Fathul Bari · Volume ১০
ফাতহুল বারী: পৃষ্ঠা ৫২২
আরবি
وَلِلطَّبَرَانِيِّ مِنْ حَدِيثِ قُرَّةَ بْنِ إِيَاسٍ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ: الْحَيَاءُ مِنَ الدِّينِ؟ فَقَالَ: بَلْ هُوَ الدِّينُ كُلُّهُ وَلِلطَّبَرَانِيِّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَالْإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ.
قَوْلُهُ: (بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ) بِالْمُوَحَّدَةِ وَالْمُعْجَمَةُ مُصَغَّرٌ تَابِعِيٌّ جَلِيلٌ، يَأْتِي ذِكْرُهُ فِي الدَّعَوَاتِ.
قَوْلُهُ: (مَكْتُوبٌ فِي الْحِكْمَةِ) فِي رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ: إنَّهُ مَكْتُوبٌ فِي الْحِكْمَةِ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي قَتَادَةَ الْعَدَوِيِّ عِنْدَ مُسْلِمٍ فَقَالَ بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ: إِنَّا لَنَجِدُ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ أَوِ الْحِكْمَةِ بِالشَّكِّ، وَالْحِكْمَةُ فِي الْأَصْلِ إِصَابَةُ الْحَقِّ بِالْعِلْمِ، وَسَيَأْتِي بَسْطُ الْقَوْلِ فِي ذَلِكَ فِي بَابِ مَا يَجُوزُ مِنَ الشِّعْرِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ - تَعَالَى -.
قَوْلُهُ: (إِنَّ مِنَ الْحَيَاءِ وَقَارًا، وَإِنَّ مِنَ الْحَيَاءِ سَكِينَةً) فِي رِوَايَةِ الْكُشْمِيهَنِيِّ السَّكِينَةُ بِزِيَادَةِ أَلِفٍ وَلَامٍ، وَفِي رِوَايَةِ أَبِي قَتَادَةَ الْعَدَوِيِّ إِنَّ مِنْهُ سَكِينَةً وَوَقَارًا لِلَّهِ وَفِيهِ ضَعْفٌ، وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ مُتَعَيِّنَةٌ وَمِنْ أَجْلِهَا غَضِبَ عِمْرَانُ، وَإِلَّا فَلَيْسَ فِي ذِكْرِ السَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ مَا يُنَافِي كَوْنَهُ خَيْرًا، أَشَارَ إِلَى ذَلِكَ ابْنُ بَطَّالٍ، لَكِنْ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ غَضِبَ مِنْ قَوْلِهِ مِنْهُ ; لِأَنَّ التَّبْعِيضَ يُفْهِمُ أَنَّ مِنْهُ مَا يُضَادُّ ذَلِكَ، وَهُوَ قَدْ رُوِيَ أَنَّهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَقَالَ الْقُرْطُبِيُّ: مَعْنَى كَلَامِ بُشَيْرٍ أَنَّ مِنَ الْحَيَاءِ مَا يَحْمِلُ صَاحِبَهُ عَلَى الْوَقَارِ بِأَنْ يُوَقِّرَ غَيْرَهُ وَيَتَوَقَّرَ هُوَ فِي نَفْسِهِ. وَمِنْهُ مَا يَحْمِلُهُ عَلَى أَنْ يَسْكُنَ عَنْ كَثِيرٍ مِمَّا يَتَحَرَّك النَّاسُ فِيهِ مِنَ الْأُمُورِ الَّتِي لَا تَلِيقُ بِذِي الْمُرُوءَةِ، وَلَمْ يُنْكِرْ عِمْرَانُ عَلَيْهِ هَذَا الْقَدْرَ مِنْ حَيْثُ مَعْنَاهُ، وَإِنَّمَا أَنْكَرَهُ عَلَيْهِ مِنْ حَيْثُ إِنَّهُ سَاقَهُ فِي مَعْرِضِ مَنْ يُعَارِضُ كَلَامَ الرَّسُولِ بِكَلَامِ غَيْرِهِ، وَقِيلَ إِنَّمَا أَنْكَرَ عَلَيْهِ لكَوْنَهُ خَافَ أَنْ يَخْلِطَ السُّنَّةَ بِغَيْرِهَا. قُلْتُ: وَلَا يَخْفَى حُسْنُ التَّوْجِيهِ السَّابِقِ.
