ইসলামমানবাধিকার

ইসলামে শিশু নির্যাতন: শারীরিক শাস্তি, ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও শরীয়তের বিধান

ভূমিকা

ছোটবেলা আমি বাঙলাদেশের একটি সরকারী স্কুলে লেখাপড়া করেছি। সেই সাথে, খুব সকালবেলা আমি আমার এলাকার মক্তবে যেতাম, আরবী ভাষা এবং কোরআন শেখার উদ্দেশ্যে। স্কুলে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের মারপিট করা হতো, কিন্তু স্কুলে মারপিটের একটি সীমা ছিল। কিন্তু এলাকার মক্তবে যেই মারধোর করা হতো, সেটি ছিল সীমাহীন। সামান্য কোন প্রশ্ন, সামান্য কোন জিজ্ঞাসা আমাদের মক্তবের হুজুর সহ্য করতে পারতো না। সে চাইতো, আমরা তার উচ্চারিত প্রতিটি কথা শুনি, মুখস্ত করি, এবং কোন প্রশ্ন না করি। মাথা খাটিয়ে যে প্রশ্ন করা যায়, না বুঝলে যে জিজ্ঞাসা করা উচিত, সেই শিক্ষাটিই সেখানে আমরা পেতাম না। সকল কথায় শুধু মাশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলাটিই ছিল সেখানকার রীতি। একটু এদিক সেদিক হলেই নির্মমভাবে পেটান হতো। সেই মার যে কী ভয়াবহ ছিল, তা চোখে না দেখলে বোঝা মুশকিল। খুবই অমানবিক এবং বর্বর পদ্ধতিতে এই মার দেয়া হতো। পড়ালেখায় অপেক্ষাকৃত ভাল হওয়ায় সেই মার অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতো, কিন্তু অন্যদের মার খেতে দেখে কিছুদিনের মধ্যেই আরবী পড়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আরো অনেকেই পড়তে যেতো। অন্য বাচ্চাদের মানসিকতা সেই মক্তবটি কতটা হিংস্র করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

বিশ্বাসভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নের বদলে আনুগত্য, বোঝার বদলে মুখস্থ এবং যুক্তির বদলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হলে শারীরিক শাস্তি সেই কর্তৃত্বের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। একজন শিশু কেন নামাজ পড়বে, কেন কোনো বক্তব্য বিশ্বাস করবে, কেন একটি নিয়ম মানবে—এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাকে পেটানো হলে তার কাছে যুক্তি শেখার পরিবর্তে ভয় পেয়ে মেনে চলাই নিরাপদ পথ হয়ে দাঁড়ায়। ধর্মীয় বিধান যখন প্রহারকে বৈধ শিক্ষাপদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, তখন মক্তবের শিক্ষক নিজের আচরণের জন্য একটি প্রস্তুত নৈতিক ও ধর্মীয় অনুমতি পেয়ে যান। শিশুদের ওপর প্রহারের হাদিস, ফিকহি বিধান, শাসনের নামে দায়মুক্তি এবং এসবের নৈতিক সমস্যা এই সম্পর্কটিকে স্পষ্ট করে।


শিশুদের কেন মারা ঠিক নয়

বাচ্চাদের মারপিট করা উচিত নয়। বাচ্চারা স্বাভাবিকভাবেই দুষ্টুমি করবে, কথা শুনতে চাইবে না; তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিচারক্ষমতা ও আবেগ সামলানোর দক্ষতা তখনও বিকাশমান। কোনটি তার জন্য ভালো, কোনটি মন্দ, কীভাবে নিজের আচরণের ফল বুঝতে হয়—এসব তাকে শেখাতে হয়। ব্যথা দিয়ে বাধ্য করা সেই শিক্ষার বিকল্প নয়। একটি শিশুর কাছে মারধর ক্ষমতার ভাষা হয়ে উঠতে পারে: বড় মানুষ ছোট মানুষকে আঘাত করে নিজের কথা মানিয়ে নেয়। শারীরিক শাস্তির সঙ্গে শিশুর আগ্রাসী আচরণ, মানসিক সমস্যা ও পিতা-মাতার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুর প্রয়োজন নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সহায়তা। শিশুদের মারপিটের মাধ্যমে ধর্ম পালনে বাধ্য করা তাদের বিবেকের বিকাশে আঘাত এবং ধর্মীয় আনুগত্য প্রতিষ্ঠায় শারীরিক বলপ্রয়োগ। [1]

আমাদের দেশে মাদ্রাসায় শিশুদের ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পায়। বিশেষভাবে মক্তব-মাদ্রাসার পরিবেশে শিক্ষককে ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রতিনিধি মনে করা এবং তার প্রহারকে পুণ্য, সংশোধন বা পরকালের মুক্তির উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা শিশুর প্রতিবাদের জায়গাটিকে সংকুচিত করে। শিক্ষককে ভয় পাওয়ার সঙ্গে আল্লাহকে ভয় পাওয়া মিশে যায়। অনেক মুসলিম আজকাল বলেন, ইউরোপের সংস্কৃতি নাকি আমাদের সভ্যতা, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে; শিশুদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না—এমন নীতি নাকি মুসলিম শিশুদের চরিত্র ধ্বংসের চক্রান্ত। শিশুর গায়ে হাত না দেওয়ার নীতিকে ধর্মীয় ষড়যন্ত্র বলা আসলে শিশুর নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অবস্থান। যারা নিজেরাও ছোটবেলায় প্রহারের শিকার হয়েছেন, তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে সন্তানের ওপর একই আচরণ করার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা নিষ্ঠুরতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

অনেক সময়ই আমাদের সমাজের বাবা-মা বলে থাকেন, পিটানি না খেলে নাকি বাচ্চারা মানুষ হয় না! অনেক সময় বাবা-মাই শিক্ষকদের অনুরোধ করেন বাচ্চাদের পেটাতে। নানা গল্প বলা হয়, শিক্ষকের মার খেলে নাকি সেই স্থান বেহেশতে যাবে। অথচ একজন শিশুর বিকাশে এই আচরণ কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে তারা ভাবেন না। অতিরিক্ত প্রহারে ভয়, অপমান, আত্মমর্যাদায় আঘাত ও সম্পর্কের ক্ষতি তৈরি হতে পারে। শিশুর জেদ ও আগ্রাসনও বাড়তে পারে। যে মানুষটির কাছ থেকে তার নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেই মানুষই যদি ব্যথার উৎস হন, তাহলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা ও সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রেও সে ভয় পেতে শেখে। কোনো শিশু সাময়িকভাবে চুপ হয়ে গেলেই তাকে সুস্থভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে—এটি ভুল সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে নিচের কার্টুনটি খুবই প্রাসঙ্গিক। কার্টুন কৃতজ্ঞতাঃ অপুর কার্টুন

অপুর কার্টুন

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতামত

বাচ্চাদের মারপিট করলে একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে, সে ছোটবেলা থেকেই ক্ষমতার সঙ্গে আঘাতের সম্পর্ক শিখতে পারে। ক্ষমতাবান একজন তার চেয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকজনকে মারতে পারে, শরীরে আঘাত দিয়ে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এই আচরণ তার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। বড় হয়ে সে একই আচরণ নিজের সন্তান, শিক্ষার্থী, গৃহকর্মী বা অন্য অধীনস্থের ওপর প্রয়োগ করতে পারে। শিশু অবস্থায় প্রহারের শিকার হওয়ার সঙ্গে পরবর্তী জীবনে শারীরিক শাস্তিকে সমর্থনের সম্পর্ক গবেষণায় পাওয়া যায়। এতে সহিংসতা শেখার একটি সামাজিক চক্র তৈরি হয়: আগের প্রজন্মের ব্যথা পরের প্রজন্মের শাসনপদ্ধতিতে ফিরে আসে। পরিবার ও বিদ্যালয় সেই চক্র ভাঙার জায়গা হতে পারে; প্রহারকে নৈতিক কর্তব্য বানিয়ে দিলে উল্টো সেই চক্রের ধর্মীয় অনুমোদন তৈরি হয়। [2]

শিশু

শিশুদের ওপর শারীরিক অত্যাচার আর কী কী সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, আসুন সেটি একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিই।

https://youtu.be/OHZ931CQbgw

হালকা প্রহারও ক্ষতিহীন শিক্ষাপদ্ধতি নয়

এলিজাবেথ গারশফ ও অ্যান্ড্রু গ্রোগান-কেইলরের ২০১৬ সালের গবেষণাসমূহের সমন্বিত বিশ্লেষণে ১,৬০,৯২৭ শিশুর তথ্যের ভিত্তিতে ১১১টি স্বতন্ত্র প্রভাবের পরিমাপ বিশ্লেষণ করা হয়। পরীক্ষিত ১৭টি ফলাফলের মধ্যে ১৩টির ক্ষেত্রে প্রহারের সঙ্গে ক্ষতিকর ফলাফলের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। গবেষণাটি বিশেষভাবে সাধারণভাবে ব্যবহৃত শারীরিক শাস্তি নিয়ে কাজ করেছে; শুধু হাড় ভাঙা বা হাসপাতালে ভর্তি করার মতো চরম আঘাত নিয়ে নয়। [3]

শিশুকে কতবার মারা হলো, কোথায় মারা হলো এবং দাগ থাকল কি না—এই হিসাব দিয়ে তার মানসিক নিরাপত্তা মাপা যায় না। বাবা-মা বা শিক্ষকের হাতে আঘাত পাওয়া শিশুর কাছে ব্যথার সঙ্গে অপমান, প্রত্যাখ্যান ও অসহায়ত্ব যুক্ত হয়। “হালকা প্রহার” বলে যে আচরণকে বৈধ করা হচ্ছে, তার মধ্যেও শিশুর শরীরকে আনুগত্য আদায়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কোনো নিয়ম বোঝানো এবং সেই নিয়ম না মানলে শরীরে ব্যথা দেওয়া পৃথক কাজ। শিশুর আচরণ পরিবর্তনের দাবি আঘাত করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে না।


শরীয়ায় প্রহারের অনুমতি ও শাসনের নামে দায়মুক্তি

ইসলামী ফিকহে সন্তান ও শিক্ষার্থীকে শাসনের জন্য প্রহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই অনুমতি শুধু পারিবারিক অভ্যাসের বিবরণ নয়; প্রহারের অধিকার, সীমা এবং আঘাতের ফলে ক্ষতি হলে দায় থাকবে কি না—এসবের আইনি বিধানও রয়েছে। ২০১০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিচারিক সিদ্ধান্তে স্ত্রী ও সন্তানকে শাসনের নামে আঘাতের অধিকার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আপত্তি জানায়। এই বিচারিক প্রয়োগের পাশাপাশি ধ্রুপদী ফিকহের দায়মুক্তির বিধান আল-বুহুতির গ্রন্থে সরাসরি পাওয়া যায়। প্রহারের এই ধর্মীয় অনুমোদন সম্পর্কে আসিম আল-হাকিমের বক্তব্যও নিচের ভিডিওতে আছে। [4]

এবারে আসুন কিছু অনুসন্ধানী রিপোর্ট দেখি। উল্লেখ্য, এরকম ভিডিও হাজার হাজার, এখানে শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে।


শিক্ষকের আঘাতে মৃত্যু: আল-বুহুতির দায়মুক্তির বিধান

মানসুর ইবন ইউনুস আল-বুহুতি তার আল-রাওদ আল-মুরাব্বা‘-তে সন্তান, স্ত্রী, শাসকের প্রজা ও শিক্ষকের শিক্ষার্থীকে শাসনের প্রহার একই বিধানের মধ্যে রেখেছেন। অনুমোদিত সীমা অতিক্রম না করলে প্রহারে সংঘটিত ক্ষতির দায় থাকবে না—এটাই তার বিধান। অতিরিক্ত প্রহার, প্রয়োজনের সীমা ছাড়ানো অথবা বোঝার ক্ষমতাহীন শিশুকে প্রহার করলে দায় থাকবে। শিক্ষক তার শিক্ষার্থীর হাতে হালকা আঘাত করার পর শিক্ষার্থী মারা গেলে কী হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে ১৪৮৯৪৩ নম্বর ফতোয়ায় এই বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে। [5]

وإذا أدب الرجل ولده ولم يسرف لم يضمنه، وكذا لو أدب زوجته في نشوز، أو أدب سلطان رعيته، أو أدب معلم صبيا ولم يسرف لم يضمن ما تلف به أي بتأديبه لأنه فعل ما له فعله شرعا ولم يتعد فيه، وإن أسرف أو زاد على ما يحصل به المقصود أو ضرب من لا عقل له من صبي أو غيره ضمن لتعديه.

বাংলা অনুবাদ: কোনো ব্যক্তি তার সন্তানকে শাসন করলে এবং অতিরিক্ত না করলে তার ক্ষতির দায় বহন করবে না। একইভাবে স্ত্রী অবাধ্য হলে তাকে শাসন করা, শাসকের প্রজাকে শাসন করা অথবা শিক্ষকের শিশুকে শাসন করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত না করলে সেই শাসনের ফলে সংঘটিত ক্ষতির দায় থাকবে না; কারণ সে শরীয়ত অনুযায়ী তার জন্য অনুমোদিত কাজ করেছে এবং তাতে সীমালঙ্ঘন করেনি। অতিরিক্ত করলে, উদ্দেশ্য অর্জনের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করলে অথবা বোঝার ক্ষমতাহীন শিশু বা অন্য কাউকে প্রহার করলে সীমালঙ্ঘনের কারণে সে দায় বহন করবে।

এখানে একটি ভয়াবহ নৈতিক সমস্যা রয়েছে। শিশুর মৃত্যু বা আঘাতের বাস্তব ফলাফলের বদলে আঘাতকারীর কাজকে “অনুমোদিত শাসন” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা দায়মুক্তির ভিত্তি হয়ে যাচ্ছে। ফলে যার শরীরে আঘাত লেগেছে, তার ক্ষতি স্বীকার করা হলেও প্রহারকারীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দায় বাতিল হতে পারে। শিশুর শরীরের নিরাপত্তা তখন নিজস্ব অধিকার হিসেবে অটুট থাকছে না; বড় মানুষের শাসনক্ষমতার অনুমোদনের অধীন হয়ে পড়ছে। একই ফতোয়ায় অনুমোদিত সীমা অতিক্রমের কারণে মৃত্যু ঘটলে কাফফারা এবং আঘাতকারীর আকিলার ওপর দিয়াতের বিধান দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত শাসনের ক্ষতির ক্ষেত্রে দায়মুক্তি এবং সীমালঙ্ঘনের কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে দিয়াত ও কাফফারা—এই দুই বিধানের মধ্যে প্রহারের বৈধতা ও দায়ের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। [6]


আল-মাওয়ার্দির বিধান: প্রহারের অনুমতি, মৃত্যুতে দিয়াত ও কাফফারা

আবু আল-হাসান আল-মাওয়ার্দি আল-হাবি আল-কাবির-এ শিক্ষক ও পিতার প্রহার অনুমোদন করেছেন, কিন্তু সেই প্রহারে মৃত্যু ঘটলে দিয়াত ও কাফফারার বিধান দিয়েছেন। ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী সীমালঙ্ঘনে কিসাসের আলোচনা করতে গিয়ে সন্তানকে হত্যাকারী পিতার জন্য কিসাসের ব্যতিক্রমও উল্লেখ করেছেন। [7]

قال الماوردي : وهذا كما قال . يجوز لمعلم الصبيان أن يؤدبهم بالضرب استصلاحا لهم وهكذا الأب في ولده ، والزوج عند نشوز امرأته ، فإن تعدى أحد هؤلاء في الضرب إلى أن خرج فيه إلى حد التلف فهو قاتل عمدا يجب عليه القود ، إلا الوالد في ولده فتلزمه الدية دون القود ، ولم يتجاوز واحد الاستصلاح فحدث منه التلف فلا قود : لأنه خطأ شبه العمد ، والضارب ضامن لدية المضروب على عاقلته ، والكفارة في ماله .

