নারী

নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনা

হুমায়ুন আজাদ

নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্বর ও সমালোচনা

নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনার বিকাশ গত আড়াই দশকের সাহিত্যতত্ত ও সমালোচনার এলাকার সবচেয়ে গুরুত্ৃপূর্ণ ঘটনা। নারীবাদীরা যেমন আক্রমণ করেছেন ও বদলে দিতে চেয়েছেন পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক ও রাজনীতিক কাঠামো, তেমনি আক্রমণ করেছেন ও বদলে দিতে চেয়েছেন পুরুষতান্ত্রিক সমস্ত লিঙ্গবাদী চিন্তাধারা। পিতৃতান্ত্রিক চিন্তা, আবেগ. উপলব্ধি, ও প্রচারে এক প্রধান এলাকা সাহিত্য। গত কয়েক হাজার বছরের বিশ্বসাহিত্য পুরুষতান্ত্রিকতার বিশ্ব; পুরুষ সৃষ্টি করেছে ওই সাহিত্য, তৈরি করেছে তার তত্ত্ব, করেছে মুল্যায়ন। সাহিত্য সষ্টি ও ব্যাখ্যার সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে; সেখান থেকে নারী শুধু বাদই পড়ে নি, তাতে তৈরি করা হয়েছে নারীর মিথ্যে ভাবমূর্তি, নিন্দিত হয়েছে নারী। পুরুষ আশা করে নি যে নারী সৃষ্টি করবে সাহিত্য, তবু নারী সাহিত্য সৃষ্টি করেছে, তবে তা মূল্য পায় নি পুরুষের কাছে, বা পুরুষ তার অপব্যাখ্যা করেছে। বিশ্বসংস্কৃতির অজস্র পুরাণে পুরুষকেই দেখানো হয়েছে সৃষ্টিশীল বলে; সৃষ্টিশীলতার সব এলাকায়-ধর্ম, শিল্পকলা, বিজ্ঞান প্রভৃতিতে স্বীকৃতি পেয়েছে শুধু পুরুষের সৃষ্টিশীলতা। সব ধর্মেই বিধাতা পুরুষ, যে শনতা থেকে সৃষ্টি করেছে বিশ্ব। শেলি, কোলরিজ, কিট্স্, রাসকিন লেখককে দেখেছেন পুরোহিত, ধর্মপ্রবর্তক, যোদ্ধা, বিধানপ্রণেতো. বা সম্রাটরূপে; অর্থাৎ পুরুষের চোখে পুরুষই সৃষ্টিশীল। পুরুষের চোখে নারীও পুরুণেরই সৃষ্টি। ওই নারীর, পিগম্যালিঅনের আইভরি তরুণীর মতো, কোনো নাম বা সত্তা বা কণ্ঠস্বর নেই। নারী বস্তু, নারী অপর। নারী শুধু বস্তু নয়, পুরুষের চোখে নারী শিল্পকর্ম: নারী মর্মর মুর্তি, বা পুতুল, বা কবিতা, লারী কখনো ভাঙ্কর বা কবি নয়। শেক্সপিয়রের ওথেলো (৪: ২) দেসদিমোনার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে: “এই শুভ্র কাগজ, এই উৎকৃষ্টতম বইটি /কি তৈরি হয়েছিলো এতে “বেশ্যা' লেখার জন্যে? ' নারী লেখে না. লিখিত হয়, নারী কবিতাকল্পনালতা; নারী আঁকে না. অঙ্কিত হয়: নারী ভাস্কর হয় না, ভাঙ্কর্ষ হয়।

হেনরি জেমসের এক মাহিলার ছবিতে শুদ্ধ এক তরুণীকে বর্ণনা করা হয়েছে 'কাগজের একটি শূন্য পৃষ্ঠা" রূপে; সে “এতো সুন্দর ও মসৃণ পৃষ্ঠা যে তাকে এক সময় ভরে তুলতে হবে মানসিক উন্নতিসাধক পাঠে। ' জেমসের চোখে অভিজ্ঞ নারী এমন কাগজ, “যার ওপর নানান হাত লিখেছে নানান পাঠ। ' কনরাডের বিজয়-এ আালমা “এক অপরিচিত ভাষার লিপির মনো”, বা 'নিরক্ষরের কাছে যে-কোনো লিপির মতো" [দ্র গুবার (। সমালোচকেরাও সাহিত্যপাঠকে বর্ণনা করেন লৈঙ্গিক ভাষায়। দেরিদা কলমকে শিশ্ের সাথে, আর যোনিচ্ছদকে কাগজের সাথে অভিন্ন করে দেখেছেন। কলম-শিশ্ন লিখে চলে কুমারী পৃষ্ঠার ওপর, এ-বোধের এঁতিহ্য বেশ দীর্ঘ।

৩১৪ নারী

এ-বোধ অনুসারে লেখক পুরুষ, ও প্রধান; নারী তার অক্রিয় সৃষ্টি, গৌণ বস্তু, যার নেই কোনো স্বায়ত্তশাসিত সত্তা, যার কখনোবা স্ববিরোধী অর্থ রয়েছে কিন্তু কোনো অভিপ্রায় নেই। এ-ধারা সংস্কৃতিসৃষ্টির প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয় নারীকে, এবং গণ্য করে শিল্পকর্মরূপে। উনিশশতকে অনেক নারী লেখক হতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন, কেননা কলম তাদের জন্যে নয়: কলম ধরা তাদের কাছে মনে হয় দানবিক কাজ, তাই তারা নেন নানা কৌশল। এ-কৌশলগুলো সান্দ্রা এম গিলবার্ট ও সুজান গুবার বর্ণনা করেছেন দি ম্যাড ওম্যান ইন দি আযাটিক: দি ওমান রাইটার ত্যাক্দ 1টি নাইনটিনথ-সেধ্চরি লিটেবেরি ইঘাজিনেশন ( বা চিলেকোঠার পাগলীতে। সুজান গুবার আইসাক ডিনেসেনের "শন্যপৃষ্ঠা” নামের একটি গল্প ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন পুরুষতান্ত্রিক এতিহ্য বিশ্বাস করে যে নারীর পক্ষে শিল্পী হওয়া অসম্ভব, তবে সে নিজেকে রূপান্তরিত করতে পারে শিল্পকর্মে। তিনি আরো দেখিয়েছেন অনেক নারী বোধ করে যে শরীরই তাদের শিল্পসুষ্টির একমাত্র মাধ্যম। এর ফলে নারী শিল্পী ও তার শিল্পকর্মের মধ্যে কোনো দূরতৃ থাকে না। নারীদেহ যে-সন রূপক সরবরাহ করে, তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে রক্তের রূপক. তাই নারীর শিল্পসৃষ্টি হয়ে ওঠে একধরনের যন্ত্রণাকর ক্ষত। প্রসবে ও লেখায় নারীর নিয়তি যন্ত্রণা। নারীবাদীরা পুরুষের সৃষ্টিশীলতাতত্ত্ব মানেন নি, এবং পুরুষের সাহিত্যতত্ত্ব ও

সমালোচনারীতিকে সংশোধন করার জন্যে গণ্ড়ে তোলেন নিজেদের সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনারীতি। এ-ক্ষেত্রে গত আড়াই দশকে সবচেয়ে বিপ্রনাত্মক কাজ করেছেন তারাই, যদিও পুরুবতান্বিক সমালোচকেরা আজো দ্বিধা করেন তা স্বীকার করতে। অনেকে শুধু দ্বিধা নয় ক্ষুব্ধ বোধ করেন। তাদের মতে নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনার কাজ “মহৎ পুরুষ লেখকদের ধ্বংস করা": এটা 'সমালোচনার মুখোশ প'রে নারীবাদী অপপ্রচার"। নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্বর ও সমালোচনার লক্ষ্য সব সময়ই রাজনীতিক; এর প্রচেষ্টা পিতৃতাত্ররিক ব্যবস্থার টি বের করা। নারীবাদী সমালোচনার একটি ধারা দেখা দিয়েছিলো মেরি ওলস্টোনক্র্যাফ্টের ভিন্ডিকেশন অফ ॥দ রাইটস অফ ওম7ান-এই ( যেখানে তিনি পুনর্বিচার ও তিরফ্কার করেন রুশো ও পুরুষতন্ত্রের নানা মহাপুরুষকে; তবে এর ধারাবাহিক বিকাশ ঘটে নি। তাই উনশশতকে নারীবাদী সমালোচনা, স্ট্যান্টনের নারীর বাইবেল ( ছাড়া, বিশেষ চোখে পড়ে না। এ-শতকেও এর মধ্যে নারীবাদী সমালোচনার বই বেরোয় গুটিকয়: ভার্জিনিয়া উল্ফের এ রুম অফ ওআমস আন: কারো নিজের ঘর ( সিমোন দ্য বোভোয়ারের দ্বিতীয় লিঙ্গ ( ক্যাথবিন এম রজার্সের দি. টাবলসাম হেল্লমেট বিরক্তিকর সহধমিণী ( মেরি এলমানের থিকিং আবাউট উইমেন: নারীদের সম্পর্কে ভাবনাতিভ্তা ( এবং কেইট মিলেটের সেবুয়াল পলিটিক: ' লোঙ্গিক রাজনীতি (। নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনার বিকাশ ঘটে শিপ

সং্ামের এক শক্তিশালী অঙ্জরূপে। নারীবাদী সংগ্রাম চায় পিত্তান্িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে

ংস বা রূপান্তরিত করতে: সাহিত্যতন্ত্ব ও সমালোচনা করতে চায় একই কাজ, ভিন্নভাবে ভিন্ন এলাকায়। তাই তত্ত্ব ও সমালোচনায় নারীবাদীদের মিলন ঘটাতে হয়েছে

রাজনীতি ও সমালোচনার। প্রথাগত পুরুষি সমালোচনার মানদণ্ডে চলতে পারে না নারীবাদী সমালোচকের. তাদের খুঁজতে হয়েছে ভিন্ন মানদণ্ড। নারীবাদী সমালোচনা ভালো লাগার কথা নয় প্রথাগত পুরুষ সমালোচক ও পুরুষি প্রতিষ্ঠানগুলোর। নারীবাদী সমালোচকদের সামনে খোলা ছিলো দুটি পথ: প্রচলিত মানদপণ্ডের সাথে সন্ধি করে পুরুষের স্বীকৃতি আদায় করা, অথবা প্রতিষ্ঠিত মানদণ্গুলোকে ঘৃণাভরে বর্জন করে নিজেদের নতুন মানদণ্ড তৈরি করা। নারীবাদীরা বেছে নেন দ্বিতীয় পথ। নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনার দুটি ধারা রয়েছে: একটি ইঙ্গমার্কিন, অন্যটি ফরাশি। এর মাঝে ইঙ্গমার্কিন ধারাটিই অর্জন করেছে প্রাধান্য।

