ইসলামইসলামে নারী

ইসলামে মুতা বিবাহ বা হালাল যৌনচুক্তি প্রসঙ্গে

সারসংক্ষেপ

মুতা বা সাময়িক বিবাহ ছিল নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট বিনিময়ের ভিত্তিতে নারী-পুরুষের মধ্যে যৌনসম্পর্কের একটি চুক্তি, যার মেয়াদ শেষ হলে আলাদা তালাক ছাড়াই সম্পর্ক শেষ হয়ে যেত। বর্তমান সুন্নি ইসলামে এই প্রথা সাধারণভাবে হারাম বলে গণ্য হলেও ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুতা বৈধ ছিল—এটি সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ বহু হাদিসেই স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত। বিভিন্ন বর্ণনায় মুহাম্মদের সাহাবীদের মুতা করার অনুমতি দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নারীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং বিনিময় হিসেবে কাপড়, খেজুর বা ময়দার মতো সামান্য সম্পদ দেওয়ার বিবরণ পাওয়া যায়। কোনো কোনো বর্ণনায় তিন রাতের নির্দিষ্ট মেয়াদের কথাও সরাসরি এসেছে।

মুতা বৈধ করার পেছনে যে বাস্তব পরিস্থিতি ছিল, হাদিসগুলো সেটিও গোপন করেনি। যুদ্ধ ও দীর্ঘ অভিযানের সময় সাহাবীদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রীরা থাকতেন না; নারীসঙ্গের অভাবে তারা তাদের যৌন চাহিদা ও কষ্টের কথা জানালে মুহাম্মদ প্রথমে খোজা হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব নিষিদ্ধ করেন এবং পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নারীদের সঙ্গে বিবাহ বা মুতা করার অনুমতি দেন। ইবনে আব্বাসের বর্ণনাতেও নারীর স্বল্পতা ও প্রয়োজনকে এই অনুমতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মুতা কোনো পরবর্তী শিয়া উদ্ভাবন নয়; মুহাম্মদের যুগের সামরিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেই এর অনুমোদিত চর্চার শক্তিশালী বর্ণনা রয়েছে।

আরও বড় সমস্যা দেখা দেয় মুতা কখন এবং কার মাধ্যমে হারাম হলো, এই প্রশ্নে। একটি বর্ণনায় খায়বারের সময় নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, অথচ তার পরবর্তী মক্কা বিজয় এবং আওতাসের সময় আবার মুতা করার অনুমতির বর্ণনা পাওয়া যায়। আবার সহিহ মুসলিমে জাবির ইবন আবদুল্লাহর নামে স্পষ্টভাবে এসেছে যে মুহাম্মদের যুগে, আবু বকরের খেলাফতে এবং উমরের যুগের একটি অংশ পর্যন্ত সাহাবীরা মুতা করতেন; শেষ পর্যন্ত উমর তা নিষিদ্ধ করেন। ফলে “মুহাম্মদ একবার নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং বিষয়টি সেখানেই চিরতরে শেষ হয়ে যায়”—এই সরল বিবরণ হাদিসগুলোর সামগ্রিক চিত্রের সঙ্গে মেলে না। বিভিন্ন বর্ণনায় অনুমতি, নিষেধ, পুনরায় অনুমতি এবং আবার নিষেধ—একাধিক পর্যায় দেখা যায়।

মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রশ্নে সাহাবীদের মধ্যেও একরূপ অবস্থান ছিল না। ইবনে আব্বাস দীর্ঘ সময় এর বৈধতার পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন এবং তাঁর এই অবস্থানের কারণে ইবনে যুবায়ের তাঁকে প্রকাশ্যে আক্রমণ ও রজমের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। অন্যদিকে উমর তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেন এবং মুতা করলে রজমের হুমকি দেন। মুয়াত্তা মালিকের একটি বর্ণনায় উমরের নিজের বক্তব্য থেকেই দেখা যায়, তিনি বলেন—আগে থেকে ঘোষণা করা থাকলে মুতা করা ব্যক্তিকে রজম করতেন। এইসব বর্ণনা নিষেধাজ্ঞাটি মুহাম্মদের জীবদ্দশাতেই সর্বজনবিদিত ও নির্বিবাদ চূড়ান্ত বিধান হয়ে গিয়েছিল কি না—সে প্রশ্নকে আরও জটিল করে তোলে।

কোরআনের সূরা নিসা ৪:২৪-ও এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। আয়াতের “فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ” অংশকে প্রাথমিক যুগের একাধিক মুফাসসির মুতা বিবাহের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ইবনে কাসীরসহ সুন্নি তাফসিরেও স্বীকার করা হয়েছে যে ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুতা বৈধ ছিল। মওদুদিও সরাসরি বলেছেন, মুতা কোরআনের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে হারাম হয়নি; বরং তাঁর মতে সুন্নাহর মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়েছে। এর ফলে আরেকটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়ায়—কোরআনের একটি আয়াতের সঙ্গে যে প্রথার বৈধতার সম্পর্ক প্রাথমিক তাফসিরে পাওয়া যায়, সেটির নিষেধাজ্ঞা পরে কোন কর্তৃত্বে এবং কোন পর্যায়ে চূড়ান্ত হলো?

এই প্রবন্ধে আরও দেখানো হয়েছে, “মুতা” শব্দটি কখনো হজের তামাত্তু এবং কখনো সাময়িক বিবাহ—দুই অর্থেই ব্যবহৃত হওয়ায় কিছু বাংলা অনুবাদে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোর পূর্ণ প্রসঙ্গ পড়লে বহু ক্ষেত্রে নারী, বিবাহ, নির্দিষ্ট সময়, বিনিময় এবং রজমের হুমকি সরাসরি উপস্থিত; ফলে সেগুলোকে শুধু তামাত্তু হজ হিসেবে অনুবাদ করলে বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশই বিকৃত হয়ে যায়।

সবশেষে প্রবন্ধটির নৈতিক প্রশ্নটি আরও মৌলিক। যে কাজটি বর্তমান সুন্নি সমাজের অধিকাংশই হারাম, অশোভন বা অনৈতিক বলে মনে করে, সেই একই কাজ ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুহাম্মদের অনুমোদনে তাঁর সাহাবীরা করেছেন—এবং তা সহিহ হাদিসেই সংরক্ষিত। যদি কোনো কাজ এক সময়ে আল্লাহ ও মুহাম্মদের অনুমোদনে বৈধ এবং পরে একই কাজ হারাম হয়ে যায়, তাহলে ধর্মীয় নৈতিকতার তথাকথিত অপরিবর্তনীয় বা অবজেক্টিভ চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আর যদি আজ মুতা বিবাহকে অনৈতিক বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে একই নৈতিক মানদণ্ড মুহাম্মদের অনুমোদিত ও সাহাবীদের চর্চিত মুতার ওপর প্রয়োগ করা হবে কি না—প্রবন্ধটির শেষ প্রশ্ন মূলত সেটিই।


ভূমিকা

মুতা বিবাহকে ইসলামি পরিভাষায় “বিবাহ” বলা হলেও এর বাস্তব কাঠামো সাধারণ বিবাহের চেয়ে একটি অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের যৌনচুক্তির সঙ্গেই বেশি মেলে। একজন পুরুষ ও একজন নারী আগে থেকেই ঠিক করে নেয় কত সময় সম্পর্কটি থাকবে এবং এর বিনিময়ে নারী কী পাবে; নির্ধারিত সময় শেষ হলেই সম্পর্ক শেষ, আলাদা তালাকের প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক দাম্পত্যের মতো আজীবন সংসার, পারস্পরিক উত্তরাধিকার কিংবা স্থায়ী পারিবারিক দায়বদ্ধতা এখানে মূল বিষয় নয়। চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো নির্দিষ্ট সময়ের যৌনসম্পর্ক এবং তার বিনিময়। এই কারণেই মুতা বিবাহকে পতিতাবৃত্তির একটি ইসলামি বৈধ রূপ হিসেবে বর্ণনা করা অযৌক্তিক নয়—পার্থক্য হলো, এখানে একই ধরনের অর্থ-সময়-যৌনতার বিনিময়কে একটি ধর্মীয় চুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে।

হাদিসের বিবরণগুলো পড়লে এই চরিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়। কোথাও কয়েক রাতের জন্য সম্পর্ক, কোথাও একটি চাদরের বিনিময়, কোথাও এক মুঠো খেজুর বা ময়দার বিনিময়ে মুতা করার কথা এসেছে। নারী ও পুরুষের মধ্যে দরকষাকষি হচ্ছে, বিনিময় নির্ধারিত হচ্ছে, সময়সীমা ঠিক হচ্ছে, তারপর সেই মেয়াদ শেষ হলে সম্পর্কও শেষ হচ্ছে। “বিবাহ” শব্দটি ব্যবহার করলেই এই লেনদেনের প্রকৃতি বদলে যায় না। একজন যৌনকর্মীকে অর্থ দিয়ে এক রাতের জন্য যৌনসম্পর্ক করা এবং ধর্মীয় অনুমোদনের অধীনে একটি চাদর বা খাদ্যের বিনিময়ে তিন রাতের জন্য যৌনসম্পর্ক করা—নৈতিক কাঠামোর দিক থেকে এদের পার্থক্য কোথায়, সেটি প্রশ্ন করার যথেষ্ট কারণ আছে।

বর্তমান সুন্নি ইসলামের মূলধারায় মুতা হারাম বলে গণ্য হলেও এই বিষয়ে ইসলামী ঐতিহ্য কখনোই পুরোপুরি একরৈখিক ছিল না। ইসনা আশারিয়া শিয়ারা আজও মুতাকে বৈধ বিবাহ হিসেবে গ্রহণ করে। আবার সুন্নি ঐতিহ্যের ভেতরেও ইবনে আব্বাস, ইমরান ইবন হুসাইনসহ প্রাথমিক যুগের কয়েকজনের নামে এর বৈধতা অব্যাহত থাকার মত সংরক্ষিত হয়েছে; ফখরুদ্দীন আল-রাযীও সূরা নিসা ৪:২৪-এর আলোচনায় লিখেছেন যে বৃহৎ অংশ একে রহিত মনে করলেও অন্য একদল এর বৈধতা অব্যাহত ছিল বলে মত দিয়েছে। ফলে মুতা নিয়ে আসল প্রশ্ন শুধু “আজ সুন্নিরা কী বলে” নয়; বরং ইসলামের প্রাথমিক উৎসগুলো আসলে কী চিত্র সংরক্ষণ করেছে।

এই প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মুতা নিয়ে পরবর্তী ধর্মীয় অবস্থান যতই কঠোর হোক, সহিহ হাদিসের ভেতরেই এমন একটি সময়ের বিবরণ রয়েছে যখন মুহাম্মদ নিজেই সাহাবীদের এই সাময়িক যৌনচুক্তির অনুমতি দিয়েছেন এবং সাহাবীরা তা বাস্তবে করেছেন। তাই পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা দেখিয়ে প্রাথমিক বৈধতাকে মুছে ফেলা যায় না। বরং এখানেই নৈতিক প্রশ্নটি শুরু হয়: যে ব্যবস্থাকে আজ অশোভন, অনৈতিক বা পতিতাবৃত্তিসদৃশ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়, সেই ব্যবস্থাই যখন মুহাম্মদের অনুমোদনে ধর্মীয়ভাবে বৈধ ছিল, তখন ইসলামের তথাকথিত চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয় নৈতিকতার দাবিটি কতটা টেকে?


ইসলামে মুতা বিবাহের বর্তমান অবস্থান

মুতা বিবাহকে নিয়ে মুসলিমদের মধ্যেই একক অবস্থান নেই। বর্তমান সুন্নি ইসলামের মূলধারায় মুতা বিবাহ হারাম বলে গণ্য হয়। সাধারণ সুন্নি অবস্থান হলো—ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি বৈধ ছিল, পরে মুহাম্মদ তা নিষিদ্ধ করেন এবং সেই নিষেধাজ্ঞাই চূড়ান্ত। কিন্তু শিয়া ইসলামের বৃহৎ অংশ, বিশেষ করে ইসনা আশারিয়া বা বারো ইমামের অনুসারীরা, এই নিষেধাজ্ঞাকে চূড়ান্ত বলে মানেন না এবং মুতা বিবাহকে এখনো বৈধ মনে করেন। তাঁদের যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—মুতা মুহাম্মদের যুগে বৈধ ছিল এবং পরবর্তীতে উমর এটিকে নিষিদ্ধ করেন।

অন্যদিকে শিয়া ইসলামের সব শাখাও মুতা বৈধ বলে না। জায়েদি শিয়ারা সাধারণত সুন্নিদের মতোই মুতা বিবাহকে অবৈধ মনে করেন। ফলে “সুন্নিরা হারাম, শিয়ারা হালাল”—এমন সরল বিভাজনও পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তব চিত্র হলো, সুন্নি ইসলামের বৃহৎ অংশ এটিকে হারাম মনে করে; শিয়া ইসলামের বৃহৎ অংশ, বিশেষ করে ইসনা আশারিয়ারা, বৈধ মনে করে; আবার শিয়াদের মধ্যেও এমন শাখা রয়েছে যারা একে নিষিদ্ধ বলে।

মুতা নিয়ে মতভেদের আরেকটি দিক হলো, সাময়িক বা সীমিত দায়বদ্ধতার যৌনচুক্তি কেবল শিয়া ফিকহেই পাওয়া যায় না। সুন্নি সমাজেও মিসইয়ার নিকাহ এবং উর্ফি নিকাহ-এর মতো বিবাহরীতিকে বিভিন্ন আলেম বৈধতা দিয়েছেন। এগুলো মুতা নয়, কিন্তু স্থায়ী দাম্পত্যের প্রচলিত কাঠামো থেকে অনেকটাই আলাদা; বিশেষ করে মিসইয়ারে স্ত্রী অনেক ক্ষেত্রে বাসস্থান, নিয়মিত সহবাস, ভরণপোষণ বা স্বামীর সঙ্গে একত্রে বসবাসের কিছু অধিকার ছেড়ে দেন। ফলে ইসলামি বিবাহের বাস্তব কাঠামো একমাত্র “স্থায়ী স্বামী-স্ত্রীর সংসার” মডেলে সীমাবদ্ধ নয়। [1] [2]

এই মতভেদটিই পরবর্তী আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুতা আজ কোন মাজহাবে বৈধ বা অবৈধ—এটি প্রবন্ধের শেষ প্রশ্ন নয়। আসল প্রশ্ন হলো, ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি কী ছিল, মুহাম্মদ কী অনুমতি দিয়েছিলেন, সাহাবীরা কী করতেন, এবং পরে নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস কীভাবে তৈরি হলো। বর্তমান ফিকহি অবস্থানগুলো সেই পুরোনো বিতর্কের পরবর্তী ফল; প্রবন্ধের মূল আলোচ্য হলো তার উৎস।


মুতা বৈধ থাকার পক্ষে শিয়াদের যুক্তি

ইসনা আশারিয়া শিয়াদের কাছে মুতা কোনো পরবর্তী যুগের নতুন প্রথা নয়; তাদের দাবি হলো, এটি কোরআন ও মুহাম্মদের যুগে বৈধ হওয়া একটি বিধান, যেটিকে পরবর্তীতে উমর নিষিদ্ধ করেন। তাদের যুক্তির প্রথম ভিত্তি সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াত। “فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ” অংশটিকে তারা মুতা বিবাহের বিধান হিসেবে গ্রহণ করে। এই ব্যাখ্যা শুধু শিয়া তাফসিরেই নেই; ইবনে আব্বাস, উবাই ইবন কা’ব, সাঈদ ইবন জুবাইর, সুদ্দী ও মুজাহিদের নামেও এই আয়াতকে মুতার সঙ্গে যুক্ত করার বর্ণনা সুন্নি তাফসিরে সংরক্ষিত হয়েছে। প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে ইবনে কাসীরসহ সেই সূত্রগুলো সরাসরি দেখা যাবে।

শিয়াদের দ্বিতীয় প্রশ্ন আরও সরাসরি: কোরআনে মুতা বৈধ হয়ে থাকলে সেটি রহিত করল কোন আয়াত? সুন্নি ব্যাখ্যায় সাধারণত বলা হয়, মুহাম্মদের পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মুতার বৈধতা রহিত হয়েছে। কিন্তু শিয়ারা এই হাদিসগুলোর মধ্যকার সময়গত বিরোধকেই আপত্তির জায়গা হিসেবে তুলে ধরে। কোথাও খায়বারে নিষেধের কথা, আবার তার পরে মক্কা বিজয়ে অনুমতি, আওতাসে আবার অনুমতি ও নিষেধ—অর্থাৎ “একবার নিষিদ্ধ হয়ে চিরতরে শেষ” হওয়ার সরল ইতিহাস হাদিসগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায় না।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি আসে জাবির ইবন আবদুল্লাহর বর্ণনা থেকে। সহিহ মুসলিমে তাঁর নামে এসেছে, “আমরা রাসুলুল্লাহর যুগে এবং আবু বকরের যুগে এক মুঠো খেজুর বা ময়দার বিনিময়ে মুতা করতাম; শেষ পর্যন্ত উমর আমর ইবন হুরায়সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন।” অন্য বর্ণনায় জাবির বলেন, তাঁরা মুহাম্মদ, আবু বকর এবং উমরের যুগেও মুতা করেছেন। শিয়াদের প্রশ্ন তাই খুব সাধারণ: যদি মুহাম্মদ জীবদ্দশাতেই কিয়ামত পর্যন্ত মুতা হারাম করে দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর আবু বকরের খেলাফতে সাহাবীরা কীভাবে তা করলেন, এবং উমরের কেন আবার নতুন করে তা নিষিদ্ধ করতে হলো?

চতুর্থ যুক্তিটি উমরের নিজের অবস্থানকে কেন্দ্র করে। মুয়াত্তা মালিকে সংরক্ষিত বর্ণনায় উমর বলেন, তিনি যদি আগে বিষয়টি ঘোষণা করে রাখতেন তাহলে মুতা করা ব্যক্তিকে রজম করতেন। আবার অন্যান্য বর্ণনায় তাঁর আমলেই নারী-মুতা ও হজের তামাত্তু নিষিদ্ধ করার বক্তব্য পাওয়া যায়। শিয়া যুক্তিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: নিষেধটি যদি মুহাম্মদের সুপরিচিত ও চূড়ান্ত বিধানই হতো, তাহলে উমরের নিজের ঘোষণা, নিজের নিষেধ এবং “আগে ঘোষণা করলে শাস্তি দিতাম”—এই ভাষার প্রয়োজন কেন হলো?

এই কারণেই শিয়াদের সিদ্ধান্ত হলো—মুতা মুহাম্মদের যুগে বৈধ ছিল এবং বৈধ অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু ঘটে; পরবর্তী রাজনৈতিক-আইনগত নিষেধাজ্ঞাটি আসে উমরের কাছ থেকে। সুন্নিরা এই সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে এবং মুহাম্মদের নামে সংরক্ষিত নিষেধের হাদিসগুলোকে চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করে। কিন্তু বিতর্কটির আসল জায়গা এখানেই: একদিকে মুহাম্মদের নামে একাধিক নিষেধের বর্ণনা, অন্যদিকে তাঁর পরেও সাহাবীদের বাস্তব মুতা-চর্চা এবং শেষে উমরের প্রকাশ্য নিষেধ। এই দুই ধারার সংঘর্ষই মুতা বিতর্কের কেন্দ্র।


ইসলাম: নৈতিকতা নাকি নির্দেশনা

ধর্মগুলোর একটি প্রধান দাবি হচ্ছে, ধর্ম মানুষকে নৈতিকতার শিক্ষা দেয় এবং ধর্মীয় নৈতিকতা মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভরশীল নয়। অনেক ধর্মবিশ্বাসী এই নৈতিকতাকে অবজেকটিভ বা বস্তুনিষ্ঠ নৈতিকতা হিসেবে উপস্থাপন করেন—অর্থাৎ কোন কাজ ভাল বা মন্দ, তার সত্যতা মানুষের মতামত দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং একটি উচ্চতর নৈতিক সত্য বা ঐশ্বরিক কর্তৃত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়। একই ধরনের কাজ যদি এক সময়ে আল্লাহর নির্দেশে বৈধ হয় এবং অন্য সময়ে আবার আল্লাহর নির্দেশেই অবৈধ হয়ে যায়, তাহলে সেই কাজটির নৈতিক মূল্য আসলে কোথায় নিহিত? কাজটির নিজস্ব ভাল-মন্দ চরিত্রে, নাকি কেবল তখনকার ঐশ্বরিক নির্দেশে? ইসলামী বর্ণনায় কখনো ভাই-বোনের বিবাহকে বৈধ ধরে নেওয়া হয়েছে[3], কখনো মুতা বিবাহকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, আবার পরবর্তী সময়ে একই মুতা বিবাহকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে; নবীর ক্ষেত্রেও সাধারণ মুসলিমদের তুলনায় ভিন্ন বিবাহবিধান রাখা হয়েছে। ফলে এখানে আসল প্রশ্ন স্থান-কাল বদলেছে কি না, সেটি নয়; বরং একই কাজের নৈতিক অবস্থান কি কেবল নির্দেশের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে?

