আহাম্মকোপিডিয়া এবং একটি নতুন শান্তির ধর্ম!
বেওয়ারিশ বংশের সন্তান মোটাপেট একদিন মাঝরাত্রিতে তাহার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবী করিয়া বসিলো, তাহার ফেসবুক ইনবক্সে নাকি মহামান্য এবং পরমকরুণাময় সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ই-বার্তা অর্থাৎ মেসেজ আসিয়াছে। জগতের সোশ্যাল মিডিয়া সমূহ নাকি পাপে পূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে, অবিশ্বাসী কাফের নাস্তিক মুরতাদদের লীলাভূমি হইয়া উঠিয়াছে। কাহারো মনে নাকি ঈমান বলিয়া আর কিছুই অবশিষ্ট নাই। চারিপার্শ্বে খালি পাপ আর পাপ। এমতাবস্থায় অসীম দয়াবান এবং ক্ষমতাবান মহামান্য ঈশ্বর নাকি তাহাকে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মহান ত্রানকর্তা বলিয়া মনোনিত করিয়াছেন, মানব জাতিকে রক্ষার মহান দায়িত্ব মোটাপেটের কাধে সঁপিয়া দিয়া ফেসবুক যেভাবে নাস্তিক কাফের মুরতাদদের দখলে চলিয়া গিয়াছে, তাহা হইতে ফেসবুককে রক্ষার কর্তব্য দান করিয়াছেন। তাহাকেই আধুনিক সময়ের ডিজিটাল নবী মনোনীত করিয়াছেন।
স্ট্যাটাসটি দিবার সাথে সাথেই তাহার স্ট্যাটাসে বিশাল হাউমাউ কাউকাউ লাগিয়া গেল। নানান দিক হইতে নানান ধরণের লোকজন নানান ধরণের কথাবার্তা বলা শুরু করিয়া দিলো। যেই মোটাপেট সারাদিন ধরিয়া ফেসবুকে গুতাগুতি করে, নানাবিধ স্ট্যাটাস দেয়, তাহার স্ট্যাটাসে কাকপক্ষীও কালেভদ্রে হাগুও করে না। সেইখানে এই স্ট্যাটাসটি ৪০ টির বেশি লাইক পাইলো, নানাজন ২১২ টা মন্তব্য করিলো, স্ট্যাটাসটি ৩১ বার শেয়ারও হইলো। মোটাপেট তো মহাখুশি। যাক, সে এখন মানুষের চোখে পরিয়াছে অবশেষে। তার বহুদিনের আশা পূর্ণ হইয়াছে। অবশেষে মোটাপেট লোকজনার পাত্তা পাইয়াছে।
এমনকি মহামান্য ঈশ্বরের ফেসবুক একাউন্ট হইতে মোটাপেটের কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও আসিলো, ঈশ্বর তাহাকে বেস্ট ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও পাঠাইলেন। মোটাপেটের প্রফাইলে জ্বলজ্বল করিতে লাগিলো ঈশ্বরের বেস্টফ্রেন্ড কানেকশন!
