Al-Ikhlas

আল-ইখলাস: 2

112:2
টেক্সট কপি
112 আল-ইখলাস Al-Ikhlas · 4 আয়াত الإخلاص
1 2 3 4

মূল আরবি

ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ

English Translations

Sahih International

Allāh, the Eternal Refuge.

Muhsin Khan

"Allah-us-Samad (The Self-Sufficient Master, Whom all creatures need, He neither eats nor drinks).

Taqi Usmani

Allah is Besought of all, needing none.

Abul Ala Maududi

Allah, Who is in need of none and of Whom all are in need;

Pickthall

Allah, the eternally Besought of all!

Yusuf Ali

Allah, the Eternal, Absolute;

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আল্লাহ কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন, সবই তাঁর মুখাপেক্ষী,

রাওয়াই আল-বায়ান

আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ' (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী);

ফাতহুল মাজীদ

তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।

মুখতাসার

২. তিনি এমন নেতা যাঁর পর্যন্ত পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের নেতৃত্ব শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তাঁর প্রতি গোটা সৃষ্টি জীব মুখাপেক্ষী।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

112:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ' [১] (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী);

[১] صمد শব্দের অর্থ সম্পর্কে তাফসীরবিদগণের অনেক উক্তি আছে। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, ইকরামা বলেছেন: সামাদ হচ্ছেন এমন এক সত্তা যাঁর কাছে সবাই তাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য পেশ করে থাকে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও আবু ওয়ায়েল শাকীক ইবনে সালামাহ বলেছেন, তিনি এমন সরদার, নেতা, যাঁর নেতৃত্ব পূর্ণতা লাভ করেছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, যে সরদার তার নেতৃত্ব, মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, ধৈর্য, সংযম, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা তথা শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার সমস্ত গুণাবলিতে সম্পূর্ণ পূর্ণতার অধিকারী তিনি সামাদ।

যায়েদ ইবন আসলাম বলেন, এর অর্থ, নেতা। হাসান ও কাতাদা বলেন, এর অর্থ, যিনি তার সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে গেলেও অবশিষ্ট থাকবেন। হাসান থেকে অন্য বর্ণনায়, তিনি ঐ সত্বা, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, যার কোন পতন নেই। অন্য বর্ণনায় ইকরিমা বলেন, যার থেকে কোন কিছু বের হয়নি এবং যিনি খাবার গ্রহণ করেন না। রবী ইবন আনাস বলেন, যিনি জন্মগ্ৰহণ করেননি এবং জন্ম দেননি। সম্ভবত তিনি পরবর্তী আয়াতকে এ আয়াতের তাফসীর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তবে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, মুজাহিদ, ইবন বুরাইদা, আতা, দাহহাক সহ আরো অনেকে এর অর্থ বলেছেন, যার কোন উদর নেই।

শা‘বী বলেন, এর অর্থ যিনি খাবার খান না এবং পানীয় গ্ৰহণ করেন না। আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদাহ বলেন, এর অর্থ, যিনি এমন আলো যা চকচক করে। এ বর্ণনাগুলো ইমাম ইবন জারীর আত-তাবারী, ইবন আবী হাতেম, বাইহাকী, তাবারানী প্রমূখগণ সনদসহ বর্ণনা করেছেন। [দেখুন, তাবারী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]

বস্তুত: উপরে বর্ণিত অর্থ গুলোর সবই নির্ভুল। এর মানে হচ্ছে, আসল ও প্রকৃত সামাদ হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ্। সৃষ্টি যদি কোন দিক দিয়ে সামাদ হয়ে থাকে তাহলে অন্য দিক দিয়ে তা সামাদ নয় কারণ তা অবিনশ্বর নয় একদিন তার বিনাশ হবে। কোন কোন সৃষ্টি তার মুখাপেক্ষী হলেও সে নিজেও আবার কারো মুখাপেক্ষী। তার নেতৃত্ব আপেক্ষিক, নিরংকুশ নয়। কারো তুলনায় সে শ্রেষ্ঠতম হলেও তার তুলনায় আবার অন্য কেউ আছে শ্রেষ্ঠতম। কিছু সৃষ্টির কিছু প্রয়োজন সে পূর্ণ করতে পারে কিন্তু সবার সমস্ত প্রয়োজন পূর্ণ করার ক্ষমতা কোন সৃষ্টির নেই। বিপরীতপক্ষে আল্লাহ্র সামাদ হবার গুণ অর্থাৎ তার মুখাপেক্ষীহীনতার গুণ সবদিক দিয়েই পরিপূর্ণ।

