আয়িশা কি নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

ভূমিকা

ইদানিং কালে এক ধরণের বিব্রত চেহারার মুসলিমদের দেখতে পাওয়া যায়, যারা নানান কৌশলে ইসলাম ধর্মে শিশু বিবাহের বিষয়টিকে ধামাচাপা, নয়তো তা সম্পর্কে মনগড়া কথা বলার চেষ্টা করেন। তারা প্রায়শই বলবার চেষ্টা করেন যে, ইসলামে শিশু বিবাহ থাকলেও যৌন কর্মের জন্য নারী শিশুটির প্রাপ্তবয়ষ্ক বা সাবালিকা হওয়া জরুরি। এই বিষয়টিকে তুলে ধরার জন্য তারা বলেন, হযরত আয়শা ৯ বছর বয়সেই বয়ঃসন্ধিকালে পৌছে গিয়েছিলেন, কারণ সেই সময়ে নাকি অল্প বয়সেই মেয়েরা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে যেতো। যা একেবারেই ভিত্তিহীন কথা। ইসলামে শিশু মেয়েদের বিবাহের নির্দিষ্ট কোন বয়সসীমা নেই, এবং মেয়েটির সাথে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক অবস্থায় বয়ঃসন্ধিকালে না পৌঁছালেও যৌনকর্মে কোন বাধা নেই। সেই বিষয়টি নিয়েই এই লেখাটিতে আলোচনা করবো।

প্রাপ্তবয়ষ্ক কাকে বলে?

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় যে, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া ভিন্ন বিষয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার একটি ধাপ, যা আসলে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া বোঝায় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো মানেই ধরে নেয়া হয় সাবালিকা বা প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে যাওয়া। যদিও আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা অনুসারে কথাটি সত্য নয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার লক্ষণের সুচনা। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হচ্ছেন একজন মানুষ যার তুলনামূলকভাবে পরিণত বয়স হয়েছে যা যৌন পরিপক্কতা ও পুনরূপাৎদনের ক্ষমতা অর্জনের সাথে জড়িত। একজন নারী বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালেই সে সন্তান জন্ম দেয়ার পরিপক্কতা অর্জন করে না। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাবার পরে তার শরীর সন্তান জন্ম দানের উপযুক্ত হতে সবে শুরু করে। এই প্রক্রিয়া কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ৫ বছরে পূর্ণতা পায়। কিন্তু ইসলামে মেয়েদের সাথে যৌনকাজের জন্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোও জরুরি কিছু নয়। সেই বিষয়েই এই লেখাটি।

আয়শার বয়স কত ছিল?

বিভিন্ন সহীহ হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে মুহাম্মাদের সাথে আয়িশার বিবাহের সময় আয়িশার বয়স ছিল ছয় বছর এবং যখন আয়িশার বয়স নয় বছর। নয় বছর বয়সেই তিনি মুহাম্মাদের সাথে যৌনসঙ্গম করেন। [১]

হিশাম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার দিকে বের হওয়ার তিন বছর আগে খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা। তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উৎযাপন করেন।

Narrated Hisham’s father: Khadija died three years before the Prophet (ﷺ) departed to Medina. He stayed there for two years or so and then he married `Aisha when she was a girl of six years of age, and he consumed that marriage when she was nine years old.

সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৩৮৯৬

উল্লেখ্য, বাসর উদযাপন বলতে যৌনকর্মের মাধ্যমে বিবাহকে কনজ্যুমেট করা বোঝানো হয়েছে।

বর্তমানে কিছু মুসলিম বলার চেষ্টা করে যে নয় বছর বয়সে আয়িশা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পর মুহাম্মাদ তাঁর সাথে যৌনসঙ্গম করে এবং ইসলামে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আগে যৌনসঙ্গম করা নিষিদ্ধ। কিন্তু, কুরআন, হাদীস অথবা প্রাচীন আলেমদের বক্তব্যে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা পাওয়া যায়না। বরং দেখা যায় যে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনদাসীদের সাথে সঙ্গম করা সাহাবীদের কাছে সাধারণ ঘটনা ছিল। [২]

আয়শাই একমাত্র নন 

মুহাম্মদ যে শুধু অপ্রাপ্তবয়ষ্ক আয়শার প্রতিই আকর্ষিত ছিলেন, তা কিন্তু নয়। এমনকি, হামাগুড়ি দেয়া কচি শিশু দেখেও তিনি তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মানে, হামাগুড়ি দেয়া শিশু দেখলেও উনার মনে বিবাহের ইচ্ছা জাগতো। যার রেফারেন্স পাওয়া যায় ইবনে ইসহাকের গ্রন্থে। গ্রন্থের নামঃ সিরাতে রাসুলাল্লাহ (সাঃ), অনুবাদ, শহীদ আখন্দ, প্রথমা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩৫৩। 