মুতা বিবাহের ক্ষেত্রেই সমস্যাটি খুব পরিষ্কার। মুহাম্মদ এক সময়ে এটিকে বৈধ করেছেন, সাহাবীরা তাঁর অনুমতিতে তা করেছেন, আবার অন্য সময়ে এর নিষেধের বর্ণনাও পাওয়া যায়। যদি বলা হয়, অনুমতির সময়ে মুতা নৈতিক ছিল কারণ আল্লাহ তা হালাল করেছিলেন, আর নিষেধের পরে একই কাজ অনৈতিক হলো কারণ আল্লাহ তা হারাম করেছেন, তাহলে এখানে নৈতিকতার মানদণ্ড কাজটির প্রকৃতি নয়; মানদণ্ড হচ্ছে নির্দেশ। অর্থাৎ প্রশ্নটি তখন আর “কাজটি নিজে ভাল না মন্দ?” থাকে না, বরং হয়ে যায় “এ মুহূর্তে আল্লাহ এটিকে হালাল বলেছেন না হারাম বলেছেন?” এই অবস্থানকে বস্তুনিষ্ঠ নৈতিকতার প্রমাণ বলা কঠিন; বরং এটি ঐশ্বরিক নির্দেশনির্ভর নৈতিকতা—যেখানে একই কাজের নৈতিক মর্যাদা নির্দেশদাতার আদেশ বদলানোর সঙ্গে বদলে যেতে পারে।

নৈতিকতা হলো একটি মানদণ্ড যা দ্বারা আমার এবং অন্যের জন্য কোনটি ভাল আর কোনটি মন্দ, তার পার্থক্য নির্ধারণ করা যায়। একে “সঠিকতা” বা “ন্যায্যতা”-ও বলা যায়।ইসলামে নৈতিকতা বা মোরালিটি বলতে তাহলে আসলে কী বোঝায়? কোনটি ভাল কোনটি মন্দ, সেটি; নাকি আল্লাহর নির্দেশে কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম সেটি? ইসলামে যদি নৈতিকতা বা মোরালিটি অর্থ এটি হয় যে, কোনটি ভাল আর কোনটি খারাপ, এবং সেটি যদি অবজেক্টিভলি ভাল বা খারাপ হয়, তাহলে মুহাম্মদ মুতা বিবাহকে বৈধ করে একটি খারাপ কাজের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাঁর সাহাবীগণ সেই অনুমতিতেই কাজটি করেছিলেন। আর ইসলামে নৈতিকতা বা মোরালিটি অর্থ যদি এটি হয় যে, আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন সেটি; আল্লাহ যা বলেছে সেটি ভাল কি মন্দ না দেখে সেটিই মানতে হবে; তাহলে তো সেটি আর নৈতিকতা বা মোরালিটি থাকে না। সেটি হয়ে যায় নির্দেশ পালন। নৈতিকতা বা মোরালিটি এবং নির্দেশ পালন তো ভিন্ন বিষয়।

অর্থাৎ ধর্ম আমাদের নৈতিকতা শেখায়, এটি একেবারেই ভুল কথা। ধর্ম আমাদের শেখায় কিতাব অনুসারে নির্দেশের অনুসরণ করাকে। যুক্তি তথ্য প্রমাণ বিচার বিবেচনা ছাড়াই দ্বিধাহীনভাবে ধর্মের দাবীগুলো মেনে নেয়া এবং সেই অনুসারে জীবন যাপনই ধর্ম পালন। অন্যদিকে নৈতিকতা বা মোরালিটি অর্থই হচ্ছে, প্রতিটি ঘটনা বা কাজকে যুক্তি তথ্য প্রমাণ দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যে, কাজটি বা ঘটনাটি আমার জন্য এবং অন্য মানুষের জন্য ভাল নাকি মন্দ। এটিই আসলে নৈতিকতার মানদণ্ড। ধর্ম তাই আমাদের নির্দেশনা পালন শেখায়, আর নৈতিকতার ধারণা আমরা লাভ করি আমাদের যুক্তিবোধ এবং জ্ঞান থেকে।


কোরআনে মুতা বিবাহের বৈধতা

সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর যারা করেছেন, মুহাম্মদের সাহাবী- তাবে তাবেইনদের মধ্যে যারা এই আয়াতের অর্থ বুঝেছেন, তারা অনেকেই এই আয়াতের সাথে মুতা বা মুত‘আ বিবাহের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। শুরুতেই আমরা সেই আয়াতটি পড়ে নিই। সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে [4]

নারীদের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীগণও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, কিন্তু তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বাদে, আল্লাহ এসব ব্যবস্থা তোমাদের উপর ফরয করে দিয়েছেন। তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের ছাড়া অন্যান্য সকল নারীদেরকে মোহরের অর্থের বদলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা সম্ভোগ করেছ, তাদেরকে তাদের ধার্যকৃত মোহর প্রদান কর। তোমাদের প্রতি কোনও গুনাহ নেই মোহর ধার্যের পরও তোমরা উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে মোহরের পরিমাণে হেরফের করলে, নিশ্চয় আল্লাহ সবিশেষ পরিজ্ঞাত ও পরম কুশলী।
Taisirul Quran
এবং নারীদের মধ্যে বিবাহিতগণ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে; কিন্তু তোমাদের ডান হাত যাদের অধিকারী – আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদেরকে বিধিবদ্ধ করেছেন, এতদ্ব্যতীত তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে অন্যান্য নারীদের; তোমরা স্বীয় ধনের দ্বারা ব্যভিচারের উদ্দেশ্য ব্যতীত বিবাহ করার জন্য তাদের অনুসন্ধান কর; অনন্তর তাদের দ্বারা যে ফল ভোগ করবে তজ্জন্য তাদেরকে তাদের নির্ধারিত দেয় প্রদান কর এবং কোন অপরাধ হবেনা যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পর সম্মত হও, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
Sheikh Mujibur Rahman
আর (হারাম করা হয়েছে) নারীদের মধ্য থেকে সধবাদেরকে। তবে তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (দাসীগণ) তারা ছাড়া। এটি তোমাদের উপর আল্লাহর বিধান এবং এরা ছাড়া সকল নারীকে তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে চাইবে বিবাহ করে, অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
Rawai Al-bayan
আর নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী (১) ছাড়া সব সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের জন্য এগুলো আল্লাহর বিধান। উল্লেখিত নারীগণ ছাড়া অন্য নারীকে অর্থব্যয়ে বিয়ে করতে চাওয়া তোমাদের জন্য বৈধ করা হল, অবৈধ যৌন সম্পর্কের জন্য নয়। তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা সম্ভোগ করেছ তাদের নির্ধারিত মাহ্‌র অর্পণ করবে (২)। মাহ্‌র নির্ধারণের পর কোনো বিষয়ে পরস্পর রাযী হলে তাতে তোমাদের কোনো দোষ নেই (৩)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
Dr. Abu Bakr Muhammad Zakaria

এই আয়াতটির আরবিও একইসাথে দেখে নিই,

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

উপরের আয়াতে যেই ইস্তামতাতুম (اسْتَمْتَعْتُمْ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, প্রখ্যাত তাবেঈ মুজাহিদ ইবন জাবরের মতে, এই শব্দটি দ্বারা মুতা বোঝানো হয়েছে, এবং এই আয়াতটি মুতার আয়াত। যা শিয়া মুসলমানদের একাংশও বলেন।। কারণ, এই শব্দটি মুত’আ (متعة) এর ভার্বাল ফর্ম। ভাল করে আয়াতটা পড়লে বোঝা যায়, এখানে কিছু একটি বিষয়ের কথা বলা হচ্ছে। খেয়াল করে পড়ুন, বলা হচ্ছে-

সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে ভোগ করেছ তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও। আর নির্ধারণের পর যে ব্যাপারে তোমরা পরস্পর সম্মত হবে তাতে তোমাদের উপর কোন অপরাধ নেই

নির্ধারণের পরে কোন বিষয়ে তারা সম্মত হচ্ছে? এই বিষয়টি ধীরে ধীরে এই লেখাটি যত এগুলোবে, আশা করি পাঠকের কাছে পরিষ্কার হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর

আসুন এবারে তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে খানিকটা পড়ে নিই, যেখানে বলা হচ্ছে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুতা বিবাহ বৈধ ছিল। পরবর্তীতে তা নিষিদ্ধ করা হয় [5]

‘তোমরা তাহাদিগকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করিবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্যে, ব্যভিচারের জন্যে নহে।’ অর্থাৎ তোমরা তাহাদিগকে অর্থের বিনিময়ে বধু হিসাবে চারটি পর্যন্ত লাভ করিতে পার। তবে দাসী গ্রহণের বেলায় নির্ধারিত কোন সংখ্যা নাই। অবশ্য তাহাও শরীআতের বিধানসম্মত হইতে হইবে। তাই আল্লাহ তা’আলা বলিয়াছেন, ‘বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে, ব্যভিচারের জন্যে নয়।’
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَأْتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً.
‘তাহাদের মধ্যে যাহাকে তোমরা ভোগ করিবে, তাহাকে তাহার নির্ধারিত হক দান করিবে।’ অর্থাৎ যাহাদিগকে ভোগ করিবে, তাহাদিগকে ভোগের বিনিময়ে মাহর দান করিবে।
যথা আল্লাহ তা’আলা অন্যস্থানে বলিয়াছেন:
وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ.
অর্থাৎ ‘কিরূপে তোমরা তাহা গ্রহণ করিবে? অথচ তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সান্নিধ্য গ্রহণ করিয়াছ।’
তিনি আরও বলিয়াছেন:
وَأْتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً.
অর্থাৎ ‘তোমরা খুশিমনে স্ত্রীদিগকে তাহাদের মাহর প্রদান কর।’
অন্যত্র তিনি বলিয়াছেন:
وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا.
অর্থাৎ ‘তোমরা স্ত্রীদিগকে যাহা কিছু প্রদান করিয়াছ, তাহা হইতে কিছু ফিরাইয়া নেওয়া তোমাদের জন্যে বৈধ নয়।’
এই আয়াতের সাধারণ অর্থ দ্বারা মুত’আ বিবাহের সমর্থনে দলীল গ্রহণ করা হইয়া থাকে। তবে এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ইসলামের প্রথম যুগে ইহা জায়েয ছিল ও পরে ইহা রহিত করা হয়।
ইমাম শাফিঈ (র) সহ আলিমদের একটি দল বলেন: মুত’আ একবার বৈধ করা হয়, কিন্তু তাহাও রহিত করা হয়। মোট কথা দুইবার বৈধ করা হইয়াছে এবং দুইবার রহিত করা হইয়াছে।
অপর একদল বলেন: ইহা কয়েকবার বৈধ করা হয় এবং কয়েকবার রহিত করা হয়।
আলিমদের অন্য একটি দল বলেন: ইহা একবার বৈধ করা হইয়াছিল এবং পরে ইহার বৈধতা রহিত করা হয়। অতঃপর ইহাকে বৈধ করা হয় নাই।
হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) সহ সাহাবাদের একটি দল হইতে বর্ণিত হইয়াছে যে, প্রয়োজন ও পরিস্থিতি সাপেক্ষে উহা জায়েয রহিয়াছে। ইমাম আহমদ (র) হইতেও উহা বর্ণিত হইয়াছে।
হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) উবাই ইব্‌ন কা’ব (রা), সাঈদ ইব্‌ন্ন জুবায়র (রা) এবং সুদ্দী প্রমুখের কিরাআতে রহিয়াছে:

فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَأْتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةِ অর্থাৎ এই কিরাআতে إلى أجل مسمى বাক্যটি বেশি রহিয়াছে।
মুজাহিদ (র) বলেন: ইহা মুত’আ বিবাহ সম্পর্কে অবতীর্ণ হইয়াছে। কিন্তু জমহুর এই মতের বিরোধী। তবে আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালিব (রা) হইতে সহীহদ্বয়ে বর্ণিত হাদীসটিই সর্বাপেক্ষা উত্তম। সেই হাদীসে আমীরুল মুমিনীন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) বলিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) খায়বার যুদ্ধের সময় মুত’আ বিবাহ করিতে এবং পালিত গাধার গোশত খাইতে নিষেধ করিয়াছেন।
রবী…… সাবুরা ইব্‌ন মা’বাদ জুহানী (রা) হইতে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হইয়াছে যে, সাবুরা ইব্‌ন মা’বাদ জুহানী (রা) বলিয়াছেন: তিনি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করিয়াছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) সকল জনতাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেনঃ হে লোক সকল! আমি তোমাদিগকে নারীদের সঙ্গে মুত’আ করার অনুমতি দিয়াছিলাম। এখন আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত পর্যন্ত উহা হারাম বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন। তোমাদের যাহাদের নিকট এই ধরনের স্ত্রী রহিয়াছে, তাহাদিগকে পরিত্যাগ কর। তবে এই ব্যাপারে তাহাদিগকে যাহা দিয়াছ, উহা হইতে কিছুই গ্রহণ করিবে না।
মুসলিমের অন্য রিওয়ায়াতে রহিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) ইহা বিদায় হজ্জের দিন বলিয়াছিলেন। ফিকহ এবং আহকামের কিতাবসমূহে এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হইয়াছে।
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলেন:
ولَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضِيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ
‘তোমাদের কোন পাপ হইবে না যদি মাহর নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও।’
এই আয়াত দ্বারা যাহারা মুত’আ বিবাহ উদ্দেশ্য নেন তাহারা অর্থ করেন যে, যখন নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হইবে, তখন পুনরায় বিনিময় বৃদ্ধি করিয়া মেয়াদ বৃদ্ধি করিয়া লওয়ায় কোন পাপ নাই।
সুদ্দী (র) বলেনঃ ইচ্ছা করিলে পূর্ব নির্ধারিত মাহরের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে সে বলিবে-আমি এত সময়ের জন্যে পুনরায় মুত’আ করিতেছি। আর গর্ভাশয়ের পবিত্রতার পূর্বে যদি বিনিময়ের সেই বেশি অংশটা নির্ধারিত করে নেয়, তবে সে মেয়াদও বৃদ্ধি করিয়া নিতে পারিবে।
আলোচ্য আয়াতাংশের ভাবার্থে সুদ্দী (র) আরও বলেন: যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে বিনিময় বৃদ্ধি না করে, তবে মেয়াদ বৃদ্ধি করার সুযোগ বিনষ্ট হইয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে সে পৃথক হইয়া যাইবে এবং এক ঋতুকাল অপেক্ষা করিয়া স্বীয় গর্ভাশয়কে পবিত্র করিয়া নিবে। পবিত্রতার পর আবার চুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হইবে। উল্লেখ্য যে, ইহারা একে অপরের উত্তরাধিকারী হয় না।
পক্ষান্তরে যাহারা বলেন, ইহা দ্বারা মাহর নির্ধারণের কথা বলা হইয়াছে, তাহারা ইহার সপক্ষে এই দলীল পেশ করেন : وَأَتُو النِّسَاءَ صَدَقَاتِهِنَّ نِحْلَةً -অর্থাৎ ‘তোমরা স্ত্রীদিগকে

মুতা
মুতা 1

এবারে আসুন নবীর প্রখ্যাত সাহাবী ইবনে আব্বাসের তাফসীর হিসেবে প্রচলিত তাফসীর গ্রন্থ থেকে এই আয়াতটির ব্যাখ্যা দেখে নিই [6]

২৪. এবং সধবা নারীও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তবে তোমাদের হাত যার মালিক হয়ে গেছে তার কথা ভিন্ন। এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ। এছাড়া আর সব নারী তোমাদের জন্য বৈধ যদি অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে চাও-কেবল মৌজ করার জন্য নয়। তারপর সে নারীদের মধ্যে যাকে তোমরা সম্ভোগ করেছ, তাকে তার স্থিরীকৃত মোহরানা দিয়ে দাও। আর স্থিরীকরণের পর তোমরা উভয়ে পারস্পরিক সন্তুষ্টিক্রমে যদি কিছু ঠিক করে নাও, তাতে কোন পাপ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
)وَالْمُحْصَنَتْ مِنَ النِّسَاء( এবং সধবা যাদের স্বামী আছে, নারী তোমাদের উপর হারাম ‘১।( )مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ কিন্তু যাদের তোমরা মালিক হয়েছ বন্দিনীদের মধ্য থেকে। তারা তোমাদের জন্য হালাল। যদিও দারুল হারবে তাদের স্বামী রয়েছে। এক হায়েযের দ্বারা তাদের গর্ভাশয় পবিত্র করে নেয়ার পর তারা হালাল হয়ে যাবে )كتب الله عَلَيْكُ( এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর বিধান অর্থাৎ আল্লাহর কিতাবে তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে সে সব নারী যাদের কথা তোমাদেরকে আমি উল্লেখ করেছি )وأحل لكم( আর তোমাদের জন্য বৈধ করা হল উল্লেখিত নারীগণ ছাড়া যাদের হারাম হওয়ার কথা তোমাদের উল্লেখ করেছি )أَنْ تَبْتَغُوا( তোমরা চাইবে বিয়ে করতে চাইবে )بأموالكُمْ( তোমাদের অর্থ ব্যয়ে চারজন পর্যন্ত।
আরো বলা হয়, তোমরা ক্রয় করবে তোমাদের অর্থ ব্যয়ে যেসব বাদী। আরো বলা হয়, তোমরা চাইবে তোমাদের অর্থ ব্যয়ে তাদের লজ্জাস্থান। অর্থাৎ মুতআ-এর মাধ্যমে পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে গিয়েছে।
)محصنين( বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া আল্লাহ্ বলছেন, তোমরা তাদের সঙ্গে থাক বিবাহিত অবস্থায় غیر( )صفحين অবৈধ যৌন সম্পর্ক নয় বিয়ে না করে যিনাকারী অবস্থায় নয়। )فما استمتعتم (به( অতঃপর যা তোমরা সম্ভোগ কর উপকার লাভ কর (4) তাদের মধ্য থেকে বিয়ের পরে )فأتوهن( তাদেরকে দিয়ে দাও প্রদান করো তাদেরকে )أجُورَهُ( তাদের বিনিময় তাদের মোহর পূর্ণভাবে )فريضة( নির্ধারিত হক আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর এই যে, তোমরা মোহর দাও পূর্ণভাবে। )وَلَأَجْنَاحَ عَلَيْكُمْ( আর কোন দোষ নেই তোমাদের ওপর এবং কোন দোষ নেই তোমাদের ওপর )فَيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ( এই ব্যাপারে তোমরা পরস্পর রাযী হলে অর্থাৎ মোহরের ব্যাপারে পারস্পরিক সম্মতিতে কমবেশী করলে মোহর من بعد(

মুতা 3

মুতা বিবাহ হালাল হওয়া

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, মুতা বিবাহ কি ইসলামে কখনো হালাল ছিল? এই বিষয়ে সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, মুতা বিবাহকে নবী মুহাম্মদ হালাল করেছিলেন। পরবর্তীতে একাধিকবার হারাম করেছিলেন, আবারো হালাল করেছিলেন। কিন্তু এটিও সত্য যে, এটি ইসলামে একসময়ে হালাল ছিল [7] [8] [9] [10]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৩। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) ও সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, আমাদের সামনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষক বেরিয়ে এসে বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মুত’আ বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৪। উমায়্যা ইবনু বিসতাম আল আয়শী (রহঃ) … সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন এবং আমাদের মুত’আর (সাময়িক বিবাহের) অনুমতি দিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সালামাহ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৮। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আয়্যাশ ইবনু সালামা (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওতাস যুদ্ধের বছর
তিন দিনের জন্য মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৩২. অবশেষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত‘আহ বিয়ে নিষেধ করেছেন।
৫১১৭-৫১১৮. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ এবং সালাম আকওয়া’ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমরা কোন এক সেনাবাহিনীতে ছিলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমাদেরকে মুত‘আহ বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা মুত‘আহ করতে পার। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