قَوْلُهُ: (وَتُحَدِّثُنِي عَنْ صَحِيفَتِكَ) فِي رِوَايَةِ أَبِي قَتَادَةَ فَغَضِبَ عِمْرَانُ حَتَّى احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَقَالَ: لَا أُرَانِي أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتُعَارِضُ فِيهِ وَفِي رِوَايَةِ أَحْمَدَ وَتُعَرِّضُ فِيهِ بِحَدِيثِ الْكُتُبِ وَهَذَا يُؤَيِّدُ الِاحْتِمَالَ الْمَاضِي، وَقَدْ ذَكَرَ مُسْلِمٌ فِي مُقَدِّمَةِ صَحِيحِهِ لِبُشَيْرِ بْنِ كَعْبٍ هَذَا قِصَّةً مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ تُشْعِرُ بِأَنَّهُ كَانَ يَتَسَاهَلُ فِي الْأَخْذِ عَنْ كُلِّ مَنْ لَقِيَهُ.
الحديث الثاني:
قَوْلُهُ: (عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ) هُوَ الْمَاجِشُونُ.
قَوْلُهُ: (مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَجُلٍ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ) تَقَدَّمَ فِي أَوَّلِ كِتَابِ الْإِيمَانِ مَعَ شَرْحِهِ، وَلَمْ أَعْرِفِ اسْمَ الرَّجُلِ وَلَا اسْمَ أَخِيهِ إِلَى الْآنِ، وَالْمُرَادُ بِوَعْظِهِ أَنَّهُ يَذْكُرُ لَهُ مَا يَتَرَتَّبُ عَلَى مُلَازَمَتِهِ مِنَ الْمَفْسَدَةِ.
قَوْلُهُ: (الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ) حَكَى ابْنُ التِّينِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الْمَلِكِ أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ كَمَالُ الْإِيمَانِ، وَقَالَ أَبُو عُبَيْدٍ الْهَرَوِيُّ: مَعْنَاهُ أَنَّ الْمُسْتَحِي يَنْقَطِعُ بِحَيَائِهِ عَنِ الْمَعَاصِي وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ تَقِيَّةٌ، فَصَارَ كَالْإِيمَانِ الْقَاطِعِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمَعَاصِي. قَالَ عِيَاضٌ وَغَيْرُهُ: إِنَّمَا جُعِلَ الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَإِنْ كَانَ غَرِيزَةً لِأَنَّ اسْتِعْمَالَهُ عَلَى قَانُونِ الشَّرْعِ يَحْتَاجُ إِلَى قَصْدٍ وَاكْتِسَابٍ وَعِلْمٍ، وَأَمَّا كَوْنُهُ خَيْرًا كُلُّهُ وَلَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ فَأَشْكَلَ حَمْلُهُ عَلَى الْعُمُومِ ; لِأَنَّهُ قَدْ يَصُدُّ صَاحِبَهُ عَنْ مُوَاجَهَةِ مَنْ يَرْتَكِبُ الْمُنْكَرَاتِ وَيَحْمِلُهُ عَلَى الْإِخْلَالِ بِبَعْضِ الْحُقُوقِ. وَالْجَوَابُ أَنَّ الْمُرَادَ بِالْحَيَاءِ فِي هَذِهِ الْأَحَادِيثِ مَا يَكُونُ شَرْعِيًّا، وَالْحَيَاءُ الَّذِي يَنْشَأُ عَنْهُ الْإِخْلَالُ بِالْحُقُوقِ لَيْسَ حَيَاءً شَرْعِيًّا، بَلْ هُوَ عَجْزٌ وَمَهَانَةٌ، وَإِنَّمَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ حَيَاءٌ لِمُشَابَهَتِهِ لِلْحَيَاءِ الشَّرْعِيِّ، وَهُوَ خُلُقٌ يَبْعَثُ عَلَى تَرْكِ الْقَبِيحِ. قُلْتُ: وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ أُشِيرَ إِلَى أن مَنْ كَانَ الْحَيَاءُ مِنْ خُلُقَهُ أَنَّ الْخَيْرَ يَكُونُ فِيهِ أَغْلَبُ فَيَضْمَحِلُّ مَا لَعَلَّهُ يَقَعُ مِنْهُ مِمَّا ذكَرُ فِي جَنْبِ مَا يَحْصُلُ لَهُ بِالْحَيَاءِ مِنَ الْخَيْرِ، أَوْ لِكَوْنِهِ إِذَا صَارَ عَادَةً وَتَخَلَّقَ بِهِ صَاحِبُهُ يَكُونُ سَبَبًا لِجَلْبِ الْخَيْرِ إِلَيْهِ، فَيَكُونُ مِنْهُ الْخَيْرُ بِالذَّاتِ وَالسَّبَبِ.
وَقَالَ أَبُو الْعَبَّاسِ الْقُرْطُبِيُّ: الْحَيَاءُ الْمُكْتَسَبُ هُوَ الَّذِي جَعَلَهُ الشَّارِعُ مِنَ الْإِيمَانِ، وَهُوَ الْمُكَلَّفُ بِهِ دُونَ الْغَرِيزِيِّ، غَيْرَ أَنَّ مَنْ كَانَ فِيهِ غَرِيزَةً مِنْهُ فَإِنَّهَا تُعِينُهُ عَلَى الْمُكْتَسَبِ، وَقَدْ يَنْطَبِعُ بِالْمُكْتَسَبِ حَتَّى يَصِيرَ غَرِيزِا، قَالَ: وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَدْ جُمِعَ لَهُ النَّوْعَانِ فَكَانَ فِي الْغَرِيزِيِّ أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا،
বাংলা
তাবারানিতে কুররাহ ইবনে ইয়াস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "লজ্জা কি দ্বীনের অংশ?" তিনি বললেন: "বরং এটিই সম্পূর্ণ দ্বীন।" তাবারানিতে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর সূত্রে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "লজ্জা ঈমানের অংশ, আর ঈমান জান্নাতে নিয়ে যায়।"
তাঁর উক্তি: (বুশাইর ইবনে কা’ব) 'বা' এবং 'শিন' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত এটি একটি তাসগীর বা ক্ষুদ্রতাবাচক বিশেষ্য। তিনি একজন মহান তাবেয়ী, 'দুআ' অধ্যায়ে তাঁর আলোচনা আসবে।
তাঁর উক্তি: (হিকমতের কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে) মুহাম্মদ ইবনে জাফরের বর্ণনায় রয়েছে: "এটি হিকমতের কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।" ইমাম মুসলিমের নিকট আবু কাতাদা আল-আদাউয়ীর বর্ণনায় রয়েছে, বুশাইর ইবনে কা’ব বলেন: "আমরা কোনো কোনো কিতাবে অথবা হিকমতে দেখতে পাই—এখানে বর্ণনাকারী সন্দেহ করেছেন।" হিকমতের মূল অর্থ হলো জ্ঞানের (ইলম) মাধ্যমে সত্য প্রাপ্তি। 'কবিতা বিষয়ে যা বৈধ' শীর্ষক অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তাঁর উক্তি: (নিশ্চয় লজ্জার একটি রূপ হলো গাম্ভীর্য এবং লজ্জার একটি রূপ হলো প্রশান্তি) কুশমিহানির বর্ণনায় 'আস-সাকিনাহ' শব্দটি আলিফ ও লাম যুক্ত হয়ে এসেছে। আবু কাতাদা আল-আদাউয়ীর বর্ণনায় এসেছে: "নিশ্চয় তার মধ্যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য রয়েছে"—তবে এই বর্ণনায় দুর্বলতা আছে। এই বর্ধিত অংশটুকু সুনির্দিষ্ট, আর এ কারণেই ইমরান (রা.) রাগান্বিত হয়েছিলেন। অন্যথায় প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের উল্লেখ লজ্জার কল্যাণ হওয়ার পরিপন্থী নয়—ইবনে বাত্তাল এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি তাঁর "মিনহু" (লজ্জার অংশ) বলায় রাগান্বিত হয়েছিলেন; কারণ অংশ বলা দ্বারা বুঝায় যে এর এমন অংশও আছে যা তার বিপরীত, অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত আছে যে লজ্জার পুরোটাই কল্যাণ। আল-কুরতুবী বলেন: বুশাইরের কথার অর্থ হলো লজ্জার মাঝে এমন কিছু আছে যা ব্যক্তিকে গাম্ভীর্য অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সে অন্যকে সম্মান করে এবং নিজেও আত্মমর্যাদা বজায় রাখে। আবার লজ্জার মাঝে এমন কিছু আছে যা তাকে মানুষের এমন সব অপ্রাসঙ্গিক কাজ থেকে নিবৃত্ত রাখে যা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের সাথে মানানসই নয়। ইমরান (রা.) এর অর্থের দিক থেকে আপত্তি করেননি, বরং তিনি আপত্তি করেছেন এ কারণে যে, তিনি (বুশাইর) রাসূলুল্লাহর (সা.) বাণীর বিপরীতে অন্যের কথা উপস্থাপন করেছেন। আবার বলা হয়েছে, ইমরান (রা.) এ কারণে আপত্তি করেছেন কারণ তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে সুন্নাহর সাথে অন্য কিতাবের কথা মিশ্রিত হয়ে যাবে। আমি (ইবনে হাজার) বলি: পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাটির চমৎকারিত্ব সুস্পষ্ঠ।
