জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুতে ইসলামের ভূমিকা
ভূমিকা
কয়েক বছর আগে মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, জাতিগত সহিংসতা ও গণহত্যামূলক অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে মানবিক দায়িত্ব। কিন্তু মানবিক সহানুভূতির নামে বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করা কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সততা নয়। শরণার্থী শিবিরে কাজ করা অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা, নারীর ওপর পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় জন্মনিয়ন্ত্রণ-বিরোধী প্রচার—সব মিলিয়ে পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ভয়াবহ বাধা তৈরি হয়। শিবির-বাস্তবতায় বারবার চোখে পড়ে—অল্প বয়সে বিয়ে, ধারাবাহিক গর্ভধারণ, পরিবার পরিকল্পনার প্রতি অনীহা, এবং নারীর শরীরকে সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত করার সংস্কৃতি। অনেক পরিবারে সন্তানসংখ্যা অত্যন্ত বেশি; এখানে “সন্তান জন্ম” নয়, প্রায় “সন্তান উৎপাদন”-এর মতো সামাজিক চাপ কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণের মাঝে পর্যাপ্ত বিরতি থাকে না; একটি শিশুর জন্মের অল্প সময় পরেই আবার গর্ভধারণ ঘটে।
ভয়াবহ নির্যাতনের পরেও কেন পরিবার পরিকল্পনা দুর্বল থাকে—তার উত্তর কোনো একক কারণে নয়। কিন্তু ধর্মীয় ভাগ্যবাদ, পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং “সন্তান রিজিক নিয়ে আসে” ধরনের বিশ্বাস যে বড় ভূমিকা রাখে, তা অস্বীকার করা কঠিন। অনেক নারী এক গর্ভধারণ থেকে আরেক গর্ভধারণে ঠেলে দেওয়া হন; তাদের শরীর বিশ্রাম পায় না, পুষ্টি ফিরে পায় না, সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাও পায় না। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শেখানোর চেষ্টা করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কনডোম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভয়, সামাজিক লজ্জা ও ভুল ধারণা কাজ করে। বিষয়টি প্রেম বা ভালোবাসার রোমান্টিক প্রশ্ন নয়; এটি ক্ষমতা, ধর্মীয় বিশ্বাস, নারীর শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য-অজ্ঞতার প্রশ্ন। এখানে আঘাত কোনো জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; আঘাত সেই মতাদর্শের বিরুদ্ধে, যা দরিদ্র নারীকে বলে—শরীর ভেঙে যাক, সন্তান জন্ম দাও; খাওয়াতে পারবে কি না ভাবো না, রিজিক আল্লাহ দেবেন।
এই আলোচনায় অন্যান্য ধর্ম, অশিক্ষা, কুসংস্কার, দারিদ্র্য, নারীশিক্ষার অভাব, পুরুষতান্ত্রিক পরিবারব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্যতার ভূমিকা অস্বীকার করা হচ্ছে না। কিন্তু এই লেখার আলোচ্য কেবল ইসলামি মতাদর্শের ভূমিকা। জন্মনিয়ন্ত্রণ, অধিক সন্তান, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু নিয়ে ইসলামি দলিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় মনোভাব জনস্বাস্থ্যবিরোধী সংস্কৃতি গঠনে কী ভূমিকা রাখে—সেটিই এখানে যাচাই করা হবে। পাঠককে অনুরোধ, আবেগ নয়, দলিল দেখুন; বিশ্বাস নয়, বাস্তব প্রভাব দেখুন; সান্ত্বনার গল্প নয়, নারী ও শিশুর জীবনের মূল্য দেখুন।
জন্মনিয়ন্ত্রণ-বিরোধী ধর্মীয় মনোভাব ও জনসংখ্যা বিস্ফোরণ
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দারিদ্র্য বা সন্তানের ভরণপোষণের ভয় দেখিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণকে বহু ইসলামি আলেম হারাম বা অন্তত নিন্দনীয় বলে থাকেন। এর পেছনে মূল যুক্তি হলো—রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর, তাই দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান নেওয়া বন্ধ করা ঈমানের দুর্বলতা। শারীরিক ক্ষতি, মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে কিছু আলেম জন্মনিয়ন্ত্রণকে শর্তসাপেক্ষে বৈধ বলেন; কিন্তু দারিদ্র্য বা ভবিষ্যৎ খরচের যুক্তিকে সাধারণত সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এখানেই জনস্বাস্থ্য ও ধর্মীয় ভাগ্যবাদের সংঘর্ষ। কোরআনের কয়েকটি আয়াতকে আলেমরা প্রায়ই জন্মনিয়ন্ত্রণ-বিরোধী যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন, যদিও আয়াতগুলোর সরাসরি ভাষা সন্তান হত্যা সম্পর্কে। সমস্যা হলো, এই আয়াতগুলোকে ব্যবহার করে অনেক সময় গর্ভনিরোধ, পরিবার পরিকল্পনা ও দরিদ্র পরিবারে সন্তানসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকেও ঈমানবিরোধী হিসেবে দেখানো হয়।
পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই।
(সূরা হূদ ১১:৬)
তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিযিক দান করি এবং তাদেরও আমিই রিযিক দান করব
(সূরা আন‘আম ৬:১৫১)
অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিয্ক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।
(সূরা ইসরা ১৭:৩১)
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও সুখ-শান্তির উপাদান ও বাহন
(সূরা কাহাফ ১৮:৪৬)
