Al-Masad
আল-মাসাদ: 5
মূল আরবি
فِى جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍۭ
English Translations
Around her neck is a rope of [twisted] fiber.
In her neck is a twisted rope of Masad (palm fibre).
Around her neck, there is (a collar of iron, like) a well-twisted rope.
upon her neck shall be a rope of palm-fibre.
Will have upon her neck a halter of palm-fibre.
A twisted rope of palm-leaf fibre round her (own) neck!
বাংলা অনুবাদ
আর (দুনিয়াতে তার বহনকৃত কাঠ-খড়ির পরিবর্তে জাহান্নামে) তার গলায় শক্ত পাকানো রশি বাঁধা থাকবে।
তার গলায় পাকানো দড়ি।
তার গলদেশে খেজুর বাকলের রজ্জু রয়েছে।
তার গলায় পাকানো রশি।
তার গলায় পাকানো রশি রয়েছে।
৫. তার গলদেশে থাকবে শক্তভাবে পাকানো খেজুর গাছের আঁশের রশি। যা লাগিয়ে তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
তাফসীর
111:1
তার গলায় [১] পাকানো রশি [২]।
[১] তার গলার জন্য ‘জীদ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আরবী ভাষায় গলাকে জীদ বলা হয়। পরবর্তীতে যে গলায় অলংকার পরানো হয়েছে তার জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে। [আত-তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর] সাঈদ ইবনুল মুসাইয়েব্ বলেন, সে একটি অতি মূল্যবান হার গলায় পরতো এবং বলতো, লাত ও উয্যার কসম, এ হার বিক্রি করে আমি এর মূল্য বাবদ পাওয়া সমস্ত অর্থ মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কাজ করার জন্য ব্যয় করবো। [ইবন কাসীর] এ কারনে জীদ শব্দটি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যাঙ্গার্থে। অর্থাৎ এ অলংকার পরিহিত সুসজ্জিত গলায়, যেখানে পরিহিত হার নিয়ে সে গর্ব করে বেড়ায়, কিয়ামতের দিন সেখানে রশি বাঁধা হবে। [তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]
[২] বলা হয়েছে, তার গলায় বাধা রশিটি ‘মাসাদ’ ধরনের। ‘মাসাদ” এর অর্থ নির্ণয়ে কয়েকটি মত রয়েছে। তার একটি হচ্ছে, খুব মজবুত করে পাকানো রশিকে ‘মাসাদ’ বলা হয়। [বাগাওয়ী] দ্বিতীয় বক্তব্য হচ্ছে, খেজুর গাছের (ডালের) ছাল/আঁশ থেকে তৈরি শক্ত পাকানো খসখসে রশি ‘মাসাদ’ নামে পরিচিত। [মুয়াস্সার] এর আরেকটি অর্থ, খেজুরের ডালের গোড়ার দিকের মোটা অংশ থেঁতলে যে সরু আঁশ পাওয়া যায় তা দিয়ে পাকানো রশি অথবা উটের চামড়া বা পশম দিয়ে তৈরি রশি। [কুরতুবী] মুজাহিদ রাহেমাহুল্লাহ বলেন, এর অর্থ লোহার তারের পাকানো রশি বা লোহার বেড়ি। কোন কোন মুফাসসির বলেন, তার গলায় আগুনের রশি পরানো হবে। তা তাকে তুলে আগুনের প্রান্তে উঠাবে আবার তাকে এর গর্তদেশে নিক্ষেপ করবে। এভাবে তার শাস্তি চলতে থাকবে। [ইবন কাসীর]
[সূরা আল-মাসাদ (১১১): আয়াত ৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-মাসাদ (১১১): আয়াত ৫]তার গ্রীবায় পাকানো রশি। (৫)মহান আল্লাহর বাণী: (তার গ্রীবায়) অর্থাৎ তার ঘাড়ে। ইমরুল কায়েস বলেছেন:আর একটি গ্রীবা যা শ্বেত হরিণীর গ্রীবাসদৃশ, যা দৃষ্টিকটু নয়... যখন সে তা উন্নত করে, আর তা অলঙ্কারহীনও নয়। «১»(পাকানো রশি) অর্থাৎ খেঁজুরের আঁশের তৈরি রশি। নাবিকাহ বলেছেন:মাংসল ও সুসংহত দেহের একটি শক্তিশালী উষ্ট্রী, যার দাঁতের কিড়মিড় শব্দ... ঠিক সেই কাঠের কপিকলের শব্দের মতো যা আঁশের রশি দিয়ে ঘোরানো হয়। «২»অন্য একজন কবি বলেছেন:হে খেজুর পাতার রশি! আমার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো... তুমি যদি কোমল ও নমনীয় হও, তবে আমি তোমার ইচ্ছামতোই এক পাকা চুল বিশিষ্ট দৃঢ়চেতা বৃদ্ধ।