তাঁর উক্তি: (আর তুমি আমাকে তোমার কিতাব থেকে বর্ণনা করছ) আবু কাতাদার বর্ণনায় রয়েছে, ইমরান (রা.) রাগান্বিত হলেন এমনকি তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে গেল এবং বললেন: "আমি তোমার কাছে রাসূলুল্লাহর (সা.) হাদীস বর্ণনা করছি আর তুমি তার বিপরীতে কথা বলছ!" আহমদের বর্ণনায় রয়েছে: "আর তুমি তার বিপরীতে অন্য কিতাবের হাদীস আনছ।" এটি পূর্বের সম্ভাবনাকেই জোরালো করে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় বুশাইর ইবনে কা’বের সাথে ইবনে আব্বাসের (রা.) একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি (বশাইর) যে কারো কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণের ব্যাপারে শিথিল ছিলেন।
দ্বিতীয় হাদীস:
তাঁর উক্তি: (আবদুল আযীয ইবনে আবী সালামাহ) তিনি হলেন আল-মাজিশুন।
তাঁর উক্তি: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তাঁর ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলেন) কিতাবুল ঈমানের শুরুতে এর ব্যাখ্যাসহ অতিবাহিত হয়েছে। আমি এখন পর্যন্ত সেই ব্যক্তি ও তাঁর ভাইয়ের নাম জানতে পারিনি। উপদেশের উদ্দেশ্য হলো, তিনি লজ্জা ধরে রাখার ফলে যে বাহ্যিক ক্ষতি হতে পারে তা তাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন।
তাঁর উক্তি: (লজ্জা ঈমানের অংশ) ইবনে তীন আবু আব্দুল মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, এর দ্বারা ঈমানের পূর্ণতা বুঝানো হয়েছে। আবু উবাইদ আল-হারাউয়ী বলেন: এর অর্থ হলো লজ্জাশীল ব্যক্তি তার লজ্জার কারণে পাপাচার থেকে বিরত থাকে, যদিও তার মধ্যে খোদাভীতি না থাকে। ফলে লজ্জা তার ও পাপাচারের মাঝে ঈমানের ন্যায় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। কাযী আইয়াজ ও অন্যান্যরা বলেন: লজ্জা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্ত্বেও একে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ শরীয়তের বিধান অনুযায়ী এর যথাযথ ব্যবহারের জন্য সংকল্প, প্রচেষ্টা ও জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। আর লজ্জার পুরোটাই কল্যাণ এবং এটি কেবল কল্যাণই বয়ে আনে—এই কথাটিকে ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে; কারণ লজ্জা কখনো কখনো ব্যক্তিকে অন্যায়কারীর প্রতিবাদ করতে বাধা দেয় এবং কিছু হক আদায়ে ত্রুটি করতে প্ররোচিত করে। এর উত্তর হলো, এই হাদীসগুলোতে লজ্জা দ্বারা শরয়ী লজ্জা উদ্দেশ্য। আর যে সংকোচের কারণে হক আদায়ে ত্রুটি ঘটে, তা শরয়ী লজ্জা নয়, বরং তা অক্ষমতা ও ভীরুতা। শরয়ী লজ্জার সাথে বাহ্যিক সাদৃশ্য থাকার কারণে একে লজ্জা বলা হয়; প্রকৃতপক্ষে শরয়ী লজ্জা হলো এমন এক মহৎ চরিত্র যা মানুষকে মন্দ কাজ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করে। আমি বলি: হতে পারে এখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, লজ্জা যার স্বভাব হবে, তার মাঝে কল্যাণের ভাগই প্রবল হবে; ফলে হকের ব্যাপারে যে সামান্য ত্রুটি হতে পারে তা লজ্জার মাধ্যমে অর্জিত বিপুল কল্যাণের তুলনায় অতি নগণ্য হয়ে বিলীন হয়ে যাবে। অথবা লজ্জা যখন অভ্যাসে পরিণত হয় এবং ব্যক্তি তা চরিত্রে ধারণ করে, তখন তা কল্যাণ বয়ে আনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে লজ্জা সত্তাগতভাবে এবং কারণ হিসেবেও কল্যাণকর। আবু আব্বাস আল-কুরতুবী বলেন: অর্জিত লজ্জাকেই শরীয়ত প্রণেতা ঈমানের অংশ করেছেন এবং এটিই শরীয়ত কর্তৃক নির্দেশিত, স্বভাবজাত লজ্জা নয়। তবে যার মধ্যে স্বভাবজাত লজ্জা বিদ্যমান, তা তাকে অর্জিত লজ্জা লাভে সহায়তা করে। কখনও কখনও অর্জিত লজ্জা অভ্যাসে পরিণত হয়ে স্বভাবজাত রূপ ধারণ করে। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে উভয় প্রকার লজ্জারই পূর্ণ সমাবেশ ঘটেছিল; স্বভাবজাত লজ্জার দিক থেকে তিনি পর্দানশীন কুমারী নারীর চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন।
