ৬. কাউকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলে কি তাকেও হত্যা করা হবে?
৪৫১৩। ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যুরোগে আক্রান্ত ছিলেন তখন উম্মু মুবাশশির (রাঃ) তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার রোগ সম্পর্কে কি ভাবছেন? আর আমি আমার ছেলের রোগ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন নই সেই বিষ মেশানো বকরীর গোশত ব্যতীত যা সে খায়বারে আপনার সঙ্গে খেয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমিও ঐ বিষ ছাড়া আমার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নই। এ মুহূর্তে তা আমার প্রধান ধমনি কেটে দিচ্ছে।(1)
সনদ সহীহ।
(1). আবূ দাঊদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ্ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহঃ)

আরো কয়েকটি হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, নবী মুহাম্মদ তার প্রধান ধমনী কেটে দেয়ার মত যন্ত্রণা অনুভব করতেন [46]

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৪/ রক্তমূল্য
পরিচ্ছেদঃ ৬. কাউকে বিষ খাইয়ে হত্যা করলে কি তাকেও হত্যা করা হবে?
৪৫১২। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিয়া গ্রহণ করতেন কিন্তু সাদাকাহ গ্রহণ করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, খায়বারের এক ইয়াহুদী মহিলা একটি ভুনা বকরীতে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হাদিয়া দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আহার করেন এবং লোকজনও আহার করে। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও। কারণ এটি আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, এটি বিষযুক্ত। (বিষক্রিয়ার ফলে) বিশর ইবনুল বারাআত ইবনু মা‘রূর আল-আনসারী (রাঃ) মারা যান। তিনি ইয়াহুদী মহিলাকে ডেকে এনে প্রশ্ন করেনঃ তুমি যা করলে তা করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করেছে?
সে বললো, আপনি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকেন তাহলে আমি যা করেছি তাতে আপনার ক্ষতি হবে না। আর যদি আপনি বাদশাহ হয়ে থাকেন তাহলে আমি আপনার থেকে মানুষকে শান্তি দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলে পরে তাকে হত্যা করা হলো। অতঃপর তিনি যে ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন সেই সম্পর্কে বলেনঃ আমি সর্বদা সেই লোকমার ব্যথা অনুভব করছি যা আমি খায়বারে খেয়েছিলাম। এই সময়ে তা আমার প্রধান ধমনি কেটে দিয়েছে।(1)
হাসান সহীহ।
(1). বুখারী, আহমাদ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)


উপসংহার

এই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় যে, আয়িশা, হাফসা, উমর ও আবু বকরের কোনো পরিকল্পিত ক্ষমতা-রাজনীতির অংশ হিসেবে মৃত্যুশয্যায় নবী মুহাম্মদকে ওষুধের নামে বিষ বা ক্ষতিকর কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না। তবে মৃত্যুশয্যায় নবীর স্পষ্ট আপত্তি অমান্য করে তার মুখে জোর করে ওষুধ ঢালার ঘটনা, শেষ মুহূর্তে কাগজ-কলম আনতে উমরের বাধা, আয়িশা-আলী দ্বন্দ্ব, হাফসা-আয়িশার ঘরোয়া বিদ্রোহ, নবীর পরিবারের কাছ থেকে গণিমতের মাল ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা [47] এবং পরবর্তী মুসলিম ক্ষমতা-সংগ্রাম, সব মিলিয়ে সন্দেহের প্রশ্ন ওঠা অযৌক্তিক নয়। ক্ষমতা, উত্তরাধিকার, সম্পদ ও সাম্রাজ্য-রাজনীতির ইতিহাসে এ ধরনের সন্দেহ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। পরবর্তীতে আলী, হাসান ও হোসেনের হত্যাকাণ্ডও দেখায়, নবীর মৃত্যুর পর মুসলিম ক্ষমতা-রাজনীতি দ্রুত রক্তাক্ত সংঘাতে পরিণত হয়েছিল। তাই মৃত্যুশয্যার ওষুধ ঢালার ঘটনাকে একেবারে নিরীহ পারিবারিক চিকিৎসা হিসেবে মেনে নেওয়া কঠিন; এটিকে অন্তত ঐতিহাসিক সন্দেহের জায়গায় রাখা যৌক্তিক। তবে এটিকে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, দলিলভিত্তিক সন্দেহ হিসেবেই দেখা উচিত।