বহুদিন বছর ধরিয়া মোটাপেট এরকম একটি দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। দুষ্টু লোকে বলে ছোটবেলায় বাবা বাণিজ্য করিতে গিয়া কোথায় উধাও হইলেন, মাতারও মৃত্যুর পরে পিতামাতাহীন এই ছেলেটিকে কেউ জিজ্ঞেসও করে নি, বাবা, তুমি কেমন আছো? এরকম দুঃখময় জীবনে যেখানে কেউ তাহার দিকে তাকায় না, ডেকে দুটো কথা বলে না। তাই সবার মনোযোগ আকর্ষণ হইয়া উঠিয়াছিল তাহার জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। দুষ্টু লোকে তাকে এটেনশন সিকার বলে বটে, সে যাইহোক। ছোটবেলার এই মনোযোগ আকর্ষণের ঝোঁকটা এখন বাড়িয়া বড্ড বাড়াবাড়িতে পরিণত হইয়া মোটাপেট একদম নার্সিসিস্ট উন্মাদে পরিণত হইয়াছে।
আপনাদের কানে কানে জানাইয়া রাখি, ঈশ্বরের একাউন্টটা আসলে মোটাপেটই গোপনে বানাইয়াছে। আর বানাইবেই না কেন? মোটাপেট সারাদিন ফেসবুকে বসিয়া নানান স্ট্যাটাস দেয়, নানান ছবি শেয়ার করে, কত্ত কত্ত লম্বা লম্বা নোট লেখে। কিন্তু কেউ তাতে লাইক দেয় না, কেউ কমেন্টও করে না। সুন্দরী মেয়েদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইলেও তাহারা মোটাপেটের বদখত চেহারা দেখিয়া ব্লক মারিয়া দেয়। সেক্স চ্যাটেও সাড়া মেলে না। তো ঈশ্বরের ফেক একাউন্ট বানানো ভিন্ন উপায় কী? ঈশ্বর মহাশয় নিশ্চয় ইহার প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে মানববন্ধন করিবেন না, হরতালও ডাকিবেন না। বড়জোড় তাহার নেট কানেকশন একটু স্লো করিয়া দিতে পারে, তাহাতে কোন সমস্যা নাই। মোটাপেটের ব্যাকআপ কানেকশন আছে।
মোটাপেটের চাচাতো ভাই বাবু বকর মোটাপেটকে খুব উৎসাহ দিতে শুরু করিলো। বাবু বকর তাহাকে বলিলো, যে সে তাহার পক্ষ হইয়া প্রচার করিবে মহাপেটের নবুয়ত্বের কথা, বিনিময়ে মোটাপেট যখন মরিয়া যাইবে, বাবু বকরকে ঐ একাউন্টের পাসওয়ার্ডটি দিয়া যাইতে হইবে। ঐদিকে মোটাপেটের আরেক চাচাতো ভাই বদখত আলীও মোটাপেটের সঙ্গে যোগ দিলো। সকলে মিলিয়া মোটাপেটের ঈশ্বরের কথা ফেসবুকে শেয়ার দিতে লাগিলো। ফেসবুকের লোকজন তাহাদের উচ্চমার্গীয় গাধামী দেখিয়া প্রথম প্রথম খুব মজা পাইলো, তাহারা এই সব স্ট্যাটাস-নোট আর ভাঁড়ামোতে হাসাহাসি, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করিয়া মোটাপেট ও তার অনুসারীদের উৎসাহ দিতে লাগিলো।
কিছুদিনের মধ্যেই এই লইয়া ফেসবুকে হুলুস্থুল শুরু হইয়া গেল। মোটাপেট দেখিল, সকলে তাহাকে লইয়া হাসিতামাশা করিতেছে। এসব দেখিয়া আর তার সহ্য হইলো না। সে নিজের ধর্ম বাদে অন্য ধর্মগুলো লইয়া কটাক্ষ কটূক্তি অবমাননা শুরু করিলো। প্রথম দিকে কেহ তাহাকে পাত্তা না দিলেও, এবারে অনেক লোকের ধর্মানুভূতিই আহত হইতে লাগিলো। ফেসবুকবাসী দুইভাবে বিভক্ত হইলো। একপক্ষ মোটাপেটের পক্ষে, আরেক পক্ষ বিপক্ষে। এই নিয়ে মারামারি ঝগড়াঝাটি ব্লক করা, রিপোর্ট করা নানান হাউকাউ শুরু হইলো। বড় বড় পেইজ চালানো এডমিনরা অনেকেই মোটাপেটের সাথে যোগ দিলো, আবার অনেকে মোটাপেটের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়া শুরু করিলো। দুই দিক থেকেই মোটাপেট হিট। কমেন্ট আর লাইকের বন্যায় ভাসিয়া যাইতে লাগিলো মোটাপেটের স্ট্যাটাস! নোটিফিকেশনের জ্বালায় অস্থির অবস্থা!
