মিথোলজি বা পুরাণ

ইতিহাসে ধর্মআর্কিওলজিইতিহাসইহুদিধর্ম ও রাজনীতিমিথোলজি বা পুরাণ

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন অঞ্চলের ইতিহাস, প্রাচীন যুগ–খ্রিস্টপূর্ব ৬৩ অব্দ (History of the Israel-Palestine Region, Antiquity–63 BCE): কানান, ইসরায়েল ও স্বাধীন জুদিয়ার উত্থান

এই লেখায় প্রাচীন যুগ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৬৩ অব্দে রোমান সেনাপতি পম্পেইয়ের জেরুজালেম প্রবেশের আগ পর্যন্ত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন অঞ্চলের দীর্ঘ ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দক্ষিণ লেভান্টের ইতিহাসকে প্রায়ই ধর্মীয় আখ্যানের আলোকে ব্যাখ্যা করা হয়, কিন্তু এখানে সেই পরিচিত দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে অঞ্চলটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনকে প্রত্নতত্ত্ব, আর্কিওজেনেটিক্স, শিলালিপি এবং সমকালীন ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক কৃষি বিপ্লব, কানানীয় নগররাষ্ট্র, ইসরায়েলীয় পরিচয়ের বিকাশ, অ্যাসিরীয় ও ব্যাবিলনীয় আগ্রাসন, নির্বাসন, পারসিক পুনর্গঠন, হেলেনিস্টিক রূপান্তর এবং মাকাবি বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হাসমোনীয় রাষ্ট্রের উত্থানকে এখানে একটি ধারাবাহিক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্মীয় মিথ, জাতীয় স্মৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক বাস্তবতার সম্পর্ক মূল্যায়ন করে গ্রন্থটি দেখায় যে এই অঞ্চলের ইতিহাস মূলত ভূগোল, অর্থনীতি, সাম্রাজ্যবাদ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং ক্ষমতার রাজনীতির পারস্পরিক ক্রিয়ার ফল।

Read More
ধর্মআর্কিওলজিইতিহাসে ধর্মমিথোলজি বা পুরাণ

সুমেরীয় ধর্ম ও পুরাণ (Sumerian Religion and Mythology): মানব সভ্যতার আদিমতম বিশ্বাসের রূপরেখা

মেসোপটেমিয়ার টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর উর্বর উপত্যকায় গড়ে ওঠা সুমেরীয় সভ্যতা ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম সুসংগঠিত সমাজ। যাযাবর জীবন পেছনে ফেলে মানুষ কৃষি ও পশুপালনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা অর্জনের পর, প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে নিজেদের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করে। নদীভাঙন বা খরার মতো অনিয়ন্ত্রিত প্রাকৃতিক শক্তির রহস্য খুঁজতে গিয়েই তারা প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের পেছনে 강력 সত্তার কল্পনা করে, যারা কালক্রমে দেবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই জন্ম নেয় এক জটিল বহুদেবতাবাদী বিশ্বাস ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি নগররাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রধান দেবতার মন্দির বা জিগুরাত। মানুষ ও দেবতাদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল এক ধরনের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত কিউনিফর্ম লিপিতে খোদাই করা ফলক থেকে আমরা এই প্রাচীন সভ্যতার ধর্মীয় বিশ্বাস, গিলগামেশের মতো বীরের কাহিনী, মহাপ্লাবনের ভয়াবহতা এবং পাতালপুরীর কথা জানতে পারি। যদিও তা আধুনিক বিজ্ঞানের যুক্তিতে টিকবে না, তবুও এই পুরাণ ও ধর্মীয় ব্যবস্থা মানব সভ্যতার আদিপর্বে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বোঝার এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস। এই বিশ্বাস কাঠামো কেবল মেসোপটেমিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পরবর্তীতে ব্যাবিলনীয় ও অ্যাসিরীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে সমগ্র প্রাচীন নিকটপ্রাচ্য, এমনকি আধুনিক আব্রাহামিক ধর্মসমূহের (ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম) অনেক মৌলিক উপাখ্যান ও কসমোলজিক্যাল ধারণার ওপরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছে। বর্তমান প্রবন্ধে আমরা সুমেরীয়দের সেই বিস্ময়কর ধর্মীয় জগত এবং তার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করব।

Read More
ইসলামইহুদিখ্রিস্টানধর্মমিথোলজি বা পুরাণ

আব্রাহামিক মিথোলজি (Abrahamic Mythology): সৃষ্টি থেকে মহাপ্রলয়, এক অনন্ত আখ্যান

আব্রাহামিক মিথলজি হলো ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের সম্মিলিত মহাকাব্য। এই আর্টিকেলটি কোনো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সাহিত্য, ইতিহাস এবং নৃতত্ত্বের আলোকে এই বিশাল আখ্যান বিশ্লেষণ করে। সৃষ্টিতত্ত্ব, আদমের পতন, নূহের মহাপ্লাবন থেকে শুরু করে আব্রাহাম, মোজেস, যিশু এবং মুহাম্মদের ঘটনাবহুল জীবন – প্রতিটি পর্বকে এখানে দেখা হয়েছে মহাজাগতিক নাটকের অংশ হিসেবে। বিভিন্ন তাত্ত্বিক, যেমন জোসেফ ক্যাম্পবেল ও কার্ল ইয়ুং-এর তত্ত্বের সাহায্যে এবং পার্শ্ববর্তী মেসোপটেমীয় ও মিশরীয় মিথলজির প্রভাব অনুসন্ধান করে লেখাটি দেখায়, কীভাবে এই প্রাচীন গল্পগুলো আজও আমাদের সভ্যতা, মনস্তত্ত্ব ও বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে।

Read More