বাংলা অনুবাদ: আল-মাওয়ার্দি বলেন: বিষয়টি তার বক্তব্য অনুযায়ীই। শিশুদের সংশোধনের জন্য শিক্ষক তাদের প্রহার করে শাসন করতে পারেন। পিতা তার সন্তানকে এবং স্ত্রী অবাধ্য হলে স্বামী তাকেও একইভাবে শাসন করতে পারেন। এদের কেউ প্রহারের সীমা অতিক্রম করে প্রাণহানির পর্যায়ে নিয়ে গেলে সে ইচ্ছাকৃত হত্যাকারী; তার ওপর কিসাস প্রযোজ্য। নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে পিতা ব্যতিক্রম: তার ওপর দিয়াত প্রযোজ্য, কিসাস নয়। সংশোধনের সীমা না ছাড়িয়েও মৃত্যু ঘটলে কিসাস নেই; কারণ তা শিবহে আমদ। নিহত ব্যক্তির দিয়াত আঘাতকারীর আকিলার ওপর এবং কাফফারা তার নিজ সম্পদ থেকে প্রযোজ্য।

আল-বুহুতির দায়মুক্তি ও আল-মাওয়ার্দির দায় আরোপ একই বিধান নয়। কিন্তু উভয় আলোচনায় শিশুকে প্রহারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত আছে। এই আইনি কাঠামো শিশুর শরীরে আঘাত করাকে নিজেই নিষিদ্ধ করে শুরু করছে না; বরং কে আঘাত করতে পারবে, কতটা করতে পারবে এবং মৃত্যু হলে কী আর্থিক বা ধর্মীয় দায় হবে—সেই হিসাব করছে। প্রহারের পর ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং শিশুকে প্রহার থেকে মুক্ত রাখার অধিকার স্বীকার করা এক জিনিস নয়।


জাহান্নামের অমানবিক শাস্তির ভীতি

মাদ্রাসায় শিক্ষকেরা বাচ্চাদের পেটালে অনেক বাবামাই বলেন, জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে দুনিয়ায় এরকম একটু মারপিট খাওয়া ভাল। আমি এরকমও অনেক বাবামাকে বলতে শুনেছি, হুজুর, বাচ্চারে দিয়ে গেলাম, হাড্ডিগুলা আমাদের, আর মাংসগুলো আপনার! সেইসব মাদ্রাসায় বাচ্চাদের পিটিয়ে পিটিয়ে নাকি মানুষ করা হয়! তাদের সভ্য করে তোলা হয়! কিন্তু সেইসব মারের চাইতেও আরেকটি ভয়াবহ ব্যাপার যুক্ত থাকে, সেটি হচ্ছে, জাহান্নামে অনন্ত অত্যাচার নির্যাতনের ভীতি প্রদর্শন। যার কারণে দুনিয়াতে এই মারধোরগুলো শিশুদের কাছে স্বাভাবিক মনে হতে থাকে। একই সাথে, সেই মানসিকভাবে আরো দুর্বল হয়ে যায়।

জাহান্নামের নির্যাতনের বর্ণনা শিশুর কাছে ধর্মীয় ভয় তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শিশুকে এসব শোনানোর ফলে সে তার শিক্ষক বা বাবা-মায়ের প্রহারকে আরও ভয়াবহ পরকালীন শাস্তির তুলনায় সামান্য বলে মেনে নিতে পারে। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি শাস্তি হলো—

  • ১) পায়ের নিচে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা হবে, যার কারণে মগজ ফুটতে থাকবে। [8]
  • ২) মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢালা হবে; তা দিয়ে পেটের ভেতরের অংশ ও চামড়া গলানো হবে। [9]
  • ৩) পুঁজমিশ্রিত পানি পান করানো হবে, যা গিলতে কষ্ট হবে; মৃত্যুযন্ত্রণা এলেও মৃত্যু হবে না। [10]
  • ৪) আগুনের পোশাক পরানো হবে। [11]
  • ৫) লোহার গদা দিয়ে আঘাত করা হবে; যন্ত্রণা থেকে বের হতে চাইলে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। [12]
  • ৬) চামড়া পুড়ে গেলে নতুন চামড়া দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে, যাতে শাস্তি অনুভব করা চলতে থাকে। [13]

কোরআনে নতুন চামড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যও স্পষ্ট: যাতে শাস্তি অনুভব করা যায়। এটি কেবল মৃত্যুর ঘোষণা নয়; যন্ত্রণার অনুভূতি বজায় রেখে নির্যাতন চালানোর বর্ণনা। [13]

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا

বাংলা অনুবাদ: যারা আমার আয়াত অস্বীকার করেছে, তাদের আমি আগুনে প্রবেশ করাব। যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, তখনই তার বদলে অন্য চামড়া দেব, যাতে তারা শাস্তি আস্বাদন করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সূরা আল-হাজ্জে আগুনের পোশাক, মাথায় ফুটন্ত পানি ঢালা, শরীর গলানো এবং লোহার গদার বর্ণনা পাশাপাশি রয়েছে। [9]

هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمُ الْحَمِيمُ ۝ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ ۝ وَلَهُمْ مَقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ ۝ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ

বাংলা অনুবাদ: এরা দুটি বিরোধী পক্ষ, যারা তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছে। যারা অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য আগুনের পোশাক কাটা হয়েছে; তাদের মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢালা হবে। তা দিয়ে তাদের পেটের ভেতরের অংশ ও চামড়া গলানো হবে। তাদের জন্য রয়েছে লোহার গদা। যখনই তারা যন্ত্রণায় সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে; আর বলা হবে, দহনের শাস্তি আস্বাদন করো।

এই বিবরণগুলো নির্যাতনের কৌশল হিসেবে পড়লে হলিউডের SAW সিনেমার মতো আতঙ্কের কাহিনির কথা মনে পড়ে। কিন্তু এখানে সেগুলো ভয়ংকর মানুষের অপরাধ হিসেবে নয়, সর্বোচ্চ ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত হিসেবে হাজির করা হচ্ছে। যে শিশুকে প্রতিদিন বলা হয় অবাধ্যতার প্রতিদান শরীর পুড়িয়ে দেওয়া, নতুন চামড়া বসিয়ে আবার পোড়ানো এবং পালাতে চাইলে গদার আঘাতে ফিরিয়ে দেওয়া, তার কাছে শাস্তি ও নৈতিকতার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হবে? স্রষ্টার ক্ষমতা যদি চরম নির্যাতনকে ন্যায় বলে প্রতিষ্ঠা করে, তবে পৃথিবীর ক্ষমতাবান বাবা-মা ও শিক্ষকের প্রহারকেও সেই শিশুর কাছে একই নীতির ছোট সংস্করণ মনে হতে পারে। ভয় দিয়ে আনুগত্য আদায় এবং নৈতিক বোধ তৈরি করা এক বিষয় নয়।

সেইসঙ্গে জান্নাতের পুরস্কার নিয়েও শিশুদের নানা বর্ণনা শেখানো হয়। তিরমিজির ১৬৬৩ নম্বর হাদিসে শহিদের জন্য বাহাত্তর হুরের সঙ্গে বিবাহের পুরস্কার আছে; এটি সব জান্নাতবাসীর জন্য একই সংখ্যা ঘোষণা নয়। কোরআনে মুক্তার মতো দেখতে সেবকবালকের বর্ণনাও রয়েছে, যার আলোচনা গেলমান-বিষয়ক লেখায় আছে। শিশুর নৈতিক শিক্ষাকে একদিকে ভয়ংকর নির্যাতনের আতঙ্ক, অন্যদিকে ভোগের পুরস্কারের হিসাবের মধ্যে বন্দী করা হলে মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও স্বাধীন বিচারবোধ গৌণ হয়ে পড়ে। অপরকে আঘাত না করার কারণ অপরের কষ্ট—শুধু নিজের শাস্তির ভয় নয়; ভালো কাজের মূল্য অপরের কল্যাণ—শুধু নিজের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়। [14]


ইসলাম শিশুদের প্রহার বৈধ করেছে

শিশুপ্রহার সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য ধর্মীয় গ্রন্থে ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত মত নয়। নামাজের জন্য দশ বছরের শিশুকে প্রহারের নির্দেশ হাদিসে আছে; সন্তান, এতিম ও শিক্ষার্থীকে প্রহারের অনুমতি ফিকহি গ্রন্থেও সংকলিত হয়েছে। এই অনুমতি প্রহারকে শুধু সমাজে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে না; ধর্মীয় শাসনের স্বীকৃত উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারি ইসলামের প্রসিদ্ধ হাদিসসংকলক। তার আল-আদাব আল-মুফরাদ গ্রন্থে নবীর বক্তব্যের পাশাপাশি সাহাবি ও পরবর্তী প্রজন্মের বক্তব্যও রয়েছে। নিচের বর্ণনাটি মুহাম্মদ ইবন সিরিনের বক্তব্য: নিজের সন্তানকে যে কারণে প্রহার করা হয়, এতিমকেও সে কারণে প্রহার করা হবে। এতিমকে নিজের সন্তানের মতো দেখার নির্দেশের মধ্যে এখানে নিজের সন্তানকে প্রহার করাও স্বাভাবিক শাসনপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। একজন এতিমের সমান যত্ন পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে উভয় শিশুর ওপর প্রহারের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। সমান আচরণ তখন সমান নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়; সমানভাবে শারীরিক শাস্তির অধীন রাখার কথাও অন্তর্ভুক্ত করছে। [15] [16]

আল-আদাবুল মুফরাদ
ভদ্র আচার ব্যাবহার
পরিচ্ছেদঃ ৭৭- ইয়াতীমের জন্য দয়ার্দ্র পিতৃতুল্য হও।
১৩৯। আসমা ইবনে উবায়েদ (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে সীরীন (রহঃ)-কে বললাম, আমার কাছে এক ইয়াতীম আছে। তিনি বলেন, তুমি তার সাথে তোমার সন্তানের অনুরূপ ব্যবহার করো এবং তাকে প্রহার করো যে কারণে তুমি তোমার সন্তানকে প্রহার করে থাকো (তার সাথে তোমার সন্তানের অনুরূপ ব্যবহার করবে)।
بَابُ كُنَّ لِلْيَتِيمِ كَالأَبِ الرَّحِيمِ
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ‏:‏ قُلْتُ لِابْنِ سِيرِينَ‏:‏ عِنْدِي يَتِيمٌ، قَالَ‏:‏ اصْنَعْ بِهِ مَا تَصْنَعُ بِوَلَدِكَ، اضْرِبْهُ مَا تَضْرِبُ وَلَدَكَ‏.‏
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

শিশু 2
শিশু 4

শিশু নির্যাতনের আরো বৈধতা

নবী মুহাম্মদ শিশুদের দশ বছর বয়স হয়ে গেলে নামাজ না পড়লে মারপিট করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই হাদিসটি বহু হাদিস গ্রন্থেই উল্লেখ করা হয়েছে। আসুন, হাদিসটি দেখে নিই [17] [18] [19] [20] [21] –

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায)
৪৯৫. মুআম্মাল ইবনু হিশাম …………. আমর ইবনু শুআয়েব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের সন্তানরা সাত বছরে উপনীত হবে, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দেবে এবং তাদের বয়স যখন দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদেরকে মারপিট কর এবং তাদের (ছেলে-মেয়েদের) বিছানা পৃথক করে দিবে।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (নামায)
৪৯৪. মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা …….. আবদুল মালিক থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দাও এবং যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদের শাস্তি দাও– (তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ)।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

শিশু 6
শিশু 8

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
২/ রাসূলুল্লাহ ﷺ হতে নামাযের সময়সূচী
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭. বালকদের কখন হতে নামায আদায়ের নির্দেশ দিতে হবে
৪০৭। সাবরা ইবনু মা’বাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাত বছর বয়সে বালকদের নামায শিখাও এবং দশ বছরে পৌছলে নামায আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য দৈহিক শাস্তি দাও।
এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাসান সহীহ। মিশকাত- (৫৭২, ৫৭৩), সহীহ আবু দাউদ(২৪৭), ইরওয়া- (২৪৭), তা’লীক আলা ইবনু খুজাইমাহ– (১০০২)।
আবু ঈসা বলেনঃ সাবরা ইবনু মা’বাদের হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল বিদ্বান এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও একথা বলেছেন। তারা উভয়ে বলেছেন, কোন বালক দশ বছরের পর নামায না আদায় করলে এগুলোর কাযা তাকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।
আবু ঈসা বলেনঃ সাবরা হলেন ইবনু মা’বাদ আল-জুহানী, এও বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইবনু আওসাজাহ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ সাবরাহ বিন মা’বাদ আল জুহনী (রাঃ)

রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
বিবিধ
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শর‘য়ী নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজিব
৪/৩০৬। ‘আমর ইবনু শুআইব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আমরের দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনু আম্‌র) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে নামাযের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে নামাযের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’’ (আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে)(1)
(1) আবূ দাউদ ৪৯৫, আহমাদ ১৬৬৫০, ৬৭১৭
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)


শিশুপ্রহারের ফিকহ: আনুগত্য, কর্তৃত্ব ও শরীরের ওপর অধিকার

দশ বছরের শিশুকে নামাজের জন্য প্রহারের হাদিস একটি নির্দিষ্ট নির্দেশ। ফকিহদের ব্যাখ্যায় সেই নির্দেশের সঙ্গে আরও বড় একটি কাঠামো তৈরি হয়: শিশুর ওপর ধর্মীয় কর্তব্য আরোপের বয়সের আগেই তাকে ভবিষ্যতের আনুগত্যের জন্য প্রস্তুত করা, পিতা ও শিক্ষককে শারীরিক শাসনের অধিকার দেওয়া এবং প্রহারের পরিমাণ নির্ধারণ করা। “সংশোধন” নামটি এই কাঠামোর কেন্দ্রীয় অনুমোদন। কোনো শিশুর শরীরে আঘাত করার আগে তার মতামত বা সম্মতি নেওয়া এখানে শর্ত নয়; বড় মানুষের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে কোন আচরণে ব্যথা দেওয়া হবে।


সন্তান, এতিম ও শিক্ষার্থী: আহমদ ইবন হাম্বলের অনুমোদন

ইবন মুফলিহ আল-আদাব আল-শারইয়্যাহ ওয়াল-মিনাহ আল-মারইয়্যাহ-তে “শর্তসাপেক্ষে সন্তানদের প্রহার করার অনুমতি” নামে একটি পরিচ্ছেদ রেখেছেন। সেখানে আহমদ ইবন হাম্বলের বক্তব্যে নিজের সন্তানকে আদব শেখানোর জন্য, এতিমকে এবং শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে প্রহারের অনুমোদন রয়েছে। [22]

فصل فيما يجوز من ضرب الأولاد بشرطه. قال إسماعيل بن سعيد سألت أحمد عما يجوز فيه ضرب الولد قال: الولد يضرب على الأدب. قال وسألت أحمد هل يضرب الصبي على الصلاة قال إذا بلغ عشرا وقال حنبل إن أبا عبد الله قال اليتيم يؤدب ويضرب ضربا خفيفا. وقال الأثرم سئل أبو عبد الله عن ضرب المعلم الصبيان فقال: على قدر ذنوبهم ويتوقى بجهده الضرب وإن كان صغيرا لا يعقل فلا يضربه.