মোটাপেট দাবী করিলো, তার বেস্টফ্রেন্ড ঈশ্বরই নাকি ফেসবুক বানাইয়াছে। যাহারা বলে ফেসবুক জুকারবার্গের বানানো তাহারা কাফের। ঈশ্বর তাহার স্ট্যাটাসে একদিন লিখিয়াছিল, “হও”- আর ফেসবুক হইয়ে গিয়াছিল। কয়েকজন পোংটা নাস্তিক ছিল ফেইসবুকে, একটার নাম আসিফ, জিজ্ঞেস করিতে লাগিলো, যখন ফেসবুকই ছিল না, ঈশ্বর মহাশয় কোথায় বসিয়া স্ট্যাটাস লিখলো রে নালায়েক? স্ট্যাটাসটা লিখিয়া পোস্টাইলো কোথায় রে উল্লুক?
এসব বেমক্কা প্রশ্ন শুনিয়া মোটাপেট কিছুক্ষণ মাথা চুলকাইলো, তারপরে জোরে জোরে হাঁটু চুলকাইলো। এরপরে বলিলো, “শালার নাস্তিকগুলার ক্বলবে ঈশ্বর সিলগালা করে দিয়াছে। তাহারা সত্য বুঝিতে পারে না। তাহাদের সাথে যেন মুমিন ফেসবুকবাসী কথাও না বলে। তাহারা সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব। তাহাদের সাথে বন্ধুত্ব করাও হারাম। তাদের সাথে কথা বলিলে ঈমান দুর্বল হইয়া যাইবে। বরঞ্চ ঈমানদার ফেসবুকবাসীর উচিত এই সব নাস্তিকদের প্রফাইলের নামে রিপোর্ট করিয়া তাহাদের ফেসবুক হইতে বিতাড়িত করা। ঈমানদারগন এই কাজ করিতে পারিলে পরকালে হলিউড বলিউড নায়িকাদের মত সুন্দরী ৭২ খানা বেশ্যা পাইবে। যাদের রুচি একটু ভিন্ন, তাহারা গেলমানও পাইবে। আর নাস্তিকরা পরকালে পাইবে করুণাময় ঈশ্বরের চিরস্থায়ী পিটাপিটি, মারামারি, কঠিন শাস্তি!”
এই লইয়া মোটাপেট ঈশ্বরের একটা মেসেজের স্ক্রিনশটও পোস্টাইয়া ফেললো। ফটো এডিটিং করিয়া ঈশ্বরের প্রোফাইলের পাশে ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্লু টিক চিহ্ন বসাইল। এবং ছবির নিচে লিখিলো, “অতঃপর তোমরা তাহার কোন কোন অবদান অস্বীকার করিবে?”
