কোরআন কি ১৪০০ বছর আগেই জানিয়েছে যে একটি শিশু দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তি পায়?
Table of Contents
সূচনা
মুসলিম অ্যাপোলজিস্টগণের মধ্যে অনেকেই এমনটা দাবি করে থাকেন যে কোরআন ১৪০০ বছর আগেই আমাদের জানিয়েছে যে একটি শিশু দৃষ্টিশক্তি পাওয়ার আগে শ্রবণশক্তি পায়, যা আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে মাত্র কিছুদিন আগে। কিন্তু, আসলেই কি কোরআনের কোনো আয়াতে এমনকিছু বলা হয়েছে? এই দাবিটির সত্যতা কতটুকু সেটা এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হবে।
মিরাকলের দাবি
একটি ভ্রূণের প্রথম ইন্দ্রিয়সমূহের একটি হচ্ছে শ্রবণশক্তি। জন্মের অনেক আগেই একটি শিশু তার মায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পারে। দৃষ্টিশক্তি আরও পরে পায়। সম্প্রতিই এই তথ্যটি আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে, কোরআন সেই ১৪০০ বছর আগেই এটি জোর দিয়ে বলেছে যে, ঈশ্বর আমাদের দৃষ্টিশক্তির আগে আমাদের শ্রবণশক্তি সৃষ্টি করেছেন:
“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে তাকে পরীক্ষা করার জন্য, এজন্য তাকে করেছি শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী।”
(কোরআন ৭৬:২)“তিনিই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কান, চোখ ও অন্তর; তোমরা কৃতজ্ঞতা অল্পই করে থাক।”
(কোরআন ২৩:৭৮)কোরআন সর্বদাই দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তির কথা উল্লেখ করেছে, যা এটাই নির্দেশ করে যে, দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তি সৃষ্টি হয়।
১৪০০ বছর আগের একজন নিরক্ষর মানুষ কি করে এটা জানতে পারলেন যে দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তি তৈরি হয়? [1]
বিশ্লেষণ
প্রথমেই বিশ্লেষণ ও পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে মূল আরবিসহ আলোচ্য আয়াতসমূহের কিছু নির্ভরযোগ্য অনুবাদ তুলে ধরছি,
إِنَّا خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍۢ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَـٰهُ سَمِيعًۢا بَصِيرًا ٢
Lo! We create man from a drop of thickened fluid to test him; so We make him hearing, knowing.
— English Translation (Pickthall)Verily We created Man from a drop of mingled sperm, in order to try him: So We gave him (the gifts), of Hearing and Sight.
— English Translation (Yusuf Ali)আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু হতে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য; এ জন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
— Sheikh Mujibur Rahmanআমরা তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে, আমরা তাকে পরীক্ষা করব; তাই আমরা তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।
কোরআন ৭৬:২
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
وَهُوَ ٱلَّذِىٓ أَنشَأَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَـٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۚ قَلِيلًۭا مَّا تَشْكُرُونَ ٧٨
He it is Who hath created for you ears and eyes and hearts. Small thanks give ye!
— English Translation (Pickthall)It is He Who has created for you (the faculties of) hearing, sight, feeling and understanding: little thanks it is ye give!
— English Translation (Yusuf Ali)তিনিই তোমাদের জন্য কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।
— Sheikh Mujibur Rahmanআর তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।
কোরআন ২৩:৭৮
— Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria
উপরে উদ্ধৃত প্রথম আয়াতে উল্লেখিত سَمِيعًۢا (ছামী’আম) শব্দটির অর্থ হচ্ছে “শ্রবণশক্তি”। এই শব্দের পরেই بَصِيرًا (বাসীরা) শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে “দৃষ্টিশক্তি”। এখানে سَمِيعًۢا শব্দটির পরে এমন কোনো শব্দ ব্যবহৃত হয়নি যা দ্বারা “অতঃপর” বা “তারপর” কিংবা “এরপর” বুঝায়। তাহলে আমরা কিভাবে বুঝবো যে এই আয়াত অনুসারে শ্রবণশক্তির পরেই দৃষ্টিশক্তি সৃষ্টি হয়? অর্থাৎ, পরিষ্কারভাবেই আয়াতটি বলে না যে শ্রবণশক্তির পরেই দৃষ্টিশক্তি সৃষ্টি হয়।
উপরে উদ্ধৃত দ্বিতীয় আয়াতে উল্লেখিত ٱلسَّمْعَ (আছ-ছাম’আ) শব্দটির অর্থ হচ্ছে “কান”। এই শব্দের পরেই وَٱلْأَبْصَـٰرَ (ওয়াল-আবসারা) শব্দটি উল্লেখিত হয়েছে, যার অর্থ হচ্ছে “এবং চোখ”। এখানেও ٱلسَّمْعَ শব্দটির পরে এমন কোনো শব্দ ব্যবহৃত হয়নি যা দ্বারা “অতঃপর” বা “তারপর” কিংবা “এরপর” বুঝায়। তাই আবারও প্রশ্নটি করতে হচ্ছে যে আমরা কিভাবে বুঝবো যে এই আয়াত অনুসারে শ্রবণশক্তির পরেই দৃষ্টিশক্তি সৃষ্টি হয়?
আলোচ্য আয়াত দুটি কোনোভাবেই প্রকাশ করে না যে আল্লাহ আমাদেরকে দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তি দিয়েছেন।
কোরআন যদি সত্যি সত্যিই বলতো যে দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তি সৃষ্টি হয়, তাহলে কি সেটা কোরআনের একটি বৈজ্ঞানিক মিরাকল বলে গণ্য করা যেতো? না! সপ্তম শতাব্দীর একজন মানুষের জন্য এটি ধারণা করা খুব কঠিন কিছু ছিল না যে একটি শিশু তার মায়ের গর্ভে থেকে কিছু দেখতে না পারলেও হয়তো শুনতে পারে।
উপসংহার
যে আয়াতসমূহ ব্যবহার করে আলোচ্য দাবিটি উপস্থাপন করা হয় সেই আয়াতসমূহ নির্দিষ্টভাবে বলে না যে দৃষ্টিশক্তির আগে শ্রবণশক্তি সৃষ্টি হয়। দাবিটি একদমই অনুমান নির্ভর, যুক্তিনির্ভর নয়।
আরও পড়ুন
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


apni jeye bolsen soptom sotabdite akta manuser pokkhe ei dharona kora kono bepar na,,othso protita ayate ALLAH tayala age srobonsokti enesen,,ekta jaygayo dristi anen nai,,ekta manuser pokkhe jodi dharonau kore tobuo emon nipun vabe driro bissaser sathe barbar age srobonsokti lekha somvob na..er etau jodi bad di quran e aro osonkho ayat ase jeta apnake ami dekhale apni ki jukti diben???ulto jhamelay pore jaben..tai aje baje na bole sottor sondhan korun