বাংলা অনুবাদ: শর্তসাপেক্ষে সন্তানদের প্রহারের অনুমতি বিষয়ে পরিচ্ছেদ। ইসমাইল ইবন সাঈদ বলেন: আমি আহমদকে জিজ্ঞেস করেছি, কোন বিষয়ে সন্তানকে প্রহার করা যায়? তিনি বলেন: আদব শেখানোর জন্য সন্তানকে প্রহার করা হয়। আমি তাকে আরও জিজ্ঞেস করেছি, নামাজের জন্য শিশুকে প্রহার করা হবে কি? তিনি বলেন: দশ বছরে পৌঁছলে। হাম্বল বলেন: আবু আবদুল্লাহ বলেছেন, এতিমকে শাসন করা হবে এবং হালকা প্রহার করা হবে। আল-আছরাম বলেন: আবু আবদুল্লাহকে শিক্ষক কর্তৃক শিশুদের প্রহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: তাদের অপরাধ অনুযায়ী; যথাসাধ্য প্রহার এড়িয়ে চলবে, আর ছোট হওয়ার কারণে বুঝতে না পারলে তাকে প্রহার করবে না।

এই বিধানে প্রহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ আছে, কিন্তু প্রহার করার অধিকার বাতিল হয়নি। বরং শিশুর “অপরাধ” অনুযায়ী সেই অধিকার প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। এতিমের জন্যও নীতি হচ্ছে হালকা প্রহার। নিজের পরিবার হারানো একটি শিশুর নিরাপত্তার প্রয়োজন বিশেষভাবে গভীর; তাকে আশ্রয় দেওয়ার সম্পর্কের মধ্যেও আঘাতের অধিকার স্বীকৃত হলে আশ্রয় ও শাস্তির কর্তৃত্ব একই হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।


কোরআন শিক্ষার মক্তবেই প্রহারের বিধান: ইবন সাহনুন ও আল-কাবিসি

শিক্ষক কর্তৃক শিশুকে প্রহার করার বিষয়টি শুধু আধুনিক মক্তবের বিচ্ছিন্ন অভ্যাস নয়। মালিকি শিক্ষাচিন্তার ইতিহাসে মুহাম্মদ ইবন সাহনুনের আদাবুল মুয়াল্লিমিন এবং আবু আল-হাসান আল-কাবিসির আর-রিসালা আল-মুফাসসালা লি-আহওয়াল আল-মুতা‘আল্লিমিন ওয়া আহকাম আল-মু‘আল্লিমিন ওয়াল-মুতা‘আল্লিমিন গ্রন্থে কোরআন শেখানো, মুখস্থ করানো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং শিক্ষাগত শাস্তির বিধান একত্রে আলোচিত হয়েছে। শিশু কতটা ভুল করেছে, শিক্ষক কতটুকু প্রহার করতে পারেন, কোন সীমা অতিক্রম করলে দায় তৈরি হয়—এসব প্রশ্নকে শিক্ষাদানের নিয়মের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে পাঠে ভুল, মুখস্থ না হওয়া এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে শারীরিক শাস্তির আলোচনা একই শিক্ষাগত কাঠামোয় স্থান পেয়েছে। [23]

এখানে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, একজন শিশু ধর্মীয় বিধান ইচ্ছাকৃত অমান্য করছে কি না এবং তার পড়া বুঝতে বা মনে রাখতে সমস্যা হচ্ছে কি না—দুটি আলাদা প্রশ্ন। অথচ শারীরিক শাস্তিকে শিক্ষাদানের অনুমোদিত উপায় হিসেবে মেনে নিলে উভয় ক্ষেত্রেই শিশুর শরীর শাসনের লক্ষ্য হতে পারে। ফলে কোরআন মুখস্থ করার শিক্ষায় শারীরিক শাস্তি কেবল ব্যক্তিগত শিক্ষক-আচরণ নয়, শিক্ষার নীতিগত আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। প্রাচীন শিক্ষাবিষয়ক বিধানের এই আলোচনা শিশুর সুরক্ষা নয়, শাস্তিদাতার কর্তৃত্ব ও তার সীমা নির্ধারণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

উৎস-সংক্রান্ত সতর্কতা: ইবন সাহনুন ও আল-কাবিসির দীর্ঘ আরবি অনুচ্ছেদের নির্দিষ্ট পাঠ ও সংস্করণ-পাতা আলাদাভাবে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তাই এখানে যাচাই না-করা আরবি বাক্যকে প্রত্যক্ষ উদ্ধৃতি হিসেবে বসানো হয়নি।


নিজের ওপর ফরজ নয়, তবু প্রহার: আল-সুবকির যুক্তি

তাকিউদ্দিন আল-সুবকির ফাতাওয়া, ১/৩৭৯ থেকে ইসলামকিউএতে সংকলিত আলোচনায় সাত বছরে শিশুকে নামাজের আদেশ এবং দশ বছরে প্রহার করা অভিভাবকের কর্তব্য বলা হয়েছে। শিশুর ওপর তখনও নামাজ ফরজ না হলেও সেই কাজের জন্য প্রহার করার যুক্তি তিনি গ্রহণ করেন; পশুকে শাসনের জন্য প্রহারের তুলনাও করেন। একই পাতায় ইবন কুদামার আল-মুগনি, ১/৩৫৭ থেকে শিশুকে নামাজে অভ্যস্ত করার উদ্দেশ্য উল্লেখ আছে। [24]

هَذَا الْأَمْرُ وَالتَّأْدِيبُ الْمَشْرُوعُ فِي حَقِّ الصَّبِيِّ لِتَمْرِينِهِ عَلَى الصَّلَاةِ، كَيْ يَأْلَفَهَا وَيَعْتَادَهَا، وَلَا يَتْرُكَهَا عِنْدَ الْبُلُوغِ.

বাংলা অনুবাদ: শিশুর ক্ষেত্রে এই আদেশ ও শরীয়তসম্মত শাসনের উদ্দেশ্য তাকে নামাজের অনুশীলন করানো, যাতে সে এর সঙ্গে পরিচিত ও অভ্যস্ত হয় এবং বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর তা ছেড়ে না দেয়।

এখানে শিশুকে অপরাধের দায়ে শাস্তি দেওয়ার বদলে ভবিষ্যতের ধর্মীয় আনুগত্য গড়ে তুলতে ব্যথা ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কাজ তার ওপর তখনও ফরজ হয়নি, সেই কাজ না করার জন্যই তার শরীরে আঘাত দেওয়া হচ্ছে। শিশুর স্বাধীন বিচারক্ষমতা বিকাশের আগে তার শরীরকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় অভ্যাসে বাধ্য করার এই পদ্ধতি প্রহারের সামাজিক উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করে: বিশ্বাসের সত্যতা যাচাই শেখানো নয়, নিয়ম মানার অভ্যাস প্রতিষ্ঠা করা। অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্য আঘাতকে নৈতিক করে না।


বয়ঃসন্ধির আগে দায়মুক্তি, অথচ দশ বছরেই প্রহার

সুনান আবু দাউদ ৪৪০৩-এ তিন শ্রেণির মানুষের আমলের দায় স্থগিত থাকার হাদিসে শিশুর বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাদিসের সঙ্গে নামাজের জন্য দশ বছর বয়সে প্রহারের নির্দেশ পাশাপাশি রাখলে প্রশ্নটি আরও স্পষ্ট হয়: নিজের ওপর পূর্ণ ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা আসার আগেই একটি শিশুকে কেন শরীরে ব্যথা দিয়ে ধর্মীয় অনুশীলনে বাধ্য করা হচ্ছে? [25] [26]

হাদিসের নির্যাস ও বাংলা অনুবাদ (পূর্ণ সনদ বা আরবি উদ্ধৃতি নয়): তিন ব্যক্তির ওপর থেকে আমলের জবাবদিহির কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত, শিশু বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো পর্যন্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত।
উৎস: সুনান আবু দাউদ ৪৪০৩।

দুটি বিধানের উপস্থিতি নিজে নিজে আনুষ্ঠানিক যৌক্তিক স্ববিরোধ নয়: একটি ধর্মীয় দায়ের বয়স সম্পর্কে, অন্যটি অভিভাবকীয় প্রশিক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে। কিন্তু এই পার্থক্যই প্রবন্ধের নৈতিক প্রশ্নকে আরও তীব্র করে: যে শিশুকে নিজের ধর্মীয় অপরাধের পূর্ণ দায়ী বলা হচ্ছে না, তাকেই আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক নিজের ধর্মীয় প্রশিক্ষণের লক্ষ্য পূরণে শারীরিক শাস্তি দিচ্ছেন।


দশ বেত্রাঘাতের সীমা: ইবন আল-কাইয়্যিমের ব্যাখ্যা

ইবন আল-কাইয়্যিম ই‘লাম আল-মুওয়াক্কি‘ইন-এ দশ বেত্রাঘাতের বেশি না দেওয়ার হাদিস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্ত্রী, দাস, সন্তান ও কর্মচারীকে শাসনের প্রহার একই তালিকায় রেখেছেন। [27]

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: إن الله حد حدودا فلا تعتدوها. وفي حديث النواس بن سمعان الذي تقدم في أول الكتاب والسوران حدود الله، ويراد به تارة جنس العقوبة وإن لم تكن مقدرة، فقوله صلى الله عليه وسلم: لا يضرب فوق عشرة أسواط إلا في حد من حدود الله يريد به الجناية التي هي حق لله. فإن قيل: فأين تكون العشرة فما دونها إذ كان المراد بالحد الجناية؟ قيل: في ضرب الرجل امرأته وعبده وولده وأجيره، للتأديب ونحوه، فإنه لا يجوز أن يزيد على عشرة أسواط؛ فهذا أحسن ما خرج عليه الحديث، وبالله التوفيق.

বাংলা অনুবাদ: নবী বলেছেন: আল্লাহ কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো অতিক্রম করো না। গ্রন্থের শুরুতে উল্লিখিত নাওয়াস ইবন সামআনের হাদিসে দুটি দেয়াল আল্লাহর সীমা; কখনও নির্ধারিত না হলেও সাধারণ শাস্তিও এর দ্বারা বোঝানো হয়। ফলে নবীর বক্তব্য—আল্লাহর কোনো সীমাসংক্রান্ত অপরাধ ছাড়া দশ বেত্রাঘাতের বেশি দেওয়া হবে না—দ্বারা আল্লাহর অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ বোঝানো হয়েছে। প্রশ্ন করা হলে, সীমা দ্বারা অপরাধ বোঝালে দশ বা তার কম বেত্রাঘাত কোথায় প্রযোজ্য? উত্তর: কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী, দাস, সন্তান ও কর্মচারীকে শাসন বা অনুরূপ কারণে প্রহার করার ক্ষেত্রে। সে দশ বেত্রাঘাতের বেশি দিতে পারবে না। এই হাদিসের এটি সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা; সাফল্য আল্লাহর কাছ থেকে।

বেত্রাঘাতের সংখ্যা নির্ধারণ করাই দেখায়, এখানে প্রহার কোনো রূপক নয়। সন্তানকে শাসনের আলোচনায় স্ত্রী, দাস ও কর্মচারীকে একই তালিকায় রাখাও কর্তৃত্বের প্রকৃতি প্রকাশ করে: একজন অধীনস্থ ব্যক্তি কর্তৃত্বশীল মানুষের শারীরিক শাস্তির অধীন। শিশুর বয়স, অসহায়ত্ব ও নির্ভরতা তাকে সেই শাস্তি থেকে মুক্ত করছে না। আঘাতকে দশের মধ্যে সীমিত করা এবং আঘাতের অধিকার অস্বীকার করা সম্পূর্ণ পৃথক নীতি।


আধুনিক আলেমের বক্তব্যেও শিক্ষকের প্রহারের অধিকার

সালিহ আল-ফাওজানের ইগাছাত আল-মুস্তাফিদ বি-শারহ কিতাব আল-তাওহিদ, পৃষ্ঠা ২৮২–২৮৪ থেকে সংকলিত বক্তব্যে শিক্ষক ও শাসনকারীর প্রহারকে শিক্ষার উপায় বলা হয়েছে; চামড়া ফাটানো ও হাড় ভাঙার মতো প্রহার নিষিদ্ধ রেখে প্রয়োজনমাফিক প্রহার অনুমোদিত। ফলে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে মারার ধর্মীয় অধিকার পান। হাড় না ভাঙা শিশুর শারীরিক মর্যাদা অক্ষত থাকার সমার্থক নয়। [28]