প্রশ্ন আসতে পারে, কোরআনের এই আয়াতগুলোতে তো সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। গর্ভধারণের আগেই যদি পরিবার পরিকল্পনা করা হয়, সেটি কি সন্তান হত্যা? যুক্তিগতভাবে নয়। কিন্তু ধর্মীয় ব্যাখ্যায় অনেক সময় সম্ভাব্য সন্তানকেও “আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক” ধারণার সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়; ফলে গর্ভনিরোধকেও নৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখানোর দরজা খুলে যায়। এর আগেই এমন একটি হাদিস দেখা দরকার, যেখানে অধিক সন্তানসম্পন্ন ব্যক্তিকে জান্নাতি শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের কথা নয়; সন্তানসংখ্যাকে ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করার একটি মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে।
| বিষয় | ধর্মনিরপেক্ষ জনস্বাস্থ্যনীতি | ধর্মীয় জন্মবাদী মনোভাব | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| জন্মনিয়ন্ত্রণ | মায়ের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও শিশুর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত | সন্তান আল্লাহর রিজিক নিয়ে আসে; দারিদ্র্যের ভয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ ঈমানের দুর্বলতা | দরিদ্র পরিবারে সন্তানসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় |
| নারীর শরীর | নারী নিজের শরীরের অধিকারী | নারী উম্মাহর সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যম | নারীর সম্মতি ও স্বাস্থ্য গৌণ হয়ে যায় |
| মাতৃস্বাস্থ্য | নিয়মিত চিকিৎসা, পুষ্টি, প্রসবপূর্ব পরীক্ষা, নিরাপদ প্রসব | মৃত্যু হলেও শহীদের মর্যাদা | প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ধর্মীয় সান্ত্বনায় ঢাকা পড়ে |
| শিশুমৃত্যু | প্রতিটি শিশুর জীবন রক্ষায় টিকা, পুষ্টি, চিকিৎসা | সন্তান মারা গেলে পিতামাতার জান্নাতের সওয়াব | মৃত্যু প্রতিরোধের তাগিদ দুর্বল হতে পারে |
| পরিবার পরিকল্পনা | কম সন্তান, ভালো পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য | বেশি সন্তান, সংখ্যাধিক্যে গর্ব | শিশুর মানের বদলে সংখ্যার পূজা |
| চিকিৎসা সিদ্ধান্ত | চিকিৎসক, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যঝুঁকি | আলেম, ওয়াজ, ভাগ্যবাদ | চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ধর্মীয় বক্তৃতার অধীন হয় |
এই তুলনা দেখায়—সমস্যা শুধু “কে কত সন্তান নেবে” সেই ব্যক্তিগত পছন্দের নয়। সমস্যা হলো, সিদ্ধান্তটি কে নিচ্ছে: নারী নিজে, না পরিবার? চিকিৎসক, না মোল্লা? স্বাস্থ্যঝুঁকি, না আসমানি রিজিকের স্লোগান? ধর্মনিরপেক্ষ জনস্বাস্থ্য নারী ও শিশুকে বাঁচাতে চায়; ধর্মীয় জন্মবাদ সংখ্যাকে মর্যাদা দেয়। একদিকে জীবনের মান, অন্যদিকে কেবল মাথাগণনা।
সহীহ হাদিসে কুদসি
১/ বিবিধ হাদিসসমূহ
পরিচ্ছেদঃ জান্নাত ও জাহান্নামীদের বর্ণনা
৬৭. ইয়াদ ইবনু হিমার আল-মুজাশি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএকদা তার খুতবায় বলেছেন: “জেন রেখ আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দেই যা তোমরা জান না, যা তিনি আজকের এ দিনে আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন: আমি আমার বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা হালাল। নিশ্চয় আমি আমার সকল বান্দাকে সৃষ্টি করেছি শির্ক মুক্ত-একনিষ্ঠ, অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে। তাদের ওপর সে হারাম করেছে যা আমি তাদের জন্য হালাল করেছি। সে তাদেরকে নির্দেশ করেছে যেন আমার সাথে শরীক করে, যার সপক্ষে কোন দলিল নাযিল করা হয়নি। নিশ্চয় আল্লাহ জমিনে বাসকারীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন অতঃপর তাদের আরব অনারব সবাইর প্রতি তাঁর ক্রোধ আসে, অবশিষ্ট কতক কিতাবি[1] ব্যতীত। তিনি আরও বলেন: তোমাকে প্রেরণ করেছি তোমাকে পরীক্ষা করব ও তোমার দ্বারা তাদের পরীক্ষা করব এ জন্য। আমি তোমার ওপর এক কিতাব নাযিল করেছি, যা পানি ধুয়ে ফেলবে না, ঘুমন্ত ও জাগ্রত সর্বাবস্থায় তুমি তা তিলাওয়াত করবে। আর নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি কুরাইশদের জ্বালিয়ে দেই। আমি বললাম: হে আমার রব তাহলে তো তারা আমার মাথা থেঁতলে দিবে, অতঃপর রুটি বানিয়ে ছাড়বে। তিনি বললেন: তাদেরকে বের কর যেমন তারা তোমাকে বের করেছে, তাদের সাথে যুদ্ধ কর আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করব, খরচ কর নিশ্চয় আমরা তোমার ওপর খরচ করব। তুমি বাহিনী প্রেরণ কর, আমি তার সমান পাঁচগুণ প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদের নিয়ে যুদ্ধ কর তাদের সাথে যারা তোমার অবাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন: জান্নাতিরা তিন প্রকার: (ক). ন্যায়পরায়ণ, সদকাকারী ও তাওফিকপ্রাপ্ত বাদশাহ। (খ). সকল আত্মীয় ও মুসলিমের জন্য দয়াশীল ও নরম হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি। (গ). অধিক সন্তান-সন্তুতিসম্পন্ন সৎ ও পবিত্র ব্যক্তি। তিনি বলেন: জাহান্নামীরা পাঁচ প্রকার: (ক). দুর্বল, যার বিচারিক বিবেক নেই, যারা তোমাদের মধ্যে অনুসারী, যারা সন্তান ও সম্পদ আশা করে না। (খ). খিয়ানতকারী, যার খিয়ানত গোপন থাকে না, সামান্য বস্তু হলে তাতেও সে খিয়ানত করে। (গ). এমন ব্যক্তি যে সকাল-সন্ধ্যা তোমার পরিবার ও সম্পদে ধোকা প্রদানে লিপ্ত। (ঘ). তিনি কৃপণতা অথবা মিথ্যার উল্লেখ করেছেন। (ঙ). দুরাচারী অশ্লীল ব্যক্তি”। [মুসলিম] হাদিসটি সহিহ।