«৩» আর এটি (মাসাদ) উটের চামড়া বা পশম দিয়েও তৈরি হতে পারে। কবি বলেছেন:এবং এমন রশি যা শক্তিশালী উষ্ট্রীসমূহ থেকে দৃঢ়ভাবে পাকানো হয়েছে... যারা জরাজীর্ণ বৃদ্ধা নয় এবং অপরিপক্ক নবীনও নয়। «৪»'জীদ' এর বহুবচন হলো 'আজইয়াদ' এবং 'মাসাদ' এর বহুবচন হলো 'আমসাদ'। আবু উবায়দাহ বলেন: এটি পশমের তৈরি রশি। হাসান বসরী বলেন: এগুলো ইয়েমেনে জন্মায় এমন এক প্রকার গাছের তৈরি রশি যাকে 'মাসাদ' বলা হয় এবং তা পাকানো হতো। দাহহাক এবং অন্যান্যরা বলেন: এটি দুনিয়ার অবস্থা বুঝিয়েছে; সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দারিদ্র্যের কারণে বিদ্রূপ করত অথচ সে নিজেই খেঁজুরের আঁশের রশি গলায় বেঁধে কাঠ কুড়াতো।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা তা দ্বারাই তার শ্বাসরোধ করে তাকে ধ্বংস করে দেন। আর পরকালে এটি আগুনের রশি হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন—(১). আল-জীদ: ঘাড় বা গ্রীবা। আর-রীম: ধবধবে সাদা হরিণ। (নাসসাতহু): সে তা উন্নত করেছে। আল-মুয়াত্তাল: যার ওপর কোনো অলঙ্কার নেই। আর কবির উক্তি (বি-ফাহিশ) অর্থাৎ যা দেখতে কুৎসিত নয়।(২). তিবরিযী বলেছেন: (মাকযুফাহ): অর্থাৎ মাংসে পরিপূর্ণ। আদ-দাখীস: প্রাচুর্যের কারণে যার গোশত একটি অপরটির ভেতর প্রবিষ্ট হয়েছে। আন-নাহজ: গোশত, এটি 'নাহজাহ' এর বহুবচন। আল-বাযিল: বয়োবৃদ্ধ বা শক্তিশালী উট। আস-সারীফ: প্রাতঃকাল। আল-কাউ: কাঠের তৈরি কপিকলের কাঠামো, যা যদি লোহার হয় তবে তাকে 'খাত্তাফ' বলা হয়।
একটি বর্ণনায় আছে: 'লাহু সারীফুন সারীফুল কাউ' (পেশ সহযোগে) বদল হিসেবে, তবে জবর (নসব) হওয়াই অধিকতর উত্তম।(৩). আল-আশমাত: যার মাথার চুলে সাদার সাথে কালোর মিশ্রণ রয়েছে। আল-মুকসাইন: যার বয়স পূর্ণতা পেয়েছে ফলে তার মধ্যে বার্ধক্যের দুর্বলতা নেই আবার যৌবনের পূর্ণ শক্তিও নেই। কারো মতে: যে যৌবনের শেষ এবং বার্ধক্যের শুরুতে রয়েছে। এই রাজায কবিতাটি 'লিসানুল আরব' (অধ্যায়: মাসাদ) গ্রন্থে তিনটি পংক্তিতে বর্ণিত হয়েছে, তবে এর কবির নাম উল্লেখ করা হয়নি।(৪). আম্মারাল হাবলা: রশিকে খুব শক্তভাবে পাকানো। আইয়ানিক: আইয়ুনাক-এর বহুবচন, আর আইয়ুনাক হলো 'নাকাহ' (উষ্ট্রী)-এর বহুবচন।
আল-আনয়াব: 'নাব'-এর বহুবচন, যা অতি বৃদ্ধা উষ্ট্রী। আল-হাকাইক: 'হিক্কাহ'-এর বহুবচন, যা চতুর্থ বছরে পদার্পণকারী উষ্ট্রী এবং যার চামড়া খুব একটা মজবুত হয় না। রাজাযটি 'লিসান' গ্রন্থে তিনটি পংক্তিতে রয়েছে। আসমায়ী এটি আম্মারা বিন তারিকের প্রতি আরোপ করেছেন। আবু উবায়দাহ বলেন: এটি উকবা আল-হুজাইমীর। আর কবির উক্তি (লাইসা): এটি 'লিসান' (অধ্যায়: মাসাদ) গ্রন্থে এভাবেই আছে, তবে 'হাক্ক' অধ্যায়ে একে (লাসনা) নুন সহযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আর সেটিই সঠিক।