كيف يكون ضرب الأطفال على الصلاة ؟
নামাজের জন্য শিশুদের কীভাবে প্রহার করা হবে?
11/محرم/1430 الموافق 08/يناير/2009
১১ মহররম ১৪৩০ হিজরি, মোতাবেক ৮ জানুয়ারি ২০০৯।
প্রশ্ন নম্বর: ১২৭২৩৩।
كيف يكون ضرب الأطفال على الصلاة ؟
নামাজের জন্য শিশুদের কীভাবে প্রহার করা হবে?
الجواب
উত্তর
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
فقد روى أبو داود (495) وأحمد (6650) عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ ، وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ ) . وصححه الألباني في “الإرواء” (247)
আবু দাউদ (৪৯৫) ও আহমদ (৬৬৫০) আমর ইবন শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল বলেছেন: “তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদের নামাজের নির্দেশ দাও; দশ বছর হলে নামাজের জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার জায়গা পৃথক করে দাও।” আলবানি ‘আল-ইরওয়া’ (২৪৭)-এ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
قال ابن قدامة رحمه الله في “المغني” (1/357) :
ইবন কুদামা ‘আল-মুগনি’ (১/৩৫৭)-এ বলেছেন:
” َهَذَا الْأَمْرُ وَالتَّأْدِيبُ الْمَشْرُوعُ فِي حَقِّ الصَّبِيِّ لِتَمْرِينِهِ عَلَى الصَّلَاةِ , كَيْ يَأْلَفَهَا وَيَعْتَادَهَا , وَلَا يَتْرُكَهَا عِنْدَ الْبُلُوغِ ” انتهى .
“শিশুকে নামাজে অভ্যস্ত করার জন্যই তার ক্ষেত্রে এই নির্দেশ ও শরিয়তসম্মত শাসনের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে সে নামাজের সঙ্গে পরিচিত ও অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং বয়ঃপ্রাপ্তির পর তা ছেড়ে না দেয়।” উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
وقال السبكي :
সুবকি বলেছেন:
” يَجِبُ عَلَى الْوَلِيِّ أَنْ يَأْمُرَ الصَّبِيَّ بِالصَّلَاةِ لِسَبْعٍ وَيَضْرِبَهُ عَلَيْهَا لِعَشْرٍ .
“অভিভাবকের ওপর আবশ্যক যে, শিশুর বয়স সাত বছর হলে তাকে নামাজের নির্দেশ দেবেন এবং দশ বছর হলে নামাজের জন্য তাকে প্রহার করবেন।
ولَا نُنْكِرُ وُجُوبَ الْأَمْرِ بِمَا لَيْسَ بِوَاجِبٍ ، وَالضَّرْبَ عَلَى مَا لَيْسَ بِوَاجِبٍ ، وَنَحْنُ نَضْرِبُ الْبَهِيمَةَ لِلتَّأْدِيبِ فَكَيْفَ الصَّبِيُّ ؟ وَذَلِكَ لِمَصْلَحَتِهِ وَأَنْ يَعْتَادَ بِهَا قَبْلَ بُلُوغِهِ ” انتهى ملخصا .
যে কাজ শিশুর নিজের ওপর ফরজ নয়, তাকে সে কাজের নির্দেশ দেওয়া আবশ্যক হওয়া কিংবা তা না করার জন্য প্রহার করার বিধান থাকা—এতে আমরা আপত্তির কিছু দেখি না। আমরা তো পশুকেও শাসনের জন্য প্রহার করি; তাহলে শিশুর ক্ষেত্রে কেন নয়? এটি তার কল্যাণের জন্য, যাতে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই সে এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।” সংক্ষেপিত উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
“فتاوى السبكي” (1/379)
সূত্র: ‘ফাতাওয়া আস-সুবকি’, ১/৩৭৯।
فيؤمر الصبي والجارية بالصلاة لسبع , ويضربان عليها لعشر , كما يؤمران بصوم رمضان , ويشجعان على كل خير ، من قراءة القرآن , وصلاة النافلة , والحج والعمرة , والإكثار من التسبيح والتهليل والتكبير والتحميد , ويمنعان من جميع المعاصي .
অতএব ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুকেই সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য প্রহার করা হবে। একইভাবে তাদের রমজানের রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, হজ, উমরা, বেশি বেশি তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদসহ সব ভালো কাজে উৎসাহিত করা হবে; সব ধরনের পাপ থেকেও তাদের বিরত রাখা হবে।
ويشترط في ضرب الصبي على الصلاة أن يكون ضربا هينا غير مبرّح ، لا يشق جلدا ، ولا يكسر سنا أو عظما ، ويكون على الظهر أو الكتف وما أشبه ذلك ، ويتجنب الوجه لأنه يحرم ضربه ، لنهي النبي صلى الله عليه وسلم .
নামাজের জন্য শিশুকে প্রহার করার শর্ত হলো, প্রহারটি হালকা ও তীব্রতাহীন হতে হবে; এতে চামড়া ফেটে যাওয়া বা দাঁত কিংবা হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো আঘাত করা যাবে না। পিঠ, কাঁধ বা অনুরূপ স্থানে প্রহার করতে হবে এবং মুখে আঘাত এড়াতে হবে; কারণ নবীর নিষেধাজ্ঞার কারণে মুখে প্রহার করা হারাম।
ولا يكون فوق عشرة أسواط ، ويكون للتأديب والتربية ، فلا يظهر به الرغبة في العقاب إلا عند الحاجة إلى بيان ذلك ، لكثرة نفور الصبي وتركه للصلاة ونحوه .
প্রহারের সংখ্যা দশ বেত্রাঘাতের বেশি হতে পারবে না। এটি শাসন ও শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে হতে হবে। শাস্তি দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা উচিত নয়, তবে শিশু বারবার বিরূপ আচরণ করলে, নামাজ ছেড়ে দিলে বা অনুরূপ পরিস্থিতিতে তা বোঝানো প্রয়োজন হতে পারে।
عن أبي بردة الأنصاري أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : ” لا يُجلد أحدٌ فوق عشرة أسواط إلا في حد من حدود الله ” . رواه البخاري ( 6456 ) ومسلم ( 3222 ) .
আবু বুরদা আল-আনসারি বর্ণনা করেছেন, তিনি আল্লাহর রাসুলকে বলতে শুনেছেন: “আল্লাহর নির্ধারিত হদ্দের শাস্তি ছাড়া কাউকে দশ বেত্রাঘাতের বেশি মারা যাবে না।” বুখারি (৬৪৫৬) ও মুসলিম (৩২২২) এটি বর্ণনা করেছেন।
قال ابن القيم رحمه الله :
ইবনুল কাইয়িম বলেছেন:
” فقوله صلى الله عليه وسلم : ” لا يضرب فوق عشرة أسواط إلا في حد من حدود الله ” يريد به الجناية التي هي حق لله .
“নবীর উক্তি, ‘আল্লাহর নির্ধারিত হদ্দের অপরাধ ছাড়া দশ বেত্রাঘাতের বেশি মারা যাবে না’—এখানে এমন অপরাধ বোঝানো হয়েছে, যার বিচার আল্লাহর অধিকারভুক্ত।
فإن قيل : فأين تكون العشرة فما دونها إذ كان المراد بالحد الجناية ؟ .
যদি প্রশ্ন করা হয়, হদ্দ বলতে অপরাধ বোঝানো হলে দশ বা তার কম বেত্রাঘাত কোথায় প্রযোজ্য হবে?
قيل : في ضرب الرجل امرأته وعبده وولده وأجيره , للتأديب ونحوه , فإنه لا يجوز أن يزيد على عشرة أسواط ; فهذا أحسن ما خُرِّج عليه الحديث ” انتهى .
উত্তর হলো, কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী, দাস, সন্তান কিংবা কর্মচারীকে শাসন বা অনুরূপ উদ্দেশ্যে প্রহার করার ক্ষেত্রে। সে ক্ষেত্রে দশ বেত্রাঘাতের বেশি দেওয়া বৈধ নয়। হাদিসটির এটাই সবচেয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা।” উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
إعلام الموقعين ” ( 2/23 )
সূত্র: ‘ই‘লাম আল-মুওয়াক্কি‘ঈন’, ২/২৩।
كما ينبغي أن لا يكون أمام أحد ، صيانة لكرامة الصبي أمام نفسه وأمام غيره من أصحابه وغيرهم .
শিশুর আত্মমর্যাদা এবং তার সহপাঠী, বন্ধু ও অন্যদের সামনে তার সম্মান রক্ষার জন্য কাউকে সামনে রেখে তাকে প্রহার করা উচিত নয়।
وينبغي أن يُعلم من سيرة الأب مع أبنائه ، وتأديبه لهم أنه لا يضرب من يضربه إلا طاعة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم ، وأنه لا قصد له من وراء ذلك إلا تمام مصلحته ، والحرص على تربيته على الوجه المشروع ، حتى لا يشب الصبي كارها للأمر الشرعي الذي يشق عليه ويضرب من أجل تركه .
পিতার সন্তানদের সঙ্গে আচরণ ও তাদের শাসনপদ্ধতি থেকে যেন স্পষ্ট হয়, তিনি কাউকে প্রহার করলে তা শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের উদ্দেশ্যে করেন। এতে তাঁর লক্ষ্য কেবল সন্তানের পূর্ণ কল্যাণ এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে তাকে লালনপালন করা। উদ্দেশ্য হলো, যে ধর্মীয় বিধান পালন করা শিশুর কাছে কঠিন মনে হয় এবং যা না মানায় তাকে প্রহার করা হয়, সেই বিধানের প্রতি ঘৃণা নিয়ে যেন সে বড় না হয়।
قال الشيخ ابن باز رحمه الله :
শায়খ ইবন বায বলেছেন:
” والعناية بأهل البيت ، لا تغفل عنهم يا عبد الله ، عليك أن تجتهد في صلاحهم ، وأن تأمر بنيك وبناتك بالصلاة لسبع ، وتضربهم عليها لعشر ، ضربا خفيفا يعينهم على طاعة الله ، ويعودهم أداء الصلاة في وقتها ، حتى يستقيموا على دين الله ويعرفوا الحق ، كما صحت بذلك السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ” انتهى ملخصا .
“পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্নবান হও। হে আল্লাহর বান্দা, তাদের ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। তাদের সংশোধনের জন্য চেষ্টা করো। তোমার ছেলে ও মেয়েদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য হালকাভাবে প্রহার করো, যাতে তা তাদের আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করে এবং সময়মতো নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত করে; ফলে তারা আল্লাহর ধর্মে অবিচল থাকে ও সত্য চিনতে পারে। রাসুলের সহিহ সুন্নাহয় এ কথাই এসেছে।” সংক্ষেপিত উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
“مجموع فتاوى ابن باز” (6/46)
সূত্র: ‘মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবন বায’, ৬/৪৬।
وقال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله :
শায়খ ইবন উসাইমিন বলেছেন:
” أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن نأمر أولادنا بالصلاة لسبع سنين ، وأن نضربهم عليها لعشر سنين ، مع أنهم لم يُكلفوا بعد ، من أجل أن يتمرنوا على فعل الطاعة ويألفوها ، حتى تسهل عليهم بعد الكبر ، وتكون محبوبة لديهم ، كذلك الأمور التي ليست بالمحمودة ، لا ينبغي أن يعود الصغار عليها وإن كانوا غير مكلفين ؛ وذلك لأنهم يألفونها عند الكبر ويستسيغونها” انتهى .
“নবী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের আদেশ দিতে এবং দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য তাদের প্রহার করতে, যদিও তখনো তারা শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য নয়। উদ্দেশ্য হলো, তারা যেন আনুগত্যের কাজ অনুশীলন করে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়, যাতে বড় হওয়ার পর কাজটি তাদের কাছে সহজ ও প্রিয় হয়ে ওঠে। একইভাবে নিন্দনীয় কাজেও ছোটদের অভ্যস্ত হতে দেওয়া উচিত নয়, যদিও তাদের ওপর এখনো শরিয়তের বাধ্যবাধকতা নেই; কারণ বড় হওয়ার পর তারা সেসব কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য মনে করে।” উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
“فتاوى نور على الدرب” (11/386)
সূত্র: ‘ফাতাওয়া নূর ‘আলা আদ-দারব’, ১১/৩৮৬।
وقال الشيخ أيضا :
শায়খ আরও বলেছেন:
” الأمر للوجوب ، لكن يقيد بما إذا كان الضرب نافعاً ؛ لأنه أحياناً تضرب الصبي ولكن ما ينتفع بالضرب ، ما يزداد إلا صياحاً وعويلاً ولا يستفيد ، ثم إن المراد بالضرب الضرب غير المبرح ، الضرب السهل الذي يحصل به الإصلاح ولا يحصل به الضرر ” انتهى .
“এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক। তবে শর্ত হলো, প্রহার কার্যকর হতে হবে। কারণ কখনো তুমি শিশুকে প্রহার করলে সে তাতে উপকৃত হয় না; বরং তার চিৎকার ও কান্নাই বাড়ে, কোনো উপকার হয় না। আর প্রহার বলতে তীব্র নয়, এমন হালকা প্রহার বোঝানো হয়েছে, যা সংশোধন ঘটায় কিন্তু ক্ষতি করে না।” উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
“لقاء الباب المفتوح” (95/18)
সূত্র: ‘লিকাউল বাবিল মাফতূহ’, ৯৫/১৮।
وقال رحمه الله أيضا :
তিনি আরও বলেছেন:
” لا يضرب ضرباً مبرحاً ، ولا يضرب على الوجه مثلاً ، ولا على المحل القاتل ، وإنما يضرب على الظهر أو الكتف أو ما أشبه ذلك مما لا يكون سبباً في هلاكه . والضرب على الوجه له خطره ؛ لأن الوجه أعلى ما يكون للإنسان وأكرم ما يكون على الإنسان ، وإذا ضرب عليه أصابه من الذل والهوان أكثر مما لو ضرب على ظهره ، ولهذا نهي عن الضرب على الوجه ” انتهى .
“তীব্রভাবে প্রহার করা যাবে না; মুখে কিংবা প্রাণঘাতী স্থানে আঘাত করা যাবে না। বরং পিঠ, কাঁধ বা এমন স্থানে প্রহার করতে হবে, যেখানে আঘাত তার মৃত্যুর কারণ হবে না। মুখে প্রহার করার বিশেষ ঝুঁকি আছে; কারণ মুখ মানুষের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অঙ্গ। মুখে আঘাত করলে পিঠে আঘাতের তুলনায় বেশি লাঞ্ছনা ও অপমান অনুভূত হয়। এ কারণেই মুখে প্রহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
“فتاوى نور على الدرب” (13/2)
সূত্র: ‘ফাতাওয়া নূর ‘আলা আদ-দারব’, ১৩/২।
وقال الشيخ الفوزان :
শায়খ আল-ফাওযান বলেছেন:
” الضّرب وسيلة من وسائل التربية ، فللمعلِّم أن يضرب ، وللمؤدِّب أن يضرب ، ولولّي الأمر أن يضرب تأديباً وتعزيراً ، وللزوج أن يضرب زوجته على النشور .
“প্রহার শিক্ষাদানের অন্যতম মাধ্যম। তাই শিক্ষক প্রহার করতে পারেন, শাসনকারী প্রহার করতে পারেন, অভিভাবক শাসন ও তা‘যিরের উদ্দেশ্যে প্রহার করতে পারেন এবং স্বামী স্ত্রীর অবাধ্যতার কারণে তাকে প্রহার করতে পারেন।
لكن يكون بحدود ، لا يكون ضرباً مبرحاً يشقّ الجلْد أو يكسرُ العظم ، وإنّما يكون بقدر الحاجة ” انتهى ملخصا .
তবে এর সীমা থাকতে হবে। প্রহার এমন তীব্র হবে না, যাতে চামড়া ফেটে যায় বা হাড় ভেঙে যায়; বরং প্রয়োজনের মাত্রায় সীমিত থাকবে।” সংক্ষেপিত উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
“إغاثة المستفيد بشرح كتاب التوحيد” (282- 284)
সূত্র: ‘ইগাসাতুল মুস্তাফিদ বি-শারহি কিতাবিত তাওহিদ’, পৃষ্ঠা ২৮২–২৮৪।
كما ينبغي التنبه أيضا إلى أن تأديب الصبي ليس على ترك الصلاة فقط ، وإنما هو أيضا على التهاون بها في شروطها وأركانها وواجباتها ، فقد يصلي الصبي ولكنه يجمع بين الصلوات ، أو يصلي بغير وضوء ، أو لا يحسن يصلي ، فيجب تعليمه شأن الصلاة كله ، والتأكيد على واجباتها وأركانها وشروطها ، فإن فرط في شيء من ذلك ألححنا عليه في النصح ، وعلمناه مرة بعد مرة ، فإن أصر أُدّب بالضرب حتى يحسن الصلاة .
আরও মনে রাখতে হবে, শিশুকে শাসন করা শুধু নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণে নয়; নামাজের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিব বিষয়ে অবহেলার কারণেও প্রযোজ্য। কোনো শিশু হয়তো নামাজ পড়ে, কিন্তু একাধিক নামাজ একসঙ্গে আদায় করে, অজু ছাড়া নামাজ পড়ে কিংবা সঠিকভাবে নামাজ পড়তে পারে না। তাই নামাজের সব বিষয় তাকে শেখাতে হবে এবং নামাজের ওয়াজিব, রুকন ও শর্তগুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এগুলোর কোনোটি পালনে অবহেলা করলে তাকে বারবার উপদেশ ও শিক্ষা দিতে হবে। তারপরও সে একগুঁয়েমি করলে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করা পর্যন্ত প্রহারের মাধ্যমে তাকে শাসন করতে হবে।
والله تعالى أعلم .
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
المراجع
তথ্যসূত্র
المصدر:
উৎস:
الإسلام سؤال وجواب
ইসলাম প্রশ্ন ও উত্তর (Islam Question & Answer)।