[1] যারা বিকৃতি করা ব্যতীত তাদের সঠিক দ্বীনে বহাল ছিল। এ সময়টা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করার পূর্বে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
আজল: জন্মনিয়ন্ত্রণ, অপরাধবোধ ও দাসী-যুদ্ধবন্দীর দ্বিচারিতা
আজল ছিল প্রাচীন যুগের গর্ভনিরোধ-পদ্ধতি—সহবাসের শেষে বীর্য বাইরে ফেলা। আধুনিক কনডোম, পিল বা অন্য পদ্ধতি না থাকলেও, গর্ভধারণ ঠেকানোর ধারণা তখনও ছিল। তাই আজল নিয়ে হাদিসগুলো জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি হাদিসে নবী আজলকে “গোপন হত্যা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ গর্ভধারণ ঠেকানোর কাজকেও এমনভাবে ভাষায় বাঁধা হয়েছে, যেন তা সম্ভাব্য জীবনের বিরুদ্ধে অপরাধ। এই ভাষা জনস্বাস্থ্যবিরোধী ধর্মীয় অপরাধবোধ তৈরি করতে পারে: জন্মনিয়ন্ত্রণ মানে দায়িত্বশীল পরিবার পরিকল্পনা নয়, বরং “গোপন হত্যা”—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়লে দরিদ্র পরিবার, অসুস্থ নারী ও কিশোরী মায়েদের ওপর ভয়াবহ চাপ পড়ে।
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ‘গীলাহ’ অর্থাৎ স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের বৈধতা এবং ‘আযল মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে
৩৪৫৭-(১৪১/…) উবায়দুল্লাহ্ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ….. উকাশার ভগ্নি জুদামাহ্ বিনতু ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন কিছু সংখ্যক লোকের সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন বলছিলেন, আমি স্তন্যদায়িনী মহিলার সাথে সঙ্গম করা নিষেধ করার ইচ্ছা করলাম, এমতাবস্থায় আমি রোম ও পারস্যবাসী লোকদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে অবগত হলাম যে, তারা তাদের স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে থাকে, কিন্তু তা তাদের সন্তান-সন্ততির কোনরূপ ক্ষতি করে না। অতঃপর লোকেরা তাকে ‘আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হল গোপন হত্যা। রাবী উবায়দুল্লাহ তার বর্ণনায় আল মুকরী সূত্রে আয়াতটুকুও উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ “যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে” (সূরা আত্ তাকভীর ৮১ঃ ৮-৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩০, ইসলামীক সেন্টার ৩৪২৯ )
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জুদামা বিনত ওয়াহব আসাদিয়া (রাঃ)
কিন্তু হাদিসের বিবরণে এক ভয়াবহ দ্বিমুখিতা দেখা যায়: স্ত্রী-সংসারের ক্ষেত্রে আজলকে “গোপন হত্যা” বলা হচ্ছে, অথচ যুদ্ধবন্দী নারী ও দাসীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ ঠেকানোর বাস্তব প্রয়োজন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গর্ভবতী হয়ে গেলে দাসীকে বিক্রি, ব্যবহার বা যৌন দখলের হিসাব বদলে যায়—এই নির্মম মালিকানামূলক যুক্তি হাদিসের পটভূমিতে স্পষ্ট। সাহাবিরা যুদ্ধবন্দী নারীদের সঙ্গে আজল করতেন—অর্থাৎ এখানে নারী স্বাধীন সঙ্গী নয়, বন্দী দেহ; তার গর্ভধারণ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিজয়ী পুরুষ। সেই হাদিসগুলো পরে দেওয়া হবে, আগে আজল কাকে বলে তা জেনে নিই সহিহ বুখারী হাদিস গ্রন্থ থেকে [1]।

এবারে আসুন দেখি, দাসী বা যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে আজলকে নবী কীভাবে বৈধতা দিয়েছেন। যুদ্ধবন্দী নারীরা যেন গর্ভবতী না হয়, এই চিন্তা ছিল বিজয়ী পুরুষদের। এখানে নারী কোনো অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তি নয়; সে যুদ্ধলব্ধ দেহ, যার গর্ভধারণও পুরুষের সুবিধা-অসুবিধার হিসাবের অংশ। নিচের হাদিসটি পড়ুন [2]
গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। (২২২৯) (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
এখানেই দ্বিচারিতা নগ্ন হয়ে ওঠে। দরিদ্র পরিবারে জন্মনিয়ন্ত্রণ করলে “রিজিক আল্লাহ দেবেন” বলা হয়, আজলকে “গোপন হত্যা” বলা হয়; কিন্তু যুদ্ধবন্দী নারীর ক্ষেত্রে গর্ভধারণ ঠেকানো পুরুষের সুবিধার প্রশ্নে আলোচ্য হয়ে যায়। নারীর শরীর এখানে কখনো সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র, কখনো দাসবাজারের পণ্য, কিন্তু কোথাও তার নিজস্ব ইচ্ছা, স্বাস্থ্য, সম্মতি ও ভবিষ্যৎ মুখ্য নয়।
অনেক হাদিসেই যুদ্ধবন্দী নারী বা দাসীদের সাথে আজলের কথা বলা আছে, আমরা শুধু কিছু দেখাচ্ছি। নিচের হাদিসটির বই থেকে তোলা ছবি [3] –


এবারে আসুন, সহজ নসরুল বারী গ্রন্থ থেকে এই সম্পর্কিত হাদিসের ব্যাখ্যা পড়ে নিই [4]।


মাতৃমৃত্যু: চিকিৎসা নয়, শহীদের সান্ত্বনা?
