ইসলামপ্রতিক্রিয়াপ্রোপাগান্ডাবিজ্ঞান

কোরআনে পিঁপড়ার ডানা সম্পর্কিত কোনো মিরাকল আছে?

কিছু মুসলিম অ্যাপোলজিস্ট দাবি করেছেন, কোরআন ১৪০০ বছর আগেই আমাদের জানিয়েছে যে, প্রত্যেক ডানাহীন পিঁপড়াই নারী পিঁপড়া। তাদের এই দাবিটি কতটুকু সংগতিপূর্ণ? সেটাই এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হবে।

মিরাকলের দাবি

প্রত্যেক পুরুষ পিঁপড়ারই ডানা রয়েছে। প্রত্যেক কর্মী পিঁপড়াই নারী। অবশ্যই প্রত্যেক ডানাহীন পিঁপড়াই নারী। অতি সম্প্রতিই এটি আবিষ্কৃত হয়েছে।
কিন্তু, কোরআন ১৪০০ বছর আগেই বলেছে যে, উড়তে পারে না এমন প্রত্যেক পিঁপড়াই নারী:
“অবশেষে যখন তারা পিপড়ার উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিপড়া বলল, ‘ওহে পিপড়ার দল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ কর। সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদেরকে যেন অজ্ঞাতসারে পিষ্ট করে মারতে না পারে’।” (কোরআন ২৭:১৮)
“বললো” শব্দটির আরবী অর্থ কালা (قال) কিংবা, কালাত (قالت)। পুরুষদের ক্ষেত্রে কালা (قال) এবং নারীদের ক্ষেত্রে কালাত (قالت) ব্যবহৃত হয়। কোরআন কালাত (قالت) শব্দটি ব্যবহার করেছে।
পিঁপড়াটির যদি ডানা থাকতো তাহলে পিঁপড়াটি উড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারতো, কিন্তু পিঁপড়াটির কাছে সেই সুযোগ ছিলো না, মাটির নিচে লুকিয়ে পড়া-ই ছিলো একমাত্র সুযোগ। যেহেতু পিঁপড়াটির ডানা ছিলো না, সেহেতু অবশ্যই পিঁপড়াটি একটি নারী পিঁপড়া।
১৪০০ বছর আগের একজন নিরক্ষর মানুষ কিভাবে এটি জানলো যে, ডানাহীন পিঁপড়ারা নারী? [1]

আলোচ্য আয়াত

প্রথমেই একাধিক অনুবাদসহ সেই আয়াতটি তুলে ধরছি যে আয়াতকে কেন্দ্র করে অ্যাপোলজিস্টগণ তাদের দাবিটি উপস্থাপন করেন।

27:18
حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَوۡا عَلٰی وَادِ النَّمۡلِ ۙ قَالَتۡ نَمۡلَۃٌ یّٰۤاَیُّہَا النَّمۡلُ ادۡخُلُوۡا مَسٰکِنَکُمۡ ۚ لَا یَحۡطِمَنَّکُمۡ سُلَیۡمٰنُ وَ جُنُوۡدُہٗ ۙ وَ ہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ﴿۱۸﴾
English – Sahih International
Until, when they came upon the valley of the ants, an ant said, “O ants, enter your dwellings that you not be crushed by Solomon and his soldiers while they perceive not.”
Bengali – Bayaan Foundation
অবশেষে যখন তারা পিপড়ার উপত্যকায় পৌঁছল তখন এক পিপড়া বলল, ‘ওহে পিপড়ার দল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ কর। সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদেরকে যেন অজ্ঞাতসারে পিষ্ট করে মারতে না পারে’।
Bengali – Taisirul Quran
যখন তারা পিপীলিকার উপত্যকায় আসল তখন একটি পিপীলিকা বলল- ‘ওহে পিঁপড়ার দল! তোমাদের বাসস্থানে ঢুকে পড়, যাতে সুলাইমান ও তার সৈন্যবাহিনী তাদের অগোচরে তোমাদেরকে পদপিষ্ট ক’রে না ফেলে।

বিশ্লেষণ

পিঁপড়া

মুসলিম অ্যাপোলজিস্টগণের দাবি সঠিক নয়। কারণ, প্রত্যেক নারী পিঁপড়াই ডানাহীন হয় না। অধিকাংশ প্রজাতিতেই সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী পিঁপড়াদের পরিপূর্ণ ডানা থাকে, তবে কিছু প্রজাতিতে সংক্ষিপ্ত ডানা থাকে অথবা, থাকে না। [2] সন্তান জন্মদানে অক্ষম বা বন্ধ্যা নারী পিঁপড়ারা সবসময়ই ডানাহীন হয়। [2]