শিক্ষকের হাতে শিশুকে তুলে দেওয়া কি প্রহারের অনুমতি?

আল-মাওসু‘আহ আল-ফিকহিয়্যাহ, ১৩/১৩-এর আলোচনা ইসলামকিউএর ৫১৭৬২১ নম্বর ফতোয়ায় উদ্ধৃত হয়েছে। সেখানে শিক্ষকের প্রহারের অধিকারকে কয়েকটি শর্তে বেঁধে দেওয়া হয়েছে: প্রহার প্রচলিত শিক্ষাগত সীমার মধ্যে হবে, ক্ষতি না হওয়ার ধারণা থাকবে, হাত দিয়ে হবে, লাঠি দিয়ে নয়; তিন আঘাত অতিক্রম করা হবে না। অভিভাবক শিক্ষককে পড়ানোর দায়িত্ব দিলেই প্রহারের অনুমতি দিয়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি; স্পষ্ট অনুমতির শর্তও উল্লেখ রয়েছে। আবার কিছু শাফেয়ি ফকিহের অনুমতি ছাড়াই প্রহারের অনুমোদনের কথাও সংকলিত হয়েছে। এই ফিকহি আলোচনায় মতভেদ প্রহারের অনুমতি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তা নিয়ে; শিশুকে শারীরিক শাস্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার নীতি দিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। [29]

অভিভাবকের সম্মতি শিশুর শরীরের ওপর অন্য মানুষের শাস্তির অধিকার তৈরি করতে পারে—এই অনুমান নিজেই নৈতিকভাবে আপত্তিকর। বাবা-মা শিক্ষকের কাছে সন্তানকে শিক্ষা, যত্ন ও নিরাপত্তার জন্য দেন। সন্তানের ওপর আঘাত করার অধিকার তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, যা অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে। “হাড্ডি আমাদের, মাংস আপনার”—এই নিষ্ঠুর কথার মধ্যে শিশুকে আলাদা ব্যক্তি হিসেবে অস্বীকার করার মানসিকতা আছে। ফিকহের অনুমতিসংক্রান্ত হিসাব সেই মানসিকতার সঙ্গে মিলিত হলে শিশুর নিজস্ব আপত্তি, ব্যথা ও ভয় অদৃশ্য হয়ে যায়।


শাসনের সঙ্গে প্রতিশোধস্পৃহা: উদ্দেশ্য দিয়ে প্রহারের বৈধতা

ইসলামওয়েবের ২৫৮৫০৮ নম্বর ফতোয়ায় শিশুপ্রহারের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতিশোধ, নিজের ক্ষোভ মেটানো ও জীবনযাপনের চাপের কথা প্রশ্ন করা হয়েছে। উত্তরে শুধু ক্ষোভ মেটানোর উদ্দেশ্যে প্রহার নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। কিন্তু শাসনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে প্রতিশোধস্পৃহা মিশলেও প্রহারকে হারাম বলা হয়নি; মূল উদ্দেশ্যকে বিবেচনা করে মাকরুহ হওয়ার সম্ভাবনা বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে শিশুর ব্যথার সঙ্গে বড় মানুষের নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে দাবির একটি অসম সম্পর্ক তৈরি হয়। যে ব্যক্তি আঘাত করছে, সে নিজের কাজকে “শাসন” বলে ব্যাখ্যা করতে পারে; শিশুটি তার উদ্দেশ্য পরীক্ষা করে দেখার ক্ষমতা রাখে না। [30]

প্রহারের পরে “ওর ভালোর জন্য করেছি” বলা আঘাতের ঘটনা মুছে দেয় না। শাসনের সঙ্গে ক্ষোভ বা প্রতিশোধ মিশে গেলে শিশুর ওপর তার ফল একই শরীরে অনুভূত হয়। উদ্দেশ্যের ধর্মীয় শ্রেণিবিভাগ আঘাতপ্রাপ্ত শিশুর ভয়, অপমান ও অসহায়ত্ব দূর করে না। বড় মানুষের নিজের উদ্দেশ্যকে বৈধতার কেন্দ্রে রেখে শিশুর অভিজ্ঞতাকে গৌণ করা আসলে কর্তৃত্বের সুবিধা রক্ষা করে। শিশুর নিরাপত্তাকে আঘাতকারীর সদিচ্ছার দাবির ওপর নির্ভর করানো একটি দুর্বল সুরক্ষা।

ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৫৮৫০৮ — প্রশ্ন ও উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ মূল বাক্যসমূহ
هل ضرب الأطفال بغير نية التأديب: تشفيا، أو انتقاما، أو تحت تأثير ضغوط الحياة، محرم، أو مكروه كراهة تنزيه؟
বাংলা: শিশুদের শাসনের উদ্দেশ্য ছাড়া—নিজের ক্ষোভ মেটাতে, প্রতিশোধ নিতে অথবা জীবনের চাপের প্রভাবে—প্রহার করা কি হারাম, নাকি মাকরুহ তানজিহি?
فالأصل حرمة إيذاء الطفل
বাংলা: মূল বিধান হলো শিশুকে কষ্ট দেওয়া হারাম।
وإنما يستثنى من ذلك ما إذا وجدت فيه مصلحة معتبرة شرعا، كالتأديب.
বাংলা: তবে শরিয়তসম্মত বিবেচনায় গ্রহণযোগ্য কোনো কল্যাণ—যেমন শাসনের উদ্দেশ্য—থাকলে তা এই মূল বিধান থেকে ব্যতিক্রম হয়।
فعلى ذلك، فإن تمحضت النية في ضرب الطفل للتشفي ونحوه، دون قصد التأديب، فهو محرم.
বাংলা: অতএব শিশুপ্রহারের উদ্দেশ্য যদি শুধু ক্ষোভ মেটানো বা অনুরূপ কিছু হয়, শাসনের উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা হারাম।
أما إن ضرب الطفل للتأديب، ولكن شاب ذلك رغبة التشفي ونحوها، فهذا لا يحرم
বাংলা: কিন্তু শিশুকে শাসনের উদ্দেশ্যে প্রহার করার সঙ্গে ক্ষোভ মেটানোর ইচ্ছা বা অনুরূপ উদ্দেশ্য মিশে গেলে সেই প্রহার হারাম হবে না। ফতোয়ার শেষাংশে বলা হয়েছে, রাগের অবস্থায় প্রহার করা উচিত নয় বলে এমন প্রহার মাকরুহ হতে পারে।
উৎস: ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৫৮৫০৮, ১৯ জুন ২০১৪।


ঘরে চাবুক: আঘাতের আগে ভয়ের শাসন

ঘরের লোকেরা দেখতে পায় এমন জায়গায় চাবুক ঝুলিয়ে রাখার বর্ণনা নিয়ে ইসলামকিউএর ২৮৬৩০৯ নম্বর ফতোয়ায় বিভিন্ন সনদ ও মূল্যায়ন আলোচনা করা হয়েছে। আলবানী সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকে হাসান করেছেন; অন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু হাতিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসদের দুর্বলতার মূল্যায়নও আছে। ঘরে চাবুক ঝোলানোর একটি পৃথক বর্ণনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবদুর রউফ আল-মুনাবি ভয় দেখানো, প্রহারের উপকরণ সামনে আনা এবং তাতে কাজ না হলে প্রহার করার ধাপ বর্ণনা করেছেন। [31] [32]

(رحم الله امرأ علق في بيته سوطا يؤدب به أهله)؛ أي: من أساء الأدب منهم ولا يتركهم هملا، وقد يكون التأديب مقدما على العفو في بعض الأحوال، وإنما قال علق ولم يقتصر على قوله أدب مع كونه أخصر؛ إيذانا بأنه لا يضرب أو لا يزجر ويهدد ويحضر لهم آلة الضرب، فإن نجع ذلك فيهم لا يتعداه لحصول الغرض، وإلا ضرب ويتقي الوجه والمقاتل، ولا يقصد بضربه تشفيا ولا انتقاما وإلا عاد وباله عليه.

বাংলা অনুবাদ: “আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে ঘরে চাবুক ঝুলিয়ে রাখে, যা দিয়ে পরিবারের লোকদের শাসন করে”—অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা খারাপ আচরণ করে, তাদের অবহেলায় ছেড়ে দেয় না। কখনও কোনো কোনো অবস্থায় ক্ষমার আগে শাসন অগ্রাধিকার পেতে পারে। শুধু “শাসন করে” বললে সংক্ষিপ্ত হতো, কিন্তু “ঝুলিয়ে রাখে” বলা হয়েছে এই ইঙ্গিত দিতে যে, সে প্রহার না করে তিরস্কার করে, ভয় দেখায় এবং তাদের সামনে প্রহারের উপকরণ হাজির করে। এতে কাজ হলে উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ায় আর এগোয় না; কাজ না হলে প্রহার করে, তবে মুখ ও প্রাণঘাতী স্থানে আঘাত এড়িয়ে চলে। প্রহারের উদ্দেশ্য ক্ষোভ মেটানো বা প্রতিশোধ হবে না; তা হলে তার অশুভ ফল তার দিকেই ফিরে আসবে।

আল-মুনাবি এই বর্ণনার সূত্র দুর্বল বলেছেন। তার গ্রন্থে বর্ণনাটির সঙ্গে শাসনের ব্যবহারিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। তার ব্যাখ্যায় চাবুক শুধু আঘাতের যন্ত্র নয়, আঘাতের সম্ভাবনাকে প্রতিদিন দৃশ্যমান রাখার উপকরণ। শিশুকে প্রতিবার মারা না হলেও ঘরে ঝোলানো চাবুক তার কাছে একটি স্থায়ী বার্তা বহন করে: কথা না মানলে শরীরে ব্যথা দেওয়া হবে। এই ভয় তাকে নিজের প্রশ্ন গোপন করতে, ভুল স্বীকার না করতে বা বড় মানুষের সামনে কৃত্রিম আনুগত্য দেখাতে শেখাতে পারে। শাস্তির ভয়ে নীরবতা এবং স্বাধীনভাবে ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা এক জিনিস নয়।


প্রহার প্রত্যাখ্যান করাও ধর্মীয় আপত্তির বিষয়

২৮৬৩০৯ নম্বর ফতোয়ার শেষাংশে যে ব্যক্তি শাসনের প্রহারের কোনো উপকার বা কল্যাণ নেই বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করে, তাকে প্রয়োজনের সময় প্রহারের নির্দেশ দেওয়া শরিয়তের পদ্ধতির বিরোধী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে শিশুকে না পেটানোর নৈতিক সিদ্ধান্তও ধর্মীয় আনুগত্যের প্রশ্নে পরিণত হয়। [33]

এতে পরিবার দ্বিগুণ চাপের মুখে পড়ে। একদিকে শিশুকে প্রহার করার অনুমতি ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে আসে; অন্যদিকে সেই পদ্ধতিকে ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করলে ধর্মীয় বিধানের বিরোধিতার অভিযোগ তৈরি হয়। প্রহারের হাতিয়ারটি তখন শুধু শিক্ষক বা পিতার হাতে থাকে না; প্রহার সমর্থনের একটি বিশ্বাসগত বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়। শিশুর ব্যথা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে আনুগত্যের পরীক্ষায় রূপান্তর করা তার বিরুদ্ধে কর্তৃত্বের শক্তি বাড়ায়। কোনো শিক্ষাপদ্ধতি কার্যকর কি না, তা শিশুর বাস্তব বিকাশ ও ফলাফল দিয়ে যাচাই করতে হয়; ধর্মীয় অনুমোদন তাকে ক্ষতিহীন প্রমাণ করে না।

ইসলামকিউএ, ফতোয়া ২৮৬৩০৯ — ঘরে চাবুক রাখা, বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রহার প্রত্যাখ্যান
لا ترفع العصا عن أهلك، وأخفهم في الله عز وجل
বাংলা: পরিবার থেকে লাঠি সরিয়ে রেখো না; আল্লাহর নামে তাদের ভয় দেখাও। এখানে উল্লিখিত বর্ণনাটির বিষয়ে আবু হাতিমের কঠোর দুর্বলতার মূল্যায়নও ফতোয়ায় সংরক্ষিত হয়েছে।
وعلى القول بحسن الحديث، فإنه لا يعلم من أهل العلم من قال بوجوب تعليق السوط
বাংলা: হাদিসটিকে হাসান ধরলেও ঘরে চাবুক ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক বলেছেন, এমন কোনো আলেমের কথা জানা নেই।