বিশশতকের ষাটের দশকের শেষ থেকে, আন্তর্জাতিক নারীবাদের এক প্রবল শাখারূপে, বিপ্লবাত্মক বিকাশ শুরু হয় নারীবাদী সমালোচনা ও সাহিত্যতত্ত্বের, এবং অনেকখানি বদলে দেয় সাহিত্য মূল্যায়নের প্রথাগত রীতি। বিশ্ব জুড়ে এতোকাল ধরে নেয়া হয়েছে যে পুরুষুই লেখক, পাঠক, সমালোচক: নারীবাদীরা দেখান নারী সমালোচক ও পাঠক সাহিত্য উপলব্ধি করেন ভিন্নভাবে, ও সাহিত্যের কাছে তাদের প্রত্যাশা ভিন্ন। তারা আরো দেখান যে বিশ্ব জুড়েই নারীরা সষ্টি করেছেন গুকুতুপূর্ণ সাহিত্য। পুরুষের সভ্যতা জুড়ে কয়েক হাজার বছর ধরে সাহিত্যতত্র ও সমালোচনা থেকেছে পুরুষের অধিকারে, নারীবাদীর; ঢোকেন সেখানে, পুনর্ল্যায়নের উদ্যোগ নেন পূর্ববর্তী সমগ্র সাহিত্য। নারীবাদী সমালোচনার প্রধান মানদণ্ড লিঙ্গ। নারীবাদীরা বিকাশ ঘটান সাহিত্য সৃষ্টি, পাঠ, ও সমালোচনার লৈঙ্গিক স্বাতন্তর্যের তত্ত্ব। তাদের তত্ত্ব ও সমালোচনারীতি কোনো একক উৎস থেকে জনে। নি. তাদের নেই কোনো পুণ্য বা এশী গ্রন্থ বা মহামাতা। যেমন রয়েছেন মাক্সীয়দের মার্স, সাংগঠনিকদের সোস্যুর, মনোবিজ্ঞানবাদীদের ফ্রয়েড বা লাক. বিসংগঠনবাদীদেন দেরিদা, নারীদের নেই তেমন কেউ। নারীরা নিরীশ্বর। একাধিক উৎসকে কাজে লাঁ*য়েছেন তারা। তারা নারীসাহিত) পড়েছেন, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-ইতিহাস, মনোবিজ্ঞান, নৃতত্ত্বে গবেষণারত নারীবাদীদের পাথে ভাববিনিময় করেছেন. প্রচলিত সাহিত্যতত্ত্ের পুনমুল্যায়ন করেছেন, কৌশল ধার করেছেন মাক্দুবাদ, ভাষাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, বিসংগঠনবাদ থেকে, এবং গণ্ড়ে তুলেছেন নিজেদের তত্ত্ব ও রীতি। যদিও আজো কোনো সমধিত সাহিত্যতত্ত্ব তারা গণ্ড়ে তুলতে পারেন নি- অনেকে তা চানও না, তবু সমঘ্িত সাহিত্যতত্ত্বের দিকে তারা এগিয়েছেন অনেকখানি। নারীবাদী সাহিত্যতান্তিক বা সমালোচককে যে নারীই হতে হবে, তা নয়; তবে নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনার বিকাশ ঘটান নারীরাই; তারাই লড়াই করেন এর জন্যে, কখনো কখনো বিপদগ্রস্তও হন। তারা চেষ্টা করেন তত্ত্ব ও ব্যক্তিতার সমঘয় ঘটাতে। তারা খোজেন নিজেদের একান্ত ভাষা, আঙ্গিক, কণ্ঠস্বর, সংগঠন, যা নিয়ে তারা ঢুকতে পারেন পুরুষাধীন একটি এলাকায়। নারীবাদী সাহিত্যতান্তিক ও সমালোচকেরা কখনো ক্রুদ্ধ আর তিরস্কারমুখর, কখনো আবেগাতুর ও গীতিময়; আর তাদের তত্ত্ব ও সমালোচনায় মূর্ত তাদের নারীমুক্তির রাজনীতি। নারীবাদ নারীদের মহাজাগরণ, সাহিত্য সমালোচনায় ঘটে ওই মহাজাগরণেরই প্রকাশ। নারীবাদী সাহিত্যতত্ ও সমালোচনা এক বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব, যাতে রয়েছে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো

৩১৬ নারী

ভাঙার উত্তেজনা ও নতুন দৃষ্টি আবিষ্কারের সাধনা। তারা প্রকাশ করেছেন নানা নারীবাদী পত্রিকা, যাতে নিয়মিতভাবে বেরোয় নারীবাদী সাহিত্যতত্ত ও সমালোচনা বিষয়ক তীব্র মননশীল প্রবন্ধ। এগুলোর মধ্যে বয়েছে ক্যামেরা আযাবকিউব্যারা: লস আযঞ্জেলেস, কোন্ডিশ্স: ব্ুকলিন, কানেকশন্স: অকল্যান্ড, ক্রিটিক্যল ইনক্যোয়ারি: শিকাগো, ডায়াত্রিটটিক্স: ইথাকা, ফেমিনিস্ট রিভিউ: লন্ডন, হেকেট: কুইঙল্যান্ড, হেরাদসিজ: নিউ ইঅর্ক, এয/এফ: লন্ডন, সেইজ: আটলান্টা, সিনিস্টার উইজডম: রকল্যান্ড প্রভৃতি।

নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনার উন্মেষের বছরগুলোতে জোর দেয়া হয় পুরুষের লেখা সাহিত্যে লিঙ্গবাদ ও নারাবিদ্বেষের স্বরূপ উদঘাটনের ওপর। তারা দেখান পুরুষ তৈরি করেছে ছকবীধা নারীভাবমূর্তি, সৃষ্টি করেছে দেবী ও দানবী; দেখান ধর্মগ্রন্থ, ধুপদী ও জনপ্রিয় সাহিত্যে নারীকে পীড়ন ও অপব্যবহার করা হয়েছে নানাভাবে. আর নারীকে বাদ দেয়া হয়েছে সাহিত্যে ইতিহাস থেকে। সমাজে যেমন চলে নারীপীড়ন, নারী যেমন হয় ধর্ষণের শিকার. তেমনি যুগেযুগে সাহিত্যে পীড়িতধর্ষিত হয়েছে নারী। তারা পুরুষের “মহৎ' সাহিত্য ঘেটে দেখান যে তাতে নারীবিদ্বেঘ পুরুষের নিশ্বাসের মতো। প্রচুর মহৎ সাহিত্েরে মহিমা তারা হরণ করেন। এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ কেইট মিলেট। মিলেটের টোক্িক রাজনীতি ( আধুনিক নারীবাদের সবচেয়ে সাড়াজাগানো বই, পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, যাতে মিলন ঘটে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনার: আর কাজ করে ধ্বংসাত্মক বোমার মতে! । এটি শুধু সাহিত্য সমালোচনা নয: এর রয়েছে তিনটি ভাগ: 'লৈঙ্গিক রাজনীতি, 'ঐতিহাসিক পটভূঘি', এবং "সাহিত্যিক প্রতিফলন"। প্রথম ভাগে মিলেট দেখান নারীপুরুষের লৈঙ্গিক বাজনাতির স্বরূপ, দ্বিতীয় ভাগে লেখেন উনিশবিশশতকের নারীমুক্তি আন্দোলনের নিয়তির ইতিহাস, তৃতীয় ভাথে উদঘাটন করেন ডি এইচ লরেন্স, হেনরি মিলার. নরমান মেইলার, ও জা জোনের লেখায় লৈঙ্গিক রাজনীতির রূপ। টোরিল মোই, মিনি অনায়ভাবেই কঠোর সমালোচনা করেছেন মিলেটের, তিনিও স্বীকার করেছেন, 'এটি সৃষ্টি করে যে-অভিঘাত, তাতে এটি হয়ে ওঠে পরবর্তী ই্জমার্কিন নারীবাদী সমালোচনামূলক সমস্ত গ্রন্থের জননী ও অগ্রদূত. এবং ১৯৭০ ও র নারীবাদীরা কখনোই মিলেটের পথিকৎ প্রবন্ধটির কাছে খণ স্বীকার বা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে অস্বীকার করেন নি।” মিলেট বেরিয়ে আসেন সে-সময়ের মার্কিন নবসমালোচনার রীতি থেকে; নবসমালোচনা রীতির বিরোধিতা করে তিনি যুক্তি দেন যে ঠিক মতো সাহিত্য বুঝতে হলে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিবেশকে। মিলেটের সমালোচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য অসম্ভব অভাবিত প্রতিভাদীপ্ত সাহস। এ যখন “মহৎ লেখকদের কাছে বিনীত থাকাই ছিলো সাহিত্য সমালোচনার আদব, তখন লরেন্স, মিলার, মেইলার. জা জোনের সাথে প্রচণ্ড বেয়াদবি করেন মিলেট। তার আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এ-আধুনিকেরা। মিলেট লেখককে বিধাতা হিশেবে মানেন নি; তিনি পাঠককে করে তোলেন লেখকের গ্রতিদ্বন্দ্ী, এবং প্রশ্ন করেন পংক্তিতে পংক্তিতে।

মিলেট সমালোচক-পাঠক হিশেবে বিনীত বা ভদ্রমহিলাসুলভ নন: তিনি লেখকের মুখোমুখি দাড়ান উদ্ধত তরুণের মতো, প্রতি মুহূর্তে বিরোধিতা করেন লেখকের আধিপত্যের। তিনি মূর্তিভগ্রকারী; তার সমালোচনা পড়ার পর ওই আধুনিক প্রধানদের ভাবমূর্তি আর আগের মতো থাকে না; তারা তাদের কীর্তিসহ ধ'সে পড়েন। মিলেটের রীতির একটু নমুনা দিচ্ছি। মিলেট ডি এইচ লরেন্স সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে লেডি চ্যাটালির ধেমিক ( থেকে উদ্ধৃত করেন প্রচণ্ড লিঙ্গবাদী এঅংশটুকু:

“তোমাকে আমি দেখতে চাই।” সে [মেলর্স। তার শার্ট খুলে ফেললো এবং লেডি জেইনের! যোনিব অপভাষা! দিকে তাকিয়ে স্থিরভাবে দাড়ালো। নিচু জানালা দিয়ে সূর্যবশ্ি চুকে তার উ্চ আর কশ্ উদরকে, এবং জুলজুলে স্বর্ণ -লাল কেশেব ছোটো মেঘের ভেতর থেকে জেগে ওঠা কুষ্ঠাড ও তগ্ত চেহারা দাডানো শিশ্নকে আলোকিত করে তুললো। “কী অদ্তুত।” সে ধীরে ধীরে বললো। “কী অদ্ভুতভাবে সে ওখানে দীড়িয়ে আছে! কী বিশাল! এবং কী কৃষ্তাভ এবং সুনিশ্চিত! সে কি তাৰ মতো?” পুরন্ঘটি তার পাতলা শাদা শরীরেব সম্মুখভাগের নিচের দকে তাকিয়ে হাসলো। ছোট্ট বুকের মাঝখানে কেশেব বঙ কৃষ্ঠাভ, প্রায় কৃষ্ণ। কিন্তু উপরেব সুলদেশে, যেখান থেকে শিশ্নটি মোটা ও ধনুকাকৃতি 'খিলানের মতো উঠে এসেছে, সেখানকান কেশ সোনা-লাল, ছোটো মেঘেব মতো জবলজবলে। “কী গর্বিত” সে গুনগুন কবলো, অস্বস্তি ' “এবং কী প্রশ্ুসুলভ: এখন বুঝতে পারছি কেনো পুরশষেবা এতো কর্তৃতৃপবায়ণ। কিন্তু সে শিশ্ব। সত্যিই সুন্দর। আরেকটি মানুষে মতো' একটু ভীতিকব! তবে সতাই সুন্দর' এবং সে আমার দিকে আসছে। -” সে ভয়ে ও উত্তেজনা অধর কামড়ে ধরলো। পুক্ষটি নীববে নিচে তার শক্ত শিশ্বের দিকে তাকালো। 31৭ কোনো বদল ঘটে নি।

“ভোদা, তুই য! চা তা অই্ল ভোদা। ক তুই লেডি জেনরে চাচ। জন টমাস [শিশ্নেতর অপভাঘা] লেডি জেনরে চায়। -” “আহা. তাকে ক্ষেপিয়ো না, " বিছানায় হাটু ভর ক'বে তার দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগোতে এগোতে কোনি বললো। সে দু-হাতে তার কৃশ্ কটি ধরে তাকে নিজের দিকে টানলো যাতে তার ঝ্ুলপ্ত আন্দোলিত শ্তনদুটি স্পশ কবলো উত্তেজিত, উথিত শিশ্নেব শা, এবং তাতে লাগলো ভরল পদার্থের ফোটা। সে পুনুযটিকে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরলো। শোও?” সে বললো। "শোও। আমাকে হতে দাও) সে এখন খবই তাড়াব মধে)!