ঐদিকে ফেসবুকের বদ নাস্তিক লোক ছিল, যাহাকে মুমিনেরা আসিফ না মগাচিপ বলিয়া ডাকিতো। তাহার সাথে যুক্তিতর্কে ধরা খাইয়া একদিন মোটাপেট ওহী নাজিল করিলো, বলিল, ঈশ্বর ওহী নাজিল করিয়াছেন এই বলিয়া যে,
” ধ্বংস হোক মগাচিপের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।
তার যুক্তিতর্ক জ্ঞান বিজ্ঞান আর সে যা অর্জন করেছে তা তার কোন কাজে আসল না।
অচিরেই সে শিখা বিশিষ্ট জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে “
ওহী দেখিয়া নাস্তিক মগাচিপ হো হো করিয়া হাসিতে হাসিতে বলিলো, সর্বশক্তিমান ঈশ্বর মহাশয় কাহার কাছে এই আবেদন জানাইতেছেন? কাহার কাছে এই কামনা করিতেছেন? তিনি নিজেই কেন ধ্বংস করিতেছেন না? ধ্বংস করিবার জন্য কাহার কাছে দোয়া পড়িতেছেন? নাস্তিক মগাচিপের বেদ্দপি দেখিয়া রাগে মোটাপেটের সর্বাঙ্গ জ্বলিতে লাগিল। কিন্তু মোটাপেট কিংবা তাহার ঈশ্বর তাহার সমস্ত ক্ষমতাশালী দেবদূতদের লইয়াও মগাচিপের কিছু করিতে পারিলো না। অক্ষমের একটিই অস্ত্র থাকে, তাহা হইলো অভিশাপ দেয়া। মোটাপেট ও তাহার সকল অনুসারী মিলিয়া দিনরাত মগাচিপকে অভিশাপ দিলো, মৃত্যুর পরে মগাচিপের কী কী হইবে সেসব লোমহর্ষক বিবরণ দিয়া ভয় দেখাইলো, কিন্তু কিছুতেই কিছু হইলো না।
ঐ দিকে মহাপেটের অনেক দিনের ইচ্ছা একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে প্রেম করে, কিন্তু ফেসবুকে মেয়েগুলো ভয়াবহ রকমের চাল্লু! টাকা পয়সার প্রতি মোটামেটের সীমাহীন লোভ থাকায় সে প্রেম করিতো এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে, বৃদ্ধা মহিলা তাহাকে ল্যাপটপ কিনিয়া দিয়াছিল, বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্স মডেম কিনিয়া দিয়াছিল। সেই বৃদ্ধা মহিলার সাথে আর কত ভাল লাগে। ফেসবুক ভর্তি সুন্দরী তরুনী, মোটাপেট দেখে আর তাহার বুকটা খা খা করে। কিন্তু এইবার মোটাপেটের স্ট্যাটাসে অনেক তরুনী সুন্দরীরাও লাইক দেয়া শুরু করিলো। তাহার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও তাহারা এক্সেপ্ট করা শুরু করিলো। মোটাপেট মহা খুশি!!
একদিন মোটাপেটের বৃদ্ধা প্রেমিকার পুত্র জাহিদ এক সুন্দরী মেয়েকে বিবাহ করিয়া লইয়া আসিলো, নতুন বৌয়ের নাম জয়শ্রী। বিবাহের ছবি শেয়ার দিতেই জয়শ্রীকে দেখিয়া মোটাপেটের তো মাথা চক্কর মারা শুরু করিলো। সেই মেয়ে আবার সম্পর্কে তাহার খালাতো বোন, তবে খালাতো বোন হইলেও দেখাসাক্ষাত হয় নাই। তো সে ঈশ্বরের ফেক একাউন্ট থেকে নিজেকেই মেসেজ লিখিল, “হে মোটাপেট, আমি ঈশ্বর বলছি। ফেসবুক জাতি আজ এক ভয়ংকর বিপদের সম্মুখীন। ফেসবুক জাতিকে বাঁচাইতে হইলে মোটাপেটকে জয়শ্রীকে সাথে বিবাহ করিতে হইবে, তা না হইলে মহাবিপদ আসন্ন। অতি দ্রুত জয়শ্রীকে বিবাহ করো, নইলে গজব আসিতেছে বলিয়া।”
মোটাপেট ঈশ্বরের সেই মেসেজের স্ক্রিনশটটি তার ফেসবুকে শেয়ার দিলো। যদিও নিচে মোটাপেট লিখিয়া দিল, এই বিবাহে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। কিন্তু মহামান্য ঈশ্বরের হুকুম বলিয়া কথা! ঈশ্বরের আদেশে তো সে আপত্তি করতে পারে না। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হইয়াই জয়শ্রীকে সে বিবাহ করিবে।
আর যায় কই? মোটাপেটের সাঙ্গপাঙ্গ ছাগুরা মিলিয়া জাহিদের সাথে জয়শ্রীর তালাক দিয়ে মোটাপেটের সাথে বিবাহ দিয়ে দিলো! সকলে বলিতে লাগিলো, যাক বাবা, বাঁচা গেছে। মোটাপেটের সাথে জয়শ্রীর বিবাহ না দিলে কি যে হইতো! নিশ্চয়ই ঈশ্বর রাগ করিয়া ফেসবুক সার্ভারে ঠাডা ফেলতেন, তাহাদের আর ফেসবুক ব্যবহার করাই হইতো না!

মোটাপেট মুচকি মুচকি হাসিলো আর ভাবিলো, তাহার উম্মতগুলো কত বড় আহাম্মকের বাচ্চা! এইভাবে তো সে অনেক মেয়েকে বিবাহ করিতে পারে। কী আনন্দ আকাশে বাতাসে। মোটাপেট আরো বেশি বেশি ইশ্বরের একাউন্ট থেকে নিজের একাউন্টে ওহী পাঠাতে লাগলো, এবং তা প্রতিদিন শেয়ার করতে লাগলো। আজ একে বিয়ে তো কাল তাকে বিয়ে, এভাবে ১৪ টা বিয়ে করে ফেললো। ঈশ্বরের আর কাজ নাই, সারাদিন বসিয়া খালি বিয়ে করো বিয়ে করো বলিয়া মোটাপেটকে মেসেজ দেয়। মোটাপেট আবার ঈশ্বরকে খুব লাজুক ভঙ্গিতে বলে, না না, যেন তার কোন ইচ্ছাই নাই।
কিন্তু নিতান্তই ঈশ্বরের আদেশেই বিয়েগুলো করতে হচ্ছে! শুধু তাহাই নয়, মোটাপেট বাসার কাজের মহিলাদের সাথেও ইয়ে করা ঈশ্বরের ওহী দিয়া জায়েজ করাইয়া লইলো। যুক্তি হিসেবে বলিলো, এই কাজ তো আগে হইতেই মানুষ করতো। সে করলে দোষ কোথায়? ফাকফোকর দিয়ে যে কত আরো কি করিলো সেগুলো নাহয় নাই বলিলাম। সেসব বলিতে গেলে অশ্লীলতার দায়ে এই পোস্টটিকে অভিযুক্ত করা হইতে পারে। এর মাঝে একদিন মোটাপেট তার স্ট্যাটাসে দাবী করিলো, গতকাল রাত্রিতে নাকি সে ৯ টি আসমান ভেদ করিয়া একটি মেয়ে মানুষের মুখওয়ালা এবং সুন্দর পাখনা ওয়ালা উড়ন্ত গাধার পিঠে চড়িয়া ঈশ্বরের ১৪ কক্ষ বিশিষ্ট ফ্ল্যাট বাড়িতে ঘুড়িয়া আসিয়াছেন। পথিমধ্যে আমেরিকার লাস ভেগাসেও সামান্য সুরা পান করিয়াছিলেন।

এই সব শুনিয়া বাবু বকর লাফাইয়া আসিয়া কহিলেন, সে মোটাপেটের কথা বিশ্বাস করিয়াছে। দুষ্টলোকে বলাবলি করিলো, গতকাল রাতে নাকি তিনি উম্মে মধু নামক মোটাপেটের এক আত্মীয়ার বাড়িতে রাত্রি যাপন করিয়াছিলেন। বাল্যকালের প্রেমিকা উম্মে মধুর স্বামী বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন, এই সুযোগে মোটাপেট ভালই কেরামতি দেখাইলেন। হর্স রাইডিং ভাল মতই করিয়া লইয়াছেন। কিন্তু দুষ্টলোকের কথায় কান দেয়া ঠিক না।
ঐদিকে এই সকল কথা শুনিয়া নাস্তিক মগাচিপ কহিলেন, ঐটা উড়ন্ত গাধা ছিল না রে আহাম্মক। তুমি নিজেই উম্মে মধুর উপরে ঘোড়ার মত ( হর্স রাইডিং স্ট্যাইলে ) চড়িয়া স্বর্গসুখ লাভ করিয়া এখন প্রলাপ বকিতেছো। তাছাড়া ৯ আসমান বলিয়াই কিছু নাই, আসলে তুমি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশ দাও নাই বলেই ভাবিতেছো আসমান মনে হয় এক দুই তিনটা। আর পাখনা ওয়ালা জীব তোমাকে এত দূর নিয়া গেছে শুনিয়া হেসে বাঁচি না। বায়ুমন্ডলের উপরে কেউ পাখনা দিয়া কি করিবে রে উল্লুক? বেটা ভোদাই, নিজের এতগুলো বিবি থাকিতেও অন্যের স্ত্রীর দিকে হাত দিস!