এমনকি, মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় প্রবেশকালেও মুতা বিবাহ বৈধ ছিল বলেই হাদিস থেকে জানা যায় [11] [12]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৯৪। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) … আবদুল মালিক ইবনু রাবী ইবনু সাবরা জুহানী (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমাদের মক্কায় প্রবেশকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত’আ বিবাহের অনুমতি দান করেন। তিনি আমাদের তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত (নারী সঙ্গ ত্যাগ করে) বের হয়ে আসি নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ রবী’ ইবন সাবরা জুহানী (রহঃ)

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৩২. অবশেষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত‘আহ বিয়ে নিষেধ করেছেন।
৫১১৯. ইবনু আবূ যিব বলেন, আয়াস ইবনু সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ তার পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে কোন পুরুষ এবং মহিলা উভয়ে (মুত‘আহ করতে) একমত হলে তাদের পরস্পরের এ সম্পর্ক তিন রাতের জন্য গণ্য হবে। এরপর তারা ইচ্ছে করলে এর চেয়ে অধিক সময় স্থায়ী করতে পারে অথবা বিচ্ছিন্ন হতে চাইলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা জানি না এ ব্যবস্থা শুধু আমাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, না সকল মানুষের জন্য ছিল।
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) বলেন, ‘আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা পরিষ্কার করে ব’লে দিয়েছেন, মুতা‘আ বিবাহ প্রথা রহিত হয়ে গেছে। (মুসলিম ১৬/২, হাঃ ১৪০৫) (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


মুতা বিবাহ হালাল হওয়ার কারণ

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পতিতাবৃত্তির মত এরকম একটি প্রথা ইসলামে হালাল কেন করা হয়েছিল? কী এমন ঘটনা ঘটেছিল, যার কারণে এরকম একটি বিষয়কে নবী হালাল করেছিলেন? আসুন পড়ে দেখি [13]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৩২. অবশেষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত‘আহ বিয়ে নিষেধ করেছেন।
৫১১৬. আবূ জামরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আমি মহিলাদের মুত‘আহ বিয়ে সম্পর্কে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, তখন তিনি তার অনুমতি দেন। তাঁর আযাদকৃত গোলাম তাঁকে বললেন যে, এরূপ হুকুম নিতান্ত প্রয়োজন ও মহিলাদের স্বল্পতা ইত্যাদির কারণেই ছিল? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হাঁ। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৪৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ জামরা (রহঃ)

উপরের হাদিসটি থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ মুতা বিবাহ হালাল করেছিলেন নারী স্বল্পতার কারণে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন গনিমতের মাল হিসেবে যুদ্ধবন্দী নারীরা মুহাম্মদের সৈন্যদের হস্তগত হয় নি, তাদের সাথে সহবত করা যায় নি, সেই সময়ে নবী মুতা বিবাহ হালাল করে দিয়েছিলেন। ইবনে হাজারের ব্যাখ্যায়, খায়বারের পর মুসলিমদের হাতে সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী নারী বৃদ্ধি পাওয়ায় মুতার আগের প্রয়োজন কমে যায়; এই প্রেক্ষাপটেই তিনি নিষেধাজ্ঞাটিকে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ নারীসঙ্গের প্রয়োজন অন্যভাবে পূরণ হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে মুতার প্রয়োজনও কমে যায়। বিনা পয়সায় যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণ করা গেলে পয়সা দিয়ে আর মুতা বিবাহের প্রয়োজনই বা কী [14] [15]!

মূল আরবি
وَسَيَأْتِي النَّقْلُ عَنْهُ فِي الرُّخْصَةِ فِي الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ فِي أَوَائِلِ كِتَابِ الْأَطْعِمَةِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ عَلِيٌّ فِي الْأَمْرَيْنِ مَعًا وَأَنَّ ذَلِكَ يَوْمُ خَيْبَرَ، فَإِمَّا أَنْ يَكُونَ عَلَى ظَاهِرِهِ، وَأَنَّ النَّهْيَ عَنْهُمَا وَقَعَ فِي زَمَنٍ وَاحِدٍ. وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ الْإِذْنُ الَّذِي وَقَعَ عَامَ الْفَتْحِ لَمْ يَبْلُغْ عَلِيًّا لِقِصَرِ مُدَّةِ الْإِذْنِ وَهُوَ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ كَمَا تَقَدَّمَ.
وَالْحَدِيثُ فِي قِصَّةِ تَبُوكَ عَلَى نَسْخِ الْجَوَازِ فِي السَّفَرِ؛ لِأَنَّهُ نَهَى عَنْهَا فِي أَوَائِلِ إِنْشَاءِ السَّفَرِ مَعَ أَنَّهُ كَانَ سَفَرًا بَعِيدًا، وَالْمَشَقَّةُ فِيهِ شَدِيدَةٌ كَمَا صَرَّحَ بِهِ فِي الْحَدِيثِ فِي تَوْبَةِ كَعْبٍ، وَكَانَتْ عِلَّةُ الْإِبَاحَةِ وَهِيَ الْحَاجَةُ الشَّدِيدَةُ انْتَهَتْ مِنْ بَعْدِ فَتْحِ خَيْبَرَ وَمَا بَعْدَهَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَالْجَوَابُ عَنْ قَوْلِ السُّهَيْلِيِّ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي خَيْبَرَ نِسَاءٌ يُسْتَمْتَعُ بِهِنَّ ظَاهِرٌ مِمَّا بَيَّنْتُهُ مِنَ الْجَوَابِ عَنْ قَوْلِ ابْنِ الْقَيِّمِ: لَمْ تَكُنِ الصَّحَابَةُ يَتَمَتَّعُونَ بِالْيَهُودِيَّاتِ، وَأَيْضًا فَيُقَالُ كَمَا تَقَدَّمَ لَمْ يَقَعْ فِي الْحَدِيثِ التَّصْرِيحُ بِأَنَّهُمُ اسْتَمْتَعُوا فِي خَيْبَرَ، وَإِنَّمَا فِيهِ مُجَرَّدُ النَّهْيِ، فَيُؤْخَذُ مِنْهُ أَنَّ التَّمَتُّعَ مِنَ النِّسَاءِ كَانَ حَلَالًا، وَسَبَبُ تَحْلِيلِهِ مَا تَقَدَّمَ فِي حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ حَيْثُ قَالَ: كُنَّا نَغْزُو وَلَيْسَ لَنَا شَيْءٌ – ثُمَّ قَالَ – فَرَخَّصَ لَنَا أَنْ نَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ، فَأَشَارَ إِلَى سَبَبِ ذَلِكَ وَهُوَ الْحَاجَةُ مَعَ قِلَّةِ الشَّيْءِ، وَكَذَا فِي حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ الَّذِي أَخْرَجَهُ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ بِلَفْظِ: إِنَّمَا رَخَّصَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُتْعَةِ لِعُزْبَةٍ كَانَتْ بِالنَّاسِ شَدِيدَةٍ، ثُمَّ نَهَى عَنْهَا، فَلَمَّا فُتِحَتْ خَيْبَرَ وَسَّعَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْمَالِ وَمِنَ السَّبْيِ فَنَاسَبَ النَّهْيُ عَنِ الْمُتْعَةِ؛ لِارْتِفَاعِ سَبَبِ الْإِبَاحَةِ، وَكَانَ ذَلِكَ مِنْ تَمَامِ شُكْرِ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَى التَّوْسِعَةِ بَعْدَ الضِّيقِ، أَوْ كَانَتِ الْإِبَاحَةُ إِنَّمَا تَقَعُ فِي الْمَغَازِي الَّتِي يَكُونُ فِي الْمَسَافَةِ إِلَيْهَا بُعْدٌ وَمَشَقَّةٌ، وَخَيْبَرُ بِخِلَافِ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهَا بِقُرْبِ الْمَدِينَةِ فَوَقَعَ النَّهْيُ عَنِ الْمُتْعَةِ فِيهَا إِشَارَةٌ إِلَى ذَلِكَ مِنْ غَيْرِ تَقَدُّمِ إِذْنٍ فِيهَا، ثُمَّ لَمَّا عَادُوا إِلَى سَفْرَةٍ بَعِيدَةِ الْمُدَّةِ، وَهِيَ غَزَاةُ الْفَتْحِ، وَشَقَّتْ عَلَيْهِمُ الْعُزُوبَةُ أَذِنَ لَهُمْ فِي الْمُتْعَةِ لَكِنْ مُقَيَّدًا بِثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَقَطْ؛ دَفْعًا لِلْحَاجَةِ، ثُمَّ نَهَاهُمْ بَعْدَ انْقِضَائِهَا عَنْهَا كَمَا سَيَأْتِي مِنْ رِوَايَةِ سَلَمَةَ.
وَهَكَذَا يُجَابُ عَنْ كُلِّ سَفْرَةٍ ثَبَتَ فِيهَا النَّهْيُ بَعْدَ الْإِذْنِ.
وَأَمَّا حَجَّةُ الْوَدَاعِ فَالَّذِي يَظْهَرُ أَنَّهُ وَقَعَ فِيهَا النَّهْيُ مُجَرَّدًا إِنْ ثَبَتَ الْخَبَرُ فِي ذَلِكَ؛ لِأَنَّ الصَّحَابَةَ حَجُّوا فِيهَا بِنِسَائِهِمْ بَعْدَ أَنْ وُسِّعَ عَلَيْهِمْ فَلَمْ يَكُونُوا فِي شِدَّةٍ وَلَا طُولِ عُزْبَةٍ، وَإِلَّا فَمَخْرَجُ حَدِيثِ سَبْرَةَ رَاوية هُوَ مِنْ طَرِيقِ ابْنِهِ الرَّبِيعِ عَنْهُ، وَقَدِ اخْتُلِفَ عَلَيْهِ فِي تَعْيِينِهَا؛ وَالْحَدِيثُ وَاحِدٌ فِي قِصَّةٍ وَاحِدَةٍ فَتَعَيَّنَ التَّرْجِيحُ، وَالطَّرِيقُ الَّتِي أَخْرَجَهَا مُسْلِمٌ مُصَرِّحَةٌ بِأَنَّهَا فِي زَمَنِ الْفَتْحِ أَرْجَحُ فَتَعَيَّنَ الْمَصِيرُ إِلَيْهَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
الْحَدِيثُ الثَّانِي.
قَوْلُهُ: (عَنْ أَبِي جَمْرَةَ) هُوَ الضُّبَعِيُّ بِالْجِيمِ وَالرَّاءِ، وَرَأَيْتُهُ بِخَطِّ بَعْضِ مَنْ شَرَحَ هَذَا الْكِتَابِ بِالْمُهْمَلَةِ وَالزَّايِ وَهُوَ تَصْحِيفٌ.
قَوْلُهُ: (سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يُسْأَلُ) بِضَمِّ أَوَّلِهِ.
قَوْلُهُ: (فَرَخَّصَ) أَيْ فِيهَا، وَثَبَتَتْ فِي رِوَايَةِ الْإِسْمَاعِيلِيِّ.
قَوْلُهُ: (فَقَالَ لَهُ مَوْلًى لَهُ) لَمْ أَقِفْ عَلَى اسْمِهِ صَرِيحًا، وَأَظُنُّهُ عِكْرِمَةَ.
قَوْلُهُ: (إِنَّمَا ذَلِكَ فِي الْحَالِ الشَّدِيدِ، وَفِي النِّسَاءِ قِلَّةٌ أَوْ نَحْوِهِ) فِي رِوَايَةِ الْإِسْمَاعِيلِيِّ: إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ فِي الْجِهَادِ وَالنِّسَاءُ قَلِيلٌ.
قَوْلُهُ: (فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: نَعَمْ) فِي رِوَايَةِ الْإِسْمَاعِيلِيِّ صَدَقَ. وَعِنْدِ مُسْلِمٍ مِنْ طَرِيقِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَوِ ابْنِ أَبِي عُمْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ: قَالَ رَجُلٌ – يَعْنِي لِابْنِ عَبَّاسٍ، وَصَرَّحَ بِهِ الْبَيْهَقِيُّ فِي رِوَايَتِهِ – إِنَّمَا كَانَتْ – يَعْنِي الْمُتْعَةَ – رُخْصَةً فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ لِمَنِ اضْطُرَّ إِلَيْهَا؛ كَالْمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ، وَيُؤَيِّدُهُ مَا أَخْرَجَهُ الْخَطَّابِيُّ، وَالْفَاكِهِيُّ مِنْ طَرِيقِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ لَقَدْ سَارَتْ بِفُتْيَاكَ الرُّكْبَانُ، وَقَالَ فِيهَا الشُّعَرَاءُ، يَعْنِي فِي الْمُتْعَةِ. فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا بِهَذَا أَفْتَيْتُ، وَمَا هِيَ إِلَّا كَالْمَيْتَةِ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِلْمُضْطَرِّ.
وَأَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَزَادَ فِي آخِرِهِ: أَلَا إِنَّمَا هِيَ كَالْمَيْتَةِ وَالدَّمِ وَلَحْمِ الْخِنْزِيرِ. وَأَخْرَجَهُ مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْمَعْرُوفُ بِوَكِيعٍ فِي كِتَابِ الْغُرَرِ مِنَ الْأَخْبَارِ بِإِسْنَادٍ أَحْسَنَ مِنْهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ بِالْقِصَّةِ، لَكِنْ لَيْسَ فِي آخِرِهِ قَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ الْمَذْكُورُ.
وَفِي حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ الَّذِي أَشَرْتُ
বাংলা অনুবাদ
ফাতহুল বারী
খন্ডঃ 9 | পৃষ্ঠাঃ 171
গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণের অনুমতির বিষয়ে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি আহার অধ্যায়ের (কিতাবুল আতইমাহ) প্রারম্ভে আসবে। আলী (রা.) উভয় বিষয়েই (গাধা ও মুতআ) তাঁকে উত্তর দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে, তা খায়বরের যুদ্ধের দিন নিষিদ্ধ হয়েছিল। হয় এটি তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর ভিত্তি করে হবে যে, উভয় বিষয়ের নিষেধাজ্ঞা একই সময়ে কার্যকর হয়েছিল; অথবা এমনও হতে পারে যে, মক্কা বিজয়ের বছর মুতআর যে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা আলীর (রা.) কাছে পৌঁছেনি। কারণ সেই অনুমতির মেয়াদ ছিল অত্যন্ত স্বল্প—মাত্র তিন দিন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
আর তাবুকের যুদ্ধের ঘটনার হাদীসটি সফর অবস্থায় মুতআ বৈধ হওয়ার বিধান রহিত হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কারণ তিনি (সা.) সফরের শুরুতেই তা নিষেধ করেছিলেন, যদিও সেটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী সফর এবং তাতে কষ্ট ছিল অত্যন্ত তীব্র, যেমনটি কা’ব ইবনে মালিকের তাওবার হাদীসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর মুতআ বৈধ হওয়ার যে কারণ ছিল—অর্থাৎ তীব্র অভাব ও প্রয়োজন—তা খায়বর বিজয় ও পরবর্তী সময়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।
সুহাইলীর এই উক্তির জবাব—যে খায়বরে উপভোগ করার মতো কোনো নারী ছিল না—ইবনে কাইয়্যিমের উক্তির জবাবে আমি যা স্পষ্ট করেছি তা থেকেই প্রতীয়মান হয়। ইবনে কাইয়্যিম বলেছিলেন: সাহাবীগণ ইহুদী নারীদের সাথে মুতআ করতেন না। এছাড়া আরও বলা যেতে পারে যে, পূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে, হাদীসে স্পষ্টভাবে এটি আসেনি যে তাঁরা খায়বরে মুতআ করেছিলেন; বরং সেখানে কেবল নিষেধাজ্ঞার কথা এসেছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, নারীদের সাথে মুতআ করা (পূর্বে) হালাল ছিল। এর হালাল হওয়ার কারণ ইবনে মাসউদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন: “আমরা যুদ্ধ করতাম অথচ আমাদের সাথে কিছুই ছিল না।” তারপর তিনি বললেন, “অতঃপর তিনি আমাদের একটি কাপড়ের বিনিময়ে নারীকে বিবাহ (মুতআ) করার অনুমতি দিয়েছিলেন।” তিনি এর কারণ হিসেবে অভাব ও প্রয়োজনীয় আসবাবের স্বল্পতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
তদ্রূপ সহল ইবনে সা’দ-এর হাদীসেও রয়েছে, যা ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন: “নবী (সা.) মানুষের তীব্র একাকীত্বের (অবিবাহিত অবস্থা) কারণে মুতআর অনুমতি দিয়েছিলেন, অতঃপর তা নিষেধ করেন।” যখন খায়বর বিজিত হলো, তখন আল্লাহ তাঁদের জন্য সম্পদ ও যুদ্ধবন্দিনীর প্রাচুর্য দান করলেন। ফলে মুতআ নিষিদ্ধ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত ছিল, কারণ বৈধতার কারণটি দূরীভূত হয়েছিল। এটি ছিল সংকীর্ণতার পর সচ্ছলতা দানের জন্য আল্লাহর নেয়ামতের পূর্ণাঙ্গ শুকরিয়া স্বরূপ। অথবা মুতআর বৈধতা কেবল সেই সকল যুদ্ধাভিযানে দেওয়া হতো যেখানে দূরত্ব ছিল অনেক এবং কষ্ট ছিল তীব্র।
খায়বরের বিষয়টি এর বিপরীত ছিল, কারণ এটি মদীনার নিকটবর্তী ছিল। তাই সেখানে কোনো পূর্ববর্তী অনুমতি ছাড়াই মুতআ নিষিদ্ধ হওয়া এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে। পরবর্তীতে যখন তাঁরা সুদীর্ঘ সময়ের সফরে বের হলেন—অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের যুদ্ধ—এবং তাঁদের ওপর একাকীত্ব কষ্টদায়ক হয়ে উঠল, তখন তিনি তাঁদেরকে মুতআর অনুমতি দিলেন; তবে তা কেবল তিন দিনের জন্য সীমিত ছিল অভাব পূরণের লক্ষে। অতঃপর সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি পুনরায় তা নিষেধ করেন, যেমনটি সামনে সালামাহ-এর বর্ণনায় আসবে।
এভাবেই সেই প্রতিটি সফরের জবাব দেওয়া হবে যেগুলোতে অনুমতির পর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
আর বিদায় হজ্জের বিষয়ে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যদি সেখানে নিষেধাজ্ঞার বর্ণনাটি প্রমাণিত হয়, তবে তা ছিল কেবল পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞার স্মারকস্বরূপ। কারণ সাহাবীগণ তখন সচ্ছল অবস্থায় তাঁদের স্ত্রীদের নিয়ে হজ্জ করেছিলেন, ফলে কোনো অভাব বা দীর্ঘ একাকীত্ব সেখানে ছিল না। অন্যথায়, সাবরা-এর হাদীসের সূত্র তাঁর পুত্র রবী’র মাধ্যমে বর্ণিত। কিন্তু সেটি কোন সময়ের ঘটনা ছিল তা নির্ধারণে মতভেদ রয়েছে। ঘটনাটি যেহেতু একটিই, তাই এখানে প্রাধান্য (তারজীহ) দেওয়া আবশ্যক। আর মুসলিম যে বর্ণনাটি মক্কা বিজয়ের সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে উদ্ধৃত করেছেন, সেটিই অধিক বিশুদ্ধ; ফলে সেটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক। আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয় হাদীস।
তাঁর উক্তি: (আবু জামরা থেকে) তিনি হলেন আদ-দুবাইয়ী—জীম ও রা বর্ণযোগে। আমি এই গ্রন্থের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারকের হস্তলিপিতে এটি সিন (মুহমালাহ) ও যা বর্ণযোগে দেখেছি, যা মূলত লেখনীগত ভুল (তাসহিফ)।
তাঁর উক্তি: (আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি) এখানে ক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে (পড়তে হবে)।
তাঁর উক্তি: (অতঃপর তিনি অনুমতি দিলেন) অর্থাৎ মুতআ করার বিষয়ে। ইসমাঈলীর বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
তাঁর উক্তি: (তাঁর এক গোলাম তাঁকে বলল) আমি তাঁর নাম স্পষ্টভাবে জানতে পারিনি, তবে আমার ধারণা তিনি ইকরিমা।
তাঁর উক্তি: (এটি কেবল তীব্র অভাবের অবস্থায় এবং যখন নারীর স্বল্পতা থাকে অথবা তদ্রূপ কিছু) ইসমাঈলীর বর্ণনায় রয়েছে: “এটি কেবল জিহাদের সময় ছিল যখন নারীর সংখ্যা ছিল কম।”
তাঁর উক্তি: (ইবনে আব্বাস বললেন: হ্যাঁ) ইসমাঈলীর বর্ণনায় রয়েছে: “সে সত্য বলেছে।” আর মুসলিমের বর্ণনায় যুহরীর সূত্রে খালিদ ইবনে মুহাজির অথবা ইবনে আবী আমরাহ আনসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে: এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে বললেন—বায়হাকী তাঁর বর্ণনায় স্পষ্ট করেছেন—”মুতআ কেবল ইসলামের শুরুতে নিরুপায় ব্যক্তির জন্য অনুমতি (রুখসা) ছিল, যেমনটি মৃত প্রাণী, রক্ত এবং শুকরের গোশত (নিরুপায় অবস্থায় বৈধ)।” খাত্তাবী ও ফাকীহী সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম, আপনার ফতোয়া তো দেশময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং কবিরা এ নিয়ে (মুতআ বিষয়ে) কবিতাও রচনা করেছে। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি এমন ফতোয়া দেইনি। এটি তো মৃত প্রাণীর মতো, যা নিরুপায় ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য হালাল নয়।”
বায়হাকী অন্য সূত্রে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শেষে যোগ করেছেন: “জেনে রেখো, এটি মৃত প্রাণী, রক্ত ও শুকরের গোশতের মতোই।” মুহাম্মদ ইবনে খালাফ (যিনি ওয়াকী’ নামে পরিচিত) তাঁর ‘আল-গুরার মিনাল আখবার’ গ্রন্থে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে আরও উত্তম সনদে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে শেষে ইবনে আব্বাসের এই উক্তিটি নেই।
আর সহল ইবনে সা’দ-এর যে হাদীসের দিকে আমি ইঙ্গিত করেছি…

