Al-Mumtahanah

আল-মুমতাহিনা: 8

60:8
টেক্সট কপি
60 আল-মুমতাহিনা Al-Mumtahanah · 13 আয়াত الممتحنة
1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13

মূল আরবি

لَّا يَنْهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمْ يُقَـٰتِلُوكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَـٰرِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوٓا۟ إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُقْسِطِينَ

English Translations

Sahih International

Allāh does not forbid you from those who do not fight you because of religion and do not expel you from your homes - from being righteous toward them and acting justly toward them. Indeed, Allāh loves those who act justly.

Muhsin Khan

Allah does not forbid you to deal justly and kindly with those who fought not against you on account of religion and did not drive you out of your homes. Verily, Allah loves those who deal with equity.

Taqi Usmani

Allah does not forbid you as regards those who did not fight you on account of faith, and did not expel you from your homes, that you do good to them, and deal justly with them. Surely Allah loves those who maintain justice.

Abul Ala Maududi

Allah does not forbid that you be kind and just to those who did not fight against you on account of religion, nor drove you out of your homes. Surely Allah loves those who are equitable.

Pickthall

Allah forbiddeth you not those who warred not against you on account of religion and drove you not out from your homes, that ye should show them kindness and deal justly with them. Lo! Allah loveth the just dealers.

Yusuf Ali

Allah forbids you not, with regard to those who fight you not for (your) Faith nor drive you out of your homes, from dealing kindly and justly with them: for Allah loveth those who are just.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করছেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ হতে বহিস্কৃত করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহতো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

ফাতহুল মাজীদ

দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

মুখতাসার

৮. যারা ইসালামে দীক্ষিত হওয়ার দরুন তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে নি আর তোমাদেরকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দেয় নি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার দেখাতে আল্লাহ বাধা দেন না। তেমনিভাবে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে তাদের সাথে ইনসাফ করতেও কোন বাধা নেই। যেমন আসমা বিনতে আবী বকরের কাফির মা তাঁর নিকট আসলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এ ব্যাপারে অনুমতি চান। ফলে তিনি তাঁকে তার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দেন। অবশ্যই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন। যারা নিজেদের সাথে এবং আপনজন ও অধীনস্থদের সাথে ইনসাফ করে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

60:7

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন [১]।

[১] যেসব কাফের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কারেও অংশগ্রহণ করেনি, আলোচ্য আয়াতে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার ও ইনসাফ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ন্যায় ও সুবিচার তো প্রত্যেক কাফেরের সাথেও জরুরী। এতে যিস্মি কাফের, চুক্তিতে আবদ্ধ কাফের এবং শক্র কাফের সবাই সমান। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, আসমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার জননী আবু বকর সিদীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর স্ত্রী ‘কুতাইলা” হুদায়বিয়া সন্ধির পর কাফের অবস্থায় মক্কা থেকে মদীনায় পৌঁছেন। তিনি কন্যা আসমার জন্যে কিছু উপঢৌকনও সাথে নিয়ে যান। কিন্তু আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা সেই উপঢৌকন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার জননী আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, কিন্তু তিনি কাফের।

আমি তার সাথে কিরূপ ব্যবহার করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ জননীর সাথে সদ্ব্যবহার কর। [বুখারী: ২৬২০, ৩১৮৩, মুসলিম: ১০:০৩, আবু দাউদ: ১৬৬৮, মুসনাদে আহমাদ: ৬/৩৪৭, ইবনে হিব্বান: ৪৫২]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[سورة الممتحنة (60): آية 8] পূর্ণ পৃষ্ঠা