মিলেট বলেন লোডি চাটালির প্রেমিক একটি আপাত-ধর্মীয় রচনা, যাতে এক আধুনিক নাব্রীব আত্মার মুক্তি ঘটানো হয়েছে লেখকের নিজস্ব ধর্মমত 'শিশ্নের রহস্যে'র সাহায্যে। এখানে আবির্জাব-ঘটেছে শিশ্নদেবতার। অলিভার মেলর্স হচ্ছে চূড়ান্ত লবেন্গায় পুরুষ, মনুধ্যদেব, সে মারাত্মক যৌনপীড়নে সক্ষম, তবে এউপন্যাসে কোনে। যৌনগীড়ন নেই। এতে কনস্ট্যালস চাটার্লিকে দেয়া হয়েছে ঈশ্বরদর্শনের অনুমতি। এ-বইটি অলিভার মেলর্সের শিশ্বের পূজানুষ্ঠান; এতে পুরুষের মহিমাকে উন্নীত করা হয়েছে এক ম্মতীন্ড্িয় ধর্মে। এট। ল্গিক বাজনীতিন সবচেয়ে কর্তৃত্পরায়ণ রূপ।

৩১৮ নারী

লৈঙ্গিক রাজনীতিকদের মধ্যে লরেন্দ সবচেয়ে প্রতিভাবান ও একাগ্র: তিনি সবচেয়ে নিপুণও, কেননা তিনি লৈঙ্গিক বার্তা জ্ঞাপন করেন নারীর চেতনার মাধ্যমে। নারীটিই আমাদের জানায় যে সোনালি যৌনকেশের জ্যোতিশ্চক্রের ভেতর থেকে জেগে ওঠা দাড়ানো শিশ্লটি সত্যিই “গর্বিত', আর 'প্রভুসুলভ', এবং সর্বোপরি, “সুন্দর। সেটি 'কৃষ্ঠাভ এবং সুনিশ্চিত", আর 'ভীতিকর' ও “অভ্তুত', যা নারীকে যেমন “ভীত' করে তেমনি করে উত্তেজিত। শিশ্নের দাড়ানো নারীকে দীক্ষিত করে এ-ধর্মে যে পুরুষাধিপত্য শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনি চমৎকার শিষ্যের মতো সাড়া দেয়, 'এখন বুঝতে পারছি কেনে। পুরুষেরা এতো কর্তৃতৃপরায়ণ। " এ-বইয়ের সঙ্গমদৃশ্যগুলো লেখা হয়েছে ফ্রয়েডীয় বিধিমতে যে “নারী অক্রিম, পুরুষ সক্রিয়। ' এতে শিশ্বই সব. কোনি হচ্ছে 'ভোদা", যে-বস্তুর ওপর ক্রিয়া করা হয়। এভাবে বিশ্রেষণ করে মিলেট লরেন্সকে মহিমাহীন করে তুলেছেন।

মিলেটের মতো তীব্রভাবে না হলে একই কাজ করেন মেরি এলমান থিকিং আযবাউট উইমেন: নারীদের সম্পর্কে ভাবনাচিস্তায় (। তার বইটি বেরোয় মিলেটের টাঙ্গিক রাজনীতির এক বছর আগে, কিন্তু এটা, একান্তভাবেই সাহিত্যকেন্দ্রিক বই বলে, ভতোটা সাড়া জাগায় নি। এলমান পিতৃতন্ত্রররকে সামাজিক ও রাজনীতিকভাবে আক্রমণ করেন নি. তিনি আক্রমণ করেন সাহিত্যে রূপায়িত পুরুষতান্ত্রিক লিঙ্গবাদকে। সমালোচনার একটি ধারা, যা নারীভাবমূর্তি সমালোচনা নামে পরিচিত। পুরুষদের লেখায় নারীর ছক খোজেন এলমান, দেখান যে পুরুষ সমালোচকেরা নারীর লেখা বই আলোচনার সময়ও ব্যবহার করেন লৈঙ্গিক ধারণা। তার মতে পশ্চিমি সংস্কৃতির বড়ো বৈশিষ্ট্য 'লৈঙ্গিক সাদৃশ্যমূলক চিন্তা", অর্থাৎ যে-কোনো চিন্তায়ই নারী বা পুরুষ ধারণাটি জেগে ওঠে, আর প্রধান হয়ে ওঠে পুরুষ ধারণাটি। পশ্চিম বা দু-গোলার্ধেরই সমস্ত চিন্তার মূলে আছে লিঙ্গভিন্নতার বোধ। সাহিত্য সমালোচনাযও, তিনি দেখান, অত্যন্ত প্রবল লৈঙ্গিক চিন্তা; তিনি এর নাম দেন “ফ্যালিক ক্রিটিসিজম' বা “শৈশ্বিক সমালোচনা”। তার মতে পুরুষ সমালোচকদের কাছে নারীর লেখা বইও নারী, সন্তোগের সামগ্রী; ওই বই সমালো5নাব নামে তারা মাপামাপি করেন বইয়ের বক্ষ ও নিতঙ্গ। পুরুষ লেখক-সমালোচকদের লেখায় তিনি খুঁজে পান নারী ও নারীতে এগারোটি ছক; সেগুলো হচ্ছে নিরবয়বতা, অক্রিয়তা, অস্থিরতা, বন্দীত্বু, ধার্মকতা, বস্তৃজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, অযৌক্তিকতা, পরের ইচ্ছাপুরণে সম্মতি, দানবী ও মুখরা স্ত্রী।

নারীবাদী সমালোচনার এক উর্বর ধারানারীভাবমূতিুলক সমালোচনা। এ-ধারাব অজস্র নিবন্ধ ও বই বেরিয়েছে। এ সুজান কোপেলম্যান কোরনিলনের সম্পাদনায় বেরোয় নারীভাবমূর্তিমূলক সমালোচনাসংগ্রহ ইমেজেজ অফ উইমেন ইন ফিকশন: ফেমিনিষ্ট পারস্পেকটিতূস: : কথাসাহিতে? নারীভাবমৃত্তি: নারীবাদী রক্ষিত। এ-বইতে উনিশবিশশতকের বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ ওঁপন্যাসিকের আকা: নারীর

ভাবমূর্তি তুলে ধরে প্রচণ্ড সমালোচনা করা হয় ওই সব অবাস্তব নারীচরিত্রের। অবাস্তব নারী সৃষ্টির জন্যে শুধু পুরুষেরাই অভিযুক্ত হয় নি এ-প্রবন্ধগুচ্ছে, বরং দেখানো হয় যে এ-কাজে পুরুষদের থেকে অনেক নিকৃষ্ট নারী লেখকেরা। অবাস্তব নারী সৃষ্টি করে নারী লেখকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন নিজেদের লিঙ্গের সাথে। এ-ধরনের সমালোচনায় মিলিয়ে দেখা হয় লেখকের ও পাঠকের অভিজ্ঞতাকে: আর পাঠকের অভিজ্ঞতার সাথে যদি না মেলে লেখকের অভিজ্ঞতা, তাহলে অভিযোগ তোলা হয় লেখকের বিরুদ্ধে। নারীভাবমূর্তি সমালোচকেরা আত্মজীবনীকে ব্যবহার করেন সমালোচনার মানদণ্ডরুপে: তারা মনে করেন কোনো সমালোচনাই মুক্ত নয় নিজের মূল্যবোধ থেকে। প্রতিটি মানুষ, এবং লেখকও, কথা বলেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনীতিক, ও ব্যক্তিগত ব্যাপারে গ”ড়ে ওঠা বিশেষ অবস্থান থেকে। এ-পরিপ্রেক্ষিত সীমাবদ্ধ, একে সর্বজনীন বলে চালানো খুবই আধিপত্যমুলক কাজ। নারীভাবমূর্তি সমালোচনার কাজ সাহিত্যে রূপাধিত মিথ্যে নারীভাবমূর্তির স্বরূপ বের করা। ওই মিথ্যে ভাবমূর্তি যেমন পুরুষ লেখকেরা তৈরি করেছেন, তেমনি করেছেন নারী লেখকেরাও। এতে খুব বেশি গুরুত্ত দেয়া হয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ওপর: মনে করা হয় বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপনই সাহিত্যে লক্ষ্য! তাই এ-সমালোচনা আধুনিকতারিরোধী, সব ধরনের আধুনিক রীতিকেই আক্রমণ করা এর স্বভাব। তাদের মানদণ্ডে সে-সাহিতোর মূল্য কম, যা তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়: তাকেই তারা বাতিল করেন যা তাদের অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়ে না।

লিঙ্গবাদ ও নারীভাবমূর্তি বের করার পর, ১৯৭৫ থেকে, নারীবাদী সমালোচনার বিষয় হন নারী লেখকেরা; নারীবাদী সমালোচনা হয়ে ওঠে নারীকেন্দ্রিক। নারীবাদীরা আবিষ্কার করেন যে নারী লেখকদের ছিলো নিজেদের এ” ধরনের সাহিতা, যে-সাহিত্যের ঐতিহাসিক ও বিষ্য়গত সামঞ্জস্য, আর শৈল্লিক গুরুত্ব স্বীকৃতি পায় নি পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের কাছে। তারা বলেন নারীকল্পনাপাতিভার কথা। এ শোঅল্টার দাবি করেন নারী লেখকদের রয়েছে এক বিশেষ ইতিহাস, যা গুরুত্বর সাথে বিবেচনাযোগ্য। নারীরা আলোচনা করেন নারীরচিত সাহিত্য, এটা হয়ে ওঠে ইঙ্গমার্কিন নারীবাদী সমালোচনার প্রধান প্রবণতা। সত্তর দশকের শেষের দিকে বেরোয় এ-ধারার কয়েকটি গুরুতৃপূর্ণ বই; যেমন এলেন মোয়ের্সের লিটেরেরি উইমেন: সাহিত্যিক নারী ( ইলেইন শোঅল্টারের এ লিটেরেচার অফ দেয়ার আৌন: তাদের নিজেদের সাহিত্য ( শিরিল এল ব্রাউন ও কারেন ওলসন সম্পাদিত ফেবিনিস্ট ক্রিটিসিজম: এসেইজ অন থিয়োরি, পোয়েটি আযান্ড রোউজ -: নারীবাদী সমালোচনা: তত, কবিতা ও গদ্য বিষয়ক বন্ধ ( এবং সান্া গিলবার্ট ও সুজান গুবারের দি ম্যাডওম্যান ইন দি আযা্টিক: চিলেকোঠার পাগলী (। এ-বইগুলোতে শনাক্ত করা হয় সাহিত্যে নারী-এঁতিহ্যের পৃথক ধারা; দেখানো হয় নারীর লিঙ্গ নয়, সমাজই স্থির করে দেয় নারীর বিশ্বদৃষ্টি ও সাহিত্যে তার উপস্থাপন। এলেন মোয়ে্স সাহিত্যিক নারীতে সবার আগে উদ্যোগ নেন নারীসাহিত্যের ইতিহাস লেখার। তার মতে