কিন্তু একটি বিষয় ইসলামি উৎসের ভাষ্য থেকেই দৃঢ়ভাবে বলা যায়, খায়বারের বিষ নবী মুহাম্মদের শরীরে কাজ করেছিল। তার আলজিভ ও তালুতে বিষক্রিয়ার চিহ্ন দেখা যেত; তিনি শেষ অসুস্থতায় খায়বারের বিষযুক্ত খাদ্যের যন্ত্রণা অনুভব করতেন; এবং নিজের প্রাণধমনি কেটে যাওয়ার অনুভূতিকে সেই বিষের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। অর্থাৎ খায়বারের সেই ইহুদি নারীর বিষ কার্যকর হয়েছিল, এ দাবি বাইরের কোনো ইসলামবিদ্বেষী কল্পনা নয়, হাদিসের ভেতর থেকেই তার শক্ত ভিত্তি পাওয়া যায়। নবী মুহাম্মদের মৃত্যু ছিল নির্মম, যন্ত্রণাদায়ক এবং ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করার ঘটনা। এই মৃত্যু নবুওয়ত, অলৌকিক সুরক্ষা, আল্লাহর প্রিয়তম বান্দার ধারণা, এবং কোরআনের “প্রধান ধমনি” প্রসঙ্গকে যে ভয়াবহ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, তার বিচার পাঠকের ওপর ছেড়ে দিলাম।


About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.

The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.

This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.


তথ্যসূত্রঃ
  1. তাফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, হযরত মাওলানা মুফতি শফী, অনুবাদ: মুহিউদ্দীন খান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩২, ১৩৩ ↩︎
  2. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস: ২৮৮৫ ↩︎
  3. সিরাতে রাসুলাল্লাহ (সাঃ), অনুবাদ, শহীদ আখন্দ, প্রথমা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫৫৬, ৫৫৭ ↩︎
  4. The History of al-Tabari, Vol. 8, page: 124 ↩︎
  5. সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস: ৬৮ ↩︎
  6. সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস: ৫৫১৭ ↩︎
  7. সহিহ মুসলিম, ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল কুশাইরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০০ ↩︎
  8. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস: ৪৫০৮ ↩︎
  9. সুনান আবু দাউদ, তাহক্বীক আল্লামা মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী, প্রকাশক- মোঃ জিল্লুর রহমান জিলানী, ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬০ ↩︎
  10. মিশকাতুল মাসাবীহ ( মিশকাত শরীফ), আধুনিক প্রকাশনী, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩১ ↩︎
  11. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস: ৫৭৩৫ ↩︎
  12. আনওয়ারুল মিশকাত শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, পঞ্চম খণ্ড, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫১৩ ↩︎
  13. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৪০৯৪ ↩︎
  14. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৩-২৩৪, অনুচ্ছেদ ২২৪৭ ↩︎
  15. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫২৪৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৫৬৪৬ ↩︎
  16. সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস: ১৬২৯ ↩︎
  17. সুনানু ইবনে মাজাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৪-৭৫, হাদিস: ১৬২৯ ↩︎
  18. সূনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৯৮১ ↩︎
  19. সহিহ আত-তিরমিযী, হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী, তাহক্বীক আল্লামা মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আলবানী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৪, হাদিস: ৯৭৯ ↩︎
  20. সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ১৮৩৩ ↩︎
  21. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস: ৪৪৪৯ ↩︎
  22. এহইয়াউ উলুমিদ্দীন, ইমাম গাযযালি, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯ ↩︎
  23. Zhu Ling: Woman dies decades after unsolved China poisoning ↩︎
  24. Christiaan Bezuidenhout drank rat poison when he was 2 years .. ↩︎
  25. Experts found Chilean poet Neruda was poisoned, nephew says ↩︎
  26. Best Friend of Woman Who Died of Suspected Methanol Poisoning in Laos Describes Her Final Days: ‘Gasping for Air’ ↩︎
  27. তাফসীরে মাযহারী, দশম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৯৬ ↩︎
  28. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৫৫৭৩ ↩︎
  29. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস: ৪৪৫৮ ↩︎
  30. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭০ ↩︎
  31. আল-লুলু ওয়াল মারজান, হাদিস: ১৪২৭ ↩︎
  32. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ১১৫ ↩︎
  33. সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮০, ৮১, হাদিস: ১১৫ ↩︎
  34. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৪০৯৮ ↩︎
  35. ফাতিমার ঘরে উমর – শিয়া সুন্নী যুদ্ধের সুচনা ↩︎
  36. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ২৪৮৫ ↩︎
  37. সিরাতুন নবী (সাঃ), ইবনে হিশাম, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৯, ৩১০ ↩︎
  38. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৬৩২ ↩︎
  39. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ৬১৬, ৬১৭ ↩︎
  40. সীরাতুন নবী, ইবনে হিশাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, সম্পাদনা পরিষদের তত্ত্বাবধানে অনুদিত, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩১৩ ↩︎
  41. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস: ৫২৬৪ ↩︎
  42. নবীর স্ত্রীদের তালাকের হুমকির নেপথ্যে ↩︎
  43. আল কোরআন, সূরা নিসা, আয়াত ৭৯ ↩︎
  44. আল কোরআন, সূরা হাক্কাহঃ ৪৩-৪৭ ↩︎
  45. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস: ৪৫১৩ ↩︎
  46. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস: ৪৫১২ ↩︎
  47. ফাতিমার ঘরে উমর – এক অনন্ত যুদ্ধের সূচনা ↩︎

