Al-Masad

আল-মাসাদ: 4

111:4
টেক্সট কপি
111 আল-মাসাদ Al-Masad · 5 আয়াত المسد
1 2 3 4 5

মূল আরবি

وَٱمْرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلْحَطَبِ

English Translations

Sahih International

And his wife [as well] - the carrier of firewood.

Muhsin Khan

And his wife too, who carries wood (thorns of Sadan which she used to put on the way of the Prophet (Peace be upon him), or use to slander him).

Taqi Usmani

and his wife as well,-the wicked carrier of firewood.

Abul Ala Maududi

along with his wife, that carrier of slanderous tales;

Pickthall

And his wife, the wood-carrier,

Yusuf Ali

His wife shall carry the (crackling) wood - As fuel!-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

আর তার স্ত্রীও- যে কাঠবহনকারিণী (যে কাঁটার সাহায্যে নবী-কে কষ্ট দিত এবং একজনের কথা অন্যজনকে ব’লে পারস্পরিক বিবাদের আগুন জ্বালাত)।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তার স্ত্রী লাকড়ি বহনকারী,

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর তার স্ত্রীও- যে ইন্ধন বহন করে,

ফাতহুল মাজীদ

সাথে থাকবে কাঠের বোঝা বহনকারিণী তার স্ত্রীও।

মুখতাসার

৪. অচিরেই তার স্ত্রী ইন্ধন বহনকারিণী উম্মে জামিলাও আগুনে প্রবেশ করবে। যে পথে কাঁটা বিছেয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে কষ্ট দিতো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

111:1

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর তার স্ত্রীও [১]- যে ইন্ধন বহন করে [২] ,

[১] আবু লাহাবের স্ত্রীর নাম ছিল “আরওয়া” । সে ছিল আবু সুফিয়ানের বোন ও হরব ইবনে উমাইয়্যার কন্যা। তাকে “উম্মে জামীল” বলা হত। আবু লাহাবের ন্যায় তার স্ত্রীও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি বিদ্বেষী ছিল। সে এ ব্যাপারে তার স্বামীকে সাহায্য করত। আয়াতে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এই হতভাগিনীও তার স্বামীর সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এক বর্ণনায় এসেছে, এ মহিলা যখন শুনতে পেল যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তার ও তার স্বামীর ব্যাপারে আয়াত নাযিল করে অপমানিত করেছেন সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসল।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বসা ছিলেন। তার সাথে ছিলেন আবু বকর। তখন আবু বকর বললেন, আপনি যদি একটু সরে যেতেন তা হলে ভাল হতো যাতে করে এ মহিলা আপনাকে কোন কষ্ট না দিতে পারে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ও তার মাঝে বাধার সৃষ্টি করা হবে। ইত্যবসরে মহিলা এসে আবু বকরকে জিজ্ঞেস করল, আবু বকর! তোমার সাথী আমাদের বদনামী করে কবিতা বলেছে? তিনি জবাবে বললেন, এ ঘরের (কাবার) রবের শপথ, তিনি কোন কবিতা বলেননি এবং তার মুখ দিয়ে তা বেরও হয়নি। তখন মহিলা বলল, তুমি সত্য বলেছ। তারপর মহিলা চলে গেলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, সে কি আপনাকে দেখেনি?

রাসূল বললেন, মহিলা ফিরে যাওয়া পর্যন্ত একজন ফেরেশতা আমাকে তার থেকে আড়াল করে রাখছিল। [মুসনাদে আবি ইয়া’লা: ২৫, ২৩:৫৮, মুসনাদে বাযযার: ২৯৪] [ইবন কাসীর]

[২] এখানে আবু জাহলের স্ত্রী উম্মে জামীলের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে حَمَّا لَةَ الْحَطَبِ বলা হয়েছে। এর শাব্দিক অর্থ শুষ্ককাঠ বহনকারিণী। আরবের বাকপদ্ধতিতে পশ্চাতে নিন্দাকারীকে ‘খড়ি-বাহক’ বলা হত। শুষ্ককাঠ একত্রিত করে যেমন কেউ অগ্নি সংযোগের ব্যবস্থা করে, পরোক্ষে নিন্দাকার্যটিও তেমনি। এর মাধ্যমে সে ব্যক্তিবর্গ ও পরিবারের মধ্যে আগুন জ্বলিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামকে কষ্ট দেয়ার জন্যে আবু লাহাব পত্নী পরোক্ষে নিন্দাকার্যের সাথেও জড়িত ছিল। অধিকাংশ তাফসীরবিদ এখানে এ তাফসীরই করেছেন।

অপরপক্ষে কোন কোন তাফসীরবিদগণ একে আক্ষরিক অর্থেই রেখেছেন এবং কারণ এই বর্ণনা করেছেন যে, এই নারী বন থেকে কন্টকযুক্ত লাকড়ি চয়ন করে আনত এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়ার জন্যে তার পথে বিছিয়ে রাখত। তার এই নীচ ও হীন কাণ্ডকে কুরআন حَمَّا لَةَ الْحَطَبِ বলে ব্যক্ত করেছে। ইমাম তাবারী এ উক্তিটি গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেন যে, তার এই অবস্থাটি হবে জাহান্নামে। সে জাহান্নামে লাকড়ি এনে জাহান্নামে তার স্বামীর উপর নিক্ষেপ করবে, যাতে অগ্নি আরও প্ৰজ্বলিত হয়ে উঠে, যেমন দুনিয়াতেও সে স্বামীকে সাহায্য করে তার কুফর ও জুলুম বাড়িয়ে দিত।