...প্রথমটির কিছু সময় পর; আর কুরআনে এ ধরণের পুনরাবৃত্তি অনেক বেশি পাওয়া যায়। (আর যে বিমুখ হয়) অর্থাৎ ইসলাম এবং এই উপদেশসমূহ গ্রহণ করা থেকে (তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত) অর্থাৎ তিনি তাঁর মুখাপেক্ষী হয়ে তাদের ইবাদত করতে বলেননি। (প্রশংসিত) তাঁর সত্তায় এবং তাঁর গুণাবলিতে। যখন এই আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হলো, তখন মুসলিমগণ মুশরিকদের মধ্য থেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে শত্রুতা পোষণ শুরু করলেন। অতঃপর আল্লাহ মুসলিমদের অন্তরের সেই তীব্র কষ্টের কথা অবগত হলেন এবং এই আয়াতটি নাযিল করলেন: (আশা করা যায় আল্লাহ তোমাদের এবং যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে তাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন) আর এটি কাফিরের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব।

তাদের মধ্যে একদল লোক মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং মুসলিমগণ তাদের সাথে মেলামেশা শুরু করেন; যেমন আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, হারিস ইবনে হিশাম, সুহাইল ইবনে আমর এবং হাকিম ইবনে হিজাম। কেউ কেউ বলেন: এখানে ভালোবাসা বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা-কে বিবাহ করা উদ্দেশ্য। এর ফলে আবু সুফিয়ানের কঠোর স্বভাব নরম হয়ে যায় এবং শত্রুতার তীব্রতা হ্রাস পায়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: মক্কা বিজয়ের পর এই সৌহার্দ্য সৃষ্টি হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা-কে বিবাহের মাধ্যমে।

তিনি প্রথমে আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ-এর স্ত্রী ছিলেন এবং তিনি ও তাঁর স্বামী হাবশায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বামী খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁকে তাঁর ধর্ম অনুসরণের আহ্বান জানান, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন এবং নিজ দ্বীনের ওপর অবিচল থাকেন। অতঃপর তাঁর স্বামী খ্রিস্টান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশীর নিকট তাঁর বিবাহের পয়গাম পাঠান। নাজ্জাশী তাঁর সঙ্গীদের জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের মধ্যে তাঁর বিয়ের অভিভাবক হওয়ার জন্য কে বেশি উপযুক্ত? তারা বললেন: খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আস। নাজ্জাশী বললেন: তবে তাঁকে তোমাদের নবীর সাথে বিবাহ দাও।

অতঃপর তিনি তা-ই করলেন এবং নাজ্জাশী নিজের পক্ষ থেকে চারশ দিনার মোহরানা প্রদান করেন। আবার কেউ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান ইবনে আফফানের মাধ্যমে তাঁর বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যখন উসমান তাঁকে বিবাহ দিলেন, তখন তিনি নাজ্জাশীর নিকট এ বিষয়ে সংবাদ পাঠান, অতঃপর নাজ্জাশী তাঁর পক্ষ থেকে মোহরানা পরিশোধ করেন এবং তাঁকে নবীর নিকট পাঠিয়ে দেন। আবু সুফিয়ান মুশরিক অবস্থায় থাকাকালীন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর কন্যাকে বিবাহের সংবাদ পেলেন, তখন বললেন: "তিনি তো এমন এক শ্রেষ্ঠ পুরুষ যার নাসিকা মর্দন করা যায় না (যাকে তুচ্ছজ্ঞান করা যায় না)।" "ইউকদাউ" শব্দটি দাল (د) বর্ণ দিয়ে; বলা হয়ে থাকে: এটি এমন এক তেজী পুরুষ যার নাকে আঘাত করা যায় না, অর্থাৎ তাকে প্রতিহত করা যায় না।

এটি তখন বলা হয় যখন কেউ অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়। ‌‌[সুরা আল-মুমতাহিনা (৬০): আয়াত ৮]আল্লাহ তোমাদেরকে ওই সব লোক থেকে নিষেধ করেন না যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি—যে তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ করবে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। (৮)(১) আরিকা: স্বভাব বা প্রকৃতি। 'লানাত আরিকাতুহু': যখন তার দম্ভ বা অহংকার চূর্ণ হয়। শাকীমা: আত্মমর্যাদা বা জেদ। লাগামের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো মুখের অভ্যন্তরে অবস্থিত আড়াআড়ি লৌহখণ্ড।