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

36 thoughts on

  1. নবীদের কোন মৃত্য যন্ত্রনা হবে না এমন কথা কি কোথাও আছে? এধরনের যুক্তি প্রাচীনকালের মানুষ এরা দিত। নবী তো দেখি আমাদের মতোই খায় দায় বাজারে যায় ইত্যাদি।
    নবীরা সবাই মানুষ ছিলেন। আর পৃথিবীর দুঃখ কষ্ট বরং তাদেরকে অনেক বেশি স্পর্শ করেছিল।

    1. I’m totally shocked .I didn’t knew it b4 . All I knew about it was either from my text book at school or Fazaele Amal or from Maulana Tariq Jamils video.They described it very emotionally. But everybody escaped the controversial parts.

    1. কেমনে পারেন মিনার ভাই? গোজামিল এর ও তো একটা সীমা থাকা দরকার। নবীর করুন মৃত্যু হইসে এইটা স্বীকার করতে সমস্যা কি? আপনার লিখা পড়লাম এতো তেনা আপনার কাছে, ভাইরে ভাই৷ কমেন্ট দেখে ভাবলাম লিখবেন ফেরেশতা আইসে ফুলের সুবাস দিয়া উঠাইসে পেডোফাইলটাকে। কিন্তু সেইম কথাই তো লিখলেন। পারেনও ভাই আপনারা।

      1. মিনার সাহেবের লিঙ্ক পড়ে একথা প্রমানিত হয় না যে মুহাম্মদকে বিষ প্রয়োগে হত্যা বিষয়ক হাদিস ও এতত সংক্রান্ত ইসলামের ইতিহাস মিথ্যা।

    2. Islam vigorously discourages the kind of critical thinking and open dialogue that can lead people to question its precepts and reject it. The mildest questioning and criticism of Islam or Muhammad counts as ‘blasphemy’ and is punishable by extreme punishments, including death

      Islam dictates every aspect of the live of adherent (including which foot you should enter and leave a latrine with). This totalitarianism curtails the capacity of followers to think clearly, honestly or critically, and to decide about their religion, instilling in its place a mind-set focused on obedience

      Islam tends to create social and economic systems that fail, are overpopulated, backwards, tyrannical, war-torn, unjust and violent. The people living under these systems understandably want to leave for freer countries where the conditions of life are better.

      Unfortunately when they flee to the West they bring with them the very beliefs that ruined the country they are fleeing from, and often fail to integrate and indeed even strive to establish Islam in their new home. Which starts off the process of Islamisation and decline in their new home country.
      The Bubonic plague had a similar epidemiology – when (for example) London was at the height of the plague, people fled London for towns that were uninfected. And in doing so spread the plague to those towns.