অর্থাৎ নারীসঙ্গের প্রয়োজন তৈরি হলে মুতা হালাল, সেই প্রয়োজন অন্যভাবে মিটে গেলে হারাম, আবার প্রয়োজন তৈরি হলে পুনরায় হালাল, সুন্নি ব্যাখ্যার ভেতরেই এমন একটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে [16]। আসুন আরো কিছু হাদিস পড়ি [17] [18]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮০। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র আল হামদানী (রহঃ) … কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম এবং আমাদের সঙ্গে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না। আমরা বললাম, আমরা কি খাসী হব না? তিনি আমাদের তা থেকে নিষেধ করলেন। তারপর তিনি পরিধেয় বস্ত্র দানের বিনিময়ে আমাদের নির্দিষ্ট কালের জন্য নারীদের বিবাহ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রাঃ) পাঠ করলেনঃ “হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন, সেই সমুদয়কে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালংঘন করো না আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা মায়িদাঃ ৮৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ক্বায়স বিন আবু হাযিম (রহ.)

সুনান ইবনু মাজাহ
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৯/৪৪. মুত‘আ বিবাহ নিষিদ্ধ।
২/১৯৬২। সাবরাহ্ (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বিদায় হাজ্জে রওয়ানা হলাম। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! স্ত্রীহীন অবস্থায় থাকা আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন : তাহলে তোমরা এসব মহিলার সাথে মুত‘আ করো (সাময়িকভাবে উপকৃত হও)। অতএব আমরা তাদের সান্নিধ্যে পৌঁছলাম, কিন্তু তারা আমাদের এবং তাদের মাঝে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ ব্যতীত আমাদের সঙ্গে বিবাহ বসতে অস্বীকার করলো। সাহাবীগণ বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, তাহলে তোমাদের ও তাদের মাঝে মেয়াদ নির্দিষ্ট করে নাও।
অতএব আমি ও আমার এক চাচাত ভাই (এই উদ্দেশে) বের হলাম। তার সাথে ছিল একটি চাদর এবং আমার সাথেও ছিল একটি চাদর। তার চাদরটি ছিল আমার চাদর থেকে বেশি সুন্দর। আর আমি ছিলাম তার চাইতে অধিক যুবক। আমরা দু’জন এক নারীর নিকট আসলাম। সে বললো, চাদর দু’টি তো একই মানের। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম এবং তার কাছেই ঐ রাত কাটালাম। ভোরে আমি ফিরে এলাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বা ঘরের দরজা ও রুকনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলছিলেন : হে লোকসকল! আমি তোমাদের মুত‘আ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। এখন তোমরা শুনে নাও যে, আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত এই প্রকার বিবাহ হারাম করেছেন। অতএব তোমাদের কারো কাছে এ ধরণের কোন নারী থাকলে সে যেন তাকে ছেড়ে দেয় এবং তোমরা তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো তা থেকে কিছুই ফেরত নিও না।
মুসলিম ১৪০৬, নাসায়ী ৩৩৬৮, আবূ দাউদ ২০৭২, ২০৭৩, আহমাদ ১৪৯১৩, ১৪৯২১, দারেমী ২১৯৫, ২১৯৬, ইরওয়াহ ১৯০১, ১৯০২, সহীহাহ ৩৮১, সহীহ আবী দাউদ ১৮০৮।
তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, কিন্তু বিদায় হাজ্জের কথাটি শায, মাক্কাহ বিজয়ে কথাটি সংরক্ষিত। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল আযিয বিন উমার সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু হাফস উমার বিন শাহীন ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু মুসহির আল গাসসানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস ভুল সন্দেহ করেন। ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবুল আলা বিন মুসহির বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৬৪, ১৮/১৭৩ নং পৃষ্ঠা)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ রবী ইবনু সাবীহ (রহঃ)


নবীর সাহাবীগণ মুতা বিবাহ করতেন

অসংখ্য হাদিস এবং অসংখ্য তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদের অনেক সাহাবীই মুতা বিবাহ চর্চা করতেন, এমনকি নবীর নির্দেশেই তারা মুতা বিবাহ করতেন। আসুন কয়েকটি হাদিস দেখে নিই [19] [20] [21]

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৬/ নিকাহ (বিবাহ)
পরিচ্ছেদঃ ৭১. মুত’আ হারাম হওয়া সম্পর্কে
৩৩৭১. কুতায়বা (রহঃ) … রবী’ ইবন সাবরা জুহানী (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত’আর অনুমতি দিলে আমি আর এক ব্যক্তি বনূ আমরের এক মহিলার নিকট গেলাম এবং তার নিকট আমাদের নিজেদের উপস্থাপন করলাম। সে বললোঃ আমাকে কি দেবে? আমি বললামঃ আমার চাদর। আমার সাথীও বললেন, আমার চাদর দিব। আর আমার সাথীর চাদরখানা ছিল আমার চাদর হতে উত্তম। আর আমি ছিলাম আমার সাথী হতে অধিক যুবক। যখন সে আমার সাথীর চাদরের প্রতি লক্ষ্য করলো, তখন ঐ চাদর তার নিকট ভাল লাগল। আর যখন আমার দিকে লক্ষ্য করলো, তখন আমি তার চোখে ভালবোধ হলাম। এরপর সে বললঃ তুমি এবং তোমার চাদরই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি তার সঙ্গে তিন রাত অবস্থান করলাম, পরবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার নিকট এ মুত’আর নারী আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় (মুক্ত করে দেয়)।
তাহক্বীকঃ সহীহ। ইবন মাজাহ ১৯৬২, ইরওয়া ১৯০১, ১৯০২, সহীহাহ ৩৮১।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ রবী’ ইবন সাবরা জুহানী (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৯৫। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … সাবরা ইবনু মা’বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর তাঁর সাহাবীগণকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুতআর অনুমতি দেন। সাবরা (রাঃ) বলেন, তখন আমি এবং সুলায়ম গোত্রের আমার এক সাথী বের হয়ে পড়লাম এবং শেষ পর্যন্ত আমির গোত্রের এক যুবতীকে পেয়ে গেলাম। সে জোয়ান উষ্ট্রীর ন্যায়। আমরা তার নিকট মুত’আ বিবাহের প্রস্তাব দিলাম এবং আমাদের চাঁদর তার সামনে পেশ করলাম। তখন সে তাকিয়ে দেখল এবং আমাকে আমার সঙ্গীর তুলনায় সুন্দর দেখতে পেল, অপরদিকে আমার চাঁদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাঁদর উৎকৃষ্টতর দেখল। সে মনে মনে কিছুক্ষণ চিন্তা করল তারপর আমার সঙ্গীর চাইতে আমাকে অগ্রাধিকার দিল। তারা আমাদের সাথে তিন থাকল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পরিত্যাগ করতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাবরাহ বিন মা’বাদ আল জুহনী (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত্’আহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং তা কিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে
৩৩১১-(২০/…) আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ….. রাবী’ ইবনু সাবরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তার পিতা মাক্কাহ্ (মক্কা) বিজয়াভিযানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমরা তথায় ১৫ দিন অর্থাৎ পূর্ণ ১৩ দিন এবং এক দিন ও এক রাত অবস্থান করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত্’আর অনুমতি দিলেন। তখন আমি ও আমার গোত্রের এক ব্যক্তি বেরিয়ে পড়লাম। আমি তার তুলনায় আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী ছিলাম এবং সে ছিল প্রায় কুৎসিত। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাঁদর ছিল। আমার চাঁদরটি ছিল পুরাতন এবং আমার চাচাতো ভাইয়ের চাঁদরটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন। অবশেষে আমরা মাক্কার (মক্কার) নিম্নভূমিতে অথবা উচ্চভূমিতে পৌছে একটি যুবতী মেয়ের সাক্ষাৎ পেলাম, যাকে দেখতে অনেকটা উঠতি বয়সের চালাক এবং লম্বাঘাড় বিশিষ্ট উষ্ট্রীর মত।
আমরা প্রস্তাব দিলাম, আমাদের দু’জনের কারো সাথে তোমার মুত্র’আহ বিবাহ কি সম্ভব? সে বলল, তোমরা কী বিনিময় দিবে? তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ চাঁদর মেলে ধরল। সে তাদের উভয়ের দিকে তাকাতে লাগল। আমার সঙ্গীও তার দিকে তাকাল। যখন স্ত্রীলোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, তার এ চাঁদর পুরাতন এবং আমার চাঁদর একেবারে নতুন। স্ত্রীলোকটি তিনবার কি দু’বার বলল, তার চাঁদরটি গ্রহণে কোন ক্ষতি নেই।
অতঃপর আমি তাকে মুত’আহ বিবাহ করলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা হারাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত ফিরে আসিনি।। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮৬, ইসলামীক সেন্টার ৩২৮৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ রবী’ ইবন সাবরা জুহানী (রহঃ)


“মুতা” না “তামাত্তু”: একই শব্দ, দুই ভিন্ন বিষয়

হাদিস পড়ার সময় একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—আরবি متعة শব্দটি সব জায়গায় নারী-মুতা বা সাময়িক বিবাহ বোঝায় না। হজের একটি পদ্ধতিকেও “মুতআতুল হাজ্জ” বা তামাত্তু বলা হয়। ফলে কোনো হাদিসে শুধু “মুতা” শব্দ পাওয়া গেলেই সেটিকে মুতা বিবাহ ধরে নেয়া যেমন ভুল, তেমনি নারী, সময়সীমা, বিনিময় ও যৌনসম্পর্কের স্পষ্ট প্রসঙ্গ থাকা সত্ত্বেও সেটিকে হজের তামাত্তু বানিয়ে ফেলাও ভুল। প্রতিটি বর্ণনা তার পূর্ণ প্রসঙ্গ দিয়েই পড়তে হবে।

মুসনাদে আহমাদের উমর ও আবু মূসা-সংক্রান্ত যে বর্ণনাগুলোতে “মুতা”কে নবীর সুন্নত বলা হয়েছে, সেখানে হজ, ইহরামমুক্ত হওয়া, স্ত্রীসঙ্গ এবং পরে মাথা থেকে গোসলের পানি ঝরতে ঝরতে হজে যাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে। ফলে এই নির্দিষ্ট বর্ণনাগুলো হজের তামাত্তু নিয়ে; নাকি মুহাম্মদ ব্যক্তিগতভাবে কোনো নারীকে মুতা বিবাহ করেছিলেন, সেটি শতভাগ নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না। কিছু অনুবাদে দেখা যাচ্ছে, অনুবাদকগণ একে নবী নিজেই মুতা বিবাহ করেছিলেন বলে উল্লেখ করছেন [22] [23]

মুসনাদে আহমাদ
মুসনাদে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (উমারের বর্ণিত হাদীস)
পরিচ্ছেদঃ
৩৫১। আবু মূসার ছেলে ইবরাহীম বর্ণনা করেন, আবু মূসা (রাঃ) মুত’আ (অস্থায়ী) বিয়ের পক্ষে ফতোয়া দিতেন। এক ব্যক্তি আবু মূসাকে বললেন, আপনার কিছু কিছু ফতোয়া নিয়ে একটু ধীরে চলুন। কারণ আপনার পরে আমীরুল মু’মিনীন হজ্জের ব্যাপারে কী নতুন ধারা প্রবর্তন করেছেন তা আপনি জানেন না। অবশেষে আবু মূসা উমার (রাঃ) এর সাথে দেখা করে জিজ্ঞাসা করলেন। উমার (রাঃ) তাকে বললেনঃ আমি অবহিত হয়েছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ এটা করেছেন। তবে আমার কাছে এটা অপছন্দনীয় যে, লোকেরা তাদের (মুত’আ বিয়ের) স্ত্রীদের সাথে বাসর করতে থাকবে, আর হজ্জে যাবে এমন অবস্থায় যে, তখনো তাদের মাথার চুল গড়িয়ে ফোটা ফোটা পানি টপকাচ্ছে।
(মুসলিম-১২২২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

মুসনাদে আহমাদ
মুসনাদে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (উমারের বর্ণিত হাদীস)
পরিচ্ছেদঃ
৩৪২। আবু মূসা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, উমার (রাঃ) বলেছেনঃ ওটা অর্থাৎ মুত’আ (অস্থায়ী বিয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। তবে আমার আশঙ্কা হয় যে, লোকেরা এই সব স্ত্রীকে নিয়ে বাবলা গাছের নিছে বাসর করবে, তারপর তাদেরকে নিয়ে হজ্জে যাবে।
(হাদীস নং ৩৫১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আসুন সরাসরি মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থ থেকেও সরাসরি হাদিস দুইটি দেখে নিই [24]

মুতা
মুতা বিবাহ
মুতা 7

কিন্তু এখানেই উল্টো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি হয়। একই “মুতা” শব্দ হজ ও নারী—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হওয়ায় অনুবাদক যদি প্রসঙ্গকে ঠিকভাবে আলাদা করতে না পারেন, এখানে কোনো সমস্যা রয়েছে তা পরিষ্কার বোঝা যায়।


তামাত্তু হজের আড়ালে মুতা বিবাহ?

একই “মুতা” শব্দ হজের তামাত্তু এবং নারীদের সাময়িক বিবাহ, দুই অর্থে ব্যবহৃত হওয়ায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়, একইসাথে কিছু লুকোছাপার ব্যাপারও চলে আসে। কোনো কোনো জায়গায় “মুতা”কে তামাত্তু হজ হিসেবে অনুবাদ করা একেবারেই সঠিক, কারণ প্রসঙ্গটিই হজ। কিন্তু সমস্যা হয় যখন একই বর্ণনার পরের অংশে সরাসরি নারীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মুতা বিবাহের কথা থাকা সত্ত্বেও পাঠকের সামনে প্রথম “তামাত্তু” অর্থটিই এত জোর দিয়ে হাজির করা হয় যে দুই ভিন্ন মুতার পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে যায়।

সহিহ মুসলিমের নিচের বর্ণনাটি এর একটি অসাধারণ উদাহরণ। শুরুতে ইবনে আব্বাস ও ইবনে যুবায়েরের মতবিরোধের বিষয় হলো তামাত্তু হজ; জাবিরও বলেন, তাঁরা মুহাম্মদের সঙ্গে তামাত্তু হজ করেছেন। কিন্তু উমরের বক্তব্য এগোতেই বিষয়টি বদলে যায়। তিনি আলাদাভাবে বলেন, যে পুরুষকে নির্দিষ্ট সময়ের শর্তে কোনো নারীকে মুতা বিবাহ করতে পাওয়া যাবে, তাকে তিনি রজম করবেন। অর্থাৎ একই বর্ণনার মধ্যে প্রথম “মুতা” হজের, দ্বিতীয় “মুতা” নারীর। এই পার্থক্যটি বাদ দিলে বা দুইটিকেই একই অর্থে অনুবাদ করলে হাদিসের বক্তব্যই বিকৃত হয়ে যায়।

[25] [26]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৬। হজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ১৮. হজ্জ উমরাতে উপভোগ করা প্রসঙ্গে
হাদিস একাডেমি নাম্বারঃ ২৮৩৭, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ১২১৭
২৮৩৭-(১৪৫/১২১৭) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ….. আবূ নাযরাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তামাত্তু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করেছি। উমার (রাযিঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ তা’আলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ তা’আলার উদ্দেশে হাজ্জ ও উমরাহ সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্’আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছে- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুত’আর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮১৪, ইসলামীক সেন্টার ২৮১২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

মুতা 9

মুহাম্মদ ও আবু বকরের যুগে মুতা

আরো জরুরি প্রশ্ন হচ্ছে, মুহাম্মদের পরে ইসলামি সাম্রাজ্যের খলিফা ছিলেন হযরত আবু বকর। মুহাম্মদ যদি মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করে গিয়ে থাকেন, আবু বকরের আমলে মুতা বিবাহ কীভাবে চালু থাকে? মদ নিষিদ্ধের আয়াত নাজিল হওয়া এবং মদিনার ঘরে ঘরে বড় বড় পাত্রে জমিয়ে রাখা মদ ঢেলে ফেলে দেয়ার কথা আমরা জানি। মুতা বিবাহ মুহাম্মদ নিষিদ্ধ করে থাকলে, আবু বকরের আমলে কেউ কীভাবে মুতা বিবাহ করতো? হযরত উমরের কেন মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করতে হলো? [27] [28] [29] [30] [31]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৫। হাসান হুলওয়ানী (রহঃ) … আতা (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) উমরা পালন করতে এলেন। তখন আমরা তাঁর আবাসে তাঁর নিকট গেলাম। লোকেরা তাঁর নিকট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেসা করল। অতঃপর তারা মুত’আর উল্লেখ করলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) এর যুগে মুতআ (বিবাহ) করেছি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আতা ইবনু আবী রাবাহ (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৬। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা ময়দার বিনিময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বকর (রাঃ) এর যুগে মুতআ বিবাহ করতাম। শেষ পর্যন্ত উমর (রাঃ) আমর ইবন্‌ হুরায়সের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুয্ যুবায়র (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৭। হামিদ ইবনু উমর বাকরাবী (রহঃ) … আবূ নাদরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু যুবায়র (রাঃ) দুই প্রকারের মুতআ (তামাত্তু হজ্জ ও মুতআ বিবাহ) নিয়ে পরস্পর মতবিরোধ করেছেন। তখন জাবির (রাঃ) বললেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতে দুই প্রকারের মুত’আই করেছি। অতঃপর উমর (রাঃ) আমাদের এই উভয়টই করতে নিষেধ করলেন। অতএব আমরা তা আর করি নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত্’আহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং তা কিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে
৩৩০৭-(১৬/…) মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ….. আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা ময়দার বিনিময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) এর যুগে মুত’আহ বিবাহ করতাম। শেষ পর্যন্ত উমর (রাযিঃ) আমর ইবনু হুরায়স এর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন।*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮২, ইসলামীক সেন্টার ৩২৮০)
* ‘আমর ইবন হুরায়স কুফায় তার মুক্তদাসীকে মুত’আহ বিবাহ করেন। এর ফলে সে গর্ভবতী হলে তাকে নিয়ে আমর ইবন হুরায়স উমার ফারুক (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত হন, এ সময় তিনি মুত’আহ বিবাহকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুয্ যুবায়র (রহঃ)

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত্’আহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং তা কিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে
৩৩০৬-(১৫/…) হাসান আল হুলওয়ানী (রহঃ) ….. আত্বা (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) উমরাহ পালন করতে এলেন। তখন আমরা তার আবাসে তার নিকট গেলাম। লোকেরা তার নিকট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করল। অতঃপর তারা মুত‘আহ সম্পর্কে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বাকর (রাযিঃ) ও উমার (রাযিঃ) এর যুগে মুত’আহ (বিবাহ) করেছি।*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩২৮১, ইসলামীক সেন্টার ৩২৭৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আতা ইবনু আবী রাবাহ (রহঃ)


উমরের যুগেও মুতা: নিষেধের সংবাদ কি সাহাবীদের কাছেই পৌঁছায়নি?

মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা থেকে জানা যায়, উমরের খেলাফতের সময়েও সাহাবীদের মধ্যে মুতা বিবাহের বাস্তব চর্চা ছিল। ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেন, উমর একদিন উম্মু আরাকাকে গর্ভবতী অবস্থায় দেখে তাঁর গর্ভধারণের কারণ জিজ্ঞেস করেন। উম্মু আরাকা সরাসরি বলেন, “সালামাহ ইবন উমাইয়া ইবন খালাফ আমার সঙ্গে মুতা করেছেন।” পরবর্তীতে ইবনে আব্বাসের মুতা-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে আপত্তি উঠলে তিনি সেই ঘটনাকেই পাল্টা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং ইবন সাফওয়ানকে বলেন, তার চাচাকে জিজ্ঞেস করতে—তিনি মুতা করেছিলেন কি না। বর্ণনাটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এই কারণে যে ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারী-তে আব্দুর রাযযাকের এই সনদকে সরাসরি “সহিহ সনদ” বলেছেন। [32] [33]

ইবনে আব্বাস বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব উম্মু আরাকাকে গর্ভবতী অবস্থায় দেখে তাঁর গর্ভের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, “সালামাহ ইবন উমাইয়া ইবন খালাফ আমার সঙ্গে মুতা করেছেন।” পরবর্তীতে ইবন সাফওয়ান ইবনে আব্বাসের এই বিষয়ে কিছু বক্তব্যের বিরোধিতা করলে ইবনে আব্বাস বলেন, “তোমার চাচাকে জিজ্ঞেস করো, তিনি কি মুতা করেননি?”

প্রখ্যাত আধুনিক স্কলার বিন বাযের ফতোয়া-সংগ্রহেও ঠিক এই উদ্ধৃতিটি আছে—ইবনু বায সেখানে ইবনে হাজারের বক্তব্য উদৃত করে বলেছেন,

ইবনু বাযের ফতোয়া: খণ্ড ২০ পৃষ্ঠা ৩৭৬-৩৮০
وسعيد بن جبير وعطاء وسائر فقهاء مكة، فقد تعقبه الحافظ ابن حجر العسقلاني في ج 9 من فتح الباري ص 174 بقوله: قلت: وفي جميع ما أطلقه نظر. أما ابن مسعود فمستنده فيه الحديث الماضي في أوائل النكاح.
وقد بينت فيه ما نقله الإسماعيلي من الزيادة فيه المصرحة عنه بالتحريم، وقد أخرجه أبو عوانة من طريق أبي معاوية عن إسماعيل ابن أبي خالد، وفي آخره ففعلنا ثم ترك ذلك، وأما معاوية فأخرجه عبد الرزاق من طريق صفوان بن يعلى بن أمية، أخبرني يعلى أن معاوية استمتع بامرأة بالطائف، وإسناده صحيح، لكن في رواية أبي الزبير عن جابر عند عبد الرزاق أيضا أن ذلك كان قديما ولفظه: استمتع معاوية
পৃষ্ঠা ৩৭৮
বাংলা অনুবাদ
এবং সাঈদ ইবনে জুবাইর, আতা এবং মক্কার অন্যান্য ফুকাহাগণ (আইনজ্ঞগণ)— তাঁদের এই বক্তব্যের উপর হাফিয ইবন হাজার আল-আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৯ম খণ্ডের ১৭৪ পৃষ্ঠায় এই বলে সমালোচনা করেছেন (বা, মন্তব্য করেছেন):
তিনি (ইবন হাজার) বলেন: “আমি বলি: তিনি যা কিছু সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, তার সবগুলোর ক্ষেত্রেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
আর ইবন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে, তাঁর প্রমাণ হলো নিকাহ (বিবাহ) অধ্যায়ের প্রথম দিকে বর্ণিত পূর্বের হাদীসটি। আর আমি তাতে (ঐ স্থানে) ইসমাঈলী কর্তৃক বর্ণিত অতিরিক্ত অংশটি স্পষ্ট করে দিয়েছি, যা তাঁর (ইবন মাসউদ) পক্ষ থেকে হারাম হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। আবূ আওয়ানাহ (রহিমাহুল্লাহ) এটি আবূ মুআবিয়া হতে, তিনি ইসমাঈল ইবন আবী খালিদ হতে বর্ণনা করেছেন, যার শেষে রয়েছে: ‘অতঃপর আমরা তা করলাম, কিন্তু পরে তা পরিত্যাগ করলাম।’
আর মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে, আব্দুর রাযযাক (রহিমাহুল্লাহ) এটি সাফওয়ান ইবন ইয়া’লা ইবন উমাইয়্যার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইয়া’লা আমাকে জানিয়েছেন যে, মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তায়েফে একজন মহিলার সাথে ইস্তিমতা’ (মুতা’আ) করেছিলেন। আর এর সনদ সহীহ। কিন্তু আব্দুর রাযযাক (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট আবূয যুবাইর কর্তৃক জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, এটি প্রাচীনকালে (ইসলামের প্রথম দিকে) ঘটেছিল। আর এর শব্দগুলো হলো: ‘মুআবিয়া ইস্তিমতা’ করেছিলেন’।”

এখানেই সুন্নি ব্যাখ্যার একটি বড় সমস্যা সামনে আসে। পরবর্তী সুন্নি ব্যাখ্যাকারদের প্রচলিত উত্তর হলো, মুহাম্মদ মুতা চিরতরে নিষিদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু কিছু সাহাবীর কাছে সেই নিষেধের সংবাদ পৌঁছায়নি; তাই তারা আবু বকর বা উমরের যুগেও মুতা করতে থাকেন। অর্থাৎ ঘটনাগুলো অস্বীকার করা হয় না, বরং বলা হয় নিষেধের খবর সংশ্লিষ্ট সাহাবীরা জানতেন না। কিন্তু এই উত্তর সমস্যার সমাধান না করে সমস্যাটিকেই আরও বড় করে তোলে।

কারণ সহিহ মুসলিমের সাবরা আল-জুহানীর বর্ণনাকে যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে মুহাম্মদ মক্কা বিজয়ের সময় কোনো ব্যক্তিগত কথোপকথনে নয়, প্রকাশ্যে মানুষকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, “হে লোকসকল! আমি তোমাদের নারীদের সঙ্গে মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম; আল্লাহ এখন কিয়ামত পর্যন্ত তা হারাম করেছেন।” অর্থাৎ বর্ণনাটি নিজেই এটিকে একটি প্রকাশ্য, সাধারণ এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হিসেবে উপস্থাপন করছে। ইবনে হাজারের আল-ইসাবাহ-তে খলিফা ইবন খাইয়াতের সূত্রে সালামাহ ইবন উমাইয়াকে মক্কায় বসবাসকারী সাহাবীদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে ফাতহুল বারী-তে ইবনে হাজার আব্দুর রাযযাকের সহিহ সনদে সালামাহর মুতা করার ঘটনাটিও উদ্ধৃত করেছেন। [34] [35]যে শহরে “কিয়ামত পর্যন্ত” নিষেধের এমন প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে বর্ণনা করা হচ্ছে, সেই মক্কায় বসবাসকারী একজন সাহাবীর কাছেও যদি উমরের খেলাফত পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞার সংবাদ কার্যকরভাবে না পৌঁছে থাকে, তাহলে “কিছু সাহাবীর কাছে নিষেধের খবর পৌঁছায়নি”—এই ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।

সময়টিও লক্ষ্য করার মতো। মক্কা বিজয় হয়েছিল অষ্টম হিজরিতে; উমরের খেলাফত শুরু হয় ত্রয়োদশ হিজরিতে। অর্থাৎ কথিত চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং উমরের শাসনামলে সালামাহর মুতা করার ঘটনার মধ্যে ন্যূনতম প্রায় পাঁচ বছরের ব্যবধান। আর ঘটনাটি উমরের খেলাফতের আরও পরে ঘটে থাকলে ব্যবধান আরও বেশি। একজন সাধারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নয়, মক্কায় বসবাসকারী একজন সাহাবী, যে শহরে নিষেধটি প্রকাশ্যে ঘোষিত হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, তিনি পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এই “কিয়ামত পর্যন্ত” বিধানের কিছুই জানলেন না, এমন দাবি স্বাভাবিক ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার চেয়ে একটি পরবর্তী সমন্বয়মূলক ব্যাখ্যার মতোই বেশি শোনায়।

আর সমস্যাটি শুধু সালামাহকে নিয়ে নয়। সহিহ মুসলিমে জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরা মুহাম্মদের যুগে এবং আবু বকরের যুগেও মুতা করতেন, শেষ পর্যন্ত উমর আমর ইবন হুরায়সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন। অন্য বর্ণনায় জাবির মুহাম্মদ, আবু বকর ও উমর, তিন যুগেই মুতা করার কথা বলেন। ইবনে আব্বাস আলীর মৃত্যুর পরেও মুতা বৈধতার পক্ষে ফতোয়া দিচ্ছিলেন। আব্দুর রাযযাকের আরেকটি বর্ণনায় মুয়াবিয়ার তায়েফে মুতা করার ঘটনাও সংরক্ষিত হয়েছে; ইবনে হাজার এর সনদকে সহিহ বলেছেন। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি ঠিক কোন সময়ে ঘটেছিল, তা বর্ণনাটিতে স্পষ্ট নয়। ফলে প্রতিবার একই উত্তর—“তাঁর কাছে নিষেধের সংবাদ পৌঁছায়নি”—দিলে একটি ব্যতিক্রম ব্যাখ্যা করা হয় না; বরং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সাহাবীর অজ্ঞতাকে ধরে পুরো নিষেধাজ্ঞাটিকেই রক্ষা করতে হয় [36]। উল্লেখ্য, নিচে প্রদত্ত এই অনুবাদে একটি অংশে ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। আরবিতে বলা আছে حَتَّى إِذَا كَانَ فِي آخِرِ خِلَافَةِ عُمَرَ—অর্থাৎ উমরের খেলাফতের শেষ পর্যায় পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ চলেছে; “প্রথম দিক পর্যন্ত” নয়।

হাদিস ১৪,০২১
মূল আরবি
عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: لَأَوَّلُ مَنْ سَمِعْتُ مِنْهُ الْمُتْعَةَ صَفْوَانُ بْنُ يَعْلَى قَالَ: أَخْبَرَنِي، عَنْ يَعْلَى، أَنَّ مُعَاوِيَةَ -[497]-، اسْتَمْتَعَ بِامْرَأَةٍ بِالطَّائِفِ فَأَنْكَرَتْ ذَلِكَ عَلَيْهِ، فَدَخَلْنَا عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَذَكَرَ لَهُ بَعْضُنَا، فَقَالَ لَهُ: «نَعَمْ». فَلَمْ يَقِرَّ فِي نَفْسِي حَتَّى قَدِمَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، فَجِئْنَاهُ فِي مَنْزِلِهِ فَسَأَلَهُ الْقَوْمُ عَنْ أَشْيَاءَ، ثُمَّ ذَكَرُوا لَهُ الْمُتْعَةَ، فَقَالَ: ” نَعَمْ، اسْتَمْتَعْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، حَتَّى إِذَا كَانَ فِي آخِرِ خِلَافَةِ عُمَرَ، اسْتَمْتَعَ عَمْرُو بْنُ حُرَيْثٍ بِامْرَأَةٍ سَمَّاهَا جَابِرٌ فَنَسِيتُهَا، فَحَمَلَتِ الْمَرْأَةُ فَبَلَغَ ذَلِكَ عُمَرَ فَدَعَاهَا فَسَأَلَهَا، فَقَالَتْ: نَعَمْ قَالَ: مَنْ أَشْهَدَ؟
قَالَ: عَطَاءٌ لَا أَدْرِي قَالَتْ: أُمِّي أُمَّ وَلِيَّهَا قَالَ: فَهَلَّا غَيْرَهُمَا قَالَ: خَشِيَ أَنْ يَكُونَ دَغْلًا الْآخَرُ، قَالَ عَطَاءٌ، وَسَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: «يَرْحَمُ اللَّهُ عُمَرَ مَا كَانَتِ الْمُتْعَةُ إِلَّا رُخْصَةً مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ رَحِمَ بِهَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَوْلَا نَهْيُهُ عَنْهَا مَا احْتَاجَ إِلَى الزِّنَا إِلَّا شَقِيٌّ» قَالَ: كَأَنِّي وَاللَّهِ أَسْمَعُ قَوْلَهُ: إِلَّا شَقِيٌّ – عَطَاءٌ الْقَائِلُ – قَالَ عَطَاءٌ: ” فَهِيَ الَّتِي فِي سُورَةِ النِّسَاءِ: فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ [النساء: 24] إِلَى كَذَا وَكَذَا مِنَ الْأَجَلِ عَلَى كَذَا وَكَذَا لَيْسَ يُتَشَاوَرُ ” قَالَ: «بَدَا لَهُمَا أَنْ يَتَرَاضِيَا بَعْدَ الْأَجَلِ، وَأَنْ يَتَفَرَّقَا فَنَعَمْ، وَلَيْسَ بِنِكَاحٍ»
বাংলা অনুবাদ
আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুত’আ (সাময়িক বিবাহ) সম্পর্কে সর্বপ্রথম আমি যার কাছ থেকে শুনেছি তিনি হলেন সাফওয়ান ইবনু ইয়া’লা। তিনি আমাকে ইয়া’লা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে জানিয়েছেন যে, মু’আবিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তায়েফে এক মহিলার সাথে মুত’আ করলেন। তখন মহিলাটি এর বিরোধিতা করে আপত্তি জানালেন। অতঃপর আমরা ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে গেলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে বিষয়টি বললেন। তিনি বললেন: “হ্যাঁ (এটা বৈধ ছিল)।”
কিন্তু আমার মনে শান্তি এলো না, যতক্ষণ না জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) আগমন করলেন। আমরা তাঁর বাসস্থানে এসে তাঁর সাথে দেখা করলাম। লোকেরা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলো, এরপর তারা তাঁর কাছে মুত’আর বিষয়টি উত্থাপন করলো। তিনি বললেন: “হ্যাঁ, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে, আবূ বাকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে এবং উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর (শাসনের) প্রথম দিক পর্যন্ত মুত’আ করেছি। অবশেষে যখন উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর খিলাফতের শেষ সময় এলো, তখন আমর ইবনু হুরাইস এক মহিলার সাথে মুত’আ করলেন, যার নাম জাবির (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমি তা ভুলে গেছি। অতঃপর মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ল। এ কথা উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি মহিলাটিকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন। মহিলাটি বলল: হ্যাঁ (আমি মুত’আ করেছিলাম)।”
(উমর) জিজ্ঞেস করলেন: “সাক্ষী কে ছিল?” আতা বলেন: আমি জানি না, মহিলাটি কি বলেছিল: “আমার মা এবং তার অভিভাবক।” (উমর) বললেন: “অন্য কাউকে সাক্ষী রাখলে না কেন?” (আতা) বলেন: “তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে অন্য কেউ হয়তো প্রতারণা করতে পারে।” আতা বলেন: আমি ইবনু আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তাআলা উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উপর রহম করুন! মুত’আ ছিল কেবল আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সুবিধা (রুখসা), যার মাধ্যমে তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতকে দয়া করেছিলেন। উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) যদি এটি নিষিদ্ধ না করতেন, তবে দুর্ভাগা ব্যক্তি ছাড়া আর কারো ব্যভিচারের প্রয়োজন হতো না।” আতা বলেন: আল্লাহর কসম! আমি যেন তাঁর (ইবনু আব্বাস-এর) সেই কথাটি শুনছি: “দুর্ভাগা ব্যক্তি ছাড়া।”
আতা বলেন: আর এটিই হলো সূরা নিসার [২৪] আয়াতের কথা: ফামা-সতামতা’তুম বিহী মিনহুন্না [অর্থাৎ: তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা ভোগ করেছ…] এত এত দিনের জন্য এত এত (মুদ্রার বিনিময়ে), এর জন্য পরামর্শ করার দরকার নেই। আতা বলেন: “যদি তাদের দুজনের মধ্যে নির্ধারিত সময়সীমার পরে পারস্পরিক সমঝোতা হয় (যে তারা একসাথে থাকবে), অথবা তারা আলাদা হয়ে যাবে, তবে (তা বৈধ)। তবে এটি স্বাভাবিক বিবাহ ছিল না।”

এখানে একটি সাধারণ প্রশ্নই যথেষ্ট: মুহাম্মদের পক্ষ থেকে যদি সত্যিই এমন একটি প্রকাশ্য ঘোষণা হয়ে থাকে যে মুতা “কিয়ামত পর্যন্ত হারাম”, তাহলে এই ঘোষণা এত গুরুত্বপূর্ণ সাহাবীর কাছেই পৌঁছাল না কেন? মক্কার লোক মক্কায় শুনলেন না, আবু বকরের পুরো শাসনামলেও মুতা চলল, উমরের আমলেও মানুষ মুতা করল, ইবনে আব্বাস বহু পরে পর্যন্ত এর বৈধতার পক্ষে ফতোয়া দিলেন—এরপর বলা হলো, সবাই কেবল নিষেধের খবর জানতেন না। এটি ব্যাখ্যার বদলে একটি নতুন সমস্যা তৈরি করে: তাহলে মুহাম্মদের তথাকথিত চূড়ান্ত শরয়ী নিষেধাজ্ঞার প্রচার ও কার্যকারিতা এতটাই দুর্বল ছিল যে তাঁর নিজের সাহাবীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও বহু বছর ধরে সেটি জানতেন না।

বরং সংরক্ষিত বর্ণনাগুলোর সরল পাঠে যে চিত্রটি পাওয়া যায় তা অনেক বেশি সরাসরি: মুহাম্মদের যুগে মুতা বৈধ ছিল এবং বহু সাহাবী তা করেছেন; তাঁর মৃত্যুর পর আবু বকরের যুগেও এর চর্চা চলেছে; উমরের যুগেও তার বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায়; এরপর উমর ইসলামে খুবই অস্বস্তিকর এই বিধান সম্পর্কে প্রকাশ্যে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরবর্তী সুন্নি ব্যাখ্যাকে এই বাস্তব ধারাবাহিকতার সঙ্গে মুহাম্মদের নামে বর্ণিত “কিয়ামত পর্যন্ত হারাম” ঘোষণাকে মিলিয়ে নিতে গিয়ে বারবার বলতে হয়েছে, একজন জানতেন না, আরেকজনের কাছে নিষেধ পৌঁছায়নি, অন্যজন পরে মত প্রত্যাহার করেছেন। যত বেশি এমন ব্যাখ্যা প্রয়োজন হয়, ততই প্রশ্নটি তীব্র হয়: চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞাটি সত্যিই মুহাম্মদের যুগে সর্বজনবিদিত বিধান ছিল, নাকি উমরের যুগের নিষেধাজ্ঞাকে পরে মুহাম্মদের নামে একটি পূর্ববর্তী চূড়ান্ত নিষেধের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে? প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয়, সহিহ হাদিসে মুহাম্মদের প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পরবর্তী যুগের আলেমগণ সহিহ হাদিস টপকে কুরআন শিক্ষা দিয়ে অর্থ গ্রহণকে হালাল করেছেন [37]। এমনকি, উমরের আমলে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা জানা যায়, যেখানে উমর মুহাম্মদের নির্দেশ তো বটেই [38], খোদ কোরআনের আয়াতের সংস্কার করে বিধান প্রণয়ন করেছেন [39]। এগুলো এই প্রবন্ধের সাথে খুবই প্রাসঙ্গিক আলোচনা।


মুতা বিবাহের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা: মুহাম্মদ, না উমর?