সারা দুনিয়া তাঁর মুখাপেক্ষী তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিস নিজের অস্তিত্ব, স্থায়ীত্ব এবং প্রয়োজন ও অভাব পূরণের জন্য সচেতন ও অবচেতনভাবে তাঁরই শরণাপন্ন হয়। তিনিই তাদের সবার প্রয়োজন পূর্ণ করেন। তিনি অমর, অজয়, অক্ষয়। তিনি রিযিক দেন, নেন না। সমগ্ৰ বিশ্ব জাহানের ওপর তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই তিনি “আস-সামাদ।”

অর্থাৎ তিনিই একমাত্র সত্তা যিনি অমুখাপেক্ষিতার গুণাবলীর সাথে পুরোপুরি সংযুক্ত। আবার যেহেতু তিনি “আস-সামাদ” তাই তাঁর একাকী ও স্বজনবিহীন হওয়া অপরিহার্য। কারণ এ ধরনের সত্তা একজনই হতে পারেন, যিনি কারো কাছে নিজের অভাব পূরণের জন্য হাত পাতেন না, বরং সবাই নিজেদের অভাব পূরণের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী হয়। দুই বা তার চেয়ে বেশী সত্তা সবার প্রতি অমুখাপেক্ষী ও অনির্ভরশীল এবং সবার প্রয়োজন পূরণকারী হতে পারে না। তাছাড়া তাঁর “আস-সামাদ” হবার কারণে তাঁর একক মাবুদ হবার ব্যাপারটিও অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ মানুষ যার মুখাপেক্ষী হয় তারই ইবাদাত করে। আবার তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, “আস-সামাদ” হবার কারণে এটাও অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ, যে প্রয়োজন পূরণ করার ক্ষমতা ও সামর্থই রাখে না, কোন সচেতন ব্যক্তি তার ইবাদাত করতে পারে না। এভাবে আমরা উপরোক্ত অর্থগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে পারি।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-ইখলাস (১১২): আয়াত ১ থেকে ৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-ইখলাসের তাফসীর]ইবনু মাসউদ, হাসান, আতা, ইকরিমা ও জাবিরের মতে সূরা "আল-ইখলাস" মক্কী। আর ইবনু আব্বাস, কাতাদাহ, যাহহাক ও সুদ্দীর দুই মতের একটি বর্ণনা অনুযায়ী এটি মাদানী। এটি চারটি আয়াত বিশিষ্ট। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। [সূরা আল-ইখলাস (১১২): আয়াত ১ থেকে ৪]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। (১) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। (২) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। (৩) এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (৪)মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক) অর্থাৎ তিনি এক ও অনন্য, যাঁর কোনো সদৃশ নেই, কোনো নজির নেই, কোনো সঙ্গিনী নেই, কোনো সন্তান নেই এবং কোনো অংশীদার নেই।

আর 'আহাদ' (একক) শব্দের মূল হলো 'ওয়াহাদ'; এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটিকে 'হামজা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কবি আন-নাবিগাহ-এর উক্তি:যুল-জালীল প্রান্তরে এমন একাকী সঙ্গকামনাশীল ব্যক্তির ওপর। 'ওয়াহিদ' এবং 'আহাদ'-এর মধ্যে পার্থক্য সূরা "আল-বাকারাহ"-তে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং "আল-আসনা ফী শারহি আসমাইল্লাহিল হুসনা" নামক কিতাবেও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর 'আহাদ' শব্দটি মারফু (পেশযুক্ত) হয়েছে এই অর্থে যে: 'তিনি একক'। আবার বলা হয়েছে, এর অর্থ হলো: আপনি বলুন, প্রকৃত অবস্থা ও বিষয়টি এই যে: 'আল্লাহ একক'।

আরও বলা হয়েছে: 'আহাদ' শব্দটি 'আল্লাহ' শব্দ থেকে 'বদল' (স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে এসেছে। একদল ক্বারী (আহাদুল্লাহু) তানভীন ছাড়াই পাঠ করেছেন উচ্চারণে সাবলীলতা আনার উদ্দেশ্যে এবং দুই সাকিনের একত্র হওয়া পরিহার করার জন্য। কবির উক্তিটি এ জাতীয়ই:এবং আল্লাহকে স্মরণকারী নয়, তবে সামান্যই।(১). কবিতার প্রথম চরণটি তাঁর মুআল্লাকায় এভাবে আছে:মনে হয় যেন আমার বাহন, যখন দিন আমাদের নিয়ে ঢলে পড়ছিল এবং 'যুল-জালীল' এমন একটি স্থান যেখানে 'জালীল' জন্মে, যা মূলত 'থুমাম' ঘাস। থুমাম হলো একটি দুর্বল ও খাটো উদ্ভিদ যা লম্বা হয় না।(২). এটি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালির একটি কবিতার শেষাংশ।

এর প্রথম চরণটি হলো:আমি তাকে পেলাম এমন অবস্থায় যে সে সন্তুষ্টির প্রত্যাশী নয়।