لو اعتقد أن التأديب بالضرب لا يفيد ولا مصلحة فيه مطلقا ويعيب ذلك، فإنه بهذا يكون معارضا لطريق الشرع
বাংলা: কেউ যদি মনে করে প্রহারের মাধ্যমে শাসনে কোনো উপকার বা কল্যাণই নেই এবং একে সম্পূর্ণ নিন্দা করে, তাহলে সে শরিয়তের পদ্ধতির বিরোধী অবস্থান নেয় বলে ফতোয়ায় বলা হয়েছে।
এখানে দুটি অবস্থান আলাদা: চাবুক ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক নয়; কিন্তু শরিয়তের প্রয়োজনে শারীরিক শাসনের সম্ভাব্য কল্যাণকেই সম্পূর্ণ অস্বীকার করা ধর্মীয় বিরোধিতা হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে।
উৎস: ইসলামকিউএ, ফতোয়া ২৮৬৩০৯, ১৮ আগস্ট ২০২০।


আয়িশার বুকে ব্যথাদায়ক আঘাত

নবী মুহাম্মদের স্ত্রী আয়িশার বাল্যবিবাহের বিবরণ হাদিসে রয়েছে। তার বর্ণিত আরেকটি ঘটনায় মুহাম্মদ রাতে ঘর থেকে বের হলে আয়িশা তার পিছু নেন। ফিরে আসার পরে মুহাম্মদ বিষয়টি জানতে পেরে তার বুকে এমন আঘাত করেন, যা তাকে ব্যথা দেয়। আয়িশার নিজের বর্ণনায় ব্যথার কথা স্পষ্ট: তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন, যা আমাকে ব্যথা দিল। [34] [35]

সূনান নাসাঈ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৭/ স্ত্রীর সাথে ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ৪. আত্মাভিমান
৩৯৬৫. সুলায়মান ইবন দাউদ (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমার ব্যাপারে কি তোমাদেরকে বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, কেন করবেন না? তিনি বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমার পালার রাতে (ইশার সালাত আদায়ের পর) ফিরে আসলেন। তারপর তার জুতা পায়ের দিকে রাখলেন, তাঁর চাদর রেখে দিলেন এবং তাঁর একটি লুঙ্গি বিছানার উপর বিছালেন।
তারপর তিনি মাত্র এতটুকু সময় অবস্থান করলেন যতক্ষণে তাঁর ধারণা হল যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর উঠে আস্তে করে জুতা পরলেন এবং আস্তে করে তার চাদর নিলেন। তারপর আস্তে করে দরজা খুললেন এবং বের হয়ে আস্তে দরজা চাপিয়ে দিলেন। আর আমি মাথার উপর দিয়ে কামিজটি পরিধান করলাম, ওড়না পরলাম এবং চাদরটি গায়ে আবৃত করলাম ও তার পিছনে চললাম, তিনি বাকীতে আসলেন এবং তিনবার হাত উঠালেন ও বহুক্ষণ দাঁড়ালেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম। তিনি একটু তীব্রগতিতে চললেন, আমিও তীব্রগতিতে চললাম, তিনি দৌড়ালেন, আমিও দৌড়ালাম। তিনি পৌছে গেলেন, তবে আমি তার আগে পৌছে গেলাম।
ঘরে প্রবেশ করেই শুয়ে পড়লাম। তিনিও প্রবেশ করলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! কি হয়েছে তোমার পেট যে ফুলে গেছে। বর্ণনাকারী সুলায়মান বলেন, ইবন ওয়াহাব (رابية) এর পরিবর্তে (حشيا) দ্রুত চলার কারণে হাঁপিয়ে ওঠা শব্দটি বলেছেন বলে ধারণা করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঘটনা কি বল, নচেৎ আল্লাহ্ যিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত, তিনিই আমাকে খবর দিবেন।
আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক এবং ঘটনাটির বর্ণনা দিলাম। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই সেই (ছায়ামূর্তি) যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম? আমি বললাম, হ্যাঁ। আয়েশা (রাঃ) বললেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বক্ষে একটি মুষ্ঠাঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথা দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর যুলুম করবে? আয়েশ্ম (রাঃ) বললেন, লোক যতই গোপন করুক না কেন, আল্লাহ্ তা নিশ্চিত জানেন।
রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তুমি যে (শুয়ে যাওয়ায়) কাপড় খুলে ফেলেছ। তাই জিবরীল (আঃ) প্রবেশ করেননি। তোমার থেকে গোপন করে আমাকে ডাকলেন, আমিও তোমার থেকে গোপন করে উত্তর দিলাম। মনে করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। তোমাকে জাগিয়ে দেওয়াটা পছন্দ করলাম না এবং এ ভয়ও ছিল যে, (আমি চলে যাওয়ার কারণে) তুমি নিঃসঙ্গতা বােধ করবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে নির্দেশ দিলে বাকীতে অবস্থানকারীদের কাছে যাই এবং তাদের রব্বের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
তাহক্বীকঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ)

একই ঘটনার বর্ণনা সহিহ মুসলিমেও রয়েছে। সেখানে আরবি বাক্যটি হলো فَلَهَدَنِي فِي صَدْرِي لَهْدَةً أَوْجَعَتْنِي—তিনি আমার বুকে এমন আঘাত করলেন, যা আমাকে ব্যথা দিল। ব্যথাদায়ক শারীরিক আঘাতের বিষয়টি আয়িশার বর্ণনার অংশ; শুধু অনুবাদকের ব্যাখ্যা নয়। [34]

স্ত্রী নির্যাতন করতেন নবী
শিশু 10

শিশু হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নবী

বনু কুরাইজার বন্দিদের মধ্যে কারা হত্যার জন্য পৃথক হবে আর কারা বন্দি হিসেবে থাকবে, তা নির্ধারণে যৌনলোম উদ্গমের পরীক্ষা করার বিবরণ হাদিসে রয়েছে। আতিয়্যা আল-কুরাজির বর্ণনা অনুযায়ী, যাদের যৌনলোম উঠেছিল তাদের হত্যা করা হয়; তার যৌনলোম না ওঠায় তিনি সেই হত্যার শিকার হননি। এখানে যুদ্ধ করেছে কি না, ব্যক্তিগত অপরাধ কী অথবা বয়স কত—এসবের পরিবর্তে শরীরের একটি বয়ঃসন্ধিগত লক্ষণকে জীবন-মৃত্যুর মানদণ্ড করা হয়েছে। আধুনিক শিশু-অধিকারের বিচারে যৌনলোম ওঠা কোনো কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক যোদ্ধা বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য ব্যক্তি বানায় না।

সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান
পরিচ্ছদঃ কোন মুসলিমের নির্দেশ কেউ আত্মসমার্পন করলে।
১৫৯০। হান্নাদ (রহঃ) … আতিয়্যা কুরাযী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরায়যা যুদ্ধের সময় আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে পেশ করা হল। তিনি যাদের যৌন লোম উদগত হয়েছিল তিনি তাদের হত্যা করলেন আর যাদের যৌন লোম উদগত হয়নি তাদের ছেড়ে দিলেন। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যাদের যৌন লোম উদগম হয়নি। সুতরাং আমার পথে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হল। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৪১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৫৮৪ (আল মাদানী প্রকাশনী)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

একইসঙ্গে রাতের অতর্কিত আক্রমণে মুশরিকদের নারী ও শিশু আক্রান্ত হওয়ার প্রশ্নে মুহাম্মদের উত্তর ছিল, “তারাও তাদের অন্তর্ভুক্ত।” নারী ও শিশুর পৃথক অসহায়ত্বের বদলে তাদেরকে শত্রুসমাজের অংশ হিসেবে গণ্য করার এই বক্তব্য রাতের আক্রমণে তাদের মৃত্যুকে গ্রহণযোগ্য করে। সাধারণভাবে নারী-শিশুকে হত্যার নিষেধ এবং নারী-শিশু আক্রান্ত হয় এমন আক্রমণের অনুমোদন একসঙ্গে থাকলে পরের বিধান বাস্তবে তাদের নিরাপত্তার ওপর একটি গুরুতর ব্যতিক্রম তৈরি করে।

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছদঃ ৯. রাতের অতর্কিত আক্রমনে অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৩৯৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, সাঈদ ইবনু মনসুর ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) … সা’ব ইবনু জাছছামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মুশরিকদের নারী ও শিশু সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, যখন রাতের আধারে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়, তখন তাদের নারী ও শিশুরাও আক্রান্ত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারাও তাদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩৩। জিহাদ ও সফর‏
পরিচ্ছদঃ ৯. রাতের আকস্মিক হামলায় অনিচ্ছাকৃতভাবে নারী ও শিশু হত্যায় দোষ নেই
৪৪৪২-(২৭/…) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. সা’ব ইবনু জাসসামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা রাতের অন্ধকারে আকস্মিক হামলায় মুশরিকদের শিশুদের উপরও আঘাত করে ফেলি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারাও তাদের (মুশরিক যোদ্ধাদের) মধ্যে গণ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪০০, ইসলামিক সেন্টার ৪৪০০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১৮/ জিহাদ
১/২৮৩৯। সাব‘ ইবনে জাসসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের বেলা মুশরিকদের মহল্লায় অতর্কিত আক্রমণ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হলো, যাতে নারী ও শিশু নিহত হয়। তিনি বলেনঃ তারাও (নারী ও শিশু) তাদের অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)


জীবন্ত প্রোথিত কন্যাশিশুর জন্যও জাহান্নামের ঘোষণা

আবু দাউদের নিচের বর্ণনায় জীবন্ত প্রোথিত কন্যাশিশু এবং তাকে প্রোথিতকারী নারী—দুজনকেই জাহান্নামের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। আরবি الْوَائِدَةُ মানে প্রোথিতকারী নারী; “মা” শব্দটি আরবিতে নেই। বর্ণনার নৈতিক সমস্যা হলো, যে শিশু হত্যার শিকার, তার জন্যও শাস্তির ঘোষণা আছে। হত্যাকারী ও নিহত শিশুকে একই পরকালীন শাস্তির মধ্যে রাখা ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যায়বিচারের বিপরীত। [36]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৫/ সুন্নাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৮. মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে।
৪৬৪২. ইব্‌রাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ….. আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জীবন্ত প্রোথিত কন্যা এবং তাকে প্রোথিতকারী নারী—উভয়ই জাহান্নামী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ শা‘বী (রহঃ)

আরবি মূল বক্তব্যে নিহত শিশুটিকে বাদ দেওয়া হয়নি। [37]

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْوَائِدَةُ وَالْمَوْءُودَةُ فِي النَّارِ. قَالَ يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا قَالَ أَبِي فَحَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ أَنَّ عَامِرًا حَدَّثَهُ بِذَلِكَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

বাংলা অনুবাদ: ইবরাহিম ইবন মুসা আল-রাজি আমাদের বর্ণনা করেছেন; ইবন আবি যায়িদা তাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আমির থেকে বর্ণনা করেছেন; আমির বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন: জীবন্ত প্রোথিতকারী নারী এবং জীবন্ত প্রোথিত কন্যা জাহান্নামে। ইয়াহইয়া ইবন জাকারিয়া বলেন: আমার পিতা বলেছেন, আবু ইসহাক আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আমির তাকে একই বক্তব্য আলকামা থেকে, তিনি ইবন মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী থেকে বর্ণনা করেছেন।


কোরআন ও হাদিসে কাফের শিশু হত্যা

কোরআনের সূরা আল-কাহফে মুসার সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ জ্ঞানপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির সফরের গল্প রয়েছে; হাদিসে তাকে খিজির বলা হয়েছে। সেই ব্যক্তি একটি বালককে হত্যা করেন। মুসা আপত্তি করে বলেন, কোনো প্রাণ হত্যার অপরাধ ছাড়া একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করা হলো কেন? পরে হত্যার ব্যাখ্যায় বালকের ভবিষ্যৎ অবাধ্যতা ও কুফরির মাধ্যমে তার বিশ্বাসী পিতা-মাতাকে বিপদে ফেলার কথা বলা হয়। মুহাম্মদের বর্ণিত হাদিসে সেই বালককে জন্মগতভাবে কাফিরের স্বভাব দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ আছে। [38] [39]