একই বিষয় পাবেন Guillaume এর The Life Of Mohammed গ্রন্থে ৩১১ পৃষ্ঠায়। 

আয়শা কী বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

আয়িশা দ্বারা বর্ণিত সহীহ মুসলিমের একটি হাদীসে পাওয়া যায়, আয়িশা নয় বছর বয়সে মুহাম্মাদের ঘরে গমন করেন এবং সেই সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর খেলার পুতুলগুলিও ছিল। [৩] সহীহ বুখারীতেও অনুরূপ হাদীস পাওয়া যায়। [৪]

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।

সহীহ মুসলিম (হাদিস একাডেমি) ৩৩৭২

‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৬১৩০

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4849]
অধ্যায়ঃ ৩৬/ আদব
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৬০. কাপড়ের স্ত্রী পুতুল নিয়ে খেলা করা সম্পর্কে
৪৮৪৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ………. আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কাপড়ের তৈরী স্ত্রী পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এমন সময় আসতেন, যখন অন্যান্য বালিকারা আমার কাছে উপস্থিত থাকতো। আর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তারা চলে যেত এবং যখন তিনি বাইরে যেতেন, তখন তারা আবার আসতো।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ নাসরুল বারীতে লেখা আছে – “সেই সময় হযরত আয়িশা নাবালিকা ছিলেন। তাই তিনি (মুহাম্মাদ) তাঁকে (আয়িশাকে) খেলার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু সাবালিকা নারীদের জন্য এটা মাকরূহ।” [৫]

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে যে নয় বছর বয়সে আয়িশা নাবালিকা ছিলেন, যখন মুহাম্মাদ তাঁর সাথে যৌনসঙ্গম করেন। একই কথা ‘দারুসসালাম’ প্রকাশনীর সহীহ বুখারীর অনুবাদেও বলা হয়েছে –

“The playing with the dolls and similar images is forbidden, but it was allowed for `Aisha at that time, as she was a little girl, not yet reached the age of puberty.” [৬]

এই হাদীসটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন –

“আবু দাউদ [৭] এবং আন নাসাই [৮] আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ তাবূক অথবা খায়বারের যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। ঘরের তাকের উপর পর্দা ঝুলানো ছিল। বায়ু প্রবাহের ফলে তার এক পাশ সরে যায় যাতে তার খেলার পুতুলগুলো দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। তিনি পুতুলগুলো দেখে বললেন, হে আয়িশা! এগুলো কি? উত্তরে তিনি বললেন, এগুলো আমার মেয়ে। আর তিনি এগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরী দুই ডানাবিশিষ্ট একটি ঘোড়াও দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে ওটা কি দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেন, ঘোড়া। তিনি বললেন, তার উপর আবার ওটা কি? তিনি বললেন, দু’টো পাখা। তিনি বললেন, এ আবার কেমন ঘোড়া, যার পাখা আছে! আমি বললাম, আপনি কি শুনেননি যে, সুলাইমানের ঘোড়ার কয়েকটি পাখা ছিল! আয়িশা বলেন, একথা শুনে রাসূলুল্লাহ হেসে দিলেন, যাতে আমি তাঁর সামনের সারির দাঁত দেখতে পেলাম।” আল খাত্তাবি বলেন, “আয়িশাকে পুতুল নিয়ে খেলতে দেওয়ার একমাত্র কারণ তিনি তখনও বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছাননি।” আমি (ইবনু হাজার) বলি, “ঘটনা এটিই ছিল কিনা সেই বিষয়টি প্রশ্নাতীত নয়, তবে এমনটা ঘটে থাকতে পারে, কারণ খাইবারের যুদ্ধের সময় আয়িশার বয়স ছিল চোদ্দ বছর…” [৯]

Islamweb নামক ওয়েবসাইটে এই ব্যাখ্যাটির ইংলিশ অনুবাদও করা হয়েছে। [১০]

সুতরাং, এই আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে এমন কোনো হাদীস নেই যা প্রমাণ করে নয় বছর বয়সে আয়িশা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন। বরং সহীহ হাদীস দ্বারা দেখা যাচ্ছে যে খাইবারের যুদ্ধের সময়ও আয়িশা পুতুল নিয়ে খেলতেন, অথচ ইসলামে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পর পুতুল নিয়ে খেলা নিষিদ্ধ। এর দ্বারা ধারণা করা যায় সম্ভবত চোদ্দ বছর বয়সেও তিনি নাবালিকা ছিলেন। সুতরাং, বর্তমান কিছু মুসলিমদের নয় বছর বয়সে আয়িশার বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর দাবিটি ভিত্তিহীন। এমন কোনো হাদীস থাকলে ইবনু হাজার আসকালানী সেটি উল্লেখ করে ইবনু খাত্তাবির মতকে ভুল প্রমাণিত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে চোদ্দ বছরে অয়িশার বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বলে স্বীকার করেছেন।