মুয়াত্তা মালিকের হাদিস অসংখ্য প্রখ্যাত আলেমের মতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস। সেই হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত উমর মুতা বিবাহকারীকে ব্যাভিচারের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেন নি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, যেহেতু তিনি এই বিষয়ে পুর্ব ঘোষণা দেন নি, সেই কারণে সেই মুতা বিবাহকারীকে তিনি হত্যা করেন নি। কিন্তু মুতা বিবাহ নিষিদ্ধের নির্দেশ আল্লাহর নবী মুহাম্মদই যদি দিয়ে গিয়ে থাকেন, সেইখানে তো তার ঘোষণা দেয়া না দেয়া কোন গুরুত্ব বহন করে না। মুহাম্মদ সেটি নিষিদ্ধ করে থাকলে, তার কেন আবারো ঘোষণার প্রয়োজন? [40]

মুয়াত্তা মালিক
২৮. বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮. মুত‘আ বিবাহ প্রসঙ্গ
রেওয়ায়ত ৪২. খাওলা বিনত হাকিম (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেনঃ রবি’আ ইবন উমাইয়া (রাঃ) এক মুওয়াল্লাদা(1) নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিয়া ঘাবড়াইয়া গেলেন এবং আপন চাদর টানিতে টানিতে বাহির হইলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করিতাম তবে এই (মুত’আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করিতাম।
(1) মুওয়াল্লাদা : যে মহিলা আরব নহে কিন্তু তাহার জন্ম হইয়াছে আরবে এবং আরবীয় রীতিনীতি আদব-কায়দা মুতাবিক তাহাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হইয়াছে।
হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ

এবারে আসুন আল্লামা সাইয়েদ আবু আলা মওদুদির তাফহীমুল কুরআন থেকে মুতা বিবাহ সম্পর্কিত একটি আলোচনা পড়ে নিই, [41] যেখানে বলা হচ্ছে, মুতাহ বিবাহ কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে নয়, হাদিসের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর প্রদত্ত মুতাহের বিধান নবী নিষিদ্ধ করেন কীভাবে? সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতটি রহিত হওয়ার আয়াত কোথায়?

চার : কোন কোন মুফাসির মুতা বিবাহ হারাম হবার বিষয়টিও এ আয়াত থেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে, যে মেয়েকে মুতা বিয়ে করা হয় সে না স্ত্রীর পর্যায়ভুক্ত, না বাঁদীর। বাঁদী তো সে নয় একথা সুস্পষ্ট, আবার স্ত্রীও নয়। কারণ স্ত্রীর মর্যাদা লাভ করার জন্য যতগুলো আইনগত বিধান আছে তার কোনটাই তার ওপর আরোপিত হয় না। সে পুরুষের উত্তরাধিকারী হয় না, পুরুষও তার উত্তরাধিকারী হয় না। তার জন্য ইদ্দত নেই, তালাকও নেই, খোরপোশ নেই এবং ঈলা, যিহার ও লি’আন ইত্যাদি কোনটিই নেই। বরং সে চার স্ত্রীর নির্ধারিত সীমানার বাইরে অবস্থান করছে।
কাজেই সে যখন “স্ত্রী” ও “বাঁদী” কোনটার সংজ্ঞায় পড়ে না তখন নিশ্চয়ই সে ‘এর বাইরে আরো কিছু’র মধ্যে গণ্য হবে। আর এ আরো কিছু যারা চায় তাদেরকে কুরআন সীমালংঘনকারী গণ্য করেছে। এ যুক্তিটি অনেক শক্তিশালী। তবে এর মধ্যে একটি দুর্বলতার দিকও আছে। আর এ দুর্বলতার কারণে এ আয়াতটির বলেই -যে, মুতা’ হারাম হয়েছে সে কথা বলা কঠিন। এ দুর্বলতাটি হচ্ছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুতা’ হারাম হবার শেষ ও চূড়ান্ত ঘোষণা দেন মক্কা বিজয়ের বছরে। এর পূর্বে অনুমতির প্রমাণ সহী হাদীসগুলোতে পাওয়া যায়।
যদি একথা মেনে নেয়া হয় যে, মুতা হারাম হবার হুকুম কুরআনের এ আয়াতের মধ্যেই এসে গিয়েছিল আর এ আয়াতটির মক্কী হবার ব্যাপারে সবাই একমত এবং এটি হিজরতের কয়েক বছর আগে নাযিল হয়েছিল, তাহলে কেমন করে ধারণা করা যেতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয় পর্যন্ত একে জায়েয রেখেছিলেন? কাজেই একথা বলাই বেশী নির্ভুল যে, মুতা’ বিয়ে কুরআন মজীদের কোন সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে নয় বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের মাধ্যমেই হারাম হয়েছে। সুন্নাতের মধ্যে যদি এ বিষয়টির সুস্পষ্ট ফায়সালা না থাকতো তাহলে নিছক এ আয়াতের ভিত্তিতে এর হারাম হওয়ার ফায়সালা দেয়া কঠিন ছিল। মুতা’র আলোচনা যখন এসে গেছে তখন আরো দু’টি কথা স্পষ্ট করে দেয়া সংগত বলে মনে হয়। এক, এর হারাম হওয়ার বিষয়টি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেই প্রমাণিত। কাজেই হযরত উমর (রা) একে হারাম করেছেন, একথা বলা ঠিক নয়। হযরত উমর (রা) এ বিধিটির প্রবর্তক বা রচয়িতা ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন কেবলমাত্র এর প্রচারক ও প্রয়োগকারী। যেহেতু এ হুকুমটি রসূলুল্লাহ (সা) তাঁর আমলের শেষের দিকে দিয়েছিলেন এবং সাধারণ লোকদের কাছে এটি পৌছেনি তাই হযরত উমর (রা) এটিকে সাধারণ্যে প্রচার ও আইনের সাহায্যে কার্যকরী করেছিলেন। দুই, শীয়াগণ মুতা’কে সর্বতোভাবে ও শর্তহীনভাবে মুবাহ সাব্যস্ত করার যে নীতি অবলম্বন করেছেন কুরআন ও সুন্নাতের কোথাও তার কোন অবকাশই নেই। প্রথম যুগের সাহাবা, তাবেঈ ও ফকীহদের মধ্যে কয়েকজন যাঁরা এর বৈধতার সমর্থক ছিলেন তাঁরা শুধুমাত্র অনন্যোপায় অবস্থায় অনিবার্য পরিস্থিতিতে এবং চরম প্রয়োজনের সময় একে বৈধ গণ্য করেছিলেন। তাদের একজনও একে বিবাহের মতো শর্তহীন মুবাহ এবং সাধারণ অবস্থায় অবলম্বনযোগ্য বলেননি। বৈধতার প্রথক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য হিসেবে পেশ করা হয় হযরত ইবনে আব্বাসের (রা) নাম। তিনি নিজের মত এভাবে ব্যক্ত করেছেন : (এ হচ্ছে মৃতের মতো, যে ব্যক্তি অনিবার্য ও অনন্যোপায় অবস্থার শিকার হয়েছে তার ছাড়া আর কারোর জন্য বৈধ নয়।) আবার তিনি যখন দেখলেন তাঁর এ বৈধতার অবকাশ- দানমূলক ফতোয়া থেকে লোকেরা অবৈধ স্বার্থ উদ্ধার করে যথেচ্ছভাবে মুতা’ করতে শুরু করেছে এবং তাকে প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত মুলতবী করছে না তখন তিনি নিজের ফতওয়া প্রত্যাহার করে নিলেন। ইবনে আব্বাস ও তাঁর সমমনা মুষ্টিমেয় কয়েকজন তাঁদের এ মত প্রত্যাহার করেছিলেন কিনা এ প্রশ্নটি যদি বাদ দেয়াও যায় তাহলে তাদের মত গ্রহণকারীরা বড় জোর “ইতিরার” তথা অনিবার্য ও অনন্যোপায় অবস্থায় একে বৈধ বলতে পারেন। অবাধ ও শর্তহীন মুবাহ এবং প্রয়োজন ছাড়াই মুতা বিবাহ করা এমন কি বিবাহিত স্ত্রীদের উপস্থিতিতেও মুতা-বিবাহিত স্ত্রীদের সাথে যৌন সম্ভোগ করা এমন একটি সেচ্ছাচার যাকে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রুচিবোধও কোনদিন বরদাশত করে না। ইসলামী শরীয়াত ও রসূল বংশোদ্ভূত ইমামদেরকে এর সাথে জড়িত মনে করার তো কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমি মনে করি, শীয়াদের মধ্য থেকে কোন ভদ্র ও রুচিবান ব্যক্তিও তার মেয়ের জন্য কেউ বিবাহের পরিবর্তে মুতা’র প্রস্তাব দেবে এটা বরদাশত করতে পারেন না। এর অর্থ এ দাঁড়ায় যে, মুতা’র বৈধতার জন্য সমাজে বারবনিতাদের মতো মেয়েদের এমন একটি নিকৃষ্ট শ্রেণী থাকতে হবে যাদের সাথে মুতা’ করার অবাধ সুযোগ থাকে। অথবা মুতা’ হবে শুধুমাত্র গরীবদের কন্যা ও ভগিনীদের জন্য এবং তা থেকে ফায়দা হাসিল করার অধিকারী হবে সমাজের ধনিক ও সমৃদ্ধিশালী শ্রেণীর পুরুষেরা। আল্লাহ ও রসূলের শরীয়াত থেকে কি এ ধরনের বৈষম্যপূর্ণ ও ইনসাফবিহীন আইনের আশা করা যেতে পারে? আবার আল্লাহ ও তাঁর রসূল থেকে কি এটাও আশা করা যেতে পারে যে, তিনি এমন কোন কাজকে মুবাহ করে দেবেন যাকে যে কোন সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে নিজের জন্য অমর্যাদাকর এবং বেহায়াপনা মনে করে?

মুতা 11
মুতা 13

এবারে তাফসীরে জালালাইন থেকে এই বিষয়ের কিছু বক্তব্য পড়ি, [42]

সাময়িক বিয়ে বা মুতা দ্বারা লব্ধ মহিলা যে শরয়ী বাদী নয় তাতো স্পষ্টই। কারণ তাকে কেনা-বেচা করা যায় না, দান করা যায় না, এবং আজাদ করার বিধানও তার উপর জারি করা যায় না।
আর স্ত্রী যে নয় তাও সুস্পষ্ট। কারণ তাদেরকে খোদ শিয়াগণসহ কেহই স্ত্রী বলেন না। কেননা ঐ মহিলা ও মুতা কারী পুরুষের মধ্যে উত্তরাধিকার চলে না। অথচ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে থেকে একে অন্যের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। যেমন-আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন- وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُم তমনিভাবে মুতা দ্বারা অর্জিত মহিলার জন্য পুরুষের উপর ভরণ-পোষণ, খানা-খোরাক ওয়াজিব হয় না এবং বাসস্থান দেওয়াও ওয়াজিব হয় না। তার সাথে ঐ মহিলার সন্তানের জন্য বংশীয় সম্পর্কও প্রমাণিত হয় না। এবং তালাক হদ ও মহরের কিছুই মুতার মধ্যে আসেনা। এতে বুঝা গেল, মুতার মহিলা স্ত্রী ও নয় এবং শরয়ী দাসীও নয়। তাই এদেরকে মুতার নামে ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
عَنْ عَلِيِّ (رض) أَنَّ الرَّسُولَ اللَّهِ اللهُ نَهَى عَنْ مُتَعَةِ النِّسَاءِ وَعَنْ أَكْلِ لُحُومِ – 2009 (1) 1 2 2 الْعُمر الأنسية অর্থাৎ, হযরত আলী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ মুতা [সাময়িক বিবাহ এবং পোষ্য গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন।
৩. হযরত রবী হতে বর্ণিত হাদীস-
روى عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَيِّرَةَ الْجُهَنِي عَنْ أَبِيهِ قَالَ غَدَوْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ اللهُ فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ مسَّنِنَا ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ يَقُولُ بَابَهَا النَّاسُ إِنِّي أَمَرْتُكُمْ بِالاسْتِمْتَاعِ مِنْ هَذِهِ النِّسَاءِ أَلَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حرَّمَهَا عَلَيْكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْهُنَّ نِسَى فَلْبُخَلَ سَبِيلَهَا وَلَا تَأْخُذُوا مِمَّا أَتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا – وَرُوِيَ عَنْهُ اللهُ أَنَّهُ قَالَ مُنْعَةُ النِّسَاءِ حَرَامٌ .
অর্থাৎ, হযরত রবী বিন সাবুরা জুহানী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি এক সকালে রাসূলে কারীম -এর নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যখানে কাবার দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে
আছেন, তখন তিনি বলতে ছিলেন, লোক সকল! আমি তোমাদেরকে এসব মহিলাদের সাথে মুতা করতে অনুমতি দিয়েছিলাম বটে, তবে জেনে রাখো। আল্লাহ পাক অবশ্যই কিয়ামত পর্যন্তের জন্য একে তোমাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং মুতার কোনো মহিলা যার কাছে রয়েছে সে যেন তাকে অবশ্যই বিদায় দিয়ে দেয়। আর তাদেরকে যা কিছু তোমরা দিয়েছ তার কিছু ফেরত আনতে পারবে না।
তিনি আরো বলেছেন- মুতা বা নারীদেরকে সাময়িকভাবে বিবাহ করা হারাম। উপরোক্ত হাদীস তিনটি ওয়াহিদী তার আল
বসীত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
৪. হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) সাহাবায়ে কেরামের সামনে তাঁর খোতবার মধ্যে মুতাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এ নিষেধের উপর একজন সাহাবীও প্রতিবাদ করেন নি। এতে বুঝা গেল, সাহাবাদের মুতা হারাম হওয়ার ব্যাপারটা জানা ছিল। নতুবা অবশ্যই কেউ না কেউ প্রতিবাদ করতেন। এতে করে ইজমায়ে সাহাবা দ্বারাও মুতা হারাম প্রমাণিত হয়েছে।
চারো মাজহাবের ইমামসহ সকল আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ওলামাদের ঐকমত্যে মুতা হারাম। ইমাম সারখসী ও হেদায়া প্রণেতা মালেক (র.)-এর প্রতি যে মুতার বৈধতার সম্পর্ক করেছেন, ইবনে হুমাম প্রমুখ ওলামাদের মতে তাদের এ সম্পর্ক করাটা ঠিক নয়। বরং ইমাম মালেক (র.)-এর মতেও মৃতা হারাম। তার মাজহাবই এর প্রকৃষ্ঠ প্রমাণ।
কেবলমাত্র শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরাই বলে মুতা জায়েজ।
আর হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) প্রথমে জায়েজ ফতোয়া দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে তিনি তার সেই মত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর এ মত থেকে তওবা করেছেন। বিস্তারিত জানতে হলে তাফসীরে কাবীর দেখুন।
খ. ৫, পৃ. ৫১-৫৩)

মুতা 15

এবারে আসুন তাহাবী শরীফ থেকে কয়েকটি হাদিস দেখে নেয়া যাক, [43]

৪০০৩. রাবী’ আল-জীযী (র) আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সাময়িক বিয়ে এ উম্মতের জন্যে আল্লাহ্ তা’আলার একটি করুণা হিসেবে গণ্য ছিল। যদি উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) সাময়িক বিয়ে হতে নিষেধ না করতেন তাহলে হতভাগা ব্যতীত অন্য কেউ ব্যভিচারের শিকার হতনা। বর্ণনাকারী আরো বলেন, এখনও যেন আমি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হতে لا شقى। কথাটির উচ্চারণ শুনছি।

মুতা 17

মুতা বিবাহ হারাম করা হয়েছে

অসংখ্য সহিহ হিসেবে গৃহীত হাদিসে মুহাম্মদের নামে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করার বর্ণনাও রয়েছে, সেটি অস্বীকার করা সম্ভব নয়। সমস্যাটি অন্য জায়গায়: নিষেধটি কখন হয়েছিল, সেটি বিভিন্ন বর্ণনায় বিভিন্ন সময়ে চলে যাচ্ছে; আবার মুহাম্মদের মৃত্যুর পরেও সাহাবীদের মুতা করার বর্ণনা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে, এই নিষেধের বর্ণনাগুলোকে ইতিহাসের সঙ্গে কীভাবে মেলানো হবে এবং উমরের প্রকাশ্য নিষেধাজ্ঞার ভূমিকা আসলে কী ছিল। আসুন আগে হাদিসগুলো দেখি [44]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছেদঃ ২৪৫৭. অবশেষে রাসূল (সা) মুতা’আ বিবাহ নিষেধ করেছেন
৪৭৪৪। আলী (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ এবং সালামা আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমরা কোন এক সেনাবাহিনীতে ছিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেরিত এক ব্যাক্তি আমাদের নিকট এসে বললেন, তোমাদেরকে মুতা’আ বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা মুতা’আ করতে পার। ইবনু আবূ যিব বলেন, আয়াস ইবনু সালামা ইবনু আকওয়া তার পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে কোন পুরুষ এবং মহিলা উভয়ে (মুতা’আ করতে) একমত হলে তাদের পরস্পরের এই সম্পর্ক তিন রাতের জন্য গণ্য হবে। এরপর তারা ইচ্ছা করলে এর চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী করতে পারে অথবা বিচ্ছিন্ন হতে চাইলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা জানিনা এ ব্যবস্থা শুধু আমাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, না সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন, আলী (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন, মুতা’আ বিবাহ প্রথা রহিত হয়ে গেছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

এবারে আসুন আলীর সূত্র থেকে পাওয়া হাদিসগুলো দেখি [44] [45] [46] [47]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছেদঃ ২৪৫৭. অবশেষে রাসূল (সা) মুতা’আ বিবাহ নিষেধ করেছেন
৪৭৪২। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আলী ও তাঁর ভাই আবদুল্লাহ তাঁদের পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (রাঃ) ইবনু আব্বাস বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর যুদ্ধে মুতা’আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া নিষেধ করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৬/ নিকাহ (বিবাহ)
পরিচ্ছেদঃ ৭১. মুত’আ হারাম হওয়া সম্পর্কে
৩৩৭০. আমর ইবন আলী, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার এবং মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) … মালিক ইবন আনাস অবহিত করেছেন যে, ইবন শিহাব (রহঃ) তাকে অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু আলীর দুই ছেলে আবদুল্লাহ এবং হাসান তাকে অবহিত করেছেন যে, তাদের পিতা মুহাম্মাদ ইবন আলী তাদের অবহিত করেছেন। আলী ইবন আবূ তালিব (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন মেয়েদের সাথে মুত’আ করা হতে নিষেধ করেছেন। ইবন মুসান্না (রহঃ) বলেছেনঃ হুনায়নের দিন। তিনি বলেন, আবদুল ওয়াহহাব তার কিতাব থেকে আমাদের নিকট এমনই বর্ণনা করেছেন।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৩/ শিকার ও যবেহকৃত জন্তু
পরিচ্ছেদঃ ৩১. পালিত গাধার গোশত খাওয়া হারাম
৪৩৩৫. মুহাম্মাদ ইবন মানসূর ও হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) … মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আলী (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের দিন মুত’আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেন।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
পরিচ্ছেদঃ গৃহপালিত গাধার গোশত।
১৮০১। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) … আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মুত’আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত আহার থেকে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৯৬১, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৪ (আল মাদানী প্রকাশনী)
সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবনু আলীর দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যুহরী (রহঃ) বলেন, এই দুই জনের মধ্যে হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ)-ই হলেন, অধিক সন্তোষজনক। সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান ব্যতীত অন্যরা ইবনু উয়ায়না (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) হলেন অধিক সন্তোষজনক। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)