৩২০ নারী

পুরুষ-এতিহ্যের তলে বা পাশাপাশি নারীসাহিত্য এক গতিশীল ও শক্তিমান অন্তঃ্স্রোত। বইটিতে কোনো তত্ত্ব প্রস্তার না করেই তিনি দেখান যে পুরুষের পাশাপাশি দেখা দিযেছিলেন মহৎ নারী লেখকেরাও, কিন্তু তারা মূল্য পান নি। ইলেইন শোঅল্টার তাদের নিজেদের সাহিত্য-এ বর্ণনা করেন ব্রোন্টিদের থেকে বর্তমান পর্যন্ত লেখা ইংরেজি উপন্যাসের ইতিহাস; দেখান এ-ধারার বিকাশের রীতি সাহিত্যিক উপসংস্কৃতি বিকাশের রীতির মতো। তিনি নির্দেশ করেন এ-ধারা বিকাশের তিনটি পর্ব। প্রথম পর্বটি হয় বেশ দীর্ঘ: এ-পর্বে অনুকরণ করা হয় আধিপত)শীল এতিহ্যকে, এবং অভ্তরীকরণ করা হয় শিল্পকলার মান ও সামাজিক ভূমিকা; দ্বিতীয় পর্বে দেখা দেয় এসব ধারণা ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে গ্রতিবাদ, দাবি করা হয় স্বায়ত্বশাসন; সব শেষে দেখা দেয় আত্ম-আবিষ্কার-এর পর্ব। এ-পর্ব তিনটির নাম তিনি দেন ফেমিনিন, ফোমিানিস্ট এবং ফিমেল। তাৰ মতে ইংরেজি সাহিত্যে ফেমিনিন পর্ব শুরু হয় এর দশকে, যখন নারী লেখকেরা দেখা দেন পুরুষছন্মনামে। এ-পর্ব সমাপ্ত হয় ১৮৮০ সালে জর্জ এলিঅটের মৃত্যুতে। ফেমিনিস্ট পর্বের কাল ১৮৮০ থেকে; এবং ফিমেল পর্ব এ শুরু হয়ে এখনো চলছে। সাহিত্যের ইতিহাস ও নারীবাদী সমালোচনায় শোঅল্টারের বড়ো কৃতিত্ বিস্ৃত ও উপেক্ষিত নারী লেখকদের পুনরাবিফার।

সান্ড্রা এম গিলবার্ট ও সুজান গুবারের চিলেকোঠার পাগলী বিশাল বই। এতে আলোচিত হন জেইন অস্টিন, মেরি শেলি, ব্রোন্টি বোনেরা, জর্জ এলিঅট, এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং, ক্রিস্টিনা রসেটি. এবং এমিলি ডিকিনসন। তারা তুলে ধরেন উনিশশতকের “সুস্পষ্টভাবে রক নারীসাহিত্যধারা'র প্রকৃতি, এবং প্রস্তার করেন নারীর সাহিত্য-সৃষ্টিশীলতা সম্পর্কে এক অভিনব তত্ত্ব। তারা দেখান উনিশশতকে পিতৃতান্ত্রিক ভাবাদর্শ এমন বিশ্বাস সৃষ্টি করে যে শৈল্পিক সৃষ্টিশীলতা একান্ত পুরুষের গু৭। লেখক রচনার 'জনক', বিধাতার আদলে তিনি সষ্টা বা প্রণেতা বা গ্রন্থকার। সৃষ্টিশীলতার এ-শিশ্নতান্ত্রজ উপকথার মধ্যে নারী লেখকদের দীড়াতে হয় কঠিন অবস্থার মুখোমুখি। সৃষ্টিশীলতাকে পিতৃতন্ত্ররর যেহেত্ গণ্য করে পুরুষালি কাজ বলে, তাই নারীভাবমূর্তিও তৈরি হয়েছে পুরুষের কল্পনায়। নারী অধিকার পায় নি নারী বা নারীত্ববব সম্পর্কে ভাবমূর্তি সৃষ্টির, তাদের বাধ্য করা হয়েছে পুরুষের কল্পিত ভাবাদর্শের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে। গিলবার্ট ও গুবার বিশ্লেষণ করেন পিতৃতন্ত্রররে নারীশিল্পীর অবস্থান। তারা দেখান গিতৃতন্ত্রের তৈরি নারীধারণা নারী ও নারীশিল্পীর মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে, নারী ও নানীশিল্পীর মধ্যে তৈরি করে জটিলতা! এব ফলে নারী লেখক হতে গিয়ে ভোগে তীব্র উদ্বেগে, কেননা তার অধিকার নেই লেখক হওয়ার। পিতৃতন্ত্রররে লেখক অবধারিতভাবে পুরুষ, আর নারী পুকষের দাসী: তাই নারী কীভাবে ধরবে কলম, হবে লেখক? নারী লেখকেরা এ-সংকট থেকে মুক্তির জন্যে নেন এক কৌশল: তারা তাদের সাখিতের বাহ্যসংগঠন ও আন্তর তাৎপর্যের মধ্যে রাখেন দূরত্ব। বাইরে তাঁরা মেনে নেন পিতৃতন্ত্রররের বিধান, কিন্তু ভেতরে গোপন করে রাখেন ধ্বংসাম্মক তাৎপর্য, কাজ করেন পিতৃতাধরিক বিধানের বিরুদ্ধে। আমলি ডিকিনসন ললেডিলেন, সত্য বলো. তবে

তির্যকভাবে বলো"; তারা নেন ওই তির্যক ভঙ্গি। তাদের মতে নারীর কণ্ঠস্বর ছলনাময়, তবে সত্য। তারা যে-চিলেকোঠার পাগলীর কথা বলেছেন, সে কে? ওই পাগলীটি আর কেউ নয়, সে নারী লেখকের “ডবল', নারী লেখকের উদ্বেগ ও ক্রোধের উন্মাদিনী রূপ। পিতৃতন্ত্রররের চাপে উনিশশতকের নারী লেখকদের প্রায় প্রত্যেকে সৃষ্টি করেন একেকটি পাগলী, যে তারই আরেক সন্তা। এ-পাগলী সৃষ্টি ছিলো তাদের এক সাহিত্যিক কৌশল, যা উনিশশতকের নারীদের লেখা উপন্যাসকে দিয়েছে বিপ্লবাত্মক প্রকৃতি।

নারীবাদীরা নারীসাহিত্যের ওপর যে-গুরুত্ব অরোপ করেন, তাতে দেশে দেশে পুনরাবিফৃত হয় বিপুল পরিমাণে নারীসাহিত্য। সেগুলোকে নতুনভাবে পড়েন তারা। তারা পুনরাবিষ্কার করেন বহু বিস্থৃত নারী লেখককে, প্রকাশ করেন তাদের চিঠিপত্র ও দিনপঞ্জি, এবং দেখান যে নারীসাহিতোর রয়েছে এক বিশেষ স্বভাব। নারীবাদী সমালোচনার প্রথম সুফল পান আঠারোউনিশশতকের নারী লেখকেরা, ধাদের বই শিকার হয়েছিলো উপেক্ষা আর বিস্ৃতির। নারীবাদী প্রকাশনা থেকে এ পুনঃপ্রকাশিত হয় রেবেকা হার্ডিং ড্যাভিসের উপন্যাস লাইফ ইন দি আয়রন মিলস ( এ পুনঃপ্রকাশিত হয় শার্লোট পার্কিন্স গিলম্যানের ছোটগল্প “দি ইয়েলো ওয়ালপেপার" ( বেরোয় বিস্থৃত নারী লেখকদের নানা রচনাসংগ্রহ। এসব লেখায় পাওয়া যায় নীরব বিদ্রোহ, এমনকি আমূলবাদী মনোভাব; এবং নারীবাদীরা খুঁজতে শুরু করেন কেনো এসব লেখা বাদ পড়েছিলো 'প্রধান রচনা"র পংক্তি থেকেঃ এ বরোয় নিনা বায়ামের ওম7নস ফিকশন: এ গাইড টু নোভেলস বাই আন্ড আযাবাউট উইমেন ইন আমেরিকা, । এতে দেখানো হয় যে উনিশশতকের অধিকাংশ জনপ্রিয় পনাসিকই ছিলেন নারী, তারা “বেস্ট-সেলার' লিখেছিলেন, কিন্তু বাদ পণ্ড়ে গেছেন সাহিত্যের প্রধান পংক্তি থেকে। বেস্ট-সেলার উ ত্কৃষ্ট সাহিত্য হয় না ঠিকই, কিন্তু নারীবাদীরা মনে করেন ওই নারী লেখকদের কেউ কেউ স্বীকৃতি পেতে পারতেন।

১৯৭০ থেকে নারীবাদীরা বিকাশ ঘটাতে থাকেন নারীর নন্দনতত্ত্ব বলে একটি ধারণার, তারা বলতে থাকেন নারীর বিশেষ সাহিত্যচৈতন্য-এর কথা। আ্যাদ্রিয়েন রিচ, মার্জে পিয়ের্সি, জুডি শিকাগো, সুজ্যান গ্রিফিন, আযালিস ওয়াকার প্রমুখের রচনায় দেখা দেয় নারীর নন্দনতত্ত্বের ধারণা; তারা দাবি করেন নারীসংক্কতি বলে এক বিশেষ সংস্কৃতি। তবে নারীর নন্দনতত্ত্বের ধারণা নিয়ে বিতর্ক বেধেছে; অনেকে একে নারীসমকামবাদী চৈতন্য, ও নারীসমকামবাদী স্বাতন্ত্যবাদের সাথে এক করে দেখেন। আ্যদ্রিয়েন রিচ লিখেছেন [দ্র শোঅল্টার সম্পাদক ৭)1:

প্রত্যেক নারীর মধ্যে রয়েছে একটি নারীসমকামী, সে অভিভূত হয় নারীশক্তি দিয়ে, সে আকর্ষণ বোধ করে শক্তিশালী নারীর প্রন্তি, সে খোজে এমন সাহিত্য যাতে প্রকাশ পায় ওই শক্তি ও জোর। আমাদের আন্তর নারীসমকামীটিই আমাদের চালায় কল্পনাদীপ্ত অনুভবের দিকে, আর ভাষায় প্রকাশ করে নারীর সাথে নারীব পূর্ণ সম্পর্ক। আমাদের আত্তর নারীসমকামীটিই শুধু সৃষ্টিশীল, কেননা শিতাদের দায়িতুশীল কন্যারা ভাড়াটে লেখকমাত্র।

৩২২ নারী

অনেকে অবশ্য মেনে নিতে রাজি হন নি যে নারীসত্তা শুধু একটি বিশেষ সাহিত্যশৈলীর মধ্যেই প্রকাশ পায়, বা নারীর সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ পায় নারীসমকামে। ১৯৮০ থেকে নারীসমকামবাদী নন্দনতত্ত্র ভিন্ন হয়ে যায় নারীনন্দনতত্ত্ব থেকে।

নারীবাদী সমালোচকেরা নিজেরা পুনর্বিচার করে দেখতে চান সাহিত্যের সব কিছু, অভিযোগ হচ্ছে তাঁরা ছুঁড়ে ফেলে দিতে চান হাজার বছরের পাশ্চাত্য সংস্কৃতি। নারীবাদী সমালোচকদের একটি চাবিশব্দ “পুনঃ বা “আবার”। ইতিহাস পুনর্লিখনের' কথা নলেছেন ভার্জিনিয়। উল্ফ্, আ্যাদ্রিয়েন রিচ বলেছেন নারীর লেখা শুরু হতে হবে অতীতকে পুনরাবলোকন বা সংশোধন করে, নারীত্ববব পুনরাবিষ্কারের কথা বলেছেন ক্যারোলিন হিলবার্ন, জোন কেলি বলেছেন, “নারীদের পুনরুদ্ধার করতে হবে ইতিহাসে, এবং ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করতে হবে নারীর কাছে' [দ্র গিলবার্ট (। পুরুষ এতোদিন যেভাবে সাহিত্য পড়েছে, সেভাবে নয়, পড়তে হবে নারীর, নারীবাদীর চোখে; তখন ওই সাহিত্য ভরে ছড়ানো দেখা যাবে লিঙ্গের পীড়ন। ওই পীড়নে বিকৃতরূপে গণড়ে উঠেছে নারী। সান্ড্রা গিলবার্ট “নারীবাদী সমালোচকেরা কী চান? অগ্রিগিরি থেকে পোস্টকার্ড' ( প্রবন্ধে বলেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি পুরুষ লেখকদের ভাণ্ডার, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পুরুষ লেখকদের সম্পত্তি ওই সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রায় নেই! তার মতে, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সুষ্টা গন্ভীর পণ্তিত, সংরক্ত কবি, আর চিন্তাক্রিষ্ট দার্শনিকেরা সবাই পুরুষ, মহাজগত তাদেরই উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত সম্পত্তি। তার মতে পুরুষের সব শক্তি ছিলো, ছিলো বাকশক্তিও, কিন্তু নারীদের পালন করতে হয়েছে নীরবতা; পুরুষ তাদের দিয়েছে যে-ভাষা, তা হচ্ছে নীরবতা। যে-নারীরা নীরবতারত পালনে রাজি হন নি, তাদের কী হয়েছে? তারা হারিয়ে গেছেন অন্ধকারে, বা তাদের ভুল বোঝা আর অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। নারীদের রচনা হয়তো মহৎ সাহিত্য হয় নি, তা হয়তো খুবই বশমানা: তবে ওই লেখার ভেতরে রয়ে গেছে বিপজ্জনক বস্তু, যা অনেক সময় অগ্রিগিব্বির মতো, এবং গভারভাবে 1রাভিশনারি- সংশোধনপন্থী।