এছাড়াও, মনে রাখতে হবে, প্রাপ্তবয়ষ্ক কিংবা অপ্রাপ্তবয়ষ্ক, সকল নারীর জন্য  স্বামীর যৌনচাহিদা পূরণ স্ত্রীর জন্য অবশ্য কর্তব্য। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেয়ার বৈধতা ইসলামে রয়েছে। যা উপরের হাদিস থেকে প্রমাণিত।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [3433] অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ২০. স্বামীর বিছানা পরিহার করা স্ত্রীর জন্য নিষিদ্ধ
৩৪৩৩-(১২২/…) আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামী যখন স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে এবং সে না আসায় তার স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে রাত্রি যাপন করে, সে স্ত্রীর প্রতি ফেরেশতাগণ ভোর হওয়া পর্যন্ত লা’নাত করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪০৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৪০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৯/ বিবাহ
হাদিস নাম্বার: 1853
২/১৮৫৩। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাঃ) সিরিয়া থেকে ফিরে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাজদাহ করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে মু‘আয! এ কী? তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পাই যে, তথাকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সাজদাহ করে। তাই আমি মনে মনে আশা পোষণ করলাম যে, আমি আপনার সামনে তাই করবো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তা করো না। কেননা আমি যদি কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ ছাড়া অপর কাউকে সাজদাহ করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সাজদাহ করতে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! স্ত্রী তার স্বামীর প্রাপ্য অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না। স্ত্রী শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় স্বামী তার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চাইলে স্ত্রীর তা প্রত্যাখ্যান করা অনুচিত
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
It was narrated that: Abdullah bin Abu Awfa said “When Muadh bin Jabal came from Sham, he prostrated to the Prophet who said: ‘What is this, O Muadh?’ He said: ‘I went to Sham and saw them prostrating to their bishops and patricians and I wanted to do that for you.’ The messenger of Allah said: ‘Do not do that. If I were to command anyone to prostrate to anyone other than Allah, I would have commanded women to prostrate to their husbands. By the One in Whose Hand is the soul of Muhammad! No woman can fulfill her duty towards Allah until she fulfills her duty towards her husband. If he asks her (for intimacy) even if she is on her camel saddle, she should not refuse.’ ”

গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১৩ঃ বিবাহ
হাদিস নম্বরঃ [3255]
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত
৩২৫৫-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি কোনো মানবকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য সিজদা করার নির্দেশ দিতাম। (তিরমিযী)[1]
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)। 

কোরআনে শিশু বিবাহের বৈধতা

এছাড়াও, সুরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে বলা আছে,

তোমাদের যে সব স্ত্রী আর ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদেরও; আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আর যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ্‌ তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।

সুরা ৬৫ঃ৪

তাফসীরে ইবনে কাসীর

তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়ষ্কা মেয়ের কথা।

তাফসীরে জালালাইন

তাফসীরে জালালাইনেও বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়ষ্কতার কারণে যে সব মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায় নি, তাদের কথা।

অর্থাৎ, যারা ঋতুর বয়সে পৌঁছে নি, বা অপ্রাপ্তবয়সী মেয়ে, তাদের ইদ্দতকাল তিনমাস।

তাফসীরে মাযহারী

এবারে তাফসীরে মাযহারী (খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা ৫৬২, ৫৬৩)  থেকে দেখে নিইঃ

মা’আরেফুল কোরআন

এবারে আসুন মা’আরেফুল কোরআনের খণ্ড ৮ এর ৪৮১, ৪৮৩ নম্বর পৃষ্ঠাগুলো দেখি।

সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে ইদ্দত লাগবে না

একইসাথে উল্লেখ্য, সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে ইসলামে ইদ্দতের বিধান নেই।

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করবে অতঃপর তাদের সাথে সহবাসের পূর্বেই তালাক দিয়ে দেবে তবে তোমাদের জন্য তাদের কোন ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। সুতরাং তাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান কর এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে বিদায় দাও।

সুরা ৩৩ঃ৪৯

তাহলে স্পষ্টতই বোঝা যায়, যারা ঋতুর বয়সে পৌঁছে নি, তাদের যেহেতু ইদ্দতের কথা বলা আছে, তাই অবশ্যই সহবাসের অনুমতিও দেয়া আছে। নইলে ইদ্দতের নির্দেশই থাকতো না। কারণ সহবাস ছাড়া তো ইদ্দতের প্রয়োজনই নেই।