আবার, প্রত্যেক পুরুষ পিঁপড়ারই ডানা থাকে না। অধিকাংশেরই ডানা থাকলেও কিছু প্রজাতিতে পুরুষ পিঁপড়াও ডানাহীন হয়। [2]

আরবি ব্যাকরণ

আরবি قال (কালা) শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে পুংজাতীয় এবং قالت (কালাত) শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে স্ত্রীজাতীয়। কিন্তু, কোনো শব্দ ব্যাকরনগতভাবে পুংজাতীয় হলেই যে শব্দটি পুরুষ নির্দেশ করে বা পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তা নয়, একইভাবে, কোনো শব্দ ব্যাকরনগতভাবে স্ত্রীজাতীয় হলেই যে শব্দটি নারী নির্দেশ করে বা নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তা নয়।

কিছু শব্দের ক্ষেত্রে, ব্যাকরণগত পুংজাতীয় রূপ বহুবচন নির্দেশ করে এবং ব্যাকরণগত স্ত্রীজাতীয় রূপ একবচন নির্দেশ করে, [3] যা আলোচ্য আয়াতে ব্যবহৃত আরবি শব্দ نملة (নামলা) এর ক্ষেত্রেও সত্য, যার অর্থ, “একটি পিঁপড়া”। [4] আরবি শব্দ نملة (নামলা) একটি স্ত্রীজাতীয় শব্দ, যা দ্বারা একটি পিঁপড়া বোঝায়। [5] [4] আর نمل (নামল) একটি পুংজাতীয় শব্দ, যা দ্বারা একাধিক পিঁপড়া বোঝায়। [6] [4]

আলোচ্য আয়াতে ব্যবহৃত আরবি শব্দ نملة (নামলা) একটি স্ত্রীজাতীয় শব্দ হওয়ায় তার জন্য স্ত্রীজাতীয় শব্দ قالت (কালাত) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু, আয়াতটিতে نملة (নামলা) শব্দটি নারী পিঁপড়া নয়, বরং কেবলই একটি পিঁপড়া নির্দেশ করে।

এছাড়াও, যদি نملة (নামলা) শব্দটি দ্বারা নারী পিঁপড়া বোঝায় আর نمل (নামল) শব্দটি দ্বারা পুরুষ পিঁপড়া, তাহলে তার অর্থ দাঁড়ায়, কোরআনের আয়াতটিতে একটি নারী পিঁপড়া পুরুষ পিঁপড়াদেরকে তাদের বাসস্থানে প্রবেশ করার জন্য বলছে। যারা উড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে, তাদের কেনো নিজেদের রক্ষা করতে নিজেদের বাসস্থানে প্রবেশ করতে হবে?

কোরআনের ভুল

আলোচ্য আয়াতটি বৈজ্ঞানিক মিরাকল নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক ভুল প্রকাশ করে। পিঁপড়া কথা বলতে পারেনা, কিন্তু আয়াতটিতে একটি পিঁপড়াকে কথা বলতে দেখা যায়, যা অবশ্যই একটি বৈজ্ঞানিক ভুল। হ্যাঁ, মানুষের মতো কথা বলতে না পারলেও একটি পিঁপড়া অন্য একটি পিঁপড়ার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু, তার অর্থ এটা নয় যে একটি পিঁপড়া মানুষের মতো করে বলতে পারবে “ওহে পিপড়ার দল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ কর। সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদেরকে যেন অজ্ঞাতসারে পিষ্ট করে মারতে না পারে”।

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

It applies historical criticism, empirical reasoning, logical analysis, and scientific skepticism in evaluating religious, philosophical, and historical claims.

The objective is not theological neutrality, but evidence-based critical examination and adversarial analysis of ideas and narratives.

This article should primarily be evaluated through: source quality, evidentiary strength, logical rigor, and factual consistency.


তথ্যসূত্রঃ
  1. Miracles Of Quran: Ants ↩︎
  2. AntWiki: Caste Terminology 1 2 3
  3. Wikipedia: Arabic nouns and adjectives ↩︎
  4. Wiktionary: نملة 1 2 3
  5. Verse (27:18), Word 8 – Quranic Grammar ↩︎
  6. Verse (27:18), Word 10 – Quranic Grammar ↩︎

Marufur Rahman Khan

Marufur Rahman Khan is an Atheist Blogger from Bangladesh.

3 thoughts on

  1. তাহলে গাছ কিভাবে কষ্ট অনুভব করে? এটাও কি মিথ্যা?
    -When we feel pain, such as when we touch a hot stove, sensory receptors in our skin send a message via nerve fibres (A-delta fibres and C fibres) to the spinal cord and brainstem and then onto the brain where the sensation of pain is registered, the information is processed and the pain is perceived.(http://www.mydr.com.au/pain/pain-and-how-you-sense-it/)
    does tress have single one of those?

Leave a comment

Your email will not be published.