খায়বারে মুতা নিষিদ্ধ হয়েছিল: সুন্নি আলেমদের আপত্তি

খায়বারের দিনে মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার এই বর্ণনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তী সময়ের সহিহ হাদিসেই আবার মুতা বৈধ করার কথা পাওয়া যায়। এই অসঙ্গতি শুধু শিয়াদের উত্থাপিত আপত্তি নয়; সুন্নি হাদিসব্যাখ্যার ভেতরেও খায়বারের তারিখটি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারী-তে সুহাইলীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, খায়বারের দিনে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সীরাত ও আছারের বর্ণনাকারীদের কাছে পরিচিত নয়। তাঁর মতে, যুহরীর বর্ণনায় শব্দের আগে-পরে হওয়ার সমস্যা ঘটে থাকতে পারে—খায়বারের সঙ্গে নিষেধটি ছিল গৃহপালিত গাধার মাংসের, মুতা বিবাহের নয়। [48]

একই আলোচনায় ইবনে উয়াইনার ব্যাখ্যাও উদ্ধৃত হয়েছে—খায়বারে নিষেধ ছিল গৃহপালিত গাধার মাংসের ব্যাপারে, মুতা বিবাহের ব্যাপারে নয়। ইবনে আবদুল বার বলেন, অধিকাংশের অবস্থানও এটিই। আবু আওয়ানা তাঁর সহিহ-তে আলেমদের কাছ থেকে যে ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করেছেন সেটিও আরও পরিষ্কার: আলীর হাদিসে খায়বারের দিনে গাধার মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে; মুতা সম্পর্কে সেখানে নীরব থাকা হয়েছে, আর মুতা নিষিদ্ধ হয়েছিল মক্কা বিজয়ের সময়। শাওকানীর নাইলুল আওতার-এও এই মতগুলো সংরক্ষিত হয়েছে। [49]

এই আপত্তির কারণটিও খুব স্বাভাবিক: খায়বারের পরে আবার মুতা করার অনুমতির সহিহ বর্ণনা রয়েছে। ফলে খায়বারেই যদি মুতা চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী অনুমতিগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সুন্নি ব্যাখ্যাকারদের কেউ বলেছেন নিষেধটি কয়েকবার হয়েছে, কেউ বলেছেন খায়বারের তারিখটি শুধু গাধার মাংসের জন্য, আবার কেউ পরবর্তী অনুমতিকে অল্প সময়ের বিশেষ ছাড় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাসটি হাদিসের ভেতরেই একেবারে সরল ও একরৈখিক নয়।

এখন বর্ণনাগুলোর সময়ক্রম পাশাপাশি রাখলে সমস্যাটি আরও পরিষ্কার হয়। আলীর সূত্রের একাধিক হাদিসে খায়বারের দিনে মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু তার পরবর্তী সময়েই আবার মক্কা বিজয়ের সময় মুহাম্মদ সাহাবীদের মুতা করার অনুমতি দিয়েছেন—সহিহ মুসলিমে সাবরা জুহানীর সূত্রে সেই বর্ণনা রয়েছে। এরপর আওতাসের বছরও তিন দিনের জন্য মুতা করার অনুমতি এবং তারপর নিষেধের কথা পাওয়া যায়। অর্থাৎ একটি নিষেধাজ্ঞার পরেই আবার অনুমতি, তারপর আবার নিষেধ—এই চিত্রটি হাদিসের নিজেদের মধ্যেই রয়েছে।

আর মতভেদ শুধু খায়বার, মক্কা বিজয় ও আওতাসেই সীমাবদ্ধ নয়। ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণিত সময়গুলো একত্র করতে গিয়ে খায়বার, উমরাতুল ক্বাযা, মক্কা বিজয়, আওতাস, তাবুক এবং বিদায় হজ—এমন ছয়টি স্থান/সময় উল্লেখ করেছেন; হুনাইনের একটি বর্ণনাও রয়েছে। অর্থাৎ পরবর্তী সুন্নি হাদিসব্যাখ্যাকারদের সামনেও প্রশ্নটি ছিল—মুতা আসলে কখন চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল? বিভিন্ন বর্ণনায় একাধিক ভিন্ন সময় পাওয়া যাওয়ায় তাদের এগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। [50]

[51]। তখন আবারো মুতাহ বিবাহের অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

ইমাম বুখারী মুহাম্মাদ ইবন আলা আবু মুসা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, হুনায়ন যুদ্ধ শেষ করার পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) আবু আমির (রা)-এর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল আওতাস গোত্রের দিকে পাঠান ৷

আরো একটি হাদিস পড়ি [52]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৮৮। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … আয়্যাশ ইবনু সালামা (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওতাস যুদ্ধের বছর তিন দিনের জন্য মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


ইবনে আব্বাসের বিরুদ্ধ মত

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ছিলেন নবী মুহাম্মাদের একজন বিখ্যাত সাহাবী এবং মুহাম্মাদের চাচা আব্বাসের জ্যেষ্ঠ ছেলে। ইবনে আব্বাস ছিলেন একজন বিশিষ্ট সুবিজ্ঞ ফকিহ ও আল-কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় মুফাস্‌সির। মুসলিম বিশ্বে তাকে রইসুল মুফাস্‌সিরিন বা সাইয়্যিদুল মুফাস্‌সিরিন বলা হয়। ইবনে আব্বাস মুহাম্মদের বিখ্যাত সাহাবী, যার জ্ঞানের প্রশংসা খোদ মুহাম্মদ করতেন। আল্লাহর কাছে তিনি ইবনে আব্বাসের জ্ঞান বৃদ্ধি করার প্রার্থনাও করতেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব হযরত ইবনে আব্বাস সম্পর্কে বলেন, “ইবনে আব্বাস তোমাদের সকলের অপেক্ষা বড় বিদ্বান।” উমর তার সম্পর্কে আরও বলতেন যে, “সে বয়সে তরুণ, জ্ঞানে প্রবীণ !” ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী তার সম্পর্কে বলেন, “কুরআন কারিমের তাফসীর বর্ণনার সময় মনে হয় যেন তিনি (ইবনে আব্বাস) একটি স্বচ্ছ পর্দার অন্তরাল হতে অদৃশ্য বস্তুসমূহ প্রত্যক্ষ করছেন ” প্রখ্যাত সাহাবী ইবনে মাসউদ বলতেন, “ইনি কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার।” ইবনে উমর বলতেন, “মুহাম্মাদের উপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তৎসম্পর্কে ইবনে আব্বাস এই উম্মাতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী।”

সেই ইবনে আব্বাস কিন্তু মুতা বিবাহের পক্ষে বলেছিলেন এবং উমরের ফতোয়াকে মেনে নেন নি। ইবনে আব্বাসকে সেই কারণে হত্যা করার হুমকিও দেয়া হয়েছিল। অনেকগুলো তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, ইবনে আব্বাস নাকি শেষ জীবনে মুতা বিবাহকে হারাম করার উমরের ফতোয়া মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু এই তথ্যটি সঠিক কিনা তা নিয়ে প্রচুর সন্দেহ আছে। কারণ ইবনে আব্বাস খুব দৃঢ়ভাবেই মুতা বিবাহের পক্ষে কথা বলতেন। উনার পক্ষে এরকম করাটি খুবই অস্বাভাবিক বিষয়।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত সমস্যা রয়েছে। প্রচলিত সুন্নি ব্যাখ্যায় প্রায়ই বলা হয়, আলী ইবনে আব্বাসকে খায়বারে মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর ইবনে আব্বাস নিজের মত প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু সুন্নি তাফসীরকার আলুসী রূহুল মাআনী-তে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, সহিহ মুসলিমের ইবনে যুবায়ের ও ইবনে আব্বাসের বিতর্কটি ঘটেছিল আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের খেলাফতের সময়—অর্থাৎ আলীর মৃত্যুর পরে। সেই সময়েও ইবনে আব্বাস প্রকাশ্যে বলছিলেন যে, “ইমামুল মুত্তাকীন” মুহাম্মদের যুগে মুতা করা হতো এবং তিনি তখনও এর পক্ষে ফতোয়া দিচ্ছিলেন। আলুসী নিজেই এর ভিত্তিতে বলেন, আলী তাঁকে বলার পরপরই ইবনে আব্বাস মত পরিবর্তন করেছিলেন—এ কথা সহিহ মুসলিমের এই বর্ণনার সঙ্গে মেলে না। [53]

অবশ্য পরবর্তী সময়ে ইবনে আব্বাস মত প্রত্যাহার করেছিলেন—এমন আলাদা বর্ণনাও সুন্নি গ্রন্থে রয়েছে। কিন্তু তাতে অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার: “আলী ভুল ধরিয়ে দিলেন এবং ইবনে আব্বাস তখনই মুতার বৈধতার মত ছেড়ে দিলেন”—এই সরল গল্পটি ঠিক নয়। আলীর মৃত্যুর পরেও ইবনে আব্বাসের নামে মুতা বৈধতার প্রকাশ্য ফতোয়া সংরক্ষিত হয়েছে, এবং সেই ফতোয়ার কারণেই ইবনে যুবায়ের তাঁকে রজমের হুমকি দেন। নিচের হাদিসটি দেখুন [54]

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৭/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ৩. মুত’আ বিবাহ তা বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, তারপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং এখন কিয়ামত পর্যন্ত তার অবৈধতা বলবৎ থাকবে
৩২৯৯। হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) মক্কায় (ভাষণ দিতে) দাঁড়িয়ে বললেন, কিছু লোক এমন আছে আল্লাহ যেমন তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন তেমনি অন্তরকেও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মুতআর পক্ষে ফাতওয়া দেয়। একথা বলে তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করলেন। সে ব্যক্তি ইবনু আব্বাস (রাঃ)। তিনি তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, তুমি একটি অসভ্য ও রুঢ় ব্যক্তি। আমার জীবনের শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মুত’আ প্রচলিত ছিল। ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাকে বললেন, আপনি নিজে একবার করে দেখুন। আল্লাহর শপথ! আপনি যদি তা (মুতআ) করেন তাহলে আপনার জন্য নির্ধারিত পাথর দিয়েই আপনাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করব।
ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, খালিদ ইবনুল মুহাজির ইবনু সায়ফুল্লাহ (রহঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক ব্যক্তির নিকট বসাছিলেন। এই সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে মুত’আ সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করে। তিনি তাকে মুতআর অনুমতি দিলেন। ইবনু আবূ উমরা আনসারী (রাঃ) তাকে বললেন, থামুন। সে বলল, কেন? আল্লাহর শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তা করা হত। ইবনু আবূ উমরা (রাঃ) বললেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিরুপায় অবস্থায় তার অনুমতি ছিল (যেমন নিরুপায় অবস্থায়) মৃত জীব, রক্ত ও শুকরের (গোশত ভক্ষণের) ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ তার দ্বীনকে শক্তিশালী এবং সুদৃড় করলেন এবং তা নিষিদ্ধ করলেন।
ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, রাবী ইবনু সাবরা জুহানী আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমি দুটি লাল চাঁদরের বিনিময়ে আমির গোত্রের একটি স্ত্রীলোকের সাথে মুত’আ করেছিলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুত’আ করতে নিষেধ করেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) আরও বলেন, আমি রাবী ইবনু সাবরাকে উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর নিকট তা বর্ণনা করতে শুনেছি, আমি তখন (সেখানে) বসা ছিলাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ বিন যুবাইর (রা.)


ইমাম মালিক এবং আহমদ বিন হাম্বল

এবারে আশরাফুল হিদায়া থেকেও মুতাহ বিবাহ সম্পর্কে পড়ি, [55] যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইমাম মালিক এই সম্পর্কে ভিন্নমত দিয়েছেন। সেই সাথে এটিও বলা হয়েছে, মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সম্মিলিত ইজমার মাধ্যমে। সেটি নবীর নির্দেশ হয়ে থাকলে ইজমার প্রয়োজন কেন হলো, সেটিও একটি প্রশ্ন!

وَنِكَاحُ الْمُتْعَةِ بَاطِلٌ وَهُوَ أَنْ يَقُولَ لِاِمْرَأَةِ أَتَمَتَّعُ بِكِ كَذَا مُدَّةٌ بِكَذَا مِنَ الْمَالِ وَقَالَ مَالِكَ (رح) هُوَ جَائِزٌ لِأَنَّهُ كَانَ مُبَاحًا فَيَبْقَى إِلَى أَنْ يَظْهَرَ نَاسِخَةُ قُلْنَا ثَبَتَ النَّسْعُ بِإِجْمَاعِ الصَّحَابَةِ وَابْنِ عَبَّاسٍ (رض) صَحَ رُجُوعُهُ إِلَى قَوْلِهِمْ فَتَقَرَّرَ الْإِجْمَاعُ.
অনুবাদ: মুতা বিবাহ বাতিল। মুতা বিবাহের অর্থ- পুরুষ কোনো স্ত্রীলোককে বলল, আমি এ পরিমাণ মালের
বিনিময়ে এতদিনের জন্য তোমাকে ভোগ করব। ইমাম মালেক (র.) বলেন, এটা জায়েজ আছে। কেননা, মূলত এটা জায়েজ ছিল, সুতরাং রহিতকারী সাব্যস্ত হওয়া পর্যন্ত বৈধতা অব্যাহত থাকবে। আমাদের দলিল হলো, সাহাবায়ে কেরামের ইজমা-এর মাধ্যমে [মুতার বৈধতা) রহিত হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে। আর এ কথা বিশুদ্ধরূপে প্রমাণিত হয়েছে যে. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) সাহাবায়ে কেরামের মতের অনুকূলে স্বীয় মত প্রত্যাহার করেছেন। সুতরাং ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
قَوْلُهُ وَنِكَاحُ الْمُنْعَةِ بَاطِلُ الحَ : মুভা বলা হয়, কোনো নারীকে এ কথা বলা যে-
اتمتع بك كَذَا مُدَّةٌ بِكَنَا مِنَ الْمَالِ : অর্থাৎ, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ মালের বিনিময়ে নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত আমি মোতাকে ভোগ করব।’ সকল ইমাম মুতা হারাম হওয়ার প্রবক্তা। অবশ্য ইমাম মালেক (র.) ভিন্নমত পোষণ করেন। হিদায়া গ্রন্থকারের বর্ণনা মতে, ইমাম মালেক (র.) বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুতা জায়েজ ছিল। সুতরাং তার বৈধতা ততক্ষণ পর্যন্ত বাকি থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো রহিতকারী না পাওয়া যাবে। আর যেহেতু রহিতকারী এখনো আসেনি তাই মুতা বৈধ-ই থাকবে। কিন্তু হিদায়া গ্রন্থকার (র.) এর জবাবে বলেন যে, মুতা হারাম হওয়ার উপর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা রয়েছে। সুতরাং এটাই রহিতকারী। কিন্তু এ জবাবের উপর এ প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, মুতা হারাম হওয়ার উপর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বলা ঠিক নয়। কেননা, ইজমা -এর জমানায় হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) মুতা জায়েজ হওয়ার অভিমত পেশ করেছিলেন। এর জবাব হলো, একবার হযরত আলী (রা.) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেছিলেন, আপনার কি জানা নেই যে, রাসূলুল্লাহ হারে খায়বারের দিনে মুতাকে হারাম করে দিয়েছেন? একথা শ্রবণে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর পূর্বোক্ত অভিমত প্রত্যাহার করেছেন এবং মুতা জায়েজ হওয়ার পক্ষে নিজের মতামত হতে তওবা করেছেন। সুতরাং হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-ও যখন স্বীয় মত পরিত্যাগ করলেন, তখন তো মুতা হারাম হওয়ার উপর ইজমা সংঘটিত হয়ে গেল।
মুতা খায়বারের পূর্বে হালাল ছিল, কিন্তু খায়বারের দিন রাসূলুল্লাহ
গৃহপালিত গাধার গোশ্ত ও নারীদের সাথে মুতাকে হারাম করে দিয়েছেন। তারপর মক্কা বিজয়ের বছর আওতাসের দিনে তিনদিনের জন্য মুতা হালাল করা হয়েছিল। পরে চতুর্থবার কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন। এখানে এ কথাও জানা থাকা আবশ্যক যে, হিদায়া গ্রন্থকার ইমাম মালেক (র.)-এর মাযহাব বর্ণনা করতে গিয়ে ভ্রমতার পরিচয় দিয়েছেন। কারণ, মালেকীগণের কোনো কিতাবে মুতা বৈধ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়নি। স্বয়ং ইমাম মালেক (র.) তাঁর মুয়াত্তার মধ্যে হযরত আলী (রা.)-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন- إِنَّ رَسُولَ اللهُ تَهَى عَنْ مُنْعَةِ النِّسَاءِ وَعَنْ لُحُوْمِ الْعُسْرِ الْأَهْلِيَّةِ مِنْ خَبْبَرٌ অর্থাৎ, নবী করীম খায়বার দিবসে মুতা বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত থেকে নিষেধ করেছেন।’ আইনী শরহে হিদায়া।
ইমাম মালেক (র.)-এর আদত বা বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি তাঁর মুয়াত্তায় সে হাদীসটিই আনয়ন করেন যা তাঁর মাযহাব। সুতরাং উক্ত হাদীসটিও মুয়াত্তায় স্থান পাওয়া এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, ইমাম মালেক (র.)-ও মুতা হারাম হওয়ার প্রবক্তা।

মুতা 19

ইবনে কাসীরের সংরক্ষিত আলোচনায় ইবনে আব্বাসসহ একদল সাহাবীর নামে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি সাপেক্ষে মুতার বৈধতা অব্যাহত থাকার মত বর্ণিত হয়েছে এবং আহমদ ইবনে হাম্বলের নামেও এমন একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ পরবর্তী সুন্নি ঐকমত্যের চিত্র যতটা একরৈখিকভাবে উপস্থাপন করা হয়, প্রাচীন মতবিবরণের ভেতরে বিষয়টি ততটা সরল ছিল না। [56]

তিনি আরও বলিয়াছেন:
وَأْتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً.
অর্থাৎ ‘তোমরা খুশিমনে স্ত্রীদিগকে তাহাদের মাহর প্রদান কর।’
অন্যত্র তিনি বলিয়াছেন:
وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا أَتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا.
অর্থাৎ ‘তোমরা স্ত্রীদিগকে যাহা কিছু প্রদান করিয়াছ, তাহা হইতে কিছু ফিরাইয়া নেওয়া তোমাদের জন্যে বৈধ নয়।’
এই আয়াতের সাধারণ অর্থ দ্বারা মুত’আ বিবাহের সমর্থনে দলীল গ্রহণ করা হইয়া থাকে।
তবে এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ইসলামের প্রথম যুগে ইহা জায়েয ছিল ও পরে ইহা রহিত করা হয়।
ইমাম শাফিঈ (র) সহ আলিমদের একটি দল বলেন: মুত’আ একবার বৈধ করা হয়, কিন্তু তাহাও রহিত করা হয়। মোট কথা দুইবার বৈধ করা হইয়াছে এবং দুইবার রহিত করা হইয়াছে।
অপর একদল বলেন: ইহা কয়েকবার বৈধ করা হয় এবং কয়েকবার রহিত করা হয়।
আলিমদের অন্য একটি দল বলেন: ইহা একবার বৈধ করা হইয়াছিল এবং পরে ইহার বৈধতা রহিত করা হয়। অতঃপর ইহাকে বৈধ করা হয় নাই।
হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) সহ সাহাবাদের একটি দল হইতে বর্ণিত হইয়াছে যে, প্রয়োজন ও পরিস্থিতি সাপেক্ষে উহা জায়েয রহিয়াছে। ইমাম আহমদ (র) হইতেও উহা বর্ণিত হইয়াছে।
হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) উবাই ইব্‌ন কা’ব (রা), সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র (রা) এবং সুদ্দী প্রমুখের কিরাআতে রহিয়াছে:

মুতা 21

উপসংহার

উপরের দীর্ঘ আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় খুব পরিষ্কার। মুহাম্মদের যুগে মুতা বিবাহ শুধু তাত্ত্বিকভাবে বৈধ ছিল না, তাঁর সরাসরি অনুমতিতে সাহাবীরা বাস্তবে তা করেছেন। স্ত্রীহীন সামরিক অভিযানে যৌন চাহিদা ও নারীর স্বল্পতার কারণেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল—সহিহ হাদিসেই সেই পরিস্থিতির বিবরণ রয়েছে। এমনকি ইবনে হাজারের ব্যাখ্যায় খায়বারের পর সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী নারী বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে মুতা নিষেধের সম্পর্কও টানা হয়েছে; আবার দীর্ঘ সফরে প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন করে সাময়িক অনুমতি দেওয়ার ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন। অর্থাৎ একই যৌনচুক্তি এক পরিস্থিতিতে হালাল, পরে হারাম, আবার প্রয়োজন তৈরি হলে আবার হালাল—এমন বর্ণনাই ইসলামী উৎসে সংরক্ষিত হয়েছে।