বোখারীর ব্যাখ্যা

এর আরো প্রমাণ পাওয়া যায় বোখারী শরীফ (বাংলা তরজমা ও ব্যাখ্যা) গ্রন্থ (খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৭) থেকেঃ

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় সম্পূর্ণ পরিষ্কার যে, সুরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াত অনুসারে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ের ইদ্দত তিনমাস। সুরা আহজাবের ৪৯ আয়াত অনুসারে বিবাহ এবং যৌন সম্পর্ক না হলে ইদ্দতের প্রশ্নই আসে না। তাই অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ের সাথে বিবাহ এবং যৌনতা দুই-ই জায়েজ। আবার, আয়শা ৯ বছর বয়সে নবীর সাথে যৌন সম্পর্কের সময় ঋতুর বয়সেও পৌঁছান নাই। কারণ ঋতুর বয়সে পৌঁছে গেলে সেই নারী ইসলামের দৃষ্টিতে বালেগা হিসেবে গণ্য এবং পুতুল খেলা তার জন্য মাকরুহ। আয়শা নিশ্চয়ই এরকম মাকরুহ কাজ করেন নি। এবং নবীর ঘরেও তিনি পুতুল খেলতেন। তাই বুঝতে অসুবিধা হয় না, ঋতুর বয়সে পৌঁছাবার আগেই নবী মুহাম্মদ তার সাথে যৌন সঙ্গম করেছিলেন। প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া তো অনেক দুরের ব্যাপার!

তথ্যসূত্র

~~~~~
[১] সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৩৮৯৬
[২] ফাতহুল বারী ৮/৬৭
[৩] সহীহ মুসলিম (হাদিস একাডেমি) ৩৩৭২
[৪] সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৬১৩০
[৫] নাসরুল বারী শরহে সহীহ বুখারী ১১/২৪১
[৬] সহীহ বুখারী (দারুসসালাম) ৮/৮৮
[৭] সুনানে আবু দাউদ ৪৯৩২
[৮] সুনানুল কুবরা ৮৯০১ #page-12393  
[৯] ফাতহুল বারী ১০/৫২৭
[১০] Meaning of hadeeth about Aa’ishah’s playing with dolls

Facebook Comments

5 thoughts on “আয়িশা কি নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

  • January 11, 2020 at 1:57 AM
    Permalink

    সবচেয়ে বেশি আলোচনা করা হয় যে তিনি ছয় বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন যা একেবারেই ডাহা মিথ্যা কথা, আয়েশার বয়স যখন ছয় তখন তার পিতা-মাতা নবীজীকে তাদের কন্যা সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, নবীজি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এরপর যখন বয়স নয় তখন আবারও তারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন নবীজীকে তখনো তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন, একবার দুবার নয় বহুবার তিনি বিবি আয়েশাকে বিয়ে করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর যখন তিনি রাজি হলেন তখন আয়েশার বয়স ছিল 19 যখন সে তার পিতার সম্পত্তি দেখাশোনা করত এবং আয়েশা নিজে সম্মতি এবং আগ্রহ দেখিয়েছে তাছাড়া আয়েশার পিতা নবীজির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, এই পুরো ব্যাপারটা ইহুদি নাস্তিকরা রস বানিয়ে তাকে কামুক বানানোর চেষ্টার কোন কমতি করে নাই কিন্তু মূলত ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়. Reality: “মিথ্যা রটনায় নাস্তিকদের আগে কে যায়?”

    Reply
  • January 4, 2020 at 7:51 AM
    Permalink

    হিন্দুদের ইতিহাস পড়লে এমন অনেক বিয়ে আর হত্যার খবর পাওয়া যায়।মুহাম্মদ(সাঃ) ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন ৪০ বছর বয়স্ক নারি।৫২ বছর বয়স পর্যন্ত(খাদিজার মৃত্যু পর্যন্ত ) তার সাথে সংসার করেন।খাদিজা মারা যাওয়ার পর ২ বছর নবীজিবিয়ে করেন নি।এর পর তিনি যে বিয়েগুলো করেন সেগুলো রাজনৈতি, সামাজিক কারনে।এ-ই নিয়ে জলঘোলা করার কারন নেই।
    আগামি ৫০ বছরেরমধ্যে মুসলিম রা দুনিয়ায় সংখাগ্রিষ্ঠ হবে।১০০ বছরের মধ্যে কোন অমুসলিম থাকবে না

    Reply
  • December 12, 2019 at 1:41 PM
    Permalink

    তেতো সত্যগুলো তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। এরপরেও কিছু অন্ধ কাঠমোল্লা কল্লা কাটার জন্য উঠেপড়ে লাগবে!😑

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *