Al-'Asr
আল-আসর: 1
মূল আরবি
وَٱلْعَصْرِ
English Translations
By time,
By Al-'Asr (the time).
(I swear) by the Time,
By the time!
By the declining day,
By (the Token of) Time (through the ages),
বাংলা অনুবাদ
কালের শপথ
সময়ের কসম,
মহাকালের শপথ!
সময়ের শপথ ,
কসম যুগের,
১. মহান আল্লাহ আসরের সময়ের শপথ করেছেন।
তাফসীর
বর্ণিত আছে যে, হযরত আমর ইবনে আস (রাঃ) মুসলমান হওয়ার পূর্বে একবার মুসাইলামা কাযযাবের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ঐ সময় মুসাইলামা নবুওয়াতের মিথ্যা দাবী করেছিল। হযরত আমর (রাঃ)-কে সে জিজ্ঞাসা করলোঃ “এখন কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর কোন অহী অবতীর্ণ হয়েছে?” হযরত আমর (রাঃ) জবাবে বলেনঃ “একটি সংক্ষিপ্ত, অলংকার পূর্ণ সূরা নাযিল হয়েছে।মুসাইলামা জিজ্ঞেস করলোঃ “সেটি কি?” হযরত আমর (রাঃ) তখন (আরবি) সূরাটি পাঠ করে শুনালেন। মুসাইলামা কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললোঃ “জেনে রেখো, আমার উপরও এরকম সূরা নাযিল হয়েছে। হযরত আমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “সেটি কি?” সে তখন বললোঃ (আরবি) তারপর জিজ্ঞেস করলোঃ “হে আমর (রাঃ)!
বল, তোমার অভিমত কি?” তখন হযরত আমর (রাঃ) বললেনঃ “তুমি তো নিজেই জান যে, তোমার মিথ্যা ও ভণ্ডামী সম্পর্কে আমি অবহিত রয়েছি।” হলো বিড়ালের মত আকৃতি বিশিষ্ট একটা পশু। তার কান দুটি ও বুক কিছুটা প্রশস্ত ও বড়। দেহের অন্যান্য অংশ খুবই নিকৃষ্ট ও বাজে। ভণ্ড, দুবৃত্ত ও মিথ্যাবাদী মুসাইলামা এ রকম বাজে কথাকে আল্লাহ পাকের পবিত্র কালামের সাথে তুলনা করতে চেয়েছিল। তার এ ধরনের ঘৃণ্য ভণ্ডামী দেখে আরবের মূর্তি পূজকরাও তাকে মিথ্যাবাদী এবং ফালতু বলে সহজেই বুঝে নিয়েছিল। দু’জন সাহাবীর অভ্যাস ছিল এই যে, যখন তাঁদের পরস্পর সাক্ষাৎ হতো তখন একজন এ সূরাটি পড়তেন এবং অপরজন শুনতেন।
তারপর পরস্পর সালাম বিনিময় করে বিদায় নিতেন।হযরত ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেন যে, মানুষ যদি এই একটি মাত্র সুরা চিন্তা ভাবনা ও মনোযোগের সাথে পাঠ করে এবং অনুধাবন করে তবে এই একটি সূরাই যথেষ্ট।১-৩ নং আয়াতের তাফসীর‘আসর এর অর্থ হলো কাল বা সময়, যেই কাল বা সময়ে মানুষ পাপ পূণ্যের কাজ করে। হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) বলেন যে, আসর এর অর্থ হলো আসরের নামায বা আসরের নামাযের সময়। কিন্তু প্রথমোক্ত উক্তিটিই মাশহুর বা প্রসিদ্ধ। এই কসমের পর আল্লাহ তা'আলা বলছেনঃ নিশ্চয়ই মানুষ অত্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে এবং একে অন্যকে সত্যের উপদেশ দেয় অর্থাৎ নিজে সৎকাজ করে ও অন্যকে সৎকাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, আর বিপদে-আপদে নিজে ধৈর্য ধারণ করে ও অন্যকেও ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়, জনগণ কষ্ট দিলে ক্ষমার মাধ্যমে ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে বিরত থাকার নির্দেশ দিতে গিয়ে যে বাধাবিঘ্ন ও বিপদের সম্মুখীন হয় তাতেও ধৈর্য ধারণ করে, তারা এই সুস্পষ্ট ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সৌভাগ্যের অধিকারী।
সময়ের শপথ [১] ,
সূরা সম্পর্কিত তথ্যঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনে হিসন আবু মদীনাহ বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে দু ব্যক্তি ছিল, তারা পরস্পর মিলে একজন অন্যজনকে সূরা আছর পাঠ করে না শুনানো পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হতেন না। [তাবরানী, মু‘জামুল আওসাত: ৫১২০, মু‘জামুল কাবীর: ২০/৭০, বাইহাকী, শু‘আবুল ঈমান: ৯০৫৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ; ১০/২৩৩, ৩০৭]
এ সুরায় একথার ওপর সময়ের শপথ খাওয়া হয়েছে যে, মানুষ বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে এবং এই ক্ষতি থেকে একমাত্র তারাই রক্ষা পেয়েছে যারা চারটি গুণাবলীর অধিকারী: [১] ঈমান, [২] সৎকাজ [৩] পরস্পরকে হকের উপদেশ দেয়া এবং [৪] একে অন্যকে সবর করার উপদেশ দেয়া। ইমাম শাফে‘য়ী রাহেমাহুল্লাহ বলেন, যদি মানুষ এ সূরা সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করত তবে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হতো। সূরা আছর কুরআন পাকের একটি সংক্ষিপ্ত সূরা, কিন্তু এমন অর্থপূর্ণ সূরা যে, ইমাম শাফেয়ী রাহেমাহুল্লাহ-এর ভাষায় মানুষ এ সুরাটিকেই চিন্তা ভাবনা সহকারে পাঠ করলে তাদের দুনিয়া ও আখেরাত সংশোধনের জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়। [বাদায়ি‘উত তাফসীর]
------------------------
[১] আয়াতের প্রথমেই সময় বা যুগের শপথ করা হয়েছে। এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে, বিষয়বস্তুর সাথে সময় বা যুগের কি সম্পর্ক, যার কসম করা হয়েছে? কসম ও কসমের জওয়াবের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। অধিকাংশ তাফসীরবিদ বলেন, মানুষের সব কর্ম, গতিবিধি, উঠাবসা ইত্যাদি সব যুগের মধ্যে সংঘটিত হয়। সূরায় যেসব কর্মের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেগুলোও এই যুগ-কালেরই দিবা-রাত্ৰিতে সংঘটিত হবে। এরই প্রেক্ষিতে যুগের শপথ করা হয়েছে। [সাদী, ইবন কাসীর] কোন কোন আলেম বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলার মহত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, প্রজ্ঞা ও কুদরতের প্রমাণ-নিদর্শন সময় বা যুগেই রয়েছে; তাই এখানে সময়ের শপথ করা হয়েছে। [মুয়াসসার, বাদায়িউত তাফসীর]
[সূরা আল-আসর (১০৩): আয়াত ১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এবং সেখানে তুমি তৃষ্ণার্ত হবে না এবং রোদে কষ্টও পাবে না [ত্বহা: ১১৮-১১৯]। সুতরাং এই চারটি বিষয়—যার দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করা হয়, যার দ্বারা তৃষ্ণা দূর করা হয়, যাতে উত্তাপ থেকে আশ্রয় নেওয়া যায় এবং যা দিয়ে লজ্জাস্থান আবৃত করা হয়—আদম আলাইহিস সালামের জন্য ছিল নিঃশর্ত, এগুলোর জন্য তাঁর ওপর কোনো হিসাব নেই; কারণ তাঁর জন্য এগুলো ছিল অপরিহার্য। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আবু নাসর আল-কুশায়রীও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: বান্দাকে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না তার মধ্যে রয়েছে এমন পোশাক যা তার লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে, এমন খাদ্য যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখে এবং এমন স্থান যা তাকে গরম ও শীত থেকে রক্ষা করে।
আমি বলছি: এটি নবী আলাইহিস সালামের এই বাণী থেকে গ্রহণ করা হয়েছে: 'আদম সন্তানের এই বিষয়গুলো ব্যতীত অন্য কিছুতে (মৌলিক) অধিকার নেই: বসবাসের জন্য একটি ঘর, লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য একটি পোশাক এবং শুকনো রুটি ও পানি।' ইমাম তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন। নযর ইবনে শুমাইল বলেন: 'জিলফ আল-খুবয' অর্থ হলো এমন রুটি যার সাথে কোনো তরকারি নেই। মুহাম্মদ ইবনে কাব বলেন: 'নেয়ামত' হলো যা আল্লাহ আমাদের ওপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে দান করেছেন। পবিত্র কুরআনে এসেছে: 'আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন' [আল ইমরান: ১৬৪]।
হাসান এবং মুফাদ্দাল আরও বলেছেন: এটি হলো শরীয়তের বিধানসমূহের সহজতা এবং কুরআনকে সহজ করে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি' [হজ: ৭৮]। তিনি আরও বলেছেন: 'আর আমি কুরআনকে উপদেশের জন্য সহজ করে দিয়েছি, তবে কি কোনো চিন্তাশীল আছে?' [ক্বামার: ১৭]। আমি বলছি: এই সবগুলিই নেয়ামত, বান্দাকে এগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে: সে কি এর শুকরিয়া আদায় করেছে নাকি অকৃতজ্ঞতা দেখিয়েছে। তবে পূর্ববর্তী মতগুলোই অধিকতর স্পষ্ট। আর আল্লাহই ভালো জানেন। [সূরা আল-আসর-এর তাফসীর]সূরা "আল-আসর"-এর তাফসীর; এটি মক্কী সূরা।
কাতাদা বলেছেন এটি মাদানী এবং ইবনে আব্বাস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। এটি তিন আয়াত বিশিষ্ট। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। [সূরা আল-আসর (১০৩): আয়াত ১]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সময়ের শপথ (১)এতে দুটি মাসআলা বা আলোচনা রয়েছে: প্রথমটি: মহান আল্লাহর বাণী 'ওয়াল আসর' অর্থাৎ মহাকালের শপথ, এটি ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্যরা বলেছেন। সুতরাং 'আসর' হলো 'দাহর' বা মহাকালের মতো। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:অনুরাগের পথ বন্ধুর এবং অনুরাগের সমুদ্র গভীর ... অনুরাগের দিন যেন একটি মাস এবং অনুরাগের মাস যেন মহাকাল।(১). সূরা ত্বহা, আয়াত ১১৮, ১১৯।(২).
সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৬৪।(৩). সূরা হজ, আয়াত ৭৮।(৪). সূরা ক্বামার, আয়াত ১৭।