মাতৃমৃত্যু কোনো “আল্লাহর ইচ্ছা” বলে ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নারীশিক্ষা, পুষ্টি, প্রসবপূর্ব চিকিৎসা, নিরাপদ প্রসব এবং পরিবার পরিকল্পনার সরাসরি প্রশ্ন। মাতৃমৃত্যু বা মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা হলো—গর্ভবতী অবস্থায় একজন নারীর মৃত্যু, বা গর্ভাবস্থার অবসানের ৪২ দিনের মধ্যে গর্ভধারণ বা তার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কারণে মৃত্যু। ইউনাইটেড নেশনস জনসংখ্যা তহবিলের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী এ কারণে মারা যায় এবং যারা মারা যায় তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর পেছনে বহু প্রতিরোধযোগ্য কারণ থাকে। মাতৃমৃত্যুর বড় অংশ প্রতিরোধযোগ্য। অর্থাৎ মা মারা গেলে সেটি শুধু ভাগ্য নয়; অনেক সময় সেটি সামাজিক অবহেলা, চিকিৎসা-অপ্রাপ্যতা, অল্প বয়সে বিয়ে, বারবার গর্ভধারণ এবং ধর্মীয় ভাগ্যবাদের ফল। মসজিদের মাইক, ওয়াজের মঞ্চ বা আলেমের ফতোয়া দিয়ে প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ থামানো যায় না।
মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া। এর ফলে শরীর সন্তান জন্মদানের মতো যথেষ্ট পরিপক্ক হওয়ার আগেই তারা সন্তান জন্ম দিতে শুরু করে; পুষ্টিহীনতা, রক্তস্বল্পতা, প্রসব-জটিলতা এবং চিকিৎসা-অপ্রাপ্যতার কারণে বহু নারী মৃত্যুবরণ করে। ইসলামি ঐতিহ্যে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার বৈধতা ও উৎসাহের প্রশ্নটি এই লেখাটিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে [5]। আধুনিক শিশু অধিকার, নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন-স্বাধীনতার সঙ্গে এই ঐতিহ্যগত ব্যাখ্যার সংঘর্ষ সরাসরি ও নির্মম।
মাতৃমৃত্যুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়া। ঘন ঘন গর্ভধারণ নারীর শরীরকে ক্ষয় করে। রক্তস্বল্পতা, পুষ্টিহীনতা, জরায়ুজনিত জটিলতা, প্রসবঝুঁকি, মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে নারীর শরীরকে ধর্মীয় সওয়াবের নামে ব্যবহার করা হয়। ইসলামি প্রচারে অধিক সন্তানকে ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, উম্মাহর সংখ্যাবৃদ্ধি, নবীর গর্ব এবং ধর্মীয় সওয়াবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সন্তান জন্মদান নারীর স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত না হয়ে সামষ্টিক ধর্মীয় কর্তব্যের রূপ নেয়। আসুন প্রখ্যাত ইসলামি বক্তা মুফতি ইব্রাহীমের একটি বক্তব্য শুনে নিই। অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার অবশ্যই প্রশ্নযোগ্য; কিন্তু প্রসবপদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, ওয়াজকারী আলেম নন। ধর্মীয় বক্তার হাতে প্রসূতি-চিকিৎসার সিদ্ধান্ত তুলে দেওয়া নারীর জীবনের সঙ্গে জুয়া খেলার সমান।
এবারে আসুন দেখি নবী কী বলেছেন। হাদিসে বন্ধ্যা নারীকে বিয়ে না করে প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসবী নারীকে বিয়ের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে নারীকে স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে নয়, সন্তান উৎপাদনের সক্ষমতা দিয়ে মূল্যায়নের প্রবণতা স্পষ্ট। নবী মুসলিমদের বেশি বেশি সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করেছেন, কেয়ামতের দিন সংখ্যায় বেশি হয়ে গর্ব করার জন্য। এর থেকে বোঝা যায়, বেশি বেশি সন্তান জন্ম দেওয়াকে ইসলাম শুধু সহ্যই করে না; তা ধর্মীয় গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করে।
সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৬/ নিকাহ (বিবাহ)
পরিচ্ছেদঃ ১১. বন্ধ্যা নারীকে বিবাহ করা অনুচিত
৩২৩০. আব্দুর রহমান ইবন খালিদ (রহঃ) … মা’কাল ইবন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আরয করলোঃ আমি এমন এক মহিলার সন্ধান পেয়েছি, যে বংশ গৌরবের অধিকারিণী ও মর্যাদাবান, কিন্তু সে বন্ধ্যা, আমি কি তাকে বিবাহ করবো? তিনি তাকে নিষেধ করলেন। দ্বিতীয় দিন তাঁর নিকট আসলে তিনি নিষেধ করলেন। এরপর তৃতীয় দিন তাঁর খেদমতে আসলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তোমরা অধিক সন্তান প্রসবা নারীকে বিবাহ করবে, যে তোমাদেরকে ভালবাসবে। কেননা, আমি তোমাদের দ্বারা সংখ্যাধিক্য লাভ করবো।
তাহক্বীকঃ হাসান। ইরওয়া ১৭৮৪, আদাবুয যিফাফ ১৬, সহীহ আবু দাউদ ১৭৮৯।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ মা‘ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)
সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৬/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৪. যে মহিলা সন্তান দিতে অক্ষম তাকে বিয়ে করা নিষেধ সম্পর্কে
২০৫০। মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললো, আমি এক সুন্দরী ও মর্যাদা সম্পন্ন নারীর সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করবো? তিনি বললেনঃ না। অতঃপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। লোকটি তৃতীয়বার তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে বললেনঃ এমন নারীকে বিয়ে করে যে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মাতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করবো।[1]
হাসান সহীহ।
[1]. নাসায়ী।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ মা‘ক্বিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)
এই হাদিসের সামাজিক বার্তা ভয়াবহ: নারীর সৌন্দর্য, মর্যাদা, চরিত্র—সবকিছু থাকলেও যদি সে সন্তান জন্ম দিতে না পারে, তবে সে কম আকর্ষণীয়; আর যে নারী বেশি সন্তান জন্ম দিতে পারে, সে ধর্মীয়ভাবে কাম্য। এর ফলে নারীর মানবিক মর্যাদা জরায়ুর উৎপাদনক্ষমতায় নামিয়ে আনা হয়।
অধিক সন্তান নিয়ে গর্ব করার ভাষা শুনতে ধর্মীয় মনে হলেও এর বোঝা বহন করে নারী। গর্ভধারণ করে নারী, প্রসববেদনা সহ্য করে নারী, রক্তক্ষরণে মরে নারী, পুষ্টিহীনতায় ভোগে নারী, স্তন্যদান করে নারী, সন্তান পালনের শ্রম দেয় নারী। অথচ সংখ্যাধিক্যের গর্ব করে পুরুষ-নির্মিত ধর্মীয় নেতৃত্ব। অর্থাৎ পুরুষের ধর্মীয় অহংকারের দাম দেয় নারীর শরীর। এই ব্যবস্থাকে পরিবারমুখী নয়, নারীশরীর-নির্ভর ধর্মীয় জনসংখ্যা-রাজনীতি বলা বেশি সঠিক।
আরও ভয়াবহ হলো, গর্ভাবস্থায় মৃত্যুকেও শহীদের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া এক জিনিস; কিন্তু এই বিশ্বাস যদি চিকিৎসা-অবহেলা, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ বা “মরলেও জান্নাত” ধরনের মানসিকতা তৈরি করে, তবে তা সরাসরি জনস্বাস্থ্যবিরোধী হয়ে ওঠে। এর ফলে কিছু পরিবারে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে—গর্ভাবস্থার মৃত্যু যদি “মহামান্য” হয়, তাহলে ঝুঁকিকে প্রতিরোধ করার তাগিদ কমে যায়। এখানেই ধর্মীয় সান্ত্বনা চিকিৎসাবিরোধী বিপদে পরিণত হতে পারে। প্রসব জটিল হলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত, অস্ত্রোপচার, রক্ত, ওষুধ ও হাসপাতাল প্রয়োজন—শহীদের মর্যাদার গল্প নয়।
সুনান ইবনু মাজাহ
১৮/ জিহাদ
পরিচ্ছেদঃ ১৮/১৭. যার জন্য শহীদের মর্যাদা আশা করা যায় (শহীদের শ্রেণীবিভাগ)
১/২৮০৩। জাবির ইবনে আতীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে আসেন। জাবির (রাঃ) এর পরিবারের কেউ বললো, আমরা আশা করতাম যে, সে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাহলে আমার উম্মাতের শহীদের সংখ্যা তো খুব কম হয়ে যাবে। আল্লাহর পথে নিহত হলে শহীদ, মহামারীতে নিহত হলে শহীদ, যে মহিলা গর্ভাবস্থায় মারা যায় সে শহীদ এবং পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে ও ক্ষয়রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ।
নাসায়ী ১৮৪৬, ৩১৯৪, আবূ দাউদ ৩১১১, আহমাদ ২৩২৪১, মুয়াত্তা মালেক ৫৫২, আল-আহকাম ৩৯-৪০ নং পৃষ্ঠা, আত-তালীকুর রাগীব ২/২০২।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আতীক (রাঃ)
শিশুমৃত্যু: জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়কে জান্নাতি সান্ত্বনায় ঢেকে দেওয়া
শোকাহত মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়া মানবিক কাজ। কিন্তু সান্ত্বনা আর নীতি এক জিনিস নয়। কোনো মা গর্ভাবস্থায় মারা গেলে পরিবারকে মানসিক সান্ত্বনা দেওয়া এক কথা; কিন্তু সেই মৃত্যুকে শহীদের মর্যাদায় এমনভাবে মহিমান্বিত করা, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ, চিকিৎসা-অবহেলা বা ভাগ্যবাদী মনোভাব বাড়ে—তা বিপজ্জনক। একইভাবে শিশুমৃত্যুতে পিতামাতাকে সান্ত্বনা দেওয়া এক কথা; কিন্তু শিশুমৃত্যুকে জান্নাতের পাসপোর্ট বানিয়ে দিলে মৃত্যুর বিরুদ্ধে চিকিৎসা-সংগ্রামের নৈতিক জরুরি ভাব কমে যেতে পারে।
নবী মুহাম্মদ বলেছেন, কোনো মুসলিম পিতামাতার তিনটি নাবালেগ সন্তানের মৃত্যু হলে পিতামাতা জান্নাতে প্রবেশ করবে। এমন প্রতিশ্রুতি শোকাহত পিতামাতাকে সান্ত্বনা দিতে পারে—কিন্তু একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারে একটি বিপজ্জনক মানসিকতা তৈরি করতে পারে: সন্তান বাঁচলে ভালো, মরলেও জান্নাতের পুঁজি। ফলে পরিবার পরিকল্পনার জরুরি প্রশ্ন দুর্বল হয়। সন্তানসংখ্যা কমিয়ে প্রতিটি শিশুর পুষ্টি, টিকা, চিকিৎসা ও শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়ার বদলে “সংখ্যা বাড়াও, মৃত্যু হলেও সওয়াব”—এই অমানবিক হিসাব তৈরি হতে পারে। যেখানে দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও ধর্মীয় ভাগ্যবাদ একসঙ্গে কাজ করে, সেখানে এই বিশ্বাস শিশুমৃত্যু প্রতিরোধের বদলে শিশুমৃত্যুকে সহনীয় করে তুলতে পারে। আসুন হাদিসগুলো পড়ে দেখা যাক।
সুনান ইবনু মাজাহ
৬/ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫৭. সন্তানের মৃত্যুতে পিতা-মাতার সওয়াব।
৩/১৬০৫। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন মুসলিম পিতা-মাতার তিনটি নাবালেগ সন্তান মারা গেলে, আল্লাহ্ তার বিশেষ অনুগ্রহে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
সহীহুল বুখারী ১২৪৮, ১৩৮১; তিরমিযী ১০০৩; নাসায়ী ১৮৭২; ১৮৭৩; আহমাদ ১২১২৬
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সুনান ইবনু মাজাহ
৬/ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫৭. সন্তানের মৃত্যুতে পিতা-মাতার সওয়াব।
২/১৬০৪। উতবা ইবনু আবদুস সুলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম ব্যক্তির তিনটি নাবালেগ সন্তান মারা গেলে, সে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করতে পারবে।
তা’লীকুর রগীব ৩/৮৯।
তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
সুনান ইবনু মাজাহ
৬/ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫৭. সন্তানের মৃত্যুতে পিতা-মাতার সওয়াব।
১/১৬০৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির তিনটি সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নাম পার হয়ে যাবে, তবে শপথ পূর্ণ না করার জন্য (শাস্তি পাবে)।
সহীহুল বুখারী ১০২, মুসলিম ২৬৩২, ২৬৩৪, তিরমিযী ১০৬০ নাসায়ী ১৮৭৫, ১৮৭৬, আহমাদ ৭২২৪, ৭৬৬৪, ৯৭৭০, ৯৮৫৩, ১০৫৪০, মুয়াত্তা মালেক ৫৫৪
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
এমনকি গর্ভপাতকেও সওয়াব ও জান্নাতের ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার জায়গায় যদি ধর্মীয় পুরস্কারের গল্প প্রধান হয়ে ওঠে, তাহলে নারীর বাস্তব স্বাস্থ্যঝুঁকি আড়াল পড়ে যায়। সন্তান জন্মদানকে এত বেশি ধর্মীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে নারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক প্রস্তুতি ও নিজের সম্মতি—এসব দ্বিতীয় সারিতে চলে যায়। এমন প্রতিশ্রুতি মেয়েদের আরও বেশি সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহ দিতে পারে, ফলশ্রুতিতে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
সুনান ইবনু মাজাহ
৬/ জানাযা
পরিচ্ছেদঃ ৬/৫৮. কোন মহিলার গর্ভপাত হলে।
৩/১৬০৯। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! গর্ভপাত হওয়া সন্তানের মাতা তাতে সওয়াব আশা করলে ঐ সন্তান তার নাভিরজ্জু দ্বারা তাকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
আহমাদ ২১৫৮৫ মিশকাত ১৭৫৪।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)
উপসংহার: নারীর শরীর, শিশুর জীবন এবং ধর্মীয় জন্মবাদ
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট—ইসলামি দলিল ও প্রচলিত আলেমি ব্যাখ্যায় অল্প বয়সে বিয়ে, অধিক সন্তান, জন্মনিয়ন্ত্রণ-বিরোধিতা এবং মাতৃত্বজনিত মৃত্যু-শিশুমৃত্যুকে ধর্মীয় মর্যাদায় ঢেকে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। গর্ভাবস্থার মৃত্যু ও শিশুমৃত্যুকে শহীদ, সওয়াব ও জান্নাতের ভাষায় মহিমান্বিত করলে বাস্তব ঝুঁকি কমানোর বদলে ঝুঁকি সহ্য করার সংস্কৃতি তৈরি হয়। এর ফলে নারীর শরীরকে স্বাধীন মানুষের শরীর হিসেবে নয়, উম্মাহর সংখ্যা বাড়ানোর যন্ত্র হিসেবে দেখা হয়। বয়স, পুষ্টি, সম্মতি, শিক্ষা, চিকিৎসা—সবকিছুর ওপর বসানো হয় “রিজিক আল্লাহ দেবেন” আর “বেশি সন্তান নবীর গর্ব” ধরনের ধর্মীয় স্লোগান।
মূল প্রশ্ন হলো: একটি সমাজ কি নারীর জীবন বাঁচাতে চায়, না নারীর মৃত্যুতে ধর্মীয় অর্থ খুঁজে সন্তুষ্ট থাকতে চায়? একটি সমাজ কি শিশুকে বাঁচাতে চায়, না শিশুর মৃত্যুতে জান্নাতের সান্ত্বনা খুঁজে নিতে চায়? একটি সমাজ কি পরিবার পরিকল্পনাকে দায়িত্বশীলতা মনে করে, না আল্লাহর রিজিকের নামে দরিদ্র পরিবারকে আরও দরিদ্র করে? এই প্রশ্নগুলো এড়ানো যাবে না।
যে মতাদর্শ দরিদ্র পরিবারকে বলে “রিজিক আল্লাহ দেবেন”, নারীকে বলে “অধিক সন্তান জন্ম দাও”, মাকে বলে “মরলে শহীদ”, শিশুমৃত্যুকে বলে “জান্নাতের দরজা”, গর্ভপাতকে বলে “সওয়াবের সেতু”, আর জন্মনিয়ন্ত্রণকে বলে “গোপন হত্যা”—সে মতাদর্শ জনস্বাস্থ্যের বন্ধু নয়। সে নারী ও শিশুর জীবনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধর্মীয় জন্মবাদ। এই ধরনের বিশ্বাস সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে ক্ষতি শুধু নারীর নয়; ক্ষতি শিশুর, পরিবারের, জনস্বাস্থ্যের, অর্থনীতির এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। যে মতাদর্শ নারীর জরায়ুকে ধর্মীয় জনসংখ্যা-যুদ্ধের মাঠ বানায়, তাকে মানবিক বলা যায় না।
তথ্যসূত্রঃ
- সহিহ বুখারী । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সপ্তম খণ্ড। পৃষ্ঠা ৬৯। হাদিস নম্বর ৩৮৩২ ↩︎
- সহীহ বুখারী (তাওহীদ), হাদিস: ৭৪০৯ ↩︎
- বুখারী শরীফ । ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দশম খণ্ড । পৃষ্ঠা ৫৪৯। হাদিস নম্বর ৬৯০৫ ↩︎
- সহজ নসরুল বারী, শরহে সহীহ বুখারী, ১১ তম খণ্ড, আরবি-বাংলা, সহজ তরজমা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ উসমান গনী, আল কাউসার প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫০৭, ৫০৮ ↩︎
- আয়িশা কি নয়বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন? ↩︎
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.


nice
অত্তন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটি যথোপযুক্ত বিশ্লষন …. বিষয়টার শুধু গভীরতা নয় ব্যাপ্তি ও অসাধারণ … কেবল মাত্র অনিয়ন্ত্রিত জন্মদান নয়, জন্মদান প্রয়াস যাতে কোনো ভাবে বাধা না পায়ে তা সুনিশ্চিত করবার জন্য সন্তানহারা পিত মাতা দের সন্তান মৃত্যু সম্বন্ধে উদাসীন থাকতে বলা হয়েছে … একই উপদেশ গর্ভপাত বিষয়ে … অদ্ভুৎ অমানবিক !
আমরা যদি একটু মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করি তবে বুঝতে পারবো যে এটাই প্রত্যাশিত … যে কোনো ব্যাক্তি চাইবে যে তার মতাদর্শ ও আবিষ্কৃত জীবন দর্শন (ধর্ম এক ব্যাক্তির নিজস্য জীবন দর্শন মাত্র) বিশ্বময় প্রচারিত হোক এবং চিরকাল বর্তমান থাকুক … যতদিন তা থাকবে ততদিন তিনি স্মরণীয় থাকবেন ! …
এই মনস্তত্ব কে ভিত্তি করে যদি আমরা নিয়মগুলো কে আর একবার দেখি তবে পরিষ্কার হয়ে যাবে
১) ধর্ম যেহেতু জন্মগত তাই যত জন্ম তত অনুগামী, তত প্রসার
২) পুরুষতান্ত্রিক মধ্যযুগে যদি পুরুষদের কোনো ভাবে আকৃষ্ট না করা যায় তবে প্রসার সম্ভব নয় … তাই পুরুষের বহু বিবাহের অধিকার, যথেচ্ছ যৌনাচার-এর অধিকার, মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অধিকার
৩) ধর্ম ত্যাগ মানে অনুগামীর সংখ্যা কমে যাওয়া …. তাই ধর্মত্যাগীদের ভীত করতে অত্যাচারের ও হত্যার সুস্পষ্ট নির্দেশ
৪) অন্য ধর্ম থেকে ভাঙিয়ে আনতে পারলে অনুগামীর সংখ্যা বৃদ্ধি …. তাই ধর্মান্তরের পদ্ধিতি অত্যন্ত সরল …. ধর্মান্তরিতকে উৎসাহিত করার জন্য তার সমস্ত পাপ মুক্তি … যে ধর্মান্তর ঘটালো তাকেও পুরস্কার … (যদি অন্য ধর্ম থেকে আনা পাপ না হয় তবে অন্য ধর্ম তে যাওয়া তা পাপ হবে কেন ?)
৫) পুরুষদের অন্য ধর্মে বিবাহ সম্ভব কিন্তু মহিলাদের অসম্ভব … কারণ প্রথমটা ইনকামিং আর অন্যটা আউটগোয়িং
উদ্দেশ্য জলের থেকেও বেশি পরিষ্কার …. যে কোনো ভাবে সংখ্যা বৃদ্ধি … তাতে জীবনের মান কি হলো, স্বাস্থ কি দাঁড়ালো, বুদ্ধি বৃত্তির কি হলো, কতগুলোর মৃত্যু হলো এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই
এবং এই মধ্যযুগীও বাব্যস্থা আজও মানুষ অবুঝের মতো পালন করে আসছে, এমন কি নিজের ও পরিবারের ক্ষতি করে … বাহ্ !
মুমিনদের পবিত্র কর্তব্য হলো খালি শুওরের মতো গাদা গাদা জন্ম দিয়ে যাওয়া | খাওয়াবে কে ? আল্লা খাওয়াবে | আল্লা কে ? আল্লা হলো United Nations এর World Food Program যারা বিশ্ব জুড়ে ক্ষুদার্ত মানুষকে খাদ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে | আল্লা হলো Europe , America র বিভিন্ন NGO যারা দরিদ্র মানুষকে খাবার, কাপড়, ওষুধ দিয়ে থাকে | আল্লা হলো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যারা অসহায় মানুষকে সাহায্য | আল্লা হলো অন্নান্য ধর্মের charity বা relief সংগঠন যারা সেবায় নিযুক্ত | অর্থাৎ জন্ম দেবার পর বেশিরভাগ মুমিনদের খাওয়নোর দায়িত্ব তাদের যাদের জন্য আল্লা জাহান্নামের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে | সুন্দর ব্যবস্থা | আফ্রিকার, মধ্যে ও পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ মুসলিম দেশ বিদেশি Aid এর ভরসায় বাঁচে |
আবার এই সব গাদা গাদা অবহেলার আল্লার সন্তানেরা ১৫ / ১৬ বছর বয়স হলেই বেরিয়ে পরে Europe, America, Canada ইত্যাদি কাফের দের দেশের উদ্দশ্যে | হেঁটে, সাঁতরে, container এর মধ্যে, মালগাড়ির ছাদে, হাওয়া ফোলানো বোট নিয়ে – যে কোনো উপায়ে হোক না কেন | সেখানে পৌঁছেই তারা আবার স্বমূর্তি ধরে – ইসলাম মহান, আল্লা হো আকবর |
ইসলামিক রাষ্ট্র Niger হলো ধু ধু মরুভূমির মধ্যে পৃথিবীর অন্যতম চরম দরিদ্র দেশ | কিন্তু সেখানে মহিলারা প্রত্যেকে গড়ে 7 টি (অনেকরই 10 বা তার বেশি) সন্তান জন্ম দিয়ে থাকে যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ | Afghanistan গত 40 বছরধরে যুদ্ধ করছে | জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই | কিন্তু সেখানে মানুষ মহা আনন্দে জন্ম দিয়ে যাচ্ছে সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তা না করে | Afghanistan এ মহিলা প্রতি সন্তান প্রায় 5 | কে বলবে যে সেখানে চিকিৎসা, খাদ্য সবকিছুর তীব্র সংকট | Syria বা Rohingya রেফিউজি ক্যাম্প গুলোতে মানুষের অভাব অভিযোগের শেষ নেই কিন্তু প্রত্যেকের ঘর ভর্তি বাচ্চা | রেফিউজি ক্যাম্পের চরম কষ্টকর অবস্থায় যারা বছর বছর জন্ম দিতে পারে তাদের খালি জন্ম দেবার আগ্রহ, সন্তানের দায়ে দায়িত্ব নেবার আগ্রহ বিন্দুমাত্র নেই |
নবী মুহাম্মদের আজল সম্পর্কিত যে রেফারেন্স দেয়া হয়েছে, তাতে মুহাম্মদ যা বলেছে তা কিছুটা পরোক্ষ কথা। এছাড়া বাকি যুক্তি, অন্যান্য রেফারেন্স ও উপস্থাপন খুব ভালো হয়েছে। তবে, ইউটিউবের যে লিংক দেয়া হয়েছে, তা সম্ভবত কাজ করছে না। হালনাগাদ করে দিলে ভালো হয়। ধন্যবাদ।
একেবারেই অযৌক্তিক বিদ্বেষপ্রসূত বিশ্লেষণ।গর্ভবতী মা মারা গেলে জান্নাতের সুসংবাদ চিকিৎসায় নিরুৎসাহিত করতে নয় বরং রাসূল সাঃ জানতেন দুনিয়ায় কিছু জীব আসবে যারা নিজের কষ্ট আর ক্ষতির কথা চিন্তা করে সন্তান নিবে না তাদের উৎসাহ দিতে।আফসোস হয় এই চিন্তাটা আপনাদের মায়েদের মধ্যে আল্লাহ কেন দিলেন না।
মিনিমাম ম্যাক্সিমাম কতো জনসংখ্যা থাকা উচিত প্রতি বর্গকিলোমিটারে এখনো এই বিষয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশিত হয়নি যাতে করে মানুষ সুস্থ জীবন গড়ে তুলতে স্বক্ষম ।