      Julian Flynn

    3. মিনার ভাই আপনার কাছ থেকে এমন বস্তা পচা লজিক আশা করিনি।
      আপনি আমাকে এখন থেকে একজন মুরতাদ হিসেবে ধরে নিতেই পারেন।
      আসলেই আমরা মিথ্যের উপর দাড়িয়ে ছিলাম এতোদিন।

      1. ঠিক বলেছেন ভাই। একটা মিথ্যা ভিত্তি সবাইকে আবৃত করে রেখেছে। সবাই ভুল ভাই। মুহাম্মদ ইস্বর এর প্রতিনিধি নয়। আপনি ভালোথকবেন ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।

  2. আপনাদের জন্যও বড় আফসোস হয় কত হতভাগ্য আপনারা, কি অদ্ভুদ রকমের চিন্তার দৈন্য দশা!
    আপনার নিজের অস্তিত্ব জীবন মৃত্যু এবং আপনার চার পাশে প্রতি মুহূর্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা আপনারা দেখেন কিন্তু এর ভেতর নিহিত সত্য অনুধাবন করতে পারেন না।

    অতি ক্ষুদ্র একটি মশার জীবন বৃত্ত আপনার চিন্তার জটিলতা দূর করতে সক্ষম এবং সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার জন্যও যথেষ্ট।
    মা মশা গুলো জলাশয়ে তাদের পেত থেকে একধরনের আঠা বের করে নৌকার মত বানিয়ে তার উপর ডিম পারে। এরপর মা মশা গুলো মারা যায়। কিছুদিন পড় ডিম গুলো ফুটে নতুন মশা বের হয়। এবং তারাও প্রজনন মৌসুম এলে একই ভাবে নৌকা বানায়, ডিম পারে তারপর মারা যায়।

    ডিম ফুটে যে মশাগুলো বের হল তাড়া তাদের মা মশাকে কখনো দেখেনি। তাহলে কে এই নতুন মশাগুলোকে শিখিয়ে দিল কিভাবে পেটের আঠা দিয়ে নৌকা বানিয়ে ডিম পারতে ??

    https://youtu.be/XJ27lIzu56I

    1. @Amin ভাই
      আপনি বলছেন মশাকে ডিম্ পাড়ার কৌশল আল্লা শিখাইছেন | সত্য কথা, ইটা ভেবে দেখি নাই | তার মানে মশার কামড়ে যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এইসব রোগ হয় এবং মানুষ মরে সেইডাও আল্লারই কীর্তি | আইচ্ছা তবে তো এটাও মানতে হয় যে করোনা ভাইরাস-কে কিভাবে মানুষ মারতে হয় সেইডাও আল্লাই শিখাইছেন | অথবা ক্যান্সার কোষের যে বিস্তার সেইডাও আল্লারই কেয়ামত | নাস্তিকদের যে মগজে কিছু নাই সেইডাও আল্লারই কৃপা | যেমন শয়তান আল্লার দোয়াতে বেঁচে আছে |
      নাকি খালি ভালোগুলা আল্লার দোয়া আর খারাপ গুলার দোষ আল্লার না ?

  3. এই জিনিস কোথাও পড়ি নাই বা কোথাও শুনি নাই। স্কুলে পড়ছিলাম নবী মাংশ খাওয়ার আগেই জেনে গেসিলো। sunnah.com এর রেফারেন্স গুলাও দিয়েন। দেখতে সুবিধা হয় আরকি

  4. ইহুদি মহিলা পরিক্ষা করতে চেয়েছে,হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য নবি কি না।যদি সত্য নবি হয় তাহলে বিষক্রিয়ায়
    হযরত মুহাম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু ঘটবে না।
    হযরত মুহাম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য নবি সেটাই প্রমাণীত হয়েছে।বিষমিশ্রিত খাবার খাওয়ার পরও ওনার কোন ক্ষতি হয় নি।।।(যেখানে তাৎক্ষনিক একজন সাহাবি শাহাদাৎ বরন করেন)এবং এই ঘটনার ৪বছর পর হযরত মুহাম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত এর দয়িত্ব সুন্দর ভাবে সুসম্পন্ন করে এই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।😥😢😥😢
    বুখারি ৭/৭১/৬৬৯
    বিঃদ্রঃ অনেক ইসলাম বিদ্বেষীরাই বলে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরিরে বিষ ধীরেধীরে কাজ করেছে।ওকে ফাইন, কিন্তু,ইহুদি মহিলাতো এই উদ্দেশ্য বিষ খাওয়ায় নাই যে চার বছর পর মারা যাবে।

    কথা হলো বিষ খাওয়ার পরও চার বছর কেন বেঁচে ছিলেন??