এই বালকটির ভবিষ্যৎ অপরাধ তখনও ঘটেনি। বর্ণনায় সে অন্য বালকদের সঙ্গে খেলছিল। তার ভবিষ্যতের অবাধ্যতা ও কুফরির সম্ভাবনা দিয়ে তাকে বর্তমানেই হত্যা করা হয়েছে। যে স্বভাব তার মধ্যে জন্মগতভাবে দেওয়া হলো, সেই স্বভাবের ভবিষ্যৎ ফলের জন্য তাকে হত্যা করা স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপর দায় আরোপ নয়; স্রষ্টার নির্ধারণের ফল শিশুর ওপর চাপানো। মুসার নিজের প্রতিবাদেও হত্যাটিকে নিষ্পাপ প্রাণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি শিশুকে ভবিষ্যতের অনিষ্ট প্রতিরোধের উপকরণ হিসেবে হত্যা করা তার জীবনকে নিজস্ব মূল্য থেকে বঞ্চিত করে। “ঈশ্বর জানেন” বা “ঈশ্বর নির্দেশ দিয়েছেন”—এই দাবি সেই নৈতিক সমস্যাকে দূর করে না; বরং সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে শিশুহত্যার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। [40] [41]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৪৭। তাকদীর
পরিচ্ছেদঃ ৬. প্রত্যেক শিশু ইসলামী স্বভাবের উপর জন্মানোর মর্মার্থ এবং কাফির ও মুসলিমদের মৃত শিশুর বিধান
৬৬৫৯-(২৯/২৬৬১) আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা’নাব (রহঃ) ….. উবাই ইবনু কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই যে ছেলেটিকে খাযির (আঃ) (আল্লাহর আদেশে) হত্যা করেছিলেন তাকে কফিরের স্বভাব দিয়েই সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদি সে জীবিত থাকত তাহলে সে তার পিতামাতাকে অবাধ্যতা ও কুফুরী করতে বাধ্য করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫২৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৫৭৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ৪২. খিযির (আঃ) এর ফযীলত
৫৯৪৯। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা কায়সী (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলা হলো, নাওফ দাবি করে যে, মূসা (আলাইহিস সালাম) যিনি জ্ঞান অন্বেষণে বের হয়েছিলেন। তিনি বনী ইসরাঈলের মূসা নন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, হে সাঈদ, তূমি কি তাকে এটা বলতে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, নাওফ মিথ্যা বলেছে। কেননা উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মূসা (আলাইহিস সালাম) একদা তার জাতির সামনে আল্লাহ তা’আলার নিয়ামত এবং তাঁর শাস্তি পরীক্ষাসমূহ স্মরণ করিয়ে নসীহত করছিলেন। (কথা প্রসঙ্গে কারো প্রশ্নের জবাবে) তিনি বলে ফেললেন, পৃথিবীতে আমার চেযে উত্তম এবং বেশি জ্ঞানী কোন ব্যক্তি আছে বলে আমরে জানা নেই।
রাবী বলেন। আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম) এর প্রতি ওহী পাঠালেনঃ আমি জানি তার (মূসা) থেকে উত্তম কে বা কার কাছে কল্যাণ রয়েছে। অবশ্যই পৃথিবীতে আরো ব্যক্তি আছে যে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আয় রব্ব! আমাকে তার পথ বাতলিয়ে দিন। তাকে বলা হলো লবণাক্ত একটি মাছ সঙ্গে নিয়ে যাও। যেখানে এ মাছটি হারিয়ে যাবে, সেখানেই সে ব্যক্তি। মূসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর খাদিম রওনা হলেন, অবশেষে তাঁরা একটি বিশাল পাথরের কাছে পৌছলেন। তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথীকে রেখে অগোচরে চলে গেলেন। এরপর মাছটি নড়েছরে পানিতে চলে গেল এবং পানিও খোপের মত হয়ে গেল মাছের পথে মিলিত হল না।
মূসা (আলাইহিস সালাম) এর খাদিম বললেন, আচ্ছা আমি আল্লাহর নাবীর সাথে মিলিত হয়ে তাঁকে এ ঘটনা বলবো। পরে তিনি ভুলে গেলেন। যখন তারা আরো সামনে অগ্রসর হলেন, তখন মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার নাশতা দাও, এ সফরে তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতক্ষন তারা এ স্থানটি অতিক্রম করেন নি, ততক্ষণ তাদের ক্লান্তি আসে নি।
রাবী বলেন, তাঁর সাথীর যখন স্মরণ হল, এবং সে বলল, আপনি কি জানেন যখন আমরা পাথরে আশ্রয় নিয়েছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গেছি। আর শয়তানই আমাকে আপনার কাছে বলার কখা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং বিস্ময়করভাবে মাছটি সমুদ্রে তার পথ করে নিয়েছে। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এ-ই তো ছিল আমাদের উদ্দীষ্ট। অতএব তাঁরা পায়ের চিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন। তখন তার খাদিম মাছের স্থানটি তাকে দেখালো।
মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, এ স্থানের বিবরনই আমাকে দেওয়া হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরপর মূসা (আলাইহিস সালাম) খুজতে লাগলেন, এমন সময় তিনি বস্ত্রাবৃত খিযির (আলাইহিস সালাম) কে গ্রীবার উপর চিৎ হয়ে শায়িত দেখতে পেলেন। অথবা (অন্য বর্ননায়) সোজাসুজি গ্রীবার উপর। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আসসালামু আলাইকুম। খিযির (আলাইহিস সালাম) মুখ খেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, ওয়া আলাইকুম সালাম, তুমি কে? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি মূসা। তিনি বললেন, কোন মূসা? মূসা (আলাইহিস সালাম) উত্তর দিলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, কোন মহান ব্যাপারই আপনাকে নিয়ে এসেছে? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি এসেছি যেন আপনাকে যে সৎজ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে কিছু আপনি আমায় শিক্ষা দেন।
খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার সঙ্গে আপনি ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হবেন না। আর কেমন করে আপনি ধৈর্য ধারণ করবেন এমন বিষয়ে, যার জ্ঞান দেওয়া হয় নি। এমন বিষয় হতে পারে যা করতে আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, আপনি যখন তা দেখবেন, তখন আপনি সবর করতে পারবেন না। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, ইনশা আল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। আর আমি আপনার কোন নির্দেশ অমান্য করব না।
খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি যদি আমার অনুগামী হন তবে আমাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না আমি নিজেই এ বিযয়ে উল্লেখ করি। এরপর উভয়ই চললেন, অবশেষে তারা একটি নৌকায় চড়লেন। (খিযির (আলাইহিস সালাম) তখন( তা ছিদ্র করলেন অর্থাৎ তাতে (একটি তক্তায়) সজোরে চাপ দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন, আপনি কি নৌকাটি ভেঙ্গে ফেলেছেন, আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে? আপনি তো বড় আপত্তিকর কাজ করেছেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হবেন না? মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আমি ভুলে গিয়েছি, আমাকে আপনি দোষী করবেন না। আমার বিষয়টিকে আপনি কঠোরতাপূর্ণ করবেন না।
আবার দু’জন চলতে লাগলেন। এক জায়গায় তাঁরা বালকদের পেলেন যারা খেলা করছে খিযির (আলাইহিস সালাম) অবলীলাক্রমে একটি শিশুর কাছে গিয়ে তাকে হত্যা করলেন। এতে মূসা (আলাইহিস সালাম) খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, আপনি প্রাণের বিনিময় ব্যতীত একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করলেন? বড়ই গর্হিত কাজ আপনি করেছেন। এ স্থলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর রহমত বর্ষণ করুন আমাদের ও মূসা (আলাইহিস সালাম) এর উপর। তিনি যদি তাড়াহুড়া না করতেন তাহলে আরো বিস্ময়কর ঘটনা দেখতে পেতেন। কিন্তু তিনি সহযাত্রী (খিযির (আলাইহিস সালাম)) এর সামনে লজ্জিত হয়ে বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমায় সঙ্গে রাখবেন না। তখন আপনি আমার ব্যাপারে অবশ্যই চূড়ান্ত অভিযোগ করতে পারবেন (এবং দায়মুক্ত হবেন)।
যদি মূসা (আলাইহিস সালাম) ধৈর্য ধরতেন, তাহলে আরো বিস্ময়কর বিষয় দেখতে পেতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন নাবীর উল্লেখ করতেন, প্রথমে নিজকে দিয়ে শুরু করতেন, বলতেন, আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন এবং আমার অমুক ভাইয়ের উপরও। এভাবে নিজেদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করতেন।
তারপর উভয়ে চললেন এবং ইতর লোকের একটি জনপদে গিয়ে উঠলেন। তাঁরা লোকদের বিভিন্ন সমাবেশে ঘুরে তাদের কাছে খাবার চাইলেন। তারা তাঁদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। এরপর তাঁরা একটি পতনোন্মুখ দেয়াল পেলেন। তিনি (খিযির (আলাইহিস সালাম)) সেটি ঠিকঠাক করে দিলেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি চাইলে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। খিযির (আলাইহিস সালাম) বললেন, এবার আমার আর আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ (এর পালা)।
খিযির (আলাইহিস সালাম) মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাপড় ধরে বললেন, আপনি যেসব বিষয়ের উপর অধৈর্য হয়ে পড়েছিলে সে সবের তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।
‘নৌকাটি ছিল কতিপয় গরীব লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করতো’– আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তারপর যখন এটাকে দখলকারী লোক আসলো তখন ছিদ্রযুক্ত দেখে ছেড়ে দিল। এরপর তারা একটা কাঠ দিয়ে নৌকাটি ঠিক করে নিলো। আর বালকটি সৃষ্টিতেই ছিল জন্মগত কাফির। তার মা-বাবা তাকে বড়ই স্নেহ করতো। সে বড় হলে ওদের দুজনকেই অবাধ্যতা ও কুফরির দিকে নিয়ে যেতো। সুতরাং আমি ইচ্ছে করলাম, আল্লাহ যেন তাদেরকে এর বদলে আরো উত্তম, পবিত্র স্বভাবের ও অধিক দয়াপ্রবন ছেলে দান করেন। ‘আর দেয়ালটি ছিল শহরের দুটো ইয়াতীম বালকের’ আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা কাহফঃ ৬০-৮২)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ)

এই কাহিনিতে একটি শিশুর জীবন নেওয়াকে পিতা-মাতার ধর্মীয় অবস্থান রক্ষার উপায় বানানো হয়েছে। শিশুর নিজের ভবিষ্যৎ, সম্ভাবনা ও বেঁচে থাকার অধিকার সেই সিদ্ধান্তে গৌণ। ধর্মীয় উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অসহায় মানুষের শরীর ও জীবন ব্যবহার করা ন্যায়বিচার নয়। যে শিক্ষা বর্তমান অপরাধ ছাড়াই একটি শিশুকে হত্যা করার সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়, তা শিশুর নিরাপত্তার নৈতিক ভিত্তির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে।


শিশুবিবাহ ও শিশুর যৌন ব্যবহার

ইবন ইসহাকের সীরাতের অনুবাদে হামাগুড়ি দেওয়া একটি শিশুকে দেখে মুহাম্মদের ভবিষ্যতে তাকে বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশের বিবরণ রয়েছে। এখানে একটি শিশুকে তার নিজের বিকাশ ও স্বতন্ত্র ব্যক্তি হয়ে ওঠার সম্ভাবনার বদলে ভবিষ্যতের বিবাহের পাত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটির বর্ণনা ইবন ইসহাকের সীরাতের বাংলা অনুবাদে পৃষ্ঠা ৩৫৩-তে দেওয়া আছে। [42]

শিশুকামী মুহাম্মদ

একই বিষয় পাবেন Guillaume এর সীরাত গ্রন্থে [43]

শিশু বিবাহ মুহাম্মদ

আয়িশার ক্ষেত্রে সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী ছয় বছর বয়সে বিবাহ এবং নয় বছর বয়সে দাম্পত্য যৌনসম্পর্কের সূচনা হয়। এটি শিশুর যৌন ব্যবহার; নয় বছরের শিশু একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের স্বাধীন ও পরিণত সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় থাকে না। আয়িশার পুতুল নিয়ে খেলার বর্ণনাও তার শৈশবের জীবনকে দৃশ্যমান করে। নিচের ইংরেজি উদ্ধৃতির বন্ধনীর বক্তব্যটি অনুবাদে যুক্ত ফাতহ আল-বারির ব্যাখ্যা; সেটি আয়িশার নিজের বর্ণনার অংশ নয়। আয়িশার বাল্যবিবাহের আলোচনায় এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত আছে। [44] [45]

Narrated `Aisha:
I used to play with the dolls in the presence of the Prophet, and my girl friends also used to play with me. When Allah’s Messenger (ﷺ) used to enter (my dwelling place) they used to hide themselves, but the Prophet would call them to join and play with me. (The playing with the dolls and similar images is forbidden, but it was allowed for `Aisha at that time, as she was a little girl, not yet reached the age of puberty.) (Fath-ul-Bari page 143, Vol.13)
Reference : Sahih al-Bukhari 6130
In-book reference : Book 78, Hadith 157
USC-MSA web (English) reference : Vol. 8, Book 73, Hadith 151

বিবাহ ও দাম্পত্যসম্পর্কের বয়সের সরাসরি বর্ণনা— [44]

حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهْىَ بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، وَبَنَى بِهَا وَهْىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ. قَالَ هِشَامٌ وَأُنْبِئْتُ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَهُ تِسْعَ سِنِينَ.

বাংলা অনুবাদ: মুয়াল্লা ইবন আসাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন; উহাইব হিশাম ইবন উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী তাকে বিবাহ করেছিলেন যখন তার বয়স ছয় বছর, এবং তার সঙ্গে দাম্পত্যসম্পর্ক শুরু করেন যখন তার বয়স নয় বছর। হিশাম বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে, তিনি নবীর সঙ্গে নয় বছর ছিলেন।


না পিটিয়ে তাহলে উপায় কী?

অনেক বাবামাই এবং শিক্ষকগণই প্রশ্নটি করেন, মারপিট না করে উপায় কী? বাচ্চারা তো ভীষণ দুষ্টু হয়!

হ্যাঁ, অনেক বাচ্চাই খুব দুষ্টু হয়। কিন্তু তার আচরণকে বুঝতে হবে। সে বাবা-মা ও পরিবেশ থেকে অনেক কিছু শেখে, আবার তার বয়স, স্বভাব, অনুভূতি ও বিকাশের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও থাকে। তাকে বারবার বোঝানো প্রয়োজন; একবারে না বুঝলে পুনরায় শেখাতে হবে। অনেক সময় আমরা তার সমস্যাটি না বুঝে কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিই। হয়তো সে বাম হাতে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তাকে ডান হাতে লিখতে বাধ্য করা হচ্ছে। হয়তো ছবি আঁকার মাধ্যমে সে ভালো শেখে, অথচ সেই আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কোনো শিশুর শেখার অসুবিধা, মনোযোগের সমস্যা বা বিকাশগত পার্থক্য থাকলে মারপিটে তার সমাধান হয় না। অক্ষর চিনতে বা পড়তে অসুবিধা হলে সেই শেখার সমস্যার ধরন বুঝে সহায়তা প্রয়োজন। শিশুর প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত সহায়তা দিতে হয়। কেন সে একটি আচরণ করছে, কখন করছে এবং কীভাবে সাহায্য করলে পরিবর্তন হয়—এসব পর্যবেক্ষণ করাই শিক্ষার অংশ।


শিশুর স্বাধীন অধিকার: শাসনকারীর অনুমতির চেয়ে শরীরের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে শিশু পিতা-মাতা, অভিভাবক বা অন্য কারও পরিচর্যায় থাকাকালে তাকে শারীরিক বা মানসিক সহিংসতা, আঘাত, নির্যাতন, অবহেলা ও শোষণ থেকে সুরক্ষার জন্য যথাযথ আইনগত, প্রশাসনিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এর কেন্দ্রীয় নীতি হলো, শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রাপ্তবয়স্কের দয়া বা অনুমতিনির্ভর সুবিধা নয়; এটি শিশুর নিজের অধিকার। [46]

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ, অনুচ্ছেদ ১৯ — অর্থানুগ পূর্ণাঙ্গ বাংলা উপস্থাপন (মূল ইংরেজি থেকে হুবহু উদ্ধৃতি নয়)
রাষ্ট্রসমূহ যথাযথ আইনগত, প্রশাসনিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে শিশু বাবা-মা, আইনগত অভিভাবক বা তার পরিচর্যাকারী অন্য যে কারও তত্ত্বাবধানে থাকার সময় সব ধরনের শারীরিক বা মানসিক সহিংসতা, আঘাত বা নির্যাতন, অবহেলা বা অবহেলাজনিত আচরণ, দুর্ব্যবহার কিংবা শোষণ, যৌন নির্যাতনসহ, থেকে সুরক্ষিত থাকে। এসব সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার মধ্যে শিশু ও তার পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য সামাজিক কর্মসূচি, প্রতিরোধব্যবস্থা এবং নির্যাতনের ঘটনা শনাক্তকরণ, প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো, তদন্ত, চিকিৎসা ও প্রয়োজন অনুসারে বিচারিক হস্তক্ষেপের কার্যকর পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
উৎস: UN Convention on the Rights of the Child, Article 19।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের Corporal Punishment of Children: The Public Health Impact প্রতিবেদনে শিশুদের শারীরিক শাস্তিকে জনস্বাস্থ্যের সমস্যা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শারীরিক শাস্তির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ, বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রতিকূল ফলের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার সারাংশ এতে সংকলিত হয়েছে। কোনো শিশুকে আঘাত করার অনুমতি কোথায় সীমিত রাখা হবে, সেই প্রশ্ন থেকে এখানকার প্রশ্নটি ভিন্ন: আঘাতের বদলে শিশুর বিকাশে কার্যকর, নিরাপদ ও সহায়ক পদ্ধতি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? [47]

অনেক সময় আমরা তাদের মতামতের গুরুত্ব না দিয়ে, তাকে ছোট মানুষ মনে করে তাকে তাচ্ছিল্য করি। এগুলো বাচ্চাদের মনে জেদের সৃষ্টি করে। তাকেও একজন স্বাভাবিক মানুষের মতই মনে করুন, মাঝে মাঝে তার মতামত নিন। আজকে কী রান্না করলে ভাল হয়, আগামী ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়, এইসব বিষয়ে তার মতামত নিতে চেষ্টা করুন। এতে সে নিজেকে একজন দায়িত্বশীল মানুষ মনে করবে। তাকে ঘরের কিছু কাজ করতে দিন, সে যেন তার ঘরটি গুছিয়ে রাখে, এই দায়িত্ব তার এটি তাকে বুঝিয়ে দিন। ময়লা আবর্জনা কোথায় ফেলতে হবে, ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেললে কী সমস্যা হয়, সেগুলো তাকে বুঝিয়ে দিন। পশুপাখীর সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ ভালবাসার সম্পর্ক যেন তৈরি হয়, সেই দিকেও নজর দিন। এমপ্যাথি তারা যত শিখবে, ততই তাদের জন্য ভাল।

অন্য বাচ্চাদের সাথে তাদের তুলনা দেয়া বন্ধ করুন। অমুকের বাচ্চা ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছে, এগুলো বাচ্চাদের বলা খুবই ক্ষতিকর। এতে তার মনে হিংসার সৃষ্টি হয়, এবং তার আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এরকম কাজ করে অনেক বাবামাই ভাবেন, বাচ্চাকে খুব ভাল বুঝ দেয়া গেছে। আসলে এগুলো শিশুদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ কথা। এইসব কাজ কখনই করতে যাবেন না। প্রতিটি বাচ্চাই স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্র্যময়। কাউকে কারো মত হতে হবে না, পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়াই জীবনের মূল লক্ষ্য নয়। সে কী শিখছে, সেটিই সবচাইতে জরুরি।

শাসনের জন্য স্পষ্ট নিয়ম, বয়স অনুযায়ী দায়িত্ব এবং কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ফলাফল ব্যবহার করা যায়। শিশুকে আগে থেকেই বুঝিয়ে দেওয়া যায়, খেলনা ছড়িয়ে রাখলে খেলা শেষ করে তা গুছিয়ে নিতে হবে; কারও জিনিস নষ্ট করলে সম্ভব হলে মেরামত বা গুছিয়ে দেওয়ার কাজে অংশ নিতে হবে। কোনো সুবিধা সাময়িকভাবে সীমিত করার প্রয়োজন হলে কারণটি ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন তা বড় মানুষের আকস্মিক প্রতিশোধ হয়ে না ওঠে। খাবার, ঘুম, নিরাপত্তা, স্নেহ ও প্রয়োজনীয় খেলাধুলাকে শাস্তির উপকরণ করা যাবে না। শিশুকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় না দেওয়া এবং তাকে আঘাত না করা একসঙ্গে সম্ভব। কিছু চাইলে কেন সব চাহিদা পূরণ করা যায় না, তা বোঝানো যায়। অন্য মানুষের জীবন, কষ্ট ও প্রয়োজন সম্পর্কে জানা তার সহানুভূতি বাড়ানোর সুযোগ; মানুষের দুরবস্থাকে তাকে লজ্জা দেওয়ার উপকরণ করা নয়।

বাচ্চাদের আত্মসম্মানবোধ থাকে। ছোট মানুষ ভেবে তার আত্মসম্মানে আঘাত করবেন না। তাকে প্রতিশ্রুতি দিলে সেটি রক্ষা করুন। কখনও কখনও পিতামাতারা তাদের বাচ্চাদের সাথে তথাকথিত “ভালোর জন্য” প্রতারণা করেন। পিতামাতা মনে করেন, এই প্রতারণাগুলো তার সন্তানদের জন্য ভাল! অথচ, এগুলো থেকে বাচ্চারা প্রতারণা শেখে। অন্যান্য লোকের কাছে সন্তানের গোপনীয় বিষয়াদি প্রকাশ করে তাকে কখনো অপমান করবেন না। তাকে নিয়ে উপহাস করা, সে গাধা বা বুদ্ধি কম, এগুলো বলা তার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।


ভয় পেয়ে মানা এবং বুঝে শেখার পার্থক্য

প্রহারে একটি শিশু কাজ বন্ধ করতে পারে। তার অর্থ এই নয় যে সে কাজটির নৈতিক সমস্যা বুঝেছে। শিক্ষক সামনে থাকলে নীরব থাকা, বাবা-মা দেখলে নামাজ পড়া এবং শাস্তি এড়াতে ভুল গোপন করা—এসব আনুগত্যের দৃশ্য তৈরি করতে পারে, কিন্তু সততা ও বিবেকের বিকাশের নিশ্চয়তা নয়। বোঝার সুযোগ না দিয়ে ব্যথা দেওয়া শিশুকে শিখিয়ে দেয়, সত্য বলার চেয়ে ক্ষমতাবানকে সন্তুষ্ট রাখা নিরাপদ। ফলে যে শাসনকে চরিত্র গঠনের উপায় বলা হচ্ছে, তা চরিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভরতা, বিশ্বাস ও প্রশ্ন করার সাহসকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

একজন শিক্ষক জানেন বলে তার হাতে শিশুর শরীরে আঘাতের অধিকার চলে আসে না। একজন পিতা সন্তানকে লালন করেন বলে সন্তানের শরীর তার সম্পত্তি হয়ে যায় না। একজন ধর্মপ্রচারক পরকালের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন বলে শিশুর বর্তমান নিরাপত্তা বাতিল হয় না। শিশু আলাদা একজন মানুষ; তার ব্যথা, ভয়, সম্মান ও বিকাশের নিজস্ব মূল্য আছে। সেই মূল্যকে বড় মানুষের কর্তৃত্বের নিচে নামিয়ে দেওয়া কোনো শিক্ষাপদ্ধতির নৈতিক ভিত্তি হতে পারে না।


উপসংহার

ইসলামের হাদিস ও ফিকহে শিশুদের প্রহারের অনুমোদন রয়েছে। দশ বছরের শিশুকে নামাজের জন্য প্রহার, নিজের সন্তান ও এতিমকে আদব শেখাতে প্রহার, শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে প্রহার এবং অনুমোদিত শাসনের ফলে ক্ষতি হলে দায়মুক্তির বিধান—এসব নির্দিষ্ট দলিলে পাওয়া যায়। কতবার, কোথায় বা কী উদ্দেশ্যে মারা যাবে, সেই সীমার আলোচনা শিশুর ওপর আঘাত করার মূল অধিকারকে বাতিল করে না। ঘরে চাবুকের ভয় তৈরি করা এবং প্রহার সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যানকে ধর্মীয় বিরোধিতা বলা সেই কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে।

আমাদের সমাজে অনেক বাবা-মা মনে করেন, পরিবারে একজন আলেম থাকলে তার সুবাদে তারা জান্নাতে যেতে পারবেন। দারিদ্র্য ও শিক্ষার সুযোগের অভাবে অনেকে সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠান এই আশায় যে সে খাবার, আশ্রয় ও শিক্ষা পাবে। সেই নির্ভরতার সুযোগে শিক্ষক যদি তার ওপর নির্যাতন করেন, আর পরিবার যদি সেই নির্যাতনকে ধর্মীয় কর্তব্য বলে মেনে নেয়, তাহলে শিশুর প্রতিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যায়। “আমরাও পিটানি খেয়ে মানুষ হয়েছি, আমাদের বাচ্চারাও হবে”—এই যুক্তি অতীতের আঘাতকে ভবিষ্যতের অনুমতি বানায়। শিশুদের না পেটানোকে ইহুদি, নাসারা বা নাস্তিকের ষড়যন্ত্র বলে চালানো শিশুর নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কুসংস্কার। আধুনিক শিক্ষা, সহানুভূতি ও শিশুর নিজস্ব মর্যাদার ভিত্তিতে এই সহিংস কাঠামো বদলাতে হবে।

আমাদের প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক আত্মবিশ্বাস, এমপ্যাথি এবং গর্বিত মুক্তমনা মানুষ হিসেবে। নইলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।


তথ্যসূত্রঃ
  1. এলিজাবেথ গারশফ ও অ্যান্ড্রু গ্রোগান-কেইলর, Spanking and Child Outcomes, ২০১৬; Journal of Family Psychology, ৩০(৪), ৪৫৩–৪৬৯ ↩︎
  2. গারশফ ও গ্রোগান-কেইলর, শারীরিক শাস্তির ফলাফল নিয়ে গবেষণাসমূহের সমন্বিত বিশ্লেষণ, ২০১৬ ↩︎
  3. গারশফ ও গ্রোগান-কেইলর, ২০১৬; গবেষকের নিজস্ব পাতায় মূল গবেষণার বিবরণ ↩︎
  4. Human Rights Watch, UAE: Spousal Abuse Never a “Right”, ১৯ অক্টোবর ২০১০ ↩︎
  5. আল-বুহুতি, আল-রাওদ আল-মুরাব্বা‘; ইসলামওয়েবের ফতোয়া ১৪৮৯৪৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ↩︎
  6. ইসলামওয়েব, ফতোয়া ১৪৮৯৪৩: অনুমোদিত প্রহার এবং সীমালঙ্ঘনের পৃথক বিধান ↩︎
  7. আল-মাওয়ার্দি, আল-হাবি আল-কাবির, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৩৪; শিক্ষকের প্রহার ও তার দায় ↩︎
  8. সহিহ বুখারি, ৬৫৬২ ↩︎
  9. কোরআন, সূরা আল-হাজ্জ, ২২:১৯–২২ 1 2
  10. কোরআন, সূরা ইবরাহিম, ১৪:১৬–১৭ ↩︎
  11. কোরআন, সূরা আল-হাজ্জ, ২২:১৯ ↩︎
  12. কোরআন, সূরা আল-হাজ্জ, ২২:২১–২২ ↩︎
  13. কোরআন, সূরা আন-নিসা, ৪:৫৬ 1 2
  14. জামি‘ আত-তিরমিজি, ১৬৬৩ ↩︎
  15. আল-আদাব আল-মুফরাদ, বাংলা সংস্করণে ১৩৯, পৃষ্ঠা ৯৫–৯৬ ↩︎
  16. আল-আদাব আল-মুফরাদ, Sunnah.com-এর নম্বরায়নে ১৪০ ↩︎
  17. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৫ ↩︎
  18. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৪ ↩︎
  19. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭১, ২৭২ ↩︎
  20. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বরঃ ৪০৭ ↩︎
  21. রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন), হাদিস নম্বরঃ ৩০৬ ↩︎
  22. ইবন মুফলিহ, আল-আদাব আল-শারইয়্যাহ ওয়াল-মিনাহ আল-মারইয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫১ ↩︎
  23. আল-কাবিসি, আর-রিসালা আল-মুফাসসালা, প্রকাশিত আরবি পাঠ; শিক্ষা ও প্রহারের বিষয়ক অংশ ↩︎
  24. তাকিউদ্দিন আল-সুবকি, ফাতাওয়া, ১/৩৭৯; ইবন কুদামা, আল-মুগনি, ১/৩৫৭; ইসলামকিউএ, ১২৭২৩৩ ↩︎
  25. সুনান আবু দাউদ, ৪৪০৩, ধর্মীয় দায় স্থগিত থাকার বর্ণনা ↩︎
  26. সুনান আবু দাউদ, ৪৯৫, দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য প্রহার ↩︎
  27. ইবন আল-কাইয়্যিম, ই‘লাম আল-মুওয়াক্কি‘ইন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩; দশ বেত্রাঘাতের হাদিসের ব্যাখ্যা ↩︎
  28. সালিহ আল-ফাওজান, ইগাছাত আল-মুস্তাফিদ, পৃষ্ঠা ২৮২–২৮৪; ইসলামকিউএ, ১২৭২৩৩ ↩︎
  29. আল-মাওসু‘আহ আল-ফিকহিয়্যাহ, ১৩/১৩; ইসলামকিউএ, ফতোয়া ৫১৭৬২১, ১৪ জুলাই ২০২৪ ↩︎
  30. ইসলামওয়েব, ফতোয়া ২৫৮৫০৮, ما يجوز وما لا يجوز في ضرب الأولاد, ১৯ জুন ২০১৪ ↩︎
  31. ইসলামকিউএ, ফতোয়া ২৮৬৩০৯, ১৮ আগস্ট ২০২০ ↩︎
  32. আবদুর রউফ আল-মুনাবি, ফাইদ আল-কাদির, বর্ণনা ৪৪২৮-এর ব্যাখ্যা ↩︎
  33. ইসলামকিউএ, ২৮৬৩০৯; ফতোয়ার শেষাংশে প্রহার সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যানের মূল্যায়ন ↩︎
  34. সহিহ মুসলিম, ৯৭৪খ 1 2
  35. সুনান নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩৯৬৫ ↩︎
  36. সুনান আবু দাউদ, ৪৭১৭ ↩︎
  37. সুনান আবু দাউদ, ৪৭১৭; আরবি মূল পাঠ ও আলবানীর সহিহ মূল্যায়ন ↩︎
  38. কোরআন, সূরা আল-কাহফ, ১৮:৭৪ ↩︎
  39. সহিহ মুসলিম, ২৬৬১; হাদিস একাডেমী, ৬৬৫৯ ↩︎
  40. সহিহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, ৬৬৫৯; আন্তর্জাতিক নম্বর ২৬৬১ ↩︎
  41. সহিহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৫৯৪৯ ↩︎
  42. ইবন ইসহাক, সিরাতে রাসুলাল্লাহ, শহীদ আখন্দের অনুবাদ, প্রথমা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩৫৩ ↩︎
  43. The Life Of Mohammed, Alfred Guillaume, ৩১১ পৃষ্ঠা  ↩︎
  44. সহিহ বুখারি, ৫১৩৪ 1 2
  45. সহিহ বুখারি, ৬১৩০ ↩︎
  46. Convention on the Rights of the Child, Article 19, UNICEF ↩︎
  47. World Health Organization, Corporal Punishment of Children: The Public Health Impact, ২০২৫ ↩︎

About This Article

Genre: Semi-Academic Skeptical Analysis

Epistemic Position: Scientific Skepticism and Secular Humanist Ethics

This article belongs to the skeptical-rationalist analytical tradition of Shongshoy.com.

Its purpose is evidence-based critical examination of religious, philosophical, moral, and historical claims.

আসিফ মহিউদ্দীন

আসিফ মহিউদ্দীন সম্পাদক সংশয় - চিন্তার মুক্তির আন্দোলন [email protected]

One thought on

Leave a comment

Your email will not be published.