এইসব শুনিয়া মোটাপেট নাস্তিক মগাচিপকে ব্লক করিয়া দিলো। কারণ হিসেবে লিখিলো, তাহার ধর্মানুভূতিতে আঘাত! মগাচিপ খালি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।
ঐদিকে মোটাপেটের দুরসম্পর্কের ভাই বাবু বকরের নাবালেগ মেয়ে আয়নার প্রতিও মোটাপেট কিঞ্চিত দুর্বলতা অনুভব করিতে শুরু করিলো। একদিন বাবু বকরকে ডাকিয়া বলিলো, “হে বাবু বকর, ঈশ্বর চাচ্ছেন আমরা আত্মীয়তার সুত্রে আবদ্ধ হই, তাই তোমার কন্যা আয়নাকে আমি বিবাহ করিবো বলিয়া সিদ্ধান্ত লইয়াছি।”
বেচারা বাবু বকর দেখিলো বিপদ, সেই সময়ে মোটাপেটের চ্যালার সংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়াছে। এখন না করিলে মোটাপেট ক্ষেপিয়া তাহাকে কাফের আখ্যা দিয়া কতল করিয়া ফেলিলেও কেউ কিছুই বলিবে না। বাবু বকর বলিলো, তুমি তো আমার ভাই হও। এই কথা শুনিয়া কিঞ্চিত চটিয়া মোটাপেট বলিলো, ইহা তো ধর্মের ভাই, আসল ভাই নহে। তাই এই বিবাহ হালাল। তখন নিরুপায় বাবু বকর তাহার শিশুকন্যাকে তুলিয়া দিল মোটাপেটের হাতে! মোটাপেট শিশুকন্যা আয়নাকে পাইয়া ডুগডুগি বাজাইতে পাগিলো। উল্লেখ্য, মোটাপেটের বয়স তখন তিপ্পান্ন, আর আয়নার বয়স ছয় বছর। পুতুল খেলতো সে।

পুতুল খেলিলে কী হইবে, চটাং চটাং কথা তাহার ঠিকই ছিল। মোটাপেটের অত্যাধিক বিবাহ দেখিয়া এবং ঈশ্বর কেন খালি মোটাপেটকে বিবাহ করিতে নির্দেশ দেয়, এইসব কাণ্ড দেখিয়া একদিন আয়না বিবি বলিয়া ফেললো, আপনি মনে মনে যেসব নারীকে কামনা করেন, ঈশ্বর সাথে সাথে সেই নারীকে বিবাহ করিবার জন্য আপনার কাছে আয়াত নাজিল করেন। এই কথা শুনিয়া মোটাপেট আয়নার মুখ চাপিয়া ধরিলো।
একদিন দেখা গেল, মোটাপেটের শিশু স্ত্রীর ফেসবুক প্রফাইলের ছবির নিচে জনৈক পোংটা একটি অশ্লীল মন্তব্য লিখিয়াছে। মন্তব্যটি পড়িয়া মোটাপেটের মাথায় আগুন ধরিয়া গেল, কিন্তু ঐ পোংটার একাউন্টটা ছিল ফেইক একাউন্ট। তাই কমেন্টকারীকে কিছু করিতে না পারার আক্ষেপে রাগে কাঁপিতে কাঁপিতে মোটাপেট নিয়ম জাড়ি করিলো, এখন হইতে সকল নারী ফেসবুকারদের একটি কালো বস্তার ভিতরে ঢুকিয়া সর্বাঙ্গ ঢাকিয়া ফটো শেয়ার করিতে হইবে। নতুবা ঐ সকল নারীকে পাথর মারা হইবে। এরপরে থেকে নিয়ম হইলো, মোটাপেটের ধর্মের সকল নারীকে পর্দা করিতে হইবে। নইলে পুরুষেরা উত্তেজিত হইয়া যায়! পুরুষের কোন দোষ নাই, সব দোষ ঐ মেয়েদেরই!
ঐদিকে মোটাপেটের মাথামোটা সাঙ্গপাঙ্গও সেইসব স্ট্যাটাস পড়িয়া নিয়মিত মাশাঈশ্বর, সুভাঈশ্বর বলে কপাল থাপরাইতে লাগিলো। অন্ধভক্তগণ যাহা করে আর কী! তাহারা তাদের ধর্মের নাম দিলো শান্তি। কিন্তু কেউ সেই ধর্মের বিরোধীতা করা মাত্রই সাঙ্গপাঙ্গ লইয়া তাহার উপরে ঝাঁপিয়ে পরিতো। মোটাপেট নিয়ম করিয়া দিলো, ঈশ্বরের ফেসবুক একাউন্টটিতে ঢুকিয়া ঈমানদার ফেসবুক ব্যবহারকারীগনকে সর্বদাই দিনে পাঁচবার মাথা ঠুকিয়ে হইবে। বছরে এক মাস ফেসবুক হইতে অব্যহতি লইতে হইবে, এবং গরু হত্যা করিয়া গরুর প্রতি ভালবাসা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করিতে হইবে! ঐদিকে মগাচিপ বলিল, ত্যাগের দৃষ্টান্ত দেখাইতে নিজের কল্লা কেটে আত্মত্যাগ কর রে উল্লুক, কেন নিরীহ পশুকে ঈশ্বরের নামে জবাই দিবি? এই কথা শুনিয়া মোটাপেটের অনুসারীরা মগাচিপকে হত্যার হুমকি দিলো।
শুধু তাহাই নয়, কয়েকজন মোটাপেটের ভন্ডামী ধরিতে পারিয়া দল ত্যাগ করিয়াছিল, মোটাপেট হুকুম দিলো তাহাদের কল্লা ফালাইয়া দিতে। কারণ শান্তির ধর্ম ছেড়ে যাহারা যাইবে, তাহারা নিশ্চিতভাবেই শান্তির শত্রু! তাই শান্তির শত্রুদের কল্লা ফালাইয়া দেয়াই উত্তম কর্ম! ইহাই শান্তির নতুন সংজ্ঞা।
এভাবেই শুরু হইলো একটি নতুন ফেসবুক ধর্মের, এবং এই ধর্মের পরবর্তী অনুসারীরা নিজেদের মনমতো একটি আসমানী কেতাব বানাইয়া লইলো, যাহার নাম তাহারা দিলো, “পবিত্র-আহাম্মকোপিডিয়া”। তাহারা দাবী করিতে শুরু করিলো, সমস্ত জ্ঞান বিজ্ঞানই এই “পবিত্র-আহাম্মকোপিডিয়া” কেতাবে সাংকেতিকভাবে লিপিবদ্ধ রহিয়াছে। যদিও “পবিত্র-আহাম্মকোপিডিয়া” মুখস্ত করিয়া ফাতাফাতা করিয়াও এই ধর্মের অনুসারীরা কোন বিজ্ঞান বাহির করিতে পারিলো না, তথাপি তাহারা কোন বৈজ্ঞানিক তত্ব আবিষ্কার হওয়া মাত্রই দৌড়াইয়া লাফাইয়া ঝাঁপাইয়া নিজেদের কেতাব “পবিত্র-আহাম্মকোপিডিয়া” এর কিছু শব্দার্থ বেমালুম পাল্টাইয়া দাবী করিতে লাগিলো, এই বিষয়ে এই কেতাবে আগে থেকেই সব লেখা আছে। এবং ফেসবুক কলুষিত ও নোংরা হইয়া উঠিতে লাগিলো এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীর দ্বারা। এরপরে যুগ যুগ ধরিয়া চলতেই লাগিলো সেই ধর্মের প্রচার, এবং বংশ পরম্পরায় মানুষ বিশ্বাস করিতে লাগিলো “মোটাপেটই সর্বশ্রেষ্ট ফেসবুক ব্যবহারকারী এবং তার ধর্মই একমাত্র শান্তির ধর্ম”। এরপরে যাহারাই এই লইয়া প্রশ্ন তুলিয়াছিল, তাহাদেরই কল্লা নামাইয়া দেয়া শুরু হইলো। এবং ফেসবুক হইয়া উঠিলো এক আদিম বর্বর জঙ্গলের মত, যেখানে মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নেবার কোন উপায় রহিলো না। জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, শিল্পকলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রেম, কবিতা সব ফালাইয়া দিয়া মানুষ শুধু পাঁচবেলা প্রভু ঈশ্বরের আরাধনা করিয়া স্ট্যাটাস দিতে লাগিলো। ফেসবুক আর মননশীল মেধাবী সৃষ্টিশীল মানুষের রইলো না, কোন যুক্তিতর্ক আলোচনা সমালোচনার স্থান রহিলো না, হইয়া উঠিলো মাথামোটা প্রশ্নহীন জিজ্ঞাসাহীন জ্ঞানহীন বুদ্ধিহীন আহাম্মক শ্রেনীর খোয়াড়, যাহারা শুধু রোবটের মত হুজুরের সাথে সাথে মাশা ঈশ্বর আর সুভা ঈশ্বর বলে মাথা ঝুলানো ছাড়া কিছুই চিন্তা করতে পারে না।
এরপর থেকে যাহারাই মুক্তচিন্তার কথা বলতো, প্রশ্ন করিত, ভুল দেখাইয়া দিতো, তাহাদেরই কল্লা কাটা যেত। সেই সব কতলকে বলা হইত শান্তির কতল। এমনকি, ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরাও ভয়ে বলিতে শুরু করিল, দুষ্টু লোকেরা এত প্রশ্ন করে কেন? ব্লগাররা খুব খারাপ, খালি প্রশ্ন করে সব ভেঙ্গেচুরে দেয়। মেনে নিলেই তো হয়!
এভাবেই সূচনা হলো এক ভয়াবহ অন্ধকার যুগের, যেখানেই অন্ধরাই সবচেয়ে বেশি দেখে।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ পুরনো লেখা। এটা নিছক একটি রম্যরচনা। জীবিত বা মৃত কারো সাথে এই লেখার সাথে কোনরুপ মিল পাওয়া গেলে লেখককে কোনভাবেই দায়ী করা যাবে না। তাহা নিছক ঘটনাচক্রের সহসা সংঘটন বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে।
About This Article
Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis
Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics
This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.
Its purpose is not theological neutrality or artificial both-sides balance, but evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.
Neutrality here means methodological fairness: accurate use of sources, logical rigor, evidentiary discipline, and factual consistency. It does not mean moral indifference or equal treatment between harmful doctrines and their criticism.
Strong criticism should not be mistaken for bias if it is supported by evidence and sound reasoning.
This article should be evaluated through source quality, evidentiary strength, logical rigor, factual consistency, and fairness in representing opposing claims—not through theological sensitivity, apologetic expectations, or demand for rhetorical softness.


আসিফ ভাই জিনিয়াস।