আর নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসও মোটেই একরৈখিক নয়। খায়বারে নিষেধের বর্ণনা আছে, তার পরে মক্কা বিজয়ে আবার অনুমতি আছে, আওতাসে আবার তিন দিনের অনুমতি ও নিষেধ আছে; ইবনে হাজার নিষেধের বর্ণিত সময় হিসেবে খায়বার, উমরাতুল ক্বাযা, মক্কা বিজয়, আওতাস, তাবুক, বিদায় হজ এবং হুনাইন পর্যন্ত আলোচনা করেছেন। আরও বড় সমস্যা হলো, সহিহ মুসলিমেই জাবিরের নামে বলা হচ্ছে—মুহাম্মদের যুগে, আবু বকরের যুগে এবং উমরের সময় পর্যন্ত সাহাবীরা মুতা করেছেন; শেষ পর্যন্ত উমর আমর ইবন হুরায়সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন। ফলে “মুহাম্মদ একবার কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ”—এই সরল ইতিহাস হাদিসগুলোর সামগ্রিক চিত্রের সঙ্গে মেলে না।

এ কারণেই শিয়া ও সুন্নি অবস্থানের সংঘর্ষটিও গুরুত্বপূর্ণ। সুন্নি ব্যাখ্যায় উমর নতুন কোনো বিধান তৈরি করেননি, তিনি মুহাম্মদের নিষেধাজ্ঞা শুধু কার্যকর করেছিলেন। শিয়া ব্যাখ্যায় উল্টোভাবে উমরই মুতা বন্ধ করেন। কিন্তু দুই পক্ষের বিতর্কের নিচে যে তথ্যটি পড়ে থাকে সেটি হলো—মুহাম্মদের যুগে মুতা বৈধ ছিল, সাহাবীরা তাঁর অনুমতিতে তা করেছেন, তাঁর মৃত্যুর পরেও এর চর্চার বর্ণনা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত উমরকে প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা ও রজমের হুমকি দিতে দেখা যাচ্ছে।

সবশেষে নৈতিক প্রশ্নটি থেকেই যায়। আজ কেউ যদি নির্দিষ্ট অর্থ বা সম্পদের বিনিময়ে কয়েক রাতের এই যৌনচুক্তিকে অশ্লীল, অসভ্য বা পতিতাবৃত্তিসদৃশ মনে করেন, তাহলে একই কাজ মুহাম্মদের অনুমোদনের সময় নৈতিক হয়ে যায় কীভাবে? এর উত্তর যদি হয়—“তখন আল্লাহ হালাল করেছিলেন”—তাহলে সেটিই প্রমাণ করে যে এখানে কাজটির নিজস্ব নৈতিক চরিত্র মুখ্য নয়; মুখ্য হলো কখন আল্লাহ বা তাঁর নবী সেটিকে হালাল কিংবা হারাম ঘোষণা করছেন। সেটি নৈতিকতার অপরিবর্তনীয় মানদণ্ড নয়, বরং নির্দেশের পরিবর্তনের সঙ্গে ভাল-মন্দের পরিবর্তন।


তথ্যসূত্রঃ
  1. Misyar Marriage — a Marvel or Misery? ↩︎
  2. Misyar now ‘a widespread reality’ ↩︎
  3. ধর্মীয় নৈতিকতায় অজাচারের রূপরেখাঃ নাস্তিকরা অজাচার করে? ↩︎
  4. সূরা নিসা, আয়াত ২৪ ↩︎
  5. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫, ২৬ ↩︎
  6. তাফসীরে ইবনে আব্বাস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা ২২৮ ↩︎
  7. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৩ ↩︎
  8. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৪ ↩︎
  9. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩২৮৮ ↩︎
  10. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫১১৭ ↩︎
  11. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৯৪ ↩︎
  12. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিসঃ ৫১১৯ ↩︎
  13. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস নম্বরঃ ৫১১৬ ↩︎
  14. ইসলামে দাসী-ধর্ষণ: দাসী সহবাসে কি সম্মতি জরুরি? ↩︎
  15. ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার আসকালানী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৭১ ↩︎
  16. ফাতহুল বারী—নিকাহুল মুতা ↩︎
  17. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৮০ ↩︎
  18. সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিসঃ ১৯৬২ ↩︎
  19. সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৩৭১ ↩︎
  20. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৯৫ ↩︎
  21. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৩১১ ↩︎
  22. মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (উমারের বর্ণিত হাদীস), হাদিসঃ ৩৫১ ↩︎
  23. মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (উমারের বর্ণিত হাদীস), হাদিসঃ ৩৪২ ↩︎
  24. মুসনাদে আহমদ, ইসলামিক সেন্টার, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২, ২৩৫, ২৩৬ ↩︎
  25. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ২৮৩৭ ↩︎
  26. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ৩, ১৬৭, ১৬৮ ↩︎
  27. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৮৫ ↩︎
  28. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৮৬ ↩︎
  29. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৮৭ ↩︎
  30. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৩০৭ ↩︎
  31. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিসঃ ৩৩০৬ ↩︎
  32. মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদিস ১৪০২৪ ↩︎
  33. ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার আসকালানী, কিতাবুন নিকাহ, নিকাহুল মুতা প্রসঙ্গ ↩︎
  34. আল-ইসাবাহ ফি তামইযিস সাহাবাহ, সালামাহ ইবন উমাইয়ার জীবনী ↩︎
  35. ফাতহুল বারী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৭৪ ↩︎
  36. মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হাদিস ১৪০২১, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৯৬–৪৯৭ ↩︎
  37. কোরআন শিক্ষা দিয়ে অর্থ নেয়া হারাম ↩︎
  38. হযরত উমরের সরাসরি কুফরি কর্মসমূহের তালিকা ↩︎
  39. আউল পদ্ধতিঃ কোরআনে উত্তরাধিকার আইনে ভুল ↩︎
  40. মুয়াত্তা মালিক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১১৪১ ↩︎
  41. তাফহীমুল কুরআন, সাইয়েদ আবু আলা মওদুদি, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১, ১২ ↩︎
  42. তাফসীরে জালালাইন, ইসলামিয়া কুতুবখানা, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮০০ ↩︎
  43. তাহাবী শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮ ↩︎
  44. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৭৪৪ 1 2
  45. সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩৩৭০ ↩︎
  46. সূনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৪৩৩৫ ↩︎
  47. সূনান তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ১৮০১ ↩︎
  48. ফাতহুল বারী, কিতাবুন নিকাহ—মুতা নিষেধের আলোচনা ↩︎
  49. নাইলুল আওতার—নিকাহুল মুতা ও তার রহিতকরণ ↩︎
  50. ফাতহুল বারী—মুতা নিষিদ্ধ হওয়ার বিভিন্ন সময় ↩︎
  51. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৮৪ ↩︎
  52. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৮৮ ↩︎
  53. রূহুল মাআনী, সূরা নিসা ৪:২৪-এর তাফসীর ↩︎
  54. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিসঃ ৩২৯৯ ↩︎
  55. আশরাফুল হিদায়া, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৭ ↩︎
  56. তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫ ↩︎

About This Article

Genre: Islamic Marriage Law Critique, Mut‘ah Marriage Analysis, Hadith-Based Legal History, Sunni-Shia Dispute Review, and Religious-Morality Critique

Epistemic Position: Secular Humanism, Historical Criticism, Source Criticism, Sexual-Ethics Analysis, Anti-Apologetic Reasoning, and Moral-Consistency Review

This article examines mut‘ah, or temporary marriage, as a time-limited sexual contract that was practiced and permitted in the early Islamic period according to major hadith and tafsir sources.

The central argument is that mut‘ah was not a later Shia invention; Islamic sources themselves preserve reports of Muhammad permitting his companions to contract temporary sexual relationships for a fixed period and fixed compensation.

The article also discusses Quran 4:24, the term istamta‘tum, Ibn Kathir's tafsir, Ibn Abbas's view, Sahih Bukhari and Sahih Muslim reports, wartime sexual need, three-night temporary marriage reports, the Khaybar, Mecca, and Awtas timelines, Jabir's report that mut‘ah continued during Muhammad's, Abu Bakr's, and part of Umar's time, Umar's prohibition, and the Sunni-Shia disagreement over whether the ban was prophetic or later political-legal enforcement.

This article should be evaluated through hadith evidence, tafsir history, legal chronology, Quranic interpretation, early Muslim practice, moral consistency, and sexual ethics—not through sectarian dismissal, post-hoc Sunni harmonization, euphemistic marriage language, selective quotation, or the demand that a temporary paid sexual contract be protected from ordinary ethical scrutiny.

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

21 thoughts on

  1. আপনি ভুল ভাল হাদিস ব্যাখ্যা করেছেন। আমি হাদিসে খুঁজে সংখ্যা মিলিয়েছি। পাইনি আপনার হাদীস। এগুলো করে কোনো লাভ নেই।

    1. কোন হাদিসটি ভুল? এখানে হাদিসের কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। হাদিস নম্বর এবং বই সহ উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি প্রকাশনী এবং হাদিস নম্বর দিয়ে খুঁজে না পেলে সেটি হবে খুবই অদ্ভুত ব্যাপার। কারণ আমি সরাসরি বইয়ের ছবিও তুলে দিয়েছি। মিথ্যা বলে কী লাভ? এতে ধর্ম রক্ষা পাবে?

  2. আসিফ মহিউদ্দীন সাহেব। নবীজি যে মুতাহ বিবাহ করেছিলেন – এ সংক্রান্ত আপনি যে দলিল দিলেন সেটি যাচাই করেছেন তো? যদি আমি প্রমাণ করতে পারি নবী (সা:) মুতাহ বিবাহ করেন নাই – আপনার দেওয়া দলিল থেকেই?

  3. খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেণ। ধন্যবাদ। আসলে কোরআন অনুযায়ী মুতা বিবাহ, পতিতা এগুলো জায়েজ। কিন্তু কাঠ মোল্লারা তা বুঝতে চাইনা।

  4. eisob hypocrisy bondho koren, mutah bibaho islam onek agei ban kore dise
    Lemme show ya some reference such as cunt akin ya Won’t show this ( Don’t remove my comment if ya ain’t wuss)

    সাবরাহ আল জুহানী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের স্ত্রীলোকদের সাথে মুতা বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তা হারাম করেছেন কিয়ামাতের দিন পর্যন্ত। অতএব যার নিকট এ ধরনের বিয়ের সূত্রে কোন স্ত্রীলোক আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছ তা কেড়ে নিও না । (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩১৩)

    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আওত্বাস যুদ্ধের বছর তিন দিনের জন্য মুতা বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন । (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৩০৯)

    নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতা‌ (বিবাহ) করতে নিষেধ করেছেন । (সহিহ মুসলিম,হাদিস নং ৩৩১৭)

  5. ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুতাআ ও সাময়িক বিয়ের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অসংখ্য সহীহ হাদীসে এটাকে হারাম ঘোষণা করা হয়। যেমন এক হাদীসে এসেছে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বার যুদ্ধের কালে মুত’আ বিয়ে ও গৃহপালিত গাধার গোস্ত হারাম করেছেন। [বুখারী ৫১১৫, ৫৫২৩; আরও দেখুন বুখারীঃ ৪২১৬, মুসলিমঃ ১৪০৬, ১৪০৭]

    সূত্র: https://www.hadithbd.com

  6. এর থেকে এটা স্পষ্ট যে যখন তাদের মনে চায় হালাল হয়েছে এবং যখন মনে চায় না হারাম হয়েছে।নিজে করেছে এবং অন্যদের করতে বলেছে।আর যখন বুঝতে পারলো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে তখন সেটাকে নিষিদ্ধ দাবি করেছে যে আল্লাহ এটাকে হারাম বলেছেন।আর যদি আল্লাহ এটাকে হারাম বলে যখন তারা করছিলো তখন কেন তাদের বাধা দেন নি। তাহলে আল্লাহ কি বিষয়টি পরে বুঝতে পেরেছে?

  7. নবী (সা.) মুত’আ করেছেন কিনা – হাদীসভিত্তিক বিশ্লেষণ

    🔎 হাদীস ১: সহীহ মুসলিম – হাদীস ১২২২

    🗣 উমার (রাঃ) বলেন:

    “إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَهُ وَفَعَلَهُ أَصْحَابُهُ”
    অর্থ: “নবী (সা.) এটি করেছেন, এবং সাহাবীরাও করেছেন।”

    📌 এই “فَعَلَهُ” (ফা‘আলাহু) শব্দটি আরবি ব্যাকরণ অনুসারে,

    🔍 ইসলামী ব্যাখ্যাকারীরা (যেমনঃ ইমাম নববী, ইবনে হাজার আসকালানী) বলেছেন:

    ➡ এখানে “فَعَلَهُ” মানে তিনি অনুমতি দিয়েছেন,
    ➡ তাঁর অনুমতিতে সাহাবীরা করেছেন।

    ✅ কোনো সহীহ হাদীসে নেই: নবী (সা.) নিজে মুত’আ করেছেন বা কোনো নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে করেছেন।

    শব্দ বিশ্লেষণ: فَعَلَهُ (ফা‘আলাহু)

    এর সাধারণ অর্থ:

    “সে এটা করেছে”
    ➡ এখানে “সে” বলতে বোঝায় কোন ব্যক্তি নিজের হাতে/নিজ উদ্যোগে কাজটি করেছে।

    🔎 কিন্তু হাদীসে কখন কখন এই ক্রিয়াপদ “ফা‘আলাহু” দিয়ে বোঝানো হয়:

    সে নিজে করেছে
    না হয়ে, বোঝায়:

    সে অন্যদের করতে দিয়েছে/অনুমতি দিয়েছে

    বা তার শাসনকালে, নেতৃত্বে কাজটি হয়েছে

    উদাহরণ ১:

    হাদীস:

    صلى النبيُّ على امرأةٍ ماتتْ في نِفاسِها
    “নবী (সা.) এক মহিলা যিনি সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছেন, তাঁর জানাযা পড়েছেন।”

    এখানে বলা হয়েছে “নবী জানাযা পড়েছেন”, কিন্তু বুখারী/মুসলিমের ব্যাখ্যায় বলা হয় —
    ➡ নবী (সা.) নিজে জানাযার ইমামতি করেননি,
    ➡ বরং তাঁর নির্দেশে সাহাবীরা পড়েন, আর তিনি সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

    📘 তথ্যসূত্র:

    সহীহ বুখারী

    ইবনে হাজার আসকালানীর فتح الباري (Fath al-Bari) ব্যাখ্যা

    উদাহরণ ২: (এই প্রসঙ্গেই খুব গুরুত্বপূর্ণ)

    📘 সহীহ মুসলিম ১২২২ হাদীস:

    “فَعَلَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفَعَلَهُ أَصْحَابُهُ”

    ➡ এটা আবু মূসা আশ’আরীর কাহিনী যেখানে উমর (রাঃ) বলছেন:
    “নবী (সা.) ও সাহাবীরা মুত’আ করেছেন”

    এখানে ইমাম নববী (রহ.) তাঁর “شرح النووي على مسلم” ব্যাখ্যায় বলেন:

    “المعنى فعل بإذنه، أو في عهده”
    অর্থ:
    ➤ “এখানে ‘করেছেন’ মানে তাঁর অনুমতিক্রমে করা হয়েছে, বা তাঁর সময়ে করা হয়েছে”

    অর্থাৎ, “নবী করেছেন” মানেই তিনি নিজে কোন নারীর সাথে মুত’আ করেছেন — এটা সরাসরি বোঝায় না।
    ➡ বরং বোঝায় যে তাঁর যুগে, তাঁর অনুমতিতে সাহাবীরা করেছেন।

    উদাহরণ ৩: (আরও বেশি পরিষ্কার)

    রাসূল (সা.)-এর যুগে মসজিদে নববীর মিম্বর তৈরি করা হয়।

    হাদীসের ভাষায় বলা হয়:

    “نصب النبيُّ المنبرَ”
    ➡ অর্থ: “নবী (সা.) মিম্বর স্থাপন করেছেন”

    কিন্তু বাস্তবে কে মিম্বর বানিয়েছে?
    ➡ সাহাবারা – নবীর নির্দেশে।

    📘 তাফসিরকারীরা বলেন:

    এটি ফে’আলাহু = কাজটি তাঁর অনুমতিতে হয়েছে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে,
    যদিও তিনি নিজ হাতে কাঠ কাটেননি বা বানাননি।

    ঘটনা:
    সাল,খ্রিস্টাব্দ এবং নবীজির বয়স:

    1/মুত’আর অনুমতি : ৭ হিজরি, ৬২৮ খ্রিস্টাব্দ,নবীর বয়স:✅ ৫৮ বছর
    2/মুত’আর অনুমতি আবার করা হয়:৮ হিজরি, ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ, নবীর বয়স :✅ ৬০ বছর
    3/মুত’আ নিষিদ্ধ: ১০ হিজরি,৬৩২ খ্রিস্টাব্দ, নবীর বয়স :✅ ৬২ বছর

    ১. খায়বার যুদ্ধ (৭ হিজরি)
    ২.মক্কা বিজয় ও হুনায়েন যুদ্ধ (৮ হিজরি)
    ৩. তাবুক যুদ্ধের পর (১০ হিজরি) নিষিদ্ধ হয়।

    যখন ইসলামী সমাজ সুসংগঠিত হয়ে ওঠে এবং নৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই নবীজি (সা.) চূড়ান্তভাবে মুত’আ নিষিদ্ধ করেন।

  8. ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য ও সর্ব নিকৃষ্ট ধর্ম।
    ১. ধর্মত্যাগ = মৃত্যুদণ্ড
    ১৩টা দেশে আইনি। বাংলাদেশে মাদ্রাসা ছাত্ররা “মুরতাদ মারো” বলে রাস্তায় নামে।
    ২. ৯ বছরের বাচ্চাকে ধর্ষণ হালাল
    সহীহ বুখারী ৫১৩৪: মুহাম্মদ আয়েশাকে ৬ বছরে বিয়ে, ৯ বছরে ধর্ষণ। ইরানে আজও ৯ বছরে বিয়ে আইনি।
    ৩. যুদ্ধে ধর্ষণ = হালাল
    কুরআন ৪:২৪: “যাদের তোমার ডান হাত দখল করে” = যুদ্ধবন্দী মহিলা। হামাস ৭ অক্টোবর একই আয়াত পড়ে ধর্ষণ করেছে।
    ৪. মাথা কাটা = সুন্নত
    কুরআন ৪৭:৪: “যখন কাফেরদের সাথে যুদ্ধ কর, তাদের গলা কাটো”। তালেবান ২০২৫-এ লাইভ স্ট্রিম করে।
    ৫. নারী = অর্ধেক মানুষ
    কুরআন ২:২৮২: সাক্ষ্য অর্ধেক। ৪:৩৪: স্বামী পিটাতে পারে।
    ৬. সমকামী = ছাদ থেকে ফেলে মারা
    হাদিস: “যে পুরুষ পুরুষের সাথে করে, দুজনকে ছাদ থেকে ফেলো”। ইরান ২০২৫-এ ২৩ জনকে ফাঁসি।
    ৭. কার্টুন আঁকলে মৃত্যু
    চার্লি হেবদো, স্যামুয়েল প্যাটি—বাংলাদেশে ৭৮% মুসলিম বলে “ব্লাসফেমির শাস্তি মৃত্যু” (Pew ২০২৩)।
    ৮. দাসপ্রথা = হালাল
    কুরআন ২৩:৫-৬: দাসীদের সাথে যৌনতা। আরবরা ১৪০০ বছরে ১৪ মিলিয়ন আফ্রিকান ক্রীতদাস করেছে।
    ৯. মুহাম্মদ = পেডোফাইল + রেপিস্ট
    সাফিয়্যা: বাবা-স্বামী খুন → সেই রাতেই ধর্ষণ (ইবনে ইশাক ৭৫৮)।
    ১০. কোনো রিফর্ম নেই
    ১৪০০ বছর। শূন্য আপডেট। খ্রিস্টানরা সংস্কার করেছে, হিন্দুরা করেছে—ইসলাম আজও ৭ম শতাব্দীর সফটওয়্যার চালায়।

Leave a comment

Your email will not be published.