কোন কোন মুফাসসির বলেন, সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দরিদ্র বলে উপহাস করত। পরিণামে আল্লাহ্ এ মহিলাকে লাকড়ি আহরণকারী বলে অপমানজনক উপাধী দিয়ে উপহাস করেছেন। আবার সাঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, আয়াতের অর্থ “গোনাহের বোঝা বহনকারিনী” । [কুরতুবী, ইবন কাসীর]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-মাসাদ (১১১): আয়াত ৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আল-মাসাদ (১১১): আয়াত ৪]এবং তার স্ত্রী, যে ইন্ধন (কাঠ) বহনকারিণী (৪)আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং তার স্ত্রী" হলেন উম্মে জামিল। ইবনুল আরাবী বলেন: তিনি একচক্ষুহীন উম্মে কাবিহ (কুৎসিতের মাতা), তিনি প্রকৃতপক্ষে একচক্ষুহীন ছিলেন। "ইন্ধন বহনকারিণী" সম্পর্কে ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, কাতাদাহ এবং সুদ্দী বলেন: তিনি মানুষের মধ্যে চোগলখুরি (পরনিন্দা) করে বেড়াতেন। আরবরা বলে থাকে: 'অমুক ব্যক্তি অমুকের বিরুদ্ধে ইন্ধন জোগাচ্ছে', যখন সে কারও বিরুদ্ধে উস্কানি বা প্ররোচনা দেয়। জনৈক কবি বলেছেন:নিশ্চয়ই আদরামের সন্তানরা চোগলখুরির ইন্ধন বহনকারী … তারা সন্তুষ্টি ও ক্রোধ—উভয় অবস্থাতেই চোগলখোর।

তাদের ওপর বর্ষিত হোক অবিরাম লানত ও ধ্বংস। অন্য একজন কবি বলেছেন:সে এমন এক শুভ্রকান্তি নারী যে কখনো বর্ম পৃষ্ঠে ধারণ করেনি … এবং লোকালয়ে কখনো চোগলখুরির কাঁচা ইন্ধন নিয়ে বিচরণ করেনি।অর্থাৎ: তিনি চোগলখুরি নিয়ে চলাফেরা করতেন না। এখানে ইন্ধনকে 'কাঁচা' বলা হয়েছে ধোঁয়া বোঝাতে, যা মন্দের আধিক্য ও অনিষ্টের তীব্রতা নির্দেশ করে। আকসাম বিন সায়ফী তার সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: তোমরা চোগলখুরি থেকে বেঁচে থেকো! কারণ এটি একটি দহনকারী আগুন। নিশ্চয়ই একজন চোগলখোর এক ঘণ্টায় যা ঘটিয়ে ফেলে, একজন জাদুকর এক মাসেও তা করতে পারে না। জনৈক কবি এ কথাটি গ্রহণ করে বলেছেন:নিশ্চয়ই চোগলখুরি হলো আগুন, আক্ষেপ তোমার জন্য—তা দহনকারী … তাই তা থেকে পলায়ন করো এবং যে চোগলখুরি করে তাকে বর্জন করো।এ কারণেই বলা হয়ে থাকে: বিদ্বেষের আগুন কখনও নির্বাপিত হয় না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত আছে: [চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না]। তিনি আরও বলেছেন: [দ্বিমুখী ব্যক্তি আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হবে না]। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: [নিকৃষ্টতম মানুষের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই দ্বিমুখী ব্যক্তি, যে এক দলের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে এবং অন্য দলের কাছে অন্য চেহারা নিয়ে যায়]। কাব আল-আহবার বর্ণনা করেন: বনী ইসরাঈলে একদা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। মূসা আলাইহিস সালাম তাদের নিয়ে তিনবার বৃষ্টির প্রার্থনা করতে বের হলেন, কিন্তু বৃষ্টি বর্ষিত হলো না। তখন মূসা বললেন: [হে আমার ইলাহ, তোমার বান্দারা...] আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী পাঠালেন: [নিশ্চয়ই আমি তোমার এবং তোমার সঙ্গীদের প্রার্থনা কবুল করব না, কারণ তোমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি রয়েছে যে চোগলখোর এবং সে চোগলখুরিতে অটল রয়েছে]।

মূসা বললেন: [হে আমার পালনকর্তা, সে কে? যাতে আমরা তাকে আমাদের মাঝ থেকে বের করে দিতে পারি]। আল্লাহ বললেন: [হে মূসা, আমি তোমাদের চোগলখুরি করতে নিষেধ করি, আর আমি নিজেই কি চোগলখোর হবো?] তখন তারা সকলেই একসাথে তওবা করল এবং এরপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। চোগলখুরি করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এমনকি ফুযাইল বিন ইয়াজ বলেছেন: তিনটি বিষয় নেক আমলকে ধূলিসাৎ করে দেয়, রোজা পালনকারীর সওয়াব নষ্ট করে এবং ওজুর হাকিকত বিনষ্ট করে: গীবত (পরনিন্দা), চোগলখুরি এবং মিথ্যা।(১). 'হাম্মালাতু' (পেশ যোগে) হলো নাফে-এর কিরাত এবং লেখক এই কিরাতেই পাঠ করেছেন।(২).

'তাওরিশ' অর্থ হলো উস্কানি দেওয়া বা প্ররোচিত করা। বলা হয়: আমি লোকদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করেছি।(৩). 'হারাব' (উভয় অক্ষরে হরকত বিশিষ্ট): মানুষের ধন-সম্পদ লুণ্ঠন করে তাকে নিঃস্ব অবস্থায় ফেলে রাখা। [ ..... ]