আনেট কোলোডনিও ( বলেন একই কথা: বলেন যে নারী সাহিত্য সৃষ্টি করতে গিয়ে দেখে তার কোনো এঁতিহ্য নেই। সাহিত্যের মহৎ এতিহ্য বলে যা গৃহীত. নারী লেখকেরা একাত্ম বোধ করতে পারেন নি তার সাথে, ওই এঁতিহ্যকে মনে কবতে পারেন নি নিজেদের বলে। পুরুষ যেমন লিখতে ব'সেই মনে করে একটা মহৎ বস্তু সে উপহার দিচ্ছে মানবজাতিকে, নারী লেখকেরা তা মনে করতে পারেন নি; মহৎ কিছু বা শিল্পকলা সৃষ্টি করছেন, এমন ভাবাও সম্ভব হয় নি তাদের পক্ষে; তারা, আঁধক! ংশ সময়, নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন লেখকদের" থেকে। তারা বারবার জানিয়েছেন পণ্ডিতদের জন্যে তারা গল্প লিখছেন না, লিখছেন সাধারণদের জন্যে. যারা “সাহিত্য থেকে দূরবর্তী। নিনা বায়াম বলেছেন, সবাই আশা করতো যে নারী লেখকেরা লিখবেন নারীদেব জন্যে, তাঁরা সাহিত্যের মহৎ এতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

তারাও কখনো নিজেদের মিল্টন বা স্পে্সারের উত্তরসূরী বলে মনে করেন নি [দ্র কোলোড্নি (। এ কেইট শপিনের দি অযাওকেনিং উপন্যাসটি প্রকাশের পর পাঠকেরা বেশ ব্বিত বোধ করে; উপন্যাসটিতে তিনি বিবাহবহির্ভত যৌনতার যে-বিবরণ দেন, তা কোনো নারী উ্পন্যাসিকের কাছে পাঠক প্রত্যাশা করে নি। নারীর কাছে চাওয়া হয় “ভদ্র উপন্যাস"। বায়াম ( দেখান মার্কিন সাহিত্য পাঠ ও সমালোচনায় সক্রিয় যে-তত্ত্, তা নারী লেখকদের মহৎ সাহিত্যের পংক্তি, ক্যান্যন, থেকে বাদ দেয়। তিনি দেখান কালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটতিরিশটি উপন্যাস বেরোর। এগুলোর নটির লেখকের নাম আজো অজানা. হয়তো সেগুলো লিখেছিলেন নারীরাই; বাকি উনতিরিশটি লেখেন আঠারোজন লেখক, ধাদের চারজন নারী। তাদের একজন, সুজানা রোওসন, একাই লেখেন ছটি উপন্যাস। তার উপন্যাস শালোঁট প্রথম প্রকাশের দশকে তিনবার, সালের মধ্যে উনিশবার, উনিশশতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে আশিবার ছাপা হয়। হ্যানা মুরের দিককেট উনিশশতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তিবিশবার ছাপা হয়। নারী ও্পন্যাসিক হ্যারিয়েট বিশার স্টোর আংকেল টমৃস কেবিন মার্কিন সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত উপন্যাস। উনিশশতকে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি পঠিত ওপন্াসিক ছিলেন ই ডি ই এন সাউথওয়ার্থ, একজন নারী। এসব সত্তেও তারা মার্কিন সাহিত্যের ঐতিহাসিক ও সমালোচকদের কাছে মূল্য পান নি; তারা বাইরে থাকেন সাহিত্যের মহৎ ধারার। কেনো এমন হয়েছে? এর এক কারণ, বায়ামের মতে, পক্ষপাত; সমালোচকেরা পছন্দ করেন না নারীদের লেখক হিশেবে দেখতে, তারা বিশ্বাস করেন না যে নারীরা লেখক হতে পারে; তাই চোখের সামনের নারী লেখকদেরও দেখতে পান না তারা। আরেকটি কারণ হয়তো নারী লেখকেরা মহৎ কিছু লিখে উঠতে পারেন নি। পারেন নি এটা অনেকখানি সত্য, তবে “1 পারার রয়েছে সামাজিক কারণ। এটা ভুলে গিয়ে পুরুষ সমালোচকেরা নারী লেখকদের উপেক্ষা করেন প্রধানত লৈঙ্গিক কারণে; তারা সাহিতাকে মনে করেন মূলত পুরুষের কাজ বলে।

লিলিআন রবিনসনও ( আক্রমণ করেছেন সাহিত্য মূল্যায়নের প্রতিষ্ঠিত ক্যান্যন বা মানদণ্ড ও রুচিকে। তার মতে প্রধান/অপ্রধান ব্যাপারগুলো ভদ্রলোকের চুক্তি। ওই ভদ্রলোকেরা সুবিধাভোগী শ্রেণী ও পুংলিঙ্গের অর্তৃভুক্ত। সাহিত্যের যে-ক্যানান স্বীকৃত, তা সম্পূর্ণরূপে জদ্রলোকদের সৃষ্টি; তাই তাদের রুচির বাইরের কোনো কিছুই মহৎ বলে গণা হয় না। পশ্চিমের মহৎ বইগুলো সবই পুরুষের লেখা, সেখানে কোনো নারীর বই নেই; কখনো তাতে অস্টিন, ব্রোন্টি বোনেরা, জর্জ এলিঅট, বা এমিলি ডিকিনসনের স্থান হয়, কিন্ত্বু তারাও থাকেন বেশ নিচে। এ-অবস্থা কাটানোর জন্যে লিলিআন রবিনসন নারীবাদী সমালোচনার দুটি দায়িত্ নির্দেশ করেন: নতুনভাবে লিঙ্গবাদী ভাবাদর্শ, এবং দাড়াতে হবে তার মুখোমুখি। আর প্রয়াস চালাতে হবে নারী লেখকদের ক্যান্যনভুক্ত করার। মেরি ওলস্টোনব্র্যাফ্ট্, কেইট মিলেট, ইভা ফিজেস,

৩২৪ নারী

এলিজাবেথ জেনওয়ে, জারমেইন গ্রিয়ার, ক্যারোলিন হিল্বুন করেছেন তাই; তারা প্রশ্ন তুলেছেন মহৎ বইগুলোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। মহৎ সাহিত্য পুনর্মূল্যায়ন করলে কি দেখা যাবে নারীর লেখা অনেক মহৎ সাহিত্য বাদ পণ্ড়ে গেছে সাহিত্যের মহৎ এতিহ্য থেকে? তারা কি কোনো হ্যামলেট, যুদ্ধ ও শাতি, বা গীতাঞ্জলি লিখেছেন, যা স্বীকৃতি পায় নি পুরুষের? নিনা বায়াম স্বীকার করেছেন অমন কোনো ঘটনা ঘটে নি। সালের মধ্যে লেখা মার্কিন নারী উপন্যাসিকদের উপন্যাস সম্পর্কে তিনি বলেছেন ওগুলোতে নান্দনিক, মননগত, নৈতিক জটিলতা ও শিল্লিতার অভাব রয়েছে, যা আমরা প্রত্যাশা করি মহৎ সাহিত্যের কাছে। ওই সময়ের নারী ওপন্যাসিকদের রচনা নানাভাবে আকর্ষণীয়, কিন্তু কোনো বিশ্ৃত জেন অস্টিন বা জর্জ এলিঅট আবিষ্কার করা যায় না তাদের মধ্যে, বা এমন কোনো উপন্যাস খুঁজে পাওয়া যায় না. যা দি কারলেট লেটার-এর মানের। তবু তিনি মনে করেন সাহিত্য মূল্যায়নের যে-মানদণ্ড আমেরিকায় ব্যবহৃত হয়, তা পুরুষের কাজের প্রতি পক্ষপাতপূর্ণ। ওই মানদণ্ডে শেলাইয়ের থেকে তিমি শিকার অনেক বেশি মহৎ কাজ বলে গণ্য হয়, তাই নারী বাদ পড়ে। এক নতুন ধরনের উপন্যাস দেখা দিয়েছে সম্প্রতি, যেগুলোকে বলা হয় নারীবাদী উপন্যাস। ব্যবসায়িকভাবে এগুলো অত্যন্ত সফল। এ-ধরনের উপন্যাস নারীবাদী প্রকাশনাসংস্থা, এমনকি ব্যবসায়িক প্রকাশনাসংস্থা থেকেও বেরোচ্ছে। তবে এশুলোর সবই কি নারীবাদী উপন্যাস? এগুলো কি উপকারে আসছে নারীবাদী আন্দোলনের, নাকি শুধুই প্রথাগত বিনোদন সামথীর কাজ করছে এগুলো? ওপন্যাসিক নারী হলেই নারীবাদী হন, তিনি যা লেখেন তাই কি হয় নারীবাদী উপন্যাস? কিছু উপন্যাস নারীকেন্দ্রিক, তবে নারীকেন্দ্িক উপন্যাসমাত্রই নারীবাদী উপন্যাস নয়। নারীকেন্দ্রিক উপন্যাস নতুন ব্যাপার নয়; অনেক আগে থেকেই নারীরা নারীদের জন্যে নারীকেন্দ্রিক উপন্যাস লিখে আসছেন, যেমন ঘটেছে রোম্যান্টিক উপন্যাসে। ওই সব উপন্যাসের চেতনা, সেগুলোতে চিত্রিত লিঙ্গ, জাতি, ও শ্রেণী-আনুগত্যের ব্যাপারগুলো নারীবাদবিরোধী। তাই নারীকেন্দ্রিক উপন্যাসমাত্রই নারীবাদী উপন্যাস নয়, তা চরিব্রগতভাবে ভিন্ন [দ্র কাওআর্ড (।

ইলেইন শোঅল্টার ( দুটি রীতিতে ভাগ করেছেন নারীবাদী সমালোচনাকে। প্রথম রীতিতে নারীবাদী সমালোচক হচ্ছেন পাঠক হিশেবে নারী, তিনি পুরুষ লেখকদের সাহিত্য প'ড়ে তার লৈঙ্গিক ইঙ্গিতগুলো খুঁজে বের করেন। শোঅল্টার এ-রীতির সমালোচনাকে বলেন নারীবাদী সমালোচনা। এ-রীতিতে বিচার করা হয় ভাবাদর্শ গুলো. বের করা হয় নারীভাবমৃর্তি 'ও নারীছক, খোজা হয় কোথায় প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে নারী লেখককে, আর রটনা করা হয়েছে নারী সম্পর্কে কুৎ্সা। দ্বিতীয় রীতির সমালোচনার বিষয় লেখক হিশেবে নারী: এতে বিচার করা হয় নারীসাহিত্য, নারীসাহিত্যের ইতিহাস, বিষয়, শ্রেণী, ও সংগঠন। এতে আলোচিত হয় নারীর সৃষ্টিশীলতার প্রকৃতি, ভাষাবিজ্ঞান, নারীর ভাষার সমস্যা, ও"বিশেষ বিশেষ নারী লেখক। শোঅল্টার এ-বরীভির সমালোচনাকে বলেছেন গাইনোক্রিটিক বা গাইনোক্রিটিসিজম। তার মতে নারীবাদী সমালোচনা রাজনীতিক ও বিতর্কমূলক, যা

বহু কিছু নিয়েছে মাক্সীয় সমাজবিজ্ঞান ও নন্দনতত্ত্ব থেকে; আর তাঁর প্রস্তারিত গাইনোক্রিটিক স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিরীক্ষাধমী। শোঅল্টারকথিত নারীবাদী সমালোচনা অনেকটা আদি টেস্টামেন্টের মতো, যার কাজ “অতীতের পাপ ও ভুলভ্রান্তি খোজা', আর গাইনোক্রিটিক অনেকটা নতুন টেস্টামেন্টের মতো, যার কাজ “কল্পনাপ্রতিভার শোভা' খোজা। প্রথম রীতিটি ন্যায়পরায়ণ, রাগী, ও ভসনাপূর্ণ; দ্বিতীয় রীতিটি নিরাসক্ত। দুটি রীতিই দরকারী; কেননা আদর্শের জেবিমাইভ্যারাই শুধু “দাসত্বের মিশর থেকে' নারীদের মুক্তি দিয়ে পৌঁছে দিতে পারেন মানবতারাদের প্রতিশ্রুত ভূখণ্ড [দ্র শোঅল্টার (।

নারীবাদীরা কতোখানি আগ্রহী সাহিত্য ও সমালোচনাতত্ত্েঃ তত্ত্ব জিনিশটি পুরুষের সম্পত্তি, সব তত্ত্বের তারাই সষ্টা, নারীর তাতে কোনো অংশ নেই, যদিও নারী ধারাবাহিকভাবে হয়েছে তত্ত্বের শিকার। এখন নারীবাদীরা মনে করেন সেখানে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়েও নারীবাদী সমালোচনার কোনো তাত্তিক ভিত্তি ছিলো না: এ শোঅল্টার বলেছিলেন কোনো তত্তুই নারীবাদী ভাবাদর্শ ও পদ্ধতি ধারণের জন্যে যথেষ্ট নয়। কোলোড্নি বলেন, নারীবাদী সমালোচনা দেখা দিয়েছে “কোনো সমঞ্জস ধারা বা সমবিত লক্ষ্যের বদলে একরাশ পরস্পরবদলসন্ভব কৌশল হিশেবে। এর পরও সমন্বিত তত্ত্ব গড়ে ওঠে নি। কৃষ্ণনারীবাদীরা অভিযোগ করেন যে নারীবাদী সমালোচনা কৃষ্ণ ও তৃতীয় বিশ্বের নারী লেখকদের সম্পর্কে পালন করে 'প্রকাও নীরবতা"; তারা চান কৃষ্ণনারীবাদী সমালোচনা, যা বিবেচনার মধ্যে নেবে জাতিক ও লৈঙ্গিক উভয় ব্যাপার; মাক্সীয় নারীবাদীরা গুরুত্ব দেন শ্রেণী ও লিঙ্গ দুয়েরই ওপর; নারীবাদী সাহিত্য-ঐতিহাসিকেরা পুনরুদ্ধার করতে চান এক লুপ্ত এতিহ্য; বিসংগঠনবাদীরা চান এমন সমালোচনা, যা একই সঙ্গে পাঠগত ও নারীবাদী। প্রথম দিকে অনেক নারীবাদীই কোনো তাত্বিক কাঠামো তৈরি করতে চান নি নারীবাদী সমালোচনার; তারা মনে করেছিলেন তত্ত্ব নারীবাদের মতো গতিশীল বাপারকে সীমাবদ্ধ করে ফেলবে। তারা চেয়েছিলেন নারীবাদী সমালোচনাকে খোলা রাখতে। সত্তরের দশকে সাংগঠনিক, উত্তরসাংগঠনিক, বিসাংগঠনিক ইত্যাদি যে-সমস্ত বিতর্ক দেখা দেয়, নারীবাদীদের কাছে সেগুলোকে মনে হয় উর ও ছ্মবস্তুনিষ্ঠ। ওই সমস্ত ক্ষতিকর পুরুষতান্ত্রিক রচনার কবল থেকে তারা মুক্ত থাকতে চান। ভার্জিনিয়া উল্ফ্ থেকে শুরু করে মেরি ড্যালি, আযাড্রিয়েন রিচ, মার্গারেট ডুরাস, ও আরো অনেকে উপহাস করেন 'পুংপাপ্তিত্যের নপুংসক আত্মপ্রেম'কে, এবং মুক্ত থাকতে চান পিতৃতান্ত্রিক পদ্ধতিপূজো থেকে। তবে নারীবাদীরা আজ আর তর্ত্ববিমুখ নন। স্যান্দ্রা গিলবার্ট ( ৩৬) বলেন, “যে-সব ছদ্সপ্রশ্ন ও উত্তর, পাঠ ও যৌনতা, আঙ্গিক ও লিঙ্গ, মনোলৈঙ্গিক সত্তা ও সাংস্কৃতিক সত্তার সম্পর্ককে ছায়াবৃত করে রেখেছে' নারীবাদী সমালোচনা 'সে-সবের পাঠোদ্ধার ও রহস্য উন্মোচন" করতে চায়। সংশোধনপন্থী নারীবাদী সমালোচনা অনেকটা গণ্ড়ে উঠেছে চলতি সমালোচনা কাঠামো ভিত্তি করেই। তবু নারীবাদীরা লেগে আছেন পুরুষের সমালোচনা রীতি সংশোধন ও তাকে মানবিক করে তুলতে, এবং তাকে নিরন্তর আক্রমণ করে চলছেন। পুঞ্ষের সমালোচনাতত্

৩২৬ নারী

হচ্ছে সৃষ্টিশীলতা, সাহিত্যের ইতিহাস বা সাহিত্য ব্যাখ্যার সে-তন্ব্, যার ভিত্তি পুরুষের অভিজ্ঞতা, তবে তা পেশ করা হয় সর্বজনীন বলে। শোঅল্টারের ( মতে এমনকি তা সংশোধন করে যোগ করবে কিছুটা নতুনত্ব, ততোদিন নারীরা নতুন কিছুই শিখবে না। তার মতে পুরুষের ধারণা দিয়ে চলবে না নারীদের; লাক, দেরিদায় নারীর চলবে না; কেননা এতে নারী মেনে চলে পুরুষ প্রভুদেরই। তিনি চান একটি একান্ত নারীবাদী সমালোচনারীতি, যা হবে নারীকেন্দ্রিক, স্বাধীন, ও মননগতভাবে সুসমপ্জীস। তার মতে নারীবাদী সমালোচনাকে “বের করতে হবে নিজ বিষয়, নিজ পদ্ধতি, নিজ তন্ত্র, এবং নিজ কণ্ঠস্বর। ' এলেন সিজো বলেছেন, “আরো দেহ, তাই আরো লেখা। ' নারীবাদীদের কেউ কেউ জৈব বা দেহবাদী সমালোচনারও প্রস্তার করেছেন। এতে দেহই হয়ে ওঠে রচনা বা বই। দেহকে সমালোচনার মানদণ্ড করা বিপজ্জনক, কেননা সব জাতিই বিশ্বাস করে যে নারী দৈহিকভাবে দুর্বল, তার মস্তিষ্ক দুর্বল। জৈব নারীবাদী সমালোচকেরা অবশ্য দৈহিক হীনতা স্বীকার করেন না, কিন্তু মনে করেন নারীর শরীর ভার লেখাকেও স্বতন্ত্র করে তোলে। পিতৃতন্ত্রররের বিশ্বাস হচ্ছে লেখক জনক, যার কলম অনেকটা শিশ্লের মতোই জন্মদানের হাতিয়ার। গিলবার্ট ও গুবার প্রশ্ন করেছেন, “যদি কলম হয়ে ওঠে একটি রূপক-শিশ্ব, তাহলে কোন অঙ্গ থেকে নারী উৎপাদন করবে পাঠ বা রচনা উত্তরে শোঅল্টার ( ২৫০) বলেছেন, নারী পাঠ বা রচনা জন্ম দেয় মস্তি্ষ থেকে, বা ওয়ার্ড-প্রসেসর থেকে, যা একটি রূপক-জরায়ু। সাহিত্যিক পিতৃত্বের রূপক নারীদের পীড়ন করছে আবহমান কাল ধরে; তবে আঠারোউনিশশতকে সাহিতি/ক মাতৃত্বের রূপকও বেশ বড়ো হয়ে উঠেছিলো, যাতে সাহিত্য সৃষ্টি হয়ে ওঠে গর্ভধারণ ও প্রসবের মতো ব্যাপার। বিশেষ করে ফ্রান্সে ও আমেরিকায় কোনো কোনো আমূল নারীবাদী মনে করেন এসব রূপককে নিতে হবে শুরুতে সাথে, মারীপুরুষের জৈব পার্থক্যকে দেখতে হবে নতুনভাবে, এবং খুজতে হবে দেহের সাথে লেখার সম্পর্ক। তারা মনে করেন নারীর লেখা বেরোয় দেহ থেকে, তাদের দৈহিক পার্থক্য তাদের লেখাব উৎসও। ত্যাদ্রিয়েন রিচ বলেন [শোঅল্টার ( আমরা এখনো যতোটা বুঝতে পেরেছি, নারীদেহের রযেছে তার চেষে অনেক বেশি আমূল তাৎপর্য। পিত্তান্ত্রিক চিন্তা তার সংকীর্ণ নির্দেশ অনুসাবে নারীদেহকে সীমাবদ্ধ ক'বে ফেলেছে। এ-কারণে নারীবাদী দৃষ্টি সবে এসেছে নারীব জৈবসংগঠন থেকে; আমি বিশ্বাস করি তা একদিন আমাদের দেহকে নিয়তি মনে না করে সম্পদ বলেই গথ/ করবে। পরিপূর্ণ মানবিক জীবন যাপনের জন্যে আমাদের দেহকে নিয়ন্ত্রণ করাই শুধু আমাদের জন্যে জরুরি নয়, আমাদেব স্পর্শ করতে হবে আমাদের দেহের এক্য ও অনুনাদকে, যা আমাদের মননের দৈহিক ভিত্তি।

নারীবাদী জৈন সমালোচনায় খোজা হয় কীভাবে দেহ ব্যবহৃত হয় চিত্রকল্লের উৎসরূপে; আর নারীবাদী জৈব সমালোচনা, যা উৎসারিত করা হয় সমালোচকের দেহ থেকে, হয়ে থাকে অন্তরঙ্গ, স্বীকারোক্তিমূলক, ও আঙ্গিকগতভাবে অভিনব। তবে নারীসত্তার খোজে বেরিয়ে দেহকেই তার কেন্দ্র বলে গণ্য করা ভয়ঙ্কর কাজ, কেননা

দেহকেই পুরুষতন্ত্র ব্যবহার করেছে নারীশোষণের প্রধান যুক্তিরূপে। নারীর দেহেই খুঁজতে হবে নারীর সৃষ্টিশীলতা? এর চমৎকার উত্তর দিয়েছেন ন্যান্সি মিলার; তিনি বলেছেন নারীর সাহিত্যিক স্বাতন্ত্র্য খুজতে হবে “তার দেহের লেখায় নয়, বরং তার লেখার দেহে" [দ্র শোঅল্টার (।

বোনি জিমারম্যান ( যা কখনো ছিলো না' নামক একটি তীব্র প্রবন্ধে তুলে ধরেন এমন এক বিষয়, যা পিতৃতন্ত্রররের বিধানে নিষিদ্ধ, আর নারীবাদীরাও চান চেপে রাখতে। তিনি আলোচনা করেন নারীসমকামবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনারীতি। ব্যাপার, তা যে ছিলো আর আছে. তা-ই কেউ স্বীকার করতে চায় নি ও চায় না; কিন্তু সত্য হচ্ছে তা ছিলো, এবং আছে। নারীসমকামবাদী সাহিত্যতত্ প্রস্তারের সুচনায়ই প্রশ্ ওঠে যে নারীর যৌন ও খ্রীতির সম্পর্ক কতোখানি প্রভাব ফেলে তার লেখা, পড়া, ও চিন্তার ওপর? নারীসমকামবাদী নন্দনতত্ব কি পৃথক হবে নারীবাদী নন্দনতত্ত্ব থেকে? কী হবে নারীসমকামবাদী সমালোচকের কাজ? সম্ভব কি কোনো নারীসমকামবাদী মানদণ্ড বা বিধান প্রতিষ্ঠা করা? নারীসমকামবাদীরা কি বিকাশ ঘটাতে পারেন এমন কোনো অন্তর্দৃষ্টি, যা খদ্ধ করবে সমগ্র সমালোচনাশাস্ত্রকে? নারীসমকামবাদী সমালোচনার কিছু বিষয় সম্পর্কে প্রায় সব নারীসঘকামবাদীই একমত। তারা মনে করেন এমন নয় যে নারীসত্তা স্থির করতে হবে শুধু পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত করেই, নারীসাহিত্যকেও যে পুরুষসাহিত্যের সাথে সম্পর্কিত করে দেখতে হবে, তাও নয়; তাদের মতে নারীর সাথে নারীর তীব্র সম্পর্কও নারীর জীবনের বড়ো ব্যাপার, এবং নারীর যৌন ও আবেগগত প্রবণতা গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তার চেতনা ও সৃষ্টিশীলতাকে। পিত্তন্ত্র স্বীকার করে শুধু বিষমকা*কে; নারীসমকামবাদীদের মতে বিষমকামই একমাত্র স্বাভাবিক যৌন ও আবেগগত সম্পর্ক নয়। বিষমকামকেই শুধু স্বাভাবিক ভাবা পিতৃতন্ত্রররের শিক্ষামাত্র। জিমারম্যান দেখান যে নারীবাদীরাও দীক্ষিত পিতৃতন্ত্রররের বিষমকামবাদে; তাই নারীবাদী সংগ্রহ থেকে বাদ পড়েন নারীসমকামী রেনি ভিভিয়েন ও র্যাডক্লিফ হল, বা সংকলিত হয় ক্যাথেরিন ফিলিপৃস্, ও আ্যাদ্রিয়েন রিচের বিষমকামী বা নিষ্কাম রচনা, যদিও তারা বিখ্যাত নারীসমকামী লেখার জন্যে। জিমারম্যান বলেন:

যখন পরিকল্পিতভাবে বিন্যস্ত কোনো সংগ্রহে থাকে স্ত্রী, মাতা, যৌনসামধ্রী, তরুণী, বৃদ্ধা, এবং মুক্ত

নারী প্রভৃতি বিভাগ, কিন্তু থাকে না নারীসমকামী- তখন তা বিষমকামবাদ। নারীবাদী সংগ্রহে

বিযমকামবাদ-পুংকেন্রিক সংঘহে লিঙ্গবাদের মতো- মুছে ফেলে নারীসমকামবাদী অস্তিত্ববব এবং

লালন করে এ-মিথ্যেটি যে নারী শুধু পুরুষের মধ্যেই খোজে কাম ও আবেগের তৃপ্তি, বা একেবারেই

বধোজে না।

নারীসমকামবাদীরা অভিযে। গ করেন নারীবাদী পত্রিকা- ফেমিনিস্ট স্টাডিজ, উইমেন স্টাডিজ, উইমেন আ্যা্ড লিটেরেচার প্রভৃতিতে যে নারীসমকামবাদী রচনা বেরোয় না, তার মূলে রয়েছে বিষমকামবাদ, বা পরিকল্পিত উদ্দেশ্য। অধিকাংশ

৩২৮ নারী

নারীসমকামবাদী লেখা প্রথম বেরোয় বিকল্প, অপ্রাতিষ্ঠানিক নারীসমকামবাদী পত্রিকা সিনিষ্টার উইজডম, কোন্ডিশল প্রভৃতিতে। বিষমকামবাদের প্রতাপ দেখা যায় নারীবাদী সমালোচনার গুরুতৃপূর্ণ সব সংগ্রহে; যেমন দি অথোরিটি অফ এর্লাপেরিএল বা শেক্সপিয়রস সিস্টারস্-এ নেই কোনো নারীসমকামবাদী প্রবন্ধ। নারীবাদী সমালোচকেবা চেপে গেছেন নারীসমকামবাদকে; তাই নারীসমকামবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালোচনার ভিত্তি স্থাপন করতে এগিয়ে আসেন নারীসমকামবাদীরাই। তে বেরোয় জেনেট ফন্টারের সেক্স ভ্যাবিয়েন্ট উইমেন ইন লিটেরেচার, তে জেন ড্যামন (ছদ্মনাম), জ্যান ওয়াটসন, ও রবিন জর্ডানের দি লেসবিয়ান ইন লিটেরেচার — এ বিবলিওথাফি।

নারীসমকামবাদী সমালোচনার মূলে, নারীবাদী সমালোচনার মতোই, রয়েছে রাজনীতিক ভাবাদর্শ। তাদের মতে নারীসমকাম এক সুস্থ জীবনপদ্ধতি, নারীরা যা যাপন করেছে ও করছে সব দেশে ও কালে। তাই তারা দূর করতে চান এর ওপর চাপানো নিষেধ। এতে সফল হওয়ার এক উপায় নারীদের পুরুষের মূল্যবোধ থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিয়ে একান্তভাবে নারীসমাজভুক্ত করা। এক ধরনের নারীস্থান গ'ড়ে তোলা। র্যাডিক্যলেসবিয়ান বা আমূলনারীসমকামবাদীরা মনে করেন যে নারীর কাছে নারীই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নারীরা মিলে গণড়ে তুলবে এক নতুন চৈতন্য, তারা নিজেদের কেন্দ্র খুজবে নিজেদের ভেতরে। তাদের মতে বিষমকামবাদ এক রাজনীতিক সংস্থা, তা ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার নয়। নারীসমকামবাদীরা বিকাশ ঘটাতে চান একান্ত নারীসমকামী নারীবাদী প্রেক্ষিত; তাই তাদের প্রশ্ন: কখন কোনো রচনা হয়ে ওঠে, বা তার লেখক হন নারীসমকামবাদী? এটা নির্ভর করে নারীসমকামী বলতে কী বোঝায়, তার ওপর। নারীসমকামী বলতে কি বোঝাবে শুধু সে-নারীদেরই, অন্য নারীর সাথে যাদের যৌন অভিজ্ঞতার প্রমাণ রয়েছে? এটা অসম্ভব কাজ। অনেকেই তো তার কোনো প্রমাণ রেখে যান নি। তাছাড়া এতে নারীসমকাম হয়ে ওঠে শ্ধুই যৌন ন্যাপার। আ্যাদ্রিয়েন রিচের মতে নারীসমকামবাদ শুধু অন্য নারীর সাথে যৌনসংসর্গ নয়, তা নারীর সংসর্গে নারীর অভিজ্ঞতা, নারীর সাথে নারীর আন্তর জীবনের এক্য, রাজনীতিক স্বেরাচারের বিরুদ্ধে নারীদের এঁক্য [দ্র জিমারম্যান (। তবে নারীদের সব ধরনের সম্পর্ককেই যদি নারীসমকামী সম্পর্ক বলা হয়, তাতে অসুবিধা দেখা দেয়; নারীদের মধ্যে নারীসমকামী ও অসমকামী সম্পর্কের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। অনেকে নারীসমকামবাদের রাজনীতিক সংজ্ঞাও দিয়েছেন; বলেছেন নারীসমকাম হচ্ছে শক্তি, স্বাধীনতা, ও পিতৃতন্ত্রররের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। লিলিআন ফ্যাডারম্যান সারপাসিং দি লাভ অফ ম্যান: রোম্যান্টিক ফ্রেন্ডশিপ ত্যান্ড লাভ বিটুইন উইমেন ফুম দি রেনেসীস টু দি থ্রিসেন্ট ( বইতে দিয়েছেন নারীসমকামবাদের মাঝপথি সংজ্ঞা [দ্র জিমারম্যান (

'নারীসমকামী' বলতে বোঝায় সে-সম্পর্ক, যাতে দুটি নারীর তীব্রতম আবেগ ও পীতি ধাবিত হয়

পরস্পরের দিকে। এ-সম্পর্কে থাকতে পারে কম বা বেশি যৌন সংসর্গ, এমনকি একেবারে নাও

থাকতে পারে। এতে দুটি নারী পহুন্দ করে তাদের অধিকাংশ সময় একসাথে কাটাতে এবং জীবনের

আঁধিকাংশ ব্যাপার তারা যাপন করে পরম্পবেব সাথে।

নারীসমকামবাদী সমালোচকের একটি দায়িত্ব নারীসমকামবাদের এতিহ্য প্রতিষ্ঠা করা, যাতে তা হয়ে উঠতে পারে শ্রদ্ধেয়। জেন রুল লেসবিয়ান ইমেজেজ: নারীসমকামবাদী ভাবমৃর্তিতে ( প্রথম নারীসমকামবাদের এতিহ্য আবিষ্কারের চেষ্টা করেন। এটি নারীসমকামবাদী সমালোচনার একটি গুরুতৃপর্ণ বই। এর পর ডোলোরেস ক্লাইস ওম্যান প্রাস ওম্যান — নারী যোগ নারী ( লুইসে বারনিকোও দি ওয়ার্ড স্পিলিট ওপেন: ফালি ক'রৈ খোলা পৃথিবী ( বইতে প্রতিষ্ঠা করেন নারীসমকামবাদের এক মহৎ এতিহ্য। তারা স্যাফো থেকে শুরু করে তীদের ধারায় পান মেরি ওলস্টোনক্র্যাফ্ট্, এমিলি ডিকিনসন, ভার্জিনিয়া উল্ফ, ভিটা স্যাকভিল-ওয়েস্ট, এথেল স্মাইথি, জারু্ুড স্টেইন, ব্যাডক্লিফ হল, নাটালি বার্শি, কোলে ৎ রেনি ভিভিয়েন, রোমেইন ব্রুকস্. ও আরো অনেককে। নারীসমকামবাদী সমালোচনার এক বৈশিষ্ট্য এতিহ্য আবিষ্কার হলেও এই এর একমাত্র লক্ষা নয়; নারীসমকামবাদীরা খুঁজেছেন উপন্যাসে নারীস্মকামীর ভাবমূর্তি, ছক প্রভৃতি। বার্থা হ্যারিস দেখিয়েছেন উপন্যাসে নারীসমকামী চিত্রিত হয় দানবীরূপে, যে ভেঙেচুরে ফেলে নারীর আনুগতা, অক্রিয়তা, সতীত্ববর প্রথাগ 5 ধারণা। তারা রচনাশৈলী ও সাহিত্যতত্ত বিষেয়েও কিছু কাজ করেছেন। নারীসমকামবাদীদের কাছে ভাষা অত্যন্ত গুরুতৃপূর্ণ, কেননা শতার্দীপরম্পরায় তাদের মুখ খুলতে দেয়া হয় নি, তাদের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়েছিলো। এক সময় তাঁরা সাংকেতিক ভাষায় কথ বলেছেন, এখন চালাচ্ছেন নানা নিরীক্ষা। তাদের ব্যাকরণ অপ্রথাগত, কথা বলেন তারা খটমান বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে তৈরি করেন নতুন শব্দ।

নারীবাদ, এবং নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব ও সমালে। ০নার এক গুরুত্পূর্ণ ধারার বিকাশ ঘটে ফরাশিদেশে। একে বলা হয় ফরাশি নারীবাদ। ফরাশি ও বিশ্বনারীবাদের মহত্তম তাত্ত্বিক সিমোন দা? বোভোয়ার। তার কাছে, অন্যদের মতো, ফরাশি নবনারীবাদীরা ঋণী, ও খণন্বীকারে অকুগ্ঠ। তিনি নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনারও সূত্রপাত করেছিলেন দিতীয় লিঙ্গ-এ, লিঙ্গবাদের রূপ দেখিয়েছিলেন পাচজন- ধথেরল, ডি এইচ লরেন্স, ক্ুদেল, ব্রেতৌ, স্তাদাল- লেখকের উপন্যাস ও কবিতায়। তবে র ছাত্রবিদ্রোহ থেকে উদ্ভূত ফরাশি নবনারীবাদীরা সাহিত্য সমালোচনায় তাকে অনুসরণ করেন নি। ১৯৭০ থেকে ফরাশি নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্বের উৎস হয় দেরিদীয় বিসংগঠন ও লাকর ফ্রয়েডীয় মনোবিজ্ঞানের সাংগঠনিক ভাষ্য। তারা পুরুষ প্রভুদের ধারণা নিয়েই করেন নারীবাদী কাজ। এর মধ্যে ফরাশি নারীবাদীরা তাদের ভয়াবহ মননশীল নারীবাদীতত্ত্বের অনেকটা রচনা করে ফেলেন; কিন্তু অতিমননশীলতাভারাক্রান্ত ওই তত্ত বাইরে গৃহীত হতে সময় নেয়। মার্স, নিটশে, হাইডেগার, দেরিদা, লাকর চিন্তায় তাদের তত্ত্ব পরিপূর্ণ, যা অফরাশি পাঠকের কাছে বিপন্রকরভাবে দুরূহ। এলেন সিজোর দুরূহজটিল ভাষারীতি, লস ইরিগারের গ্রিক বর্ণমালামোহ, জুলিয়া ক্রিস্তেভার এক বাক্যে পাচসাতজন তাত্ত্িককে উল্লেখ করার প্রবণতা পাঠকের মনে ভয় জাগায়।

৩৩০ নারী

ইঙ্গমার্কিন নারীবাদীরা যেমন সৃষ্টি করেন বিপুল পরিমাণ নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনা, ঠিক সে-ধরনের সমালোচনা ফরাশি নারীবাদীরা লিখেছেন কম; তারা লিখেছেন পাঠগত, ভাষাতাত্ত্বিক, সাংকেতিক বা মনোবিশ্লেষণাত্মক তত্ত্বের সমস্যা সম্পর্কে, এবং লিখেছেন এমন রচনা, যাতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে কবিতা ও তত্ত্ব। তারা ইঙ্গমার্কিন নারীবাদীদের মতো প্রশ্ন তোলেন নি “মহৎ সাহিত্যের মহত্ত সম্বন্ধে, তারা তা মেনে নিয়েছেন; তাই তারা ইঙ্গমার্কিন নারীবাদীদের মতো সফলভাবে রুখে দাড়াতে পাবেন নি পুরুষতান্ত্রিক সাহিত্যের পীড়নমূলক সামাজিক ও রাজনীতিক চক্রান্তের মুখোমুখি। পুরুষেরা যে-সমস্ত বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে ফরাশিদেশে, তারাও ব্যস্ত থেকেছেন তা নিয়েই; তবে তা বিশ্লেষণ করেছেন নারীবাদী দৃষ্টিতে। ফরাশি নারীবাদীদের কাছে ভাষা প্রধান গুরুত্বের বস্তু। ফরাশি নবনারীবাদের তিন প্রধান এলেন সিজো, ল্যুস ইরিগারে, ও জুলিয়া ক্রিস্তেভা।

এলেন সিজো সময়ের মধ্যে লেখেন একরাশ তাত্ত্বিক রচনা, যাতে খোজা হয় নারী, নারীতৃ, নারীবাদ, ও লেখার সম্পর্ক। তার লেখার মধ্যে রয়েছে ল্য জান নে (ক্যাথেরিন ক্লেমওর সাথে, “মেদুসার হাস্য' ( 'নপুংসকীকরণ না শিরচ্ছেদীকরণ? ' ল্য ভ্যন্য লেক্রিতুযুর: লেখায় আসা (। তার লেখায় কিছু কেন্দ্রীয় ধারণা ও চিত্রকল্প ফিরে ফিরে আসে, আর তাঁর লেখা হয়ে ওঠে এমন যেনো তা সরলরৈখিকভাবে পড়ার জন্যে নয়। তার লেখা কাব্যিক, রূপকভরা, চিত্রক্ল্লের বিশ্লেষণঅসন্তব জালের মতো। দেরিদার মতে পশ্চিমি পরাবিদ্যা আলোচনার ভিত্তি পুরুষ, পুরুষের একটি অতিশায়িত আদর্শায়িত রূপ গঠন করে সমস্ত চিন্তার কেন্দ্রে বসানো হয়েছে পুরুষকে। দর্শনের সূচনাকাল থেকে পুরুষ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এমন এক জ্ঞানতত্ত্বের কেন্দ্রে, যা গণ্ড়ে উঠেছে ক্রমস্তরিকভাবে বিন্যস্ত একরাশ দ্বিনুখি ধারণায়। তাতে পুরুষ সব সময় অধিকার করে আছে সুবিধাজনক স্থান: সন্তা/অপর, কর্তা/কর্ম, উপস্থিতি/অনুপস্থিতি, বিধি বা শৃঙ্খনা/বিশৃঙ্খনা, পুরুয/নারী প্রভৃতি দ্বিমুখি ধারণায় পুরুষই মূল ধারণা [দ্র জোন্স (। ফরাশি নারীবাদীরা দেখান পুরুষ নারীকে এই ক্রমস্তরিক বিন্যাসের খণাত্মক প্রান্তেব দিকে ঠেলে দিয়েছে, এবং নারীকে জড়িয়ে দিয়েছে সে-সব ধারণার সাথে যেগুলো বোঝায় 'মানুষ-নয়”। পুরুষ এভাবে অধিকার করেছে কেন্দ্রিকতা ও ক্ষমতা। তারা পুরুষাধিপত্যবাদী পরাবিদ্যাকে বুঝিয়ে থাকেন একটি শব্দে, শব্দটি 'ফ্যালোসেন্ট্রিজম' বা 'শিশ্নকেন্দ্রিকতা', যাতে শিশ্নই কেন্দ্র, পুরুষই সব। পিতৃতন্ত্রররে নারী পুরুষের মূল্য কী, তা দেখানোর জন্যে সিজো পেশ করেছেন তার 'পিতৃতান্ত্রিক দ্বিমুখি বৈপরীত্য'-এর তালিকা: সক্রিয়/অক্রিয়, সূর্য/চন্ত্র, সংস্কৃতি/প্রকৃতি, দিন্/রাত, পিতা/মাতা, মস্তিষ্ক/আবেগ, বোধগম্য/ভাবাবেগপরায়ণ প্রভৃতি; এবং দেখিয়েছেন এ-তালিকাব ধনাত্মক বৈশিষ্ট্যন্লো সবই পুরুষের, খণাস্মক বৈশিষ্ট্যগুলো নারীর। এ-ধরনের চিন্তায় সিজো সক্রিয় দেখেছেন মৃত্যুকে। তার মতে দ্বিমুখি বৈপরীত্যের একটি ধারণাকে অর্থপূর্ণ হওয়ার জন্যে দরকার অপরটির বিনাশ; তাই আধিপত্যের জন্যে লড়াই করে চলছে ধারণাগুলো। এতে বিজয় — সক্রিয়তা, আর পরাজয়: — অক্রিয়তা। পিতৃতন্ত্রররে

পুরুষই সব সময় বিজয়ী। তাই নারী অভিন্ন মৃত্যুর সাথে। সিজো সৃষ্টি করতে চেয়েছেন এক্রিত্যুর ফেমিনিন বা নারীর লেখা বলে একটি ধারণা। তার মতে নারীর লেখার অভিমুখ ভিন্নতার দিকে, যার লক্ষ্য শিশ্বাক্যকেন্দ্রিক- ফ্যালোগোসোন্ট্রিক- যুক্তি উপেক্ষা করা। তিনি নির্দেশ করেছেন লেখারও লিঙ্গ, তবে ওই লিঙ্গ লেখকের লিঙ্গের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার মতে অনেক নারীই এমন লেখা লিখেছেন, যা আসলে পুংলিঙ্গ। তবে তিনি লিঙ্গ ধারণাই ত্যাগ করতে চান।

ল্যুস ইরিগারের প্রথম বই চিভত্রংশতার ভাষা ( বেশ সুদূর নারীবাদী লক্ষ্য থেকে, কিন্তু দ্বিতীয় বই অপর লাবীর অবতল দর্পণ-এ ( তিনি নারীবাদের জন্যে পেশ করেন গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব, এবং এ-বইয়ের জন্যে তিনি বহিষ্কত হন লাকর ফ্রয়েডীয় ইস্কুল থেকে। বইটি অতিবিতর্কিত। এ বেরোয় এই লিঙ্গ যা একটি নয়, এর পর বরোয় এবং একজন অপরজনকে ছাড়া আলোড়িত হয না ( ফ্রিডরিখ নিটশের জলীয় প্রেমিক ( যাযের সাথে আলিঙ্গনাবদ্ধ ( প্রাথমিক সংরাগ (। তার অবতল দর্পণ-এর প্রথম ভাগে রয়েছে ফ্রয়েডের নারীমনোবিজ্ঞানের কঠোর সমালোচনা. তবে তিনি মিলেটের মতো মনোবিজ্ঞানকে সহজাতভাবে প্রতিক্রিয়াশীল বলে বাদ দেন নি। বইটি তিনি ফ্রযেডকে দিয়ে শুরু এবং প্রাতোকে দিয়ে শেষ করে নষ্ট করে দেন হ্বাভাবিক কালানুক্রম। এ-বইয়ের গঠনের সাথে মিল রয়েছে স্ত্রীরোগবিদদের ব্যবহৃত অবতল দর্পণের, যা দিয়ে তারা নারীদেহের নানা রূন্ধ পর্যবেক্ষণ করে। তার রচনাপদ্ধতি বিসাংগঠনিক। ভ্রলিযা ক্রিস্তেভা বুলগেরীয়, তে আসেন প্যারিসে। রোল বার্ত তার সম্পকে, লিখেছেন, 'জুলিয়া ক্রিস্তেভা বস্তুর স্থান বদলে দেন: তিনি ধ্বংস করেন অতিসাম্প্রতিক পর্বধারণা. . . তিনি ধ্বংস করেন কর্তৃত্, একযৌক্তিক বিজ্ঞানের কর্তৃতৃ" দ্র মোই (১৯১ ৫, । তার বইয়ের মধ্যে রয়েছে কাবাভাষার বিপ্লব ( ভাষায় কামনাবাসনা ( বিভীষিকার ক্ষমতা ( প্রভৃতি। ক্রিস্তেভার প্রধান প্রবণতা ভাষার সমসঢা বিশ্লেষণ। তার মতে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের ভাবাদর্শগত ও দার্শনিক ভিত্তিটি কর্তৃতৃপরায়ণ ও পীড়নবাদী। ক্রিস্তেভা, রুশ ভাষাবিজ্ঞানী ভোলোসিনোভের মতো, ভেঙে দিতে চান ভাষাবিজ্ঞান, অলঙ্কারশান্ত্র ও কাব্যতর্ত্বের মধ্যবর্তী দেয়াল, এবং তৈরি করতে চান একটি নতুন ক্ষেত্র, যার নাম পাঠগত ততৃ।

আরও বই