    1. আবূ বক্কর কে একজন চিকিৎসক বিষ খাইয়ে মেরেছিল। বিষ খাওয়ানোর পর তিনি বলেন যে আবুবকরের মৃত্যু 1 বছর পর হবে। হয়তো ওই বিষ টা এমন কোনো ধরনের বিষ ছিল যা 4 বছর পর মহম্মদের নরক যন্ত্রণার সাথে মৃত্যু দান করে……মোহাম্মদ যোদি সত্যি আল্লাহের দুত/নবী/সংবাদ-বাহক হয়ে থাকে তাহলে 4 কেনো 40 বছরেও তার মৃত্যু হতো না এই সামান্য বিষ এর কারণে 😂🤣🤣🤣. ভাই সব মিথ্যে আসল ধর্মে আসো সনাতন ধর্মে আসো, আমাদের এই ধর্মের নাম এর মনে হলো যা চিরন্তন বর্তমান। যার কোনো শেষ বা শুরু নেই। Jai shree Krishna 🚩🚩🚩

  5. কি গোঁজা মিল দিয়ে কি বুঝাইতে চান নিজেও বুঝি না ইহুদি মহিলা স্ট্যান্ডার্ড সেট করেছে তার ইচ্ছা মতো এখন সেইটাই নবী হওয়ার স্ট্যান্ডার্ড এইটা কোথায় পাইলেন সোজা কথা যেখানে আপনাদের মানুষ দের গোঁজা মিল দিতে সহজ হয় সেখান টুকু কাটা ছিরা করে গোঁজামিল সাজান আর আপনাদের এই আজে বাজে গাঁজা খুরি মতবাদ শুধু মাত্র সল্প জ্ঞান থাকা মানুষ গুলোই বিশ্বাস করবে কারণ এগুলারি তো প্রয়োজন দাজ্জাল এর এর দাজ্জাল কেউ বিশ্বাস করবে আর আপনি যদি ধর্ম হিন পৃথিবী কল্পনা করেন তাহলে আরো হাজার হাজার ধর্ম পৃথিবীতে আছে সেগুলা নিয়ে কথা বলেন না কেনো বাংলাদেশ এর সব নাস্তিক দেখি ইন্ডিয়াতে গিয়ে পরে লেখা লেখি করে পাবলিক মনে হয় বোঝেনা কার টাকার বান্ডিল আপনাদের মাথা খারাপ করেছে ….

  6. ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বারা অনূদিত সিরাত ইবনে হিসামের ৩৫৬ নম্বর পেজে এটা উল্যেখ আছে যে “নবী মুহাম্মদ এর শহীদের মৃত্যু লাভ করেছেন, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁকে যে গৌরব দান করেছেন, এটা তার বাড়তি সম্মান।”

    ইহুদীর দেয়া বিষ খেয়ে যে নবী মুহাম্মদ মারা গেছে এইটা কিন্তু আধুনিক মুমিন রা মানে না। অথচ ইবনে হিসাম এইটা তার লেখা সিরাতে উল্যেখ করে গেছে। আধুনিক মুমিনদের কে এইটা রেফারেন্স হিসেবে দেয়া দরকার।

  7. আসিফ ভাই, আশা করি ভাল আছেন।
    আমার জানার ইচ্ছে এই যে, ওই সময় কি এইডস রোগের আবিস্কার হয়েছিল? এটা বিষের প্রতিক্রিয়ায় হয়েছিল তা হাদিস বা রেফারেন্সগুলা থেকে স্পষ্ট কিন্তু আমার মনে অন্য কিছু ঘুরপাক খাচ্ছে। ওই সময় এতোটা হাইজিন মেন্টেন হত না আর মরুর হায়েনা যেভাবে ইমানদণ্ড পরিচালনা করছে তাতে এইডস হওয়াটা আস্বাভাবিক কিছু না।
    সবার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

Leave a comment

Your email will not be published.